📄 কুরআন অবতরণ
প্রশ্ন: ১। ইলহামী কিতাবগুলোর নাম কি?
উত্তর: ইলহামী কিতাবের নাম নিম্নরূপ: ১. তাওরাত, ২. যাবুর, ৩. ইনজীল ও ৪. কুরআন।
প্রশ্ন: ২। ইলহামী কিতাব কতটি এবং কোন্ কোন্ নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।
উত্তর: ইলহামী কিতাব চারখানা। যেমন- ১. তাওরাত, হযরত মূসা (আঃ)-এর ওপর, ২. যাবূর, হযরত দাউদ (আঃ)-এর ওপর, ৩. ইনজীল, হযরত ঈসা (আঃ)-এর ওপর ও ৪. কুরআন, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়।
প্রশ্ন: ৩। কুরআনের শাব্দিক অর্থ কি?
উত্তর: পঠিত হয়েছে।
প্রশ্ন: ৪। কুরআন অবতরণ কিভাবে আরম্ভ হয়েছে?
উত্তর: ওহীর মাধ্যমে।
প্রশ্ন: ৫। ওহী কাকে বলে?
উত্তর: ওহীর আভিধানিক অর্থ ইঙ্গিত করা, পয়গাম পাঠানো বা জানানো, গোপনে কারো কাছে কিছু বলে দেয়া। ইসলামী শরী'য়তে যে কথা বা ইঙ্গিত আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নবী-রসূলদের দিকে করা হয়- তাকেই ওহী বলে। অর্থাৎ, 'ওহী' নির্দিষ্ট সেই স্বর্গীয় বার্তাকে বলে যদ্বারা চিন্তা-ভাবনা, অভিজ্ঞতা, দলীল ইত্যাদি ছাড়াই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অনুগ্রহের দ্বারা কোন নবীর ঐশ্বরিক কোন জ্ঞান অর্জিত হয়।
প্রশ্ন: ৬। ওহীর ধারাবাহিকতা কতদিন পর্যন্ত থাকবে?
উত্তর: ওহীর ধারাবাহিকতা নবী করীম (সাঃ)-এর অব্যবহিত পর থেকে চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে গেছে। কেননা, নবী করীম (সাঃ) হচ্ছেন সর্বশেষ নবী। তাঁরপর আর কোন নবী আসবেন না। আর ওহী তো শুধুমাত্র নবীদের কাছ পর্যন্ত পয়গাম পৌঁছানোর মাধ্যম মাত্র।
প্রশ্ন: ৭। ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি কি কি?
উত্তর: ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি নিম্নরূপঃ
১. আল্লাহ্ পক্ষ থেকে অন্তরে কোন কথা কোন মাধ্যম ছাড়াই ঢেলে দেয়া।
২. আল্লাহ তা'আলা অন্তরালে থেকে কথা বলেন। যেভাবে 'ওয়াদীয়ে মুকাদ্দাসে' হযরত মূসা (আঃ)-এর সাথে কথা বলেছেন। আর মি'রাজে নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে কথা বলেছেন। (কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, সামনাসামনি বসেও কথা হয়েছে।)
৩. ফিরিশতাদের মাধ্যমে কথা বলা। অর্থাৎ (দূতের মাধ্যমে) যা বাহ্যিক চোখে দেখা যায়। মুখোমুখি কথা হয় এবং ফিরিশতার কথাও শোনা যায়। এটা দু'ভাবে হতে পারে। যেমন- ক. ফিরিশতা মানবাকৃতিতে এসে আল্লাহ্ কালাম শোনাবেন। খ. ফিরিশতা স্ব-আকৃতিতে এসে আল্লাহর কালাম শোনাবেন।
প্রশ্ন: ৮। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মৌলিক তথ্য কি কি?
উত্তর: ১. হযরত জিব্রাঈল (আঃ) ওহী (কুরআন) আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নবী করীম (সাঃ)-এর অন্তরে অবতীর্ণ করতেন।
২. ওহী আল্লাহ্ পক্ষ থেকে এবং তাঁর হুকুমেই আসতো।
৩. হযরত জিব্রাইল (আঃ) কুরআনকে যথাযথভাবে নবী করীম (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। এ জন্যে তাঁকে অভিহিত করা হয়েছে 'জিব্রাঈল আমীন' নামে।
৪. কুরআন ক্রম-পরম্পরায় অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা এ জন্যে যে, নবী করীম (সাঃ) স্বয়ং সহজেই সংরক্ষণ (মুখস্থ) রাখতে সক্ষম হন। ঈমানদাররা কুরআন থেকে আত্মার খাদ্য গ্রহণ করে সে অনুযায়ী আমল করতে সক্ষম হয়।
৫. কুরআনকে একত্রিত এবং সংরক্ষণ করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর জিম্মায় নিয়েছেন। নবী করীম (সাঃ) আল্লাহ্ তা'আলার দিক-নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে একত্রিত করিয়েছেন। সবশেষে সন্দেহ-সংশয় দূর করেছেন।
৬. কুরআন অবতীর্ণ করেছেন আল্লাহ্। আল্লাহই এর সংরক্ষক।
প্রশ্ন: ৯। কুরআন সর্বপ্রথম কোথায় অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: হেরা গুহায়।
প্রশ্ন: ১০। হেরা গুহা কোথায় অবস্থিত এবং এটি কত বড়?
উত্তর: মক্কার পূর্বে তিন মাইল দূরে মিনার একপাশে 'জাবালে নূরে' অবস্থিত। লম্বা বার ফুট এবং চওড়া ছয় ফুট। উঁচু আনুমানিক ছয় ফুট।
প্রশ্ন: ১১। নবী করীম (সাঃ) কেন হেরা গুহায় যেতেন?
উত্তর: নবী করীম (সাঃ) দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে থাকার অভিপ্রায়ে সেখানে গিয়ে ইবাদত-বন্দেগী করতেন।
প্রশ্ন: ১২। হেরা গুহায় জিব্রাঈল (আঃ) প্রথম ওহী নিয়ে আসার সময় নবী করীম (সাঃ)-এর বয়স কত ছিলো?
উত্তর: ৪০ বছর।
প্রশ্ন: ১৩। জিব্রাঈল আমীনের সাথে নবী করীম (সাঃ)-এর সাক্ষাৎ কখন, কোথায় হয়?
উত্তর: ৯ই রবিউল আউয়াল। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার হেরা গুহায় সাক্ষাত হয়। তাঁর বয়স তখন ৪০ বছর ১১ দিন। (বার ফেব্রুয়ারী ছয়শ' দশ খ্রীস্টাব্দ)।
প্রশ্ন: ১৪। হেরা গুহায় নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে প্রথম সাক্ষাতে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) কি বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি হেরা গুহায় প্রবেশ করে নবী করীম (সাঃ)-কে বলেছেন, "সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি আল্লাহ্র রাসূল এবং আমি হচ্ছি জিব্রাঈল।"
প্রশ্ন: ১৫। নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে জিব্রাঈল আমীনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ কবে, কোথায় হয়?
উত্তর: আঠারই রমজান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হেরা গুহায়। (সতেরো আগস্ট ছয়শ' দশ খ্রীঃ)।
প্রশ্ন: ১৬। জিব্রাঈল আমীন হুজুর (সাঃ)-এর সাথে হেরা গুহায় দ্বিতীয় সাক্ষাতে আল্লাহ্ তা'আলার কোন্ বাণী পৌঁছিয়েছেন?
উত্তর: কুরআনের তেইশতম পারার সূরা আল আলাকের নিম্নোক্ত প্রথম আয়াতগুলো পড়িয়েছেন। অর্থাৎ, নিম্নের আয়াতগুলো সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে: 'পড়ুন, আপনার প্রভুর নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিন্ড থেকে। পড়ুন আর আপনার রব অত্যন্ত দয়ালু যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে সে-সব কিছুই শিখিয়েছেন, যা তারা জানতো না।" সর্বশেষ এ পাঁচ আয়াত।
প্রশ্ন: ১৭। প্রথম ওহীর পর থেকে কত সময় পর্যন্ত কুরআন অবতরণ বন্ধ ছিলো?
উত্তর: প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত। এ সময়কালকে বলা হয় ( فترة ) ফাতরাত বা বিরতির সময়।
প্রশ্ন: ১৮। প্রথম ওহীর পর অবতীর্ণ আয়াত কোনগুলো?
উত্তর: সূরা মুদ্দাস্সিরের নিম্নোক্ত প্রথম পাঁচ আয়াত: “হে মুদদাস্সির, উঠুন এবং (কাফিরদেরকে) ভয় দেখান। আর আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করুন। আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখুন এবং মূর্তি থেকে দূরে থাকুন। (যেভাবে এ পর্যন্ত পৃথক থেকেছেন)।
প্রশ্ন: ১৯। কুরআনের সর্বাগ্রে অবতীর্ণ পরিপূর্ণ সূরা কোন্টি?
উত্তর: সূরা ফাতিহা (আলহামদু লিল্লাহ শরীফ)।
প্রশ্ন: ২০। দ্বিতীয় ওহীর পর কুরআনের কোন্ সূরায় নবী করীম (সাঃ)-কে প্রবোধ দেয়া হয়েছে যে, আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি। না আপনার ওপর অখুশি (যেভাবে কাফেররা বলে বেড়াচ্ছে)।
উত্তর: ত্রিশতম পারার সূরা ওয়াদদোহা।
প্রশ্ন: ২১। মক্কায় নবী করীম (সাঃ)-এর ওপর কতদিন যাবৎ কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: তের বছর যাবৎ।
প্রশ্ন: ২২। মক্কায় নবী করীম (সাঃ)-এর ওপর কোন্ সময় থেকে কোন্ সময় পর্যন্ত কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: আঠারই রমজান মঙ্গলবার হিজরতের তের সন পূর্ব থেকে এগার রবিউল আউয়াল সোমবার হিজরী দশ সন পর্যন্ত।
প্রশ্ন: ২৩। মদীনায় হুজুর (সাঃ)-এর ওপর কত বছর পর্যন্ত কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: দশ বছর পর্যন্ত।
প্রশ্ন: ২৪। হুজুর (সাঃ)-এর ওপর মদীনায় কোন্ সময় থেকে কোন্ সময় পর্যন্ত কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: হিজরী প্রথম সন থেকে আরম্ভ করে হিজরী দশম সন পর্যন্ত।
প্রশ্ন: ২৫। কুরআনে সূরা শব্দের দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: দেয়াল, নগর প্রাচীর, উঁচু ও বড়। প্রাচীরের কারণে যেভাবে একটি শহরের যমীন অন্য ভাগের চাইতে উত্তম ও বিভক্ত হয়ে যায়। এমনিভাবে একটি সূরা ও কুরআনের এক ভাগকে অন্য ভাগের বা অংশের থেকে উত্তম ও বিভক্ত করে দেয়। যেভাবে নগর প্রাচীর দ্বারা নগর সংরক্ষিত হয়, তেমনি আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে এর শব্দাবলী এবং বিষয়গুলোকে সংরক্ষণ করেছেন।
প্রশ্ন: ২৬। কুরআনের বর্তমান বিন্যাস কিভাবে হয়?
উত্তর: আল্লাহ্র ইচ্ছানুযায়ী স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) বর্তমান বিন্যাস করেন।
প্রশ্ন: ২৭। কুরআনের কোন্ সূরাগুলোকে দীর্ঘ বলা হয়? অর্থাৎ, কুরআনের কোন্ কোন্ সূরা সবচেয়ে দীর্ঘ?
উত্তর: বাকারা, আলু ইমরান, আনিসা, আল-মাঈদা, আল-আন'আম, আল-আ'রাফ।
প্রশ্ন: ২৮। কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা কোনগুলো?
উত্তর: আল-আসর, আল-কাওসার, আন-নসর (এতদত্রয়ের মধ্যে তিনটি আয়াত করে রয়েছে)।
প্রশ্ন: ২৯। কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: মক্কা শরীফে।
প্রশ্ন: ৩০। কুরআনের সর্বশেষ সূরা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: মদীনা শরীফে।
প্রশ্ন: ৩১। কুরআনে 'আয়াত' শব্দের তাৎপর্য কি?
উত্তর: 'আয়াত' শব্দের অর্থ চিহ্ন। কুরআনের আয়াত আমাদেরকে মানযিলে মাকসুদে অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক পর্যন্ত পথ প্রদর্শন করে। এর পদাংক অনুসরণ করেই আমরা উদ্দিষ্ট পথের দিকে অগ্রসর হই। বিশ্ব ভুবনের চিহ্নাবলীকেও আয়াত বলা হয়। আয়াতের দ্বারা সূরাগুলোতে আয়াতের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্যে যে, এতে করে বুঝতে এবং গবেষণা করতে সহজ হয়। স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা সূরাসমূহে আয়াতের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
প্রশ্ন: ৩২। কুরআনকে কে পারা ও রুকূতে বিভক্ত করেছেন, এর কারণ কি?
উত্তর: স্বয়ং আল্লাহই সূরা এবং আয়াত বিভক্ত করেছেন। কুরআনকে ত্রিশ পারায় বিভক্ত করেছেন এতদসংশ্লিষ্ট বিদ্বজ্জনরা। প্রত্যেকটি ভাগকে বলা হয় পারা বা অংশ। এমনিভাবে পারাগুলোর মধ্যে রুকূর বিন্যাস করেছেন, যাতে করে প্রত্যহ তিলাওয়াতের সীমা নির্ধারণ করে প্রত্যেক মুসলমান নিয়মানুবর্তিতার সাথে আমল করতে পারে। পারা এবং রুকু যেহেতু বিদ্বজ্জনরা করেছেন, এ জন্যে শব্দ দুটোকে প্রান্তটীকায় লেখা হয়, যেন আল্লাহ্র কালামের সাথে সম্পৃক্ত না হয়।
প্রশ্ন: ৩৩। কুরআন অবতীর্ণের সময় এর প্রথম সম্বোধিত কে ছিলো?
উত্তর: কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ্ বাণী। অতএব কুরআন অবতীর্ণের সময় প্রথম সম্বোধিতরা ছিলো নিম্নরূপ:
১. মক্কার মুশরিককুল, ২. আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রীস্টান), ৩. সাবী, ৪. সত্যসন্ধানীরা (এরা তাওহীদের সন্ধানে ছিলো এবং মূর্তিকে ঘৃণা করতো), ৫. মুনাফিকরা।
প্রশ্ন: ৩৪। কুরআনের কোন্ সূরা নামাযের প্রতি রাকাতে পড়া না হলে নামায হয় না?
উত্তর: সূরা ফাতিহা (আলহামদু লিল্লাহ শরীফ)।
প্রশ্ন: ৩৫। কুরআনের কোন্ সূরাকে আল্লাহ্ দোয়া হিসেবে শিখিয়েছেন?
উত্তর: সূরা ফাতিহা।
প্রশ্ন: ৩৬। সূরা ফাতিহাকে কুরআনের শুরুতে রাখার যুক্তি কি?
উত্তর: এটা হলো কুরআনের দরোজা। এটা হচ্ছে দোয়া যা বান্দা তার প্রতিপালকের সমীপে প্রার্থনা করে আর পুরো কুরআন এ দোয়ার উত্তর।
প্রশ্ন: ৩৭। কুরআনের কোন্ সূরা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) বুঝেছিলেন, এটাই নবী করীম (সাঃ)-এর বিদায়ের ইঙ্গিত?
উত্তর: ত্রিশতম পারার সূরা নছর (اذا جاء نصر الله)।
প্রশ্ন: ৩৮। কুরআন কোন্ রাতে অবতীর্ণ হতে শুরু করে?
উত্তর: কদরের রাতে (انا انزلناه في ليلة القدر)।
প্রশ্ন: ৩৯। কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব কে নিয়েছেন?
উত্তর: স্বয়ং আল্লাহ্। ঘোষিত হয়েছে - انا نحن نزلنا الذكر وانا له لحافظون।
প্রশ্ন: ৪০। সর্বপ্রথম কুরআন প্রশিক্ষণশালা কোন্টি?
উত্তর: মসজিদে নববী।
📄 কুরআন তিলাওয়াতের আদব-কায়দা
প্রশ্ন: ১। কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর ভীতি সম্পর্কে কুরআনে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনে আল্লাহ্ ঘোষণা দিয়েছেনঃ "যদি আমি এ কুরআন পাহাড়ে অবতীর্ণ করতাম তা হলে পাহাড় কেঁপে উঠতো।" (সূরা হাশর: আয়াত ২১)
প্রশ্ন: ২। কুরআন কেমন গ্রন্থ?
উত্তর: কুরআন শুধু বরকতময় ও পবিত্র গ্রন্থই নয়, এটা হচ্ছে হেদায়তের গ্রন্থ। এর মধ্যে সেই জীবন বিধানের কথা বর্ণিত হয়েছে যার ওপর আমল করে আমরা পরকালে মুক্তি পেতে পারি।
প্রশ্ন: ৩। কুরআন কি ধরনের অনুভূতির সাথে পড়া উচিত?
উত্তর: নিজস্ব মত ও পথকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। জ্ঞানাহরণকারীর মতো পড়তে হবে। এও বুঝে পড়তে হবে যে, এটা আল্লাহ্র কালাম ও বাণী। এর মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয় নেই। আমাদের কল্যাণের জন্যেই কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ৪। কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে কি করা উচিত?
উত্তর: অজু করতে হবে। শরীর ও জায়গা পবিত্র হতে হবে এবং পরে কুরআন তিলাওয়াত আরম্ভ করতে হবে।
প্রশ্ন: ৫। কুরআন তিলাওয়াতের সময় কোন্ বিষয়ের উপর বিশ্বাস করতে হবে।
উত্তর: এসব বিষয়ের ওপর: ১. এ গ্রন্থ বিশ্বের সব গ্রন্থের চাইতে বিশুদ্ধ, মৌলিক ও পরিপূর্ণ। ২. জীবনে পথ প্রদর্শন একমাত্র এ গ্রন্থের দ্বারাই হতে পারে। ৩. স্বীয় মনগড়া অর্থ না করে, সেসব নিয়ম-কানুন অবগত হওয়া আবশ্যক যা আল্লাহ্ পক্ষ থেকে অত্যাবশ্যক করে দেয়া হয়েছে। ৪. এর তিলাওয়াতে সন্দেহ-সংশয়ে লিপ্ত হওয়ার চাইতে প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিটি বিষয়ে, প্রতিটি ক্ষণে কুরআন থেকে পথ প্রদর্শনই কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য হওয়া চাই।
প্রশ্ন: ৬। কুরআন থেকে উপকারিতা অর্জনের জন্য কি করা অবশ্য কর্তব্য?
উত্তর: উপকারিতা অর্জনের জন্যে করতে হবে: ১. কুরআন বেশি বেশি পড়া, ২. সর্বক্ষণ পড়া, ৩. বুঝে পড়া, ৪. এর ওপর চিন্তা-গবেষণা করা, ৫. এর আহকাম অনুযায়ী আমল করা।
প্রশ্ন: ৭। কুরআন তিলাওয়াত তো নিষিদ্ধ সময় বা অপবিত্রতা ব্যতীত সর্বক্ষণই করা যায়। কিন্তু স্বয়ং কুরআন তাঁর তিলাওয়াতের জন্য কোন্ সময়ের কথা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন?
উত্তর: কুরআনে ঘোষিত হয়েছে। ان قرآن الفجر كان مشهودا অর্থাৎ, ফজরের সময়ের ফজীলত অত্যন্ত বেশি। (সূরা বানী ইসরাঈল: ৭৮)
প্রশ্ন: ৮। আল্লাহ্ তা'আলা কুরআন সম্পর্কে কি ঘোষণা দিয়েছেন?
উত্তর: আল্লাহ্ সর্বপ্রথম ঘোষণা দিয়েছেন, ذلك الكتاب لا ريب فيه অর্থাৎ, এই সেই গ্রন্থ যাতে কোন সন্দেহ-সংশয় নেই। (বাকারা: ২)
প্রশ্ন: ৯। কুরআন দ্বারা হেদায়াত পাওয়ার জন্য স্বয়ং আল্লাহ্ কোন্ কোন্ শর্তারোপ করেছেন? (কুরআন দ্বারা হেদায়াত পেতে হলে মানুষের মধ্যে কোন্ কোন্ গুণ, বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরী)?
উত্তর: এ প্রসঙ্গে খোদ কুরআনেই ঘোষিত হয়েছে: "এটি আল্লাহ্ কিতাব, এর মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয় নেই। এটি হেদায়াত হচ্ছে: ১. খোদাভীরুদের জন্য যারা অদৃশ্যের ওপর বিশ্বাস করে, ২. নামায প্রতিষ্ঠিত করে, ৩. যে রিস্ক আমরা (আল্লাহ্) দিয়েছি, তার থেকেই খরচ করে, ৪. যে-সব কিতাব পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর ওপর এবং কুরআনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, ৫. আর পরকাল বিশ্বাস করে।"
অর্থাৎ, কুরআন দ্বারা পূর্ণ হেদায়াত পাওয়ার জন্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলী মানতে হবেঃ ১. খোদাভীরু হওয়া, ২. অদৃশ্যের ওপর বিশ্বাস করা, ৩. নামায প্রতিষ্ঠা করা, ৪. আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করা, ৫. আল্লাহ্র সমুদয় কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং ৬. পরকালে বিশ্বাস করা।
প্রশ্ন: ১০। কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কিত কি কি হাদীস বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: নিম্নের হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে:
১. কুরআনের একটি অক্ষর পড়লে দশটি পুণ্য পাওয়া যায়।
২. দুটো বিষয়ে ঈর্ষা-দ্বেষ বৈধ। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে কাউকে আল্লাহ্ কুরআনের জ্ঞান দ্বারা ভাগ্যবান করেছেন, আর তিনি রাত্র-দিন এর মধ্যেই ডুবে থাকেন।
৩. যেভাবে আমার সমগ্র সৃষ্টির ওপর ফজীলত রয়েছে, তেমনি কুরআন তিলাওয়াতকারীরও অন্যান্য মানুষের ওপর ফজীলত রয়েছে।
৪. তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কুরআনের তিলাওয়াত এবং নামায পড়ার মাধ্যমে আলোকিত রেখো।
৫. আমার উম্মতের সর্বোত্তম ইবাদাত হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত করা।
৬. তিলাওয়াত হচ্ছে আল্লাহ্র দস্তরখান, এর থেকে বিচ্যুত হয়ো না।
৭. কুরআনকে এমনভাবে পড়, যেভাবে পড়া তাঁর হক, দিবারাত্র পড়, একে বিকশিত কর, এর বিষয়াবলীর ওপর চিন্তা-গবেষণা কর, তবেই তোমরা সফলকাম হবে।
৮. যে-সব ঘরে কুরআন পঠিত হয়, সে-সব ঘর আসমানবাসীর জন্য এমনিভাবে চমকাতে থাকে, যেভাবে যমীনবাসীর জন্য তারকা চমকায়।
৯. যে কুরআন পড়ে সে অনুযায়ী আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন টুপি পরানো হবে যার আলোকরশ্মি সূর্যরশ্মির চাইতেও প্রখর হবে।
১০. আল্লাহ্ কিছু বিশেষ বান্দা রয়েছেন, কেউ জানতে চাইলো-তাঁরা কারা, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন: আহলে কুরআন।
১১. তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে কুরআন শিখেছে এবং শিক্ষা দিয়েছে।
প্রশ্ন: ১১। কুরআন স্পর্শ করার জন্য কোন্ শর্ত অত্যাবশ্যক?
উত্তর: পাক-পবিত্র এবং অজু অবস্থায় থাকা। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: لا يمسه الا المطهرون - অর্থাৎ, এটিকে পাক-পবিত্র মানুষই স্পর্শ করতে পারে। (ওয়াকিয়া: ৭৯)
প্রশ্ন: ১২। কুরআনের ওপর চিন্তা-গবেষণা করার জন্য হাদীস শরীফ এবং কুরআনে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: হাদীসে বর্ণিত আছে, "এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ কুরআন অধ্যয়ন করবে সত্য; কিন্তু কুরআন তাদের হলকের নিচে যাবে না।" কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: کتاب انزلناه اليك مبارك ليتدبروا آياته অর্থাৎ, এটি কিতাব, যাকে আমরা (আল্লাহ্) আপনার ওপর অবতীর্ণ করেছি, এটি বরকতময় গ্রন্থ, যাতে করে মানুষ এর আয়াতের ওপর চিন্তা-গবেষণা করে। অন্যত্র ঘোষিত হয়েছে: افلا يتدبرون القرآن অর্থাৎ, এসব মানুষ কি কুরআনের ওপর চিন্তা-গবেষণা করে না?
প্রশ্ন: ১৩। কুরআন সুললিত কণ্ঠে পড়ার ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা কি?
উত্তর: কুরআনে ঘোষিত হয়েছে : ورتل القرآن ترتيلا অর্থাৎ, কুরআন সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত কর। (মুয্যাম্মিল : ৪) অবশ্য বাদ্যযন্ত্র থাকবে না, গানও হবে না- পড়ার মতোই তিলাওয়াত করতে হবে।
প্রশ্ন: ১৪। কুরআন মুখস্থ করার পর ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে হুজুর (সাঃ)-এর বাণী কি?
উত্তর: নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন :
১. আমার সামনে আমার উম্মতের গুনাসমূহ পেশ করা হয়েছে, তন্মধ্যে সবচাইতে মারাত্মক গুনাহ হচ্ছে কুরআনুল কারীম ভুলে যাওয়া।
২. এমন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন কুষ্ঠরোগী হয়ে উঠবে।
৩. কুরআন সংরক্ষণ কর এবং বারবার পড়। নতুবা তোমরা কুরআন ভুলে যাবে।
৪. লোক সকল! তোমরা কুরআনের খবর রেখো, তা না হলে কুরআন বক্ষ থেকে বেরিয়ে যাবে, আল্লাহ্র শপথ করে বলছি, রশি ঢিলে হলে যেভাবে উট পালিয়ে যায়, ঠিক তেমনিভাবে সামান্য অলসতার কারণে কুরআন বক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।
প্রশ্ন: ১৫। কুরআন উচ্চ স্বরে তিলাওয়াতের সময় শ্রবণকারীর জন্য কি হুকুম?
উত্তর: আল্লাহ্র বাণী, যেমন- কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, সে সময় নিবিষ্ট মনে শ্রবণ কর এবং চুপ থেকো- এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উচ্চ স্বরে কুরআন তিলাওয়াত জায়েয। অবশ্য যদি কেউ শুয়ে আছে, অথবা এমন কোন কাজে ব্যস্ত, যা ছেড়ে সে কুরআনের প্রতি মনোযোগী হতে পারছে না, এমতাবস্থায় তার কাছে উচ্চ স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করা বৈধ নয়। কারণ, শ্রবণকারী কুরআনের উল্লিখিত হেদায়তের ওপর আমল করতে পারছে না। অবশ্য, কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকলে বা মানুষ শ্রবণ করতে উদ্বুদ্ধ হলে উচ্চস্বরে পড়া পুণ্য- এটা কুরআনের প্রচার-প্রসারও।
প্রশ্ন: ১৬। কুরআন তিলাওয়াতের অত্যাবশ্যকীয় দিকগুলো কি?
উত্তর: অত্যাবশ্যকীয় দিকগুলো নিম্নরূপঃ
১. পাক-পবিত্র হয়ে অজু করে পরিষ্কার জায়গায় কেবলামুখী হয়ে বসা।
২. নিজেকে আল্লাহর সমীপে নিকৃষ্ট মনে করা।
৩. اعوذ بالله من الشيطان الرجيم - بسم الله الرحمن الرحيم . পড়ে তিলাওয়াত আরম্ভ করা।
৪. ধীরে ধীরে বুঝে-শুনে, চিন্তা-ফিকির করে এবং তারতীলের সাথে পড়া।
৫. রহমতের আয়াত তিলাওয়াতের পর খুশী হয়ে দোয়া করা এবং নিজের জন্য আল্লাহর দরবারে রহমতের কামনা করা।
৬. শান্তি ও ভীতি প্রদর্শনের আয়াত তিলাওয়াতের পর ক্ষমাপ্রার্থনা করা।
৭. হুজুরী কলব এবং জওক-শওকের সাথে যতটুকু তিলাওয়াত সম্ভব তা-ই তিলাওয়াত করা।
৮. যে মজলিসে মানুষ স্বীয় কাজ-কর্মে মশগুল, সেখানে তিলাওয়াত না করা।
৯. তিলাওয়াতের সময়কালে ইহলৌকিক কাজে না জড়ানো।
১০. তিলাওয়াতের পর বিনয়ের সাথে দোয়া করা।
১১. তিলাওয়াতকালীন সময়ে যদি কোন প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় তা হলে কুরআন বন্ধ করে যেতে হবে।
১২. তিলাওয়াতকালীন সময়ে কাউকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য না দাঁড়ানো।
১৩. অজু ব্যতীত মুখস্থ তিলাওয়াত জায়েয, তবে কুরআন স্পর্শ করা অবৈধ।
১৪. কুরআনের অক্ষর এবং শব্দমালা বিশুদ্ধভাবে উচ্চারণ করা। কেননা, ভুল তিলাওয়াত ভয়ংকর পাপ। কুরআন ভাল তিলাওয়াতকারী দ্বারা বিশুদ্ধ করে নিতে হবে।
প্রশ্ন: ১৭। কুরআনের ১১৪টি সূরা কি কি?
উত্তর: কুরআনের ১১৪টি সূরার নাম, অর্থ, মাক্কী ও মাদানী, রুকু ও আয়াত সংখ্যা নিম্নরূপ:
১। ফাতিহা - ভূমিকা - মাক্কী - ১ - ৭
২। বাকারা - গাভী - মাক্কী - ৫০ - ২০৬
৩। আলু ইমরান - ইমরানের বংশধর - মাদানী - ২০ - ২০০
৪। নিসা - নর - মাদানী - ২৪ - ১৭৬
৫। মাঈদা - খাদ্য ভরা পাত্র - মাদানী - ১৬ - ১২০
৬। আন'য়াম - জন্তু-জানোয়ার - মাদানী - ২০ - ১৬৫
৭। আ'রাফ - বেহেশত-দোযখের মধ্যবর্তী স্থান - মাদানী - ২৪ - ২০৬
৮। আনফাল - যুদ্ধে পরাজিতদের পরিত্যক্ত আসবাবপত্র - মাদানী - ১০ - ৭৫
৯। তাওবা - ফিরে আসা - মাদানী - ১৬ - ১২৯
১০। ইউনুস - নবীর নাম - মাক্কী - ১১ - ১০৯
১১। হুদ - নবীর নাম - মাক্কী - ১০ - ১২৩
১২। ইউসুফ - নবীর নাম - মাক্কী - ১২ - ১১১
১৩। রা'দ - মেঘের গর্জন - মাক্কী - ৬ - ৪৩
১৪। ইব্রাহীম - নবীর নাম - মাক্কী - ৭ - ৫২
১৫। হিজর - বড় একটা শহরের নাম - মাক্কী - ৬ - ৯৯
১৬। নাহল - মৌমাছি - মাক্কী - ১৬ - ১২৮
১৭। বনী ইসরাঈল - ইসরাইলের বংশ - মাক্কী - ১২ - ১১১
১৮। কাহাফ - গুহা - মাক্কী - ১২ - ১১০
১৯। মারইয়াম - ঈসা (আঃ)-এর মায়ের নাম - মাক্কী - ৬ - ৯৮
২০। ত্বহা - ত্বাহা - মাক্কী - ৮ - ১৩৫
২১। আম্বিয়া - নকিগণ - মাক্কী - ৭ - ১১২
২২। হাজ্ব - মাদানী - ১০ - ৭৮
২৩। মুমিনূন - বিশ্বাসী সকল - মাক্কী - ৬ - ১১৮
২৪। নূর - আলো - মাদানী - ৯ - ৬৪
২৫। ফুরকান - পৃথকীকরণ - মাক্কী - ৬ - ৭৭
২৬। শু'য়ারা - কবিগণ - মাক্কী - ১১ - ২২৭
২৭। নাম্ল - পিপীলিকা - মাক্কী - ৭ - ৯৩
২৮। কাসাস - কিচ্ছা-কাহিনী - মাক্কী - ৯ - ৮৮
২৯। আনকাবুত - মাকড়সা - মাক্কী - ৭ - ৬৯
৩০। রূম - দেশের নাম - মাক্কী - ৬ - ৬০
৩১। লোকমান - এক লোকের নাম - মাক্কী - ৪ - ৩৪
৩২। সাজদাহ - সাজদা - মাক্কী - ৩ - ৩০
৩৩। আহযাব - দলগুলো - মাদানী - ৯ - ৭৩
৩৪। সাবা - একটি জাতির নাম - মাক্কী - ৬ - ৫৪
৩৫। ফাতির - সৃষ্টিকর্তা - মাক্কী - ৫ - ৪৫
৩৬। ইয়াসিন - মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর এক নাম ইয়াসিন - মাক্কী - ৫ - ৮৩
৩৭। সাফ্ফাত - কাতার বা সারি - মাক্কী - ৫ - ১৮২
৩৮। সা-দ - দ - মাক্কী - ৫ - ৮৮
৩৯। যুমার - দলবিশেষ - মাক্কী - ৮ - ৭৫
৪০। মু'মিন - বিশ্বাসী - মাক্কী - ১ - ৮৫
৪১। হামীম আস-সাজদা - বিশ্বাসী - মাক্কী - ৬ - ৫৪
৪২। শূর - পরামর্শ - মাক্কী - ৫ - ৫৩
৪৩। যুখরুফ - পরামর্শ - মাক্কী - ৭ - ৮৯
৪৪। দুখান - ধোঁয়া - মাক্কী - ৩ - ৫৯
৪৫। জাসিয়াহ - হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে থাকা - মাক্কী - ৪ - ৩৭
৪৬। আহকাফ - একটি জায়গার নাম - মাক্কী - ৪ - ৩৫
৪৭। মুহাম্মাদ - শেষ নবীর নাম - মাদানী - ৪ - ৩৮
৪৮। ফাতহ - বিজয় - মাদানী - ৪ - ২৯
৪৯। হুজুরাত - হুজরাখানা - মাদানী - ২ - ১
৫০। ক্বাফ - মাক্কী - ৩ - ৪৫
৫১। জারিয়াহ - ধুলা-বালি মিশ্রিত বাতাস - মাক্কী - ৩ - ৬০
৫২। তুর - এক পাহাড়ের নাম - মাক্কী - ২ - ৪৯
৫৩। নাজম - তারকা - মাক্কী - ৩ - ৬২
৫৪। কামার - চাঁদ - মাক্কী - ৩ - ৫৫
৫৫। রহমান - দয়ালু আল্লাহ - মাক্কী - ৩ - ৭৮
৫৬। ওয়াকিয়াহ - মহাঘটনা - মাক্কী - ১ - ১৬
৫৭। হাদীদ - লোহা - মাদানী - ৪ - ২৯
৫৮। মুজাদালাহ - তর্ক-বিতর্ক করা - মাদানী - ৩ - ২২
৫৯। হাশ্র - একত্রিত করা - মাদানী - ৩ - ২৪
৬০। মুমতাহিনাহ - পরীক্ষিত নারী - মাদানী - ২ - ১৩
৬১। সাফ - কাতার/সারি - মাদানী - ২ - ১৪
৬২। জুমু'আ - জুমু'আ - মাদানী - ২ - ১১
৬৩। মুনাফিকূন - কপট বিশ্বাসী - মাদানী - ২ - ১১
৬৪। তাগাবুন - হার-জিত - মাদানী - ২ - ১৮
৬৫। তালাক - তালাক - মাদানী - ২ - ১২
৬৬। তাহরীম - হারাম করা - মাদানী - ২ - ১২
৬৭। আল মুল্ক - রাষ্ট্র - মাক্কী - ২ - ৩০
৬৮। ক্বলাম - কলম - মাক্কী - ২ - ৫২
৬৯। হাক্কাহ - অনিবার্য সংঘটিতব্য - মাক্কী - ২ - ৫২
৭০। মায়ারিজ - ঊর্ধ্বে উঠার সিঁড়িগুলো - মাক্কী - ২ - ৪৪
৭১। নূহ - নবীর নাম - মাক্কী - ২ - ২৮
৭২। জ্বীন - জ্বীন জাতি - মাক্কী - ২ - ২৮
৭৩। মুয্যাম্মিল - কম্বল আচ্ছাদনকারী - মাক্কী - ২ - ২০
৭৪। মুদ্দাচ্ছির - চাদর আচ্ছাদনকারী - মাক্কী - ২ - ৫৬
৭৫। কিয়ামাহ - কিয়ামত - মাক্কী - ২ - ৪০
৭৬। দাহর - সীমাহীনকালের একটা সময় - মাক্কী - ২ - ৩
৭৭। মুরসালাত - ক্রমাগতভাবে পাঠান - মাক্কী - ২ - ৫০
৭৮। নব - গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা - মাক্কী - ২ - ৪০
৭৯। নাজি'য়াত - হেঁচড়িয়ে টানা - মাক্কী - ২ - ৪৬
৮০। আবাসা - ভ্রুকুটি করা - মাক্কী - ১ - ৪২
৮১। আত্তাকউয়ির - গুটিয়ে নেয়া - মাক্কী - ১ - ২৯
৮২। ইনফিতার - বিদীর্ণ হওয়া - মাক্কী - ১ - ১৯
৮৩। মুতাফফিফীন - ওজনে ঠকবাজ - মাক্কী - ১ - ৩৬
৮৪। ইনশিক্বাক - বিচ্ছিন্ন হওয়া - মাক্কী - ১ - ২৫
৮৫। বুরুজ - আকাশের গ্রহ-নক্ষত্ররাজি - মাক্কী - ১ - ২২
৮৬। তারিক - রাত্রে আত্মপ্রকাশকারী - মাক্কী - ১ - ১৭
৮৭। আল আ'লা - মহান শ্রেষ্ঠ - মাক্কী - ১ - ১৯
৮৮। আল গাশিয়া - আচ্ছন্নকারী কঠিন বিপদ - মাক্কী - ১ - ২৬
৮৯। আল ফজর - ফজরের ওয়াক্ত - মাক্কী - ১ - ৩০
৯০। আল বালাদ - শহর (মক্কা) - মাক্কী - ১ - ২০
৯১। শামস - সূর্য - মাক্কী - ১ - ১৫
৯২। আল-লাইল - রত্র - মাক্কী - ১ - ২১
৯৩। দোহা - উজ্জ্বল দিন বা দ্বিপ্রহর - মাক্কী - ১ - ১১
৯৪। ইনশিরাহ - খুলে দেওয়া - মাক্কী - ১ - ৮
৯৫। আত্তীন - ডুমুর ফল - মাক্কী - ১ - ৮
৯৬। আল-আলাক - জমাট রক্তপিন্ড - মাক্কী - ১ - ১৯
৯৭। আল-কদর - মর্যাদাপূর্ণ - মাক্কী - ১ - ৫
৯৮। আল বাইয়্যেনা - স্পষ্ট দলীল-প্রমাণাদি - মাদানী - ১ - ৮
৯৯। আল-ফিলযাল - প্রকম্পন, ভূমিকম্প - মাদানী - ১ - ৮
১০০। আল-আদিয়াহ - হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ানো - মাক্কী - ১ - ১১
১০১। আল-কারিয়াহ - ভয়াবহ দুর্ঘটনা - মাক্কী - ১ - ১১
১০২। আত্তাকাসুর - অত্যধিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা করা - মাক্কী - ১ - ৮
১০৩। আল-আসর - সময় - মাক্কী - ১ - ৩
১০৪। আল-হুমাযাহ - কলংক রটনা করা - মাক্কী - ১ - ৯
১০৫। আল-ফীল - হাতী - মাক্কী - ১ - ৫
১০৬। কুরাইশ - কুরাইশ বংশ - মাক্কী - ১ - ৪
১০৭। মাউন - সামান্য দয়া বা সাধারণ উপকার - মাক্কী - ১ - ৭
১০৮। কাওসার - প্রচুর্য - মাক্কী - ১ - ৩
১০৯। কাফিরুন - অস্বীকারকারীরা - মাক্কী - ১ - ৬
১১০। নাস্ত্র - সাহায্য - মাদানী - ১ - ৩
১১১। লাহাব - একজন মানুষের উপাধি - মাক্কী - ১ - ৫
১১২। ইখলাস - একনিষ্ঠ - মাক্কী - ১ - ৪
১১৩। ফালাক - সকাল বেলা - মাক্কী - ১ - ৫
১১৪। নস - মানুষ - মাক্কী - ১ - ৬
প্রশ্ন: ১৮। কুরআনের বর্ণনা ধারার আঙ্গিক সৌষ্ঠব কেমন?
উত্তর: কুরআনের বর্ণনা ধারার আঙ্গিক সৌষ্ঠব অনন্য, সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছন্দ, প্রকৃতির স্বাভাবিকতায় ভরপুর ও মর্মস্পর্শী। কুরআনের মধ্যে কোন ধরনের জটিলতা, সন্দেহ, বিশৃংখলা অথবা দ্ব্যর্থবোধের অবকাশ নেই। কুরআনে একই বক্তব্য ও প্রতিপাদ্য বিষয়কে বোঝানোর জন্য বিভিন্ন পন্থায় ও ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন অনুধাবনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের জটিলতা দেখা না দেয়।
প্রশ্ন: ১৯। কুরআনের দলীল-প্রমাণ উপস্থাপনার পদ্ধতি কেমন?
উত্তর: কুরআনের দলীল-প্রমাণ ও নিদর্শনাবলী একেবারেই স্বাভাবিক। এর ভিত্তি হলো সম্বোধিত ব্যক্তির পারিপার্শ্বিক পরিচিত ও স্বীকৃত বিষয়াবলী।
প্রশ্ন: ২০। পৃথিবীর সব সৃষ্টি সম্পর্কে কুরআনের ভাষ্য কি?
উত্তর: কুরআনের ভাষ্য হচ্ছে নিখিল বিশ্বের সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ২১। কুরআনে মানব প্রবৃত্তির বড় বড় অভিলাষগুলোকে কিভাবে নির্ণিত করা হয়েছে?
উত্তর: মানব প্রবৃত্তির কিছু অভিলাষ নির্ণিত হয়েছে এভাবে: ১. নর-নারীর পারস্পরিক আকর্ষণ, ২. সন্তান-সন্ততি, ৩. ধন-সম্পদ, ৪. যান-বাহন, ৫. গৃহপালিত পশু, ৬. ভূমি ও ভূমির ফসলাদি, ৭. ঘর-বাড়ী ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ২২। কুরআনে মানুষের বুদ্ধির গুরুত্ব সম্পর্কে কি বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রত্যেক মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধির অব্যবহার ও অপব্যবহারের জন্য জিজ্ঞাসিত হবে।
প্রশ্ন: ২৩। আল্লাহ মানুষকে কি কি নিয়ামত দিয়েছেন?
উত্তর: আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে অগণিত ও অসংখ্য নিয়ামত রাজিতে ধন্য করেছেন।
প্রশ্ন: ২৪। কুরআনের ভাষা ও বাচনভঙ্গি কি ধরনের?
উত্তর: কুরআনের ভাষা ও বাচনভঙ্গি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। এ কোন সাহিত্যের ভাষার ন্যায় নয়, এর ভাষার ধরন অনেকটা বক্তৃতার ভাষণের ন্যায়। আবার কিছুটা টেলিগ্রাফিক ভাষার ন্যায়ও বলা চলে।
প্রশ্ন: ২৫। 'ওহী' শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: 'ওহী' আরবী শব্দ। অর্থ দূত, প্রেরিত প্রত্যাদেশ।
প্রশ্ন: ২৬। আল্লাহ জিব্রাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে ওহী নাযিল করলেন কেন?
উত্তর: ফিরিশতাকুলের সরদার হলেন জিব্রাঈল (আঃ)। তাই আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে ওহী নাযিল করেছেন।
প্রশ্ন: ২৭। কুরআনকে সূরা আকারে সাজানো হয়েছে কার নির্দেশে?
উত্তর: আল্লাহর নির্দেশে। কুরআনে সূরা আল-ফুরকানের ৩২ নং আয়াতে ঘোষিত হয়েছে ورتلنه ترتیلا অর্থাৎ, আর আমি একে (কুরআনকে) বিশেষ ধারায় সূরা আকারে বা পৃথক পৃথক অংশে সঞ্চিত করেছি।
প্রশ্ন: ২৮। কুরআন কি দুর্বোধ্য গ্রন্থ না সহজবোধ্য?
উত্তর: হিদায়াত ও পথ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তা'আলা কুরআনকে অত্যন্ত সহজবোধ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কুরআনে উচ্চতর ইলম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সন্নিবেশ ঘটেছে বিধায় একে সম্যকরূপে অনুধাবন করতে গভীর চিন্তা-গবেষণা করতে হবে।
প্রশ্ন: ২৯। কুরআনে কোন্ কোন্ বিষয়ের উপর ঈমান আনার কথা ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহ তা'আলা, তাঁর ফিরিশতাকুল, নবী- রাসূলগণ, প্রেরিত গ্রন্থগুলো এবং আখিরাত দিবসের ওপর সব মুসলমানের ঈমান আনা অপরিহার্য কর্তব্য।
প্রশ্ন: ৩০। মানব জাতির পারলৌকিক মুক্তি ও সফলতার শর্তাবলী কি?
উত্তর: শর্ত একটি, ঈমান আনা এবং সে অনুযায়ী কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়।
প্রশ্ন: ৩১। ঈমান ছাড়া কোন কাজ কি আল্লাহর দরবারে মাকবুল?
উত্তর: ঈমান ছাড়া কোন কাজেই পুণ্য হয় না এবং মঞ্জুরও হয় না।
প্রশ্ন: ৩২। ঈমান কি বাড়ে-কমে?
উত্তর: হ্যাঁ, ঈমানের অবস্থা ও পর্যায় স্তর কম-বেশী হয়।
প্রশ্ন: ৩৩। মানুষের অন্তিমকালে তাওবা ও ঈমান গৃহীত হয় কি?
উত্তর: না, গৃহীত হয় না।
প্রশ্ন: ৩৪। মুমিনের প্রকৃত বন্ধু কে?
উত্তর: আল্লাহ তা'আলা।
প্রশ্ন: ৩৫। অদৃশ্য জ্ঞান কি একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট?
উত্তর: হ্যাঁ, একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।
প্রশ্ন: ৩৬। আল্লাহর সৃষ্ট জীবের শক্তি কতটুকু?
উত্তর: এতটুকুনও নয়। সমগ্র সৃষ্টজীব মিলে একটি ছোট্ট মাছি তৈরী করতে চাইলে তাও সম্ভব হবে না।
প্রশ্ন: ৩৭। কোন মুশরিকের বা অংশীবাদীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার ব্যাপারে কুরআন কি বলেছে?
উত্তর: মুশরিকের জন্য কখনো ক্ষমা প্রার্থনা করা যাবে না।
প্রশ্ন: ৩৮। নবী-রাসূলের বিরোধিতা করলে কি আল্লাহর শাস্তি আপতিত হয়?
উত্তর: অতি অবশ্যই আপতিত হয়।
প্রশ্ন: ৩৯। বেহেশত বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: বেহেশত এমন সুখময় স্থান পারর্থিব জীবনে যা আল্লাহ তাঁর পুণ্যবান ও সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে তাদের সৎ কার্যাবলীর প্রতিদান হিসেবে প্রদান করবেন। যেখানে তারা তাদের রুচিমাফিক সব ধরনের আনন্দ এবং নিয়ামত উপভোগ করবেন। যে-সব নিয়ামত তাদের জন্য সর্বদাই থাকবে বিদ্যমান।
প্রশ্ন: ৪০। দোযখ বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: দোযখ হচ্ছে পরকালের এমন বিভীষিকাময় শাস্তিধাম, যেখানে আল্লাহ তাঁর নাফরমান বান্দাদেরকে তাদের নাফরমানী ও পাপাচারের শাস্তি স্বরূপ নিক্ষেপ করবেন। যেখানে তারা সব সময়ের জন্যই প্রজ্বলিত আগুনে শাস্তি ভোগ করবে। তাদের কখনো মৃত্যু হবে না।
প্রশ্ন: ৪১। কুরআন নামায আদায়ের প্রথমে কি করতে বলেছে?
উত্তর: অযু করতে বলেছে।
প্রশ্ন: ৪২। কুরআন অযুর প্রশিক্ষণ দিয়েছে কিভাবে?
উত্তর: প্রথমে মুখমণ্ডল এবং দু'হাতের উভয় কনুই পর্যন্ত ধৌত করতে হবে, এরপর মাথার অংশবিশেষ মাসেহ করতে হবে, অবশেষে দু'পায়ের উভয় টাখনু বা গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করতে হবে।
প্রশ্ন: ৪৩। অযুর জন্য পানি পাওয়া না গেলে কুরআন কি করতে বলেছে?
উত্তর: তায়াম্মুম করার কথা বলেছে।
প্রশ্ন: ৪৪। কুরআন তায়াম্মুমের প্রশিক্ষণ দিয়েছে কিভাবে?
উত্তর: পাক-পবিত্র মাটি দ্বারা মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করতে হবে।
প্রশ্ন: ৪৫। নামায পড়া কি ফরয?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রত্যেক মুসলমানেরই পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয।
প্রশ্ন: ৪৬। ভ্রমণ অবস্থায় নামায পড়ার হুকুম কি?
উত্তর: ভ্রমণ অবস্থায় নামাযে কসর করতে হয়। অর্থাৎ, চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামায দু'রাকাত পড়তে হয়।
প্রশ্ন: ৪৭। নামায পড়ার পূর্বে কি করতে হয়?
উত্তর: আযান দিতে হয়।
প্রশ্ন: ৪৮। কুরআন সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোন্ দিন সম্মিলিতভাবে নামায পড়তে বলেছে?
উত্তর: শুক্রবার জামাতবদ্ধভাবে জুমু'আর নামায পড়তে বলেছে।
প্রশ্ন: ৪৯। কুরআন মৃতের জন্য কি করতে বলেছে?
উত্তর: প্রত্যেক মুসলমানের মৃত্যুর পর গোসল ও কাফন দিয়ে দাফনের পূর্বে জানাযা নামায পড়তে বলেছে।
প্রশ্ন: ৫০। কুরআন কোন মাসে রোযা রাখতে বলেছে?
উত্তর: রমযান মাসভর রোযা রাখা ফরয করে দিয়েছে।
প্রশ্ন: ৫১। কার ওপর যাকাত প্রদান করা ফরয?
উত্তর: মুসলমান মালিকের নির্ধারিত সম্পদের নির্ধারিত সময়ের পর যাকাত প্রদান করা ফরয।
প্রশ্ন: ৫২। হজ্জব্রত সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা কি?
উত্তর: প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উপরই জীবনে একবার বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জব্রত পালন করা ফরয।
প্রশ্ন: ৫৩। জিহাদের ব্যাপারে কুরআন কি বলেছে?
উত্তর: কুরআন বলেছে, প্রত্যেক মুসলমানের আল্লাহর পথে জিহাদ করা ফরয।
প্রশ্ন: ৫৪। পৌত্তলিকদের মূর্তির ব্যাপারে কুরআনের দিক-নির্দেশ কি?
উত্তর: তাদের দেব-দেবীকে কখনো গাল-মন্দ করা যাবে না।
প্রশ্ন: ৫৫। মিথ্যার আশ্রয় কোনভাবে নেয়া যাবে কি?
উত্তর: না, সব ধরনের মিথ্যাচারের জন্যই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
প্রশ্ন: ৫৬। কুরআন উৎকৃষ্ট চরিত্র নিরূপণ করেছে কিভাবে?
উত্তর: যে সত্যাশ্রয়ী এবং ঈমান ও আমলে সালেহ-এর পথ অবলম্বন করেছে, কুরআন তার চরিত্রই উৎকৃষ্ট বলেছে।
প্রশ্ন: ৫৭। কুরআন নিকৃষ্ট চরিত্র নিরূপণ করেছে কিভাবে?
উত্তর: সত্য উদ্ভাসিত হওয়ার পরও যে অন্ধ, বধির এবং মূকের ন্যায় আচরণ করে আর সত্যকে অস্বীকার করে, সে-ই নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী।
প্রশ্ন: ৫৮। কুরআনে কোন্ রমণীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: এসব রমণীর সাথে: ১. মাতা, ২. কন্যা, ৩. সহোদরা বোন, ৪. ফুফু, ৫. খালা, ৬. নিজ ভাতিজী, ৭. ভাগ্নি, ৮. দুধ মাতা, ৯. দুধ বোন, ১০. শাশুড়ী, ১১. স্ত্রীর কন্যা, ১২. পুত্রবধূ, ১৩. একত্রে দু'সহোদরা বোন ও ১৪. দাদী-নানী।
প্রশ্ন: ৫৯। কুরআনে আদর্শ সমাজের কি কি বৈশিষ্ট্যের কথা ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআন আদর্শ সমাজের বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছে: ১. পরাধীন হবে না, হবে স্বাধীন, স্বাবলম্বী এবং সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। ২. শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে। ৩. অধিবাসীরা কুফর ও শিরকী কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করবে না, হবে খাঁটি ঈমানদার। ৪. এ ধরনের সমাজে একমাত্র হুকুমকর্তা হবেন আল্লাহ তা'আলা। ৫. আল্লাহর আইন প্রবর্তিত হবে। ৬. অধিবাসীরা নামায প্রতিষ্ঠা করবে, আর যাকাত প্রদান করবে। ৭. অধিবাসীরা সৎকার্য ও নৈতিকতা অনুযায়ী চলবে এবং অপরকে সৎকার্য ও নৈতিকতার দিকে আহ্বানকারী হবে। ৮. রাষ্ট্রীয় যাবতীয় কর্মকান্ড পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। ৯. নেতা হবেন সমাজের সর্বশ্রেষ্ঠ সৎকর্মশীল ব্যক্তি। ১০. নাগরিকবৃন্দ আইনের অনুসারী। এ সমাজের কোন ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ১২. এ সমাজ ঘুষ, সুদ, অশ্লীলতা, বেলেল্লাপনা, অনৈতিকতা, শূরা ও মদের অভিশাপ থেকে মুক্ত। ১৩. এ ধরনের সমাজে প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা রয়েছে। ১৪. এ ধরনের সমাজে স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার এবং গঠনমূলক সমালোচনার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
প্রশ্ন: ৬০। কুরআন উত্তম শ্রমিক বলেছে কাকে?
উত্তর: উত্তম শ্রমিক বা কর্মচারী বলেছে তাঁকে যিনি- ১. স্বীয় কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পাদনের যোগ্য। ২. সদিচ্ছার সঙ্গে তাঁর ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। যাঁর মধ্যে দায়িত্বহীনতার লেশমাত্র নেই।
প্রশ্ন: ৬১। কুরআন মালিককে কর্মচারীর সাথে কিরূপ আচরণ করতে বলেছে?
উত্তর: কুরআন বলেছে : ১. শ্রমিককে তাঁর শক্তি-সামর্থ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেবে না। ২. তার ওপর জুলুম বা বাড়াবাড়ি করবে না। ৩. পারিশ্রমিক ঠিক করার ক্ষেত্রে শ্রমিকের সম্মতি নেবে।
প্রশ্ন: ৬২। খিলাফত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কুরআন কি বলেছে?
উত্তর: কুরআন বলেছে : মুসলিম সমাজে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা ওয়াজিব।
প্রশ্ন: ৬৩। কুরআনের দৃষ্টিতে নেতৃত্বের মাপকাঠি কি?
উত্তর: কুরআনের নিরিখে নেতৃত্বের মাপকাঠি হচ্ছে : ১. ঈমানদার, ২. সর্বাধিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও আমলের অধিকারী, ৩. শরী'য়তের সর্বাপেক্ষা বেশি অনুসারী ও মুত্তাকী, ৪. নিষ্ঠাবান, ৫. আর যিনি অসৎ ও অত্যাচারী নন।
প্রশ্ন: ৬৪। কুরআন ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার শাস্তি কি বলেছে?
উত্তর: কিসাস হিসেবে হত্যাকারীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান।
প্রশ্ন: ৬৫। কুরআন চোরের শাস্তি কি বলেছে?
উত্তর: চোরের শাস্তি হচ্ছে হাত কাটা।
প্রশ্ন: ৬৬। ব্যভিচারের শাস্তি কি?
উত্তর: ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীকে একশত চাবুকাঘাত করা।
প্রশ্ন: ৬৭। ব্যভিচারের অপবাদের শাস্তি কি?
উত্তর: অপবাদ আরোপকারীকে ৮০টি চাবুকাঘাত করা এবং তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না বলে স্থির করা।
প্রশ্ন: ৬৮। বাপ-দাদার অন্ধ অনুকরণ কি বৈধ?
উত্তর: অবশ্যই না।
প্রশ্ন: ৬৯। কুরআনে কোন্ ধাতুর নাম এসেছে?
উত্তর: স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, লৌহ ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭০। কুরআনে কি মণি-মুক্তার নাম এসেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এসেছে।
প্রশ্ন: ৭১। কুরআনে কি কি সজির নাম এসেছে?
উত্তর: পিঁয়াজ, রসুন, শশা ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭২। কুরআনে কি কি বৃক্ষের নাম এসেছে?
উত্তর: কুল, খেজুর ও যায়তুন ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭৩। কুরআনে কি কি ফলের নাম এসেছে?
উত্তর: খেজুর, আঙ্গুর, আনার ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭৪। কুরআনে কি কি পাখীর নাম এসেছে?
উত্তর: হুদহুদ, আবাবিল, কাক প্রভৃতি।
প্রশ্ন: ৭৫। কুরআনে কোন্ কোন্ পশুর নাম এসেছে?
উত্তর: মেষ, বকরী, দুম্বা, গাভী, ষাঁড়, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, উট, উটনী, বানর, কুকুর, শূকর, বাঘ ও সিংহ ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭৬। কুরআনে কি কি কীট-পতঙ্গের কথা এসেছে?
উত্তর: মশা, মাছি, পিপিলিকা, মাকড়সা, মৌমাছি ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭৭। কুরআনে মধুর কি গুণের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মধুর মধ্যে রয়েছে মানুষের রোগের প্রতিষেধক।
প্রশ্ন: ৭৮। কুরআনে কোন রঙ্গের কথা এসেছে?
উত্তর: সাদা, লাল, কালো, হলুদ ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৭৯। কুরআন কি কোন শহরের নাম উল্লেখ করেছে?
উত্তর: হ্যাঁ। বাবেল, মক্কা, মদীনা, রোম ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ৮০। নবী করীম (সাঃ)-এর কত বছর বয়সে, কোন্ মাসে, কোন্ বছর এবং কোন্ দিন সর্বশেষ ওহী অবতীর্ণ হয়েছে?
উত্তর: সূরা তাওবা বা বারাআতের শেষ আয়াত নবী করীম (সাঃ)-এর ওফাতের নয় দিন পূর্বে অর্থাৎ ৩ রবিউল আউয়াল, হিজরী ১১ সনের শনিবার অবতীর্ণ হয়। আর সূরা নিসার ১৭৬-তম আয়াত হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনানুযায়ী নবী করীম (সাঃ)-এর ইন্তেকালের ৮১ দিন পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিলো। (ইক্কান, ১ম খন্ড, পৃঃ ২৭)।
প্রশ্ন: ৮১। দ্বিতীয় ওহীর সময় কুরআনের কোন্ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: সূরা মুদ্দাছছিরের প্রথম আয়াতগুলো: ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসিরু কুম ।
প্রশ্ন: ৮২। প্রথম ওহী এবং দ্বিতীয় ওহীর মধ্যকার ব্যবধান কতদিন ছিলো?
উত্তর: আড়াই বছর।
প্রশ্ন: ৮৩। দ্বিতীয় ওহী কোন্ বছর এবং কোন্ মাসে অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: নবুওয়াতের চতুর্থ বর্ষে রবিউল আউয়াল মাসে (হিজরী সন নয়। কেননা, তখনো হিজরী সন গণনা আরম্ভ হয়নি)।
প্রশ্ন: ৮৪। নবী করীম (সাঃ)-এর ওপর প্রথম ওহী কোন্ মাসে, কত তারিখে এবং কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার।
প্রশ্ন: ৮৫। কুরআনে কতগুলো কালিমাত বা শব্দ রয়েছে?
উত্তর: সাতাত্তর হাজার চারশ' ঊনচল্লিশটি।
প্রশ্ন: ৮৬। কুরআনের শব্দের বর্ণনা দিয়েছেন কারা?
উত্তর: শব্দের বর্ণনা দিয়েছেন: ১. আতা ইবনে ইয়াসার (রঃ), ২. আবূ মুহাম্মাদ আল হাম্মানী (রঃ), ৩. ফজল ইবনে শাজান (রঃ)। অবশ্য, কেউ কেউ ছিয়াশি হাজার চারশ' ত্রিশ বলেও মতামত ব্যক্ত করেছেন।
প্রশ্ন: ৮৭। কুরআনের শব্দমালা গণনা করার ওপর সর্বপ্রথম কে গুরুত্বারোপ করেছিলেন?
উত্তর: হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ। তাঁর নির্দেশে কুরআনের হরফের গণনাও সম্পন্ন হয়।
প্রশ্ন: ৮৮। এ গণনার সময়কাল কত?
উত্তর: চার মাস।
প্রশ্ন: ৮৯। 'মুস্তফা' শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: বাছাই করা, মনোনীত করা।
প্রশ্ন: ৯০। মতানৈক্যসহ কুরআনে সর্বমোট অক্ষরের সংখ্যা কত?
উত্তর: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর গণনানুযায়ী তিন লাখ বাইশ হাজার ছয়শ' একাত্তর। তাবিঈ হযরত মুজাহিদ (রঃ)-এর গণনায় তিন লাখ একুশ হাজার একশ' আশি। আবু মাহমুদ আল হাম্মানীর (রঃ) বর্ণনানুযায়ী তিন লাখ চল্লিশ হাজার সাতশ' চল্লিশ। (ইতকান)।
প্রশ্ন: ৯১। কুরআনে সর্বমোট কতগুলো মদ (দীর্ঘ উচ্চারণের চিহ্ন) রয়েছে?
উত্তর: এক হাজার সাতশ' একাত্তর।
প্রশ্ন: ৯২। কুরআনে কতটি তাশদীদ (যে চিহ্ন দ্বারা একটি বর্ণ দু'বার উচ্চারণ করা হয়) রয়েছে?
উত্তর: এক হাজার দুইশ' তিপ্পান্ন।
প্রশ্ন: ৯৩। কুরআনে নুকতা বা বিন্দুর সংখ্যা কত?
উত্তর: দশ লাখ চার হাজার ছয়শ' বিরাশি (১০,০৪,৬৮২)।
প্রশ্ন: ৯৪। কুরআনের একটি অক্ষর পড়ার বিনিময়ে কিরূপ পুণ্য পাওয়া যায়?
উত্তর: কুরআনের প্রতিটি অক্ষর পড়ার জন্য দশগুণ পুণ্য পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: ৯৫। কুরআনের ৩৪০৭৪০টি অক্ষর পড়ার জন্য কিরূপ পুণ্য পাওয়া যাবে?
উত্তর: কুরআনের উপরোল্লিখিত অক্ষর পড়লে অর্থাৎ গোটা কুরআন তিলাওয়াত করলে আল্লাহর ইচ্ছায় দশগুণ পুণ্য (৩৪৭০৪০০) পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন: ৯৬। কুরআনের সূরা ক'টি মাক্কী ও মাদানী হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য।
উত্তর: একত্রিশটি।
প্রশ্ন: ৯৭। কুরআনে উল্লিখিত যে-সব পুণ্যবান ব্যক্তিত্বকে কেউ কেউ নবী বলে অভিহিত করেছেন তাঁদের নাম কি?
উত্তর: তাদের নাম নিম্নরূপ: ১। হযরত লোকমান (আঃ) ২। হযরত জুলকারনাইন (আঃ) ৩। হযরত জুলকিফল (আঃ) ৪। হযরত খিজির (আঃ)। উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
প্রশ্ন: ৯৮। সর্বপ্রথম কোন্ সূরা অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: সূর ফাতিহা বা মুদ্দাসসির।
প্রশ্ন: ৯৯। সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা কোন্টি?
উত্তর: সূরা নসর অথবা বারাআত।
প্রশ্ন: ১০০। কুরআনের সব সূরায় বিসমিল্লাহ সংযোজিত হয়েছে, কিন্তু বারাআতে বিসমিল্লাহ সন্নিবেশিত হয়নি-এর কারণ কি?
উত্তর: কুরআনের ব্যাখ্যাকারগণ এর বিভিন্ন কারণ বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি কারণ বলা হয়েছে, বিসমিল্লাহ শরীফে আল্লাহ তা'আলার রহমতের কথা বিবৃত হয়েছে। সূরা তাওবায় জিহাদ এবং কাফিরদেরকে হত্যা করার কথা ঘোষিত হয়েছে এটা দয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত। ইমাম রাযী (রঃ) লিখেছেন: 'নবী করীম (সাঃ) এ সূরার পূর্বে বিসমিল্লাহ লিখতে বলেননি। এ জন্য এখন আমরা লিখছি না'। আবার অনেকে বলেছেন, এটি পূর্বের সূরারই অংশ। তাই বিসমিল্লাহ বলা হয়নি। তবে, এ মতটি দুর্বল।
প্রশ্ন: ১০১। কুরআনের দীর্ঘতম আয়াত কোন্টি?
উত্তর: সূরা বাকারার ২৮২তম আয়াত।
প্রশ্ন: ১০২। কুরআনের সর্বকনিষ্ঠ আয়াত কোন্টি?
উত্তর: ওয়াদদুহা, ওয়াল ফাজরি, মুদহাম্মাতান ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ১০৩। কুরআনের কোন্ আয়াতে কাফ এসেছে ২৩ বার?
উত্তর: সূরা বাকারার ২৮২তম আয়াতে ২৩ বার কাফ অক্ষর এসেছে।
প্রশ্ন: ১০৪। কুরআনের কত স্থানে নামাযের তাকীদ দেয়া হয়েছে?
উত্তর: একশ' পঞ্চাশ স্থানে।
প্রশ্ন: ১০৫। কুরআনে ঐতিহাসিক ঘটনার নিরিখে সবচেয়ে উত্তম কার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
উত্তর: হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর ঘটনা।
প্রশ্ন: ১০৬। কুরআনের কোন্ সূরায় আয়াত আছে ৫১টি, কিন্তু ওয়াকফ বা বিরাম চিহ্ন রয়েছে ৫২টি।
উত্তর: সূরা আর রাহমানে।
প্রশ্ন: ১০৭। কুরআনে যে-সব মূল শব্দ বারবার এসেছে, তার সংখ্যা কত?
উত্তর: দু'হাজার।
প্রশ্ন: ১০৮। কুরআনের কোন্ সূরায় আয়াত মাত্র ৩টি, কিন্তু ওয়াও আছে ১০টি।
উত্তর: সূরা ওয়াল আসরি।
প্রশ্ন: ১০৯। তাফসীর শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন সাহাবীর সংখ্যা কত?
উত্তর: দশজন সাহাবী। যেমন- চার খোলাফায়ে রাশেদা, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ), ইবনে আব্বাস (রাঃ), যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাঃ), আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ), উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ)। এছাড়া মু'আজ ইবনে জাবাল (রাঃ) এবং হযরত আবু দারদা (রাঃ)-ও কুরআনের জ্ঞানে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। (তাবাকাতে ইবনে সা'দ, ২য় খন্ড, পৃঃ ১০৪)।
প্রশ্ন: ১১০। তাবেয়ীনদের মধ্যে কারা তাফসীর শাস্ত্রবিশারদ হিসেবে প্রসিদ্ধি অর্জন করেন?
উত্তর: ইমাম হাসান বসরী (রঃ), আলকামাহ (রঃ), আতা ইবনে আবী রাবাহ্, যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) প্রমুখ।
প্রশ্ন: ১১১। সাহাবিগণের পর কোন্ খলীফার মুখে রাত-দিন কুরআন উচ্চারিত হতো?
উত্তর: হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয (রঃ)। (৯৯ থেকে ১০১ হিজরী)।
প্রশ্ন: ১১২। কোন্ খলীফা তাবিয়ী হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেবকে অনুরোধ করে তাফসীর লিখিয়েছিলেন।
উত্তর: খলীফা আবদুল মালেক খিলাফতের পূর্বে দিবারাত্র কুরআন তিলাওয়াতে নিজেকে ব্যাপৃত রাখতেন। খিলাফত লাভের পর, সে রুটিন তিনি রক্ষা করে চলতে পারেননি। কিন্তু সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব (রঃ)-কে দিয়ে তিনি তাফসীর লিখিয়েছেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, পৃ: ১১৭)
প্রশ্ন: ১১৩। কোন্ খলীফা প্রত্যহ একবার কুরআন খতম করতেন, এক হাজার দীনার দান করতেন, আর ১০০ রাক'আত নফল নমায আদায় করতেন?
উত্তর: ওলীদ ইবনে আবদুল মালিক (হিজরী ৭৬ মুতাবিক ৭০৫ খ্রীঃ হিজরী ৯৬-৭১৩ খ্রীঃ)। (তারিখে ইবন জারীর আত্-তাবারী ৫ম খন্ড ৫২৭১, তারিখে ইসলাম কামিল, ১ম খন্ড, পৃ: ৪০৩)।
প্রশ্ন: ১১৪। কোরআনে আল্লাহর গুণবাচক নাম কোথায় এবং কতবার এসেছে?
উত্তর: কোরআনে আল্লাহর সিফাতি (গুণবাচক) নাম বিভিন্ন জায়গায় এসেছে। যেমন-
১. الرحمن (দয়াময়)-৫৭ বার এসেছে। সূরা ফাতিহা-১, ৩, সূরা বাকারা-১৬৩, আর রা'দ-৩০, ইস্রা (সূরা বনী ইসরাঈল)-১১০, মারইয়াম-১৮, ২৬, ৪৪, ৪৫, ৫৮, ৬১, ৬৯, ৭৫, ৭৮, ৮৫, ৮৭, ৮৮, ৯১, ৯২, ৯৩, ৯৬, ত্বাহা-৫, ৯০, ১০৮, ১০৯, আম্বিয়া-২০, ২৬, ৪২, ১১২, আল্ ফুরকান-২৬, ৫৯, ৬০, ৬০, ৬৩, শু'য়ারা-৫, নম্ল-৩০, ইয়াসীন-১১, ১৫, ২৩, ৫২, ফুচ্ছিলাত-২, যুখরুফ-১৭, ১৯, ২০, ৩৩, ৩৬, ৫৫, ৮১, ক্বাফ-৩৩, আর রাহমান-১, আল হাশর-২২, আলমুলক-৩, ১৯, ২০, ২৯, ৩৭, ৩৮।
২. الرحیم (অত্যন্ত দয়ালু)-১১৪ বার এসেছে।
৩. الملك (বাদশাহ): ৮ বার এসেছে। ত্বাহা-১১৪, মুমিনূন-১১৬, হাশর-২৩, জুমু'আ-১, নাস-২, ফাতিহা-৩, আলু ইমরান-২৬, যুখরুফ-৭৭।
8. القدوس (পবিত্র) : ২ বার এসেছে। হাশর-২৩, জুমু'আ-১।
৫. السلام (শান্তিময়) : ১ বার এসেছে। হাশর-২৩। উল্লেখ্য, سلام শব্দ আল-কুরআনে মোট ২৩ বার এসেছে। ২২ জায়গায় এসেছে শান্তি বোঝানোর জন্য। ১ বারই অর্থাৎ সূরা হাশরের ২৩ নং আয়াতে আল্লাহর সিফাতি নাম বোঝানোর জন্য এসেছে।
৬. المزمن (নিরাপত্তাদানকারী): ১ বার এসেছে। হাশর-২৩।
৭. المهيمن (রক্ষণাবেক্ষণকারী): ১ বার এসেছে। হাশর-২৩।
৮. العزيز (সর্বশক্তিমান): ৯৯ বার এসেছে।
৯. الجبار (সর্ব প্রকার ক্ষমতার অধিকারী) : ১ বার এসেছে। হাশর-২৩।
১০. المتكبر (সর্বাপেক্ষা বড়) : ১ বার এসেছে। সূরা হাশর-২৩।
১১. خالق (সৃষ্টিকর্তা) : ৮ বার এসেছে।
১২. بدیع (আবিষ্কারক) : ২ বার এসেছে। বাকারা-১১৭, আন'আম-১০১।
১৩. قوی (কাবিয়্যু) : শক্তিধর-১১ বার এসেছে।
১৪. الباری (সব আত্মার সৃষ্টিকর্তা) : ১ বার এসেছে। সূরা হাশর-২৪।
১৫. المصور (যাবতীয় আকৃতি-প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা) : ১ বার এসেছে। সূরা হাশর-২৪।
১৬. الغفار (ক্ষমাশীল) : ৪ বার এসেছে।
১৭. القهار (শক্তিময়) : ৬ বার এসেছে।
১৮. الوهاب (দাতা) : ৩ বার এসেছে। আলু ইমরান-৮, সোয়াদ-৯, ২৫।
১৯. الرزاق (রুজি ও আহারদাতা) : ১ বার এসেছে। সূরা জারিয়াত-৫৮।
২০. الفتاح (একমাত্র বিজয়দাতা) : ১ বার এসেছে। সূরা সাবা-২৬।
২১. العلیم (সর্বজ্ঞ) : ১৪০ বার এসেছে।
২২. علیم (সর্বজ্ঞ) : ২২ বার এসেছে।
২৩. علام (সবচাইতে বেশী জ্ঞানী) : ৪ বার এসেছে।
২৪. القابض (সাহায্যকারী) : সূরা বাকারার ২৪৫ নং আয়াতে يقبض থেকে القابض নাম নিষ্পন্ন হয়েছে। الباسط (প্রশস্তকারী): সূরা মাঈদার ২৮ নং আয়াতেও এসেছে।
২৫. الرافع (উন্নতি দানকারী): ২ বার এসেছে। আলু ইমরান-৫৫, সূরা ওয়াকিয়া-৩।
২৬. مذل (অপমানকারী) এবং ২৭. معز (সম্মানদানকারী): এ দু'টি সিফাতি নাম সূরা আলু ইমরানের ২৬ নং আয়াতের تعز ও تذل শব্দ থেকে নিষ্পন্ন।
২৮. السميع (সর্বশ্রোতা) : ৪৩ বার এসেছে।
২৯. سميع (শ্রোতা) : ১৬ বার এসেছে।
৩০। بصیر (সর্বদর্শী) : ৩৬ বার এসেছে।
৩১. الحکیم (মঙ্গলময়) : আল-কুরআনের সূরা 'আরাফের ৮৭ আয়াত, ইউনুসের ১০৯ আয়াত ও ইউসুফের ৮০ আয়াত-এ রয়েছে الحاکمین এবং সূরা হূদের ৪৫ ও সূরা তীনের ৮ নং আয়াতে আছে احكم الحاكمين এর থেকেই উদ্ভূত হয়েছে আল্লাহর সিফাতি নাম الحکیم
৩২. العدل (ন্যায় বিচারকারী): ১৪ বার এসেছে।
৩৩. اللطيف (সূক্ষ্ম দয়ালু): ৭ বার এসেছে।
৩৪. الخبير (সবকিছুই জানেন): ৩৩ বার এসেছে।
৩৫. الحلیم (অত্যন্ত সহিষ্ণু): ১৫ বার এসেছে।
৩৬. العظيم (অতিমহান): ১০৭ বার এসেছে।
৩৭. عظیما (সুমহান): ২২ বার এসেছে।
৩৮. الغفور (ক্ষমাশীল): ৮৮ বার এসেছে।
৩৯. الغفور (ক্ষমাশীল): ৫ বার এসেছে।
৪০. الشكور (সমাদরকারী): ৯ বার এসেছে।
৪১. العلى (অতিমহান): ৮ বার এসেছে।
৪২. الكبير (অতিবড়): ১৩ বার এসেছে।
৪৩. المقدم (উন্নতিদাতা) : ৪৪ বার এসেছে।
৪৪. المتعالي (উচ্চ হতে উঁচু তিনি): ১ বার এসেছে।
৪৫. البر (পরম উপকারী): ২ বার এসেছে। আততুর-২৭, ২৮।
৪৬. التواب (কৃপাদৃষ্টিকারী): ১১ বার এসেছে।
৪৭. المنتقم (অপরাধীর শাস্তি বিধানকারী): ৪ বার এসেছে।
৪৮. العفو (ক্ষমাকারী): ১ বার এসেছে। নিসা-৯৯।
৪৯. الرؤف (স্নেহবান): ৯ বার এসেছে।
৫০. الملك (সমস্ত পৃথিবীর মালিক)-১ বার এসেছে। আলু ইমরান-২৬।
৫১. ذو الجلال و الاكرام (নিজেই সম্মান ও প্রতিপত্তিশালী এবং অন্যকে সম্মান এবং প্রতিপত্তি দানকারী): ১ বার এসেছে। আর রহমান-২৭, ৭৮।
৫২. المقسط (ন্যায় বিচারক): সূরা আরাফের ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: قل امر ربي بالقسط -এর থেকে المقسط বা ন্যায় বিচারক নাম নেয়া হয়েছে। সরাসরি المقسط শব্দ আল-কুরআনে নেই।
৫৩. الجامع (সবাইকে একত্রকারী): ৩ বার এসেছে। আলু ইমরান-৯, ইনসান-৪০, নূর-৬২।
৫৪. الغنى (ধনী) : ২০ বার এসেছে।
৫৫. المغنى (সম্পদদানকারী)-সূরা তাওবার ২৮ নং আয়াতে আছে فسوف يغفر كم الله -এর থেকে المغنى। নাম হয়েছে।
৫৬. المانع (নিষেধকারী): আল-কুরআনের تمنعون - يمنعون ইত্যাদি শব্দ থেকে المانع সিফাতি নাম হয়েছে।
৫৭. الضار (নোক্সানে পতিত করার মালিক)- সূরা আন'আমের ১৭ নং আয়াতে আছে - وان يمسسك الله بضر فلا كاشف له الا هو
৫৮. النافع (লাভবান করার মালিক): আল-কুরআনের সূরা ইউনুসের ১০৬ নং আয়াতের ينفعك এবং সূরা হূদের ينفعكم ইত্যাদি শব্দ থেকে النافع নাম হয়েছে।
৫৯. النور (আলোর অধিকারী): ৩৩ স্থানে আছে। আল্লাহ্ নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ১ বার।
৬০. الهادی (পথ প্রদর্শনকারী): الهادی শব্দ কুরআনে হুবহু না থাকলেও ৫২টি আয়াতের মধ্যে আছে یهدی অর্থাৎ, আল্লাহ হেদায়াত করেন। এর থেকে الهادی বা হেদায়াতকারী শব্দ তৈরী হয়েছে।
৬১. البديع (বিনা নমুনাতে সৃষ্টিকারী): ২ বার এসেছে। সূরা বাকারা-১১৭, সূরা আন'আম-১০১।
৬২. الباقی (চিরস্থায়ী): ১ বার এসেছে। সূরা আর রহমানের ২৭ নং আয়াতের ويبقى وجه ربك এর থেকে باقی নাম হয়েছে।
৬৩. الوارث (উত্তরাধিকারী): ১ বার এসেছে। বাকারা-২৩৩।
৬৪. الرشيد (আর রাশীদ): ৩ বার এসেছে। হুদ-৭৮, ৮৭, ৯৭।
৬৫. الصبور (সহনশীল) এবং الستار সরাসরি আল কুরআনে এভাবে নেই। তবে صبار আছে তা থেকে صبور ও ستار নামকরণ হয়েছে।
প্রশ্ন: ১১৫। আল-কুরআনের কতগুলো নামের কথা কুরআনে ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: আল-কুরআনের প্রায় ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। যেমন -
১. القرآن (আল-কুরআন)
২. رحمت (রহমত)
৩. كتاب (কিতাব)
৪. حکمت (হিকমত)
৫. هدی (হুদা)
৬. فرقان (ফুরকান)
৭. مبين (মুবীন)
৮. کریم (কারীম)
৯. کلام (কালাম)
১০. البرهان (বুরহান)
১১. نور (নূর)
১২. شفا (শিফা)
১৩. موعظت (মাওইজাত)
১৪. ذکر (জিকর)
১৫. مبارك (মুবারক)
১৬. علی (আলিয়্যুন)
১৭. حکیم (হাকীম)
১৮. مهیمن (মুহাইমিন)
১৯. مصدق (মুসাদ্দিক)
২০. حبل الله (হাবলুল্লাহ)
২১. ذکری (জিকরা)
২২. قیوم (কাইয়্যুম)
২৩. قول فصل (কাওলে ফাসল)
২৪. احسن الحديث (আহসানুল হাদীস)
২৫. مثانی (মাসানী)
২৬. مشابه (মুতাশাবিহ)
২৭. تنزیل (তানযীল)
২৮. روح (রূহ)
২৯. وحی (ওহী)
৩০. عربی (আরবী)
৩১. بصائر (বাসাইর)
৩২. بیان (বায়ান)
৩৩. علم (ইলম)
৩৪. حق (হক্ক)
৩৫. هادی (হাদী)
৩৬. عجب (আজাব)
৩৭. تذكرة (তাজকিরা)
৩৮. عروة الوثقى (উরওয়াতুল উসকা)
৩৯. صدق (সিদ্ক)
৪০. امر (আমর)
৪১. بشری (বুশরা)
৪২. عزیز (আযীয)
৪৩. بلاغ (বালাগ)
৪৪. قصص (কাসাস)
৪৫. اعظم (আজম)
৪৬. بشير (বাশীর)
৪৭. نذیر (নাযীর)
৪৮. مجید (মজীদ)
৪৯. حکم (হুকম)
প্রশ্ন: ১১৬। কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে কি পড়ার কথা স্বয়ং কুরআনে ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (نمل : ۹۸) অর্থাৎ, তুমি কুরআন পড়া আরম্ভ করলে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। (নমল: ৯৮)
প্রশ্ন: ১১৭। কুরআন বোঝা এবং মুখস্থ করার ব্যাপারে আল্লাহ কি ঘোষণা দিয়েছেন?
উত্তর: সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহর বাণী: وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ (قمر : (۱۷) অর্থাৎ, আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
প্রশ্ন: ১১৮। কুরআনের প্রথম পাঠশালার ছাত্র ছিলেন কারা?
উত্তর: আসহাবে সুফ্ফাহ (রাঃ)।
📄 কুরআনের অলৌকিকত্ব
প্রশ্ন: ১। আসমানী কিতাবের মধ্যে কোন্ কিতাব অদ্যাবধি সব দিক থেকে সংরক্ষিত আছে এবং তার মধ্যে কোন ধরনের তাহরীফ বা বিকৃতি হতে পারেনি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ২। কুরআন পৃথিবীর বুকে মানুষের কি মর্যাদা নির্ণয় করেছে?
উত্তর: কুরআনের ভাষ্য হচ্ছে: মানুষ দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতিনিধি। কেননা, আল্লাহ তা'আলা প্রথম মানুষ সৃষ্টির সময় ফিরিশতাদের মাঝে ঘোষণা দিয়েছিলেন: إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً (بقرة : (۳)
প্রশ্ন: ৩। কুরআন সে-সব মানুষকে কি বলে সম্বোধন করেছে- যাঁদের বনী আদমের হেদায়াতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে?
উত্তর: নবী ও রাসূল।
প্রশ্ন: ৪। কুরআনে খাতামুন্নাবিয়্যীন কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ)-কে।
প্রশ্ন: ৫। কুরআন 'দ্বীন'-এর পরিপূর্ণতার সুসংবাদ দিয়েছে কোন্ আয়াত দ্বারা?
উত্তর: اليوم أكملت لكم دينكم و اتممت علیکم نعمتی و رضيت لكم الاسلام دينا .
প্রশ্ন: ৬। আজো কুরআন যেভাবে তিলাওয়াত করা হয়- এটা কে শিখিয়েছেন?
উত্তর: স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) এভাবেই তিলাওয়াত করতেন এবং অদ্যাবধি এভাবেই সংরক্ষিত বা অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রশ্ন: ৭। বিশ্বে সবচাইতে পঠিত গ্রন্থ কোন্টি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ৮। পৃথিবীতে সব সময় পঠিত হয়- এমন গ্রন্থ কোন্টি?
উত্তর: কুরআন শরীফ। বিভিন্ন দেশে দিন-রাতের সময় ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও না কোথাও কুরআন তিলাওয়াত হতে থাকে। নামাযে কুরআন তিলাওয়াত হয় এবং কুরআনের হুকুম-আহকামের তাবলীগও হয়।
প্রশ্ন: ৯। বিশ্বের কোন্ গ্রন্থ প্রতি বছর নির্দিষ্ট মাসে সম্পূর্ণ পড়া হয়?
উত্তর: কুরআন। রমযান মাসে তারাবীহ নামাযে অন্তত একবার খতম করা হয়।
প্রশ্ন: ১০। বিশ্বের কোন্ গ্রন্থের পঠনরীতি, শব্দ, বাক্য বিন্যাস ইত্যাদি হুবহু আজো বিদ্যমান?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১১। বিশ্বের কোন্ গ্রন্থটি অবতীর্ণ থেকে অদ্যাবধি তার সমতুল্য কোন একটি সূরা বা আয়াত উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ করা হলেও এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস কারো হয়নি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১২। পৃথিবীতে উপমাহীন হওয়ার চ্যালেঞ্জসম্বলিত গ্রন্থের নাম কি?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১৩। সে গ্রন্থের নাম কি যা সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন?
উত্তর: কুরআন।
প্রশ্ন: ১৪। কুরআনের বিষয়বস্তু কি?
উত্তর: মানুষ।
প্রশ্ন: ১৫। কুরআনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: মানুষের হেদায়াত ও পথপ্রদর্শন। তবেই, মানুষ দুনিয়াতে ও আখিরাতে মুক্তি পাবে।
প্রশ্ন: ১৬। কুরআনের জন্য খোদ এ গ্রন্থে কি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কুরআন, ফুরকান, আল-কিতাব, যিকর, নূর, উম্মুল কিতাব, হুদা, মুবীন, মুসাদ্দিক, বুশরা, বুরহান, মীযান ও ইমাম ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ১৭। কুরআন মানুষকে কি ধরনের মানুষরূপে তৈরী করতে চায়?
উত্তর: মু'মিন।
প্রশ্ন: ১৮। কুরআন কি ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়?
উত্তর: কুরআনের আলোকে একটি উপমাযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
প্রশ্ন: ১৯। কুরআনে মানুষের সম্মান ও মর্যাদার নিরিখ বলা হয়েছে কাকে?
উত্তর: তাকওয়া বা খোদাভীতিকে।
প্রশ্ন: ২০। কুরআনে উম্মুল খাবায়েস বা সব অপকর্মের মূল বলা হয়েছে কাকে?
উত্তর: মদকে।
প্রশ্ন: ২১। কুরআন মানুষের যোগ্যতাকে কিভাবে দেখেছে?
উত্তর: মানুষকে বার বার চিন্তা-ভাবনা করার দাওয়াত দিয়ে।
প্রশ্ন: ২২। কুরআনের আয়াতের দুটো শ্রেণী কি কি?
উত্তর: মুহকামাত বা স্পষ্ট আয়াত ও মুতাশাবিহাত বা অস্পষ্ট আয়াত।
প্রশ্ন: ২৩। কুরআনের মূল ভিত্তি কি ধরনের আয়াতে?
উত্তর: মুহকামাত বা সহজবোধ্য আয়াতে।
প্রশ্ন: ২৪। কুরআনের মুতাশাবিহাত আয়াতসমূহের পিছু নেয় কোন্ ধরনের লোক?
উত্তর: এ ধরনের লোক সম্পর্কে স্বয়ং কুরআনেই ঘোষিত হয়েছে: "যাদের মনে কূটিলতা আছে তারা আল্লাহ্র সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময়ই মুতাশাবিহাত-এর পেছনে লেগে থাকে এবং এর অর্থ বের করার চেষ্টা করে। অথচ এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না। পক্ষান্তরে যারা জ্ঞান ও বিদ্যায় পাকাপোক্ত লোক তারা বলে: আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি; এটা সব সময়ই আমাদের খোদার পক্ষ হতে এসেছে।" (সূরা আলু ইমরান: আয়াত ৭)।
প্রশ্ন: ২৫। কুরআনে হুযুর (সাঃ)-এর জিম্মাদারদের সম্পর্কে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: ১. কুরআন তিলাওয়াত করা, ২. তাযকিয়ায়ে নক্স করা, ৩. জ্ঞান (কিতাব) বিজ্ঞানের তালীম দেয়া। (সূরা আলু ইমরান: আয়াত ১৬৪)
প্রশ্ন: ২৬। কুরআন হুযূর (সাঃ)-এর কথাকে কার কথা বলেছে?
উত্তর: আল্লাহর কথা বলে ঘোষণা দিয়েছে। যেমন- সূরা নাস-এর ৩ ও ৪ নং আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায়: "(এ নবী) নিজের (নফসের) মনগড়া কথা বলেন না, তার কথাই তাওহীদ।"
প্রশ্ন: ২৭। কুরআন সম্পর্কে মহাকবি ইকবালের প্রসিদ্ধ বক্তব্য কি?
উত্তর: পৃথিবীতে সবচাইতে অত্যাচারিত গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন। কেননা, মুসলমানরা এটিকে না বুঝে-শুনেই অধ্যয়ন করে।
প্রশ্ন: ২৮। কুরআনে এমন কোন্ কোন্ বস্তুর নাম উপমা হিসেবে বিবৃত হয়েছে- যেগুলোকে মানুষ নিকৃষ্ট মনে করে?
উত্তর: মশা, মাছি, মধু মক্ষিকা, কুকুর ও মাকড়শার ঘর ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ২৯। কুরআন নিজেকে অদ্বিতীয় গ্রন্থ হবার দাবী কোন্ আয়াত দ্বারা করেছে?
উত্তর: সূরা বাকারার ২৩ ও ২৪ নং আয়াত দ্বারা- "আমার এ বান্দার ওপর যে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি, তা আমার প্রেরিত কি-না সে বিষয়ে তোমাদের মনে যদি কোন প্রকার সন্দেহ জেগে থাকে তা হলে এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে আনো। এ জন্য তোমরা সব সমর্থক ও একমতের লোকদের একত্র কর, এক আল্লাহ ভিন্ন আর যার যার সাহায্য চাও তা প্রমাণ কর, তোমরা সত্যবাদী হলে এটা অবশ্যই করে দেখাবে। কিন্তু তোমরা যদি তা না কর নিশ্চয়ই তা কখনো করতে পারবে না, তবে সে আগুনকে তোমরা ভয় কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর যা সত্যদ্রোহী লোকদের জন্য নির্দিষ্ট ও প্রস্তুত করা হয়েছে।" উল্লেখ্য, এ চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
প্রশ্ন: ৩০। কুরআনে আসমানের সংখ্যা কতটি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: সাতটি।
প্রশ্ন: ৩১। কুরআনে যমীনের সংখ্যা কত ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: কুরআনে শুধুমাত্র যমীন শব্দটি এক বচনে ব্যবহৃত হয়েছে। এর কোন বহুবচন কুরআনে নেই।
প্রশ্ন: ৩২। কুরআনে শয়তানের জন্য কোন্ কোন্ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: ইবলীস ও আশশাইতান।
প্রশ্ন: ৩৩। কুরআন ইবলীসকে কোন্ ধরনের সৃষ্টি বলে ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: ইবলীস হচ্ছে জ্বিন।
প্রশ্ন: ৩৪। কুরআন কাকে মানুষের শত্রু বলে আখ্যা দিয়েছে?
উত্তর: শয়তানকে। যেমন- সূরা বাকারার ৩৬ নং আয়াতে ঘোষিত হয়েছে: "তোমরা একে অপরের শত্রু"।
প্রশ্ন: ৩৫। কুরআনে বনী ইসরাঈলের নামে সম্বোধিত গোত্র কার বংশধর?
উত্তর: হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর বংশধর। তাঁকে আল্লাহ ইসরাঈল লকবে ভূষিত করেছেন। ইসরাঈল মানে হচ্ছে আবদুল্লাহ বা আল্লাহর বান্দা।
প্রশ্ন: ৩৬। কুরআন পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতদের জন্য ইবাদাতের মধ্য থেকে কোন্ কোন্টি ফরজ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: নামায ও যাকাত। (সূরা বাকারা: আয়াত ৪২)
প্রশ্ন: ৩৭। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: আল্লাহ পাক এক গোত্রকে পানাহারের জন্য এমন খাদ্য দিয়েছেন যা অন্য কোন জাতির ভাগ্যে জোটেনি- সে গোত্র এবং সে খাদ্যের নাম কি?
উত্তর: গোত্রের নাম 'বনী ইসরাঈল' খাদ্যের নাম 'মান্না ও সাল্ভয়া'।
প্রশ্ন: ৩৮। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, একটি বংশের কিছু লোককে আল্লাহর হুকুম অমান্য করার জন্য বাঁদরে রূপান্তরিত করা হয়েছিলো, সে কওমের নাম কি?
উত্তর: এ কওমের নাম ছিলো বনী ইসরাঈল। আল্লাহ তা'আলা তাদের সপ্তায় এক দিন মাছ শিকার করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তারা প্রকাশ্যভাবেই হুকুম অমান্য করে। এ জন্য আজাব স্বরূপ আল্লাহ পাক তাদের বাঁদরে রূপান্তরিত করেন।
প্রশ্ন: ৩৯। কুরআনে এমন দু' ফিরিশতার নাম ঘোষিত হয়েছে- যারা মানুষকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিতেন যদ্বারা জ্ঞানার্জনকারী কাফির বনে যেতো। তাদের নাম এবং সে ইলমের নাম কি?
উত্তর: ফিরিশতা দু'জনের নাম হলো ১. হারূত ও ২. মারূত। এরা বাবেল শহরে যাদু শিক্ষা দিতেন। শেখানোর পূর্বে মানুষকে সতর্ক করে বলতেন: “দেখো! আমরা একটি পরীক্ষা মাত্র। তোমরা কুফরে জড়িয়ে পড়ো না।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৫২)।
প্রশ্ন: ৪০। কুরআনে এমন দু'টি কওমের ঘোষণা রয়েছে- যার মধ্যে একটি নিমজ্জিত হচ্ছিলো এবং দ্বিতীয়টি প্রতিপক্ষকে দেখছিলো- এ দুটো দল বা সম্প্রদায়ের নাম কি?
উত্তর: নিমজ্জিতপ্রায় দল হলো ফেরাউনের বাহিনী, আর তাদের দেখছিলো বনী ইসরাঈলরা।
প্রশ্ন: ৪১। কুরআন নির্দিষ্ট একটি দিনকে ভয় করার জন্য বার বার তাকিদ দিয়েছে- কোন্ দিনটি?
উত্তর: কিয়ামতের দিন। যেমন- ঘোষিত হয়েছে: "তোমরা ভয় কর সেদিনটি যখন কেউ কারো এক বিন্দু উপকারে আসবে না, কারো কাছ থেকে কোন 'বিনিময়' গ্রহণ করা হবে না, কোন সুপারিশ কাউকে এক বিন্দু উপকার দান করবে না, আর পাপীরা কোন দিক দিয়েও বিন্দুমাত্র সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১২৩)
প্রশ্ন: ৪২। কুরআনে হুজুর (সাঃ)-কে সম্বোধন করার জন্য মুমিনদের راعنا (রাইনা) না বলে অন্য একটি শব্দ বসিয়ে দেয়া হয়েছে- শব্দটি কি?
উত্তর: انظرنا (উনজুরনা) অর্থাৎ, আমাদের দিকে তাকান। এটি সূরা বাকারার ১০৪ নং আয়াতে সন্নিবেশিত আছে।
প্রশ্ন: ৪৩। সে গ্রন্থের নাম কি? যে গ্রন্থ মানব জাতির চিন্তা-চেতনা, চরিত্র-মাধুর্য, কৃষ্টি-কালচার এবং জীবন পরিচালনার উপায়-উপাদান ও উপকরণের ওপর প্রভৃত প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর: কুরআনে মাজীদ।
প্রশ্ন: ৪৪। সে গ্রন্থের নাম কি? যে গ্রন্থে বিশ্বচরাচরের প্রারম্ভ এবং শেষ ও এর মধ্যকার সমুদয় জিনিসের হাকীকত বর্ণনা রয়েছে。
উত্তর: কুরআনে মজীদ।
প্রশ্ন: ৪৫। সে গ্রন্থের নাম কি? যে গ্রন্থ পেশকারী সে গ্রন্থের ওপর স্বয়ং আমল করেছেন আর তিনিই জীবন্ত ব্যাখ্যা।
উত্তর: এ গ্রন্থের নাম হচ্ছে কুরআন। এ গ্রন্থ পেশকারী হুজুর (সাঃ) স্বয়ং এ গ্রন্থের জীবন্ত ব্যাখ্যা ছিলেন।
প্রশ্ন: ৪৬। কুরআনে কারীমে আল্লাহর সন্তুষ্টির এ ঘোষণা কাদের জন্য: "আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, আর তারাও আল্লাহর প্রতি, এটাই হচ্ছে বড় সফলতা"।
উত্তর: সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-এর জন্য।
প্রশ্ন: ৪৭। কুরআনে সফলতা লাভের কি পন্থা ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "সফলতা অর্জন করেছে সে-সব লোক যারা পবিত্রতা অর্জন করেছে আর স্বীয় প্রতিপালকের নাম আত্মস্থ করেছে, অতঃপর নামায পড়েছে, কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও- অবশ্য পারলৌকিক জীবনই উত্তম এবং স্থায়ী।" (সূরা আল-আ'লা: আয়াত ১৪-১৭)
প্রশ্ন: ৪৮। কুরআনে আত্মার প্রশান্তি এবং দৃঢ়তা অর্জনের কি পন্থা বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর : الا بذكر الله تطمئن القلوب "সাবধান! আত্মার প্রশান্তি আল্লাহর স্মরণের মধ্যে"। অর্থাৎ, আল্লাহকে স্মরণ করো, তবেই আত্মার প্রশান্তি অর্জিত হবে।
প্রশ্ন: ৪৯। চিন্তা এবং ভয় থেকে মুক্তির জন্য কুরআনে কোন্ চিকিৎসার কথা ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর : ان الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا فلا خوف عليهم و لاهم يحزنون : "যে-সব লোক বলেছে যে, আল্লাহ্ আমাদের প্রভু আর একথার ওপরই সুদৃঢ় থাকলে তাদের না কোন ভয় আছে, আর না আছে চিন্তা।"
প্রশ্ন: ৫০। কুরআন সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে কোন্ হাকীকতের ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: "তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের ছেলে-মেয়ে একটি পরীক্ষা, আর সবচেয়ে বড় পুরস্কার আল্লাহর কাছে।" (আত্তাগাবুন: ১৫)
প্রশ্ন: ৫১। যে-সব লোক পৃথিবীতে আল্লাহর আয়াতের ওপর চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের সম্পর্কে কুরআন কি বলেছে?
উত্তর: "যারা পৃথিবীতে অন্ধ হয়ে আছে, পরকালেও তারা অন্ধই থাকবে, বরং সঠিক পথ পেতে তারা অন্ধের চেয়েও বেশি ব্যর্থ।” (অর্থাৎ, পরকালে তারা সফলকাম হবে না)। (সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৭২) "বস্তুত আঁখিযুগল অন্ধ নয়, বরং তাদের অন্তর অন্ধ হয়ে যায় যা বক্ষে রয়েছে।" (সূরা আল হাজ্জ: আয়াত ৪২)
প্রশ্ন: ৫২। কুরআনে মানুষের এমন দলের নাম ঘোষিত হয়েছে, যাদের ওপর আল্লাহ শয়তানকে বিজয়ী করে দেন, কিন্তু তারা নিজকে বিজয়ী জানে- এমন লোক কারা?
উত্তর: “যে-সব লোক মেহেরবান আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল থাকে আমি তাদের ওপর শয়তানকে বিজয়ী করে দেই, আর তারা তার বন্ধু বনে যায়। এসব শয়তান এমন লোককে সঠিক পথে আসা থেকে বিরত রাখে, আর তারা তাদের সম্পর্কে মনে করে যে, আমরা ঠিক ঠিকই যাচ্ছি।" (সূরা আযযুখরুফ: আয়াত: ৩৬-৩৭)
প্রশ্ন: ৫৩। কুরআনে পোশাক সম্পর্কে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করছি যেন তোমাদের দেহের লজ্জাস্থানসমূহকে ঢাকতে পার। এটা তোমাদের জন্য দেহের আচ্ছাদন ও শোভা বর্ধনের উপায়ও। আর সর্বোত্তম পোশাক হচ্ছে তাকওয়ার পোশাক। এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি উজ্জ্বল নিদর্শন, সম্ভবত লোকেরা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।" (আ'রাফ: ২৬-২৭)
প্রশ্ন: ৫৪। কুরআন ধৈর্যের প্রশিক্ষণ দিয়েছে কিভাবে, আর ধৈর্যের ফলাফল কি বলা হয়েছে?
উত্তর: "আমরা নিশ্চয়ই ভয়, বিপদ, অনশন, জান-মালের ক্ষতি এবং আমদানী হ্রাসের দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো। এসব অবস্থায় যারা ধৈর্য্য অবলম্বন করে এবং বিপদ উপস্থিত হলে যারা বলে আমরা আল্লাহরই জন্য, আল্লাহর কাছেই আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের প্রতি তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে বিপুল অনুগ্রহ বর্ষিত হবে; আল্লাহর রহমত তারা লাভ করতে পারবে। আর প্রকৃতপক্ষে এসব লোকই সঠিক পথগামী।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৫৫-৫৭)
প্রশ্ন: ৫৫। কুফরীর রাস্তা অবলম্বনকারীদের সম্পর্কে কুরআনে কি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: "যারা কুফরীর আবরণ অবলম্বন করেছে এবং কুফরীর অবস্থায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে তাদের উপর আল্লাহর ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের অভিশাপ পড়বে; এ অভিশপ্ত অবস্থায়ই তারা সব সময় লিপ্ত হয়ে থাকবে, না তাদের শাস্তি হ্রাস পাবে, আর না তাদেরকে এ থেকে মুক্তি লাভের কোন অবসর দেয়া হবে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৬১-১৬২)
প্রশ্ন: ৫৬। বিভ্রান্তদের আল্লাহর নিদর্শনাবলী শোনানো হলে (কুরআনের শব্দাবলী দ্বারা) তারা কি উত্তর দেয়?
উত্তর: "তাদেরকে যখনই আল্লাহর দেয়া বিধানের অনুসরণ করতে বলা হয় তখনই তারা উত্তরে বলে: আমরা তো সে পন্থারই অনুসরণ করবো আমাদের বাপ-দাদাদের যে পন্থার অনুসারী পেয়েছি। তাদের বাপ-দাদাগণ যদি বুদ্ধিমানের ন্যায় কাজ নাও করে থাকে এবং সঠিক পথে নাও চলে থাকে তবুও কি এরা তাদের (বাপ-দাদাদের)-ই অনুসরণ করতে থাকবে?" (সূরা বাকারা : আয়াত ১৭০)
প্রশ্ন: ৫৭। কুরআনে মদীনা মুনাওয়ারার কি নাম বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: ইয়াসরিব।
প্রশ্ন: ৫৮। সাজদার প্রথম আয়াত এবং দ্বিতীয় আয়াত কোন্ কোন্ পারায় এবং শেষটি কোন্ পারায়?
উত্তর: প্রথম আয়াতে সাজদাহ ৯ম পারায়, দ্বিতীয় আয়াতে সাজদাহ ১৩তম পারায় আর শেষ আয়াতে সাজদাহ হচ্ছে ৩০তম পারায়।
প্রশ্ন: ৫৯। কুরআনে এরাব (যের, যবর, পেশ ইত্যাদি) কোন্ সাল থেকে সংযোজন করা হয়েছে?
উত্তর: হিজরী ৪৩ সন থেকে।
প্রশ্ন: ৬০। কুরআনে হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা ঝড়ের পর কোন স্থানে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: জুদী পাহাড় (যাকে আরায়াটও বলা হয়)। এটি ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত।
প্রশ্ন: ৬১। কুরআনে মক্কা মোকাররমার জন্য কি কি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: বাক্কা, ওয়াদীয়ে গায়রু জি যারইন, বালাদিন আমীন।
প্রশ্ন: ৬২। কুরআনে বনী ইসরাঈলদের কাছে একটি পবিত্র সিন্দুকের কথা বর্ণিত হয়েছে। সিন্দুকটিতে কি জিনিস ছিলো?
উত্তর: সিন্দুকের ভেতর আলু মূসা (আঃ) ও আলু হারুন (আঃ)-এর পরিত্যক্ত পবিত্র সম্পদরাজি ছিলো। (সূরা বাকারা: আয়াত ২২৮)
প্রশ্ন: ৬৩। অমুসলিমদের কোন্ গ্রন্থে বারবার কোরআনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: শিখদের গ্রন্থ 'সাহেবে'।
প্রশ্ন: ৬৪। কোন্ গ্রন্থের কারণে পূর্ববর্তী সমুদয় শরীয়ত মনসুখ বা রহিত হয়ে গেছে?
উত্তর: কুরআনে মাজীদ।
প্রশ্ন: ৬৫। কারা কুরআনে নুকতাসমূহ, এরাব এবং যতিচিহ্ন-এর সাথে সাথে পারাসমূহে চতুর্থাংশ, অর্ধাংশ এবং তৃতীয়াংশের চিহ্ন নির্ণিত করেছেন এবং হরফ বা অক্ষরসমূহ গণনা করেছেন?
উত্তর: উমাইয়া খলীফা আবদুল মালেক ইবনে মারোয়ানের নির্দেশে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাকাফী একটি কমিটির সাহায্যে এ কাজ সম্পাদন করেছেন। তন্মধ্যে নিম্নোক্ত ব্যক্তিত্বের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য: ইমাম হাসান বসরী (রঃ), মালেক ইবনে দীনার, আবীল আলিয়া আমরীঈ (রঃ), রাশেদ আল ইমাদী, আবী নসর মুহাম্মাদ ইবনে আসেম আল-লাইসী, আসেম ইবনে মাইমুন আল-জা'দারী ও ইয়াহইয়া ইবনে ইয়া'মার (রঃ)।
প্রশ্ন: ৬৬। কুরআনের আয়াত সর্বাগ্রে কে গণনা করেছেন?
উত্তর: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)। তিনি সমগ্র কুরআনের আয়াতের সংখ্যা গণনা করেছেন ৬৬৬৬।
প্রশ্ন: ৬৭। কুরআনকে কুরাইশদের ভাষায় কে একত্রিত করেছেন?
উত্তর: আমিরুল মু'মিনীন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৬৮। কুরআনে কোন সাহাবীর নাম এসেছে কি?
উত্তর: শুধুমাত্র যায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ)-এর নাম এসেছে (সূরা আহযাবে)।
প্রশ্ন: ৬৯। কুরআনে হুযূর (সাঃ)-এর কোন নিকটাত্মীয়ের নাম এসেছে?
উত্তর: আবু লাহাবের নাম ঘোষিত হয়েছে। তিনি হুযূর (সাঃ)-এর আপন চাচা এবং জানি দুশমন ছিলেন।
প্রশ্ন: ৭০। কুরআনে কিছু কিছু পুণ্যাত্মা এবং পাপাত্মার নাম বা তাদের কুনিয়াত আলোচিত হয়েছে, তাদের নাম কি?
উত্তর: আদম (আঃ)-এর ছেলে, নূহ (আঃ)-এর অবাধ্য ছেলে, হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর ভাই, হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর পিতা আযর, আযীযে মেসের, কারুন, হামান, ফিরাউন, সামেরী, তালুত, জালুত, ইমরান।
প্রশ্ন: ৭১। কুরআনে এমন কোন্ নবীর নাম এসেছে, যাঁর তিন পুরুষ নবী ছিলেন?
উত্তর : হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর নাম। তাঁর ছেলে হৃযরত ইসহাক (আঃ) নবী ছিলেন, তাঁর নাতী হযরত ইয়াকুব (আঃ) নবী ছিলেন, তাঁর প্রপৌত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) নবী ছিলেন। অর্থাৎ, ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম (আঃ)।
প্রশ্ন: ৭২। কুরআনে কতিপয় মহিলার কথা এসেছে। তাঁদের নাম বা কুনিয়াত কি?
উত্তর: আযীযে মেসেরের স্ত্রী, ফিরআউনের স্ত্রী, মূসা (আঃ)-এর মাতা, মূসা (আ:)-এর বোন, হারুন (আঃ)-এর বোন, হযরত শোয়াইব (আঃ)-এর মেয়েরা এবং আবু লাহাবের স্ত্রী।
প্রশ্ন: ৭৩। কুরআনে এমন কোন্ নবীর কথা এসেছে, যাঁকে তাঁর মায়ের নামে ডাকা হয়েছে?
উত্তর: হযরত ঈসা (আঃ)। যাঁকে বলা হয়েছে "ঈসা ইবনে মারইয়াম"।
প্রশ্ন: ৭৪। কুরআনে যে-সব কওমের ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে, সে-সব জাতির সংক্ষিপ্ত তালিকা কি?
উত্তর: আদ, সামুদ, সাবা, মাজুস, সাইবীন, আসহাবুল আইকাহ, আসহাবুল হাজার, আসহাবুর রাস, ইরিমা জাতি ইমাদ, আসহাবুল উখদুদ, আসহাবুল কারইয়াহ, আসহাবুল কাহফি ওয়ার রাকীম, বনী ইসরাঈল, আস-হাবুস্ সাবতি, আহলে কিতাব, ইয়াহুদ ওয়া নাসারা, ইয়াজুজ-মাজুজ, আসহাবুল ফীল ও কুরাইশ।
প্রশ্ন: ৭৫। কুরআনের বুনিয়াদি শিক্ষা কি?
উত্তর: ঈমান এবং তার প্রতি আহবান। যথা- তাওহীদ, রিসালাত এবং আখিরাতের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।
প্রশ্ন: ৭৬। কুরআনে যুদ্ধ ছাড়াই 'ফাতহে মুবীন' কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: হুদায়বিয়ার সন্ধিকে।
প্রশ্ন: ৭৭। কুরআনের কোন্ সূরাটি নবী করীম (সাঃ)-এর মুখে শুনে তাঁর শত্রু উতবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর সাথেই সাজদায় লুটিয়ে পড়েছিল?
উত্তর: সূরা হামীম আসসাজদার প্রথম পাঁচ আয়াত।
প্রশ্ন: ৭৮। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) তাঁর বোন ফাতেমা (রাঃ)-এর ঘরে কুরআনের কোন সূরা পড়েছিলেন- যার প্রভাবে তাঁর মনের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায়। তিনি গ্রহণ করেন ঈমান?
উত্তর: সূরা ত্বাহা'র প্রথম ক'টি আয়াত।
প্রশ্ন: ৭৯। দূস গোত্রের কোন্ সরদার হুযূর (সাঃ)-এর মুখে কুরআনের কতিপয় আয়াত শ্রবণ করে ঈমান এনেছিলো?
উত্তর: তোফায়েল ইবনে আমর দূসী।
প্রশ্ন: ৮০। কুরআনের কোন্ সূরা মদীনায় নামাযের মধ্যে হুযূর (সাঃ)-কে তিলাওয়াত করতে শুনেই হযরত জুবাইর ইবনে মুতইম (রাঃ) ঈমান এনেছিলেন?
উত্তর: সূরা তুর।
প্রশ্ন: ৮১। কুরআন বিশ্বের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রাচীন মসজিদ কোন্টিকে নির্ণিত করেছে?
উত্তর: কাবা শরীফকে।
প্রশ্ন: ৮২। কুরআনে মানব জাতিকে কোন্ দুই শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে?
উত্তর: নিম্নের দু'শ্রেণী:
মকবুল: আওলিয়া আল্লাহ, হিযবুল্লাহ, আসহাবুল জান্নাহ, আসহাবুল ইয়ামীন, আসহাবুল মাইমানাহ, মুমিন, ঈমানদার।
মরদূদ: আওলিয়াশ শাইতান, হিযবুশ শাইতান, আসহাবুন নার, আসহাবুশ শিমাল, আসহাবুল মাশআমাহ, কাফির, মুনাফিক।
প্রশ্ন: ৮৩। কুরআনে এমন এক ব্যক্তির বর্ণনা এসেছে, যার লাশের ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে যে, তাকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় করে রাখা হয়েছে। কোন্ ব্যক্তি?
উত্তর: ফিরআউন। (সূরা ইউনুস-আয়াত ৯২)। তার লাশ মিসরের যাদুঘরে মমি করে রাখা হয় (বর্তমানে বৃটিশ মিউজিয়ামে)।
প্রশ্ন: ৮৪। কুরআনে ফিরআউনের লাশ ছাড়াও একটি জিনিসের কথা বর্ণিত হয়েছে যাকে আল্লাহ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় করে সংরক্ষণ করেছেন- বস্তুটির নাম কি?
উত্তর: নূহ (আঃ)-এর নৌকা। এটি আজও জুদী পাহাড়ের উপর রয়েছে। (সূরা আনকাবুত : আয়াত ১৫)
প্রশ্ন: ৮৫। কুরআনের শব্দগুলো কার?
উত্তর: কুরআনের শব্দগুলো স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার।
প্রশ্ন: ৮৬। বিশ্বের সেই গ্রন্থ কোন্টি- যা সম্পূর্ণরূপে কণ্ঠস্থকারী লাখো ব্যক্তি রয়েছে?
উত্তর: কুরআনে মাজীদ।
প্রশ্ন: ৮৭। নবী করীম (সাঃ) কার মধুর কণ্ঠে কিরাত শুনে ইরশাদ করেছিলেন: "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ তা'আলার যিনি আমার উম্মতের মধ্যে তোমার ন্যায় ব্যক্তিকে সৃষ্টি করেছেন।"
উত্তর: হযরত সালেম (রাঃ)।
প্রশ্ন: ৮৮। আল্লাহ্ তা'আলা কোন্ ধরনের মানুষকে পসন্দ করেন না?
১. কাফির, ২. অত্যাচারী, ৩. ফাসিক, ৪. ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টিকারী, ৫. অমিতব্যয়ী, ৬. অহংকারী।
প্রশ্ন: ৮৯। সব নবী কি মানুষ ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ। আল্লাহ্ তা'আলার সব নবী-রাসূলই মানুষ ছিলেন। তাঁরা বিয়ে-শাদী করেছেন। তাঁদের সন্তান-সন্ততিও ছিলো।
প্রশ্ন: ৯০। নবীদের মধ্যে কোন মহিলা ছিলেন কি?
উত্তর: না। একমাত্র পুরুষদের মধ্যেই নবুওয়াত সীমাবদ্ধ। কোন নারীই নবী ছিলেন না।
প্রশ্ন: ৯১। নবী-রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ। সম্মান ও স্থানে পার্থক্য রয়েছে।
প্রশ্ন: ৯২। প্রত্যেক মানুষকে কি তার কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষকে তার ভাল-মন্দ কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।
প্রশ্ন: ৯৩। মানুষের কৃতকর্মের কোন রেকর্ড হচ্ছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রত্যেক মানুষের প্রতিটি কাজ রেকর্ড করার জন্য আল্লাহ্ পক্ষ থেকে ব্যবস্থা রয়েছে। কিয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশ হবে।
প্রশ্ন: ৯৪। কুরআনে ক'ধরনের হুকুম এসেছে?
উত্তর: কুরআনে দু'ধরনের হুকুম এসেছে। যেমন- ১. আদেশ-যেগুলো করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ২. নিষেধ- যে-সব কাজ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
ক'টি আদেশ নিম্নরূপ- ১. নামায প্রতিষ্ঠা করা। ২. রোযা রাখা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হজ্জ করা। ৫. মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ করা। ৬. হক ও ইনসাফের সাথে বিচার করা। ৭. দ্বীনের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করা। ৮. সত্য সাক্ষী দেয়া। ৯. সঠিকভাবে মাপজোক করা। ১০. অঙ্গীকার রক্ষা করা।
কুরআনের নিষেধ বাণীর ক'টি নিম্নরূপ: ১. শিরক করা। ২. মিথ্যা বলা। ৩. পরনিন্দা করা। ৪. মাপজোকে কম করা। ৫. নেশাজাতীয় জিনিস পান করা। ৬. জুয়া খেলা। ৭. সূদ খাওয়া। ৮. যিনা করা। ৯. অপ্রয়োজনীয় খরচ করা। ১০. এতীমদের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
প্রশ্ন: ৯৫। কুরআনে সবচেয়ে বেশি তাকীদ দেয়া হয়েছে কোন্ হুকুমটি?
উত্তর: নামায প্রতিষ্ঠা করার হুকুম। শত শতবার ঘোষিত হয়েছে এ হুকুম।
প্রশ্ন: ৯৬। যাকাত আদায় করলে কি কি উপকার হয়?
উত্তর: যাকাত আদায়ের ক'টি উপকার নিম্নরূপ: ১. এর দ্বারা দুস্থ-গরীব, দীন-হীন এবং অভাবগ্রস্তদের চাহিদা পূর্ণ হয়। ২. এর দ্বারা সম্পদের ময়লা-আবর্জনা দূরীভূত হয়। ৩. এর দ্বারা ধন-সম্পদ পবিত্র হয়। ৪. এর দ্বারা আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করা যায়।
প্রশ্ন: ৯৭। যাকাত দেয়ার খাত ক'টি ও কি কি?
উত্তর: যাকাত খরচ করার খাতসমূহ: ১. ফকীরদের মধ্যে। ২. মিসকীনদের মধ্যে। ৩. যাকাত আদায়কারীদের মধ্যে। ৪. অমুসলিমদের মধ্যে-যাদের অন্তরে দ্বীনের ভালবাসা সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য হবে। ৫. কৃতদাসদের মুক্ত করার জন্য। ৬. ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ করার জন্য। ৭. মুসাফিরদের মধ্যে। ৮. আল্লাহ্র রাস্তায়।
প্রশ্ন: ৯৮। পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর নামায, রোযা এবং যাকাত কি ফরজ ছিলো?
উত্তর: হ্যাঁ, ছিলো।
প্রশ্ন: ৯৯। কি ধরনের দোয়া কবুল হয়?
উত্তর: আল্লাহ্ আনুগত্যের মাধ্যমে ইসলামের স্বার্থে যে দোয়া করা হয় তা আল্লাহ্র দরবারে কবুল হয়।
প্রশ্ন: ১০০। কুরআন চারিত্রিক কি শিক্ষা দিয়েছে?
উত্তর: কুরআনের চারিত্রিক শিক্ষার মধ্যে রয়েছে- ১. সত্য কথা বলা এবং মিথ্যা থেকে বিরত থাকা। ২. কারো নিন্দা না করা। ৩. সত্য সাক্ষী দেয়া। ৪. একে অন্যের ওপর দোষারোপ না করা। ৫. সব ধরনের নির্লজ্জ কাজ থেকে আত্মরক্ষা করা। ৬. খারাপ ধারণা থেকে বেঁচে থাকা। ৭. সর্বাবস্থায় ন্যায় বিচার ও ইনসাফ করা। ৮. অন্যের কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করা। ৯. ভালো ভালো কথা বলা। ১০. কাউকে খারাপ নামে সম্বোধন না করা। ১১. বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা। ১২. অত্যাচার না করা। ১৩. আমানতের খিয়ানত না করা। ১৪. নিয়ামতরাজির জন্য শোকর করা। ১৫. ঈর্ষা এবং অহংকার থেকে বিরত থাকা। ১৬. কারো সম্পদ অবৈধ উপায়ে বা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ না করা। ১৭. ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে অন্যকে দেখা এবং তার থেকে কাজ আদায় করা। ১৮. রাগ না করা। ১৯. অঙ্গীকার ভঙ্গ না করা। ২০ পুণ্যার্জনের জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং পাপ স্খলন করতে থাকা।
প্রশ্ন: ১০১। কুরআনে শিশুদের কতদিন পর্যন্ত দুধ পান করানোর কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: একটি শিশুকে দু'বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: ১০২। ব্যভিচারের শাস্তি কি?
উত্তর: অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীকে ১০০ দোররা লাগাতে হবে।
প্রশ্ন: ১০৩। মিথ্যা অপবাদের শাস্তি কি?
উত্তর: মিথ্যা অপবাদকারীকে ৮০ দোররা লাগাতে হবে এবং তার সাক্ষ্য অগ্রাহ্য বলে ঘোষণা দিতে হবে।
📄 কুরআন ও বিভিন্ন অন্তর
প্রশ্ন: ১। কুরআনে কত ধরনের অন্তরের বর্ণনা এসেছে এবং এসব অন্তরের অবস্থা কিরূপ?
উত্তর:
১. কঠিন অন্তর: এটি এমন অন্তর যে, সবক গ্রহণ করার বড় বড় চিহ্ন দেখা সত্ত্বেও এটি কঠিনই থেকে যায়। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "কিন্তু নিদর্শনাবলী দেখার পরও শেষ পর্যন্ত তোমাদের মন কঠিন হয়ে গেছে- পাথরের ন্যায় কঠিন কিংবা তদপেক্ষাও কঠিনতর। কেননা, কোন কোন পাথর এমনও হয়ে থাকে যা হতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়। কোন কোনটি দীর্ণ হয়ে যায় এবং তার মধ্য থেকে জলধারা উৎসারিত হয়। আর কোন কোনটি আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হয়ে ভূপাতিত হয়। আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে মোটেই অনবহিত নন।” (বাকারা: ৭৪)
২. জংপড়া অন্তর: পাপ কাজের কারণে অন্তকরণে মরীচিকা পড়ে যায়। ফল এই দাঁড়ায় যে, এ ধরনের মানুষের কাছে সত্য কথাও গল্পই মনে হয়। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "বরং এই লোকদের অন্তরের ওপর তাদের পাপ কাজের মরিচা জমে গেছে।” (আল মুতাফফিফীন: ১৪)
৩. পাপক্লিষ্ট অন্তর: যে-সব লোক সাক্ষ্য গোপন করে এবং হক কথা বলা থেকে বিরত থাকে- তাদের অন্তরই থাকে পাপক্লিষ্ট। কুরআনে এসেছে: " এবং সাক্ষ্য কখনো গোপন করবে না, যে সাক্ষ্য গোপন করে তার মন পাপের কালিমাযুক্ত। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে মোটেই অজ্ঞাত নন।" (আল-বাকারা: ২৮৩)
৪. কূটিল বা বক্র অন্তর: যারা ফিতনা-ফাসাদের সৃষ্টি করে, তাদের অন্তর কূটিল বা বক্র হয়ে যায় বলেই কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "যাদের মনে কূটিলতা আছে, তারা ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময়ই মুতাশাবিহাত-এর পেছনে লেগে থাকে এবং এর অর্থ বের করার চেষ্টা করে। অথচ এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না। (আলু ইমরান : আয়াত ৭)
৫. বুদ্ধিদীপ্ত অন্তর: যার অন্তরে বক্রতার ভয় আছে, সে-ই প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান। (বুদ্ধিমান মানুষ আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করতে থাকে)। "পরোয়ারদিগার! তুমিই যখন আমাদেরকে সঠিক-সোজা পথে চালিয়েছ, তখন তুমি আমাদের মনে কোন প্রকার বক্রতা ও কূটিলতার সৃষ্টি করো না। আমাদেরকে তোমার মেহেরবানীর ভান্ডার থেকে অনুগ্রহ দান কর। কেননা, প্রকৃত দাতা তুমিই।" (আলু ইমরান : আয়াত ৮)
৬. চিন্তা করে না- এমন অন্তর: যে-সব লোক অন্তর দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারা জাহান্নামী। কুরআনে এসেছে: "প্রকৃত সত্য এই যে, অনেক জিন ও মানুষ এমন রয়েছে যাদেরকে আমি জাহান্নামের জন্যই সৃষ্টি করেছি, তাদের অন্তর রয়েছে সত্য, কিন্তু তারা সে অন্তর দিয়ে চিন্তা করে না, তাদের আঁখিযুগল রয়েছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান থাকা সত্ত্বেও তারা শ্রবণ করে না, তারা জন্তু-জানোয়ারের মতোই, বরং তার চাইতেও নিকৃষ্টতর। এরা সেই লোক যারা অলসতার মধ্যেই হারিয়ে গেছে।"
৭. কম্পমান অন্তর: আল্লাহর কথা শুনে যার অন্তর কম্পিত হয় সে-ই প্রকৃত মুমিন। কুরআনে এসেছে: "প্রকৃত ঈমানদার তো তারাই, যাদের অন্তর খোদার স্মরণের ফলে কেঁপে উঠে। আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।" (আল-আনফাল: আয়াত-২)
৮. মোহরাংকিত অন্তর: যে সীমালংঘন করবে, তার অন্তরে মোহর লেগে যাবে (অর্থাৎ, হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে না)। কুরআনে এসেছে: "সীমালংঘনকারী লোকদের অন্তরের উপর আমরা এমনিভাবেই মোহরাংকিত করে দেই।" (ইউনুস: আয়াত ৭৪)
৯. প্রশান্ত অন্তর: আল্লাহকে স্মরণকারী অন্তরই প্রশান্ত অন্তর বলে কুরআনে ঘোষিত হয়েছে এভাবে: "হুঁশিয়ার থেকো! আল্লাহ্ স্মরণ আসলেই সে জিনিসে যদ্বারা অন্তর পরম শান্তি ও স্বস্তি লাভ করে থাকে”। (আর্ রা'দ: আয়াত ২)
১০. পাপাত্মা: যে অন্তরে আল্লাহ্ জিকির, কলবের প্রশান্তি এবং রূহের খাদ্য বনে বেরোয়, তা-ই ঈমানদারের অন্তর। কিন্তু যে অন্তর এর সম্পূর্ণ উল্টো তা-ই পাপাত্মা। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "গুনাহগারদের অন্তকরণে আমি জিকিরকে এমনভাবে (জ্বলন্ত আভার ন্যায়) প্রবেশ করিয়ে দেই যে, তারা তার ওপর বিশ্বাসই করে না।" (সূরা যুমার)
১১. কম্পমান হৃদয়: আল্লাহর কথা শুনে যার অন্তর কেঁপে ওঠে সে-ই মুমিন। কুরআনে এসেছে: “হে নবী! সুসংবাদ দিন অকৃতকার্য পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনকারীদের- যাদের অবস্থা এই যে, আল্লাহ্ জিকির শুনলে তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে, তাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয় তার জন্য তারা ধৈর্যধারণ করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, আর যে রিযিক তাদেরকে দেয়া হয়েছে, তার থেকেই তারা খরচ করে"। (সূরা আল-হিজর : আয়াত ৩৪-৩৫)
১২. অন্ধ আত্মা: "যে শিক্ষা গ্রহণ করে না, তার অন্তর হলো অন্ধ। কত অপরাধী জনপদই এমন যাদেরকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি, আর আজ তারা নিজেদের ছাদের ওপর উল্টো পড়ে রয়েছে। কত কূপই অকেজো এবং কত প্রাসাদই ধ্বংসাবশেষ হয়ে রয়েছে। এসব লোক কি সামনে চলাফেরা করেনি যে, তাদের দিল বুঝতে পারতো এবং তাদের কান শুনতে পেতো? আসল কথা এই যে, চক্ষু কখনো অন্ধ হয় না, কিন্তু সেই দিল অন্ধ হয় যা বুকের মধ্যে নিহিত রয়েছে।" (হজ্জ : ৪৫-৪৬)
১৩. প্রশান্ত অন্তর: হাশরের দিন কেবলমাত্র প্রশান্ত অন্তরই উপকারে আসবে বলে কুরআনে এসেছে: "যখন (যে দিন) না ধন-সম্পদ কোন কাজে আসবে, না সন্তান-সন্ততি, কেবল সেই ব্যক্তি উপকৃত হবে, যে প্রশান্ত অন্তর নিয়ে আল্লাহ্র দরবারে হাজির হবে।" (সূরা আশ্ শু'আরা: আয়াত ৮৮-৮৯)
১৪. অবিশ্বাসী আত্মা: এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহ্ কথা শুনে যে অন্তর বিরক্ত হয়, মনে করতে হবে সে-ই পরকালে অবিশ্বাসী এবং বেঈমান : "আর যখন আল্লাহ্ কথা বলা হয়, তখন পরকালের প্রতি বেঈমান লোকদের অন্তর ছটফট করতে থাকে। আর যখন তাকে ছাড়া অন্যদের উল্লেখ করা হয়, তখন সহসা তারা আনন্দে হেসে উঠে।" (আযযুমার: আয়াত ৪৫)
১৫. অহংকারী অন্তর: আল্লাহ্ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারী অন্তরে মোহর অংকিত করে দেন বলে কুরআনে ঘোষিত হয়েছে এভাবে: "এমনিভাবে আল্লাহ্ সে-সব লোককেই গোমরাহীর মধ্যে ঠেলে দেন যারা সীমালংঘন করে, যারা সন্দেহপ্রবণ লোক হয়ে থাকে এবং যারা আল্লাহ্ আয়াত নিয়ে ঝগড়া করে- তাদের নিকট কোন সনদ বা প্রমাণ না আসা সত্ত্বেও এই নীতি ও আচরণ আল্লাহ্ এবং ঈমানদার লোকদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণ্য। এভাবে আল্লাহ্ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারীর অন্তরে মোহর মেরে দেন।" (সূরা আল-মুমিন: আয়াত ৩৪-৩৫)
১৬. ঈমানদার অন্তর: যে-সব অন্তর আল্লাহ্ স্মরণে বিগলিত হয় তা-ই ঈমানদার আত্মা বলে কুরআনে ঘোষিত হয়েছে: "ঈমানদার লোকদের জন্য এখনো কি সে সময় আসেনি যে, তাদের অন্তর আল্লাহ্ স্মরণে বিগলিত হবে এবং তার নাযিল করা মহাসত্যের সম্মুখে অবনত হবে তারা সে-সব লোকের মতো হয়ে যাবে না যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল, পরে একটা দীর্ঘকাল তাদের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে, তাতে তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেছে, আজ তাদের অনেকেই ফাসিক হয়ে গেছে।" (সূরা আল-হাদীদ: ১৬)