📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 কুরআন সম্পর্কে অমুসলিম মনিষীদের অভিমত

📄 কুরআন সম্পর্কে অমুসলিম মনিষীদের অভিমত


১। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সারা পৃথিবীর কেউই ভাষা মাধুর্যে অপূর্ব এই গ্রন্থের সমমানের কোন কিছুই রচনা করতে সক্ষম হয়নি। - এফ. এফ. আরবাল নট : The construction of the Bible and Koran.
২। কোরআন মানব-জীবনে চলবার সত্যিকার পাথেয় এবং ভবিষ্যতের আশার প্রতীক। - আর্থার এন. ওলেস্টন : The Religion of the Koran.
৩। ইহা ভাবিতেই আশ্চর্য লাগে যে, এই নিরক্ষর মানুষটির মাধ্যমেই অবতীর্ণ হইয়াছে ভাষা জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআন। - বসন্ত কুমার বোস; Mohamedanism.
৪। কোরআন শরীফ এমন একটি গ্রন্থ, যার সাহায্যে আরবীয়গণ মহামহিম আলেকজান্ডারের রাজ্য রোম সাম্রাজ্যের অপেক্ষাও বড় ভূখন্ড জয় করেছিলেন। - ডিউচ
৫। কোরআন সৎ জীবনের দিশারী ও নাগরিক আইনের নীতিমালা। ইসলামের প্রচার তরবারীর জোরে নহে। - ই. ডেনিসন রস; Introduction to the Koran.
৬। কোরআনের গঠনশৈলী এতই উন্নত যে, কোন ভাষার অনুবাদের মাধ্যমে এর সঠিক স্বরূপ অনুধাবন করা যায় না। - এডওয়ার্ড মোমটেট; Introduction framcaise du Koran.
৭। পৃথিবীতে কোরআন সর্বাপেক্ষা অধিক পঠিত এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সর্বাধিক প্রভাবিত গ্রন্থ।.... কোরআন মানুষের মহান জীবন গড়িয়া তুলিবার জন্য পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়াছে।... রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনগুলো যদি কোরআন সমর্থিত হয়, তবেই রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হইবে। - জেমস্ এ. মিচেনার; Islam the misunderstood Religion.
৮। কোরআন শরীফ মূল্যবান নৈতিক আদেশ ও উপদেশ পরিপূর্ণ। জন উইলিয়াম ড্রাপার: History of the Intellectual Development of Europe.
৯। কোরআন এক চিরস্থায়ী অলৌকিক অবদান। হ্যারি গ্যালর্ড ডরম্যান; Towards understanding Islam.
১০। কোরআনে এমন প্রজ্ঞার সমাহার দেখি, যা সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান ব্যক্তি, সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং সর্বাপেক্ষা দক্ষ রাজনীতিজ্ঞের নিকট গ্রহণযোগ্য। কোরআন যে আল্লাহর বাণী, তার প্রমাণ- অবতীর্ণ হবার সময় হতে আজও এটি সুসংরক্ষিত। ইসলামের দ্রুত বিস্তৃতি কোন অস্ত্রের দাপটে নয়। - লোরা বেভিসয়া ভ্যাগলাইরি Apologic de I'slamism.
১১। ইহা অনস্বীকার্য যে, কোরআন সর্বোচ্চ প্রশংসার যোগ্যতা রাখে। এতে এমন উপাদান আছে, যেগুলোর উপর নির্ভর করে শক্তিশালী ও বিজয়ী জাতি এবং রাষ্ট্রসমূহ গড়ে তোলা যায়। - রেড জে. এম. রডওয়েল; The Koran.
১২। "আমরা যখনই এ মহাগ্রন্থ অধ্যয়ন করি প্রথমে খানিকটা বিরক্ত করলেও মুহূর্তেই তা আমাদের আকৃষ্ট ও অভিভূত করে। তারপর তা আমাদের অন্তরের গহীন থেকে টেনে তুলে আনে অনাবিল অকৃত্রিম ভক্তি। কুরআনের লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী এর রচনাশৈলী অনমনীয়, পূর্ণাঙ্গ ও চমকপ্রদ যা চিরকালই মহিমান্বিত। ভবিষ্যতের প্রতিটি কালেই এ গ্রন্থ অভাবণীয় প্রভাব বিস্তার করবে মানবসমাজে।" - Goethe, quoted in T. P. Hughe's Dictionary of Islam, p. 526.
১৩। "কুরআন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। যদিও পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দেওয়া ধর্মগ্রন্থসমূহের মধ্যে এটি সর্বকনিষ্ঠ কিন্তু তা যে বিশাল মানবগোষ্ঠীর উপর আশ্চর্য প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে তা আর কোন ধর্মগ্রন্থের পক্ষে সম্ভব হয়নি। মানুষের চিন্তা ও চরিত্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে কুরআন এক অনাবিল আদর্শ। এ কুরআনই আরব-উপদ্বীপের বিভিন্ন মরু উপজাতিকে একটি বীর জাতিতে পরিণত করেছে। অতঃপর প্রতিষ্ঠা করেছে মুসলিম বিশ্বে এক বিশাল ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন, যা সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিসমূহের একটি এবং আজকের ইউরোপ ও প্রাচ্যকে যা ভাবিয়ে তুলেছে।" - G. Margoliouth, Introduction to J. M. Rodwell's, The Koran New York: Everyman's Library, 1977, p-VII.
১৪। "মুহাম্মদকে যারা কুরআনের রচয়িতা হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বক্তব্য অযৌক্তিক এবং অমূলক। একজন নিরক্ষর ব্যক্তি কিভাবে আরবী সাহিত্যের শীর্ষস্থানীয় লেখক হতে পারেন? কিভাবেই বা তিনি শাশ্বত বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ বর্ণনা করলেন যা সে সময় অপর কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি? এমনকি আজও এর মধ্যে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতির সন্ধান লাভ করা সম্ভব হয়নি?" Maurice Bucaille, The Bible, the Qur'an and Science, 1978, p. 125.
১৫। "মৃন্ময় ও সাধারণ সৌন্দর্যতাত্ত্বিক আদর্শের বিচারে এ গ্রন্থের সাহিত্যিক উৎকর্ষ নির্ণয় করা সম্ভব নয়; বরং এর মূল্যায়ন হতে পারে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সমসাময়িক ও স্বদেশীয় জনসাধারণের উপর এর প্রভাবের সাহায্যে। এ গ্রন্থ তার শ্রোতার হৃদয়ে এমন নিমগ্ন-নিবিড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে, তাদের পরস্পরবিরোধী মানসিকতা ও বৈশিষ্ট্য সুসংবদ্ধ ও সুসংহত হয়ে একটি অনুপম আদর্শ জীবন-কাঠামো নির্মিত হয়েছিল। ফলে তারা আরবদের তৎকালীন মানসিকতার ঊর্ধ্বে এক বৃহত্তর মানব-চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছিল। আর এর পরিপূর্ণ আবেদন একটি অসভ্য বর্বর জাতিকে পরিণত করেছিল এক সুসভ্য উন্নত জাতিতে।" - Dr. Steingass, quoted in Hughes' Dictionary of Islam, p. 528.
১৬। "পূর্ববর্তী প্রজন্মের কর্মকে সমৃদ্ধ করতে আমার এ প্রচেষ্টা। আমি এমন কিছু করতে চাই যাতে প্রতিধ্বনিত হবে কুরআনের আশ্চর্যসমৃদ্ধ ছন্দমালা। প্রগাঢ় অভিনিবেশ সহকারে এর জটিল ও পরিবর্তনমান ছন্দ সম্পর্কে আমাকে অধ্যয়ন করতে হয়েছে। বাণীর সৌকর্য ও অসামান্যতা বাদ দিলেও কেবল ছন্দের ঐশ্বর্যের কারণেই এ গ্রন্থ মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের রচনাসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে"। - Arthur. J, Arberry, The Koran Interpreted, London: Oxford University Press, 1964, p. x.
১৭। "আধুনিক জ্ঞানের আলোকে কুরআনের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পর্যালোচনা আমাদেরকে এ দু'য়ের মাঝে একটি ঐক্য স্বীকার করতে উৎসাহী করে। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনাও হয়েছে। ফলে এ বিশ্বাস আমাদের মধ্যে জাগ্রত হয় যে, মুহাম্মদের সমসাময়িক কালের জ্ঞানের অবস্থা এবং পরিপ্রেক্ষিতের বিবেচনায়, ঐ সময়কার কোনো মানুষের পক্ষে এ ধরনের গ্রন্থের লেখক হওয়া সম্পূর্ণ অচিন্তনীয়। এ বিবেচনাই কুরআনকে অনন্য স্থান প্রদান করেছে। বস্তুগত বিজ্ঞানের সাহায্যে কুরআনের ব্যাখ্যা এ কারণেই যে কোন নিরপেক্ষ বিজ্ঞানীর পক্ষে অসম্ভব।" Maurice Bucaill, The Qur'an and Modern Science, 1981, P. 18
১৮। বর্তমান বিশ্বসভ্যতার শীর্ষে অবস্থানকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকা) তার অতীব উন্নত মানের কম্পিউটার যন্ত্রের সাহায্যে পবিত্র কোরআনের সমমানের একটি গ্রন্থ পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালালে, যন্ত্রটি তাদের জানিয়ে দেয়- ৬২৬-এর সঙ্গে চব্বিশটি শূন্য পাশে যোগ করে যত কোটি কোটি বছর হবে, (৬২৬,০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০) তত বছরেও তামাম দুনিয়ার মানুষের পক্ষে প্রচেষ্টা চালিয়ে অনুরূপ একটি গ্রন্থ পাওয়া সম্ভব নয়। - কোরআন- ২: ২৩, ২৪। (কোরআন শরীফঃ ড. ওসমান গণী, পৃ. ৫২০-২৩)

📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 কুরআন ও বিজ্ঞান : রহস্যময় সংখ্যা ১৯-এর মাহাত্ম্য

📄 কুরআন ও বিজ্ঞান : রহস্যময় সংখ্যা ১৯-এর মাহাত্ম্য


সচরাচর দেখা যায় কোন গ্রন্থকার, সম্পাদক, সংকলক গ্রন্থের মুখবন্ধ বা ভূমিকায় একটি বাক্য জুড়ে দেন এভাবেঃ "মানুষ ভুল-ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নয়, আমার সাধ্যমত নির্ভুল গ্রন্থ পাঠককে উপহার দেয়ার চেষ্টা করেছি, তারপরও কোন ভুল-ভ্রান্তি থাকলে আমাকে জানালে অত্যন্ত খুশী হবো এবং পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করে দেবো ইনশা আল্লাহ।"
অথবা লেখেন: “বর্তমান সংস্করণে কিছু মুদ্রণ প্রমাদ থেকে গেছে, প্রেসের ভূত থেকে এ সংস্করণটি রক্ষা পায়নি, পরবর্তী সংস্করণে নির্ভুল গ্রন্থ পাঠকদের উপহার দেয়ার ইচ্ছা রইলো।"
কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে না-কি কোন গ্রন্থের প্রিন্ট অর্ডার দেয়ার পূর্বে নির্দিষ্ট জায়গায় বইয়ের ফর্মা সেঁটে রাখা হয়। ছাত্র-ছাত্রী বা যে কেউ ভুল বের করতে পারলে, সে জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক বা সম্মানীও তাদের জন্য রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, নির্ভুল গ্রন্থ পাঠককে উপহার দেয়ার ব্যাপারে প্রকাশককে, লেখককে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কম কসরত করতে হয় না। তারপরও ভুল থেকে যায়, অবলীলায় ধরা পড়ে বনী আদমের চোখে। সমালোচনা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাবৎবিশ্বে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনই সেই আসমানী গ্রন্থ যার মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই। মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনুল কারীমের প্রারম্ভেই ঘোষণা দিয়েছেন: ذلك الكتاب لا ريب فيه অর্থাৎ, এই সেই কিতাব যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। (বাকারা: ২)
এমনিভাবে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে, কুরআন যে নির্ভুল সে ব্যাপারে আল্লাহ্ পক্ষ থেকে বার বার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এর সমকক্ষ কোন গ্রন্থ বা আয়াত উপস্থাপন করার জন্য। আরবের ডাকসাইটে কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ অবনত মস্তকেই স্বীকার করে নিয়েছেন: ليس هذا من كلام البشر "এটা কোন মানব রচিত গ্রন্থ আদৌ নয়।"
নবী করীম (সাঃ)-এর নবুওয়াতের বিভিন্ন প্রমাণসহ কুরআনের বহু অলৌকিক তত্ত্ব বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে। কুরআন অলৌকিক ও বিস্ময়কর গ্রন্থ বলে বর্ণিত হয়ে আসছে। যে গ্রন্থ মানব রচিত নয়, তা নির্ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। অপরদিকে, অন্য কোন ধর্মীয় গ্রন্থ যেমন- বাইবেল, গীতা, উপনিষদ, বেদ, পুরাণ, ইনজীল প্রভৃতি কুরআনের ন্যায় নির্ভুল প্রমাণিত হয়নি। অথবা ১৯ সংখ্যা বা অন্য কোন গাণিতিক সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্যের অপূর্ব সমাবেশ ঘটতেও দেখা যায়নি। অধুনাকাল পর্যন্ত কুরআনের নির্ভুলতা প্রমাণের লক্ষ্যে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। হয়েছে আলোচনা-পর্যালোচনা। তন্মধ্যে রহস্যময় ১৯ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে অলৌকিকত্বের দিক থেকে।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআন যে নির্ভুল তার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই তো ১৯৭৫ সালের ঘটনা। কুরআন যে নির্ভুল গ্রন্থ তা বিজ্ঞানের নিরিখে সর্বপ্রথম আবিষ্কারের গৌরব অর্জন করেন মিসরীয় বাহাই বিজ্ঞানী ড. রশীদ খলীফা কম্পিউটারের মাধ্যমে। তিনি যুগান্তকারী একখানা গ্রন্থও রচনা করে ফেলেন। তাঁর গ্রন্থের নাম হচ্ছে- This Wonderful Quran.
উল্লেখ্য যে, ড. রশীদ খলীফার উদ্ভাবিত সূত্রকে প্রত্যাখ্যান করেছেন জনাব আরফাক মালিক। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ থেকে প্রকাশিত 'আল-বালাগ' নামক পত্রিকায় ১৯৮৬ সালের আগস্ট সংখ্যায় তাঁর নাতিদীর্ঘ একটি প্রবন্ধ সম্পাদকীয় নোটসহ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধে তিনি রশীদ খলীফার বিভিন্ন সূত্রের জবাব দেন। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনাম ছিলো: The Coreat Brain Robbery : Theory of 19 - a Geat hoax.
যা-ই হোক, সূরা রূমের ২০-২৪ আয়াতে ঘোষিত হয়েছে: নিশ্চয়ই কুরআনে চিন্তাশীল ও জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। কুরআন-হাদীস, ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য তো বটেই, অসংখ্য বিজ্ঞানী এবং গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করা যায় কুরআন নির্ভুল। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, কুরআন সম্পূর্ণ নির্ভুল। তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে কম্পিউটারের দ্বারা সাফ জবাব হচ্ছে: কুরআন নির্ভুল। আর কুরআন যে নির্ভুল গ্রন্থ তা ১৯ সংখ্যা দিয়েও নিরূপণ করা সম্ভব। ১৯ সংখ্যার রহস্য জানতে চাওয়া হলে কম্পিউটার নিম্নোক্ত জবাব দেয়:
কুরআনুল কারীমের প্রারম্ভে রয়েছে بسم الله الرحمن الرحيم এই আয়াত। উক্ত আয়াতে অক্ষরের সংখ্যা হচ্ছে ১৯ - এটাই কুরআনের নির্ভুলতার সর্বপ্রথম ও প্রাথমিক প্রমাণ। কুরআনের ৭৪ নং সূরা হচ্ছে আল মুদ্‌দাস্স্সির। এ সূরায় আল্লাহ্ ঘোষণা হচ্ছে عليها تسعة عشر - অর্থাৎ, এর উপরে রয়েছে উনিশ।
১৯-কে আমরা কোড নাম্বারও বলতে পারি। কোড নাম্বার জানা থাকলে যেভাবে ব্রিফকেস বা যেকোন তালা খোলা যায়। তেমনি, ১৯ সংখ্যা দিয়েও কুরআনের অসংখ্য রহস্য উদঘাটিত হয়। যাক, তদানীন্তন সময়ের এবং অধুনাকালের কুরআনের ব্যাখ্যাকারগণও আয়াতে উল্লিখিত ১৯ সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছেন। তন্মধ্যে মিসরের বিজ্ঞানী ড. রশীদ খলীফার মতামত হচ্ছে, কুরআনের প্রতিটি সূরা এবং আয়াত ১৯ সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য। যেমন (১১৪ ÷ ১৯=৬)। এছাড়া সমগ্র কুরআনে ১১৪টি সূরার শুরুতে ১১৪ বার বিসমিল্লাহ এসেছে, আর সূরা নমলে বিসমিল্লাহ ব্যবহৃত হয়েছে দু'বার। মোট ১১৪ বার বিসমিল্লাহ এসেছে যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
গুনিয়াতুত্ তালেবীন গ্রন্থের ২য় খন্ডে উল্লেখ আছে যে, মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম লওহে মাহফুজ ও কলম সৃষ্টি করেন। এরপর নির্দেশ মোতাবেক কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে কলম সবই লিখে ফেলে। নির্দেশ অনুযায়ী কলম সর্বপ্রথম তাসমিয়াহ্ আয়াত বা কল্যাণকর বাক্য লিখে। অতএব তাসমিয়াহ বান্দাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর সর্বপ্রথম বাক্য। পবিত্র কুরআন এ বাক্য দ্বারাই শুরু হয়েছে।
গবেষকগণ দেখিয়েছেন, বিস্মিল্লাহর মধ্যে রয়েছে, 'ইসম' শব্দ। এ শব্দ সমগ্র কুরআনের অন্যান্য জায়গায় পৃথক পৃথকভাবে এসেছে ১১৪ বার, নমলে এসেছে দু'বার এটাও (১১৪ ÷ ১৯=৬) ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে সর্বপ্রথম ওহী এসেছিল সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত। আয়াতগুলোর অক্ষরের সংখ্যা ৭৬-এটা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য (৭৬ ÷ ১৯ = ৪)। 'আল্লাহ' এসেছে ২৬৯৮ বার। দেখা যাচ্ছে (২৬৯৮ ÷ ১৯ = ১৪২) ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
আররহমান এসেছে ৫৭ বার। (৫৭ ÷ ১৯=৩) ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। সূরা আলাক কুরআনের ৯৬তম সূরা, উল্টো দিক থেকে গুণলে এটি ১৯ নং সূরা। চতুর্থ ওহীতে ৭৪-তম সূরা মুদ্‌দাস্সিরে ৩০ আয়াত অবতীর্ণ হয়। সূরার ২৬-২৯ নং আয়াতে আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের জন্য দোযখের ভয়ংকর শাস্তির বিবরণ দিয়েছেন। দোযখের পাহারা দার হিসেবে ১৯ জন ফিরিস্তা নিয়োজিত রয়েছেন বলে উক্ত সূরার ৩০ নং আয়াতে ঘোষিত হয়েছে।
আমরা অন্য একটি দৃষ্টান্তও উপস্থাপন করতে পারি। দেখা যায়, কাফ বর্ণটি দুটো সূরার শুরুতে রয়েছে। ৪২ নং সূরা আশ সূরাতে অন্য দুই বর্ণের সাথে এবং ৫০ নং সূরা কাফ-এ এককভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। দুটো সূরাতেই কাফ অক্ষরটি বিভিন্নভাবে (৫৭+৫৭) বা ১১৪ বার ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। দেখা যাচ্ছে (১১৪ ÷ ১৯ = ৬) ১৯ দ্বারা বিভাগ্য। প্রতীয়মান হচ্ছে, কুরআনে সূরার সংখ্যা হচ্ছে ১১৪টি। এ দু'সূরার কাফ-এই সংখ্যা এবং কুরআনের সূরার সংখ্যার সাথে চমৎকার মিল দেখা যায়। কুরআন যে নির্ভুল এগুলো কি তার নির্ভুলতা প্রমাণের পরাকাষ্ঠা নয়? দ্ব্যর্থহীনভাবে বুকটান করে যে কোন মুসলমান বিনা দ্বিধায় ঘোষণা দিতে পারেন যে, একমাত্র নির্ভুল গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন, আর তাই এ গ্রন্থই শ্রেষ্ঠ।
কুরআন মানুষকে সমগ্র সৃষ্টিকুল, জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা-গবেষণার দিকে আহবান করে। ইসলাম সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে, করে উদ্বুদ্ধ। এটা আল্লাহ ওয়ালা লোকদের অন্যতম গুণ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও চিন্তা-গবেষণার জন্য ইসলাম দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। চিন্তা-গবেষণা করার কথা বলা হয়েছে ইসলামে। কুরআনে প্রায় ১৫০টি আয়াত রয়েছে- নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, পেশাগত কাজ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ইত্যাকার ইবাদাত-সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে। কিন্তু ৭৫৬টি আয়াত রয়েছে নিখিল বিশ্ব জাহানের সৃষ্ট বস্তুর অপূর্ব সমাহারের উপর চিন্তা-গবেষণা ও জ্ঞান-চর্চা সম্পর্কে। সেহেতু, কুরআনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। কম্পিউটারের সাহায্যেও কুরআনের সংখ্যাতাত্ত্বিক জটিল বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে। অবশ্য, কম্পিউটার আবিষ্কার না হলে যে এসব গণনার কাজ করা যেতো না তা নয়। শ্রমসাধ্য হতো এ-ই যা।
স্মর্তব্য যে, কুরআন এমন আসমানী গ্রন্থ যার মধ্যে বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে রয়েছে বিচিত্র অক্ষর বিন্যাস। এগুলোকে বলা হয় হরূফে মুকাত্তা'আত বা খন্ড বর্ণ। এগুলোর ভেদ সম্পর্কে আল্লাহ্ই সম্যক পরিজ্ঞাত রয়েছেন। ২৯টি সূরার শুরুতে এ ধরনের মোট ১৪টি বর্ণ ১৪ ভাবে বিন্যস্ত। এগুলোর সমষ্টি (২৯+১৪+১৪) ৫৭ এটা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য (৫৭ ১৯=৩)।
দেখা যাচ্ছে যে, মুকাত্তা'আত সম্বলিত ২৯টি সূরার বর্ণসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য। ৯টি বিশেষ সূরার প্রতিটির মধ্যে মুকাত্তা'আত অক্ষরের পুনরাবৃত্তির সংখ্যার সমষ্টি এবং ১৯ দ্বারা সমষ্টির বিভাজ্য তা আমরা নিচে ছক আকারে দেখার প্রয়াস পাবো।

সমগ্র কুরআন শরীফে ব্যবহৃত তাসমিয়ার শব্দসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য।
শব্দসমূহ - শব্দসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা
اسم ইসম - ১৩৩ (৭ x ১৯)
الله আল্লাহ - ২৬৯৮ (১৪২ x ১৯)
الرحمن আর রহমান - ৫৭ (৩ x ১৯)
الرحيم আররহীম - ১১৪ (৬ x ১৯)

সমগ্র কুরআনে ব্যবহৃত মুকাত্তা'আতসমূহ
ক্রমিক নং - মুকাত্তা'আতসমূহ - নম্বরসহ সূরাসমূহের নাম
১. الم আলিফ, লাম, মীম - বাকারাহ (২), আল-ইমরান (৩), আল-আনকাবুত (২৯), আররূম (৩০), লোকমান (৩১), সাজদাহ (৩২)।
২. المص আলীফ, লাম, মীম, ছোয়াদ - আল-আ'রাফ (৭)
৩. المر আলিফ, লাম, মীম, রা - রা'দ (১৩)
৪. الر আলিফ, লাম, রা - ইব্রাহীম (১৪), হিজর (১৫)
৫. حم হা, মীম - আল-মু'মিন (৪০), হা-মীম সাজদাহ (৪১), আয-যুখরুফ (৪৩), আদ-দোখান (৪৪), আল-জাসিয়াহ (৪৫), আল-আহক্বাফ (৪৬)
৬. حم عسق হা, মীম, আইন, সিন, ক্বাফ - আশ-শূরা (৪২)
৭. طسم ত্বোয়া, সিন, মীম - আশা-শো'আরা (২৬), আল-কাছাছ (২৮)
৮. طس ত্বোয়া, সিন - আন-নমল (২৭)
৯. طه ত্বোয়া, হা - ত্বোয়াহা (২০)
১০. يس ইয়া, সিন - ইয়াসীন (৩৬)
১১. كهيعص কাফ, হা, ইয়া, আইন, ছোয়াদ - মারইয়াম (১৯)
১২. ص ছায়াদ - ছোয়াদ (৩৮)
১৩. ق ক্বাফ - ক্বাফ (৫০)
১৪. ن নুন - আল কুলম (৬৮)

ছ'টি বিশেষ সূরায় ব্যবহৃত মুকাত্তা'আতের অক্ষর সমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য:
সূরা সংখ্যা - সূরা - আলিফ - লাম - মীম - মোট সংখ্যা - সংখ্যা ১৯
২ - বাকারাহ - ৪৫০২ - ৩২০২ - ২১৯৫ - ৯৮৯৯ - ৫২১
৩ - আল ইমরান - ২৫২১ - ১৮৯২ - ১২৪৯ - ৫৬৬২ - ২৯৮
২৯ - আল-আনকাবুত - ৭৭৪ - ৫৫৪ - ৩৪৪ - ১৬৭২ - ৮৮
৩০ - আররূম - ৫৫৪ - ৩৯৩ - ৩১৭ - ১২৫৪ - ৬৬
৩১ - লোকমান - ৩৪৭ - ২৯৭ - ১৭৩ - ৮১৭ - ৪৩
৩২ - সাজদাহ - ২৫৭ - ১৫৫ - ১৫৮ - ৫৭০ - ৩০
মোট - ৮৯৪৫ - ৬৪৯৩ - ৪৪৩৬ - ১৯৮৭৪ - ১০৪৬

তিনটি সূরায় ব্যবহৃত মুকাত্তা'আতের অক্ষরসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা উনিশ দ্বারা বিভাজ্য:
সূরা সমূহ - মুকাত্তা'আতের অক্ষরসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা (আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ) - মোট সংখ্যা - সংখ্যা ১৯
আল-আ'রাফ (المص) - ২৫২৯ + ১৫৩০ + ১১৬৪ + ৯৭ - ৫৩২০ - ২৮০
মারইয়াম (كهيعص) - ১৩৭ + ১৬৮ + ৩৪৩ + ১১৭ + ২৬ - ৭৯৮ - ৪২
ইয়াসীন (يس) - ২৮৫ + ৪৮ - ২৩৭ - ১৫

পাঁচটি সূরায় ব্যবহৃত মুকাত্তা'আতের বিশেষ দু'টি অক্ষরের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য:
বিশেষ অক্ষর - মুকাত্তা'আতের অক্ষরসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা - মোট সংখ্যা - সংখ্যা ১৯
ص (ছোয়াদ) - সূরা আল-আ'রাফ (৯৭), সূরা মারইয়াম (২৬), সূরা ছোয়াদ (২৯) - ১৫২ - ৮
ق (ক্বাফ) - সূরা আশ-শূরা (৫৭), সূরা ক্বাফ (৫৭) - ১১৪ - ৬

আঠারটি সূরায় ব্যবহৃত মুকাত্তা'আতের বর্ণসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য:
সূরাসমূহ - মুকাত্তা'আতসমূহ - অক্ষরসমূহের পুনরাবৃত্তির সংখ্যা - সংখ্যা ১৯
রা'দ (১৩) - المر আলিফ, লাম, মীম, রা - ১৪৮২ - ৭৮
আশ-শূরা (৪২) - حم عسق হা, মীম, আইন, সিন, ক্বাফ - ৫৭০ - ৩০
আশ-শূরা (৪২) - عسق আইন, সিন, ক্বাফ - ২০৯ - ১১
ইউসুফ (১২) - ال আলিফ, লাম, রা - ২৩৭৫ - ১২৫
ইব্রাহীম (১৪) - ঐ - ১,১৯৭ - ৬৩
হিজর (১৫) - ঐ - ৯১২ - ৪৮
ইউনুস (১১), হুদ (১২) - ঐ - ২৪৮৯ - ১৩১
আল-মু'মিন (৪০), হা-মীম-সাজদাহ (৪১) আশ-শূরা (৪২), আয-যুখরুফ (৪৩), আদ-দোখান (৪৪), আল-জাসিয়াহ (৪৫), আল-আহক্বাফ (৪৬) - حم হা-মীম - ২১৪৭ - ১১৩
মারইয়াম (১৯) - হা - ১৭৬৭ - ৯৩
ত্বোয়াহা (২০) - طه ত্বোয়া, হা - ৩৪০ - ১৭
আশ-শো'আরা (২৬) ও আল-কাছাছ (২৮) - طسم ত্বোয়া, সিন, মীম - ২৪৩২ - ১২৮
আন-নম্ল (২৭) - طس ত্বোয়া, সিন - ১১৭ - ৬

মানব রচিত কোন গ্রন্থে ১৯-এর গাণিতিক বন্ধনের ন্যায় সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয় না, সম্ভবও নয়। পবিত্র কুরআন হচ্ছে নবী করীম (সাঃ)-এর শ্রেষ্ঠ মু'জিযা। অধুনাকালে কম্পিউটারের মাধ্যমে গবেষণায় জানা গেছে যে, পবিত্র কুরআনের ন্যায় একটি গ্রন্থ রচনার লক্ষ্যে ১১৪১৪ বার (অর্থাৎ ৬.৩০১০২৮ বার) প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কম্পিউটারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল : "কোন মানুষের পক্ষে নিজের অজ্ঞাতে উনিশের দুর্ভেদ্য গাণিতিক বন্ধন প্রয়োগ করে কুরআনের ন্যায় একটি গ্রন্থ রচনা করা আদৌ সম্ভব কি-না?"
উত্তর এসেছে: "সারা দুনিয়ার মানুষ যদি যৌথভাবে পৃথিবীর মোট বয়সব্যাপী অবিরামগতিতে অনুরূপ গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্যে পরিশ্রম করে যেতো, তবু তা চিরদিন সম্ভাব্যতার সীমার বাইরেই থেকে যেতো।"
আজকের বিজ্ঞানের যুগে কম্পিউটার সেই সত্যই উদঘাটন করেছে যা ১৪০০ বছর পূর্বেই কুরআন ঘোষণা দিয়েছিল এভাবে:
قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الأَنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِهَا هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَ لَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً . (بنی اسرائیل : (৮৮)
অর্থাৎ, বলে দিন, মানুষ ও জিন সবাই মিলেও যদি এই কুরআনের ন্যায় কোন জিনিস আনার চেষ্টা করে তবে তা আনতে পারবে না- তারা পরস্পরের যত সাহায্যকারীই হোক না কেন? (বনী ইসরাঈল : ৮৮)
বস্তুত এটা হচ্ছে বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগ। সে জন্য আমরা বিজ্ঞানের নিরিখে কম্পিউটারের সাহায্যে কুরআন যে নির্ভুল তাও প্রমাণের প্রয়াস পেয়েছি। বিজ্ঞান আবিষ্কৃত না হলেও এর প্রমাণ অবশ্যই দেয়া যেতো। এর জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করে অতীতের ইতিহাস। 'বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান' গ্রন্থেও মরিস বুকাইলী নিঃশঙ্কচিত্তে কুরআনের নির্ভুলতা প্রমাণ করেছেন। এর পূর্বেও কুরআনের নির্ভুলতার লক্ষ-কোটি প্রমাণ আমরা প্রত্যক্ষ করে এসেছি।

📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 প্রশ্নোত্তর এক নজরে আল-কুরআন

📄 প্রশ্নোত্তর এক নজরে আল-কুরআন


প্রশ্ন: ১। কুরআন মাজীদে কোন্ হরফ বা অক্ষর কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: এর বিশদ বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
অক্ষর - সংখ্যা
ا (আলিফ) - ৪৮৮৭২
ب (বা) - ১১৪২
ت (তা) - ১১৯৯
ث (ছা) - ১২৭৬
ج (জ্বীম) - ২২৭২
ح (হা) - ৯৭৩
خ (খা) - ২৪১৬
د (দাল) - ৫৬০২
ذ (জাল) - ৪৬৭৭
ر (রা) - ১১৭৯২
ز (যা) - ১৫৯০
س (সিন) - ৫৯৯১
ش (শিন) - ২১১৫
ص (ছোয়াদ) - ১০১২
ض (দোয়াদ) - ১৩০৭
ط (ত্বোআ) - ১২৭৭
ظ (জ্বোআ) - ৮৪২
ع (আইন) - ৯২২০
غ (গাইন) - ২২০৮
ف (ফা) - ৮৪৯৯
ق (ক্বাফ) - ৬৮১৩
ك (কাফ) - ৯৫০০
ل (লাম) - ৩৬৫২৫
م (মীম) - ৩৬৫২৫
ن (নূন) - ৪০১৯
و (ওয়াও) - ২৫৫৩২
ه (হা) - ১৯০৭০
لا (লাম-আলিফ) - ৩৭২০
ي (ইয়া) - ৪৫৯১৯

প্রশ্ন: ২। কুরআন মাজীদে সর্বমোট হরকত (যের, যবর, পেশ) কতটি?
উত্তর: কুরআনে যবর, যের ও পেশের সংখ্যা নিম্নরূপঃ
فتحات (ফাতহাত) যবর ৫০২২৩।
ضمات (দুম্মাত) পেশ ৮৮৫৪।
كسرات (কাস্রাত) যের ৩৯৫৮২।
مدات (মাদ্দাত) মাদ ১৭৭১।
شدات (শাদ্দাত) তাশদীদ ১২৭৪।
(নুক্তা) নুক্তা ১০৫৬৮৪।

প্রশ্ন: ৩। কুরআনে পারার সংখ্যা কত?
উত্তর: ত্রিশ পারা।

প্রশ্ন: ৪। কুরআনে মানযিলের সংখ্যা কত?
উত্তর: সাত মানযিল।

প্রশ্ন: ৫। কুরআনে সূরার সংখ্যা কত?
উত্তর: একশ' চৌদ্দটি।

প্রশ্ন: ৬। কুরআনে সর্বমোট রুকূ কতটি?
উত্তর: পাঁচশ' চল্লিশটি।

প্রশ্ন: ৭। কুরআনে সর্বমোট আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তর: ৬৬৬৬টি।

প্রশ্ন: ৮। আয়াত শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: আয়াত শব্দের অর্থ হচ্ছে চিহ্ন, নিদর্শন।

প্রশ্ন: ৯। কুরআনে আয়াতসমূহের বিন্যাস কিরূপ?
উত্তর: কুরআনের আয়াতসমূহের শ্রেণী বিন্যাস নিম্নরূপঃ
১. অঙ্গীকারের আয়াত - ১০০০
২. ভীতি প্রদর্শনের আয়াত - ১০০০
৩. নিষেধের আয়াত - ১০০০
৪. নির্দেশের আয়াত - ১০০০
৫. উপমার আয়াত - ১০০০
৬. ঘটনাবলীর আয়াত - ১০০০
৭. বৈধতার আয়াত - ২৫০
৮. অবৈধতার আয়াত - ২৫০
৯. তাসবীহর আয়াত - ২৫০
১০. বিভিন্ন আয়াত - ৬৬
সর্বমোট-৬৬৬৬

প্রশ্ন: ১০। কুরআন অবতীর্ণের সময়কাল কত বছর?
উত্তর: বাইশ বছর, পাঁচ মাস, চৌদ্দ দিন।

প্রশ্ন: ১১। কুরআনে সাজদার আয়াত কতটি?
উত্তর: সর্বসম্মত- চৌদ্দটি আর মতানৈক্য একটি।

প্রশ্ন: ১২। কুরআনে বাক্যসমূহের সংখ্যা কত?
উত্তর: ছিয়াশি হাজার চারশ' ত্রিশ (৮৬৪৩০)।

প্রশ্ন: ১৩। কুরআনে সর্বমোট অক্ষরের সংখ্যা কত?
উত্তর: তিন লাখ তেইশ হাজার সাতশ' ষাট (৩২৩৭৬০)।

প্রশ্ন: ১৪। কুরআনের মাক্কী সূরা কোন্ কোন্টি?
উত্তর: কুরআনের মাক্কী সূরাগুলো নিম্নরূপ:
১. আল-ফাতিহা
২. আল-আন'আম
৩. আল-আ'রাফ
৪. ইউনুস
৫. হুদ
৬. ইউসুফ
৭. ইব্রাহীম
৮. হাজর
৯. নাহ্ল
১০. বনী ইসরাঈল
১১. কাফ্ফ
১২. ত্বাহা
১৩. আম্বিয়া
১৪. মু'মিন
১৫. মু'মিনূন
১৬. ফুরক্বান
১৭. শু'য়ারা
১৮. নাম্ল
১৯. কাসাস
২০. 'আনকাবূত
২১. রূম
২২. লুকমান
২৩. সাজদাহ্
২৪. সাবা
২৫. ফাতির
২৬. ইয়াসীন
২৭. সাফ্ফাত
২৮. ছোয়াদ
২৯. যুমার
৩০. মু'মিন
৩১. হামীম সাজদা
৩২. শূরা
৩৩. যুখরুফ
৩৪. দুখান
৩৫. জাসিয়া
৩৬. আহক্বাফ
৩৭. ক্বাফ
৩৮. জারিয়াত
৩৯. তুর
৪০. নজম
৪১. কামার
৪২. ওয়াকিয়া'
৪৩. তালাক
৪৪. মুল্ক
৪৫. কালাম
৪৬. হাক্কাহ্
৪৭. মা'আরিজ
৪৮. নহল
৪৯. জ্বিন
৫০. মুয্যাম্মিল
৫১. মুদ্‌দাস্সির
৫২. ক্বিয়ামাহ
৫৩. মুরসালাত
৫৪. নাবা
৫৫. নাযিয়া'ত
৫৬. 'আবাসা
৫৭. তায়ির
৫৮. ইনফিতার
৫৯. মুতাফফিফীন
৬০. ইনশিক্বাক
৬১. বুরূজ
৬২. তারিক
৬৩. আ'লা
৬৪. গাশিয়া
৬৫. ফাজর
৬৬. বালাদ
৬৭. শামস
৬৮. লাইল
৬৯. দুহা
৭০. আলাম নাশরাহ
৭১. ত্বী-ন
৭২. 'আলাক
৭৩. কদ্র
৭৪. বাইয়্যেনা
৭৫. 'আদিয়াত
৭৬. কারি'য়া
৭৭. তাকাসুর
৭৮. আস্ত্র
৭৯. হুমাযা
৮০. ফীল
৮১. কুরাঈশ
৮২. মাউন
৮৩. কাওসার
৮৪. কাফিরূন
৮৫. লাহাব
৮৬. ইখলাস
৮৭. ফালাক
৮৮. নাস

প্রশ্ন: ১৫। কুরআনের মাদানী সূরা ক'টি?
উত্তর: কুরআনের মাদানী সূরা ২৬টি। যেমন -
১. বাকারাহ
২. আলুইমরান
৩. নিসা
৪. মাঈদা
৫. আনফাল
৬. তাওবা
৭. রা'দ
৮. হজ্জ
৯. নূর
১০. আহযাব
১১. মুহাম্মাদ
১২. ফাহ
১৩. হুজুরাত
১৪. রহমান
১৫. হাদীদ
১৬. মুজাদালা
১৭. হাশর
১৮. মুমতাহানা
১৯. সাফ
২০. জুমু'আ
২১. মুনাফিকূন
২২. তাগাবুন
২৩. তাহরীম
২৪. দাহ্র
২৫. যিলযাল
২৬. নস

প্রশ্ন: ১৬। কুরআনে সর্বসম্মত মাক্কী সূরার সংখ্যা কত?
উত্তর: পঁয়ষট্টিটি।

প্রশ্ন: ১৭। কুরআনে সর্বসম্মত মাদানী সূরার সংখ্যা কত?
উত্তর: আঠারটি।

প্রশ্ন: ১৮। মাক্কী ও মাদানী হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে-কুরআনে এমন সূরা ক'টি?
উত্তর: একত্রিশটি।

প্রশ্ন: ১৯। কুরআনে কোন্ কোন্ পয়গম্বরের নাম এসেছে, প্রত্যেকের নাম কতবার এসেছে?
উত্তর: কুরআনে এসেছে এমন পয়গম্বরগণের নাম নিম্নরূপ:
১. হযরত আদম (আঃ) - ২৫
২. হযরত নূহ (আঃ) - ৪৩
৩. হযরত ইদরীস (আঃ) - ২
৪. হযরত হূদ (আঃ) - ৭
৫. হযরত ইব্রাহীম (আঃ) - ৬৯
৬. হযরত ইসমাঈল (আঃ) - ১২
৭. হযরত ইসহাক (আঃ) - ১৭
৮. হযরত ছালিহ (আঃ) - ৮
৯. হযরত লূত (আঃ) - ২৭
১০. হযরত ইয়াকুব (আঃ) - ১১
১১. হযরত ইউসুফ (আঃ) - ২৭
১২. হযরত শু'য়াইব (আঃ) - ১১
১৩. হযরত হারুন (আঃ) - ১৯
১৪. হযরত মূসা (আঃ) - ১৩৫
১৫. হযরত ইউনুস (আঃ) - ৪
১৬. হযরত দাউদ (আঃ) - ১৬
১৭. হযরত সুলাইমান (আঃ) - ১৭
১৮. হযরত আইউব (আঃ) - ৪
১৯. হযরত ইলিয়াস (আঃ) - ২
২০. হযরত আল-ইসা'আ (আঃ) - ২
২১. হযরত যাকারিয়া (আঃ) - ৭
২২. হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) - ৫
২৩. হযরত জুল কিফ্ল (আঃ) - ২
২৪. হযরত উযাইর (আঃ) - ১
২৫. হযরত ঈসা (আঃ) - ৩৩
২৬. হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ) এবং তাঁর মোবারক নাম আহমাদ (সাঃ) - ১

প্রশ্ন: ২০। কুরআনে 'আল্লাহ্' কতবার এসেছে?
উত্তর: দু'হাজার পাঁচশ' চুরাশিবার (২৫৮৪)।

প্রশ্ন: ২১। কুরআনে কোন্ কোন্ ফিরিশতার নাম এসেছে?
উত্তর: কুরআনে নিম্নোক্ত ফিরিশতার নাম এসেছে: ১. জিব্রাঈল আমীন ২. মীকাঈল ৩. হারূত ৪. মারূত।

প্রশ্ন: ২২। কুরআনে হযরত জিব্রাঈল আমীনের আর কোন্ কোন্ নাম এসেছে?
উত্তরঃ রুহুল আমীন, রূহুল কুদুস।

প্রশ্ন: ২৩। কুরআনে 'হরূফে মুকাত্তা'আত' কোন্গুলো এবং কোন্ কোন্ সূরায় ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: এগুলো এমন অক্ষর যার অর্থের কোন বিশ্লেষণ পাওয়া যায় না। এমন অক্ষর ঊনত্রিশটি। যেমন-
১. আলিফ লাম মীম - বাকারা
২. আলিফ লাম মীম - আ-লু ইমরান
৩. আলিফ লাম মীম - সাদ, আ'রাফ
৪. আলিফ লাম রা - ইউনুস
৫. আলিফ লাম রা - হৃদ
৬. আলিফ লাম রা - ইউসুফ
৭. আলিফ লাম মীম রা - ইব্রাহীম
৮. আলিফ লাম রা - ইব্রাহীম
৯. আলিফ লাম রা - হিজর
১০. কাফ হা ইয়া আইন সাদ - মারইয়াম
১১. ত্বাহা - ত্বাহা
১২. ত্বা সীন মীম - শুয়ারা
১৩. ত্বা সীন - নাম্ল
১৪. ত্বা সীন মীম - কাসাস
১৫. আলিফ লাম মীম - আন্কাবুত
১৬. আলিফ লাম মীম - সাজদাহ
১৭. আলিফ লাম মীম - লুকমান
১৮. আলিফ লাম মীম - সাজদাহ
১৯. ইয়াসীন - ইয়াসীন
২০. সাদ - সাদ
২১. হামীম - হামীম সাজদাহ্
২২. হামীম - শূরা
২৩. আইন সীন ক্বাফ - শূরা
২৪. হামীম - যুখরুফ
২৫. হামীম - দুখান
২৬. হামীম - জাসিয়া
২৭. হামীম - আহক্বাফ
২৮. ক্বাফ - ক্বাফ
২৯. নূন - কালাম

প্রশ্ন: ২৪। কুরআনের পারাগুলোর নাম কি?
উত্তর: কুরআনের ত্রিশটি পারার নাম নিম্নরূপ:
১. আলিফ লাম মীম
২. সায়াকূলু
৩. তিলকার রুসুল
৪. লান তানালু
৫. ওয়াল মুহসানাত
৬. লা ইউহিবুল্লাহ
৭. ওয়া ইজা সামি'উ
৮. ওয়া লাও মালাউ
৯. কু-লাল মালাউ
১০. ওয়া'লামূ
১১. ইয়াতাজিরূনা
১২. ওয়ামা মিন দা-ব্বাতিন
১৩. ওয়ামা উবাররিউ
১৪. রুবামা
১৫. সুবহানাল্লাজী
১৬. ক্বালা আলাম
১৭. ইকতারা বা লিন্নাসি
১৮. ক্বাদ আফলাহা
১৯. ওয়া কা-লাল্লাজীনা
২০. আম্মান খালাকা
২১. উতলু মা উ-হিয়া
২২. ওয়া মাইয়‍্যাকনুত
২৩. ওয়া মা লিয়া
২৪. ফামান আজলামু
২৫. ইলাইহি ইউরাদ্দু
২৬. হামীম
২৭. ক্বালা ফামা খাত্ত্বকুম
২৮. ক্বাদ সামি'আল্লাহু
২৯. তাবারাকাল্লাজী
৩০. আম্মা

প্রশ্ন: ২৫। কুরআনে সাজদাহ্র আয়াত কোন্ কোন্টি এবং কোথায় কোথায়?
উত্তর: কুরআনে সাজদার আয়াতগুলো নিম্নরূপ:
১. আল-আ'রাফ - ২০৬ (পারা ৯)
২. আর্‌রা'দ - ১৫ (পারা ১৩)
৩. আন্-নাহল - ৫০ (পারা ১৪)
৪. বানী ইসরাঈল - ১০৯ (পারা ১৫)
৫. মারইয়াম - ৫৮ (পারা ১৬)
৬. হজ্জ - ১৮ (পারা ১৭)
৭. হজ্জ - ৭৭ (পারা ১৭)
৮. ফুরক্বান - ৬০ (পারা ১৯)
৯. নাম্ল - ২৬ (পারা ১৯)
১০. সাজদাহ - ১৫ (পারা ২১)
১১. ছোয়াদ - ১৫ (পারা ২৩)
১২. হামীম সাজদাহ - ৩৮ (পারা ২৪)
১৩. কামার - ৬২ (পারা ২৭)
১৪. ইনশিকাক - ২১ (পারা ৩০)
১৫. আল আলাক - ১৯ (পারা ৩০)

প্রশ্ন: ২৬। সাজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ম কি?
উত্তর: যে আয়াতের প্রান্তটীকার সামনে 'সাজদা' লেখা থাকে, সে আয়াত পড়ার পর কেবলামুখী হতে হয়। যদি অন্যদিকে মুখ থাকে তা হলে কেবলামুখী হওয়া অত্যাবশ্যক। কান পর্যন্ত হাত তোলা আবশ্যক নয়। শুধুমাত্র 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ করতে হয় এবং তিনবার: (সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা) পড়তে হয়। অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ্ থেকে মাথা উঠাতে হয়। ব্যস, সাজদায়ে তিলাওয়াত আদায় হয়ে গেলো। এতদসংশ্লিষ্ট আরো কিছু অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাতব্য বিষয় নিম্নরূপ:
১. সাজদাহ্র আয়াত যে শুনবে-তার উপরও সাজদাহ ওয়াজিব হয়ে যায়।
২. যদি এমন স্থানে তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে সাজদাহ্ দেয়ার জায়গা না থাকে, এমতাবস্থায় পরে সাজদাহ্ আদায় করতে হবে।
৩. এক স্থানে বসে সাজদার আয়াত যতবারই তিলাওয়াত করা হোক না কেন, সাজদাহ একবারই করতে হবে।
৪. একই সাজদার আয়াত যদি স্থানান্তর করে পড়া হয়-এমতাবস্থায় প্রত্যেক জায়গাতেই সাজদাহ্ করতে হবে।

প্রশ্ন: ২৭। আল-কুরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি কি?
উত্তর: এক নজরে আল-কুরআন নিম্নরূপঃ
সর্বপ্রথম আয়াত: اقرأ باسم ربك الذي خلق (সূরা আলাক, আয়াত ১)
সর্বশেষ আয়াত: واتقوا يوما ترجعون فيه الى الله (সূরা বাকারা, আয়াত ২৮১) অথবা اليوم اكملت لكم دينكم و اتممت عليكم نعمتی و رضيت لكم الاسلام دينا . (সূরা মায়িদা, আয়াত ৩)
পারা সংখ্যা: ৩০
সূরা সংখ্যা: ১১৪
রুকূ সংখ্যা: ৪৫০ (অথবা ৫৪০)
মানযিল সংখ্যা: ৭
আয়াত সংখ্যা: ৬৬৬৬
সাজদায়ে তিলাওয়াত: সর্বসম্মত ১৪, মতানৈক্য ১
মোট শব্দ: ৮৬,৪৩০
মোট অক্ষর: ৩,২৩,৭৬০
হারাকাতের সংখ্যা: যবর ৫৩,২২৩, পেশ ৮৮০৪, যের ৩৯,৫৫২
নুক্তা: ১০,৫,৬৮৪
মাদ্দ: ১৭৭১
তাশদীদ: ১৪৫৩

হরফের বিবরণ:
আলিফ ৪৮,৮৭২
বা ১১৪২৮
তা ১১৯৯
ছ ১২৭৮
জীম ৩২৭৩
হা ৯৭৩
খা ২৪১৬
দাল ৫৬৪২
জাল ৪৬৭৭
রা ১১৭৯৩
যা ১৫৯
সীন ৫৯৯১
শীন ৩১৫৩
ছোয়াদ ২০১২
দোয়াদ ১৩০৭
ত্বোয়া ১২৭৪
জ্বোয়া ৮৪২
আঈন ৯২২০
গাঈন ২২০৮
ফা ৮৪৯৯
ক্বাফ ৩৬৮১৩
কাফ ৯৫২৩
লাম ৪৩২
মীম ৩৬৫৩৫
নূন ৪০২৯০
ওয়াও ২৫৫৩৬
হা ১২০৭০
লাম আলিফ ৩৭২০
ইয়া ৪৫৯১৯

সাত মান্যিলের বিন্যাস:
১. সূরা ফাতিহা থেকে নিসা পর্যন্ত
২. সূরা মায়িদা থেকে তাওবা পর্যন্ত
৩. সূরা ইউনুস থেকে নাহল পর্যন্ত
৪. সূরা বানী ইসরাঈল থেকে ফুরক্বান পর্যন্ত
৫. সূরা শুয়ারা থেকে ইয়াসিন পর্যন্ত
৬. সূরা ওয়াচ্ছাফফাত থেকে হুজুরাত পর্যন্ত
৭. সূরা ক্বাফ থেকে নাস পর্যন্ত

প্রশ্ন: ২৮। কুরআনের পরিচয় কি?
উত্তর: কুরআন আল্লাহ্‌ কিতাব।

প্রশ্ন: ২৯। কুরআনের রচয়িতা কে?
উত্তর: কুরআনের রচয়িতা স্বয়ং আল্লাহ্‌ তা'য়ালা।

প্রশ্ন: ৩০। কুরআনের ভাষা কি?
উত্তর: কুরআনের ভাষা হচ্ছে বিশুদ্ধ আরবী।

প্রশ্ন: ৩১। কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হলো কেন?
উত্তর: দুনিয়াতে যতো আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে সবগুলোই সে সময়ের নবী, রাসূল ও কওমের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে এ জন্য যে, মানুষ সহজে বুঝতে সক্ষম হবে। কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ওপর। আর আরব দেশে। সেহেতু কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়।

প্রশ্ন: ৩২। কুরআন কি বিশ্বজনীন গ্রন্থ?
উত্তর: হ্যাঁ, কুরআনের হেদায়াত সমগ্র মানবজাতির জন্যই।

প্রশ্ন: ৩৩। কুরআনের প্রতিপাদ্য বিষয় কি?
উত্তর: কুরআনের মূল প্রতিপাদ্য হলো মানুষ।

প্রশ্ন: ৩৪। কুরআন অবতারণের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা, হেদায়াত ও পরিত্রাণের ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন: ৩৫। কুরআন যে অভ্রান্ত-এর প্রমাণ কি?
উত্তর: তার কিছু দলীল নিম্নরূপ- ১. কুরআনের মধ্যকার সমুদয় কথা-বার্তাই অভ্রান্ত। ২. কুরআনের কথা-বার্তার মধ্যে বৈপরিত্য নেই। ৩. কুরআনের অনুরূপ কোন কালাম নেই। ৪. কুরআনে অণু পরিমাণও কম-বেশি করা যাবে না।

প্রশ্ন: ৩৬। কুরআনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা কি অত্যাবশ্যক?
উত্তর: হ্যাঁ, ত্রিশ পারা কুরআনের ওপরই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। কুরআনের একটি শব্দও প্রত্যাখ্যান করা মানেই পুরো কুরআনকে অস্বীকার করা। আর কেউ অস্বীকার করলেই কাফির হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: ৩৭। কুরআন অবতীর্ণ হবার পূর্বে এ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী ঘোষণা করা হয়েছিলো কি?
উত্তর: হ্যাঁ, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর এক প্রার্থনায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।

প্রশ্ন: ৩৮। কুরআনের পর কোন আসমানী গ্রন্থ অবতীর্ণ হবে কি?
উত্তর: না, এটাই সর্বশেষ নবীর ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ।

প্রশ্ন: ৩৯। নবী করীম (সাঃ)-এর কুরআনে কম-বেশি করার অধিকার ছিলো কি?
উত্তর: অবশ্যই না।

প্রশ্ন: ৪০। কুরআনের আহবান কি?
উত্তর: কুরআনের আহবান হলো মানুষ আল্লাহর মনোনীত নির্ধারিত দ্বীন-ইসলাম গ্রহণ করবে। প্রতিপালকের হুকুম-আহকামের অনুসরণ করবে। সমুদয় কাজ-কর্মে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর অনুকরণ করবে। পরকালের শান্তি ও শ্রান্তির জন্য বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং পুণ্য কাজ করবে।

প্রশ: ৪১। 'বিসমিল্লাহ' কি কুরআনের আয়াত?
উত্তর: হ্যাঁ, بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْم কুরআনের একখানা আয়াত।

প্রশ: ৪২। কুরআনের কোন্ কোন্ আয়াত একাধিকবার এসেছে?
উত্তর: একাধিকবার আসা আয়াত ক'টি নিম্নরূপ:
১. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ - এ আয়াত ৩১ বার এসেছে-
২. وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْاٰنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ - এ আয়াত ৪ বার এসেছে-
৩. وَيْلٌ يَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِيْنَ - এ আয়াত এসেছে ১০ বার-

প্রশ্ন: ৪৩। কুরআনের মধ্যে কি কসম খাওয়া হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, যেমন- সময়ের কসম (وَالْعَصْرِ), সূর্যের কসম (وَالشَّمْسِ) ও রাতের কসম (وَاللَّيْلِ) ইত্যাদি।

প্রশ্ন: ৪৪। কুরআনের বিরুদ্ধবাদীরা কুরআন সম্পর্কে কি কি প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল?
উত্তর: কুরআনের বিরুদ্ধবাদীরা প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলো:
১. কুরআন নবী (সাঃ)-এর মনগড়া গ্রন্থ, আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেননি।
২. একবার অবতীর্ণ না করে বারবার কেন অবতীর্ণ করা হলো।
৩. নবী করীম (সাঃ) অনারব এক ব্যক্তি (হযরত সালমান ফারসী রাঃ)-এর সহযোগিতায় কুরআন বিন্যাস করেছেন।
৪. আরবের প্রসিদ্ধ দুটো শহর-মক্কা ও তায়েফের দু'জন সর্দার যে কোন একজনের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়া উচিত ছিলো।
৫. এ কুরআন ব্যতীত অন্য কোন (লিখিত) কুরআন অবতীর্ণ করা উচিত ছিলো-যা সবার গ্রহণযোগ্য হতো।
৬. যদি কুরআনকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী বদলানো যেতো।
৭. কুরআনকে বলা হয়েছে কবিতা ইত্যাদি।
৮. কুরআনকে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তীদের কল্প-কাহিনী।
৯. কুরআনকে বলা হয়েছে অলীক স্বপ্ন এবং মনগড়া কথাবার্তা।
১০. কুরআনকে বলা হয়েছে যাদু।

প্রশ্ন: ৪৫। কুরআন দুনিয়াকে কি বলে আখ্যায়িত করেছে?
উত্তর: পৃথিবী হচ্ছে মানবজাতির জন্য পরীক্ষার স্থান ইত্যাদি।

প্রশ: ৪৬। কুরআনের দৃষ্টিতে কোন মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কি হওয়া উচিত?
উত্তর: কুরআনের নিরিখে কোন মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহ্ তা'আলার পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য করা এবং ইবাদাত করা।

প্রশ: ৪৭। আল্লাহ্ বিশ্ব জাহান কত সময়ে সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: অবিরাম ৬ দিনে।

প্রশ: ৪৮। পৃথিবীর সব কিছু কি জোড়া জোড়া সৃষ্টি করা হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ।

প্রশ্ন: ৪৯। সব মানুষ কি মরণশীল?
উত্তর: হ্যাঁ, জন্মগ্রহণকারী সব মানুষই মরণশীল।

প্রশ্ন: ৫০। ঈমান ব্যতিরেকে কোন কাজ কি কবুল হয়?
উত্তর: অবশ্যই না।

প্রশ্ন: ৫১। কোন মুমিনের প্রকৃত বন্ধু কে?
উত্তর: আল্লাহ্ তা'য়ালা।

প্রশ: ৫২। কুরআনে কোন নাম সবচেয়ে বেশি ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহ্ তা'আলার জাতি বা স্বকীয় নাম 'আল্লাহ'। কুরআনে এ নামটি ২৫৮৪ বারের চেয়েও বেশি ঘোষিত হয়েছে।

প্রশ্ন: ৫৩। আল্লাহ্ তা'আলার কোন্ গুণের কথা কুরআনে সবচেয়ে বেশি বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: আল্লাহ্ তা'আলার রবুবিয়্যত গুণের কথা ৯০০ বারেরও বেশি বর্ণিত হয়েছে।

প্রশ্ন: ৫৪। আল্লাহ্র পসন্দনীয় মানুষ কারা?
উত্তর: আল্লাহ্র পসন্দনীয় মানুষ হচ্ছে-
১. পাক-পবিত্র মানুষ।
২. পুণ্যার্জনকারী মানুষ।
৩. পরহেজগার মানুষ।
৪. ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী মানুষ।
৫. তাওবাকারী মানুষ।
৬. ধৈর্যধারণকারী মানুষ।
৭. আল্লাহ্র উপর নির্ভরশীল মানুষ।
৮. তাঁর পথে জিহাদকারী মানুষ।

প্রশ্ন: ৫৫। কুরআনের কোন্ কোন্ স্থান এমন- যেখানে যের, যবর বা পেশের ভুলের কারণে মানুষ কাফির হয়ে যায়?
উত্তর: স্থানগুলো নিম্নরূপ:
১. ফাতিহা ৫ - ইয়্যাকানা-বুদু ইয়্যাকানাবুদু (ইয়াকে তাশদীদ ছাড়া পড়া ভুল)
২. ফাতিহা ৭ - আন আমতা আলাইহিম আন আমতু আলাইহিম (তা-এর ওপরে পেশ পড়া কুফর)
৩. বাকারা ১৪ - ওয়া ইজিবতালা ইব্রাহীমা রব্বুহু ইব্রাহীমা রাব্বাহু (বা-এর ওপর যবর পড়া কুফর)
৪. বাকারা ২৫১ - কাতালা দাউদু জালুতা দাউদু জালুতু (তা-এর ওপর পেশ পড়া ভুল)
৫. বাকারা ২৫৫ - আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আ-ল্লাহু (আলিফ-এর স্থলে আলিফ মামহুদা পড়া ভুল)
৬. বাকারা ২৬১ - ওয়াল্লাহু ইউজাইফু ইউজায়াফু (আইন-এর ওপরে যবর পড়া ভুল)
৭. নিসা ১৬৫ - রসুলাম্ মুবাশশিরীনা ওয়া মুনজিরীনা মুনজারীনা (জাল-এর ওপরে যবর পড়া ভুল)
৮. তাওবা ৩ - রাসূলুহ রাসূলিহি (লুহু-এর স্থলে লিহি পড়া ভুল)
৯. বনী ইসরাঈল ১৫ - মুয়াজ্জিবীন্য মুয়াজজাবীনা (জাল-এর ওপরে যবর পড়া ভুল)
১০. ত্বাহা ১২১ - রাব্বাহ রাব্বুহু (বা-এর ওপর পেশ পড়া ভুল)
১১. আম্বিয়া ৮৭ - কুনতু কুন্তা (তা-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১২. শু'আরা ১৯৪ - মুনাজিরীনা মুনজারীনা (জাল-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১৩. ফাতির ২৬ - আল-উলামাউ আল-উলামাআ (আইন-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১৪. সাফ্ফাত ১২ - মুনজিরীনা মুনজারীনা (জাল-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১৫. ফাতহ ২৭ - আল্লাহ আল্লাহা (হা-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১৬. হাশর ২৪ - মুসাওইরু মুসাওয়্যারু (দাল-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১৭. হাক্কাহ ৩৭ - আল-খাতিউনা আল-খাতাউনা (তা-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
১৮. মুয্যাম্মিল ১৬ - আর রাসূলা আর রাসূলু (লাম-এর ওপর পেশ পড়া ভুল)
১৯. মুরসালাত ১৪ - ফী জিলালিন ফী জালালিন (জোয়া-এর ওপর যবর পড়া ভুল)
২০. আন্ নাযিয়াত ৪২ - মুনজিরু মুনজারু (যা-এর ওপর যবর পড়া ভুল)

প্রশ্ন: ৫৬। কুরআনের মানযিলসমূহ কি কি?
উত্তর: নিম্নের এক সূরা থেকে অন্য সূরা পর্যন্ত কুরআনের সাত মানযিল (যেভাবে তেলাওয়াত করতে হয়):
১. জুমুআ - ফাতিহা থেকে নিসা
২. শনিবার - মাঈদা থেকে তাওবা
৩. রোববার - ইউনুস থেকে নহল
৪. সোমবার - বনী ইসরাঈল থেকে ফুরকান
৫. মঙ্গলবার - শুয়ারা থেকে ইয়াসীন
৬. বুধবার - সাফ্ফাত থেকে হুজুরাত
৭. বৃহস্পতিবার - ক্বাফ থেকে আন-নাস

প্রশ্ন: ৫৭। কুরআনে কতজন পয়গাম্বরের নাম এসেছে।
উত্তর: ছাব্বিশজন।

প্রশ্ন: ৫৮। কুরআনে কতজন ফিরিশতার নাম এসেছে?
উত্তর: চারজন।

প্রশ্ন: ৫৯। কুরআনে হযরত জিব্রাঈল (আঃ)-এর গুণবাচক নাম ক'টি এসেছে?
উত্তর: দু'টি।

প্রশ্ন: ৬০। কুরআনে হুরূফে মুকাত্তা'আত কতটি সূরায় এসেছে?
উত্তর: উনত্রিশটি।

প্রশ্ন: ৬১। কুরআনে কতগুলো পারা আছে?
উত্তর: ত্রিশটি।

প্রশ্ন: ৬২। কুরআনে সাজদার আয়াত কতটি?
উত্তর: চৌদ্দটি সর্বসম্মত। একটির ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। (ইমাম শাফিঈর)।

প্রশ্ন: ৬৩। কুরআনে এমন কতটি জায়গা রয়েছে- যাতে যের, যবর অথবা পেশ উচ্চারণের ভুলের জন্য মানুষ কাফির হয়ে যেতে পারে?
উত্তর: বিশটি।

প্রশ্ন: ৬৪। কুরআনের বিশুদ্ধ পঠনের জন্যে যে চিহ্নাবলী নির্ধারিত আছে, এগুলোকে কি বলা হয়?
উত্তর: علامات الوقف বা বিরতি সংকেত।

প্রশ্ন: ৬৫। কুরআনে আলামাতুল ওয়াক্ফ কতটি, এগুলোর ব্যাখ্যা কি?
উত্তর: প্রায় পনেরটি। বিশ্লেষণ নিম্নরূপঃ
১. لا - ل (ওয়াক্ফ লাযেম) বিরতি অবশ্য কর্তব্য। এখানে থামতেই হবে।
২. ط - (ওয়াক্ফ মুতলাক) সাধারণ বিরতি-চিহ্ন। এখানে থামাই উত্তম।
৩. ج - وقف جائز (ওয়াক্ফ জায়েয) এখানে বিরতি বৈধ, থামাটাই উত্তম।
৪. ز - وقف مجوز (ওয়াক্ফ মাজ্য) এখানে থামা যায়। না থামাই উত্তম।
৫. ص - وقف مرخص (ওয়াক্ফ মুরাখখাস)। না থেমে পরবর্তী আয়াতের সঙ্গে মিলিয়ে পড়াই উচিত।
৬. ق - قد قيل (কুদ কীলা)- এখানে না থামাই ভালো।
৭. لا - لا وقف عليه (লা ওয়াকাফা আলাইহি) এখানে বিরতি নেই।
৮. قف - يوقف عليه (ইউকাফু আলাইহি) বিরতি দেয়ার স্থান।
৯. سكته (সাকতাহ) এখানে শ্বাসগ্রহণ না করে সামান্য বিরতি দেয়ার অনুমতি আছে।
১০. وقفه (ওয়াকফাহ) শ্বাস না নিয়ে সাকতাহ অপেক্ষা অপেক্ষাকৃত বেশি সময় বিরতি দেয়া যায়।
১১. صلى - قد يوصل (কুদ ইউসালু) এখানে বিরতি না দেয়াই উত্তম।
১২. صلى - وصل الى (ওয়াসালা ইলা) মিলিয়ে পড়াই উত্তম।
১৩. لا (লা) এটি হলো আয়াত চিহ্ন। যেখানে মাত্র এই চিহ্ন থাকবে, সেখানে বিরতি দিতে হবে।
১৪. (.. ..) পাঠের পূর্বে-পিছে এরূপ তিনটি বিন্দু থাকলে প্রথম চিহ্নে বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় চিহ্ন বিরতি না দেয়া বা প্রথম চিহ্নে বিরতি না দিয়ে দ্বিতীয় চিহ্নে বিরতি দেয়া যায়।
১৫. ১ - যেখানে এরূপ আলিফের ওপর-চিহ্ন থাকে, সেখানে আলিফ উচ্চারিত হয় না।

প্রশ্ন: ৬৬। কুরআনের সর্বপ্রথম হাফেজ কে ছিলেন?
উত্তর। নবী করীম (সাঃ)।

প্রশ্ন: ৬৭। নবী করীম (সাঃ)-এর ইন্তেকালের সময় কতজন সাহাবী কুরআনে হাফেজ ছিলেন।
উত্তর: বাইশজন।

প্রশ্ন: ৬৮। কুরআনের প্রথম সাজদার আয়াত কোন্ পারায়?
উত্তর: নবম পারায়।

প্রশ্ন: ৬৯। কুরআনের দ্বিতীয় সাজদার আয়াত কোন্ পারায়?
উত্তর: ত্রয়োদশ পারায়।

প্রশ্ন: ৭০। কুরআনের তেইশতম পারায় সাজদার আয়াত কতটি?
উত্তর: দু'টি।

প্রশ্ন: ৭১। কুরআনের এমন ক'টি পারা আছে, যেগুলো শুরু হয় নতুন সূরা দিয়ে?
উত্তর: আটটি।

প্রশ্ন: ৭২। কুরআনের নতুন সূরা দিয়ে শুরু পারাগুলো কি?
উত্তর: পারা ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২৬, ২৮, ২৯, ৩০।

প্রশ্ন: ৭৩। কুরআনের এমন কতগুলো সূরা আছে, যেগুলো হরফ দিয়ে শুরু হয়, সূরাগুলো কি কি?
উত্তর: এমন সূরা তিনটি। যেমন- সাদ, নূন এবং কাফ।

প্রশ্ন: ৭৪। কুরআনের সাদ, নূন ও কাফ দিয়ে শুরু সূরা তিনটি কোন্ কোন্ পারায়।
উত্তর: সাদ ২৩-তম পারায়, নূন এবং কাফ ২৪-তম পারায়।

প্রশ্ন: ৭৫। কুরআনের সুরাতু (سورة) শব্দটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে।
উত্তর: সাতবার।

প্রশ্ন: ৭৬। কুরআনের সূরাগুলো আকারের দিক থেকে কত ধরনের এবং কি কি?
উত্তর: তিন ধরনের। যেমন-১. লম্বা, ২. মধ্যম ও ৩. ছোট।

প্রশ্ন: ৭৭। কুরআনে হরূফে মুকাত্তা'আত দিয়ে আরম্ভ হওয়া সূরার মধ্যে কতটি মাক্কী এবং কতটি মাদানী?
উত্তর: মাক্কী সাতাশটি এবং মাদানী দু'টি।

প্রশ্ন: ৭৮। কুরআনে দোয়া-প্রার্থনা করার তাকিদ কত জায়গায় দেয়া হয়েছে?
উত্তর: সত্তরের উপর স্থানে।

প্রশ্ন: ৭৯। কুরআনে 'ইমাম' শব্দটি কত জায়গায় এসেছে?
উত্তর: বার জায়গায়।

প্রশ্ন: ৮০। কুরআনে কোন্ নবীর বর্ণনা সব নবীর চাইতে লম্বা?
উত্তর: হযরত মূসা (আঃ)-এর।

প্রশ্ন: ৮১। কুরআনে কতবার নামাযের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?
উত্তর: সাতশ'বার (৭০০)।

প্রশ্ন: ৮২। কুরআনে কতবার খয়রাতের বা দান করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?
উত্তর: একশ' পঞ্চাশবারের বেশি।

প্রশ্ন: ৮৩। কুরআনে কোন্ কোন্ মসজিদের উল্লেখ আছে?
উত্তর: নিম্নের মসজিদগুলোর উল্লেখ আছে: ১. আল মাসজিদুল হারাম (মক্কায়), ২. মাসজিদুল আকসা (বায়তুল মাকদিস), ৩. মসজিদে জিরার (মদীনায়), ৪. মসজিদে কুবা (মদীনায়), ৫. মসজিদে নববী (মদীনায়)।

প্রশ্ন: ৮৪। কুরআনে কোন্ সূরার প্রথমে 'বিসমিল্লাহ্ নেই?
উত্তর। সূরা তাওবা (সূরা বারাআত)।

প্রশ্ন: ৮৫। কুরআনে কোন্ সূরায় 'বিসমিল্লাহ্' দু'বার এসেছে?
উত্তর: সূরা নামলে।

প্রশ্ন: ৮৬। 'আয়াতুল কুরসী' কুরআনের কোন্ সূরায় এবং পারায়?
উত্তর: সূরা বাকারায়, তৃতীয় পারার প্রথমে।

প্রশ্ন: ৮৭। কুরআনে আল্লাহ্ সুন্দরতম গুণবাচক নামের সংখ্যা কত?
উত্তর: নিরানব্বই (৯৯)।

প্রশ্ন: ৮৮। কুরআনে এমন তিনজনের নাম এসেছে, তাঁরা নবী না হলেও তাঁদেরকে উত্তম শব্দে সম্বোধন করা হয়েছে। তাঁদের নাম কি?
উত্তর: তাঁরা হলেন: ১. লুকুমান, ২. আযীযে মেসের এবং ৩. জুল-ক্বারনাইন।

প্রশ্ন: ৮৯। কুরআনে একজন মহিলার জা-তি নাম এসেছে, তিনি কে?
উত্তর: হযরত মরিয়ম।

প্রশ্ন: ৯০। কুরআনে এমন এক গোত্রের বর্ণনা এসেছে, যাদের ওপর আল্লাহ্ অজস্র নিয়ামত অবতরণ করলেও তাদের অন্যায়-অত্যাচার বেড়ে যায়- সে গোত্রের নাম কি?
উত্তর: বানী ইসরাঈল।

প্রশ্ন: ৯১। কুরআনের কতটি সূরা নবী-রসূলদের নামে এবং কোন্ কোন্টি?
উত্তর: ছয়টি সূরা। যেমন- ১. সূরা ইউনুস, ২. সূরা হুদ, ৩. সূরা ইউসুফ, ৪. সূরা ইব্রাহীম, ৫. সূরা নূহ, ৬. সূরা মুহাম্মাদ।

প্রশ্ন: ৯২। জিব্রাইল (আঃ) কি আল্লাহ্ পক্ষ থেকে কুরআন হুবহু নিয়ে এসেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি হুবহু প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে সম্পূর্ণ কুরআন নিয়ে এসেছেন।

প্রশ্ন: ৯৩। একই সাথে কি সমুদয় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল?
উত্তর: না। একই সময়, একই সাথে সমুদয় কুরআন অবতীর্ণ হয়নি। প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়।

প্রশ্ন: ৯৪। এক সঙ্গে অবতারণ না করে কুরআন অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করার হেতু কি?
উত্তর: একটি আদর্শ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার গাইড লাইন বা সংবিধান হচ্ছে কুরআন। হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) হচ্ছেন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহান নেতা। নবদীক্ষিত মুসলমানদের ক্রমাগত সমস্যার প্রয়োজনীয় সমাধান কল্পে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে চাহিদানুযায়ী অল্প অল্প করে কুরআন অবতীর্ণ হয়।

প্রশ্ন: ৯৫। কুরআনকে কোন পর্বতের উপর অবতীর্ণ করা কি সম্ভব ছিল না?
উত্তর: অতি অবশ্যই না। কুরআন কোন বিরাট পর্বতের উপর অবতীর্ণ করা হলে মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ্ তা'আলার নূরের তেজস্ক্রিয়ায় পাহাড় ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যেতো।

প্রশ্ন: ৯৬। কুরআনের ব্যাপক সম্বোধিত আয়াত কোনগুলো?
উত্তর: ক'টি ব্যাপক সম্বোধিত আয়াত নিম্নরূপ:
১. وَ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولُهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَ يَتَّقِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ .
২. إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَ البغي
৩. يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا قف وَ اتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ .

প্রশ্ন: ৯৭। কুরআনে কি কোন ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ। যেমন এমনি ভবিষ্যদ্বাণী নিম্নরূপঃ
وَإِنْ كَادُوا لَيَسْتَفِزُّونَكَ مِنَ الْأَرْضِ لِيُخْرِجُوكَ مِنْهَا وَ إِذَا لَا يَلْبَثُونَ خِلْفَكَ إِلَّا قَلِيلًا .
অর্থাৎ, এবং এসব লোক এও করতে চায় যে, তোমাকে এ যমীন হতে উপড়ে ফেলবে, আর তোমাকে এখান থেকে বহিষ্কার করবে। কিন্তু তারা যদি এরূপ করে, তা হলে তোমার পরে এরা স্বয়ং এখানে আর বেশি দিন টিকতে পারবে না।

প্রশ্ন: ৯৮। কুরআনে ইলম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের মর্যাদা কি স্বীকৃত?
উত্তর: হ্যাঁ, কুরআন ইলম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছে।

প্রশ্ন: ৯৯। কুরআনের মর্যাদা কিরূপ?
উত্তর: কুরআনের অনেক মর্যাদার মধ্যে ক'টি নিম্নরূপ:
১. কুরআন হচ্ছে মহান আল্লাহ্ বাণী।
২. কুরআন অনুপম, সুধাময় অমীয় বাণী। কুরআনের ন্যায় কোন কালাম বা বাণী নেই।
৩. বিশ্ব মানবতাকে পথ ভ্রষ্টতার তমসা থেকে হিদায়াতের জ্যোতির্ময় পথে নিয়ে আসাই হচ্ছে কুরআনের কাজ।
৪. অন্তরের প্রশান্তি এবং মানসিক চিন্তা-বিশ্বাসকে মজবুত করে একমাত্র কুরআন।
৫. মানবাত্মার যাবতীয় রোগ-শোকের নিরাময় হচ্ছে কুরআন।
৬. কুরআনের প্রভাব সর্বজন স্বীকৃত ও পরীক্ষিত।
৭. কুরআন তিলাওয়াত হচ্ছে মহান ইবাদাত।

প্রশ্ন: ১০০। বিশ্ব জগৎ সম্পর্কে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি কি?
উত্তর: এ সম্পর্কে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে: বিশ্ব জাহান হলো মানবজাতির জন্য পরীক্ষাগার স্বরূপ। এটা হচ্ছে ক্ষণভঙ্গুর জায়গা। এর পর মহাপ্রলয় অনুষ্ঠিত হবে। স্বতন্ত্র অবিনশ্বর জাহান তৈরী হবে। এ পৃথিবী হচ্ছে একটি খেলা ঘর। ধোঁকা আর মরীচিকা। শোভা-সৌন্দর্য এবং পারস্পরিক গর্ব ও অহংকার প্রদর্শনের নাম। পরকালের মোকাবেলায় পৃথিবী নিতান্ত সীমাবদ্ধ ও সংক্ষিপ্ত স্থান।

প্রশ্ন: ১০১। মানব সৃষ্টির সময় মানব প্রকৃতি হতে কি আল্লাহ্ স্বীয় রবুবিয়তের স্বীকৃতি নিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ। 'আমি কি তোমাদের প্রভু নই'? এর জবাবে সমুদয় মানবাত্মা আল্লাহকে রব বলে স্বীকার করেছিল।

প্রশ্ন: ১০২। মানব প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যাবলী কি কি?
উত্তর: মানব প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যাবলী নিম্নরূপ:
১. মাটি দ্বারা মানব সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায় রাখা হয়। এরপর তাকে বীর্য দ্বারা সৃষ্টি করা হয়।
২. মানব প্রকৃতিতে ভাল-মন্দের অনুভূতি রয়েছে।
৩. মানবকে হিদায়াতের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
৪. মানবকে কষ্ট স্বীকার করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
৫. মানব প্রকৃতি সাধারণত তাড়াহুড়ো, অকৃতজ্ঞ, সংকীর্ণ এবং নীচুমনা, অজ্ঞ, অত্যাচারী, সীমালংঘনকারী, ঝগড়াটে, কৃপণ, লোভী এবং ধন-সম্পদে আসক্ত বলেই প্রতীয়মান হয়।

প্রশ্ন: ১০৩। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মানব কে ছিলেন?
উত্তর: আবুল বাশার হযরত আদম (আঃ)।

প্রশ্ন: ১০৪। কুরআন মানুষের বুদ্ধিকে কিভাবে নিরূপণ করেছে?
উত্তর: মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ্ তা'য়ালা মানব জাতিকে যে মহানিয়ামতে সিক্ত করেছেন তা হচ্ছে জ্ঞান বা বুদ্ধিমত্তা। জ্ঞান দ্বারা কার্য সম্পাদন না করার অর্থই হচ্ছে আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা। মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে নিখিল সৃষ্টিলোক সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করার এবং আল্লাহ্ শক্তি ও হিকমতের পর্যবেক্ষণ করার দিকেই কুরআনুল কারীম আহবান জানিয়েছে। আল্লাহ্ প্রদত্ত শরীয়ত ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দাবী অনুযায়ী কার্য সম্পাদন না করে কারো অন্ধ অনুকরণ বা অন্ধ তাকলীদ করা এবং নিজ নিজ বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে কাজ না করাও ভ্রান্ত বৈ কি। কোন ব্যাপারে অজ্ঞাত অবস্থায় এবং সম্যকরূপে না জেনে নিচক ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করা উচিত নয়। প্রতিটি মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধির অব্যবহার ও অপব্যহারের জন্য অতি অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।

প্রশ্ন: ১০৫। মানবজাতির পারলৌকিক মুক্তি ও সফলতার চাবিকাঠি কি?
উত্তর: ঈমান এবং এ অনুযায়ী আমল করার দৃঢ় প্রত্যয়ই মানব জাতির পারলৌকিক মুক্তি ও সফলতার একমাত্র চাবিকাঠি।

প্রশ্ন: ১০৬। শিরক সম্পর্কে কুরআন কি ঘোষণা দিয়েছে?
উত্তর: আল্লাহ একক, অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ তা'য়ালার জাত ও সিফাতে তাঁর কোন অংশীদার নেই বলেই কুরআন ঘোষণা দিয়েছে।

প্রশ্ন: ১০৭। অমার্জনীয় অপরাধ কোন্টি?
উত্তর: শিরক করা।

প্রশ্ন: ১০৮। মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা যাবে কি?
উত্তর: কক্ষনো না।

প্রশ্ন: ১০৯। মুশরিকের পরিচায়ক নিদর্শন কি?
উত্তর: কোন মুশরিকের বিশেষ পরিচায়ক নিদর্শন হলো তার সম্মুখে আল্লাহ্ তাওহীদ সম্পর্কিত আলোচনা হলে তার অন্তরে সংকীর্ণতা ও অস্বস্তির উদ্রেক হয়। তার সামনে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন অস্বিত্বের আলোচনা হলে সে পুলক অনুভব করে।

প্রশ্ন: ১১০। আরবের মুশরিককুল কি আল্লাহকে স্বীকার করতো?
উত্তর: হ্যাঁ, তারা আল্লাহকেই নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা এবং নিয়ামক মনে করতো।

প্রশ্ন: ১১১। মুশরিকরা দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করতো কেন?
উত্তর: তারা দেব-দেবীকে আল্লাহ্র দরবারে নিজেদের সুপারিশকারী মনে করতো। এদের পূজা-অর্চনার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'য়ালার নৈকট্য লাভের কামনা পোষণ করতো।

প্রশ্ন: ১১২। সব নবী রাসূল কি একই দাওয়াত দিয়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ। সমুদয় নবী-রাসূল একই দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের দাওয়াতের সারকথা হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ্রই দাসত্ব কর আর গায়রুল্লাহ্র দাসত্ব হতে বিরত থাক।

প্রশ্ন: ১১৩। আসমানী কিতাব কত ধরনের ও কি কি?
উত্তর: আসমানী কিতাব দু'ধরনের। যেমন- ১. কিতাব বা গ্রন্থ ৪ খানা, ২. ছহীফা বা পুস্তিকা হচ্ছে ১০০ খানা। দু'ধরনের আসমানী কিতাবই হচ্ছে আল্লাহ্ পক্ষ থেকে প্রেরিত সংবিধান। নবী-রাসূলগণ এ সংবিধানের মাধ্যমেই আল্লাহ্ নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছিলেন।

প্রশ্ন: ১১৪। ছহীফা কোন্ কোন্ নবীর ওপর কতটি করে অবতীর্ণ হয়েছে?
উত্তর:
১. হযরত আদম (আঃ)-এর উপর ১০ খানা।
২. হযরত শীষ (আঃ)-এর উপর ৫০ খানা।
৩. হযরত ইদরীস (আঃ)-এর উপর ৩০ খানা।
৪. হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর ১০ খানা।
সর্বমোট ১০০ খানা ছহীফা অবতীর্ণ হয়েছিলো।

প্রশ্ন: ১১৫। নবী-রাসূলদেরও কি কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রত্যেক নবী-রাসূলকেই কিয়ামতের দিন স্ব স্ব কার্যাবলীর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাঁদের থেকেও পুরোপুরি হিসাব গ্রহণ করা হবে।

প্রশ্ন: ১১৬। কুরআনে কোন নবীর প্রার্থনার কথা কি উল্লেখ আছে?
উত্তর: হ্যাঁ। কুরআনে নবী-রাসূলগণের প্রার্থনার কথা উল্লেখ আছে। ইউসূফ (আঃ)-এর প্রার্থনা নিম্নরূপ:
رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَ عَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الأَحَادِيثِ فَاطِرِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَّ الْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ.

প্রশ্ন: ১১৭। নূহ (আঃ) কত বছর যাবৎ জাতিকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন?
উত্তর: ৯৫০ বছর যাবৎ।

প্রশ্ন: ১১৮। কোন্ নবী স্বজাতিকে অভিশম্পাত করেছিলেন?
উত্তর: নূহ (আঃ)।

প্রশ্ন ১১৯। কুরআনে কি নবী-রাসূলদের মু'জিযার কথাও ঘোষিত হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ। আল্লাহ্ প্রত্যেক নবীকেই বিশেষ দলীল ও নিদর্শন দান করেছেন। যেমন- মূসা (আঃ)-কে লাঠি ও শ্বেত হাত, সালিহ (আঃ)-এর জন্য তর্জনী আর ঈসা (আঃ) আল্লাহ্র হুকুমে মৃতকে জীবিত করতে পারতেন। এগুলো ছিলো তাঁদের মু'জিয়ার নিদর্শন।

প্রশ্ন: ১২০। পরকালে পাপাচারদের নিরুদ্ধে কে সাক্ষ্য দেবে?
উত্তর: তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সাক্ষ্য প্রদান করবে।

প্রশ্ন: ১২১। পারলৌকিক জীবনে কি আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। পারলৌকিক জীবনে অতি অবশ্যই পুণ্যাত্মাগণ আল্লাহ্র দীদার লাভে উৎফুল্লিত হবে। অবশ্য, পাপাচারকে আল্লাহ্র দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে।

প্রশ্ন: ১২২। কুরআনে কোন সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান না থাকলে কি করতে হবে?
উত্তর: মহানবীর সুন্নাতের (হাদীসের) উপর আমল করতে হবে।

প্রশ্ন: ১২৩। রাসূলের সুন্নাতে সমস্যার সমাধান স্পষ্ট না হলে কি করতে হবে?
উত্তর: ওলামায়ে কিরামের ইজমা বা সম্মিলিত রায়ের অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্ন: ১২৪। কোন্ কোন্ বস্তু পানাহার হারাম?
উত্তর: শূকরের গোস্ত, মৃত জীব-জন্তু, রক্ত এবং এমন সব জীব-জন্তু প্রাণী যা গায়রুল্লাহর নামে জবেহ করা হয়েছে-এসব ভক্ষণ করা হারাম।

প্রশ্ন: ১২৫। ইবাদাত-বন্দেগীর ভিত্তি কোন্ বিষয়ের উপর?
উত্তর: নিয়ত বা ঐকান্তিক নিষ্ঠার উপর।

প্রশ্ন: ১২৬। ইবাদাতের দার্শনিক ভিত্তি কি?
উত্তর: আল্লাহ্র নিয়ামতরাজির নিমিত্ত বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ্ কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশই ইবাদত।

প্রশ্ন: ১২৭। মৃত লোকের জানাযা পড়তে হয় কি?
উত্তর: হ্যাঁ। মৃত্যুর পর প্রত্যেক মুসলমানেরই জানাযার নামায পড়তে হয়। এটা হচ্ছে ফরজে কিফায়া। অমুসলিমের জানাযার নামায পড়া অবৈধ।

প্রশ্ন: ১২৮। রোযা রাখা কি ফরজ?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের মাহে রমযানের রোযা রাখা ফরজ।

প্রশ্ন: ১২৯। রোযার উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: তাকওয়ার গুণ-বৈশিষ্ট্য অর্জন করার মাধ্যম হচ্ছে সিয়াম সাধনা।

প্রশ্ন ১৩০। যাকাত প্রদানের উপকারিতা কি?
উত্তর: অপরিসীম উপকারিতা রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধানগুলো হচ্ছেঃ ১. নিস্ব-দরিদ্র ও অভাবী মানুষের প্রয়োজন মিটে। ২. সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ৩. ধন-সম্পদ পবিত্র হয়। ৪. এর মাধ্যমে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করা যায়।

প্রশ্ন: ১৩১। হজ্জব্রত পালন করা কি ফরজ?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ্জব্রত পালন করা ফরজ।

প্রশ্ন: ১৩২। জিহাদ করা কি ফরজ?
উত্তর: হ্যাঁ। জিহাদ করা ফরজ। প্রত্যেক মুসলমানকেই আল্লাহর পথে জিহাদ করতে হবে বলে কুরআন ঘোষণা দিয়েছে।

প্রশ্ন: ১৩৩। কোন্ প্রার্থনা আল্লাহ্ মঞ্জুর করেন?
উত্তর: আল্লাহ্ তা'য়ালার আনুগত্যের প্রেরণায় উৎসারিত এবং নিষ্ঠার সাথে কৃত প্রার্থনাই আল্লাহ্ মঞ্জুর করেন।

প্রশ্ন: ১৩৪। আল্লাহ্ জিকর কিভাবে করতে হয়? জিকরের উপকারিতা কি?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূল (সঃ) হিদায়াত দান করেছেন, কেবলমাত্র সেই পদ্ধতিতেই জিকর ও স্মরণ করতে হবে। আল্লাহ্র প্রশংসাহ গুণ-কীর্তন, তাসবীহ, তাকবীর, শোকর, নামায এবং কুরআন তিলাওয়াত প্রভৃতি আল্লাহর জিকরের শামিল। সার্বক্ষণিক এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ জিকর করা উচিত। যে আল্লাহ্ জিকর করে না তার উপর শয়তান বিজয়ী হয়। তার জীবন হয়ে যায় সংকীর্ণ। আল্লাহ্ জিকরের মাধ্যমে হৃদয়ের প্রশান্তি অনুভূত হয়।

প্রশ্ন: ১৩৫। কুরআন মানুষের মুক্তি ও সফলতার জন্য কি শর্তারোপ করেছে?
উত্তর: একটিই শর্তারোপ করেছে। ঈমান আনয়ন এবং সে অনুপাতে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়।

📘 আল কুরআন জিজ্ঞাসা ও জবাব > 📄 কুরআন অবতরণ

📄 কুরআন অবতরণ


প্রশ্ন: ১। ইলহামী কিতাবগুলোর নাম কি?
উত্তর: ইলহামী কিতাবের নাম নিম্নরূপ: ১. তাওরাত, ২. যাবুর, ৩. ইনজীল ও ৪. কুরআন।

প্রশ্ন: ২। ইলহামী কিতাব কতটি এবং কোন্ কোন্ নবীর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।
উত্তর: ইলহামী কিতাব চারখানা। যেমন- ১. তাওরাত, হযরত মূসা (আঃ)-এর ওপর, ২. যাবূর, হযরত দাউদ (আঃ)-এর ওপর, ৩. ইনজীল, হযরত ঈসা (আঃ)-এর ওপর ও ৪. কুরআন, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়।

প্রশ্ন: ৩। কুরআনের শাব্দিক অর্থ কি?
উত্তর: পঠিত হয়েছে।

প্রশ্ন: ৪। কুরআন অবতরণ কিভাবে আরম্ভ হয়েছে?
উত্তর: ওহীর মাধ্যমে।

প্রশ্ন: ৫। ওহী কাকে বলে?
উত্তর: ওহীর আভিধানিক অর্থ ইঙ্গিত করা, পয়গাম পাঠানো বা জানানো, গোপনে কারো কাছে কিছু বলে দেয়া। ইসলামী শরী'য়তে যে কথা বা ইঙ্গিত আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নবী-রসূলদের দিকে করা হয়- তাকেই ওহী বলে। অর্থাৎ, 'ওহী' নির্দিষ্ট সেই স্বর্গীয় বার্তাকে বলে যদ্বারা চিন্তা-ভাবনা, অভিজ্ঞতা, দলীল ইত্যাদি ছাড়াই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অনুগ্রহের দ্বারা কোন নবীর ঐশ্বরিক কোন জ্ঞান অর্জিত হয়।

প্রশ্ন: ৬। ওহীর ধারাবাহিকতা কতদিন পর্যন্ত থাকবে?
উত্তর: ওহীর ধারাবাহিকতা নবী করীম (সাঃ)-এর অব্যবহিত পর থেকে চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে গেছে। কেননা, নবী করীম (সাঃ) হচ্ছেন সর্বশেষ নবী। তাঁরপর আর কোন নবী আসবেন না। আর ওহী তো শুধুমাত্র নবীদের কাছ পর্যন্ত পয়গাম পৌঁছানোর মাধ্যম মাত্র।

প্রশ্ন: ৭। ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি কি কি?
উত্তর: ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি নিম্নরূপঃ
১. আল্লাহ্ পক্ষ থেকে অন্তরে কোন কথা কোন মাধ্যম ছাড়াই ঢেলে দেয়া।
২. আল্লাহ তা'আলা অন্তরালে থেকে কথা বলেন। যেভাবে 'ওয়াদীয়ে মুকাদ্দাসে' হযরত মূসা (আঃ)-এর সাথে কথা বলেছেন। আর মি'রাজে নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে কথা বলেছেন। (কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, সামনাসামনি বসেও কথা হয়েছে।)
৩. ফিরিশতাদের মাধ্যমে কথা বলা। অর্থাৎ (দূতের মাধ্যমে) যা বাহ্যিক চোখে দেখা যায়। মুখোমুখি কথা হয় এবং ফিরিশতার কথাও শোনা যায়। এটা দু'ভাবে হতে পারে। যেমন- ক. ফিরিশতা মানবাকৃতিতে এসে আল্লাহ্ কালাম শোনাবেন। খ. ফিরিশতা স্ব-আকৃতিতে এসে আল্লাহর কালাম শোনাবেন।

প্রশ্ন: ৮। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মৌলিক তথ্য কি কি?
উত্তর: ১. হযরত জিব্রাঈল (আঃ) ওহী (কুরআন) আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নবী করীম (সাঃ)-এর অন্তরে অবতীর্ণ করতেন।
২. ওহী আল্লাহ্ পক্ষ থেকে এবং তাঁর হুকুমেই আসতো।
৩. হযরত জিব্রাইল (আঃ) কুরআনকে যথাযথভাবে নবী করীম (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। এ জন্যে তাঁকে অভিহিত করা হয়েছে 'জিব্রাঈল আমীন' নামে।
৪. কুরআন ক্রম-পরম্পরায় অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা এ জন্যে যে, নবী করীম (সাঃ) স্বয়ং সহজেই সংরক্ষণ (মুখস্থ) রাখতে সক্ষম হন। ঈমানদাররা কুরআন থেকে আত্মার খাদ্য গ্রহণ করে সে অনুযায়ী আমল করতে সক্ষম হয়।
৫. কুরআনকে একত্রিত এবং সংরক্ষণ করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর জিম্মায় নিয়েছেন। নবী করীম (সাঃ) আল্লাহ্ তা'আলার দিক-নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে একত্রিত করিয়েছেন। সবশেষে সন্দেহ-সংশয় দূর করেছেন।
৬. কুরআন অবতীর্ণ করেছেন আল্লাহ্। আল্লাহই এর সংরক্ষক।

প্রশ্ন: ৯। কুরআন সর্বপ্রথম কোথায় অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: হেরা গুহায়।

প্রশ্ন: ১০। হেরা গুহা কোথায় অবস্থিত এবং এটি কত বড়?
উত্তর: মক্কার পূর্বে তিন মাইল দূরে মিনার একপাশে 'জাবালে নূরে' অবস্থিত। লম্বা বার ফুট এবং চওড়া ছয় ফুট। উঁচু আনুমানিক ছয় ফুট।

প্রশ্ন: ১১। নবী করীম (সাঃ) কেন হেরা গুহায় যেতেন?
উত্তর: নবী করীম (সাঃ) দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে থাকার অভিপ্রায়ে সেখানে গিয়ে ইবাদত-বন্দেগী করতেন।

প্রশ্ন: ১২। হেরা গুহায় জিব্রাঈল (আঃ) প্রথম ওহী নিয়ে আসার সময় নবী করীম (সাঃ)-এর বয়স কত ছিলো?
উত্তর: ৪০ বছর।

প্রশ্ন: ১৩। জিব্রাঈল আমীনের সাথে নবী করীম (সাঃ)-এর সাক্ষাৎ কখন, কোথায় হয়?
উত্তর: ৯ই রবিউল আউয়াল। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার হেরা গুহায় সাক্ষাত হয়। তাঁর বয়স তখন ৪০ বছর ১১ দিন। (বার ফেব্রুয়ারী ছয়শ' দশ খ্রীস্টাব্দ)।

প্রশ্ন: ১৪। হেরা গুহায় নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে প্রথম সাক্ষাতে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) কি বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি হেরা গুহায় প্রবেশ করে নবী করীম (সাঃ)-কে বলেছেন, "সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি আল্লাহ্র রাসূল এবং আমি হচ্ছি জিব্রাঈল।"

প্রশ্ন: ১৫। নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে জিব্রাঈল আমীনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ কবে, কোথায় হয়?
উত্তর: আঠারই রমজান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হেরা গুহায়। (সতেরো আগস্ট ছয়শ' দশ খ্রীঃ)।

প্রশ্ন: ১৬। জিব্রাঈল আমীন হুজুর (সাঃ)-এর সাথে হেরা গুহায় দ্বিতীয় সাক্ষাতে আল্লাহ্ তা'আলার কোন্ বাণী পৌঁছিয়েছেন?
উত্তর: কুরআনের তেইশতম পারার সূরা আল আলাকের নিম্নোক্ত প্রথম আয়াতগুলো পড়িয়েছেন। অর্থাৎ, নিম্নের আয়াতগুলো সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে: 'পড়ুন, আপনার প্রভুর নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিন্ড থেকে। পড়ুন আর আপনার রব অত্যন্ত দয়ালু যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে সে-সব কিছুই শিখিয়েছেন, যা তারা জানতো না।" সর্বশেষ এ পাঁচ আয়াত।

প্রশ্ন: ১৭। প্রথম ওহীর পর থেকে কত সময় পর্যন্ত কুরআন অবতরণ বন্ধ ছিলো?
উত্তর: প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত। এ সময়কালকে বলা হয় ( فترة ) ফাতরাত বা বিরতির সময়।

প্রশ্ন: ১৮। প্রথম ওহীর পর অবতীর্ণ আয়াত কোনগুলো?
উত্তর: সূরা মুদ্দাস্সিরের নিম্নোক্ত প্রথম পাঁচ আয়াত: “হে মুদদাস্সির, উঠুন এবং (কাফিরদেরকে) ভয় দেখান। আর আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করুন। আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখুন এবং মূর্তি থেকে দূরে থাকুন। (যেভাবে এ পর্যন্ত পৃথক থেকেছেন)।

প্রশ্ন: ১৯। কুরআনের সর্বাগ্রে অবতীর্ণ পরিপূর্ণ সূরা কোন্টি?
উত্তর: সূরা ফাতিহা (আলহামদু লিল্লাহ শরীফ)।

প্রশ্ন: ২০। দ্বিতীয় ওহীর পর কুরআনের কোন্ সূরায় নবী করীম (সাঃ)-কে প্রবোধ দেয়া হয়েছে যে, আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি। না আপনার ওপর অখুশি (যেভাবে কাফেররা বলে বেড়াচ্ছে)।
উত্তর: ত্রিশতম পারার সূরা ওয়াদদোহা।

প্রশ্ন: ২১। মক্কায় নবী করীম (সাঃ)-এর ওপর কতদিন যাবৎ কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: তের বছর যাবৎ।

প্রশ্ন: ২২। মক্কায় নবী করীম (সাঃ)-এর ওপর কোন্ সময় থেকে কোন্ সময় পর্যন্ত কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: আঠারই রমজান মঙ্গলবার হিজরতের তের সন পূর্ব থেকে এগার রবিউল আউয়াল সোমবার হিজরী দশ সন পর্যন্ত।

প্রশ্ন: ২৩। মদীনায় হুজুর (সাঃ)-এর ওপর কত বছর পর্যন্ত কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: দশ বছর পর্যন্ত।

প্রশ্ন: ২৪। হুজুর (সাঃ)-এর ওপর মদীনায় কোন্ সময় থেকে কোন্ সময় পর্যন্ত কুরআন অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: হিজরী প্রথম সন থেকে আরম্ভ করে হিজরী দশম সন পর্যন্ত।

প্রশ্ন: ২৫। কুরআনে সূরা শব্দের দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: দেয়াল, নগর প্রাচীর, উঁচু ও বড়। প্রাচীরের কারণে যেভাবে একটি শহরের যমীন অন্য ভাগের চাইতে উত্তম ও বিভক্ত হয়ে যায়। এমনিভাবে একটি সূরা ও কুরআনের এক ভাগকে অন্য ভাগের বা অংশের থেকে উত্তম ও বিভক্ত করে দেয়। যেভাবে নগর প্রাচীর দ্বারা নগর সংরক্ষিত হয়, তেমনি আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে এর শব্দাবলী এবং বিষয়গুলোকে সংরক্ষণ করেছেন।

প্রশ্ন: ২৬। কুরআনের বর্তমান বিন্যাস কিভাবে হয়?
উত্তর: আল্লাহ্র ইচ্ছানুযায়ী স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) বর্তমান বিন্যাস করেন।

প্রশ্ন: ২৭। কুরআনের কোন্ সূরাগুলোকে দীর্ঘ বলা হয়? অর্থাৎ, কুরআনের কোন্ কোন্ সূরা সবচেয়ে দীর্ঘ?
উত্তর: বাকারা, আলু ইমরান, আনিসা, আল-মাঈদা, আল-আন'আম, আল-আ'রাফ।

প্রশ্ন: ২৮। কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা কোনগুলো?
উত্তর: আল-আসর, আল-কাওসার, আন-নসর (এতদত্রয়ের মধ্যে তিনটি আয়াত করে রয়েছে)।

প্রশ্ন: ২৯। কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: মক্কা শরীফে।

প্রশ্ন: ৩০। কুরআনের সর্বশেষ সূরা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছিলো?
উত্তর: মদীনা শরীফে।

প্রশ্ন: ৩১। কুরআনে 'আয়াত' শব্দের তাৎপর্য কি?
উত্তর: 'আয়াত' শব্দের অর্থ চিহ্ন। কুরআনের আয়াত আমাদেরকে মানযিলে মাকসুদে অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক পর্যন্ত পথ প্রদর্শন করে। এর পদাংক অনুসরণ করেই আমরা উদ্দিষ্ট পথের দিকে অগ্রসর হই। বিশ্ব ভুবনের চিহ্নাবলীকেও আয়াত বলা হয়। আয়াতের দ্বারা সূরাগুলোতে আয়াতের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্যে যে, এতে করে বুঝতে এবং গবেষণা করতে সহজ হয়। স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা সূরাসমূহে আয়াতের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন: ৩২। কুরআনকে কে পারা ও রুকূতে বিভক্ত করেছেন, এর কারণ কি?
উত্তর: স্বয়ং আল্লাহই সূরা এবং আয়াত বিভক্ত করেছেন। কুরআনকে ত্রিশ পারায় বিভক্ত করেছেন এতদসংশ্লিষ্ট বিদ্বজ্জনরা। প্রত্যেকটি ভাগকে বলা হয় পারা বা অংশ। এমনিভাবে পারাগুলোর মধ্যে রুকূর বিন্যাস করেছেন, যাতে করে প্রত্যহ তিলাওয়াতের সীমা নির্ধারণ করে প্রত্যেক মুসলমান নিয়মানুবর্তিতার সাথে আমল করতে পারে। পারা এবং রুকু যেহেতু বিদ্বজ্জনরা করেছেন, এ জন্যে শব্দ দুটোকে প্রান্তটীকায় লেখা হয়, যেন আল্লাহ্র কালামের সাথে সম্পৃক্ত না হয়।

প্রশ্ন: ৩৩। কুরআন অবতীর্ণের সময় এর প্রথম সম্বোধিত কে ছিলো?
উত্তর: কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ্ বাণী। অতএব কুরআন অবতীর্ণের সময় প্রথম সম্বোধিতরা ছিলো নিম্নরূপ:
১. মক্কার মুশরিককুল, ২. আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রীস্টান), ৩. সাবী, ৪. সত্যসন্ধানীরা (এরা তাওহীদের সন্ধানে ছিলো এবং মূর্তিকে ঘৃণা করতো), ৫. মুনাফিকরা।

প্রশ্ন: ৩৪। কুরআনের কোন্ সূরা নামাযের প্রতি রাকাতে পড়া না হলে নামায হয় না?
উত্তর: সূরা ফাতিহা (আলহামদু লিল্লাহ শরীফ)।

প্রশ্ন: ৩৫। কুরআনের কোন্ সূরাকে আল্লাহ্ দোয়া হিসেবে শিখিয়েছেন?
উত্তর: সূরা ফাতিহা।

প্রশ্ন: ৩৬। সূরা ফাতিহাকে কুরআনের শুরুতে রাখার যুক্তি কি?
উত্তর: এটা হলো কুরআনের দরোজা। এটা হচ্ছে দোয়া যা বান্দা তার প্রতিপালকের সমীপে প্রার্থনা করে আর পুরো কুরআন এ দোয়ার উত্তর।

প্রশ্ন: ৩৭। কুরআনের কোন্ সূরা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) বুঝেছিলেন, এটাই নবী করীম (সাঃ)-এর বিদায়ের ইঙ্গিত?
উত্তর: ত্রিশতম পারার সূরা নছর (اذا جاء نصر الله)।

প্রশ্ন: ৩৮। কুরআন কোন্ রাতে অবতীর্ণ হতে শুরু করে?
উত্তর: কদরের রাতে (انا انزلناه في ليلة القدر)।

প্রশ্ন: ৩৯। কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব কে নিয়েছেন?
উত্তর: স্বয়ং আল্লাহ্। ঘোষিত হয়েছে - انا نحن نزلنا الذكر وانا له لحافظون।

প্রশ্ন: ৪০। সর্বপ্রথম কুরআন প্রশিক্ষণশালা কোন্টি?
উত্তর: মসজিদে নববী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00