📘 আল কুরআনে নারী 📄 কোন্ কোন্ স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের শত্রু

📄 কোন্ কোন্ স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের শত্রু


يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوا لَّكُمْ فَاح્ذَرُوهُمْ ۚ وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ ۚ وَاللَّهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ

“হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের স্ত্রীগণ ও সন্তান-সন্ততিগণের কেউ কেউ তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাদের সম্পর্কে তোমরা সতর্ক থাকবে। আর তোমরা যদি ওদের মার্জনা করো, ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করো এবং ওদের ক্ষমা করে দাও; তাহলে জেনে রেখ আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল অতিশয় দয়ালু। তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের সন্তান-সন্ততি তো একটা পরীক্ষা বিশেষ; আর আল্লাহ, তাঁরই কাছে রয়েছে মহাপুরুস্কার।”-সূরা তাগাবুন : ১৪-১৫

এ আয়াতগুলোর শানেনুযুল সম্পর্কে জানা যায়, মক্কা থেকে অনেক মুসলমান হিজরত করতে চাইলেও তাদের স্ত্রী ও সন্তানগণ এ পথে বাধার সৃষ্টি করে বসেছিল। পরে যখন তারা মদীনায় রসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট পৌঁছলেন এবং দেখলেন যে অন্যরা ইলম ও আমলে অনেক অগ্রগামী হয়ে গেছে, তখন তারা রাগান্বিত হয়ে বাধাদানকারী স্ত্রী ও সন্তানদের শাস্তি দিতে চাইলেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, যেখানে আল্লাহ তাআলা মার্জনা ও ক্ষমা করে দেয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

আয়াতে 'ফাহযারুহুম' (তাদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো) বলে বুঝানো হয়েছে যে, তাদের বৈষয়িক সুখ-সুবিধা বিধান করতে গিয়ে তোমরা স্বীয় পরিণতি বা পরকাল বরবাদ করো না। তাদের প্রতি স্নেহ-ভালবাসা এতবেশী পোষণ করো না যাতে করে আল্লাহ ও রসূলের সাথে সম্পর্ক রক্ষার পথে তারা প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়াতে পারে। রসূলে করীম (স) বলেছেন: “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে হাজির করা হবে, আর বলা হবে এর সন্তানরা এর সব নেক আমল খেয়ে ফেলেছে।”

মাফ ও ক্ষমা করে দেয়ার নির্দেশের অর্থ এই যে, তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানাদি সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করা হচ্ছে কেবল তোমাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে। এর মানে এই নয় যে তোমরা তাদের মারপিট করবে কিংবা রূঢ় আচরণ করবে। কারণ তাতে পারিবারিক জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠবে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে সাধারণ বিরোধিতা সৃষ্টি হতে পারে।

ইসলামের শুরুতে অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতা কাফের থেকে যেতো এবং সন্তানদের ওপর ইসলাম ত্যাগের চাপ দিত। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুমিন স্ত্রী এমন স্বামীর পাল্লায় পড়তো যে তার শরীয়ত পালন সহ্য করতো না। কুফর ও ঈমানের দ্বন্দ্বে মুমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহ ও দীনের খাতিরে সবর করা।

“তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো পরীক্ষা বিশেষ।” এখানে ফিতনা শব্দের অর্থ পরীক্ষা। এর উদ্দেশ্য হলো ধন-সম্পদ ও সন্তানাদির মোহে পড়ে মানুষ যেন আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা না করে। রসূলে করীম (স) ইরশাদ করেছেন, তোমার বড় শত্রু হচ্ছে তোমার সেই ধন-সম্পদ যেগুলোর তুমি মালিক হয়ে আছো এবং হতে পারে তোমার সেই সন্তানও। মুমিনদের উচিত ধন-সম্পদ ও সন্তানের ভালবাসার ওপর আল্লাহর ভালবাসাকে বিজয়ী রাখা।

টিকাঃ
-(তিরমিযী), (আল কুরআনুল করীম: মাওলানা সালাহুদ্দীন ইউসুফ), (তাফহীমুল কুরআন), (রুহুল মাআনী-মাআরেফুল কুরআন)

📘 আল কুরআনে নারী 📄 যেদিন মানুষ তার একান্ত আপনজন এমনকি স্ত্রী থেকেও পলায়ন করবে

📄 যেদিন মানুষ তার একান্ত আপনজন এমনকি স্ত্রী থেকেও পলায়ন করবে


فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَةُ يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ وَأُمِّهِ وَآبِيْهِ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيْهِ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ

"যখন কিয়ামত উপস্থিত হবে, সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তাঁর ভাই থেকে, তার মাতা আর তার পিতা থেকে এবং তার স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।"-সূরা আবাসা : ৩৩-৩৭

আলোচ্য আয়াতসমূহে হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার তীব্রতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। 'সাখখাহ' মানে কান বধিরকারী আওয়ায অর্থাৎ ইসরাফিলের শিংগার কঠোর আওয়ায যাতে কিয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন প্রত্যেক মানুষ আপন চিন্তায় বিভোর হবে। দুনিয়ার জীবনে যেসব আত্মীয়তার জন্য মানুষ জীবন দিতে কুণ্ঠিত হয় না, হাশরের ময়দানে তারাই নিজ নিজ চিন্তায় এমন নিমগ্ন হবে যে, কেউ কারো খবর নিতে পারবে না। প্রত্যেকেই তার ভাই, মা-বাপ, এমনকি অর্ধাংগিনী স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকেও পলায়ন করবে।

দুনিয়ার জীবনে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ভাইদের মধ্যে হয়ে থাকে, তার চেয়ে বেশী পিতা-মাতাকে এবং সবচেয়ে বেশী স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে সম্পর্ক থাকে। আয়াতগুলোতে নীচ থেকে উপরের সম্পর্ক যথাক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, প্রত্যেক মানুষ হাশরের ময়দানে নগ্নদেহ, খালী পা ও খাতনাবিহীন হয়ে উঠবে। হযরত আয়েশা (রা) জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে অন্যের লজ্জাস্থানের প্রতি দৃষ্টি পড়বে না? রসূলুল্লাহ (স) জবাবে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে শুনালেন।

মানুষের পলায়ন করার একটি কারণ হলো সে যেন স্বজনদের কষ্ট-মুসিবত দেখতে না পায়। আরেকটি অর্থ হতে পারে যে, মানুষ তার নিকটতম স্বজনদের কঠিন বিপদে দেখেও সাহায্য করতে পারবে না বিধায় দূরে সরে যাবে। অথবা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর ভয় ভুলে গিয়ে একে অপরকে যে গোমরাহ করেছিল, তার খারাপ পরিণতি দেখে প্রত্যেকে অপরের থেকে পালাবে যাতে কেউ কাউকে দায়ী করতে না পারে। ভাই ভাইকে, সন্তান পিতাকে, স্বামী স্ত্রীকে ভয় করবে যে সে হয়তো তার বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য দিয়ে বসবে।

হাশরের ময়দানে সকল মানুষ সম্পূর্ণ নগ্ন ও উলংগ অবস্থায় উত্থিত হবে—এমন কথা শুনে রসূলুল্লাহ (স)-এর বেগমদের কেউ ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের গোপন অংগসমূহ সেদিন কি সকলের সম্মুখে উন্মুক্ত হবে? জবাবে নবী করীম (স) এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে বলে দিয়েছিলেন, "সেদিন কারো প্রতি তাকাবার মত হুশজ্ঞান কারো থাকবে না।"

টিকাঃ
-(তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন), (তিরমিযী), (ফতহুল কাদীর থেকে মাওলানা সালাহুদ্দীন ইউসুফ), (তাফহীমুল কুরআন)

📘 আল কুরআনে নারী 📄 সাধারণত নারীরা যাদুতোনা করে থাকে বা তাদের মাধ্যমে যাদু করা হয়

📄 সাধারণত নারীরা যাদুতোনা করে থাকে বা তাদের মাধ্যমে যাদু করা হয়


قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَهُ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَهُ وَمِنْ شَرِّ النَّفْتُتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَةً

"বলো, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের স্রষ্টার কাছে, সেসবের অনিষ্ট হতে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন, রাতের অনিষ্ট হতে যখন তা গভীর হয় এবং অনিষ্ট হতে সেসব নারীর যারা গিরায় ফুঁক দিয়ে যাদু করে, আর হিংসুকের অনিষ্ট হতে যখন সে হিংসা করে।"-সূরা ফালাক

আল কুরআনের সর্বশেষ সূরা দুটির নাম 'আল মুআওয়াযাতাইন'। ইহুদীদের মিত্র মুনাফিক লবীদ ইবনে আ'সাম আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (স)-কে যাদু করেছিল। সে একটি সূতোয় এগারটি গিরা দিয়ে যাদু করিয়েছিল। পাপীষ্ঠ লবীদ তার কন্যাদের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (স)-এর ওপর এ যাদুটি প্রয়োগ করে। নবী করীম (স) এতে ছয় মাস অসুস্থ ছিলেন। আল্লাহ তাআলা এ দুটো সূরা নাযিল করলে আল্লাহর নবী এর আয়াতগুলো পড়ে এক একটি গিরা খুলতে থাকেন এবং আরোগ্য লাভ করেন।

যাদুর ক্রিয়াও আগুন-পানির ক্রিয়ার মত স্বাভাবিক। নবী-রসূলগণও এসবের ক্রিয়ার বাইরে নন। সূরা ফালাকের চতুর্থ আয়াতে বলা হয়েছে 'ওয়া মিন শাররিন নাফফাসাতি ফিল উকাদ' অর্থাৎ আশ্রয় চাই গিরায় ফুঁকদানকারিণীর অনিষ্ট থেকে। যারা যাদু করে তারা ডোর ইত্যাদিতে যাদুর মন্ত্র পড়ে ফুঁক দিয়ে গিরা দেয়। যাদুর কাজ সাধারণত নারীরাই করে এবং জন্মগতভাবে এর সাথে তাদের সম্পর্কই বেশী। লবীদ বিন আ'সামের পাপিষ্ঠ কন্যারা পিতার আদেশে রসূলুল্লাহ (স)-এর ওপর যাদু করেছিল।

যাদু সম্পর্কে মনে রাখা আবশ্যক যে, এতে শয়তান বা খবীস রূহের সাহায্য চাওয়া হয়, এজন্য কুরআন মজীদে যাদুকে কুফরী বলা হয়েছে। এমনকি যাদুতে যদি কোনো কুফরী কথা বা শেরকী কাজ নাও থাকে তবুও তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। নবী করীম (স) যাদুকে পরকাল বিনষ্টকারী সাতটি কবীরা গুনাহর মধ্যে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে থাক। তার মধ্যে যাদু করা অন্যতম।

টিকাঃ
-(তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন), (তাফহীমুল কুরআন)

ফন্ট সাইজ
15px
17px