📄 মহান আল্লাহ নর ছাড়া শুধু নারী থেকে সন্তান দিয়েছেন (মারইয়াম আ.)
قَالَتْ رَبِّ أَنِّى يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ، قَالَ كَذلِكَ اللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاء ، إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (ال عمران : ৪৭)
"মারইয়াম (আ) বললেন, হে রব! আমার পুত্র হবে কোত্থেকে? আমাকে তো কোনো লোক স্পর্শ করতেও পারেনি! বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি কোনো কিছু সৃষ্টির ইচ্ছা করলে বলেন, "হয়ে যাও। অমনি তা হয়ে যায়।"-(সূরা আলে ইমরান: ৪৭)
ফেরেশতারা হযরত মারইয়ামকে বললেন, "হে মারইয়াম আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে একটা বাণীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হবে 'ঈসা ইবনে মারইয়াম।' তিনি ইহ-পরকালের সম্মানিত ও আল্লাহর ঘনিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। যিনি দোলনায় ও কোলে থেকে মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর যিনি পুণ্যবানদের একজন। তখন হযরত মারইয়াম আশ্চর্য হয়ে বললেন, "আমার গর্ভে কি করে সন্তান জন্মিবে! আমি তো বিবাহিতা নই। আমি ব্যভিচারিণীও নই।" কারণ স্বাভাবিক নিয়মে তো নর-নারীর যৌন মিলনের ফলে সন্তানের জন্ম হয়ে থাকে। তিনি বলেন, "আমাকে তো কখনো কোনো নর স্পর্শ পর্যন্ত করেনি। নাকি আমাকে বিবাহের নির্দেশ দেয়া হবে!" আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব আসলো। "অবস্থা এমনিই থাকবে।" ঠিক অমনিভাবে বলা হয়েছিল হযরত যাকারিয়া (আ)-কে। তাঁকেও বলা হয়েছিল তোমার বার্ধক্য ও তোমার স্ত্রীর বন্ধাত্ব অবস্থা বহাল থাকা অবস্থায়ই তোমাদের সন্তান দান করা হবে।
অতপর আল্লাহর সৃষ্টির পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি কোনো কিছু সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেই তা সৃষ্টি হয়ে যায়। তিনি বলেন, كُن (হয়ে যাও) অমনি তা হয়ে যায়। আল্লাহর দেয়া স্বাভাবিক নিয়ম-নীতির মধ্যে তো তা হয়ে থাকে। আর স্বাভাবিক নিয়মের বাইরেও তাঁর অসীম কুদরাতের দ্বারা কোনো কিছুর সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানগণ আল্লাহর কুদরতে বিশ্বাসী হতে পারেনি। খৃষ্টানগণ হযরত ঈসা (আ)-কে খোদার পুত্র ও খোদা বলে বিশ্বাস করে থাকে। এ আয়াতে তাদের এ ভুল ধারণার নিরসন করা হয়েছে। মাত্র ছয় মাস পূর্বে হযরত ইয়াহইয়া (আ)-এর জন্ম যেমন একটা মুযিজা ছিল; ঠিক তেমনি হযরত ঈসা (আ)-এর জন্মও অপর একটি মুযিজা। ইয়াহ্ইয়া যদি অস্বাভাবিক ও আশ্চর্যজনকভাবে জন্মগ্রহণ করে খোদা না হয়ে থাকেন, তাহলে ঈসা কেন অস্বাভাবিক নিয়মে জন্মগ্রহণ করায় খোদা বা খোদার পুত্র হতে পারেন? এ ভাষণে খৃষ্টানদের সেই ভুল বুঝিয়ে দেয়াই উদ্দেশ্য।
আল্লাহর জাত ও সিফাতে যে কাউকে সমকক্ষ মনে করা শিরক তেমনি মানুষের কোনো সিফাত-বৈশিষ্ট্যকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করাও শিরক। ইয়াহুদীরা বলতো ওযায়ের আল্লাহর বেটা আর খৃষ্টানরা বলতো ঈসা আল্লাহর বেটা। এভাবে আল্লাহর কিতাবের আহল হয়েও এ দু'টো সম্প্রদায়-ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা আল্লাহর সাথে মানুষের একটা বৈশিষ্ট্য জন্মদান ও যৌন কর্মকে সম্পৃক্ত করে আল্লাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
আল্লাহর সৃষ্টি পদ্ধতির একটা দিক উক্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। কোনো কিছু সৃষ্টিতে আল্লাহ কোনো কারণ উপকরণের মুখাপেক্ষী নন। বরং তিনি কিছু সৃষ্টির ইচ্ছা করলে বলেন, 'হও' তখনই তা হয়ে যায়। মুফাস্স্সির ও মুহাক্কিক আলিমগণের মতে আল্লাহকে কোনো কিছু সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে 'কুন্' শব্দটিও বলতে হয় না। তাঁদের মতে 'কুন্' বলতে যতটুকু সময় লাগে আল্লাহর ইচ্ছা বলে কোনো কিছু ততটুকু সময়ের মধ্যেই সৃষ্টি হয়ে যায়। অর্থাৎ কোনো কিছু সৃষ্টি করার জন্য আল্লাহ তা'আলা 'কুন্' বলার প্রতিও মুহতাজ নন। বরং সে জন্যে তাঁর ইচ্ছা করাই যথেষ্ট। আল্লাহর অসীম কুদরতে তিনি আদম (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন পুরুষ-স্ত্রী ছাড়া, হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন পুরুষ (আদম) থেকে, আর ঈসা (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন নারী (মারইয়াম) থেকে। এটা আল্লাহর কুদরত। কিন্তু আল্লাহর কুদরত প্রকাশ পায় বিশেষ কোনো কারণে, বিশেষ কোনো সময়ে। তাছাড়া সবকিছুই সাধারণত আল্লাহর আদত অনুসারেই প্রকাশ পায়। দুনিয়ার সাধারণ নিয়মই হলো আল্লাহর আদত। নাস্তিকরা যাকে বলে প্রকৃতি। বস্তুত প্রকৃতি বলতে কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই। আল্লাহই ভাল জানেন।
📄 নিরপরাধ মারইয়ামকে দোষী সাব্যস্ত করার পরিণতি
وَبِكُفْرِهِمْ وَقَوْلِهِمْ عَلَى مَرْيَمَ بُهْتَانًا عَظِيمًا (النساء : ১৫৬)
"(আর তারা অর্থাৎ ইয়াহুদীরা অভিশপ্ত হয়েছিল) কুফরী করার কারণে এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে জঘন্য অপবাদ দেয়ার কারণে।" -(সূরা আন নিসা: ১৫৬)
আল কুরআনের আলোচ্য আয়াত এর পূর্ববর্তী ও তৎপরবর্তী কয়েকটি আয়াতে ইয়াহুদী জাতির কতগুলো জঘন্যতম গুনাহর বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। এসব গুনাহ তাদের উপর আল্লাহর গযব ডেকে এনেছিল আর তাদের আল্লাহর হেদায়াত ও সত্য পথ থেকে বিভ্রান্ত করেছিল ও বহুদূরে নিক্ষেপ করেছিল। উপরিউক্ত আয়াতাংশে ইয়াহুদীদের উপর আল্লাহর গযব আসার দু'টো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। একটি তাদের নবী কর্তৃক আনীত আল্লাহর সত্যদীনকে অস্বীকার করা, দ্বিতীয়টি হচ্ছে মারইয়ামের উপর জঘন্য তোহমত আরোপ করা।
হযরত মারইয়াম ছিলেন বনী ইসরাঈলের অতীব শরীফ, খ্যাতিমান ও প্রসিদ্ধ ধর্মীয় পরিবারের এক অবিবাহিতা কন্যা। আল্লাহর কুদরত প্রকাশে পুরুষের মিলন ছাড়াও যে আল্লাহ সন্তান দিতে পারেন, তারই একমাত্র নযীর হিসেবে হযরত ঈসা (আ) পিতা ছাড়া বিবি মারইয়ামের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের ব্যাপারটি ইয়াহুদী জাতির নিকট প্রকৃতপক্ষে মোটেই সন্দেহের বিষয় ছিল না। যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন সেদিনই আল্লাহ তা'আলা সমস্ত ইয়াহুদী জাতিকে সাক্ষী রেখে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এতো এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিশু, এর জন্মই একটি মুযিজা, এর সাথে নৈতিক অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই। অবিবাহিতা কন্যা মারইয়াম যখন কোলে বাচ্চা নিয়ে আসল, তখন জাতির ছোট-বড় শত-সহস্র লোক এসে সে ঘরে ভিড় জমায়। তারা বাচ্চা সম্পকে মারইয়ামকে জিজ্ঞেস করলে সে এ সম্বন্ধে কোনো কথাই বলেনি। সে চুপচাপ থেকে হাতের ইশারায় বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করতে বললো। উপস্থিত জনতা সবিস্ময়ে বললো দোলনায় শায়িত এ শিশুকে আমরা কি জিজ্ঞেস করতে পারি? আল্লাহর কুদরতে সে শিশুই কথা বলে তাদের জবাব দিল। সদ্যজাত শিশুটি স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ ভাষায় বলে দিল:
إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ أَتْنِي الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا -
“আমি আল্লাহর বান্দাহ, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আর আমাকে নবী বানিয়েছেন।”-(সূরা মারইয়াম : ৩০)
এভাবে হযরত ঈসা (আ)-এর জন্ম সম্পর্কিত সকল প্রকার সন্দেহ-শোবাহর মূলোৎপাটন করে দিলেন স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা। তাই হযরত ঈসা (আ)-এর যৌবন কাল পর্যন্ত কেউ না মারইয়ামের প্রতি ব্যভিচারের দোষ চাপিয়েছে, না ঈসা (আ)-কে অবৈধ সন্তান বলে কোনো খোঁচা দিয়েছে। কিন্তু যখন হযরত ঈসা ত্রিশ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর নবুয়াতের দায়িত্ব পালন শুরু করলেন, ইয়াহুদীদের যাবতীয় বদ কাজের জন্য তিরস্কার করতে লাগলেন, তাদের নৈতিক পতনের বিষয়ে সাবধান করতে লাগলেন; আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে, দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে, আর প্রত্যেক ক্ষেত্রে শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়ার আহ্বান জানালেন, তখন ইয়াহুদীরা এ নির্ভিক ও সততার আওয়ায স্তব্ধ করে দেয়ার সকল অসদুপায় অবলম্বন করতে লাগলো। বিগত ত্রিশ বছর পর্যন্ত তারা যা বলেনি এখন তাই বলতে শুরু করলো। তারা বলতে লাগলো (নাউযুবিল্লাহ) “মারইয়াম ব্যভিচারিণী ছিলেন, ঈসা অবৈধ সন্তান।”- অথচ তারা নিসন্দেহে জানতো এ মা ও সন্তান উভয়ই ওসব মলিনতা ও কদর্য থেকে পূত-পবিত্র। তাই তাদের এ দোষারোপ আসলে কোনো সন্দেহের কারণে ছিল না, বরং তা ছিল একেবারেই মিথ্যা। তারা তো জেনে বুঝে সত্যের বিরোধিতার জন্যই এরূপ বলছিল, এজন্যে আল্লাহ তা'আলা তাদের এ আচরণকে যুল্ম ও মিথ্যা না বলে তাকে 'কুফর' বলে অভিহিত করেছিলেন। কারণ, এতে করে তাদের উদ্দেশ্য ছিল দীনের পথে বাধা সৃষ্টি করা মাত্র।
📄 নারী অধিকার খর্ব করার জাহেলী যুগের একটি নমুনা
وَقَالُوا مَا فِي بُطُونِ هَذِهِ الْأَنْعَامِ خَالِصَةُ لِذُكُورِنَا وَمُحَرَّمُ عَلَى أَزْوَاجِنَا ، وَإِنْ يَكُنْ مَيْتَةً فَهُمْ فِيهِ شُرَكَاءُ ، سَيَجْزِيهِمْ وَصَفَهُمْ إِنَّهُ حَكِيمٌ عَلِيمٌ (الانعام : ১৩৯)
"তারা বলে এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা কেবল আমাদের পুরুষদের জন্য; আর তা আমাদের মহিলাদের জন্য হারাম আর যদি তা মৃত হয় তা হলে তারা সবাই তাতে অংশীদার। তাদের এসব উক্তির কারণে তিনি (আল্লাহ্) তাদের অবশ্যই শাস্তি দেবেন। তিনি প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ।"-(সূরা আল-আন'আম : ১৩৯)
আলোচ্য আয়াতে মুশরিকদের কর্মগত ভ্রান্তি ও মূর্খতাসুলভ আচরণ প্রথার একটি বিশেষ দিকের উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস এবং প্রচলিত কু-প্রথাসমূহের একটি ছিল এই যে, তাদের দেব-দেবী বা প্রতিমার নামে যেসব জন্তু ছেড়ে দেয়া হতো, সেগুলো জবেহ করার সময় পেট থেকে জীবিত বাচ্চা বের হলে তাকেও জবেহ করতো। কিন্তু তা শুধু পুরুষদের জন্য হালাল মনে করতো, আর মহিলাদের জন্য তাকে হারাম মনে করা হতো। অথচ জবেহকৃত জন্তুর পেটের বাচ্চাটা যদি মৃত হতো তবে তাতে নারী-পুরুষ সবাই অংশ নিতো। অন্যান্য অনেকগুলো মনগড়া বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রচলিত কু-প্রথাসমূহের মধ্যে এ প্রথাটাও চালু ছিল। আসলে আল্লাহর আলোর পথে না চললে যে মানুষ অন্ধকারে হাবুডুবু খেতে থাকে এবং তাতে সামাজিক ইনসাফ বিনষ্ট হয়—এ হচ্ছে তারই এক উদাহরণ বিশেষ এবং নারীদের বঞ্চিত করার একটি নজীর। তাই আয়াতের শেষাংশে রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করছেন, "ওদের এহেন উক্তির কারণে তিনি ওদের অবশ্যই শাস্তি দেবেন। তিনি প্রজ্ঞাময় সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।" পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে তৎকালীন মুশরিকদের কতিপয় ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কু-প্রথার উল্লেখ করার পর আলোচ্য বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছে। ওদের বে-ইনসাফী ও কু-প্রথাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. তারা খাদ্যশষ্য ও ফলের কিছু অংশ আল্লাহর এবং কিছু অংশ দেব- দেবীর নামে পৃথক করতো। তারপর ঘটনাক্রমে যদি আল্লাহর অংশ থেকে কিছু অংশ দেব-দেবীর অংশে মিশে যেতো, তবে তা এমনি থাকতে দিতো। পক্ষান্তরে দেব-দেবীর অংশ থেকে যদি আল্লাহর অংশের সাথে মিশে যেতো, তবে তা তুলে নিয়ে দেব-দেবীর অংশ পুরণ করে দিতো। তাদের বাহানা ছিল আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, তার অংশ কম হলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রতিমাদের অংশ কমে যাওয়া উচিত নয়।
২. যেসব জন্তু দেব-দেবীর নামে ছেড়ে দিতো তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য বলে ধারণা করতো। এতে প্রতিমার অংশ ছিল তাদের আরাধনা করতো। আর আল্লাহর অংশ ছিল তাঁর সন্তুষ্টির আশা করতো।
৩. মুশরিকরা নিজেদের কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দিতো বা হত্যা করতো।
৪. কিছু শষ্যক্ষেত্র প্রতিমার নামে ওয়াক্বফ করে দিতো। এর ফসল শুধু পুরুষরা ভোগ করতো। মহিলাদের দেয়া না দেয়া পুরুষদের এখতিয়ার। মহিলাদের কোনো দাবী করার অধিকার ছিল না।
৫. চতুষ্পদ জন্তুর বেলায়ও এ একই নিয়ম জারি ছিল। কোনো কোনো জন্তু কেবল পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট থাকতো।
৬. জন্তুর দুধ দোহন করতে, আরোহণ করতে ও জবেহ্ করতে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতো না।
কোনো জিনিসকে হালাল বা হারাম সাব্যস্ত করতে পারে একমাত্র আল্লাহ তা'আলা। আল্লাহর নির্দেশ নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পৌঁছানো হয়েছে। হালাল-হারাম, কল্যাণ-অকল্যাণ, ভাল-মন্দ প্রকৃতপক্ষে একমাত্র আল্লাহই নির্ধারণ করতে পারেন। সৃষ্টির সার্বিক কল্যাণ-অকল্যাণ নির্ধারণ করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই (স্রষ্টাই) সংরক্ষণ করতে পারে, তাই হালাল-হারামের সীমানা নির্ধারণ ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট। নিজের ইচ্ছেমত কোনো জিনিসকে হালাল-হারাম ঘোষণা করার অধিকার কোনো সৃষ্টির নেই। তা স্থির হতে পারে কেবল রাব্বুল আলামীনের নির্দেশেই। মুশরিকদের এভাবে হালাল-হারাম ঘোষণার অনধিকার চর্চার ফলে তৎকালীন নারী সমাজকে এভাবে নানান দিক থেকে বঞ্চিত করা হতো। একবিংশ শতাব্দীর এই কথিত সভ্য যুগেও যে বা যারাই মানব কল্যাণ, মানবাধিকার, নারীর অধিকার ও মর্যাদা এবং শিশুর অধিকার সংরক্ষণের জন্য নিজস্ব বিধি-বিধান প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টায় শক্তি-সামর্থ ব্যয় করবে তারাও যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে উপনীত হতে পারবে না, তা এই অতীত ইতিহাস থেকেই অনুমান করা যায়।
সার্বিক মানব কল্যাণ ও মানবাধিকার নিশ্চিত হতে পারে একমাত্র রাব্বুল আলামীনের দেয়া বিধি-বিধানের মাধ্যমেই। মানবেতিহাস এ অমোঘ সত্যের জাজ্জল্যমান সাক্ষী। সুতরাং নতুন করে তা পুনঃ পরীক্ষা করে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। পরীক্ষিত জিনিসকে আরও পরীক্ষা করে দেখতে গেলে কেবল সময়েরই অপচয় হতে পারে, তাতে কোনোই ফলোদয় হবে না। বিশ্বের সচেতন বিবেক যত তাড়াতাড়ি এ মহাসত্যকে স্বীকার করে নেবে, তত দ্রুত তারা প্রকৃত কল্যাণের দিকে এগুতে সক্ষম হবে। আল্লাহ তার প্রিয় সৃষ্টি মানব জাতির পরিচালনা-ক্ষমতাসম্পন্ন বিবেককে এ দিকে হিদায়াত করুন। আর মুসলিম মিল্লাতকে দিন তার পক্ষ থেকে প্রকৃত সত্যানুভূতি, আত্মসচেতনতা ও দায়িত্ববোধ, আর বিশ্ব মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে নিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা। আমীন!
📄 প্রাচীন মিশর সম্রাট-এর স্ত্রীর কাণ্ড
وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَنْ نَّفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ ، قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَاى ط إِنَّهُ لَايُفْلِحُ الظَّلِمُونَ وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ ، وَهَمَّ بِهَا لَوْلَا أَنْ رَأَبُرْهَانَ رَبِّهِ ، كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ ، إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ وَاسْتَبَقَا الْبَابَ وَقَدَّتْ قَمِيصَهُ مِنْ دُبُرٍ وَالْفَيَا سَيِّدَهَا لَذَا الْبَابِ ، قَالَتْ مَا جَزَاءُ مَنْ أَرَدَ بِأَهْلِكَ سُوهُ إِلَّا ط أَنْ يُসْجَنَ أَوْ عَذَابٌ أَلِيمٌ قَالَ هِيَ رَا وَدَتْنِي عَنْ نَّفْسِي وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ أَهْلِهَا ، إِنْ كَانَ قَمِيصَهُ قُدَّ مِنْ قُبُلٍ فَصَدَقَتْ وَهُوَ مِنَ الْكَذِبِينَ وَإِنْ كَانَ قَمِيصَهُ قُدَّ مِنْ دُبُرٍ فَكَذَبَتْ وَهُوَ مِنَ الصَّدِقِينَ فَلَمَّا رَأَ قَمِيصَهُ قُدَّ مِنْ دُبُرٍ قَالَ إِنَّهُ مِنْ كَيْدِ كُنَّ ط إِنَّ كَيْدَ كُنَّ عَظِيمٌ يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هذَا سَكْتَهُ وَاسْتَغْفِرِي لِذَنْبِكِ : إِنَّكِ كُنْتِ مِنَ الْخُطِئِينَ وَقَالَ نِسْوَةٌ فِي الْمَدِينَةِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ تُرَاوِدُ فَتْهَا عَنْ نَفْسِهِ : قَدْ شَغَفَهَا حُبًّا طَ إِنَّا لَنَرْبهَا فِي ضَلَلٍ مُّبِيْنٍ فَلَمَّا سَمِعَتْ بِمَكْرِهِنَّ أَرْسَلَتْ إِلَيْهِنَّ وَاعْتَدَتْ لَهُنَّ مُتَّكَا وَاتَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِّنْهُنَّ سِكَيْنًا وَقَالَتِ اخْرُجْ عَلَيْهِنَّ ، فَلَمَّا رَأَيْنَهُ أَكْبَرْنَهُ وَقَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ وَقُلْنَ حَاشَ لِلَّهِ مَا هُذَا بَشَرًا وَ إِنْ হ্যَا إِلَّا مَلَكٌ كَرِيمٌ ، قَالَتْ فَذَلِكُنَّ الَّذِي لُمْتُنَّনِي فِيْهِ ، وَلَقَدْ رَاوَدْتُهُ عَنْ نَّفْسِهِ فَسْتَعْصَمَ ، وَلَئِنْ لَّমْ يَفْعَلْ مَا أَمْرُهُ لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونَا مِنَ الصَّغِرِينَ
“আর তাঁকে (ইউসুফ আ.-কে) ফুসলাতে লাগলো মহিলাটি (জুলায়খা), যার ঘরে তিনি ছিলেন। সে মহিলা ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে বললো, 'এসো!' তিনি বললেন, আল্লাহর পানাহ চাই। আমার রব তো আমার থাকার সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন। (আমি কি এ কাজ করতে পারি?) নিশ্চয়ই যালিমরা সফলকাম হতে পারে না।" মহিলা তো তার প্রতি আশক্ত হয়েই পড়েছে, আর তিনিও মহিলার প্রতি আশক্ত হয়ে পড়তেন যদি তিনি তাঁর রবের বুরহান বা নিদর্শন দেখতে না পেতেন। এমনিভাবে হলো, যাতে করে আমি তার থেকে মন্দ ও নির্লজ্জতা দূর করে দিয়েছি। নিশ্চয়ই সে আমার বাছাইকৃত বান্দাদের একজন। তারা উভয়ে ঘরের দরজার দিকে দৌড়ে গেল, আর মহিলাটি ইউসুফের জামা পেছন থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেললো। উভয়েই মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। অমনি মহিলাটি বলে উঠলো, "যে তোমার পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে, তাকে জেলে পাঠানো অথবা অন্য কোনো কঠোর শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কি সাজা হতে পারে?” ইউসুফ বললেন, সে-ই তো আমাকে দিয়ে কুকর্ম করাতে ফুসলিয়েছে।" মহিলাটির পরিবার বর্গের এক (ব্যক্তি) শিশু ইংগিতসূচক সাক্ষ দিয়ে বললো, "ইউসুফের জামা যদি সামনের দিকে ছেঁড়া থাকে, তাহলে মহিলাটি সত্যবাদিনী আর সে মিথ্যাবাদী। কিন্তু যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে, তাহলে মহিলাটি মিথ্যুক আর সে সত্যবাদী।” অতপর গৃহস্বামী যখন দেখল ইউসুফের জামা পেছন দিক থেকে ছেঁড়া, তখন সে বললো, "নিশ্চয়ই এটা তো মহিলাদেরই শঠতা, নিসন্দেহে মহিলাদের শঠতা ও কৌশল মারাত্মকই হয়ে থাকে। ইউসুফ! তুমি প্রসংগটি বাদ দাও, আর হে নারী! তুমি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও, নিসন্দেহে তুমিই অপরাধিনী।" শহরের নারীরা বলাবলি করতে লাগলো, "আযীযের স্ত্রী নিজের ক্রীতদাসকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়। সে ওর প্রেমে উন্মত্ত হয়ে গেছে। আমরা তো দেখছি সে সুস্পষ্ট ভ্রান্তিতে লিপ্ত।" যখন তাদের চক্রান্ত তার কানে গেল, সে তাদের দাওয়াত করলো বৈঠকখানায় তাদের প্রত্যেককে (ফল কাটার জন্য) একখানা করে ছুরি দিল। এদিকে ইউসুফকে তাদের সামনে আসার নির্দেশ দিল। মহিলারা ইউসুফকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল, তারা (ফলের পরিবর্তে) নিজেদের হাত কেটে ফেললো। তারা বললো, "আল্লাহর কসম, এতো কোনো মানুষ নয়, এতো কোনো সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়া কিছু নয়।"
আযীযের স্ত্রী বললো, "দেখ, এ-ই তো সে ব্যক্তি, যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করেছিলে। আসলে তো আমিই তাকে ফুসলিয়েছি, কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে। আর আমি যা আদেশ করি সে যদি তা না করে তবে সে অবশ্যই কারাগারে প্রেরিত হবে ও অপদস্ত হবে। ইউসুফ বললেন, ও রব! তারা আমাকে যে কাজের দিকে ডাকছে, তার চেয়ে কারাগারই আমার পসন্দনীয়। যদি তুমি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করো তাহলে আমি তাদের চক্রান্তের জালে আটকে যাব আর জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বো। অতপর তাঁর রব তাঁর দুআ কবুল করেছেন এবং মহিলাদের চক্রান্ত তাঁর থেকে প্রতিহত করে দিলেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন।" -সূরা ইউসুফ ২৩-৩৪
ইউসুফ আ. যখন যৌবনের স্তরে উপনীত হন, তিনি যখন আঠার-বিশ বছর বয়সের এক সুদর্শন যুবক এবং সুষমামণ্ডিত দেহ আর ভরা যৌবনের অধিকারী তখন তার মালিকের স্ত্রী যুলায়খা ইউসুফের রূপ-সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে গোটা পরিবেশটাকেই ইউসুফের জন্য অস্বস্থিকর করে তুলেছিল। যুলায়খা ইউসুফকে বালাখানায় ঢুকিয়ে ক্রমাগত দরজাসমূহ বন্ধ করতে করতে ভিতরে নিয়ে গেল। সর্বশেষ কক্ষে ঢুকে তালাবন্ধ করে দিয়ে যুলায়খা ইউসুফকে বললো, هَيْتَ لَكَ "শুন, তোমাকে বলছি, এসো।" যুলায়খা তার কুমতলব চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ইউসুফকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিল কিন্তু ইউসুফ তাকে ডাকছিল প্রকৃত সত্য তথা আল্লাহর পথের দিকে।
অবস্থার নাযুকতা উপলব্ধি করা যায় আল্লাহর বাণী এ আয়াত থেকেঃ وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ وَهَمَّ بِهَا لَوْلَا أَنْ رَّا بُরহَانَ رَبِّهِ - "মহিলা তো আশক্ত হয়েই পড়েছে, আর তিনিও মহিলার প্রতি আশক্ত হয়ে পড়তেন, যদি তিনি তাঁর রবের বুরহান না দেখতে পেতেন।" 'রব' এর 'বুরহান' বা প্রমাণ সম্পর্কে তাফসীরবিদগণ বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। কুরআন পাক যতটুকু বর্ণনা করেছে ততটুকু নিয়েই ক্ষান্ত থাকা দরকার। অর্থাৎ ইউসুফ আ. এমন কিছু দেখেছেন, যার কারণে তাঁর মন থেকে সীমালংঘন করার সামান্য ধারণাও বিদূরীত হয়ে গেছে। যুলায়খার সেই নির্জন কক্ষে আল্লাহর প্রমাণ প্রত্যক্ষ করার সাথে সাথেই ইউসুফ আ. সেখান থেকে পলায়োনদ্যত হলেন এবং বাইরে চলে যাওয়ার জন্য দরজার দিকে দৌড় দিলেন। আযীয পত্নী যুলায়খা তাকে ধরার জন্য পেছনে দৌড় দিল এবং তাঁর জামা ধরে তাকে বাইরে যেতে বাধা দিতে চেষ্টা করলো। ফলে তাঁর জামা পেছন দিক থেকে ছিঁড়ে গেল। ইউসুফ আ. দৌড়িয়ে দরজার ধারে পৌঁছামাত্র যুলায়খার বন্ধ করা তালাগুলো আপনা আপনি খুলে নীচে পড়ে যেতে থাকে।
দরজার বাইরে এসেই দেখলো আযীযে মেছের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যুলায়খা চমকে উঠলো, আর সম্পূর্ণ বিপরীত দোষ ও অপবাদ চাপিয়ে দিল ইউসুফের উপর। সে স্বামীকে বললো, যে লোক তোমার পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে তার শাস্তি ছাড়া আর কি হতে পরে। এবার ইউসুফ মুখ খুলতে বাধ্য হলেন। তিনি বলে উঠলেন: هِيَ رَا وَدَتْنِي عَنْ نَّفْسِي - "সে-ই তো নিজের কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য আমাকে ফুসলাচ্ছিল।” ঠিক এ সময় আল্লাহ তা'আলা এক অলৌকিক ব্যবস্থা করে দিলেন। ঐ পরিবারেই অবস্থানরত একটি কচি শিশুকে আল্লাহ তা'আলা বিজ্ঞ ও দার্শনিকসুলভ বাকশক্তি দান করলেন। সে বললো, ইউসুফের জামা যদি সামনের দিকে ছিন্ন থাকে তবে যুলায়খার কথা সত্য, পক্ষান্তরে যদি জামাটি পেছন দিকে ছিন্ন থাকে তাহলে যুলায়খা মিথ্যুক আর ইউসুফ সত্যবাদী। শেষ পর্যন্ত ইউসুফের জামাটি পেছনের দিকে ছেঁড়া দেখে বাদশাহ নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে দোষ যুলায়খারই।
ইউসুফের প্রতি যুলায়খার আসক্তির বিষয়টি জনসমক্ষে রটে গেল। যুলায়খা একদিন ওসব মহিলাকে ভোজসভায় আহ্বান করলো এবং প্রত্যেক মহিলাকে একটি করে চাকুও দিল। মহিলারা খাবার কাটতে উদ্যত হচ্ছিল, এমন সময় যুলায়খা পাশের কক্ষ থেকে ইউসুফকে মহিলাদের সামনে হাজির করলো। মহিলারা ইউসুফকে দেখে তাঁর রূপ সৌন্দর্যে স্থির থাকতে পারলো না। তারা ইউসুফের প্রতি বিমোহিত হয়ে আপলকনেত্রে তাকিয়ে চাকু দিয়ে খাবারের পরিবর্তে নিজে নিজ হাত কেটে ফেললো। তারা হতভম্ব হয়ে বলতে লাগলো: حَاشَ لِلَّهِ مَا هَذَا بَشَرًا إِنْ هَذَا إِلَّا مَلَكُ كَرِيمٌ "হায় আল্লাহ! এতো মানুষ নয়, অবশ্যই তিনি একজন সম্মানিত ফেরেশতা।” যুলায়খা যখন দেখলো সমাগত মহিলাদের সামনে তার গোপন ভেদ ফাঁস হয়ে গেছে, তখন সে মহিলাদের সামনেই ইউসুফকে ভয় দেখাতে লাগলো। ইউসুফ আ. বললেন, "হে রব! তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহ্বান করে, তার চেয়ে আমি কারাগারকেই পসন্দ করি।" অতপর আল্লাহ তার দুআ কবুল করে তাকে ওদের চক্রান্ত থেকে বাঁচিয়ে রাখলেন।