📄 নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হবে
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَدَتْ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّدِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَذِبِينَ وَيَدْرَوُا عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهدَتْ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّدِقِينَ وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ حَكِيمٌ
"যারা নিজেদের স্ত্রী সম্পর্কে ব্যভিচারের অভিযোগ উত্থাপন করে, অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের কাছে (এ অপবাদের পক্ষে) কোনো সাক্ষী না থাকে; তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলবে যে, সে অবশ্যই (তার আনীত অভিযোগে) সত্যবাদী। আর পঞ্চমবারে বলবে যে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহর লানত পড়ুক। পক্ষান্তরে, স্ত্রীর শান্তি রহিত হবে-যদি সেও চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে সে (পুরুষটি তার অভিযোগের ব্যাপারে) মিথ্যাবাদী। তারপর (সেও) পঞ্চমবারে বলবে সে (স্বামী) সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসুক। আর যদি তোমাদের উপর (হে মুমিনগণ) আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো (তাহলে স্ত্রীদের উপর অভিযোগের বিষয়ে তোমরা বড় জটিলতার সম্মুখীন হতে) বস্তুত আল্লাহ তো তাওবা কবুলকারী, প্রজ্ঞাময়।" -সূরা আন নূর : ৬-১০
সতী নারীকে অপবাদ দেওয়ার শাস্তির বিধান নাযিল হওয়ার পর প্রশ্ন দেখা দেয় যে, কেউ যদি নিজ স্ত্রীর ব্যভিচার স্বচক্ষে দেখে কিন্তু সাক্ষী না পায় তবে সে কী করবে? এর সমাধানে 'লিআন' (لعان)-এর বিধান নাযিল হয়। হিলাল ইবনে উমাইয়া যখন তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন এবং সাক্ষী দিতে না পারায় শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার উপক্রম হয়, তখন এই আয়াতগুলো নাযিল হয়।
'লিআন' পদ্ধতি অনুযায়ী স্বামী চারবার আল্লাহর নামে কসম করে নিজেকে সত্যবাদী ঘোষণা করবে এবং পঞ্চমবার বলবে যে সে মিথ্যাবাদী হলে তার ওপর আল্লাহর লানত পড়ুক। অনুরূপভাবে স্ত্রীও চারবার কসম করে স্বামীকে মিথ্যাবাদী বলবে এবং পঞ্চমবার বলবে স্বামী সত্যবাদী হলে তার ওপর আল্লাহর গযব পড়ুক। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ নাকচ হয়ে যায় এবং তারা চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ সন্তান মায়ের পরিচয় বহন করবে। এই ব্যবস্থা মুমিনদের পারিবারিক জটিলতা থেকে মুক্তির এক বিশেষ খোদায়ী রহমত।
টিকাঃ
(তাফহীমুল কুরআন)
(মাআরেফুল কুরআন)
(তাফসীরে মাযহারী)
(বুখারী, মুসলিম)
📄 নিষ্কলুষ সম্ভ্রান্ত নারীর বিরুদ্ধেও অপবাদ রটানো হয়
إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوْ بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ ، لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُمْ ، بَلْ হُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ، لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ مَا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ .
"যারা এ মিথ্যা অভিযোগ রচনা করেছে তারা তো তোমাদের মধ্যেরই কতিপয় লোক। এটাকে তোমরা নিজেদের জন্য ক্ষতিকর ভেবো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; ওদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে ওদের কৃত পাপের ফল। আর ওদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।"-সূরা আন নূর: ১১
ষষ্ঠ হিজরীতে মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা)-এর বিরুদ্ধে এক জঘন্য মিথ্যা অপবাদ (ইফক) রটনা করেছিল। বনী মুস্তালিক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে হযরত আয়েশা (রা) কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সাহাবী সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল (রা) তাকে সসম্মানে মদিনায় ফিরিয়ে আনেন। এই সরল ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা মুসলিম সমাজে বিভেদ ও নবীর পরিবারে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোহমত রটায়। প্রায় এক মাস এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির পর আল্লাহ তা'আলা হযরত আয়েশা (রা)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করে দশটি আয়াত নাযিল করেন।
এই ঘটনাটি মুমিনদের জন্য কল্যাণকর ছিল কারণ এর মাধ্যমে মুনাফিকদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়, মুমিনদের ঈমানী পরীক্ষা হয় এবং সামাজিক শুদ্ধির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ আহকাম নাযিল হয়। যারা এই অপবাদ রচনায় প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল তাদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা) ছিলেন পুণ্যবতী ও সিদ্দীকা, যাঁর নির্দোষিতা স্বয়ং আল্লাহ কুরআন নাযিলের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
টিকাঃ
(ফী যিলালিল কুরআন)
(তাদাব্বুরে কুরআন)
(তাফহীমুল কুরআন)
(মাআরেফুল কুরআন)
(তিরমিযী, আবু দাউদ, বুখারী, মুসলিম)
(সীরাতে ইবনে হিশাম)
📄 নিষ্কলুষ সম্ভ্রান্ত নারীর অপবাদ শুনে মুমিনদের কি করা উচিত?
لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا * وَقَالُوا هُذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ لَوْلَا جَاءُ وْ عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ ، فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَذِبُوْنَ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيْهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
"তোমরা যখন একথা শুনতে পেয়েছিলে, তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করলো না? আর কেনই বা বলে দিল না যে এটা তো নির্জলা অপবাদ? ওরা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করলো না? এখন যেহেতু ওরা চারজন সাক্ষী পেশ করলো না, কাজেই ওরাই আল্লাহর কাছে মিথ্যুক। তোমাদের প্রতি দুনিয়া ও আখিরাতে যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো, তাহলে তোমরা যেসব কথাবার্তায় জড়িত হয়ে পড়েছিলে, সে জন্যে গুরুতর আযাব তোমাদের গ্রাস করতো।"-সূরা আন নূর: ১২-১৪
হযরত আয়েশা (রা)-এর বিরুদ্ধে রটানো মিথ্যা অপবাদ শোনার পর মুমিনদের দায়িত্ব ছিল একে প্রথম চোটেই অস্বীকার করা। আল্লাহর নবীর স্ত্রীর মর্যাদা ও চারিত্রিক পবিত্রতা সম্পর্কে মুমিনদের মনে সুদৃঢ় আস্থা থাকা উচিত ছিল। যারা এই রটনা শুনেছিল, তাদের উচিত ছিল নিজেদের সম্পর্কে এবং নিজেদের সমাজের লোকদের সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করা। যারা সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া এই জাতীয় আলোচনায় লিপ্ত হয়েছিল, তাদের প্রতি আল্লাহর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। আবু আইয়ুব আনসারী (রা) ও তাঁর স্ত্রীর দৃষ্টান্ত ছিল অনুকরণীয়, তাঁরা একে সুস্পষ্ট তোহমত বলে বিশ্বাস করেছিলেন।
ইসলামী সমাজের চারিত্রিক মূলনীতি হলো: যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ না পাওয়া যায়, ততক্ষণ প্রত্যেক মুমিন অন্য মুমিনের প্রতি সুধারণা পোষণ করবে এবং তার মান-সম্মান রক্ষা করবে। অন্যের কুৎসা রটনা করা বা সেই আলোচনায় শরীক হওয়া ঈমানী আদর্শের পরিপন্থী। যে মুসলমান অন্য মুসলমানের দুর্নাম রটায়, সে আসলে নিজেরই দুর্নাম রটায়, কারণ মুমিনরা সবাই একই দেহের ন্যায়।
টিকাঃ
(তাফহীমুল কুরআন)
(ফী যিলালিল কুরআন)
(তাদাব্বুরে কুরআন)
(মাআরেফুল কুরআন)
📄 পবিত্র চরিত্রের নারীর প্রতি অপবাদকারীরা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ الْغَفِلَتِ الْمُؤْمِنَتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ۙ يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ۙ يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ .
"যারা পবিত্র চরিত্রের ও সাদাসিদা মুমিন স্ত্রীলোকদের উপর (যিনার) অপবাদ আরোপ করে তাদের উপর দুনিয়া ও আখিরাতে লানত দেয়া হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত, তাদের পা-তারা যা করতো সে সম্বন্ধে; সেদিন আল্লাহ তাদের প্রাপ্য প্রতিফল পুরোপুরি দিয়ে দেবেন আর তারা জানতে পারবে যে আল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী।" -সূরা আন নূর : ২৩-২৫
আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত বিষয় পূর্বে বর্ণিত সূরা আন নূরের ৪ আয়াতের বিষয়বস্তুর সাথে মিল থাকায় একই বিষয়ের হুকুম পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উভয়ের মধ্যে রয়েছে একটি বিরাট পার্থক্য। আর তাহলো পূর্বোক্ত আয়াতে (৪ আয়াত) তাওবাকারীদের ব্যতিক্রম এবং তাদের জন্য মাগফিরাতের ওয়াদা রয়েছে। অথচ এখানে ২৩ আয়াতে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে অভিশাপ এবং গুরুতর শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আলোচ্য ২৩ আয়াত সেসব লোকদের সাথে সম্পৃক্ত যারা হযরত আয়েশা (রা)-এর চরিত্রে অপবাদ আরোপ করার পর তাওবা করেনি। এমনকি কুরআনে তাঁর দোষমুক্ত থাকার কথা নাযিল হওয়ার পরও তারা তাদের দুরভিসন্ধিতে অটল ও অপবাদ চর্চায় মশগুল থাকে। উল্লেখ্য, এমন কাজ কোনো মুমিনের পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো মুমিন কুরআনের বিরোধীতা করতে পারে না। বিরোধীতা করলে সে আর মুমিন থাকতে পারে না। তাই এ আয়াতগুলো ঐসব মুনাফিকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে যারা দোষ মুক্ততার আয়াত নাযিল হওয়ার পরও এ অপবাদবৃত্তি পরিত্যাগ করেনি। তারা যে কাফির-মুনাফিক তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
তাওবাকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা فَضْلُ اللَّهِ وَرَحْمَتُهُ বলে দুনিয়া ও আখিরাতে রহমতপ্রাপ্ত আখ্যায়িত করেছেন। পক্ষান্তরে যারা তাওবা করেনি, তাদেরকে এ আয়াতে উভয় জাহানে অভিশপ্ত বলা হয়েছে। তাওবাকারীদেরকে আযাব থেকে মুক্তির সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। আর যারা তাওবা করেনি তাদের জন্য কঠোর আযাবের হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাওবাকারীদেরকে إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ বলে মাগফিরাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। আর যারা তাওবা করেনি তাদেরকে পরবর্তী يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ آيَدِيهِمْ আয়াতে শাস্তির যোগ্য হওয়ার ধমক দেয়া হয়েছে।
এ আয়াতে সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদেরকে غافلات বলা হয়েছে। অর্থাৎ সরলমনা সেসব সাদাসিদা ভদ্র স্ত্রীলোক যারা কোনো ছল-চাতুরী জানে না, যাদের দিল পবিত্র, যারা চরিত্রহীনতা ও পাপ কি-কিরূপে তা করা হয়, তা জানে না। তাদের মতো মহিলাদের বিরুদ্ধেও কেউ কোনো চরিত্রহীনতার অভিযোগ তুলতে পারে, তা তাদের চিন্তা-ভাবনায়ও কখনো আসে না। হাদীস শরীফে এসেছে, নবী করীম (স) বলেছেন, পাক চরিত্রের স্ত্রীলোকদের প্রতি মিথ্যা দোষারোপ করা সেই সাতটি কবীরা গুনাহর মধ্যে শামিল যা অত্যন্ত মারাত্মক (موبقات)। তিবরানী শরীফে হযরত হুযায়ফার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে নবী করীম (স) এরশাদ করেছেন: قذف المحصنة يهدم عمل ماة سنة "একজন চরিত্রবান স্ত্রীলোকের উপর চরিত্রহীনতার মিথ্যা দোষারোপ করা একশ বছরের আমল বিনষ্ট করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।"
আয়াতে يَرْمُونَ الْمُحْصَنَتِ মানে 'পবিত্র চরিত্রের ভদ্র মহিলাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করে।' অর্থাৎ তাদের চরিত্রে মিথ্যা দোষ আরোপ করা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করার মত জঘন্য মারাত্মক, দুঃখজনক ও যন্ত্রণাদায়ক। رمی শব্দ থেকে يرمون এর শাব্দিক অর্থ তীর নিক্ষেপ করা যা কারো পরে তোহমত বা অপবাদ আরোপের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সতী-সাধ্বী মুমিন নারীগণ সরলমনা হওয়ার কারণে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা সম্পর্কে উদাসীন ও অসতর্ক থাকে। কারণ তারা তো এমন কিছু করেই না, যে জন্য সতর্ক থাকার প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং এমন মহিলাদের চরিত্রে কালীমা লেপন করা এমন এক অপরাধ যা একদিকে যেমন পাশবিক অন্যদিকে তেমনি নোংরা মানসিকতারও পরিচায়ক। সে জন্যে এমন এমন অপরাধে লিপ্ত লোকদেরকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে। তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে আল্লাহর অভিশাপগ্রস্থ এবং তাঁর রহমত হতে বঞ্চিত। এরপর আখিরাতে তাকে কি ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে তাহলো এই- সেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত, তাদের পা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ দেবে। সেই সাক্ষ হবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ। অথচ তারা যে অপবাদ রটাতো তা ছিল মিথ্যে। সেদিন আল্লাহ তাদের উপযুক্ত সঠিক বদলা দিবেন। তাদের অত্যন্ত নিখুঁত ও ন্যায়সংগত প্রতিফল দিবেন আর তাদের কৃতকর্মের নির্ভুল হিসেব নিবেন। সেদিন তাদের সকল সন্দেহ দূর হবে আর তারা জানতে পারবে যে আল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী।
টিকাঃ
(মাআরেফুল কুরআন, বায়ানুল কুরআন থেকে), (তাফহীমুল কুরআন), (তাদাব্বুরে কুরআন), (ফী যিলালিল কুরআন)