📘 আল কুরআনে নারী 📄 পুত্রের চেয়ে যে কন্যার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষিত হয়েছিল

📄 পুত্রের চেয়ে যে কন্যার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষিত হয়েছিল


فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعَتْهَا أُنثَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ . وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالأُنثى ، وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيدُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشيطن الرجيم (ال عمران : ৩৬)

"তারপর যখন সে প্রসব করলো, তখন বললো, হে আমার রব! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করলাম। অথচ আল্লাহ ভালভাবেই জানেন, কি সে প্রসব করেছিল। পুত্র কন্যার মত নয়। আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আমি তার ও তার সন্তানাদির জন্যে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।" -(সূরা আলে ইমরান: ৩৬)

আলোচ্য আয়াতে হযরত মারইয়াম (আ)-এর জন্ম বৃত্তান্তের প্রতি ইংগিত রয়েছে। তাঁর মাতা ইমরানের স্ত্রী ছিলেন নিঃসন্তান। একদা তিনি একজন পথিককে দেখলেন, সে তার বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছে। এতে তাঁর অন্তরে সন্তান লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও আকুতি জাগ্রত হয়। তিনি কায়মনো বাক্যে আল্লাহর কাছে সন্তান প্রাপ্তির আবেদন জানালেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং তিনি গর্ভধারণ করেন।

তখনকার শরীয়তে প্রচলিত ইবাদাত পদ্ধতির মধ্যে আল্লাহর নামে সন্তান উৎসর্গ করার রেওয়াজও ছিল। কোনো সন্তানকে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট করে দেয়া হতো এবং তাকে কোনো পার্থিব কাজে লাগানো হতো না। এ পদ্ধতি মোতাবেক হযরত মারইয়ামের মাতা নিজের গর্ভস্থ সন্তানকে বিশেষভাবে বায়তুল মোকাদ্দাসের খেদমতে নিয়োজিত করার মান্নত করলেন। গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হবে কি মেয়ে হবে তা তাঁর জানা ছিল না। সন্তান প্রসব করার পর যখন দেখলেন যে, তিনি তো একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। তখন আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে বললেন, আয় আল্লাহ! আমি তো আমার গর্ভস্থ সন্তানকে তোমার ঘরের খেদমতের জন্যে মান্নত করেছিলাম। কিন্তু এ কি ব্যাপার! এযে একটা কন্যা সন্তান!

আল্লাহর তো জানা আছেই যে, তিনি কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। কন্যাকে দিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসের খেদমত করানো যাবে কিভাবে? মারইয়ামের মাতার এ সংশয়ের জবাবে আল্লাহ তা'আলা বললেন : وَلَيْسَ الذِّكَرُ كَالانثى "এ কন্যা সন্তানের মত কোনো পুত্র সন্তান নেই।” অর্থাৎ তুমি যে পুত্র চেয়েছিলে সে তো তোমাকে দেয়া কন্যার সমকক্ষা নয়। বরং তোমার আন্তরিকতার বরকতে এ কন্যা বিশ্বের কন্যাদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তার এমন সব গুণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে, অনেক পুত্র সন্তান তার সমকক্ষ নয়। আয়াতের তরজমা করতে গিয়ে তাফসীর কারকগণ বলেছেন: وَلَيْসَ الذَّكَرُ الَّذِي طَلَبَتِ كَالْأُنثَى الَّتِي وهبت - "যে পুত্র সন্তান তুমি চেয়েছো সেতো এ কন্যা সন্তানের মত নয়। অর্থাৎ তোমার চাহিত পুত্র সন্তানের চেয়ে তোমাকে প্রদত্ত কন্যা সন্তান আরও বেশী গুণাবলী ও মর্যাদার অধিকারী।"

মারইয়ামের মাতা কন্যাকে আল্লাহর ঘরের খেদমত করার অযোগ্য মনে করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন তার মান্নত মতে নিজের কন্যাকে দিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসের খেদমতের কাজ করানো কি সম্ভব? ছেলে হলেই সে তার মান্নত পূরণ করা যেতো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল বিপরীত। সেই কন্যাকে দিয়েই আল্লাহ তার মাতার মান্নত পূরণ করার মত যোগ্যতা ও গুণ বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে দিলেন। আল্লাহ তা'আলা মাতার আন্তরিকতার প্রতি তাকিয়ে কন্যাকেই কবুল করে নিলেন। "আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম।" কথাটি-মারইয়ামের মাতার। এ প্রসংগে মুফতী মুহাম্মদ শফী (র) বলেন, এ থেকে বুঝা যায় যে, সন্তানের নাম রাখার অধিকার মাতারও রয়েছে। সন্তানের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে মাতার ভূমিকা যথার্থ ও কাম্য। এ বিষয়ে তার অধিকার স্বীকৃত।

ইমরানের স্ত্রী নিজের কন্যা মারইয়ামকে শয়তানের আক্রমণ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে ছিলেন। আল্লামা ইবনে কাসীর হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে একটি হাদীস নকল করেছেন। যাতে বলা হয়েছে যখনই কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখনই শয়তান তাকে স্পর্শ করে। এবং শয়তানের স্পর্শের কারণে সন্তান চিৎকার করে। তবে হযরত মারইয়াম এবং তার সন্তান এর ব্যতিক্রম। তাদেরকে শয়তান স্পর্শ করতে পারেনি। এটা তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ করুণা স্বরূপ।

📘 আল কুরআনে নারী 📄 পবিত্রতা নারীদের উচ্চ-মর্যাদায় উন্নীত করে

📄 পবিত্রতা নারীদের উচ্চ-মর্যাদায় উন্নীত করে


وَإِذْ قَالَتِ الْمَلئِكَةُ يَمَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَكِ عَلَى نِسَاء الْعَلَمِينَ (ال عمران : ৪২)

"তারপর এমন সময় উপস্থিত হলো যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উচ্চ সম্মানে মহিমান্বিত করেছেন, তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন, আর তোমাকে পৃথিবীর নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।"-(সূরা আলে ইমরান: ৪২)

হযরত মারইয়ামের মাতার মান্নত অনুযায়ী তৎকালীন শরীয়তের রীতি অনুসারে তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসের খাদেমা ছিলেন। তিনি ছিলেন পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারিনী। তিনি সারা রাত আল্লাহর ইবাদাতে রত থাকতেন। মুজাহিদ বলেন: হযরত মারইয়াম (আ) রাত্রিতে দীর্ঘ সময় ইবাদাতে মশগুল থাকার কারণে উভয় পাঁয়ে খুঁত এসে গিয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে তৎকালীন বিশ্বের নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছিলেন। এবং আল্লাহ যে দুনিয়ার যাবতীয় শৃংখলা ও কার্যাবলী আনজাম দান করেন এবং কোনো কিছুই আপনা আপনি যেমন সংগঠিত হয় না; তেমনি প্রাকৃতিক নিয়মেই সবকিছু হয় না; বরং প্রাকৃতিক নিয়ম-নীতিও আল্লাহই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তারই নিদর্শন স্বরূপ হযরত ঈসা (আ) মারইয়ামের গর্ভে স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে আল্লাহর অসীম কুদরতে পিতা ছাড়াই জন্ম নিলেন। এবং জন্মের পরেই নিজের পরিচয় দিয়ে লোকদের সাথে কথা বলতে থাকেন।

আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম (আ)-কে তৈরী করেছেন মাতা-পিতা ছাড়া। আর হযরত ঈসা (আ)-কে সৃষ্টি করলেন পিতা ছাড়া কেবল মাতা থেকে। আল্লাহর এ কুদরতের নিদর্শন দেখানোর জন্যে এমন এক নারী অর্থাৎ হযরত মারইয়ামকে নির্বাচন করলেন যিনি রাতভর আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকতেন এবং তিনি ছিলেন নির্মল নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারিণী।

আল্লামা ইবনে কাসীর হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস এ প্রসংগে উদ্ধৃত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, বিশ্বে চারজন মহিলা শ্রেষ্ঠ। মারইয়াম বিনতে ইমরান, ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া, খাদিজা বিনতে খুওয়াইলাদ এবং ফাতেমা বিনতে রাসূলুল্লাহ (স)। তিরমিযি একাই এ হাদীস রেওয়াত করেছেন আর একে বিশুদ্ধ বলে দাবী করেছেন।

এ আয়াতের অবতারণা হয়েছে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ সম্পর্কে ফেরেশতাগণ হযরত মারইয়ামের সাথে যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছেন তা হুজুর (স)-কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে অর্থাৎ মহান আল্লাহ তার অধিক ইবাদাত, দুনিয়া বিরাগ ও পূত-পবিত্রতার দরুন তাকে সর্বপ্রকার মলীনতা ও অপবিত্রতা থেকে পাক-সাফ করে নির্বাচন করেছেন আর তাঁর এসব মহত্বের দরুন তাকে বিশ্ব নারী সমাজের উপর মর্যাদা দিয়েছেন।

টিকাঃ
(ইবনে কাসীর)

📘 আল কুরআনে নারী 📄 মর্যাদাবান নারীরা সমাজ বিমুখ থাকে না

📄 মর্যাদাবান নারীরা সমাজ বিমুখ থাকে না


يُمَرِيمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ وَاسْجُدِي وَارْكَعِي مَعَ الرَّكِمِينَ

"হে মারইয়াম! তোমার রবের আনুগত্য কর, তাঁকে সিজদা কর এবং রুকূ'কারীদের সাথে তুমিও রুকূ' কর।" -(সূরা আলে ইমরান: ৪৩)

পূর্বের আয়াতে হযরত মারইয়াম (আ)-কে তৎকালীন নারী কুলের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা দানের ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে তাঁকে স্বীয় রবের অনুগত হওয়ার জন্যে, রবের সিজদা করার জন্যে এবং রুকূ'কারীদের সাথে রুকূ' করার জন্যে স্বয়ং রাব্বুল আলামীন নির্দেশ দিয়েছেন। মানব সমাজের প্রত্যেক পর্যায়ে সকল কালের নর-নারীরা জীবনের সামগ্রিক কার্যাবলীতে হয়ত সত্য পথে চলেছে নয়ত চলেছে বাতিলের পথে। সকল নর-নারীকে নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী হকপন্থী ও বাতিল পন্থী-এ দু' ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে। মর্যাদাবান নারীরা বাস্তবে অন্যান্য মর্যাদার অধিকারীদেরই দলভুক্ত হয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। রুকূ'কারীদের সাথে রুকূ' করার অর্থ সমাজের সৎপন্থীদের দলভুক্ত থাকা এবং ব্যক্তিগতভাবেও সৎকাজ করা। দ্বিতীয়তঃ এর অর্থ এও হতে পারে যে, নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নামায আদায়ে অভ্যস্থ হও। তৃতীয়তঃ সমাজের অন্যান্য নারীদের সাথে সদাচরণ ও নম্রব্যবহার করার নির্দেশ দেয়াও এ আয়াতের অর্থ হতে পারে। অর্থাৎ সমাজে যারা সদাচারী ও নম্র ব্যবহারে অভ্যস্ত-যাদের দ্বারা সমাজের লোকেরা কোনো কষ্ট পায় না, তুমিও তাদের দলভুক্ত হও। সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠাকামীদের সাথী হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর। যেমন আরেকটি আয়াতে রুকূ'র এ অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে:
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَوةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ (المائدة : ৫৫)

এখানে প্রথমে সালাতের কথা বলা হয়েছে বিধায় পরবর্তীতে রুকূ' করা বলতে অনেক মুফাস্সির উপরোক্ত অর্থ গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং সমাজে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

সমাজের জনসংখ্যার অর্ধেক যেমন নারী তেমনি বিশ্ব সৌন্দর্য সংস্থাপনে নরের মত নারীর ভূমিকাও কম নয়। ইসলাম নারীদেরকেও নির্ধারিত পরিমণ্ডলে ও নির্দিষ্ট গণ্ডীতে থেকে সামাজিক শান্তি স্থাপনে ও সমাজের উন্নতি বিধানে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখার অবকাশ দিয়েছে। এমন নয় যে, কেবল নরেরাই সমাজে সক্রিয় থাকবে আর নারীরা থাকবে নিষ্ক্রীয় হয়ে। বস্তুত নারীদের নিষ্ক্রীয় থাকা বা সমাজ বিমুখ থাকা বা সার্বিক কর্মকাণ্ডে কোনো ভূমিকা না রাখা, কখনো কোনো মর্যাদাশীল জাতি মাত্রেরই কাম্য হতে পারে না। ইসলামের গৌরবময় যুগেও নারীদের ভূমিকা ছিল সমাজের সার্বিক কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। রাসূলের যুগে নারীরা জিহাদের জন্য যুদ্ধ ময়দানেও গিয়েছিলেন।

📘 আল কুরআনে নারী 📄 আমলের ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে নর-নারীর কোনো পার্থক্য নেই

📄 আমলের ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে নর-নারীর কোনো পার্থক্য নেই


فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى : بَعْضُكُمْ مِّنْ بَعْضٍ : (ال عمران : ১৯৫)

"অতপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া এই বলে কবুল করে নিলেন, আমি তোমাদের মধ্য হতে কোনো আমলকারীর আমল বৃথা যেতে দেই না; চাই আমলকারী নর হোক বা নারী। তোমরা তো পরস্পরের সম্পূরক।"-(সূরা আলে ইমরান: ১৯৫)

পূর্ববর্তী আয়াতসমূহৈ আমলী ঈমানদার লোকদের কতিপয় দোয়া- মুনাযাতের বর্ণনা ছিল। আলোচ্য আয়াতে সে দোয়ার মনজুরী এবং আমলী লোকদের নেক আমলের বিপুল প্রতিদানের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। সৎকাজ যেই করুক না কেন সেই তার পুরোপুরি প্রতিদান ও সওয়াব পাবে। কাজটি চাই কোনো পুরুষই করুক অথবা কোনো নারীই করুক। প্রতিদান প্রাপ্তিতে উভয়ের জন্যে একই নিয়ম। আল্লাহর দরবারে এমন কোনো নিয়ম নেই যে, একই কাজ যদি পুরুষ করে তবে এক প্রকার ফল পাবে, আর যদি স্ত্রীলোকেরা করে তবে অন্য প্রকারের ফল পাবে। আল্লাহ নর ও নারীর পার্থক্যের দরুন তাদের আমলের প্রতিফলের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। এ ক্ষেত্রে আল্লাহর কথা হলো- بَعضُكُم مِن بَعض "তোমরা (নর-নারী) পরস্পরের অংশ বিশেষ।" কাজেই আমলের ফলাফলের দিক থেকেও কোনো তারতম্য নেই বা থাকবে না।

ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বা স্বল্প ধারণার লোকেরা মনে করে থাকে যে, ইসলাম কেবল পুরুষদের প্রাধান্য ও গুরুত্ব দেয়। নারীদের কোনো মর্যাদা বা অধিকার ইসলামে নেই। এমনকি আজকের সমাজে কিছু নামধারী মুসলিম যুবক-যুবতীদেরও এমনি ধারণা রয়েছে। উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে ইসলামী তাহজীব-তমদ্দুনের যথার্থ ধারণা ও আমল না থাকার কারণে এবং আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষীদের ষড়যন্ত্রের ফলে মুসলমানদের একটি অংশের মধ্যে অতি সুকৌশলের এ জাতীয় বিষক্রিয়ার সংক্রমণ ঘটেছে।

ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে সত্যিকার ধারণা না থাকার কারণে মুসলিম সমাজের কতিপয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও বিশ্বের অমুসলিমদের ইসলাম বিরোধী শ্লোগান নিজেদের মধ্যে প্রচলন বরং নিজেরা তা গ্রহণ ও বরণ করে নিচ্ছে। যেমন 'সাম্প্রদায়িকতা'। যে ইসলাম সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটনকারী সার্বজনীন আদর্শ। সে ইসলামকেই দুর্নাম করা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার নামে। আল-কুরআনের উপস্থাপিত নারী পুরুষের মর্যাদার পার্থক্যহীনতা বরং নর-নারীদের যথোপযুক্ত মর্যাদার ঘোষণা আজকের বিশ্বে কার্যকর না থাকার দরুণ উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে নারী দিবস শিশু দিবস ইত্যাদি দিবসগুলো আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। কিন্তু ইসলামের বিধি-বিধানগুলো সমাজে বাস্তবায়িত হলে এসব দিবস পালনের কি প্রয়োজন হতো?

তেমনি তাদের আরেকটি শ্লোগান 'ধর্মনিরপেক্ষতা'। মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা স্বার্থে তারা এ শ্লোগানটি উচ্চারণ করেন। কিন্তু ইসলামী জীবন বিধানে অমুসলিমদেরকে অধিকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তা তথাকথিত কোনো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রেও যে নেই, সেই সত্যটুকু জানা না থাকার কারণেই অথবা জেনে বুঝে বিদ্বেষবশতঃ এ শ্লোগানটি উচ্চারণ করা হচ্ছে। এভাবে নারীর অধিকার ও মর্যাদার বিষয়, দাদার বর্তমানে পিতার মৃত্যুতে দাদার সম্পত্তিতে নাতির অংশ, নারীদের পর্দা ব্যবস্থা-ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামের বিধি-বিধান নিয়ে এদের আপত্তি! এসব বিষয়ে এরা অমুসলিম, নারী ও ইয়াতীম নাতির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অস্থির! এ যেন মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ। যে আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা ও পালনকারী, তাঁর চেয়ে যেন সৃষ্টির জন্য এদের দরদ বেশী!

ফন্ট সাইজ
15px
17px