📄 একজন পুরুষ শর্ত সাপেক্ষে সর্বাধিক চারজন নারী বিয়ে করতে পারবে
وَإِنْ خِفْتُمْ الْأَتَقْسِطُوا فِي الْيَتْمَى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلُثَ وَرُبَعَ ، فَإِنْ خِفْتُمُ الْأَتَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ .
"আর তোমরা যদি ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারার আশংকা কর, তবে অন্যান্য স্ত্রীলোকদের মধ্য হতে তোমাদের পসন্দসই দু'জন অথবা তিনজন অথবা চারজনকে বিয়ে করতে পার। যদি তাদের মধ্যে ইনসাফ করতে পারার ব্যাপারে আশংকা থাকে, তবে মাত্র একজনকে নিয়েই তুষ্ট থাকবে, অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে।"-(সূরা আন নিসাঃ ৩)
ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগে ইয়াতীম মেয়েদের অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করা হতো। তাদের সৌন্দর্য ও সম্পদের মোহে অভিভাবকরা নামে মাত্র মোহর দিয়ে তাদেরকে বিয়ে করে নিতো অথবা সন্তানদের সাথে বিয়ে দিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার ব্যবস্থা করতো। উক্ত আয়াত ও তৎপূর্ব আয়াতে তাদের এ হীন লালসাবৃত্তি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুখারী শরীফে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, মহানবী (স)-এর যুগে ঠিক এমনি ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। জনৈক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একটি ইয়াতীম মেয়ে ছিল। সে ব্যক্তির একটি বাগান ছিল, যার মধ্যে উক্ত ইয়াতীম বালিকাটিরও অংশ ছিল। সে ব্যক্তি বালিকাটিকে বিয়ে করলো। তাকে মোহর তো দিলই না, বরং মেয়েটির বাগানের অংশও সে আত্মসাত করে নিলো। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে।
ইসলাম পূর্ব যুগে দুনিয়ার প্রায় সকল ধর্মমতেই বহু বিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। ইউরোপের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ মিঃ ডিউন পোর্ট বহু বিবাহের একজন বড় প্রবক্তা। তিনি তার মত প্রতিষ্ঠায় পবিত্র ইনজীল গ্রন্থের অনেক শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন। তেমনি ইউরোপের পাদরী নিকসন, জন মিল্টন এবং আইজাক টেইলর প্রমুখ চিন্তাশীল ব্যক্তিরা বহু বিবাহ প্রথা চালু করার জন্যে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এমনকি পণ্ডিত ডিরাক অসংখ্য স্ত্রী রাখার পক্ষপাতি। তাঁর মতে একজন পুরুষ দশ থেকে সাতাইশজন স্ত্রী রাখতে পারবে। যে কৃষ্ণকে হিন্দুরা দেবতা বলে স্বীকার করে সেই কৃষ্ণেরও দশাধিক স্ত্রী ছিল। আজকের বিশ্বে যেসব জাতির মধ্যে বহু বিবাহ প্রথার উপর বিধি-নিষেধ রয়েছে তাদের মধ্যেও নারী-পুরুষের বন্ধুত্ব এবং নর-নারীর অবাধ মেলামেশার আবরণে ব্যভিচার ও অসামাজিক কার্যকলাপ চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জাতীয় সমাজে বহু বিবাহের সুযোগ নেই ঠিকই কিন্তু প্রমোদবালাদের দৌরাত্ম সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাছাড়া ব্যভিচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠাই এ সমাজের বৈশিষ্ট্য। আজকের পাশ্চাত্য সমাজ এদিক থেকে শীর্ষে। তারা পরিবার ভাংগা জাতিতে পরিণত হয়ে চরম উৎকণ্ঠায় জীবন-যাপন করছে।
মোটকথা, ইসলাম পূর্ব যুগে অবাধেই বহু বিবাহ প্রথা চালু ছিল। বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, এর প্রতি কোনো বাধা-নিষেধও ছিল না। ইয়াহুদী, খ্রীষ্টান, হিন্দু, আর্য ও পারসিকদের মধ্যে বহু বিবাহ প্রচলিত ছিল। ইসলামী শরীয়তের প্রাথমিক স্তরে কোনো সংখ্যা নির্ধারণ ছাড়াই এ প্রথা চালু ছিল। অধিকন্তু তারা এসব স্ত্রীদেরও বাদী-দাসীদের মত রাখতো। তাদের প্রতি কোনো ইনসাফ করা হতো না। তাদের অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করা হতো। দু' একজনের প্রতি কিছু লক্ষ্য রাখা হতো আর বাকী সবাইর প্রতি প্রদর্শন করা হতো চরম অবহেলা ও যুলুম-অত্যাচার।
ইসলাম নারীদের প্রতি এসব যুলুম-অনাচারের প্রতিরোধ করেছে। বহু বিবাহের প্রতি আরোপ করেছে প্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ। ইসলামী শরীয়ত একই সময়ে চারজনের অধিক স্ত্রী রাখাকে হারাম ঘোষণা করেছে। একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইনসাফ কায়েমের জন্যে ইসলাম বিশেষ তাকীদ দিয়েছে এবং ইনসাফের পরিবর্তে যুলুম করে থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে।
উপরোক্ত আয়াত একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেয় বিচার-ইনসাফের শর্তে। যে ব্যক্তি এ ইনসাফ ঠিক রাখতে পারবে না তাকে এক স্ত্রীতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। যে ব্যক্তি এ শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হবে না ইসলামী আদালত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আধুনিক সমাজে যারা একাধিক স্ত্রী রাখার চরম বিরোধী বরং এটাকে স্ত্রীদের প্রতি যুলুম মনে করে। এমনকি কিছু নব্য চিন্তাধারার তথাকথিত উদার নীতির ধ্বজাধারীরা ইসলামী শরীয়তের সংখ্যা নির্ধারণকেও নারীর প্রতি অবিচার মনে করে থাকে। তাদের উচিত ইসলাম পূর্ব অবস্থার পূর্ণ ইতিহাস জেনে নেয়া, অন্যান্য ধর্মমতের বক্তব্য জানা এবং তাদের সম মতাবলম্বীদের সার্বিক অবস্থা অবলোকন করা ও তাদের স্ত্রীদের কাছে তাদের খবর নেয়া। এরা বৈধ পত্নী রাখার প্রতি ঘোর প্রতিবাদকারী হলেও অবৈধ উপপত্নী বা বান্ধবীর সাথে অবাধ মেলামেশায় কিন্তু কোনো আপত্তি তোলে না। একজন স্ত্রী ঠিক রেখে একাধিক নারী গমনে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ইসলামী শরীয়ত উপরোক্ত সামাজিক ও নৈতিক পরিণতিকে বহু বিবাহের চেয়েও মারাত্মক মনে করে। তাই যৌন অরাজকতা ও সামাজিক উচ্ছৃংখলতা যাতে প্রশ্রয় না পায়, সে জন্য ইনসাফের শর্ত সংরক্ষণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি ইসলামে রয়েছে। আবার ইনসাফ ভঙ্গের ক্ষেত্রে ইসলামী আদালতের ব্যবস্থা গ্রহণেরও বিধান রয়েছে। আদালত ইনসাফ কায়েমের জন্য স্বামীকে শাস্তির নির্দেশ দিতে পারবে।
স্ত্রীর সংখ্যা সর্বোচ্চ চার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করার জন্যে কুরআনে যেমন সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে তেমনি হাদীসেও তার বহু প্রমাণ রয়েছে। গায়লান ইবনে আসলামা সাকাফী নামে এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তাঁর দশজন স্ত্রী ছিল। তাঁর স্ত্রীরাও তাঁর সাথে মুসলমান হয়ে গেলেন। মহানবী (স) নির্দেশ দিলেন এ দশজন স্ত্রীর মধ্য থেকে যে কোনো চারজনকে রেখে বাকীদের তালাক দিয়ে দিতে। তিনি রাসূল (স) নির্দেশ মোতাবেক তাই করলেন। (মেশকাত ২৭৪ পৃঃ) কায়েস ইবনুল হারিস আসাদী (রা) বলেন, আমি যখন মুসলমান হলাম, তখন আমার আট স্ত্রী ছিল। আমি বিষয়টি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গোচরীভূত করলাম। তিনি আমাকে চারজন স্ত্রী রেখে বাকী সবাইকে বিদায় করে দিতে বললেন।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর বহু বিবাহ ইউরোপীয় নাস্তিক ও বস্তুবাদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহু বিবাহের বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে আসছে। তাদের মতে (নাউযুবিল্লাহ) তিনি যৌন স্পৃহা দমন করার জন্যেই এমনটি করেছেন। কিন্তু দুনিয়ার ভোগবাদী মানুষের সাথে তো মহানবী (স)-এর কোনো তুলনাই চলে না। যে কোনো নিরপেক্ষ চিন্তার বুদ্ধিজীবি লোক মহানবীর জীবন-পদ্ধতির প্রতি লক্ষ্য করলে এরূপ চিন্তা করতে পারে না। কারণ তাঁর জীবন-পদ্ধতিই প্রমাণ করবে যে, তিনি এ উদ্দেশ্যে তা করেননি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন তৎকালীন আরব জাহানের সামনে উন্মুক্ত ছিল। বাল্য জীবন থেকে তিনি সবাইর কাছে ছিলেন নির্মল চরিত্রের অধিকারী আল আমীন বা বিশ্বাসী হিসেবে। পঁচিশ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন চল্লিশ বছর বয়স্কা এমন এক বিধবাকে যার ইতিপূর্বে আরও দু'জন স্বামী মারা গিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার পর মহানবী (স) হেরা গুহায় মাসের পর মাস সময় ধরে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। আরবের কে এ ঘটনা জানতো না? তাঁর সেই প্রথমা স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা)-এর সাথে তিনি সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেন। এ পঞ্চাশ বছর বিশেষ করে তাঁর যৌবনকাল সবটাই মক্কাবাসীদের চোখের সমানেই অতিক্রান্ত হয়েছে। মক্কায় কোনো শত্রুও তাঁর চরিত্রের ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষন করতো না। শত্রুরা তাঁকে যাদুকর, উন্মাদ ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করেছে সত্য, কিন্তু কখনো তাঁকে ভোগ সর্বস্ব বা যৌন বিকার গ্রস্ত হওয়ার মিথ্যা দাবী করতে পারেনি।
আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত মহানবী (স) একজন স্ত্রী নিয়েই ঘর সংসার করেছিলেন। অর্থাৎ পঁচিশ বছর হযরত খাদিজা (রা)-কে নিয়ে এবং চার বছর হযরত সাওদা (রা)-কে নিয়ে তিনি দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন। তারপর আটান্ন বছর বয়সে তাঁর চারজন স্ত্রী একত্রিত হন। অন্যান্যদেরকে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ করেন পরবর্তী দু' তিন বছরে। আমরা জানি সাহাবায়ে কিরাম পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সবাই ছিলেন মহানবী (স)- এর উপর নিবেদিত প্রাণ। এমতাবস্থায় তিনি তো ইচ্ছা করলে অনেক সংখ্যক কুমারী মেয়েকেই স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। একমাত্র হযরত আয়েশা (রা)-কে কুমারী স্ত্রী হিসেবে নবী (স)-এর সান্নিধ্যে আসেন।
কাজেই তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের সমালোচনার কোনো ভিত্তিই ধোপে টিকে না। ইতিহাস তার জীবন্ত সাক্ষী।
📄 স্ত্রীদের মোহর তাদেরকেই দিতে হবে সন্তুষ্ট চিত্তে উদার মনে
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَتِهِنَّ نِحْلَةً ، فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا (النساء : ৪)
"তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মোহর খুশী মনে আদায় করে দাও। অবশ্য তারা যদি নিজেদের খুশীতে মোহরানার কিছু অংশ তোমাদের মাফ করে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ করতে পার।"-(সূরা নিসা: ৪)
স্ত্রীদের মোহরানার টাকা পরিশোধের ব্যাপারে তখনকার দিনে নানা ধরনের যুলুম অত্যাচার চলতো। যেমন মোহরানার টাকা স্ত্রীদের হাতে না পৌঁছিয়ে পৌঁছানো হতো অভিভাবকদেরকে। আর অনেক সময় অভিভাবকরা তা আদায় করে নিজেরাই আত্মসাৎ করতো। তাই উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বামীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, মোহরানার টাকা তাকেই পরিশোধ কর, অন্যকে নয়। এখানে অভিভাবকদের প্রতিও এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, মোহরানা আদায় করে তা যার প্রাপ্য তার হাতেই অর্পণ কর। তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ যেন তা খরচ না করে।
দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করার ব্যাপারে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা ও তিক্ততা থাকতে পারবে না। তখনকার দিনে মোহরানা পরিশোধ করাকে জরিমানা দেয়ার মতো মনে করা হতো। স্বামীর এ অনাচার ও অভিভাবকদের সংকীর্ণতা রোধ করার লক্ষ্যেই রাব্বুল আলামীন نِحْلَةٌ (নিহলাতান) শব্দ ব্যবহার করেছেন। অভিধানে نِحْلَةٌ বলতে ঐ দানকে বলা হয় যা অত্যন্ত খুশীমনে ও আন্তরিকতা সহকারে প্রদান করা হয়। মূলত স্ত্রীদের মোহরানা অবশ্য পরিশোধ ঋণ বিশেষ। এ ঋণ পরিশোধ করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যান্য ঋণ যেমন সন্তুষ্টচিত্তে অবশ্য দেনা হিসেবে পরিশোধ করা হয়, স্ত্রীর মোহরানাও তেমনি হৃষ্টচিত্তে ও উদারমনে পরিশোধ করা কর্তব্য।
তৃতীয়তঃ অনেক স্বামী স্ত্রীকে অসহায় অবলা পেয়ে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে বা কৌশল অবলম্বন করে মোহরানা মাফ করিয়ে নিয়ে থাকে। তখনকার দিনেও এমনটি করা হতো। কিন্তু এভাবে মাফ করিয়ে নিলে প্রকৃতপক্ষে তা মাফ হয় না। কারণ এ ধরনের মাফ করা তো স্বেচ্ছায় না হয়ে পরিবেশ পরিস্থিতির চাপের মুখে হয়ে থাকে। এ ধরনের যুলুম প্রতিরোধ করার জন্যে আল্লাহর নির্দেশ হলো: فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا . অর্থাৎ "যদি স্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে মোহরানার কিছু অংশ ক্ষমা করে দেয়, তবেই তোমরা হৃষ্টমনে তা ভোগ করতে পার।" সুতরাং চাপ প্রয়োগ কিংবা কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমা করিয়ে নেয়ার অর্থ কোনোক্রমেই ক্ষমা হিসেবে গণ্য হবে না।
এ ধরনের বহু নির্যাতন মূলক প্রথা তৎকালীন জাহেলী যুগে প্রচলিত ছিল। কুরআন সেসব জুলুমের উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আজও মুসলিম সমাজে অনুরূপ নির্যাতন দেখা যায়। আল-কুরআন সর্বপ্রকার নারী নির্যাতনসহ মোহর সংক্রান্ত জুলুমকেও পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছে।
হযরত মাওলানা মুফতি শফী (র) তাঁর তাফসীরে মা'আরেফুল কুরআনে বলেন, "আজকের যুগে স্ত্রীরা মনে করেন যে, স্বাভাবিকভাবে যেহেতু মোহরানা পাওয়াই যাবে না, বরং দাবী করলে তিক্ততা সৃষ্টি এমনকি সম্পর্কের ফাটল সৃষ্টি হওয়াও বিচিত্র নয় সেহেতু তারা মোহরানার দাবী মাফ করে দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের ক্ষমার দ্বারা মোহরানা ঋণ কখনো মাফ হয় না।
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র) বলতেন, মোহরানার অর্থ স্ত্রীর হাতে দেয়ার পর স্ত্রী যদি তা ইচ্ছা মত খরচ করার সুযোগ লাভ করা সত্ত্বেও স্বামীকে দিয়ে দেয়। কেবলমাত্র তখনই সেটাকে মাফ করার পর্যায়ে গণ্য করা যেতে পারে।
মীরাসের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় পিতার মৃত্যুর পর পরিত্যক্ত সম্পত্তি ছেলেরাই দখল করে বসে। বোনদের অংশ দেয়া প্রয়োজন মনে করে না, কেউ কেউ দ্বীনদারীর খেয়ালে বোনদের থেকে মাফ চেয়ে নেয়। বোনরা যেহেতু মনে করে তাদের পাওনা আদায় করা সহজ নয়, তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভাইদের মন রক্ষার জন্যে মুখে মাফ করে দেয়। পিতার মৃত্যুর পর মায়ের অংশ বিশেষত বিমাতার প্রাপ্য অংশ নিয়েও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এসব অংশীদারের প্রাপ্য যে আন্তরিক তুষ্টির সাথে ক্ষমা করা হয় না বিধায় যুলুমের অন্তর্ভুক্ত, তা স্বতঃসিদ্ধ।
স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধের বিষয়টি ইসলামী শরীয়তে অনেক গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত। কিন্তু মুসলিম সমাজ অন্যান্য জরুরী বিষয়ের ব্যাপারে যেমন উদাসীনতা প্রদর্শন করে ঠিক স্ত্রীর মোহরানার বেলায়ও তাই করে আসছে। অধিকন্তু আজকের মুসলিম সমাজে বিজাতীয়দের অনুকরণে যৌতুকের অভিশাপ জেঁকে বসেছে অত্যন্ত ব্যাপকভাবে। মেয়েদের মীরাস থেকে বঞ্চিত করার মত জঘন্য তৎপরতাও এজন্যে কম দায়ী নয়। এমনকি ইসলামের মৌলিক ইবাদাত পালনে অভ্যস্ত দীনদার ব্যক্তিরাও দীনের সঠিক তাৎপর্য অনুধাবনে পশ্চাদপদ বিধায় এমনিভাবে দীনের বহু মৌলিক বিষয় সম্পর্কে উদাসীনতা প্রদর্শন করে থাকে। ফলে সমাজে দেখা দিয়েছে নানান অনাচার ও ইসলামী শরীয়ত পরিপন্থী রীতিনীতি। আর বাস্তব জীবনে মুসলিম-অমুসলিমের জীবন ধারা একাকার হয়ে পড়েছে। পরিণামে পৃথিবীর মানব সাধারণ বঞ্চিত হচ্ছে ইসলামী জীবন বিধানের অনিবার্য সুফল থেকে।
বস্তুত আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতে বিশ্বাসী লোকদের ঈমানী দায়িত্ব হলো সমাজে প্রচলিত এসব যুলুম-অত্যাচার থেকে দূরে থাকা। স্ত্রীর মোহরানার টাকা ও বোনদের প্রাপ্য মীরাস এবং ভাইদের মৃত্যুর পর ভাতিজা ও ভাইঝীদের মীরাস ও যাবতীয় সম্পদ সংরক্ষণ করা এবং প্রাপকদের পাওনা হিসাব-নিকাশ করে পুরোপুরি তাদের পরিশোধ করা। নামায-রোযার চেয়ে এসবের গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ নামায-রোযা তো আল্লাহর হক, অথচ এসবই হচ্ছে বান্দার হক। আল্লাহ সবাইকে সহীহ সমুঝ দান করুন।
📄 পূর্ব পুরুষ ও অধস্তন পুরুষের স্ত্রীদের বিয়ে করা হারাম
وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً ومقتا ، وَسَاءَ سَبِيلاً (النساء : ২২)
"তোমরা সেসব স্ত্রীলোককে বিবাহ করবে না যাদের বিবাহ করেছে তোমাদের বাপ-দাদারা। অবশ্য পূর্বে এরূপ কিছু হয়ে থাকলে তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তা খুবই নির্লজ্জ ও ঘৃণ্য এবং অত্যন্ত খারাপ পথ।" -(সূরা আন নিসা: ২২)
জাহেলী যুগে পিতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে পুত্ররা নির্দ্বিধায় বিয়ে করে নিত। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা এ নির্লজ্জ কাজটি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ একে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ বলে অভিহিত করেছেন। এতো এক কুরুচী ও কুস্বভাবের কাজ। দীর্ঘদিন যাকে মা বলে সম্বোধন করা হয়ে আসছে, পিতার মৃত্যুর পর তাকে স্ত্রী করে রাখা মানব চরিত্রের জঘন্যতম অপমৃত্যু ছাড়া আর কি হতে পারে?
মুফতী মুহাম্মদ শফী (র) তাফসীরে মা'আরেফুল কুরআনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তোমরা ঐ নারীকে বিয়ে করো না যাদেরকে তোমাদের পিতা, দাদা, নানা বিয়ে করেছেন। তবে অতীতে এমন কিছু হয়ে থাকলে তা ধর্তব্য নয়। ভবিষ্যতে যেন এমনটি কিছুতেই না হতে পারে। নিশ্চয়ই এ কাজটি যুক্তির দিক থেকে অশ্লীল, সুস্থ বিবেকের লোকের পরিভাষায় অত্যন্ত ঘৃণ্য এবং শরীয়তের আইনেও নেহায়াত মন্দ পথ।
আয়াতে مَا قَدْ سَلَفَ "অবশ্য পূর্বে এরূপ কিছু হয়ে থাকলে তা ভিন্ন কথা"-তাফহীমুল কুরআনে বলা হয়েছে "এর দু'টো অর্থ হতে পারে- প্রথমতঃ অজ্ঞতা বা মূর্খতার সময়ে তোমরা যে ভুল-ভ্রান্তি করেছিলে তা ধর্তব্য হবে না যদি আল্লাহর বিধান নাযিলের পর তোমরা নিজেদের কর্মনীতি সংশোধন করে লও এবং ভুল কাজ পরিত্যাগ কর। দ্বিতীয়তঃ পূর্বের কোনো কাজকে বর্তমানে হারাম ঘোষণা করা হলে তার মানে এ নয় যে, পূর্বের প্রচলন বা অতীত আইনের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, পূর্বে যারা সৎমাকে বিবাহ করার কারণে তাদের ঔরসে যে সন্তানের জন্ম হয়েছিল তাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। কারণ সে কাজটি ছিল মূর্খতার কারণে অথবা শরীয়তের বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে।”
তাফহীমুল কুরআনে আরও বলা হয়েছে, 'ইসলামী আইনে এটা ফৌজদারী অপরাধ বিশেষ এবং পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের উপযোগী ব্যাপার। আবু দাউদ, নাসায়ী ও মুসনাদে আহমাদের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করীম (সা) এমন অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আর সাথে সাথে তাদের সমস্ত সম্পত্তি (সরকার কর্তৃক) বাজেয়াপ্ত করার শাস্তিও দিয়েছেন। ইবনে মাযাহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা) থেকে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা থেকে জানা যায় নবী করীম (সা) মূলনীতি স্বরূপ বলেছেন :
মَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مُحْرِمٍ فَاقْتُلُوهُ .
"যে ব্যক্তি মুহাররাম আত্মীয়ার সাথে ব্যভিচার করে তাকে হত্যা কর।"
ইমাম আহমদ (র)-এর মতে এ অপরাধীকে হত্যা করা ও তার ধন-সম্পত্তি ক্রোক করা আবশ্যক। ইমাম মালেক (র) ও ইমাম শাফেয়ী (র)-এর মতে তাকে ব্যভিচারির শাস্তি দিতে হবে।
আল্লামা ইবনে কাসীরের একটি বর্ণনায় তাফহীমুল কুরআনের উপরিউক্ত বর্ণনার সমর্থন পাওয়া যায়। তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে, কিনানা ইবনে খুযাইমা স্বীয় পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করেছিল, সেই সূত্রে নযর ইবনে কিনানার জন্ম হয়েছিল। এ নযর ইবনে কিনানা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স)-এর মন্তব্য হলো, সে তো মাতা-পিতার বৈধ মিলনের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে— ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়। এ থেকে বুঝা যায় এ প্রথা পূর্ব থেকে প্রচলিত ছিল আর তখন একে বৈধ বিবাহ বলে গণ্য করা হতো। প্রকৃতপক্ষে إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ "অবশ্য পূর্বে এরূপ কিছু হয়ে থাকলে তা ভিন্ন কথা”—এ বাক্যের ব্যাখ্যায় তাফহীমুল কুরআনে বর্ণিত দু'টো অর্থ তাফসীরে ইবনে কাসীরের উপরিউক্ত আলোচনার সাথে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।
আতা ইবনে আবু রিবাহ (র) বলেন : এ শব্দের তাৎপর্য হলো এটা আল্লাহর রুচী বিরুদ্ধ আর وَسَاءَ سَبِيلاً অর্থাৎ "রীতিনীতিের দিক থেকে এটা সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টতম রীতি।"
📄 যে ১৪ প্রকার মহিলাকে বিয়ে করা হারাম
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَتُكُمْ وَبَنْتُكُمْ وَأَخَوَتُكُمْ وَعَمْتُكُمْ وَخَلْتُكُمْ وَبَنْتُ الْآخِ وَبَنْتُ الأُخْتِ وَأُمَّهَتُكُمُ الَّتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهْتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ الَّتِي فِي حُجُورِكُمْ مِّن نِّسَائِكُمُ الَّتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ : فَإِنْ لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ ، وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ ، وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ (النساء : ২৩)
"তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইঝি, ভাগ্নী, আর তোমাদের সেসব মা- যারা তোমাদের দুধ খাওয়ায়েছেন, তোমাদের দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের স্ত্রীদের কন্যা- যারা তোমাদের কোলে লালিত পালিত হয়েছে, সেসব স্ত্রীর কন্যারা যাদের সাথে তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। অবশ্য যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপিত না হয়ে থাকে তবে তোমাদের কোনো গুনাহ হবে না, আপন ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রীগণ, তাছাড়া দুই সহোদরা বোনকে একত্রে বিবাহ করাও (তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে।)"-(সূরা আন নিসা: ২৩)
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন, সাত প্রকারের মহিলা বংশগত কারণে আর সাত প্রকারের মহিলা বৈবাহিক সূত্রের কারণে বিবাহ করা হারাম হয়েছে। একথা বলে তিনি উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেছেন।
উপরোক্ত আয়াতে তোমাদের 'মা' বলতে কেবল গর্ভধারিণী মাকেই বুঝায় না, বরং সাথে সাথে দাদী, নানীও أُمَّهَتْ শব্দের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তেমনিভাবে بَنَاتُكُمْ তোমাদের কন্যা বলতে স্বীয় ঔরষজাত কন্যা, কন্যার কন্যা ও পুত্রের কন্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। اَخَوَاتُكُمُ মানে তোমাদের সহোদরা বোন। তেমনি বৈমাত্রেয়া ও বৈপিত্রেয় বোনকেও বিয়ে করা হারাম। عَمَّتُكُمْ মানে তোমাদের ফুফু। অর্থাৎ পিতার সহোদরা বৈমাত্রেয়া বৈপিত্রেয়া-তিন প্রকারের ফুফুকেই বিয়ে করা হারাম। خَلْتُكُمْ খালাগণ। এখানেও মায়ের তিন প্রকার বোন অন্তর্ভুক্ত। بَنْتُ الْأَخِ ভাইয়ের কন্যা বলতেও তিন প্রকার ভাইয়ের কন্যাকে বুঝাবে بَنْتُ الْأُخْتِ বোনের কন্যাও ঐ তিন প্রকার বোনের কন্যা বুঝাবে।
যেসব মহিলার দুধ পান করা হয়েছে। তারা গর্ভধারিণী মা না হলেও মায়ের পর্যায়ভুক্ত বিধায় তাদের বিয়ে করা হারাম। এ দুধপান একবার হোক বা একাধিকবার হোক আর দুধ কম পান করুক অথবা বেশী পান করুক সর্বাবস্থায় দুধ মাকে বিয়ে করা হারাম। ফিক্হ শাস্ত্রের পরিভাষায় এ হারাম হওয়াকে হুরমতে রাদায়াত (حرمة رضاعة) বলে।
দুধ পান বলতে কেবল শিশুকালীন দুধ পান করাকেই বুঝাবে। ইমাম আবু হানিফা (র)-এর মতে সেই সময় হলো শিশুর বয়স যখন আড়াই বছর পর্যন্ত থাকে। সুতরাং শিশুর বয়স আড়াই বছরের মধ্যে সে যেই মহিলার দুধ পান করবে তার সাথে সেই শিশুর বয়ঃপ্রাপ্ত অবস্থায় বিয়ে জায়েয নেই। কোনো বালক-বালিকা যদি উক্ত বয়সের পরে কোনো স্ত্রীলোকের দুধ পান করে, তবে এতে হুরমতে রাদায়াত বা দুধ পানজনিত অবৈধতা প্রমাণিত হবে না।
সকল প্রকার দুধ বোনকে বিয়ে করা হারাম। বংশগত সম্পর্কের কারণে যাদের বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়, দুধ পানের সম্পর্কের কারণেও সেসব লোকদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম হয়ে যায়। হাদীস শরীফে আছে :
يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة
ان الله حرم من الرضاعة ماحرم من النسب
"দুধ পানে বিয়ে হারাম হয়, যারা জন্মের কারণে হারাম হয়।" "আল্লাহ তা'আলা দুধ পানে হারাম করেছেন যাদের বংশের কারণে হারাম করেছেন।"
স্ত্রীদের মাতা অর্থাৎ শ্বাশুড়ীকে বিয়ে করা হারাম। তেমনি স্ত্রীদের দাদী, নানী, বংশগত ও দুধ গত সবাই এর অন্তর্ভুক্ত।
যে মহিলাকে বিয়ে করে সহবাস করেছে সেই মহিলার অন্য স্বামীর ঔরষজাত কন্যা, পৌত্রী ও দৌহিত্রীও হারাম হয়ে যায়। তাদের কাউকে বিয়ে করা জায়েয নয়।
ঔরষজাত সন্তানের স্ত্রীকে বিয়ে করা হারাম। এখানে ঔরষজাত পুত্রের মধ্যে পৌত্র ও দৌহিত্র সবাই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাদের স্ত্রীকেও বিয়ে করা জায়েয নেই। কিন্তু সন্তান বা পুত্র যদি ঔরসজাত না হয় অর্থাৎ পোষ্য বা পালক পুত্র হয়, তবে তার স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম নয়। এখানে স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, দুধপুত্র বংশগত পুত্রের পর্যায়ভুক্ত, কাজেই তার স্ত্রীকেও বিয়ে করা হারাম।
দুই বোনকে একই সময় স্ত্রী হিসেবে রাখা হারাম। চাই তারা বংশগত হোক, দুধ পানজনিত হোক অথবা বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় হোক। একজনের মৃত্যু বা তালাকের পর অন্য বোনকে বিয়ে করা জায়েয।
উপরের আয়াতের ১৩জন মহিলা এবং পরবর্তী আয়াতের একজন সহ (অন্যের স্ত্রী) মোট ১৪জন স্ত্রীলোককে বিবাহ করা হারাম।