📘 আল হাল্লু জীবন সমস্যার সমাধান 📄 মৃত্যু

📄 মৃত্যু


মৃত্যু হলো অমোঘ অজেয় অনিবার্য, সৃষ্টি জগতের প্রতিটা প্রাণীর জন্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ﴾ [آل عمران: ١٨٥] অর্থ: 'সমস্ত প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।' (আলে ইমরান, ১৮৫) বিজ্ঞজনদের অভিমত: জন্মাও মৃত্যুর জন্য, আর নির্মাণ করো বিলুপ্তির জন্য। জনৈক আরব কবি বলেছেন: অর্থ: শুনে রাখ, আল্লাহ ছাড়া সমস্তই মরণশীল। আর আনন্দের সবকিছু নিঃসন্দেহে ধ্বংসশীল। পবিত্র কুরআনের ভাষ্যমতে মৃত্যুই হলো সবচেয়ে কষ্ট ও বেদনাদায়ক বিচ্ছেদ, যার পর ইহকালে আর কোনো দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ থাকে না। যার সাথে আপনার রক্তের সম্পর্ক, মনেপ্রাণে যাকে ভালোবেসে এসেছেন, আজ যদি তার মৃত্যু হয়, নিজ হাতে তাকে কবরের মাটিতে দাফন করতে হবে। পৃথিবীতে এক মুহূর্তের জন্য যাকে চোখের আড়াল করতে পারতেন না, আজ চিরকালের জন্য তাকে ছেড়ে আসতে হবে, অন্ধকার কবরে, একাকী নিঃসঙ্গ। হৃদয়-মন জুড়ে দুঃখ-বেদনা উথলে উঠবে। জীবনের যত আনন্দের উপলক্ষ, মুহূর্তেই তা করুণ বেদনায় পরিণত হবে। জীবনের এ কঠিন বাস্তবতার মুহূর্তে আপনার করণীয় কী? এমন বেদনাদায়ক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার উপায় কী?

সমাধান:
১. একটু ভাবুন, নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করুন, আপনার প্রিয়জনের প্রকৃত সুখ ও শান্তি কোথায়? ক্ষণস্থায়ী ইহকালে সহাবস্থানে, না কি চিরস্থায়ী পরকালে আপন রবের সান্নিধ্য? বিবেকের কাছেই আপনি এর সদুত্তর পেয়ে যাবেন। কবি আবুল হাসান আলী আততিহামী পুত্রের মৃত্যুতে বলেছিলেন: 'দুনিয়ার শত্রু-মিত্রের মাঝে আমার বর্তমান অবস্থান। আর আপন রবের পরম সান্নিধ্য তাঁর অবস্থান। আমাদের দুজনের অবস্থানে কত বিস্তর ব্যবধান।'
২. কারো মৃত্যুতে যারা আপন রবের প্রতি বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ ও সন্তুষ্টির বাণী উচ্চারণ করে, পবিত্র কুরআন তাদের আদর্শরূপে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ﴾ [البقرة: ١٥৬] অর্থ: 'এরা হল সেই সব লোক, যারা তাদের কোন মুসিবত দেখা দিলে বলে ওঠে, 'আমরা সকলে আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।' (বাকারা, ২: ১৫৬)
৩. প্রতিদান লাভের আশায় ধৈর্যধারণ করুন। প্রতিদানে আপন রবের পক্ষ থেকে তিনটি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলার ঘোষণা: ﴿أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ تَن وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ﴾ [البقرة: ١৫৭] অর্থ: 'এরা সেই সব লোক, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিশেষ করুণা ও দয়া রয়েছে এবং এরাই আছে হিদায়াতের ওপর।' (বাকারা, ২: ১৫৭)
৪. আপন রবের ফায়সালা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করুন এবং তাঁর প্রতি সপ্রশংস হোন। বিপদ-আপদে ধৈর্যশীল ও প্রশংসচিত্ত বান্দার জন্য আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে জান্নাতে বালাখানার সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের বলবেন: "আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি আবাসস্থল তৈরি করো এবং এর নাম রাখো 'বাইতুল হামদ'।”
৫. মনে রাখবেন, আল্লাহ তা'আলার প্রতিটি ফায়সালাই বান্দার জন্য মঙ্গলজনক। বান্দাকে তিনি পরীক্ষা করেন বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতির মাধ্যমে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখে অনেকে ভাবে, এটা তার জন্য অমঙ্গলজনক; অথচ তাতে নিহিত আছে বহুবিধ কল্যাণ। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ﴾ [البقرة: ٢١٦] অর্থ: 'এটা তো খুবই সম্ভব যে, তোমরা একটা জিনিসকে মন্দ মনে কর, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলজনক।' (বাকারা, ২: ২১৬)
৬. মনে রাখতে হবে, জগৎ ও জাগতিক জীবন হলো বান্দার পরীক্ষা-ক্ষেত্র, যা দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, সংকট ও প্রতিকূলতায় কণ্টকাকীর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ মِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ মِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّبِرِينَ﴾ [البقرة: ١٥٥] অর্থ: 'আর দেখ আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব (কখনও) ভয়-ভীতি দ্বারা, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জান-মাল ও ফসলহানী দ্বারা। যেসব লোক (এরূপ অবস্থায়) সবরের পরিচয় দেয়, তাদেরকে সুসংবাদ শোনাও।' (বাকারা, ২: ১৫৫)
৭. আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় গ্রহণ করুন। সবর ও সালাতের মাধ্যমে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করুন। পবিত্র কুরআনে উম্মতে মুহাম্মদীর প্রতি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ: وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلوةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَشِعِينَ) [البقرة: ٤٥] অর্থ: 'এবং সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। সালাতকে অবশ্যই কঠিন মনে হয়, কিন্তু তাদের পক্ষে নয়, যারা খুশৃ' (অর্থাৎ, ধ্যান ও বিনয়)-এর সাথে পড়ে।' (বাকারা, ২: ৪৫)
৮. নিয়তির ফায়সালায় অসন্তোষ প্রকাশ করা এবং আল্লাহ তা'আলার হুকুমে আপত্তি উত্থাপন করা সমীচীন নয়। কেননা বান্দার অভিযোগ অসন্তোষ তার হারানো বস্তু ফিরিয়ে দিতে পারে না, মৃতকে জীবিত করে তুলতে পারে না। সুতরাং সন্তুষ্টচিত্তে আপন রবের ফায়সালা মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করাই শ্রেয়।
৯. পরকালের প্রতি বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম ভিত্তি। পরকালে আল্লাহ তা'আলা তাঁর ধৈর্যশীল বান্দাদের উত্তম বিনিময় দান করবেন এবং জান্নাতে প্রিয়জনদের সাথে অবস্থান করার সুযোগ দান করবেন। তাই প্রিয়জনদের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করুন এবং সান্ত্বনা লাভ করুন যে জান্নাতে তাদের সাথেই হবে আপনার অবস্থান।
১০. প্রিয়জনের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করা, কান্না করা মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। তাই ইসলামেও শোকের মুহূর্তে শোক প্রকাশে নিষেধ নেই। তবে হাইমাউ করে কান্না করা, বিলাপ করা, মাতম করা, মাথা চাপড়ানো ও জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা জাহেলি যুগের কুসংস্কার; শরীয়তের দৃষ্টিতে তা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ। মৃত্যুশয্যায় পুত্র ইবরাহীমকে যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ দেখতে এলেন, তাঁর দু' চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগলো। তা দেখে আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) (বিস্মিত হয়ে) বললেন: 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনিও কান্না করছেন?' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: إِنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ، وَالقَلْبَ يَحْزَنُ، وَلَا نَقُولُ إِلَّا مَا يَرْضَى رَبُّنَا، وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ» (صحيح البخاري) অর্থ: 'চোখ দু'টো অশ্রুবিগলিত, হৃদয় দুঃখভারাক্রান্ত। কিন্তু যবানে তাই উচ্চারিত হবে, যাতে আমার রব সন্তুষ্ট। হে ইবরাহীম! আমরা যে তোমার মৃত্যুতে অত্যন্ত শোকাহত।' (বুখারী, ২/৮৩)
১১. আপনজনের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নিঃসঙ্গ পড়ে থাকবেন না। নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্ব কোনো সমস্যা সমাধানে কার্যকর উপায় নয়। এমন ব্যক্তিদের সাথে থাকুন, যাদের মাধ্যমে আপনি সান্ত্বনা পাবেন এবং দুঃখ শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে পারবেন।
১২. আল্লাহ তা'আলার কাছে পার্থিব জান্নাতের চেয়ে উত্তম বিনিময় আর কী হতে পারে? তাই প্রতিদানের প্রত্যাশা রেখে হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করুন। 'বান্দার কোনো আপনজনকে যখন আমি দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেই, আর সে প্রতিদান লাভের আশায় ধৈর্যধারণ করে তখন আমার কাছে তার জন্য একটা প্রতিদানই সুনির্দিষ্ট হয়, তা হলো জান্নাত।'
১৩. অতীতের কথা স্মরণ করে শোকের পাল্লা আরও ভারি করবেন না। তার চেয়ে বরং ক্রীড়াচর্চামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন এবং দুঃখস্মৃতি ভুলে থাকার চেষ্টা করুন।
১৪. সন্তানের মৃত্যুতে সাহাবায়ে কেরামকে রাসূলুল্লাহ ﷺ যা বলে সান্ত্বনা দিয়েছেন, তা স্মরণ করে আপনিও সান্ত্বনা গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'হ্যাঁ, তাদের জন্যে তার ছোটশিশুরা জান্নাতের প্রজাপতি তুল্য। তাদের মাঝে কেউ তার পিতার সাথে মিলিত হবে, অথবা তিনি বলেছেন বাবা-মা দুজনের সাথে মিলিত হবে। অতঃপর তিনি তার পরিধানের কাপড় ধরবেন। এরপর আর তারা তাদের ছাড়বে না। কিংবা রাবী বলেছেন, ধরে থাকা শেষ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আলাহ তার বাবা-মাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।' (মুসলিম, ৪/২০২৯)
১৫. বিশ্বাস করুন, পৃথিবীর বুকে মানবজাতি, জীবজন্তু ও জড়পদার্থ এসবের কোনোটিই স্থায়ী নয়। কালের ব্যবধানে সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَالِ وَالْإِكْرَامِ [الرحمن: ٢٦، ٢٧] অর্থ: 'ভূ-পৃষ্ঠে যা-কিছু আছে, সবই ধ্বংস হবে। বাকি থাকবে কেবল তোমার প্রতিপালকের গৌরবময়, মহানুভব সত্তা।' (আর-রহমান, ৫৫: ২৬-২৭) তাই নশ্বর পৃথিবীতে ক্ষণিকের সম্পর্কচ্ছেদের দুঃখ কষ্ট ভুলে, জান্নাতে প্রিয়জনদের সাথে চিরস্থায়ী জীবন কামনা করুন।
১৬. জীবদ্দশায় এমন মহৎ কীর্তি ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করুন, যা আপনার পরকালের কল্যাণ বয়ে আনবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ দিকনির্দেশনা ভুলে যাবেন না: إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٌ جَارِيَةً، وَعِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ، وَوَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ অর্থ: 'মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, সঙ্গে সঙ্গে তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল ছাড়া: (১) সাদকায়ে জারিয়া (২) তার শেখানো এমন জ্ঞান-বিজ্ঞান, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (৩) কিংবা এমন কোনো সন্তান, যে তার কল্যাণের দোয়া করে।' (তিরমিজী, ৩/৬৫২)
১৭. মনে রাখবেন, জাগতিক জীবনের মৃত্যুই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ নয়, আখেরাতে অবশ্যই আমরা একত্রিত হবো। প্রকৃত বিচ্ছেদ তো পরকালীন জীবনে পৃথক অবস্থান-একজন জান্নাতে অপরজন জাহান্নামে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো জান্নাতে একসাথে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

পরিশিষ্ট:
বিখ্যাত আরব কবি আবু জুআইব হুযালী ছিলেন হেযাজের বাসিন্দা। স্ত্রী ও পুত্রসন্তানদের নিয়ে তার পরিবারটি ছিল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ। আল্লাহ তা'আলা তাকে এমন ফুটফুটে সাতটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন, যাদের দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়, আদর-স্নেহে কোলে নিয়ে চুমু খেতে ইচ্ছে করে। ছেলেরা যখন তরুণ-যুবক, প্রত্যেকেই জ্ঞানে-গুণে, আচার-আচরণে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিতে লাগল কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে যারা সমুজ্জ্বলরূপে এগিয়ে যাচ্ছিল, নিয়তির ইশারায় তাদেরই যাত্রা থেমে গেল! সন্তানরা এমন এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলো যে, ডাক্তার, ওষুধ ও ঝাড়ফুঁক-কোনো কিছুতেই কাজ হয় না। পিতা আবূ জুআইব হুযালী কত চেষ্টা তদবির করলেন, কত দিকে ছুটলেন, কত জনের দ্বারস্থ হলেন, কিছুতেই কোনো কাজ হয় না। তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ কবি। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সুসম্পন্ন। নিয়তের ইশারা আঁচ করতে বিলম্ব হয়নি। আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা বুঝতে দেরি করেননি। এক এক করে সাত সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যই হলো তার পরম আশ্রয়। আপন রবের নিকট প্রতিদান প্রত্যাশাই হলো তার দিলের যখমের মারহাম। সবকিছু তিনি আপন রবের যিম্মায় ন্যস্ত করে সন্তান হারানোর শোক বুকে চেপে রাখলেন। হৃদয়ের যত বেদনা, তুলে ধরলেন কবিতার ভাষায়। ইতিহাসের পাতায় যা চির অমর হয়ে আছে, সে কবিতারই কয়েকটি পঙ্ক্তি প্রকাশ করে স্ত্রীকে তিনি সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন: 'হিংসুকেরা আমার দৃঢ়তা অবিচলতা দেখুক, আমি তাদের দেখিয়ে দিতে চাই কালের ঘাত-প্রতিঘাতে আমি নিঃশেষ হবার নই। মৃত্যু যখন তার নখদন্ত বের করে আগ্রাসী হয়ে উঠে, তখন গলায় যতো তাবিজ-কবজ ঝুলাও না কেন, কোনো লাভ নেই।'

টিকাঃ
৬১. الزهد والرقائق لابن المبارك والزهد لنعيم بن حماد ٢/ ٢٧
৬২. ব্যক্তির মৃত্যুর পরও তার যে আমলের প্রতিদান অব্যাহত থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px