📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 দুনিয়ার অন্তিম পরাজয় ও পরকালের পথে যাত্রা

📄 দুনিয়ার অন্তিম পরাজয় ও পরকালের পথে যাত্রা


কিয়ামতের সবগুলো শর্ত বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটি মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বে তা হল কিয়ামতের আতঙ্কের ঘন্টা। এমতাবস্থায় আল্লাহ হযরত ইসরাফীল আ.-কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শিংগার ফুক দেয়ার নির্দেশ দিবে ন। তা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তখনই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। পৃথিবীর মানুষের কেউই থাকবে না সেদিন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (۸۷) ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।' [আন নাম: ৮৭-৮৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا يَنظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ

[আজ] এই লোকেরা তো প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [ছোয়াদঃ১৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ 'যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে।' فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمُ عَسِيرُ 'সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন।' [আল মুদ্দাসির: ৮-৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِةُ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
'তিনি আসমান আর যমীনকে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি করেছেন [খেলা-তামাশার জন্য নয়]। আর যখনই তিনি বলবেন, [কিয়ামাত] 'হও', তখনই তা হয়ে যাবে, তাঁর কথাই প্রকৃত সত্য। যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে। অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল, তিনি হিকমাতওয়ালা, সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সবিশেষ জ্ঞাত।' [আন'আম: ৭৩]

এরপর অনেক সময় পর আল্লাহ শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ করবেন। তখন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠবে। তবে আল্লাহ যাকে চান সে ব্যতীত। অতপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ দিবেন। এর ফলে সবাই কবর থেকে উঠে মহান আল্লাহর পানে দাঁড়িয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَواتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فيه أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন মুর্ছিত হয়ে পড়বে যারা আছে আকাশে আর যারা আছে যমীনে, তবে আল্লাহর ইচ্ছেয় এথেকে যে রেহাই পাবে তার কথা ভিন্ন। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।'

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَبُ وَجَاءَءَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
'পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে ঝলমল করে উঠবে, আর 'আমালনামা সামনে আনা হবে। নবিগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে। সকলের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।'

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
'প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। লোকেরা যা করে তা তিনি খুব ভালভাবেই জানেন।' [আয যুমার: ৬৮-৭০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ 'আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, [কিয়ামতের] এ ও'য়াদা কখন পূর্ণ হবে?'
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةٌ تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَحْصِمُونَ 'তারা যে জন্য অপেক্ষা করছে সেটাতো একটা প্রচণ্ড শব্দ যা তাদেরকে পাকড়াও করবে যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত থাকবে।'

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ '[কিয়ামত এমনই হঠাৎ আক্রমণ করবে যে] তারা না পারবে ওসীয়াত করতে আর না পারবে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে।'

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ 'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।'

قَالُوا يُوَيْلَنَا مَنهُ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ي هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ 'তারা বলবে, 'হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? [তাদেরকে জবাব দেয়া হবে] “এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও'য়াদা দিয়েছিলেন, আর রাসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।'

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ 'মাত্র একটা প্রচণ্ড শব্দ হবে, তখনি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।'

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে 'আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।' [সূরা ইয়াসিন: ৪৮-৫৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَحِدَةٌ
'ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ।'

فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ

'সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।' [আন নাযিআত: ১৩-১৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন—
وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ
'আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।' [আল ক্বমার:৫০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًا
'আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।' [আল কাহাফ: ৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَحِدَةٌ
'অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।'

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٌ وَحِدَةٌ
'পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।'

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
'সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য [মহা] ঘটনা।'

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
'আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।'

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا ، وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمُنِيَةٌ
'ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের 'আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।'

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

'সেদিন তোমাদেরকে [বিচারের জন্য] হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।' [আল হাককাহ্: ১৩-১৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
'সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে।'

وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبُوبًا
'আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।'

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
'আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।' [আন নাবা: ১৮-১৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ، وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا
'যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব [ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত] দৃষ্টিহীন অবস্থায়।' [ত্বহা: ১০২]

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِي، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا الصُّورُ قَالَ " قَرْنُ يُنْفَخُ فِيهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন এক গ্রাম্য লোক নাবীর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট এসে প্রশ্ন করল, শিঙ্গা কি? তিনি বললেন, এটা একটা শিং যাতে ফুৎকার দেয়া হবে।

আমাদের বর্তমান যুগটি চলছে 'ফিতনার যুগ'। চারদিকে ফিতনা আর ফিতনা। আমাবশ্যা রাতের মত চারদিক থেকে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সবখানে রয়েছে ফিতনার আগ্রাসন। ফিতনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে শোনা যায় ফিতনার বজ্রধ্বনি। ফিতনার আর্তচিৎকার।
আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ফিতনা সর্ম্পকে বলে গিয়েছেন। উম্মাহকে আগত সকল ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সচেতন করেছেন। ফিতনা থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক তাগিদ দিয়েছেন। তাই আমাদের সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ফিতনাময় দিনে ফিতনা থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে রবের আহবানে সাড়া দিতে হবে।
আখেরী জামানার ফিতনাগুলো এত ভয়াবহ ও ঈমান বিধ্বংসী যে, লোকেরা দিনের শুরুতে মুসলিম থাকবে, কিন্তু দিনশেষে সে হয়ে যাবে কাফির। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'আধাঁর রাতের মতো ফিতনাহ আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।' [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৩]
তাই যুগের ফিতনা সম্পর্কে আমাদের জানা কর্তব্য। যদি কেউ ফিতনা সম্পর্কেই না জানে, তাহলে সে কীভাবে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচাবে? কীভাবে সে তার পরিবার-পরিজন, সমাজ, রাষ্ট্রকে বাচাঁবে? সুতরাং ফিতনা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোন। ফিতনার যাবতীয় বিষয়গুলো জানতে ও ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় জানাতে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনু কাসির . রচনা করেছেন—'আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম'। এ গ্রন্থটির অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনা বুখারি, মুসলিম এবং সিহাহে সিত্তা থেকে চয়ন করা হয়েছে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—'আল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন-এ হাদিসটি হাসান। একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত- তাইমীর সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদিসটি শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি। সুনানুত তিরমিযি: ২৪৩০।

কিয়ামতের সবগুলো শর্ত বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটি মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বে তা হল কিয়ামতের আতঙ্কের ঘন্টা। এমতাবস্থায় আল্লাহ হযরত ইসরাফীল আ.-কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শিংগার ফুক দেয়ার নির্দেশ দিবে ন। তা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তখনই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। পৃথিবীর মানুষের কেউই থাকবে না সেদিন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (۸۷) ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।' [আন নাম: ৮৭-৮৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا يَنظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ

[আজ] এই লোকেরা তো প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [ছোয়াদঃ১৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ 'যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে।' فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمُ عَسِيرُ 'সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন।' [আল মুদ্দাসির: ৮-৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِةُ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
'তিনি আসমান আর যমীনকে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি করেছেন [খেলা-তামাশার জন্য নয়]। আর যখনই তিনি বলবেন, [কিয়ামাত] 'হও', তখনই তা হয়ে যাবে, তাঁর কথাই প্রকৃত সত্য। যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে। অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল, তিনি হিকমাতওয়ালা, সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সবিশেষ জ্ঞাত।' [আন'আম: ৭৩]

এরপর অনেক সময় পর আল্লাহ শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ করবেন। তখন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠবে। তবে আল্লাহ যাকে চান সে ব্যতীত। অতপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ দিবেন। এর ফলে সবাই কবর থেকে উঠে মহান আল্লাহর পানে দাঁড়িয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَواتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فيه أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন মুর্ছিত হয়ে পড়বে যারা আছে আকাশে আর যারা আছে যমীনে, তবে আল্লাহর ইচ্ছেয় এথেকে যে রেহাই পাবে তার কথা ভিন্ন। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।'

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَبُ وَجَاءَءَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
'পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে ঝলমল করে উঠবে, আর 'আমালনামা সামনে আনা হবে। নবিগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে। সকলের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।'

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
'প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। লোকেরা যা করে তা তিনি খুব ভালভাবেই জানেন।' [আয যুমার: ৬৮-৭০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ 'আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, [কিয়ামতের] এ ও'য়াদা কখন পূর্ণ হবে?'
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةٌ تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَحْصِمُونَ 'তারা যে জন্য অপেক্ষা করছে সেটাতো একটা প্রচণ্ড শব্দ যা তাদেরকে পাকড়াও করবে যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত থাকবে।'

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ '[কিয়ামত এমনই হঠাৎ আক্রমণ করবে যে] তারা না পারবে ওসীয়াত করতে আর না পারবে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে।'

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ 'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।'

قَالُوا يُوَيْلَنَا مَنهُ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ي هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ 'তারা বলবে, 'হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? [তাদেরকে জবাব দেয়া হবে] “এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও'য়াদা দিয়েছিলেন, আর রাসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।'

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ 'মাত্র একটা প্রচণ্ড শব্দ হবে, তখনি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।'

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে 'আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।' [সূরা ইয়াসিন: ৪৮-৫৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَحِدَةٌ
'ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ।'

فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ

'সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।' [আন নাযিআত: ১৩-১৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন—
وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ
'আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।' [আল ক্বমার:৫০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًا
'আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।' [আল কাহাফ: ৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَحِدَةٌ
'অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।'

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٌ وَحِدَةٌ
'পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।'

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
'সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য [মহা] ঘটনা।'

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
'আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।'

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا ، وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمُنِيَةٌ
'ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের 'আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।'

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

'সেদিন তোমাদেরকে [বিচারের জন্য] হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।' [আল হাককাহ্: ১৩-১৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
'সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে।'

وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبُوبًا
'আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।'

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
'আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।' [আন নাবা: ১৮-১৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ، وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا
'যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব [ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত] দৃষ্টিহীন অবস্থায়।' [ত্বহা: ১০২]

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِي، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا الصُّورُ قَالَ " قَرْنُ يُنْفَخُ فِيهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন এক গ্রাম্য লোক নাবীর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট এসে প্রশ্ন করল, শিঙ্গা কি? তিনি বললেন, এটা একটা শিং যাতে ফুৎকার দেয়া হবে।

আমাদের বর্তমান যুগটি চলছে 'ফিতনার যুগ'। চারদিকে ফিতনা আর ফিতনা। আমাবশ্যা রাতের মত চারদিক থেকে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সবখানে রয়েছে ফিতনার আগ্রাসন। ফিতনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে শোনা যায় ফিতনার বজ্রধ্বনি। ফিতনার আর্তচিৎকার।
আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ফিতনা সর্ম্পকে বলে গিয়েছেন। উম্মাহকে আগত সকল ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সচেতন করেছেন। ফিতনা থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক তাগিদ দিয়েছেন। তাই আমাদের সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ফিতনাময় দিনে ফিতনা থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে রবের আহবানে সাড়া দিতে হবে।
আখেরী জামানার ফিতনাগুলো এত ভয়াবহ ও ঈমান বিধ্বংসী যে, লোকেরা দিনের শুরুতে মুসলিম থাকবে, কিন্তু দিনশেষে সে হয়ে যাবে কাফির। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'আধাঁর রাতের মতো ফিতনাহ আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।' [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৩]
তাই যুগের ফিতনা সম্পর্কে আমাদের জানা কর্তব্য। যদি কেউ ফিতনা সম্পর্কেই না জানে, তাহলে সে কীভাবে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচাবে? কীভাবে সে তার পরিবার-পরিজন, সমাজ, রাষ্ট্রকে বাচাঁবে? সুতরাং ফিতনা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোন। ফিতনার যাবতীয় বিষয়গুলো জানতে ও ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় জানাতে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনু কাসির . রচনা করেছেন—'আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম'। এ গ্রন্থটির অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনা বুখারি, মুসলিম এবং সিহাহে সিত্তা থেকে চয়ন করা হয়েছে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—'আল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন-এ হাদিসটি হাসান। একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত- তাইমীর সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদিসটি শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি। সুনানুত তিরমিযি: ২৪৩০।

কিয়ামতের সবগুলো শর্ত বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটি মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বে তা হল কিয়ামতের আতঙ্কের ঘন্টা। এমতাবস্থায় আল্লাহ হযরত ইসরাফীল আ.-কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শিংগার ফুক দেয়ার নির্দেশ দিবে ন। তা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তখনই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। পৃথিবীর মানুষের কেউই থাকবে না সেদিন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (۸۷) ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।' [আন নাম: ৮৭-৮৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا يَنظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ

[আজ] এই লোকেরা তো প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [ছোয়াদঃ১৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ 'যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে।' فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمُ عَسِيرُ 'সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন।' [আল মুদ্দাসির: ৮-৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِةُ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
'তিনি আসমান আর যমীনকে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি করেছেন [খেলা-তামাশার জন্য নয়]। আর যখনই তিনি বলবেন, [কিয়ামাত] 'হও', তখনই তা হয়ে যাবে, তাঁর কথাই প্রকৃত সত্য। যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে। অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল, তিনি হিকমাতওয়ালা, সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সবিশেষ জ্ঞাত।' [আন'আম: ৭৩]

এরপর অনেক সময় পর আল্লাহ শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ করবেন। তখন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠবে। তবে আল্লাহ যাকে চান সে ব্যতীত। অতপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ দিবেন। এর ফলে সবাই কবর থেকে উঠে মহান আল্লাহর পানে দাঁড়িয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَواتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فيه أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন মুর্ছিত হয়ে পড়বে যারা আছে আকাশে আর যারা আছে যমীনে, তবে আল্লাহর ইচ্ছেয় এথেকে যে রেহাই পাবে তার কথা ভিন্ন। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।'

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَبُ وَجَاءَءَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
'পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে ঝলমল করে উঠবে, আর 'আমালনামা সামনে আনা হবে। নবিগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে। সকলের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।'

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
'প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। লোকেরা যা করে তা তিনি খুব ভালভাবেই জানেন।' [আয যুমার: ৬৮-৭০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ 'আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, [কিয়ামতের] এ ও'য়াদা কখন পূর্ণ হবে?'
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةٌ تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَحْصِمُونَ 'তারা যে জন্য অপেক্ষা করছে সেটাতো একটা প্রচণ্ড শব্দ যা তাদেরকে পাকড়াও করবে যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত থাকবে।'

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ '[কিয়ামত এমনই হঠাৎ আক্রমণ করবে যে] তারা না পারবে ওসীয়াত করতে আর না পারবে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে।'

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ 'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।'

قَالُوا يُوَيْلَنَا مَنهُ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ي هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ 'তারা বলবে, 'হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? [তাদেরকে জবাব দেয়া হবে] “এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও'য়াদা দিয়েছিলেন, আর রাসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।'

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ 'মাত্র একটা প্রচণ্ড শব্দ হবে, তখনি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।'

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে 'আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।' [সূরা ইয়াসিন: ৪৮-৫৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَحِدَةٌ
'ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ।'

فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ

'সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।' [আন নাযিআত: ১৩-১৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন—
وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ
'আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।' [আল ক্বমার:৫০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًا
'আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।' [আল কাহাফ: ৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَحِدَةٌ
'অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।'

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٌ وَحِدَةٌ
'পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।'

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
'সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য [মহা] ঘটনা।'

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
'আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।'

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا ، وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمُنِيَةٌ
'ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের 'আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।'

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

'সেদিন তোমাদেরকে [বিচারের জন্য] হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।' [আল হাককাহ্: ১৩-১৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
'সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে।'

وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبُوبًا
'আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।'

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
'আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।' [আন নাবা: ১৮-১৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ، وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا
'যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব [ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত] দৃষ্টিহীন অবস্থায়।' [ত্বহা: ১০২]

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِي، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا الصُّورُ قَالَ " قَرْنُ يُنْفَخُ فِيهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন এক গ্রাম্য লোক নাবীর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট এসে প্রশ্ন করল, শিঙ্গা কি? তিনি বললেন, এটা একটা শিং যাতে ফুৎকার দেয়া হবে।

আমাদের বর্তমান যুগটি চলছে 'ফিতনার যুগ'। চারদিকে ফিতনা আর ফিতনা। আমাবশ্যা রাতের মত চারদিক থেকে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সবখানে রয়েছে ফিতনার আগ্রাসন। ফিতনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে শোনা যায় ফিতনার বজ্রধ্বনি। ফিতনার আর্তচিৎকার।
আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ফিতনা সর্ম্পকে বলে গিয়েছেন। উম্মাহকে আগত সকল ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সচেতন করেছেন। ফিতনা থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক তাগিদ দিয়েছেন। তাই আমাদের সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ফিতনাময় দিনে ফিতনা থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে রবের আহবানে সাড়া দিতে হবে।
আখেরী জামানার ফিতনাগুলো এত ভয়াবহ ও ঈমান বিধ্বংসী যে, লোকেরা দিনের শুরুতে মুসলিম থাকবে, কিন্তু দিনশেষে সে হয়ে যাবে কাফির। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'আধাঁর রাতের মতো ফিতনাহ আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।' [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৩]
তাই যুগের ফিতনা সম্পর্কে আমাদের জানা কর্তব্য। যদি কেউ ফিতনা সম্পর্কেই না জানে, তাহলে সে কীভাবে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচাবে? কীভাবে সে তার পরিবার-পরিজন, সমাজ, রাষ্ট্রকে বাচাঁবে? সুতরাং ফিতনা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোন। ফিতনার যাবতীয় বিষয়গুলো জানতে ও ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় জানাতে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনু কাসির . রচনা করেছেন—'আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম'। এ গ্রন্থটির অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনা বুখারি, মুসলিম এবং সিহাহে সিত্তা থেকে চয়ন করা হয়েছে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—'আল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন-এ হাদিসটি হাসান। একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত- তাইমীর সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদিসটি শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি। সুনানুত তিরমিযি: ২৪৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00