📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 আল্লাহই ভালো জানেন

📄 আল্লাহই ভালো জানেন


আল্লাহই ভালো জানেন।

আল্লাহই ভালো জানেন।

আল্লাহই ভালো জানেন।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কিয়ামতের কিছু শর্ত

📄 কিয়ামতের কিছু শর্ত


তিনি বলেন পাঁচটি জিনিস যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। অতপর তিনি পড়লেন-

إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
'কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, জরায়ুতে কী আছে তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, কেউ জানে না কোন্ জায়গায় সে মরবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত।' [লুকমান: ৩৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- আর তারা তোমার কাছে জানতে চায়, 'তা কি সত্য'? বল, 'হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয় তা সত্য এবং তোমরা পরাস্তকারী নও'। [ইউনুস: ৫৩]
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'কাফিররা ধারণা করেছিল যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বল, 'হ্যাঁ, আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা আমল করেছিলে তা অবশ্যই তোমাদের জানানো হবে। আর এটি আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।' [আত তাগাবুন: ৭]
এই তিনটি আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে তার নামে কসম করার আদেশ দিয়েছেন। এর নযির চতুর্থ কোন আয়াত নেই। তবে এর ভাবার্থে আরো অনেক আয়াত আছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَا يَبْعَثُ اللَّهُ مَنْ يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (৩৮) لِيُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ (৩৯) إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
'আর তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মারা যায়, আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। হ্যাঁ, তার নিজের উপরে করা ওয়াদা তিনি সত্যে রূপ দিবে ন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।

যাতে তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে। আর যারা কুফরী করেছে, যেন তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় তারা ছিল মিথ্যাবাদী। যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি, তখন আমার কথা হয় কেবল এই বলা যে, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।' [আন নাহাল: ৩৮-৪০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ
তোমাদের সৃষ্টি ও তোমাদের পুনরুত্থান কেবল একটি প্রাণের [সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের মতই। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, দ্রষ্টা। [লুকমান: ২৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (٥٧) وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَلَا الْمُسِيءُ قَلِيلًا مَا تَتَذَكَّرُونَ إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةً لَا رَيْبَ فِيهَا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
'অবশ্যই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বড় বিষয়; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর সমান হয় না অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা অপরাধী। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।' [গাফের: ৫৭-৫৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا (٢٧) رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا (۲۸) وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا (۲۹) وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا (۳۰) أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا (۳۱) وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا (٣٢) مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ
'তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন। তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন। আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন। এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন। তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি। আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।' [আন নাযিআ'ত: ২৭-৩৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِهِ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ

كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا (۹۷) ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا (۹۸) أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إِلَّا كُفُورًا
'আর আল্লাহ্‌ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তাদের জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।

এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, 'আমরা যখন হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন আমরা কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব'?

তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ্‌ আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? আর তিনি তাদের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যালিমরা কুফরী না করে থাকেনি।' [আল ইসরা: ৯৭-৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (۸۱) إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (۸۲) فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
'যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনিই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী।

তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, কোন কিছুকে তিনি যদি 'হও' বলতে চান, তখনই তা হয়ে যায়।

অতএব পবিত্র মহান তিনি, যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।' [ইয়াসিন: ৮১-৮৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'তারা কি দেখে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর এগুলোর সৃষ্টিতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতদেরকে জীবন দিতে সক্ষম? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।' [আল আহকাফ: ৩৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِنَ الْأَرْضِ إِذَا أَنْتُمْ تَخْرُجُونَ
'আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তাঁরই নির্দেশে আসমান ও যমীন স্থিতিশীল থাকে। তারপর তিনি যখন তোমাদেরকে যমীন থেকে বের হয়ে আসার জন্য একবার আহবান করবেন তখনই তোমরা বের হয়ে আসবে।' [আর রুম: ২৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
'আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন তারপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তো তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। আসমান ও যমীনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [আর রুম: ২৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ (۷۸) قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
'আর সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে, অথচ সে তার নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, 'হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে'? বল, 'যিনি প্রথমবার এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই সেগুলো পুনরায় জীবিত করবেন। আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই সর্বজ্ঞাত।' [ইয়াসিন: ৭৮-৭৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِ الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।' [ফুস্সিলাত:৩৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ تُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِ الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (٦) وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ
'হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে [চিন্তা করে দেখ] আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিণ্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় [আমার শক্তি-ক্ষমতা] তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য। আর আমি যাকে ইচ্ছে করি তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে বের করে আনি শিশুরূপে, অতঃপর [লালন পালন] করি যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তির বয়সে পৌঁছতে পার। তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটাই, আর কতককে ফিরিয়ে দেয়া হয় নিষ্ক্রিয় বার্ধক্যে যাতে [অনেক) জ্ঞান লাভের পরেও তাদের আর কোন জ্ঞান থাকে না। অতঃপর [আরো] তোমরা ভূমিকে দেখ শুষ্ক, মৃত; অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তাতে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, আর তা উদগত করে সকল প্রকার নয়ন জুড়ানো উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায়)। এ রকম হয় এজন্য যে, আল্লাহ হলেন সত্য সঠিক, আর তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
আর কিয়ামাত অবশ্যই আসবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।' [আল হাজ্জঃ ৫-৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ (۱۳) ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ (١٤) ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ (١٥) ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ (١٦) وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ
'আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, অতঃপর মাংসপিন্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, অতঃপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি। কাজেই সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান! এরপর তোমরা অবশ্যই মরবে। তারপর কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। আমি তোমাদের উপরে সপ্তস্তর সৃষ্টি করেছি, আমি [আমার] সৃষ্টির ব্যাপারে অমনোযোগী নই।' [আল মুমিনুন: ১২-১৭]

জমিন ধ্বংসের পরে আবার পুনরায় সজিবতা ফিরে আসার প্রেক্ষাপট দিয়েই আল্লাহ তা'আলা দলিল দিচ্ছেন যে, মৃত্যুর পর দেহগুলি ক্ষয় হয়ে যাওয়ার পর তার থেকেই আবার পুরায় নতুন সৃষ্টির সূচনা ঘটবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন আর তা তার জন্য খুবই সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত তাঁর জন্যই, তিনিই মহাপরাক্রমশালী, বড়ই হিকমতওয়ালা। [আর রুম: ২৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'বল- 'তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর লক্ষ্য কর কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি, আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।' [আল আনকাবুত:২০]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- 'যিনি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে তিনি মৃত ভূ-ভাগকে সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।' [আয যুখরুফ: ১১]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘ সঞ্চার করে, অতঃপর আমি তা নির্জীব ভূখন্ডের দিকে পরিচালিত করি। অতঃপর আমি তা দিয়ে মৃত্তিকাকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করি। এভাবেই [ঘটবে] পুনরুত্থান।' [ফাতির :৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ (٥) خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ (٦) يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ (۷) إِنَّهُ عَلَى رَجْعِهِ لَقَادِرُ (۸) يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ (۹) فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ (۱۰) وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ (۱۱) وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ (١٢) إِنَّهُ لَقَوْلُ فَصْلٌ (۱۳) وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ (١٤) إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا (١٥) وَأَكِيدُ كَيْدًا (١٦) فَمَهْلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا
'অতঃপর মানুষ চিন্তা করে দেখুক কোন জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে বের হয়ে আসা পানি থেকে। যা বের হয় শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মাঝখান থেকে। তিনি মানুষকে আবার [জীবনে] ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই সক্ষম। যেদিন [কাজকর্ম আকীদা বিশ্বাস ও নিয়্যাত সম্পর্কিত] গোপন বিষয়াদি যাচাই পরখ করা হবে। সেদিন মানুষের না থাকবে নিজের কোন সামর্থ্য, আর না থাকবে কোন সাহায্যকারী। ঘুরে ঘুরে আসা বৃষ্টিবাহী আকাশের শপথ, এবং গাছপালার চারা গজানোর সময় বক্ষ বিদীর্ণকারী যমীনের শপথ, [বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে বৃক্ষলতার উৎপাদন যেমন অকাট্য সত্য, তেমনি কুরআন যা ঘোষণা করে তাও অকাট্য সত্য। কুরআন [সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী বাণী, কোন হাসি-ঠাট্টামূলক কথা নয়। এবং তারা [সত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আর আমিও [তাদের অন্যায় ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র ভন্ডুল করার] কৌশল করছি। কাজেই [এই ষড়যন্ত্রকারী] কাফিরদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও।' [আত তারেক: ৫-১৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ حَتَّى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ كَذَلِكَ تُخْرِجُ الْمَوْتَى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
'তিনি তাঁর রহমতের পূর্বে সুসংবাদের ঘোষক হিসেবে বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর যখন তা মেঘের ভারী বোঝা বহন করে, তখন আমি তাকে মৃত ভূখণ্ডের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাই, যাথেকে আমি পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তাথেকে আমি সর্বপ্রকার ফল উৎপন্ন করি। এভাবেই আমি মৃতকে জীবিত করি যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।' [আল আরাফ : ৫৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ذَلِكَ رَجْعُ بَعِيدُ (۳) قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ وَعِنْدَنَا كِتَابٌ حَفِيظٌ
'আমরা যখন মরে যাব আর মাটি হয়ে যাব [তখন আমাদেরকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে]? এ ফিরে যাওয়াটা তো বহু দূরের ব্যাপার। আমি জানি মাটি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে আর আমার কাছে আছে এক কিতাব যা [সব কিছুর পূর্ণ বিবরণ] সংরক্ষণ করে।' [ক্বাফ: ৩-৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ (٥٧) أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ (٥٨) أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ (٥٩) نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ (٦٠) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ
'আমিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাহলে তোমরা সত্যকে বিশ্বাস করবে না কেন? তোমরা কি ভেবে দেখেছ- তোমরা যে বীর্য নিক্ষেপ কর, তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না তার সৃষ্টিকর্তা আমিই।

তোমাদের মধ্যে মৃত্যু আমিই নির্ধারণ করি, আর আমি কিছুমাত্র অক্ষম নই।
তোমাদের আকার আকৃতি পরিবর্তন করতে আর তোমাদেরকে [নতুনভাবে] এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
তোমরা তোমাদের প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে অবশ্যই জান তাহলে [আল্লাহ যে তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম এ কথা] তোমরা অনুধাবন কর না কেন?' [আল ওয়াকিয়াহ্: ৫৭-৬২]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِمَّا يَعْلَمُونَ (۳۹) فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ (٤٠) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ خَيْرًا مِنْهُمْ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
'কখনো না, আমি তাদেরকে কী থেকে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে [এমন নগণ্য বস্তু থেকে সৃষ্ট মানুষ কেবল মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার কারণেই জান্নাতে চলে যাবে এ রকম লোভ করা বড়ই অবিবেচনাপ্রসূত ব্যাপার]।

আমি শপথ করছি উদয়স্থানসমূহের ও অস্তাচলসমূহের রব্বের-আমি অবশ্যই সক্ষম। তাদের পরিবর্তে তাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট মানুষ বানাতে, আমাকে পরাস্ত করবে এমন কেউ নেই।' [আল মা'আরিজ: ৩৯-৪১]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا (٤٩) قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا (٥٠) أَوْ خَلْقًا مِمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَنْ يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَرِيبٌ

'তারা বলে, 'কী! আমরা হাড্ডি আর ধূলা-মাটিতে পরিণত হওয়ার পর কি এক নতুন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হব?'
বল, 'তোমরা যদি পাথর কিংবা লোহাও হয়ে যাও,

অথবা এমন কিছু যা তোমাদের ধারণায় [জীবিত হওয়া] খুবই কঠিন [তবুও তোমাদেরকে উঠানো হবে]।' তারা বলবে, 'কে আছে এমন যে আমাদেরকে পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে আনবে?' বল, 'তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি

করেছেন।' তখন তারা [ঠাট্টার ছলে] তোমার সামনে মাথা নাড়বে আর বলবে, 'সেটা কখন ঘটবে?' বল, 'হতে পারে সেটা শীঘ্রই ঘটবে।'

যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন আর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে আর তোমরা ধারণা করবে যে, তোমরা খুব অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে।' [আল ইসরা: ৪৯-৫২]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَرِهِمْ وَهُمْ أُلُوفُ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيُهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ
'তুমি কি সেই লোকদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা মৃত্যুকে এড়ানোর জন্য নিজেদের ঘর থেকে হাজারে হাজারে বের হয়ে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন, 'তোমাদের মৃত্যু হোক'। তৎপর তাদেরকে জীবিত করে উঠালেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ লোকেদের প্রতি দয়াশীল কিন্তু অধিকাংশ লোক শোকর করে না।' [সূরা বাকারা: ২৪৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّى يُحْيِ هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ، قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ، قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ ، وَانظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةً لِّلنَّاسِ * وَانظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا. فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'কিংবা এমন ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে [তুমি কি চিন্তা করনি। যে এক নগর দিয়ে এমন অবস্থায় যাচ্ছিল যে তা উজাড় অবস্থায় ছিল। সে বলল, 'আল্লাহ এ নগরীকে এর মৃত্যুর পরে কীভাবে জীবিত করবেন'? তখন আল্লাহ তাকে একশ' বছর মৃত রাখলেন। তারপর তাকে জীবিত করে তুললেন ও জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি এ অবস্থায় কতকাল ছিলে'? সে বলল, 'একদিন ছিলাম কিংবা একদিন হতেও কম'। আল্লাহ বললেন, 'বরং তুমি একশ' বছর ছিলে, এখানে তুমি তোমার খাদ্যের ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর, এটা পচে যায়নি। আর গাধাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, আর এতে উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাকে মানুষের জন্য উদাহরণ করব। আবার তুমি হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে ওগুলো জোড়া লাগিয়ে দেই, তারপর গোশত দ্বারা ঢেকে দেই।

এরপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, 'এখন আমি পূর্ণ বিশ্বাস করছি যে, আল্লাহই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান'। [সূরা বাকারা: ২৫৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَإِذْ قَالَ إِبْرَهُمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَى وَلَكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةٌ مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَى كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'যখন ইবরাহীম বলেছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি মৃতকে কীরূপে জীবিত করবে আমাকে দেখাও'। আল্লাহ বললেন, 'তুমি কি বিশ্বাস কর না'? সে আরয করল, 'নিশ্চয়ই, তবে যাতে আমার অন্তঃকরণ স্বস্তি লাভ করে [এজন্য তা দেখতে চাই]'। আল্লাহ বললেন, তাহলে চারটি পাখী নাও এবং তাদেরকে বশীভূত কর। তারপর ওদের এক এক টুকরো প্রত্যেক পাহাড়ের উপর রেখে দাও, অতঃপর সেগুলোকে ডাক দাও, তোমার নিকট দৌড়ে আসবে। জেনে রেখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [সূরা বাকারা: ২৬০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنْزَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَنًا رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا
'আমি এভাবে তাদের ব্যাপারটা লোকেদেরকে ওয়াকিফহাল করে দিলাম যাতে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর ওয়া'দা সত্য, আর ক্বিয়ামাতের দিন সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা [অর্থাৎ নগরবাসীরা] নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করছিল, [কতক] বলল, 'তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর।' তাদের প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে যাদের মতামত প্রাধান্য লাভ করল তারা বলল, 'আমরা তাদের উপর অবশ্যই অবশ্যই মাসজিদ নির্মাণ করব।' [সূরা কাহাফ: ২১]

তিনি বলেন পাঁচটি জিনিস যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। অতপর তিনি পড়লেন-

إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
'কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, জরায়ুতে কী আছে তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, কেউ জানে না কোন্ জায়গায় সে মরবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত।' [লুকমান: ৩৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- আর তারা তোমার কাছে জানতে চায়, 'তা কি সত্য'? বল, 'হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয় তা সত্য এবং তোমরা পরাস্তকারী নও'। [ইউনুস: ৫৩]
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'কাফিররা ধারণা করেছিল যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বল, 'হ্যাঁ, আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা আমল করেছিলে তা অবশ্যই তোমাদের জানানো হবে। আর এটি আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।' [আত তাগাবুন: ৭]
এই তিনটি আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে তার নামে কসম করার আদেশ দিয়েছেন। এর নযির চতুর্থ কোন আয়াত নেই। তবে এর ভাবার্থে আরো অনেক আয়াত আছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَا يَبْعَثُ اللَّهُ مَنْ يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (৩৮) لِيُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ (৩৯) إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
'আর তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মারা যায়, আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। হ্যাঁ, তার নিজের উপরে করা ওয়াদা তিনি সত্যে রূপ দিবে ন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।

যাতে তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে। আর যারা কুফরী করেছে, যেন তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় তারা ছিল মিথ্যাবাদী। যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি, তখন আমার কথা হয় কেবল এই বলা যে, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।' [আন নাহাল: ৩৮-৪০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ
তোমাদের সৃষ্টি ও তোমাদের পুনরুত্থান কেবল একটি প্রাণের [সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের মতই। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, দ্রষ্টা। [লুকমান: ২৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (٥٧) وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَلَا الْمُسِيءُ قَلِيلًا مَا تَتَذَكَّرُونَ إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةً لَا رَيْبَ فِيهَا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
'অবশ্যই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বড় বিষয়; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর সমান হয় না অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা অপরাধী। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।' [গাফের: ৫৭-৫৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا (٢٧) رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا (۲۸) وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا (۲۹) وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا (۳۰) أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا (۳۱) وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا (٣٢) مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ
'তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন। তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন। আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন। এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন। তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি। আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।' [আন নাযিআ'ত: ২৭-৩৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِهِ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ

كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا (۹۷) ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا (۹۸) أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إِلَّا كُفُورًا
'আর আল্লাহ্‌ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তাদের জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।

এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, 'আমরা যখন হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন আমরা কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব'?

তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ্‌ আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? আর তিনি তাদের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যালিমরা কুফরী না করে থাকেনি।' [আল ইসরা: ৯৭-৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (۸۱) إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (۸۲) فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
'যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনিই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী।

তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, কোন কিছুকে তিনি যদি 'হও' বলতে চান, তখনই তা হয়ে যায়।

অতএব পবিত্র মহান তিনি, যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।' [ইয়াসিন: ৮১-৮৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'তারা কি দেখে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর এগুলোর সৃষ্টিতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতদেরকে জীবন দিতে সক্ষম? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।' [আল আহকাফ: ৩৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِنَ الْأَرْضِ إِذَا أَنْتُمْ تَخْرُجُونَ
'আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তাঁরই নির্দেশে আসমান ও যমীন স্থিতিশীল থাকে। তারপর তিনি যখন তোমাদেরকে যমীন থেকে বের হয়ে আসার জন্য একবার আহবান করবেন তখনই তোমরা বের হয়ে আসবে।' [আর রুম: ২৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
'আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন তারপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তো তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। আসমান ও যমীনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [আর রুম: ২৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ (۷۸) قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
'আর সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে, অথচ সে তার নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, 'হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে'? বল, 'যিনি প্রথমবার এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই সেগুলো পুনরায় জীবিত করবেন। আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই সর্বজ্ঞাত।' [ইয়াসিন: ৭৮-৭৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِ الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।' [ফুস্সিলাত:৩৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ تُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِ الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (٦) وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ
'হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে [চিন্তা করে দেখ] আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিণ্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় [আমার শক্তি-ক্ষমতা] তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য। আর আমি যাকে ইচ্ছে করি তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে বের করে আনি শিশুরূপে, অতঃপর [লালন পালন] করি যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তির বয়সে পৌঁছতে পার। তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটাই, আর কতককে ফিরিয়ে দেয়া হয় নিষ্ক্রিয় বার্ধক্যে যাতে [অনেক) জ্ঞান লাভের পরেও তাদের আর কোন জ্ঞান থাকে না। অতঃপর [আরো] তোমরা ভূমিকে দেখ শুষ্ক, মৃত; অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তাতে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, আর তা উদগত করে সকল প্রকার নয়ন জুড়ানো উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায়)। এ রকম হয় এজন্য যে, আল্লাহ হলেন সত্য সঠিক, আর তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
আর কিয়ামাত অবশ্যই আসবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।' [আল হাজ্জঃ ৫-৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ (۱۳) ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ (١٤) ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ (١٥) ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ (١٦) وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ
'আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, অতঃপর মাংসপিন্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, অতঃপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি। কাজেই সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান! এরপর তোমরা অবশ্যই মরবে। তারপর কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। আমি তোমাদের উপরে সপ্তস্তর সৃষ্টি করেছি, আমি [আমার] সৃষ্টির ব্যাপারে অমনোযোগী নই।' [আল মুমিনুন: ১২-১৭]

জমিন ধ্বংসের পরে আবার পুনরায় সজিবতা ফিরে আসার প্রেক্ষাপট দিয়েই আল্লাহ তা'আলা দলিল দিচ্ছেন যে, মৃত্যুর পর দেহগুলি ক্ষয় হয়ে যাওয়ার পর তার থেকেই আবার পুরায় নতুন সৃষ্টির সূচনা ঘটবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন আর তা তার জন্য খুবই সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত তাঁর জন্যই, তিনিই মহাপরাক্রমশালী, বড়ই হিকমতওয়ালা। [আর রুম: ২৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'বল- 'তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর লক্ষ্য কর কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি, আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।' [আল আনকাবুত:২০]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- 'যিনি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে তিনি মৃত ভূ-ভাগকে সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।' [আয যুখরুফ: ১১]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘ সঞ্চার করে, অতঃপর আমি তা নির্জীব ভূখন্ডের দিকে পরিচালিত করি। অতঃপর আমি তা দিয়ে মৃত্তিকাকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করি। এভাবেই [ঘটবে] পুনরুত্থান।' [ফাতির :৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ (٥) خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ (٦) يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ (۷) إِنَّهُ عَلَى رَجْعِهِ لَقَادِرُ (۸) يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ (۹) فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ (۱۰) وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ (۱۱) وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ (١٢) إِنَّهُ لَقَوْلُ فَصْلٌ (۱۳) وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ (١٤) إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا (١٥) وَأَكِيدُ كَيْدًا (١٦) فَمَهْلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا
'অতঃপর মানুষ চিন্তা করে দেখুক কোন জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে বের হয়ে আসা পানি থেকে। যা বের হয় শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মাঝখান থেকে। তিনি মানুষকে আবার [জীবনে] ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই সক্ষম। যেদিন [কাজকর্ম আকীদা বিশ্বাস ও নিয়্যাত সম্পর্কিত] গোপন বিষয়াদি যাচাই পরখ করা হবে। সেদিন মানুষের না থাকবে নিজের কোন সামর্থ্য, আর না থাকবে কোন সাহায্যকারী। ঘুরে ঘুরে আসা বৃষ্টিবাহী আকাশের শপথ, এবং গাছপালার চারা গজানোর সময় বক্ষ বিদীর্ণকারী যমীনের শপথ, [বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে বৃক্ষলতার উৎপাদন যেমন অকাট্য সত্য, তেমনি কুরআন যা ঘোষণা করে তাও অকাট্য সত্য। কুরআন [সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী বাণী, কোন হাসি-ঠাট্টামূলক কথা নয়। এবং তারা [সত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আর আমিও [তাদের অন্যায় ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র ভন্ডুল করার] কৌশল করছি। কাজেই [এই ষড়যন্ত্রকারী] কাফিরদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও।' [আত তারেক: ৫-১৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ حَتَّى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ كَذَلِكَ تُخْرِجُ الْمَوْتَى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
'তিনি তাঁর রহমতের পূর্বে সুসংবাদের ঘোষক হিসেবে বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর যখন তা মেঘের ভারী বোঝা বহন করে, তখন আমি তাকে মৃত ভূখণ্ডের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাই, যাথেকে আমি পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তাথেকে আমি সর্বপ্রকার ফল উৎপন্ন করি। এভাবেই আমি মৃতকে জীবিত করি যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।' [আল আরাফ : ৫৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ذَلِكَ رَجْعُ بَعِيدُ (۳) قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ وَعِنْدَنَا كِتَابٌ حَفِيظٌ
'আমরা যখন মরে যাব আর মাটি হয়ে যাব [তখন আমাদেরকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে]? এ ফিরে যাওয়াটা তো বহু দূরের ব্যাপার। আমি জানি মাটি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে আর আমার কাছে আছে এক কিতাব যা [সব কিছুর পূর্ণ বিবরণ] সংরক্ষণ করে।' [ক্বাফ: ৩-৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ (٥٧) أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ (٥٨) أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ (٥٩) نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ (٦٠) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ
'আমিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাহলে তোমরা সত্যকে বিশ্বাস করবে না কেন? তোমরা কি ভেবে দেখেছ- তোমরা যে বীর্য নিক্ষেপ কর, তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না তার সৃষ্টিকর্তা আমিই।

তোমাদের মধ্যে মৃত্যু আমিই নির্ধারণ করি, আর আমি কিছুমাত্র অক্ষম নই।
তোমাদের আকার আকৃতি পরিবর্তন করতে আর তোমাদেরকে [নতুনভাবে] এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
তোমরা তোমাদের প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে অবশ্যই জান তাহলে [আল্লাহ যে তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম এ কথা] তোমরা অনুধাবন কর না কেন?' [আল ওয়াকিয়াহ্: ৫৭-৬২]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِمَّا يَعْلَمُونَ (۳۹) فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ (٤٠) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ خَيْرًا مِنْهُمْ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
'কখনো না, আমি তাদেরকে কী থেকে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে [এমন নগণ্য বস্তু থেকে সৃষ্ট মানুষ কেবল মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার কারণেই জান্নাতে চলে যাবে এ রকম লোভ করা বড়ই অবিবেচনাপ্রসূত ব্যাপার]।

আমি শপথ করছি উদয়স্থানসমূহের ও অস্তাচলসমূহের রব্বের-আমি অবশ্যই সক্ষম। তাদের পরিবর্তে তাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট মানুষ বানাতে, আমাকে পরাস্ত করবে এমন কেউ নেই।' [আল মা'আরিজ: ৩৯-৪১]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا (٤٩) قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا (٥٠) أَوْ خَلْقًا مِمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَنْ يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَرِيبٌ

'তারা বলে, 'কী! আমরা হাড্ডি আর ধূলা-মাটিতে পরিণত হওয়ার পর কি এক নতুন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হব?'
বল, 'তোমরা যদি পাথর কিংবা লোহাও হয়ে যাও,

অথবা এমন কিছু যা তোমাদের ধারণায় [জীবিত হওয়া] খুবই কঠিন [তবুও তোমাদেরকে উঠানো হবে]।' তারা বলবে, 'কে আছে এমন যে আমাদেরকে পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে আনবে?' বল, 'তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি

করেছেন।' তখন তারা [ঠাট্টার ছলে] তোমার সামনে মাথা নাড়বে আর বলবে, 'সেটা কখন ঘটবে?' বল, 'হতে পারে সেটা শীঘ্রই ঘটবে।'

যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন আর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে আর তোমরা ধারণা করবে যে, তোমরা খুব অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে।' [আল ইসরা: ৪৯-৫২]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَرِهِمْ وَهُمْ أُلُوفُ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيُهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ
'তুমি কি সেই লোকদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা মৃত্যুকে এড়ানোর জন্য নিজেদের ঘর থেকে হাজারে হাজারে বের হয়ে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন, 'তোমাদের মৃত্যু হোক'। তৎপর তাদেরকে জীবিত করে উঠালেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ লোকেদের প্রতি দয়াশীল কিন্তু অধিকাংশ লোক শোকর করে না।' [সূরা বাকারা: ২৪৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّى يُحْيِ هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ، قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ، قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ ، وَانظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةً لِّلنَّاسِ * وَانظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا. فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'কিংবা এমন ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে [তুমি কি চিন্তা করনি। যে এক নগর দিয়ে এমন অবস্থায় যাচ্ছিল যে তা উজাড় অবস্থায় ছিল। সে বলল, 'আল্লাহ এ নগরীকে এর মৃত্যুর পরে কীভাবে জীবিত করবেন'? তখন আল্লাহ তাকে একশ' বছর মৃত রাখলেন। তারপর তাকে জীবিত করে তুললেন ও জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি এ অবস্থায় কতকাল ছিলে'? সে বলল, 'একদিন ছিলাম কিংবা একদিন হতেও কম'। আল্লাহ বললেন, 'বরং তুমি একশ' বছর ছিলে, এখানে তুমি তোমার খাদ্যের ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর, এটা পচে যায়নি। আর গাধাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, আর এতে উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাকে মানুষের জন্য উদাহরণ করব। আবার তুমি হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে ওগুলো জোড়া লাগিয়ে দেই, তারপর গোশত দ্বারা ঢেকে দেই।

এরপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, 'এখন আমি পূর্ণ বিশ্বাস করছি যে, আল্লাহই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান'। [সূরা বাকারা: ২৫৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَإِذْ قَالَ إِبْرَهُمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَى وَلَكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةٌ مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَى كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'যখন ইবরাহীম বলেছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি মৃতকে কীরূপে জীবিত করবে আমাকে দেখাও'। আল্লাহ বললেন, 'তুমি কি বিশ্বাস কর না'? সে আরয করল, 'নিশ্চয়ই, তবে যাতে আমার অন্তঃকরণ স্বস্তি লাভ করে [এজন্য তা দেখতে চাই]'। আল্লাহ বললেন, তাহলে চারটি পাখী নাও এবং তাদেরকে বশীভূত কর। তারপর ওদের এক এক টুকরো প্রত্যেক পাহাড়ের উপর রেখে দাও, অতঃপর সেগুলোকে ডাক দাও, তোমার নিকট দৌড়ে আসবে। জেনে রেখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [সূরা বাকারা: ২৬০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنْزَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَنًا رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا
'আমি এভাবে তাদের ব্যাপারটা লোকেদেরকে ওয়াকিফহাল করে দিলাম যাতে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর ওয়া'দা সত্য, আর ক্বিয়ামাতের দিন সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা [অর্থাৎ নগরবাসীরা] নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করছিল, [কতক] বলল, 'তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর।' তাদের প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে যাদের মতামত প্রাধান্য লাভ করল তারা বলল, 'আমরা তাদের উপর অবশ্যই অবশ্যই মাসজিদ নির্মাণ করব।' [সূরা কাহাফ: ২১]

তিনি বলেন পাঁচটি জিনিস যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। অতপর তিনি পড়লেন-

إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
'কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, জরায়ুতে কী আছে তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, কেউ জানে না কোন্ জায়গায় সে মরবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত।' [লুকমান: ৩৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- আর তারা তোমার কাছে জানতে চায়, 'তা কি সত্য'? বল, 'হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয় তা সত্য এবং তোমরা পরাস্তকারী নও'। [ইউনুস: ৫৩]
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'কাফিররা ধারণা করেছিল যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বল, 'হ্যাঁ, আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা আমল করেছিলে তা অবশ্যই তোমাদের জানানো হবে। আর এটি আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।' [আত তাগাবুন: ৭]
এই তিনটি আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে তার নামে কসম করার আদেশ দিয়েছেন। এর নযির চতুর্থ কোন আয়াত নেই। তবে এর ভাবার্থে আরো অনেক আয়াত আছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَا يَبْعَثُ اللَّهُ مَنْ يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (৩৮) لِيُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ (৩৯) إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
'আর তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মারা যায়, আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। হ্যাঁ, তার নিজের উপরে করা ওয়াদা তিনি সত্যে রূপ দিবে ন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।

যাতে তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে। আর যারা কুফরী করেছে, যেন তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় তারা ছিল মিথ্যাবাদী। যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি, তখন আমার কথা হয় কেবল এই বলা যে, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।' [আন নাহাল: ৩৮-৪০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ
তোমাদের সৃষ্টি ও তোমাদের পুনরুত্থান কেবল একটি প্রাণের [সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের মতই। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, দ্রষ্টা। [লুকমান: ২৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ (٥٧) وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَلَا الْمُسِيءُ قَلِيلًا مَا تَتَذَكَّرُونَ إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةً لَا رَيْبَ فِيهَا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
'অবশ্যই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বড় বিষয়; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। আর সমান হয় না অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা অপরাধী। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।' [গাফের: ৫৭-৫৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا (٢٧) رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا (۲۸) وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا (۲۹) وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا (۳۰) أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا (۳۱) وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا (٣٢) مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ
'তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন। তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন। আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন। এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন। তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি। আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।' [আন নাযিআ'ত: ২৭-৩৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِهِ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ

كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا (۹۷) ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا (۹۸) أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إِلَّا كُفُورًا
'আর আল্লাহ্‌ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তাদের জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।

এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, 'আমরা যখন হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন আমরা কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব'?

তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ্‌ আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? আর তিনি তাদের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যালিমরা কুফরী না করে থাকেনি।' [আল ইসরা: ৯৭-৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (۸۱) إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (۸۲) فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
'যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনিই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী।

তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, কোন কিছুকে তিনি যদি 'হও' বলতে চান, তখনই তা হয়ে যায়।

অতএব পবিত্র মহান তিনি, যার হাতে রয়েছে সকল কিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।' [ইয়াসিন: ৮১-৮৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'তারা কি দেখে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর এগুলোর সৃষ্টিতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতদেরকে জীবন দিতে সক্ষম? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।' [আল আহকাফ: ৩৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً مِنَ الْأَرْضِ إِذَا أَنْتُمْ تَخْرُجُونَ
'আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তাঁরই নির্দেশে আসমান ও যমীন স্থিতিশীল থাকে। তারপর তিনি যখন তোমাদেরকে যমীন থেকে বের হয়ে আসার জন্য একবার আহবান করবেন তখনই তোমরা বের হয়ে আসবে।' [আর রুম: ২৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
'আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন তারপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তো তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। আসমান ও যমীনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [আর রুম: ২৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ (۷۸) قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
'আর সে আমার উদ্দেশ্যে উপমা পেশ করে, অথচ সে তার নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে, 'হাড়গুলো জরাজীর্ণ হওয়া অবস্থায় কে সেগুলো জীবিত করবে'? বল, 'যিনি প্রথমবার এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই সেগুলো পুনরায় জীবিত করবেন। আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই সর্বজ্ঞাত।' [ইয়াসিন: ৭৮-৭৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِ الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।' [ফুস্সিলাত:৩৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ تُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِ الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (٦) وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ
'হে মানুষ! পুনরুত্থানের ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দিহান হও, তাহলে [চিন্তা করে দেখ] আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর শুক্র হতে, অতঃপর জমাট রক্ত থেকে, অতঃপর মাংসপিণ্ড হতে পূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট বা অপূর্ণ আকৃতিবিশিষ্ট অবস্থায় [আমার শক্তি-ক্ষমতা] তোমাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য। আর আমি যাকে ইচ্ছে করি তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে বের করে আনি শিশুরূপে, অতঃপর [লালন পালন] করি যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তির বয়সে পৌঁছতে পার। তোমাদের কারো কারো মৃত্যু ঘটাই, আর কতককে ফিরিয়ে দেয়া হয় নিষ্ক্রিয় বার্ধক্যে যাতে [অনেক) জ্ঞান লাভের পরেও তাদের আর কোন জ্ঞান থাকে না। অতঃপর [আরো] তোমরা ভূমিকে দেখ শুষ্ক, মৃত; অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তাতে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, আর তা উদগত করে সকল প্রকার নয়ন জুড়ানো উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায়)। এ রকম হয় এজন্য যে, আল্লাহ হলেন সত্য সঠিক, আর তিনিই মৃতকে জীবিত করেন, আর তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
আর কিয়ামাত অবশ্যই আসবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন।' [আল হাজ্জঃ ৫-৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ (۱۳) ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ (١٤) ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ (١٥) ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ (١٦) وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ
'আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, অতঃপর মাংসপিন্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, অতঃপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি। কাজেই সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান! এরপর তোমরা অবশ্যই মরবে। তারপর কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। আমি তোমাদের উপরে সপ্তস্তর সৃষ্টি করেছি, আমি [আমার] সৃষ্টির ব্যাপারে অমনোযোগী নই।' [আল মুমিনুন: ১২-১৭]

জমিন ধ্বংসের পরে আবার পুনরায় সজিবতা ফিরে আসার প্রেক্ষাপট দিয়েই আল্লাহ তা'আলা দলিল দিচ্ছেন যে, মৃত্যুর পর দেহগুলি ক্ষয় হয়ে যাওয়ার পর তার থেকেই আবার পুরায় নতুন সৃষ্টির সূচনা ঘটবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন আর তা তার জন্য খুবই সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত তাঁর জন্যই, তিনিই মহাপরাক্রমশালী, বড়ই হিকমতওয়ালা। [আর রুম: ২৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'বল- 'তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর লক্ষ্য কর কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহ সৃষ্টি করবেন পরবর্তী সৃষ্টি, আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।' [আল আনকাবুত:২০]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- 'যিনি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করেন যা দিয়ে তিনি মৃত ভূ-ভাগকে সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে।' [আয যুখরুফ: ১১]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- 'আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘ সঞ্চার করে, অতঃপর আমি তা নির্জীব ভূখন্ডের দিকে পরিচালিত করি। অতঃপর আমি তা দিয়ে মৃত্তিকাকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করি। এভাবেই [ঘটবে] পুনরুত্থান।' [ফাতির :৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ (٥) خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ (٦) يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ (۷) إِنَّهُ عَلَى رَجْعِهِ لَقَادِرُ (۸) يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ (۹) فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ (۱۰) وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ (۱۱) وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ (١٢) إِنَّهُ لَقَوْلُ فَصْلٌ (۱۳) وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ (١٤) إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا (١٥) وَأَكِيدُ كَيْدًا (١٦) فَمَهْلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا
'অতঃপর মানুষ চিন্তা করে দেখুক কোন জিনিস থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে বের হয়ে আসা পানি থেকে। যা বের হয় শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মাঝখান থেকে। তিনি মানুষকে আবার [জীবনে] ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই সক্ষম। যেদিন [কাজকর্ম আকীদা বিশ্বাস ও নিয়্যাত সম্পর্কিত] গোপন বিষয়াদি যাচাই পরখ করা হবে। সেদিন মানুষের না থাকবে নিজের কোন সামর্থ্য, আর না থাকবে কোন সাহায্যকারী। ঘুরে ঘুরে আসা বৃষ্টিবাহী আকাশের শপথ, এবং গাছপালার চারা গজানোর সময় বক্ষ বিদীর্ণকারী যমীনের শপথ, [বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে বৃক্ষলতার উৎপাদন যেমন অকাট্য সত্য, তেমনি কুরআন যা ঘোষণা করে তাও অকাট্য সত্য। কুরআন [সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী বাণী, কোন হাসি-ঠাট্টামূলক কথা নয়। এবং তারা [সত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আর আমিও [তাদের অন্যায় ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র ভন্ডুল করার] কৌশল করছি। কাজেই [এই ষড়যন্ত্রকারী] কাফিরদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও।' [আত তারেক: ৫-১৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ حَتَّى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ كَذَلِكَ تُخْرِجُ الْمَوْتَى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
'তিনি তাঁর রহমতের পূর্বে সুসংবাদের ঘোষক হিসেবে বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর যখন তা মেঘের ভারী বোঝা বহন করে, তখন আমি তাকে মৃত ভূখণ্ডের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাই, যাথেকে আমি পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তাথেকে আমি সর্বপ্রকার ফল উৎপন্ন করি। এভাবেই আমি মৃতকে জীবিত করি যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।' [আল আরাফ : ৫৭]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ذَلِكَ رَجْعُ بَعِيدُ (۳) قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ وَعِنْدَنَا كِتَابٌ حَفِيظٌ
'আমরা যখন মরে যাব আর মাটি হয়ে যাব [তখন আমাদেরকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে]? এ ফিরে যাওয়াটা তো বহু দূরের ব্যাপার। আমি জানি মাটি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে আর আমার কাছে আছে এক কিতাব যা [সব কিছুর পূর্ণ বিবরণ] সংরক্ষণ করে।' [ক্বাফ: ৩-৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ (٥٧) أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ (٥٨) أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ (٥٩) نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ (٦٠) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ
'আমিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাহলে তোমরা সত্যকে বিশ্বাস করবে না কেন? তোমরা কি ভেবে দেখেছ- তোমরা যে বীর্য নিক্ষেপ কর, তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না তার সৃষ্টিকর্তা আমিই।

তোমাদের মধ্যে মৃত্যু আমিই নির্ধারণ করি, আর আমি কিছুমাত্র অক্ষম নই।
তোমাদের আকার আকৃতি পরিবর্তন করতে আর তোমাদেরকে [নতুনভাবে] এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
তোমরা তোমাদের প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে অবশ্যই জান তাহলে [আল্লাহ যে তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম এ কথা] তোমরা অনুধাবন কর না কেন?' [আল ওয়াকিয়াহ্: ৫৭-৬২]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِمَّا يَعْلَمُونَ (۳۹) فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ (٤٠) عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ خَيْرًا مِنْهُمْ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
'কখনো না, আমি তাদেরকে কী থেকে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে [এমন নগণ্য বস্তু থেকে সৃষ্ট মানুষ কেবল মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার কারণেই জান্নাতে চলে যাবে এ রকম লোভ করা বড়ই অবিবেচনাপ্রসূত ব্যাপার]।

আমি শপথ করছি উদয়স্থানসমূহের ও অস্তাচলসমূহের রব্বের-আমি অবশ্যই সক্ষম। তাদের পরিবর্তে তাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট মানুষ বানাতে, আমাকে পরাস্ত করবে এমন কেউ নেই।' [আল মা'আরিজ: ৩৯-৪১]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا (٤٩) قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا (٥٠) أَوْ خَلْقًا مِمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَنْ يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَرِيبٌ

'তারা বলে, 'কী! আমরা হাড্ডি আর ধূলা-মাটিতে পরিণত হওয়ার পর কি এক নতুন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হব?'
বল, 'তোমরা যদি পাথর কিংবা লোহাও হয়ে যাও,

অথবা এমন কিছু যা তোমাদের ধারণায় [জীবিত হওয়া] খুবই কঠিন [তবুও তোমাদেরকে উঠানো হবে]।' তারা বলবে, 'কে আছে এমন যে আমাদেরকে পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে আনবে?' বল, 'তিনিই যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি

করেছেন।' তখন তারা [ঠাট্টার ছলে] তোমার সামনে মাথা নাড়বে আর বলবে, 'সেটা কখন ঘটবে?' বল, 'হতে পারে সেটা শীঘ্রই ঘটবে।'

যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন আর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে আর তোমরা ধারণা করবে যে, তোমরা খুব অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে।' [আল ইসরা: ৪৯-৫২]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِن دِيَرِهِمْ وَهُمْ أُلُوفُ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيُهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ
'তুমি কি সেই লোকদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা মৃত্যুকে এড়ানোর জন্য নিজেদের ঘর থেকে হাজারে হাজারে বের হয়ে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন, 'তোমাদের মৃত্যু হোক'। তৎপর তাদেরকে জীবিত করে উঠালেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ লোকেদের প্রতি দয়াশীল কিন্তু অধিকাংশ লোক শোকর করে না।' [সূরা বাকারা: ২৪৩]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّى يُحْيِ هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ، قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ، قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَل لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ ، وَانظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ ءَايَةً لِّلنَّاسِ * وَانظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا. فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'কিংবা এমন ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে [তুমি কি চিন্তা করনি। যে এক নগর দিয়ে এমন অবস্থায় যাচ্ছিল যে তা উজাড় অবস্থায় ছিল। সে বলল, 'আল্লাহ এ নগরীকে এর মৃত্যুর পরে কীভাবে জীবিত করবেন'? তখন আল্লাহ তাকে একশ' বছর মৃত রাখলেন। তারপর তাকে জীবিত করে তুললেন ও জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি এ অবস্থায় কতকাল ছিলে'? সে বলল, 'একদিন ছিলাম কিংবা একদিন হতেও কম'। আল্লাহ বললেন, 'বরং তুমি একশ' বছর ছিলে, এখানে তুমি তোমার খাদ্যের ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর, এটা পচে যায়নি। আর গাধাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, আর এতে উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাকে মানুষের জন্য উদাহরণ করব। আবার তুমি হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে ওগুলো জোড়া লাগিয়ে দেই, তারপর গোশত দ্বারা ঢেকে দেই।

এরপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, 'এখন আমি পূর্ণ বিশ্বাস করছি যে, আল্লাহই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান'। [সূরা বাকারা: ২৫৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَإِذْ قَالَ إِبْرَهُمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَى وَلَكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةٌ مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَى كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'যখন ইবরাহীম বলেছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি মৃতকে কীরূপে জীবিত করবে আমাকে দেখাও'। আল্লাহ বললেন, 'তুমি কি বিশ্বাস কর না'? সে আরয করল, 'নিশ্চয়ই, তবে যাতে আমার অন্তঃকরণ স্বস্তি লাভ করে [এজন্য তা দেখতে চাই]'। আল্লাহ বললেন, তাহলে চারটি পাখী নাও এবং তাদেরকে বশীভূত কর। তারপর ওদের এক এক টুকরো প্রত্যেক পাহাড়ের উপর রেখে দাও, অতঃপর সেগুলোকে ডাক দাও, তোমার নিকট দৌড়ে আসবে। জেনে রেখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [সূরা বাকারা: ২৬০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنْزَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَنًا رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا
'আমি এভাবে তাদের ব্যাপারটা লোকেদেরকে ওয়াকিফহাল করে দিলাম যাতে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর ওয়া'দা সত্য, আর ক্বিয়ামাতের দিন সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা [অর্থাৎ নগরবাসীরা] নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করছিল, [কতক] বলল, 'তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর।' তাদের প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে যাদের মতামত প্রাধান্য লাভ করল তারা বলল, 'আমরা তাদের উপর অবশ্যই অবশ্যই মাসজিদ নির্মাণ করব।' [সূরা কাহাফ: ২১]

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 দুনিয়ার অন্তিম পরাজয় ও পরকালের পথে যাত্রা

📄 দুনিয়ার অন্তিম পরাজয় ও পরকালের পথে যাত্রা


কিয়ামতের সবগুলো শর্ত বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটি মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বে তা হল কিয়ামতের আতঙ্কের ঘন্টা। এমতাবস্থায় আল্লাহ হযরত ইসরাফীল আ.-কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শিংগার ফুক দেয়ার নির্দেশ দিবে ন। তা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তখনই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। পৃথিবীর মানুষের কেউই থাকবে না সেদিন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (۸۷) ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।' [আন নাম: ৮৭-৮৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا يَنظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ

[আজ] এই লোকেরা তো প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [ছোয়াদঃ১৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ 'যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে।' فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمُ عَسِيرُ 'সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন।' [আল মুদ্দাসির: ৮-৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِةُ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
'তিনি আসমান আর যমীনকে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি করেছেন [খেলা-তামাশার জন্য নয়]। আর যখনই তিনি বলবেন, [কিয়ামাত] 'হও', তখনই তা হয়ে যাবে, তাঁর কথাই প্রকৃত সত্য। যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে। অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল, তিনি হিকমাতওয়ালা, সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সবিশেষ জ্ঞাত।' [আন'আম: ৭৩]

এরপর অনেক সময় পর আল্লাহ শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ করবেন। তখন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠবে। তবে আল্লাহ যাকে চান সে ব্যতীত। অতপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ দিবেন। এর ফলে সবাই কবর থেকে উঠে মহান আল্লাহর পানে দাঁড়িয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَواتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فيه أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন মুর্ছিত হয়ে পড়বে যারা আছে আকাশে আর যারা আছে যমীনে, তবে আল্লাহর ইচ্ছেয় এথেকে যে রেহাই পাবে তার কথা ভিন্ন। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।'

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَبُ وَجَاءَءَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
'পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে ঝলমল করে উঠবে, আর 'আমালনামা সামনে আনা হবে। নবিগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে। সকলের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।'

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
'প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। লোকেরা যা করে তা তিনি খুব ভালভাবেই জানেন।' [আয যুমার: ৬৮-৭০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ 'আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, [কিয়ামতের] এ ও'য়াদা কখন পূর্ণ হবে?'
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةٌ تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَحْصِمُونَ 'তারা যে জন্য অপেক্ষা করছে সেটাতো একটা প্রচণ্ড শব্দ যা তাদেরকে পাকড়াও করবে যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত থাকবে।'

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ '[কিয়ামত এমনই হঠাৎ আক্রমণ করবে যে] তারা না পারবে ওসীয়াত করতে আর না পারবে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে।'

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ 'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।'

قَالُوا يُوَيْلَنَا مَنهُ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ي هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ 'তারা বলবে, 'হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? [তাদেরকে জবাব দেয়া হবে] “এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও'য়াদা দিয়েছিলেন, আর রাসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।'

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ 'মাত্র একটা প্রচণ্ড শব্দ হবে, তখনি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।'

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে 'আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।' [সূরা ইয়াসিন: ৪৮-৫৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَحِدَةٌ
'ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ।'

فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ

'সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।' [আন নাযিআত: ১৩-১৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন—
وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ
'আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।' [আল ক্বমার:৫০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًا
'আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।' [আল কাহাফ: ৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَحِدَةٌ
'অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।'

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٌ وَحِدَةٌ
'পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।'

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
'সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য [মহা] ঘটনা।'

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
'আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।'

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا ، وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمُنِيَةٌ
'ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের 'আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।'

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

'সেদিন তোমাদেরকে [বিচারের জন্য] হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।' [আল হাককাহ্: ১৩-১৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
'সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে।'

وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبُوبًا
'আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।'

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
'আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।' [আন নাবা: ১৮-১৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ، وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا
'যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব [ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত] দৃষ্টিহীন অবস্থায়।' [ত্বহা: ১০২]

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِي، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا الصُّورُ قَالَ " قَرْنُ يُنْفَخُ فِيهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন এক গ্রাম্য লোক নাবীর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট এসে প্রশ্ন করল, শিঙ্গা কি? তিনি বললেন, এটা একটা শিং যাতে ফুৎকার দেয়া হবে।

আমাদের বর্তমান যুগটি চলছে 'ফিতনার যুগ'। চারদিকে ফিতনা আর ফিতনা। আমাবশ্যা রাতের মত চারদিক থেকে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সবখানে রয়েছে ফিতনার আগ্রাসন। ফিতনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে শোনা যায় ফিতনার বজ্রধ্বনি। ফিতনার আর্তচিৎকার।
আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ফিতনা সর্ম্পকে বলে গিয়েছেন। উম্মাহকে আগত সকল ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সচেতন করেছেন। ফিতনা থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক তাগিদ দিয়েছেন। তাই আমাদের সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ফিতনাময় দিনে ফিতনা থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে রবের আহবানে সাড়া দিতে হবে।
আখেরী জামানার ফিতনাগুলো এত ভয়াবহ ও ঈমান বিধ্বংসী যে, লোকেরা দিনের শুরুতে মুসলিম থাকবে, কিন্তু দিনশেষে সে হয়ে যাবে কাফির। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'আধাঁর রাতের মতো ফিতনাহ আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।' [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৩]
তাই যুগের ফিতনা সম্পর্কে আমাদের জানা কর্তব্য। যদি কেউ ফিতনা সম্পর্কেই না জানে, তাহলে সে কীভাবে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচাবে? কীভাবে সে তার পরিবার-পরিজন, সমাজ, রাষ্ট্রকে বাচাঁবে? সুতরাং ফিতনা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোন। ফিতনার যাবতীয় বিষয়গুলো জানতে ও ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় জানাতে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনু কাসির . রচনা করেছেন—'আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম'। এ গ্রন্থটির অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনা বুখারি, মুসলিম এবং সিহাহে সিত্তা থেকে চয়ন করা হয়েছে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—'আল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন-এ হাদিসটি হাসান। একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত- তাইমীর সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদিসটি শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি। সুনানুত তিরমিযি: ২৪৩০।

কিয়ামতের সবগুলো শর্ত বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটি মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বে তা হল কিয়ামতের আতঙ্কের ঘন্টা। এমতাবস্থায় আল্লাহ হযরত ইসরাফীল আ.-কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শিংগার ফুক দেয়ার নির্দেশ দিবে ন। তা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তখনই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। পৃথিবীর মানুষের কেউই থাকবে না সেদিন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (۸۷) ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।' [আন নাম: ৮৭-৮৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا يَنظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ

[আজ] এই লোকেরা তো প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [ছোয়াদঃ১৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ 'যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে।' فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمُ عَسِيرُ 'সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন।' [আল মুদ্দাসির: ৮-৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِةُ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
'তিনি আসমান আর যমীনকে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি করেছেন [খেলা-তামাশার জন্য নয়]। আর যখনই তিনি বলবেন, [কিয়ামাত] 'হও', তখনই তা হয়ে যাবে, তাঁর কথাই প্রকৃত সত্য। যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে। অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল, তিনি হিকমাতওয়ালা, সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সবিশেষ জ্ঞাত।' [আন'আম: ৭৩]

এরপর অনেক সময় পর আল্লাহ শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ করবেন। তখন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠবে। তবে আল্লাহ যাকে চান সে ব্যতীত। অতপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ দিবেন। এর ফলে সবাই কবর থেকে উঠে মহান আল্লাহর পানে দাঁড়িয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَواتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فيه أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন মুর্ছিত হয়ে পড়বে যারা আছে আকাশে আর যারা আছে যমীনে, তবে আল্লাহর ইচ্ছেয় এথেকে যে রেহাই পাবে তার কথা ভিন্ন। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।'

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَبُ وَجَاءَءَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
'পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে ঝলমল করে উঠবে, আর 'আমালনামা সামনে আনা হবে। নবিগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে। সকলের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।'

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
'প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। লোকেরা যা করে তা তিনি খুব ভালভাবেই জানেন।' [আয যুমার: ৬৮-৭০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ 'আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, [কিয়ামতের] এ ও'য়াদা কখন পূর্ণ হবে?'
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةٌ تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَحْصِمُونَ 'তারা যে জন্য অপেক্ষা করছে সেটাতো একটা প্রচণ্ড শব্দ যা তাদেরকে পাকড়াও করবে যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত থাকবে।'

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ '[কিয়ামত এমনই হঠাৎ আক্রমণ করবে যে] তারা না পারবে ওসীয়াত করতে আর না পারবে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে।'

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ 'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।'

قَالُوا يُوَيْلَنَا مَنهُ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ي هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ 'তারা বলবে, 'হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? [তাদেরকে জবাব দেয়া হবে] “এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও'য়াদা দিয়েছিলেন, আর রাসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।'

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ 'মাত্র একটা প্রচণ্ড শব্দ হবে, তখনি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।'

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে 'আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।' [সূরা ইয়াসিন: ৪৮-৫৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَحِدَةٌ
'ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ।'

فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ

'সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।' [আন নাযিআত: ১৩-১৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন—
وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ
'আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।' [আল ক্বমার:৫০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًا
'আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।' [আল কাহাফ: ৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَحِدَةٌ
'অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।'

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٌ وَحِدَةٌ
'পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।'

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
'সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য [মহা] ঘটনা।'

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
'আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।'

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا ، وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمُنِيَةٌ
'ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের 'আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।'

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

'সেদিন তোমাদেরকে [বিচারের জন্য] হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।' [আল হাককাহ্: ১৩-১৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
'সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে।'

وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبُوبًا
'আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।'

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
'আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।' [আন নাবা: ১৮-১৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ، وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا
'যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব [ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত] দৃষ্টিহীন অবস্থায়।' [ত্বহা: ১০২]

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِي، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا الصُّورُ قَالَ " قَرْنُ يُنْفَخُ فِيهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন এক গ্রাম্য লোক নাবীর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট এসে প্রশ্ন করল, শিঙ্গা কি? তিনি বললেন, এটা একটা শিং যাতে ফুৎকার দেয়া হবে।

আমাদের বর্তমান যুগটি চলছে 'ফিতনার যুগ'। চারদিকে ফিতনা আর ফিতনা। আমাবশ্যা রাতের মত চারদিক থেকে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সবখানে রয়েছে ফিতনার আগ্রাসন। ফিতনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে শোনা যায় ফিতনার বজ্রধ্বনি। ফিতনার আর্তচিৎকার।
আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ফিতনা সর্ম্পকে বলে গিয়েছেন। উম্মাহকে আগত সকল ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সচেতন করেছেন। ফিতনা থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক তাগিদ দিয়েছেন। তাই আমাদের সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ফিতনাময় দিনে ফিতনা থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে রবের আহবানে সাড়া দিতে হবে।
আখেরী জামানার ফিতনাগুলো এত ভয়াবহ ও ঈমান বিধ্বংসী যে, লোকেরা দিনের শুরুতে মুসলিম থাকবে, কিন্তু দিনশেষে সে হয়ে যাবে কাফির। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'আধাঁর রাতের মতো ফিতনাহ আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।' [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৩]
তাই যুগের ফিতনা সম্পর্কে আমাদের জানা কর্তব্য। যদি কেউ ফিতনা সম্পর্কেই না জানে, তাহলে সে কীভাবে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচাবে? কীভাবে সে তার পরিবার-পরিজন, সমাজ, রাষ্ট্রকে বাচাঁবে? সুতরাং ফিতনা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোন। ফিতনার যাবতীয় বিষয়গুলো জানতে ও ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় জানাতে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনু কাসির . রচনা করেছেন—'আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম'। এ গ্রন্থটির অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনা বুখারি, মুসলিম এবং সিহাহে সিত্তা থেকে চয়ন করা হয়েছে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—'আল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন-এ হাদিসটি হাসান। একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত- তাইমীর সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদিসটি শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি। সুনানুত তিরমিযি: ২৪৩০।

কিয়ামতের সবগুলো শর্ত বাস্তবায়ন হওয়ার পর প্রথম যে জিনিসটি মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বে তা হল কিয়ামতের আতঙ্কের ঘন্টা। এমতাবস্থায় আল্লাহ হযরত ইসরাফীল আ.-কে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শিংগার ফুক দেয়ার নির্দেশ দিবে ন। তা দীর্ঘ হতেই থাকবে। তখনই শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যে এ আওয়াজ শুনবে সে তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্যদিকে উত্তোলন করবে। পৃথিবীর মানুষের কেউই থাকবে না সেদিন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (۸۷) ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সেদিন যারা আকাশে আছে আর যারা যমীনে আছে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের জন্য ইচ্ছে করবেন তারা বাদে। সবাই তাঁর কাছে আসবে বিনয়ে অবনত হয়ে।

তুমি পর্বতগুলোকে দেখ আর মনে কর তা অচল, কিন্তু সেগুলো চলমান হবে যেমন মেঘমালা চলে। এটা আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন যথাযথ। তোমরা যা কিছু কর সে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণরূপে অবগত।' [আন নাম: ৮৭-৮৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا يَنظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَحِدَةً مَّا لَهَا مِن فَوَاقٍ

[আজ] এই লোকেরা তো প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [ছোয়াদঃ১৫]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ 'যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে।' فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمُ عَسِيرُ 'সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন।' [আল মুদ্দাসির: ৮-৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِةُ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهْدَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
'তিনি আসমান আর যমীনকে সত্যিকারভাবে সৃষ্টি করেছেন [খেলা-তামাশার জন্য নয়]। আর যখনই তিনি বলবেন, [কিয়ামাত] 'হও', তখনই তা হয়ে যাবে, তাঁর কথাই প্রকৃত সত্য। যেদিন সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে। অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল, তিনি হিকমাতওয়ালা, সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সবিশেষ জ্ঞাত।' [আন'আম: ৭৩]

এরপর অনেক সময় পর আল্লাহ শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ করবেন। তখন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠবে। তবে আল্লাহ যাকে চান সে ব্যতীত। অতপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুৎকার দেয়ার আদেশ দিবেন। এর ফলে সবাই কবর থেকে উঠে মহান আল্লাহর পানে দাঁড়িয়ে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَواتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فيه أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ
'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে তখন মুর্ছিত হয়ে পড়বে যারা আছে আকাশে আর যারা আছে যমীনে, তবে আল্লাহর ইচ্ছেয় এথেকে যে রেহাই পাবে তার কথা ভিন্ন। অতঃপর শিঙ্গায় আবার ফুঁ দেয়া হবে, তখন তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।'

وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتَبُ وَجَاءَءَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُم بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
'পৃথিবী তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে ঝলমল করে উঠবে, আর 'আমালনামা সামনে আনা হবে। নবিগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে। সকলের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করা হবে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।'

وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا يَفْعَلُونَ
'প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে। লোকেরা যা করে তা তিনি খুব ভালভাবেই জানেন।' [আয যুমার: ৬৮-৭০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَدِقِينَ 'আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, [কিয়ামতের] এ ও'য়াদা কখন পূর্ণ হবে?'
مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةٌ تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَحْصِمُونَ 'তারা যে জন্য অপেক্ষা করছে সেটাতো একটা প্রচণ্ড শব্দ যা তাদেরকে পাকড়াও করবে যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত থাকবে।'

فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ '[কিয়ামত এমনই হঠাৎ আক্রমণ করবে যে] তারা না পারবে ওসীয়াত করতে আর না পারবে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে যেতে।'

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ 'আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।'

قَالُوا يُوَيْلَنَا مَنهُ بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا ي هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ 'তারা বলবে, 'হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? [তাদেরকে জবাব দেয়া হবে] “এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও'য়াদা দিয়েছিলেন, আর রাসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।'

إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةٌ وَحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ 'মাত্র একটা প্রচণ্ড শব্দ হবে, তখনি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।'

فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে 'আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।' [সূরা ইয়াসিন: ৪৮-৫৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَحِدَةٌ
'ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ।'

فَإِذَا هُم بِالسَّاهِرَةِ

'সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে।' [আন নাযিআত: ১৩-১৪]

আল্লাহ তা'আলা বলেন—
وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَحِدَةٌ كَلَمْحِ بِالْبَصَرِ
'আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথা- চোখের পলকের মত।' [আল ক্বমার:৫০]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًا
'আমি তাদেরকে সেদিন এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত পড়বে। আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমরা সব মানুষকে একসঙ্গে একত্রিত করব।' [আল কাহাফ: ৯৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَحِدَةٌ
'অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।'

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةٌ وَحِدَةٌ
'পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।'

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
'সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য [মহা] ঘটনা।'

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
'আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।'

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا ، وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمُنِيَةٌ
'ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের 'আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।'

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ

'সেদিন তোমাদেরকে [বিচারের জন্য] হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।' [আল হাককাহ্: ১৩-১৮]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا
'সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে।'

وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبُوبًا
'আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা।'

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا
'আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে।' [আন নাবা: ১৮-১৯]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ، وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا
'যেদিন সিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে আর আমি অপরাধীদেরকে একত্রিত করব [ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত] দৃষ্টিহীন অবস্থায়।' [ত্বহা: ১০২]

ইমাম তিরমিজি রাহিমাহুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِي، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِي إِلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا الصُّورُ قَالَ " قَرْنُ يُنْفَخُ فِيهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন এক গ্রাম্য লোক নাবীর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট এসে প্রশ্ন করল, শিঙ্গা কি? তিনি বললেন, এটা একটা শিং যাতে ফুৎকার দেয়া হবে।

আমাদের বর্তমান যুগটি চলছে 'ফিতনার যুগ'। চারদিকে ফিতনা আর ফিতনা। আমাবশ্যা রাতের মত চারদিক থেকে ফিতনা আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ সবখানে রয়েছে ফিতনার আগ্রাসন। ফিতনা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে শোনা যায় ফিতনার বজ্রধ্বনি। ফিতনার আর্তচিৎকার।
আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশত বছর পূর্বেই ফিতনা সর্ম্পকে বলে গিয়েছেন। উম্মাহকে আগত সকল ফিতনার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সচেতন করেছেন। ফিতনা থেকে বাঁচতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক তাগিদ দিয়েছেন। তাই আমাদের সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ফিতনাময় দিনে ফিতনা থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে রবের আহবানে সাড়া দিতে হবে।
আখেরী জামানার ফিতনাগুলো এত ভয়াবহ ও ঈমান বিধ্বংসী যে, লোকেরা দিনের শুরুতে মুসলিম থাকবে, কিন্তু দিনশেষে সে হয়ে যাবে কাফির। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- 'আধাঁর রাতের মতো ফিতনাহ আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।' [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২১৩]
তাই যুগের ফিতনা সম্পর্কে আমাদের জানা কর্তব্য। যদি কেউ ফিতনা সম্পর্কেই না জানে, তাহলে সে কীভাবে নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচাবে? কীভাবে সে তার পরিবার-পরিজন, সমাজ, রাষ্ট্রকে বাচাঁবে? সুতরাং ফিতনা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোন। ফিতনার যাবতীয় বিষয়গুলো জানতে ও ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় জানাতে বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনু কাসির . রচনা করেছেন—'আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম'। এ গ্রন্থটির অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনা বুখারি, মুসলিম এবং সিহাহে সিত্তা থেকে চয়ন করা হয়েছে। তারই ভাষান্তরিত রূপ হলো—'আল ফিতান ওয়াল মালাহিম।

টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন-এ হাদিসটি হাসান। একাধিক বর্ণনাকারী সুলাইমান আত- তাইমীর সূত্রে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদিসটি শুধুমাত্র তার রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি। সুনানুত তিরমিযি: ২৪৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00