📄 অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকবে
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ، ح وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَثَنِي هِلَالُ بْنُ عَلِيَّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا النبي صلى الله عليه وسلم في مَجْلِسٍ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ جَاءَهُ أَعْرَابِي فَقَالَ مَتَى السَّاعَةُ فَمَضَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ سَمِعَ مَا قَالَ، فَكَرِهَ مَا قَالَ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ bَلْ لَمْ يَسْمَعْ، حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ " أَيْنَ - أُرَاهُ - السّائِلُ عَنِ السّاعَةِ ". قَالَ هَا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ". قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا قَالَ إِذَا وُسِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ".
আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মজলিসে জনসম্মুখে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতোমধ্যে তাঁর নিকট জনৈক বেদুঈন এসে জিজ্ঞেস করল, 'কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?' আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আলোচনায় রত থাকলেন। এতে কেউ কেউ বললেন-লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেননি। আর কেউ কেউ বললেন বরং তিনি শুনতেই পাননি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচনা শেষে বললেন, 'ক্বিয়ামাত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়?' সে বলল, 'এই যে আমি, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন-যখন কোন অনুপযুক্ত ব্যক্তির উপর কোন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করবে।
حَدَّثَنَا عَلَى بْنُ حُجر، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الوَاسِطِيُّ، عَنِ الْمُسْتَلِمِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ رُمَيْحِ الْجُذَامِي، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا اتَّخِذَ الْفَيْءُ دُوَلًا وَالأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَتُعَلِّمَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتُهُ وَعَقَ أُمَّهُ وَأَدْنَى صَدِيقَهُ وَأَقْصَى أَبَاهُ وَظَهَرَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَسَادَ الْقَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَارِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْراءَ وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَمَسْخًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ .
আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— যখন গনীমাতের (যুদ্ধলব্দ) মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানতের মাল লুটের মালে পরিণত হবে, যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়ে যাবে কিন্তু নিজ মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধু-বান্ধবকে কাছে টেনে নিবে, কিন্তু পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, মসজিদে কলরব ও হট্টগোল করবে, পাপাচারীরা গোত্রের নেতা হবে, নিকৃষ্ট লোক সমাজের কর্ণধার হবে, কোন মানুষের অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য তাকে সম্মান দেখানো হবে, গায়িকা- নর্তকী ও বাদ্য যন্ত্রের বিস্তার ঘটবে, মদপান করা হবে, এই উম্মাতের শেষ যামানার লোকেরা তাদের পূর্ববতী মনীষীদের অভিসাপ করবে, তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণরূপ শাস্তির এবং আরো আলামতের অপেক্ষা করবে যা একের পর এক নিপতিত হতে থাকবে, যেমন পুরানো পুঁতিরমালা ছিড়ে গেলে একের পর এক তার পুঁতি ঝরে পড়তে থাকে।
أخبرنا أبو عبد الله الحافظ وأبو زكريا بن أبي إسحاق قالا : حدثنا عبد الباقي بن قانع الحافظ حدثنا عبد الوارث بن إبراهيم العسكري، حدثنا سيف بن مسكين، حدثنا المبارك بن فضالة، عن الحسن، قال: خرجت في طلب العلم، فقدمت الكوفة فإذا أنا بعبد الله بن مسعود، فقلت: يا أبا عبد الرحمن هل للساعة من علم تعرف به فقال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال: "إن من
أشراط الساعة أن يكون الولد غليظاً والمطر قيظاً وتفشو الأسرار، ويصدق الكاذب، ويؤتمن الخائن، ويخون الأمين، ويسود كل قبيلة منافقوها وكل سوق فجارها، وتزخرف المحاريب، وتخرب القلوب، ويكتفي الرجال بالرجال والنساء بالنساء ويخرب عمران الدنيا، ويعمر خرابها، وتظهر الفتنة، وأكل الربا، وتظهر المعازف والكنوز، وتشرب الخمر، وتكثر الشرط، والغمازون، والهمازون
হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, আমি ইলম অন্বেষনে বেরিয়ে কুফা গমন করলাম। কুফা এসে আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর সাক্ষাৎ পেলাম। তাঁর সমীপে আমি আরয করলাম, হে আবু আবদুর রহমান! কিয়ামতের কি কোনো আলামত আছে, যা দিয়ে কিয়ামতের আগমন বোঝা যাবে? তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, কিয়ামতের আলামত হচ্ছে, বাচ্চা হবে মোটা, দৃষ্টি হবে ভারী, গোপন বিষয় প্রকাশ হয়ে পড়বে। মিথ্যাবাদীকে সত্যায়ন করা হবে, খেয়ানতকারীর কাছে আমানত রাখা হবে, আমানতদার ব্যক্তি খিয়ানত করবে, মুনাফিকেরা জাতির নেতৃত্ব দিবে। ফাযেকরা বাজার পরিচালনা করবে, মিহরাবগুলো জাঁকজমক করা হবে, অন্তরাসূমূহ মরে যাবে, পুরুষ পুরুষের সঙ্গে, নারী নারীর সঙ্গে সমকামিতায় লিপ্ত হবে। জনপদ বিরান হবে আর বিরান ভূমি আবাদ হবে, ফিতনা ও স্পর্দী লেনদেন প্রকাশ পাবে। বাদ্য-যন্ত্র প্রকাশ পাবে, মাদক সেবন বেড়ে যাবে।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৫৯।
২. আবু ঈসা বলেন— এ অনুচ্ছেদে আলী রাযিআল্লাহু আনহু হতেও হাদিস বর্ণিত আছে, এ হাদিসটি গরিব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদিস জেনেছি। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২২১১। হাদিসের মান: দুর্বল হাদিস।
৩. ইমাম বায়হাকী রাহিমাহুল্লাহু বলেন, উক্ত সনদে দুর্বলতা আছে। তবে তার অধিকাংশ শব্দ অন্য সনদে বর্ণিত আছে। আমার মত হলো, এ পর্বের শুরুতে একটি পরিচ্ছেদ গত হয়েছে। শেষ যুগে যেসব মন্দ বিষয় প্রকাশ পাবে, সেসব নিয়ে তাতে আলোচনা হয়েছে। এ হাদিসের পক্ষে তাতে অনেকগুলো শাহেদ আছে।
📄 মানুষের মাঝে আমনতদারীতা নষ্ট হয়ে যাবে
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ وَاصِلٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ وَأَحْسِبُهُ رَفَعَهُ قَالَ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ أَيَّامُ الْهَرْجِ يَزُولُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَظْهَرُ فِيهَا الْجَهْلُ قَالَ أَبُو مُوسَى وَالْهَرْجُ الْقَتْلُ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ.
আবদুল্লাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তার সম্পর্কে আমার ধারণা, তিনি হাদিসটি নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কিয়ামতের আগে হারজ অর্থাৎ হত্যার যুগ শুরু হবে। তখন ইল্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং মূর্খতা প্রকাশিত হয়ে পড়বে। আবু মূসা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, হাবশী ভাষায় 'হারজ' অর্থ (মানুষ) হত্যা।
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السَّبَاعُ الإِنْسَ وَحَتَّى تُكَلِّمَ الرَّجُلَ عَذَبَهُ سَوْطِهِ وَشِرَاكَ نَعْلِهِ وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ مِنْ بَعْدِهِ "
আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে, যে পর্যন্ত না কারো চাবুকের মাথা এবং জুতার ফিতা তার সাথে কথা বলবে এবং তার উরুদেশ বলে দিবে তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার কি করেছে।
حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي الرِّيَاحِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ، وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ، وَيَظْهَرَ الزِّنَ
আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, কিয়ামাতের কিছু 'আলামত হল: 'ইল্ম হ্রাস পাবে, অজ্ঞতা প্রসারতা লাভ করবে, মদপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং যেনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করবে।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭০৬৬।
২. আবু ঈসা বলেন—আবু হুরাইরা রাযিআল্লাহু আনহু হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদিস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহিহ্ গরিব। কেননা, এ হাদিসটি আল-কাসিম ইবনুল ফাযলের রিওয়ায়াত ব্যতীত আমাদের জানা নেই। হাদিস বিশারদদের মতে আল-কাসিম ইবনুল ফাযল নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ও আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী তাঁকে সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী বলেছেন। [সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২১৮১।।
৩. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৮০।
📄 কিয়ামতের পূর্বে সময়ের বরকত কমে যাবে
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْعُمَرِيُّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَقَارَبَ الزَّمَانُ فَتَكُونُ السَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَتَكُونُ الْجُمُعَةُ كَالْيَوْمِ وَيَكُونُ الْيَوْمُ كَالسَّاعَةِ وَتَكُونُ السَّاعَةُ كَالضَّرْمَةِ بِالنَّارِ "
আনাস ইবনু মালিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—যামানা পরস্পর নিকটবর্তী (সংকীর্ণ) না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না। তখন একবছর হবে একমাসের মতো, একমাস হবে এক সপ্তাহের মতো, এক সপ্তাহ হবে একদিনের মতো, একদিন হবে এক ঘন্টার মত এবং এক ঘন্টা হবে প্রজ্বলিত আগুনের একটি স্কুলিংগের মতো।
টিকাঃ
১. আবু ঈসা বলেন—এ হাদিসটি এই সূত্রে গরীব। সা'দ ইবনু সাঈদ হলেন ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদের ভাই। [সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৩২। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।।
📄 কিয়ামতের আলামত রুয়াইবিজা' নিয়ে কথন
وقال أحمد: حدثنا يونس، وشريح، قالا : حدثنا فليح، عن سعيد بن عبد الله بن السباق، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قبل الساعة سنون خداعة، يكذب فيها الصادق، ويصدق فيها الكاذب ويخون فيها الأمين، ويؤتمن فيها الخائن، وينطق فيها الرويبضة."
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—কিয়ামতের আগে ধোঁকার বছর চলবে। সময়টিতে সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী আর মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী আখ্যায়িত করা হবে। দুর্নীতিবাজকে আমানতদার আর আমানতদারকে দুর্নীতিবাজ মনে করা হবে। আর মানুষের মধ্যে থেকে 'রুয়াইবিজা'রা কথা বলবে"।
অপর বর্ণনায় রয়েছে, জিজ্ঞাসা করা হল, 'রুয়াইবিজা' কি জিনিস? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "অপরাধপ্রবণ লোকেরা জনসাধারণের বিষয়-আশয় নিয়ে কথা বলবে।'
শুরাইহ্ রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন, ) ،وينظر فيها الرويبضة( এই সনদটি উত্তম।
وقال أحمد: حدثنا هودة، حدثنا عوف، عن شهر بن حوشب، عن أبي هريرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن من أشراط الساعة أن يرى رعاء الشاة رؤوس الناس، وأن ترى الحفاة العراة الجوع يتبارون في البناء، وأن تلد الأمة ربتها أو ربها.
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কিয়ামতের আলামত হলো বকরীর রাখালরা মানুষের নেতা বনে যাবে। (এককালের) নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র, বড় দালান-কোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতায় গর্ব-অহংকারে মত্ত দেখতে পাবে। বাঁদী মনিবকে প্রসব করবে।
وقال أحمد: حدثنا عمار بن محمد، عن الصلت بن ق وتب، عن أبي هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا تقوم الساعة حتى لا تنطح ذات قرن جماء".
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ক্বিয়ামাত কায়িম হবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত বোঁচা শিংওয়ালা প্রানী গুঁতা না দিবে।
وقال أحمد: حدثنا يحيى بن عجلان، سمعت أبي يحدث، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى يقبض العلم، ويظهر الجهل، ويكثر الهرج، قيل وما الهرج؟ قال: القتل".
আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কিয়ামাত কায়িম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে, অজ্ঞতা ব্যাপক হবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। জিজ্ঞাস করা হল, কি? তিনি বললেন, হারজ হলো-হত্যাহত্যা।
وقال أحمد: حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن همام، عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى يكثر فيكم المال، فيفيض حتى يهم رب المال من يقبل منه صدقة ماله، وحتى يقبض العلم، ويقترب الزمان وتظهر الفتن ويكثر الهرج" قالوا: الهرج أيما يا رسول الله؟ قال: القتل القتل."
আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ তোমাদের মাঝে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি না পাবে। সম্পদের এমন সয়লাব শুরু হবে যে, সম্পদের মালিক তার সদাকাহ কে গ্রহণ করবে - এ নিয়ে চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়বে। যতক্ষণ ইলম উঠিয়ে নেয়া না হবে। সময় সংকুচিত হয়ে আসবে। ফিতনা প্রকাশ পাবে। আর হারজ ব্যাপকতা লাভ করবে। জিজ্ঞাস করা হল, হারজ আবার কি? তিনি বললেন- হারজ খুন-খারাবী। হত্যা।
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى تقتتل فئتان عظيمتان، دعواهما واحدة، وتكون بينهما مقتلة عظيمة."
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ দু'টি বড় দল পরস্পরে মহাযুদ্ধে লিপ্ত না হবে। তাদের দাবী হবে এক এবং অভিন্ন। তাদের মাঝে বিশাল একটা যুদ্ধক্ষেত্র হবে।
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى يبعث دجالون كذابون قريب من ثلاثين، كلهم يزعم أنه رسول الله."
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- কিয়ামত কায়িম হবে না যে পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাচারী দাজ্জালের আবির্ভাব না হবে। এরা সবাই নিজেকে আল্লাহ্ র রাসূল বলে দাবী করবে।
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها، فإذا طلعت ورآها الناس آمنوا أجمعون، وذلك حين لا ينفع نفساً إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيراً.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত না হবে। যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠবে এবং সকল লোক তা দেখবে এবং সেদিন সবাই ঈমান আনবে। কিন্তু সে দিন তার ঈমান কাজে আসবে না, এর যে আগে ঈমান আনেনি। কিংবা ইতোপূর্বে যারা ঈমান আনেনি কিংবা ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি।
وقال الحافظ أبو بكر البزار: حدثنا أحمد بن محمد، حدثنا القاسم بن الحكم، عن سليمان بن داود اليماني، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "والذي بعثني بالحق لا تنقضي هذه الدنيا حتى يقع بهم الخسف، والقذف، والمسخ، قالوا: ومتى ذلك يا رسول الله؟ قال: إذا رأيت النساء ركبن السروج، وكثرت القينات، وكثرت شهادة الزور، واستغنى الرجال بالرجال، والنساء بالنساء."
আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যিনি আমাকে সত্য রূপে প্রেরণ করেছেন তার কসম! ততক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া ধ্বংস হবে না যাবত না তাদের মাঝে ভূমিধ্বস, তারা বললো কখন হবে তা ইয়া রাসূল্লাহ? তিনি বললেন, যখন তোমরা দেখবে যে মহিলারা গদিতে চড়ছে। গায়িকা বাদ্যযন্ত্র বৃদ্ধি পাছে। মিথ্যা সাক্ষ্য বেড়ে গেছে। মানুষ সমকামিতায় লিপ্ত হচ্ছে। পুরুষ পুরুষের মাধ্যমেই তৃপ্তি মেটাচ্ছে। আর এক নারী অপর নারীর মাধ্যমে।
وروى الطبراني من حديث كثير بن مرة، عن عبد الله بن عمر، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن من علامات الساعة أن تعزب العقول، وتنقص الأحلام
আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের একটি লক্ষণ হল আকল অদূরে চলে যাবে। স্বপ্ন কমে যাবে।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ، عَنْ طَارِقٍ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ جُلُوسًا، فَجَاءَ آذِنُهُ فَقَالَ: قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ، فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ، فَدَخَلْنَا الْمَسْجِدَ، فَرَأَى النَّاسَ رُكُوعًا فِي مُقَدَّمِ الْمَسْجِدِ، فَكَبَّرَ وَرَكَعَ، وَمَشَيْنَا وَفَعَلْنَا مِثْلَ مَا فَعَلَ، فَمَرَّ رَجُلٌ مُسْرِعُ فَقَالَ: عَلَيْكُمُ السَّلَامُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ: صَدَقَ اللَّهُ، وَبَلَغَ رَسُولُهُ، فَلَمَّا صَلَّيْنَا رَجَعَ ، فَوَلَجَ عَلَى أَهْلِهِ، وَجَلَسْنَا فِي مَكَانِنَا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى يَخْرُجَ، فَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ : أَيُّكُمْ يَسْأَلُهُ؟ قَالَ طارق: أنا أَسْأَلُهُ، فَسَأَلَهُ، فَقَال: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ : تَسْلِيمُ الخَاصَّةِ، وَفُشُو التجارة حَتَّى تُعِينَ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا عَلَى التِّجَارَةِ، وَقَطْعُ الأَرْحَامِ، وَفُشُو الْقَلَمِ، وَظُهُورُ الشَّهَادَةِ بِالزُّورِ، وَكِتْمَانُ شَهَادَةِ الْحَقِّ"
তারিক ইবনু শিহাব বর্ণিত, আমরা আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু-র নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় তার সংবাদ বাহক এসে বললো যে, নামাযের জামাআত শুরু হয়ে গেছে। অতএব, তিনিও উঠলেন এবং আমরাও তার সাথে উঠে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তিনি লোকদেরকে মসজিদে সম্মুখভাগে রুকু অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাকবীর (তাহরীমা) বলে রুকু করলেন। আমরাও সামনে অগ্রসর হয়ে তার অনুরূপ করলাম। এক ব্যক্তি দ্রুতবেগে যেতে যেতে বললো, হে আবদুর রহমানের পিতা! আসসালামু আলাইকুম। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণরূপে পৌছে দিয়েছেন। আমরা নামায শেষ করলে তিনি ফিরে গিয়ে তার অন্দরমহলে চলে গেলেন এবং আমরা তার (ফিরে আসার) অপেক্ষায় স্বস্থানে বসে থাকলাম। শেষে তিনি বের হয়ে এলেন। আমাদের কতক কতককে বললো, তোমাদের কে তাঁকে জিজ্ঞেস করবে?
তারিক রাহিমাহুল্লাহু বলেন— আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করবো। অতএব তিনি জিজ্ঞেস করলে আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— কিয়ামতের নিকটবর্তী কালে লোক বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেয়ার প্রচলন হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করবে। রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটবে, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে।
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, ২/ পৃ. ২৯১,৩৩৮।
২. মুসনাদে আহমাদ, ২/পৃ.৩৯৪। সনদটি সহিহ।
৩. সনদে তেমন কোন সমস্যা নেই। মুসনাদে আহমাদ, ২/পৃ.২৪২।
৪. মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২/পৃ.৪২৮। আহমাদ বর্ণনাটির ক্ষেত্রে অনন্য। তবে তা মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ-এর শর্ত অনুযায়ী।
৫. মুসনাদে আহমাদ, ২/পৃ.৩১৩,৫৩০।
৬. মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ৬/৩০। হাইছামি রাহিমাহুল্লাহ বলেন) سلیمان بن داود আল ইয়ামামী( তিনি মাতরুকুল হাদিস।
৭. মুসনাদে আহমাদ, ১/পৃ.৪০৭,৪১৯।
৮. মুসনাদে আহমাদ: ১/৪১৯,৪০৭। হাদিসের মান: আহমাদ শাকের রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।