📄 ইলম উঠিয়ে দেয়া হবে, অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى وَابْنُ بَشَّارٍ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لا يُحَدِّثُكُمْ أَحَدٌ بَعْدِي سَمِعَهُ مِنْهُ " إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَيَفْشُوَ الزِّنَا وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَذْهَبَ الرِّجَالُ وَتَبْقَى النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً قَيِّمُ وَاحِدُ
আনাস ইবনু মালিক রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি কি তোমাদের নিকট এমন একটি হাদিস আলোচনা করব, যা আমি রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি এবং আমার পরে এমন কেউ তা তোমাদের নিকট উল্লেখ করবে না যিনি সরাসরি তার কাছ থেকে তা শুনতে পেয়েছে? আমি তাঁর নিকট শুনেছি যে, কিয়ামাতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম হচ্ছে ইলম উঠিয়ে দেয়া, অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ, ব্যভিচার প্রসার হবে, মদ্যপান প্রচলিত হবে, পুরুষ (-এর সংখ্যা) হ্রাস পাবে, নারীরা অবশিষ্ট থাকবে, এমনকি পঞ্চাশজন নারী একজন পুরুষের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৫৮৭।
২. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৬৭৯।
📄 আরবে সম্পদ ছেয়ে যাবে
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ وَيَفِيضَ حَتَّى يَخْرُجَ الرَّجُلُ بِزَكَاةِ مَالِهِ فَلَا يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهَا مِنْهُ وَحَتَّى تَعُودَ أَرْضُ الْعَرَبِ مُرُوجًا وَأَنْهَارًا.
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত সম্পদের প্রাচুর্যতা না হবে। এমনকি কোন ব্যক্তি সম্পদের যাকাত নিয়ে ঘুরবে কিন্তু নেয়ার মত লোক পাবে না। আরবের মাঠ ঘাট তখন চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে।
টিকাঃ
১. সহিহ مسلم, হাদিস নং ২২২৯।
📄 কিয়ামতের পূর্বে কতক আরব মুরতাদ হয়ে যাবে
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دوسٍ عَلَى ذِي الْخَلَصَةِ وَذُو الْخَلَصَةِ طَاغِيَةُ دَوْسِ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ.
আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ 'যুল্বালাসাহ্' পাশে দাওাস্ গোত্রীয় মহিলাদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে। 'ফুলখালাসাহ' হলো দাওাস্ গোত্রের একটি মূর্তি। জাহিলী যুগে তারা এর ইবাদাত করত।
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلِ الْجَحْدَرِيُّ، وَأَبُو مَعْنٍ زَيْدُ بْنُ يَزِيدَ الرَّقَاشِيُّ - وَاللَّفْظُ لِأَبِي مَعْنٍ - قالَا حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى تُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ { هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ أَنَّ ذَلِكَ تَامَّا قَالَ إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةٌ فَتَوَفَّى كُلَّ مَنْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَيَبْقَى مَنْ لا خَيْرَ فِيهِ فَيَرْجِعُونَ إِلَى دِينِ آبَائِهِمْ " .
আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন রাত্র ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষণ না লাত ও উয্যা দেবতার পূজা আবার শুরু করা হয়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন- "তিনিই তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দীনসহ, সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা পছন্দ করে না"- [সূরাহ্ আত তাওবাহ: ৩৩ ও আস-সাফ :৯] এ আয়াত নাযিলের পর আমি তো মনে করেছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করা হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরণ করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাঁদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন প্রকার কল্যাণ নেই তারাই শুধু বেঁচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের (ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، أَخْبَرَنَا الفَزَارِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَلَغَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ مَقْدَمُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَدِينَةَ فَأَتَاهُ، فَقَالَ: إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ ثَلاثٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا نَبِيٌّ قَالَ: مَا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ؟ وَمَا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ؟ وَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ يَنْزِعُ الوَلَدُ إِلَى أَبِيهِ؟ وَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ يَنْزِعُ إِلَى أَخْوَالِهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبَّرَنِي بِهِنَّ آنِفًا جِبْرِيلُ قَالَ: فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ ذَاكَ عَدُوٌّ اليَهُودِ مِنَ المَلائِكَةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: . أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ فَنَارُ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ المَشْرِقِ إِلَى المَغْرِبِ، وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ حُوتٍ، وَأَمَّا الشَّبَهُ فِي الوَلَدِ: فَإِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَشِيَ المَرْأَةَ فَسَبَقَهَا مَاؤُهُ كَانَ الشَّبَهُ لَهُ، وَإِذَا سَبَقَ مَاؤُهَا كَانَ الشَّبَهُ لَهَا " قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اليَهُودَ قَوْمُ بُهُتُ، إِنْ عَلِمُوا بِإِسْلَامِي قَبْلَ أَنْ تَسْأَلَهُمْ بهَتُونِي عِنْدَكَ، فَجَاءَتِ اليَهُودُ وَدَخَلَ عَبْدُ اللَّهِ البَيْتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ رَجُلٍ فِيكُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ، قَالُوا أَعْلَمُنَا، وَابْنُ أَعْلَمِنَا، وَأَخْبَرُنَا، وَابْنُ أَخْيَرِنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ اللَّهِ» قَالُوا: أَعَادَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ، فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَيْهِمْ فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَقَالُوا: شَرُّنَا، وَابْنُ شَرِّنَا، وَوَقَعُوا فِيهِ
আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু সালামের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মদিনায় আগমনের খবর পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর নিকট আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি আপনাকে এমন তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই যার উত্তর নবি ব্যতীত আর কেউ জানে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন কী? আর সর্বপ্রথম খাবার কী, যা জান্নাতবাসী খাবে? আর কী কারণে সন্তান তার পিতার মত হয়? আর কী কারণে (কোন কোন সময়) তার মামাদের মত হয়? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই মাত্র জিবরাঈল ('আঃ) আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। রাবী বলেন, তখন 'আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, সে তো ফেরশতাগণের মধ্যে ইয়াহুদীদের শত্রু। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হলো আগুন যা মানুষকে পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নিয়ে একত্রিত করবে। আর প্রথম খাবার যা জান্নাতবাসীরা খাবেন তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তান সদৃশ হবার ব্যাপার এই যে পুরুষ যখন তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করে তখন যদি পুরুষের বীর্য প্রথম স্খলিত হয় তবে সন্তান তার সাদৃশ হবে আর যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের পূর্বে স্খলিত হয় তখন সন্তান তার সদৃশ হয়। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি- নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদীরা অপবাদ ও কুৎসা রটনাকারী সম্প্রদায়। আপনি তাদেরকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার পূর্বে তারা যদি আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয় জেনে ফেলে, তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা রটনা করবে। অতঃপর ইয়াহুদীরা এলো এবং 'আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে 'আবদুল্লাহ ইবনু সালাম কেমন লোক? তারা বলল, তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি এবং সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তির পুত্র। তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-যদি আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করে, এতে তোমাদের অভিমত কি হবে? তারা বলল, এর থেকে আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুক। এমন সময় 'আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। তখন তারা [কাফিররা] বলতে লাগল, সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোক এবং সবচেয়ে খারাপ লোকের সন্তান এবং তারা তাঁর গীবত ও কুৎসা রটনায় লেগে গেল।
عن عمر بن الخطاب، رضي الله عنه ، قال " " بينما نحن جلوس عند رسول الله، صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب ، شديد سواد الشعر، لا يرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي ، صلى الله عليه وسلم ، فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام، فقال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله ، وأن محمداً رسول الله وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة ، وتصوم رمضان ، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً. قال صدقت. فعجبنا له يسأله ويصدقه قال : فأخبرني عن الإيمان. قال أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره. قال صدقت. قال فأخبرني عن الإحسان . قال أن تعبد الله كأنك تراه؛ فإن لم تكن تراه فإنه يراك. قال: فأخبرني عن الساعة. قال: ما المسؤول عنها بأعلم من السائل. قال : فأخبرني عن أماراتها قال: أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطالون في البنيان. ثم انطلق، فلبثت ملياً، ثم قال: يا عمر أتدري من السائل؟ قلت: الله ورسوله أعلم. قال: فإنه جبريل أتاكم يعلمكم أمر دينكم"
উমার ইবনু খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমরা একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে বসে ছিলাম। হঠাৎ একটি লোক আমাদের কাছে এল। তার পরনে ধবধবে সাদা কাপড় এবং তার চুল কুচকুচে কাল ছিল। (বাহ্যতঃ) সফরের কোন চিহ্ন তার উপর দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনছিল না। শেষ পর্যন্ত সে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসল; তার দুই হাঁটু তাঁর (নবির) হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে দিল এবং তার হাতের দুই করতলকে নিজ জানুর উপরে রেখে বলল, 'হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন।'
সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন “ইসলাম হল এই যে, তুমি সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের রোযা রাখবে এবং কা'বা ঘরের হজ্জ করবে; যদি সেখানে যাবার সঙ্গতি রাখ।" সে বলল, 'আপনি ঠিকই বলেছেন।' আমরা তার কথায় আশ্চর্য হলাম যে, সে জিজ্ঞাসাও করছে এবং ঠিক বলে সমর্থনও করছে। সে (আবার) বলল, 'আপনি আমাকে ঈমান সম্পর্কে 'বলুন।' তিনি বললেন, "তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলসমূহ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখবে।" সে বলল, 'আপনি যথার্থ বলেছেন।'
সে (তৃতীয়) প্রশ্ন করল—'আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন! তিনি বললেন, "ইহসান হল এই যে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে; যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তাহলে তিনি কিন্তু তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।" সে (পুনরায়) বলল, 'আপনি আমাকে কিয়ামতের দিন সম্পর্কে বলুন (সেদিন কবে সংঘটিত হবে?)' তিনি বললেন, "এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত (ব্যক্তি) জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশী অবহিত নয়। (অর্থাৎ কিয়ামতের নির্দিষ্ট দিন আমাদের দু'জনেরই অজানা)।" সে বলল, '(তাহলে) আপনি ওর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে আমাকে বলে দিন।'
তিনি বললেন—"(ওর কিছু নিদর্শন হল এই যে,) কৃতদাসী তার মনিবকে প্রসব করবে (অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী এত বেশী হবে যে, যুদ্ধ বন্দিনী ক্রীতদাসী তার মনিবের কন্যা প্রসব করবে)। আর তুমি নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও দরিদ্র ছাগলের রাখালদেরকে অট্টালিকা নির্মাণের কাজে পরস্পর গর্ব করতে দেখবে।" অতঃপর সে (আগন্তুক প্রশ্নকারী) চলে গেল।
(উমার রাদিআল্লাহু আনহু বলেন,) 'আমি অনেকক্ষণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে থাকলাম।' পুনরায় তিনি বললেন "হে উমার! তুমি, কি জান যে, প্রশ্নকারী কে ছিল?" আমি বললাম, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বেশী জানেন।' তিনি বললেন, "ইনি জিব্রাঈল ছিলেন, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিখানোর জন্য এসেছিলেন।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদিস ربتها ان تلد الأمة এর ব্যাখ্যা হলো, শেষ যুগে দাসীদের সম্মান ও প্রতিপত্তির চোখে দেখা হবে। ফলে বড় বড় লোকজন স্বাধীন-সম্ভ্রান্ত নারী বিয়ে না করে দাসীদের রাখবে। এজন্যই হাদিসে এ বলা হয়েছে। وان ترى الحفاة العراة العالة يتطاولون في البنيان
অর্থাৎ এ জাতীয় লোকগুলো হবে নেতৃস্থানীয়। তাদের সম্পদ, মান-সম্মান, প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে। উঁচু দালান নির্মাণের প্রতিযোগিতাই তাদের অভ্যাস ও নিয়ম।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭১১৬।
২. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৯১।
৩. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৩২৯।
৪. সহিহ মুসলিম। এই হাদিসটি 'হাদিসে জিব্রাঈল' নামে পরিচিত।
📄 বদদীন ও চরিত্রহীন লোকদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে
কিয়ামতের একটি আলামত হচ্ছে, বদদীন ও চরিত্রহীন লোকদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি এ হাদিসে গত হয়েছে--
لا تقوم الساعة حتى يكون أخظى الناس بالدنيا لكع بن لكع