📄 কিয়ামত পূর্বক্ষণে ধোঁয়ার বহিঃপ্রকাশ
فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ ﴿١٠﴾ يَغْشَى النَّاسَ بُذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿1﴾ رَبَّنَا الْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ ﴿٣﴾ أَنَّى لَهُمُ الذِّكْرَى وَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُوْلٌ مُّبِينٌ ﴿۲﴾ ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوْا مُعَلَّمٌ مَّجْنُوْنَ ﴿r﴾ إِنَّا كَاشِفُوا الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُونَ ﴿١٥﴾ يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ ﴿١﴾
“অতএব অপেক্ষা কর সেদিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ। যা মানুষদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে: এটি যন্ত্রণাদায়ক আযাব। (তখন তারা বলবে) 'হে আমাদের রব, আমাদের থেকে আযাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা মুমিন হব।' এখন কীভাবে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে, অথচ ইতঃপূর্বে তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী রাসূল এসেছিল? তারপর তারা তাঁর দিক থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং বলেছিল 'এ শিক্ষাপ্রাপ্ত পাগল'। নিশ্চয় আমি ক্ষণকালের জন্য আযাব দূর করব; নিশ্চয় তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। সেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব; নিশ্চয় আমি হব প্রতিশোধ গ্রহণকারী। [সূরা আদ দুখান: ১০-১৬।]
সূরা আদ দুখানে এই আয়াতসমূহের তাফসিরে আমি বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছি।
يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَن الأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ
إِنَّمَا كَانَ هَذَا لأنَّ قُرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَوْا عَلَى النَّبي صلى الله عليه وسلم دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنِيْنَ كَسِنِى يُوسُفَ فَأَصَابَهُمْ قَحْطُ وَجَهْد حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ فَجَعَلَ الرَّجُل يَنْظُرُ إلى السَّمَاءِ فَيَرَى مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنَ الجَهْدِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ لا - يَغْشَى النَّاسَ طَ هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ قَالَ فَأْتِيَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَسْقِ اللَّهَ لِمُضَرَ فَإِنَّهَا قَدْ هَلَكَتْ قَالَ لِمُضَرَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ فَاسْتَسْقَى لَهُمْ فَسُقُوْا فَنَزَلَتْ {إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ فَلَمَّا أَصَابَتْهُمُ الرَّفَاهِيَةُ عَادُوا إِلَى حَالِهِمْ حِيْنَ أَصَابَتْهُمُ الرَّفَاهِيَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُوْنَ قَالَ يَعْنِي يَوْمَ بَدْرٍ.
মাসরূক রাহিমাহুল্লাহু থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু বলেছেন—এ অবস্থা এ জন্য যে, কুরাইশরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাফরমানী করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে এমন দুর্ভিক্ষের দু'আ করলেন, যেমন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ইউসুফ 'আ.-এর সময়ে। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে আপতিত হ'ল যে, তারা হাড্ডি খেতে আরম্ভ করল। তখন মানুষ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার তাড়নায় তারা আকাশ ও তাদের মাঝে শুধু ধোঁয়ার মত দেখতে পেত। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা ছেয়ে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।" বর্ণনাকারী বলেন-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (কাফিরদের পক্ষ থেকে) এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! মুদার গোত্রের জন্য বৃষ্টির দু'আ করুন। তারা তো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুদার গোত্রের জন্য দু'আ করতে বলছ। তুমি তো খুব সাহসী। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দু'আ করলেন এবং বৃষ্টি হল। তখন অবতীর্ণ হল, তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। যখন তাদের সচ্ছলতা ফিরে এলো, তখন আবার নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ্ নাযিল করলেন, “যেদিন আমি তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদের প্রতিশোধ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন।
ব্যাখ্যা: তার এই ব্যাখ্যাটি বেশ আজব গরিব। কোন সাহাবিই এরূপ ব্যাখ্যা করেন নি।
কতক মুতাআখখিরিন উলামায়ে কেরাম ও উপরের মতটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তাদের দলিল হল হযরত আবু শুরাইহ হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিস। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-“কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশাটি আলঅমত দেখতে পাবে। সেখানে দাজ্জাল, ধুম্র, দাব্বাতুল আরদ এর আলোচনা একসাথে করেছেন।
তাছাড়া আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিসে আছে তেমারা ছয়টি জিনিস বের হওয়ার পূর্বে ভালোকাজের দিকে ধাবিত হও।........ সেখানেও এ তিনটিকে এক সাথে আলোচনা করেছেন। আর এ হাদিস দু'টি ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং বলা যায় এই মারফু বর্ণনাসমূহ ইবনু মাসউদ রাহিমাহুল্লাহ এর মাওকুফ বর্ণনার উপর প্রাধান্য পাবে।
কুরানের বর্ণনা ভঙ্গি থেকে বুঝে আসে যে, এই ধোঁয়া মূলত আসমান থেকে হবে। যা লোকদেরকে বেষ্টন করে নেবে। বিষয়টি সাভাবিক অর্থেই সুসাব্যস্ত। ইবনু মাসউদ রাহিমাহুল্লাহ যেমনটি ব্যাখ্যা করেছেন সেরকম নয়। যে, তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার কষ্টের কারণে আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার তাড়নায় তারা আকাশ ও তাদের মাঝে শুধু ধোঁয়ার মত দেখতে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُ خَانٍ مُّبِيْنٍ ﴿1﴾
'অতএব অপেক্ষা কর সেদিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ।' [সূরা আদ দুখান:১০]
অর্থাৎ সুপ্রকাশিত। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে সৃষ্ট ঘোর নয়। رَبَّنَا اكْشِفُ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا ﴾۱۲﴿ مُؤْمِنُوْنَ )তখন তারা বলবে)-'হে আমাদের রব, আমাদের থেকে আযাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা মুমিন হব।') অর্থাৎ সে সময়ে দুনিয়ার অধিবাসী আল্লাহর কাছে আকুতি করবে। এবং এই কষ্ট লাঘবের জন্য দুআ করবে। কেনান তারা ইতিপূর্বে ঈমান এনেছিল এবং কিয়ামতের পূর্বে যে সকল বিষয় ঘটবে বলে অদৃশ্যের সংবাদ বিষয়ে দেয়া হয়েছিল তা পূর্ণরূপে বিশ্বাস করেছে। আর এথেকে বুঝা যায় এটা কিয়ামতের আগেই হবে যেহেতু সে আযাবকে হটানোর কথা আলোচনা করা হয়েছে। আর তখন নতুন করে তাওবা এবং অতিত তাওবার নবায়ন দুটিই সম্ভবপর হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِير حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ وَالأعْمَشُ عَنْ أبي الضُّحَى عَرُ مَسْرُوق قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يُحَدِّثُ فِي كِنْدَةَ فَقَالَ يَجِيءُ دُخَانُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَتَأْخُذُ بِأَسْمَاعِ الْمُنَافِقِينَ وَأَبْصَارِهِمْ وَ يَأْخُذُ الْمُؤْمِنَ كَهَيْئَةِ الزُّكَامِ فَزِعْنَا فَأَتَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَغَضِبَ فَجَلَسَ فَقَالَ مَنْ عَلِمَ فَلْيَقُلْ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلْ اللَّهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ أَنْ يَقُوْلَ لِمَا لَا يَعْلَمُ لَا أَعْلَمُ فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ وَإِنَّ قُرَيْشًا أَبْطَتُوا عَنِ الإِسْلامِ فَدَعَا عَلَيْهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللَّهُمَّ أُعِنِّي عَلَيْهِمْ بِسَبْعِ كَسَبْعِ يُوسُفَ فَأَخَذَتْهُمْ سَنَةٌ حَتَّى هَلَكُوْا فِيْهَا وَأَكَلُوا الْمَيْتَةَ وَالْعِظَامَ وَيَرَى الرَّجُلَ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ فَجَاءَهُ أَبُوْ سُفْيَانَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ جِئْتَ تَأْمُرُنَا بِصِلَةِ الرَّحِيمِ وَإِنَّ قَوْمَكَ قَدْ هَلَكُوْا فَادْعُ اللَّهَ فَقَرَأَ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ إِلَى قَوْلِهِ (عَائِدُوْنَ أَفَيُكْشَفُ عَنْهُمْ عَذَابُ الْآخِرَةِ إِذَا جَاءَ ثُمَّ عَادُوا إِلَى كُفْرِهِمْ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى} يَوْمَ بَدْرٍ وَ {لِزَامًا} يَوْمَ بَدْرٍ (الم غُلِبَتْ الرُّوْمُ إِلَى {سَيَغْلِبُونَ} وَالرُّوْمُ قَدْ مَضَى.
মাসরক রাহিমাহুল্লাহু বলেন, এক ব্যক্তি কিন্দাবাসীদের সামনে বলছিল, ক্বিয়ামাতের দিন ধোঁয়া আসবে এবং মুনাফিকদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিবে। আর মুমিনের কাছে মনে হবে সর্দি লেগে থাকা অবস্থার ন্যায়। এ কথা শুনে আমরা ভীত হয়ে গেলাম। এরপর আমি ইবনু মাস'উদ রাদিআল্লাহু আনহু-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসেছিলেন। এ সব কথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, যার জানা আছে সেও যেন তা বলে, আর যে না জানে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন। জ্ঞানের মধ্যে এটাও একটা জ্ঞান যে, যার যে বিষয় জানা নেই সে বলবে "আমি এ বিষয়ে জানি না।" আল্লাহ্ তা'আলা নাবিকে বলেছেন, হে নাবি! আপনি বলুন, "আমি আল্লাহ্র দ্বীনের দিকে ডাকার জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের মধ্যে নই। কুরায়শগণ ইসলাম গ্রহণে দেরী করতে লাগল, সুতরাং রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য এই বলে বদ দু'আ করলেন। “হে আল্লাহ্। আপনি তাদের উপর ইউসুফ ('আ.)-এর মত সাত বছর (দুর্ভিক্ষ) দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন।" তারপর তারা এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে পতিত হলো যে, তারা তাতে ধ্বংস হয়ে গেল এবং মরা জন্তু ও তার হাড় খেতে বাধ্য হলো। তারা (দুর্ভিক্ষের কারণে) আকাশও পৃথিবীর মধ্যস্থলে ধোঁয়ার মত দেখতে পেল।
তারপর আবু সুফিয়ান তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ। তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দিচ্ছ, অথচ তোমার গোত্রের লোকেরা এখন ধ্বংস হয়ে গেল। সুতরাং আমাদের (এ দুর্ভিক্ষ থেকে) বাঁচার জন্য দু'আ কর। তখন তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন- فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ إِلَى قَوْلِهِ عَائِدُونَ
"অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ..... তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।" অবশেষে দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটল কিন্তু তারা কুফরীর দিকে ফিরে গেল। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ করলেন, যেদিন আমি তোমাদের শক্তভাবে পাকড়াও করব। الْبَطْشَة এবং ৩য় দ্বারা বদরের যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ আলিফ, লাম, মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে। .....এবং পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। রোমানদের ঘটনা অতিক্রান্ত হয়েছে।
নোট: কতক যারা বলে থাকেন যে, এই ধোঁয়া কিয়ামতের দিন প্রকাশ পাবে তা গহিহ নয়। এজন্যই ইবনু মাসউদ রাহিমাহুল্লাহ তার মতটিকে কঠোর ভাবে খণ্ডন করেছেন। বরং সঠিক মত হল, কিয়ামতের পূর্বেই এ ধোয়া প্রকাশ পাবে। যেমন অন্যান্য নিদর্শনসমূহ (দাবাতুল আরদ, দাজ্জাল, ধোঁয়া, ইয়াজুজ-মাজুজ) কিয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাবে। কেননা আবু হুরাইরাহ ও আবি শুরাহবিল রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যান্য সাহাবিগণের বর্ণনা এদিকেই ঈঙ্গিত করে।
তবে কিয়ামতের পূর্বে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রকাশ পাবে তার বহিঃপ্রকাশ হয়ে গেছে। গহিহ হাদিসসমূহের বাহ্যিক ভাষ্য থেকে এটাই বুঝে আসে। কেনান তা করণ আদন থেকে প্রকাশ পাবে। লোকদেরকে তাদের হাশর প্রান্তে নিয়ে যবে। তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে সে আগুনও সেখানে রাত্রি যাপন করবে। সে আগুন তাদের সাথে দ্বিপ্রহর অতিবাহিত করবে যেখানেই তারা দ্বিপ্রহর অতিবাহিত করুক না কেন।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, ৮/৪৮২১
২. সহিহুল বুখারি, ৬/৪৭৭৪।
📄 কিয়ামতের পূর্বে বজ্রপাত বৃদ্ধি পাবে
قال الإمام أحمد: حدثنا محمد بن مصعب، حدثنا عمارة، عن أبي نضرة عن أبي سعيد الخدري، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "تكثر الصواعق عند اقتراب الساعة
আবু সাইদ আল খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—কিয়ামতের পূর্বে অনেক বজ্রপাত বৃদ্ধি পাবে।
📄 কিয়ামতের পূর্বে ভারী বৃষ্টিপাত হবে
قال الحافظ أبو بكر البزار في مسنده، حدثنا إسحاق، حدثنا خالد، عن سهيل، عن أبيه، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى تمطر السماء مطراً لا تكن منه بيوت المدر ولا تكن منه بيوت الشعر."
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আসমান ভারী বৃষ্টি বর্ষণ করার পূর্বে কিয়ামত হবে না। সে বৃষ্টির পানি প্রতিটি দালান কোঠা এবং পশুমে বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করবে।
وقال الإمام أحمد: حدثنا مؤمل، حدثنا حماد، حدثنا علي بن زيد، عن خالد بن الحويرث، عن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الآيات خرزات منظومات في سلك، فانقطع السلك، فتبع بعضها بعضاً.
হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—কিয়ামতের নিদর্শনগুলো মালায় ধারাবাহিকভাবে রয়েছে, যকনই মালার ছিড়ে যাবে, তখন একটার পর আরেকটা আসতে থাকবে।
📄 পরিচ্ছেদ কিয়ামতের আগে এসকল বিষয় অবশ্যই ঘটবে
এর পূর্বেও আমরা এ জাতীয় আনেক হাদিস বর্ণনা করেছি। আর যার কতক এখন আমরা এখন বর্ণনা করবো। যেমন কিয়ামতের কিছু শর্তসমূহ ও কিয়ামতের নিকটবর্তিতা সম্পর্কে বর্ণনাসমূহ আলোচনা করবো।