📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কিয়ামতের পূর্বের দশ আলামত

📄 কিয়ামতের পূর্বের দশ আলামত


وقال الإمام أحمد: حدثنا سفيان بن عيينة، عن فرات، عن أبي الطفيل، عن حذيفة بن أسد قال: اطلع النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ علينا ونحن نتذاكر الساعة فقال: "مَا تَذْكِرُونَ؟ قُلْنا نَذْكُرُ الساعَةَ، فقال: إنها لن تقومَ حَتَّى تَرَوْا عشر آيات: الدخان والدجال والدابة وطلوع الشمس من مغربها ونزول عيسى ابن مَرْيَمَ ويأْجُوجَ ومَأْجُوجَ وثَلاثَةَ خسوف خَسْفُ بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف بجزيرة العرب، وآخر ذلك نارٌ تَخْرُجُ من قبل المشرق تسوق الناس إلى تحشرهم."

হযরত হুযাইফা ইবনু আসীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতদিন দশটি নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ না ঘটবে ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না- (১) ধোঁয়া, (২) দাজ্জাল, (৩) মহাপ্রাণী, (৪) পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়, তিন ভূমিধ্বস- (৫) প্রাচ্যে, (৬) পাশ্চাত্যে, (৭) আরববিশ্বে, (৮) ঈসা মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং এর অবতরণ, (৯) ইয়াজুয- মাজুযের মুক্তিলাভ ও (১০) আদন (এডেন) গহবর থেকে অগ্নি উদগীরণ; সে আগুন মানুষকে একটি ময়দানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে সেখানে আগুন রাত্রিযাপন করবে। যেখানে তারা দিবা নিদ্রা যাবে সেখানে সে আগুনও দিবা নিদ্রা যাবে।

حَدَّثَنَا بُنْدَارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ فُرَاتٍ الْفَزَارِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ، قَالَ أَشْرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غُرْفَةٍ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ السَّاعَةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَرَوْا عَشْرَ آيَاتٍ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَالنَّابَّةُ وَثَلاثَةُ خُسُوفٍ خَسْفٍ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٍ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٍ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَنَارُ تَخْرُجُ مِنْ قَعْرِ عَدَنَ تَسُوقُ النَّاسَ أَوْ تَحْشُرُ النَّاسَ فَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَنَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا.
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِيسِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، وَالْمَسْعُودِي، سَمِعًا مِنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ نَحْوَ حَدِيثٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ فُرَاتٍ وَزَادَ فِيهِ * الدَّجَّالَ أَوِ الدُّخَانَ

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعِجْلِيُّ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ فُرَاتٍ، نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي دَاوُدَ عَنْ شُعْبَةَ، وَزَادَ، فِيهِ قَالَ " وَالْعَاشِرَةُ إِمَّا رِيحُ تَطْرَحُهُمْ فِي الْبَحْرِ وَإِمَّا نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ "

হুযাইফা ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কোন একদিন কিয়ামাত প্রসঙ্গে আমরা কথাবার্তা বলছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম সময় তাঁর ঘর হতে বেরিয়ে আমাদের সামনে এলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না: (১) পশ্চিম প্রান্ত হতে সূর্য উঠবে, (২) ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, (৩) দাব্বাতুল আরদ নামক প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে, তিনটি ভূমি ধ্বস হবে: (৪) একটি প্রাচ্যে (৫) একটি পাশ্চাত্যে এবং (৬) একটি আরব উপদ্বীপে, (৭) ইয়ামানের অন্তর্গত আদন (এডেন) এর একটি গভীর কূপ হতে অণুত্পাত হবে, যা মানুষকে তাড়িয়ে নেবে বা একত্র করবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি কাটাবে এবং তারা যেখানে দিনের বেলায় বিশ্রাম করবে, আগুনও সেখানেই বিশ্রাম করবে।
মাহমুদ ইবনু গাইলান-আবু দাউদ আত-তাইয়ালিসী হতে, তিনি শুবা ও মাসউদী- ফুরাত আল-কাযযায রাহিমাহুল্লাহু হতে ফুরাতের সূত্রে সুফিয়ান বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের মতো হাদিস বর্ণিত আছে। এই বর্ণনায় দাজ্জাল ও ধোয়ার উল্লেখ রয়েছে।

আবু মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-আবুন নু'মান আল-হাকাম ইবনু আব্দুল্লাহ আল- ইজলী হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ফুরাত রাহিমাহুল্লাহু এর সূত্রে আবু দাউদ-শুবা রাহিমাহুল্লাহু এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আরো আছে-"কিয়ামাতের দশম নিদর্শন হলো এমন প্রবল বাতাস যা তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে অথবা ঈসা ইবনু মারইয়াম আ.- এর অবতরণ”।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سِئًا طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدُّخَانَ أَوِ الدَّجَّالَ أَوِ الدَّابَّةَ أَوْ خَاصَّةً أَحَدِكُمْ أَوْ أَمْرَ الْعَامَّةِ

আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ছয়টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই তোমরা নেক 'আমালে দ্রুততা অবলম্বন করো, তা হলো- (১) পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, (২) ধোঁয়া (উত্থিত হওয়া] (৩) দাজ্জাল [আবির্ভাব হওয়া] (৪) দাব্বাহ্ [অদ্ভুত জন্তর আত্মপ্রকাশ] (৫) খাস বিষয় (কারো ব্যক্তিগত মৃত্যু ও (৬) আম বিষয়।

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ রَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ " بَادِرُوا بِالأعْمَالِ سِئًا طلوع الشمس من مَغْرِبِهَا وَالدُّخَانَ وَدَابَّةَ الْأَرْضِ وَالدَّجَّالَ وَخُوَيْصَّةً أَحَدِكُمْ وَأَمْرَ الْعَامَّةِ

আনাস ইবনু মালিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ছয়টি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেই সৎ কাজে অগ্রবর্তী হও। তা হলো- পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ধোঁয়া নির্গত হওয়া, দাব্বাতুল আরদ- এর আত্মপ্রকাশ, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং বিশেষ বিপদ ও ব্যাপক বিপদ।

টিকাঃ
১. সুনানে ইবনু মাজাহ; হাদিস ৪০৪৫, সহিহ মুসলিম; হাদিস-৭৪৬৮।
২. আবু ঈসা বলেন-এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু হুরাইরা, উম্মু সালামা ও সাফিয়্যা রাযিআল্লাহু আনহু হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহিহ। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২১৮৩। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
৩. সহিহ মুসলিম, ৪/১২৮/৭২৮৭।
৪. সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৫৬। হাদিসের মান: হাসান সহিহ।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয় সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার তাওবা উপকারে আসবে না

📄 পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয় সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার তাওবা উপকারে আসবে না


بَلْ يَنْظُرُوْنَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَئِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ أَيْتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ أَيْتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ أُمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرًا قُلِ انْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ (۱۵۸)

'তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের নিকট ফেরেশতাগণ হাযির হবে, কিংবা তোমার রব উপস্থিত হবে অথবা প্রকাশ পাবে তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু? যেদিন তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু প্রকাশ পাবে, সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার ঈমান উপকারে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি, কিংবা সে তার ঈমানে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি। বল, 'তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষা করছি'। [আন আম: ১৫৮]

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةً، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النبي صلى الله عليه وسلم في قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : (أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ ) قَالَ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا

আবু সা'ঈদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা'আলার বাণী: "অথবা তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসনে [সূরা আন'আম ১৫৮] প্রসঙ্গে বলেন—তা হচ্ছে পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়।

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عُمَارَةٌ حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةً حَدَّثَنَا أَبُوْ رَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَاكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ.

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত ক্বিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না। লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় “পূর্বে ঈমান আনেনি এমন ব্যক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না”।

إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرُ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُوْنَ وَذَلِكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا ثُمَّ قَرَأَ الآيَةَ.

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، جَمِيعًا عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " ثلاث إذا خَرَجْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الْأَرْضِ

আবু হুরাইরাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-এ তিনটি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যারা ঈমান আনেনি বা ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করেনি, এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের ঈমানে কোন উপকার হবে না। (১) পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয় (২) দাজ্জাল (এর আবির্ভাব) ও (৩) দাব্বাতুল আর্য (ভূ-খণ্ড হতে এক প্রকার প্রাণীর আবির্ভাব)।

যে জানে সে যেন তার জ্ঞান অনুযায়ী বলে, আর যে জানে না সে যেন চুপ থাকে।

حَدَّثَنَا بُنْدَارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ أَبِي الطَّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أُسَيْدٍ، قَالَ أَشْرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غُرْفَةٍ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ السَّاعَةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَرَوْا عَشْرَ آيَاتٍ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَالدَّابَّةُ وَثَلَاثَةُ خُسُوفٍ خَسْفٍ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٍ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٍ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَنَارُ تَخْرُجُ مِنْ قَعْرِ عَدَنَ تَسُوقُ النَّاسَ أَوْ تَحْشُرُ النَّاسَ فَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا "

হুযাইফা ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কোন একদিন কিয়ামাত প্রসঙ্গে আমরা কথাবার্তা বলছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম সময় তাঁর ঘর হতে বেরিয়ে আমাদের সামনে এলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না: (১) পশ্চিম প্রান্ত হতে সূর্য উঠবে, (২) ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, (৩) দাব্বাতুল আরদ নামক প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তিনটি ভূমি ধ্বস হবে: (৪) একটি প্রাচ্যে (৫) একটি পাশ্চাত্যে এবং (৬) একটি আরব উপদ্বীপে, (৭) ইয়ামানের অন্তর্গত আদন (এডেন) এর একটি গভীর কূপ হতে অগ্লুৎপাত হবে, যা মানুষকে তাড়িয়ে নেবে বা একত্র করবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি কাটাবে এবং তারা যেখানে দিনের বেলায় বিশ্রাম করবে, আগুনও সেখানেই বিশ্রাম করবে।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍ ـ رضى الله عنه - قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأَبِي ذَرٍ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ " تَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ ". قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ " فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنَ لَهَا، وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا، وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا، يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ. فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٌ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ}

আবু যার রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য অস্ত যাবার সময় আবু যার রাদিআল্লাহু আনহু-কে বললেন-তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদা পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে কিন্তু তা কবুল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয়-- এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণীরঃ "আর সূর্য নিজ গন্তব্যে (অথবা) কক্ষ পথে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।” [ইয়াসীন ৩৮]

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِي، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ جَاءَ نَفَرُ إِلَى مَرْوَانَ بِالْمَدِينَةِ فَسَمِعُوهُ يُحَدِّثُ فِي الْآيَاتِ أَنَّ أَوَّلَهَا الدَّجَّالُ قَالَ فَانْصَرَفْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَمْ يَقُلْ شَيْئًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ الْآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدَّابَّهُ عَلَى النَّاسِ ضُحًى فَأَيَّتُهُمَا كَانَتْ قَبْلَ صَاحِبَتِهَا فَالْأُخْرَى عَلَى أَثَرِهَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَكَانَ يَقْرَأُ الْكُتُبَ وَأَظُنُّ أَوَّلَهُمَا خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا

আবু যুরআ'হ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, মদিনাতে মারওয়ানের নিকট একদল লোক এসে শুনতে পেল যে, তিনি ক্বিয়ামাতের আলামত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এর প্রথম আলামত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমরের নিকট গিয়ে একথা আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি তিনি তার কিছুই বলেননি। নিঃসন্দেহে এর প্রথম আলামত হল পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া অথবা মানব জাতির উপর পূর্বাহ্নে 'দাব্বাতুল আরদ' নামক একটি জন্তুর আত্মপ্রকাশ। এই দু'টির যে কোন একটি আগে এবং অপরটি এর পরপরই প্রকাশিত হবে। 'আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, এ সময় তিনি কিতাব পড়ছিলেন। আর আমার মনে হয় তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়টাই প্রথম প্রকাশিত হবে।

وقال الإمام أحمد: حدثنا اسماعيل بن إbrahim، حدثنا أبو حيان، عن أبي زرعة بن عمرو بن جرير، قال: جلس ست نفر من المسلمين إلى مروان بالمدينة فسمعوه يقول وهو يحدث في الآيات: إن أولها خروج الدجال. قال: فانصرف النفر إلى عبد الله بن عمرو، فحدثوه بالذي سمعوه من مروان في الآيات فقال عبد الله: لم يقل مروان شيئاً. قد حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قوله: "إن أول الآيات طلوع الشمس، وخروجُ الدَّابّة ضُحَى فأيتُهُما كَانَتْ قبلَ صَاحِبَتِهَا فَالْأُخْرَى عَلَى إِبْرِهَا قريباً."

তিনজন মুসলমান মদিনায় মারওয়ানের নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কিয়ামতের নিদর্শনাবলির আলোচনা করতে গিয়ে বলছিলেন যে, দাজ্জাল বের হওয়া কিয়ামতের একটি আলামত। অতঃপর লোকগুলো হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিআল্লাহু আনহু-এর কাছে আগমন করেন এবং মারওয়ানের কাছে যা শুনেছিলেন তা তার কাছে বর্ণনা করেন। তিনি তখন বললেনঃ “মারওয়ান তো কিছুই বলেননি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে যা শুনে স্মরণ করে রেখেছি তাই তোমাদেরকে শুনাচ্ছি। প্রথম নিদর্শন এই যে, সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। তারপর দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাব অথবা কোন একটি প্রথমে এবং অন্যটি এরপরে প্রকাশ পাবে।"

নোট: আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি এখানে যে নিদর্শনের বোঝানো হয়েছে তা পরিচিত নয়। বরং তা সাধারণ অভ্যাসের বিপরীত। যেমন পশ্চিম থেকে সূর্যোদয়, প্রাণীরা কথা বলবে, মুমিনদেরকে বললে এই যে আমার পেছনে কাফের এগুলো দাবাতুল আরদ এর পূর্বেই সংঘটিত হবে।

ﻭﻗﺪ ﻭﺭﺩ ﺫﻟﻚ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﻏﺮﻳﺐ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺤﺎﻓﻆ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﻣﻌﺠﻤﻪ ﻓﻘﺎﻝ: ﺣﺪﺛﻨﻲ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﺧﺎﻟﺪ ﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ ﺍﻟﺮﻗﻲ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺑﺮﻳﻖ ﺍﻟﺤﻤﺼﻲ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﺑﻦ ﺩﻳﻨﺎﺭ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻟﻬﻴﻌﺔ، ﻋﻦ ﺣﻴﻲ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ، ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺤﻴﻠﻲ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺎﺹ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: "ﺇِﺫَﺍ ﻃَﻠَﻌَﺖِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲ ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ ﺧَﺮَّ ﺇِﺑْﻠِﻴﺲُ ﺳﺎﺟِﺪﺍً ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻭﻳَﺠْﻬَﺮُ ﻣُﺮْﻧِﻲ ﺃَﻥْ ﺃَﺳْﺠُﺪ ﻟِﻤَﻦْ ﺷِﺌْﺖَ ﻗَﺎﻝ ﻓَﻴَﺠْﺘَﻤِﻊُ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﺯَﺑَﺎﻧِﻴَّﺘُﻪُ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻟَﻪ ﻳَﺎ ﺳَﻴِّﺪَﻫُﻢْ: ﻣَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﺘَّﻔَﺰُّﻉُ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺳَﺄَﻟْﺖُ ﺭَﺑِّﻲ ﺃَﻥْ ﻳُﻨْﻈِﺮَﻧِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻮَﻗْﺖِ ﺍﻟﻤَﻌْﻠُﻮﻡ. ﻗَﺎﻝ: ﺛُﻢَّ ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺩَﺍﺑَّﺔُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻣِﻦْ ﺻَﺪْﻉِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﻗَﺎﻝ: ﻓَﺄَﻭَّﻝُ ﺧُﻄْﻮﺓٍ ﺗَﻀَﻌُﻬَﺎ ﺑِﺈِﻧﻄَﺎﻛِﻴَّﺔً، ﻓَﻴَﺄْﺗِﻲ ﺇِﺑْﻠِﻴﺲُ ﻓَﺘَﻠْﻄِﻤُﻪ."

আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যখন সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে তখন ইবলীস শয়তান সিজদায় পড়ে যাবে এবং চীৎকার করে বলবে'হে আমার প্রভু! এখন আপনি আমাকে যাকে সিজদা করার হুকুম করতেন তাকেই আমি সিজদা করতাম।' তখন তার দেহরক্ষীরা তাকে বলবে-'এসব অনুনয় বিনয় কেন?' সে উত্তরে বলবে-'আমি আল্লাহর কাছে আবেদন করেছিলাম, "আমাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবসর দিন। আর আজকের দিনটিই হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়।' তারপর দাব্বাতুল আরদ বের হবে। তার প্রথম পা রাখার স্থান হবে ইনতাকিয়া। ইবলীস এসে তাকে চপেটাঘাত করবে।

টিকাঃ
১. আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরিব। কেউ কেউ এটিকে বর্ণনা করেছেন তবে তা মারফু' হিসাবে নয়। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ৩০৭১। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
২. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৪৬৩৫।
৩. সহিহল বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৬।
৪. সহিহ মুসলিম, ২৮৮।
৫. জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২১৮৩।
৬. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩১৯৯।
৭. সনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩১০।
৮. এ হাদিসটি গরিব। এর সনদ দুর্বল। সম্ভবতঃ ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু ঐ যখীরা থেকে হাদিসটি গ্রহণ করে থাকবেন যা আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিআল্লাহু আনহু ইয়ারমুকের যুদ্ধে পড়ে পেয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। হাদিসটি অনেক গরিব।
নাঈম ইবনু হাম্মাদের কিতাবে রয়েছে দাবাতুল আরদ ইবালিসকে হত্যা করবে। বর্ণনাটি সবচেয়ে গরিব বর্ণনা।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 পশ্চিমে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের একটি দল রাতেও ইবাদত করবে

📄 পশ্চিমে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের একটি দল রাতেও ইবাদত করবে


حدثنا محمد بن علي بن دحيم، حدثنا أحمد بن حازم ابن أبي غرزة، حدثنا ضرار بن صرد، حدثنا ابن فضيل، عن سليمان بن يزيد، عن عبد الله بن ابى اوفى، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ليأتين على الناس ليلة تعدل ثلاث ليال من لياليكم هذه، فإذا كان ذلك عرفها المتنفلون، يقوم أحدهم فيقرأ حزبه، ثم ينام، ثم يقوم فيقرأ حزبه ثم ينام، فبينما هم كذلك، صاح الناس بعضهم في بعض، فقالوا: ما هذا؟ فيفزعون إلى المساجد، فإذا هيم بالشمس قد طلعت حتى صارت في وسط السماء، رجعت وطلعت من مطلعها، قال فحينئذ لا ينفع نفساً إيمانها."

ثم سأل ابن مردويه من طريق سفيان الثوري، عن منصور، عن ربعي، عن حذيفة، قال: سألت النبي صلى الله عليه وسلم ما آية طلوع الشمس من مغربها؟ قال: تطول تلك الليلة حتى تكون قمر ليلتين فيتنبه الذين كانوا يصلون فيها، يعملون كما كانوا يعملون قبلها، والنجوم لا ترى قد باتت مكانها، يرقدون ثم يقومون فيصلون، ثم يرقدون ثم يقومون فيصلون، ثم يرقدون ثم يقومون، يتطاول الليل فيفزع الناس، ولا يصبحون، فبينما هم ينتظرون طلوع الشمس من مشرقها إذ طلعت من مغربها، فإذا رآها الناس آمنوا ولا ينفعهم إيمانهم."

আব্দুল্লাহ ইবনু আবি আওফা রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, একটি রাত্রি লোকদের উপর এমন আসবে যা তিন রাত্রির সমান হবে। যখন এরূপ ঘটবে তখন যারা তাহাজ্জুদের নামায পড়ে থাকে তারা এর পরিচয় পেয়ে যাবে। সুতরাং তারা নফল নামায পড়াবে, তারপর শুয়ে যাবে, আবার উঠবে, আবার নামায পড়াবে। তারা এরূপ বারবার করতে থাকবে এমন সময় হঠাৎ শোরগোল উঠবে। লোকেরা চিৎকার করতে থাকবে এবং ভয়ে মসজিদের দিকে দৌড়ে যাবে। কেননা সূর্য সে সময় পশ্চিম দিক হতে উদিত অবস্থায় রইবে। এখন ওটা আকাশের মধ্যস্থলে এসে আবার পশ্চিম দিকে ফিরে যাবে। এরপরে যথা নিয়মে পূর্ব দিক থেকেই উদিত হতে থাকেবে। ঐ সময় ঈমান আনয়ন বিফল হবে।"

ইবনু মিরদুওয়াই বর্ণনা করেন, হযরত হুযাইফা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসূল। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার নিদর্শন কি? তিনি উত্তরে বললেন—সেই দিন রাত্রি এতো দীর্ঘ হবে যে, দুটি রাত্রির সমান অনুভূত হবে। রাত্রে যারা নামায পড়ে তারা জেগে উঠবে এবং যেভাবে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে থাকে সেভাবেই পড়বে। তারকাগুলোকে স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত দেখা যাবে, অস্ত যাবে না। এ লোকগুলো নামায শেষ করে ঘুমিয়ে পড়াবে। পুনরায় জেগে উঠবে এবং নামায পড়বে। আবার শুয়ে যাবে এবং পুনরায় জেগে উঠবে ও নামায পড়বে। শুয়ে শুয়ে তাদের পার্শ্বদেশ অনড়া হয়ে যাবে। রাত্রি এতো দীর্ঘ হয়ে যাবে যে, মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়বে, সকাল হবে না। তারা অপেক্ষমান থাকবে যে, সূর্য পূর্ব দিক থেকেই উদিত হবে। অকস্মাৎ ওটাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হতে দেখা যাবে। তখন ঈমান আনয়নে কোনই উপকার হবে না।

حدثنا محمد بن بشر، حدثنا محمد بن عمرو، عن ابن حرملة، عن خالته، قالت: خطب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عاصب أصبعه من لدغة عقرب فقال: إنكُم تَقُولُونَ لا عدوّ لَكُمْ إنَّكم لا تزالون تُقاتلون عدواً حتى يخرج يأجوج ومَأْجُوجُ عراض الوجوه صِغَارُ العيون كَأَنَّ وجُوهَهُمْ المجان المطرقة".

ইমাম আহমদ বলেন, আমাকে মুহাম্মদ ইবনু বিশ্র আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনু আমর থেকে, তিনি ইবনু হারমালা থেকে, তিনি তাঁর খালা থেকে। তাঁর খালা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি বিচ্ছুর দংশনের স্থানে আঙুল দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, তোমরা বলছ যে তোমাদের কোনো শত্রু নেই। নিশ্চয় তোমরা একের পর এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে। এমনকি ইয়াজুজ-মাজুজ বের হবে। তাদের চেহারা হবে খর্বাকৃতির, চোখ হবে ছোটো। যেন তাদেও চেহারাকে মুগর দিয়ে চেপ্টা করা হয়েছে।

أخبرنا أبو الحسن محمد بن الحسين بن داود العلوي، أخبرنا أبو نصر محمد بن حمدويه بن سهل المروزي، حدثنا عبد الله بن حماد الآملي، حدثنا محمد بن

عمران، حدثني أبي، حدثني ابن أبي ليلى، عن إسماعيل بن رجاء، عن سعيد بن إياس، عن عبد الله بن مسعود أنه قال ذات يوم لجلسائه أرأيتم قول الله: تَغْرُبُ في عين حمية". ماذا يعني بها؟ قالوا : الله ورسوله أعلم. قال: إنها إذا غربت سجدت له وسبحته وعظمته، ثم كانت تحت العرش، فإذا حضرها طلوعها سجدت له وسبحته وعظمته، ثم استأذنت، فإذا كان اليوم الذي تحبس فيه سجدت له وسبحته وعظمته ثم استأذنته فيقال لها: تأتي فتحبس قدر ليلتين، قال: ويفزع المتهجدون، وينادي الرجل تلك الليلة جاره يا فلان ما شأننا الليلة؟ لقد نمت حتى شبعت، وصليت حتى اعييت؟ ثم يقال لها: اطلعي من حيث غربت، فذلك "يوم لا ينفع نفسًا إيمانها لم تكن آمنت من قبل الآية.

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মজলিসে উপবিষ্ট লোকদের বললেন-তোমরা কি জানো এর ব্যাখ্যা কী? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানে। তিনি বলেন, এ ব্যাখ্যা হলো, সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আল্লাহর দরবারে সিজদা করে এবং তাসবীহ-তা'জীম করে। অতঃপর আরশের নিচে অবস্থান করে। উদয়ের সময় হলো আল্লাহর দরবারে সিজদা করে উদয়ের অনুমতি প্রার্থনা করে। অতঃপর সেদিন তাকে আর উদয়ের অনুমতি দেয়া হবে না, সেদিনও সে সিজদা করে আল্লাহর কাছে উদয়ের অনুমতি প্রার্থনা করবে। তখন তাকে বলা হবে, আসবে। অতঃপর তাকে দুরাত সমান আটকে রাখা হবে। এতে তাহাজ্জুদ আদায়কারীরা আতংকিত হবে। লোকজন প্রতিবেশীকে ডাকাডাকি করে বলবে, আমাদের রাতে কী হলো? পর্যাপ্ত ঘুমালাম, নামায পড়লাম এমনকি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। অতঃপর সূর্যকে বলা হবে, যেদিক থেকে তুমি ডুবেছ সেদিক থেকে উদিত হও। “এ হলো ওই দিন, যেদিন মানুষকে তার ঈমান কোনো ফায়েদা দিবে না, যদি এর আগে ঈমান না এনে থাকে।"

টিকাঃ
১. ইবনু মিরদুওয়াই রাহিমাহুল্লাহু এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই সঙ্গে সীহাহে সিত্তাতে কোথাও সহীহ হাদিস গ্রন্থের কোন একটাতেও বিদ্যমান নেই।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কোন হিজরত কবুল করা হবে না

📄 কোন হিজরত কবুল করা হবে না


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِي، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله

عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ " لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّى تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا "

মু'আবিয়াহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি-তাওবাহ্ দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত শেষ হবে না। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না যতক্ষণ পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত না হয়।

عن صفوان بن عسال، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الله فتح باباً قبل المغرب عرضه سبعون أو أربعون ذراعاً للتوبة، لا يغلق حتى تطلع الشمس."

সাফওয়ান ইবনু আসালের কাছ থেকে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাওবার জন্য পশ্চিমে একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন। পশ্চিমে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ করবেন না।
এই মুতাওয়াতির বর্ণনা সমূহ এবং কুরআনের আয়াত থেকে বুঝে আসে যে, পশ্চিম দিগন্তে সূর্যোদয়ের পর নব ঈমান গ্রহণ করা বা তাওবা কোনটাই গ্রহণ করা হবে না। কেননা এটি কিয়ামতের অন্যতম শর্তসমূহের অন্যতম। আর দাবাতুল আরদ এর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এরই কিছু সময় সন্নিকটে। সে সময়টা কিয়ামতের খুব নিকটবর্তি হবে।
যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন- بَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَئِكَةُ أَوْ يَأْتِي رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ ايتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ ايتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرًا قُلِ انْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُوْنَ ﴿۱۵۸)

'তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের নিকট ফেরেশতাগণ হাযির হবে, কিংবা তোমার রব উপস্থিত হবে অথবা প্রকাশ পাবে তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু? যেদিন তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু প্রকাশ পাবে, সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার ঈমান উপকারে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি, কিংবা সে তার ঈমানে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি। বল, 'তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষা করছি'। [সূরা আন আম: ১৫৮]

আল্লাহপাক অন্যত্র বলেন- قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا ﴿۲۰﴾ قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا ﴿۲۱﴾ قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا ﴿۲۲﴾ إِلَّا بَلَاغًا مِنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ﴿۲۳﴾ حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ أَضْعَفُ نَاصِرًا وَأَقَلُّ عَدَدًا ﴿۲۴﴾ قُلْ إِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ مَا تُوعَدُونَ أَمْ يَجْعَلُ لَهُ رَبِّي أَمَدًا ﴿۲۵﴾ عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا ﴿۲۶﴾ إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا ﴿۲۷﴾ لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالَاتِ رَبِّهِمْ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيْهِمْ وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا ﴿۲۸﴾ 'তারপর তারা যখন আমার আযাব দেখল তখন বলল, 'আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, আর যাদেরকে আমরা তার সাথে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম'। সুতরাং তারা যখন আমার আযাব দেখল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকার করল না। এটা আল্লাহর বিধান, তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে। আর তখনই কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।' [সূরা গাফের-৮৫।]
আল্লাহ তা'আলা বলেন- فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا فَأَنَّى لَهُمْ إِذَا جَاءَتْهُمْ ذِكْرَاهُمْ 'সুতরাং তারা কি কেবল এই অপেক্ষা করছে যে, কিয়ামত তাদের উপর আকস্মিকভাবে এসে পড়ুক? অথচ কিয়ামতের আলামতসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কিয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে?' [সূরা মুহাম্মাদ: ১৮।]

وقد حكى البيهقي عن الحاكم أنه قال: أول الآيات ظهوراً خروج الدجال، ثم نزول عيسى ابن مريم، ثم فتح يأجوج ومأجوج، ثم خروج الدابة، ثم طلوع الشمس من مغربها، قال: لأنها إذا طلعت من مغربها آمن من عليها، فلو كان نزول عيسى بعدها لم يكن كافراً، وهذا الذي قاله فيه نظر لأن إيمان أهل الأرض يومئذ لا ينفع جميعهم ولا ينفع نفساً إيمانها لم تكن آمنت من قبل، فمن أحدث إيماناً أو توبة يومئذ لم تقبل حتى يكون مؤمناً أو تائباً قبل ذلك، وكذلك قوله تعالى في قصة نزول عيسى في آخر الزمان: "وإنْ مِنْ أهْل الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ ."

আল-বায়হাকী বলেন, প্রথম নিদর্শন হলো: দাজ্জাল। তারপরে ঈসা আ.-এর অবতরণ। তারপর ইয়াজুজ-মাজুজের অত্মপ্রকাশ। অতঃপর দাবাতুল আরদ। তারপরে সূর্য পশ্চিম থেকে উঠবে। তিনি বলেন, যখন সূর্য উঠবে তখন মুমিনরাই শুধু ঈমানে উপর থাকবে। সুতরাং যদি এর পর ঈসা আ.-এর অবতরণের ঘটে তাহলে সে সময় কোন কাফের থাকবে না। আর এই বর্ণনায় ত্রুটি রয়েছে।
কারণ সেই সময় পৃথিবীর সকল মানুষের ঈমান তাদের কারোই উপকারে আসবে না। কোন ব্যক্তিরও নতুন ঈমান সে দিন কোন কাজে আসবে না। কেবল যে সেদিনের পূর্বেই ঈমান এনেছে এবং তাওবা করেছে তার ঈমান ও তাওবাই কেবল তার উপকারে আসবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা ঈসা আ.-এর ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন-
وَإِن مِّنْ أَهْلِ الْكِتَبِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ وَيَوْمَ الْقِيمَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا
কিতাবওয়ালাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, তার মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি অবশ্যই ঈমান আনবে না, আর ক্বিয়ামাতের দিন সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। [সূরা নিসাঃ: ১৫৯]

টিকাঃ
১. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৭৯। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
২. মুসনাদে আহমাদ ১/১৯১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00