📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কাহতান গোত্রের এক জালিমমের আত্মপ্রকাশ ঘটবে

📄 কাহতান গোত্রের এক জালিমমের আত্মপ্রকাশ ঘটবে


حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنى سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضى الله عنه - - قَالَ " لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بِعَصَاهُ .

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত কাৰ্তান গোত্র হতে এমন এক ব্যক্তির আগমন না হবে যে মানুষ জাতিকে তার লাঠির সাহায্যে পরিচালিত করবে।

নোট: এই লোকটি আবিসিনিয়ার ছোট ছোট নলা বিশিষ্ট লোকটিও হতে পারে। কিংবা ভিন্ন অন্য কেউও হতে পারে। হতে পারে এই লোকটি হবে কাহতানের আর সেই লোকটি আবিসিনিয়ার।

وقال الإمام أحمد: حدثنا أبو بكر الحنفي، حدثنا عبد الحميد بن جعفر، عن عمر بن الحكم الأنصاري، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يذهب الليل والنهارُ حَتَّى يَمْلِكَ رجُلٌ من الموالي يُقَالُ لَهُ جَهْجَاه."

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-'জাহজাহ্' নামক কোন এক মুক্তদাস অধিপতি না হওয়া পর্যন্ত দিন- রাতের অবসান (কিয়ামাত) হবে না।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ مِنَ الْمَوَالِي يُقَالُ لَهُ جَهْجَاهُ

উমার ইবনুল হাকাম রাহিমাহুল্লাহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-'জাহজাহ্' নামক কোন এক মুক্তদাস অধিপতি না হওয়া পর্যন্ত দিন- রাতের অবসান (কিয়ামাত) হবে না।

ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটি বর্ণনা করেন। এই লোকটি আবিসিনিয়ার ছোট ছোট নলা বিশিষ্ট হাবশি হতে পারে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

وقد قال الإمام أحمد: حدثنا حسن، حدثنا ابن لهيعة، حدثنا أبو الزبير، عن جابر أن عمر بن الخطاب أخبر أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "سيَخْرُجُ أهل مكة. ثم لا يَمُرُّ بِهَا أوْ لا يَعْبُرُ بها إلا قليل، ثم تمتلىء ثم يَخْرُجُونَ مِنْهَا فَلا يعودون إليها أبداً."

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তখন মক্কার লোকেরা বেরিয়ে আসবে তারপর কেউই তার আশপাশ দিয়ে অতিক্রম করবে না। তবে কতক যাবে। তারপরে তারা পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারপরে বাইরে আসবে এরপর তারা আর ফিরে আসবে না।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, ৬/৩৫১৭। সহিহ মুসলিম, ৪/৬০।
২. মুসনাদে আহমাদ, ২/পৃ.৩২৯।
৩. আর ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরিব। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২২২৮।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না

📄 দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না


নবিজির শহর ও মক্কায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। যেমন বিভিন্ন সহিহ হাদিসে আছে যে, দাজ্জাল মক্কা আর মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। মদিনার প্রবেশ পথগুলোতে ফেরেশতা নিযুক্ত থাকবে। যাতে সে প্রবেশ করতে না পরে।

عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةُ لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ.

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন মদিনার প্রবেশ পথগুলোতে ফেরেস্তা নিযুক্ত আছে। কাজেই সেখানে প্লেগ ও দাজ্জাল প্রবেশ করবে না।

وَقَالَ : إِنَّهَا طَيْبَةُ، تَنْفِي الْخَبَثَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْفِضَّةِ.

যেমন নবি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এই মদিনাহ হল পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রৌপ্যের কালিমা দূর করে এটাও অপবিত্রতা দূর করে দেয়।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- الْخَبِيثَتُ لِلْخَبِيثِينَ وَ الْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثِ وَ الطَّيِّبَتُ لِلطَّيِّبِينَ وَ الطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّيتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَ رِزْقٌ كَرِيمٌ (২৬)
দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য। আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য; লোকেরা যা বলে, তারা তা থেকে মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযক।' [আন নূরঃ ২৪:২৬]
উদ্দেশ্য হচ্ছে দাজ্জালের সময় কালেও মদিনা আবাদ থাকবে। অতঃপর মরিয়ম পুত্র ঈসা আ.-এর সময়ও মদিনা আবাদ থাকবে। এমনকি তার মৃত্যু ও দাফন মদিনাতে হবে। অরপর লোকজন সেখান থেকে বের হয়ে আসবে। যেমন পূর্বেও তার বিস্তর আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে।

قال الإمام أحمد: حدثنا يحيى بن إسحاق، حدثنا ابن لهيعة، عن أبي الزبير، عن جابر قال: أخبرني عمر بن الخطاب قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ليسيرن الراكب بجنبات المدينة ثم يقولن لَقَدْ كَانَ فِي هَذَا حَاضِر مِنَ المسلمين كثير."

উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, আমি নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন— মদিনার যাত্রী পথে হাঁটবে এবং বলবে যে এক সময় বহু মুসলমান এখানে উপস্থিতিতে ছিলেন।

'দাব্বাতুল আরদ নামক প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে যারা মানুষের সাথে কথা বলবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন—

وَ إِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِأَيْتِنَا لَا يُوْقِنُونَ (৮২)
'আর যখন তাদের উপর 'বাণী' (আযাব) বাস্তবায়িত হবে তখন আমি যমীনের জন্তু (দাব্বাতুল আরদ)* বের করব, যে তাদের সাথে কথা বলবে। কারণ মানুষ আমার আয়াতসমূহে সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখত না।' [আন নামল: ৮২]

আল ফিতান ওয়াল মালাহিম। ২৬৪
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু (تكلمهم أي تخاطبهم مخاطبة)، তাদের উদ্দেশ্য করে কথা বলবে। সে বাকশক্তি সম্পন্ন হবে এবং বলবে যে, (إن الناس كانوا

بآياتنا لا يوقنون) মানুষ আল্লাহর নিদর্শনসমূহে অবিশ্বাসী। ইমাম ইবনু জারীর এটাকেই পছন্দ করেছেন। কিন্তু এই উক্তি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

হযরত ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু-এর উক্তি এই যে, এটা তাদেরকে আহত করবে। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, উভয়েই এটা করবে, অর্থাৎ এও করবে এবং এও করবে। এটা খুবই চমৎকার উক্তি।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭১৩৩।
২. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৪৫৮৯।
৩. মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৩/পৃ.৩৪১। সনদটি দুর্বল।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কিয়ামতের পূর্বের দশ আলামত

📄 কিয়ামতের পূর্বের দশ আলামত


وقال الإمام أحمد: حدثنا سفيان بن عيينة، عن فرات، عن أبي الطفيل، عن حذيفة بن أسد قال: اطلع النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ علينا ونحن نتذاكر الساعة فقال: "مَا تَذْكِرُونَ؟ قُلْنا نَذْكُرُ الساعَةَ، فقال: إنها لن تقومَ حَتَّى تَرَوْا عشر آيات: الدخان والدجال والدابة وطلوع الشمس من مغربها ونزول عيسى ابن مَرْيَمَ ويأْجُوجَ ومَأْجُوجَ وثَلاثَةَ خسوف خَسْفُ بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف بجزيرة العرب، وآخر ذلك نارٌ تَخْرُجُ من قبل المشرق تسوق الناس إلى تحشرهم."

হযরত হুযাইফা ইবনু আসীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতদিন দশটি নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ না ঘটবে ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না- (১) ধোঁয়া, (২) দাজ্জাল, (৩) মহাপ্রাণী, (৪) পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়, তিন ভূমিধ্বস- (৫) প্রাচ্যে, (৬) পাশ্চাত্যে, (৭) আরববিশ্বে, (৮) ঈসা মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং এর অবতরণ, (৯) ইয়াজুয- মাজুযের মুক্তিলাভ ও (১০) আদন (এডেন) গহবর থেকে অগ্নি উদগীরণ; সে আগুন মানুষকে একটি ময়দানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে সেখানে আগুন রাত্রিযাপন করবে। যেখানে তারা দিবা নিদ্রা যাবে সেখানে সে আগুনও দিবা নিদ্রা যাবে।

حَدَّثَنَا بُنْدَارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ فُرَاتٍ الْفَزَارِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ، قَالَ أَشْرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غُرْفَةٍ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ السَّاعَةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَرَوْا عَشْرَ آيَاتٍ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَالنَّابَّةُ وَثَلاثَةُ خُسُوفٍ خَسْفٍ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٍ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٍ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَنَارُ تَخْرُجُ مِنْ قَعْرِ عَدَنَ تَسُوقُ النَّاسَ أَوْ تَحْشُرُ النَّاسَ فَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَنَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا.
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِيسِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، وَالْمَسْعُودِي، سَمِعًا مِنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ نَحْوَ حَدِيثٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ فُرَاتٍ وَزَادَ فِيهِ * الدَّجَّالَ أَوِ الدُّخَانَ

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعِجْلِيُّ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ فُرَاتٍ، نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي دَاوُدَ عَنْ شُعْبَةَ، وَزَادَ، فِيهِ قَالَ " وَالْعَاشِرَةُ إِمَّا رِيحُ تَطْرَحُهُمْ فِي الْبَحْرِ وَإِمَّا نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ "

হুযাইফা ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কোন একদিন কিয়ামাত প্রসঙ্গে আমরা কথাবার্তা বলছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম সময় তাঁর ঘর হতে বেরিয়ে আমাদের সামনে এলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না: (১) পশ্চিম প্রান্ত হতে সূর্য উঠবে, (২) ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, (৩) দাব্বাতুল আরদ নামক প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে, তিনটি ভূমি ধ্বস হবে: (৪) একটি প্রাচ্যে (৫) একটি পাশ্চাত্যে এবং (৬) একটি আরব উপদ্বীপে, (৭) ইয়ামানের অন্তর্গত আদন (এডেন) এর একটি গভীর কূপ হতে অণুত্পাত হবে, যা মানুষকে তাড়িয়ে নেবে বা একত্র করবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি কাটাবে এবং তারা যেখানে দিনের বেলায় বিশ্রাম করবে, আগুনও সেখানেই বিশ্রাম করবে।
মাহমুদ ইবনু গাইলান-আবু দাউদ আত-তাইয়ালিসী হতে, তিনি শুবা ও মাসউদী- ফুরাত আল-কাযযায রাহিমাহুল্লাহু হতে ফুরাতের সূত্রে সুফিয়ান বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের মতো হাদিস বর্ণিত আছে। এই বর্ণনায় দাজ্জাল ও ধোয়ার উল্লেখ রয়েছে।

আবু মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-আবুন নু'মান আল-হাকাম ইবনু আব্দুল্লাহ আল- ইজলী হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ফুরাত রাহিমাহুল্লাহু এর সূত্রে আবু দাউদ-শুবা রাহিমাহুল্লাহু এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আরো আছে-"কিয়ামাতের দশম নিদর্শন হলো এমন প্রবল বাতাস যা তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে অথবা ঈসা ইবনু মারইয়াম আ.- এর অবতরণ”।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سِئًا طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدُّخَانَ أَوِ الدَّجَّالَ أَوِ الدَّابَّةَ أَوْ خَاصَّةً أَحَدِكُمْ أَوْ أَمْرَ الْعَامَّةِ

আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ছয়টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই তোমরা নেক 'আমালে দ্রুততা অবলম্বন করো, তা হলো- (১) পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, (২) ধোঁয়া (উত্থিত হওয়া] (৩) দাজ্জাল [আবির্ভাব হওয়া] (৪) দাব্বাহ্ [অদ্ভুত জন্তর আত্মপ্রকাশ] (৫) খাস বিষয় (কারো ব্যক্তিগত মৃত্যু ও (৬) আম বিষয়।

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ রَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ " بَادِرُوا بِالأعْمَالِ سِئًا طلوع الشمس من مَغْرِبِهَا وَالدُّخَانَ وَدَابَّةَ الْأَرْضِ وَالدَّجَّالَ وَخُوَيْصَّةً أَحَدِكُمْ وَأَمْرَ الْعَامَّةِ

আনাস ইবনু মালিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ছয়টি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেই সৎ কাজে অগ্রবর্তী হও। তা হলো- পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ধোঁয়া নির্গত হওয়া, দাব্বাতুল আরদ- এর আত্মপ্রকাশ, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং বিশেষ বিপদ ও ব্যাপক বিপদ।

টিকাঃ
১. সুনানে ইবনু মাজাহ; হাদিস ৪০৪৫, সহিহ মুসলিম; হাদিস-৭৪৬৮।
২. আবু ঈসা বলেন-এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু হুরাইরা, উম্মু সালামা ও সাফিয়্যা রাযিআল্লাহু আনহু হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহিহ। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২১৮৩। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
৩. সহিহ মুসলিম, ৪/১২৮/৭২৮৭।
৪. সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৫৬। হাদিসের মান: হাসান সহিহ।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয় সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার তাওবা উপকারে আসবে না

📄 পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয় সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার তাওবা উপকারে আসবে না


بَلْ يَنْظُرُوْنَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَئِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ أَيْتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ أَيْتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ أُمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرًا قُلِ انْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ (۱۵۸)

'তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের নিকট ফেরেশতাগণ হাযির হবে, কিংবা তোমার রব উপস্থিত হবে অথবা প্রকাশ পাবে তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু? যেদিন তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু প্রকাশ পাবে, সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার ঈমান উপকারে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি, কিংবা সে তার ঈমানে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি। বল, 'তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষা করছি'। [আন আম: ১৫৮]

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةً، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النبي صلى الله عليه وسلم في قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ : (أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ ) قَالَ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا

আবু সা'ঈদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা'আলার বাণী: "অথবা তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসনে [সূরা আন'আম ১৫৮] প্রসঙ্গে বলেন—তা হচ্ছে পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়।

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عُمَارَةٌ حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةً حَدَّثَنَا أَبُوْ رَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَاكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ.

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত ক্বিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না। লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় “পূর্বে ঈমান আনেনি এমন ব্যক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না”।

إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرُ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُوْنَ وَذَلِكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا ثُمَّ قَرَأَ الآيَةَ.

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، جَمِيعًا عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " ثلاث إذا خَرَجْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الْأَرْضِ

আবু হুরাইরাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-এ তিনটি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে যারা ঈমান আনেনি বা ঈমান অনুযায়ী নেক কাজ করেনি, এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর তাদের ঈমানে কোন উপকার হবে না। (১) পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয় (২) দাজ্জাল (এর আবির্ভাব) ও (৩) দাব্বাতুল আর্য (ভূ-খণ্ড হতে এক প্রকার প্রাণীর আবির্ভাব)।

যে জানে সে যেন তার জ্ঞান অনুযায়ী বলে, আর যে জানে না সে যেন চুপ থাকে।

حَدَّثَنَا بُنْدَارُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ أَبِي الطَّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أُسَيْدٍ، قَالَ أَشْرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غُرْفَةٍ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ السَّاعَةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَرَوْا عَشْرَ آيَاتٍ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَالدَّابَّةُ وَثَلَاثَةُ خُسُوفٍ خَسْفٍ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٍ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٍ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَنَارُ تَخْرُجُ مِنْ قَعْرِ عَدَنَ تَسُوقُ النَّاسَ أَوْ تَحْشُرُ النَّاسَ فَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا "

হুযাইফা ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কোন একদিন কিয়ামাত প্রসঙ্গে আমরা কথাবার্তা বলছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম সময় তাঁর ঘর হতে বেরিয়ে আমাদের সামনে এলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না: (১) পশ্চিম প্রান্ত হতে সূর্য উঠবে, (২) ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, (৩) দাব্বাতুল আরদ নামক প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তিনটি ভূমি ধ্বস হবে: (৪) একটি প্রাচ্যে (৫) একটি পাশ্চাত্যে এবং (৬) একটি আরব উপদ্বীপে, (৭) ইয়ামানের অন্তর্গত আদন (এডেন) এর একটি গভীর কূপ হতে অগ্লুৎপাত হবে, যা মানুষকে তাড়িয়ে নেবে বা একত্র করবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি কাটাবে এবং তারা যেখানে দিনের বেলায় বিশ্রাম করবে, আগুনও সেখানেই বিশ্রাম করবে।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍ ـ رضى الله عنه - قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأَبِي ذَرٍ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ " تَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ ". قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ " فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنَ لَهَا، وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا، وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا، يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ. فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٌ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ}

আবু যার রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য অস্ত যাবার সময় আবু যার রাদিআল্লাহু আনহু-কে বললেন-তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদা পড়ে যায়। অতঃপর সে আবার উদিত হবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেয়া হয়। আর শীঘ্রই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে কিন্তু তা কবুল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যে পথ দিয়ে আসলে ঐ পথেই ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হয়-- এটাই মর্ম হল মহান আল্লাহর বাণীরঃ "আর সূর্য নিজ গন্তব্যে (অথবা) কক্ষ পথে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।” [ইয়াসীন ৩৮]

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِي، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ جَاءَ نَفَرُ إِلَى مَرْوَانَ بِالْمَدِينَةِ فَسَمِعُوهُ يُحَدِّثُ فِي الْآيَاتِ أَنَّ أَوَّلَهَا الدَّجَّالُ قَالَ فَانْصَرَفْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَمْ يَقُلْ شَيْئًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ الْآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدَّابَّهُ عَلَى النَّاسِ ضُحًى فَأَيَّتُهُمَا كَانَتْ قَبْلَ صَاحِبَتِهَا فَالْأُخْرَى عَلَى أَثَرِهَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَكَانَ يَقْرَأُ الْكُتُبَ وَأَظُنُّ أَوَّلَهُمَا خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا

আবু যুরআ'হ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, মদিনাতে মারওয়ানের নিকট একদল লোক এসে শুনতে পেল যে, তিনি ক্বিয়ামাতের আলামত প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এর প্রথম আলামত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমরের নিকট গিয়ে একথা আলোচনা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি তিনি তার কিছুই বলেননি। নিঃসন্দেহে এর প্রথম আলামত হল পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া অথবা মানব জাতির উপর পূর্বাহ্নে 'দাব্বাতুল আরদ' নামক একটি জন্তুর আত্মপ্রকাশ। এই দু'টির যে কোন একটি আগে এবং অপরটি এর পরপরই প্রকাশিত হবে। 'আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, এ সময় তিনি কিতাব পড়ছিলেন। আর আমার মনে হয় তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়টাই প্রথম প্রকাশিত হবে।

وقال الإمام أحمد: حدثنا اسماعيل بن إbrahim، حدثنا أبو حيان، عن أبي زرعة بن عمرو بن جرير، قال: جلس ست نفر من المسلمين إلى مروان بالمدينة فسمعوه يقول وهو يحدث في الآيات: إن أولها خروج الدجال. قال: فانصرف النفر إلى عبد الله بن عمرو، فحدثوه بالذي سمعوه من مروان في الآيات فقال عبد الله: لم يقل مروان شيئاً. قد حفظت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قوله: "إن أول الآيات طلوع الشمس، وخروجُ الدَّابّة ضُحَى فأيتُهُما كَانَتْ قبلَ صَاحِبَتِهَا فَالْأُخْرَى عَلَى إِبْرِهَا قريباً."

তিনজন মুসলমান মদিনায় মারওয়ানের নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি কিয়ামতের নিদর্শনাবলির আলোচনা করতে গিয়ে বলছিলেন যে, দাজ্জাল বের হওয়া কিয়ামতের একটি আলামত। অতঃপর লোকগুলো হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিআল্লাহু আনহু-এর কাছে আগমন করেন এবং মারওয়ানের কাছে যা শুনেছিলেন তা তার কাছে বর্ণনা করেন। তিনি তখন বললেনঃ “মারওয়ান তো কিছুই বলেননি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে যা শুনে স্মরণ করে রেখেছি তাই তোমাদেরকে শুনাচ্ছি। প্রথম নিদর্শন এই যে, সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। তারপর দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাব অথবা কোন একটি প্রথমে এবং অন্যটি এরপরে প্রকাশ পাবে।"

নোট: আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি এখানে যে নিদর্শনের বোঝানো হয়েছে তা পরিচিত নয়। বরং তা সাধারণ অভ্যাসের বিপরীত। যেমন পশ্চিম থেকে সূর্যোদয়, প্রাণীরা কথা বলবে, মুমিনদেরকে বললে এই যে আমার পেছনে কাফের এগুলো দাবাতুল আরদ এর পূর্বেই সংঘটিত হবে।

ﻭﻗﺪ ﻭﺭﺩ ﺫﻟﻚ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺚ ﻏﺮﻳﺐ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺤﺎﻓﻆ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﻣﻌﺠﻤﻪ ﻓﻘﺎﻝ: ﺣﺪﺛﻨﻲ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻳﺤﻴﻰ ﺑﻦ ﺧﺎﻟﺪ ﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ ﺍﻟﺮﻗﻲ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺇﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺑﻦ ﺑﺮﻳﻖ ﺍﻟﺤﻤﺼﻲ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﺑﻦ ﺩﻳﻨﺎﺭ، ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻟﻬﻴﻌﺔ، ﻋﻦ ﺣﻴﻲ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ، ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺤﻴﻠﻲ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺎﺹ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: "ﺇِﺫَﺍ ﻃَﻠَﻌَﺖِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲ ﻣِﻦْ ﻣَﻐْﺮِﺑِﻬَﺎ ﺧَﺮَّ ﺇِﺑْﻠِﻴﺲُ ﺳﺎﺟِﺪﺍً ﻳُﻨَﺎﺩِﻱ ﻭﻳَﺠْﻬَﺮُ ﻣُﺮْﻧِﻲ ﺃَﻥْ ﺃَﺳْﺠُﺪ ﻟِﻤَﻦْ ﺷِﺌْﺖَ ﻗَﺎﻝ ﻓَﻴَﺠْﺘَﻤِﻊُ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﺯَﺑَﺎﻧِﻴَّﺘُﻪُ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻟَﻪ ﻳَﺎ ﺳَﻴِّﺪَﻫُﻢْ: ﻣَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﺘَّﻔَﺰُّﻉُ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ: ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺳَﺄَﻟْﺖُ ﺭَﺑِّﻲ ﺃَﻥْ ﻳُﻨْﻈِﺮَﻧِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻮَﻗْﺖِ ﺍﻟﻤَﻌْﻠُﻮﻡ. ﻗَﺎﻝ: ﺛُﻢَّ ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺩَﺍﺑَّﺔُ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻣِﻦْ ﺻَﺪْﻉِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﻗَﺎﻝ: ﻓَﺄَﻭَّﻝُ ﺧُﻄْﻮﺓٍ ﺗَﻀَﻌُﻬَﺎ ﺑِﺈِﻧﻄَﺎﻛِﻴَّﺔً، ﻓَﻴَﺄْﺗِﻲ ﺇِﺑْﻠِﻴﺲُ ﻓَﺘَﻠْﻄِﻤُﻪ."

আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যখন সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে তখন ইবলীস শয়তান সিজদায় পড়ে যাবে এবং চীৎকার করে বলবে'হে আমার প্রভু! এখন আপনি আমাকে যাকে সিজদা করার হুকুম করতেন তাকেই আমি সিজদা করতাম।' তখন তার দেহরক্ষীরা তাকে বলবে-'এসব অনুনয় বিনয় কেন?' সে উত্তরে বলবে-'আমি আল্লাহর কাছে আবেদন করেছিলাম, "আমাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবসর দিন। আর আজকের দিনটিই হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়।' তারপর দাব্বাতুল আরদ বের হবে। তার প্রথম পা রাখার স্থান হবে ইনতাকিয়া। ইবলীস এসে তাকে চপেটাঘাত করবে।

টিকাঃ
১. আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরিব। কেউ কেউ এটিকে বর্ণনা করেছেন তবে তা মারফু' হিসাবে নয়। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ৩০৭১। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
২. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৪৬৩৫।
৩. সহিহল বুখারি হাদিস নং ৪৬৩৬।
৪. সহিহ মুসলিম, ২৮৮।
৫. জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২১৮৩।
৬. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩১৯৯।
৭. সনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩১০।
৮. এ হাদিসটি গরিব। এর সনদ দুর্বল। সম্ভবতঃ ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু ঐ যখীরা থেকে হাদিসটি গ্রহণ করে থাকবেন যা আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিআল্লাহু আনহু ইয়ারমুকের যুদ্ধে পড়ে পেয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। হাদিসটি অনেক গরিব।
নাঈম ইবনু হাম্মাদের কিতাবে রয়েছে দাবাতুল আরদ ইবালিসকে হত্যা করবে। বর্ণনাটি সবচেয়ে গরিব বর্ণনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00