📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ হযরত আদমের (আঃ)-এর বংশধর

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ হযরত আদমের (আঃ)-এর বংশধর


قال الطبراني: حدثنا عبد الله بن محمد بن العباس الأصبهاني، حدثنا أبو مسعود أحمد بن الفرات، حدثنا أبو داود الطيالسي، حدثنا المغيرة بن مسلم، عن أبي إسحاق، عن وهب بن جابر، عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن يأجوج ومأجوج من وَلَدِ آدَمَ، ولو أُرْسِلُوا لأَفْسَدُوا على الناس معايشهم ولن يموت منهم رجل إلا ترك ألفاً فصاعداً، وإن من ورائهم ثلاث أمم، تأويل ومارس ومنسك."

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ইয়াজুজ-মাজুজ হযরত আদমের (আঃ) বংশধর। যদি তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে তারা মানুষের জীবিকার উপর ফাসাদ সৃষ্টি করবে। তাদের এক একজন নিজের পিছনে হাজার জন ছেড়ে মারা যায়, বরং এর চেয়েও বেশী। এদের ছাড়া আরো তিনটি দল রয়েছে। তারা হলোঃ তাভীল, তায়েস ও মানসক।

টিকাঃ
১. এটা গরিব এমন কি অস্বীকার্য ও দুর্বল হাদিস।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 বাইতুল্লাহ বিরান হয়ে পড়বে

📄 বাইতুল্লাহ বিরান হয়ে পড়বে


আমরা )"حتى إذا فتحت يأجوج ومأجوج"( এই আয়াতের অয়তাধীন কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা উল্লেখ করেছি যে, হযরত কা'ব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন ইয়াজুজ মাজুজের বের হবার সময় তারা প্রাচীর খনন করবে। এমন কি তাদের কোদালের শব্দ আশে পাশের লোকেরা শুনতে পাবে। খনন করতে করতে রাত্রি হয়ে যাবে। তখন তাদের একজন বলবে, "সকালে এসে আমরা এটাকে ভেঙ্গে ফেলবো।” কিন্তু আল্লাহ তাআলা ওটাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন। সকালে এসে তারা দেখতে পাবে যে, ওটাকে আল্লাহ তাআলা পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আবার তারা খনন করতে শুরু করবে এবং এই একই অবস্থা ঘটতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত যখন তাদের বের হওয়া আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করবেন তখন তাদের এক ব্যক্তির মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবেঃ “আগামীকাল ইনশা আল্লাহ আমরা এটাকে ভেঙ্গে ফেলবো।” সুতরাং পরদিন এসে তারা দেখতে পাবে যে গতকাল তারা ওটাকে যে অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছিল ঐ অবস্থাতেই রয়েছে। তখন তারা ওটাকে খনন করে ভেঙ্গে ফেলবে। তাদের প্রথম দলটি বাহীরার পার্শ্ব দিয়ে বের হবে এবং সমস্ত পানি পান করে ফেলবে। দ্বিতীয় দলটি এসে শুধু কাদা চাটবে। আর তৃতীয় দলটি এসে বলবেঃ “সম্ভবতঃ কোন সময় এখানে পানি ছিল। জনগণ তাদেরকে দেখে পালিয়ে গিয়ে এদিকে ওদিকে লুকিয়ে যাবে।

যখন তারা যমীনে কাউকেও দেখতে পাবে না তখন আকাশের দিকে তাদের তীর ছুঁড়াবে। তখন ঐ তীরটি রক্ত মাখানো অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারা তখন গর্ব করে বলবে-“আমরা পৃথিবীবাসী ও আকাশবাসীদের উপর বিজয়ী হয়েছি।” ঐ সময় হযরত ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) তাদের উপর বদ দুআ করে বলবেন-“হে আল্লাহ! তাদের সাথে মুকাবিলা করার শক্তি আমাদের নেই। অরি যমীনে চলা ফেরা করাও আমাদের প্রয়োজন। সুতরাং যেভাবেই হোক আপনি আমাদেরকে তাদের কবল থেকে মুক্তি দান করুন।" তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মহামারীতে আক্রান্ত করবেন। তাদের দেহে গুটি বের হবে এবং তাতেই তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর এক প্রকারের পাখী এসে তাদেরকে চঞ্চুতে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। তারপর মহান আল্লাহ নাহরে হায়াত জারি করে দিবেন, যা যমীন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিবে। যমীন নিজের বরকত বের করবে। একটি ডালিম একটি বাড়ীর পরিবারবর্গের জন্যে যথেষ্ট হবে। এক ব্যক্তি এসে ঘোষণা করবেঃ 'যুসসুইয়াকতীন' বেরিয়ে পড়েছে। হযরত ঈসা (আঃ) সাতশ' আটশ সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করবেন। তারা পথেই থাকবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলার হুকুমে ইয়ামনের দিক হতে এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হবে, যার ফলে সমস্ত মুমিনের রূহ্ কবজ হয়ে যাবে। তখন যমীনে শুধু দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই রয়ে যাবে। তারা হবে চতুষ্পদ জন্তুর মত। তাদের উপর দিয়ে কিয়ামত সংঘটিত হবে। ঐ সময় কিয়ামত এতো নিকটবর্তী হবে যেমন পূর্ণ গর্ভবতী ঘোটকী, যার বাচ্চা প্রসবের সময়কাল অতি নিকটবর্তী, যার আশে পাশে ওর মনিব ঘোরা ফেরা করে এই চিন্তায় যে, কখন বা বাচ্চা হয়ে যায়। হযরত কাব রাদিআল্লাহু আনহু একথা বলার পর বলেন-“এখন যে ব্যক্তি আমার এই উক্তি ও এই ইলমের পরেও অন্য কিছু বলে সে বানিয়ে কথা বলে।" হযরত কাবের রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণিত এই ঘটনাটি উত্তম ঘটনাই বটে। কেননা, সহীহ হাদিস সমূহে এও রয়েছে যে, ঐ যুগে হযরত ঈসা (আঃ) বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জও করবেন।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ-এর প্রকাশ হওয়ার পরও বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ ও ওমরাকারী থাকবে

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ-এর প্রকাশ হওয়ার পরও বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ ও ওমরাকারী থাকবে


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي عُتْبَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيُحَجَّنَّ الْبَيْتُ وَلَيُعْتَمَرَنَّ بَعْدَ خُرُوجٍ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

আবু সা'ঈদ খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হওয়ার পরও বাইতুল্লাহর হজ্জ ও উমরাহ পালিত হবে।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৫৯৩।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 বাইতুল্লাহর হজ্জ বন্ধ হয়ে যাবে

📄 বাইতুল্লাহর হজ্জ বন্ধ হয়ে যাবে


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ الحَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي عُتْبَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيُحَجَّنَّ الْبَيْتُ وَلَيُعْتَمَرَنَّ بَعْدَ خُرُوجٍ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

আবু সা'ঈদ খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হওয়ার পরও বাইতুল্লাহর হজ্জ ও 'উমরাহ পালিত হবে। আবান ও ইমরান রাহিমাহুল্লাহু কাতাদাহ্ রাহিমাহুল্লাহু হতে হাদিস বর্ণনায় হাজ্জাজ ইবনু হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন।

وقال أبو بكر البزار : حدثنا أبو بكر بن المثنى، حدثنا عبد العزيز، حدثنا شعبة عن قتادة سمعت عبد الله بن أبي عتبة يحدث عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تقوم الساعة حتى لا يُحج البيت."

আবু সা'ঈদ খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, হজ্ব বন্ধের পূর্ব পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না।
আবু বকর আল-বাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন—আবু সা'ঈদ খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু সূত্রে এ হাদিসটি এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে।
আমি বললাম: দুটি বর্ণনার মধ্যে অর্থের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। কারণ কাবা তীর্থযাত্রীরা ইয়াজুজ-মাজুজ এর অবির্ভাবের পরেও হজ্ব করবে। কারণ ঈসা আ. এর সময়ে তাদের জীবিকা নির্বাহে প্রাচুর্য আসবে। তারা হজ্ব করবে। এরপর আল্লাহ তাদের দিকে একটি মৃদু বাতাস প্রেরণ করবেন। প্রতিটি মুমিনের আত্মা সে বাতাসে কবজ হবে। ঈসা আ. মৃত্যুবরণ করবেন। মুসলমানরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নবির ঘরে তাকে দাফন করবেন। তারপরে খাটো পিন্ডলি ওয়ালাদের হাতে কাবার ধ্বংস ঘটবে। যদিও তাদের আবির্ভাব ঈসা আ. এর সময় কালেই ঘটেছিল।
বাইতুল্লাহ বিরান হয়ে যাবে আল্লাহ তাকে (বাইতুল্লাহ) সম্মানিত করুন এবং তাকে অপদস্ত করুন।

قال الإمام أحمد: حدثنا أحمد بن عبد الملك وهو الحراني، حدثنا محمد بن سلمة، عن محمد بن إسحاق، عن ابن أبي نجيح، عن المجاهد، عن عبد الله بن عمرو قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "يُخرِّبُ الكعبة ذُو السُّوَيْقَتَين من الحبشة، ويسلبها حليها، ويُجَرِّدُهَا مِن كُسوتهاة ولكأني أنظر إليه أصيلعاً أَفَيْدِعاً بضرب عليها بمساحيه ومعوله".

আবদুল্লাহ ইবনু আমর যআমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কাবা ইথিওপিয় ছোট গোছাধারী কাবা বিরান করবে। এবং তার অলঙ্কারগুলি ছিনিয়ে নেবে। তার গিলাফ-পোশাকটি ছিনিয়ে নেবে।

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اتْرُكُوا الْحَبَشَةَ مَا تَرَكُوكُمْ فَإِنَّهُ لَا يَسْتَخْرِجُ كَنْزَ الْكَعْبَةِ إِلَّا ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ".

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—যতদিন (ইথিওপিয়রা) তোমাদের ত্যাগ করবে, তোমরাও তাদের ত্যাগ করো। কেননা ইথিওপিয় ছোট গোছাধারী এক ব্যক্তি ব্যতীত কেউ কা'বার ভাণ্ডার লুণ্ঠন করবে না।

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلَيَّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْأَخْنَسِ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةً عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَأَنِّي بِهِ أَسْوَدَ أَفْحَجَ يَقْلَعُهَا حَجَرًا حَجَرًا

ইবনু 'আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু সূত্রে নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি যেন দেখতে পাচ্ছি কাল বর্ণের বাঁকা পা বিশিষ্ট লোকেরা (কা'বা ঘরের) একটি একটি করে পাথর খুলে এর মূল উতপাটন করে দিচ্ছে।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ ثَوْرِ بْنِ، زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ يُخَرِّبُ بَيْتَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ".

আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-ছোট ছোট নলা বিশিষ্ট আবিসিনিয়ার এক লোক আল্লাহ তা'আলার ঘরকে ধ্বংস করবে।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৫৯৩।
২. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৫৯৩। আবদুর রাহমান রাহিমাহুল্লাহু শু'বাহ্ রাহিমাহুল্লাহু হতে বর্ণনা করেন, “বাইতুল্লাহর হজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না।"
৩. এটি একটি শক্তিশালী সনদ। মুসনাদে আহমাদ, ২/২২০। মাজমাউজ জওয়ায়েদ ৩/২৯৮।
৪. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩০৯।
৫. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৫৯৫।
৬. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/৫৯/৭১৯৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00