📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 ইয়া'জুজ ও মা'জুজ-এর আলোচনা

📄 ইয়া'জুজ ও মা'জুজ-এর আলোচনা


ঈসা আঃ-এর যামানায় তাদের মুক্তি দেয়া হবে। আর তা হবে দাজ্জাল হত্যার পর। আল্লাহ ঈসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের বদ দোয়ার কারণে তাদেরকে এক রাতেই ধ্বংস করে দিবে ন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন- حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَ مَأْجُوجُ وَ هُم مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ يُنْسِلُوْنَ (۹۶) وَ اقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا بِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوْا * يُوَتِّلُنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ بُدًا بَلْ كُنَّا ظَلِمِينَ (۹۷)

অবশেষে যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্তি দেয়া হবে, আর তারা প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। আর সত্য ওয়াদার সময় নিকটে আসলে হঠাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, 'হায়, আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো এ বিষয়ে উদাসীন ছিলাম বরং আমরা ছিলাম যালিম'। [আম্বিয়াঃ ২১/৯৬]

আল্লাহ তা'আলা বলেন- ثُمَّ اتَّبَعَ سَبَبًا (۹۲) حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدِّيْنِ وَجَدَ مِنْ دُونِهِمَا قَوْمًا لَّا يَكَادُوْنَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا (۹۳) قَالُوا إِذَا الْقَرْنَيْنِ إِنْ يَأْجُوجَ وَ مَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَنْ تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا (۹۴) قَالَ مَا مَكَّنَى فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِيْتُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلَ بَيْنَكُمْ وَ بَيْنَهُمْ رَتْمًا (۹۵) أَتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انْفُخُوْا حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ أَتُونِي أَفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا (۹۶) فَمَا اسْطَاعُوا أَنْ يُظْهَرُوهُ وَ مَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا (۹۷) قَالَ بِذَا رَحْمَةٌ مِّنْ رَّبِّي فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ وَ كَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا (۹۸) وَ تَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يُمُوْجُ فِي بَعْضٍ وَ نُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَهُمْ جَمْعًا (۹۹)

তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।
অবশেষে যখন সে দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছল, তখন সেখানে সে এমন এক জাতিকে পেল, যারা তার কথা তেমন একটা বুঝতে পারছিল না।
তারা বলল, 'হে যুলকারনাইন! নিশ্চয় ইয়া'জুজ ও মা'জুজ যমীনে অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাই আমরা কি আপনাকে এ জন্য কিছু খরচ দেব যে, আপনি আমাদের তাদের মধ্যে একটা প্রাচীর নির্মাণ করে দিবে ন'?
সে বলল, 'আমার রব আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব'।
'তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও'। অবশেষে যখন সে দু'পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা সমান করে দিল, তখন সে বলল, 'তোমরা ফুঁক দিতে থাক'। অতঃপর যখন সে তা আগুনে পরিণত করল, তখন বলল, 'তোমরা আমাকে কিয় তামা দাও, আমি তা এর উপর ঢেলে দেই'।
এরপর তারা (ইয়া'জুজ ও মা'জুজ) প্রাচীরের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারল না এবং নিচ দিয়েও তা ভেদ করতে পারল না।
সে বলল, 'এটা আমার রবের অনুগ্রহ। অতঃপর যখন আমার রবের ওয়াদাকৃত সময় আসবে তখন তিনি তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিবে ন। আর আমার রবের ওয়াদা সত্য'।
আর সেদিন আমি তাদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত আছড়ে পড়বে এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্র করব। [কাহাফঃ ১৮/৯২-৯৯]
ঐ প্রাচীরের নির্মাণ কার্য সমাপ্ত করে ফুলকারনাইন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এবং মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেনঃ “এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ যে, তিনি দুষ্টদের দুষ্টামী হতে সৃষ্ট জীবকে নিরাপত্তা দান করলেন। তবে যখন তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়ে যাবে তখন তিনি ওকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলবেন। তখন এর দৃঢ়তা কোনই কাজে আসবে না। উষ্টীর ঔরজ যখন ওর পিঠের সাথে সমানভাবে মিলে থাকে, উঁচু হয়ে থাকে না তখন আরববাসী ওকে (আরবী) বলে থাকে। অন্য আয়াতে রয়েছে যে, যখন হযরত মূসার (আঃ) সামনে আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের উপর ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ করেন তখন ঐ পাহাড়া যমীনের সমান হয়ে যায়। সেখানেও শব্দ রয়েছে। সুতরাং কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঐ প্রাচীরটিও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে এবং ইয়াজুজ ও মাজুজের বের হবার পথ বেরিয়ে পড়বে। আল্লাহ তাআ'লার ওয়াদা অটল ও সত্য। কিয়ামতের আগমনও সত্য। ঐ প্রাচীর ভাঙ্গা মাত্রই ইয়াজুজ-মাজুজ বেরিয়ে পড়াবে এবং জনগণের মধ্যে ঢুকে পড়বে। আপন পরের কোন পার্থক্য থাকবে না। এই ঘটনা দাজ্জালের আগমনের
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ ("যখন ইয়াজুজ ও মাজুজ (প্রাচীর) খুলে দেয়া হবে পর কিয়ামত সংঘটনের পূর্বে ঘটবে। এর পূর্ণ বর্ণনা )"وَمَاجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ، وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الحق فإذا هي شاخصة (الأنبياء: الآية ٩٦.) (١١:١٦)

وقال الإمام أحمد: حدثنا روح حدثنا سعيد بن ابى عروبة عن قتادة، حدثنا أبو رافع، عن أبي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن يأجوج ومأجوج ليحفرون السد كل يوم، حتى إذا كانوا يَرَوْن شعاع الشمس قال الذي عَلَيْهِمْ ارْجِعُوا فسَتَحفُرُونَه غداً، فيعودون إليه كأشد ما كان، حتى إذا بلغت مدتهم وأراد الله أن يبْعَثَهُم على الناس حفروا، حتى إذا كانوا يَرَوْنَ شُعاع الشمس قال الذي عليهم اغدوا فَتَحْفُرون غداً إن شاء الله، ويستثني، فيعودون إليه وهو كهيئته حين تركوه فيحفرونه ويخرجون على الناس فَيُنشفون الماء ويتحصن الناس منهم في حصونهم فيرمون بسهامهم إلى السماء فيبعث الله عليهم نَغَفاً في أقْفَائِهِمْ فيقتلهم بها."

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "والذي نَفْسُ محمد بيده إن دواب الأرض لتَسْمَنُ وتشكر شكراً من لحومهم ودمائهم."

হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-“ইয়াজুজ ও মাজুজ প্রত্যহ প্রাচীরটিকে খনন করে। করতে থাকে এবং এই পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তারা যেন সূর্যের আলো দেখেই ফেলবে। তারপর দিন অতিবাহিত হয়ে যায় এবং তাদের নেতা তাদেরকে হুকুম করেঃ "আজকের মত এখানেই শেষ কর, আগামীকাল এসে আবার ভাঙ্গা যাবে। কিন্তু পরের দিন এসে তারা ওটাকে পূর্বাপেক্ষা বেশী শক্ত পায়। কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময় যখন তাদের বের হওয়া আল্লাহ চাবেন, তখন তারা ওটা খনন করতে করতে চোকলা বা বাকলের মত করে ফেলবে। ঐ সময় তাদের নেতা তাদেরকে বলবেঃ "এখন ছেড়ে দাও, আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আমরা এটা ভেঙ্গে ফেলবো।” সুতরাং ইশাআল্লাহ বলার বরকতে পরের দিন যখন তারা আসবে, তখন ওটাকে যে অবস্থায় ছেড়ে গিয়েছিল ঐ অবস্থাতেই পাবে। ফলে, তৎক্ষণাৎ তারা ঐ প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলবে ও বাইরে বেরিয়ে পড়বে। বেরিয়ে এসেই তারা সমস্ত পানি অবলেহন করবে। জনগণ বিব্রত হয়ে দূর্গে আশ্রয় নেবে। তারা তাদের তীরগুলি আকাশের দিকে ছুড়বে। তীরগুলি রক্ত মাখানো অবস্থায় তাদের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তারা তখন বলবে—আকাশবাসীদের উপরও আমরা বিজয় লাভ করেছি।
অতঃপর তাদের ঘাড়ে গুটি বের হবে এবং সবাই আল্লাহর হুকুমে ঐ প্লেগেই ধ্বংস হয়ে যাবে। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে তার শপথ! তাদের দেহ ও রক্ত হবে জন্তুরখাদ্য, যার ফলে তারা খুব মোটা তাজা হয়ে যাবে।”

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ " تُفْتَحُ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ فَيَخْرُجُونَ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَعُمُونَ الْأَرْضَ وَيَنْحَازُ مِنْهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى تَصِيرَ بَقِيَّةُ الْمُسْلِمِينَ فِي مَدَائِنِهِمْ وَحُصُونِهِمْ وَيَضُلُّونَ إِلَيْهِمْ مَوَاشِيَهُمْ حَتَّى أَنَّهُمْ لَيَمُرُّونَ بِالنَّهَرِ فَيَشْرَبُونَهُ حَتَّى مَا يَذَرُونَ فِيهِ شَيْئًا فَيَمُرُّ آخِرُهُمْ عَلَى أَثَرِهِمْ فَيَقُولُ قَائِلُهُمْ لَقَدْ كَانَ بِهَذَا الْمَكَانِ مَرَّةً مَاءً وَيَظْهَرُونَ عَلَى الأَرْضِ فَيَقُولُ قَائِلُهُمْ هَؤُلَاءِ أَهْلُ الْأَرْضِ قَدْ فَرَغْنَا مِنْهُمْ وَلَيُنَازِلَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ حَتَّى إِنَّ أَحَدَهُمْ لَيَهُزُّ حَرْبَتَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَتَرْجِعُ مُخَضَّبَةٌ بِالدَّمِ فَيَقُولُونَ قَدْ قَتَلْنَا أَهْلَ السَّمَاءِ . فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ دَوَابٌ كَنَغَفِ الْجَرَادِ فَتَأْخُذُ بِأَعْنَاقِهِمْ فَيَمُوتُونَ مَوْتَ الْجَرَادِ يَرْكَبُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَيُصْبِحُ الْمُسْلِمُونَ لَا يَسْمَعُونَ لَهُمْ حِسًا فَيَقُولُونَ مَنْ رَجُلٌ يَشْرِي نَفْسَهُ وَيَنْظُرُ مَا فَعَلُوا فَيَنْزِلُ مِنْهُمْ رَجُلٌ قَدْ وَطَنَ نَفْسَهُ عَلَى أَنْ يَقْتُلُوهُ فَيَجِدُهُمْ مَوْتَى فَيُنَادِيهِمْ أَلَا أَبْشِرُوا فَقَدْ هَلَكَ عَدُوُّكُمْ . فَيَخْرُجُ النَّاسُ وَيُخْلُونَ سَبِيلَ مَوَاشِيهِمْ فَمَا يَكُونُ لَهُمْ رَعْيُ إِلَّا خُومُهُمْ فَتَشْكَرُ عَلَيْهَا كَأَحْسَنِ مَا شَكِرَتْ مِنْ نَبَاتٍ أَصَابَتْهُ قَطُّ " .

আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ইয়াজুজ-মাজুজকে ছেড়ে দেয়া হবে, অতঃপর তারা বের হবে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে ছুটে আসবে” (সূরা আম্বিয়াঃ ৯৬) এবং তারা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। মুসলমানগণ তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে এবং অবশিষ্ট মুসলমানরা তাদের শহরে ও দূর্গে আশ্রয় নিবে।

সেখানে তারা তাদের গবাদি পশুও সাথে করে নিয়ে যাবে। ইয়াজুজ ও মাজুজের অবস্থা এই হবে যে, তাদের লোকগুলো একটি নহরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তার পানি পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে, এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট থাকবে না। এরপর এদের দলের অবশিষ্টরা তাদের অনুসরণ করবে। তখন তাদের মধ্যে কেউ বলবে, এখানে হয়তো কখনো পানি ছিলো। পৃথিবীতে তারা আধিপত্য বিস্তার করবে। অতঃপর তাদের কেউ বলবে, আমরা তো পৃথিবীবাসীদের থেকে অবসর হয়েছি। এবার আমরা আসমানবাসীদের বিরুদ্ধে লড়বো। শেষে এদের কেউ আকাশের দিকে বর্শা নিক্ষেপ করবে। তা রক্তে রঞ্জিত হয়ে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবে, আমরা আসমানবাসীদেরও হত্যা করেছি। তাদের এ অবস্থায় থাকতে আল্লাহ তাআলা টিডিড বাহিনী পাঠাবেন এবং সেগুলো ঘাড়ে প্রবেশ করার ফলে এরা সকলে ধ্বংস হয়ে একে অপরের উপর পড়ে মরে থাকবে। মুসলমানগণ সকালবেলা উঠে তাদের বীভৎস চীৎকার শুনতে না পেয়ে বলবে, এমন কে আছে যে তার নিজের জীবনকে বিক্রয় করবে এবং ইয়াজুজ-মাজুজেরা কী করছে তা দেখে আসবে? তখন তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি ইয়াজুজ-মাজুজ কর্তৃক নিহত হওয়ার পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে বের হয়ে এসে এদেরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে মুসলমানদের ডেকে বলবে, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, তোমাদের শত্রুরা ধ্বংস হয়েছে। লোকজন (তার ডাক শুনে) বের হয়ে আসবে এবং তাদের গবাদি পশু চারণভূমিতে ছেড়ে দিবে। সেগুলোর চারণভূমিতে ইয়াজুজ-মাজুজের গোশত ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। ওরা তাদের গোশত খেয়ে বেশ মোটাতাজা হবে, যেমন কখনো ঘাস পাতা খেয়ে মোটা তাজা হয়

এমনটি ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন।

আন-নাওয়াস ইবনু সামআন আল-কিলাবী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, "তারপর তিনি দাজ্জালকে খোঁজ করবেন এবং তাকে 'লুদ্দ'-এর নগর দ্বারপ্রান্তে পেয়ে হত্যা করবেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করবেনঃ “আমার বান্দাহদেরকে তূর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। কেননা, আমি এমন একদল বান্দাহ অবতীর্ণ করছি যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই” তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ্ ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। আল্লাহ্ তা'আলার বাণী অনুযায়ী তাদের অবস্থা হলো, "তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি হতে ছুটে আসবে" (সূরাঃ আম্বিয়া-৯৬)। তিনি বলেন, তাদের প্রথম দলটি (সিরিয়ার) তাবারিয়া উপসাগর অতিক্রমকালে এর সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে। এদের শেষ দলটি এ স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে বলবে, নিশ্চয়ই এই জলাশয়ে কোন সময় পানি ছিল। তারপর বাইতুল মাকদিসের পাহাড়ে পৌঁছার পর তাদের অভিযান সমাপ্ত হবে। তারা পরস্পর বলবে, আমরা তো দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ধ্বংস করেছি, এবার চল আকাশে বসবাসকারীদের ধ্বংস করি। তারা এই বলে আকাশের দিকে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের তীরাসূমূহ রক্তে রঞ্জিত করে ফিরত দিবেন। তারপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) তাঁর সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তারা (খাদ্যভাবে) এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পতিত হবেন যে, তখন তাদের জন্য একটা গরুর মাথা তোমাদের এ যুগের একশত দীনারের চাইতে বেশি উত্তম মনে হবে।

তিনি বলেন, তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সাথীরা আল্লাহ্ তা'আলার দিকে রুজু হয়ে দু'আ করবেন। আল্লাহ্ তা'আলা তখন তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনীর) ঘাড়ে মহামারীরূপে 'নাগাফ' নামক কীটের উৎপত্তি করবেন। তারপর তারা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে। তখন ঈসা (আঃ) তার সাথীদের নিয়ে (পাহাড় হতে) নেমে আসবেন।

সেখানে তিনি এমন এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও পাবেন না, যেখানে সেগুলোর পচ দুর্গন্ধময় রক্ত-মাংস ছড়িয়ে না থাকবে। তারপর তিনি সাথীদের নিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করবেন। আল্লাহ্ তা'আলা তখন উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। সেই পাখি ওদের লাশগুলো তুলে নিয়ে গভীর গর্তে নিক্ষেপ করবে। এদের পরিত্যক্ত তীর, ধনুক ও তৃণীরগুলো মুসলমানগণ সাত বছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যা সমস্ত ঘর-বাড়ী, স্থলভাগ ও কঠিন মাটির স্তরে গিয়ে পৌছবে এবং সমস্ত প্রথিবী ধুয়ে মুছে আয়নার মতো ধকধকে হয়ে উঠবে।
তারপর যামীনকে বলা হবে, তোর ফল ও ফসলসমূহ বের করে দে এবং বারকাত ও কল্যাণ ফিরিয়ে দে। তখন এরূপ পরিস্থিতি হবে যে, একদল লোকের জন্য একটি ডালিম পর্যাপ্ত হবে এবং একদল লোক এর খোসার ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবে। দুধেও এরূপ বারকাত হবে যে, বিরাট একটি দলের জন্য একটি উটনীর দুধ, একটি গোত্রের জন্য একটি গাভীর দুধ এবং একটি ছোট দলের জন্য একটি ছাগলের দুধই যথেষ্ট হবে। এমতাবস্থায় কিছুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক বাতাস প্রেরণ করবেন যা সকল ঈমানদারের আত্মা ছিনিয়ে নেবে এবং অবশিষ্ট থাকবে শুধুমাত্র দুশ্চরিত্রের লোক যারা গাধার মতো প্রকোশ্যে নারী সম্ভোগে লিপ্ত হবে। তারপর তাদের উপর কিয়ামাত সংঘটিত হবে।”

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত মুদাবিরে ইবনু ওবাদার হাদিসের আছে, যে হাদিসটি নবিদের ইজতিমা সম্পর্কিত অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইবরাহীম (আঃ), মুসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-এর একত্র হয়ে কিয়ামত বিষয়ে আলোচনা এবং সকলে বিষয়টি ঈসা (আঃ)-এর কাঁধে অর্পণ করা। হাদিসটিতে একথাও এসেছে যে, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে তা একমাত্র মহান আল্লাহ জানেন। আমার প্রভু আমাকে এটুকু জানিয়েছেন যে, দাজ্জাল বেহর হবে। তাঁর সঙ্গে দুটি, থাকবে। সে আমাকে দেখলে গলে যাবে, সিসা যেমন গলে যায়। সে আমাকে দেখার পরই আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন। এমনকি ওই সময় পাথর ও গাছ আমাকে ডেকে বলবে, হে মুসলিম, আমার নিচে একটা কাফের আছে। এসো, তাকে হত্যা করো। তিনি বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা দাজ্জাল সম্প্রদায়কে ধ্বংস করবেন। এরপর মানুষ স্ব-স্ব দেশে ফিরে যাবে। এ সময় ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হবে। তারা সংখ্যায় হবে অনেক বেশি। লোকালয় ও জনপদসমূহ তারা চষে বেড়াবে। যে জনপদ দিয়েই অতিক্রম করবে, তা ধ্বংস করবে। পানির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সব পানি খেয়ে ফেলবে। মানুষ এসে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবে। তোমরা তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করবেন এবং মৃত্যু দিবেন। তাদের মৃত্যুতে পুরো পৃথিবী দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। বৃষ্টির পানি তাদের লাশগুলো নিয়ে সমুদ্রে ফেলবে। আমি আমার প্রভু জানিয়েছেন, এটি যখন হবে, কিয়ামত তখন ওই গর্ভসম্পূর্ণকারীর মতো হবে, যার পরিবার জানে না, দিনরাত কোন সময় সন্তান ভূমিষ্ট হবে। অর্থাৎ যে কোনো সময় কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।

আমি বলি (ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ) ইয়াজুজ মাজুজও মানুষ। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, মহা মহিমান্বিত আল্লাহ হযরত আদমকে (আঃ) বলবেনঃ “হে আদম (আঃ) !” তিনি তখন বলবেনঃ “লাব্বায়কা ওয়া সা'দাইকা (এই তো আমি হাযির আছি)। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ "আগুনের অংশ পৃথক কর।"তিনি বলবেনঃ “কতটা অংশ পৃথক করবো?" জবাবে মহান আল্লাহ বলবেনঃ “প্রতি হাযার হতে নয়শ' নিরানব্বই জনকে পৃথক কর (অর্থাৎ হাযারের মধ্যে নয়শ' নিরানব্বই জন জাহান্নামী এবং একজন জান্নাতী)। "ইমাম নওয়াভী (রঃ) সহীহ মুসলিমের শরাহতে এক অতি বিস্ময়কর কথা লিখেছেন যে, হযরত আদমের (আঃ) বিশেষ শুক্রের (বীর্যের কয়েক ফোঁটা যা মাটিতে পড়েছিল তা থেকেই ইয়াজুজ মাজুজকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ঐ শুক্রের সাথে হযরত হাওয়ার (আঃ) শুক্র মিশ্রিত হয় নাই। কিন্তু এটা স্মরণ রাখার যোগ্য যে, এই উক্তিটি খুবই গরীব বা দুর্বল। এর উপর আলি (জ্ঞান সম্পর্কীয়) ও নকলী (শরীয়ত সম্পর্কীয়) কোনই দলীল নেই। আহলে কিতাব হতে এরূপ কথা এসেছে যা মানার যোগ্য মোটেই নয়। তারা এ ধরণের কথা নিজেরাই বানিয়ে নিয়ে থাকে। এসব ব্যাপারে তায়ালাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

হযরত সুমরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- হযরত নূহের (আঃ) তিনটি পুত্র ছিল। সাম, হা'ম এবং ইয়াফিস। সমস্ত আরব সা'মের বংশধর। সমস্ত হাবশী হা'মের বংশধর। সমস্ত তুর্কী ইয়াফিসের বংশধর।”

নোট: কোন কোন আলেমের উক্তি এই যে, ইয়াজুজ-মাজুজ তুর্কীদের পূর্ব পুরুষ ইয়াফিসের সন্তানদেরই অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে তুর্কী বলার কারণ এই যে, তাদের ফাসাদ ও দুষ্টামির কারণে তাদেরকে মানুষের জনবসতির পিছনে পাহাড়ের আড়ালে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

টিকাঃ
১. ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৮০। হাদিসের মান সহিহ হাদিস ইমাম আহমাদ, ইবনু মাজাহ রাহিমাহুমাল্লাহ কাতাদা রাযি. থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেন। ইবনু জারির ইবনু হাজেম অনেকটা এই অর্থের কাছাকাছি বর্ণনা করেন।
২. সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৭৯। মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৩/পৃ.৭৭। হাদিসের মান হাসান সহিহ।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ হযরত আদমের (আঃ)-এর বংশধর

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ হযরত আদমের (আঃ)-এর বংশধর


قال الطبراني: حدثنا عبد الله بن محمد بن العباس الأصبهاني، حدثنا أبو مسعود أحمد بن الفرات، حدثنا أبو داود الطيالسي، حدثنا المغيرة بن مسلم، عن أبي إسحاق، عن وهب بن جابر، عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن يأجوج ومأجوج من وَلَدِ آدَمَ، ولو أُرْسِلُوا لأَفْسَدُوا على الناس معايشهم ولن يموت منهم رجل إلا ترك ألفاً فصاعداً، وإن من ورائهم ثلاث أمم، تأويل ومارس ومنسك."

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ইয়াজুজ-মাজুজ হযরত আদমের (আঃ) বংশধর। যদি তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে তারা মানুষের জীবিকার উপর ফাসাদ সৃষ্টি করবে। তাদের এক একজন নিজের পিছনে হাজার জন ছেড়ে মারা যায়, বরং এর চেয়েও বেশী। এদের ছাড়া আরো তিনটি দল রয়েছে। তারা হলোঃ তাভীল, তায়েস ও মানসক।

টিকাঃ
১. এটা গরিব এমন কি অস্বীকার্য ও দুর্বল হাদিস।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 বাইতুল্লাহ বিরান হয়ে পড়বে

📄 বাইতুল্লাহ বিরান হয়ে পড়বে


আমরা )"حتى إذا فتحت يأجوج ومأجوج"( এই আয়াতের অয়তাধীন কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা উল্লেখ করেছি যে, হযরত কা'ব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন ইয়াজুজ মাজুজের বের হবার সময় তারা প্রাচীর খনন করবে। এমন কি তাদের কোদালের শব্দ আশে পাশের লোকেরা শুনতে পাবে। খনন করতে করতে রাত্রি হয়ে যাবে। তখন তাদের একজন বলবে, "সকালে এসে আমরা এটাকে ভেঙ্গে ফেলবো।” কিন্তু আল্লাহ তাআলা ওটাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন। সকালে এসে তারা দেখতে পাবে যে, ওটাকে আল্লাহ তাআলা পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আবার তারা খনন করতে শুরু করবে এবং এই একই অবস্থা ঘটতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত যখন তাদের বের হওয়া আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করবেন তখন তাদের এক ব্যক্তির মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবেঃ “আগামীকাল ইনশা আল্লাহ আমরা এটাকে ভেঙ্গে ফেলবো।” সুতরাং পরদিন এসে তারা দেখতে পাবে যে গতকাল তারা ওটাকে যে অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছিল ঐ অবস্থাতেই রয়েছে। তখন তারা ওটাকে খনন করে ভেঙ্গে ফেলবে। তাদের প্রথম দলটি বাহীরার পার্শ্ব দিয়ে বের হবে এবং সমস্ত পানি পান করে ফেলবে। দ্বিতীয় দলটি এসে শুধু কাদা চাটবে। আর তৃতীয় দলটি এসে বলবেঃ “সম্ভবতঃ কোন সময় এখানে পানি ছিল। জনগণ তাদেরকে দেখে পালিয়ে গিয়ে এদিকে ওদিকে লুকিয়ে যাবে।

যখন তারা যমীনে কাউকেও দেখতে পাবে না তখন আকাশের দিকে তাদের তীর ছুঁড়াবে। তখন ঐ তীরটি রক্ত মাখানো অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারা তখন গর্ব করে বলবে-“আমরা পৃথিবীবাসী ও আকাশবাসীদের উপর বিজয়ী হয়েছি।” ঐ সময় হযরত ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) তাদের উপর বদ দুআ করে বলবেন-“হে আল্লাহ! তাদের সাথে মুকাবিলা করার শক্তি আমাদের নেই। অরি যমীনে চলা ফেরা করাও আমাদের প্রয়োজন। সুতরাং যেভাবেই হোক আপনি আমাদেরকে তাদের কবল থেকে মুক্তি দান করুন।" তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মহামারীতে আক্রান্ত করবেন। তাদের দেহে গুটি বের হবে এবং তাতেই তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর এক প্রকারের পাখী এসে তাদেরকে চঞ্চুতে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। তারপর মহান আল্লাহ নাহরে হায়াত জারি করে দিবেন, যা যমীন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিবে। যমীন নিজের বরকত বের করবে। একটি ডালিম একটি বাড়ীর পরিবারবর্গের জন্যে যথেষ্ট হবে। এক ব্যক্তি এসে ঘোষণা করবেঃ 'যুসসুইয়াকতীন' বেরিয়ে পড়েছে। হযরত ঈসা (আঃ) সাতশ' আটশ সৈন্যের একটি বাহিনী প্রেরণ করবেন। তারা পথেই থাকবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলার হুকুমে ইয়ামনের দিক হতে এক পবিত্র বায়ু প্রবাহিত হবে, যার ফলে সমস্ত মুমিনের রূহ্ কবজ হয়ে যাবে। তখন যমীনে শুধু দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই রয়ে যাবে। তারা হবে চতুষ্পদ জন্তুর মত। তাদের উপর দিয়ে কিয়ামত সংঘটিত হবে। ঐ সময় কিয়ামত এতো নিকটবর্তী হবে যেমন পূর্ণ গর্ভবতী ঘোটকী, যার বাচ্চা প্রসবের সময়কাল অতি নিকটবর্তী, যার আশে পাশে ওর মনিব ঘোরা ফেরা করে এই চিন্তায় যে, কখন বা বাচ্চা হয়ে যায়। হযরত কাব রাদিআল্লাহু আনহু একথা বলার পর বলেন-“এখন যে ব্যক্তি আমার এই উক্তি ও এই ইলমের পরেও অন্য কিছু বলে সে বানিয়ে কথা বলে।" হযরত কাবের রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণিত এই ঘটনাটি উত্তম ঘটনাই বটে। কেননা, সহীহ হাদিস সমূহে এও রয়েছে যে, ঐ যুগে হযরত ঈসা (আঃ) বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জও করবেন।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 ইয়াজুজ-মাজুজ-এর প্রকাশ হওয়ার পরও বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ ও ওমরাকারী থাকবে

📄 ইয়াজুজ-মাজুজ-এর প্রকাশ হওয়ার পরও বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ ও ওমরাকারী থাকবে


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي عُتْبَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيُحَجَّنَّ الْبَيْتُ وَلَيُعْتَمَرَنَّ بَعْدَ خُرُوجٍ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

আবু সা'ঈদ খুদরি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হওয়ার পরও বাইতুল্লাহর হজ্জ ও উমরাহ পালিত হবে।

টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৫৯৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00