📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 দাজ্জালের সংক্ষিপ্ত জিবনি

📄 দাজ্জালের সংক্ষিপ্ত জিবনি


সে একজন আদম সন্তান। শেষযুগে মানুষের পরীক্ষার জন্য আল্লাহর তাকে সৃষ্টি করেছেন-

يضل به كثيرا ويهدى به كثيرا وما يضل به الا الفاسقين

হাফেজ আহমদ ইবনু আলি আবার তার 'তারীখ' গ্রন্থে মুজালিদ সূত্রে শা'বী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, দাজ্জালের উপনাম আবু ইউসুফ। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু, প্রমুখ সাহাবীর বর্ণনা মতে, ইতঃপূর্বে গত হয়েছে যে, তার নাম হলো ইবনু সাইয়াদ। ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন... আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জালের মাতা-পিতার ত্রিশ বছর যাবৎ কোনো সন্তান হবে না। ত্রিশ বছর পর টেরা একটি সন্তান হবে। ক্ষতি বেশি করবে, কম উপকারী হবে। তার দুচোখ ঘুমালেও অন্তর ঘুমাবে না।
এরপর তার পিতা-মাতার দেহাবয়ব বর্ণনা করেন, তার পিতা হবে মাংসাবহুল, লম্বা নাকধারী। যেন তার নাম করাত। তার মায়ের স্তন হবে বড়। অতঃপর আমরা শুনতে পেলাম, মদিনার এক ইহুদী পরিবারে একটি সন্তান জন্মেছে। খবর শুনে আমি ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম তাদের বাড়িতে গেলাম। দাজ্জালের মাতা- পিতার যে গুণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, তার মাতা- পিতার মাঝেও আমরা তা পেলাম।
আমরা দেখতে পেলাম বাচ্চাটি রোদ পোহাচ্ছে আমরা তার মাতা-পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা বলল, ত্রিশ বছর যাবৎ আমাদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না। অতঃপর এ সন্তান জন্মে। চোখটেরা, বেশি ক্ষতিকর, কম উপকারী। অতঃপর আমরা বের হয়ে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সে বলল, তোমরা কী নিয়ে কথা বলছিলে আমি জানি। আমরা বললাম, তুমি শুনেছ? সে বলল, হ্যাঁ, নিশ্চয় আমার দুচোখ ঘুমালেও অন্তর ঘুমায় না। সে ছিল ইবনু সাইয়াদ।
ইমাম তিরমিযী হাম্মাদ ইবনু সালামা সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করে বলেছেন, হাদিসটি মদিনার ইহুদী পরিবারে ইবনু সাইয়াদের জন্ম। তার উপাধি ছিল আবদুল্লাহ। 'সাফ'-ও বলা হয়। এই এই বর্ণনা এসেছে। হতে পারে তার মূলনাম সাফ। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম হয় ইবনু আবদুল্লাহ। তার ছেলে ওমারা ইবনু আবদুল্লাহ ছিলেন নেতৃস্থানীয় তাবেয়ী। তাঁর থেকে ইমাম মালেক প্রমুখ হাদিস বর্ণনা করেছেন। পূর্বে গত হয়েছে, বিশুদ্ধ মত হলো, ইবনু সাইয়াদ দাজ্জাল নয়। মূলত সে ছোট দাজ্জালগুলোর একজন ছিল। পরবর্তী সময় তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করে। তার রহস্য সম্পর্কে মহান আল্লাহই ভালো জানেন।
ফাতেমা বিনতে কাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে বড় দাজ্জালের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামীমে দায়ী থেকে। ওই বর্ননায় জাসসার ঘটনা আছে। শেষ যুগে যখন মুসলমানরা রোমের নগরী কসতুনতুনিরা জয় করবে, তখন তাকে আবির্ভাবের অনুমতি দেওয়া হবে। ইস্পাহানের হাররা থেকে প্রকাশ ঘটবে। তাকে ইহুদিয়্যা-ও বলা হয়। ওই অঞ্চলের সত্তর হাজার ইহুদি তাকে সাহায্য করবে। তাদের মাথায় সবুজ টুপি এবং তারা অস্ত্রসজ্জিত হবে। এমনিভাবে সত্তর হাজার তাতার এবং খোরাসানের কিছু তাকে সাহায্য করবে। প্রথমে সে একজন অত্যাচারী শাসকের রূপে আভির্ভূত হবে। যথাক্রমে সে নবুয়ত অতঃপর খোদায়ী দাবী করবে। বনি আদমের কিছু মূর্খ-আম জনসাধারণ তার অনুসরণ করবে। আল্লাহর নেককার ও মুত্তাকি ব্যক্তিরা তার বিরোধিতা করবে। এক এক করে সে পৃথিবীর সব ভূখণ্ড চষে বেড়াবে। শুধু মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। পৃথিবীতে সে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে। উক্ত চল্লিশ দিনের একদিন এক বছর সমান, একদিন এক মাসের সমান, একদিন এক সপ্তাহের সমান। বাকি দিনগুলো স্বাভাবিক দিনের মতো হবে। মোট হয় এক বছর আড়াইমাস। মহান আল্লাহ তাকে কিছু বিস্ময়কর ক্ষমতা প্রদান করবেন। এ দিয়ে সে কিছু মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে। এগুলো দেখে মুমিনদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পাবে। দাজ্জালের অবস্থানের এই দিনগুলোতে ঈসা (আ.) দামেশকের পূর্ব মিনারে অবতরণ করবেন। মুমিনগণ গিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দিবেন। তাদের নিয়ে ঈসা (আ.) দাজ্জালের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের পথে যাওয়ার সময় আকাবায়ে আফীক নামক স্থানে তাকে পাবেন। দাজ্জাল তাঁর কাছে পরাস্ত হবে। তিনি তাকে বাবে লুদ শহরে নিয়ে যাবেন এবং বর্শা দিয়ে তাকে হত্যা করবেন।
তিনি ওই শহরে প্রবেশ করার সময় বলবেন, আমি তোকে একটি আঘাত করবো, যা কোনোভাবেই ব্যর্থ হবে না। দাজ্জাল তার মুখোমুখী হলে গলে যাবে, লবণ যেমন পানিতে গলে যায়। অতঃপর ঈসা ইবনু মারিয়াম (আ.) তাকে হত্যা করবেন বর্শা দিয়ে বাবে লুব্ধ নামক স্থানে।
সেখানেই সে মৃত্যুবরণ করবে। (لعنه الله ) বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত সহিহ হাদিসসমূহ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পূর্বে যেমনটি গত হয়েছে এবং সামনেও আসছে।
ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কুতায়বা ইবনু সাইদ রাহিমাহুল্লাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুজাম্মা ইবনু জারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ঈসা ইবনু মারইয়াম 'বাবে লুদ্ধ'-এ দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
ইমাম আহমাদ অন্য সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিযী হাদিটি বর্ণনার পর বলেন, হাদিসটি সহীহ। এ বিষয়ে অন্যান্য সাহাবী যেমন, ইমরান ইবনু হুসাইন, নাফে' ইবনু ওতবা, আবু বারযাহ, হুজাইফা ইবনু উমাইদ, আবু হুরাইরাহ, কাইসান, ওাসূমান ইবনু আবুল আস, আবু উসমা, ইবনু মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, সামুরা ইবনু জুনদুব, নাওয়াস ইবনু সামআন, আমর ইবনু আশুফ, হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
ইবনু আবু শায়বা রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ইহুদীকে দাজ্জাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, ইহুদী পরিবারে তার জন্ম। নিশ্চয় ঈসা ইবনু মারইয়াম তাকে হত্যা করবেন।
দাজ্জালের বাহ্যিক আকৃতি: কিছু হাদিসে পূর্বে গত হয়েছে, সে টেরা হবে, তার গায়ে চুল ও পশম হবে বেশি। কিছু বর্ণনা মতে, সে বেঁটে। আর এক বর্ণনা মতে, সে দীর্ঘ দেহধারী। এক বর্ণনায় এসেছে, সে যে গাধায় আরোহণ করবে, তার দু কানের মাঝখানের দূরত্ব হবে চল্লিশ গজ। যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে।
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস এবং অন্য একটি হাদিসের ভাষা মতে এ দূরত্ব সত্তর গজ। হাদিসটি সহীহ নয়। প্রথমটি প্রশ্নবিদ্ধ বর্ণনা।
'মাআরিফাতুম সাহাবা' গ্রন্থে আবদান বলেন, সুফিয়ান সাওরী রাহিমাহুল্লাহ আবদুল্লাহ ইবনু মাইসারা সূত্রে হাওত আবাদী থেকে বর্ণনা করেন, মাসউদ বলেন, দাজ্জালের গাধার ছায়ায় সত্তর হাজার লোক বসতে পারবে। আমাদের হাফেজ যাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উক্ত বর্ণনার রাবী 'খাওত' একজন অজ্ঞাত রাবী। আর হাদিসটি মুনকাফ। তার দুচোখের মাঝে লেখা থাকবে 'কাফের'। প্রত্যেক মুমিন তা পড়তে পারবে। وان رأسه فمن ورائه حبك حيك
অন্য হাদিসে বর্ণিত এ হাদিসের একটি শাহেদ ইতঃপূর্বে গত হয়েছে। حبك হচ্ছে, কোকড়ানো যেমন মহান আল্লাহর বানী : والسماء ذات الحبك
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—লাইলাতুল কদর ও দাজ্জালের আগমনের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে তোমাদের বলার জন্য আমি বের হয়েছিলাম। এ সময় দুজন মানুষ মসজিদে আঙ্গিনায় ঝগড়া করছিল। তাদের দূর করতে গিয়ে আমি এ দুই তারিখ ভুলে গেছি সুতরাং তোমরা শেষ দমকের বিজোড় রাতসমূহ শবে কদর অনুসন্ধান করো। আঃ" দাজ্জালের দেহাকৃতি হবে, চোখ টেরা, উজ্জ্বল কপাল ও প্রশস্ত গন্ডদেশ। দেখেত যে কাতান ইবনু আবদুল উজ্জার মতো হবে। কাতান বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার মতো হওয়ায় আমার কি কোনো ক্ষতি হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। বরং তুমি একজন মুসলিম ব্যক্তি আর সে হবে কাফের।
তাবারানী বলেন, সুলায়মান ইবনু শিহাব কাইসী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাগনাম রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। তিনি ছিলেন রাসূল সা.-এর একজন সাহাবী। তিনি আমাকে রাসূল সা.-এর হাদিসটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, দাজ্জার বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। সে পূর্বদিক থেকে আসবে। সে এসেই সত্যের দিকে ডাকবে। লোকজন তার অনুসারী হবে। মানুষ অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হবে। এ অবস্থায় সে কুফায় আগমন করবে। সে স্পষ্ট আল্লাহর দীনের স্বীকৃতি দিয়ে এবং তদনুযায়ী আমল করবে। ফলে লোকজন তার অনুসারী হবে এবং তারা ভালোবাসবেন। অতঃপর সে নিজেকে নবি দাবী করবে, এতে বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মানুষজন হতভম্ব হয়ে পড়বেন আর তাকে ছেড়ে সরে যাবেন। এর কিছুদিন পর সে নিজেকে আল্লাহ দাবি করবে।
মহান আল্লাহ তার দুচোখ বুঝে দিবেন, দুই কান কেটে দিবেন। তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে 'কাফের'। ফলে মুসলিমদের কাছে অস্পষ্ট থাকবে না। যার অন্তরে শস্যদানা সমান ঈমান থাকবে, সে তার সঙ্গ দিবে না। ইহুদী, খ্রিষ্টান, অগ্নিপূজক ও অনারব মুশরিকেরা তার দলে যোগ দিবে। অতঃপর সে এক ব্যক্তিকে ডাকবে।.... তার নির্দেশে তাকে হত্যা করা হবে এবং সকল আছে কেটে পৃথক করা হবে। অতঃপর লোকজনের সামনে সব অঙ্গ একত্র করে তাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করবে। এতে লোকটি সম্পূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। অতপর দাজ্জাল বলবে, আমিই আল্লাহ, জীবন ও মৃত্যু দেই। এ মূলত জাদু। এ দিয়ে সে মানুষকে জাদু করবে। এর কিছুই মূলত সে করতে সক্ষম হবে না।
আমাদের শায়খ যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এবং তা বর্ণনা করেন ইয়াহইয়া ইবনু মুসা সাঈদ ইবনু মুসা সাকাফি থেকে। আর তিনি হলেন,... আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু দাজ্জাল সম্পর্কে বলেন, তার নাম হলো, সাফী ইবনু সায়েদ। তার জন্ম হবে ইসফাহানের এক ইহুদি পরিবারে। তার বাহন হবে একটি লেজকাটা গাধা। তার দোকানের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে চল্লিশ গজ। এক পায়ের খুর থেকে অন্য পায়ের দূরত্ব হবে চারদিনের পথ। হাত দিয়ে সে আকাশ ছুতে পারবে। তার সামনে হবে ধোয়ার পাহাড়। তার পেছনে হবে আরেকটি পাহাড়। তার দু চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে 'কাফের'। সে বলবে, আমিই তোমাদের বড় প্রভু। বিয়াকার লোকজন এবং জারজ সন্তানেরা তার সঙ্গী হবে, আবু অমীয়বাণী এটি 'কিতাবুদ দাজ্জালে' এটি বর্ণনা করেছেন। এর ইসনাদ শুদ্ধ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন-
وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوْهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوْا فِيْهِ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتَّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِيْنَا - بَلْ رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا
'আর তাদের এ কথা বলার কারণে যে, আমরা মারইয়িয়াম পুত্র ঈসা মসিহকে হত্যা করেছি, যিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল। অথচ তারা না তাকে হত্যা করেছে, না শূলিতে চরিয়েছে। বরং তারা এরপ ধাঁধাঁয় পতিত হয়েছিলেন। বস্তুত: তারা এ ব্যাপারে নানান কথা বলে। তারা এ ক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে। শুধু মাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয় তাকে তারা হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তায়ালা তাকে উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ হচ্ছেন মহা পরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়।' [সুরা নিসা: ১৫৭-১৫৮]
ইবনু জারির তাঁর তাফসীরাসূন্থে লিখেন—আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। কুরআনের আয়াত وان من اهل الكتاب الا ليؤمنن به قبل موته এর ব্যাখায় তিনি বলেন, এ আয়াতের মানে "ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর পূর্বে" উদ্দেশ্য। এ বর্ণনার সনদ সহীহ, আওফী এমনই বর্ণনা করেছেন ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
ঈসা (আ.) কী মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি তাঁকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে? আবু মালেক বলেন, ঈসা (আ.) আসমান থেকে অবতরণের পরই আহলে কিতাব সকলে তার প্রতি ঈমান আনবে। তিনি এখন মহান আল্লাহর কাছে জীবিত অবস্থায়।
রয়েছেন। যখন তিনি যখন অবতরণ করবেন, তারা সকলে তার প্রতি ঈমান আনবে। ইবনু জারীর এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবি হাতেম তাঁর থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি হাসান বসরী (র.)-কে এ আয়াতের তাফসীর জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ঈসা (আ.)-কে মহান আল্লাহ মৃত্যুর আগে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কিয়ামতের পূর্বে তাঁকে এমন একটি মাকামে তাকে পাঠাবেন যে, নেককার-বদকার সকলে তার প্রতি ঈমান আনবে। কাতাদা ইবনু দিআমা, আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম প্রমুখ এমনই বলেছেন। এটি আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বুখারী ও মুসলিমে প্রমাণিত আছে। যেমনটি সামনে আসবে, এক বর্ণনায় মাওকুফ আর অন্য বর্ণনা মারফু সূত্রে। والله تعالى اعلم
এখানে মূল্য উদ্দেশ্য, ঈসা (আ.) আসমানে আছেন- এ বিষয়ে সংবাদ প্রদান। বিষয়টি মুখ আহলে কিতাব যেমন ভাবে তেমন নয় যে, তারা তাঁকে ক্রশবিদ্ধ করেছে। বরং সত্য হলো, তাঁকে মহান আল্লাহ আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। অতঃপর তিনি কিয়ামতের পূর্বে আসমান থেকে অবতরণ করবেন। বিভিন্ন মুতাওয়াতির হাদিসে এমনই বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসগুলোর কিছু দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদিসগুলোর সঙ্গে উল্লেখিত হয়েছে। আর কিছু সামনে আসবে। এজন্য আল্লাহর সাহায্য চাচ্ছি। তাঁর ওপরই একমাত্র ভরসা। মহাপ্রজ্ঞাবান ও মর্যাদার অধিকারী আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি-সামর্থ্য উপায় নেই। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনিই আবশের দয়াবান প্রভু।
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখ থেকে অন্য একটি বর্ণনা আছে এমন, من قبل موت اهل الكتاب (من قبل موته )আয়াতে, মতান্তরে হলে এর সাথে সাংঘর্ষিক হবে। তবে যেটি আমি উল্লেখ করেছি, অর্থ-উদ্দেশ্য ও সনদ বিচারে তা-ই সঠিক। ‘কিতাবুত তাফসীরে’ আমি বিষয়টি স্ববিস্তার আলোচনা করেছি।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 আজব গরিব এক হাদিস

📄 আজব গরিব এক হাদিস


قال نعيم بن حماد في كتاب الفتن حدثنا أبو عمرو، عن عبد الله بن لهيعة، عن عبد الوهاب بن حسين، عن محمد بن ثابت، عن أبيه، عن الحارث، عن عبد الله بن مسعود، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بين أذني الدجال أربعون ذراعاً، وخطوة حماره مسيرة ثلاثة أيام، يخوض البحر كما يخوض

أحدكم الساقية، ويقول: أنا رب العالمين وهذه الشمس تجري ... أفتريدون أن أحبسها؟ فيقولون: نعم فيحبسها حتى يجعل اليوم لأشهر واليوم كالجمعة ويقول: أتريدون أن أسيرها؟ فيقولون: نعم، فيجعل اليوم كالساعة؟ وتأتيه المرأة فتقول: يا رب أخي وابني وأخي وزوجي، حتى إنها تعانق شيطاناً وبيوتهم مملوءة شياطين ويأتيه الأعراب فيقولون: يا رب إحي لنا إبلنا وغنمنا؟ فيعطيهم شياطين أمثال إبلهم وغنمهم سواء بالسن فيقولن:
لو لم يكن هذا ربنا ربنا لم يحي لنا موتانا ومعه جبل من برق وعراق وجبل من لحم حار ولا يبرد ونهر جار، وجبل من جنان وخضرة وجبل من نار ودخان
يقول: هذه جنتي وهذه نادري وهذا طعامي وهذا شرابي، واليسع عليه السلام معه، ينذر الناس فيقول: هذا المسيح الكذاب فاحذوره لعنه الله ويعطيه الله من السرعة والخفة ما لا يلحقه الدجال فإذا قال: أنا رب العالمين قال له الناس كذبت، ويقول اليسع صدق الناس فيمر بمكة فإذا هو بخلق عظيم
فيقول من أنت؟ فيقول: أنا جبريل. وبعثني الله لأمنعك من حرم رسوله فيمر الدجال بمكة فإذا رأى ميكائيل ولى هارباً ويصبح فيخرج إليه من مكة منافقوها ومن المدينة كذلك ويأتي النذير إلى الذين فتحوا قسطنطينية ومن تألف من المسلمين ببيت المقدس قال: فيتناول الدجال منهم رجلاً ثم يقول: هذا الذي يزعم أني لا أقدر عليه؟ فاقتلوه، فينشر ثم يقول: أنا أحييه، فيقول: قم فيقوم بإذن الله ولا يأذن لنفس غيرها فيقول: أليس قد أمتك ثم أحييتك؟ فيقول: الآن أزيد لك تكذيباً بشرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أنك تقتلني ثم أحيا بإذن الله فيوضع على جلده صفائح من نحاس ثم يقول: الطرحوه في ناري، فيحول الله ذلك على النذير فيشك الناس فيه ويبادر إلى بيت المقدس فإذا صعد على عقبة أفيق وقع ظلمه على المسلمين ثم يسمعون أن جاءكم الغوث فيقولون: هذا كلام رجل شبعان وتشرق الأرض
ور رباها وينزل عيسى ابن مريم ويقول يا معشر المسلمين احذروا ربكم سبحوه فيفعلون، ويريدون الفرار فيضيق الله عليهم الأرض فإذا أتوا باب
وافقوا عيسى فإذا نظر إلى عيسى يقول: أقم الصلاة، قال الدجال: يا نبي الله قد أقيمت الصلاة، فيقول: يا عدو الله زعمت أنك رب العالمين فلمن تصلي؟ فيضربه بمقرعة فيقتله فلا يبقى أحد من أنصاره خلف شيء إلا
نادی يا مؤمن هذا دجال فاقتله، إلى أن قال فيمنعون أربعين سنة لا يموت أحد ولا يمرض أحد، ويقول الرجل لغنمه: اذهبي الى السرح ولدي به وأرعي
وتمر الماشية بين الزرع ولا تأكل منه سنبلة والحيات والعقارب لا تؤذي أحداً والسبع على أبواب الدور لا يؤذي أحداً ويأخذ الرجل المؤمن القمح فيبذره بلا حرث فيجيء منه سبعمائة فيمكثون كذلك حتى يكسر سد
يأجوج ومأجوج فيمرحون ويفسدون ويستغيث الناس فلا يستجاب لهم، وأهل طور سيناء هم الذين فتح الله لهم القسطنطينة فيدعون فيبعث الله دابة من الأرض ذات قوائم فتدخل في آذانهم، فيصبحون موتى أجمعين وتنتن
الأرض منهم، فيؤذون الناس بنتنهم أشد من حياتهم، فيستغيثون بالله فيبعث الله ريحاً يمانية غبراء فتصير على الناس غماً ودخاناً ويقع عليهم الزكمة ويكشف ما بهم بعد ثلاث، وقد قذفت جيفهم في البحر، ولا
يلبثون إلا قليلاً حتى تطلع الشمس من مغربها وقد جفت الأقلام وطويت الصحف، ولا يقبل من أحد توبة، ويخر إبليس ساجداً ينادي إلهي مرني أن أسجد لمن شئت، ويجتمع إليه الشياطين فيقولون: يا سيدنا إلى من تفزع؟
فيقول: إنما سألت ربي أن ينظرني إلى يوم البعث وقد طلعت الشمس من مغربها، وهذا هو الوقت المعلوم، وتصير الشياطين ظاهرة في الأرض حتى يقول الرجل هذا قريني الذي كان يغريني فالحمد لله الذي أخزاه، ولا يزال إبليس ساجداً باكياً حتى تخرج الدابة فتقتله وهو ساجد، ويتمتع المؤمنون
بعد ذلك أربعين سنة لا يتمنون شيئاً إلا أعطوه، ويترك المؤمنون حتى ينم أربعون سنة بعد الدابة ثم يعود فيهم الموت ويسرع فلا يبقى مؤمن، ويقول الكافر: ليس تقبل منا توبة، يا ليتنا كنا من
المؤمنين، فيتهارجون في الطرق تهارج الحمر، حتى ينكح الرجل أمه في وسط الطريق، يقوم واحد وينزل آخر، وأفضلهم من يقول لو تنحيتم عن الطريق كان أحسن، فيكونون على ذلك، ولا يولد أحد من نكاح ثم يعقم الله النساء ثلاثين سنة فيكونون كلهم أولاد زنا شرار الناس عليهم تقوم الساعة". منين، فيتهارجون
في الطرق تهارج الحمر، حتى ينكح الرجل أمه في وسط الطريق، يقوم واحد وينزل آخر، وأفضلهم من يقول لو تنحيتم عن الطريق كان أحسن، فيكونون على ذلك، ولا يولد أحد من نكاح ثم يعقم الله النساء ثلاثين سنة فيكونرن كلهم أولاد زنا شرار الناس عليهم تقوم الساعة."

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-দাজ্জালের গাধার দুই কানের মাঝখানে চল্লিশ গজ ব্যবধান হবে। আর তার গাধার কদম সাধারণত কদমে তিন দিনের সমান। সে তার গাধার উপরে সমুদ্রে প্রবেশ করবে যেমন নাকি তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার উপর থাকা অবস্থায় ছোট নদীতে প্রবেশ করে। সে বলবে আমি সমগ্র পৃথীবির রব। এই সূর্য আমার অনুমতিতে চলে। তোমরা কি চাও যে, আমি তা বন্দি করে দেই। অতপর সে সূর্য্যকে বন্দি করে দিবে ফলে এক দিন এক মাস ও জুম'আর সমান হবে। অতপর সে বলবে তোমরা কি চাও যে, আমি তা তোমাদের জন্য জারি করে দেই? তখন লোকজন বলবে হ্যাঁ। তখন এক দিন এক ঘন্টার সমান হয়ে যাবে। অতপর তার নিকট একজন মহিলা আসবে। সে বলবে, হে প্রভু! আমার সন্তানকে জীবিত করে দিন। আমার স্বামীকে জীবিত করে দিন। এমনকি মহিলা শয়তানের সাথে গলা মিশাবে। শয়তানের সাথে সহবাস করবে। তাদের নিকট সকল শয়তান আসবে। আর তার নিকট গ্রাম্য লোক এসে বলবে, হে আমাদের রব। আমাদের ছাগলগুলি আমাদের উটগুলি জীবিত করে দাও। তখন শয়তানগুলি তাদের ছাগল ও উটের বয়স, মোটাতাজা ও প্রচুর চর্বি সহকারে যে অবস্থায় ছাগল ও উট তাদের থেকে পৃথক হয়েছিল সেরূপ আকৃতি ধারণ করবে। তখন তারা বলবে ইনি যদি আমাদের রব না হতেন তাহলে তো তিনি আমাদের মৃত উট ও ছাগল জীবিত করতে পারতেন।
না। তার সাথে গরম গোস্ত তরকারি ঝোল থাকবে। যা ঠান্ডা হবে না। আর তার সাথে থাকবে প্রবাহিত নদী। সবুজ শ্যামল ও অনেক বাগান বিশিষ্ট পাহাড়। আগুণ ও যৌয়ার পাহাড়। সে বলবে এটা আমার জান্নাত। এটা আমার জাহান্নাম। এটা আমার খাবার। এটা আমার পানীয়। আর ইয়াসা তার সাথে থাকবে সে মানুষদের সতর্ক করতে থাকবে। আর সে বলবে, এটা (দাজ্জাল) মাসীহ মহা মিথ্যাবাদী। অতএব তাকে ত্যাগ কর। আল্লাহর লা'নত দাজ্জালের উপর। আল্লাহ তা'আলা তাকে দ্রুত ও গোপনে তাকে সম্পদ দিবেন। তার সাথে দাজ্জাল মিলিত হবে। যখন দাজ্জাল বলবে আমি পৃথিবীর রব। তখন মানুষগণ বলবে তুমি মিথ্যা বলছ। তখন ইয়াসা বলবে মানুষ সত্য কথা বলেছে। অতপর সে মক্কায় যাবে। আর সেখান এক বিরাট মাখলুক দেখবে।
অতপর সে বলবে তুমি কে? আর এই দাজ্জাল তোমাদের নিকট এসেছে। অতপর সে বলবে আমি মিকাঈল। আল্লাহ তা'আলা আমাকে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি তাকে তার হারাম থেকে বিরত রাখতে পারি। এবং সে মদিনায় যাবে। আর সেখানেও এক মহান মাখলুক দেখতে পাবে। অতঃপর সে বলবে তুমি কে? এই দাজ্জাল তোমার নিকট এসেছে। উত্তরে সে বলবে আমি জিবরাঈল। আল্লাহ তা'আলা আমাকে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি দাজ্জালকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হরম থেকে বিরত রাখতে পারি।
অতপর দাজ্জাল মক্কায় যাবে। যখন দাজ্জাল মিকাঈল আ. কে দেখবে তখন ভেগে পালাবে। আর হারামে প্রবেশ করবে না। অতপর দাজ্জাল একটি চিৎকার দিবে। ফলে মক্কার থেকে পুরুষ মুনাফেক ও মহিলা মুনাফেক তার দিকে বাহির হয়ে আসবে। অতপর দাজ্জাল মাদিনায় যাবে। আর যখন সেখানে জিবরাঈল আ. কে দেখবে তখন ভেগে পালাবে। অতপর দাজ্জাল একটি চিৎকার দিবে। ফলে মদিনা থেকে তার দিকে পুরুষ মুনাফেক ও মহিলা মুনাফেক বাহির হয়ে আসবে।
আর যে দলের হাতে আল্লাহ তা'আলা কুস্তুনতুনিয়ার জয় দিয়েছেন এবং বাইতুল মুকাদ্দাসের মুসলমানদের থেকে যারা তাদের সাতে সমন্বিত হয়েছেন, তাদের নিকট একজন সতর্ককারী আসবে। তারা বলবে এই হল দাজ্জাল। তোমাদের নিকট এসেছে।
অতপর তারা বলবে তোমরা বস। কেননা আমরা তাকে হত্যা করতে চাই। অতপর সে বলবে বরং তোমরা মানুষের নিকট তার বাহির হওয়ার খবর আসা পর্যন্ত ফিরে যাও। অতপর সে যখন ফিরবে তখন দাজ্জাল তার সাথে শামিল হবে। অতপর সে বলবে এই হল সেই ব্যক্তি যে ধারণা করে যে, আমি তার সাথে পারব না। সুতরাং তোমরা তাকে অত্যন্ত খারাপ ভাবে হত্যা করা। ফলে তারা অস্ত্র নিয়ে ছড়িয়ে পরবে। অতপর দাজ্জাল বলবে যদি আমি তোমাদের জন্য তাকে জীবিত করি তাহলে তোমরা কি আমাকে রব হিসাবে মেনে নিবে? অতপর তারা বলবে আমরা জানি যে, তুমি আমাদের রব। আর আমরা এটা পছন্দ করি যে, আমাদের একীন বা বিশ্বাস বাড়াবো। অতপর সে বলবে হ্যাঁ। অতপর আল্লাহ তা'আলার অনুমতিতে একজন জীবিত হবে। আর আল্লাহ তা'আলা দাজ্জালকে উক্ত ব্যক্তি ব্যতীত আর কাউকে জীবিত করার অনুমতি দিবেন না। অতপর দাজ্জাল বলবে আমি কি তোমাকে মৃত্যু দান করিনি? অতপর তোমাকে জীবিত করেছি। সুতরাং আমি তোমার রব। অতপর লোকটি বলবে এখন তুমি একীন বা বিশ্বাস বাড়িয়েছ। আমি হলাম ঐ ব্যক্তি যাকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তুমি আমাকে হত্যা করবে তারপর আল্লাহ তা'আলা অনুমতি ক্রমে জীবিত করবে। আল্লাহ তা'আলা আমাকে ব্যতীত আর কাউকে তোমার জন্য জীবিত করবেন না।
অতপর সে সতর্ককারীর চামড়ার উপর লোহ বা তামার পাত স্পর্শ করবে। কিন্তু তাদের অস্ত্র দ্বারা তার কোন চাল কাজে আসবে না। কোন তরবারী এবং কোন চাকু এবং কোন পাথর তাকে মারতে পারবে না। বরং তার থেকে ফিরে আসবে। তার থেকে তার কোন ক্ষতি হবে না। অতপর দাজ্জাল বলবে তাকে আমার জাহান্নামে নিক্ষেপ কর। অতপর আল্লাহ তা'আলা উক্ত পাহাড় (দাজ্জালের জাহান্নাম) কে সতর্ককারীর উপর সবুজ শ্যামল বাগানে পরিবর্তন করে দিবেন। অতপর জনগণ তাতে সন্দেহ পোষণ করেবে এবং প্রতিযোগিতা মুলক ভাবে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে যাবে। যখন তারা আফিকের গিরিপথে উঠবে, তখন তার ছায়া তাদের উপর পড়বে। তখন তারা তাদের ধনুকে তীর সংযোজন করবে তাকে হত্যা করার জন্য।
সেদিন মুসলমানগণ নিঃস্ব বা অভাবগ্রস্ত হয়ে যাবে। (মুসলমানদের থেকে) যে হাটু গেড়ে বসবে বা উপবেশন করবে সে ক্ষুধার কারণে হাটু গেড়ে বসবে বা ক্ষধার কারণে উপবেশন করবে। অতপর তার একজন ঘোষণাকারীর ডাক শুনবে যে, হে লোক সকল তোমাদের নিকট সাহায্য এসে গেছে।'

টিকাঃ
১. কিতাবুল ফিতান, নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 সবকিছু বিরান হয়ে যাবে

📄 সবকিছু বিরান হয়ে যাবে


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، كِلَاهُمَا عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ جَدِي عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ ذَكْوَانَ حَدَّثَنَا ابْنُ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيُّ شَعْبُ هَمْدَانَ أَنَّهُ سَأَلَ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ أُخْتَ الضَّحَاكِ بْنِ قَيْسٍ وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُولِ فَقَالَ حَدِّثِينِي حَدِيثًا سَمِعْتِيهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه

وسلم لا تُسْنِدِيهِ إِلَى أَحَدٍ غَيْرِهِ فَقَالَتْ لَئِنْ شِئْتِ لَأَفْعَلَنَّ فَقَالَ لَهَا أَجَلْ حَدِّثِينِي .

فَقَالَتْ نَكَحْتُ ابْنَ الْمُغِيرَةِ وَهُوَ مِنْ خِيَارِ شَبَابِ قُرَيْشٍ يَوْمَئِذٍ فَأُصِيبَ فِي أَوَّلِ الْجِهَادِ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا تَأَيَّمْتُ خَطَبَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَطَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَوْلاهُ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَكُنْتُ قَدْ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحِبَّ أُسَامَةَ " . فَلَمَّا كَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ أَمْرِي بِيَدِكَ فَأَنْكِحْنِي مَنْ شِئْتَ فَقَالَ انْتَقِلِي إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ .

. وَأُمُّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ غَنِيَّةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ عَظِيمَةُ التَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَنْزِلُ عَلَيْهَا الضّيفَانُ فَقُلْتُ سَأَفْعَلُ فَقَالَ " لَا تَفْعَلِي إِنَّ أُمَّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ كَثِيرَةُ النِّيفَانِ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْكِ خِمَارُكِ أَوْ يَنْكَشِفَ الثَّوْبُ عَنْ سَاقَيْكِ فَيَرَى الْقَوْمُ مِنْكِ بَعْضَ مَا تَكْرَهِينَ وَلَكِنِ انْتَقِلِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو ابْنِ أُمَّ مَكْتُومٍ . - وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فِهْرٍ فِهْرٍ قُرَيْشٍ وَهُوَ مِنَ الْبَطْنِ الَّذِي هِيَ مِنْهُ - فَانْتَقَلْتُ إِلَيْهِ

فَلَمَّا انْقَضَتْ عِدَّتِي سَمِعْتُ نِدَاءَ الْمُنَادِي مُنَادِي رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُنَادِي الصَّلاةَ جَامِعَةً . فَخَرَجْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكُنْتُ فِي صَفِ النِّسَاءِ الَّتِي تَلِي ظُهُورَ الْقَوْمِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاتَهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ " لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلاهُ " . ثُمَّ قَالَ " أَتَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " إِنِّي وَاللَّهِ مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلَا لِرَهْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ لأَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْ مَسِيحٍ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلاثِينَ رَجُلاً مِنْ لَحْمٍ وَجُذَامَ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْرِ ثُمَّ أَرْفَتُوا إِلَى جَزِيرَةٍ فِي الْبَحْرِ حَتَّى مَغْرِبِ الشَّمْسِ فَجَلَسُوا فِي أَقْرُبِ السَّفِينَةِ فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةُ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لَا يَدْرُونَ مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقَالُوا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ .

قَالُوا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتْ أَيُّهَا الْقَوْمُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبْرِكُمْ بِالْأَشْوَاقِ ، قَالَ لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلًا فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَهُ - قَالَ - فَانْطَلَقْنَا

سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أَعْظَمُ إِنْسَانٍ رَأَيْنَاهُ قَتْ خَلْقًا وَأَشَدُّهُ وِثَاقًا تَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ مَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى كَعْبَيْهِ بِالْحَدِيدِ قُلْنَا وَيْلَكَ مَا أَنْتَ قَالَ قَدْ قَدَرْتُمْ

عَلَى خَبَرِي فَأَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ قَالُوا نَحْنُ أُنَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ رَكِبْنَا فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ فَصَادَفْنَا الْبَحْرَ حِينَ اغْتَلَمَ فَلَعِبَ بِنَا الْمَوْجُ شَهْرًا ثُمَّ أَرْفَأْنَا إِلَى جَزِيرَتِكَ هَذِهِ

فَجَلَسْنَا فِي أَقْرُبِهَا فَدَخَلْنَا الْجَزِيرَةً فَلَقِيَتْنَا دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لَا يُدْرَى مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقُلْنَا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ . قُلْنَا وَمَا

الجَسَّاسَةُ قَالَتِ اعْمِدُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالْأَشْوَاقِ فَأَقْبَلْنَا إِلَيْكَ سِرَاعًا وَفَزِعْنَا مِنْهَا وَلَمْ نَأْمَنْ أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةٌ فَقَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ

بَيْسَانَ قُلْنَا عَنْ أَيِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ أَسْأَلُكُمْ عَنْ نَخْلِهَا هَلْ يُثْمِرُ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ لَا تُنْمِرَ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ بُخَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ . قُلْنَا عَنْ أَيِّ شَأْنِهَا

تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِيهَا مَاءً قَالُوا هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ . قَالَ أَمَا إِنَّ مَاءَهَا يُوشِكُ أَنْ يَذْهَبَ . قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ . قَالُوا عَنْ أَي شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِي الْعَيْنِ مَاءً

وَهَلْ يَزْرَعُ أَهْلُهَا بِمَاءِ الْعَيْنِ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ وَأَهْلُهَا يَزْرَعُونَ مِنْ مَائِهَا . قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَبِي الْأُمِّيِّينَ مَا فَعَلَ قَالُوا قَدْ خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَنَزَلَ يَثْرِبَ . قَالَ

أَقَاتَلَهُ الْعَرَبُ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ كَيْفَ صَنَعَ بِهِمْ فَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّهُ قَدْ ظَهَرَ عَلَى مَنْ يَلِيهِ مِنَ الْعَرَبِ وَأَطَاعُوهُ قَالَ لَهُمْ قَدْ كَانَ ذَلِكَ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنَّ ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ أَنْ يُطِيعُوهُ

وإِنِّي مُخْبِرُكُمْ عَنِّي إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ وَإِنِّي أُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ فَأَخْرُجَ فَأَسِير في الأَرْضِ فَلَا أَدَعَ قَرْيَةٌ إِلَّا هَبَطْتُهَا فِي أَرْبَعِينَ لَيْلَةً غَيْرَ مَكَّةَ وَطَيِّبَةً فَهُمَا

مُحَرَّمَتَانِ عَلَى كِلْتَاهُمَا كُلَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَ وَاحِدَةً أَوْ وَاحِدًا مِنْهُمَا اسْتَقْبَلَنِي مَلَكُ بِيَدِهِ السَّيْف صَلْنَا يَصُدُّنِي عَنْهَا وَإِنَّ عَلَى كُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلَائِكَةٌ يَحْرُسُونَهَا قَالَتْ

قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَطَعَنَ بِمِخْصَرَتِهِ فِي الْمِنْبَرِ هَذِهِ طَيِّبَةُ هَذِهِ

طَيِّبَةُ هَذِهِ طَيِّبَةُ " . يَعْنِي الْمَدِينَةَ " أَلا هَلْ كُنْتُ حَدَّثْتُكُمْ ذَلِكَ " . فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ فَإِنَّهُ أَعْجَبَنِي حَدِيثُ تَمِيمٍ أَنَّهُ وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْهُ وَعَنِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ أَلَا إِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لَا بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ " . وَأَوْمَا بِيَدِهِ إِلَى الْمَشْرِقِ . قَالَتْ فَحَفِظْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم .

'আমির ইবনু শারাহীল শা'বী থেকে বর্ণিত, তিনি যাহ্হাক ইবনু কায়স-এর বোন ফাতিমাহ্ বিনতু কায়স-কে প্রশ্ন করলেন। যে সকল মহিলাগণ প্রথমে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যে হাদিস শুনেছেন, অন্যের দিকে সম্বোধন করা ছাড়া, এমন একটি হাদিস আপনি আমার কাছে পেশ করুন। তিনি বললেন, তবে তুমি যদি শুনতে চাও, অবশ্যই আমি তা বর্ণনা করব। সে বলল, হ্যাঁ, আপনি বর্ণনা করুন। এরপরে তিনি বললেন, আমি ইবনু মুগীরাকে বিয়ে করেছিলাম। তিনি কুরাইশী যুবকদের উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সাথে প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেই তিনি শাহীদ হয়ে যান। আমি বিধবা হয়ে যাবার পর 'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরো কতিপয় সহাবারাও প্রস্তাব পাঠান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তাঁর আযাদকৃত গোলাম উসামাহ্ ইবনু যায়দ-এর জন্য প্রস্তাব পাঠান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসটি আমি আগেই শুনেছিলাম যে, তিনি বলেছেন, যে লোক আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকেও ভালবাসে। ফাতিমাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে আমার সাথে আলোচনা করার পর আমি তাকে বললাম, আমার বিষয়টি আপনার ইচ্ছা মাফিক ছেড়ে দিলাম। আপনি যার সঙ্গে ইচ্ছা আমাকে বিবাহ দিয়ে দিন। তারপর তিনি বললেন, তুমি উম্মু শারীক-এর কাছে চলে যাও। উম্মু শারীক একজন আনসারী ধনবান মহিলা, আল্লাহর রাস্তায় সে বেশি খরচ করে এবং তার কাছে অনেক অতিথি আসে। এ কথা শুনে আমি বললাম, আমি তা-ই করব। তখন তিনি বললেন, তুমি উম্মু শারীকের নিকট যেয়োনা। কেননা উম্মু শারীক আপ্যায়ন প্রিয় মহিলা এবং আমি এটাও পছন্দ করি না যে, তোমার উড়না পড়ে যাক বা তোমার পায়ের গোছা বস্ত্রহীন হয়ে যাক আর লোকেরা তোমার শরীরের এমন স্থান দেখে নিক যা তুমি কখনো পছন্দ করো না। তবে তুমি তোমার চাচাতো ভাই 'আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতূম-এর নিকট চলে যাও। তিনি বানী ফির-এর এক ব্যক্তি। ফিত্র কুবাইশেরই একটি শাখা গোত্র। ফাতিমাহ যে খান্দানের লোক তিনিও সে খান্দানেরই লোক। আমি তার কাছে চলে গেলাম। তারপর আমার ইদ্দত শেষ হলে আমি এক আহবানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। বস্তুত: তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত আহবানকারী ছিলেন। তিনি এ মর্মে আহ্বান করছিলেন যে, সালাতের উদ্দেশ্যে তোমরা সমবেত হয়ে যাও।

এরপর আমি মাসজিদের দিকে অগ্রসর হলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সলাত আদায় করলাম। তিনি বলেন, সম্প্রদায়ের পেছনে যে কাতারে মহিলাগণ ছিলেন আমি সে কাতারেই ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ন্তে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় মিম্বারে বসে গেলেন। অতঃপর বললেন, প্রত্যেকেই আপন আপন স্থানে বসে যাও। তারপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান, আমি কি জন্য তোমাদেরকে সমবেত করেছি? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে কোন আশা বা ভয়-ভীতির জন্য জমায়েত করিনি। তবে আমি তোমাদেরকে কেবল এজন্য জমায়েত করেছি যে, তামীম আদ্‌ দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথমে খ্রীস্টান ছিল। সে আমার কাছে এসে বাই'আত গ্রহণ করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সে আমার নিকট এমন একটি কাহিনী বর্ণনা করেছে যদ্বারা আমার সে বর্ণনার সত্যায়ন হয়ে যায়, যা আমি দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছিলাম। সে আমাকে বলেছে যে, একবার সে লাখখ ও জুযام গোত্রের ত্রিশজন লোকসহ একটি সামুদ্রিক জাহাজে আরোহণ করেছিল।

সামুদ্রিক ঝড় এক মাস পর্যন্ত তাদেরকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। অতঃপর সূর্যাস্তের সময় তারা সমুদ্রের এক দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। তারপর তারা ছোট ছোট নৌকায় বসে ঐ দ্বীপে প্রবেশ করে। দ্বীপে নামতেই জন্তুর ন্যায় একটি জিনিস তাদের দেখতে পায়। তার পূর্ণ দেহ পশমে ভরা ছিল। পশমের কারণে তার আগা-পাছা চেনার উপায় ছিল না। লোকেরা তাকে বলল, হতভাগা, তুই কে? সে বলল, আমি জাস্সা-সাহ্। লোকেরা বলল, 'জাস্সা-সাহ্' আবার কি? সে বলল! ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষা করছে। তামীম আদ্‌ দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তার মুখে এক লোকের কথা শুনে আমরা ভয়ে শঙ্কিত হলাম যে, সে আবার শাইতান তো নয়! আমরা দ্রুত পদব্রজে গীর্জায় প্রবেশ করতেই এক দীর্ঘাকৃতির এক লোককে দেখতে পেলাম। যা ইতোপূর্বে এমন আমরা আর কখনো দেখিনি। লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় দু'হাঁটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো। আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। এখন তোমরা বলো, তোমাদের পরিচয় কি? তারা বলল, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা সমুদ্রে নৌকায় চড়ে ভ্রমণ করছিলাম।

আমরা সমুদ্রকে উত্তাল তরঙ্গে উদ্বেলিত অবস্থায় পেয়েছি। এক মাস পর্যন্ত ঝড়ের কবলে থেকে অবশেষে আমরা তোমার এ দ্বীপে এসে পৌঁছেছি। অতঃপর ছোট ছোট নৌকায় আরোহণ করে এ দ্বীপে আমরা প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা একটি সর্বাঙ্গ পশমে আবৃত জন্তুকে দেখতে পেয়েছি। পশমের মাত্রাতিরিক্তের কারণে আমরা তার আগা-পাছা চিনতে পারছি না। আমরা তাকে বলেছি, তোর সর্বনাশ হোক! তুই কে? সে বলেছে, সে নাকি জাস্সা-সাহ্। আমরা বললাম, 'জাস্সা-সাহ্' আবার কি? তখন সে বলেছে, ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, তোমরা সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষায় আছে।

তাই আমরা দ্রুত তোর কাছে এসে গেছি। আমরা তার কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি; না জানি এ আবার কোন জিন ভূত কিনা? অতঃপর সে বলল, তোমরা আমাকে বাইসানের খেজুর বাগানের সংবাদ বলো। আমরা বললাম, এর কোন্ বিষয়টি সম্পর্কে তুই সংবাদ জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, বাইসানের খেজুর বাগানে ফল আসে কি না, এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি। তাকে আমরা বললাম, হ্যাঁ, আছে। সে বলল, সেদিন নিকটেই যেদিন এগুলোতে কোন ফল ধরবে না। তারপর সে বলল, আচ্ছা, তিবরিয়‍্যা সমুদ্রের ব্যাপারে আমাকে অবগত করো। আমরা বললাম, এর কোন্ বিষয় সম্পর্কে তুই আমাদের থেকে জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর মধ্যে পানি আছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ, সেখানে বহু পানি আছে। অতঃপর সে বলল, সেদিন বেশী দূরে নয়, যখন এ সাগরে পানি থাকবে না। সে আবার বলল, 'যুগার'-এর ঝর্ণার ব্যাপারে তোমরা আমাকে অবহিত করো। তারা বলল, তুই এর কি সম্পর্কে আমাদের নিকট জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর ঝর্ণাতে পানি আছে কি? আর এ জনপদের লোকেরা তাদের ক্ষেত্রে এ ঝর্ণার পানি দেয় কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এতে অনেক পানি আছে এবং এ জনপদের লোকেরা এ পানির মাধ্যমেই তাদের ক্ষেত আবাদ করে। সে আবার বলল, তোমরা আমাকে উম্মীদের নাবীর ব্যাপারে খবর দাও। সে এখন কি করছে?
তারা বলল, তিনি মাক্কাহ্ থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে এসেছেন। সে জিজ্ঞেস করল, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করেছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, করেছে। সে বলল, সে তাদের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছে। আমরা তাকে খবর দিলাম যে, তিনি আরবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জয়ী হয়েছেন এবং তাঁরা তার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, এ কি হয়েই গেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ।
সে বলল, বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াই জনগনের জন্য কল্যাণকর ছিল। এখন আমি নিজের ব্যাপারে তোমাদেরকে বলছি, আমিই মাসীহ্ দাজ্জাল। অতি সত্ত্বরই আমি এখান থেকে বাইরে যাবার অনুমতি পেয়ে যাব। বাইরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করব। চল্লিশ দিনের ভেতর এমন কোন জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মাক্কাহ্ ও তাইবাহ এ দুটি স্থানে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমি এ দু'টির কোন স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সম্মুখে এসে আমাকে বাধা দিবে। এ দু'টি স্থানের সকল রাস্তায় ফেরেশতাদের পাহারা থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ছড়ি দ্বারা মিম্বারে আঘাত করে বললেন, এ হচ্ছে তাইবাহ্, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ্। অর্থাৎ তাইবাহ অর্থ এ মদিনাই। সাবধান! আমি কি এ কথাটি ইতোপূর্বে তোমাদেরকে বলিনি? তখন লোকেরা বলল, হ্যাঁ, আপনি বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তামীম আদ্ দারীর কথাটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। যেহেতু তা সামঞ্জস্যপূর্ণ আমার ঐ বর্ণনার, যা আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল, মদিনাহ্ ও মাক্কাহ্ বিষয়ে ইতোপূর্বে বলেছি। জেনে রেখ! উল্লেখিত দ্বীপ সিরিয়া সাগরে অথবা ইয়ামান সাগরের পার্শ্বস্থ সাগরের মাঝে অবস্থিত। যা পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত। এ সময় তিনি নিজ হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারাও করলেন। বর্ণনাকারী ফাতিমাহ্ বিনতু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ হাদিস আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সংরক্ষণ করেছি।

টিকাঃ
১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৭৬।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 শেষ যামানায় ঈসা আ. জমিনে অবতরণ

📄 শেষ যামানায় ঈসা আ. জমিনে অবতরণ


কিয়ামতের আগে কিছু আশ্চর্য বিষয়

وقال الإمام أحمد: حدثنا شريح، حدثنا فليح، عن الحارث، عن فضيل، عن زياد بن سعد، عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ينزل ابْنُ مَرْيَمَ إماماً عادلاً وحكماً مُقْسِطاً فيكسر الصليب ويقتل الخنزير ويرجع السلم ويتخذ السيوف مناجل ويذهب جمة كل ذات جمة. وينزل من السماء رزقها، وَتَخْرُجُ مِنَ الأرض بركتُها، حتى يلعب الصبي بالثعبَانِ وَلَا يَضُرُّهُ، وَتَرْعَى الْغَنَمُ والذِّئْبُ وَلَا يَضُرها، وَيَرْعَى الأَسَدُ وَالبَقَرُ وَلَا يَضُرُّها ...

আবু হুরাইরাহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে মারিয়ামের পুত্র 'ঈসা ('আঃ) শাসক ও ন্যায় বিচারক হিসেবে আগমন করবেন। তিনি 'ক্রুশ' ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং তিনি যুদ্ধের সমাপ্তি টানবেন। তরোবারিগুলোকে তিনি কাস্তে হিসেবে ব্যবহার করবে। প্রত্যেক প্রকার প্রাচুর্যতা চলে যাবে। আসমান থেকে রিযিক বর্ষিত হবে। জমিন তার বরকতের জাহির করবে। ছোট্ট শিশু অজগর নিয়ে খেলা করবে কিন্তু সে তার কোনই ক্ষতি করবে না। মানুষ ছাগল চড়াবে। সাথে নেকড়েও থাকবে। কিন্তুি তাও তার কোন ক্ষতি করবে না। গাভি আর বাঘ এক ঘাটে চড়বে, কিন্তু কেউ কারো অনিষ্ট করবে না।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, ২/১৮২-১৮৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00