📄 কুরআনে কেন দাজ্জালের আলোচনা নেই
কোন প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারে, কেন কুরআনে দাজ্জালের আলোচনা নেই। কেন দাজ্জালের এত সব অনিষ্ট, খারাবি, অকাজ কুকাজ, আল্লাহ হিসেবে নিজেকে দাবি করা সত্ত্বেও কুরআনে তার আলোচনা করা হল না। সুতরাং দাজ্জালের বিষয়টি ডাহা মিথ্যা। একপ্রকার অপপ্রচার। অথচ সকল আম্বিয়াইতো তার উম্মতকে সতর্ক করেছেন তবুও কেন তার আলোচনা কুরআনে আনা হল না। কেন তারে কুরআনে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হলো না। কেন তার নাম কুরআনে আনা হল না।
কয়েক ভবে উত্তর দেওয়া যায়ঃ প্রথমতঃ কুরআনে দাজ্জালের সময় কালের দিকে ঈঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন- يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ أَيْتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ أُمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيْمَانِهَا خَيْرًا قُلِ انْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ (۱۵۸) 'যেদিন তোমার রবের নিদর্শনসমূহের কিছু প্রকাশ পাবে, সেদিন কোন ব্যক্তিরই তার ঈমান উপকারে আসবে না, যে পূর্বে ঈমান আনেনি, কিংবা সে তার ঈমানে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি। বল, 'তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষা করছি'।' [সূরা আনআমঃ ১৫৮।]
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلَاثُ إِذَا خَرَجْنَ : (لَمْ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ ( الآيَةَ الرّجالُ وَالدَّابَّةُ وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنَ الْمَغْرِبِ أَوْ مِنْ مَغْرِبِهَا .
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-তিনটি নিদর্শন যখন প্রকাশিত হবে "তখন কারো ঈমান আনয়নে কোন উপকারে আসবে না যারা ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি বা যারা নিজেদের ঈমান মতো নেক 'আমাল করেনি" (সূরা আন'আম ১৫৮)। সেই তিনটি নিদর্শন হল দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরয ও পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়।
দ্বিতীয়ঃ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জালের পূর্বেই আসমান থেকে অবতরণ করবেন। যেমন পূর্বে তার বর্ণনা করা হয়েছে এবং সামনে আসছে।
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর অবতারের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন- وَ قَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ ، وَ مَا قَتَلُوْهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ ، وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيْهِ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتَّبَاعَ الظَّنِّ وَ مَا قَتَلُوهُ يَقِيْنَا (۱۵۷﴾ بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ ، وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ﴿۱۵۸) وَإِنْ مِنْ اهْلِ الْكِتٰبِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ ، وَيَوْمَ الْقِيمَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا ﴿۱۵۹)
এবং তাদের এ কথার কারণে যে, 'আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি'। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা তাতে মতবিরোধ করেছিল, অবশ্যই তারা তার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে ছিল। ধারণার অনুসরণ ছাড়া এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাঁর কাছে তাকে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। কিতাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তার মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি ঈমান আনবে না এবং কিয়ামতের দিনে সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে। [সূরা নিসা ৪/১৫৭-১৫৯]
কিয়ামতের পূর্বে ঈসা আঃ যখন অবতরণ করবেন, তখন সে যুগের ইয়াহুদী ও নাসারারা পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং সকলেই মৃত্যুর মুহূর্তে তাঁর প্রতি ঈমান আনবে; কিন্তু ফির'আউনের মত তাদের ঈমান তখন কোন কাজে আসবে না।
তাফসীর গ্রন্থে আমি উল্লেখ করেছি যে, لكثر الشرط والغمارون الهاتون 'তার মৃত্যু আগে' দ্বারা ঈসা (আ.) উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। আহলে কিতাব তার প্রতি ঈমান আনবে। যে আহলে তার সম্পর্কে স্পষ্ট মতবিরোধে জড়িয়েছে। একদল অর্থাৎ, খ্রিষ্টানরা তাকে খোদার আসনে বসিয়েছে আর একদল অর্থাৎ ইহুদিরা তাকে ভয়াবহ অপবাদ দিয়েছে। কিয়ামতের আগে যখন তিনি অবতরণ করবেন, প্রত্যেক দলের কাছেই তাদের দাবির অসত্যতা প্রমাণিত হবে। একটু পরই বিষয়টি আমরা আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।
এ হিসাবে মাসীহ ঈসা ইবনু মারয়ামের অবতরণের উল্লেখ দ্বারা মাসীহ দাজ্জাল, যে গোমরাহীর হোতা,-এর উল্লেখের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আরবদের নিয়ম হলো, তার দুই বিপরীত বস্তুর একটির উল্লেখকেই যথেষ্ট মনে করে।
৩. কুরআন মাজীদে দাজ্জালের নাম উল্লেখ করা হয়নি তার হীনতা বোঝানোর জন্য। কারণ সে খোদায়ী দাবি করবে। একটি মহান আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ব ও অহংকারের বিপরীত নয়। তার বিষয়টি মহান আল্লাহর কাছে উল্লেখ করার যোগ্য নয়। কিন্তু রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দাড়িয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকে স্বীয় উম্মতকে তার সম্পর্কে, তার ফিতনা ও বিস্ময়কর বিষয়াদি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। নবিদের সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি যথেষ্ট করেছেন।
দাজ্জালের সামান্য বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাওয়াতুর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি অতি হীন বলে মহান আল্লাহ কুরআন মাজিদে এটি আলোচনা করেননি। বরং প্রত্যেক নবিকে তার বিষয়টি আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন।
যদি প্রশ্ন তোলেন, তবে ফেরাউনের বিষয়টি তো কুরআনে আলোচনা করা হয়েছে। সে-ও তো ভ্রান্ত ও মিথ্যা দাবী করেছিল? সে নিজেকে انا ربكم الأعلى দাবি করেছে। সে এতটুকুও বলেছে, হে আমার সভাষদ, আমি জানি, আমি ছাড়া তোমাদের কোনো প্রভু নেই।
এর উত্তর হলো, ইতঃমধ্যেই ফেরাউনের বিষয়টির সমাপ্তি ঘটেছে। প্রত্যেক মুমিন আকল সম্পন্ন লোকের কাছে তার বিষয়টি স্পষ্ট। এর দাজ্জালের বিষয়টি ভবিষৎতে সংঘটিত হবে। বান্দার জন্য ফিতনা ও পরীক্ষাস্বরূপ। তাই তার হীনতা প্রকাশে এবং তাকে দিয়ে পরীক্ষা করা হবে বিধায় তার বিষয়টি কুরআন মাজীদে আলোচনা করা হয়নি। কারণ তার মিথ্যাবাদী হওয়ার বিষয়টি এতটাই স্পষ্ট সে সম্পর্কে কুরআন মাজীদে বিশেষ সতর্ক করার প্রয়োজন হয়নি। স্পষ্ট হওয়ার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ছেড়ে যাওয়া হয়। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর সময় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফতের বিষয়টি লিখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর লিখেন নি। (يأبى الله والمؤمنون الا أبا بكر)
সুতরাং দাজ্জাল হলো স্পষ্ট মন্দ ও দুষ্টপ্রকৃতির এবং প্রকাশ্য ত্রুটি সম্পন্ন। আর সে দাবি করবে, প্রভুত্বের মতো মহা বিষয়ের। তাই মহান আল্লাহ তার আলোচনা ছেড়ে গেছেন। কারণ, তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের সম্পর্কে জানেন, দাজ্জালের মতো একটি বিষয় তাদের পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। বরং এতে তাদের ঈমান, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি আনুগত্য, সত্যের সত্যায়ন ও বাতিলের বিরোধি তাই বৃদ্ধি পাবে।
এ জন্যই সেই মুমিন যার ওপর দাজ্জালকে চাপিয়ে দেওয়া হবে, দাজ্জাল তাকে হত্যা করে আবার জীবিত করবে, সে বলবে, আল্লাহর কসম, (তার ব্যাপারে তো আমার অন্তর্দৃষ্টিই কেবল বৃদ্ধি পেয়েছে। তুই তো সেই টেরা মিথ্যাবাদী, যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুখে বলে গেছেন।
এ হাদিসের বাহ্যদিক গ্রহণ করেছেন ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মদ ফকীহ, সহীহ সূত্রে মুসলিম থেকে।
কথিত আছে, এ লোকটি হবেন, খিজির (আ.)। কাজি ইয়ায তাঁর জামে গ্রন্থে মুআম্মার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ ও জামে তিরমিযী গ্রন্থে আছে, আবু ওবায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لعله يدركه من رأنى وسمع হতে পারে আমাকে দেখেছে, আমার কথা শুনেছে এমন কোনো ব্যক্তিও তার দেখা পাবে।
এ বর্ণনা দ্বারা এ বক্তব্য মজবুত হলেও এর সনদে গারাবা (গারাবাত) রয়েছে। সম্ভবত একটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল দ্বিতীয় অবস্থায় যা বলেছেন তার আগের বক্তব্য। ওয়াল্লাহু আ'লাম খিজির (আ.)-এর ঘটনায় আমি উল্লেখ করেছি। তাঁর জীবিত থাকার বিষয়ে লোকজনের অভিমত। সেখানে আমরা বিভিন্ন প্রমাণের আলোকে প্রমাণ করেছি তার মৃত্যুবরণের বিষয়টি। কারো ইচ্ছা হলে এ কিতাবের কাসামুল আম্বিয়া পর্বে বিষয়টি অধ্যয়ন করে নিতে পারেন।
ওয়াল্লাহু আ'লাম বিস-সওয়াব।
সুতরাং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতের ব্যাপারে সস্পষ্ট করে কিছু বলে যাননি। কারণ তিনি জানতেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মর্যাদা এবং তার উঁচু ব্যক্তিত্ব। সকল সাহাবীর মাঝেই প্রসিদ্ধ। তারা খেলাফতের দায়িত্বের জন্য তাকেই উত্তম মনে করবেন। আর বাস্তবেই তাই হয়েছে। এ কারণেই আমি হাদিসটি দালায়েলুন নাবুওয়্যাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। যেমনটি কিতাবে বিভিন্ন যায়গায় আমরা বারবার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। আর আমরা যে বিষটি আলোচনা করছি সেটাও এ বিষয়ের মতই। আর তা এভাবে যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাবই দাজ্জালের বিষয় আলোচনার জন্য যথেষ্ট। কেনান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানা ও পরবর্তি যামানার সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিষয়টি এতই প্রসিদ্ধ যে, অতিরিক্ত কোন আলোচনার প্রয়োজন হয় নি। কিংবা যে হেতু মানুষের অন্তরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্বাস বদ্ধমূল আছে তাই এর থেকে আর বেশি আলোচনার প্রয়োজন হয়নি।
টিকাঃ
১. আবু, 'ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহিহ। আবু হাযিম, তিনি হলেন, আল-আশযা'ঈ আল-কুফী তাঁর নাম সালমান, তিনি 'আযযাহ্ আল-আশ জাঈয়্যার মুক্তদাস। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ৩০৭২। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
📄 দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় হল তা থেকে দূরে থাকা।
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنَا عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبي صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ .
'উরওয়াহ ইবনু যুবাইর রাহিমাহুল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী 'আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এ বলে দু'আ করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعوذُبِكَ مِن عَذاب القبر واعوذُبِكَ مِن فتنة المسيح الدجال واعوذُبِكَ من فِتْنَةِ المَحيَا وَفِتْنَةِ المَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
"হে আল্লাহ! কবরের আযাব হতে, মাসীহে দাজ্জালের ফিতনা হতে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! গুনাহ ও ঋণগ্রস্ততা হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।"
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, ২/৮৩২। সহিহ মুসলিম, ৪/৪৯, ৫০, ৫১, ৫২।
📄 সূরা কাহাফের দশ আয়াত
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجُعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حَدِيثِ أَبِي الدَّرْدَاءِ، يَرْوِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ ". قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا قَالَ هِشَامُ الدَّسْتَوَانِي عَنْ قَتَادَةَ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ " مَنْ حَفِظَ مِنْ خَوَاتِيمِ سُورَةِ الْكَهْفِ " . وَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ "مِنْ آخِرِ الْكَهْفِ".
আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-যে ব্যক্তি সূরাহ আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফিতনা হতে মুক্তি পাবে।
ইমাম আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-হিশাম আদ-দাস্তাওয়াঈ কাতাদার সূত্রে এরূপই বলেছেন; কিন্তু তিনি একথাটি এভাবে বলেছেন: যে ব্যক্তি সূরাহ কাহফের শেষের কয়েকটি আয়াত হিফাযাত করবে। আর শু'বাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরাহ কাহফের শেষাংশ মুখস্ত রাখবে।
এর পূর্বের বর্ণনাটি অধিক সহীহ এবং অধিক বর্ণিত।
কোন কোন বর্ণনায় আছে, )"آيات من أول سورة الكهف عصم من الدجال"( সূরা কাহাফের প্রথম অংশ পাঠে মুক্তি মেলে দাজ্জাল থেকে।
শু'বা রাহিমাহুল্লাহ কাতাদা থেকে বর্ণনা করেন, )"من حفظ عشر آيات من آخر سورة الكهف عصم من فتنة الدجال"( যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে সে দাজ্জালে ফিতনা থেকে রেহায় পাবে।
টিকাঃ
২. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩২৩। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
📄 আমার বাসস্থান মদিনা এবং মক্কা দাজ্জাল প্রবেশ থেকে নিরাপদ থাকবে
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةُ، لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ ".
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মদিনার প্রবেশ পথসমূহে ফেরেস্তা পাহারায় নিয়োজিত আছে। তাই প্লেগ রোগ এবং দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ رُعْبُ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، لَهَا يَوْمَئِذٍ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ، عَلَى كُلِّ بَاب مَلَكَانِ ".
আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- মদিনাতে দাজ্জালের ত্রাস ও ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। ঐ সময় মদিনার সাতটি প্রবেশ পথ থাকবে। প্রত্যেক পথে দু'জন করে ফেরেশতা (মোতায়েন) থাকবে।
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " يَأْتِي الدَّجَّالُ الْمَدِينَةَ فَيَجِدُ الْمَلَائِكَةَ يَحْرُسُونَهَا فَلَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ .
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- দাজ্জাল মদিনায় উপস্থিত হয়ে দেখতে পাবে যে, ফেরেশতাগণ তা পাহারা দিচ্ছেন। অতএব, আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছায় মহামারী ও দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৮৮০।
২. সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৮৭৯।
৩. সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২২৪২।