📄 ফাতিমাহ্ বিনতু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর অপরাপর বর্ণনা
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ الْهُجَيْبِيُّ أَبُو عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا قُرَّهُ، حَدَّثَنَا سَيَّارُ أَبُو الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى فَاطِمَةً بِنْتِ قَيْسٍ فَأَلْحَفَتْنَا برُطَبٍ يُقَالُ لَهُ رُطَبُ ابْنِ طَابٍ وَأَسْقَتْنَا سَوِيقَ سُلْتٍ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الْمُطَلَّقَةِ، ثَلَاثًا أَيْنَ تَعْتَدُّ قَالَتْ طَلَّقَنِي بَعْلِي ثَلَاثًا فَأَذِنَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَعْتَدَّ فِي أَهْلِي - قَالَتْ - فنودي في النَّاسِ إِنَّ الصَّلاةَ جَامِعَةً - قَالَتْ - فَانْطَلَقْتُ فِيمَنِ انْطَلَقَ مِنَ النَّاسِ - قَالَتْ - فَكُنْتُ فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ مِنَ النِّسَاءِ وَهُوَ يَلِي الْمُؤَخَّرَ مِنَ الرِّجَالِ - قَالَتْ - فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ فَقَالَ إِنَّ بَنِي عَيْمٌ لتميم الداري ركبوا فِي الْبَحْرِ. وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ قَالَتْ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْوَى بِمِخْصَرَتِهِ إِلَى الْأَرْضِ وَقَالَ هَذِهِ طَيِّبَةُ. يَعْنِي الْمَدِينَةَ .
শাবী রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি ফাতিমাহ বিনতু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে গেলাম। তারপর তিনি আমাকে সতেজ খেজুর দ্বারা মেহমানদারী করলেন। এ খেজুরকে (رطب ابن طاب )রুত্বাব ইবনু ত্বাব) বলা হয় এবং যবের ছাতু পান করালেন। এরপর আমি তাকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার বিষয়ে প্রশ্ন করলাম যে, সে কোথায় ইদ্দত পালন করবে? উত্তরে তিনি বললেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার পিতার বাড়ীতে ইদ্দাত পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফাতিমাহ্ বিনতে কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তখন লোকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয়া হলো, সলাতের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে যাও তারপর এ ঘোষণা শুনে যারা সমবেত হলেন তাদের সাথে আমিও গেলাম এবং পুরুষের কাতারের পেছনে মহিলাদের কাতারের প্রথম সারিতে আমি দাঁড়ালাম। সলাতান্তে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মিম্বারে খুৎবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, তামীম আদ্ দারীর চাচাতো ভাই একবার সমুদ্রে নৌকায় সফর করেছিল। অত:পর তিনি হাদিসটি অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত আছে যে, ফাতিমাহ্ বলেন, আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ছুরি দ্বারা মাটিতে আঘাত করে বলেছেন, এ হচ্ছে তাইবাহ্ অর্থ মদিনা।
حَدَّثَنَا التَّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِنْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَّرَ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ ذَاتَ لَيْلَةٍ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ " إِنَّهُ حَبَسَنِي حَدِيثُ كَانَ يُحَدِّثْنِيهِ تَمِيمُ الدَّارِيُّ عَنْ رَجُلٍ كَانَ فِي جَزِيرَةٍ مِنْ جَزَائِرِ الْبَحْرِ فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ تَجُرُّ شَعْرَهَا قَالَ مَا أَنْتِ قَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ اذْهَبْ إِلَى ذَلِكَ الْقَصْرِ فَأَتَيْتُهُ فَإِذَا رَجُلٌ يَجُرُّ شَعْرَهُ مُسَلْسَلُ في الأَغْلالِ يَنْزُو فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَقُلْتُ مَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا الدَّجَّالُ خَرَجَ ني الْأُمِّيِّينَ بَعْدُ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ أَطَاعُوهُ أَمْ عَصَوْهُ قُلْتُ بَلْ أَطَاعُوهُ . قَالَ ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ .
ফাতিমা বিনতে ক্বাইস রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে 'ইশার সলাত পড়তে বিলম্ব করলেন। তিনি (ঘর হতে) বেরিয়ে এসে বললেন, তামীম আদ-দারী আমার নিকট যে ঘটনা বর্ণনা করেছে সেটিই আমাকে আটকে রেখেছে। সে সমুদ্রের উপদ্বীপের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আমাকে বলেছে, হঠাৎ আমি একটি স্ত্রীলোককে দেখতে পেলাম যে, সে তার চুল টানছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? সে বলল, আমি গুপ্তচর, তুমি ওই প্রাসাদে যাও। অতঃপর আমি সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম, জনৈক ব্যক্তি তার কুঞ্চিত কেশ টানছে, সে মজবুত শিকলে বাঁধা অবস্থায় আকাশ ও যমীনের মাঝখানে ছট্ফট করছে। আমি বললাম, তুমি কে? সে বলল, আমি তো দাজ্জাল। উম্মীদের জন্য নবি এখন আবির্ভূত হয়েছেন কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, লোকেরা তাঁকে মান্য করছে নাকি অমান্য করছে? আমি বললাম, তারা বরং মান্য করছে। সে বললো, এটাই তাদের জন্য কল্যাণকর।
حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ، أَخْبَرَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُمَيعِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى الْمِنْبَرِ " إِنَّهُ بَيْنَمَا أُنَاسٌ يَسِيرُونَ فِي الْبَحْرِ فَنَفِدَ طَعَامُهُمْ فَرُفِعَتْ لَهُمْ جَزِيرَةٌ فَخَرَجُوا يُرِيدُونَ الْخُبْزَ فَلَقِيَتْهُمُ الْجَسَّاسَةُ " . قُلْتُ لِأَبِي سَلَمَةَ وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَ امْرَأَةُ تَجُرُّ شَعْرَ جِلْدِهَا وَرَأْسِهَا . قَالَتْ فِي هَذَا الْقَصْرِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَسَأَلَ عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ وَعَنْ عَيْنِ زُغَرَ قَالَ هُوَ الْمَسِيحُ فَقَالَ لِي ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ إِنَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ شَيْئًا مَا حَفِظْتُهُ قَالَ شَهِدَ جَابِرٌ أَنَّهُ هُوَ ابْنُ صَيَّادٍ قُلْتُ فَإِنَّهُ قَدْ مَاتَ . قَالَ وَإِنْ مَاتَ . قُلْتُ فَإِنَّهُ أَسْلَمَ . قَالَ وَإِنْ أَسْلَمَ . قُلْتُ فَإِنَّهُ قَدْ دَخَلَ الْمَدِينَةَ . قَالَ وَإِنْ دَخَلَ الْمَدِينَةَ .
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে বলেন-একদা কিছু সংখ্যক লোক সমুদ্র ভ্রমণ করেছিল। এ সময় তাদের রাসূদ ফুরিয়ে গেলে একটি দ্বীপ দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তারা রুটির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লে জাস্সার সাক্ষাত পেলো। আমি (ওয়ালীদ) আবু সালামাহকে বললাম, 'জাসসাস' কি? তিনি বললেন, এমন নারী, যে তার দেহের ও মাথার চুল টেনে বেড়ায়। সে বললো, ওই দালানে যাও। অতঃপর উপরে বর্ণিত হাদিস বলেন। আর সে (দালানের লোকটি অর্থাৎ দাজ্জাল) 'নাখলে বাইসান' ও 'আইনে যুগার' সম্পর্কে জানতে চাইলো। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে লোকটিই মাসীহ দাজ্জাল। অতঃপর ইবনু আবু সালামাহ্ আমাকে (ওয়ালীদকে) বলেন, নিশ্চয়ই এই হাদিসের কিছু অংশ আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তিনি বলেন, জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সাক্ষ্য দিলেন যে, সে-ই ইবনু সাইয়াদ। আমি বললাম, সে তো মারা গেছে। তিনি বললেন, যদিও সে মারা গিয়ে থাকে। আমি বললাম, সে তো মুসলিম হয়েছিল। তিনি বললেন, যদিও সে মুসলিম হয়েছিল। আমি বললাম, সে তো মদিনায় প্রবেশ করেছিল। তিনি বললেন, যদিও সে মদিনা প্রবেশ করেছিল।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/১২০/৭২৭৭。
[১] সুনানে আবু দাউদ, ৪/৪৩২৫。
[১] আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ দুর্বল। সনদে ওয়ালীদ ইবনু 'আবদুল্লাহ রয়েছে। হাফিয বলেন, তাকে সন্দেহ করা হয়। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪/৪৩২৮。
📄 ইবনু সাইয়্যাদ মদিনার ইয়াহুদিদের একজন
وقال أحمد، حدثنا محمد بن سابق، حدثنا إبراهيم بن طهمان، عن أبي الزبير، عن جابر بن عبد الله أنه قال: "إن إمرأة من اليهود بالمدينة ولدت غلاماً ممسوحة عينه طالعة نابه، فأشفق رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكون الدجال فوجده تحت قطيفة يهمهم، فأدنته أمه فقالت يا عبد الله: هذا أبو القاسم قد جاءَ فَاخْرُجْ إليه من القطيفة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما لها. قَاتَلَهَا اللهُ لو تَرَكَتْه لَبَيِّنَ ثم قال: يا ابنَ صَيّادٍ مَا تَرَى ؟ قال : أَرَى حقاً وأرى باطلاً وأرى عرشاً على الماء. قال: فليس، فقال: أتشهد أني رسول الله، فقال هو : أتشهد إني رسول الله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "آمنت بالله ورسله، ثم خرج وتركه، ثم أتاه مرةً أخرى في نخل لهم فأذنته أمه فقالت يا عبد الله: هذا أبو القاسم قد جاء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَا لَهَا قَاتَلَهَا اللَّهُ لَو تَرَكَتْهُ لبين."
قال: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يطمع أن يسمع من كلامه شيئاً ليعلم أهو هو أم لا. قال: يا ابن صياد ما ترى؟ قال: أرى حقاً وأرى باطلاً وأرى عرشاً على الماء. قال: أتشهد إني رسول الله? قال هو : أتشهد إني رسول الله ? قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "آمنت بالله ورسله فلبس عليه، ثم خرج فتركه،
ثم جاء في الثالثة والرابعة ومعه أبو بكر وعمر بن الخطاب رضي الله عنهما في نفر من المهاجرين والأنصار وأنا معه، قال: فبادر رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أيدينا ورجا أن يسمع من كلامه شيئاً فسبقته أمه إليه فقالت يا عبد الله: هذا أبو القاسم قد جاء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما لها قاتلها الله لو تركته لبين فقال: يا ابن صياد ما ترى؟ قال: أرى حقاً وأرى باطلاً أرى عرشاً على الماء. قال: تشهد أني رسول الله فقال رسول الله آمنت بالله ورسوله؟ يا ابن صياد إنا قد خبأنا لك خبأ، قال: فما هو؟ قال: الدخ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أخسأ أخسأ. قال عمر بن الخطاب: ائذن لي فأقتله يا رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن يكنه فلست بصاحبه إنما صاحبه عيسى ابن مريم، وإلا يكنه فليس لك أن تقتل رجلاً من أهل العهد. قال: يعني جابر فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم مشفقاً أنه الدجال وهذا سياق غريب جداً.
وقال الإمام أحمد، حدثنا يونس حدثنا المعتمر، عن أبيه عن سليمان الأعمش، عن شفيق بن سلمة، عن عبد الله بن مسعود قال: بينما نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ مرّ بصبيان يلعبون فيهم ابن صياد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تربَتْ يداك أتَشْهَدُ أَني رسول الله؟ فقال هو: أتشهد أني رسول الله ؟ فقال عمر: دَعْنِي فَلأُضْرِب عُنُقَه، فقال رسول الله: "إِنْ يَكُن الذي يُخَافُ فَلَنْ تستطيعه."
হযরত জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, মদিনার এক ঈয়াহুদী মহিলা চোখ মুখিত দাত উঁচু এক সন্তান প্রসব করলো। (যার সাথে দাজ্জালের বর্ণনার আনেকটা মিল পাওয়া যায়।) সে দাজ্জাল হওয়ার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দিহান হন। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চাদরের নিচে গুনগুন করতে দেখলেন। তৎক্ষণাত তার মা তাকে ডাক দিয়ে বললেন; আব্দুল্লাহ! আবুল কাসেম আসছে! চাদর থেকে জলদি বের হও। তার সমস্যা কি আল্লাহ তার বিনাস করুক। যদি সে না বলতো আহলে আজ সত্য স্পষ্ট হত। অতপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ইবনু সাঈয়্যদি তোমার সামনে কি ভাসছে। আমি ফেরেশতা ও শয়তান দেখছি। আরো দেখছি পানির উপর এক আরশ ভাসছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এ দাজ্জال নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি কি সাক্ষ্য দাও আমি আল্লাহর রাসূল। অতপর কামনিা বললো আপনি কি সাক্ষ্য দেন আমি আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণের উপর ঈমান আনলাম।
এরপর তাকে রেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে আসলেন। এব বেশ কিছু দিন পর রাসূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের খেজুর বাগান দেখতে এলেন। এবারেও তার মা ডাক দিয়ে বললো আব্দুল্লাহ এই যে আবুল কাসেম আসছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এর সমস্যাটা কি আল্লাহ তার ধ্বংস করুক। রাসূল সা.-এর দিলের তামান্না ছিল তিনি তার কথা শুনবে। তাহলে বুঝতে পারবে এ সে কিনা! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি কি দেখছ? সে বললো সত্য মিথ্যা সব দেখি। পানির উপর সিংহাসন দেখি। নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি কি সাক্ষ্য দাও আমি আল্লাহর রাসূল! অতপর আল্লাহর রাসূল কে পাল্টা বললো আপনি কি সাক্ষ্য দেন আমি আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূলগণের উপর ঈমান আনলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সে অবস্থায় রেখে ফিরে আসলেন।
তৃতীয়বার ও চতুর্থবারে তিনি এলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহ আনহু ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁদের সঙ্গে একদল আনসার ও মুহাজির। আর আমি ছিলাম তাঁর সঙ্গে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তার কথা শুনতে চেষ্টা করলেন। এ সময় তার মা তার কাছে এসে বলল, হে আবদুল্লাহ, এই যিনি এসেছেন। ইনি আবুল কাসেম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার (মায়ের) কী হলো? আল্লাহ তার লড়াই করুন, সে সুযোগ দিলে ইবনু সাইয়াদ অবশ্যই কিছু বলত। তারপর আনেন, হে ইবনু সাইয়াদ, তুমি কী দেখ? সে বলল, আমি সত্য দেখি এবং মিথ্যা দেখি। পানির ওপর একটি আরש দেখি। সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে আমি আল্লাহর রাসূল? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ঈমান এনেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি। হে ইবনু সাঈয়াদ, তোমার বিষয়টি আমাদের কাছে অস্পষ্ট। বললেন, তা কী? সে বলল, তা হলো ধোয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিকৃষ্ট, নিকৃষ্ট। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অনুমতি দিন। তাকে হত্যা করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে যদি বাস্তবিকই দাজ্জালই হয়। তবে তো তার দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত নয়। তার দায়িত্ব ঈসা ইবনু মারয়ামের কাঁধে অর্পিত। আর যদি সে দাজ্জال না হয়, তবে তোমার জন্য একজন চুক্তিবদ্ধ (অমুসলিম)-কে হত্যা করা কীভাবে বৈধ হতে পারে? জাতির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর সর্বদাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভয়ে ছিলেন যে সেই দাজ্জال কি না। এই হাদিসের ভাষ্যটি নিতান্ত দূর্লভ।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে একদল খেলাধুলায় মগ্ন শিশুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তাদের মাঝে ইবনু সাইয়াদও ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার হাত ধুলোয় মলিন হোক, তুমি কী সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে আমি আল্লাহর রাসূল? ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, অনুমতি দিন। তার ঘাড় ছিন্ন করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে যদি ও-ই হয় যার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তবে তুমি তা করতে সক্ষম হবে না।
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ - رضى الله عنهما - أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ انْطَلَقَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ، حَتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الصَّبْيَانِ عِنْدَ أُطْمِ بَنِي مَغَالَةً وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادِ الْحُلُمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ لِابْنِ صَيَّادٍ " تَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ . فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ. فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ وَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرُسُلِهِ. فَقَالَ لَهُ " مَاذَا تَرَى ". قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقُ وَكَاذِبُ فقالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُلِطَ عَلَيْكَ الْأَمْرُ " ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِينًا ". فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ هُوَ الدُّخُ. فَقَالَ اخْسَأْ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ : فَقَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ dَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَهُ. فَقَالَ النبي صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلَا خَيْرَ لَكَ في قَتْلِهِ . وَقَالَ سَالِمُ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ - رضي الله عنهما - يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وَأَبَيُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ وَهُوَ يَخْتِلُ أَنْ يَسْمَعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ابْنُ صَيَّادٍ فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وَسَلَّمَ وَهُوَ مُضْطَجِعُ، يَعْنِي فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا رَمْرَةً أَوْ زَمْرَةً، فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَتَوَفَّى بَجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لابْنِ صَيَّادٍ يَا صَافِ - وَهُوَ اسْمُ ابْنِ صَيَّادٍ - هَذَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَارَ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ ". وَقَالَ شُعَيْبٌ فِي حَدِيثِهِ فَرَفَصَهُ رَمْرَمَةٌ، أَوْ زَمْزَمَةٌ. وَقَالَ إِسْحَانُ الْكَلْبِيُّ وَعُقَيْلٌ رَمْرَمَةٌ، وَقَالَ مَعْمَرٌ رَمْزَةٌ.
ইবনু 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইবনু সাইয়াদ-এর (বাড়ির) দিকে গেলেন। তাঁরা তাঁকে (ইবনু সাইয়াদকে) বনু মাগালা দুর্গের পাশে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলাধূলারত পেলেন। তখন ইবনু সাইয়াদ বালিগ হবার নিকটবর্তী হয়েছিল। সে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমন অনুভব করার পূর্বেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? ইবনু সাইয়াদ তাঁর দিকে দৃষ্টি করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। অতঃপর সে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ আমি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর তিনি তাকে (ইবনু সাইয়াদকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কী দেখে থাক? ইবনু সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী আগমন করে থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ ব্যাপারটি তোমার নিকট বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। অতঃপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমি একটি বিষয় তোমার হতে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। বলতো সেটি কী? ইবনু সাইয়াদ বলল, তা হচ্ছে ( আদ্-দুখখু। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ তুমি লাঞ্ছিত হও! তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। তখন 'উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমাকে অনুমতি দিন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই [২৬]। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ যদি সে সে-ই (অর্থাৎ মাসীহ্ দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তাহলে তাকে কাবু করার ক্ষমতা তোমাকে দেয়া হবে না। আর যদি সে-ই (দাজ্জাল) না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই।
নোট: কিছু প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা যা বিশ্বাস করা যায় না এবং তা যুক্তিসঙ্গত নয়, যে সেগুলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।
ব্যাখ্যা: ইবনু সাইয়াদ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রচুর। কতক হাদিসে বিষয়টি সন্দিহানের পর্যায়ে আছে, আসলেই কি ইবনু সাইয়াদ দাজ্জাল নাকি না। এটাও তো হতে পাওে যে, বিষয়টি ছিল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ওহি আসার পূর্বে সন্দিহান ছিল। এ প্রসঙ্গে তামিম তামিম আল-দারী এর হাদিস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর তার বর্ণনাটি এ প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আর আমরা এখন এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করবো যা থেকে বুঝে আসবে যে আসলেই ইবনু সাইয়াদ বড় দাজ্জাল নয়। তবে আল্লাহই ভালো জানেন।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১৩৫৪。
📄 ব্যাপক অর্থপূর্ণ নাওওয়াস ইবনু সাম'আন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَا أَنَا نَائِمُ أَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ فَإِذَا رَجُلٌ آدَمُ سَبْطُ الشَّعَرِ يَنْطُفُ أَوْ يُهَرَاقُ رَأْسُهُ مَاءً قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا ابْنُ مَرْيَمَ ثُمَّ ذَهَبْتُ أَلْتَفِتُ فَإِذَا رَجُلٌ جَسِيمٌ أَحْمَرُ جَعْدُ الرَّأْسِ أَعْوَرُ الْعَيْنِ كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنبَةٌ طَافِيَةُ قَالُوا هَذَا الدَّجَّالُ أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهَا ابْنُ قَطَنٍ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ
ইবনু 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—আমি ঘুমের অবস্থায় দেখতে পেলাম যে, আমি কা'বার তাওয়াফ করছি। হঠাৎ একজন লোককে দেখতে পেলাম ধূসর বর্ণের আলুথালু কেশধারী, তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে কিংবা টপকে পড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি মারিয়ামের পুত্র। এরপর আমি তাকাতে লাগলাম, হঠাৎ দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি স্থূলকায় লাল বর্ণের, কোঁকড়ানো চুল, এক চোখ কানা, চোখটি যেন ফোলা আঙ্গুরের মত। লোকেরা বলল এ-হল দাজ্জাল! তার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ লোক হল ইবনু কাতান, বানী খুযা'আর এক লোক।
وقال الإمام أحمد، حدثنا محمد بن سابق، أخبرنا إبراهيم بن طهمان، عن أبي الزبير، عن جابر بن عبد الله أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يخرج الدجال وله أربعون ليلةٌ يَسْبَحُها في الأرض اليوم منها كالسنة، واليوم منها كالشهر. واليوم منها كالجُمُعَةِ، ثم سائر أيامه كايامكم هذه وله حمار يركبه عرض ما بين أذنيه أربعون ذراعاً، فيقول للناس: أنا ربكم وهو أعور وإن ربكم ليس بأعور مَكْتُوبُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَفَرَ بِهَجَاءٍ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِن كاتب أو غير كاتب يرد كل ماء ومنهل إلا المدينة ومكة حرمهما الله عليه وقامت الملائكة بأبوابهما، ومعه جبال من خبز ، ومعه نهران أنا أعلم بهما منهما نهر يقول له الجنة ونهر يقول له النار، فمن أدخل الذي يسميه الجنة فهي النار، ومن أدخل الذي يسميه النار فهي الجنة قال: وسمعت معه شياطين تكلم الناس ومعه فتنة عظيمة يأمر السماء فتمطر فيما يرى الناس ويقتل نفساً ثم يُحييها فيما يرى الناس، ويقول للناس: هل يفعل مثل هذا إلا الرب؟ قال فيفد المسلمون إلى جبل الدخان بالشام فيأتيهم فيحاصرهم فَيُشتد حصارهم ويُجْهِدُهم جهداً شديداً، ثم ينزل عيسى ابن مريم فينا من السحر فيقول: يا أيها الناس ما يمنعكم أن تخرجوا إلى الكذاب الخبيث؟ فيقولون: هذا رجل حي فينطلقون فإذا هم بعيسى ابن مريم فتقام الصلاة، فيقال له تقدم يا روح الله، فيقول: لِيَتَقَدَّمْ إِمَامُكُمْ لِيُصَلِّ بِكُمْ فإذا صلوا صلاة الصبح خرجوا إليه، قال فحين يراه الكذابُ يَنْمَاتُ كَمَا يَنْمَاتُ المِلْحُ في الماء، فيمشي إليه فيقتله حتى إن الشجرة والحجر ينادي يا روح الله هذا يهودي فلا يَتْرُكَ مِمَّنْ كَانَ يتبعه أحداً إلا قَتَلَه تفرد به أحمد أيضاً. وقد رواه غير واحد عن إبراهيم.
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জাল বের হবে, পৃথিবীতে সে চল্লিশ দিন অবস্থান করবেন। চল্লিশদিনের একদিন হবে এক বছর সমান, একদিন হবে একমাস সমান, একদিন হবে শুক্রবার সমান, এরপরের দিনগুলো হবে তোমাদের এই স্বাভাবিক দিনের মতোই। তার বাহন হবে একটি গাধা। তাতে সে আরোহণ করবে। তার দু কানের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে চল্লিশ গজ। সে লোকজনকে বলবে, আমি তোমাদের বড় প্রভু। তার চোখ হবে টেরা। অথচ তোমাদের প্রভু টেরা নন। তার দুচোখের মাঝখানে লেখা থাকবে كَفَرَ। স্বাক্ষর-নিরক্ষর সকল মুমিন তা পড়তে পারবে। প্রত্যেক পানি ও পানির ঘাটে-জলে-স্থলে সর্বত্র যে আবির্ভূত হবে। কেবল মক্কা-মদিনা প্রবেশ করতে পারবে না। এ দুই স্থান মহান আল্লাহ তাঁর জন্য হারাম করেছেন। এ দুই শহরের দরজায় ফেরেশতারা পাহারায় দণ্ডায়মান থাকবেন। তার সঙ্গে রুটির পাহাড় থাকবে। তার সঙ্গে দুটি নদী হবে। এ দুটি সম্পর্কে সর্বাধিক জানি। এর একটির নাম হবে জান্নাত, অন্যটির নাম জাহান্নাম। যেটার নাম জান্নাত হবে তাতে যে প্রবেশ করবে তা মূলত জাহান্নাম আর যেটার নাম জাহান্নাম তা মূলত জান্নাত। জাবির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি শুনেছি তার সঙ্গে কিছু শয়তান থাকবে তারা মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। সে মহা ফিতনা নিয়ে আগমন করবে। সে আসমানকে নির্দেশ দিলে তা বৃষ্টিবর্ষণ করবে। লোকজন তা দেখবে। লোকজনের সামনে একজনকে হত্যা করবে এবং জীবিত করবে। আর লোকজনকে বলবে, একমাত্র প্রভু ছাড়া কি কেউ এমনটি করতে পারে? তিঃপর মুসলিমরা শামের ধোয়ার পাহাড়ে আশ্রয় নেবে। দাজ্জال এসে তাদের অবরোধ করবে। তার অবরোট হবে অত্যন্ত শক্ত ও ভয়াবহ। অতঃপর ঈসা (আ.) আসমান থেকে অবতরণ করবেন এবং বলবেন, হে লোকসকল, এ নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে? তারা বলবে, ইনি তো একজন জীবিত মানুষ। অতঃপর তারা পথ চলতে শুরু করবে। একটু পর তারা ঈসা (আ.)-এর সাক্ষাৎ পাবে। অতঃপর নামাজ দাঁড়াবে। তাঁকে বলা হবে, হে রুহুল্লাহ, ইমামতি করুন। তিনি বলবেন, তোমাদের যিনি ইমাম, তিনি তোমাদের ইমাম হবেন। তাঁরা ফজর নামাজ পড়ে দাজ্জালে বিরুদ্ধে বের হবে। দাজ্জাল তাঁকে দেখেই গলে যাবে, পানিতে যেমন লবণ গলে যায়। ঈসা তাঁর দিকে এগিয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। এমনকি গাছ ও পাথর ডেকে বলবে, হে রুহুল্লাহ, এই যে একটি ইহুদি। অতঃপর দাজ্জালের সকল অনুসারীকেই হত্যা করবেন।” হাদিসটি কেবল ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম থেকে একাধিক ব্যক্তি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةً، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِي، قَاضِي حِمْصَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرِ الخَضْرَي أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ الْكِلابِيَّ ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرِ الطَّائِي، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلی الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةٍ النَّخْلِ فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ " مَا شَأْنُكُمْ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذكرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةٌ فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ ، فَقَالَ .
غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجُ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجُ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌ نَظَطُ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ خَارِجُ خَلَّةٌ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْتُهُ فِي الْأَرْضِ قَالَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمُ كَسَنَةٍ وَيَوْمُ كَشَهْرٍ وَيَوْمُ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلَاةُ يَوْمٍ قَالَ " لَا اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الْأَرْضِ قَالَ " كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالْأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًا وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَيْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ . فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمْتَلِنَا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزَلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِي دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَخَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كاللُّؤْلُو فَلا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفْسِهِ إِلَّا مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُةٍ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللهُ إِلَى عِيسَى إِنّى قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لى لا يَدَانِ لأحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِي إلى الطُّور . وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بخَيْرَةً طَبَرِيَّةً فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا وَيَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاهُ . وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لِأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةٍ دِينَارٍ الأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الْأَرْضِ فَلَا يَجِدُونَ فِي الْأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلَّا مَلَأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْتُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لَا يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الْأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بركتك . فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرَّسُلِ حَتَّى أَنَّ اللَّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللَّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللَّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةٌ فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ " .
নাওয়াস ইবনু সাম'আন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন সকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তাঁর কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি সকালে দাজ্জال সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জال বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবেনা। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মু'মিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা'আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির 'আবদুল 'উয্যা ইবনু কাতান-এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরাহ্ আল-কাহ্ ফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে।
আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সলাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাঁকিয়ে নিয়ে যায়।
সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফরির দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহবানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষন করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমের কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফ্রীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। অমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভান্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহ্বান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রব্বুল 'আলামীন 'ঈসা ইবনু মারইয়াম ('আঃ)-কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেস্তার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারাসূ ও জাফরান রং-এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেস্ক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তাঁর মাথা ঝুঁকাবেন তখন ফোঁটা ফোঁটা ঘাম তাঁর শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কাফিরের কাছে যাবেন সে তাঁর শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁর দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জالকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে 'বাবে লুদ' নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন।
অতঃপর 'ঈসা ('আঃ) ঐ সম্প্রাদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। 'ঈসা ('আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা'আলা 'ঈসা ('আঃ)-এর প্রতি এই মর্মে ওহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের অবির্ভাব ঘটিয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মু'মিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা'আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি “বুহাইরায়ে তাবারিয়া”র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি? তারা আল্লাহর নবি 'ঈসা ('আঃ) এবং তাঁর সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ' দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবি 'ঈসা ('আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীগণ আল্লহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ সম্প্রাদায়ের প্রতি 'আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
তারপর 'ঈসা ('আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যেথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর 'ঈসা (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মু'মিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মু'মিন মুসলিমদের রূহ্ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭১২৮。
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৬৩। হাদিসটি সামান্য পরিবর্তন সহকারে ইবনু হাজার বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসায়ী রাহিমাহুল্লাহ সামান্য পরিবর্তন সহকারে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
📄 দাজ্জাল সম্পর্কে বিক্ষিপ্ত বর্ণনা
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطائي، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - " سَيُوقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ قِي يَاْجُوجَ وَمَاْجُوجَ وَنُشَابِهِمْ وَأَتْرِسَيْهِمْ سَبْعَ سِنِينَ " .
নাওওয়াসইবনু সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মুসলমানগণ অচিরেই ইয়াজুজ ও মাজুজের তীর-ধনুক, বর্শাফলক এবং ঢালসমূহ সাত বছর ধরে জ্বালানী কাঠরূপে ভস্মীভূত করবে।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ أَبِي رافِعٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِي، يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِيلِي، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ الله - صلى الله عليه وسلم - فَكَانَ أَكْثَرُ خُطْبَتِهِ حَدِيثًا حَدَّثَنَاهُ عَنِ الدَّجَّالِ وَحَذَرْنَاهُ فَكَانَ مِنْ قَوْلِهِ أَنْ قَالَ " إِنَّهُ لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ مُنْذُ ذَرَأَ اللَّهُ ذُرِّيَّةَ آدَمَ أَعْظَمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا إِلَّا حَذَرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ وَأَنَا آخِرُ الأَنْبِيَاءِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الأُمَمِ وَهُوَ خَارِجُ فِيكُمْ لَا مَحَالَةَ وَإِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ فَأَنَا حَجِيجُ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنْ يَخْرُجُ مِنْ بَعْدِي فَكُلُّ امْرِئٍ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ خَلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَيَعِيثُ يَمِينًا وَيَعِيثُ شِمَالاً . يَا عِبَادَ اللَّهِ أَيُّهَا النَّاسُ فَاثْبُتُوا فَإِنِّي سَأَصِفُهُ لَكُمْ صِفَةٌ لَمْ يَصِفُهَا إِيَّاهُ نَبِيٌّ قَبْلِي إِنَّهُ يَبْدَأُ فَيَقُولُ أَنَا نَبِيٌّ وَلَا نَبِيَّ بَعْدِي ثُمَّ يُنَنِي فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ . وَلَا تَرَوْنَ رَبَّكُمْ حَتَّى تَمُوتُوا وَإِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّهُ مَكْتُوبُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرُ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ أَوْ غَيْرِ كَاتِبٍ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنَّ مَعَهُ جَنَّةً وَنَارًا فَنَارُهُ جَنَّةُ وَجَنَّتُهُ نَارُ فَمَنِ ابْتُلِيَ بِنَارِهِ فَلْيَسْتَغِثْ بِاللَّهِ وَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ الْكَهْفِ فَتَكُونَ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلَامًا كَمَا كَانَتِ النَّارُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَقُولَ لَأَعْرَابِي أَرَأَيْتَ إِنْ بَعَثْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأُمَّكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَبُّكَ فَيَقُولُ نَعَمْ . فَيَتَمَثَّلُ لَهُ شَيْطَانَانِ فِي صُورَةِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَقُولَانِ يَا بُنَيَّ اتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ رَبُّكَ ، وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَى نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَيَقْتُلَهَا وَيَنْشُرَهَا بِالْمِنْشَارِ حَتَّى يُلْقَى شِقَّتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا فَإِنِّي أَبْعَثُهُ الآنَ ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّ لَهُ رَبًّا غَيْرِي . فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ وَيَقُولُ لَهُ الْخَبِيثُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَأَنْتَ عَدُوٌّ اللَّهِ أَنْتَ الدَّجَّالُ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ بَعْدُ أَشَدَّ بَصِيرَةٌ بِكَ مِنِّي الْيَوْمَ " . قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ فَحَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّانِيُّ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - " ذَلِكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ " . قَالَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ إِلَّا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ . قَالَ الْمُحَارِبِيُّ ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى حَدِيثٍ أَبِي رَافِعٍ قَالَ " وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الْأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَقِّ فَيُكَذِّبُونَهُ فَلَا تَبْقَى لَهُمْ سَائِمَةٌ إِلَّا هَلَكَتْ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَيِّ فَيُصَدِّقُونَهُ فَيَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ نُطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الْأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ حَتَّى تَرُوحَ مَوَاشِيهِمْ مِنْ يَوْمِهِمْ ذَلِكَ أَسْمَنَ مَا كَانَتْ وَأَعْظَمَهُ وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ وَأَدَرَّهُ ضُرُوعًا وَإِنَّهُ لَا يَبْقَى شَيْءٍ مِنَ الْأَرْضِ إلا وَطِئَهُ وَظَهَرَ عَلَيْهِ إِلَّا مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لَا يَأْتِيهِمَا مِنْ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهِمَا إِلَّا لَقِيَتْهُ الْمَلائِكَةُ بِالسُّيُوفِ صَلْتَةٌ حَتَّى يَنْزِلَ عِنْدَ الظُّرَيْبِ الْأَحْمَرِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ السَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلَاثَ رَجَفَاتٍ فَلَا يَبْقَى مُنَافِقُ وَلَا مُنَافِقَةُ إِلَّا خَرَجَ إِلَيْهِ فَتَنْفِي الخَبَتَ مِنْهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَيُدْعَى ذَلِكَ الْيَوْمُ يَوْمَ الْخَلَاصِ " . فَقَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ بِنْتُ أَبِي الْعَكَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ " هُمْ يَوْمَئِذٍ قَلِيلٌ وَجُلُّهُمْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحُ فَبَيْنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ إِذْ نَزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ فَرَجَعَ ذَلِكَ الْإِمَامُ يَنْكُصُ يَمْشِي القَهْقَرَى لِيَتَقَدَّمَ عِيسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَيَضَعُ عِيسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ أُقِيمَتْ . فَيُصَلِّي بِهِمْ إِمَامُهُمْ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ افْتَحُوا الْبَابَ . فَيُفْتَحُ وَوَرَاءَهُ الدَّجَّالُ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ يَهُودِي كُلُّهُمْ ذُو سَيْف مُحَلَّى وَسَاجٍ فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهِ الدَّجَّالُ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ وَيَنْطَلِقُ هَارِبًا وَيَقُولُ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ إِنَّ لِي فِيكَ ضَرْبَةً لَنْ تَسْبِقَنِي بِهَا . فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ اللَّهِ الشَّرْقِي فَيَقْتُلُهُ فَيَهْزِمُ اللهُ الْيَهُودَ فَلَا يَبْقَى شَيْءٍ مِمَّا خَلَقَ اللَّهُ يَتَوَارَى بِهِ يَهُودِيُّ إِلَّا أَنْطَقَ اللَّهُ ذَلِكَ الشَّيْءَ لَا حَجَرَ وَلا شَجَرَ وَلَا حَائِطَ وَلَا دَابَّةَ - إِلَّا الْغَرْقَدَةَ فَإِنَّهَا مِنْ شَجَرِهِمْ لَا تَنْطِقُ - إِلَّا قَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ الْمُسْلِمَ هَذَا يَهُودِيُّ فَتَعَالَ اقْتُلْهُ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - " وَإِنَّ أَيَّامَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةٌ السَّنَةُ كَنِصْفِ السَّنَةِ وَالسَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَآخِرُ أَيَّامِهِ كَالشَّرَرَةِ يُصْبِحُ أَحَدُكُمْ عَلَى بَابِ الْمَدِينَةِ فَلَا يَبْلُغُ بَابَهَا الْآخَرَ حَتَّى يُمْسِي " . فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي فِي تِلْكَ الأَيَّامِ الْقِصَارِ قَالَ - تَقْدُرُونَ فِيهَا الصَّلَاةَ كَمَا تَقْدُرُونَهَا فِي هَذِهِ الأَيَّامِ الطَّوَالِ ثُمَّ صَلُّوا " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - " فَيَكُونُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي أُمَّتِي حَكَمًا عَدْلاً وَإِمَامًا مُقْسِطًا يَدْقُ الصَّلِيبَ وَيَذْبَحُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَتْرُكُ الصَّدَقَةَ فَلَا يُسْعَى عَلَى شَاةٍ وَلَا بَعِيرٍ وَتَذْهَبُ الشَّحْنَاءُ وَالتَّبَاغُضُ وَتُنْزَعُ حُمَةُ كُلِّ ذَاتِ حُمَةٍ حَتَّى يُدْخِلَ الْوَلِيدُ يَدَهُ فِي فِي الْحَيَّةِ فَلَا تَضُرُّهُ وَتَفِرُّ الْوَلِيدَةُ الأَسَدَ فَلَا يَضُرُّهَا وَيَكُونُ الذِّئْبُ فِي الْغَنَمِ كَأَنَّهُ كَلْبُهَا وَتُمْلَأُ الْأَرْضُ مِنَ السَّلْمِ كَمَا يُمْلأُ الإِنَاءُ مِنَ الْمَاءِ وَتَكُونُ الْكَلِمَةُ وَاحِدَةً فَلَا يُعْبَدُ إِلَّا اللَّهُ وَتَضَعُ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا وَتُسْلَبُ قُرَيْشُ مُلْكَهَا وَتَكُونُ الْأَرْضُ كَفَانُورِ الْفِضَّةِ تُنْبِتُ نَبَاتَهَا بِعَهْدِ آدَمَ حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الْقِطْفِ مِنَ الْعِنَبِ فَيُشْبِعَهُمْ وَيَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعَهُمْ وَيَكُونُ الثَّوْرُ بِكَذَا وَكَذَا مِنَ الْمَالِ وَتَكُونُ الْفَرَسُ بِالدُّرَيْهِمَاتِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُرْخِصُ الْفَرَسَ قَالَ " لَا تُرْكَبُ لِحَرْبِ أَبَدًا " . قِيلَ لَهُ فَمَا يُغْلِي النَّوْرَ قَالَ " تُحْرَثُ الْأَرْضُ كُلُّهَا وَإِنَّ قَبْلَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ ثَلَاثَ سَنَوَاتٍ شِدَادٍ يُصِيبُ النَّاسَ فِيهَا جُوعٌ شَدِيدٌ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الأُولَى أَنْ تَحْبِسَ ثُلُثَ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الْأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ فَتَحْبِسُ ثُلْقَى مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الْأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلْقَيْ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّالِثَةِ فَتَحْبِسُ مَطَرَهَا كُلَّهُ فَلَا تَقْطُرُ قَطْرَةٌ وَيَأْمُرُ الْأَرْضَ فَتَحْبِسُ نَبَاتَهَا كُلَّهُ فَلَا تُنْبِتُ خَضْرَاءَ فَلَا تَبْقَى ذَاتُ ظِلْفٍ إِلَّا هَلَكَتْ إِلَّا مَا شَاءَ اللهُ " . قِيلَ فَمَا يُعِيشُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ قَالَ " التَّهْلِيلُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَيُجْرَى ذَلِكَ عَلَيْهِمْ تَجْرَى الطَّعَامِ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيَّ يَقُولُ يَنْبَغِي أَنْ يُدْفَعَ هَذَا الْحَدِيثُ إِلَى الْمُؤَدِّبِ حَتَّى يُعَلِّمَهُ الصِّبْيَانَ فِي الْكِتَابِ .
আবু উমামাহ আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। আমাদের উদ্দেশে দেয়া তাঁর দীর্ঘ ভাষণের অধিকাংশ ছিলো দাজ্জাল প্রসঙ্গে। তিনি আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন। তার সম্পর্কে তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, আল্লাহ আদমের বংশধর সৃষ্টি করার পর থেকে দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে মারাত্মক কোনো ফিতনা পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে না। আল্লাহ এমন কোন নবি পাঠাননি যিনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। আর আমি সর্বশেষ নবি এবং তোমরা সর্বশেষ উম্মত। সে অবশ্যই তোমাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করবে। আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান থাকতে যদি সে আবির্ভূত হয়, তবে আমিই প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হবো। আর যদি সে আমার পরে আবির্ভূত হয় তবে প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হতে হবে। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আমার প্রতিনিধি।
নিশ্চয় সে সিরিয়া ও ইরাকের 'খাল্লা' নামক স্থান থেকে বের হবে। অতঃপর সে তার ডানে ও বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা (দ্বীনের উপর) অবিচল থাকবে। কেননা আমি এখনই তোমাদের নিকট এমন সব নিকৃষ্ট অবস্থা বর্ণনা করবো যা আমার পূর্বে, বিশেষভাবে কোন নবিই তাঁর উম্মাতের নিকট বলেননি।
সে তার দাবির সূচনায় বলবে, আমি নবি। অথচ আমার পরে কোন নবি নাই। অতঃপর সে দাবি করবে, আমি তোমাদের রব। অথচ মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে না। সে হবে অন্ধ। অথচ তোমাদের রব মোটেই অন্ধ নন। তার দু'চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে "কাফের”। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই এ লেখাটি পড়তে সক্ষম হবে।
দাজ্জালের অনাসৃষ্টির মধ্যে একটি এই যে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তবে তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং তার জান্নাত হবে জাহান্নাম। যে ব্যক্তি তার জাহান্নামের বিপদে পতিত হবে, সে যেন আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সূরা কাহ্ফ্ফ-এর প্রথমাংশ তিলাওয়াত করে। তাহলে সেই জাহান্নাম হবে তার জন্য শীতল আরামদায়ক, ইবরাহীম (আঃ)এর বেলায় আগুন যেরূপ হয়েছিল।
দাজ্জালের আরেকটি অনাসৃষ্টি এই যে, সে এক বেদুঈনকে বলবে, আমি যদি তোমার পিতা-মাতাকে তোমার সামনে জীবিত করে তুলতে পারি তবে তুমি কি এই সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আমি তোমার রব? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন (দাজ্জালের নির্দেশে) দু'টি শয়তান তার পিতা-মাতার অবয়ব ধারণ করে হাযির হবে এবং বলবে, হে বৎস! তার আনুগত্য করো। সে-ই তোমার রব।
দাজ্জালের আরেকটি অনাসৃষ্টি এই যে, সে জনৈক ব্যক্তিকে পরাভূত করে হত্যা করবে। অতঃপর করাত দ্বারা তাকে ফেড়ে দু'টুকরা করে ছুড়ে মারবে। অতঃপর সে বলবে, তোমরা আমার এ বান্দার দিকে লক্ষ্য করো, আমি একে এখনই জীবিত করবো। তারপরও কেউ বলবে কি যে, আমি ব্যতীত তার অন্য কেউ রব আছে? এরপর আল্লাহ তাআলা সে লোকটিকে জীবিত করবেন। তখন (দাজ্জال) খবীস তাকে বলবে, তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। আর তুই তো আল্লাহর দুশমন। তুই তো দাজ্জال। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোর সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে পারছি (যে, তুই-ই দাজ্জال)।
আবুল হাসান আত-তানাফিসী (আবদুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ) আল- মুহারিবী উবায়দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আস সওওয়াফ (দঈফ বা দুর্বল) আতিয়্যাহ (বিন সা'দ) (তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন)
আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আমার উম্মাতের মধ্যে জান্নাতেই সে ব্যক্তির সর্বাধিক মর্যাদা হবে। রাবী বলেন, আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা ধারণা করতাম যে, এ ব্যক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব, এমনকি তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
মুহারিবী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর আমরা আবু রাফে রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে আসমানকে বৃষ্টিবর্ষাতে নির্দেশ দিলে বৃষ্টি হবে এবং যমীনকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দিলে ফসল উৎপাদিত হবে।
দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে একটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে, ফলে তাদের গবাদি পশু সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে।
দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে আরেকটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিলে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অতঃপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিলে যমীন শস্য উৎপাদন করবে। যমীন পর্যাপ্ত ফসলাদি, ঘাসপাতা ও তৃণলতা উদগত করবে, এমনকি তাদের গবাদি পশু সেদিন সন্ধ্যায় মোটাতাজা ও উদর পূর্তি করে দুধে স্তন ফুলিয়ে ফিরে আসবে।
অবস্থা এই হবে যে, সে গোটা দুনিয়া চষে বেড়াবে এবং তা তার পদানত হবে, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত। এই দু'শহরের প্রবেশদ্বারে উন্মুক্ত তরবারিাসূহ সশস্ত্র অবস্থায় ফেরেশতা মোতায়েন থাকবেন। শেষে সে একটি ক্ষুদ্র লাল পাহাড়ের পাদদেশে অবতরণ করবে যা হবে তৃণলতা শূন্য স্থানের শেষভাগ।
এরপর মদিনা তার অধিবাসীসহ তিনবার প্রকম্পিত হবে। ফলে মুনাফিক নারী- পুরুষ মদিনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সাথে যোগ দিবে। এভাবে মদিনা তার ভেতরকার নিকৃষ্ট ময়লা বিদূরিত করবে, যেমনিভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে। সে দিনের নাম হবে "নাজাত দিন"।
আবুল আকর এর কন্যা উম্ম শুরাইক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আরবের লোকেরা তৎকালে কোথায় থাকবে? তিনি বলেনঃ তৎকালে তাদের সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য। তাদের অধিকাংশ (ঈমানদার) বান্দা তখন বাইতুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করবে। তাদের ইমাম হবেন একজন নিষ্ঠাবান সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি।
এমতাবস্থায় একদিন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে ফজরের নামায পড়বেন। ঈসাইবনু মরিয়ম (আঃ) সেই সকালবেলা অবতরণ করবেন। তখন ইমাম পেছন দিকে সরে আসবেন যাতে ঈসাইবনু মরিয়ম (আঃ) সামনে অগ্রসর হয়ে লোকেদের নামাযে ইমামতি করতে পারেন। ঈসা (আঃ) তাঁর হাত ইমামের দু' কাঁধের উপর রেখে বলবেনঃ আপনি অগ্রবর্তী হয়ে নামাযে ইমামতি করুন। কেননা এই নামায আপনার জন্যই কায়েম (শুরু) হয়েছে। অতএব তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে নামায পড়বেন।
তিনি নামায থেকে অবসর হলে ঈসা (আঃ) বলবেন, দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে এবং দরজার পেছনে দাজ্জال অবস্থানরত থাকবে। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহূদী কারুকার্য খচিত ও খাপবদ্ধ তরবারিাসূহ। দাজ্জাল ঈসা (আঃ)-কে দেখামাত্র পানিতে লবণ বিগলিত হওয়ার ন্যায় বিগলিত হতে থাকবে এবং ভেগে পলায়ন করতে থাকবে। তখন ঈসা (আঃ) বলবেনঃ তোর উপর আমার একটা আঘাত আছে, যা থেকে তোর বাঁচার কোন উপায় নাই। তিনি লুদ্দু এর পূর্ব ফটকে তার নাগাল পেয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইহুদীদের পরাজিত করবেন। আল্লাহর সৃষ্টি যে কোন বস্তু পাথর, গাছপালা, দেয়াল অথবা প্রাণী, যার আড়ালেই কোন ইহূদী লুকিয়ে থাকবে, আল্লাহ তাকে বাকশক্তি দান করবেন এবং সে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর মুসলমান বান্দা! এই যে এক ইহূদী, এদিকে এসো এবং তাকে হত্যা করো। তবে গারকাদ নামক গাছ কথা বলবে না। কারণ সেটা ইহুদীদের গাছ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দাজ্জাল চল্লিশ বছর বিপর্যয় ছড়াবে। তার এক বছর হবে অর্ধ বছরের সমান, এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস এক সপ্তাহের সমান এবং অবশিষ্ট কাল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বায়ুমণ্ডলে উড়ে যাওয়ার মত দ্রুত অতিক্রান্ত হবে। তোমাদের কেউ সকালবেলা মদিনার এক ফটকে (প্রান্তে) থাকলে তার অপর ফটকে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এতো ক্ষুদ্র দিনে আমরা কিভাবে নামায পড়বো? তিনি বলেনঃ তোমরা অনুমান করে সলাতের সময় নির্ধারণ করবে, যেমন তোমরা লম্বা দিনে অনুমান করে সলাতের সময় নির্ধারণ করে থাক এবং এভাবে নামায আদায় করবে।
বাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ঈসা ইবনু মরিয়ম (আঃ) আমার উত্তরের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনসাফগার ইমাম হবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, এমনভাবে শূকর হত্যা করবেন যে, তার একটিও অবশিষ্ট থাকবে না। সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে তিনি জিযয়া মওকুফ করবেন, যাকাত আদায় বন্ধ করবেন এবং না বকরীর উপর যাকাত ধার্য করা হবে, আর না উটের উপর।
লোকেদের মাঝে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান হবে। প্রত্যেক বিষাক্ত প্রাণী বিষশূন্য হয়ে যাবে। এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশু তার হাত সাপের মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিবে কিন্তু তা তার কোন ক্ষতি করবে না। এক ক্ষুদ্র মানব শিশু সিংহকে তাড়া করবে, তাও তার কোন ক্ষতি করবে না। নেকড়ে বাঘ মেষ পালের সাথে এমনভাবে অবস্হান করবে যেন তা তার পাহারায় রত কুকুর। পানিতে পাত্র পরিপূর্ণ হওয়ার মত পৃথিবী শান্তিতে পূর্ণ হয়ে যাবে। সকলের কলেমা এক হয়ে যাবে। আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ তার সাজ সরঞ্জাম রেখে দিবে। কুরাইশদের রাজত্বের অবসান হবে। পৃথিবী রুপার পাত্রের ন্যায় স্বচ্ছ হয়ে যাবে। তাতে এমন সব ফলমূল উৎপন্ন হবে যেমনটি আদম (আঃ)-এর যুগে উৎপাদিত হতো। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আঙুরের থোকার মধ্যে একত্র হতে পারবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। অনেক লোক একটি ডালিমের জন্য একত্র হবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। তাদের বলদ গরু হবে এই এই (উচ্চ) মূল্যের এবং ঘোড়া স্বল্পমূল্যে বিক্রয় হবে। লোকজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়া সস্তা হবে কেন? তিনি বলেনঃ কারণ যুদ্ধের জন্য কখনো কেউ অশ্বারোহী হবে না। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, গরু অতি মূল্যবান হবে কেন? তিনি বলেন: সারা পৃথিবীতে কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হবে।
দাজ্জালের আবির্ভাবের তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে, তখন মানুষ চরমভাবে অন্নকষ্ট ভোগ করবে। প্রথম বছর আল্লাহ তাআলা আসমানকে তিন ভাগের এক ভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নির্দেশ দিবেন এবং যমীনকে নির্দেশ দিলে তা এক তৃতীয়াংশ ফসল কম উৎপাদন করবে। এরপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নির্দেশ দিলে, তা দু'তৃতীয়াংশ কম বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং যমীনকে হুকুম দিলে তাও দু'তৃতীয়াংশ কম ফসল উৎপন্ন করবে। এরপর আল্লাহ তাআলা আকাশকে তৃতীয় বছরে একই নির্দেশ দিলে তা সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে এক ফোঁটা বৃষ্টিও বর্ষিত হবে না। আর তিনি যমীনকে নির্দেশ দিলে তা শস্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে। ফলে যমীনে কোন ঘাস জন্মাবে না, কোন সবজি অবশিষ্ট থাকবে না, বরং তা ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যা চাইবেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, এ সময় লোকেরা কিরূপে বেঁচে থাকবে? তিনি বলেনঃ যারা তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলতে থাকবে এগুলো তাদের খাদ্যনালিতে প্রবাহিত করা হবে।
কিছু বিস্ময়কর কথা যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে সম্মন্ধন করা হয়েছে।
আবু আবদুল্লাহ ইবনু মাজাহ বলেন- আমি আবুল হাসান আত-তানাফিসী থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি আবদুর রহমান আল-মুহারিবী-কে বলতে শুনেছি যে, এই হাদিসখানি মকতবের উস্তাদগণের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে তারা বাচ্চাদের এটা শিক্ষা দিতে পারেন।
حَدَّثَنِي عَمْرُو النَّاقِدُ، وَالْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةُ وَالسَّيَاقُ لِعَبْدٍ - قَالَ حَدَّثَنِي وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا حَدِيثًا طَوِيلاً عَنِ الدَّجَّالِ فَكَانَ فِيمَا حَدَّثَنَا قَالَ " يَأْتِي وَهُوَ مُحَرَّمُ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ الْمَدِينَةِ فَيَنْتَهِي إِلَى بَعْضِ الصِّبَاحُ الَّتِي تَلِي الْمَدِينَةَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ هُوَ خَيْرُ النَّاسِ - أَوْ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ - فَيَقُولُ لَهُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ الَّذِي حَدَّثَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثَهُ فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَرَأَيْتُمْ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ أَتَشُكُونَ فِي الأَمْرِ فَيَقُولُونَ لا . قَالَ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يُحْيِيهِ فَيَقُولُ حِينَ يُحْيِيهِ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ فِيكَ قَط أَشَدَّ بَصِيرَةٌ مِنِّي الآنَ - قَالَ - فَيُرِيدُ الدَّجَّالُ أَنْ يَقْتُلَهُ فَلَا يُسَلَّطُ عَلَيْهِ " . قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ يُقَالُ إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ هُوَ الْخَضِرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ .
আবু সা'ঈদ আল খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এক লম্বা বর্ণনা দিলেন। দাজ্জালের বিষয়ে তিনি এ-ও বললেন যে, দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, কিন্তু মদিনার পথে ঘাটে প্রবেশ করা তার জন্য নিষিদ্ধ ও হারাম হবে। অতঃপর মদিনার নিকটবর্তী কোন এক রাস্তায় পৌঁছলে ঐ দিনই মদিনাহ্ হতে এক লোক তার নিকট যাবে, যে ব্যক্তি সে সময়কার শ্রেষ্ঠ মানব হবে। সে এসে তাকে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুই সে দাজ্জাল, যার কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শুনিয়েছিলেন। দাজ্জال বলবে, হে লোক সকল! যদি আমি এ লোককে হত্যা করার পর পুনরায় জীবিত করি তবে তোমাদের মনে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকবে কি? লোকেরা বলবে, না। অতঃপর সে তাকে হত্যা করবে; তারপর জীবন দান করবে; জীবন দান করার পর সে লোক বলবে, আল্লাহর শপথ! এখন তো তোমার ব্যাপারে আমার জ্ঞান আরো বেড়ে গেছে, যা ইতোপূর্বে কখনো ছিল না। দাজ্জাল আবারো তাকে হত্যা করতে মনস্থ হবে। কিন্তু আর হত্যা করতে সক্ষম হবে না।
আবু ইসহাক বলেন—কথিত আছে যে, উক্ত ব্যক্তি (যাকে দাজ্জাল হত্যা করবে) খিযির ('আঃ)।
টিকাঃ
[২] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৭৬। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস。
[১] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৭৭। হাদিসের মান: দুর্বল হাদিস。
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৬৫。
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُهْزَاذَ مِنْ أَهْلِ مَرْوَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَتَوَجَّهُ قِبَلَهُ رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَتَلْقَاهُ الْمَسَالِحُ مَسَالِحُ الدَّجَّالِ فَيَقُولُونَ لَهُ أَيْنَ تَعْمِدُ فَيَقُولُ أَعْمِدُ إِلَى هَذَا الَّذِي خَرَجَ - قَالَ - فَيَقُولُونَ لَهُ أَوَمَا تُؤْمِنُ بِرَبِّنَا فَيَقُولُ مَا بِرَبِّنَا خَفَاءٌ . فَيَقُولُونَ اقْتُلُوهُ. فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ أَلَيْسَ قَدْ نَهَاكُمْ رَبُّكُمْ أَنْ تَقْتُلُوا أَحَدًا دُونَهُ - قَالَ - فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى الدَّجَّالِ فَإِذَا رَآهُ الْمُؤْمِنُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَذَا الدَّجَّالُ الَّذِي ذَكَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَيَأْمُرُ الدَّجَّالُ بِهِ فَيُشَبِّحُ فَيَقُولُ خُذُوهُ وَشُجُّوهُ . فَيُوسَعُ ظَهْرُهُ وَبَطْنُهُ ضَرْبًا - قَالَ - فَيَقُولُ أَوَمَا تُؤْمِنُ بِي قَالَ فَيَقُولُ أَنْتَ الْمَسِيحُ الْكَذَّابُ - قَالَ - فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُؤْشَرُ بِالْمِنْشَارِ مِنْ مَفْرِقِهِ حَتَّى يُفَرَّقَ بَيْنَ رِجْلَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ يَمْشِي الدَّجَّالُ بَيْنَ الْقِطْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ قُمْ . فَيَسْتَوِي قَائِمًا - قَالَ - ثُمَّ يَقُولُ لَهُ أَتُؤْمِنُ بِي فَيَقُولُ مَا ازْدَدْتُ فِيكَ إِلَّا بَصِيرَةٌ - قَالَ - ثُمَّ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَا يَفْعَلُ بَعْدِي بِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ - قَالَ - فَيَأْخُذُهُ الدَّجَّالُ لِيَذْبَحَهُ فَيُجْعَلَ مَا بَيْنَ رَقَبَتِهِ إِلَى تَرْقُوَتِهِ نُحَاسًا فَلا يَسْتَطِيعُ إِلَيْهِ سَبِيلاً - قَالَ - فَيَأْخُذُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فَيَحْسِبُ النَّاسُ أَنَّمَا قَذَفَهُ إِلَى النَّارِ وَإِنَّمَا أُلْقِيَ فِي الْجَنَّةِ " . فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم " هَذَا أَعْظَمُ النَّاسِ شَهَadَةً عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ " .
আবু সাঈদ আল খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর কোন এক মুসলিম লোক তার দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর পথে অস্ত্রধারী দাজ্জাল বাহিনীর সঙ্গে তার দেখা হবে। তারা তাকে প্রশ্ন করবে, কোথায় যাবে? সে বলবে, আবির্ভূত দাজ্জালের কাছে যাব। তারা তাকে আবারো প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আননি? সে বলবে, আমাদের প্রতিপালক গুপ্ত নন। দাজ্জালের লোকেরা তাকে লক্ষ্য করে বলবে, তোমরা তাকে হত্যা করে দাও। তখন তারা একে অপরকে বলবে, আমাদের রব কাউকে তার সামনে নেয়া ব্যতিরেকে হত্যা করতে কি তোমাদের বারণ করেননি? তারপর তারা তাকে নিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে। দাজ্জালকে দেখামাত্রই সে বলবে, হে লোক সকল! এ-তো সেই দাজ্জাল, যার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বর্ণনা দিয়েছেন। তারপর দাজ্জাল তার লোকদেরকে আগন্তুক লোকের মাথা ছিন্ন-ভিন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলবে, তাকে ধর এবং তার মাথা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দাও। তারপর তার পেট ও পিঠে আঘাত করা হবে। আবার দাজ্জال তাকে প্রশ্ন করবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে না। সে বলবে, তুমি তো মাসীহ্ দাজ্জাল। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর দাজ্জাল তার ব্যাপারে নির্দেশ দিবে।
দাজ্জালের হুকুমে মাথা হতে পা পর্যন্ত তাকে করাতে চিরে দু'টুকরো করে দেয়া হবে। তারপর দাজ্জাল উভয় টুকরার মধ্যস্থলে দন্ডায়মান হয়ে তাকে সম্বোধন করে বলবে, উঠো। সে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনবে না? অতঃপর আগন্তুক ব্যক্তি বলবে, তোমার সম্পর্কে কেবল আমার মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা বেড়েই চলবে। তারপর আগন্তুক লোক বলবে, হে লোক সকল! আমার পর দাজ্জাল আর কারো সংঙ্গে এমন আচরণ করতে সক্ষম হবে না। এরপর যবাহ্ করার জন্য দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করবে। কিন্তু তার গলা ও ঘাড় তামায় রূপান্তর করা হবে। ফলে দাজ্জال তাকে যবাহ্ করতে সক্ষম হবে না। উপায়ান্তর না দেখে দাজ্জال তখন তার হাত-পা ধরে তাকে নিক্ষেপ করবে। লোকেরা মনে করবে, দাজ্জال তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। বস্তুত: সে জান্নাতে নিক্ষিপ্ত হবে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীনের কাছে এ লোকই হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় শাহাদাতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالَا حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَاحِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ، قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدَّجَّالُ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضِ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ يَتْبَعُهُ أَقْوَامٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ.
আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন: প্রাচ্যের 'খোরাসান' হতে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। এমন কতক জাতি তার অনুসরণ করবে, যাদের মুখমন্ডল হবে স্তর বিশিষ্ট চওড়া ঢালের মতো।
قال أحمد: حدثنا أبو النضر، حدثنا الأشجعي، عن سفيان، عن جابر بن عبد الله بن عبد الله بن يحيى، عن علي، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ذكرنا الدجال عند النبي صلى الله عليه وسلم وهو نائم فاستيقظ محمر اللون فقال: "غير ذلك أخوف لي عليكم". وذكر كلمة. تفرد به أحمد.
আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমন্ত তখন আমরা দাজ্জালকে নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি ঘুম থেকে উঠে গেলেন। তার চেহারা ছিল তখন রক্তিম বর্ণের। তিনি বললেন, অন্য কোন বিষয়ে আমি তোমার জন্য ভয় করি। অতপর ভিন্ন প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। আহমদ হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে অনন্য।
قال أحمد: حدثنا يزيد بن هارون، أخبرنا محمد بن إسحاق، عن داود بن عامر، عن سعد، عن مالك، عن أبيه أن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّهُ لم يكن نبي إلا وصف الدجال لأمَّتِهِ ولأصفَنَّهُ صِفَةٌ لم يَصِفُهَا أَحدٌ كَانَ قَبْلِي، إِنَّهُ أعورُ واللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ليس بأعور.
সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন-এমন কোন নবি ছিলেন না, যিনি তাঁর জাতির কাছে বর্ণনা দাজ্জال সম্পর্কে অবহিত করেননি। আমি তোমাদের সামনে তার এমন একটি এমন ত্রুটি বর্ণনা করছি যা আমার আগে কেউ বর্ণনা করেনি, সে হবে কানা কিন্তু তোমাদের রব আল্লাহ কানা নয়।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَنَّاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُرَاقَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ بَعْدَ نُوحٍ إِلَّا قَدْ أَنْذَرَ الدَّجَّالَ قَوْمَهُ وَإِنِّي أُنْذِرُكُمُوهُ " . فَوَصَفَهُ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَعَلَّهُ سَيُدْرِكُهُ بَعْضُ مَنْ رَآنِي أَوْ سَيَسْمَعُ كَلَامِي " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ قُلُوبُنَا يَوْمَئِذٍ قَالَ " مِثْلُهَا يَعْنِي الْيَوْمَ أَوْ خَيْرٌ"
আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: তিনি বলেন-নূহ্ (আঃ)-এর পর হতে এমন কোন নবি আসেননি যিনি দাজ্জাল প্রসঙ্গে তাঁর জাতিকে সতর্ক করেননি। আর আমিও তোমাদেরকে তার (দাজ্জال) প্রসঙ্গে সতর্ক করে দিচ্ছি। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে দাজ্জালের পরিচয় বর্ণনা করলেন তারপর তিনি বললেন, যারা আমাকে দেখেছ বা আমার কথা শুনেছ তাদের কেউ হয়ত তার সাক্ষাত পাবে। উপস্থিত জনতা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! সে সময় আমাদের অন্তরের অবস্থা কেমন হবে? তিনি বললেন: বর্তমানে যে রকম আছে সেই রকম বা তার চেয়েও ভাল হবে।
روى أحمد عن غندر وروح وسليمان بن داود ووهب بن جرير كلهم عن شعبة عن حبيب بن الزبير، سمعت عبد الله بن أبي الهذيل، سمع عبد الرحمن بن ابزی، আবদুল্লাহ বিন খাব্বাব, তিনি আবি বিন কাব (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, তার একটি চোখ যেন কাঁচের মত হবে। আর তোমরা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও। আহমাদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
উবাই ইবনু কাআব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একবার দাজ্জাল নিয়ে আলোচনা উঠলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—তার একটি চোখ কাচের মত। তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে আহমদ অনন্য।
সা’দ বিন হাফস (রহঃ) শায়বান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জাল আসবে এবং মদীনার এক পার্শ্বে অবতরণ করবে। তখন মদীনা তিনবার কেঁপে উঠবে। তখন সকল কাফির ও মুনাফিক বের হয়ে তার নিকট চলে আসবে।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জাল আসবে। অবশেষে মদিনার এক পার্শ্বে অবতরণ করবে। (এ সময় মদিনা) তিনবার কেঁপে উঠবে। তখন সকল কাফির ও মুনাফিক বের হয়ে তার নিকট চলে আসবে।
কালা আহমাদ: হাদ্দাসানা ইয়াহইয়া, আন হুমাইদ আন আনাস আনিন নাবিয়্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালা: “ইন্নাদ দাজ্জালা আওয়ারুল আইনুশ শিমালু আলাইহা জুলফাতুন গালিজাতুন মাকতুবুন বাইনা আইনাইহি কাফারাও কাফির।”
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। দাজ্জালের চক্ষু লেপা হবে এবং তার চোখের উপর নখের মতো পুরু চামড়া থাকবে এবং উভয় চোখের মাঝখানে পৃথক-পৃথকভাবে (كفر أو كافر) কুফুরকারী, কাফের লেখা থাকবে।
قال أحمد: حدثنا محمد بن مصعب، حدثنا الأوزاعي، عن ربيعة، عن أبي عبد الرحمن، عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يخرج الدجال من يهودية أصبهان معه سبعون ألفاً من اليهود عليهم التيجان"،
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জাল আসপাহানের ইহুদিদের মধ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করবে। তাঁর সাথে সত্তর হাজার ইহুদী থাকবে। তাদের মাথায় মুকুট থাকবে।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৬৭。
[১] মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১/৪। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস。
[২] মুসনাদে আহমাদ, ১/৯৭। হাদিসটি যইফ。
[১] মুসনাদে আহমাদ, ১/পৃ.১৭৬,১৮২। আহমাদ শাকের রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন。
[২] আবু ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু বুসর, আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস আল-জুযাঈ আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল, ও আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস হিসাবে এটি হাসান গরিব। [সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২২৩৪। হাদিসের মান: দুর্বল হাদিস।।
[১] মুসনাদে আহমাদ, ৫/পৃ.১২৩,১২৪。
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭১২৪। সহিহ মুসলিম, ২/১২৩। মুসনাদে আহমাদ, ৩/১৯১。
[৩] মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৩/২০১। হাদিসটি ছুলাসিয়্যাত এর অন্তর্ভুক্ত। এটি বুখারি ও মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ এর শর্তনাযায়ী。
[১] মুসনাদে আহমাদ, ৩/২০৬,২১১.২২৯,২৪৯,২৭৬। সহিহ মুসলিম, ৪/১০৩。