📄 একটি ভবিষ্যদ্বাণী : কতক মুসলিম লোকদের জাহান্নামের দিকে ডাকবে
قال الحافظ أبو يعلى، حدثنا واصل بن عبد الأعلى، حدثنا ابن فضيل، عن ليث، عن سعيد بن عامر، عن ابن عمر قال: سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: "إن في أمتي لنيفاً وسبعين داعياً كلهم داع إلى النار لوأشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم ". وهذا إسناد لا بأس به.
আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: তিনি বলেছেন—আমার উম্মতের মধ্যে সত্তরজন আহবানকারী রয়েছে। তারা সকলেই লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে ডাকবে। যদি চাই তাহলে তাদের নাম ও গোত্রের পরিচয় তোমাদের কাছে বর্ণনা করতে পারি।
حدثنا أبو كريبط، حدثنا محمد بن الحسن الأسدي، حدثنا هارون بن صالح الهمداني، عن الحرص بن عبد الرحمن، عن أبي الجلاس قال: سمعت علياً يقول لعبد الله بن سبأ، ويلك ، ولقد سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول: "إن بين يدي الساعة ثلاثين كذاباً " وإنك لأحدهم.
আবু আল-জালাস রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আলিকে বলতে শুনেছি তিনি আবদুল্লাহ ইবনু সাবাকে বললেন, তোমর ধ্বংস হোক। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের আগে ত্রিশ বা তারও বেশি মিথ্যাবাদী প্রকাশ পাবে এবং আপনি তাদের মধ্যে একজন।
وقال أبو يعلى: حدثنا زهرة، حدثنا جرير، عن ليث، عن بشر، عن أنس قال: قال رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يكون قبل الدجال نيف وسبعون دجالاً ."
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের আগে সত্তর বা তারও বেশি মিথ্যাবাদী প্রকাশ পাবে।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قَدَامَةَ الْجُمَعِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي الْفُرَاتِ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ سَنَوَاتٌ خَدَّاعَاتُ يُصَدِّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ وَيُكَذِّبُ فِيهَا الصَّادِقُ وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ قَالَ الرَّجُلُ التَّافِهُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ " .
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই লোকেদের উপর প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির যুগ আসবে। তখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী গন্য করা হবে, আমানতের খিয়ানতকারীকে আমানতদার আমানতদারকে খিয়ানতকারী গন্য করা হবে এবং রুওয়াইবিয়া হবে বক্তা। জিজ্ঞাসা করা হলো, রুওয়াইবিয়া কী? তিনি বলেন, নীচ প্রকৃতির লোক সে জনগনের হর্তাকর্তা হবে।
টিকাঃ
[১] মজমাউয যাওয়ায়েদ, ৭/পৃ.২৫৯। সনদে এ ছাড়া সকলেই ছিকাহ।।
১২। হাদিসটি গরিব。
[১] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৩৬। মুসনাদে আহমাদ, ৩/পৃ.২২০। হাদিসের মানঃ আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন。
📄 দাজ্জাল সম্পর্কিত আহাদিস সমূহের পর্যালোচনা ইবনু সাইয়্যাদ সম্পর্কিত বর্ণিত কিছু আছার
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ التَّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ، وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ انْطَلَقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَهْطٍ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ حَتَّى وَجَدَهُ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ عِنْدَ أُطْمِ بَنِي مَغَالَةً وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادٍ يَوْمَئِذٍ الْحُلُمَ فَلَمْ يَشْعُرُ حَتَّى ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِابْنِ صَيَّادٍ " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ". فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ . فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرُسُلِهِ " . ثُمَّ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاذَا تَرَى إِنَّ ابْنَ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " غلظ عَلَيْكَ الأَمْرُ . . ثُمَّ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيْنًا ، فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ " هُوَ الدُّخُ " . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . اخْسَاْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ " . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ذَرْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَهُ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلا خَيْرٌ لَكَ فِي قَتْلِهِ "
আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদিন 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু একদল মানুষসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ইবনু সাইয়্যাদের কাছে গেলেন। তাকে বানী মাগালার বিল্লার কাছে একদল বালকের সাথে ক্রিড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবনু সাইয়্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হবার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন টের পাওয়ার আগেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত দ্বারা তার পিঠে আঘাত করে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল? এ কথা শুনে ইবনু সাইয়্যাদ তাঁর প্রতি তাকাল এবং বলল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের) রাসূল। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন প্রত্যুত্তর দেননি। অধিকন্তু তিনি বললেন, আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলদের প্রতি। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট একজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী লোক আসে। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে লুক্কায়িত রেখেছি। শুনামাত্রই ইবনু সাইয়্যাদ বলল, তা হচ্ছে )هُوَ الدُّخُ( (ধোঁয়া)। তৎপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দূর হয়ে যা। তুই তোর সীমানা অতিক্রম করতে পারবি না। তারপর 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবিজি বললেন—যদি সে প্রকৃতপক্ষেই দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করাতে কোন কল্যাণ নেই।
قَالَ سَالِمُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ إِنِّي لَأُنْذِرُكُمُوهُ مَا مِنْ نَبِي إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَهُ قَوْمَهُ لَقَدْ أَنْذَرَهُ نُوحٌ قَوْمَهُ وَلَكِنْ أَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلاً لَمْ يَقْلُهُ فِي لِقَوْمِهِ تَعَلَّمُوا أَنَّهُ أَعْوَرُ وَأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ " .
সালিম রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উদ্দেশে একটি বক্তৃতা দিলেন। তাতে তিনি আল্লাহ তা'আলার যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান করে দাজ্জালের কথা বর্ণনা করে বললেন, আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনার ব্যাপারে সাবধান করছি, যেমন প্রত্যেক নবি তাঁর সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন, এমনকি নূহ ('আঃ)-ও তাঁর সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সাবধান করেছেন। তবে এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি, যা কোন নবি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি। তা হলো এই যে, তোমরা জেনে রাখো, দাজ্জাল কানা হবে। আল্লাহ তা'আলা কানা নন।
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَأَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ ثَابِتِ الأَنْصَارِيُّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَ حَذَرَ النَّاسَ الدَّجَّالَ " إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرُ يَقْرَؤُهُ مَنْ كَرِهَ عَمَلَهُ أَوْ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ .. وَقَالَ " تَعَلَّمُوا أَنَّهُ لَنْ يَرَى أَحَدٌ مِنْكُمْ رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَمُوتَ "
ইবনু শিহাব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে 'উমার ইবনু সাবিত আল আনসারী জানিয়েছেন, জনৈক সহাবা আমাকে অবহিত করেছেন যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করেছেন সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন, তার চক্ষুদ্বয়ের মধ্যস্থলে 'কাফির' লেখা থাকবে। যে ব্যক্তি তার কার্যক্রম পছন্দ করবে না সে তা পাঠ করতে পারবে কিংবা প্রত্যক মু'মিন মাত্রই তা পাঠ করতে সক্ষম হবে। তিনি এ-ও বলেছেন যে, তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের কোন লোক মৃত্যুর আগে তার রবকে কক্ষনো দেখতে পারবে না।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, ৪/৯৫/৭২৪৪। সহিহুল বুখারি, ৩/১৩৫৪。
[১] সহিবুল বুখারি, ৬/৩৩৩৭。
[২] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৪৬。
📄 দাজ্জাল সম্পর্কে নবির সতর্ককরণ এবং কয়েকটি বর্ণনার দাজ্জালের দোযখ হল জান্নাত আর জান্নাত হল দোযখ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ، اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ الدَّجَّالَ بَيْنَ ظَهْرَانِي النَّاسِ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ . أَلَا وَإِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِئَةٌ "
ইবনু 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে দাজ্জালের আলাপ-আলোচনা করে বললেন, আল্লাহ তা'আলা অন্ধ নন। কিন্তু সতর্ক হও! দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে। আর তা আঙ্গুরের মতো ফোলা হবে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاً حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " مَا مِنْ نَبِي إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ك ف ر".
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল নাবীই তার উম্মতকে কানা মিথ্যাবাদী (দাজ্জাল) সম্পর্কে সাবধান করেছেন। সাবধান! দাজ্জাল কানা হবে। তোমাদের রব কানা নন। দাজ্জালের দু'চোখের মধ্যস্থলে ) ك ف ر ( )কাফির) লেখা থাকবে।
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدَّجَّالُ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرُ " . ثُمَّ تَهَجَّاهَا كَ ف رَ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُسْلِمٍ " .
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জালের চোখ চেপ্টা ফোলা হবে। তার উভয় চোখের মধ্যস্থলে কাফির লেখা থাকবে। অতঃপর তিনি এক একটি হরফ উচ্চারণ করে বললেন, "ك ف ر" আর প্রত্যেক মুসলিম মাত্রই এ লেখা পাঠ করতে পারবে।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْجَعِي، عَنْ رِبْعِيَ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا مَعَ الدَّجَّالِ مِنْهُ مَعَهُ نَهْرَانِ يَجْرِيَانِ أَحَدُهُمَا رَأَى الْعَيْنِ مَاءُ أَبْيَضُ وَالْآخَرُ رَأَى الْعَيْنِ نَارُ تَأَجَّجُ فَإِمَّا أَدْرَكَنَّ أَحَدٌ فَلْيَأْتِ النَّهْرَ الَّذِي يَرَاهُ نَارًا وَلْيُغَيِّضُ ثُمَّ لْيُطَاطِئْ رَأْسَهُ فَيَشْرَبَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مَاءً بَارِدُ وَإِنَّ الدَّجَّالَ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ عَلَيْهَا ظَفَرَةٌ غَلِيظَةٌ مَكْتُوبُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرُ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ وَغَيْرِ كَاتِبٍ.
হুযাইফাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—দাজ্জালের সাথে কি থাকবে, এ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত অবগত আছি। তার সাথে প্রবাহমান দু'টি নহর থাকবে। একটি দৃশ্যত ধবধবে সাদা পানি বিশিষ্ট এবং অপরটি দৃশ্যত লেলিহান অগ্নির মতো হবে। যদি কেউ সুযোগ পায় তবে সে যেন ঐ নহরে প্রবেশ করে যাকে দৃশ্যত অগ্নি মনে হবে এবং চক্ষু বন্ধ করতঃ মাথা অবনমিত করে সে যেন সেটা থেকে পানি পান করে। সেটা হবে ঠান্ডা পানি। দাজ্জালের চক্ষু লেপা হবে এবং তার চোখের উপর নখের মতো পুরু চামড়া থাকবে এবং উভয় চোখের মাঝখানে পৃথক-পৃথকভাবে কাফির লেখা থাকবে। শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে সকল মু'মিন ব্যক্তি এ লেখা পাঠ করতে পারবে।
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَلَا الخَبِرُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ حَدِيثًا مَا حَدَّثَهُ نَبِيُّ قَوْمَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّهُ يَجِيءُ مَعَهُ مِثْلُ الجنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الْجَنَّةُ هِيَ النَّارُ وَإِنِّي أَنْذَرْتُكُمْ بِهِ كَمَا أَنْذَرَ بِهِ نُوحٌ قومه .
আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দাজ্জাল বিষয়ে তোমাদেরকে কি এমন একটি হাদিস বলব না, যা কোন নবি তাঁর কাওমকে অদ্যাবধি বলেননি? শুনো, দাজ্জাল কানা হবে এবং তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম নামে দু'টি প্রতারণার বস্তু থাকবে। সে যাকে জান্নাত বলবে, সেটি আসলে হবে জাহান্নাম। দেখো, দাজ্জাল সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে ভীতি-প্রদর্শন করছি, যেমন নূহ ('আঃ) তাঁর কাওমকে সতর্ক করেছিলেন।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার উম্মতকে দাজ্জালের শক্তি ও ফিতনার প্রভাবে প্রতারিত হওয়ার হাত থেকে হুঁশিয়ারি করেছেন।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৫১。
[২] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/১০১/৭২৫৩。
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/১০০/৭২৫৫。
[২] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/১০৫/৭২৫৭。
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/১০৯/৭২৬২。
📄 ইবনু সাইয়্যাদ গ্র্যান্ড দাজ্জাল নয়, তবে সে দুর্দান্ত দাজ্জালের মধ্যে অন্যতম
কতক আলেম বলেন, কিছু সাহাবী মনে করতেন ইবনু সাইয়াদ দাজ্জাল। কিন্তু সঠিক হল সে দাজ্জাল নয়। তবে সে চ্যালা দাজ্জাল ছিল।
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِي، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ صَحِبَنِي ابْنُ صَائِدٍ إِمَّا حُجَّاجًا وَإِمَّا مُعْتَمِرِينَ فَانْطَلَقَ النَّاسُ وَتُرِكْتُ أَنَا وَهُوَ فَلَمَّا خَلَصْتُ بِهِ اقْشَعْرَرْتُ مِنْهُ وَاسْتَوْحَشْتُ مِنْهُ مِمَّا يَقُولُ النَّاسُ فِيهِ فَلَمَّا نَزَلْتُ قُلْتُ لَهُ ضَعْ مَتَاعَكَ حَيْثُ تِلْكَ الشَّجَرَةِ . قَالَ فَأَبْصَرَ غَنَمًا فَأَخَذَ الْقَدَحَ فَانْطَلَقَ فَاسْتَحْلَبَ ثُمَّ أَتَانِي بِلَبَنٍ فَقَالَ لِي يَا أَبَا سَعِيدٍ اشرب . فَكَرِهْتُ أَنْ أَشْرَبَ مِنْ يَدِهِ شَيْئًا لِمَا يَقُولُ النَّاسُ فِيهِ فَقُلْتُ لَهُ هَذَا الْيَوْمُ يَوْمُ صَائِفُ وَإِنِّي أَكْرَهُ فِيهِ اللَّبَنَ . قَالَ لِي يَا أَبَا سَعِيدٍ هَمَمْتُ أَنْ أَخُذَ حَبْلاً فَأُوَيْقَهُ إِذْ فِي شَجَرَةٍ ثُمَّ أَخْتَنِقُ لِمَا يَقُولُ النَّاسُ لِي وَفِي أَرَأَيْتَ مَنْ خَفِيَ عَلَيْهِ حَدِيثِي فَلَنْ يَخْفَى عَلَيْكُمْ أَلَسْتُمْ أَعْلَمَ النَّاسِ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ كَافِرُ وَأَنَا مُسْلِمُ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ عَقِيمٌ لَا يُولَدُ لَهُ وَقَدْ خَلَّفْتُ وَلَدِي بِالْمَدِينَةِ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدْخُلُ أَوْ لَا تَحِلُّ لَهُ مَكَّةُ وَالْمَدِينَةُ أَلَسْتُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ ذَا أَنْطَلِقُ مَعَكَ إِلَى مَكَّةَ . فَوَاللَّهِ مَا زَالَ يَجِيءُ بِهَذَا حَتَّى قُلْتُ فَلَعَلَّهُ مَكْذُوبٌ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَبَا سَعِيدٍ وَاللَّهِ لَأُخْبِرَنَّكَ خَبَرًا حَقًّا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْرِفُهُ وَأَعْرِفُ وَالِدَهُ وَأَعْرِفُ أَيْنَ هُوَ السَّاعَةَ مِنَ الْأَرْضِ . فَقُلْتُ تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثُ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন ইবনু সাইদি হাজ্জ কিংবা উমরাহ উপলক্ষ্যে আমার সঙ্গী হলো। সবাই চলে গেল কিন্তু আমি ও সে পিছনে পড়ে গেলাম। আমি তার সাথে একা হয়ে গেলে তার ব্যাপারে জনগন যা বলাবলি করত তা মনে উদয় হলে আমি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। আমি এক জায়গায় বিশ্রামের জন্য অবতরণ করে তাকে বললাম, তোমার ঐ গাছের নিকট তোমার মালামাল রেখে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে একপাল বকরী দেখে একটি পেয়ালা নেয় সেদিকে গেল এবং কিছু দুধ দোহন করে আমার নিকট নিয়ে এল। সে আমাকে বলল, হে আবু সাঈদ! দুধ পান করুন। তার ব্যাপারে লোকজন বিভিন্ন কথা বলাবলি করার দুরুন আমি তার হাতের কিছু পান করা অপছন্দ করলাম। অতএব, আমি তাকে বললাম, আজকের দিনটি প্রচন্ড গরমের, আমি এরকম দিনে দুধপান করতে পছন্দ করি না। তখন সে আমাকে বলল, হে আবু সাঈদ! আমাকে ও আমার ব্যাপারে মানুষেরা যে নানা কথা বলে সেজন্য আমার ইচ্ছা হয় একটি গাছে দড়ি বেঁধে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করি। আপনি কি মনে করেন, আমার বিষয় কারো নিকট অজানা থাকলেও আপনাদেরও নিকট তো তা মোটেই অস্পষ্ট নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস সম্বন্ধে তো আপনারা অধিক অবহিত। হে আনসার সম্প্রদায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, সে (দাজ্জাল) হবে কাফির? অথচ আমি মুসলমান। সে হবে নিঃসন্তান? অথচ আমি আমার সন্তান মদিনায় রেখে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, মক্কা- মদিনায় প্রবেশ করাটা তার জন্য বৈধ (সম্ভব) নয়? আমি কি মদিনাবাসী নই? আমি সেখান হতেই তো আপনার সাথে মক্কায় এসেছি। আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহর শপথ! সে একটার পর একটা অনবরতভাবে যুক্তি দেখাতে লাগল। অবশেষে আমি মনে মনে বললাম, তার উপর হয়তো মিথ্যারোপ করা হয়েছে। সে আবার বলল, হে আবু সাঈদ, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে সঠিক সংবাদ দিব। আল্লাহর শপথ! আমি নিঃসন্দেহে তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার বাবাকেও চিনি এবং সে এখন কোন এলাকায় আছে তাও জানি। তখন আমি বললাম, তোর পুরো দিনটাই বিফলে যাক।
ব্যাখ্যা: উদ্দেশ্য হল ইবনু সাইয়াদ দাজ্জাল নয়, দাজ্জাল তো শেষ যামানায় আগমন করবে। যা যাহ্হাক ইবনু কায়স-এর বোন ফাতিমাহ্ বিনতু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু আল-ফিহরিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে বুঝে আসে।
টিকাঃ
(১) সহিহ মুসলিম হাসিনা ৭২৩৩。
[১] সহিহ মুসলিম, ৪/৯৮/৭২৪৯。
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/৯৮৯। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৪/২২৪৬。