📄 রুমের কয়েকটি ভাল গুণ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُلَيَّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ الْمُسْتَوْرِدُ الْقُرَشِيُّ عِنْدَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ " . فَقَالَ لَهُ عَمْرُو أَبْصِرْ مَا تَقُولُ . قَالَ أَقُولُ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ إِنَّ فِيهِمْ لَخِصَالًا أَرْبَعًا إِنَّهُمْ لَأَحْلَمُ النَّاسِ عِنْدَ فِتْنَةٍ وَأَسْرَعُهُمْ إِفَاقَةً بَعْدَ مُصِيبَةٍ وَأَوْشَكُهُمْ كَرَّةٌ بَعْدَ فَرَّةٍ وَخَيْرُهُمْ لِمِسْكِينٍ وَيَتِيمٍ وَضَعِيفٍ وَخَامِسَةٌ حَسَنَةٌ جَمِيلَةٌ وَأَمْنَعُهُمْ مِنْ ظُلْمِ الْمُلُوكِ .
মুসতাওরিদ আল কুরাশী রাদিয়াল্লাহু আনহু 'আম্র ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর নিকট বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, রোমীয়দের সংখ্যা যখন সবচেয়ে বেশী হবে তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ কথা শুনা মাত্র 'আম্র ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, কি বলছ, চিন্তা-ভাবনা করে বলো। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেছি আমি তাই বর্ণনা করছি। তারপর 'আম্র ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি যদি বলো, তবে সত্যই বলছ। কেননা তাদের মধ্যে চারটি গুণ আছে। প্রথমতঃ ফিত্নার সময় তারা সবচেয়ে বেশী ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ মুসীবাতের পর দ্রুত তাদের মধ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। তৃতীয়তঃ যুদ্ধ থেকে پলায়নের পর সর্বপ্রথম তারা আক্রমণ করতে সক্ষম হয় চতুর্থতঃ মিস্কীন, ইয়াতীম ও দুর্বলের জন্য তারা সবচেয়ে বেশী শুভাকাঙ্ক্ষী। অতঃপর পঞ্চমতঃ সুন্দর গুণটি হলো এই যে, তারা শাসকবর্গের অত্যাচারকে অধিক প্রতিহত করে।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-৭১৭১
📄 কিয়ামতের সময় রোমকদের সংখ্যা হবে প্রচুর
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التَّجِيبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو شُرَيْحٍ، أَنَّ عَبْدَ الْكَرِيمِ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُ أَنَّ الْمُسْتَوْرِدَ الْقُرَشِيَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ - تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ " . قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عَمْرَو فَقَالَ مَا هَذِهِ الْأَحَادِيثُ الَّتِي تُذْكَرُ عَنْكَ أَنَّكَ تَقُولُهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ الْمُسْتَوْرِدُ قُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَقَالَ عَمْرُو لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ إِنَّهُمْ لَأَحْلَمُ النَّاسِ عِنْدَ فِتْنَةٍ وَأَجْبَرُ النَّاسِ عِنْدَ مُصِيبَةٍ وَخَيْرُ النَّاسِ لِمَسَاكِينِهِمْ وَضُعَفَائِهِمْ.
মুসতাওরিদ আল কুরাশী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যখন রোমীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী হবে তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ খবর 'আম্র ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি বললেন, এ কোন ধরনের হাদিস, যে সম্পর্কে লোকেরা বলছে যে, এ নাকি তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করছ? উত্তরে মুস্তাওরিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি আমি তাই বলছি। একথা শুনে 'আম্র রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি যদি বলে থাকো তা ঠিকই আছে। কেননা তারা ফিত্নার সময় সবচেয়ে বেশী ধৈর্যধারণ করে এবং মুসীবাতের পর আবার দ্রুত তাদের স্বাভাবিক অবস্থাই ফিরে আসে। তারা সর্বদা মিস্কীন এবং অক্ষম মানুষের জন্য অধিক শুভাকাঙ্ক্ষী।
ব্যাখ্যা: হাদিসের ভাষ্য থেকে এটা বুঝে আসে যে রোমকরা কিয়ামতের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করবে। সম্ভবত কনস্টান্টিনোপল বিজয় তাদের একটি সম্প্রদায়ের হাতেই হবে। যেমনটি পূর্বের হাদিসসমূহে বলা হয়েছ যে বনু ইসহাকের সত্তর হাজার লোক কনস্টান্টিনোপল বিজয় করবে। আর রোমানরা আল-আয়েস ইবনু ইসহাক ইবন ইব্রাহিম আল-খলিলের -এর বংশধর। তারা বনি ইস্রায়েলের চাচাতো ভাই। তিনিই হলেন ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। আর রোমানরা কিয়ামতের পূর্বে ইস্রায়েলীয়দের তুলনায় ভালো থাকবে। কেননা আসপাহানের সত্তর হাজার ইহুদি দাজ্জালের অনুসারী হবে। তারা হবে দাজ্জালের সমর্থক। আর রোমকরা -হাদিসে যাদের প্রশংসা করা হয়েছে- হয়তো তারা ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونِ الرَّقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ الْحُنَيْنِيُّ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَكُونَ أَدْنَى مَسَالِحِ الْمُسْلِمِينَ بِبَوْلَاءَ . . ثُمَّ قَالَ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - " يَا عَلِيُّ يَا عَلِيُّ يَا عَلِيُّ " . قَالَ بِأَبِي وَأُتِي . قَالَ " إِنَّكُمْ سَتُقَاتِلُونَ بَنِي الأَصْفَرِ وَيُقَاتِلُهُمُ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِكُمْ حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ رُوقَةُ الإِسْلَامِ أَهْلُ الْحِجَازِ الَّذِينَ لَا يَخَافُونَ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ فَيَفْتَتِحُونَ الْقُسْطُنْطِينِيَّةَ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّكْبِيرِ فَيُصِيبُونَ غَنَائِمَ لَمْ يُصِيبُوا مِثْلَهَا حَتَّى يَقْتَسِمُوا بِالْأَتْرِسَةِ وَيَأْتِي آتٍ فَيَقُولُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَرَجَ فِي بِلادِكُمْ أَلَا وَهِيَ كِذْبَةٌ فَالْآخِذُ نَادِمُ وَالنَّارِكُ نَادِمُ.
আমর ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—নিকটবর্তী বাওনা নামক স্থান অস্ত্র সজ্জিত মুসলমানদের পদানত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। অতঃপর তিনি বলেন, হে আলি! হে আলি! হে আলি! আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। তিনি বলেন, অচিরেই বনু আসফারের (রোমকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের পরবর্তী হিজাযের মুসলমানগণ ও যারা আল্লাহ্র ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দায় কর্ণপাত করে না, যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে, যতক্ষণ না তাদের কাছে ইসলামের শাশ্বত বিধান বিকশিত হয়। অতঃপর তারা তাসবীহ ও তাকবীর ধ্বনি দিয়ে কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। ফলে এতো অধিক পরিমাণে গনীমতের মাল তাদের হস্তগত হবে যতোটা ইতোপূর্বে কখনো তাদের হস্তগত হয়নি। এমনকি তারা খাঞ্চা ভর্তি করে নিজেদের মধ্যে বন্টন করবে। অতঃপর এক আগন্তুক এসে বলবে, তোমাদের শহরে মসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটেছে। সাবধান! সে খবরটি হবে মিথ্যা। সুতরাং এর গ্রহীতাও লজ্জিত হবে এবং আগ্রাহ্যকারীও লজ্জিত হবে।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪/৩৬/৭১৭২。
[১] সুনানে ইবনু মাজাহ, ৪/৪০৯৪। হাদিসের মান: عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍএর কারনে হাদিসটি জাল হাদিস。
📄 জেরুজালেম আবাদ হলে মদিনা শহরে বিপর্যয় ঘটবে
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُمْرَانُ بَابُ الْمُقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطينِيَّةً وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ " . ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى الَّذِي حَدَّثَ - أَوْ مَنْكِيهِ - ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقُّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا قَاعِدُ ، يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ .
মু'আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—বাইতুল মাকদিসে বসতি স্থাপন ইয়াসরিবের বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং ইয়াসরিবের বিপর্যয় সংঘাতের কারণ হবে। যুদ্ধের ফলে কুসতুনতুনিয়া বিজিত হবে এবং কুসতুনতুনিয়া বিজয় দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন তার উরুতে বা কাঁধে নিজের হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করে বলেন, এটা নিশ্চিত সত্য, যেমন তুমি এখানে উপস্থিত, যেমন তুমি এখানে বসা আছো। অর্থাৎ তিনি মু'আয ইবনু যাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে লক্ষ্য করে বলেন।
নোট: হাদিস দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে, দাজ্জال বের হওয়ার আগে মদিনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে শেষ যামানায় ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে। তাঁর বিস্তারিত বর্ণনা সামনের উল্লেখিত সহিহ হাদিসসমূহে আসবে। কিন্তু জেরুজালেমের বসতি স্থাপনই ভবিষ্যতে মদিনা ধ্বংসের কারণ। তবে এবিষয়টিও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। ফেরেশতাগণ তাকে তরবারি হাতে প্রবেশ করা থেকে বাঁধা দিবে।
টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ, ৪/৪২৯৪। হাদিসের মান: হাসান। হাদিসের সনদে সামান্য মুদ্রণ জাতীয় ত্রুটি রয়েছে। মুসনাদে আহমাদ, ৫/ পৃ.২৩২।
📄 মদিনায় ঢুকতে পারবে না মাসীহ্ দাজ্জাল, আর না মহামারী
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكُ عَنْ نُعَيْمِ الْمُجْمِرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةً قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ المَسِيحُ وَلَا الطَّاعُونُ.
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-মদিনায় ঢুকতে পারবে না মাসীহ্ দাজ্জাল, আর না মহামারী।
টিকাঃ
[২] সহিহ্বল বুখারি, ৫৭৩১।