📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তের কিছু নিদর্শন

📄 কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তের কিছু নিদর্শন


حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ زَبْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ بُسْرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا إِدْرِيسَ، قَالَ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، وَهُوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَقَالَ " اعْدُدْ سِتا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ، مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، ثُمَّ مُوتَانُ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ، ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ الْمَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظُلُّ سَاخِطًا، ثُمَّ فِتْنَةٌ لَا يَبْقَى بَيْتُ مِنَ الْعَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ، ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ، فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةٌ، تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا".
আউফ ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। তিনি তখন একটি চামড়ার তৈরী তাঁবুতে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-ক্বিয়ামাতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারী, বকরীর পালের মহামারীর মত, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ' দীনার দেয়ার পরেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিত্না আসবে যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি-যা তোমাদের ও বানী আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রত্যেক পতাকার নীচে থাকবে বার হাজার সৈন্য।
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَرْطَاةَ، قَالَ سَمِعْتُ جُبَيْرَ بْنَ نُفَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْمَلْحَمَةِ بِالْغُوطَةِ إِلَى جَانِبِ مَدِينَةٍ يُقَالُ لَهَا دِمَشْقُ مِنْ خَيْرِ مَدَائِنِ الشَّامِ ".
আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনযুদ্ধের দিন মুসলিমদের শিবির স্থাপন করা হবে 'গৃতা' নামক শহরে, যা সিরিয়ার সর্বোত্তম শহর দামিস্কের পাশে অবস্থিত।
وقال الإمام أحمد: حدثنا وكيع عن النهاش بن فهم، حدثني شداد أبو عمار، عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "ست من أشراط الساعة. موتي، وفتح بيت المقدس، وموت يأخذ في الناس كقصاص الغنم، وفتنة يدخل حريمها بيت كل مسلم، وأن يعطى الرجل ألف دينار فيسخطها، وأن يغمر الروم فيسيرون بثمانين بنداً تحت كل بند اثنا عشر ألفاً."
মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কিয়ামতের ছয়টি লক্ষণ। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর বকরীর পালের মহামারীর মত মৃত্যু, এমন ফিতনা যা প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে প্রবেশ করবে, এমনকি এক ব্যক্তিকে এক হাজার দীনার দেয়ার পরেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। এবং রোমীয়রা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে, প্রত্যেক পতাকার নীচে থাকবে বার হাজার সৈন্য।

টিকাঃ
[১] সহিহ্বল বুখারি, ৩/৩১৭৬。
[১] সুনানে আবু দাউদ, ৪/৪২৯৮। হাদিসের মান: আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন সহিহ。
[২] মুসনাদে আহমাদ, ৫/পৃ.২২৮。

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়টি জিনিস ঘটার আগে মুমিনদেরকে সৎকাজ করতে বলেছেন

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়টি জিনিস ঘটার আগে মুমিনদেরকে সৎকাজ করতে বলেছেন


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سِئًا طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدُّخَانَ أَوِ الدَّجَّالَ أَوِ الدَّابَّةَ أَوْ خَاصَّةً أَحَدِكُمْ أَوْ أَمْرَ الْعَامَّةِ " .
আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ছয়টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই তোমরা নেক 'আমালে দ্রুততা অবলম্বন করো, তা হলো- (১) পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, (২) ধোঁয়া (উত্থিত হওয়া), (৩) দাজ্জাল (আবির্ভাব হওয়া), (৪) দাব্বাহ্ (অদ্ভুত জন্তুর আত্মপ্রকাশ), (৫) খাস বিষয় (কারো ব্যক্তিগত মৃত্যু) ও (৬) আম বিষয় (সার্বজনিক বিপদ বা কিয়ামত)।

টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২৮৭।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 কিয়ামতের দশটি আলামত

📄 কিয়ামতের দশটি আলামত


وقال الإمام أحمد: حدثنا سفيان بن عيينة، عن فرات، عن أبي الطفيل، عن حذيفة بن أسد قال: اطلع النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ علينا ونحن نتذاكر الساعة فقال: "مَا تَذْكِرُونَ؟ قُلْنا نَذْكُرُ الساعَةَ، فقال: إنها لن تقومَ حَتَّى تَرَوْا عشر آيات: الدخان والدجال والدابة وطلوع الشمس من مغربها ونزول عيسى ابن مَرْيَمَ ويأْجُوجَ ومَأْجُوجَ وثَلاثَةَ خسوف خَسْفُ بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف بجزيرة العرب، وآخر ذلك نارٌ تَخْرُجُ من قبل المشرق تسوق الناس إلى تحشرهم."
হযরত হুযাইফা ইবনু আসীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতদিন দশটি নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ না ঘটবে ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না- (১) ধোঁয়া, (২) দাজ্জাল, (৩) মহাপ্রাণী, (৪) পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়, তিন ভূমিধ্বস- (৫) প্রাচ্যে, (৬) পাশ্চাত্যে, (৭) আরববিশ্বে, (৮) ঈসা মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং এর অবতরণ, (৯) ইয়াজুয- মাজুযের মুক্তিলাভ ও (১০) আদন (এডেন) গহবর থেকে অগ্নি উদগীরণ; সে আগুন মানুষকে একটি ময়দানে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে সেখানে আগুন রাত্রিযাপন করবে। যেখানে তারা দিবা নিদ্রা যাবে সেখানে সে আগুনও দিবা নিদ্রা যাবে।

টিকাঃ
[১] সুনানে ইবনু মাজাহ; হাদিস ৪০৪৫, সহিহ মুসলিম; হাদিস-৭৪৬৮।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম > 📄 আদন (এডেন) গহবর থেকে যে অগ্নি উদগীরণ হবে তা ফিতনা-বিপর্যয়ের আগুন

📄 আদন (এডেন) গহবর থেকে যে অগ্নি উদগীরণ হবে তা ফিতনা-বিপর্যয়ের আগুন


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَرَّانِ، عَنْ أَبِي الطَّفَيْلِ، عَنْ أَبِي سَرِيحَةً، حُذَيْفَةَ بْنِ أُسَيْدٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غُرْفَةٍ وَنَحْنُ أَسْفَلَ مِنْهُ فَاطَّلَعَ إِلَيْنَا فَقَالَ مَا تَذْكُرُونَ. قُلْنَا السَّاعَةَ. قَالَ إِنَّ السَّاعَةَ لَا تَكُونُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ خَسْفُ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفُ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفُ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَالدُّخَانُ وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الأَرْضِ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنَارُ تَخْرُجُ مِنْ قُعْرَةِ عَدَنٍ تَرْحَلُ النَّاسَ. قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعِ عَنْ أَبِي الطَّفَيْلِ عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ . مِثْلَ ذَلِكَ لَا يَذْكُرُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ أَحَدُهُمَا فِي الْعَاشِرَةِ نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . وَقَالَ الْآخَرُ وَرِيحُ تُلْقِي النَّاسَ فِي الْبَحْرِ .
আবু সারীহাহ্ হুযাইফাহ্ ইবনু আসীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কক্ষে ছিলেন। আর আমরা তাঁর নীচে বসে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি আমাদের নিকট আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছিলে? আমরা বললাম, কিয়ামত সম্বন্ধে কথা বলছিলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষন না দশটি আলামত প্রকাশিত হবে। পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ভূখন্ড ধ্বস, পশ্চিমপ্রান্তে ভূখন্ড ধ্বস, আরব উপদ্বীপে ভূখন্ড ধ্বস, ধূয়া ছড়িয়ে পড়া, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ, দাব্বাতুল আর্য প্রকাশ পাওয়া, ইয়া'জুজ-মা'জুজ বের হওয়া, পশ্চিমপ্রান্ত হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং সর্বশেষ "আদন” দেশের প্রান্ত হতে আগুন উত্থিত হবে যা লোকেদেরকে তাড়িয়ে এক স্থানে একত্রিত করবে।
শু'বাহ্ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-এ বর্ণনায় দশম আলামতের কথা নেই। তবে অন্য বর্ণনাই দশম আলামত হিসেবে কোথাও 'ঈসা (আঃ)-এর অবতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে, আবার কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বশেষ এমন দমকা হাওয়া প্রবাহিত হবে, যা মানুষকে উড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে।

টিকাঃ
(১) সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭১৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00