📄 কতক নামধারী মুসলিম মুরতাদ হয়ে মূর্তি পূজা করবে
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ الْجُرْمِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِي، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : رُوِيَتْ لِي الْأَرْضُ حَتَّى رَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَأُعْطِيتُ الكترينِ الْأَصْفَرَ - أَوِ الأَحْمَرَ - وَالأَبْيَضَ - يَعْنِي الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ - وَقِيلَ لِي إِنَّ مُلْكَكَ إِلَى حَيْثُ زُوِيَ لَكَ وَإِنِّي سَأَلْتُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ ثَلَاثًا أَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَى أُمَّتِي جُوعًا فَيُهْلِكَهُمْ بِهِ عَامَّةً وَأَنْ لَا يَلْبِسَهُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ وَإِنَّهُ قِيلَ لِي إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءٌ فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَإِنِّي لَنْ أُسَلِّطَ عَلَى أُمَّتِكَ جُوعًا فَيُهْلِكَهُمْ فِيهِ وَلَنْ أَجْمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا حَتَّى يُفْنِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا وَيَقْتُلَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا . وَإِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي فَلَنْ يُرْفَعَ عَنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّ مِمَّا أَتَخَوَّفُ عَلَى أُمَّتِي أَئِمَّةٌ مُضِلِّينَ وَسَتَعْبُدُ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الأَوْثَانَ وَسَتَلْحَقُ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَإِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ دَجَّالِينَ كَذَّابِينَ قَرِيبًا مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَلَنْ تَزَالَ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " . قَالَ أَبُو الْحَسَنِ لَمَّا فَرَغَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مَا أَهْوَلَهُ .
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমার জন্য পৃথিবীকে গুটিয়ে দেয়া হলো। ফলে আমি তার পূর্ব- পশ্চিম সবদিক দেখতে পেলাম। আমাকে হরিদ্রাভ বা লাল এবং সাদা বর্ণের দু'টি খনিজ ভার অর্থাৎ সোনা-রূপার ভার দেয়া হয়েছে। আমাকে বলা হলো, পৃথিবীর যতখানি তোমার জন্য গুটানো হয়েছিল, তোমার রাজত্ব সেই সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট তিনটি জিনিস প্রার্থনা করলামঃ আমার উম্মত যেন ব্যাপকভাবে দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে তার দ্বারা ধ্বংস না হয়। তাদেরকে দলে উপদলে বিচ্ছিন্ন করে তাদের এক দলকে অপর দলের সশস্ত্র সংঘর্ষের স্বাদ আস্বাদন না করানোর আবেদন করলাম। আমাকে বলা হলো, "আমি কোন ফয়সালা করলে তা মোটেও পরিবর্তিত হওয়ার নয়। তবে আমি তোমার উম্মতকে দুর্ভিক্ষ পীড়িত করে তাদের ধ্বংস করবো না এবং তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সকল বিরোধী শক্তিকে যুগপৎ একত্র করবো না, যতক্ষণ না তারা পরস্পরকে ধ্বংস করে এবং একে অপরকে হত্যা করে"। আমার উম্মাতের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে কিয়ামত পর্যন্ত আর অস্ত্রবিরতি হবে না। আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে অধিক ভয় করছি পথভ্রষ্ট নেতৃবৃন্দের। অচিরেই আমার উম্মতের কোন কোন গোত্র বা সম্প্রদায় প্রতিমা পূজায় লিপ্ত হবে এবং আমার উম্মতের কতক গোত্র মুশরিকদের সাথে যোগ দিবে। অচিরেই কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নবি দাবি করবে। আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, মহান আল্লাহর চূড়ান্ত নির্দেশ (কিয়ামত) না আসা পর্যন্ত। তাদের বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আবু হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর আবু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এ হাদিস বর্ণনা শেষে বললেন, কতই না ভয়াবহ এ হাদিস।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمِ، حَدَّثَنِي الْعَلَاءُ بْنُ عُتْبَةَ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِي الْعَنْسِي، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ في ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الأَحْلاسِ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ قَالَ هي هَرَبُ وَحَرْبُ ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي وَلَيْسَ مِنِّي وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِيَ الْمُتَّقُونَ ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضلَعِ ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ إِلَّا لَطَمَتْهُ لَطْمَةً فَإِذَا قِيلَ انْقَضَتْ تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى نُسْطَاطَيْنِ فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ مِنْ يَوْمِهِ أَوْ مِنْ غَدِهِ" .
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, একদা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি ফিতনা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন, এমন কি তিনি আহলাস ফিতনা সম্পর্কে বললেন। তখন একজন বললো, 'আহলাস' ফিতনা কি? তিনি বললেন, পলায়ন ও লুটতরাজ। অতঃপর আসবে একটি ফিতনা, যা হবে আনন্দদায়ক, এর অন্ধকারাচ্ছন্ন ধোঁয়া বের হবে, আমার পরিবারের জনৈক ব্যক্তির দু'পায়ের নীচ থেকে। সে ধারণা করবে যে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত, অথচ সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমার বন্ধু হচ্ছে আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ। অতঃপর জনগণ এমন ব্যক্তির অধীনে একতাবদ্ধ হবে। সে যেন পাঁজরের উপর কোমরের হাড় সদৃশ।
অতঃপর তিনি 'দুহায়মা' বা ঘন অন্ধকারময় ফিতনা প্রসঙ্গে বলেন, সেই ফিতনা এই উম্মাতের কোনো লোককেই একটি চপেটাঘাত না করে ছাড়বে না। অতঃপর যখন বলা হবে যে, তা শেষ হয়ে গেছে, তখনই তা আরো প্রসারিত হবে। এ সময়ে যে লোকটি সকালে মু'মিন ছিলো সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। অবশেষে সব মানুষ দু'টি শিবিরে বিভক্ত হবে। একটি হবে ঈমানের শিবির, যেখানে মুনাফিকী থাকবে না। আর একটি হবে মুনাফিকীর শিবির, যেখানে ঈমান থাকবে না। যখন তোমাদের এ অবস্থা হবে, তখন দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষা করবে ঐ দিন বা তার পরের দিন থেকে।
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ " . أَوْ " يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ زَمَانٌ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةٌ تَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ وَاخْتَلَفُوا فَكَانُوا هَكَذَا " . وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فَقَالُوا وَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " تَأْخُذُونَ مَا تَعْرِفُونَ وَتَذَرُونَ مَا تُنْكِرُونَ
আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-এমন এক যুগ সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা? অথবা তিনি বলেন, অচিরেই এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষকে চালনির ন্যায় চালা হবে এবং তাতে নিকৃষ্ট মানুষ অবশিষ্ট থাকবে। তাদের ওয়াদা ও আমানতসমূহ বিনষ্ট হয়ে যাবে আর অনৈক্য দেখা দিবে, অতঃপর এরূপ হয়ে যাবে। এ বলে তিনি তাঁর আঙ্গুলসমূহ একটা আরেকটার ভেতর ঢুকিয়ে দেখালেন। উপস্থিত লোকেরা বললো, আমরা তাহলে কি করবো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, যেগুলো সম্বন্ধে সঠিক জানো তা গ্রহণ করো এবং যেগুলোকে ভুল জানো তা ত্যাগ করো।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, ৩৫৪৪, ৫১৪৪。
[১] সুনানে আবু দাউদ, ৪/৪২৪২। মুসনাদে আহমাদ, ২/পৃ.৪ ২৪২। হাদিসের মান: আহমাদ শাকের রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন。
[২] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩৪২। সুনানে ইবনু মাজাহ, ২/২১২। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : জিহবার ব্যবহার তরবারীর আঘাতের চাইতে মারাত্মক হবে
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنِ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ أَبِي الْعَلاءِ، قَالَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ ذَكَرَ الْفِتْنَةَ فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ النَّاسَ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَخَفَّتْ أَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا " . بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ عِنْدَ ذَلِكَ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ قَالَ الْزَمْ بَيْنَكَ وَامْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَامَّةِ " .
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশে বসা ছিলাম। তখন তিনি ফিত্বনাহ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তোমরা যখন দেখবে, মানুষের ওয়াদা নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের আমানতদারী কমে গেছে এবং তারা এরূপ হয়ে গেছে- এ বলে তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে মিলালেন। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে আমি দাঁড়িয়ে তাঁকে বললাম আল্লাহ আমাকে আপনার জন্যে উৎসর্গিত করুন! আমি তখন কি করবো? তিনি বললেন, তুমি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তোমার ঘরে অবস্থান করো, তোমার জিহ্বা সংযত রাখো; যা জানাশুনা আছে তাই গ্রহণ করো এবং অজানাকে পরিত্যাগ করো। আর তোমাদের নিজের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক হও এবং সাধারণের সম্পর্কে বিরত থাকো।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثُ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ رَجُلٍ، يُقَالُ لَهُ زِيَادُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبِّ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ النِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السيف.
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নিশ্চয়ই অচিরে এরূপ ফিতনা সৃষ্টি হবে, যা সমস্ত আরবকে ধংসের মুখে ঠেলে দিবে। সেই ফিতনায় নিহতরা জাহান্নামী হবে। জিহবার ব্যবহার তখন তরবারীর আঘাতের চাইতে মারাত্মক হবে।
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ وَالنَّاسُ مُجْتَمِعُونَ عَلَيْهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فِي سَفَرٍ إِذْ نَزَلَ مَنْزِلاً فَمِنَّا مَنْ يَضْرِبُ خِبَاءَهُ وَمِنَّا مَنْ يَنْتَضِلُ وَمِنَّا مَنْ هُوَ فِي جَشَرِهِ إِذْ نَادَى مُنَادِيهِ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ فَاجْتَمَعْنَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَخَطَبَنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ قَبْلِي إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى مَا يَعْلَمُهُ خَيْرًا لَهُمْ وَيُنْذِرَهُمْ مَا يَعْلَمُهُ شَرًّا لَهُمْ وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَتْ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَإِنَّ آخِرَهُمْ يُصِيبُهُمْ بَلاءُ وَأُمُورُ تُنْكِرُونَهَا ثُمَّ تَجِيءُ فِتَنُ يُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي ثُمَّ تَنْكَشِفُ ثُمَّ تَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي . ثُمَّ تَنْكَشِفُ فَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ فَلْتُدْرِكْهُ مَوْتَتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يَأْتُوا إِلَيْهِ وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةً يَمِينِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الْآخَرِ. قَالَ فَأَدْخَلْتُ رَأْسِي مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَقُلْتُ أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قلبي.
আবদুর রহমান ইবনু আবদে রব্বিল কা'বাহ বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট পৌঁছে দেখলাম, তিনি কাবা ঘরের ছায়ায় উপবিষ্ট এবং তার চারপাশে জনতার ভীড়। আমি তাকে বলতে শুনলাম, একদা আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি এক স্থানে যাত্রা বিরতি করলেন। আমাদের কেউ তাঁবু টানাচ্ছিলাম, কেউ তীর-ধনুক ঠিক করছিলো এবং কেউ পশুপাল চরাতে গেলো। এই অবস্থায় তাঁর মুয়াজ্জিন সলাতের জন্য সমবেত হতে ডাক দিলেন। আমরা সমবেত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার পূর্বে যে নবিই অতিক্রান্ত হয়েছেন, তিনিই তাঁর উম্মাতের জন্য কল্যাণকর বিষয় বলে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়ে লিপ্ত হতে তাদের নিষেধ করেছেন। আর তোমাদের এই উম্মাতের প্রথম পর্যায়ে রয়েছে নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যায়ে বালা- মুসীবত আসতে থাকবে এবং তোমাদের জ্ঞাত অন্যায় কার্যকলাপের প্রসার ঘটবে। তারপর এমনভাবে বিপদ আসতে থাকবে যে, একটি অপরটির (পরেরটির) চেয়ে লঘুতর মনে হবে। মুমিন ব্যক্তি বলতে থাকবে, এই বিপদে আমার ধ্বংস অনিবার্য। অতঃপর সে বিপদ কেটে যাবে এবং আরেকটি বিপদ এসে পতিত হবে। তখন মুমিন ব্যাক্তি বলবে, হায়! এ বিপদে আমার ধ্বংস অনিবার্য। অতঃপর সেই বিপদও দূরীভূত হবে। অতএব যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে নাজাত পেয়ে এবং জান্নাতে প্রবেশ লাভ করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন আল্লাহর প্রতি ও আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে এবং লোকেদের সাথে এমন ব্যবহার করে, যেমনটি সে নিজের জন্য কামনা করে। যে ব্যক্তি ইমামের নিকট আনুগত্যের বায়আত করলো এবং প্রতিশ্রুতি দিলো, সে যেন যথাসাধ্য তার আনুগত্য করে। পরে অপর কেউ নেতৃত্ব দখলে তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হলে এই শেষোক্ত জনকে হত্যা করো। আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি (একথা শুনে) লোকেদের ভীড় থেকে আমার মাথা বের করলাম এবং আবদুল্লাহইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ হাদিস শুনেছেন? তিনি তার হাত দ্বারা তার দু' কানের দিকে ইশারা করে বলেন, আমার দু' কান তাঁর নিকট এ হাদিস শুনেছে এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে।
টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ, ৪/৪৩৪৩। হাদিসের মান: হাসান হাদিস。
(২) সুনানে আবু দাউদ, ৪/৪২৬৫। হাদিসের মান: আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন- হাদিসটি দুর্বল。
[১] সহিহ মুসলিম, ৩/৪৬/১৮৪৪, নাসায়ী ৭/৪১৯১।
📄 কনস্টান্টিনোপল রোমানদের পূর্বে বিজয় হবে
وقال الإمام أحمد: حدثنا يحيى بن إسحاق، حدثنا يحيى بن أيوب، حدثني أبو قتيل قال: كنا عند عبد الله بن عمر وسئل أي المدينتين تفتح القسطنطينية أو رومية. قال: قال فدعا عبد الله بصندوق له حلق فأخرج منه كتاباً قال: فقال عبد الله بينا نحن حول رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نكتب إذ سئل رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أي المدينتين نفتح أولاً القسطنطينية أو رومية؟ فقال رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مدينة هرقل تُفْتَحَ أولاً يعني القسطنطينية."
আবু কুতাইল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু ওমরকে রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন শহর আগে বিজয় হবে- কনস্ট্যান্টিনোপল নাকি রোম? আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ছিদ্র বিশিষ্ট বাক্সে আনতে বললেন। অতঃপর তা খুলে একটি বই বের করে বললেন, আমরা একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে বসে লিখছিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল কোন শহর প্রথমে বিজয় হবে কনস্ট্যান্টিনোপল নাকি রোম? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হিরাক্লিয়াস-এর শহরটি প্রথমে বিজয় হবে। অর্থাৎ কনস্ট্যান্টিনোপল।”
টিকাঃ
[১] মুসনাদে আহমাদ, ২/পৃ.১৭৬। দারেমি-মুকাদ্দামা ৪৩।
📄 নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে নিসবতকৃত একটি ভবিষ্যদ্বাণী
কতক দেশের ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রতিটি দেশ ধ্বংস হওয়ার কারণ হবে। এটি সুস্পষ্ট মিথ্যাজাল বর্ণনা।
وقال القرطبي في التذكرة، وروي من حديث حذيفة بن اليمان عن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال: "ويبدأ الخراب في أطراف الأرض حتى تخرب مصر، ومصر آمنة من الخراب حتى تخرب البصرة، وخراب البصرة من الغرق، وخراب مصر من جفاف النيل، وخراب مكة وخراب المدينة من الجوع، وخراب اليمن من الجراد، وخراب الأبلة من الحصار، وخراب فارس من الصعاليك، وخراب الترك من اللم، وخراب الديلم من الأرمن، وخراب الأرمن من الخزر، وخراب الخزر من الترك، وخراب الترك من الصواعق، وخراب السند من الهند، وخراب الهند من الصين، وخراب الصين من الرمل، وخراب الحبشة من الرجفة، وخراب الزوراء من السفياني، وخراب الروحاء من الخسف وخراب العراق من القتل."
হযরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— বিশ্বব্যাপী অধঃপতন শুরু হবে। এমনকি মিশর অধঃপতনের সম্মুখীন হবে। আর মিশর নিরাপদ থাকতেই বসরার (ইরাক) অধঃপতন হবে। বসরা (ইরাকের) অধঃপতন হবে ডুবে যাওয়ার কারণে। মিশরের অধঃপতন হবে নীলনদ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে। মক্কা ও মদিনার অধঃপতন হবে ক্ষুধার কারণে। ইয়েমেনের অধঃপতন হবে পঙ্গপালের কারণে। উবলা'র অধঃপতন ঘটবে অবরোধের মাধ্যমে। পারস্যের (ইরানের) অধঃপতন হবে রিক্তহস্ত ও চোর-ডাকাতের মাধ্যমে। তুর্কিদের (তুরস্কের) অধঃপতন হবে দায়লামীর (কুর্দি) পক্ষ থেকে। দায়লামী (কুর্দি) অধঃপতন হবে আর্মেনিয়ার পক্ষ থেকে। আর্মেনিয়ার অধঃপতন হবে "খাযার" (রাশিয়া) পক্ষ থেকে।" খাযার" (রাশিয়া) এর অধঃপতন হবে তুর্কি (তুরস্ক) পক্ষ থেকে। আর তুর্কি (তুরস্ক) অধঃপতন হবে বজ্রাঘাতের (পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ) এর মাধ্যমে। সিন্ধ (পাকিস্তান) এর অধঃপতন হবে হিন্দুস্তান (ভারত) পক্ষ থেকে। হিন্দুস্তানের (ভারত) অধঃপতন হবে তিব্বতের (চীন) পক্ষ থেকে। তিব্বতের (চীন) অধঃপতন হবে "রমূল" (প্রাচীন রোমানদের একটি গোত্র বা, আমেরিকা) পক্ষ থেকে। হাবসার (ইথিওপিয়া) অধঃপতন হবে ভূমিকম্পের মাধ্যমে। "জাওরা" (বাগদাদ) এর অধঃপতন হবে সুফিয়ানীর তান্ডবের কারণে। "রাওহা" (বাগদাদ শহরের ছোট এলাকা) এর অধঃপতন হবে ভূমিধ্বসের মাধ্যমে। আর সম্পূর্ণ কুফা (ইরাক) এর অধঃপতন হবে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।
অতঃপর আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী বললেন আমি শুনেছেন যে আন্দালুসিয়ার ঝঞ্ঝা বায়ুতে।
টিকাঃ
(১) এই হাদিসটি কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় পাওয়া যায় না। হাদিসটি সহিহ নয়। [যদিও হাদিসটি সনদ বিবেচনায় সহিহ নয়, তবুও সতর্কতার ক্ষাতিরে তা বিবেচনা যোগ্য হতে পারে。]