📄 নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যদ্বাণী প্রতি একশত বছরের শিরোভাগে একজন লোকের আবির্ভাব ঘটাবে, যিনি এই উম্মাতের দীনকে সঞ্জীবিত করবেন
فَقَالَ مَالِكُ بْنُ يُخَامِرَ سَمِعْتُ مُعَاذًا يَقُولُ وَهُمْ بِالشَّأْمِ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ هَذَا مَالِكُ يَزْعُمُ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذًا يَقُولُ وَهُمْ بِالشَّأْمِ
মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন- আমার উম্মত হতে একটি দল সব সময় আল্লাহ্র হুকুমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করতে চাইবে কিংবা বিরোধিতা করবে, তারা এদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ক্বিয়ামাত আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকবে। মালিক ইবনু ইয়ুখামির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, তাঁরা হবে সিরিয়ার লোক।
মু'আবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মালিক ইবনু ইয়ুখামির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছেন, তাঁরা হবে সিরিয়ার।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ شَرَاحِيلَ بْنِ يَزِيدَ الْمَعَافِرِي، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِيمَا أَعْلَمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا " .
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মাতের জন্য প্রতি একশত বছরের শিরোভাগে এমন লোকের আবির্ভাব ঘটাবেন, যিনি এই উম্মাতের দীনকে তার জন্য সঞ্জীবিত করবেন।
নোট: এই হাদিস দ্বারা সকল লোকই দাবী করেন যে, তাদের ইমামকেই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। কিন্তু হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনা ভঙ্গি থেকে তো এটাই বুঝে আসে এর অর্থ ব্যাপক। ইলমের সকল শ্রেনিই এ হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হবে। যেমন মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, ফুকাহা, ব্যকারণ বিশারদ, ভাষাবিদ, সকলকেই বোঝানো হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا، يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا، اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَالاً فَسُئِلُوا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর ইবনুল 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তর থেকে 'ইলম উঠিয়ে নেন না, কিন্তু আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলমকে উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন কোন আলিম অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা বানিয়ে নিবে। তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হলে না জানলেও ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭৪৬০。
[২] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৯১। সহিহাহ্ ৬০১। আল জামে'উস সাগীর ১৮৭০। ইমাম আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-'আবদুর রহমান ইবনু শুরাইহ আল-ইসকান্দারানীও এ হাদিস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি শারাহীল-এর অতিরিক্ত বর্ণনা করেননি।
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১০০।
📄 কিয়ামতের কিছু শর্তাবলি
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ، قَالاً حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُحَدِّثُكُمْ بِهِ أَحَدٌ بَعْدِي سَمِعْتُهُ مِنْهُ " إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَيَفْشُوَ الزِّنَا وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَذْهَبَ الرِّجَالُ وَيَبْقَى النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً قَيِّمُ وَاحِدٌ ".
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি কি তোমাদের জন্য এমন একটি হাদিস বর্ণনা করবো না, যা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি? আমার পরে সেই হাদিস আর কেউ তোমাদের নিকট বর্ণনা করবে না। আমি তাঁর কাছে শুনেছি যে, কিয়ামতের কতক আলামত এই যে, এলেম উঠিয়ে নেয়া হবে, অজ্ঞতার বিস্তার ঘটবে, যেনা-ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, মদ পান করা হবে, পুরুষ লোকের অধিক হারে মৃত্যু হবে, অধিক হারে নারীরা বেঁচে থাকবে, এমনকি পঞ্চাশজন নারীর রক্ষণাবেক্ষণকারী হবে একজনমাত্র পুরুষ।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ১/৮১, ৬৮০৮।
📄 কালের অন্তিম লগ্নে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَوَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُونُ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ أَيَّامُ يُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَنْزِلُ فِيهَا الْجَهْلُ وَيَكْثُرُ فِيهَا الْهَرْجُ " . وَالْهَرْجُ الْقَتْلُ .
আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে, অজ্ঞতা ও মূর্খতার প্রসার ঘটবে এবং হারজ অর্থাৎ গণহত্যা ব্যাপক আকারে হবে।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي مَالِكِ الْأَشْجَعِي، عَنْ رِبْعِيَ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْرُسُ الإِسْلَامُ كَمَا يَدْرُسُ وَشَى الثَّوْبِ حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامُ وَلَا صَلَاةٌ وَلَا نُسُكُ وَلَا صَدَقَةٌ وَلَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُوزُ يَقُولُونَ أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَنَحْنُ نَقُولُهَا " . فَقَالَ لَهُ صِلَهُ مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَهُمْ لَا يَدْرُونَ مَا صَلاةً وَلاَ صِيَامُ وَلاَ نُسُكُ وَلاَ صَدَقَةٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَهُ ثُمَّ رَدَّهَا عَلَيْهِ ثَلَاثًا كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَةِ فَقَالَ يَا صِلَهُ تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ. ثَلَاثًا .
হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—ইসলাম পুরাতন হয়ে যাবে, যেমন কাপড়ের উপর কারুকার্য পুরাতন হয়ে যায়। শেষে এমন অবস্থা হবে যে, কেউ জানবে না, রোজা কী, নামায কী, কোরবানী কী, যাকাত কী। এক রাতে পৃথিবী থেকে মহান আল্লাহর কিতাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না। মানুষের (মুসলমানদের) কতক দল অবশিষ্ট থাকবে তাদের বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা বলবে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই)- এর অনুসারী দেখতে পেয়েছি। সুতরাং আমরাও সেই বাক্য বলতে থাকবো। (তাবিঈ) সিলা রাদিয়াল্লাহু আনহু হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বলায় তাদের কি উপকার হবে? অথচ তারা জানে না নামায কী, রোযা কী, হাজ্জ কী, কোরবানী কী এবং যাকাত কী। সিলাইবনু যুফার রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনবার কথাটির পুনরাবৃত্তি করলে তিনি প্রতিবার তার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেন। তৃতীয় বারের পর তিনি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, হে সিলা! এই কলেমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবে কথাটি তিনবার বলেন। হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
[২] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৫০। সহিহুল বুখারি ৭০৬৩。
[১] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৪৯।
📄 কিয়ামত পূর্বের কিছু ভয়াবহ মহামারী, যদিও তার কিছু কিছু এখন পরিলক্ষিত হয়
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যদ্বাণী কিছু অকল্যাণ যা অচিরেই ধেয়ে আসছে-
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسُ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا . وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلا أُخِذُوا بِالسِّنِينَ وَشِدَّةِ الْمَؤُنَةِ وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ . وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلا مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ وَلَوْلاَ الْبَهَائِمُ لَمْ يَنظُرُوا وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللهِ وَعَهْدَ رَسُولِهِ إِلا سَلَّطَ اللهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ . وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنزَلَ اللهُ إِلا جَعَلَ اللهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ ".
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলেন-হে মুহাজিরান! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগ-রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভু-পৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসক বর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযীলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন।
حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللهِ التَّرْمِذِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ أَبُو فَضَالَةَ الشَّامِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلِي، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشْرَةَ خَصْلَةٌ حَلَّ بِهَا الْبَلاءُ " . فَقِيلَ وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ " إِذَا كَانَ الْمَغْنَمُ دُوَلاً وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَأَطَاعَ الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَبَرَّ صَدِيقَهُ وَجَفَا أَبَاهُ وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَafَةَ شَرِهِ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلُبِسَ الْحَرِيرُ وَاتَّخِذَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ أَوْ خَسْفًا وَمَسْخًا "
আলি ইবনু আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমার উম্মত যখন পনেরটি বিষয়ে লিপ্ত হয়ে পড়বে তখন তাদের উপর বিপদ-মুসীবত এসে পড়বে। প্রশ্ন করা হল ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন, যখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানাত লুটের মালে পরিণত হবে, যাকাত জরিমানা রূপে গণ্য হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুর সাথে ভাল ব্যবহার করবে কিন্তু পিতার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে, মসজিদে শোরগোল করা হবে, সবচাইতে খারাপ চরিত্রের লোক হবে তার সম্প্রদায়ের নেতা, কোন লোককে তার অনিষ্টতার ভয়ে সম্মান করা হবে, মদ পান করা হবে, রেশমী বস্ত্র পরিধান করা হবে, নর্তকী গায়িকাদের প্রতিষ্ঠিত করা হবে, বাদ্যযন্ত্রসমূহের কদর করা হবে এবং এই উম্মাতের শেষ যামানার লোকেরা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা একটি অগ্নি বায়ু অথবা ভূমিধ্বস অথবা চেহারা বিকৃতির আজাবের অপেক্ষা করবে।
وقال الحافظ أبو بكر البزار: حدثنا محمد بن الحسين القيسي، حدثنا يونس بن أرقم، حدثنا إبراهيم بن عبد الله بن حسن بن حسن، عن زيد بن علي بن الحسين، عن أبيه، عن جده، عن علي بن أبي طالب قال: صلى بنا رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صلاة الصبح فلما صلى صلاته ناداه رجل متى الساعة فزبره رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وانتهره وقال اسكت حتى إذا أسفر رفع طرفه إلى السماء فقال:
تبارك رافعها ومدبرها ثم رى ببصره إلى الأرض فقال تبارك داحيها وخالقها، ثم قال أبن السائل عن الساعة فجثا الرجل على ركبتيه فقال أنا بأبي أنت وأمي سألتك فقال: "ذلك عند حيف الأئمة وتصديق بالنجوم وتكذيب بالقدر، وحتى تتخذ الأمانة مغنماً والصَّدقَةُ مَغْرَماً والفاحِشَةُ زِيَادَة فَعِنْدَ ذلكَ هَلَكَ قَوْمُكَ."
আলি ইবনু আবী তালিব বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন। যখন তিনি নামায শেষ করলেন, তখন এক লোক তাঁকে ডাক দিয়ে বললো, কিয়ামত কখন হবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তিরস্কার করলেন। বললেন, চুপ করো। অতঃপর যখন ভোের শুভ্র হল তিনি আসমানের পানে হাত তুলে বলতে লাগলেন, আসমানকে উচুকারী ও তার একক নিয়ন্ত্রণকারী স্রষ্টা আপনি কত মহান। কত বরকতময়। অতঃপর তিনি জমিনের দিকে তাকালেন, বললেন, কত বরকতময় তিনি যিনি একে সৃজন করে বিছিয়ে দিয়েছেন। অতপর তিনি জিজ্ঞাস করলেন কেয়মত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি হাঁটু গেড়ে বসল। তারপর বললো আমি! আমার বাবা-মা আপনার তরে কুরবান হোক। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিয়ামত তখন হবে যখন উম্মাহর পতন ঘটবে। তারা তারকা জ্ঞানকে বিশ্বাস করবে। ক্বদরকে অস্বীকার করবে। তারা আমনতকে গণিমত মনে করবে। দান-খয়রাতকে জরিমানা মনে করবে। পাপাচার বৃদ্ধি পাবে। তখনই তোমার জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، عَنِ الْمُسْتَلِمِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ رميح الْجَذَائِي، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اتَّخِذَ الْفَيْءُ دُولاً وَالأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَتُعُلِمَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَعَقَ أُمَّهُ وَأَدْنَى صَدِيقَهُ وَأَقْصَى أَبَاهُ وَظَهَرَتِ الأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَسَادَ الْقَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ وَزُلْزَلَةٌ وَخَسْفًا وَمَسْخًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِي . وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ هَذَا
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যখন গণিমতের (যুদ্ধলব্ধ) মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানতের মাল লুটের মালে পরিণত হবে, যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, ধর্ম বিবর্জিত শিক্ষার প্রচলন হবে, পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়ে যাবে কিন্তু নিজ মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধু-বান্ধবকে কাছে টেনে নিবে, কিন্তু পিতাকে দূরে ঠেলে দিবে, মসজিদে কলরব ও হট্টগোল করবে, পাপাচারীরা গোত্রের নেতা হবে, নিকৃষ্ট লোক সমাজের কর্ণধার হবে, কোন মানুষের অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য তাকে সম্মান দেখানো হবে, গায়িকা-নর্তকী ও বাদ্য যন্ত্রের বিস্তার ঘটবে, মদপান করা হবে, এই উম্মাতের শেষ যামানার লোকেরা তাদের পূর্ববর্তী মনীষীদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিধস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণরূপ শাস্তির এবং আরো আলামতের অপেক্ষা করবে যা একের পর এক নিপতিত হতে থাকবে, যেমন পুরানো পুঁতিরমালা ছিঁড়ে গেলে একের পর এক তার পুঁতি ঝরে পড়তে থাকে।
حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْقُدُّوسِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ وَمَسْخُ وَقَدْفُ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَتَى ذَاكَ قَالَ " إِذَا ظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ ".
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ভূমিধ্বংস, চেহারা বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণস্বরূপ আযাব এ উম্মাতের মাঝে আসবে। জনৈক মুসলিম ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কখন এসব আযাব সংঘটিত হবে? তিনি বললেন যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র বিস্তৃতি লাভ করবে এবং মদ্যপানের সয়লাব হবে।
مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَتْ أُمَّتِي الْمُطَيْطِيَاءَ وَخَدَمَهَا أَبْنَاءُ الْمُلُوكِ أَبْنَاءُ فَارِسَ وَنُزُومِ سُلْطَ شِرَارُهَا عَلَى خِيَارِهَا .
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যখন আমার উম্মত দাম্ভিকতার সাথে চলবে এবং পারাস্য ও রোমের রাজবংশের লোকেরা তাদের দাসানুদাস হবে তখন এই উম্মাতের উত্তম ব্যক্তিদের উপর দুষ্ট ব্যক্তিদের কর্তিত্ব চাপিয়ে দেয়া হবে।
عن أبي هريرة عن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: "نحن الآخرون الأولون يوم القيامة، نحن أول الناس دخولاً إلى الجنة"،
আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমরা সবশেষে আগত উম্মত, কিন্তু ক্বিয়ামাতের দিন আমরা হব সর্বাগ্রবর্তী, আমরাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব।
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَا حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ الْآخِرُونَ الأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَنَحْنُ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ .
আবু হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমরা সবশেষে আগত উম্মত, কিন্তু ক্বিয়ামাতের দিন আমরা হব সর্বাগ্রবর্তী, আমরাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব।
روى الحافظ الضياء من طريق عبد الله بن محمد بن عقيل، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن عمر بن الخطاب، عن رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “ইন الجنة حرمت على الأنبياء كلهم حتى أدخلها، وحرمت على الأمم حتى أدخلها أمتي“।
সাঈদ ইবনু ইবনুল মুসাইয়িব উমর ইবনুল খাত্তাবের থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমি জান্নাতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত সমস্ত নবিকে জান্নাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছ এবং আমার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত অন্যান্য উম্মাতের জান্নাতে প্রবেশ নিষেধ।”
নোট: এখানে মূলত উম্মতে মুহাম্মাদীর শ্রেষ্ঠত্ব বুঝানো হয়েছে।
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِي، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِي، عَنْ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالَآنِي، عَنْ أَبِي خَالِدٍ، مَوْلَى آلِ جَعْدَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَرَانِي بَابَ الْجَنَّةِ الَّذِي تَدْخُلُ مِنْهُ أُمَّتِي . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ مَعَكَ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي ".
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে—একবার আমার কাছে জিবরাইল আসলেন। আমার হাত ধরলেন। আমার উম্মত যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে তা দেখাতে লাগলেন। তখন আবু বকর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি আপনার সাথে থাকতে পারতাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবু বকর তুমিই আমার উম্মতের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
فيقول الله: أدخل من لا حساب عليه، من أمتك من الباب الأيمن، وهم شركاء الناس في بقية الأبواب،
আল্লাহ আ'আলা বলেন—আপনার উম্মত তেকে আমি অগণিত লোকদের বিনা হিসাবে জান্নাতে ডান দরজা দিয়ে প্রবেশ করাবো। বাকী উম্মাহ্ অন্যান্য দরজা মিলে-ঝিলে প্রবেশ করবে।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ حَدَّثَنِي مَعْنُ قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرُ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا عَلَى مَنْ دُعِيَ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ كُلِّهَا قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যে কেউ আল্লাহ্র পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকা হবে, হে আল্লাহ্র বান্দা! এটাই উত্তম। অতএব যে সালাত আদায়কারী, তাকে সলাতের দরজা হতে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ, তাকে জিহাদের দরজা হতে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী, তাকে রাইয়্যান দরজা হতে ডাকা হবে। যে সদাকাহ দানকারী, তাকে সদাকার দরজা হতে ডাকা হবে। এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার জন্য আমার পিতা- মাতা কুরবান হোক, সকল দরজা হতে কাউকে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই, তবে কি কাউকে সব দরজা হতে ডাকা হবে? আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " فِي الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ، فِيهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانَ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ
সাহল ইবনু সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—জান্নাতে আটটি দরজা থাকবে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম হবে রাইয়্যান। সাওম পালনকারী ছাড়া অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না।
টিকাঃ
[১] হাসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। হাদিসে কিছু উদ্ভট কথাও আছে। সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০১৯。
[১] সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৪/২২১০। হাদিসের মান: আলবানি রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে দুর্বল হাদিস বলেছেন。
আবু ঈসা বলেন—এ হাদিসটি গরিব। আমরা শুধুমাত্র উক্ত সূত্রেই এটিকে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসরূপে জেনেছি। আল-ফারাজ ইবনু ফাযালা রাহিমাহুল্লাহ ব্যতীত আর কেউ এই হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারী রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। কোন কোন হাদিসবেত্তা আল-ফারাজ ইবনু ফাযালার সমালোচনা করেছেন এবং স্মৃতিশক্তির দিক থেকে তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। ওয়াকী রাহিমাহুল্লাহ এবং আরও কিছু রাবী তার সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন。
[১] আবূ ঈসা বলেন-এ অনুচ্ছেদে আলী রাযি. হতেও হাদিস বর্ণিত আছে, এ হাদিসটি গরিব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদিস জেনেছি। সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২২১১। হাদিসের মান আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন-হাদিসটি দুর্বল হাদিস。
[২] সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ৪/২২১২। হাদিসের মান: আলবানি রাহিমাহুল্লাহ হিাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদিসটি মুরসালভাবেও আ'মাশ হতে
আবদুর রাহমান ইবনু সাবিত এর বরাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি গরিব。
[১] সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬১। হাদিসের মান: আলবানি রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। আবু ইসা রা. বলেন—এই হাদিসটি গরিব。
[২] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৬৫。
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪৬৫২。
[২] জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং-২৪৩৪。
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং-১৮৯৭。
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং-৩২৫৭。