📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ মুসলিম জাতির শাসনভার গ্রহন করবে

📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ মুসলিম জাতির শাসনভার গ্রহন করবে


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَكُونُ اثْنَا عَشَرَ أَمِيرًا فَقَالَ কَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ أَبِي إِنَّهُ قَالَ كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ.

জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বারো জন আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন, সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে।

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " لا يَزَالُ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ تَجْتَمِعُ عَلَيْهِ الْأُمَّةُ " . فَسَمِعْتُ كَلامًا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ أَفْهَمْهُ قُلْتُ لِأَبِي مَا يَقُولُ قَالَ " كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ "

জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এ দ্বীন ততদিন প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতদিন তোমাদের শাসকরূপে বারো জন প্রতিনিধির অবির্ভাব না হবে। তাদের প্রত্যেক উম্মতকে তার পাশে একত্র করবে। অতঃপর আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেকটি কথা শুনলাম, তবে তা বুঝতে পারিনি। পরে আমার পিতাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, তাদের সবাই কুরাইশ বংশোদ্ভূত হবে।

নোট: এই বারো জন দ্বারা রাফেজিরা যাদের মনে করেন তারা উদ্দিষ্ট নন। আর তারা যা ধারণা করে থাকে, তা মিথ্যা এবং ভ্রষ্টতা। বরং এই বারো জন ইমাম তারা দোষমুক্ত। কারণ তাদের সিংহ ভাগই এই জাতির ধারাবাহিক খিলাফাহ্ কিংবা নেত্রেত্বের কোনো দায়িত্বেই ন্যস্ত হননি। বরং তারা দেশ ও দেশের কোনো স্তরেই, কোনো জনপদেই তাদের তেমন কোনো অবদান ছিল না। বরং দুজন- হযরত আলি এবং তাঁর পুত্র হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফাহ্ ও নেতৃত্বের কাজে উম্মাহর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।

টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১/৮৪।
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭২২২।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 এই বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ দ্বারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তি বারো জন উদ্দেশ্য নয়

📄 এই বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ দ্বারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তি বারো জন উদ্দেশ্য নয়


বারোজন দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যামানা পরবর্তি ধারাবাহিক বারোজন উদ্দেশ্য নয়, যারা উমাইয়াদের রাজত্বকাল অবধি ছিল। কেননা সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি তাদের এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে।

حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِلَافَةُ النُّبُوَّةِ ثَلَاثُونَ سَنَةً ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ - أَوْ مُلْكَهُ - مَنْ يَشَاءُ " . قَالَ سَعِيدُ قَالَ لِي سَفِينَةُ أَمْسِكْ عَلَيْكَ أَبَا بَكْرٍ سَنَتَيْنِ وَعُمَرَ عَشْرًا وَعُثْمَانَ اثْنَتَيْ عَشْرَةً وَعَلِيٌّ كَذَا قَالَ سَعِيدُ قُلْتُ لِسَفِينَةَ إِنَّ هَؤُلَاءِ يَزْعُمُونَ أَنَّ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلامُ لَمْ يَكُنْ بِخَلِيفَةٍ . قَالَ كَذَبَتْ أَسْتَاهُ بَنِي الزَّرْقَاءِ يَعْنِي بَنِي مَرْوَانَ .

সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-নবুওয়াতের ভিত্তিতে পরিচালিত খিলাফত ত্রিশ বছর অব্যাহত থাকবে। অতঃপর আল্লাহর যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা তাঁর রাজত্ব দান করবেন। সাঈদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, হিসেব করো, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুই বছর, 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু দশ বছর, 'উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বারো বছর ও আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু এতো বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম, এরা ধারণা করে যে, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা ছিলেন না। তিনি বলেন, বনি যারকা অর্থাৎ মারওয়ানের বংশধরাসৃণ মিথ্যা বলেছে।

যদিও ইমাম বাইহাকী রাহিমাহুল্লাহ এই ধারার বারো জনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আমরা দালায়েলুন নবুওয়্যাত গ্রন্থে তার মতটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যার কারণে আমরা এখানে আর তা দ্বিতীয় বার পুনরুল্লেখ করছি না। তবে এই বারো জনের মধ্যে আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলি এবং তাঁর পুত্র হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে গণনা করেছেন। ওমর ইবনু আবদুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহকেও অনেক ইমাম ও জামহুরুল উলামা তাদের কাতারে গণনা করেছেন।

নোট: পাশাপাশি বনি আব্বাসের থেকে একটি দলকে সে গণনায় ঠায় দেয়া হয়েছিল। আর তাদের অবশিষ্টদের পরবর্তি যামানায় আগমন ঘটবে। এমনকি হাদিসের ছত্রে-ছত্রে সুসংবাদকৃত মাহদি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৭৯। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 বানোয়াট বর্ণনা (কিয়ামতের ক্ষুদ্র) আলামতসমূহ দু'শত বছর পর প্রকাশ পেতে থাকবে

📄 বানোয়াট বর্ণনা (কিয়ামতের ক্ষুদ্র) আলামতসমূহ দু'শত বছর পর প্রকাশ পেতে থাকবে


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِي الْخَلالُ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي قتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " الْآيَاتُ بَعْدَ الْمِائَتَيْنِ ".
আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-(কিয়ামতের) আলামতসমূহ দু'শত বছর পর প্রকাশ পেতে থাকবে।
এরপর ইবনু মাজাহ হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো দুটি সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এগুলোর কোনটিই ছহিহ নয়। যদি সহিহ হয়ে থাকে তাহলে তার উদ্দিষ্ট অর্থ হবে খলকে কুরআনের মতাদর্শ ও তার প্রভাবে ঘটমান ফিতনাসমূহ এবং ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ ও তার সঙ্গী আহলে হাদিসগণের কষ্ট-ক্লেশ।
উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। তারপর ফাসাদ প্রকাশ পাবে।
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، سَمِعْتُ زَهْدَمَ بْنَ مُضَرِّبٍ، سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ". قَالَ عِمْرَانُ فَلا أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاثًا " ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذُرُونَ وَلَا يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السَّمَنُ .
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। ইমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু'যুগ অথবা তিনি যুগ বলেছেন তা আমার স্মরণ নেই। অতঃপর এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না। তারা হবে চর্বিওয়ালা মোটাসোটা।

টিকাঃ
[২] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৫৭।
[১] রাবী রওদ ইবনু জারাহ তিনি মুনকার বর্ণনাকারী। তিনি সুফিয়ান সাওরী থেকে হুযাইফা রাযি.-এর বরাতে একটি মারফু হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- "তোমাদের মাঝে দুশো বছর খফিফুল হাজ্জ উত্তম। জিজ্ঞাসা করা হল ইয়া রাসুল্লাহ খাফিফুল হাজ্জ কে! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার কোন মাল নেই। আর নেই কোন পরিবার বা সন্তান নেই।" এটি মুনকার বর্ণনা।
কানজুল উম্মাল ১১/৩১৩০২। যইফ জামেউস সগির ২৯১৮। আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হাদিসটি মাউযু। [২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৬৫০।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 অর্ধদিন পাঁচ শত বছরের সমান

📄 অর্ধদিন পাঁচ শত বছরের সমান


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنِي صَفْوَانُ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا تُعْجَزَ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّهَا أَنْ يُؤَخِّرَهُمْ نِصْفَ يَوْمٍ " . قِيلَ لِسَعْدٍ وَكَمْ نِصْفُ يَوْمٍ قَالَ خَمْسُ مِائَةٍ سَنَةً
সা'দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে এ কামনা করতে পারি যে, আমার উম্মত তার রবের নিকট মাত্র অর্ধদিনের অবকাশে (হিসাব-নিকাশ দিতে) অক্ষম হবে না। সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে প্রশ্ন করা হলো, অর্ধদিন কতটুকু সময়ের? তিনি বললেন, পাঁচশত বছরের সমান। ইমাম আবু দাউদ একক সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ অনুরূপ বর্ণনা করেন। আর যদি হাদিসটি সহিহ হয়ে থাকে তাহলে উল্লেখিত সময়সীমা দ্বারা নির্দিষ্ট সময় উদ্দেশ্য নয় এবং তা এর চেয়ে বেশি সময় হওয়াকে তা নিষেধ করে না।

টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩৫০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px