📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : কতক বালক মুসলমানদের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করবে

📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : কতক বালক মুসলমানদের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করবে


مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي جَدِي قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ وَمَعَنَا مَرْوَانُ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ الصَّادِقَ الْمَصْدُوقَ يَقُولُ هَلَكَةُ أُمَّتِي عَلَى يَدَيْ غِلْمَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ مَرْوَانُ لَعْنَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ غِلْمَةً فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَوْ شِئْتُ أَنْ أَقُولَ بَنِي فُلَانٍ وَبَنِي فُلَانٍ لَفَعَلْتُ فَكُنْتُ أَخْرُجُ مَعَ جَدِِّي إِلَى بَنِي مَرْوَانَ حِينَ مُلِكُوا بِالشَّامِ فَإِذَا رَآهُمْ غِلْمَانًا أَحْدَانًا قَالَ لَنَا عَسَى هَؤُلَاءِ أَنْ يَكُونُوا مِنْهُمْ قُلْنَا أَنْتَ أَعْلَمْ.

আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ ইবনু 'আম্র ইবনু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদা আমাকে জানিয়েছেন যে, আমি আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে মদিনায় নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। আমাদের সঙ্গে মারওয়ানও ছিল। এ সময় আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি 'আস্-সাদিকুল মাসদুক' (সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসাবে স্বীকৃত) -কে বলতে শুনেছি আমার উম্মাতের ধ্বংস কুরাইশের কতক বালকের হাতে হবে। তখন মারওয়ান বলল, এ সব বালকের প্রতি আল্লাহ্ 'লানত' বর্ষিত হোক। আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি যদি বলার ইচ্ছা করি যে তারা অমুক অমুক গোত্রের লোক তাহলে বলতে সক্ষম হবো। আম্র ইবনু ইয়াহ্ইয়া বলেন, মারওয়ান যখন সিরিয়ায় ক্ষমতায় আসীন হলো, তখন আমি আমার দাদার সাথে সেখানে গেলাম। তিনি যখন তাদের কম বয়সের বালক দেখতে পেলেন, তখন তিনি আমাদের বললেন, সম্ভবত এরা ঐ দলেরই লোক। আমরা বললাম, এ ব্যাপারে আপনিই ভাল জানেন।

নোট: এ বিষয়ে প্রচুর হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যা বিস্তারিত আমি “দালায়েলুন নাবুওয়্যাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। হাদিসে মিথ্যাবাদী এবং ছাকীফের রাজপুত্রের (মুবির) ঘটনা উল্লেখ করেছি। মিথ্যাবাদী হলো মুখতার ইবনু আবি ওবায়েদ, যে আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়েরর যুগে কুফায় হাজির হয়েছিলো। সে রাফেজি ছিল। বরং সে নাস্তিক প্রকৃতির ছিলো। সে দাবী করতো তার কাছে নাকি ওহি আসে। আর প্রচারক (মুবির) হলো হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আল-ছাকাফি যে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করেছিলো। বনু উমাইয়া থেকে ক্ষমতা নিয়ে নেয়ার সময় বানু আব্বাস যে কালো পতাকা নিয়ে এসেছিল তার বর্ণনাটি পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। তখন সময় কাল ছিল একশত বত্রিশ হিজরী। তখন মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ-এর থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। তিনি মারওয়ান আল-হামার বা মারওয়ান আল-জা'দি নামেও পরিচিত। দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের শেষ খলিফা ছিলেন। তাকেও হত্যা করা হয়।

হযরত মু'আজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা এই দ্বীনকে নবুওয়াত ও রহমতের মাধ্যমে শুরু করেছেন। অচিরেই তা খিলাফাত ও রহমতে রূপ নেবে এবং সম্মান ও ইজ্জত হবে। এরপর উত্থান পতন ঘটবে। পরে তা ফিতনায় জর্জরিত রাজতন্ত্রে পাল্টাবে। ফলে মানুষ মদ-জুয়া, যিনা-ব্যভিচার, হারাম পোশাক-রেশমী কাপড়কে বৈধতার সার্টিফিকেট দিবে।

আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-নবিগণের পরে উত্তরাধিকারী হন খলিফাগণ। তারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং আল্লাহর বান্দাদের সাথে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে চলবে। খলিফার পরে রাজাদের আবির্ভাব ঘটবে। তারা প্রতিশোধ নিবে এবং পুরুষদের হত্যা করবে। তারা অর্থ সম্পদ কব্জা করে নিবে। হাত দ্বারা তারা ধোঁকা দিবে। কথার মাধ্যমে তারা ধোঁকা দিবে। তারা অন্তর দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিবে। অথচ এ তিনটির বাহিরে ঈমানের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

আবু হাযিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর যাবৎ আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাহচর্যে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনি ইসরাঈলের নবিগণ তাঁদের উম্মতদের শাসন করতেন। যখন কোন একজন নবি মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোন নবি নেই। তবে অনেক খলিফা হবে। সাহাবাগণ আরয করলেন-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশ করছেন? তিনি বললেন, তোমরা একের পর এক করে তাদের বায়'আতের হক আদায় করবে। তোমাদের উপর তাদের যে হক রয়েছে তা আদায় করবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করবেন ঐ সকল বিষয়ে যে সবের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যে কোন নবির জন্য এমন কিছু সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ সহচর জুটেছিল, যারা তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করেছেন এবং তাঁর সুন্নতকে সমুন্নত রেখেছেন।

টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭০৫৮।
[১] মুসনাদে ইমাম আবু দাউদ আত তায়ালিসি ১/২২৮। হাদিসটি দুর্বল।
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং-৩৪৫৫।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ মুসলিম জাতির শাসনভার গ্রহন করবে

📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ মুসলিম জাতির শাসনভার গ্রহন করবে


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَكُونُ اثْنَا عَشَرَ أَمِيرًا فَقَالَ কَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ أَبِي إِنَّهُ قَالَ كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ.

জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বারো জন আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন, সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে।

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " لا يَزَالُ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ تَجْتَمِعُ عَلَيْهِ الْأُمَّةُ " . فَسَمِعْتُ كَلامًا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ أَفْهَمْهُ قُلْتُ لِأَبِي مَا يَقُولُ قَالَ " كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ "

জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এ দ্বীন ততদিন প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতদিন তোমাদের শাসকরূপে বারো জন প্রতিনিধির অবির্ভাব না হবে। তাদের প্রত্যেক উম্মতকে তার পাশে একত্র করবে। অতঃপর আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেকটি কথা শুনলাম, তবে তা বুঝতে পারিনি। পরে আমার পিতাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, তাদের সবাই কুরাইশ বংশোদ্ভূত হবে।

নোট: এই বারো জন দ্বারা রাফেজিরা যাদের মনে করেন তারা উদ্দিষ্ট নন। আর তারা যা ধারণা করে থাকে, তা মিথ্যা এবং ভ্রষ্টতা। বরং এই বারো জন ইমাম তারা দোষমুক্ত। কারণ তাদের সিংহ ভাগই এই জাতির ধারাবাহিক খিলাফাহ্ কিংবা নেত্রেত্বের কোনো দায়িত্বেই ন্যস্ত হননি। বরং তারা দেশ ও দেশের কোনো স্তরেই, কোনো জনপদেই তাদের তেমন কোনো অবদান ছিল না। বরং দুজন- হযরত আলি এবং তাঁর পুত্র হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফাহ্ ও নেতৃত্বের কাজে উম্মাহর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।

টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১/৮৪।
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭২২২।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 এই বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ দ্বারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তি বারো জন উদ্দেশ্য নয়

📄 এই বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ দ্বারা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তি বারো জন উদ্দেশ্য নয়


বারোজন দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যামানা পরবর্তি ধারাবাহিক বারোজন উদ্দেশ্য নয়, যারা উমাইয়াদের রাজত্বকাল অবধি ছিল। কেননা সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি তাদের এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে।

حَدَّثَنَا سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِلَافَةُ النُّبُوَّةِ ثَلَاثُونَ سَنَةً ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ - أَوْ مُلْكَهُ - مَنْ يَشَاءُ " . قَالَ سَعِيدُ قَالَ لِي سَفِينَةُ أَمْسِكْ عَلَيْكَ أَبَا بَكْرٍ سَنَتَيْنِ وَعُمَرَ عَشْرًا وَعُثْمَانَ اثْنَتَيْ عَشْرَةً وَعَلِيٌّ كَذَا قَالَ سَعِيدُ قُلْتُ لِسَفِينَةَ إِنَّ هَؤُلَاءِ يَزْعُمُونَ أَنَّ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلامُ لَمْ يَكُنْ بِخَلِيفَةٍ . قَالَ كَذَبَتْ أَسْتَاهُ بَنِي الزَّرْقَاءِ يَعْنِي بَنِي مَرْوَانَ .

সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-নবুওয়াতের ভিত্তিতে পরিচালিত খিলাফত ত্রিশ বছর অব্যাহত থাকবে। অতঃপর আল্লাহর যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা তাঁর রাজত্ব দান করবেন। সাঈদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, হিসেব করো, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুই বছর, 'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু দশ বছর, 'উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বারো বছর ও আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু এতো বছর খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাঈদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি সাফীনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম, এরা ধারণা করে যে, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা ছিলেন না। তিনি বলেন, বনি যারকা অর্থাৎ মারওয়ানের বংশধরাসৃণ মিথ্যা বলেছে।

যদিও ইমাম বাইহাকী রাহিমাহুল্লাহ এই ধারার বারো জনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আমরা দালায়েলুন নবুওয়্যাত গ্রন্থে তার মতটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যার কারণে আমরা এখানে আর তা দ্বিতীয় বার পুনরুল্লেখ করছি না। তবে এই বারো জনের মধ্যে আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলি এবং তাঁর পুত্র হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে গণনা করেছেন। ওমর ইবনু আবদুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহকেও অনেক ইমাম ও জামহুরুল উলামা তাদের কাতারে গণনা করেছেন।

নোট: পাশাপাশি বনি আব্বাসের থেকে একটি দলকে সে গণনায় ঠায় দেয়া হয়েছিল। আর তাদের অবশিষ্টদের পরবর্তি যামানায় আগমন ঘটবে। এমনকি হাদিসের ছত্রে-ছত্রে সুসংবাদকৃত মাহদি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

টিকাঃ
[১] সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৭৯। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।

📘 আল ফিতান ওয়াল মালাহিম 📄 বানোয়াট বর্ণনা (কিয়ামতের ক্ষুদ্র) আলামতসমূহ দু'শত বছর পর প্রকাশ পেতে থাকবে

📄 বানোয়াট বর্ণনা (কিয়ামতের ক্ষুদ্র) আলামতসমূহ দু'শত বছর পর প্রকাশ পেতে থাকবে


حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِي الْخَلالُ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي قتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " الْآيَاتُ بَعْدَ الْمِائَتَيْنِ ".
আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-(কিয়ামতের) আলামতসমূহ দু'শত বছর পর প্রকাশ পেতে থাকবে।
এরপর ইবনু মাজাহ হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো দুটি সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এগুলোর কোনটিই ছহিহ নয়। যদি সহিহ হয়ে থাকে তাহলে তার উদ্দিষ্ট অর্থ হবে খলকে কুরআনের মতাদর্শ ও তার প্রভাবে ঘটমান ফিতনাসমূহ এবং ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ ও তার সঙ্গী আহলে হাদিসগণের কষ্ট-ক্লেশ।
উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। তারপর ফাসাদ প্রকাশ পাবে।
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، سَمِعْتُ زَهْدَمَ بْنَ مُضَرِّبٍ، سَمِعْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ". قَالَ عِمْرَانُ فَلا أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاثًا " ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذُرُونَ وَلَا يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السَّمَنُ .
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। ইমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু'যুগ অথবা তিনি যুগ বলেছেন তা আমার স্মরণ নেই। অতঃপর এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না। তারা হবে চর্বিওয়ালা মোটাসোটা।

টিকাঃ
[২] সুনানে ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ৪০৫৭।
[১] রাবী রওদ ইবনু জারাহ তিনি মুনকার বর্ণনাকারী। তিনি সুফিয়ান সাওরী থেকে হুযাইফা রাযি.-এর বরাতে একটি মারফু হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- "তোমাদের মাঝে দুশো বছর খফিফুল হাজ্জ উত্তম। জিজ্ঞাসা করা হল ইয়া রাসুল্লাহ খাফিফুল হাজ্জ কে! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার কোন মাল নেই। আর নেই কোন পরিবার বা সন্তান নেই।" এটি মুনকার বর্ণনা।
কানজুল উম্মাল ১১/৩১৩০২। যইফ জামেউস সগির ২৯১৮। আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হাদিসটি মাউযু। [২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৬৫০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية