📄 নববি ভবিষ্যতবাণী : মুসলমানদের একটি বাহিনী অতি শীঘ্রই হিন্দ এবং সিন্দ্ পৌঁছবে
حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَةِ بَعْثُ إِلَى السِّنْدِ وَالْهِنْدِ ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ ، وَإِنْ أَنَا - فَذَكَرَ كَلِمَةً - رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّরُ ، قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النَّارِ.
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সত্যবাদী বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন—এ উম্মাহর একটি দল সিন্দ ও হিন্দের দিকে যাবে। আমি তা পেলে আমি শাহাদাত বরণ করলে, করতাম। আমি যদি... তারপর কিছু উল্লেখ করলেন। [আমি যদি যেতে পারি, আবার] ফিরে আসি, তো আমি আবু হুরাইরাহ মুক্ত। আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন।
ব্যাখ্যা: মুসলমানরা হিন্দে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে ৪৪ হিজরিতে যুদ্ধ করেছে। সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আমি পূর্বে করে এসেছি। এছাড়াও সুলতান মাহমুদ গাজনবি রাহিমাহুল্লাহ হিন্দের গজনবিতে অভিযান পরিচালনা করেন। সুলতান মাহমুদের অভিযান ছিল ৪০০ হিজরিতে। সেখানে তিনি অনেক প্রসিদ্ধ কাজ এবং ঘটনা জন্ম দিয়েছেন। সেখানের সবচেয়ে বড় মন্দির সোমনাথ মন্দির ভেঙেছিলেন। সেখানের সম্পদ এবং তরবারি দখল করেন। এরপর তিনি অনেক গনিমতের সম্পদ অর্জিত করে সহিহ সালামতে নিজের দেশে ফিরে আসেন। উমাইয়া নওয়াব সিন্ধু ও চীনের সুদূর দক্ষিণে তুর্কিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল এবং তাদের রাজাকে পরাস্ত করেছিল। যাকে আল আ'জম বলা হলো। মুসলিম বাহিনী তাদের সৈন্যদের ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করেছিলেন। তাদের অর্থ এবং উপার্জনের অধিকারী হয়েছিলেন। আর হাদিসসমূহে তাদের গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে তার একটি একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা উল্লেখ করা হলো।
টিকাঃ
[২] মুসনাদে আহমাদ, ২২৪৪৯, মুসনাদে আবু হুরাইরা ৮৪৬৭। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ ভিন্ন আরেকটি সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেন। ইমাম নাসয়ী রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটি আরেকটি সনদে বর্ণনা করেন। আস সুনানুল মুযতাবা লিন নাসায়ী: ৬/৪২। কিতাবুল জিহাদ, বাব- গাযওয়াতুল হিন্দ, হাদিস: ৩১৭৩, ৩১৭৪ আস সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৩/২৮, বাব- গাযওয়াতুল হিন্দ হাদিস ৪৩৮২, ৪৩৮৩। মুসনাদে আহমাদ, হাদিস-২১৩৬২।
📄 নববি ভবিষ্যতবাণী : মুসলমানরা তুর্কীদের সাথে লড়াই করবে
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنْ الْأَعْرَجِ قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التَّرْكَ صِغَارَ الأَعْيُنِ حُمْرَ الْوُجُوهِ ذُلْفَ الْأُنُوفِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন – ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন তোমরা এমন তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপ্টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের মত। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।
حَدَّثَنِي يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُمَاسَةَ الْمَهْرِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ أَرْضًا يُذْكَرُ فِيهَا الْقِيرَاطُ فَاسْتَوْصُوا بِأَهْلِهَا خَيْرًا فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا .
حَدَّثَنِي يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوْزًا وَكَرْمَانَ مِنْ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فُطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ না হবে খুয ও কিরমান নামক স্থানে (বসবাসরত) অনারব জাতিগুলোর সঙ্গে, যাদের চেহারা লালবর্ণ, চেহারা যেন পিটানো ঢাল, নাক চেপ্টা, চোখ ছোট এবং জুতা পশমের।
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُوْلُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا يَنْتَعِلُوْنَ نِعَالَ الشَّعَرِ وَإِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْমًا عِرَاضَ الْوُجُوْهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ
আমর ইবনু তাগলিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের আলামতসমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে চওড়া, তাদের মুখমণ্ডল যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।
নোট: এরা হবে পারস্যবাসী অথবা পাহাড়বাসী অনারব। একবার সুফইয়ান বলেছেন-তারা পারস্যবাসী বা পাহাড়বাসী অনারব।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُফْيَانُ قَالَ قَالَ إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنِي قَيْسُ قَالَ أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةً فَقَالَ صَحِبْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ سِنِينَ لَمْ أَكُنْ فِي سِنِي أَحْرَصَ عَلَى أَنْ أَعِيَ الْحَدِيثَ مِنِّي فِيهِنَّ سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ وَقَالَ هَكَذَا بِيَدِهِ بَيْنَنَا فِي السَّاعَةِ تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نِعَالُهُمْ الشَّعَرُ وَهُوَ هَذَا الْبَارِزُ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً وَهُمْ أَهْلُ الْبَازِ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তিন বছর কাটিয়েছি। আমার জীবনে হাদিস মুখস্থের আগ্রহ এই তিন বছরের চেয়ে বেশি আর কখনো ছিল না। আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। এরা হবে পারস্যবাসী অথবা পাহাড়বাসী অনারব এবং একবার সুফইয়ান বলেছেন, তারা পারস্যবাসী বা পাহাড়বাসী অনারব।
নোট: উদ্দেশ্য হলো, তুর্কিদের সাথে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু যুদ্ধ করেছেন। গনিমত লাভ করেছেন। তাদের মহিলা এবং তাদের শিশুদের বন্দি করেছেন।
ব্যাখ্যা: এই হাদিসের বাহ্যিক দাবি হলো এটি কিয়ামতের পূর্ব শর্ত সমূহের একটি। আর যদি এটি কিয়ামতের লক্ষণগুলির মধ্যে হয়ে থাকে, তবে এই যুদ্ধ মুসলমান এবং তুর্কিদের মধ্যে আবারও সংঘটিত হতে পারে। এবং যুদ্ধের শেষে ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব ঘটবে। অচিরেই এদের আলোচনা আসছে। আর যদি এটি কিয়ামতের সাধারণ আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয় তাহলে বলা যায় এটি ঘটে গেছে। যদিও তা কিয়ামতের অনেক যুগ পূর্বেই ঘটে থাকে। তবে অবশ্যই তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানার পরেই হবে। এই পরিচ্ছেদের বর্ণিত হাদিসগুলি নিয়ে চিন্তা করার পর এটিই স্পষ্ট হয়।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৯২৮!
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৫৯০।
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৯২৭। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটি আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ী ব্যতীত সকলেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ আবু হুরাইরা থেকে অনুরূপ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৫৯১।
📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : কতক বালক মুসলমানদের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করবে
مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي جَدِي قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ وَمَعَنَا مَرْوَانُ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ الصَّادِقَ الْمَصْدُوقَ يَقُولُ هَلَكَةُ أُمَّتِي عَلَى يَدَيْ غِلْمَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ مَرْوَانُ لَعْنَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ غِلْمَةً فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَوْ شِئْتُ أَنْ أَقُولَ بَنِي فُلَانٍ وَبَنِي فُلَانٍ لَفَعَلْتُ فَكُنْتُ أَخْرُجُ مَعَ جَدِِّي إِلَى بَنِي مَرْوَانَ حِينَ مُلِكُوا بِالشَّامِ فَإِذَا رَآهُمْ غِلْمَانًا أَحْدَانًا قَالَ لَنَا عَسَى هَؤُلَاءِ أَنْ يَكُونُوا مِنْهُمْ قُلْنَا أَنْتَ أَعْلَمْ.
আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ ইবনু 'আম্র ইবনু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদা আমাকে জানিয়েছেন যে, আমি আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে মদিনায় নবি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। আমাদের সঙ্গে মারওয়ানও ছিল। এ সময় আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি 'আস্-সাদিকুল মাসদুক' (সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসাবে স্বীকৃত) -কে বলতে শুনেছি আমার উম্মাতের ধ্বংস কুরাইশের কতক বালকের হাতে হবে। তখন মারওয়ান বলল, এ সব বালকের প্রতি আল্লাহ্ 'লানত' বর্ষিত হোক। আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি যদি বলার ইচ্ছা করি যে তারা অমুক অমুক গোত্রের লোক তাহলে বলতে সক্ষম হবো। আম্র ইবনু ইয়াহ্ইয়া বলেন, মারওয়ান যখন সিরিয়ায় ক্ষমতায় আসীন হলো, তখন আমি আমার দাদার সাথে সেখানে গেলাম। তিনি যখন তাদের কম বয়সের বালক দেখতে পেলেন, তখন তিনি আমাদের বললেন, সম্ভবত এরা ঐ দলেরই লোক। আমরা বললাম, এ ব্যাপারে আপনিই ভাল জানেন।
নোট: এ বিষয়ে প্রচুর হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যা বিস্তারিত আমি “দালায়েলুন নাবুওয়্যাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। হাদিসে মিথ্যাবাদী এবং ছাকীফের রাজপুত্রের (মুবির) ঘটনা উল্লেখ করেছি। মিথ্যাবাদী হলো মুখতার ইবনু আবি ওবায়েদ, যে আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়েরর যুগে কুফায় হাজির হয়েছিলো। সে রাফেজি ছিল। বরং সে নাস্তিক প্রকৃতির ছিলো। সে দাবী করতো তার কাছে নাকি ওহি আসে। আর প্রচারক (মুবির) হলো হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আল-ছাকাফি যে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করেছিলো। বনু উমাইয়া থেকে ক্ষমতা নিয়ে নেয়ার সময় বানু আব্বাস যে কালো পতাকা নিয়ে এসেছিল তার বর্ণনাটি পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। তখন সময় কাল ছিল একশত বত্রিশ হিজরী। তখন মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ-এর থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। তিনি মারওয়ান আল-হামার বা মারওয়ান আল-জা'দি নামেও পরিচিত। দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের শেষ খলিফা ছিলেন। তাকেও হত্যা করা হয়।
হযরত মু'আজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা এই দ্বীনকে নবুওয়াত ও রহমতের মাধ্যমে শুরু করেছেন। অচিরেই তা খিলাফাত ও রহমতে রূপ নেবে এবং সম্মান ও ইজ্জত হবে। এরপর উত্থান পতন ঘটবে। পরে তা ফিতনায় জর্জরিত রাজতন্ত্রে পাল্টাবে। ফলে মানুষ মদ-জুয়া, যিনা-ব্যভিচার, হারাম পোশাক-রেশমী কাপড়কে বৈধতার সার্টিফিকেট দিবে।
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-নবিগণের পরে উত্তরাধিকারী হন খলিফাগণ। তারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং আল্লাহর বান্দাদের সাথে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে চলবে। খলিফার পরে রাজাদের আবির্ভাব ঘটবে। তারা প্রতিশোধ নিবে এবং পুরুষদের হত্যা করবে। তারা অর্থ সম্পদ কব্জা করে নিবে। হাত দ্বারা তারা ধোঁকা দিবে। কথার মাধ্যমে তারা ধোঁকা দিবে। তারা অন্তর দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিবে। অথচ এ তিনটির বাহিরে ঈমানের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
আবু হাযিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর যাবৎ আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাহচর্যে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনি ইসরাঈলের নবিগণ তাঁদের উম্মতদের শাসন করতেন। যখন কোন একজন নবি মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোন নবি নেই। তবে অনেক খলিফা হবে। সাহাবাগণ আরয করলেন-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশ করছেন? তিনি বললেন, তোমরা একের পর এক করে তাদের বায়'আতের হক আদায় করবে। তোমাদের উপর তাদের যে হক রয়েছে তা আদায় করবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করবেন ঐ সকল বিষয়ে যে সবের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যে কোন নবির জন্য এমন কিছু সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ সহচর জুটেছিল, যারা তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করেছেন এবং তাঁর সুন্নতকে সমুন্নত রেখেছেন।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭০৫৮।
[১] মুসনাদে ইমাম আবু দাউদ আত তায়ালিসি ১/২২৮। হাদিসটি দুর্বল।
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং-৩৪৫৫।
📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : বারো জন কুরাইশি খলিফাহ্ মুসলিম জাতির শাসনভার গ্রহন করবে
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَكُونُ اثْنَا عَشَرَ أَمِيرًا فَقَالَ কَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ أَبِي إِنَّهُ قَالَ كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ.
জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, বারো জন আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বললেন যা আমি শুনতে পাইনি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন, সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " لا يَزَالُ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ تَجْتَمِعُ عَلَيْهِ الْأُمَّةُ " . فَسَمِعْتُ كَلامًا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ أَفْهَمْهُ قُلْتُ لِأَبِي مَا يَقُولُ قَالَ " كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ "
জাবির ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, এ দ্বীন ততদিন প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতদিন তোমাদের শাসকরূপে বারো জন প্রতিনিধির অবির্ভাব না হবে। তাদের প্রত্যেক উম্মতকে তার পাশে একত্র করবে। অতঃপর আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেকটি কথা শুনলাম, তবে তা বুঝতে পারিনি। পরে আমার পিতাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, তাদের সবাই কুরাইশ বংশোদ্ভূত হবে।
নোট: এই বারো জন দ্বারা রাফেজিরা যাদের মনে করেন তারা উদ্দিষ্ট নন। আর তারা যা ধারণা করে থাকে, তা মিথ্যা এবং ভ্রষ্টতা। বরং এই বারো জন ইমাম তারা দোষমুক্ত। কারণ তাদের সিংহ ভাগই এই জাতির ধারাবাহিক খিলাফাহ্ কিংবা নেত্রেত্বের কোনো দায়িত্বেই ন্যস্ত হননি। বরং তারা দেশ ও দেশের কোনো স্তরেই, কোনো জনপদেই তাদের তেমন কোনো অবদান ছিল না। বরং দুজন- হযরত আলি এবং তাঁর পুত্র হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু খিলাফাহ্ ও নেতৃত্বের কাজে উম্মাহর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।
টিকাঃ
[১] সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১/৮৪।
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৭২২২।