📄 আল্লাহ তা'আলা হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাধ্যমে বিবাদমান দু'দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন
حَدَّثَنَا صَدَقَهُ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى عَنْ الْحَسَنِ سَمِعَ أَبَا بَكْرَةً سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْحَسَنُ إِلَى جَنْبِهِ يَنْظُرُ إِلَى النَّاسِ مَرَّةً وَإِلَيْهِ مَرَّةً وَيَقُوْلُ ابْنِي هَذَا سَيِّدُ وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ
আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি—ঐ সময় হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান হচ্ছে নেতা। আল্লাহ তা'আলা তাঁর মাধ্যমে বিবাদমান দু'দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন। পরবর্তীতে বিষয়টি এমনই ঘটেছিল।
টিকাঃ
[২] সহিহ্বল বুখারি, ৭/৩৭৪৬, ৬/৭৬২৯।
📄 নবি ভবিষ্যদ্বাণী-উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহা এক নৌযুদ্ধে ইন্তেকাল করবেন
বুখারি ও মুসলিম গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, দুই দল মুসলিম বাহিনী সমুদ্রে পথে যুদ্ধ পরিচালনা করবে। আর উম্মে হারাম প্রথম বাহিনী ভুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে তাই ঘটেছিল। উম্মে হারাম প্রথম বাহিনীতেই ছিল। তখন সময়কাল ছিল ২৭ হি। তিনি মুআবিয়া এর সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধটি হয়েছিল হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অনুমতিক্রমে। মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে কাবরুয যুদ্ধের অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অভিযান প্রেরণের অনুমতি প্রদান করেন। আর সে যুদ্ধেই তিনি অংশগ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় বার মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে বাহান্ন হিজরী সনে তাঁর পুত্র ইয়াজিদের নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপল আক্রমণের আদেশ দিয়েছিলেন। আবু আইয়ুব আনসারী ও খালিদ ইবনু ইয়াজিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ মর্যাদাবান সাহাবীও সে যুদ্ধে শামিল ছিল। আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ইয়াজিদ ইবনু মুয়াবিয়াকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তাকে রণক্ষেত্রে ঘোড়ার নীচেই কবর দেওয়ার। তিনি তাকে আদেশ দিয়েছিলেন যাতে শত্রু দেশের সবচেয়ে নিকটস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তিনি তা-ই করেছিলেন।
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ قَالَ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ أَنَّ عُمَيْرَ بْنَ الأَسْوَدِ الْعَنْسِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ أَتَى عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ وَهُوَ نَازِلُ فِي سَاحَةِ حِمْصَ وَهُوَ فِي بِنَاءٍ لَهُ وَمَعَهُ أُمُّ حَرَامٍ قَالَ عُمَيْرٌ فَحَدَّثَتْنَا أُمُّ حَرَامٍ أَنَّهَا سَمِعَتْ النَّبِيَّ يَقُولُ أَوَّلُ جَيْسٌ مِنْ أُمَّتِي يَغْزُوْنَ الْبَحْرَ قَدْ أَوْجَبُوْا قَالَتْ أُمُّ حَرَامِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا فِيْهِمْ قَالَ أَنْتِ فِيْهِمْ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَول جَيْسٌ مِنْ أُمَّتِي يَغْرُوْنَ مَدِينَةَ قَيْصَرَ مَغْفُورُ لَهُمْ فَقُلْتُ أَنَا فِيْهِمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لَا
উমাইর ইবনু আসওয়াদ আনসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি 'উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট আসলেন। তখন 'উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হিস্স উপকূলে তাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মু হারাম। উমাইর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, উম্মু হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ-যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে তারা যেন জান্নাত অবধারিত করে ফেলল। উম্মু হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি কি তাদের মধ্যে হবো? তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে হবে। উম্মু হারাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- হে আল্লাহ্র রাসূল! অতঃপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের প্রথম যে দলটি কায়সার-এর রাজধানী আক্রমণ করবে তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। অতঃপর আমি বললাম—‘হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি কি তাদের মধ্যে হবো?' নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—'না।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৯২৪।
📄 নববি ভবিষ্যতবাণী : মুসলমানদের একটি বাহিনী অতি শীঘ্রই হিন্দ এবং সিন্দ্ পৌঁছবে
حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَةِ بَعْثُ إِلَى السِّنْدِ وَالْهِنْدِ ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ ، وَإِنْ أَنَا - فَذَكَرَ كَلِمَةً - رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّরُ ، قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النَّارِ.
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সত্যবাদী বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন—এ উম্মাহর একটি দল সিন্দ ও হিন্দের দিকে যাবে। আমি তা পেলে আমি শাহাদাত বরণ করলে, করতাম। আমি যদি... তারপর কিছু উল্লেখ করলেন। [আমি যদি যেতে পারি, আবার] ফিরে আসি, তো আমি আবু হুরাইরাহ মুক্ত। আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন।
ব্যাখ্যা: মুসলমানরা হিন্দে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে ৪৪ হিজরিতে যুদ্ধ করেছে। সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আমি পূর্বে করে এসেছি। এছাড়াও সুলতান মাহমুদ গাজনবি রাহিমাহুল্লাহ হিন্দের গজনবিতে অভিযান পরিচালনা করেন। সুলতান মাহমুদের অভিযান ছিল ৪০০ হিজরিতে। সেখানে তিনি অনেক প্রসিদ্ধ কাজ এবং ঘটনা জন্ম দিয়েছেন। সেখানের সবচেয়ে বড় মন্দির সোমনাথ মন্দির ভেঙেছিলেন। সেখানের সম্পদ এবং তরবারি দখল করেন। এরপর তিনি অনেক গনিমতের সম্পদ অর্জিত করে সহিহ সালামতে নিজের দেশে ফিরে আসেন। উমাইয়া নওয়াব সিন্ধু ও চীনের সুদূর দক্ষিণে তুর্কিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল এবং তাদের রাজাকে পরাস্ত করেছিল। যাকে আল আ'জম বলা হলো। মুসলিম বাহিনী তাদের সৈন্যদের ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করেছিলেন। তাদের অর্থ এবং উপার্জনের অধিকারী হয়েছিলেন। আর হাদিসসমূহে তাদের গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে তার একটি একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা উল্লেখ করা হলো।
টিকাঃ
[২] মুসনাদে আহমাদ, ২২৪৪৯, মুসনাদে আবু হুরাইরা ৮৪৬৭। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ ভিন্ন আরেকটি সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেন। ইমাম নাসয়ী রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটি আরেকটি সনদে বর্ণনা করেন। আস সুনানুল মুযতাবা লিন নাসায়ী: ৬/৪২। কিতাবুল জিহাদ, বাব- গাযওয়াতুল হিন্দ, হাদিস: ৩১৭৩, ৩১৭৪ আস সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৩/২৮, বাব- গাযওয়াতুল হিন্দ হাদিস ৪৩৮২, ৪৩৮৩। মুসনাদে আহমাদ, হাদিস-২১৩৬২।
📄 নববি ভবিষ্যতবাণী : মুসলমানরা তুর্কীদের সাথে লড়াই করবে
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنْ الْأَعْرَجِ قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التَّرْكَ صِغَارَ الأَعْيُنِ حُمْرَ الْوُجُوهِ ذُلْفَ الْأُنُوفِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন – ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন তোমরা এমন তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপ্টা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের মত। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।
حَدَّثَنِي يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُمَاسَةَ الْمَهْرِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُونَ أَرْضًا يُذْكَرُ فِيهَا الْقِيرَاطُ فَاسْتَوْصُوا بِأَهْلِهَا خَيْرًا فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا .
حَدَّثَنِي يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوْزًا وَكَرْمَانَ مِنْ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فُطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ না হবে খুয ও কিরমান নামক স্থানে (বসবাসরত) অনারব জাতিগুলোর সঙ্গে, যাদের চেহারা লালবর্ণ, চেহারা যেন পিটানো ঢাল, নাক চেপ্টা, চোখ ছোট এবং জুতা পশমের।
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُوْلُ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا يَنْتَعِلُوْنَ نِعَالَ الشَّعَرِ وَإِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْমًا عِرَاضَ الْوُجُوْهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ
আমর ইবনু তাগলিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের আলামতসমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিপক্ষে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে চওড়া, তাদের মুখমণ্ডল যেন পিটানো চামড়ার ঢাল।
নোট: এরা হবে পারস্যবাসী অথবা পাহাড়বাসী অনারব। একবার সুফইয়ান বলেছেন-তারা পারস্যবাসী বা পাহাড়বাসী অনারব।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُফْيَانُ قَالَ قَالَ إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنِي قَيْسُ قَالَ أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةً فَقَالَ صَحِبْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ سِنِينَ لَمْ أَكُنْ فِي سِنِي أَحْرَصَ عَلَى أَنْ أَعِيَ الْحَدِيثَ مِنِّي فِيهِنَّ سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ وَقَالَ هَكَذَا بِيَدِهِ بَيْنَنَا فِي السَّاعَةِ تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نِعَالُهُمْ الشَّعَرُ وَهُوَ هَذَا الْبَارِزُ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً وَهُمْ أَهْلُ الْبَازِ
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তিন বছর কাটিয়েছি। আমার জীবনে হাদিস মুখস্থের আগ্রহ এই তিন বছরের চেয়ে বেশি আর কখনো ছিল না। আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। এরা হবে পারস্যবাসী অথবা পাহাড়বাসী অনারব এবং একবার সুফইয়ান বলেছেন, তারা পারস্যবাসী বা পাহাড়বাসী অনারব।
নোট: উদ্দেশ্য হলো, তুর্কিদের সাথে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু যুদ্ধ করেছেন। গনিমত লাভ করেছেন। তাদের মহিলা এবং তাদের শিশুদের বন্দি করেছেন।
ব্যাখ্যা: এই হাদিসের বাহ্যিক দাবি হলো এটি কিয়ামতের পূর্ব শর্ত সমূহের একটি। আর যদি এটি কিয়ামতের লক্ষণগুলির মধ্যে হয়ে থাকে, তবে এই যুদ্ধ মুসলমান এবং তুর্কিদের মধ্যে আবারও সংঘটিত হতে পারে। এবং যুদ্ধের শেষে ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব ঘটবে। অচিরেই এদের আলোচনা আসছে। আর যদি এটি কিয়ামতের সাধারণ আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয় তাহলে বলা যায় এটি ঘটে গেছে। যদিও তা কিয়ামতের অনেক যুগ পূর্বেই ঘটে থাকে। তবে অবশ্যই তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানার পরেই হবে। এই পরিচ্ছেদের বর্ণিত হাদিসগুলি নিয়ে চিন্তা করার পর এটিই স্পষ্ট হয়।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৯২৮!
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৫৯০।
[২] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৯২৭। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটি আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ী ব্যতীত সকলেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ আবু হুরাইরা থেকে অনুরূপ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৩৫৯১।