📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : পার্সিয়ান এবং রোমান সাম্রাজ্যের অন্তিম সমাপ্তির পূর্বাভাস
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " إِذَا هَلَكَ كِسْرِى فَلَا كِسْرَى بَعْدَه، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلَا قَيْصَرَ بَعْدَه، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتُنْفِقُنَّ كُنُوزَهُمَا فِي سَبِيلِ اللهِ ".
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন - যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপরে আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, অতঃপর আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই উভয় সাম্রাজ্যের ধন-ভাণ্ডার আল্লাহ্র পথে ব্যয় করবে।
নোট: আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বর্ণনা করেছেন, হযরত আবু বকর উমর এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যামানায় তাই ঘটেছে। কায়সার এর রাজ্য প্রধানের নাম ছিল 'হিরাক্লিয়াস'। মুসলমানদের বিজয় পরবর্তি তার ক্ষমতার গদি শাম এবং জাযিরাহ্ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নামে মাত্র রোম অঞ্চলে কিছুটা দাপট বিদ্যমান ছিল।
আরবরা রোমের সাথে সংযুক্ত শাম এবং জাযিরাহ্-এর রাজাকে 'কায়সার' বলে ডাকত। সিরিয়া ও শামের অধিবাসীদের জন্য নিঃসন্দেহে এটা এক সুসংবাদ। কালের শত আবর্তন ও বিবর্তন ও যুগের প্রতিটি ভয়াল থাবা কখনোই, কোনভাবেই তাদের পুণ্য ভূমি ছিনিয়ে নিতে পারবে না। হোক তা (তৎকালীন) পরাশক্তির রোম (বা বর্তমান পরাশক্তি আমেরিকা বা রাশিয়া)।
আর কিসরার অধিকাংশ ভূমিই হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর যামানায় মুসলিমদের কব্জায় এসেছিল। কোন কোন বর্ণনা মতে ৩২ হিজরি সনে এ বিজয় ঘটেছিল। আর আমরা এ বিষয়ে সবিস্তার আলোচনা ইতিপূর্বে করে এসছি।
আর কেনই বা তাদের এই চরম পরাজয় ঘটবে না! তারা যে আল্লাহর প্রেরিত কিতাবকে ছিঁড়ে টুকরো-টুকরো করেছিল। তখনই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ক্ষমতা দম্ভের সিংহাসন গুড়িয়ে যাওয়ার বদ দোয়া করলেন। অবনতি ধ্বংসের অবধারিত সংবাদ দিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, ৬/৩১২০।
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ " إِذَا هَلَكَ كِسْرِى فَلَا كِسْرَى بَعْدَه، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلَا قَيْصَرَ بَعْدَه، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتُنْفِقُنَّ كُنُوزَهُمَا فِي سَبِيلِ اللهِ ".
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন - যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপরে আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, অতঃপর আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই উভয় সাম্রাজ্যের ধন-ভাণ্ডার আল্লাহ্র পথে ব্যয় করবে।
নোট: আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বর্ণনা করেছেন, হযরত আবু বকর উমর এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যামানায় তাই ঘটেছে। কায়সার এর রাজ্য প্রধানের নাম ছিল 'হিরাক্লিয়াস'। মুসলমানদের বিজয় পরবর্তি তার ক্ষমতার গদি শাম এবং জাযিরাহ্ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নামে মাত্র রোম অঞ্চলে কিছুটা দাপট বিদ্যমান ছিল।
আরবরা রোমের সাথে সংযুক্ত শাম এবং জাযিরাহ্-এর রাজাকে 'কায়সার' বলে ডাকত। সিরিয়া ও শামের অধিবাসীদের জন্য নিঃসন্দেহে এটা এক সুসংবাদ। কালের শত আবর্তন ও বিবর্তন ও যুগের প্রতিটি ভয়াল থাবা কখনোই, কোনভাবেই তাদের পুণ্য ভূমি ছিনিয়ে নিতে পারবে না। হোক তা (তৎকালীন) পরাশক্তির রোম (বা বর্তমান পরাশক্তি আমেরিকা বা রাশিয়া)।
আর কিসরার অধিকাংশ ভূমিই হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর যামানায় মুসলিমদের কব্জায় এসেছিল। কোন কোন বর্ণনা মতে ৩২ হিজরি সনে এ বিজয় ঘটেছিল। আর আমরা এ বিষয়ে সবিস্তার আলোচনা ইতিপূর্বে করে এসছি।
আর কেনই বা তাদের এই চরম পরাজয় ঘটবে না! তারা যে আল্লাহর প্রেরিত কিতাবকে ছিঁড়ে টুকরো-টুকরো করেছিল। তখনই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ক্ষমতা দম্ভের সিংহাসন গুড়িয়ে যাওয়ার বদ দোয়া করলেন। অবনতি ধ্বংসের অবধারিত সংবাদ দিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, ৬/৩১২০।
📄 নববি ভবিষ্যদ্বাণী : অচিরেই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যা করা হবে
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، قَالَ سَمِعْتُ حُذَيْفَةً، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ - رضى الله عنه ـ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا، كَمَا قَالَهُ. قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ـ أَوْ عَلَيْهَا - لجَرِيءٌ. قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ. قَالَ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ، وَلَكِنِ الْفِتْنَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَا يَمُوجُ الْبَحْرُ. قَالَ لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا بَأْسُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا. قَالَ أَيُكْسَرُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ يُكْسَرُ. قَالَ إِذًا لَا يُغْلَقَ أَبَدًا. قُلْنَا أَكَানَ عُمَرُ يَعْلَمُ الْبَابَ قَالَ نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ الْغَدِ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ لَيْسَ بِالْأَগَالِيطِ. فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ، فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ الْبَابُ عُمَرُ.
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—একদা আমরা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনা-ফাসাদ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছো? হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবুহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছো। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া- প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয়- সালাত, সিয়াম, সদাকা (ন্যায়ের) আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—হে আমিরুল মুমিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, সে দরজাটি কি ভেঙে ফেলা হবে, না খুলে দেয়া হবে? হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ভেঙে ফেলা হবে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাহলে তো আর কোনদিন তা বন্ধ করা যাবে না। [হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছাত্র শাক্বীক রাহিমাহুল্লাহ বলেন,] আমরা জিজ্ঞেস করলাম, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হ্যাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাঁর কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ত্রুটিযুক্ত নয়। (দরজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট জানতে ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ- কে বললাম এবং তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই।
নোট: বাস্তবে ঘটনা অনুরূপ ঘটেছিল। ২৩ হিজরি সনে তাকে হত্যা করা হয়। যার ফলে মুসলমানদের উপর নানান ফিতনা ও বিপদাপদ ঘেঁয়ে আসে। আর হাদিসের ভাষ্য থেকে এটাই বুঝে আসে তার হত্যার ঘটনা হবে ফিতনাসমূহ ব্যাপক হওয়ার কারণ।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، قَالَ سَمِعْتُ حُذَيْفَةً، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ - رضى الله عنه ـ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا، كَمَا قَالَهُ. قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ـ أَوْ عَلَيْهَا - لجَرِيءٌ. قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ. قَالَ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ، وَلَكِنِ الْفِتْنَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَا يَمُوجُ الْبَحْرُ. قَالَ لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا بَأْسُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا. قَالَ أَيُكْسَرُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ يُكْسَرُ. قَالَ إِذًا لَا يُغْلَقَ أَبَدًا. قُلْنَا أَكَানَ عُمَرُ يَعْلَمُ الْبَابَ قَالَ نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ الْغَدِ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ لَيْسَ بِالْأَগَالِيطِ. فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ، فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ الْبَابُ عُمَرُ.
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—একদা আমরা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনা-ফাসাদ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছো? হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবুহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছো। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া- প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয়- সালাত, সিয়াম, সদাকা (ন্যায়ের) আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—হে আমিরুল মুমিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, সে দরজাটি কি ভেঙে ফেলা হবে, না খুলে দেয়া হবে? হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ভেঙে ফেলা হবে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাহলে তো আর কোনদিন তা বন্ধ করা যাবে না। [হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছাত্র শাক্বীক রাহিমাহুল্লাহ বলেন,] আমরা জিজ্ঞেস করলাম, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হ্যাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাঁর কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ত্রুটিযুক্ত নয়। (দরজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট জানতে ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক রাহিমাহুল্লাহ- কে বললাম এবং তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই।
নোট: বাস্তবে ঘটনা অনুরূপ ঘটেছিল। ২৩ হিজরি সনে তাকে হত্যা করা হয়। যার ফলে মুসলমানদের উপর নানান ফিতনা ও বিপদাপদ ঘেঁয়ে আসে। আর হাদিসের ভাষ্য থেকে এটাই বুঝে আসে তার হত্যার ঘটনা হবে ফিতনাসমূহ ব্যাপক হওয়ার কারণ।
📄 নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তি খিলাফাত মাত্র ত্রিশ বছর স্থায়ী হবে
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَشْرَجُ بْنُ نُبَاتَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَفِينَهُ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الخلافَةُ فِي أُمَّتِي ثَلَاثُونَ سَنَةً ثُمَّ مُلْكُ بَعْدَ ذَلِكَ.
সাঈদ ইবনু জুহমান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাফিনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমার উম্মতের খিলাফাতের সময়কাল (শাসনকাল) হবে ত্রিশ বছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র।
হাদিসের বাকি অংশ: তারপর সাফিনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন-তুমি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত কালও গণনা করো। আমরা গণনা করে এর সময়কাল ত্রিশ বছরই পেলাম। সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—আমি তাকে বললাম বনু উমাইয়ার জনগণও দাবি করে যে, তাদের মাঝেও খেলাফাত বিদ্যমান? তিনি বললেন যারকার সন্তানেরা মিথ্যা বলছে, বরং তারা তো নিকৃষ্ট রাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী।
নোট: এই ত্রিশ বছর হযরত আবু বকর আস সিদ্দিক, উমর আল ফারুক, উসমান আশ শাহীদ, আলি ইবনু আশ শাহীদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর খিলাফাতকালকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর ত্রিশ-এর পূর্ণতা লাভ করে হযরত হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফাত সময়। আর যখন ত্রিশ বছর পূর্ণ হলো মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রাজতন্ত্রের আগমন ঘটল। তখন হিজরি চল্লিশ সাল ছিল। সকলে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বায়আত প্রদান করলেন। সে বছরকে আ'মুল জামাআহ্ বলা হয়।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৫২৫।
[১] মুসনাদে আহমাদ, ৫/২২০, ২২১। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَشْرَجُ بْنُ نُبَاتَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَفِينَهُ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الخلافَةُ فِي أُمَّتِي ثَلَاثُونَ سَنَةً ثُمَّ مُلْكُ بَعْدَ ذَلِكَ.
সাঈদ ইবনু জুহমান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাফিনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমার উম্মতের খিলাফাতের সময়কাল (শাসনকাল) হবে ত্রিশ বছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র।
হাদিসের বাকি অংশ: তারপর সাফিনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন-তুমি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফতকাল গণনা কর। তারপর বললেন, আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত কালও গণনা করো। আমরা গণনা করে এর সময়কাল ত্রিশ বছরই পেলাম। সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—আমি তাকে বললাম বনু উমাইয়ার জনগণও দাবি করে যে, তাদের মাঝেও খেলাফাত বিদ্যমান? তিনি বললেন যারকার সন্তানেরা মিথ্যা বলছে, বরং তারা তো নিকৃষ্ট রাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী।
নোট: এই ত্রিশ বছর হযরত আবু বকর আস সিদ্দিক, উমর আল ফারুক, উসমান আশ শাহীদ, আলি ইবনু আশ শাহীদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর খিলাফাতকালকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর ত্রিশ-এর পূর্ণতা লাভ করে হযরত হাসান ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফাত সময়। আর যখন ত্রিশ বছর পূর্ণ হলো মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রাজতন্ত্রের আগমন ঘটল। তখন হিজরি চল্লিশ সাল ছিল। সকলে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বায়আত প্রদান করলেন। সে বছরকে আ'মুল জামাআহ্ বলা হয়।
টিকাঃ
[১] সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৫২৫।
[১] মুসনাদে আহমাদ, ৫/২২০, ২২১। হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।
📄 আল্লাহ তা'আলা হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাধ্যমে বিবাদমান দু'দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন
حَدَّثَنَا صَدَقَهُ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى عَنْ الْحَسَنِ سَمِعَ أَبَا بَكْرَةً سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَالْحَسَنُ إِلَى جَنْبِهِ يَنْظُرُ إِلَى النَّاسِ مَرَّةً وَإِلَيْهِ مَرَّةً وَيَقُوْلُ ابْنِي هَذَا سَيِّدُ وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُصْلِحَ بِهِ بَيْنَ فِئَتَيْنِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ
আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি—ঐ সময় হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান হচ্ছে নেতা। আল্লাহ তা'আলা তাঁর মাধ্যমে বিবাদমান দু'দল মুসলমানের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিবেন। পরবর্তীতে বিষয়টি এমনই ঘটেছিল।
টিকাঃ
[২] সহিহ্বল বুখারি, ৭/৩৭৪৬, ৬/৭৬২৯।