📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 কারো কাছে সিফাত এর আয়াত ও হাদীসসমূহ ব্যাপারে সন্দেহ হলে তার কী করণীয়

📄 কারো কাছে সিফাত এর আয়াত ও হাদীসসমূহ ব্যাপারে সন্দেহ হলে তার কী করণীয়


আর যার কাছে এ (সিফাত) অধ্যায়ে কিংবা অন্য অধ্যায়ে কেনো কিছু সন্দেহপূর্ণ মনে হয়, সে যেন সেই দো'আ করে যেটি ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাত আদায় করতেন তখন বলতেন:
اللهم رب جبرائيل وميكائيل وإسرافيل فاطر السماوات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم “হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল, ইসরাফীলের রব্ব, আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত সবকিছুর জ্ঞানী, আপনি আপনার বান্দাগণ যে বিষয়ে মতভেদ করে সেটার ফয়সালাকারী, তারা যে সত্যের বিষয়ে মতভেদ করে তাতে আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা করেন সঠিক পথপ্রদর্শন করেন।” (১০৯০)
অন্য বর্ণনায় আবু দাউদ কর্তৃক সংকলিত আছে যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের তাকবীর দেয়ার পর এটা বলতেন।” (১০৯১) সুতরাং যখন বান্দা মুখাপেক্ষী হয়ে আল্লাহর নিকট দো'আ করে(১০৯২), অতঃপর আল্লাহর বাণী, রাসূলের বাণী, সাহাবী, তাবে'য়ী ও ইমামগণের বাণীর মধ্যে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, তখন তার নিকট হিদায়াতের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

টিকাঃ
১০৯০, মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৭০।
১০৯১. আবু দাউদ, আস-সুনান, হাদীস নং ৭৬৮।
১০৯২. বান্দা সবসময় জ্ঞান ও হিদায়াতের মুখাপেক্ষী। চাইবে, যাচঞা করবে, আল্লাহর যিকির ও তাঁর কাছে নিজের নিঃস্বতা তুলে ধরলে আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিবেন ও তাকে পথ দেখাবেন। যেমন হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ ضَالٌ إِلَّا مَنْ هَدَيْتُهُ، فَاسْتَهْدُونِي أَهْدِكُمْ "হে আমার বান্দারা, তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট, তবে যাকে আমি হিদায়াত দিই, সুতরাং তোমরা আমার কাছেই হিদায়াত চাও আমি তোমাদেরকে হিদায়াত দিব।” মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৫৭৭। অনুরূপ 'আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা বর্ণিত হাদীসেও তা এসেছে।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 এ অধ্যায়ে অধিকাংশ দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদদের পথভ্রষ্টতার মূল কারণ

📄 এ অধ্যায়ে অধিকাংশ দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদদের পথভ্রষ্টতার মূল কারণ


অতঃপর যদি সে (হক জানতে আগ্রহী ব্যক্তি) দার্শনিক ও কালামশাস্ত্রবিদদের এ বিষয়ে পদচারণার সর্বশেষ সীমা সম্পর্কে অবগত হয় এবং তারা যাকে অকাট্য প্রমাণ বলে জানে সেগুলো সম্পর্কে অবগত হয় তাহলে সে দেখতে পাবে, তারা যা প্রমাণ (১ob০) বলে মনে করেছে তা আসলে সন্দেহ। (১০৯৪) আরও দেখতে পাবে, তারা যেসব কিছুর ওপর নির্ভর করেছে তা কেবল দাবি সর্বস্ব, তার কোনো বাস্তবতা নেই অথবা তা নষ্ট কিয়াস (১০৯৫) থেকে গঠিত সংশয় অথবা এমন কিছু মূলনীতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে তার সামান্য অংশই কেবল সঠিক (১০৯৬) অথবা এমন ইজমা'র (১০৯৭) দাবি করেছে যার কোনো হাকীকত বা বাস্তবতা নেই অথবা এক্ষেত্রে তারা কোনো মাযহাব পাকড়াও করে আছে, আর মুশতারিক (বিবিধ অর্থবোধক) শব্দাবলি (১০৯৮) দিয়ে দলীল এনেছে।
অতঃপর এগুলো যখন তাদের দীর্ঘ দুষ্প্রাপ্য, অতি লম্বা শব্দাবলি দ্বারা গঠিত করে বর্ণনা করা হয়, তাদের পরিভাষা অবগত না হলে যেগুলো জানা দুষ্কর (১০১৯), তখন এটা বোকা ধোঁকাগ্রস্ত লোকের কাছে তেমন ধারণা প্রদান করে যেমন পিপাসার্ত ধারণ করে থাকে মরীচিকার ব্যাপারে। তারপর ঐ ধোঁকাগ্রস্ত যখন এ ধোঁকা জানতে পারে তখন কুরআন ও সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে সেগুলোর ওপর তার ঈমান ও ইলম বৃদ্ধি পায়। কেননা "বিপরীত কিছু দ্বারা বিপরীত কিছুর আসল সৌন্দর্য প্রকাশ পায়"। আর যখনই কেউ বাতিল সম্পর্কে বেশি অবহিত হবে তখনই সে সত্যের অধিক সম্মানকারী হবে (১১০০), আর যখন সে কুরআন ও সুন্নাহ'র নির্দেশিত পথের দিশা পাবে তখন সে এর মর্যাদাও অধিক জানতে সক্ষম হবে।

টিকাঃ
১০৯৩. প্রমাণ তো তখনই হবে যখন তা জ্ঞানের ফায়েদা দিবে। সে অবশ্যম্ভাবী জ্ঞান হোক বা প্রবল ধারণার জ্ঞান।
১০৯৪. সন্দেহ-সংশয় সেটার নাম যা হক্কের মতো মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
১০৯৫. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দার্শনিক ও কালামশাস্ত্রবিদদের পথভ্রষ্টতার বড় কারণ হচ্ছে নষ্ট কিয়াস। যেমন, দু'টি জিনিসের মধ্যে কোনো কোনো দিক থেকে মিল পাওয়া গেলেই দু'টি জিনিসকে একই রকম মনে করা। অথচ উক্ত দু'টি জিনিসের মধ্যে যেসব পার্থক্য রয়েছে তা বর্ণনা করা হলে উভয়ের মধ্যকার বৈসাদৃশ্য বিরাট আকার ধারণ করবে। তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন, রবের অস্তিত্ব ও সৃষ্টির অস্তিত্ব এ দু'টি দিয়ে। অন্য জায়গায় তিনি কিছু নষ্ট কিয়াস এর উদাহরণ পেশ করে বলেন, ১- "যে কিয়াসকে কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্য নষ্ট বলবে তা অবশ্যই নষ্ট"। ২- "যে কিয়াস দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহ'র এক ভাষ্যকে অপর ভাষ্যের বিপরীত হুকুম হওয়া সত্ত্বেও তার সামনে দাঁড় করানো হয় সেটি নষ্ট কিয়াস।" ৩- যে কিয়াস দ্বারা দু'টি জিনিসকে এক রকম করে নেয়া হয়েছে অথবা দু'টি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করে নিয়েছে অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানে সেখানে যেসব গুণাবলি দেখতে বলা হয়েছে তাতে তা দেখা হয়নি, তাহলে তা নষ্ট কিয়াস। মাজমূ' ফাতাওয়া (১৯/২৮৭- ২৮৮)। আরও দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এর কিয়াস সংক্রান্ত পুস্তিকা, যা রয়েছে, মাজমূ' ফাতাওয়া এর (২০/৫০৪-৫৪২)। খত্নীবে বাগদাদী বলেন, কিয়াস দু' প্রকার: তাওহীদের ব্যাপারে কিয়াস ও আহকাম এর ব্যাপারে কিয়াস।
তন্মধ্যে তাওহীদের ব্যাপারে ক্বিয়াস দু' প্রকার: বিশুদ্ধ কিয়াস, নষ্ট কিয়াস। তারপর তিনি বলেন, "সেটিই নিন্দিত নষ্ট কিয়াস যা বিদ'আত ও ইলহাদের দিকে নিয়ে যায়, যেমন স্রষ্টাকে সৃষ্টির মতো মনে করা, অনুরূপ স্রষ্টার সিফাতকে সৃষ্টির সিফাতের সাথে সাদৃশ্য প্রদান করা। অনুরূপ সে কিয়াসও নষ্ট কিয়াস বলে বিবেচিত হবে, যে কিয়াস তার কিয়াসকারীকে আল্লাহ তা'আলা যা তাঁর নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, আর যা দিয়ে তাঁর রাসূলগণ তাকে গুণান্বিত করেছেন তার বিরোধিতা করতে বাধ্য করে।" দেখুন, আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (১/২০৯)।
১০৯৬. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়‍্যাহ এখানে বলতে চেয়েছেন যে, তথাকথিত দার্শনিক ও কালামশাস্ত্রবিদরা একটি মৌলিক ধরে নেয়া বিষয়ের ওপর কথা বলে থাকেন। আর তারা বলে, হাকীকত হচ্ছে যা বাস্তবে সে রকম যে রকম তা বাস্তবে আছে! তারপর যদি তাদেরকে বলা হয়, আচ্ছা বুঝলাম তোমরা যা বলেছ, এখন বাইরে সেটাকে দেখান, তখনই তাদের মূর্খতা স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা বুঝতে পারে যে, তারা যা বলছে তা কেবল ব্রেনে একটি জিনিস নির্ধারণ করা মাত্র, বাইরে সেটার কোনো অস্তিত্ব নেই। নতুবা এটাই হচ্ছে নীতি যে, অস্তিত্বশীল জিনিসের যদি মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়, তবে তার বাস্তব জ্ঞান বাইরে অবশ্যই পাওয়া যাবে। সুতরাং যতক্ষণ বাইরে এর অংশ বিশেষের অস্তিত্ব না পাওয়া যাবে ততক্ষণ এটাকে মৌলিক কিছু বলার সুযোগ নেই। দেখুন, আর-রাদ্দু আলাল মানত্বিকিয়ীন, ৩২৬; দারউত তা'আরুদ্ব (১/২৯১)।
১০৯৭. কালামশাস্ত্রবিদরা যে ইজমা'র দাবি কথায় কথায় করে থাকে তার বাস্তব চিত্র শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়‍্যাহ তুলে ধরেছেন তার একাধিক গ্রন্থে। যেমন তিনি বলেন, 'তারা সাম'ইয়্যাত (মৃত্যু পরবর্তী জীবনের) বিষয়ে নির্ভর করে থাকে যেটাকে তারা ইজমা' মনে করে থাকে সেটার ওপর। অথচ তারা কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানই রাখে না। বরং তারা আক্বলী কিয়াসের ওপর নির্ভর করে যা তাদের মূলকথা, আর তারা নির্ভর করে ইজমা'র ওপর। তাদের এসব আক্কলী কিয়াস এমনিতেই বাতিল, আর যে ইজমা'র কথা তারা ধারণা করে বলে থাকে তা কেবল তাদের নিজেদের বা তাদের মত অপরাপর কালামশাস্ত্রবিদদের ইজমা', এগুলো কখনো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ইজমা' নয়, উম্মতে মুহাম্মাদিয়্যাহ'র আলেমগণের ইজমা'ও নয়। আল্লাহ তা'আলা তো কেবল উম্মতে মুহাম্মাদিয়্যাহ'র মুমিনগণের ইজমা'কে নির্ভুল বলে নির্ধারণ করেছেন। উম্মতে মুহাম্মাদীর মুমিনগণই কেবল পথভ্রষ্টতা ও ভুলের ওপর একমত হবে না। যেমনটি বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত।' আন-নুবুওয়াত (১/৫৯১-৫৯২)। অন্যত্র তিনি বলেন, 'কুরআন ও সুন্নাহ'র বাইরে যারা চলে সেসব বিদ'আতী প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাধারণ মূলনীতির দিকে তাকালে দেখতে পাবে যে, সেগুলো বিভিন্ন প্রকার কিয়াসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেসব কিয়াস তারা নিজেরা আবিষ্কার করেছে, এ কিয়াসকে তারা রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার বিপরীতে এনে দাঁড় করায়। আরও দেখতে পাবে যে, তাদের সেসব মূলনীতি তথাকথিত ইজমা'র ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা তারা দাবি করে থাকে। এভাবে তারা আক্বলী কিয়াস ও শ্রুত ইজমা'র ওপর তাদের দীনের ভিত্তিকে দাঁড় করায়। এজন্য আপনি দেখবেন, আবুল মা'আলী (জুওয়াইনী)কে, যিনি তাদের পরবর্তীদের মাঝে খুবই বুদ্ধিমান, তিনি তার তথাকথিত করা অকাট্য নীতিসমূহের ব্যাপারেও অনুরূপ কিছু (আকলী কিয়াস ও শ্রুত ইজমা') এর উপর র্ভির করে কথা বলেছে ও অনুরূপ কিছুর ওপর (বাস্তবে সেসব কিছুই নেই)। অনুরূপভাবে প্রবৃত্তির অনুসারী কালামশাস্ত্রের অন্যান্য নেতারা, যেমন আবুল হুসাইন আল-বসরী, তার উস্তাদরা ও তাদের মতো লোকেরা, অধিকাংশ স্থানে কোনো কিছুর ওপরই নির্ভর করে না, না কুরআনের ওপর, না হাদীসের ওপর, না গ্রহণযোগ্য ইজমা'র ওপর। বরং আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ইজমা', যা সবার জানা, তার বিরোধিতা করে তাদের দাবি করা যৌগিক ইজমা'র ওপর নির্ভর করে; অনুরূপভাবে তারা স্পষ্ট বিবেকের যুক্তিরও বিরোধিতা করে থাকে তাদের কথাকথিত দাবি করা বিবেকের যুক্তির ওপর নির্ভর করে। তদ্রূপ তারা কুরআন ও সুন্নাহ'র বিরোধিতা করে, যা দীনের দু'টি মৌলিক প্রমাণ, তারা এ দু'টির বিরোধিতায় নিয়ে আসে তাদের নিজেদের বানানো দীনের মূলনীতিকে।' আত-তিস'ঈনিয়্যাহ (২/৬৩১)। আরও দেখুন, আত-তিস'ঈনিয়‍্যাহ (২/৪৯২), (৩/৮৩৭), দারউত তা'আরুদ্ব (৮/৯৬); বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়াহ (১/৫৬১); মাজমূ' ফাতাওয়া (১৩/২৫)। আরও দেখুন, ইয়াসির ইবন আব্দুর রহমান আলে ইয়াহইয়া, দা'আওয়া আল-ইজমা' ইনদাল মুতাকাল্লিমীন ফী উসূলিদ্দীন।
১০৯৮. অর্থাৎ এমন সব শব্দের পিছনে পড়ে থাকে যাতে বিভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা থাকে, যে শব্দগুলোর মাঝে রয়েছে ইশতিরাক, ইজমাল ও ইবহাম। অর্থাৎ যেগুলোতে বহু অর্থ করা যায়, যেগুলোতে অনেক রকম ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে, আর যেগুলোতে রয়েছে অস্পষ্টতা।
১০৯৯. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তারা যেসব আক্কলী বা বিবেকের যুক্তির দাবি তুলে দলীল হিসেবে পেশ করে কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়, বিশুদ্ধভাবে পরীক্ষা করে দেখলে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তার বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই। এগুলো মূলত খালি কলসিতে আঘাত করে বাচ্চাদেরকে ভয় দেখানো অথবা যারা বাচ্চাদের মতো অল্প বুঝ সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ রয়েছে তাদের ভয় দেখানোর মতো। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা'আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকলি (৪/১৮১), বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/১১৮)।
১১০০. অনুরূপ কথা শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ অন্যত্র বলেছেন, 'আর আমরা, আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, আমাদের কাছে এমনভাবে এসব বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তার বিপরীতটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, আমাদের কাছে দার্শনিক ও জাহমিয়্যাদের পেশকৃত প্রমাণাদির অসারতাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। আর আমরা সুস্পষ্ট বিবেকের যুক্তির মাধ্যমে তারা যেসব বড় বড় জিনিসির ওপর নির্ভর করে থাকার দাবী করে তার অসারতা ও ফাসাদ স্পষ্ট হয়ে গেছে। এটি, আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, এমন যে, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের হিদায়াত ও ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ বিপরীত পক্ষের ভ্রান্তি বা অসারতা জানলে হক বুঝতে ও হকের ওপর দৃঢ় শক্তভাবে থাকতে সহায়তা হয়। আর যে কেউ বাতিলকে অসার হিসেবে বেশি জানবে তার কাছে হকের সত্যতা তত বেশি প্রতিভাত হবে।..' দারউত তা'আরুদ্ব (৫/২৫৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00