📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 নাম একই হওয়ার কারণে ধরন নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক নয়

📄 নাম একই হওয়ার কারণে ধরন নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক নয়


আর আল্লাহ তা'আলা জানিয়েছেন যে, “সেখানে চক্ষু শীতলকারী যা গোপন করে রাখা হয়েছে তা কোনো আত্মা জানতে পারেনি।”(১০৬৮) অনুরূপ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'জান্নাতে এমন কিছু থাকবে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি, কোনো মানুষের অন্তরেও উদিত হয়নি। (১০৬৯) জান্নাতের নি'আমতগুলো মাখলুক হয়েও যখন দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে সেগুলোতে এত পার্থক্য, তাহলে সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে আমাদের ধারণা কেমন হওয়া উপযোগী? (১০৭০)
তেমনি রূহ (আত্মা) (১০৭১) যা বনি আদমের মধ্যে রয়েছে, এটা তার শরীরের মধ্যেই আছে। রূহের প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে মানুষের যে টলটলায়মান অবস্থা প্রত্যেক বিবেকবানই তা জানে। ভাষ্যসমূহ সেটার ধরণ বর্ণনা করতে অপারগ। (১০৭২) এ আত্মার বিষয়টি সম্পর্কে (প্রকৃত অবস্থা জানতে অক্ষম হওয়া) বিবেকবান মানুষের জন্য আল্লাহর ধরণ সম্পর্কে কথা বলা থেকে বিরত থাকা কি উচিত নয়? (১০৭৩) অথচ আমরা দৃঢ়ভাবে জানি যে, এ আত্মা আমাদের দেহের মধ্যেই আছে। এটাকে দেহ থেকে বের করা হয়, আসমানের উপরে উঠে যায়, মৃত্যুর সময় এটাকে ছিনিয়ে নেয়া হয়, যেমনটি সহীহ নসসমূহ স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছে। এ ব্যাপারে আমরা রূহকে গুণশূন্য বানিয়ে বাড়াবাড়ি করে ঐসব দার্শনিকদের মতো বলি না যারা বলে যে, এটা নামেও না, উঠেও না, শরীরে যুক্তও হয় না, আবার শরীর থেকে বিচ্ছিন্নও হয় না। তাতে তারা এতই উল্টাপ্টা কথা বলেছে যে, (তাদের নিকট) এটি শরীর বা তার শরীরজাতভুক্ত কিছু নয়, শরীরের গুণভুক্তও নয়।
বস্তুত এভাবে আত্মা, কোনো শরীরের মতো না হয়েও এসব গুণসহ তার মতো করে তার অস্তিত্ব থাকা অস্বীকার করা হয় না। তবে যদি তাদের (ভিন্ন মতাবলম্বী দার্শনিকদের) কথাকে কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্য অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে বলতে হবে যে, তারা শব্দে ভুল করেছে। কিন্তু তারা কি আর সেটা করবে?
আর আমরা বলি না যে, আত্মা তো কেবল শরীরের অঙ্গসমূহের একটি অঙ্গ। যেমন, রক্ত, বায়ু ইত্যাদি অথবা দেহ ও জীবনের গুণসমূহের একটি গুণ, তা ভিন্ন ভিন্ন শরীরে, তবে সকল শরীরে সেটার সীমা ও বাস্তবতা সম পর্যায়ে, যেমনটি কোনো কোনো কালামশাস্ত্রবিদরা বলে থাকে। বরং আমরা দৃঢ়ভাবে বলি, রূহ বা আত্মা মানুষের দেহ ব্যতীত ভিন্ন অস্তিত্বশীল একটি সত্তা। আর তা শরীরের মতো নয়, আর রূহের যেসব গুণ কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্যে বর্ণিত হয়েছে, তা দ্বারা তা প্রকৃত পক্ষেই গুণান্বিত, সেখানে কোনো রূপক কিছু নেই। সুতরাং যদি রূহের হাকীকত ও রূহের গুণের ব্যাপারে এটিই আমাদের অভিমত হয়, যা (এসব গুণকে) নিষ্ক্রীয়কারী সম্প্রদায় ও (এসব গুণকে শরীরের মতো করে) সাদৃশ্য সাব্যস্তকারী সম্প্রদায়ের মাঝামাঝিতে থাকতে পারে, তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের গুণাবলির ব্যাপারে আমাদের কেমন ধারণা করা উচিত?! (১০৭৪) (অর্থাৎ আল্লাহর সিফাতও সৃষ্টিকুলের সিফাতের জাতভুক্ত না হয়ে থাকতে পারে।)

টিকাঃ
১০৬৮. সূরা আস-সাজদাহ: ১৭।
১০৬৯. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩২৪৪, ৪৭৭৯; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৮২৪।
১০৭০. দুনিয়াতে যা আছে আর আখেরাতে যা আছে বলে কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলোর কিছুর মাঝে নামের মিল রয়েছে, যেমন, দুধ, মধু, গোস্ত ইত্যাদি। আর জানা কথা যে এসব নামধারী জিনিসের মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। অথচ দু'টিই আল্লাহর সৃষ্টি। তাহলে স্রষ্টা তো সৃষ্টি থেকে আরও বেশি ভিন্ন হবেন, যদিও নাম বা গুণের দিক থেকে একই শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বরং এ দু'য়ের মাঝে তুলনা করার কোনো সুযোগই নেই। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়‍্যাহ, আত-তাদমুরিয়‍্যাহ, পৃ. ৪৬-৫০; মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৪৭)।
১০৭১. রূহ এর উদাহরণ শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ অনেক জায়গায় এনেছেন। যেমন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৩২, ২৪৩), (৫/৪৫৮-৪৫৯, ৫২৭) (শারহু হাদীসিন নুযূল), আত-তাদমুরিয়্যাহ, পৃ. ৫০।
১০৭২. রূহ এর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে লোকেরা বিভিন্ন মতে বিভক্ত: কারও কারও মতে, রূহ হচ্ছে জিসিম, আর তা নাফস। অপর কারও মতে, রূহ হচ্ছে 'আরদ্ব। [যা নিজের অস্তিত্বের জন্য অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করতে হয়] আবার অন্য গোষ্ঠী বলে, আমরা জানি না, রূহ জাওহার [যা নিজের ওপর নিজে নির্ভর করতে পারে পারে আর যাতে কোনো বাড়তি কিছু নেই] নাকি 'আরদ্ব। কারও কারও মতে, রূহ হচ্ছে চারটি প্রকৃতির সমতা বিধান হওয়া। সে চারটি হচ্ছে, উষ্ণতা, ঠাণ্ডা, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা। কারও কারও মতে, রূহ উক্ত চারটি ব্যতীত পঞ্চম আরেকটি অর্থ। কারও কারও মতে, রূহ হচ্ছে বিশুদ্ধ খাটি রক্ত, যাতে পঁচা ও ময়লা কিছুই নেই। আরও বহু কথা রয়েছে।
ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, রূহ হচ্ছে একটি জিসিম যা মুল দিক থেকে আমাদের এ অনুভূত জিসিম থেকে ভিন্ন। এটি আলোকময়, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, হাল্কা, জীবিত, সচল, যা বিভিন্ন অঙ্গের 'জাওহার' বা মূল অংশে প্রবেশ করে, আর তাতে এমনভাবে বিচরণ করে থাকে যেমন গোলাপ ফুলে পানি থাকে, যাইতুনে তেল বিচরণ করে থাকে, কয়লায় আগুন বিচরণ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত এসব অঙ্গ তার উপর সে সূক্ষ্ম শরীর থেকে প্রভাব গ্রহণের যোগ্য থাকবে ততক্ষণ সে সূক্ষ্ম শরীর উক্ত অঙ্গসমূহের সাথে ওৎপ্রোৎভাবে জড়িত থাকে। এসব প্রভাবের কারণে অনুভূতি, ইচ্ছাকৃত সচলতা আসে। আর যখন এসব অঙ্গ বিভিন্ন প্রকার মোটা মিশ্রণের মাধ্যমে বিনষ্ট হয়ে যায়, আর তাতে প্রভাব গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকে না, তখন রূহ শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং রূহের জগতে চলে যায়। তারপর তিনি বলেন, এ কথাটিই হচ্ছে এ মাসআলায় সঠিক। এটি ব্যতীত অন্যগুলো শুদ্ধ নয়। বাকী কথাগুলো সবই বাতিল। এর ওপরই কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবায়ে কিরামের ইজমা', বিবেকের যুক্তি ও ফিত্বরাত বা স্বাভাবিক মানব মনের আহ্বানের প্রমাণ রয়েছে। আর এ কথাটিই ইমাম ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী প্রাধান্য দিয়েছেন।
তবে রূহের ধরণ ও তার প্রকৃত রূপ, তা তো কেবল আল্লাহই জানেন, আল্লাহ বলেন, "আর আপনাকে তারা রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলুন, 'রূহ আমার রবের আদেশঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে অতি সামান্যই।" [সূরা আল-ইসরা: ৮৫] শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়‍্যাহ বলেন, কুরআন, সুন্নাহ'তে এটি নেই যে, মুসলিমদেরকে রূহ সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহ যা প্রমাণ করছে তা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, রূহের সত্তার ব্যাপারেও নয়, রূহের গুণের ব্যাপারেও নয়। তবে বিনা ইলমে কথা বলা তা সবকিছুতেই হারাম। তিনি আরও বলেন, আবশ্যক হচ্ছে শরী'আতের নস বা ভাষ্য যা বলেছে সেখানে অবস্থান করা, যা কুরআন হাদীসে এসেছে তা সাব্যস্ত করা হবে, আর যা আসেনি তা সাব্যস্ত করা হবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি রূহের যেসব গুণ ও অবস্থা জানা যায় তা জানেন, আরও জানেন যে, যেসব দেহ বা শরীর দৃশ্যমান হয় সেগুলোতে তিনি রূহের কোনো দৃষ্টান্ত দেখতে পাচ্ছেন না। দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম, আর-রূহ: ২৪৫-২৪৯; ইবন তাইমিয়‍্যাহ, আত-তাদমুরিয়‍্যাহ, পৃ. ৫০- ৫২; মাজমূ' ফাতাওয়া (৪/২১৬-২৩১), (৯/২৮৯-৩০২)। আরও দেখুন, আশ'আরী, মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন, পৃ. ৩৩৩-৩৩৬; জুওয়াইনী, আল-ইরশাদ, পৃ. ৩৭৭; আবু সা'ঈদ আন-নাইসাপূরী, আল-গুনইয়াতু ফী উসূলিদ দীন, পৃ. ১৬৫; ইবন আবিল ইয্য, শারহুত ত্বাহাওয়িয়্যাহ (২/৫৬৪- ৫৬৫)।
১০৭৩. কারণ, রূহ জীবিত, উপরে উঠে, নিচে নামে, আসে ও যায়। রূহের জন্য এসব গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেউ সেটার ধরণ বলতে পারে না, সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। কারণ আমরা যা দেখি তাতে সেটার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। তারপরও কথা হচ্ছে যে, রূহ সৃষ্ট আর তা মানুষের সবচেয়ে কাছের বস্তু। তাহলে স্রষ্টার সত্তা ও গুণের ধরণ না জানা, স্রষ্টার হাকীকত জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জন করতে না পারার বিষয়টি আরও বেশি উত্তমভাবে প্রমাণিত হলো। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ বলেন, 'অনুরূপভাবে বনী আদমের রূহ শোনে ও দেখে, কথা বলে, নামে ও উঠে, যেমনটি সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত, আর যা স্পষ্ট বিবেক দ্বারাও প্রমাণিত, তারপরও সেটার গুণ ও কর্ম কখনও শরীরের গুণ ও কর্মের মত নয়। তাহলে যখন এটা বলা না যায় যে, রূহ এর গুণাবলি ও তার কর্ম তার জিসিম যা তার শরীর সেটার গুণাবলির মত, অথচ তা তার সাথে মিশেই আছে, আর এ দু'টো মিলেই একজন মানুষ, এভাবে যখন একজন মানুষের রূহ তার জিসিম এর মতো নয় যা একটি শরীর, তাহলে মহান রাব্বুল আলামীনের সত্তা, গুণাবলি ও কর্ম কীভাবে জিসিম, তার গুণাবলি ও তার কর্মের মত হওয়া বৈধ হয়? মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৩৫৪) শারহু হাদীসিন নুযূল।
ইমাম যাহাবী বলেন, 'আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমরা অপারগ, অযোগ্য, অসহায় হয়ে যাই আমাদের মাঝে থাকা রূহ এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে, কীভাবে প্রতি রাতে তার মালিক রাব্বুল আলামীন মৃত্যু দিলে সেটা উপরে উঠে যায়, কীভাবে আবার ফেরৎ পাঠায়, মৃত্যুর পর কীভাবে আলাদা সত্তা হিসেবে থাকে, শহীদদের জীবনই বা কেমন যাদের হত্যা করার পর তারা তাদের রবের কাছ থেকে রিযিকপ্রাপ্ত হয়, আর নবীদের জীবনই বা এখন কেমন?....' যাহাবী, আল-'উলু লিল 'আলিয়্যিল 'আযীম (২/১৩৩০)।
একদল আলেম রূহ এর ব্যাপারে কথা বলতে নিষেধ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন জুনাইদ ইবন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন, 'রূহ এমন যে তার জ্ঞান কেবল আল্লাহ তা'আলা নিজের কাছে প্রাধান্য দিয়ে রেখে দিয়েছেন, তার সৃষ্টির কাউকে সেটার জ্ঞান প্রদান করেননি, সুতরাং সেটার অস্তিত্ব আছে এর বাইরে আর কোনো কথা জায়েয নয়।' হাফেয ইবন হাজার এর পরে যোগ করে বলেন, 'আর এ নীতির ওপরই চলেছেন ইবন 'আতিয়‍্যাহ ও একদল মুফাসসির'। ফাতহুল বারী (৮/৪০৩-৪০৪)।
আর বাইজুরী (আশ'আরী) জুনাইদের কথা থেকে বুঝেছেন যে, তিনি এটা নিয়ে কথা বলাকে হারাম হিসেবে নিষেধ করেছেন। দেখুন, শারহুল জাওহারাহ, পৃ. ৩৫৭।
বাইজুরী এরপর বলেন, হে মুকাল্লাফ (আদিষ্ট) ব্যক্তি, তুমি রূহ এর হাকীকত খোঁজার কাজে লিপ্ত হয়ো না, কারণ এতে প্রবৃত্ত হওয়া মাকরূহ; কারণ এ ব্যাপারে কিছুই জানা যায় না।' [প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৫৯] বস্তুত রূহের ব্যাপারে আলোচনা না করার এ নীতি একদল উসূলশাস্ত্রবিদেরও। যেমন মুরতাদ্বা আয- যাবীদী বলেন, 'অধিকাংশের মত হচ্ছে রূহ এর ব্যাপারে আলোচনায় না যাওয়া; কারণ সেটার অস্তিত্ব অবশ্যম্ভাবীভাবে জানা রয়েছে। আর অধিকাংশ উসূলবিদ এটাতে আলোচনায় প্রবৃত্ত হতে নিষেধ করেছেন। কারণ আল্লাহ এটা বর্ণনা করা হতে বিরত ছিলেন সুতরাং আমরাও বিরত থাকবো। যেমনটি বলেছেন সুবুকী ও অন্যান্যরা।' যাবীদী, তাজুল আরূস (৬/৪০৮)।
বরং রূহ এর ব্যাপারে আলোচনা না করা এটা কোনো কোনো দার্শনিকের অভিমত। যেমন আবুল কাসেম তার 'আল-ইফসাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেন, প্রসিদ্ধ দার্শনিকরা রূহ এর বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন। তারা বলতো, এটি তো আমাদের ইন্দ্রীয়ানুভূতির বাইরের ব্যাপার, বিবেক কখনো এটার কুল কিনারা করার পথ খুঁজে পায় না। দেখুন, মার'ঈ আল-কারামী, আক্বাওয়ীলুস সিক্কাত, পৃ. ১৯১।
এটিই পছন্দ করেছেন আবুল ফারজ ইবনুল জাওযী ও জামালুদ্দীন আল-কাসেমী। দেখুন, ইবনুল জাওযী, সাইদুল খাতির, পৃ. ৪৫০; কাসেমী, মাহাসিনুত তা'ওয়ীল (৯/২৮২)। বরং আল-কাসেমী কারও কারও থেকে বর্ণনা করেছেন সে রূহ এর ব্যাপারে কথা বলাকে দীনের মধ্যে বিদ'আত প্রবর্তনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কারণ কুরআনের আয়াতে যা এসেছে এর বাইরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বেশি বর্ণনা করেননি। সুতরাং রূহ এর ব্যাপারে অতিরিক্তি তদন্ত এমন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে যাবে যা কুরআনের আসেনি, যার পক্ষে কোনো প্রমাণাদি নেই, আর যা এ পর্যায়ের হবে তাতে অযথা গবেষণা করা সীমালঙ্ঘন ও বিরোধিতা!! দেখুন, ড. আলী আল-উবাইদী, আর-রূহ ইনদা আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আতি, পৃ. ২৯ ও তার পরের অংশ।
১০৭৪. রূহ ও জান্নাতের সামগ্রীর উদাহরণ দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সিফাত বুঝানোর বিষয়টি উঁচু পযায়ের উদাহরণ। আর তার সারকথা হচ্ছে, সৃষ্টের জন্য যেসব গুণাবলি পূর্ণতার অর্থ জ্ঞাপক, যাতে কোনো প্রকার ত্রুটি নেই, সেসব রাব্বুল আলামীনের জন্য সাব্যস্ত করা আরও বেশি উপযোগী। আর যে ত্রুটি থেকে একজন মানুষকে মুক্ত ও পবিত্র বলা হবে, রাব্বুল আলামীন তা থেকে অবশ্যই মুক্ত ও পবিত্র হবেন।
এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা সাব্যস্ত করা যে, অনেক সৃষ্ট জিনিস নামে পূর্ণ মিল থাকার পরও একটি আরেকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায় না। তাহলে নাম বা গুণে মিল হলেও স্রষ্টা অবশ্যই সৃষ্টির সাদৃশ্য হয়ে যাওয়া থেকে মুক্ত হবেন।
সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, রূহ ও জান্নাতের ফল-ফলাদি, অনেক গুণে গুণান্বিত, তারপরও দৃশ্যমান অনুরূপ সৃষ্ট জিনিস তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, তাহলে রাব্বুল আলামীন তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা হওয়ার আরও বেশি উপযোগী, যদি নামের দিক থেকে মিল হয়ে যায়। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ, পৃ. ৫০,৫৬।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 যারা বলে সিফাত বিষয়ক ভাষ্যের বাহির বা প্রকাশ্য অর্থকে নাকচ করা হবে তাদের পরিচয়

📄 যারা বলে সিফাত বিষয়ক ভাষ্যের বাহির বা প্রকাশ্য অর্থকে নাকচ করা হবে তাদের পরিচয়


অতঃপর অন্য দু প্রকার লোকের আলোচনা (১০৭৫), যারা বলে: কুরআন ও হাদীসে আসা সিফাত সংক্রান্ত ভাষ্যগুলো যাহির এর বিপরীতে পরিচালিত হবে, তাদের নিকট এসব নসের যাহিরী অর্থ নাকচ করা হবে, অর্থাৎ যারা বলে এসব ভাষ্যের অভ্যন্তরে কখনও এমন কোনো কিছু নেই যা আল্লাহ তা'আলার কোনো গুণের ওপর প্রমাণবহ। বরং আল্লাহ তা'আলার কোনো ইতিবাচক গুণই নেই। তাঁর গুণাবলি হয় সেটি নেতিবাচক (১০৭৬), নয় তো আপেক্ষিক (১০৭৭) অথবা এ দু'টোর সমন্বয়ে ঘটিত হবে অথবা তারা হাতে গোনা কিছু গুণ সাব্যস্ত করে (১০৭৮), তা সাত (১০৭৯) বা আট অথবা (১০৮০) পনেরোটি (১০৮১) অথবা তারা এগুলোকে সিফাত (১০৮২) (গুণ) না বলে হাল বা আহওয়াল (অবস্থা) বলে থাকে (১০৮৩)।
আর তারা কুরআনে আসা আল্লাহর পক্ষ থেকে জানান দেয়া গুণাবলি সাব্যস্ত করে কিন্তু হাদীসে আসা সিফাতগুলো অস্বীকার করে। যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদদের বিভিন্ন মতবাদ হিসেবে জানা যায়। (১০৮৪)
তারা আবার দু' ভাগে বিভক্ত: একভাগ এগুলোর তা'ওয়ীল বা ব্যাখ্যা করে এবং এগুলোর উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করে। (১০৮৫) যেমন, 'ইস্তেওয়া )استوی( অর্থ )استولى( বা কর্তৃত্ব গ্রহণ করলেন বা সম্মান ও মর্যাদায় উঁচু হলেন অথবা 'আরশে তার আলো প্রকাশিত হলো অথবা সৃষ্টি সেখান গিয়ে শেষ হলো ইত্যাদি ইত্যাদি কালামপন্থীদের করা বিভিন্ন অর্থ।
আর দ্বিতীয় ভাগ বলে: এগুলোর দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছেন তা তিনিই ভালো জানেন; তবে আমরা নিশ্চিত জানি যে, তিনি কোনো বাহ্যিক সিফাত সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্য করেননি। (১০৮৬)

টিকাঃ
১০৭৫. তারা হয় তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যার নীতি অনুসারে চলবে, যা নসকে বিকৃতি করার অপর নাম, অথবা তারা তাফওয়ীদ্ব বা তাজহীল নীতি অবলম্বন করবে। যা নসকে অর্থহীন করা।
১০৭৬. নেতিবাচক গুণের সংজ্ঞা কারও কারও মতে, গুণের আগে (লা, লাইসা, মা) নয়, নাই, নন এভাবে প্রবেশ করানো। যেমন বলা যে, তিনি শ্রোতা নন, তিনি দর্শক নন, তিনি 'আরশের উপর উঠেননি, তিনি ক্রোধান্বিত হন না, তিনি নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন না, তিনি জাহেল নন, তিনি অপারগ নন ইত্যাদি ইত্যাদি।
১০৭৭, ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ নেতিবাচক গুণ ও আপেক্ষিক গুণের উদাহরণ দিয়েছেন। নেতিবাচক গুণ যেমন আল্লাহর আল-আলীম (সর্বজ্ঞ), আল-কাদীর (সর্বক্ষম) নামের ব্যাপারে এটা বলা যে, তিনি আল্লাহ জাহেল নন, তিনি আল্লাহ অপারগ নন। আর আপেক্ষিক গুণ এর উদাহরণ দিয়েছেন এভাবে বলা যে, তিনি অন্যকে জ্ঞানী করেন, অন্যকে ক্ষমতা প্রদান করেন। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৩৫৫); শারহু হাদীসিন নুযূল। আরও দেখুন, ইমাম আহমাদ এর আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১০৫। আপেক্ষিক গুণের সংজ্ঞা কারও কারও মতে, দু'টি জিনিস থাকবে যার একটি বুঝতে হলে দ্বিতীয়টি লাগবে, যেমন পিতা বুঝতে সন্তান আসবে, আর সন্তান বললে পিতার কথা আসবেই। অথবা আপেক্ষিক গুণ সেটাকে বলে যার আসল রূপ বুঝতে হলে অন্য কিছুর ওপর কিয়াস করতে হবে। যেমন: রহীম, রহমত করেন, তবে রহমত তার সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং তা সৃষ্ট, যার অর্থ নি'আমত প্রদান করা। অনুরূপ তিনি সামী' শোনেন, তবে শ্রবণ তার সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং সেটি সৃষ্ট, আর তা হচ্ছে তত্ত্বাবধান করা... ইত্যাদি। অথবা ব্রেনে একই কাজে দু'টি জিনিসের ধারণা একত্রিত করা, আর সম্বন্ধ পদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যখন একটি সম্বন্ধ জানা যাবে তখন অপরটিও জানা যাবে। দেখুন, আমেদী, আল-মুবীন ফী শারহি মা'আনী আলফাযিল হুকামায়ি ওয়াল মুতাকাল্লিমীন, পৃ. ১১২; মাজমূ' ফাতাওয়া (৭/১৪৮-১৫০), (১১/১৪৬-১৫১); ঈজী, আল-মাওয়াকিফ ফী ইলমিল কালাম, পৃ. ১৭৯, ১৮০; জামীল সালীবা, আল-মু'জামুল ফালসাফী (১/১০১-১০৩)।
১০৭৮. এর দ্বারা উদ্দেশ্য, সিফাত সাব্যস্তকারীদের মধ্যকার আশ'আরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায়।
১০৭৯. সাত সিফাত সাব্যস্ত করার ওপরই আশ'আরী মতবাদের লোকদের সর্বশেষ অবস্থান এসে থেমেছে। আর তা হচ্ছে, জ্ঞান, ইচ্ছা, ক্ষমতা, জীবন, দেখা, শোনা ও কথা বলা। তবে তারা কথা বলা গুণটিকে 'কালামে নফসী' বলে নির্ধারণ করে। অর্থাৎ অন্তরে কথা বলা। তাদের অধিকাংশ অবশ্য অষ্টম একটি সিফাত সাব্যস্ত করে থাকে। তা হচ্ছে 'বাক্কা' বা অবশিষ্ট থাকা।
১০৮০. আট সিফাত সাব্যস্ত করার উপরেই মাতুরিদী সম্প্রদায়ের লোকদের সর্বশেষ অবস্থান এসে শেষ হয়েছে। আর তা হচ্ছে, জ্ঞান, ইচ্ছা, ক্ষমতা, জীবন, দেখা, শোনা, কথা বলা ও তাকওয়ীন বা হওয়ার নির্দেশনা প্রদান।
তারা কেবল এ গুণগুলোকে সাব্যস্ত করেছে অন্য কোনো গুণ নয়; কারণ তাদের মতে বিবেক শুধু এগুলোই সাব্যস্ত করছে, অন্যগুলোকে সাব্যস্ত করে না।
তাছাড়া তারা বাকী সকল গুণ যা কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্যে প্রদান করা হয়েছে সেসব সিফাতে খবরিয়্যাহকে অস্বীকার করে থাকে; এ যুক্তিতে যে এগুলো তার প্রকৃত অর্থে সাব্যস্ত করলে সাদৃশ্য প্রদান ও দেহবাদী হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
আর তারা আল্লাহর সকল (আফ'আলে মুতা'আদ্দিয়্যাহ) কর্মযুক্ত ক্রিয়ার গুণকে 'তাকওয়ীন' গুণের দিকে নিয়ে যায়। অর্থাৎ সেগুলো সব তাকওয়ীন গুণের অর্থে। তারা বলে যে তিনি 'আযালী' নতুন করে তিনি কিছু করেন না, তাঁর সাথে নতুন করে ইচ্ছা করা ও ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো সম্পর্ক নেই।
আর তারা আল্লাহর যাবতীয় (আফ'আলে লাযিমাহ) অকর্ম ক্রিয়ার গুণকে অস্বীকার করে থাকে। কারণ এগুলো কেবল কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যে এসেছে। অথচ এগুলো আল্লাহর ইখতিয়ার করা (পছন্দনীয়) গুণ। যেমন 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, ক্রোধান্বিত হওয়া, খুশী হওয়া ইতাদি।
তারা বাকী গুণগুলো অস্বীকার কারণ হিসেবে বলে, এর বাইরে অন্য গুণগুলো সাব্যস্ত করা হলে আল্লাহর জন্য তাশবীহ বা তাজসীম এসে যায়। যেমনিভাবে তারা আল্লাহ তা'আলার যাবতীয় (আফ'আলে মুতা'আদ্দিয়া বা) সকর্ম ক্রিয়া (যেমন সৃষ্টি করা, জীবন দেয়া ইত্যাদি)র ক্ষেত্রে 'তাকওয়ীন' এ গুণটিকে যথেষ্ট মনে করে। আবার এটাও বলে যে, তাকওয়ীন গুণটি আযালী, নতুন করে হয় না, এটার সাথে ইচ্ছা ও কুদরতের কোনো সম্পর্ক নেই। এর বাইরে বাকী সব আবশ্যক (আফ'আলে লাযিমাহ) অকর্ম ক্রিয়া (যেমন 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা ইত্যাদি) অস্বীকার করে, কারণ এগুলো কেবল খবর তথা কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে জানা গিয়েছে (বিবেকের যুক্তি দ্বারা নয়), অথচ তা আল্লাহর পছন্দ করা গুণাবলি। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ড. আহমাদ আল-হারবী, আল-মাতুরিদিয়্যাহ দিরাসাতান ওয়া তাক্বওয়ীমান।
১০৮১. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে পনেরোটি বলে সম্ভবত আশা'য়েরা ও মাতুরিদিয়‍্যাদেরকেই বুঝাচ্ছেন। কারণ তারা সবাই সাত বা আট এ সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং তাদের কেউ এমন কিছু সিফাত সাব্যস্ত করেছে যা তাদের অন্য কেউ সাব্যস্ত করেনি, তবে সব মিলে সেগুলোর সংখ্যা পনেরো পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। যেমন, সে সাতটির সাথে আরও যোগ করেন, চেহারা, চোখ, দু' হাত, সন্তুষ্টি, ক্রোধ, 'আরশের উপর উঠা, ভালোবাসা ইত্যাদি। দেখুন, বাকেল্লানী, আত-তামহীদ, পৃ. ২২৭,২৯৮-২৯৯; বাগদাদী, উসূলুদ্দীন, পৃ. ৯০; জুওয়াইনী, আল-ইরশাদ, পৃ. ১৩৮-১৪০, ১৫৫, ১৫৮; আবু সা'ঈদ আন-নাইসাপূরী, আল-গুনইয়াতু ফী উসূলিদ্দীন, পৃ. ১১০, ১১৩-১১৭; শাহরাস্তানী, নিহায়াতুল ইক্কদাম, পৃ. ১০৬-১০৮; ইবন তাইমিয়‍্যাহ, দারউ তা'আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকলি (৩/৩৮০-৩৮৩); ঈজী, আল-মাওয়াকিফ, পৃ. ২৯৬-২৯৯।
১০৮২. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সিফাত বিষয়ক ভাষ্যসমূহের সাথে তিনটি জিনিস জড়িত: ১- এর দ্বারা খবর বা সংবাদ দেয়া। যেমন, তিনি জীবিত, তিনি জ্ঞানী, তিনি সর্বক্ষম; এটা সাব্যস্ত করার বেলায় সকলেই একমত। ২- এগুলো সম্পর্কে এটা বলা যে, এগুলো এমন সব অর্থ যা তার অস্তিত্বের ব্যাপারে নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। যারা সিফাত সাব্যস্ত করে, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ তারা এটাতেও একমত। বরং এটা এমন সকলের মত সকল গোষ্ঠীর মধ্য হতে যারা সুন্নাত এর দিকে নিজদের সম্পৃক্ত করে। ৩- আল-আহওয়াল বা অবস্থা। আর তা হচ্ছে আলেম অর্থ আলেমিয়‍্যাহ, কাদের অর্থ কাদেরিয়‍্যাহ। অর্থাৎ জ্ঞানী হওয়ার অবস্থায়, ক্ষমতাবান হওয়ার অবস্থায়; এটা সাব্যস্ত করা নিয়ে সিফাত সাব্যস্তকারী ও সিফাত অসাব্যস্তকারী অনেকের মাঝেই ঝগড়া হয়েছে। তন্মধ্যে আবু হাশেম ও তার অনুসারীরা আহওয়াল সাব্যস্ত করে কিন্তু সিফাত সাব্যস্ত করে না। কাযী আবু বকর আল-বাকেল্লানী ও তার অনুসারীরা আহওয়াল ও সিফাত উভয়টিই সাব্যস্ত করে। তবে অধিকাংশ জাহমিয়‍্যাহ ও মু'তাযিলারা আহওয়াল ও সিফাত উভয়টিই অস্বীকার করে থাকে। কিন্তু আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের অধিকাংশ সিফাত সাব্যস্ত করে কিন্তু আহওয়াল সাব্যস্ত করে না।' দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৩৩৯); শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ৯৩-৯৪।
১০৮৩. সিফাত বা গুণ না বলে এগুলোকে যে আহওয়াল বা অবস্থা বলে সে হচ্ছে আবু হাশেম আব্দুস সালাম ইবন মুহাম্মাদ আল-জুব্বাঈ। তার জীবনী দেখুন, ইবনুল মুরতাদ্বা, ত্বাবাক্বাতুল মু'তাযিলাহ, পৃ. ৯৪; শারহুল উসুলিল খামসাহ, পৃ. ১৮২-১৮৩; শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১/৮২)। আবু হাশেম সর্বপ্রথম আল্লাহর গুণাবলিকে 'আহওয়াল বলেছিল। পরবর্তীতে আশায়েরাদের মধ্য হতে ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী ও ইমাম আল-বাকেল্লানীও সিফাতকে 'আহওয়াল' বলেছিলেন। আমেদী বলেন, 'আহওয়াল হচ্ছে, সাব্যস্তকৃত কিছু গুণ যেগুলোকে অস্তিত্বশীল কিংবা অস্তিত্বহীন কিছুই বলা যায় না। কখনও কখনও এটাও বলা যায় যে, তা হচ্ছে বিভিন্ন সত্তার মধ্যে একসাথ হওয়া ও ভিন্নতা হওয়া।
ঈজী বলেন, আহওয়াল হচ্ছে, অস্তিত্বশীল ও অস্তিত্বহীনের মাঝখানে যা আছে।
শাহরাস্তানী বলেন, বাস্তবে 'হাল' এর কোনো সংজ্ঞা দেয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, তবে তার একটি নিয়ম ও সীমা নির্ধারণ করা যায় ভাগ করার মাধ্যমে। প্রথমে দু'ভাগে ভাগ করা হবে, এক, যার কারণ নির্ণয় করা যায়, দুই, যার কারণ নির্ণয় করা যায় না। আর যার কারণ নির্ণয় করা যায় তা হচ্ছে কোনো সত্তার সাথে সম্পৃক্ত অর্থের বিধান। আর যার কারণ নির্ণয় করা যায় না তা হচ্ছে গুণাবলি, তবে সেগুলো কোনো অর্থের বিধান নয়।
ইবন হাযম বলেন, আশ'আরীরা যে 'আহওয়াল' এর দাবি করেছে তা হচ্ছে তারা বলে, এখানে কিছু 'হাল' বা অবস্থা রয়েছে যা হক্কও নয়, বাতিলও নয়। সৃষ্টও নয় অসৃষ্টও নয়, অস্তিত্বশীলও নয়, অস্তিত্বহীনও নয়, অজানাও নয়, জানাও নয়। বস্তুও নয়, অবস্তুও নয়। তারা আরও বলেন, এর থেকে, আলেম জানলো যে তার ইলম আছে.. অনুরূপভাবে ক্বাদীমের কাদিম হওয়া, বাকী এর অবশিষ্ট থাকা, ধ্বংসপ্রাপ্ত এর ধ্বংস হওয়া... তারা আরও বলে, যদি বাকী (অবশিষ্ট থাকে যে) সে অবশিষ্ট থাকা লাগে তাহলে তো আবার অবশিষ্ট থাকতে হয়, এভাবে সর্বদা চলতে থাকবে... যার কোনো শেষ নেই। তারা আরও বলে, এটা তো এমন কিছু বিষয় অত্যাবশ্যক করে তোলে যার কোনো শেষ নেই। আর এটা অসম্ভব..." তারপর আবু মুহাম্মাদ ইবন হাযম তাদের সন্দেহের জবাব প্রদান করেন এবং বলেন এ হচ্ছে বাজে বকওয়াস।' ইবন হাযম, আল ফাসলু (৫/১৬৫-১৬৭)।
(তবে এটা অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার যে, ইবন হাযম এ আহওয়াল নীতি বাতিল করার জন্য বেশ কিছু মূলনীতি সেখানে উল্লেখ করেছে যেগুলো বাতিল ও ফাসিদ মূলনীতি। তন্মধ্যে এটা বলা যে, 'আহওয়াল তো আ'রাদ্ব', আর আল্লাহ তা'আলা আ'রাদ্ব থেকে পবিত্র, এভাবে বলে মূলত ইবন হাযম সিফাত অস্বীকার করার আরেকটি বীজ রোপন করেছে। অথচ আবু হাশেম আল-জুব্বাই আহওয়ালকে আ'রাদ্ব বলেনি, যা তার আলোচনা পড়লেই বুঝা যায়।)
মু'জামুল ফালসাফীতে বলা হয়েছে, হাল বা আহওয়াল মূলত অন্তরে একটি দিকের খেয়াল আনয়ন করা।
বস্তুত আহওয়াল এর পরিচয় লাভে এসব বিভ্রান্তির কারণে আলেমগণ আবু হাশেম এর 'আহওয়াল' তত্ত্ব নিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েছেন। এমনকি তারা তাকে জাহেলও বলেছেন, এর জন্য তার ওপর দোষারোপও করেছেন।
বাগদাদী 'আহওয়াল' এর ওপর কথা বলতে গিয়ে বলেন, 'আর সে (আবু হাশেম) মনে করেছে 'আল্লাহ তা'আলা জানেন কারণ তিনি একটি 'হাল' এ থাকেন। তিনি ক্ষমতাবান, কারণ তিনি একটি 'হাল' এ থাকেন। সে মনে করেছে, আল্লাহ তা'আলা সব জানার বিষয় জানার জন্য এমন 'হাল' এ থাকেন, অন্য বিষয় জানার জন্য আগের হাল এর চেয়ে ভিন্ন হাল এর থাকেন। অনুরূপভাবে তিনি ক্ষমতা প্রয়োগ করার মত জিনিসে ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য তিনি এমন 'হাল' এ থাকেন, যার সম্পর্কে বলা যাবে না যে, তিনি অপর কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য পূর্বের হাল এ আছেন।... তারপর তিনি বলেন, আর সে মনে করেছে, 'আহওয়াল' এমন কিছু যাকে অস্তিত্বশীলও বলা যাবে না, অস্তিত্বহীনও বলা যাবে না... তারপর বলেন, বস্তুত এ মতবাদ সে নিজেও বুঝে বলে মনে হয় না, তাহলে সে সেটি বিশুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার করার জন্য বিপক্ষের সাথে মুনাযারা কীভাবে করবে?'
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'কেউ কেউ বলেছেন, 'আশ্চর্যজনক কথা হচ্ছে তিনটি, যেগুলোর পিছনে কোনো বাস্তবতা নেই, নাযযামের তুফরাহ, আবু হাশেম এর আহওয়াল আর আশ'আরীর কাসব।' আস-সাফাদিয়্যাহ (১/১৫১)।
আর সম্ভবত সে জন্যই বলা হয়ে থাকে, مما يقال ولا حقيقة عنده ... معقولة تدعو إلى الأفهام الكب عند الأشعري والحال عند البهشمي وطفرة النظام
"যা বলা হয়ে থাকে যে, যেখানে কোনো বাস্তব কিছু নেই যা বিবেকসম্মত আর যা বুঝের নিকটে যাবে তা হচ্ছে, আশ'আরীর আল-কাসব, আবু হাশেম এর আল-হাল আর নাযযাম এর ত্বাফরাহ।" ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'জ্ঞান, ক্ষমতা এ দুটি দ্বারা জ্ঞানী হওয়া ও ক্ষমতাবান হওয়াকেই বুঝায়। এ হচ্ছে অধিকাংশের মত, যারা মনে করে 'সিফাত' এর বাইরে এসব 'আহওয়াল এর অতিরিক্ত কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে যারা সিফাত সাব্যস্তের পরেও তার বাইরে 'আহওয়াল'কে অতিরিক্ত সাব্যস্ত করে যেমন, কাযী আবু বকর আল-বাকেল্লানী, আবু ইয়া'লা, আবুল মা'আলী তার এক মতে, তারা বলেন, এসব সিফাত সাব্যস্ত করা দ্বারাই অতিরিক্তভাবে 'আহওয়াল' সাব্যস্ত হয়ে যায়, কারণ (ইসবাতুল মালযূম ইয়াক্বতাদ্বী সুবৃতাল লাযিম) যা আবশ্যিকভাবে যা হয় তা সাব্যস্ত করতে গেলে বা আবশ্যিকভাবে হওয়ার কারণ হয় তাও সাব্যস্ত করতে হয়। (যেমন, ছেলে সাব্যস্ত করতে গেলে পিতা সাব্যস্ত করতে হয়), বস্তুত বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, 'এসব 'আহওয়াল' এমন সব ধরে নেয়া মূলনীতির মতো, যার অস্তিত্ব কেবল ব্রেনেই পাওয়া যায় বাইরে কোনো সত্তায় নয়।' ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা'আরুদ্বিল আক্কলি ওয়ান নাক্বলি (৫/৩৫); আরও দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ (২/১২৫-১২৬)।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, বাকিল্লানী, আত-তামহীদ, পৃ. ২৩০-২৩৩; বাগদাদী, উসূলুদ্দীন, পৃ. ৯২-৯৩; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক্ক, পৃ. ১৮০-১৮২; আসফারাঈনী, আত-তাবসীর ফিদ-দীন, পৃ. ৫৩-৫৪; জুওয়াইনী, আল-ইরশাদ, পৃ. ৮০-৮৪; ইবন হাযম, আল-ফাসলু (৫/৪৯-৫৪); রাযী, ই'তিক্বাদু ফিরাকিল মুসলিমীন ওয়াল মুশরিকীন, পৃ. ৪০-৪১; শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১/৯২-৯৪); শাহরাস্তানী, নিহায়াতুল ইক্কদাম, পৃ. ১৩১; আল-আমেদী, আল-মুবীন ফী শারহি মা'আনী আলফাযিল হুকামায়ি ওয়াল মুতাকাল্লিমীন, পৃ. ১২১; ঈজী, আল-মাওয়াকিফ, পৃ. ৫৭-৫৯; জামীল সলীবা, আল-মু'জামুল ফালসাফী, পৃ. ৬৬।
১০৮৪. কুরআনে আসা যাবতীয় সিফাতে খাবারিয়‍্যাহ বা আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো গুণাবলি স্বীকার করা, কিন্তু হাদীসে আসা গুণাবলি অস্বীকার করা এ হচ্ছে অধিকাংশ আশ'আরী মতবাদের লোকদের কারও কারও নীতি। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কোনো কোনো আশ'আরী মতবাদের ইমাম সিফাত নিষ্ক্রীয়কারী মু'আত্তিলাদের সাথে মিলে যাবতীয় 'সিফাতে খবরিয়‍্যাহ' অস্বীকার করলেও অধিকাংশ আশ'আরী মতবাদের লোক (মু'আত্তিলাদের সাথে একাত্ম হয়ে) কেবল হাদীসে আসা 'সিফাতে খবরিয়‍্যাহকেই অস্বীকার করে থাকে। আর কুরআনে আসা সিফাতে খবরিয়‍্যাহ'র ব্যাপারে তাদের দু'টি মত রয়েছে, আশ'আরী ও বাকেল্লানী তা স্বীকার করে, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাও অস্বীকার করে থাকে।' দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৫২), (৪/১৪৭-১৪৮); শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃ. ৩২।
১০৮৫. এটি মূলত জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের মতবাদ; যারা সিফাত অস্বীকার ও সিফাত বিকৃতিকে একসাথ করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, পরবর্তী আশ'আরী ও মাতুরিদীদের মাঝে এ মতটিই বেশি প্রবল। তাহলে আমরা বুঝতে পারি যে, জাহমিয্যাহ ও মু'তাযিলাদের বর্তমান ওয়ারিস কারা? আশ'আরী ও মাতুরিদী মতবাদের লোকেরা যতই মুখে জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের বিরোধিতা করার কথা বলুক কার্যত কিন্তু তারা দিন শেষে তাদের গুরুদের কথাই ধারণ করেছে, আর মুখে বলে তারা জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের বিরোধিতায় লিপ্ত।
১০৮৬. অর্থাৎ এ দু'টি গোষ্ঠী যারা সিফাত সংক্রান্ত ভাষ্যসমূহের প্রকাশ্য অর্থ অস্বীকার করে, তারা দু'টি জিনিসকে একসাথ করেছে, আল্লাহর গুণাবলিকে 'না' করা, আর আল্লাহর গুণাবলিকে তাত্বীল বা নিষ্ক্রীয়করণ করা। তাদের মধ্যকার প্রথম দলটি অপব্যাখ্যা করে, বাক্যকে তার স্থানচ্যুত করে ভিন্ন অর্থ বের করে, কিন্তু দ্বিতীয় দলটি এসব সিফাতের ভাষ্যসমূহের সাথে তাফওয়ীদ্ব বা তাজহীল নীতি ব্যবহার করে থাকে, তাদের মত হচ্ছে এসব ভাষ্যের অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (১৬/৩৯৯)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 যারা বলে সিফাত বিষয়ক ভাষ্যের ব্যাপারে আমরা নীরবতা অবলম্বন করবো, তাদের পরিচয়

📄 যারা বলে সিফাত বিষয়ক ভাষ্যের ব্যাপারে আমরা নীরবতা অবলম্বন করবো, তাদের পরিচয়


যে দুই গোষ্ঠীর লোক কুরআন ও সুন্নাহ'য় আসা আল্লাহর সিফাতের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করে তাদের একভাগ বলে: এগুলোর দ্বারা আল্লাহর মহানত্বের সাথে উপযোগী (যাহির) প্রকাশ্য অর্থ উদ্দেশ্য হওয়া জায়েয। আবার সেগুলো দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা আল্লাহর গুণ বা সিফাত নাও হতে পারে। এটি হচ্ছে অনেক ফকীহদের তরীকা।
আরেক সম্প্রদায় এসব কিছু থেকে বিরত থাকে। তারা কুরআন তিলাওয়াত এবং হাদীস অধ্যায়নের উপরে কিছুই বেশি করে না। তাদের জবান ও অন্তরকে এসব দ্বারা কিছু নির্ধারণ করা থেকে বিমুখ রাখে। (১০৮৮)
এই ছয় ভাগ থেকে কোনো লোক বাইরে যেতে পারে না।

টিকাঃ
১০৮৭, এরা দ্বিধান্বিত থাকে, হয়রান, হতভম্ব ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। এ গোষ্ঠীর লোকেরা উভয়টিই জায়েয মনে করে থাকে। সিফাত সাব্যস্ত করা যাবে, আবার করা যাবে না। তারা বলে, 'আমরা জানি না আল্লাহ এগুলো দ্বারা কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন।' দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (১৬/৩৯৯)।
১০৮৮. উভয় গোষ্ঠীর মাঝে এরা সবচেয়ে বেশি হতভম্ব, দিকভ্রান্ত। তারা এসব আয়াত ও হাদীসের দ্বারা সিফাত সাব্যস্ত করা যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে মোটেই ভাবে না। এ হচ্ছে তাদের মাঝে ও তাদের পূর্বে যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে পার্থক্য। তাহলে আমরা সিফাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টদেরকে মোটের ওপর তিন ধরনের লোক পেয়েছি: এক. মু'আত্তিলা, যারা শব্দকে তাফওয়ীদ্ব করে, শব্দের ব্যাপারে মত দেয় যে, তা সিফাত কি না কেবল আল্লাহই জানেন, তবে তারা অর্থের ব্যাপারে এটা বলেন না। অর্থের ব্যাপারে বলেন যে এগুলার অর্থ নেই। অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদদের মধ্যে যারা আল্লাহর কিছু সিফাত সাব্যস্ত করে তারা এ মতের প্রবক্তা। দুই. ওয়াক্বিফা, তারা শব্দ ও অর্থ উভয়টিই তাফওয়ীদ্ব করে। সাথে সাথে তারা এগুলো দ্বারা সিফাত সাব্যস্ত করা জায়েয বা জায়েয নয় উভয়টিই গ্রহণ করে। তিন, ওয়াক্বিফা, তারা শব্দ ও অর্থ উভয়টিই তাফওয়ীদ্ব করে। কিন্তু তারা এগুলো দ্বারা সিফাত সাব্যস্ত করা জায়েয কিংবা না জায়েয এ বিষয়ে আলোচনাও করতে নারায।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আল্লাহর গুণাবলি সম্বলিত কুরআন ও সহীহ হাদীসের ভাষ্যের ব্যাপারে বিশুদ্ধ পদ্ধতি

📄 আল্লাহর গুণাবলি সম্বলিত কুরআন ও সহীহ হাদীসের ভাষ্যের ব্যাপারে বিশুদ্ধ পদ্ধতি


অধিকাংশ সিফাতের আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে সঠিক কথা হচ্ছে: নিশ্চিতভাবে ও অকাট্যভাবে তা দ্বারা (সিফাত) প্রমাণকারী পদ্ধতির অনুসরণ; যেমন “আল্লাহ 'আরশের উপরে” এর আয়াত ও হাদীস। আর এ ব্যাপারে এবং অনুরূপ ব্যাপারে সঠিক নীতি জানা যাবে এর ওপর কুরআন-সুন্নাহ, ইজমা'র এমন প্রমাণের মাধ্যমে যে প্রমাণের বৈপরীত্য হয়ে কিছু আসার সম্ভাবনা রাখে না।
অন্যদিকে সিফাতের আয়াত ও হাদীসের কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার মাধ্যমে এরকমটি সাব্যস্ত হবে, যদিও সেখানে বিপরীতটির সম্ভাবনাও থাকে। (১০৮৯) এ ব্যাপারে কোনো কোনো মুমিনের দ্বিধা আসতেও পারে, তার ইলম ও ঈমানের অবস্থার আলোকে। বস্তুত যাকে আল্লাহ আলো দেননি তার তো কোনো আলো নেই।

টিকাঃ
১০৮৯. যেমন, আল্লাহর বাণী, ]يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ [القلم : ٤٢ "স্মরণ করুন, সে দিনের কথা যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে।” [সূরা আল-ক্বালাম: ৪২] অনুরূপ আল্লাহর বাণী ]وَجْهُ اللَّهِ﴾ [البقرة : ١١٥ "সেদিকই আল্লাহর তা'আলারই।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১১৫[ অনুরূপ হাদীস وَمَنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ مَرْوَلَةٌ "আর যে আমার কাছে হেঁটে আসবে, আমি তার কাছে দ্রুতবেগে যাই।” [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৪২৮] আর তা এই হিসেবে যে, আহলুস সুন্নাহ'র সালাফদের মাঝে এ আয়াত ও তাফসীরের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ হয়েছে। এগুলো কি আসলেই সিফাতের আয়াত কী না? যেমনটি এর অনুমিত জায়গা আকীদা, তাফসীর ও হাদীসের ব্যাখা গ্রন্থে আলোচনা এসেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00