📄 কুরআন ও সুন্নাহ এ দুটিতেই রয়েছে নূর ও হিদায়াত
এ ব্যাপারে মোটকথা হচ্ছে, নিশ্চয় কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা পূর্ণ হিদায়াত ও নূর অর্জিত হয় তার জন্য যে কুরআন-সুন্নাহ গবেষণা করে, সত্য অনুসরণের সংকল্প করে, কথাকে তার স্থান থেকে বিকৃত করা থেকে ফিরে থাকে(১৮৫), আল্লাহর নাম ও তাঁর আয়াতে ইলহাদ বা বা অস্বীকার করার ধর্মহীনতার মাধ্যমে পরিবর্তন করা থেকে দূরে থাকে (১৯৮৬)। কোনো ধারণাকারী যেন কখনো এ ধারণা না করে যে, এগুলো (কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্যের) কোনো কোনোটি অন্যটির বিপরীত ১৮৭); যেমন কেউ বলল: কুরআনে যে আছে আল্লাহ ‘আরশের উপরে- এটা প্রকাশ্যভাবে ঐ কথার বিপরীত যাতে আল্লাহ বলেন, (وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ “তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন” [সূরা আল-হাদীদ: ৪] এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إذا قام أحدكم إلى الصلاة فإن الله قبل وجهه “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন” ইত্যাদি ভাষ্যসমূহের বিপরীত। (১৮৮) (তার এ সন্দেহের উত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় তার এ বুঝ ও এ বক্তব্যটি মারাত্মক মারাত্মক ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
টিকাঃ
৯৮৫. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্য থেকে উপকৃত হতে হলে, তা দ্বারা হিদায়াত ও আলোতে উদ্ভাসিত হতে হলে তাকে অবশ্যই দু’টি জিনিস রাখতে হবে: ১- ফিকহ, গভীর চিন্তা, ইলম। ২- সৎ নিয়্যত, বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য, বিকৃতি করা থেকে বিমুখ থাকা, আল্লাহর নাম ও আয়াতসমূহে ইলহাদমুক্ত থাকা। বস্তুত এ দু’টির মাধ্যমেই ‘আহলুত তাজহীল’ বা যারা আল্লাহ তা‘আলার সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসকে অর্থশূন্য করে তাদের নীতি, অনুরূপ আহলুত তাখয়ীল বা যারা আল্লাহর সিফাতগুলোকে শুধু ধারণা করা বিষয় মনে করে তাদের নীতি, তদ্রূপ আহলুত তা’ওয়ীল আল-মাযমুম, যারা আল্লাহর সিফাতগুলোর অপব্যাখ্যা করে, তাদের খপ্পর থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। অন্যত্র ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘উসূলুদ্দীন বা আকীদাহ’র যাবতীয় অধ্যায়ে কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর বাণী, রাসূলের বাণী ও উম্মতের ইজমা‘ দ্বারা যা সাব্যস্ত হবে সেটাকে সুদৃঢ় ভাষ্য হিসেবে গ্রহণ করা।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৮/২৯৪)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় দলীল প্রদান ও মাসআলা উদ্ঘাটনে কুরআনের বাতলানো পদ্ধতি সর্বোত্তম পদ্ধতি।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (২/৮)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় কুরআনকে ইমাম বা নেতা হিসেবে গ্রহণ করে অনুসরণ করাই হচ্ছে দীনে ইসলাম। এটিই হচ্ছে সাহাবায়ে কিরাম, তাদের সুন্দর অনুসারী তাবে’য়ীনে ‘ইযাম ও মুসলিমগণের প্রখ্যাত ইমামগণের পদ্ধতি। তারা কখনো কারও কাছ থেকে কোনো বিবেকের যুক্তি কিংবা স্বাধীন মতকে কুরআনের বিপরীতে দাঁড় করাতেন না। হ্যাঁ, কোনো মানুষের কাছে সংশয় দেখা দিলে তিনি প্রশ্ন করে জেনে নিবেন, যাতে তার সন্দেহ তিরোহিত হয়। আর এজন্যই চার ইমাম ও অন্যান্যগণ তাওহীদ ও সিফাতের ক্ষেত্রে কুরআন ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন, কারও মত কিংবা বিবেকের যুক্তি কিংবা কিয়াসের দিকে যেতেন না।’ মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৬/৪৭১)।
৯৮৬. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘পথভ্রষ্টতার সবচেয়ে বড় নীতি হচ্ছে, আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যে দলীল-প্রমাণাদি, আয়াত-নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা। কারণ যারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে তারা হয় তারা কোনো প্রকার দলীল প্রমাণ ও জ্ঞান ব্যতীতই রাসূল কে সত্য বলে বিশ্বাস করবে ও তাঁর কথাকে গ্রহণ করবে। তার ওপর ঈমান আনবে অথবা এর ওপর রাসূলের দেয়া দলীল প্রমাণাদী ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করবে... যদি এগুলোর ওপর রাসূল যেসব আয়াত-নিদর্শন ও প্রমাণাদি দিয়ে মানুষদের ডেকেছে সেগুলো ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করে তবে সে বিদআতী হওয়ার সাথে সাথে ভুলও করবে আর পথভ্রষ্টও হবে।
আর যদি কেউ মনে করে সে রাসূল যেসব প্রমাণ ও দলীল নিয়ে এসেছেন তার বাইরে গিয়ে রাসূলের নিয়ে আসা বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ আরও দলীল নিয়ে আসবে তবে সে কাজটি হবে সে ইবাদতের মতো যা রাসূল প্রবর্তন করেননি, কিন্তু সে মনে করছে এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য সাধিত হবে।’ দেখুন, আন-নুবুওয়াত (১/২৪৫-২৪৬)। আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি যে, শাইখুল ইসলাম এখানে দলীল নেয়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকাটি উল্লেখ করেছেন এ বিষয়ে অনেক কালামশাস্ত্রবিদরাই বিরোধিতা করে থাকে, তারা বলে থাকে যে, কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা দলীল-প্রমাণসমূহ ‘যন্নী’ বা ধারণার উদ্রেক করে, আরও বলবে যে, খবরে ওয়াহিদ ইলম বা দৃঢ় জ্ঞানের উপকারিতা দেয় না, বরং তা তো কেবল ধারণামূলক জ্ঞান প্রদান করে, আর ধারণা হকের পৌঁছার ব্যাপারে সামান্যও কাজে লাগে না (নাউযুবিল্লাহ)। এ জন্যই শাইখুল ইসলাম কালামশাস্ত্রবিদদের উপরোক্ত দু’টি ভূমিকার নাম দিয়েছেন ‘যিন্দীকদের দু’টি ভূমিকা’। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৪/১০৪)।
৯৮৭. অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ কখনো একটি অপরটির বিপরীত নয়, অনুরূপ কুরআন-সুন্নাহ ও বিবেকের যুক্তি একটি অপরটির বিপরীতও নয়। বস্তুত সালাফে সালেহীনের মতাদর্শ সম্পূর্ণরূপে সরল সোজা, সুদৃঢ়, বিশুদ্ধ, সর্বত্র প্রবর্তনযোগ্য, আর তা সুস্পষ্ট বিবেক ও বিশুদ্ধ নকল (কুরআন ও সুন্নাহ) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/২১৩)।
৯৮৮. হাদীসটি নিয়ে এসেছেন, বুখারী, আল-জামে‘উস সহীহ (২/২৩৫), নং ৭৫৩; অনুরূপ মুসলিম, আস- সহীহ (১/৩৮৮), হাদীস নং ৫৪৭।
৯৮৯. অর্থাৎ এভাবে তারা কুরআনের ‘আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত আয়াতের বিপরীতে সূরা আল-হাদীদে বর্ণিত ‘সাথে থাকা’ ও রাসূলের হাদীসে বর্ণিত ‘সামনে থাকা’র বর্ণনা দিয়ে স্ববিরোধিতা প্রমাণের চেষ্টা চালায়, তাদের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, তাদের এ কাজটি মারাত্মক ভুল। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্যকে সন্দেহ-সংশয় নিয়ে এসে গ্রহণ না করার প্রবণতা অন্তরের বক্রতার ওপর প্রমাণ। সাচ্ছা ঈমানদার দলীলসমূহে সমন্বয় করে। অপর দিকে বিদ‘আতী লোকেরা দলীল- প্রমাণাদীতে স্ববিরোধীতা খুঁজে।
এ ব্যাপারে মোটকথা হচ্ছে, নিশ্চয় কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা পূর্ণ হিদায়াত ও নূর অর্জিত হয় তার জন্য যে কুরআন-সুন্নাহ গবেষণা করে, সত্য অনুসরণের সংকল্প করে, কথাকে তার স্থান থেকে বিকৃত করা থেকে ফিরে থাকে(১৮৫), আল্লাহর নাম ও তাঁর আয়াতে ইলহাদ বা বা অস্বীকার করার ধর্মহীনতার মাধ্যমে পরিবর্তন করা থেকে দূরে থাকে (১৯৮৬)। কোনো ধারণাকারী যেন কখনো এ ধারণা না করে যে, এগুলো (কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্যের) কোনো কোনোটি অন্যটির বিপরীত ১৮৭); যেমন কেউ বলল: কুরআনে যে আছে আল্লাহ ‘আরশের উপরে- এটা প্রকাশ্যভাবে ঐ কথার বিপরীত যাতে আল্লাহ বলেন, (وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ “তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন” [সূরা আল-হাদীদ: ৪] এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إذا قام أحدكم إلى الصلاة فإن الله قبل وجهه “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন” ইত্যাদি ভাষ্যসমূহের বিপরীত। (১৮৮) (তার এ সন্দেহের উত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় তার এ বুঝ ও এ বক্তব্যটি মারাত্মক মারাত্মক ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
টিকাঃ
৯৮৫. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্য থেকে উপকৃত হতে হলে, তা দ্বারা হিদায়াত ও আলোতে উদ্ভাসিত হতে হলে তাকে অবশ্যই দু’টি জিনিস রাখতে হবে: ১- ফিকহ, গভীর চিন্তা, ইলম। ২- সৎ নিয়্যত, বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য, বিকৃতি করা থেকে বিমুখ থাকা, আল্লাহর নাম ও আয়াতসমূহে ইলহাদমুক্ত থাকা। বস্তুত এ দু’টির মাধ্যমেই ‘আহলুত তাজহীল’ বা যারা আল্লাহ তা‘আলার সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসকে অর্থশূন্য করে তাদের নীতি, অনুরূপ আহলুত তাখয়ীল বা যারা আল্লাহর সিফাতগুলোকে শুধু ধারণা করা বিষয় মনে করে তাদের নীতি, তদ্রূপ আহলুত তা’ওয়ীল আল-মাযমুম, যারা আল্লাহর সিফাতগুলোর অপব্যাখ্যা করে, তাদের খপ্পর থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। অন্যত্র ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘উসূলুদ্দীন বা আকীদাহ’র যাবতীয় অধ্যায়ে কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর বাণী, রাসূলের বাণী ও উম্মতের ইজমা‘ দ্বারা যা সাব্যস্ত হবে সেটাকে সুদৃঢ় ভাষ্য হিসেবে গ্রহণ করা।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৮/২৯৪)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় দলীল প্রদান ও মাসআলা উদ্ঘাটনে কুরআনের বাতলানো পদ্ধতি সর্বোত্তম পদ্ধতি।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (২/৮)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় কুরআনকে ইমাম বা নেতা হিসেবে গ্রহণ করে অনুসরণ করাই হচ্ছে দীনে ইসলাম। এটিই হচ্ছে সাহাবায়ে কিরাম, তাদের সুন্দর অনুসারী তাবে’য়ীনে ‘ইযাম ও মুসলিমগণের প্রখ্যাত ইমামগণের পদ্ধতি। তারা কখনো কারও কাছ থেকে কোনো বিবেকের যুক্তি কিংবা স্বাধীন মতকে কুরআনের বিপরীতে দাঁড় করাতেন না। হ্যাঁ, কোনো মানুষের কাছে সংশয় দেখা দিলে তিনি প্রশ্ন করে জেনে নিবেন, যাতে তার সন্দেহ তিরোহিত হয়। আর এজন্যই চার ইমাম ও অন্যান্যগণ তাওহীদ ও সিফাতের ক্ষেত্রে কুরআন ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন, কারও মত কিংবা বিবেকের যুক্তি কিংবা কিয়াসের দিকে যেতেন না।’ মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৬/৪৭১)।
৯৮৬. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘পথভ্রষ্টতার সবচেয়ে বড় নীতি হচ্ছে, আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যে দলীল-প্রমাণাদি, আয়াত-নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা। কারণ যারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে তারা হয় তারা কোনো প্রকার দলীল প্রমাণ ও জ্ঞান ব্যতীতই রাসূল কে সত্য বলে বিশ্বাস করবে ও তাঁর কথাকে গ্রহণ করবে। তার ওপর ঈমান আনবে অথবা এর ওপর রাসূলের দেয়া দলীল প্রমাণাদী ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করবে... যদি এগুলোর ওপর রাসূল যেসব আয়াত-নিদর্শন ও প্রমাণাদি দিয়ে মানুষদের ডেকেছে সেগুলো ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করে তবে সে বিদআতী হওয়ার সাথে সাথে ভুলও করবে আর পথভ্রষ্টও হবে।
আর যদি কেউ মনে করে সে রাসূল যেসব প্রমাণ ও দলীল নিয়ে এসেছেন তার বাইরে গিয়ে রাসূলের নিয়ে আসা বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ আরও দলীল নিয়ে আসবে তবে সে কাজটি হবে সে ইবাদতের মতো যা রাসূল প্রবর্তন করেননি, কিন্তু সে মনে করছে এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য সাধিত হবে।’ দেখুন, আন-নুবুওয়াত (১/২৪৫-২৪৬)। আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি যে, শাইখুল ইসলাম এখানে দলীল নেয়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকাটি উল্লেখ করেছেন এ বিষয়ে অনেক কালামশাস্ত্রবিদরাই বিরোধিতা করে থাকে, তারা বলে থাকে যে, কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা দলীল-প্রমাণসমূহ ‘যন্নী’ বা ধারণার উদ্রেক করে, আরও বলবে যে, খবরে ওয়াহিদ ইলম বা দৃঢ় জ্ঞানের উপকারিতা দেয় না, বরং তা তো কেবল ধারণামূলক জ্ঞান প্রদান করে, আর ধারণা হকের পৌঁছার ব্যাপারে সামান্যও কাজে লাগে না (নাউযুবিল্লাহ)। এ জন্যই শাইখুল ইসলাম কালামশাস্ত্রবিদদের উপরোক্ত দু’টি ভূমিকার নাম দিয়েছেন ‘যিন্দীকদের দু’টি ভূমিকা’। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৪/১০৪)।
৯৮৭. অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ কখনো একটি অপরটির বিপরীত নয়, অনুরূপ কুরআন-সুন্নাহ ও বিবেকের যুক্তি একটি অপরটির বিপরীতও নয়। বস্তুত সালাফে সালেহীনের মতাদর্শ সম্পূর্ণরূপে সরল সোজা, সুদৃঢ়, বিশুদ্ধ, সর্বত্র প্রবর্তনযোগ্য, আর তা সুস্পষ্ট বিবেক ও বিশুদ্ধ নকল (কুরআন ও সুন্নাহ) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/২১৩)।
৯৮৮. হাদীসটি নিয়ে এসেছেন, বুখারী, আল-জামে‘উস সহীহ (২/২৩৫), নং ৭৫৩; অনুরূপ মুসলিম, আস- সহীহ (১/৩৮৮), হাদীস নং ৫৪৭।
৯৮৯. অর্থাৎ এভাবে তারা কুরআনের ‘আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত আয়াতের বিপরীতে সূরা আল-হাদীদে বর্ণিত ‘সাথে থাকা’ ও রাসূলের হাদীসে বর্ণিত ‘সামনে থাকা’র বর্ণনা দিয়ে স্ববিরোধিতা প্রমাণের চেষ্টা চালায়, তাদের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, তাদের এ কাজটি মারাত্মক ভুল। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্যকে সন্দেহ-সংশয় নিয়ে এসে গ্রহণ না করার প্রবণতা অন্তরের বক্রতার ওপর প্রমাণ। সাচ্ছা ঈমানদার দলীলসমূহে সমন্বয় করে। অপর দিকে বিদ‘আতী লোকেরা দলীল- প্রমাণাদীতে স্ববিরোধীতা খুঁজে।
📄 আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন’
তিনি আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন। (১০০) যেমন উভয়টিকে তিনি একত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন,
الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ) [الحديد: ٤]
“তিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন-তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, আর তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এতে তিনি জানালেন যে, তিনি ‘আরশের উপরে আছেন, তিনি সবকিছু জানেন। তিনি আমাদের সাথে আছেন, আমরা যেখানেই থাকি। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আও‘আল’ (১9১) এর হাদীসে বলেছেন: والله فوق العرش، وهو يعلم ما أنتم عليه “আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন, তিনি তোমাদের অবস্থা জানেন。
টিকাঃ
৯৯০. যেসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যও রয়েছে আবার সম নামের গুণাবলি বান্দার জন্যও রয়েছে সেসব গুণাবলির ব্যাপারে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে স্রষ্টার ক্ষেত্রেও তা প্রকৃতরূপে, আর সৃষ্টির জন্যও তা প্রকৃতরূপে। যেভাবে যেটা যার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে তা সেভাবেই তার জন্য প্রকৃতরূপে বলতে হবে। এ মতটিই হচ্ছে অধিকাংশ গবেষক আলেমগণের। একদল কালামশাস্ত্রবিদের মতে, এসব গুণাবলি বান্দার সাথেই প্রকৃত অর্থে, আর আল্লাহর জন্য তা রূপকভাবে, এ মতটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট মত। আর আবুল আব্বাস আন-নাশী’, যিনি মু‘তাযিলাদের একজন আলেম, তিনি বলেন, এসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যই প্রকৃতপক্ষে, বান্দার জন্য রূপকভাবে। এটিও সঠিক বক্তব্য নয়। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/১৯৬); দারউত তা‘আরুদ্ব (৫/১৮৪); আর-রাদ্দু আলাল মানতিক্বিয়্যীন, পৃ. ১৫৬; বাদায়ে‘উল ফাওয়ায়িদ (১/২৯০); মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/৩৭); আল-জাওয়াবুস সহীহ (২/২৩২), (৩/১৪৯)।
৯৯১. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৯৯২. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অভিমত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহের উপর, তাঁর ‘আরশের উপরে অবস্থান করে আছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক। তা সত্ত্বেও তিনি ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে বান্দাদের সাথে আছেন আর তাঁর বন্ধুদের সাথে আছেন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে। তিনি অনেক নিকটে, তিনি দো‘আ কবুলকারী। এর ওপর দলীল-প্রমাণাদি অগণিত অসংখ্য। এমনকি ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম শাফে‘য়ীর একজন বড় ছাত্র থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, ‘কুরআনে কারীমে এক হাজার বা তার চেয়েও বেশি দলীল এটা প্রমাণ করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টির উপরে, আর তিনি তাঁর সকল বান্দাদের ওপর।’ মাজমু‘ ফাতাওয়া (৫/১২১)। আর এ মাসআলাটিতে মূলত ইজমা ঐকমত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা ইজমা‘ বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম আওযা‘ঈ, সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আদ-দুবা‘ঈ, ইসহাক ইবন রাহওয়িয়াহ, কুতাইবাহ ইবন সা‘ঈদ আল-বাগলানী, উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, ইবন বাত্তাহ প্রমুখ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা‘আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকলি (৬/২৬০); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা‘উল জুযূশ, পৃ. ২২৬; যাহাবী, আল-‘উলু লিল ‘আলিয়ি্যল ‘আযীম (২/১১২৮), নং ৪৫১, (২/১১০৩), নং ৪৩৪; উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী (১/২২৮); ইবন বাত্তাহ, আল-ইবনাহ (৩/১৩৬)। এ বিষয়ে জানার জন্য আরও দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৩/১৪২-১৪৩), (৫/৪৯৫-৪৯৯), (১১/২৪৯- ২৫১); ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/২৬৫-২৬৯)। আর ভাষার রেফারেন্স হিসেবে দেখুন, আর-রাগেব আল-আসফাহানী, আল-মুফারাদাত, পৃ. ৪৭০; যাবীদী, তাজুল ‘আরূস (২২/২১০- ২১১)। প্রয়োজনে দেখতে পারেন, আমার লেখা গ্রন্থ “রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন”।
তিনি আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন। (১০০) যেমন উভয়টিকে তিনি একত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন,
الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ) [الحديد: ٤]
“তিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন-তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, আর তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এতে তিনি জানালেন যে, তিনি ‘আরশের উপরে আছেন, তিনি সবকিছু জানেন। তিনি আমাদের সাথে আছেন, আমরা যেখানেই থাকি। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আও‘আল’ (১9১) এর হাদীসে বলেছেন: والله فوق العرش، وهو يعلم ما أنتم عليه “আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন, তিনি তোমাদের অবস্থা জানেন。
টিকাঃ
৯৯০. যেসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যও রয়েছে আবার সম নামের গুণাবলি বান্দার জন্যও রয়েছে সেসব গুণাবলির ব্যাপারে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে স্রষ্টার ক্ষেত্রেও তা প্রকৃতরূপে, আর সৃষ্টির জন্যও তা প্রকৃতরূপে। যেভাবে যেটা যার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে তা সেভাবেই তার জন্য প্রকৃতরূপে বলতে হবে। এ মতটিই হচ্ছে অধিকাংশ গবেষক আলেমগণের। একদল কালামশাস্ত্রবিদের মতে, এসব গুণাবলি বান্দার সাথেই প্রকৃত অর্থে, আর আল্লাহর জন্য তা রূপকভাবে, এ মতটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট মত। আর আবুল আব্বাস আন-নাশী’, যিনি মু‘তাযিলাদের একজন আলেম, তিনি বলেন, এসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যই প্রকৃতপক্ষে, বান্দার জন্য রূপকভাবে। এটিও সঠিক বক্তব্য নয়। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/১৯৬); দারউত তা‘আরুদ্ব (৫/১৮৪); আর-রাদ্দু আলাল মানতিক্বিয়্যীন, পৃ. ১৫৬; বাদায়ে‘উল ফাওয়ায়িদ (১/২৯০); মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/৩৭); আল-জাওয়াবুস সহীহ (২/২৩২), (৩/১৪৯)।
৯৯১. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৯৯২. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অভিমত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহের উপর, তাঁর ‘আরশের উপরে অবস্থান করে আছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক। তা সত্ত্বেও তিনি ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে বান্দাদের সাথে আছেন আর তাঁর বন্ধুদের সাথে আছেন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে। তিনি অনেক নিকটে, তিনি দো‘আ কবুলকারী। এর ওপর দলীল-প্রমাণাদি অগণিত অসংখ্য। এমনকি ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম শাফে‘য়ীর একজন বড় ছাত্র থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, ‘কুরআনে কারীমে এক হাজার বা তার চেয়েও বেশি দলীল এটা প্রমাণ করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টির উপরে, আর তিনি তাঁর সকল বান্দাদের ওপর।’ মাজমু‘ ফাতাওয়া (৫/১২১)। আর এ মাসআলাটিতে মূলত ইজমা ঐকমত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা ইজমা‘ বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম আওযা‘ঈ, সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আদ-দুবা‘ঈ, ইসহাক ইবন রাহওয়িয়াহ, কুতাইবাহ ইবন সা‘ঈদ আল-বাগলানী, উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, ইবন বাত্তাহ প্রমুখ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা‘আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকলি (৬/২৬০); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা‘উল জুযূশ, পৃ. ২২৬; যাহাবী, আল-‘উলু লিল ‘আলিয়ি্যল ‘আযীম (২/১১২৮), নং ৪৫১, (২/১১০৩), নং ৪৩৪; উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী (১/২২৮); ইবন বাত্তাহ, আল-ইবনাহ (৩/১৩৬)। এ বিষয়ে জানার জন্য আরও দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৩/১৪২-১৪৩), (৫/৪৯৫-৪৯৯), (১১/২৪৯- ২৫১); ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/২৬৫-২৬৯)। আর ভাষার রেফারেন্স হিসেবে দেখুন, আর-রাগেব আল-আসফাহানী, আল-মুফারাদাত, পৃ. ৪৭০; যাবীদী, তাজুল ‘আরূস (২২/২১০- ২১১)। প্রয়োজনে দেখতে পারেন, আমার লেখা গ্রন্থ “রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন”।
📄 ভাষায় مع ‘সাথে থাকা’ স্পর্শ করা কিংবা সম্পৃক্তীয় থাকা বুঝায় না
আর তা হচ্ছে এই যে, ৫ (সঙ্গে থাকা) শব্দটি যখন ভাষায় উন্মুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়(১৯৩) তখন সেটা প্রকাশ্যভাবে কেবল ‘সাধারণ মিল থাকা’ বুঝায়, মিশে যাওয়া বা ডানে বামে বরাবর থাকা দাবী করে না। আর যখন অন্য কোনো অর্থে শর্তযুক্ত করা হয়, তখন ঐ অর্থে সঙ্গে থাকা অর্থ বুঝায়। যেমন বলা হয় ما زلنا نسير والقمر معنا “আমরা সফর করছিলাম এমতাবস্থায় যে চাঁদ আমাদের সাথেই ছিল” অথবা বলা হয় هذا المتاع معي “এই পণ্যটি আমার সাথে”, কারণ সে পণ্যটি তোমার কাছে আছে, যদিও তা তোমার মাথার উপরে থাকে। কাজেই আল্লাহ সৃষ্টির সাথে থাকা প্রকৃত অর্থেই আবার ‘আরশের উপরে থাকাও প্রকৃত অর্থেই।
টিকাঃ
৯৯৩. অর্থাৎ যখন সম্বন্ধপদ ও বিশেষায়িত করার কিছু না থাকে তখন এর অর্থ কেবল নিঃশর্ত কম্পেয়ার করা উদ্দেশ্য হয়। কোনোভাবেই তা দ্বারা মিশে যাওয়া বা মিশ্রিত হওয়া উদ্দেশ্য হয় না। যেমন আল্লাহর বাণী, “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তার সাথে যারা আছে...” [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] অনূরূপ তাঁর বাণী, “তাহলে তারা ঈমানদারদের সাথে গণ্য হবে।” [সূরা আন-নিসা: ১৪৬] আরও তাঁর বাণী, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” [সূরা আত-তাওবাহ: ১১৯] সুতরাং আল্লাহর বাণী “তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাক না কেন।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এখানে সাথে থাকার অর্থ তাঁর সত্তা সৃষ্টির সত্তার সাথে মিশে আছে এমনটি অর্থ করা নিষিদ্ধ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, হাদীসি শারহুন নুযূল, পৃ. ৩৬০।
অনুরূপভাবে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাও বলেছেন যে, ভাষাবিদদের কেউই একথা বলেননি যে, মা’য়িয়্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার অর্থ মিশে থাকা কিংবা লেগে থাকা দাবি করে, যেমনিভাবে কেউ এটাও বলেননি তা ডানে থাকা কিংবা বামে থাকা বা অনুরূপ থাকা দাবি করে, যেসব অর্থে সৃষ্টির সাথে রাব্বুল আলামীনের থাকা নিষিদ্ধ। বরং মা’য়িয়্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে ‘আল- মুকারানাতুল মুত্বলাক্কাহ’ বা শুধু মিল থাকা (কথায় হোক কিংবা মতে কিংবা সাহায্যে কিংবা দেখা- শোনায়)। দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬১)। তিনি আরও বলেন, যে কেউ এটা দাবি করবে যে, মা’য়িয়্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে লেগে থাকা বা মিশে যাওয়া, আর এটাই কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ সে অবশ্যই সাধারণভাবে ভাষার ওপর মিথ্যাচার করলো, আর বিশেষভাবে কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করলো। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/২০-২৫); আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬২)।
আর তা হচ্ছে এই যে, ৫ (সঙ্গে থাকা) শব্দটি যখন ভাষায় উন্মুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়(১৯৩) তখন সেটা প্রকাশ্যভাবে কেবল ‘সাধারণ মিল থাকা’ বুঝায়, মিশে যাওয়া বা ডানে বামে বরাবর থাকা দাবী করে না। আর যখন অন্য কোনো অর্থে শর্তযুক্ত করা হয়, তখন ঐ অর্থে সঙ্গে থাকা অর্থ বুঝায়। যেমন বলা হয় ما زلنا نسير والقمر معنا “আমরা সফর করছিলাম এমতাবস্থায় যে চাঁদ আমাদের সাথেই ছিল” অথবা বলা হয় هذا المتاع معي “এই পণ্যটি আমার সাথে”, কারণ সে পণ্যটি তোমার কাছে আছে, যদিও তা তোমার মাথার উপরে থাকে। কাজেই আল্লাহ সৃষ্টির সাথে থাকা প্রকৃত অর্থেই আবার ‘আরশের উপরে থাকাও প্রকৃত অর্থেই।
টিকাঃ
৯৯৩. অর্থাৎ যখন সম্বন্ধপদ ও বিশেষায়িত করার কিছু না থাকে তখন এর অর্থ কেবল নিঃশর্ত কম্পেয়ার করা উদ্দেশ্য হয়। কোনোভাবেই তা দ্বারা মিশে যাওয়া বা মিশ্রিত হওয়া উদ্দেশ্য হয় না। যেমন আল্লাহর বাণী, “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তার সাথে যারা আছে...” [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] অনূরূপ তাঁর বাণী, “তাহলে তারা ঈমানদারদের সাথে গণ্য হবে।” [সূরা আন-নিসা: ১৪৬] আরও তাঁর বাণী, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” [সূরা আত-তাওবাহ: ১১৯] সুতরাং আল্লাহর বাণী “তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাক না কেন।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এখানে সাথে থাকার অর্থ তাঁর সত্তা সৃষ্টির সত্তার সাথে মিশে আছে এমনটি অর্থ করা নিষিদ্ধ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, হাদীসি শারহুন নুযূল, পৃ. ৩৬০।
অনুরূপভাবে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাও বলেছেন যে, ভাষাবিদদের কেউই একথা বলেননি যে, মা’য়িয়্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার অর্থ মিশে থাকা কিংবা লেগে থাকা দাবি করে, যেমনিভাবে কেউ এটাও বলেননি তা ডানে থাকা কিংবা বামে থাকা বা অনুরূপ থাকা দাবি করে, যেসব অর্থে সৃষ্টির সাথে রাব্বুল আলামীনের থাকা নিষিদ্ধ। বরং মা’য়িয়্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে ‘আল- মুকারানাতুল মুত্বলাক্কাহ’ বা শুধু মিল থাকা (কথায় হোক কিংবা মতে কিংবা সাহায্যে কিংবা দেখা- শোনায়)। দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬১)। তিনি আরও বলেন, যে কেউ এটা দাবি করবে যে, মা’য়িয়্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে লেগে থাকা বা মিশে যাওয়া, আর এটাই কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ সে অবশ্যই সাধারণভাবে ভাষার ওপর মিথ্যাচার করলো, আর বিশেষভাবে কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করলো। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/২০-২৫); আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬২)।
📄 সালাফে সালেহীনের বক্তব্য: তিনি ‘জ্ঞানে তাদের সাথে আছেন’ এর অর্থ
বস্তুত এ معية )সঙ্গে থাকা) বিষয়টি উপস্থাপনা ও ব্যবহারের ভিন্নতা অনুযায়ী তার বিধান ভিন্ন হয়।(১১৪) তাই যখন তিনি বললেন: ﴿يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ﴾ [الحديد: ٤] “তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন—তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] প্রকাশ্য অর্থে তখন বুঝান হলো যে, এই সঙ্গে থাকার চাহিদা হচ্ছে: তিনি তোমাদের দেখছেন, খোঁজ রাখছেন, তোমাদের উপরে সাক্ষী, তোমাদের সংরক্ষক, তোমাদের সম্পর্কে জানেন, এটাই সালাফে সালেহীনের বক্তব্যের অর্থ যে, তিনি স্বীয় ইলম দ্বারা তাদের সাথে আছেন। এটা প্রকাশ্য সম্বোধন এবং হাকীকত, রূপক নয়。
তেমনি তাঁর বাণী:
﴿مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَىٰ ثَلَثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَىٰ مِن ذَٰلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا﴾ [المجادلة: ٧]
“তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন।”(৯৯৫) [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭]
অনুরূপ যখন গুহায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথীকে বলেন: لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهُ مَعَنَا﴾ [التوبة: ٤٠] “তুমি ভয় পেও না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৪০] এটিও প্রকাশ্য অর্থের উপরে হাকীকত হিসেবে ধর্তব্য হবে (রূপক নয়)। আর অবস্থার দ্বারা বুঝা গেল -এখানে সঙ্গে থাকার অর্থ দেখার সাথে সাহায্য- সহযোগিতাও করা。
তেমনি তাঁর বাণী: ﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَواْ وَالَّذِينَ هُم تُحْسِنُونَ﴾ [النحل: ۱۲۸] “নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা মুহসিন।” [সূরা আন-নাহল: ১২৮]
অনুরূপ মূসা ও হারূন ‘আলাইহিমাস সালামের জন্য তাঁর কথা: ﴿إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى﴾ [٤٦:৬] “আমি তো আপনাদের সংগেই আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।” [সূরা ত্বা-হা: ৪৬] এখানেও মা‘য়িয়্যাহ (সঙ্গে) তার প্রকাশ্য অর্থেই। আর এখানে সে প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে সাহায্য সহযোগিতা করা。
আবার যেমন- কোনো বাচ্চাকে কেউ ভয় দেখাচ্ছে তখন সে কাঁদছে, আর তার পিতা ছাদের থেকে তাকিয়ে বলছে: ভয় করো না আমি তোমার সাথে আছি অথবা আমি এখানে আছি অথবা আমি উপস্থিত আছি ইত্যাদি। এভাবে তিনি তার সন্তানকে এমন সাথে থাকার কথা বলছেন যা সে অবস্থার জন্য উপযোগী, যাতে সন্তান থেকে তিনি অপছন্দনীয় কোনো বিষয় দূর করতে পারেন। সুতরাং সঙ্গে থাকার অর্থ ও তার চাহিদার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। (১৯৯৭) তাইতো কখনও কখনও সেটার চাহিদাই অর্থ হিসেবে নির্ধারিত হয়, তাই অবস্থাভেদে সেটার অর্থে ভিন্নতা আসে।
টিকাঃ
৯৯৪. অর্থাৎ ‘মা‘আ’ )مع( শব্দটির সম্বন্ধ ও সম্পর্ক কিসের সঙ্গে করা হয়েছে তা অনুযায়ী তার অর্থ ভিন্ন হয়ে থাকে। মানুষের অন্তর তার সাথে থাকা এক ধরণের, মানুষের জ্ঞানের, ক্ষমতার, শক্তির সাথে থাকা আরেক ধরণের, মানুষের স্ত্রী তার সাথে থাকা আরেক ধরণের,... এসব কিছুর ভিন্নতা ও বিভিন্ন প্রকার হওয়া সত্ত্বেও ‘সাথে’ বলা সাব্যস্ত। তাই তো বলা যায় তার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে অথচ হয়ত তাদের দু’জনের মাঝে বিস্তর ফারাক, এভাবেই। তাহলে বুঝা গেল যে, ‘সাথে থাকা’ এর সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে সঙ্গী-সাথী হওয়া, একমত হওয়া, কোনো কাজে মিল থাকা। আর এ মিল হওয়া অবস্থা ও ব্যবহার অনুসারে ভিন্ন হতে বাধ্য। দেখুন, ইবনুল কাইয়োম, মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (৩/১২৪৫- ১২৪৬)। আবু মুহাম্মাদ ইবন কুতাইবাহ বলেন, ‘আর আমরা আল্লাহ তা‘আলার বাণী “আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠ জন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] এর ব্যাপারে বলি যে, আল্লাহ তা‘আলা তারা কী করছে এ ব্যাপারে তাদের সাথে জ্ঞানের মাধ্যমে রয়েছেন। যেমন, তুমি কোনো লোককে দূর কোনো দেশে পাঠাও, তাকে তোমার কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান কর তখন তাকে বল: সাবধান, তোমাকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছি এ ব্যাপারে কোনো ত্রুটি বরদাশত করা হবে না; কারণ আমি তোমার সাথে আছি। এখানে এ সাথে থাকার অর্থ, তোমার কাছে তার ত্রুটি গোপন থাকবে না, অথবা তুমি তার প্রতিটি কাজে যথাযথ খেয়াল রাখছ, তোমার কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখছ, সেটার ব্যাপারে কতটুকু সিরিয়াস সেটা জানিয়ে দেয়া। যদি সেটা একজন সৃষ্টির ব্যাপার বৈধ হয় যিনি গায়েব জানেন না, তাহলে স্রষ্টার ব্যাপারে আরও উত্তমরূপে বৈধ, যিনি গায়েব জানেন।’ দেখুন, তা’ওয়ীলু মুখতালাফিল হাদীস, পৃ. ৭০৯-৭১০। আর ইবন তাইমিয়্যাহ তা তার ফাতাওয়াতে নিয়ে এসেছেন, দেখুন (৫/৩০৪); (শারহু হাদীসিন নুযূল)। ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, [﴿وَهُوَ مَعَكُمْ﴾ [الحديد: ٤ ‘আর তিনি তোমাদের সাথে আছেন’ [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এ আয়াতের যাহের বা প্রকাশ্য অর্থ কখনও এটা বুঝায় না যে, তিনি আল্লাহ সৃষ্টির মাঝে আছেন। আর এটাও বুঝায় না যে, তিনি সৃষ্টির সাথে মিশে বা লেগে আছেন ইত্যাদি যেসব বাতিল অর্থ মানুষ করে থাকে। বস্তুত (২৩) কখনও এ অর্থের ওপর কোনো দিক থেকেই প্রমাণবহ নয়। এটা প্রকাশ্য অর্থ হওয়া তো আরও দূরের কথা। এর কারণ হচ্ছে (২৩) শব্দটি কুরআনের বহু জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনি তা আরবী ভাষাতেও এসেছে, সেসব জায়গার কোথাও এটা আবশ্যক করে না তার একটি অপরটির মধ্যে থাকবে, কিংবা মিশে যাবে। বস্তুত কোনো শব্দের অর্থ ও প্রকাশ্য অর্থ কেবল তার ব্যবহার বিধি থেকেই নেয়া হয়ে থাকে। তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, (مَعَ) শব্দটি (ظرف مكان) বা স্থান নির্দেশক, তার অর্থ হচ্ছে সাথিত্ব, সংযোগ ও মিল হওয়া। যদি বলা হয়, এটি এটির সাথে, তখন এটা ধরে নেয়া হয় যে, সেটি স্থান বা অবস্থানে দ্বিতীয়টির সাথে কোনো সংযোগে রয়েছে। যাতে করে উভয়টি সাথিত্বে থাকবে বা একমত হবে। আর এটাই সে অর্থ, যা কোনো কোনো নাহুবিদ বলে থাকেন: ‘নিশ্চয় (مَعَ) শব্দটি (مصاحبة) বা সাথিত্ব বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে সে সংযোগ আরও কিছু বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ থাকে যা সংযোগ থাকা দাবি করে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যখন বললেন, তিনি তার সৃষ্টির সাথে, তখন সেটার দাবি হচ্ছে, তিনি তাদের ব্যাপারে জানেন, তাদের সবকিছু পরিচালনা করেন, তাদের ওপর ক্ষমতাবান। তারপর যদি কারও ব্যাপারে বিশেষত্ব বুঝানোর দরকার হবে তখন বাক্যের আগে-পরে এমন কোনো কিছু থাকতে হবে যা বর্ণনা করবে যে তিনি তাদের সাহায্য করবেন ও সহযোগিতা করবেন।
তারপর শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, যে কেউ কুরআন নিয়ে গবেষণা করবে সে অবশ্যম্ভাবীরূপে জানতে সক্ষম হবে যে, তিনি বান্দাদের সাথে থাকার অর্থ তার সত্তা তাদের মাঝে থাকা নয়, তাদের সাথে মিশে থাকাও নয়, যেমনিভাবে যত জায়গায় (مَعَ) শব্দটি ব্যবহার হয় সেখানেও তা হওয়া দাবি করে না। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/২০-২৫)। আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬২)। তিনি আরও বলেন, ‘যদি মা’য়িয়্যাত (معية) দ্বারা লেগে থাকা ও মিশে যাওয়া বুঝানো হতো, আর তিনি সব জায়গায় সাধারণভাবে সত্তাসহ থাকতেন তাহলে (معية) বিশেষভাবে হতে পারতো না। সুতরাং যে কেউ মনে করবে যে, মা’য়িয়্যাত এর অর্থ হচ্ছে লেগে থাকা ও মিশে থাকা আর এর প্রকাশ্য অর্থ সব জায়গায় হওয়াকে বুঝায়, তাহলে সে লোক অবশ্যই ভুলে পতিত হলো, বরং মা’য়িয়্যাত যদিও ‘মুসাহাবাত’ বা সাথিত্ব ও মিল হওয়া অর্থে হয় তবুও সেটি প্রত্যেক স্থানে তার পূর্বাপর অবস্থা ও অবস্থান যা নির্দেশ করবে সেটাই ধরা হবে।’ জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬৪)। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, আয়াতে যে মা’য়িয়্যাত (معية) এসেছে তার শব্দ বা প্রকাশ্য অর্থ কোনোটিই এটা বুঝায় না যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সৃষ্টির সাথে মিশে আছেন। আর (مَعَ) শব্দটি এ অর্থে কোনোভাবেই আসে না, সেটা শব্দের প্রকৃত অর্থ বা বিষয়বস্তু হওয়া তো দূরের কথা। কারণ আরবদের ভাষায় (مَعَ) বলতে বুঝায় ‘যথোপযুক্ত সাথিত্ব’। মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (৩/১২৪৫)।
৯৯৫. এ আয়াতে কথার শুরু করা হয়েছে ‘ইলম’ বা জ্ঞান শব্দ দিয়ে, আবার শেষও করা হয়েছে সেই ‘ইলম’ বা জ্ঞান দিয়ে। এজন্যই ইবন আব্বাস, দাহহাক, সুফইয়ান আস-সাওরী ও আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, ‘তিনি ইলম বা জ্ঞানে তাদের সাথে আছেন।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১১/২৫০)। এ আয়াত থেকে একদল যিন্দীক (ইসলাম বিরোধী গোপন গোষ্ঠী) দলীল দিয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা সব জায়গায়, এমনকি ময়লার জায়গাতেও, মানুষের পেটেও, জীব জন্তুর অভ্যন্তরেও, ঘরের কোণে ও কক্ষের ভিতরে।... তারা যা বলেছে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র ও উপরে। তখন ইমাম উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করলেন যে, আয়াতের শুরু ও শেষের দিকে তাকিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খবর রাখেন।
এটা নয় যে, তিনি সব জায়গায় তাদের সাথে আছেন। দেখুন, মহান আল্লাহর কথা, “আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠ জন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭]
তারপর তিনি বলেন, ‘আমরা বললাম, তিনি তাদের সাথে ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে আছেন যা দিয়ে আয়াত শুরু করা হয়েছে আর যা দিয়ে আয়াত শেষ করা হয়েছে। কারণ তিনি অনেক আয়াতে এমন কথা বলেছেন যা দৃঢ়করে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, তিনি তাঁর ‘আরশের উপরে, সকল আসমানের উপরে। সুতরাং তিনি সেখানেই এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর যখন তিনি বলেছেন তিনি প্রত্যেক শলা-পরামর্শকারীর সাথে, আমরা বললাম, তাঁর জ্ঞান ও দেখা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে, যদিও তিনি স্বয়ং তাঁর যাবতীয় পূর্ণতাসহ তাঁর ‘আরশের উপর, যেমনটি তিনি তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন। কারণ তার থেকে কোনো কিছু আড়াল হয় না। উপরস্থ সাত আসমানের কোনো কিছু তাঁর জ্ঞান ও দেখা থেকে ছুটে যেতে পারে না, অনুরূপ সাত যমীনের নিচের কিছুও নয়। আর সেটা তেমনি যেমনটি তিনি মূসা ও হারূন ‘আলাইহিমাস সালামকে বলেছিলেন, “তিনি বললেন, ‘আপনারা ভয় করবেন না, আমি তো আপনাদের সংগে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি’।” [সূরা ত্বা-হা: ৪৬] অর্থাৎ ‘আরশের উপর থেকে।’ দেখুন, উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৩-৪৪।
তারও আগে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল যখন দেখলেন যে, জাহমিয়্যারা এ আয়াতের অপব্যাখ্যা করে বলছে যে, আল্লাহ আমাদের মাঝে ও আমাদের মধ্যে। তখন ইমাম আহমাদ বললেন, ‘আমরা বললাম, তোমরা আল্লাহর আয়াতের মাধ্যমে দেয়া সংবাদের প্রথম অংশ কেন কর্তন করেছ? আল্লাহ তা‘আলা তো বলেছেন, “আপনি কি দেখেননি নিশ্চয় আল্লাহ জানেন তা যা আসমানসমূহ ও যা যমীনে আছে।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] তারপর বলেছেন, “তিনজনের শলা-পরামর্শ হলে সেখানে তিনি চতুর্থজন হন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] অর্থাৎ তিনি তাঁর জ্ঞান ও ইলমে তাদের চতুর্থজন। “আর নয় চতুর্থ জন যেখানে তিনি পঞ্চম জন না হন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর ইলমের মাধ্যমে তাদের সাথে আছেন। “আর না তাদের ষষ্ঠজন, বা তার থেকে কম বা তার থেকে বেশি, তিনি তাদের সাথে রয়েছেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] অর্থাৎ তিনি তাদের সাথে ইলমের মাধ্যমে রয়েছেন। “যেখানেই তারা থাকুক না কেন, তারপর তিনি তাদেরেকে জানিয়ে দিবেন সেটা যা তারা করেছে, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] এভাবে সংবাদ শুরু করেছেন ইলমের মাধ্যমে আর সংবাদ শেষ করেছেন ইলমের মাধ্যমে।’ আর-রাদ্দু আলায় যানাদিকাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ২৯৬-২৯৭। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এভাবে আল্লাহ আয়াতটি শুরু করেছেন ‘ইলম’ দিয়ে, আর শেষ করেছেন ‘ইলম’ দিয়ে। তাহলে জানা গেল যে, তিনি এ আয়াতে সাথে থাকার দ্বারা ইচ্ছা করেছেন তিনি তাদের সম্পর্কে জানেন, তাঁর কাছে কোনো কিছু গোপন নেই, আর এরকম তাফসীরই করেছেন ইমাম আহমাদ আর তার পূর্বেকার আলেমগণ যেমন ইবন আব্বাস, দাহহাক, সুফইয়ান আস-সাওরী।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ (৮/৩৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, এ আয়াতের শুরু ও শেষ প্রমাণ করছে যে, এখানে ‘ইলম’ উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে, আর তিনি তাঁর ‘আরশে উপর রয়েছেন। এ হচ্ছে সকল মুসলিমদের কথা। জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৫৯)।
আর এ আয়াত ইলম দ্বারা শুরু ও ইলম দ্বারা শেষ করা প্রমাণ করে যে এখানে সাথে থাকার অর্থ ‘ইলমের মাধ্যমে সাথে থাকা’। এ বিষয়টি বহু আলেম যুগ যুগ ধরে বলেছেন। যেমন, ইবন বাত্তাহ আল-উকবারী, আল-ইবানাহ (৩/১৪৪); আজুররী, আশ-শরী‘আহ (৩/১০৭৫-১০৭৬); ইয়াহইয়া ইবন আবিল খাইর আল-‘ইমরানী, আল-ইন্তেসার ফির রাদ্দি আলাল মু‘তাযিলাতিল কাদারিয়্যাতিল আশরার (২/৬১৭); ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১১/২৪৯); জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬৪); ইবন কাসীর, আত-তাফসীর (৮/৪১)। ইবন কাসীর সেখানে ইমাম আহমাদের বক্তব্য নিয়ে এসেছেন।
৯৯৬. আর এটাই হচ্ছে, বিশেষ অর্থে সাথে থাকা, দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১১/২৪৯-২৫০)।
৯৯৭. সুতরাং মা‘য়িয়্যাত (معية) এর অর্থ হচ্ছে সাথিত্ব ও মিল থাকা যার চাহিদা হচ্ছে জ্ঞান ও ক্ষমতা। আবার কখনও কখনও সেটার চাহিদা থাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘(২৩) এর অর্থ হচ্ছে সাথীত্ব ও মিল হওয়া... তারপর এ মিল অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ যা মিল থাকলে তা হওয়া দাবি করে। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যখন বলেছেন, তিনি বান্দার সাথে আছেন তখন সেটার দাবি হচ্ছে তিনি তাদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, তাদের পরিচালনা করেন, তাদের ওপর ক্ষমতাবান। আর যদি তিনি তাদের কারও সাথে বিশেষভাবে থাকেন তবে বক্তব্যের পূর্বাপরে এমন কিছু থাকবে যা বর্ণনা করবে যে, তিনি তাদের সাহায্য করবেন, সহযোগিতা করবেন।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/২৩-২৪)।
বস্তুত এ معية )সঙ্গে থাকা) বিষয়টি উপস্থাপনা ও ব্যবহারের ভিন্নতা অনুযায়ী তার বিধান ভিন্ন হয়।(১১৪) তাই যখন তিনি বললেন: ﴿يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ﴾ [الحديد: ٤] “তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন—তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] প্রকাশ্য অর্থে তখন বুঝান হলো যে, এই সঙ্গে থাকার চাহিদা হচ্ছে: তিনি তোমাদের দেখছেন, খোঁজ রাখছেন, তোমাদের উপরে সাক্ষী, তোমাদের সংরক্ষক, তোমাদের সম্পর্কে জানেন, এটাই সালাফে সালেহীনের বক্তব্যের অর্থ যে, তিনি স্বীয় ইলম দ্বারা তাদের সাথে আছেন। এটা প্রকাশ্য সম্বোধন এবং হাকীকত, রূপক নয়。
তেমনি তাঁর বাণী:
﴿مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَىٰ ثَلَثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَىٰ مِن ذَٰلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا﴾ [المجادلة: ٧]
“তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন।”(৯৯৫) [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭]
অনুরূপ যখন গুহায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথীকে বলেন: لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهُ مَعَنَا﴾ [التوبة: ٤٠] “তুমি ভয় পেও না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৪০] এটিও প্রকাশ্য অর্থের উপরে হাকীকত হিসেবে ধর্তব্য হবে (রূপক নয়)। আর অবস্থার দ্বারা বুঝা গেল -এখানে সঙ্গে থাকার অর্থ দেখার সাথে সাহায্য- সহযোগিতাও করা。
তেমনি তাঁর বাণী: ﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَواْ وَالَّذِينَ هُم تُحْسِنُونَ﴾ [النحل: ۱۲۸] “নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা মুহসিন।” [সূরা আন-নাহল: ১২৮]
অনুরূপ মূসা ও হারূন ‘আলাইহিমাস সালামের জন্য তাঁর কথা: ﴿إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى﴾ [٤٦:৬] “আমি তো আপনাদের সংগেই আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।” [সূরা ত্বা-হা: ৪৬] এখানেও মা‘য়িয়্যাহ (সঙ্গে) তার প্রকাশ্য অর্থেই। আর এখানে সে প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে সাহায্য সহযোগিতা করা。
আবার যেমন- কোনো বাচ্চাকে কেউ ভয় দেখাচ্ছে তখন সে কাঁদছে, আর তার পিতা ছাদের থেকে তাকিয়ে বলছে: ভয় করো না আমি তোমার সাথে আছি অথবা আমি এখানে আছি অথবা আমি উপস্থিত আছি ইত্যাদি। এভাবে তিনি তার সন্তানকে এমন সাথে থাকার কথা বলছেন যা সে অবস্থার জন্য উপযোগী, যাতে সন্তান থেকে তিনি অপছন্দনীয় কোনো বিষয় দূর করতে পারেন। সুতরাং সঙ্গে থাকার অর্থ ও তার চাহিদার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। (১৯৯৭) তাইতো কখনও কখনও সেটার চাহিদাই অর্থ হিসেবে নির্ধারিত হয়, তাই অবস্থাভেদে সেটার অর্থে ভিন্নতা আসে।
টিকাঃ
৯৯৪. অর্থাৎ ‘মা‘আ’ )مع( শব্দটির সম্বন্ধ ও সম্পর্ক কিসের সঙ্গে করা হয়েছে তা অনুযায়ী তার অর্থ ভিন্ন হয়ে থাকে। মানুষের অন্তর তার সাথে থাকা এক ধরণের, মানুষের জ্ঞানের, ক্ষমতার, শক্তির সাথে থাকা আরেক ধরণের, মানুষের স্ত্রী তার সাথে থাকা আরেক ধরণের,... এসব কিছুর ভিন্নতা ও বিভিন্ন প্রকার হওয়া সত্ত্বেও ‘সাথে’ বলা সাব্যস্ত। তাই তো বলা যায় তার সাথে তার স্ত্রী রয়েছে অথচ হয়ত তাদের দু’জনের মাঝে বিস্তর ফারাক, এভাবেই। তাহলে বুঝা গেল যে, ‘সাথে থাকা’ এর সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে সঙ্গী-সাথী হওয়া, একমত হওয়া, কোনো কাজে মিল থাকা। আর এ মিল হওয়া অবস্থা ও ব্যবহার অনুসারে ভিন্ন হতে বাধ্য। দেখুন, ইবনুল কাইয়োম, মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (৩/১২৪৫- ১২৪৬)। আবু মুহাম্মাদ ইবন কুতাইবাহ বলেন, ‘আর আমরা আল্লাহ তা‘আলার বাণী “আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠ জন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] এর ব্যাপারে বলি যে, আল্লাহ তা‘আলা তারা কী করছে এ ব্যাপারে তাদের সাথে জ্ঞানের মাধ্যমে রয়েছেন। যেমন, তুমি কোনো লোককে দূর কোনো দেশে পাঠাও, তাকে তোমার কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান কর তখন তাকে বল: সাবধান, তোমাকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছি এ ব্যাপারে কোনো ত্রুটি বরদাশত করা হবে না; কারণ আমি তোমার সাথে আছি। এখানে এ সাথে থাকার অর্থ, তোমার কাছে তার ত্রুটি গোপন থাকবে না, অথবা তুমি তার প্রতিটি কাজে যথাযথ খেয়াল রাখছ, তোমার কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখছ, সেটার ব্যাপারে কতটুকু সিরিয়াস সেটা জানিয়ে দেয়া। যদি সেটা একজন সৃষ্টির ব্যাপার বৈধ হয় যিনি গায়েব জানেন না, তাহলে স্রষ্টার ব্যাপারে আরও উত্তমরূপে বৈধ, যিনি গায়েব জানেন।’ দেখুন, তা’ওয়ীলু মুখতালাফিল হাদীস, পৃ. ৭০৯-৭১০। আর ইবন তাইমিয়্যাহ তা তার ফাতাওয়াতে নিয়ে এসেছেন, দেখুন (৫/৩০৪); (শারহু হাদীসিন নুযূল)। ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, [﴿وَهُوَ مَعَكُمْ﴾ [الحديد: ٤ ‘আর তিনি তোমাদের সাথে আছেন’ [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এ আয়াতের যাহের বা প্রকাশ্য অর্থ কখনও এটা বুঝায় না যে, তিনি আল্লাহ সৃষ্টির মাঝে আছেন। আর এটাও বুঝায় না যে, তিনি সৃষ্টির সাথে মিশে বা লেগে আছেন ইত্যাদি যেসব বাতিল অর্থ মানুষ করে থাকে। বস্তুত (২৩) কখনও এ অর্থের ওপর কোনো দিক থেকেই প্রমাণবহ নয়। এটা প্রকাশ্য অর্থ হওয়া তো আরও দূরের কথা। এর কারণ হচ্ছে (২৩) শব্দটি কুরআনের বহু জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনি তা আরবী ভাষাতেও এসেছে, সেসব জায়গার কোথাও এটা আবশ্যক করে না তার একটি অপরটির মধ্যে থাকবে, কিংবা মিশে যাবে। বস্তুত কোনো শব্দের অর্থ ও প্রকাশ্য অর্থ কেবল তার ব্যবহার বিধি থেকেই নেয়া হয়ে থাকে। তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, (مَعَ) শব্দটি (ظرف مكان) বা স্থান নির্দেশক, তার অর্থ হচ্ছে সাথিত্ব, সংযোগ ও মিল হওয়া। যদি বলা হয়, এটি এটির সাথে, তখন এটা ধরে নেয়া হয় যে, সেটি স্থান বা অবস্থানে দ্বিতীয়টির সাথে কোনো সংযোগে রয়েছে। যাতে করে উভয়টি সাথিত্বে থাকবে বা একমত হবে। আর এটাই সে অর্থ, যা কোনো কোনো নাহুবিদ বলে থাকেন: ‘নিশ্চয় (مَعَ) শব্দটি (مصاحبة) বা সাথিত্ব বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে সে সংযোগ আরও কিছু বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ থাকে যা সংযোগ থাকা দাবি করে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যখন বললেন, তিনি তার সৃষ্টির সাথে, তখন সেটার দাবি হচ্ছে, তিনি তাদের ব্যাপারে জানেন, তাদের সবকিছু পরিচালনা করেন, তাদের ওপর ক্ষমতাবান। তারপর যদি কারও ব্যাপারে বিশেষত্ব বুঝানোর দরকার হবে তখন বাক্যের আগে-পরে এমন কোনো কিছু থাকতে হবে যা বর্ণনা করবে যে তিনি তাদের সাহায্য করবেন ও সহযোগিতা করবেন।
তারপর শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, যে কেউ কুরআন নিয়ে গবেষণা করবে সে অবশ্যম্ভাবীরূপে জানতে সক্ষম হবে যে, তিনি বান্দাদের সাথে থাকার অর্থ তার সত্তা তাদের মাঝে থাকা নয়, তাদের সাথে মিশে থাকাও নয়, যেমনিভাবে যত জায়গায় (مَعَ) শব্দটি ব্যবহার হয় সেখানেও তা হওয়া দাবি করে না। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/২০-২৫)। আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬২)। তিনি আরও বলেন, ‘যদি মা’য়িয়্যাত (معية) দ্বারা লেগে থাকা ও মিশে যাওয়া বুঝানো হতো, আর তিনি সব জায়গায় সাধারণভাবে সত্তাসহ থাকতেন তাহলে (معية) বিশেষভাবে হতে পারতো না। সুতরাং যে কেউ মনে করবে যে, মা’য়িয়্যাত এর অর্থ হচ্ছে লেগে থাকা ও মিশে থাকা আর এর প্রকাশ্য অর্থ সব জায়গায় হওয়াকে বুঝায়, তাহলে সে লোক অবশ্যই ভুলে পতিত হলো, বরং মা’য়িয়্যাত যদিও ‘মুসাহাবাত’ বা সাথিত্ব ও মিল হওয়া অর্থে হয় তবুও সেটি প্রত্যেক স্থানে তার পূর্বাপর অবস্থা ও অবস্থান যা নির্দেশ করবে সেটাই ধরা হবে।’ জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬৪)। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, আয়াতে যে মা’য়িয়্যাত (معية) এসেছে তার শব্দ বা প্রকাশ্য অর্থ কোনোটিই এটা বুঝায় না যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সৃষ্টির সাথে মিশে আছেন। আর (مَعَ) শব্দটি এ অর্থে কোনোভাবেই আসে না, সেটা শব্দের প্রকৃত অর্থ বা বিষয়বস্তু হওয়া তো দূরের কথা। কারণ আরবদের ভাষায় (مَعَ) বলতে বুঝায় ‘যথোপযুক্ত সাথিত্ব’। মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (৩/১২৪৫)।
৯৯৫. এ আয়াতে কথার শুরু করা হয়েছে ‘ইলম’ বা জ্ঞান শব্দ দিয়ে, আবার শেষও করা হয়েছে সেই ‘ইলম’ বা জ্ঞান দিয়ে। এজন্যই ইবন আব্বাস, দাহহাক, সুফইয়ান আস-সাওরী ও আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, ‘তিনি ইলম বা জ্ঞানে তাদের সাথে আছেন।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১১/২৫০)। এ আয়াত থেকে একদল যিন্দীক (ইসলাম বিরোধী গোপন গোষ্ঠী) দলীল দিয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা সব জায়গায়, এমনকি ময়লার জায়গাতেও, মানুষের পেটেও, জীব জন্তুর অভ্যন্তরেও, ঘরের কোণে ও কক্ষের ভিতরে।... তারা যা বলেছে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র ও উপরে। তখন ইমাম উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করলেন যে, আয়াতের শুরু ও শেষের দিকে তাকিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খবর রাখেন।
এটা নয় যে, তিনি সব জায়গায় তাদের সাথে আছেন। দেখুন, মহান আল্লাহর কথা, “আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠ জন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭]
তারপর তিনি বলেন, ‘আমরা বললাম, তিনি তাদের সাথে ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে আছেন যা দিয়ে আয়াত শুরু করা হয়েছে আর যা দিয়ে আয়াত শেষ করা হয়েছে। কারণ তিনি অনেক আয়াতে এমন কথা বলেছেন যা দৃঢ়করে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, তিনি তাঁর ‘আরশের উপরে, সকল আসমানের উপরে। সুতরাং তিনি সেখানেই এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর যখন তিনি বলেছেন তিনি প্রত্যেক শলা-পরামর্শকারীর সাথে, আমরা বললাম, তাঁর জ্ঞান ও দেখা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে, যদিও তিনি স্বয়ং তাঁর যাবতীয় পূর্ণতাসহ তাঁর ‘আরশের উপর, যেমনটি তিনি তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন। কারণ তার থেকে কোনো কিছু আড়াল হয় না। উপরস্থ সাত আসমানের কোনো কিছু তাঁর জ্ঞান ও দেখা থেকে ছুটে যেতে পারে না, অনুরূপ সাত যমীনের নিচের কিছুও নয়। আর সেটা তেমনি যেমনটি তিনি মূসা ও হারূন ‘আলাইহিমাস সালামকে বলেছিলেন, “তিনি বললেন, ‘আপনারা ভয় করবেন না, আমি তো আপনাদের সংগে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি’।” [সূরা ত্বা-হা: ৪৬] অর্থাৎ ‘আরশের উপর থেকে।’ দেখুন, উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৩-৪৪।
তারও আগে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল যখন দেখলেন যে, জাহমিয়্যারা এ আয়াতের অপব্যাখ্যা করে বলছে যে, আল্লাহ আমাদের মাঝে ও আমাদের মধ্যে। তখন ইমাম আহমাদ বললেন, ‘আমরা বললাম, তোমরা আল্লাহর আয়াতের মাধ্যমে দেয়া সংবাদের প্রথম অংশ কেন কর্তন করেছ? আল্লাহ তা‘আলা তো বলেছেন, “আপনি কি দেখেননি নিশ্চয় আল্লাহ জানেন তা যা আসমানসমূহ ও যা যমীনে আছে।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] তারপর বলেছেন, “তিনজনের শলা-পরামর্শ হলে সেখানে তিনি চতুর্থজন হন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] অর্থাৎ তিনি তাঁর জ্ঞান ও ইলমে তাদের চতুর্থজন। “আর নয় চতুর্থ জন যেখানে তিনি পঞ্চম জন না হন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর ইলমের মাধ্যমে তাদের সাথে আছেন। “আর না তাদের ষষ্ঠজন, বা তার থেকে কম বা তার থেকে বেশি, তিনি তাদের সাথে রয়েছেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] অর্থাৎ তিনি তাদের সাথে ইলমের মাধ্যমে রয়েছেন। “যেখানেই তারা থাকুক না কেন, তারপর তিনি তাদেরেকে জানিয়ে দিবেন সেটা যা তারা করেছে, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] এভাবে সংবাদ শুরু করেছেন ইলমের মাধ্যমে আর সংবাদ শেষ করেছেন ইলমের মাধ্যমে।’ আর-রাদ্দু আলায় যানাদিকাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ২৯৬-২৯৭। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এভাবে আল্লাহ আয়াতটি শুরু করেছেন ‘ইলম’ দিয়ে, আর শেষ করেছেন ‘ইলম’ দিয়ে। তাহলে জানা গেল যে, তিনি এ আয়াতে সাথে থাকার দ্বারা ইচ্ছা করেছেন তিনি তাদের সম্পর্কে জানেন, তাঁর কাছে কোনো কিছু গোপন নেই, আর এরকম তাফসীরই করেছেন ইমাম আহমাদ আর তার পূর্বেকার আলেমগণ যেমন ইবন আব্বাস, দাহহাক, সুফইয়ান আস-সাওরী।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ (৮/৩৭৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, এ আয়াতের শুরু ও শেষ প্রমাণ করছে যে, এখানে ‘ইলম’ উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে, আর তিনি তাঁর ‘আরশে উপর রয়েছেন। এ হচ্ছে সকল মুসলিমদের কথা। জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৫৯)।
আর এ আয়াত ইলম দ্বারা শুরু ও ইলম দ্বারা শেষ করা প্রমাণ করে যে এখানে সাথে থাকার অর্থ ‘ইলমের মাধ্যমে সাথে থাকা’। এ বিষয়টি বহু আলেম যুগ যুগ ধরে বলেছেন। যেমন, ইবন বাত্তাহ আল-উকবারী, আল-ইবানাহ (৩/১৪৪); আজুররী, আশ-শরী‘আহ (৩/১০৭৫-১০৭৬); ইয়াহইয়া ইবন আবিল খাইর আল-‘ইমরানী, আল-ইন্তেসার ফির রাদ্দি আলাল মু‘তাযিলাতিল কাদারিয়্যাতিল আশরার (২/৬১৭); ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১১/২৪৯); জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬৪); ইবন কাসীর, আত-তাফসীর (৮/৪১)। ইবন কাসীর সেখানে ইমাম আহমাদের বক্তব্য নিয়ে এসেছেন।
৯৯৬. আর এটাই হচ্ছে, বিশেষ অর্থে সাথে থাকা, দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১১/২৪৯-২৫০)।
৯৯৭. সুতরাং মা‘য়িয়্যাত (معية) এর অর্থ হচ্ছে সাথিত্ব ও মিল থাকা যার চাহিদা হচ্ছে জ্ঞান ও ক্ষমতা। আবার কখনও কখনও সেটার চাহিদা থাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘(২৩) এর অর্থ হচ্ছে সাথীত্ব ও মিল হওয়া... তারপর এ মিল অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ যা মিল থাকলে তা হওয়া দাবি করে। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যখন বলেছেন, তিনি বান্দার সাথে আছেন তখন সেটার দাবি হচ্ছে তিনি তাদের সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, তাদের পরিচালনা করেন, তাদের ওপর ক্ষমতাবান। আর যদি তিনি তাদের কারও সাথে বিশেষভাবে থাকেন তবে বক্তব্যের পূর্বাপরে এমন কিছু থাকবে যা বর্ণনা করবে যে, তিনি তাদের সাহায্য করবেন, সহযোগিতা করবেন।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/২৩-২৪)।