📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 এ সংক্ষিপ্ত ফতোয়া সব রকমের সন্দেহ, মতামত ও সেগুলোর খণ্ডন করার স্থান সংকুলান হবে না

📄 এ সংক্ষিপ্ত ফতোয়া সব রকমের সন্দেহ, মতামত ও সেগুলোর খণ্ডন করার স্থান সংকুলান হবে না


বস্তুতঃ দলিলের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ করা, সন্দেহ দূর করা এবং বিষয়টির বিশ্লেষণ করে হৃদয়ঙ্গম করা যাতে বিশ্বাস জন্মে। আর মানুষের বিভিন্ন মতামতের মধ্যে সঠিক মতটি বেছে নেয়া জরুরি। ফতোয়া এগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে ইতিপূর্বে আমি এ বিষয়ে কিছু লিখেছি এবং আমাদের মজলিসে কিছু আলোচনাও করেছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আমার উদ্দেশ্য সফল হবে।
হয় তেমন লেখা লিখব।

টিকাঃ
৯৮৪. আল্লাহ তা‘আলা ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহর এ আশা বাস্তবায়ন করেছেন, এ ব্যাপারে তিনি একাধিক গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, যেমন, ১- জাওয়াবুল ই‘তিরাদ্বাতিল মিসরিয়‍্যাহ আলাল ফুতইয়া আল-হামাওয়িয়‍্যাহ। ২- বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ। ইত্যাদি। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (১/৬-৭)।

বস্তুতঃ দলিলের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ করা, সন্দেহ দূর করা এবং বিষয়টির বিশ্লেষণ করে হৃদয়ঙ্গম করা যাতে বিশ্বাস জন্মে। আর মানুষের বিভিন্ন মতামতের মধ্যে সঠিক মতটি বেছে নেয়া জরুরি। ফতোয়া এগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে ইতিপূর্বে আমি এ বিষয়ে কিছু লিখেছি এবং আমাদের মজলিসে কিছু আলোচনাও করেছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আমার উদ্দেশ্য সফল হবে।
হয় তেমন লেখা লিখব।

টিকাঃ
৯৮৪. আল্লাহ তা‘আলা ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহর এ আশা বাস্তবায়ন করেছেন, এ ব্যাপারে তিনি একাধিক গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, যেমন, ১- জাওয়াবুল ই‘তিরাদ্বাতিল মিসরিয়‍্যাহ আলাল ফুতইয়া আল-হামাওয়িয়‍্যাহ। ২- বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ। ইত্যাদি। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (১/৬-৭)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 কুরআন ও সুন্নাহ এ দুটিতেই রয়েছে নূর ও হিদায়াত

📄 কুরআন ও সুন্নাহ এ দুটিতেই রয়েছে নূর ও হিদায়াত


এ ব্যাপারে মোটকথা হচ্ছে, নিশ্চয় কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা পূর্ণ হিদায়াত ও নূর অর্জিত হয় তার জন্য যে কুরআন-সুন্নাহ গবেষণা করে, সত্য অনুসরণের সংকল্প করে, কথাকে তার স্থান থেকে বিকৃত করা থেকে ফিরে থাকে(১৮৫), আল্লাহর নাম ও তাঁর আয়াতে ইলহাদ বা বা অস্বীকার করার ধর্মহীনতার মাধ্যমে পরিবর্তন করা থেকে দূরে থাকে (১৯৮৬)। কোনো ধারণাকারী যেন কখনো এ ধারণা না করে যে, এগুলো (কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্যের) কোনো কোনোটি অন্যটির বিপরীত ১৮৭); যেমন কেউ বলল: কুরআনে যে আছে আল্লাহ ‘আরশের উপরে- এটা প্রকাশ্যভাবে ঐ কথার বিপরীত যাতে আল্লাহ বলেন, (وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ “তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন” [সূরা আল-হাদীদ: ৪] এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إذا قام أحدكم إلى الصلاة فإن الله قبل وجهه “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন” ইত্যাদি ভাষ্যসমূহের বিপরীত। (১৮৮) (তার এ সন্দেহের উত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় তার এ বুঝ ও এ বক্তব্যটি মারাত্মক মারাত্মক ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

টিকাঃ
৯৮৫. ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্য থেকে উপকৃত হতে হলে, তা দ্বারা হিদায়াত ও আলোতে উদ্ভাসিত হতে হলে তাকে অবশ্যই দু’টি জিনিস রাখতে হবে: ১- ফিকহ, গভীর চিন্তা, ইলম। ২- সৎ নিয়্যত, বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য, বিকৃতি করা থেকে বিমুখ থাকা, আল্লাহর নাম ও আয়াতসমূহে ইলহাদমুক্ত থাকা। বস্তুত এ দু’টির মাধ্যমেই ‘আহলুত তাজহীল’ বা যারা আল্লাহ তা‘আলার সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসকে অর্থশূন্য করে তাদের নীতি, অনুরূপ আহলুত তাখয়ীল বা যারা আল্লাহর সিফাতগুলোকে শুধু ধারণা করা বিষয় মনে করে তাদের নীতি, তদ্রূপ আহলুত তা’ওয়ীল আল-মাযমুম, যারা আল্লাহর সিফাতগুলোর অপব্যাখ্যা করে, তাদের খপ্পর থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। অন্যত্র ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘উসূলুদ্দীন বা আকীদাহ’র যাবতীয় অধ্যায়ে কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর বাণী, রাসূলের বাণী ও উম্মতের ইজমা‘ দ্বারা যা সাব্যস্ত হবে সেটাকে সুদৃঢ় ভাষ্য হিসেবে গ্রহণ করা।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৮/২৯৪)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় দলীল প্রদান ও মাসআলা উদ্ঘাটনে কুরআনের বাতলানো পদ্ধতি সর্বোত্তম পদ্ধতি।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (২/৮)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় কুরআনকে ইমাম বা নেতা হিসেবে গ্রহণ করে অনুসরণ করাই হচ্ছে দীনে ইসলাম। এটিই হচ্ছে সাহাবায়ে কিরাম, তাদের সুন্দর অনুসারী তাবে’য়ীনে ‘ইযাম ও মুসলিমগণের প্রখ্যাত ইমামগণের পদ্ধতি। তারা কখনো কারও কাছ থেকে কোনো বিবেকের যুক্তি কিংবা স্বাধীন মতকে কুরআনের বিপরীতে দাঁড় করাতেন না। হ্যাঁ, কোনো মানুষের কাছে সংশয় দেখা দিলে তিনি প্রশ্ন করে জেনে নিবেন, যাতে তার সন্দেহ তিরোহিত হয়। আর এজন্যই চার ইমাম ও অন্যান্যগণ তাওহীদ ও সিফাতের ক্ষেত্রে কুরআন ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন, কারও মত কিংবা বিবেকের যুক্তি কিংবা কিয়াসের দিকে যেতেন না।’ মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৬/৪৭১)।
৯৮৬. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘পথভ্রষ্টতার সবচেয়ে বড় নীতি হচ্ছে, আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যে দলীল-প্রমাণাদি, আয়াত-নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা। কারণ যারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে তারা হয় তারা কোনো প্রকার দলীল প্রমাণ ও জ্ঞান ব্যতীতই রাসূল কে সত্য বলে বিশ্বাস করবে ও তাঁর কথাকে গ্রহণ করবে। তার ওপর ঈমান আনবে অথবা এর ওপর রাসূলের দেয়া দলীল প্রমাণাদী ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করবে... যদি এগুলোর ওপর রাসূল যেসব আয়াত-নিদর্শন ও প্রমাণাদি দিয়ে মানুষদের ডেকেছে সেগুলো ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করে তবে সে বিদআতী হওয়ার সাথে সাথে ভুলও করবে আর পথভ্রষ্টও হবে।
আর যদি কেউ মনে করে সে রাসূল যেসব প্রমাণ ও দলীল নিয়ে এসেছেন তার বাইরে গিয়ে রাসূলের নিয়ে আসা বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ আরও দলীল নিয়ে আসবে তবে সে কাজটি হবে সে ইবাদতের মতো যা রাসূল প্রবর্তন করেননি, কিন্তু সে মনে করছে এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য সাধিত হবে।’ দেখুন, আন-নুবুওয়াত (১/২৪৫-২৪৬)। আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি যে, শাইখুল ইসলাম এখানে দলীল নেয়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকাটি উল্লেখ করেছেন এ বিষয়ে অনেক কালামশাস্ত্রবিদরাই বিরোধিতা করে থাকে, তারা বলে থাকে যে, কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা দলীল-প্রমাণসমূহ ‘যন্নী’ বা ধারণার উদ্রেক করে, আরও বলবে যে, খবরে ওয়াহিদ ইলম বা দৃঢ় জ্ঞানের উপকারিতা দেয় না, বরং তা তো কেবল ধারণামূলক জ্ঞান প্রদান করে, আর ধারণা হকের পৌঁছার ব্যাপারে সামান্যও কাজে লাগে না (নাউযুবিল্লাহ)। এ জন্যই শাইখুল ইসলাম কালামশাস্ত্রবিদদের উপরোক্ত দু’টি ভূমিকার নাম দিয়েছেন ‘যিন্দীকদের দু’টি ভূমিকা’। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৪/১০৪)।
৯৮৭. অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ কখনো একটি অপরটির বিপরীত নয়, অনুরূপ কুরআন-সুন্নাহ ও বিবেকের যুক্তি একটি অপরটির বিপরীতও নয়। বস্তুত সালাফে সালেহীনের মতাদর্শ সম্পূর্ণরূপে সরল সোজা, সুদৃঢ়, বিশুদ্ধ, সর্বত্র প্রবর্তনযোগ্য, আর তা সুস্পষ্ট বিবেক ও বিশুদ্ধ নকল (কুরআন ও সুন্নাহ) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/২১৩)।
৯৮৮. হাদীসটি নিয়ে এসেছেন, বুখারী, আল-জামে‘উস সহীহ (২/২৩৫), নং ৭৫৩; অনুরূপ মুসলিম, আস- সহীহ (১/৩৮৮), হাদীস নং ৫৪৭।
৯৮৯. অর্থাৎ এভাবে তারা কুরআনের ‘আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত আয়াতের বিপরীতে সূরা আল-হাদীদে বর্ণিত ‘সাথে থাকা’ ও রাসূলের হাদীসে বর্ণিত ‘সামনে থাকা’র বর্ণনা দিয়ে স্ববিরোধিতা প্রমাণের চেষ্টা চালায়, তাদের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, তাদের এ কাজটি মারাত্মক ভুল। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্যকে সন্দেহ-সংশয় নিয়ে এসে গ্রহণ না করার প্রবণতা অন্তরের বক্রতার ওপর প্রমাণ। সাচ্ছা ঈমানদার দলীলসমূহে সমন্বয় করে। অপর দিকে বিদ‘আতী লোকেরা দলীল- প্রমাণাদীতে স্ববিরোধীতা খুঁজে।

এ ব্যাপারে মোটকথা হচ্ছে, নিশ্চয় কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা পূর্ণ হিদায়াত ও নূর অর্জিত হয় তার জন্য যে কুরআন-সুন্নাহ গবেষণা করে, সত্য অনুসরণের সংকল্প করে, কথাকে তার স্থান থেকে বিকৃত করা থেকে ফিরে থাকে(১৮৫), আল্লাহর নাম ও তাঁর আয়াতে ইলহাদ বা বা অস্বীকার করার ধর্মহীনতার মাধ্যমে পরিবর্তন করা থেকে দূরে থাকে (১৯৮৬)। কোনো ধারণাকারী যেন কখনো এ ধারণা না করে যে, এগুলো (কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্যের) কোনো কোনোটি অন্যটির বিপরীত ১৮৭); যেমন কেউ বলল: কুরআনে যে আছে আল্লাহ ‘আরশের উপরে- এটা প্রকাশ্যভাবে ঐ কথার বিপরীত যাতে আল্লাহ বলেন, (وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ “তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন” [সূরা আল-হাদীদ: ৪] এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إذا قام أحدكم إلى الصلاة فإن الله قبل وجهه “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন” ইত্যাদি ভাষ্যসমূহের বিপরীত। (১৮৮) (তার এ সন্দেহের উত্তরে আমরা বলব) নিশ্চয় তার এ বুঝ ও এ বক্তব্যটি মারাত্মক মারাত্মক ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

টিকাঃ
৯৮৫. ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহ’র ভাষ্য থেকে উপকৃত হতে হলে, তা দ্বারা হিদায়াত ও আলোতে উদ্ভাসিত হতে হলে তাকে অবশ্যই দু’টি জিনিস রাখতে হবে: ১- ফিকহ, গভীর চিন্তা, ইলম। ২- সৎ নিয়্যত, বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য, বিকৃতি করা থেকে বিমুখ থাকা, আল্লাহর নাম ও আয়াতসমূহে ইলহাদমুক্ত থাকা। বস্তুত এ দু’টির মাধ্যমেই ‘আহলুত তাজহীল’ বা যারা আল্লাহ তা‘আলার সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসকে অর্থশূন্য করে তাদের নীতি, অনুরূপ আহলুত তাখয়ীল বা যারা আল্লাহর সিফাতগুলোকে শুধু ধারণা করা বিষয় মনে করে তাদের নীতি, তদ্রূপ আহলুত তা’ওয়ীল আল-মাযমুম, যারা আল্লাহর সিফাতগুলোর অপব্যাখ্যা করে, তাদের খপ্পর থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। অন্যত্র ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘উসূলুদ্দীন বা আকীদাহ’র যাবতীয় অধ্যায়ে কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর বাণী, রাসূলের বাণী ও উম্মতের ইজমা‘ দ্বারা যা সাব্যস্ত হবে সেটাকে সুদৃঢ় ভাষ্য হিসেবে গ্রহণ করা।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৮/২৯৪)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় দলীল প্রদান ও মাসআলা উদ্ঘাটনে কুরআনের বাতলানো পদ্ধতি সর্বোত্তম পদ্ধতি।’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (২/৮)। তিনি আরও বলেন, ‘দীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় কুরআনকে ইমাম বা নেতা হিসেবে গ্রহণ করে অনুসরণ করাই হচ্ছে দীনে ইসলাম। এটিই হচ্ছে সাহাবায়ে কিরাম, তাদের সুন্দর অনুসারী তাবে’য়ীনে ‘ইযাম ও মুসলিমগণের প্রখ্যাত ইমামগণের পদ্ধতি। তারা কখনো কারও কাছ থেকে কোনো বিবেকের যুক্তি কিংবা স্বাধীন মতকে কুরআনের বিপরীতে দাঁড় করাতেন না। হ্যাঁ, কোনো মানুষের কাছে সংশয় দেখা দিলে তিনি প্রশ্ন করে জেনে নিবেন, যাতে তার সন্দেহ তিরোহিত হয়। আর এজন্যই চার ইমাম ও অন্যান্যগণ তাওহীদ ও সিফাতের ক্ষেত্রে কুরআন ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন, কারও মত কিংবা বিবেকের যুক্তি কিংবা কিয়াসের দিকে যেতেন না।’ মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৬/৪৭১)।
৯৮৬. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘পথভ্রষ্টতার সবচেয়ে বড় নীতি হচ্ছে, আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যে দলীল-প্রমাণাদি, আয়াত-নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা। কারণ যারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে তারা হয় তারা কোনো প্রকার দলীল প্রমাণ ও জ্ঞান ব্যতীতই রাসূল কে সত্য বলে বিশ্বাস করবে ও তাঁর কথাকে গ্রহণ করবে। তার ওপর ঈমান আনবে অথবা এর ওপর রাসূলের দেয়া দলীল প্রমাণাদী ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করবে... যদি এগুলোর ওপর রাসূল যেসব আয়াত-নিদর্শন ও প্রমাণাদি দিয়ে মানুষদের ডেকেছে সেগুলো ব্যতীত অন্য কোনো দলীল প্রদান করে তবে সে বিদআতী হওয়ার সাথে সাথে ভুলও করবে আর পথভ্রষ্টও হবে।
আর যদি কেউ মনে করে সে রাসূল যেসব প্রমাণ ও দলীল নিয়ে এসেছেন তার বাইরে গিয়ে রাসূলের নিয়ে আসা বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ আরও দলীল নিয়ে আসবে তবে সে কাজটি হবে সে ইবাদতের মতো যা রাসূল প্রবর্তন করেননি, কিন্তু সে মনে করছে এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য সাধিত হবে।’ দেখুন, আন-নুবুওয়াত (১/২৪৫-২৪৬)। আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি যে, শাইখুল ইসলাম এখানে দলীল নেয়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকাটি উল্লেখ করেছেন এ বিষয়ে অনেক কালামশাস্ত্রবিদরাই বিরোধিতা করে থাকে, তারা বলে থাকে যে, কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা দলীল-প্রমাণসমূহ ‘যন্নী’ বা ধারণার উদ্রেক করে, আরও বলবে যে, খবরে ওয়াহিদ ইলম বা দৃঢ় জ্ঞানের উপকারিতা দেয় না, বরং তা তো কেবল ধারণামূলক জ্ঞান প্রদান করে, আর ধারণা হকের পৌঁছার ব্যাপারে সামান্যও কাজে লাগে না (নাউযুবিল্লাহ)। এ জন্যই শাইখুল ইসলাম কালামশাস্ত্রবিদদের উপরোক্ত দু’টি ভূমিকার নাম দিয়েছেন ‘যিন্দীকদের দু’টি ভূমিকা’। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৪/১০৪)।
৯৮৭. অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ কখনো একটি অপরটির বিপরীত নয়, অনুরূপ কুরআন-সুন্নাহ ও বিবেকের যুক্তি একটি অপরটির বিপরীতও নয়। বস্তুত সালাফে সালেহীনের মতাদর্শ সম্পূর্ণরূপে সরল সোজা, সুদৃঢ়, বিশুদ্ধ, সর্বত্র প্রবর্তনযোগ্য, আর তা সুস্পষ্ট বিবেক ও বিশুদ্ধ নকল (কুরআন ও সুন্নাহ) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/২১৩)।
৯৮৮. হাদীসটি নিয়ে এসেছেন, বুখারী, আল-জামে‘উস সহীহ (২/২৩৫), নং ৭৫৩; অনুরূপ মুসলিম, আস- সহীহ (১/৩৮৮), হাদীস নং ৫৪৭।
৯৮৯. অর্থাৎ এভাবে তারা কুরআনের ‘আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত আয়াতের বিপরীতে সূরা আল-হাদীদে বর্ণিত ‘সাথে থাকা’ ও রাসূলের হাদীসে বর্ণিত ‘সামনে থাকা’র বর্ণনা দিয়ে স্ববিরোধিতা প্রমাণের চেষ্টা চালায়, তাদের ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, তাদের এ কাজটি মারাত্মক ভুল। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্যকে সন্দেহ-সংশয় নিয়ে এসে গ্রহণ না করার প্রবণতা অন্তরের বক্রতার ওপর প্রমাণ। সাচ্ছা ঈমানদার দলীলসমূহে সমন্বয় করে। অপর দিকে বিদ‘আতী লোকেরা দলীল- প্রমাণাদীতে স্ববিরোধীতা খুঁজে।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন’

📄 আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন’


তিনি আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন। (১০০) যেমন উভয়টিকে তিনি একত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন,
الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ) [الحديد: ٤]
“তিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন-তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, আর তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এতে তিনি জানালেন যে, তিনি ‘আরশের উপরে আছেন, তিনি সবকিছু জানেন। তিনি আমাদের সাথে আছেন, আমরা যেখানেই থাকি। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আও‘আল’ (১9১) এর হাদীসে বলেছেন: والله فوق العرش، وهو يعلم ما أنتم عليه “আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন, তিনি তোমাদের অবস্থা জানেন。

টিকাঃ
৯৯০. যেসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যও রয়েছে আবার সম নামের গুণাবলি বান্দার জন্যও রয়েছে সেসব গুণাবলির ব্যাপারে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে স্রষ্টার ক্ষেত্রেও তা প্রকৃতরূপে, আর সৃষ্টির জন্যও তা প্রকৃতরূপে। যেভাবে যেটা যার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে তা সেভাবেই তার জন্য প্রকৃতরূপে বলতে হবে। এ মতটিই হচ্ছে অধিকাংশ গবেষক আলেমগণের। একদল কালামশাস্ত্রবিদের মতে, এসব গুণাবলি বান্দার সাথেই প্রকৃত অর্থে, আর আল্লাহর জন্য তা রূপকভাবে, এ মতটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট মত। আর আবুল আব্বাস আন-নাশী’, যিনি মু‘তাযিলাদের একজন আলেম, তিনি বলেন, এসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যই প্রকৃতপক্ষে, বান্দার জন্য রূপকভাবে। এটিও সঠিক বক্তব্য নয়। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/১৯৬); দারউত তা‘আরুদ্ব (৫/১৮৪); আর-রাদ্দু আলাল মানতিক্বিয়‍্যীন, পৃ. ১৫৬; বাদায়ে‘উল ফাওয়ায়িদ (১/২৯০); মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/৩৭); আল-জাওয়াবুস সহীহ (২/২৩২), (৩/১৪৯)।
৯৯১. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৯৯২. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অভিমত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহের উপর, তাঁর ‘আরশের উপরে অবস্থান করে আছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক। তা সত্ত্বেও তিনি ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে বান্দাদের সাথে আছেন আর তাঁর বন্ধুদের সাথে আছেন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে। তিনি অনেক নিকটে, তিনি দো‘আ কবুলকারী। এর ওপর দলীল-প্রমাণাদি অগণিত অসংখ্য। এমনকি ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম শাফে‘য়ীর একজন বড় ছাত্র থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, ‘কুরআনে কারীমে এক হাজার বা তার চেয়েও বেশি দলীল এটা প্রমাণ করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টির উপরে, আর তিনি তাঁর সকল বান্দাদের ওপর।’ মাজমু‘ ফাতাওয়া (৫/১২১)। আর এ মাসআলাটিতে মূলত ইজমা ঐকমত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা ইজমা‘ বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম আওযা‘ঈ, সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আদ-দুবা‘ঈ, ইসহাক ইবন রাহওয়িয়াহ, কুতাইবাহ ইবন সা‘ঈদ আল-বাগলানী, উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, ইবন বাত্তাহ প্রমুখ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা‘আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকলি (৬/২৬০); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা‘উল জুযূশ, পৃ. ২২৬; যাহাবী, আল-‘উলু লিল ‘আলিয়ি‍্যল ‘আযীম (২/১১২৮), নং ৪৫১, (২/১১০৩), নং ৪৩৪; উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী (১/২২৮); ইবন বাত্তাহ, আল-ইবনাহ (৩/১৩৬)। এ বিষয়ে জানার জন্য আরও দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৩/১৪২-১৪৩), (৫/৪৯৫-৪৯৯), (১১/২৪৯- ২৫১); ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/২৬৫-২৬৯)। আর ভাষার রেফারেন্স হিসেবে দেখুন, আর-রাগেব আল-আসফাহানী, আল-মুফারাদাত, পৃ. ৪৭০; যাবীদী, তাজুল ‘আরূস (২২/২১০- ২১১)। প্রয়োজনে দেখতে পারেন, আমার লেখা গ্রন্থ “রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন”।

তিনি আল্লাহ প্রকৃতই আমাদের সাথে আছেন, আবার প্রকৃতই তিনি ‘আরশের উপরে আছেন। (১০০) যেমন উভয়টিকে তিনি একত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন,
الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ) [الحديد: ٤]
“তিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন-তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, আর তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ্ তার সম্যক দ্রষ্টা।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এতে তিনি জানালেন যে, তিনি ‘আরশের উপরে আছেন, তিনি সবকিছু জানেন। তিনি আমাদের সাথে আছেন, আমরা যেখানেই থাকি। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আও‘আল’ (১9১) এর হাদীসে বলেছেন: والله فوق العرش، وهو يعلم ما أنتم عليه “আল্লাহ আরশের উপরে রয়েছেন, তিনি তোমাদের অবস্থা জানেন。

টিকাঃ
৯৯০. যেসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যও রয়েছে আবার সম নামের গুণাবলি বান্দার জন্যও রয়েছে সেসব গুণাবলির ব্যাপারে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে স্রষ্টার ক্ষেত্রেও তা প্রকৃতরূপে, আর সৃষ্টির জন্যও তা প্রকৃতরূপে। যেভাবে যেটা যার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে তা সেভাবেই তার জন্য প্রকৃতরূপে বলতে হবে। এ মতটিই হচ্ছে অধিকাংশ গবেষক আলেমগণের। একদল কালামশাস্ত্রবিদের মতে, এসব গুণাবলি বান্দার সাথেই প্রকৃত অর্থে, আর আল্লাহর জন্য তা রূপকভাবে, এ মতটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট মত। আর আবুল আব্বাস আন-নাশী’, যিনি মু‘তাযিলাদের একজন আলেম, তিনি বলেন, এসব গুণাবলি আল্লাহর জন্যই প্রকৃতপক্ষে, বান্দার জন্য রূপকভাবে। এটিও সঠিক বক্তব্য নয়। দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৫/১৯৬); দারউত তা‘আরুদ্ব (৫/১৮৪); আর-রাদ্দু আলাল মানতিক্বিয়‍্যীন, পৃ. ১৫৬; বাদায়ে‘উল ফাওয়ায়িদ (১/২৯০); মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/৩৭); আল-জাওয়াবুস সহীহ (২/২৩২), (৩/১৪৯)।
৯৯১. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৯৯২. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অভিমত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহের উপর, তাঁর ‘আরশের উপরে অবস্থান করে আছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক। তা সত্ত্বেও তিনি ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে বান্দাদের সাথে আছেন আর তাঁর বন্ধুদের সাথে আছেন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে। তিনি অনেক নিকটে, তিনি দো‘আ কবুলকারী। এর ওপর দলীল-প্রমাণাদি অগণিত অসংখ্য। এমনকি ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম শাফে‘য়ীর একজন বড় ছাত্র থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, ‘কুরআনে কারীমে এক হাজার বা তার চেয়েও বেশি দলীল এটা প্রমাণ করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টির উপরে, আর তিনি তাঁর সকল বান্দাদের ওপর।’ মাজমু‘ ফাতাওয়া (৫/১২১)। আর এ মাসআলাটিতে মূলত ইজমা ঐকমত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা ইজমা‘ বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম আওযা‘ঈ, সা‘ঈদ ইবন ‘আমের আদ-দুবা‘ঈ, ইসহাক ইবন রাহওয়িয়াহ, কুতাইবাহ ইবন সা‘ঈদ আল-বাগলানী, উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, ইবন বাত্তাহ প্রমুখ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা‘আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকলি (৬/২৬০); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা‘উল জুযূশ, পৃ. ২২৬; যাহাবী, আল-‘উলু লিল ‘আলিয়ি‍্যল ‘আযীম (২/১১২৮), নং ৪৫১, (২/১১০৩), নং ৪৩৪; উসমান ইবন সা‘ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী (১/২২৮); ইবন বাত্তাহ, আল-ইবনাহ (৩/১৩৬)। এ বিষয়ে জানার জন্য আরও দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৩/১৪২-১৪৩), (৫/৪৯৫-৪৯৯), (১১/২৪৯- ২৫১); ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া’য়িক (২/২৬৫-২৬৯)। আর ভাষার রেফারেন্স হিসেবে দেখুন, আর-রাগেব আল-আসফাহানী, আল-মুফারাদাত, পৃ. ৪৭০; যাবীদী, তাজুল ‘আরূস (২২/২১০- ২১১)। প্রয়োজনে দেখতে পারেন, আমার লেখা গ্রন্থ “রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন”।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ভাষায় مع ‘সাথে থাকা’ স্পর্শ করা কিংবা সম্পৃক্তীয় থাকা বুঝায় না

📄 ভাষায় مع ‘সাথে থাকা’ স্পর্শ করা কিংবা সম্পৃক্তীয় থাকা বুঝায় না


আর তা হচ্ছে এই যে, ৫ (সঙ্গে থাকা) শব্দটি যখন ভাষায় উন্মুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়(১৯৩) তখন সেটা প্রকাশ্যভাবে কেবল ‘সাধারণ মিল থাকা’ বুঝায়, মিশে যাওয়া বা ডানে বামে বরাবর থাকা দাবী করে না। আর যখন অন্য কোনো অর্থে শর্তযুক্ত করা হয়, তখন ঐ অর্থে সঙ্গে থাকা অর্থ বুঝায়। যেমন বলা হয় ما زلنا نسير والقمر معنا “আমরা সফর করছিলাম এমতাবস্থায় যে চাঁদ আমাদের সাথেই ছিল” অথবা বলা হয় هذا المتاع معي “এই পণ্যটি আমার সাথে”, কারণ সে পণ্যটি তোমার কাছে আছে, যদিও তা তোমার মাথার উপরে থাকে। কাজেই আল্লাহ সৃষ্টির সাথে থাকা প্রকৃত অর্থেই আবার ‘আরশের উপরে থাকাও প্রকৃত অর্থেই।

টিকাঃ
৯৯৩. অর্থাৎ যখন সম্বন্ধপদ ও বিশেষায়িত করার কিছু না থাকে তখন এর অর্থ কেবল নিঃশর্ত কম্পেয়ার করা উদ্দেশ্য হয়। কোনোভাবেই তা দ্বারা মিশে যাওয়া বা মিশ্রিত হওয়া উদ্দেশ্য হয় না। যেমন আল্লাহর বাণী, “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তার সাথে যারা আছে...” [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] অনূরূপ তাঁর বাণী, “তাহলে তারা ঈমানদারদের সাথে গণ্য হবে।” [সূরা আন-নিসা: ১৪৬] আরও তাঁর বাণী, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” [সূরা আত-তাওবাহ: ১১৯] সুতরাং আল্লাহর বাণী “তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাক না কেন।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এখানে সাথে থাকার অর্থ তাঁর সত্তা সৃষ্টির সত্তার সাথে মিশে আছে এমনটি অর্থ করা নিষিদ্ধ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, হাদীসি শারহুন নুযূল, পৃ. ৩৬০।
অনুরূপভাবে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাও বলেছেন যে, ভাষাবিদদের কেউই একথা বলেননি যে, মা’য়িয়‍্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার অর্থ মিশে থাকা কিংবা লেগে থাকা দাবি করে, যেমনিভাবে কেউ এটাও বলেননি তা ডানে থাকা কিংবা বামে থাকা বা অনুরূপ থাকা দাবি করে, যেসব অর্থে সৃষ্টির সাথে রাব্বুল আলামীনের থাকা নিষিদ্ধ। বরং মা’য়িয়‍্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে ‘আল- মুকারানাতুল মুত্বলাক্কাহ’ বা শুধু মিল থাকা (কথায় হোক কিংবা মতে কিংবা সাহায্যে কিংবা দেখা- শোনায়)। দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬১)। তিনি আরও বলেন, যে কেউ এটা দাবি করবে যে, মা’য়িয়‍্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে লেগে থাকা বা মিশে যাওয়া, আর এটাই কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ সে অবশ্যই সাধারণভাবে ভাষার ওপর মিথ্যাচার করলো, আর বিশেষভাবে কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করলো। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (৬/২০-২৫); আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬২)।

আর তা হচ্ছে এই যে, ৫ (সঙ্গে থাকা) শব্দটি যখন ভাষায় উন্মুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়(১৯৩) তখন সেটা প্রকাশ্যভাবে কেবল ‘সাধারণ মিল থাকা’ বুঝায়, মিশে যাওয়া বা ডানে বামে বরাবর থাকা দাবী করে না। আর যখন অন্য কোনো অর্থে শর্তযুক্ত করা হয়, তখন ঐ অর্থে সঙ্গে থাকা অর্থ বুঝায়। যেমন বলা হয় ما زلنا نسير والقمر معنا “আমরা সফর করছিলাম এমতাবস্থায় যে চাঁদ আমাদের সাথেই ছিল” অথবা বলা হয় هذا المتاع معي “এই পণ্যটি আমার সাথে”, কারণ সে পণ্যটি তোমার কাছে আছে, যদিও তা তোমার মাথার উপরে থাকে। কাজেই আল্লাহ সৃষ্টির সাথে থাকা প্রকৃত অর্থেই আবার ‘আরশের উপরে থাকাও প্রকৃত অর্থেই।

টিকাঃ
৯৯৩. অর্থাৎ যখন সম্বন্ধপদ ও বিশেষায়িত করার কিছু না থাকে তখন এর অর্থ কেবল নিঃশর্ত কম্পেয়ার করা উদ্দেশ্য হয়। কোনোভাবেই তা দ্বারা মিশে যাওয়া বা মিশ্রিত হওয়া উদ্দেশ্য হয় না। যেমন আল্লাহর বাণী, “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তার সাথে যারা আছে...” [সূরা আল-ফাতহ: ২৯] অনূরূপ তাঁর বাণী, “তাহলে তারা ঈমানদারদের সাথে গণ্য হবে।” [সূরা আন-নিসা: ১৪৬] আরও তাঁর বাণী, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” [সূরা আত-তাওবাহ: ১১৯] সুতরাং আল্লাহর বাণী “তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাক না কেন।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪] এখানে সাথে থাকার অর্থ তাঁর সত্তা সৃষ্টির সত্তার সাথে মিশে আছে এমনটি অর্থ করা নিষিদ্ধ। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, হাদীসি শারহুন নুযূল, পৃ. ৩৬০।
অনুরূপভাবে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাও বলেছেন যে, ভাষাবিদদের কেউই একথা বলেননি যে, মা’য়িয়‍্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার অর্থ মিশে থাকা কিংবা লেগে থাকা দাবি করে, যেমনিভাবে কেউ এটাও বলেননি তা ডানে থাকা কিংবা বামে থাকা বা অনুরূপ থাকা দাবি করে, যেসব অর্থে সৃষ্টির সাথে রাব্বুল আলামীনের থাকা নিষিদ্ধ। বরং মা’য়িয়‍্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে ‘আল- মুকারানাতুল মুত্বলাক্কাহ’ বা শুধু মিল থাকা (কথায় হোক কিংবা মতে কিংবা সাহায্যে কিংবা দেখা- শোনায়)। দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬১)। তিনি আরও বলেন, যে কেউ এটা দাবি করবে যে, মা’য়িয়‍্যাহ বা ‘সাথে’ থাকার দাবি হচ্ছে লেগে থাকা বা মিশে যাওয়া, আর এটাই কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ সে অবশ্যই সাধারণভাবে ভাষার ওপর মিথ্যাচার করলো, আর বিশেষভাবে কুরআনের ওপর অপবাদ আরোপ করলো। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (৬/২০-২৫); আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (৩/১৬২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00