📄 কুরআন ও সুন্নাহ এ দুটিই যথেষ্ট, মানুষের বক্তব্য বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে না
কাযী আবু বকর আল-বাকেল্লানী, তিনি স্বীয় ‘আত-তামহীদ’ (১৬৫) গ্রন্থে এর চেয়েও অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। (১০) কিন্তু কিতাবটির কপি আমার কাছে এখন নেই। (১৯৮৭) বস্তুত এ ব্যাপারে কালামপন্থীদের বক্তব্য খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে, যদিও আমরা কুরআন-সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের বক্তব্যের পর অন্য কারো বক্তব্যের প্রয়োজন মুক্ত হয়ে যাই。
মোদ্দাকথা, বড় প্রাপ্তি হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক বান্দাকে এমন হিকমত ও ঈমান দান করা যাতে সে তার বিবেককে কাজে লাগাতে পারে ও দীনকে বুঝতে সক্ষম হবে। তারপর (এমন নেয়ামত প্রাপ্তির পর) কুরআন-সুন্নাহ’র আলো তাকে সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। কিন্তু অনেক মানুষ কালামপন্থী কোনো না কোনো দলের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে গেছে এবং অন্য (সালাফ ও ইমাম)দের বাদ দিয়ে এসব কালামপন্থীদের প্রতিই তাদের সুধারণা পোষণ করে, আর এ অবাঞ্ছিত চিন্তা করে যে, এ বিষয়ে তারা যতটুকু সত্যে উপনীত হয়েছেন অন্যদের তা হয়নি। সুতরাং যদি কেউ সকল আয়াত বা নিদর্শন নিয়ে আসে তাহলেও তারা তা মানবে না, যতক্ষণ না কালামশাস্ত্রবিদদের থেকে কিছু আনা হয়।
টিকাঃ
৯৬৫. এ কিতাবটির নাম, ‘তামহীদুল আওয়ায়েল ফী তালখীসিদ দালায়িল’। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, (যা সাফারীনী লাওয়ামি‘উল আনওয়ারের ১/১৯৮, ৪২০ পৃষ্ঠায় তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে), “এটি কাযী আল-বাকেল্লানীর বিখ্যাত গ্রন্থ”। গ্রন্থটি তিনি আদ্বদুদ দৌলাহ এর সন্তানের অনুরূধে লিখেছিলেন বলে গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। কিতাবটি বেশ কয়েকবার ছাপা হয়েছে। তন্মধ্যে বিখ্যাত ছাপাটি হচ্ছে যা ‘ইমাদুদ্দীন আহমাদ হাইদার’ এর তাহকীকে মুআসসাসাতুল কুতুবিস সাক্বাফিয়্যাহ, ১৪০7 সালে প্রথমবার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ৫৬৭ পৃষ্ঠায় বের হয়েছিল। সাথে গ্রন্থকারের সংক্ষিপ্ত জীবনীও সংযুক্ত ছিল। দুর্ভাগ্যবশত এটি সবচেয়ে মারাত্মক খেয়ানতপূর্ণ ছাপা। কারণ তাহকীক করার নাম দিয়ে তিনি বিরাট অংশ বাদ দিয়ে বের করেছেন। কারণ সেখানে আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, তার সে খেয়ানত প্রকাশ হয়ে পড়ে, যখন প্রাচ্যবিদ পাদ্রী রিচার্ড যোসেফ মুকার্থী আল-ইয়াসূ‘য়ী তা পূর্ণরূপে বের করেছেন। এভাবেই আল্লাহ হক্ককে প্রকাশ করে দেন।
৯৬৬. দেখুন, আত-তামহীদ, পৃ. ২৯৫-২৯৯।
৯৬৭. তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে বুঝা যায়, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ কতবড় আমানতদার ছিলেন। তার কাছে যা নেই তা অনায়াসে বলে দিয়েছেন। সেজন্য সেটা তিনি নিয়ে আসেননি। আলহামদুলিল্লাহ এ গ্রন্থ থেকে বিস্তারিত বর্ণনা আমি আমার “রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন” গ্রন্থে নিয়ে এসেছি। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যার আমানতদারীর আরও কিছু নমুনা দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/১০৫); ইকতিদ্বা’উস সিরাত্বিল মুস্তাকীম (১/৭২, ৪২৪); আর-রাদ্দু আলাল বিকরী (২/৫৯০); আস-সাব‘ঈনিয়্যাহ, বুগইয়াতুল মুরতাদ, পৃ. ৩৪৯; ইস্তেকামাহ (১/৭২); জাওয়াবুল ই‘তিরাদ্বাতুল মিসরিয়্যাহ আলাল ‘ফুতইয়া আল-হামাওয়িয়্যাহ, পৃ. ১৭২; আল-ফাতাওয়াল কুবরা (১/১৬৬), (৬/৮৬); মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৩/১৬৩), (৪/২৩৪), (৬/৪০৬, ৪২০), (১০/৭২৭), (২২/৪৫৭), (২৭/৪৫৫), (২৯/৩২৯), (৩৫/২২১)। তাছাড়াও আরও অনেক জায়গা। তাছাড়া আরও লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এসবের অধিকাংশই তিনি নিজের হিফয থেকে মানুষদের কাছে বলেছেন তারা লিখে নিয়েছে। অনেক কিছু তিনি জেলখানায় লিখেছেন, সেখানে তার কাছে কোনো গ্রন্থও ছিল না, তারপরও আপনি প্রায় হুবহু কথা তার মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছে দেখে আশ্চর্য হবেন। যেমনটি বলেছেন তারই ছাত্র ইবন আব্দুল হাদী, আল-উদ্বুদুদ দুররিয়্যাহ, পৃ. ৩৭।
৯৬৮. ইবন তাইমিয়্যাহ সর্বদা মানুষদেরকে আল্লাহ তা‘আলার দিকেই নিজের অভাব ও নিঃস্ব অবস্থা তুলে ধরার অত্যাবশ্যকতা বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন, ‘বান্দা তার রব্ব আল্লাহর মুখাপেক্ষী হবে যাতে তিনি তাকে সঠিক পথের দিশা দেন, ভালো কাজগুলোর দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘হতে পারে কোনো মানুষ অনেক বেশি বুদ্ধিমান, প্রখর মেধার অধিকারী, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাকে সবচেয়ে প্রকাশিত জিনিস থেকে অন্ধ করে রাখেন। আবার হতে পারে একজন মানুষ অনেক বোকা, দুর্বল দৃষ্টির অধিকারী কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাঁরই অনুমতিক্রমে মানুষের মাঝে যে বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তাকে সে হকের সহজ দিশা প্রদান করেন। সুতরাং লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপায় নেই, তিনি ব্যতীত কোনো ক্ষমতা নেই। তাই এটা স্পষ্টভাবে বলা যায়, যে কেউ নিজের দৃষ্টির ওপর নির্ভর করবে অথবা নিজের বিবেকের ওপর ভরসা করবে সে অবশ্যই অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে এবং হিদায়াত থেকে মাহরুম হয়ে যাবে।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা‘আরুদ্বিল আক্কলি ওয়ান নাকলি (৯/৩৪)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘সুতরাং আল্লাহ যার অন্তরকে আলোকিত করবেন তাকে এমন হিদায়াত দিবেন যা তাকে মঞ্জিলে মাকসুদে পৌঁছে দিবে। অন্যদিকে যাকে বা যার অন্তরকে অন্ধ করে দিবেন, অনেক গ্রন্থ তার হয়রানী ও পথভ্রষ্টতাই শুধু বাড়িয়ে দিবে।’ মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১০/৬৬৫) (আল-ওয়াসিয়্যাতুস সুগরা)।
ইবন তাইমিয়্যাহ আরো বলেন, ‘দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত হক্ক কেউ বিশ্বাস করতে সমর্থ হলে সেটা তার মাঝে ধারণ করার ক্ষমতা, আয়ত্ব করার যোগ্যতা শক্তিশালী করে ও পরিশুদ্ধ করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدَى [محمد : ۱۷] “আর যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে তিনি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিবেন।” [সূরা মুহাম্মাদ: ১৭] আরও বলেন,
وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا * وَإِذَا لَا تَيْتَهُم مِّن لَّدُنَّا أَجْرًا عَظِيمًا وَلَهَدَيْتَهُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا [النساء : ٦٦ - ٦٨] “যা করতে তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তা করলে তাদের ভাল হত এবং চিত্তস্থিরতায় তারা দৃঢ়তর হত। আর অবশ্যই তখন আমরা তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে মহাপুরস্কার প্রদান করতাম এবং অবশ্যই আমরা তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করতাম।” [সূরা আন-নিসা: ৬৬-৬৮]’ দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (৪/১০)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, ‘যে কেউ যা জেনেছে তার ওপর আমল করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে যা জানেনি সে জ্ঞানের ওয়ারিস বানাবেন। সৎ উদ্দেশ্য ইলম অর্জন ও তা ধারণ করার ক্ষেত্রে বড় সহযোগী হিসেবে প্রমাণিত। শরী‘আতের জ্ঞান অর্জন করা সৎ উদ্দেশ্য ও সৎ আমলের জন্য বড় সহযোগী হিসেবে পরীক্ষিত। কারণ ইলম হচ্ছে কায়েদ (সম্মুখ পরিচালক) আর আমল হচ্ছে সায়েক (পিছনের দিক থেকে হাঁকিয়ে নেয়ার চালক)। আত্মা হচ্ছে একগুঁয়ে, সুতরাং যখন কায়েদ (সম্মুখ পরিচালক) কাজ করতে অলসতা করবে তখন সায়েক (পিছনের দিক থেকে হাঁকানো) ব্যক্তির পক্ষে কাজ করা সম্ভব হয় না, আর যখন সায়েক অলসতা করবে তখন কায়েদ সামনে এগুতে সক্ষম হবে না। যখন ইলম দুর্বল হবে পথচারী তখন বিভ্রাটে পড়বে, জানতে পারবে না কোন পথে চলবে, সর্বশেষ অবস্থা হবে তাকদীরের ওপর নিজের ডোর ছেড়ে দেয়া। আর যখন কেউ আমল ছেড়ে দেয় তখন পথচারী পথ হারিয়ে ভুল পথে পরিচালিত হবে, যদিও সে জানছে যে সে পথ হারিয়ে বসেছে। এভাবে ইলমে দুর্বল ব্যক্তি হতভম্ব ও হয়রান, জানে না কোন পথে চলবে, যদিও তার সামনে চলার পথ অনেক। আর আমল পরিত্যাগকারী ব্যক্তিও হতভম্ব ও হয়রান, পথ থেকে বিচ্যুত, তবে সে জানে যে সে পথ হারিয়ে বসেছে।’ মাজমু‘ ফাতাওয়া (১০/544)। আরও দেখুন, জামে‘উর রাসায়িল (২/১৮০); মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৩/২৪৫-২৪৬), (১৮/১৭৬)।
📄 পরবর্তী কালামশাস্ত্রবিদ কর্তৃক তাদের পূর্ববর্তীদের বিরোধিতা
তদুপরি দেখা যায় যে, এরা তাদের পূর্বসূরীদের নীতির বিরোধিতাকারী তাদের সঠিক অনুসরণকারী নয়। যদি তারা তাদের পূর্বসূরীদের বক্তব্যে পাওয়া যে হিদায়াতটুকু রয়েছে তার অনুসরণ করতো আর তার সাথে হক্ক তালাশের মানসিকতা থাকতো, তাহলে আশা করা যেত যে, তাদের হিদায়াত আরও বেড়ে যেত।
📄 যারা কোনো গোত্রের পক্ষে অন্ধ গোঁড়ামী করে, কিন্তু তাদের কাছে যে হকটুকু পাওয়া যায় তা গ্রহণ করে না, তারা ইয়াহুদীদের সাথে তুলনীয়
বস্তুত যে কেউ সুনির্দিষ্ট দল ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে সত্য গ্রহণ করে না, অতঃপর সে দলে সত্যের কোনো অংশ থাকলে তাও গ্রহণ করে না, তার মধ্যে তো ইয়াহুদীদের সাথে সাদৃশ্যতা রয়েছে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন: ﴿وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا بِمَا أَنزَلَ اللهُ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ، وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَهُمْ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴾ [البقرة: ٩١] “আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তাতে ঈমান আনো’, তারা বলে, ‘আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা কেবল তাতে ঈমান আনি’। অথচ এর বাইরে যা কিছু আছে সবকিছুই তারা অস্বীকার করে, যদিও তা সত্য এবং তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী। বলুন, ‘যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক, তবে কেন তোমরা অতীতে আল্লাহর নবীদেরকে হত্যা করেছিলে?” [সূরা আল-বাকারাহ: ৯১]
কারণ ইয়াহুদীরা বলেছিল, আমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে কেবল তার ওপরই ঈমান আনব, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বললেন, قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ) [البقرة: ۹۱] “বলুন, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক, তবে কেন তোমরা অতীতে আল্লাহর নবীদেরকে হত্যা করেছিলে?” [সূরা আল-বাকারাহ: ৯১] অর্থাৎ যদি তোমরা তোমাদের প্রতি নাযিলকৃত বিধানের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক (তবে কেন তোমাদের নবীদের হত্যা করেছ?)। বরং তোমরা তোমাদের নবীগণ যা নিয়ে এসেছেন তারও অনুসরণ করো না, আর না তোমরা অন্য নবীগণ যা নিয়ে এসেছেন সেটার অনুসরণ কর। তোমরা কেবল তোমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে থাক। মূলত এটাই হচ্ছে তার অবস্থা যে সত্যকে অনুসরণ করে না, নিজের দলের থেকেও না, অন্যের থেকেও না। অথচ সে নিজের দলের পক্ষে গোঁড়ামী করে, যে গোঁড়ামীর পিছনে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণও নেই, বর্ণনাও নেই।
টিকাঃ
৯৬৯. মনে হচ্ছে শাইখুল ইসলাম পরবর্তী কোনো কোনো আশ‘আরী ও মাতুরিদীদের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যারা তাদের মতাদর্শের জন্য প্রচণ্ড রকমের গোঁড়ামী করে। তারা তাদের মত থেকে এক বিন্দুও নড়তে নারাজ। যদিও তাদের সেসব মতাদর্শের অনেকগুলো তাদেরই পূর্বতন আলেমগণের আদর্শ বিরোধী প্রমাণিত হয়। যেমনটি আমরা দেখতে পাই, পরবর্তী আশ‘আরী মতবাদের লোকদের নিকট তারা তাদের পূর্ববর্তী বড় ইমামগণ যেমন ইমাম আবুল হাসান আল-আশ‘আরী ও ইমাম আবু বকর আল-বাকেল্লানীর কথারও বিরোধিত করে থাকে। কারণ ইমাম আবুল হাসান আল-আশ‘আরী ও ইমাম আল-বাকেল্লানী আল্লাহর জন্য সিফাতে খবারিয়্যাহ সাব্যস্ত করতেন। যেমনটি আমরা ইতোপূর্বে আলোচনায় দেখেছি তারা আল্লাহর সত্তাগত গুণ চেহারা হাত, পা, চোখ সাব্যস্ত করতেন। আর তারা আল্লাহর ‘আরশের উপর উঠাকেও সাব্যস্ত করেছেন এবং সেটার পক্ষে দলীল প্রদান করেছেন। ইবন তাইময়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র বলেন, আর এ রকম সমস্যায় অনেক ইলম ও দীনের দিকে সম্পর্কিত বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকেও নিপতিত হতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন অনেক ফকীহ, বহু সূফী ও অন্যান্য লোকেরা। অনুরূপ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত বিশেষ কোনো দীনের সম্মানিত নেতার অনুসারীদের মাঝেও এমনটি দেখা যায়, তারা দীনের ফিকহের জ্ঞান কিংবা হাদীসের জ্ঞানের কিছুই গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তা তাদের তথাকথিত দীনী নেতা ও তার গোষ্ঠীর অনুসারীদের মাধ্যম হয়ে না আসে। অথচ দীনে ইসলাম তাদের ওপর আবশ্যক করে দিয়েছে হক্কের অনুসরণ করতে নিঃশর্তভাবে।’ দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, ইকতিদ্বাউস সিরাতিল মুস্তাকীম (১/৭৩)। তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ কখনও কখনও কেন তিনি কালামশাস্ত্রবিদদের বক্তব্য নিয়ে এসে সেখান থেকে হকের কথা ব্যক্ত করেন তার কারণ বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি সেসব বিবেকের যুক্তির প্রধান্যদানকারী গোষ্ঠীর নেতাদের সেসব বক্তব্য পেশ করি, যা হক্ককে প্রকাশ করবে। এটা এজন্য নয় যে হক্ক বুঝা ও জানার জন্য আমরা তাদের মুখাপেক্ষী, কিন্তু এজন্য যে, (১) বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারাও এসব বিষয় যে বাতিল ও নষ্ট তার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। যেসব বিষয়কে সেসব নেতাদের অনুসারীরা অকাট্য বলে ধরে নিয়েছে অথচ তা শরী‘আত বিরোধী। আর এ জন্য যে, (২) যখন মানুষের মন এটা জানতে পারে যে এ কথাটি বিরোধী দলের ইমামগণও বলেছেন তখন সেটা তার অন্তরে রেখাপাত করে, সে তা গ্রহণ করার জন্য প্রশান্তি পায় ও ঘনিষ্ঠতা অনুভব করে। আর এ এজন্য যে, (৩) এর মাধ্যমে প্রকাশ পাবে যে, এ মাসআলাটিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে মতভেদ রয়েছে, তখন অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণের গ্রন্থি খুলে যাবে ও বাড়াবাড়ি করে ভুলের ওপর অবস্থান করা পরিত্যাগ করবে।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা‘আরুদ্বিল আক্বলি ওয়ান নাকলি (১/৩৭৭)।
📄 ইমামুল হারামাইন যা যা এখানে বলেছে সেসব আহলুস সুরাতের কথা নয়
আমি [ইবন তাইমিয়্যাহ] বলি: প্রশ্নকারীর জানা উচিত যে, [ইমামুল হারামাইন আবুল মা‘আলী আল-জুওয়াইনী ও তার মতো লোকদের থেকে উদ্ধৃত] এই জবাবা [এখানে উল্লেখ করা দ্বারা] উদ্দেশ্য ঐসব আলেমদের কতিপয় বক্তব্য উল্লেখ করা, যারা এ অধ্যায়ে সালাফে সালেহীনের মত সংকলন করেছেন। (১৮০) আর আমরা কালামপন্থী ও অন্যান্যদের যে কথাগুলো এখানে উদ্ধৃত করেছি, এ অধ্যায় ও অন্যান্য অধ্যায়ে আমরা যা যা বলি তারা সেসব বলেনি। (১৮১) তবে সত্য যেই বলুক তার থেকে গ্রহণ করা যাবে। (১৮২) মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু তার সে বিখ্যাত বক্তব্যে বলতেন, যেটি আবু দাউদে তার সুনানে নিয়ে এসেছেন,
اقبلوا الحق من كل من جاء به؛ وإن كان كافرا - أو قال فاجرا - واحذروا زيغة الحكيم. قالوا: كيف نعلم أن الكافر يقول الحق ؟ قال : إن على الحق نورا
“সত্য যেই নিয়ে আসুক তা গ্রহণ করো। যদিও সে কাফের হয়” বা তিনি বলেছেন “পাপি হয়” আর বিজ্ঞের পদস্খলন থেকে সতর্ক থাকো। তারা বলল: আমরা কীভাবে জানবো যে, কাফের সত্য বলেছে? তিনি বললেন: নিশ্চয় সত্যের ওপর নূর আছে।”১৮৩) অথবা এ ধরনের কথা, যার অর্থ এমন।
টিকাঃ
৯৮০. এখানে দু’টি বিষয় বলা আবশ্যক তা হচ্ছে, এক. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক একদল সূফী ও কালামশাস্ত্রবিদদের বক্তব্য উল্লেখ করার অর্থ এটা নয় যে, সালাফে সালেহীনের ইমামগণ তথা সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাদের পরে যারা তাদের মত হক্কের ওপর ছিল তাদের এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই। বরং হক হচ্ছে সেটাই যার ওপর সালাফগণ অবস্থান করেছিলেন। ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে যে মাসআলার অবতারণাই করেছেন তাতে সালাফে সালেহীনের নিকট থেকে বহুগুণ বেশি প্রকাশ্য বর্ণনা ও দলীল রয়েছে। কিন্তু ইবন তাইমিয়্যাহ’র উদ্দেশ্য হচ্ছে, অনুসারীদেরকে তাদের ইমামরা হক্কের যে অংশের ওপর ছিল তা জানিয়ে দিয়ে সেটা মানতে বাধ্য করা। দুই. এসব তর্কবাগীশ, শাইখ, উস্তাদ প্রমুখ লোকদের থেকে এখানে যেসব বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল- প্রমাণাদি নিয়ে আসা হয়েছে, কুরআন ও সুন্নাহ’য় সেসবের আরও অনেক এমনসব দলীল ও প্রমাণ রয়েছে যা তাদের বক্তব্য থেকে বড় ও সুন্দর। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এ বিষয়টির তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘কুরআনে কারীমে দীনের এমনসব মূলনীতির বর্ণনা রয়েছে যার ভূমিকাসমূহ স্পষ্ট বিবেকের যুক্তির মাধ্যমে জানা যায়, যা কোনো মানুষের কথায় পাওয়া যায় না। বরং অত্যন্ত দক্ষ তর্কবাগীশরা যেসব বিবেকের যুক্তির দলীল নিয়ে আসে কুরআন সেগুলোর সারাংশ সমৃদ্ধ বরং সেগুলো থেকে আরও সুন্দর। দলীল প্রমাণে ঋদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তারা আপনার কাছে যে বিষয়ই উপস্থিত করে না কেন, আমরা সেটার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আপনার কাছে নিয়ে আসি।” [সূরা আল-ফুরক্বান ৩৩] আরও বলেন, “আর অবশ্যই আমরা মানুষের জন্য এ কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত দিয়েছি। আর আপনি যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন উপস্থিত করেন, তবে যারা কুফরী করেছে তারা অবশ্যই বলবে, ‘তোমরা তো বাতিলপন্থী’।” [সূরা আর-রূম: ৫৮] আরও বলেন, “যদি আমরা এ কুরআন পর্বতের উপর নাযিল করতাম তবে আপনি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত বিদীর্ণ দেখতেন। আর আমরা এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি মানুষের জন্য, যাতে তারা চিন্তা করে।” [সূরা আল-হাশর: ২১] মাজমু‘ ফাতাওয়া (১২/৮১); আরও দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৯/১৬৯)। তিনি অন্যত্র বলেন, বিবেকের যুক্তিবিদ দাবিদারদের কাছে আল্লাহর বিষয়ে যেসব দৃঢ় প্রমাণাদি ও জ্ঞান রয়েছে তার সারাংশ অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ’য় রয়েছে। এর বাইরে কুরআন ও সুন্নাহ’য় এ ব্যাপারে বাড়তি ও পূর্ণতা প্রদানকারী বহু প্রমাণাদি রয়েছে যার দিশা সেসব লোকেরা পায়নি, কেবল তারাই পেয়েছে যাদেরকে তিনি তাঁর সম্বোধন গ্রহণ করার মাধ্যমে হিদায়াত প্রদান করে ধন্য করেছেন। ফলে রাসূল যেসব যুক্তিগত দলীল ও দৃঢ় জ্ঞান নিয়ে এসেছেন তা আগের ও পরের সকল বুদ্ধিজীবীদের সকল বুদ্ধির উপরে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিল।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ (২/১১০)।
৯৮১. আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আলুশ শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এর অর্থ হচ্ছে, ইবনে তাইমিয়্যাহ তাদের থেকে তাদের কিছু আকীদাহ বর্ণনা করেছেন মাত্র, এর অর্থ এটা নয় যে, তাদের প্রত্যেকেই এসব অধ্যায়ে পুরোপুরি সঠিক পথে ছিলেন।” [ফাতাওয়া শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম (১/২১১)] বস্তুত এ ফতোয়ার মাধ্যমে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এর পাণ্ডিত্য ও যোগ্যতা প্রকাশ পেয়েছে, যার কারণে তার গ্রন্থসমূহ সবচেয়ে বেশি উপকারী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। যেমনটি তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘যদি কারও ইলম থাকে আর তার সাথে উত্তম বিতর্ক যুক্ত হয় তবে সেটার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে উঁচু স্তরে উড্ডীন করেন।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৪৯২)।
এখানেও শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহর জন্য উলু ও ইস্তেওয়া তথা সর্বোচ্চ সত্তা হওয়া ও তাঁর ‘আরশের উপর উঠা এ গুণ দু’টির ব্যাপারে এবং সিফাতে খাবারিয়্যাহ (কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা আল্লাহর যাবতীয় গুণ) এর ব্যাপারে কালামশাস্ত্রবিদদের পূর্ববর্তী ও তাদের মতো লোকদের বক্তব্য নিয়ে এসেছেন আর এগুলো দিয়ে তাদের পরবর্তীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তা মানতো, তোমাদেরও তা মানা উচিত। তবে তিনি সে সব পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের বিস্তারিত অংশের সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু একেবারে পুরোপুরি চুপ থাকেননি। বরং বলেছেন, ‘কালামশাস্ত্রবিদরা যা যা বলেছে সেগুলো আমরা এখানে উল্লেখ করলেও আমাদের সব কথা তারা বলেনি’। কারণ পুরোপুরি তাদের সব কথার সমালোচনা করতে নামলে তাদের কথা দিয়ে দলীল নিয়ে তাদেরই আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পেশ করার কাজটি ব্যাহত হতো; প্রমাণটি দুর্বল হয়ে যেতো। এর বিপরীতে ইবন তাইময়্যাহ তার একাধিক কিতাবে পরবর্তী কালামশাস্ত্রবিদ যেমন, রাযী, আমেদী প্রমুখের বক্তব্য তুলে ধরেছেন যাতে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের কথার সমালোচনা করেছেন; যার মাধ্যমে পরবর্তীরা আল্লাহর সিফাতে ইখতিয়ারিয়্যাহ বা যখন যা ইচ্ছা করার গুণগুলো অস্বীকার করেছিল। দেখুন, মাজমু‘ ফাতাওয়া (৬/২৪); দারউত তা‘আরুদ্ব (২/২১০); আব্দুররহমান আলে মাহমূদ, মাওকিফু ইবন তাইমিয়্যাহ মিনাল আশা’য়িরাহ (৩/১২১১)।
৯৮২. কিছু আগেই আমরা শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ’র বক্তব্য এনেছি, যাতে তিনি পরবর্তী আশ‘আরী মতবাদের লোকদের ওপর দোষারোপ করেছেন যে, তারা তাদের ইমামদের থেকে হক্ক কথা হলেও তা গ্রহণ করে না, অন্য কারও কাছ থেকে হক তাদের জানানো হলে তা তো গ্রহণ করেই না। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এ ব্যাপারে তাদের এ কাজকে ইয়াহূদীর কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করেছেন; কারণ ইয়াহূদীরাও তাদের কিতাব থেকে হক্ক গ্রহণ করে না, অন্যদের কিতাব থেকে তো গ্রহণই করে না।
৯৮৩. এ আছারটি সুনান আবী দাউদে এসেছে (৫/১৭-১৮), হাদীস নং ৪৬১১। কিতাবুস সুন্নাহ, বাবু লুযূমিস সুন্নাহ। হাদীসটিকে শাইখ আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দীন আল-আলবানী মাওকুফ সহীহ বলেছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ হচ্ছে, ইবন শিহাব আয-যুহরী বলেন, আবু ইদরীস ‘আয়েয উল্লাহ আল- খাওলানী বলেন, ইয়াযীদ ইবন উমাইরাহ, যিনি মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন, মু‘আয রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু যখনই কোনো ইলমী মজলিসে বসতেন তখনই বসার সময় বলতেন, আল্লাহ, তিনি মহান বিচারক, ইনসাফকারী, সন্দেহকারীদের ধ্বংস হোক। অতঃপর একদিন মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘তোমাদের সামনের দিনগুলোতে ফিতনার অভ্যুদয় হবে, আর তাতে সম্পদ অনেক বেশি হবে। আর কুরআনও সর্বত্র প্রচারিত ও প্রসারিত হবে, তখন তা মুমিন-মুনাফিক, পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড়, দাস-স্বাধীন সবাই গ্রহণ করবে। তখন কোনো বক্তা অচিরেই বলে বসবে, মানুষের কী হলো, মানুষ তো আমার অনুসরণ করছে না, অথচ আমি কুরআন পাঠ করেছি? মানুষ তো আমার অনুসরণ করবে বলে মনে হচ্ছে না, যতক্ষণ না আমি তাদের জন্য এর বাইরে কিছু বিদ‘আতের প্রচলন না ঘটাব। তখন তোমরা সাবধান থাকবে সে যারা বিদ‘আত চালু করবে তাদের সম্পর্কে জানা আবশ্যক। কারণ, যে বিদ‘আত চালু করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে। আমি তোমাদেরকে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে সাবধান করছি। শয়তান কখনো কখনো বিজ্ঞজনের মুখ থেকে পথভ্রষ্টতার বাক্য বের করে, আবার কখনো মুনাফিকও হক কথা বলে। ইয়াযীদ ইবন উমাইরাহ বলেন, আমি তখন মু‘আয রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললাম, আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত করুন, আমাকে কিসে জানাবে যে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিটি পথভ্রষ্টতার কথা বলেছে আর মুনাফিকটি হক্ক কথা বলেছে? তখন তিনি বললেন, অবশ্যই জানতে পারবে, প্রাজ্ঞজনের বিখ্যাত সেসব কথা পরিত্যাগ কর যেগুলো সম্পর্কে বলা হয়, এটা তিনি কী বললেন, তবে তার থেকে এ কারণে তুমি মুখ ফিরিয়ে নিও না; কারণ হতে পারে তিনি ফিরে আসবেন। আর যখন হক্ক কথা শুনবে তখন সেটা গ্রহণ করে নিবে; কারণ হকের উপর নূর বা আলো রয়েছে।
আছারটি আরও যারা যারা সংকলন করেছেন, ১- হাকেম তার মুস্তাদরাকে সংকলন করেছেন (৪/৪৬৬); আর বলেছেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তে, যদিও তারা এটিকে সংকলন করেননি। ইমাম যাহাবী এ বিষয়ে হাকেম এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন। ২- ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (১১/৩৬৩-৩৬৪), নং ২০৭৫০। ৩- আজুররী, আশ-শরী‘আহ, পৃ. ৪৭-৪৮। ৪- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই‘তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ (১/৮৮-৮৯), নং ১১৬। ৫- আবু নু‘আইম আল-হিলইয়া (১/২৩২-২৩৩)। ৬- ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (১/৩০৭-৩০৮)। ৭- আল-ফাসাওয়ী, আল-মা‘রিফাতু ওয়াত-তারীখ (২/৩২১-৩২২)। ৮- বাইহাক্বী, আল-মাদখালু ইলাস সুনানিল কুবরা, পৃ. ৪৪৪, নং ৮৩৪। ৯- ফিরইয়াবী, সিফাতুন নিফাক্ব ও যাম্মুল মুনাফিক্বীন, পৃ. ৮১-৮২, নং ৩৯। ১০- মা‘মার ইবন রাশেদ, আল-জামে‘উ (১১/৩৬৩), নং ২০৭৫০। ১১- ইবন মান্দাহ, আত-তাওহীদ (২/১১০)। ১২- আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (১/২৩৩)। ১৩- বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/২০০), নং ১৩৫। ১৪- বাইহাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা (১০/৩৫৫), নং ২০৯১৬। ১৫- বাইহাক্বী, শু‘আবুল ঈমান (১১/৩১২), নং ৮৫৮১। ১৬- ইবন আব্দিল বার, জামে‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়াফাদ্বলিহী (২/৯৮১), নং ১৮৭১। ১৭- ইমাম ত্বাহাওয়ী, শারহু মুশকিলুল আছার (১০/৩৮), নং ৩৮৯৫।
আমি [ইবন তাইমিয়্যাহ] বলি: প্রশ্নকারীর জানা উচিত যে, [ইমামুল হারামাইন আবুল মা‘আলী আল-জুওয়াইনী ও তার মতো লোকদের থেকে উদ্ধৃত] এই জবাবা [এখানে উল্লেখ করা দ্বারা] উদ্দেশ্য ঐসব আলেমদের কতিপয় বক্তব্য উল্লেখ করা, যারা এ অধ্যায়ে সালাফে সালেহীনের মত সংকলন করেছেন। (১৮০) আর আমরা কালামপন্থী ও অন্যান্যদের যে কথাগুলো এখানে উদ্ধৃত করেছি, এ অধ্যায় ও অন্যান্য অধ্যায়ে আমরা যা যা বলি তারা সেসব বলেনি। (১৮১) তবে সত্য যেই বলুক তার থেকে গ্রহণ করা যাবে। (১৮২) মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু তার সে বিখ্যাত বক্তব্যে বলতেন, যেটি আবু দাউদে তার সুনানে নিয়ে এসেছেন,
اقبلوا الحق من كل من جاء به؛ وإن كان كافرا - أو قال فاجرا - واحذروا زيغة الحكيم. قالوا: كيف نعلم أن الكافر يقول الحق ؟ قال : إن على الحق نورا
“সত্য যেই নিয়ে আসুক তা গ্রহণ করো। যদিও সে কাফের হয়” বা তিনি বলেছেন “পাপি হয়” আর বিজ্ঞের পদস্খলন থেকে সতর্ক থাকো। তারা বলল: আমরা কীভাবে জানবো যে, কাফের সত্য বলেছে? তিনি বললেন: নিশ্চয় সত্যের ওপর নূর আছে।”১৮৩) অথবা এ ধরনের কথা, যার অর্থ এমন।
টিকাঃ
৯৮০. এখানে দু’টি বিষয় বলা আবশ্যক তা হচ্ছে, এক. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক একদল সূফী ও কালামশাস্ত্রবিদদের বক্তব্য উল্লেখ করার অর্থ এটা নয় যে, সালাফে সালেহীনের ইমামগণ তথা সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাদের পরে যারা তাদের মত হক্কের ওপর ছিল তাদের এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই। বরং হক হচ্ছে সেটাই যার ওপর সালাফগণ অবস্থান করেছিলেন। ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে যে মাসআলার অবতারণাই করেছেন তাতে সালাফে সালেহীনের নিকট থেকে বহুগুণ বেশি প্রকাশ্য বর্ণনা ও দলীল রয়েছে। কিন্তু ইবন তাইমিয়্যাহ’র উদ্দেশ্য হচ্ছে, অনুসারীদেরকে তাদের ইমামরা হক্কের যে অংশের ওপর ছিল তা জানিয়ে দিয়ে সেটা মানতে বাধ্য করা। দুই. এসব তর্কবাগীশ, শাইখ, উস্তাদ প্রমুখ লোকদের থেকে এখানে যেসব বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল- প্রমাণাদি নিয়ে আসা হয়েছে, কুরআন ও সুন্নাহ’য় সেসবের আরও অনেক এমনসব দলীল ও প্রমাণ রয়েছে যা তাদের বক্তব্য থেকে বড় ও সুন্দর। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এ বিষয়টির তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘কুরআনে কারীমে দীনের এমনসব মূলনীতির বর্ণনা রয়েছে যার ভূমিকাসমূহ স্পষ্ট বিবেকের যুক্তির মাধ্যমে জানা যায়, যা কোনো মানুষের কথায় পাওয়া যায় না। বরং অত্যন্ত দক্ষ তর্কবাগীশরা যেসব বিবেকের যুক্তির দলীল নিয়ে আসে কুরআন সেগুলোর সারাংশ সমৃদ্ধ বরং সেগুলো থেকে আরও সুন্দর। দলীল প্রমাণে ঋদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তারা আপনার কাছে যে বিষয়ই উপস্থিত করে না কেন, আমরা সেটার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আপনার কাছে নিয়ে আসি।” [সূরা আল-ফুরক্বান ৩৩] আরও বলেন, “আর অবশ্যই আমরা মানুষের জন্য এ কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত দিয়েছি। আর আপনি যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন উপস্থিত করেন, তবে যারা কুফরী করেছে তারা অবশ্যই বলবে, ‘তোমরা তো বাতিলপন্থী’।” [সূরা আর-রূম: ৫৮] আরও বলেন, “যদি আমরা এ কুরআন পর্বতের উপর নাযিল করতাম তবে আপনি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত বিদীর্ণ দেখতেন। আর আমরা এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি মানুষের জন্য, যাতে তারা চিন্তা করে।” [সূরা আল-হাশর: ২১] মাজমু‘ ফাতাওয়া (১২/৮১); আরও দেখুন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৯/১৬৯)। তিনি অন্যত্র বলেন, বিবেকের যুক্তিবিদ দাবিদারদের কাছে আল্লাহর বিষয়ে যেসব দৃঢ় প্রমাণাদি ও জ্ঞান রয়েছে তার সারাংশ অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ’য় রয়েছে। এর বাইরে কুরআন ও সুন্নাহ’য় এ ব্যাপারে বাড়তি ও পূর্ণতা প্রদানকারী বহু প্রমাণাদি রয়েছে যার দিশা সেসব লোকেরা পায়নি, কেবল তারাই পেয়েছে যাদেরকে তিনি তাঁর সম্বোধন গ্রহণ করার মাধ্যমে হিদায়াত প্রদান করে ধন্য করেছেন। ফলে রাসূল যেসব যুক্তিগত দলীল ও দৃঢ় জ্ঞান নিয়ে এসেছেন তা আগের ও পরের সকল বুদ্ধিজীবীদের সকল বুদ্ধির উপরে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিল।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ (২/১১০)।
৯৮১. আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আলুশ শাইখ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “এর অর্থ হচ্ছে, ইবনে তাইমিয়্যাহ তাদের থেকে তাদের কিছু আকীদাহ বর্ণনা করেছেন মাত্র, এর অর্থ এটা নয় যে, তাদের প্রত্যেকেই এসব অধ্যায়ে পুরোপুরি সঠিক পথে ছিলেন।” [ফাতাওয়া শাইখ মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম (১/২১১)] বস্তুত এ ফতোয়ার মাধ্যমে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এর পাণ্ডিত্য ও যোগ্যতা প্রকাশ পেয়েছে, যার কারণে তার গ্রন্থসমূহ সবচেয়ে বেশি উপকারী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। যেমনটি তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘যদি কারও ইলম থাকে আর তার সাথে উত্তম বিতর্ক যুক্ত হয় তবে সেটার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে উঁচু স্তরে উড্ডীন করেন।’ ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৪৯২)।
এখানেও শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহর জন্য উলু ও ইস্তেওয়া তথা সর্বোচ্চ সত্তা হওয়া ও তাঁর ‘আরশের উপর উঠা এ গুণ দু’টির ব্যাপারে এবং সিফাতে খাবারিয়্যাহ (কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা আল্লাহর যাবতীয় গুণ) এর ব্যাপারে কালামশাস্ত্রবিদদের পূর্ববর্তী ও তাদের মতো লোকদের বক্তব্য নিয়ে এসেছেন আর এগুলো দিয়ে তাদের পরবর্তীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তা মানতো, তোমাদেরও তা মানা উচিত। তবে তিনি সে সব পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের বিস্তারিত অংশের সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু একেবারে পুরোপুরি চুপ থাকেননি। বরং বলেছেন, ‘কালামশাস্ত্রবিদরা যা যা বলেছে সেগুলো আমরা এখানে উল্লেখ করলেও আমাদের সব কথা তারা বলেনি’। কারণ পুরোপুরি তাদের সব কথার সমালোচনা করতে নামলে তাদের কথা দিয়ে দলীল নিয়ে তাদেরই আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পেশ করার কাজটি ব্যাহত হতো; প্রমাণটি দুর্বল হয়ে যেতো। এর বিপরীতে ইবন তাইময়্যাহ তার একাধিক কিতাবে পরবর্তী কালামশাস্ত্রবিদ যেমন, রাযী, আমেদী প্রমুখের বক্তব্য তুলে ধরেছেন যাতে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের কথার সমালোচনা করেছেন; যার মাধ্যমে পরবর্তীরা আল্লাহর সিফাতে ইখতিয়ারিয়্যাহ বা যখন যা ইচ্ছা করার গুণগুলো অস্বীকার করেছিল। দেখুন, মাজমু‘ ফাতাওয়া (৬/২৪); দারউত তা‘আরুদ্ব (২/২১০); আব্দুররহমান আলে মাহমূদ, মাওকিফু ইবন তাইমিয়্যাহ মিনাল আশা’য়িরাহ (৩/১২১১)।
৯৮২. কিছু আগেই আমরা শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ’র বক্তব্য এনেছি, যাতে তিনি পরবর্তী আশ‘আরী মতবাদের লোকদের ওপর দোষারোপ করেছেন যে, তারা তাদের ইমামদের থেকে হক্ক কথা হলেও তা গ্রহণ করে না, অন্য কারও কাছ থেকে হক তাদের জানানো হলে তা তো গ্রহণ করেই না। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এ ব্যাপারে তাদের এ কাজকে ইয়াহূদীর কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করেছেন; কারণ ইয়াহূদীরাও তাদের কিতাব থেকে হক্ক গ্রহণ করে না, অন্যদের কিতাব থেকে তো গ্রহণই করে না।
৯৮৩. এ আছারটি সুনান আবী দাউদে এসেছে (৫/১৭-১৮), হাদীস নং ৪৬১১। কিতাবুস সুন্নাহ, বাবু লুযূমিস সুন্নাহ। হাদীসটিকে শাইখ আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দীন আল-আলবানী মাওকুফ সহীহ বলেছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ হচ্ছে, ইবন শিহাব আয-যুহরী বলেন, আবু ইদরীস ‘আয়েয উল্লাহ আল- খাওলানী বলেন, ইয়াযীদ ইবন উমাইরাহ, যিনি মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন, মু‘আয রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু যখনই কোনো ইলমী মজলিসে বসতেন তখনই বসার সময় বলতেন, আল্লাহ, তিনি মহান বিচারক, ইনসাফকারী, সন্দেহকারীদের ধ্বংস হোক। অতঃপর একদিন মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘তোমাদের সামনের দিনগুলোতে ফিতনার অভ্যুদয় হবে, আর তাতে সম্পদ অনেক বেশি হবে। আর কুরআনও সর্বত্র প্রচারিত ও প্রসারিত হবে, তখন তা মুমিন-মুনাফিক, পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড়, দাস-স্বাধীন সবাই গ্রহণ করবে। তখন কোনো বক্তা অচিরেই বলে বসবে, মানুষের কী হলো, মানুষ তো আমার অনুসরণ করছে না, অথচ আমি কুরআন পাঠ করেছি? মানুষ তো আমার অনুসরণ করবে বলে মনে হচ্ছে না, যতক্ষণ না আমি তাদের জন্য এর বাইরে কিছু বিদ‘আতের প্রচলন না ঘটাব। তখন তোমরা সাবধান থাকবে সে যারা বিদ‘আত চালু করবে তাদের সম্পর্কে জানা আবশ্যক। কারণ, যে বিদ‘আত চালু করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে। আমি তোমাদেরকে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে সাবধান করছি। শয়তান কখনো কখনো বিজ্ঞজনের মুখ থেকে পথভ্রষ্টতার বাক্য বের করে, আবার কখনো মুনাফিকও হক কথা বলে। ইয়াযীদ ইবন উমাইরাহ বলেন, আমি তখন মু‘আয রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললাম, আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত করুন, আমাকে কিসে জানাবে যে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিটি পথভ্রষ্টতার কথা বলেছে আর মুনাফিকটি হক্ক কথা বলেছে? তখন তিনি বললেন, অবশ্যই জানতে পারবে, প্রাজ্ঞজনের বিখ্যাত সেসব কথা পরিত্যাগ কর যেগুলো সম্পর্কে বলা হয়, এটা তিনি কী বললেন, তবে তার থেকে এ কারণে তুমি মুখ ফিরিয়ে নিও না; কারণ হতে পারে তিনি ফিরে আসবেন। আর যখন হক্ক কথা শুনবে তখন সেটা গ্রহণ করে নিবে; কারণ হকের উপর নূর বা আলো রয়েছে।
আছারটি আরও যারা যারা সংকলন করেছেন, ১- হাকেম তার মুস্তাদরাকে সংকলন করেছেন (৪/৪৬৬); আর বলেছেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তে, যদিও তারা এটিকে সংকলন করেননি। ইমাম যাহাবী এ বিষয়ে হাকেম এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন। ২- ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (১১/৩৬৩-৩৬৪), নং ২০৭৫০। ৩- আজুররী, আশ-শরী‘আহ, পৃ. ৪৭-৪৮। ৪- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই‘তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ (১/৮৮-৮৯), নং ১১৬। ৫- আবু নু‘আইম আল-হিলইয়া (১/২৩২-২৩৩)। ৬- ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (১/৩০৭-৩০৮)। ৭- আল-ফাসাওয়ী, আল-মা‘রিফাতু ওয়াত-তারীখ (২/৩২১-৩২২)। ৮- বাইহাক্বী, আল-মাদখালু ইলাস সুনানিল কুবরা, পৃ. ৪৪৪, নং ৮৩৪। ৯- ফিরইয়াবী, সিফাতুন নিফাক্ব ও যাম্মুল মুনাফিক্বীন, পৃ. ৮১-৮২, নং ৩৯। ১০- মা‘মার ইবন রাশেদ, আল-জামে‘উ (১১/৩৬৩), নং ২০৭৫০। ১১- ইবন মান্দাহ, আত-তাওহীদ (২/১১০)। ১২- আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (১/২৩৩)। ১৩- বাইহাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/২০০), নং ১৩৫। ১৪- বাইহাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা (১০/৩৫৫), নং ২০৯১৬। ১৫- বাইহাক্বী, শু‘আবুল ঈমান (১১/৩১২), নং ৮৫৮১। ১৬- ইবন আব্দিল বার, জামে‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়াফাদ্বলিহী (২/৯৮১), নং ১৮৭১। ১৭- ইমাম ত্বাহাওয়ী, শারহু মুশকিলুল আছার (১০/৩৮), নং ৩৮৯৫।