📄 ইবন খফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য ‘নাফস’ সাব্যস্তকরণ
[ইবন খাফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্তকরণ] তারপর বলেন, তিনি (আল্লাহ) নিজের জন্য 'নাফস'(৭১১) সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার পর বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি মুসা 'আলাইহিস সালামকে বলেছেন: وَأَصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي) [طه: ٤١ "আর আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।” [সূরা ত্বা-হা: ৪১] এবং وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ) [آل عمران: ٣٠] “আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩০] আর এটা বিশুদ্ধ হওয়ার কারণে ও সেটা সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণেই মাসীহ 'ঈসা 'আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ) [المائدة: ١١٦] : ناجاه করে বলেছিলেন "আমার মনের কথা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার নিজের কাছে যা আছে তা আমি জানি না।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمة﴾ [الأنعام: ٥٤ “তোমাদের রব তাঁর নিজের ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন।” [সূরা আল- আন'আম: ৫৪]
আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে এটিকে আরও জোরালো করেছেন। তিনি বলেন, يقول الله عز وجل: من ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي« "আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমাকে যে তার মনে স্মরণ করবে, আমিও তাকে আমার নিজের সত্তায় স্মরণ করব।"(৭১২)
অন্যত্র তিনি বলেন, كتب كتابًا بیده على نفسه: إن رحمتي سبقت غضبي "তিনি স্বীয় হাতে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যাতে নিজের ওপর অবধারিত করেছেন যে, নিশ্চয় আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।” (৭১৩)
তিনি আরও বলেন, سبحان الله رضی نفسه « “আল্লাহর পবিত্রতা তার নিজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী।" (৭১৪)
আদম-মূসার বিতর্কে তিনি বলেন, أنت الذي اصطفاك الله واصطنعك لنفسه؟ "তুমি সেই মূসা যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য প্রস্তুত করেছেন।” (৭১৫)
এভাবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রকাশ্য বাণীর মাধ্যমে তাঁর নিজের জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করেছেন, তেমনি তাঁর জন্য তাঁর নবীও তা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে, তাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে সেটা বিশ্বাস করা যা আল্লাহ তাঁর নিজের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন। আর সেটা সাব্যস্ত করার ভিত্তি হবে মহান আল্লাহর বাণী لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই” [সূরা আশ-শূরা: ১১] এর প্রকাশ্য বক্তব্য।
টিকাঃ
৭১১. এ মাসআলার আলোচনা আগেই গত হয়েছে যে, 'নাফস' বলে আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। আর এটাই দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ আলেম এ মতই পোষণ করেছেন।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ এ আয়াত ও হাদীসগুলো দ্বারা আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন এমনভাবে যে এ 'নাফস' সৃষ্টিকুলের নাফস থেকে ভিন্ন; কারণ তাঁর মতো কোনো কিছু নেই।
বস্তুত সালাফে সালেহীন এসব আয়াত ও হাদীসে আসা 'নাফস' নিয়ে মতভেদ করেছেন, এগুলো কি আল্লাহর সত্তার গুণ নাকি এর দ্বারা সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। ইবন খাফীফ অনুরূপ ইবন খুযাইমার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা এগুলোকে সত্তার গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চাচ্ছেন। ইবন খুযাইমা বলেন, 'আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে সাব্যস্ত করছেন যে, তাঁর 'নাফস' রয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর নবীর যবানীতেও সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর নাফস রয়েছে, যেমনটি তাঁর কিতাবে সাব্যস্ত করেছেন। আর জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় এসব আয়াত ও হাদীস অস্বীকার করে থাকে।... [আত-তাওহীদ (১/১৯)]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ'র মত হচ্ছে 'নাফস' বলে সত্তাই বুঝানো হয়েছে। সত্তার চেয়ে বাড়তি কোনো গুণ তা নয়। তিনি বলেন, 'আর 'নাফস' বলে উদ্দেশ্য নেয়া হয়, সত্তা ও একই বস্তু, যেমন বলা হয়, رأيت زيداً نفسه অর্থাৎ আমি যায়েদকেই দেখেছি। আর আল্লাহ বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন, "আপনি জানেন যা আমার মনে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নিজের কাছে আছে।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] ... তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বেশ কিছু ভাষ্য নিয়ে এসেছেন যাতে 'নাফস' শব্দটি এসেছে। এরপর বলেন, এসব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের মতে, আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে যা তার গুণে গুণান্বিত। এর দ্বারা তাঁর সত্তার বাইরে কোনো আলাদা সত্তাকে বুঝানো হয়নি, অনুরূপ আলাদা কোনো গুণকেও বুঝানো হয়নি। একদল লোক এ আয়াতগুলোকে গুণের অধ্যায় হিসেবে নিয়ে থাকে, আবার অপর দল এগুলোকে আলাদা একটি সত্তা মনে করে থাকে যাতে কোনো গুণ নেই। উভয় মতই ভুল।' মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯২-২৯৩)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ যা বুঝেছেন সেটা ইমাম দারেমীরও মত। দেখুন, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ১৯৬। আরও দেখুন, ইবন হাযম, আল-ফাসলু (২/১৭২)।
৭১২, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ (১৩/৩৮৪), নং ৭৪০৫; মুসলিম, আস-সহীহ (৪/২০৬১), হাদীস নং ২৬৭৫।
৭১৩. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭৫১; অনুরূপ বুখারী, আল-জামে 'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭০৪।
৭১৪. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭২৬।
৭১৫. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭৩৬; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৬৫২।
[ইবন খাফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্তকরণ] তারপর বলেন, তিনি (আল্লাহ) নিজের জন্য 'নাফস'(৭১১) সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার পর বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি মুসা 'আলাইহিস সালামকে বলেছেন: وَأَصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي) [طه: ٤١ "আর আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।” [সূরা ত্বা-হা: ৪১] এবং وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ) [آل عمران: ٣٠] “আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩০] আর এটা বিশুদ্ধ হওয়ার কারণে ও সেটা সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণেই মাসীহ 'ঈসা 'আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ) [المائدة: ١١٦] : ناجاه করে বলেছিলেন "আমার মনের কথা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার নিজের কাছে যা আছে তা আমি জানি না।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمة﴾ [الأنعام: ٥٤ “তোমাদের রব তাঁর নিজের ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন।” [সূরা আল- আন'আম: ৫৪]
আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে এটিকে আরও জোরালো করেছেন। তিনি বলেন, يقول الله عز وجل: من ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي« "আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমাকে যে তার মনে স্মরণ করবে, আমিও তাকে আমার নিজের সত্তায় স্মরণ করব।"(৭১২)
অন্যত্র তিনি বলেন, كتب كتابًا بیده على نفسه: إن رحمتي سبقت غضبي "তিনি স্বীয় হাতে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যাতে নিজের ওপর অবধারিত করেছেন যে, নিশ্চয় আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।” (৭১৩)
তিনি আরও বলেন, سبحان الله رضی نفسه « “আল্লাহর পবিত্রতা তার নিজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী।" (৭১৪)
আদম-মূসার বিতর্কে তিনি বলেন, أنت الذي اصطفاك الله واصطنعك لنفسه؟ "তুমি সেই মূসা যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য প্রস্তুত করেছেন।” (৭১৫)
এভাবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রকাশ্য বাণীর মাধ্যমে তাঁর নিজের জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করেছেন, তেমনি তাঁর জন্য তাঁর নবীও তা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে, তাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে সেটা বিশ্বাস করা যা আল্লাহ তাঁর নিজের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন। আর সেটা সাব্যস্ত করার ভিত্তি হবে মহান আল্লাহর বাণী لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই” [সূরা আশ-শূরা: ১১] এর প্রকাশ্য বক্তব্য।
টিকাঃ
৭১১. এ মাসআলার আলোচনা আগেই গত হয়েছে যে, 'নাফস' বলে আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। আর এটাই দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ আলেম এ মতই পোষণ করেছেন।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ এ আয়াত ও হাদীসগুলো দ্বারা আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন এমনভাবে যে এ 'নাফস' সৃষ্টিকুলের নাফস থেকে ভিন্ন; কারণ তাঁর মতো কোনো কিছু নেই।
বস্তুত সালাফে সালেহীন এসব আয়াত ও হাদীসে আসা 'নাফস' নিয়ে মতভেদ করেছেন, এগুলো কি আল্লাহর সত্তার গুণ নাকি এর দ্বারা সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। ইবন খাফীফ অনুরূপ ইবন খুযাইমার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা এগুলোকে সত্তার গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চাচ্ছেন। ইবন খুযাইমা বলেন, 'আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে সাব্যস্ত করছেন যে, তাঁর 'নাফস' রয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর নবীর যবানীতেও সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর নাফস রয়েছে, যেমনটি তাঁর কিতাবে সাব্যস্ত করেছেন। আর জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় এসব আয়াত ও হাদীস অস্বীকার করে থাকে।... [আত-তাওহীদ (১/১৯)]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ'র মত হচ্ছে 'নাফস' বলে সত্তাই বুঝানো হয়েছে। সত্তার চেয়ে বাড়তি কোনো গুণ তা নয়। তিনি বলেন, 'আর 'নাফস' বলে উদ্দেশ্য নেয়া হয়, সত্তা ও একই বস্তু, যেমন বলা হয়, رأيت زيداً نفسه অর্থাৎ আমি যায়েদকেই দেখেছি। আর আল্লাহ বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন, "আপনি জানেন যা আমার মনে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নিজের কাছে আছে।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] ... তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বেশ কিছু ভাষ্য নিয়ে এসেছেন যাতে 'নাফস' শব্দটি এসেছে। এরপর বলেন, এসব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের মতে, আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে যা তার গুণে গুণান্বিত। এর দ্বারা তাঁর সত্তার বাইরে কোনো আলাদা সত্তাকে বুঝানো হয়নি, অনুরূপ আলাদা কোনো গুণকেও বুঝানো হয়নি। একদল লোক এ আয়াতগুলোকে গুণের অধ্যায় হিসেবে নিয়ে থাকে, আবার অপর দল এগুলোকে আলাদা একটি সত্তা মনে করে থাকে যাতে কোনো গুণ নেই। উভয় মতই ভুল।' মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯২-২৯৩)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ যা বুঝেছেন সেটা ইমাম দারেমীরও মত। দেখুন, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ১৯৬। আরও দেখুন, ইবন হাযম, আল-ফাসলু (২/১৭২)।
৭১২, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ (১৩/৩৮৪), নং ৭৪০৫; মুসলিম, আস-সহীহ (৪/২০৬১), হাদীস নং ২৬৭৫।
৭১৩. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭৫১; অনুরূপ বুখারী, আল-জামে 'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭০৪।
৭১৪. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭২৬।
৭১৫. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭৩৬; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৬৫২।
📄 ইবন খফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর ‘নূর’ সাব্যস্ত করা
[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর 'নূর' সাব্যস্ত করা]
অনুরূপ আল্লাহ তাঁর কুরআনে আমাদের জন্য যে জানিয়েছেন, আর যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, অনুরূপ সুন্নাতুর রাসূলেও যা বিশুদ্ধ আকারে এসেছে, তন্মধ্যে রয়েছে, তিনি বলেছেন اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [النور: ٣٥ "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর।"(৭১৬) [সূরা আন-নূর: ৩৫] তারপর তিনি এর পরপরই বলেছেন, نُورٌ عَلَى نُورٍ) [النور: ٣٥]
তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দো'আয় বলতেন: أنت نور السماوات والأرض "আপনি আসমান এবং যমীনের নূর।”(৭১৭)
তারপর আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ উল্লেখ করেছেন আবু মূসার হাদীস: حجابه النور - أو النار- لو كشفه لأحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصره من خلقه "তাঁর পর্দা হচ্ছে নূর বা আগুন, যদি তিনি সেটা খুলে দিতেন তাহলে তাঁর দৃষ্টির শেষ পর্যন্ত সকল মাখলুক তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতায় পুড়ে যেত।”(৭১৮) তিনি বলেন, سبحات وجهه হচ্ছে তার ঔজ্জ্বল্য, মহত্ব ও নূর। তিনি সেটা খলীল ও আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন। (৭১৯)
আরও বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: نور السماوات من نور وجهه অর্থ আসমানের যত আলো তা হচ্ছে তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে। (৭২০)
টিকাঃ
৭১৬, ইবন খাফীফ এটা সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর নামসমূহের অন্যতম হচ্ছে নূর। আর তা এমন নূর যা আল্লাহর মর্যাদা ও মহত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেটা অপর কোনো নূরের মতো নয়। কুরআনে কারীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ নূর, তাঁর রয়েছে নূর, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। সালাফদের মধ্যে যদি কারো থেকে এ বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তারা এ আয়াতের তাফসীরে এটা বলেছেন যে, 'আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের অধিবাসীদের হিদায়াতকারী' তাহলে এটা বুঝে নিতে হবে যে, এটি আয়াতের একটি তাফসীর, যেটাকে উপজীব্য করে আল্লাহ তা'আলার স্বয়ং 'নূর' হওয়াকে অস্বীকার করা যাবে না। কারণ আরবরা যখন কোনো কিছুর তাফসীর বা ব্যাখ্যা করে তখন তারা যেটার ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সেটার বিবিধ নাম বা কিছু প্রকার বর্ণনা করে থাকেন, যা দ্বারা উক্ত জিনিসের অপরাপর গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়াকে না করে না। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯০)।
কিন্তু পরবর্তীদের মধ্যে যারা আল্লাহর নূর সাব্যস্ত না করে সেটার তা'ওয়ীল করে বলে যে, এর অর্থ হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সৌন্দর্যমণ্ডিতকারী, তাদের এ ব্যাখ্যা কখনও বিশুদ্ধ হবে না; কারণ তারা আসল অর্থ 'নূর' সাব্যস্ত না করার জন্য দূরবর্তী অর্থ গ্রহণ করে।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, 'নূর' নামটি স্রষ্টার জন্যও সত্য আর সৃষ্টির জন্যও সত্য। স্বয়ং সে সত্তার জন্যও তা বলা যাবে যার সাথে তার অস্তিত্ব এসেছে, অনুরূপভাবে কোনো কিছুর গুণ হিসেবেও বলা যাবে, যার সাথে তার অস্তিত্ব রয়েছে, তদ্রূপ তারও গুণ হতে পারে যেটা সে অন্যের কাছ থেকে পেয়েছে, যেমন আলোকরশ্মির প্রতিবিম্ব। আর আল্লাহর বাণী, "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর, তাঁর নূরের উদাহরণ এমন যেন একটি (বদ্ধ দেয়ালের খোপে থাকা) তাক, যাতে চেরাগ রাখা আছে।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] এখানে তিন প্রকার নূরের কথাই আছে। প্রথমেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে তিনি নূর, আরও বলা হয়েছে যে তাঁর রয়েছে নূর, আরও বলা হয়েছে যে তিনি যেন তাকের উপরে থাকা চেরাগ। আর জানা কথা যে, তাকের উপরে থাকা চেরাগে এমন নূর রয়েছে যা তার নিজের উপর নির্ভর করে আছে, আর সেটার এমন নূরও রয়েছে যা তার থেকে উৎসারিত হয়ে যমীন ও দেয়ালে পড়েছে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৮/৭৫-৭৬)।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট করে এটা সাব্যস্ত করছেন যে, বেশিরভাগ সৃষ্টির অভিমত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং নূর, এমনকি যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে সেসব জাহমিয়্যারাও তাকে নূর বলে স্বীকৃতি দিত। তবে এটা বলা যে, আল্লাহ তা'আলা তিনিই স্বয়ং সূর্যের, চাঁদের, আগুনের আলো, এমন কথা কোনো মুসলিম বলে না। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৮/৬৬-৬৭)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অন্য কোনো সত্তার দিকে যখন 'নূর' সম্পৃক্ত করা হবে তখন সেটা আর আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হবে না। সুতরাং দুনিয়ার চেরাগের আলোকে কখনো আল্লাহর আলো বলা যাবে না। মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'নূর' আল্লাহর দিকে দু'ভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে: এক. সিফাতকে মাওসূফের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ গুণকে তার গুণান্বিত সত্তার দিকে সম্পৃক্ত করা, যেমন আল্লাহর বাণী, "আর যমীন আলোকিত হয়ে গেছে তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, "আর আমি আপনার চেহারার নূরের আশ্রয় নিচ্ছি, যে নূরের আলোতে সকল অন্ধকার উদ্ভাসিত হয়েছে।” [দ্বিয়া আল-মাকদেসী, আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (৯/১৮১); তাবারানী, আদ-দু'আ, হাদীস নং ১০৩৬; আল-মু'জামুল কাবীর (১৩/৭৩)] দুই. ফা'য়েলকে মাফ'উলের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ কর্মকে তার কর্তার দিকে সম্পৃক্ত করা। যেমন আল্লাহর বাণী, "তাঁর নূর যেন তাকের উপর থাকা একটি চেরাগ।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, 'মুমিনের অন্তরে আল্লাহর নূরের উদাহরণ' সেটা এ অর্থে যে, তিনিই সেটা প্রদান করেন, তিনিই সেটার বান্দার অন্তরে সঞ্চার করে দেন। দেখুন, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৪৫ ও তার পরবর্তী পৃষ্ঠা।
সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, ১- আল্লাহ তা'আলার একটি নাম 'আন-নূর'। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭); শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৬০-২৬১] সুতরাং তিনি আল্লাহ নূর যে নূরের মাধ্যমে তিনি সবকিছুকে হিদায়াত দিয়েছেন।
২- আল্লাহ তাআলার একটি সত্তাগত গুণ হচ্ছে 'নূর'। [শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৫৯-২৬১] তাঁর গুণ হিসেবে তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে...।" [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর যমীন উদ্ভাসিত হলো তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ৩- আল্লাহ তা'আলার চেহারাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯; ইবন মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস নং ১৯৫] হাদীসে আরও এসেছে, "আপনার চেহারার নূরের উসীলার আশ্রয় নিচ্ছি”। আরও এসেছে, "আসমান ও যমীনের আলো তাঁর চেহারার আলো হতে।” [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৪- আল্লাহ তা'আলার পর্দাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৪- আল্লাহ তা'আলার নূর যে সৃষ্টির উপর পড়েছে সেই ঈমানদার হবে, আর যার উপর পড়েনি, সে ঈমানদার হয়নি। [তিরমিযী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ২৬৪২]
৫- আসমান ও যমীনের যত নূর সবই তাঁর থেকে প্রাপ্ত। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নূরে বলেছেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে চেরাগদানী, যাতে রয়েছে চেরাগ।" [সূরা আন-নূর: ৩৫; আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৮৬)] এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি তাঁর গুণ? শাইখ আব্দুল্লাহ গুনাইমান বলেন, এটা তাঁর সিফাত বা গুণ নয়। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)] আর যদি 'আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর' বলে সেটাকে সিফাতী নূর ধরা হয় তবে সে নূরের ধরণ আমরা জানি না। এটাই শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যার বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আরও দেখুন, https://www.alukah.net/ web/refai/0/123379/ কিন্তু সর্বাবস্থায় কোনোক্রমেই এ নূর বলতে সূর্য কিংবা চন্দ্র অথবা কোনো বিদ্যুত বা তারকা বা চেরাগের আলো বুঝানো হয়নি। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৬- হাশরের মাঠের যমীন যে নূরে আলোকিত হবে তাও আল্লাহ তা'আলার নূর। [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে সৃষ্ট নূর অর্থ করা যাবে না। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)]
৭- জান্নাতও আলোকিত হবে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের নুরের দ্বারা, আর 'আরশের নূর তো আল্লাহর চেহারার নূর থেকে প্রাপ্ত। [ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তা বর্ণনা করেছেন। দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ৪৪৯; ইবন মান্দাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৯৯; ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, হাদীসটি ত্বাবারানী তার মু'জামে বর্ণনা করেছেন ও তার আস-সুন্নাহতে বর্ণনা করেছনে। ইজতিমা'উল জুযূশ, পৃ. ৬। আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৪/৩১২); শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেত্বিয়্যাহ (৭/৫)। আর যারা 'আল্লাহু নূরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এ আয়াতটিকে 'আল্লাহু নাওয়ারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এমন করে পড়ে আয়াতের অর্থ করেছে যে, الله نور السموات والأرض "আল্লাহ আসমান ও যমীনকে আলোকিত করেছেন।" এটা অগ্রহণযোগ্য। ইমাম ইবন বুযাইমাহ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এট গ্রহণযোগ্য কোনো কিরাআত নয় বলে ঘোষণা করেছেন। দেখুন, ইবন খুযাইমাহ, কিতাবুত তাওহীদ (১/৭৮-৭৯)।
আর যারা আল্লাহ তা'আলার সিফাত বা গুণ হিসেবে 'নূর' সাব্যস্ত করেননি, [যেমন, ফখরুদ্দীন রাযী, শারহু আসমায়িল্লাহিল হুসনা, পৃ. ৩৪৭-৩৪৮ ও অন্যান্য গ্রন্থ; অনুরূপ গাযালী, তার আল-মাকসাদুল আসনা, পৃ. ১৪৬ ও মিশকাতুল আনওয়ার] তারা সেটার অপব্যাখ্যা করে বলেছেন এর অর্থ, আল্লাহ আসমান ও যমীনের হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সংশোধনকারী। এ জাতীয় অপব্যাখ্যাকারীদের যাবতীয় সন্দেহের জবাব শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ কিতাবে প্রদান করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আর ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ চৌদ্দটি উপায়ে এসব অপব্যাখ্যা খণ্ডন করে সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহর রয়েছে নূর গুণ।
দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৮৮-২০৫); মার'ঈ ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলী, আক্বাওয়ীলুস সিকাত ফী তা'ওয়ীলিল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ১৯৪-১৯৬; আরও দেখুন, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী, পৃ. ১৬৯-১৭৭।
৭১৭. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৭৩৮৫; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৬৯।
৭১৮. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৭১৯. দেখা যেতে পারে, খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী, আল-আইন (৩/১৫২); আবু উবাইদ, গারীবুল হাদীস (৩/১৭৩)।
৭২০. এটি আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৯৯; তার শব্দ হচ্ছে,
إن ربكم ليس عنده ليل ولا نهار، ونور السماوات نور من نور وجهه "তোমাদের রব্ব, তাঁর কাছে তো কোনো রাত বা দিন নেই। আর আসমানসমূহ ও যমীনের যত আলো সবই তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে একটি আলো"। আছারটি ইমাম বাইহাক্বীও বর্ণনা করেছেন, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭); তারপর বলেছেন, এটি মাওকূফ, আর এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ নন। অনুরূপভাবে আসারটি ইমাম ইবন কাসীরও নিয়ে এসেছেন, তাফসীর ইবন কাসীর (৬/৬১); সেখানে এসেছে, نور العرش من نور وجهه "আরশের নূর তাঁর চেহারার নূরের উজ্জ্বল্য থেকে"। অনুরূপ আরো বর্ণনা করেন ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৯৩)।
[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর 'নূর' সাব্যস্ত করা]
অনুরূপ আল্লাহ তাঁর কুরআনে আমাদের জন্য যে জানিয়েছেন, আর যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, অনুরূপ সুন্নাতুর রাসূলেও যা বিশুদ্ধ আকারে এসেছে, তন্মধ্যে রয়েছে, তিনি বলেছেন اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [النور: ٣٥ "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর।"(৭১৬) [সূরা আন-নূর: ৩৫] তারপর তিনি এর পরপরই বলেছেন, نُورٌ عَلَى نُورٍ) [النور: ٣٥]
তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দো'আয় বলতেন: أنت نور السماوات والأرض "আপনি আসমান এবং যমীনের নূর।”(৭১৭)
তারপর আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ উল্লেখ করেছেন আবু মূসার হাদীস: حجابه النور - أو النار- لو كشفه لأحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصره من خلقه "তাঁর পর্দা হচ্ছে নূর বা আগুন, যদি তিনি সেটা খুলে দিতেন তাহলে তাঁর দৃষ্টির শেষ পর্যন্ত সকল মাখলুক তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতায় পুড়ে যেত।”(৭১৮) তিনি বলেন, سبحات وجهه হচ্ছে তার ঔজ্জ্বল্য, মহত্ব ও নূর। তিনি সেটা খলীল ও আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন। (৭১৯)
আরও বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: نور السماوات من نور وجهه অর্থ আসমানের যত আলো তা হচ্ছে তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে। (৭২০)
টিকাঃ
৭১৬, ইবন খাফীফ এটা সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর নামসমূহের অন্যতম হচ্ছে নূর। আর তা এমন নূর যা আল্লাহর মর্যাদা ও মহত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেটা অপর কোনো নূরের মতো নয়। কুরআনে কারীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ নূর, তাঁর রয়েছে নূর, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। সালাফদের মধ্যে যদি কারো থেকে এ বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তারা এ আয়াতের তাফসীরে এটা বলেছেন যে, 'আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের অধিবাসীদের হিদায়াতকারী' তাহলে এটা বুঝে নিতে হবে যে, এটি আয়াতের একটি তাফসীর, যেটাকে উপজীব্য করে আল্লাহ তা'আলার স্বয়ং 'নূর' হওয়াকে অস্বীকার করা যাবে না। কারণ আরবরা যখন কোনো কিছুর তাফসীর বা ব্যাখ্যা করে তখন তারা যেটার ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সেটার বিবিধ নাম বা কিছু প্রকার বর্ণনা করে থাকেন, যা দ্বারা উক্ত জিনিসের অপরাপর গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়াকে না করে না। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯০)।
কিন্তু পরবর্তীদের মধ্যে যারা আল্লাহর নূর সাব্যস্ত না করে সেটার তা'ওয়ীল করে বলে যে, এর অর্থ হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সৌন্দর্যমণ্ডিতকারী, তাদের এ ব্যাখ্যা কখনও বিশুদ্ধ হবে না; কারণ তারা আসল অর্থ 'নূর' সাব্যস্ত না করার জন্য দূরবর্তী অর্থ গ্রহণ করে।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, 'নূর' নামটি স্রষ্টার জন্যও সত্য আর সৃষ্টির জন্যও সত্য। স্বয়ং সে সত্তার জন্যও তা বলা যাবে যার সাথে তার অস্তিত্ব এসেছে, অনুরূপভাবে কোনো কিছুর গুণ হিসেবেও বলা যাবে, যার সাথে তার অস্তিত্ব রয়েছে, তদ্রূপ তারও গুণ হতে পারে যেটা সে অন্যের কাছ থেকে পেয়েছে, যেমন আলোকরশ্মির প্রতিবিম্ব। আর আল্লাহর বাণী, "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর, তাঁর নূরের উদাহরণ এমন যেন একটি (বদ্ধ দেয়ালের খোপে থাকা) তাক, যাতে চেরাগ রাখা আছে।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] এখানে তিন প্রকার নূরের কথাই আছে। প্রথমেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে তিনি নূর, আরও বলা হয়েছে যে তাঁর রয়েছে নূর, আরও বলা হয়েছে যে তিনি যেন তাকের উপরে থাকা চেরাগ। আর জানা কথা যে, তাকের উপরে থাকা চেরাগে এমন নূর রয়েছে যা তার নিজের উপর নির্ভর করে আছে, আর সেটার এমন নূরও রয়েছে যা তার থেকে উৎসারিত হয়ে যমীন ও দেয়ালে পড়েছে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৮/৭৫-৭৬)।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট করে এটা সাব্যস্ত করছেন যে, বেশিরভাগ সৃষ্টির অভিমত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং নূর, এমনকি যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে সেসব জাহমিয়্যারাও তাকে নূর বলে স্বীকৃতি দিত। তবে এটা বলা যে, আল্লাহ তা'আলা তিনিই স্বয়ং সূর্যের, চাঁদের, আগুনের আলো, এমন কথা কোনো মুসলিম বলে না। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৮/৬৬-৬৭)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অন্য কোনো সত্তার দিকে যখন 'নূর' সম্পৃক্ত করা হবে তখন সেটা আর আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হবে না। সুতরাং দুনিয়ার চেরাগের আলোকে কখনো আল্লাহর আলো বলা যাবে না। মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'নূর' আল্লাহর দিকে দু'ভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে: এক. সিফাতকে মাওসূফের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ গুণকে তার গুণান্বিত সত্তার দিকে সম্পৃক্ত করা, যেমন আল্লাহর বাণী, "আর যমীন আলোকিত হয়ে গেছে তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, "আর আমি আপনার চেহারার নূরের আশ্রয় নিচ্ছি, যে নূরের আলোতে সকল অন্ধকার উদ্ভাসিত হয়েছে।” [দ্বিয়া আল-মাকদেসী, আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (৯/১৮১); তাবারানী, আদ-দু'আ, হাদীস নং ১০৩৬; আল-মু'জামুল কাবীর (১৩/৭৩)] দুই. ফা'য়েলকে মাফ'উলের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ কর্মকে তার কর্তার দিকে সম্পৃক্ত করা। যেমন আল্লাহর বাণী, "তাঁর নূর যেন তাকের উপর থাকা একটি চেরাগ।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, 'মুমিনের অন্তরে আল্লাহর নূরের উদাহরণ' সেটা এ অর্থে যে, তিনিই সেটা প্রদান করেন, তিনিই সেটার বান্দার অন্তরে সঞ্চার করে দেন। দেখুন, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৪৫ ও তার পরবর্তী পৃষ্ঠা।
সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, ১- আল্লাহ তা'আলার একটি নাম 'আন-নূর'। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭); শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৬০-২৬১] সুতরাং তিনি আল্লাহ নূর যে নূরের মাধ্যমে তিনি সবকিছুকে হিদায়াত দিয়েছেন।
২- আল্লাহ তাআলার একটি সত্তাগত গুণ হচ্ছে 'নূর'। [শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৫৯-২৬১] তাঁর গুণ হিসেবে তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে...।" [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর যমীন উদ্ভাসিত হলো তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ৩- আল্লাহ তা'আলার চেহারাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯; ইবন মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস নং ১৯৫] হাদীসে আরও এসেছে, "আপনার চেহারার নূরের উসীলার আশ্রয় নিচ্ছি”। আরও এসেছে, "আসমান ও যমীনের আলো তাঁর চেহারার আলো হতে।” [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৪- আল্লাহ তা'আলার পর্দাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৪- আল্লাহ তা'আলার নূর যে সৃষ্টির উপর পড়েছে সেই ঈমানদার হবে, আর যার উপর পড়েনি, সে ঈমানদার হয়নি। [তিরমিযী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ২৬৪২]
৫- আসমান ও যমীনের যত নূর সবই তাঁর থেকে প্রাপ্ত। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নূরে বলেছেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে চেরাগদানী, যাতে রয়েছে চেরাগ।" [সূরা আন-নূর: ৩৫; আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৮৬)] এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি তাঁর গুণ? শাইখ আব্দুল্লাহ গুনাইমান বলেন, এটা তাঁর সিফাত বা গুণ নয়। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)] আর যদি 'আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর' বলে সেটাকে সিফাতী নূর ধরা হয় তবে সে নূরের ধরণ আমরা জানি না। এটাই শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যার বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আরও দেখুন, https://www.alukah.net/ web/refai/0/123379/ কিন্তু সর্বাবস্থায় কোনোক্রমেই এ নূর বলতে সূর্য কিংবা চন্দ্র অথবা কোনো বিদ্যুত বা তারকা বা চেরাগের আলো বুঝানো হয়নি। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৬- হাশরের মাঠের যমীন যে নূরে আলোকিত হবে তাও আল্লাহ তা'আলার নূর। [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে সৃষ্ট নূর অর্থ করা যাবে না। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)]
৭- জান্নাতও আলোকিত হবে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের নুরের দ্বারা, আর 'আরশের নূর তো আল্লাহর চেহারার নূর থেকে প্রাপ্ত। [ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তা বর্ণনা করেছেন। দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ৪৪৯; ইবন মান্দাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৯৯; ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, হাদীসটি ত্বাবারানী তার মু'জামে বর্ণনা করেছেন ও তার আস-সুন্নাহতে বর্ণনা করেছনে। ইজতিমা'উল জুযূশ, পৃ. ৬। আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৪/৩১২); শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেত্বিয়্যাহ (৭/৫)। আর যারা 'আল্লাহু নূরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এ আয়াতটিকে 'আল্লাহু নাওয়ারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এমন করে পড়ে আয়াতের অর্থ করেছে যে, الله نور السموات والأرض "আল্লাহ আসমান ও যমীনকে আলোকিত করেছেন।" এটা অগ্রহণযোগ্য। ইমাম ইবন বুযাইমাহ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এট গ্রহণযোগ্য কোনো কিরাআত নয় বলে ঘোষণা করেছেন। দেখুন, ইবন খুযাইমাহ, কিতাবুত তাওহীদ (১/৭৮-৭৯)।
আর যারা আল্লাহ তা'আলার সিফাত বা গুণ হিসেবে 'নূর' সাব্যস্ত করেননি, [যেমন, ফখরুদ্দীন রাযী, শারহু আসমায়িল্লাহিল হুসনা, পৃ. ৩৪৭-৩৪৮ ও অন্যান্য গ্রন্থ; অনুরূপ গাযালী, তার আল-মাকসাদুল আসনা, পৃ. ১৪৬ ও মিশকাতুল আনওয়ার] তারা সেটার অপব্যাখ্যা করে বলেছেন এর অর্থ, আল্লাহ আসমান ও যমীনের হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সংশোধনকারী। এ জাতীয় অপব্যাখ্যাকারীদের যাবতীয় সন্দেহের জবাব শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ কিতাবে প্রদান করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আর ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ চৌদ্দটি উপায়ে এসব অপব্যাখ্যা খণ্ডন করে সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহর রয়েছে নূর গুণ।
দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৮৮-২০৫); মার'ঈ ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলী, আক্বাওয়ীলুস সিকাত ফী তা'ওয়ীলিল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ১৯৪-১৯৬; আরও দেখুন, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী, পৃ. ১৬৯-১৭৭।
৭১৭. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৭৩৮৫; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৬৯।
৭১৮. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৭১৯. দেখা যেতে পারে, খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী, আল-আইন (৩/১৫২); আবু উবাইদ, গারীবুল হাদীস (৩/১৭৩)।
৭২০. এটি আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৯৯; তার শব্দ হচ্ছে,
إن ربكم ليس عنده ليل ولا نهار، ونور السماوات نور من نور وجهه "তোমাদের রব্ব, তাঁর কাছে তো কোনো রাত বা দিন নেই। আর আসমানসমূহ ও যমীনের যত আলো সবই তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে একটি আলো"। আছারটি ইমাম বাইহাক্বীও বর্ণনা করেছেন, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭); তারপর বলেছেন, এটি মাওকূফ, আর এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ নন। অনুরূপভাবে আসারটি ইমাম ইবন কাসীরও নিয়ে এসেছেন, তাফসীর ইবন কাসীর (৬/৬১); সেখানে এসেছে, نور العرش من نور وجهه "আরশের নূর তাঁর চেহারার নূরের উজ্জ্বল্য থেকে"। অনুরূপ আরো বর্ণনা করেন ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৯৩)।
📄 ইবন খফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর জন্য ‘হায়াত’ বা জীবন গুণ সাব্যস্তকরণ
[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর জন্য 'হায়াত' বা জীবন গুণ সাব্যস্তকরণ] তারপর তিনি বলেন, তেমনি নস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি জীবিত। আর তিনি উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿الْحَيُّ الْقَيُّومُ﴾( "তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী।” [সূরা আল- বাকারাহ: ২৫৫; সূরা আলে ইমরান: ০২]
আর হাদীস: »يا حي يا قيوم برحمتك أستغيث "হে চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, আপনার রহমতের মাধ্যমে আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি।"(৭২১)
টিকাঃ
৭২১. হাদীসটি বর্ণনা করেন, তিরমিযী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩৫২৪; হাকিম, আল- মুস্তাদরাক (১/৫০৯); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/১৯২); ত্বাবারানী, আল-ম'জামুস সগীর (১/১৫৯)। হাদীসটি আলবানী হাসান বলেছেন, আত-তাওয়াসুল আনওয়া'উহু ওয়া আহকামুহু, পৃ. ৩০।
[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর জন্য 'হায়াত' বা জীবন গুণ সাব্যস্তকরণ] তারপর তিনি বলেন, তেমনি নস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি জীবিত। আর তিনি উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿الْحَيُّ الْقَيُّومُ﴾( "তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী।” [সূরা আল- বাকারাহ: ২৫৫; সূরা আলে ইমরান: ০২]
আর হাদীস: »يا حي يا قيوم برحمتك أستغيث "হে চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, আপনার রহমতের মাধ্যমে আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি।"(৭২১)
টিকাঃ
৭২১. হাদীসটি বর্ণনা করেন, তিরমিযী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩৫২৪; হাকিম, আল- মুস্তাদরাক (১/৫০৯); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/১৯২); ত্বাবারানী, আল-ম'জামুস সগীর (১/১৫৯)। হাদীসটি আলবানী হাসান বলেছেন, আত-তাওয়াসুল আনওয়া'উহু ওয়া আহকামুহু, পৃ. ৩০।
📄 ইবন খফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর চেহারা সাব্যস্তকরণ
[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর চেহারা সাব্যস্তকরণ] ইবন খাফীফ বলেন, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের কাছে পরিচিত হয়েছেন যা দ্বারা তার মধ্যে রয়েছে যে, তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তাঁর চেহারা আছে (৭২২), যা মহত্ব ও সম্মানের গুণে গুণান্বিত। এভাবে তিনি নিজের জন্য চেহারা সাব্যস্ত করেছেন। আর তিনি অনেকগুলো আয়াত নিয়ে এসেছেন। (৭২৩) আর পূর্বে বর্ণিত আবু মূসার হাদীস উল্লেখ করেন। (৭২৪) অতঃপর তিনি বলেন যে, এই হাদীসে আছে যে, তিনি ঘুমান না, যা কুরআনের প্রকাশ্য আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যশীল। সে আয়াতটি হচ্ছে, ﴿لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ ﴾ [البقرة: ٢٥٥] “তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫] (আবু মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর) হাদীস থেকে আরও জানা গেল যে, তাঁর রয়েছে চেহারা যা আলোকোজ্জ্বলতার গুণে গুণান্বিত। আরও জানা গেল যে, তাঁর রয়েছে চোখ, যেমনটি আমাদেরকে তিনি তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন যে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
অতঃপর ইবন খাফীফ সেসব হাদীস উল্লেখ করেছেন যাতে আল্লাহর চেহারা প্রমাণিত হয়। (৭২৫) আর তাঁর শ্রবণ ও দর্শন সাব্যস্ত হয়। আর সেসব আয়াতও উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়।
টিকাঃ
৭২২. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ হচ্ছে, আল্লাহর রয়েছে চেহারা যা বাস্তবেই, আর সেটা তাঁর মর্যাদার সাথে উপযুক্ত করে সাব্যস্ত করা হবে। কোনো প্রকার বিকৃতি সাধন না করে, নিষ্ক্রীয়করণ না করে, ধরণ নির্ধারণ না করে এবং সাদৃশ্য স্থাপন না করে। আর এ গুণটি কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। আর যারা আল্লাহর সিফাতকে নিষ্ক্রীয়করণ করে সেসব মু'তাযিলা, জাহমিয়্যাহ ও তাদের অনুসারী কালামশাস্ত্রবিদরা এটাকে অপব্যাখ্যা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করে, এখানে চেহারা বলে পবিত্র সত্তাকে বুঝানো হয়েছে। আবার অপর কেউ কেউ অপব্যাখ্যা করে বলে, চেহারা বলে অস্তিত্বকে বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ এটার অপব্যাখ্যা করে বলে এর দ্বারা সাওয়াব ও সন্তুষ্টি বুঝানো হয়েছে। এসব অপব্যাখ্যা নিঃসন্দেহে বাতিল। কুরআন ও হাদীসের প্রমাণ এগুলোকে অসার করে দেয়। তাছাড়া আরবী ভাষাতেও তা আসে না। এখানে এসব কিছুর সমালোচনা ও খণ্ডন করার স্থান সংকুলান হবে না। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম ছাব্বিশটি পদ্ধতিতে এসব অপব্যাখ্যার অপনোদন করেছেন। তাছাড়া তিনি ব্যতীত অন্য আলেমগণও তা খণ্ডন করেছেন। দেখুন, ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪-৪৪); ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৫১); ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৭৪-১৮৮); বাইহাক্বী, আল-ই'তিক্বাদ, পৃ. ২৯- ৩০; ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৯৪; বাকেল্লাণী, আত-তামহীদ, পৃ. ২৯৫- ২৯৮; আশ'আরী, মাকালাতুল ইসলামিয়ীন, পৃ. ১৮৯; বাগদাদী, উসূলুদ্দীন, পৃ. ১০৯-১১০; মার'ঈ ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলী, আক্বাওয়ীলুস সিক্কাত, পৃ. ১৪১-১৪৬; আশ-শানক্বীত্বী, আদওয়াউল বায়ান (৭/৭৫)। আর যারা এসব তা'ওয়ীল করেছে তাদের সম্পর্কে জানার জন্য দেখুন, ইবনুল জাওযী, দাফ'উ শুবাহিত তাশবীহ, পৃ. ৩১; যামাখশারী, আল-কাশশাফ (৪/৬৪); কাযী আব্দুল জাব্বার, শারহুল উসূলিল খামসা, পৃ. ২২৭; বদরুদ্দীন ইবন জামা'আহ, ঈযাহুদ দলীল ফী কাত্ব'য়ি হুজাজি আহলিত তা'ত্বীল, পৃ. ১২০-১২২; ফখরুদ্দীন আর-রাযী, আত-তাফসীরুল কাবীর (১/৪৫৪); কুরতুবী, তাফসীর (১৭/১৬৫)।
৭২৩. তন্মধ্যে আছে আল্লাহর বাণী, ]۲۷ :وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ ﴾ [الرحمن﴿ “আর অবিনশ্বর শুধু আপনার রবের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।" [সূরা আর-রহমান: ২৭] ও আল্লাহর বাণী, :لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَكُلُّ شَيْءٍ حَالِكُ إِلَّا وَجْهَةٌ﴾ [القصص "তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। ]۸۸ আল্লাহর সত্তা ছাড়া সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল।" [সূরা আল-ক্বাসাস: ৮৮] এ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে আল্লাহর চেহারা সাব্যস্ত করছে।
৭২৪. হাদীসটি ইতোপূর্বে আবু মূসা আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাতে এসেছে, 'তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের অথবা আগুনের...। উক্ত হাদীসের শুরুতে এসেছে, "নিশ্চয় আল্লাহ ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়।" আল-হাদীস।
৭২৫. এসব হাদীসের অধিকাংশই ইবন খুযাইমাহ রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবুত তাওহীদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন, (১/২৭-৪৪)।
[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর চেহারা সাব্যস্তকরণ] ইবন খাফীফ বলেন, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের কাছে পরিচিত হয়েছেন যা দ্বারা তার মধ্যে রয়েছে যে, তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তাঁর চেহারা আছে (৭২২), যা মহত্ব ও সম্মানের গুণে গুণান্বিত। এভাবে তিনি নিজের জন্য চেহারা সাব্যস্ত করেছেন। আর তিনি অনেকগুলো আয়াত নিয়ে এসেছেন। (৭২৩) আর পূর্বে বর্ণিত আবু মূসার হাদীস উল্লেখ করেন। (৭২৪) অতঃপর তিনি বলেন যে, এই হাদীসে আছে যে, তিনি ঘুমান না, যা কুরআনের প্রকাশ্য আয়াতের সাথে সামঞ্জস্যশীল। সে আয়াতটি হচ্ছে, ﴿لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ ﴾ [البقرة: ٢٥٥] “তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫] (আবু মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর) হাদীস থেকে আরও জানা গেল যে, তাঁর রয়েছে চেহারা যা আলোকোজ্জ্বলতার গুণে গুণান্বিত। আরও জানা গেল যে, তাঁর রয়েছে চোখ, যেমনটি আমাদেরকে তিনি তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন যে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
অতঃপর ইবন খাফীফ সেসব হাদীস উল্লেখ করেছেন যাতে আল্লাহর চেহারা প্রমাণিত হয়। (৭২৫) আর তাঁর শ্রবণ ও দর্শন সাব্যস্ত হয়। আর সেসব আয়াতও উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়।
টিকাঃ
৭২২. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ হচ্ছে, আল্লাহর রয়েছে চেহারা যা বাস্তবেই, আর সেটা তাঁর মর্যাদার সাথে উপযুক্ত করে সাব্যস্ত করা হবে। কোনো প্রকার বিকৃতি সাধন না করে, নিষ্ক্রীয়করণ না করে, ধরণ নির্ধারণ না করে এবং সাদৃশ্য স্থাপন না করে। আর এ গুণটি কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। আর যারা আল্লাহর সিফাতকে নিষ্ক্রীয়করণ করে সেসব মু'তাযিলা, জাহমিয়্যাহ ও তাদের অনুসারী কালামশাস্ত্রবিদরা এটাকে অপব্যাখ্যা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করে, এখানে চেহারা বলে পবিত্র সত্তাকে বুঝানো হয়েছে। আবার অপর কেউ কেউ অপব্যাখ্যা করে বলে, চেহারা বলে অস্তিত্বকে বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ এটার অপব্যাখ্যা করে বলে এর দ্বারা সাওয়াব ও সন্তুষ্টি বুঝানো হয়েছে। এসব অপব্যাখ্যা নিঃসন্দেহে বাতিল। কুরআন ও হাদীসের প্রমাণ এগুলোকে অসার করে দেয়। তাছাড়া আরবী ভাষাতেও তা আসে না। এখানে এসব কিছুর সমালোচনা ও খণ্ডন করার স্থান সংকুলান হবে না। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম ছাব্বিশটি পদ্ধতিতে এসব অপব্যাখ্যার অপনোদন করেছেন। তাছাড়া তিনি ব্যতীত অন্য আলেমগণও তা খণ্ডন করেছেন। দেখুন, ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪-৪৪); ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৫১); ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৭৪-১৮৮); বাইহাক্বী, আল-ই'তিক্বাদ, পৃ. ২৯- ৩০; ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৯৪; বাকেল্লাণী, আত-তামহীদ, পৃ. ২৯৫- ২৯৮; আশ'আরী, মাকালাতুল ইসলামিয়ীন, পৃ. ১৮৯; বাগদাদী, উসূলুদ্দীন, পৃ. ১০৯-১১০; মার'ঈ ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলী, আক্বাওয়ীলুস সিক্কাত, পৃ. ১৪১-১৪৬; আশ-শানক্বীত্বী, আদওয়াউল বায়ান (৭/৭৫)। আর যারা এসব তা'ওয়ীল করেছে তাদের সম্পর্কে জানার জন্য দেখুন, ইবনুল জাওযী, দাফ'উ শুবাহিত তাশবীহ, পৃ. ৩১; যামাখশারী, আল-কাশশাফ (৪/৬৪); কাযী আব্দুল জাব্বার, শারহুল উসূলিল খামসা, পৃ. ২২৭; বদরুদ্দীন ইবন জামা'আহ, ঈযাহুদ দলীল ফী কাত্ব'য়ি হুজাজি আহলিত তা'ত্বীল, পৃ. ১২০-১২২; ফখরুদ্দীন আর-রাযী, আত-তাফসীরুল কাবীর (১/৪৫৪); কুরতুবী, তাফসীর (১৭/১৬৫)।
৭২৩. তন্মধ্যে আছে আল্লাহর বাণী, ]۲۷ :وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ ﴾ [الرحمن﴿ “আর অবিনশ্বর শুধু আপনার রবের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।" [সূরা আর-রহমান: ২৭] ও আল্লাহর বাণী, :لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَكُلُّ شَيْءٍ حَالِكُ إِلَّا وَجْهَةٌ﴾ [القصص "তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। ]۸۸ আল্লাহর সত্তা ছাড়া সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল।" [সূরা আল-ক্বাসাস: ৮৮] এ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে আল্লাহর চেহারা সাব্যস্ত করছে।
৭২৪. হাদীসটি ইতোপূর্বে আবু মূসা আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাতে এসেছে, 'তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের অথবা আগুনের...। উক্ত হাদীসের শুরুতে এসেছে, "নিশ্চয় আল্লাহ ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়।" আল-হাদীস।
৭২৫. এসব হাদীসের অধিকাংশই ইবন খুযাইমাহ রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবুত তাওহীদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন, (১/২৭-৪৪)।