📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার ওপর কিছু দলীল উপস্থাপন

📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার ওপর কিছু দলীল উপস্থাপন


মুহাম্মাদ [ইবন আবি যামানীন] বলেন: এ হাদীস বর্ণনা করে যে, আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে, যমীনে নয়। এটা আল্লাহর কিতাব এবং অসংখ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ৫]
"তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর সমীপে উঠে যায়।” [সূরা আস-সাজদাহ: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ ﴾ [الملك: ১৬, ১৭]
"তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর(৫৫০) যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। [সূরা আল-মুলক: ১৬, ১৭]
তিনি আরও বলেন:
إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ১০]
"তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ উঠে যায় আর সৎ আমল তিনিই তা উঠিয়ে নেন।” [সূরা ফাতির: ১০]
তিনি আরও বলেন:
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ﴾ [الانعام: ১৮]
"আর তিনিই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী তাঁর বান্দাদের উপর।” [সূরা আল-আন'আম: ১৮]
তিনি আরও বলেন:
يَعِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَى [ال عمران: ৫৫]
"হে 'ঈসা! নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।" [সূরা আলে ইমরান: ৫৫]
তিনি আরও বলেন;
بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ﴾ [النساء: ১৫৮]
"বরং আল্লাহ্ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন।” [সূরা আন-নিসা: ১৫৮]
আর তিনি(৫৫১) ইমাম মালিক এর সূত্রে ঐ দাসীর কথা উল্লেখ করেন যাতে নবীজি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:
«أَيْنَ اللَّهُ ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ».
"আল্লাহ কোথায়? সে বলল আসমানের উপর। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও; কেননা সে মুমিন দাসী।”(৫৫২)
তিনি(৫৫৩) বলেন, এ ধরনের আরও অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সুতরাং তিনি কতইনা পবিত্র, যার জ্ঞান যমীনস্থ সবকিছু সম্পর্কে যেমন আসমানস্থ সবকিছু সম্পর্কেও তেমন। তিনি ভিন্ন সত্য কোনো মা'বুদ নেই, তিনি সুউচ্চ, মহান।

টিকাঃ
৫৪৫৯. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/৩০২)।
৫৫০. আয়াতে বর্ণিত 'সামা' অর্থ যদি ঊর্ধ্বালোক অর্থ করা হয়, তাহলে 'ফী' অর্থ 'মধ্যে' করা যায়। আর যদি 'সামা' অর্থ আসমান নামীয় একটি দেহ বিশিষ্ট স্তর ধরা হয় তখন 'ফী' অর্থ করা হবে 'উপরে'। আরবী ভাষায় এর বহু নযীর আছে। আর কুরআনে কারীমেও সে রকম ব্যবহার এসেছে।
৫৫১. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৫২. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৫৩৭। ইতোপূর্বে এর তাখরীজ চলে গেছে।
৫৫৩. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ তার উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থে।

মুহাম্মাদ [ইবন আবি যামানীন] বলেন: এ হাদীস বর্ণনা করে যে, আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে, যমীনে নয়। এটা আল্লাহর কিতাব এবং অসংখ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ৫]
"তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর সমীপে উঠে যায়।” [সূরা আস-সাজদাহ: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ ﴾ [الملك: ১৬, ১৭]
"তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর(৫৫০) যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। [সূরা আল-মুলক: ১৬, ১৭]
তিনি আরও বলেন:
إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ১০]
"তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ উঠে যায় আর সৎ আমল তিনিই তা উঠিয়ে নেন।” [সূরা ফাতির: ১০]
তিনি আরও বলেন:
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ﴾ [الانعام: ১৮]
"আর তিনিই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী তাঁর বান্দাদের উপর।” [সূরা আল-আন'আম: ১৮]
তিনি আরও বলেন:
يَعِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَى [ال عمران: ৫৫]
"হে 'ঈসা! নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।" [সূরা আলে ইমরান: ৫৫]
তিনি আরও বলেন;
بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ﴾ [النساء: ১৫৮]
"বরং আল্লাহ্ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন।” [সূরা আন-নিসা: ১৫৮]
আর তিনি(৫৫১) ইমাম মালিক এর সূত্রে ঐ দাসীর কথা উল্লেখ করেন যাতে নবীজি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:
«أَيْنَ اللَّهُ ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ».
"আল্লাহ কোথায়? সে বলল আসমানের উপর। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও; কেননা সে মুমিন দাসী।”(৫৫২)
তিনি(৫৫৩) বলেন, এ ধরনের আরও অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সুতরাং তিনি কতইনা পবিত্র, যার জ্ঞান যমীনস্থ সবকিছু সম্পর্কে যেমন আসমানস্থ সবকিছু সম্পর্কেও তেমন। তিনি ভিন্ন সত্য কোনো মা'বুদ নেই, তিনি সুউচ্চ, মহান।

টিকাঃ
৫৪৫৯. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/৩০২)।
৫৫০. আয়াতে বর্ণিত 'সামা' অর্থ যদি ঊর্ধ্বালোক অর্থ করা হয়, তাহলে 'ফী' অর্থ 'মধ্যে' করা যায়। আর যদি 'সামা' অর্থ আসমান নামীয় একটি দেহ বিশিষ্ট স্তর ধরা হয় তখন 'ফী' অর্থ করা হবে 'উপরে'। আরবী ভাষায় এর বহু নযীর আছে। আর কুরআনে কারীমেও সে রকম ব্যবহার এসেছে।
৫৫১. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৫২. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৫৩৭। ইতোপূর্বে এর তাখরীজ চলে গেছে।
৫৫৩. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ তার উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থে।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর নাম ও গুণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য

📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর নাম ও গুণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য


এর পূর্বে তিনি আল্লাহ নাম ও সিফাতের প্রতি ঈমান সম্পর্কে বলেন: "জেনে রাখো! আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর নবী-রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছিলেন সে সম্পর্কে যারা জ্ঞানী তারা মনে করেন, আল্লাহ নিজের ব্যাপারে যা বলেননি তা না জানাই ইলম এবং যেদিকে আহ্বান করেননি, তা করতে অপরাগ হওয়াই ঈমান। আর তারা تو সেখানেই থেমে যান যেখানে তিনি স্বীয় কিতাবে তাঁর নবীর যবানীর মাধ্যমে থামিয়ে দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন বলেছেন- তিনি সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী-
﴿كُلُّ شَيْءٍ هَالِكُ إِلَّا وَجْهَهُ ﴾ [القصص: ٨٨]
“আল্লাহর চেহারাসহ সত্তা ছাড়া সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল।”(৫৫৫) [সূরা আল-কাসাস: ৮৮]
﴿قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَدَةٌ قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ﴾ [الانعام: ١٩]
"বলুন, 'কোন জিনিস(৫৫৬) সবচেয়ে বড় সাক্ষী'? বলুন, 'আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্যদাতা'(৫৫৭)।” [সূরা আল-আন'আম: ১৯]
তিনি আরও বলেন:
﴿وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ﴾ [آل عمران : ٣٠]
"আল্লাহ তাঁর নিজের সত্তা(৫৫৮) সম্বন্ধে তিনি তোমাদেরকে সাবধান করছেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩০]
অন্যত্র বলেন:
﴿فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي) [الحجر: ٢٩] [ص: ۷۲]
"অতঃপর যখন আমি তাকে সুন্দর সুসম করব(৫৫৯) আর তাতে আমার রূহ(৫৬০) ফুঁকে(৫৬১) দেব।” [সূরা আল-হিজর: ২৯; সূরা স্বদ: ৭২]
তিনি অন্যত্র বলেন:
"কারণ আপনি আমাদের চোখের সামনেই আছেন।”(৫৬২) [সূরা আন-তূর: ৪৮]
তিনি আরও বলেন:
﴿وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي) [طه: ٣٩]
"আর যাতে আপনি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হন।”(৫৬৩) [সূরা ত্বা-হা: ৩৯]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ﴾ [المائدة: ٦٤]
"আর ইয়াহুদীরা বলে, 'আল্লাহর হাত(৫৬৪) রুদ্ধ'। তাদের হাতই রুদ্ধ করা হয়েছে এবং তারা যা বলে সে জন্য তারা অভিশপ্ত, বরং আল্লাহর উভয় হাতই প্রসারিত।”(৫৬৫) [সূরা আল-মায়েদাহ: ৬৪]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ﴾ [الزمر: ৬৭]
“কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে(৫৬৬)।” [সূরা আয-যুমার: ৬৭]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى﴾ [طٰه: ٤٦]
“আমি তো আপনাদের সংগে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।(৫৬৭)” [সূরা ত্বা-হা: ৪৬]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿وَكَلَّمَ اللهُ مُوسَى تَكْلِيمًا﴾ [النساء: ١٦٤]
“আর অবশ্যই আল্লাহ মূসার সাথে যথাযথভাবে কথা বলেছেন(৫৬৮)।” [সূরা আন-নিসা: ১৬৪]
তিনি আরও বলেন:
﴿اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [النور: ٣٥]
“আল্লাহ্ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর।(৫৬৯)” [সূরা আন-নূর: ৩৫]
তিনি আরও বলেন,
﴿اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ﴾ [البقرة: ٢٥٥]
“আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক(৫৭০)।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫]
তিনি আরও বলেন,
﴿هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ﴾ [الحديد: ٣]
“তিনিই আদি, অন্ত, সবকিছুর উপরে এবং নিকটে(৫৭১)।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৩]
এরূপ আরও বহু আয়াত কুরআনে রয়েছে(৫৭২)।
সুতরাং মহান বরকতময় সত্তা যিনি আসমান ও যমীনের নূর, যেমনটি তিনি তাঁর নিজের ব্যাপারে জানিয়েছেন। আর তাঁর রয়েছে চেহারা, নফস বা সত্তা(৫৭৩) ইত্যাদি। তিনি শোনেন, দেখেন, কথা বলেন। তিনি প্রথম, তাঁর পূর্বে কিছুই নেই। তিনি স্থায়ী, সর্বশেষ, তাঁর পরে কিছুই নেই। তিনি উপরে, সবকিছুর উপরে, তিনি নিকটে, সৃষ্টির ব্যাপারে তার ইলম খুবই সুক্ষ্ম। “তিনি সবকিছু সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞানী।” [সূরা আল- বাকারাহ: ২৯], তিনি কাইয়্যুম বা চিরস্থায়ী, হাইয়্যুন বা চিরঞ্জীব, তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না।
অতঃপর তিনি সিফাত সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস উল্লেখ করে বলেন(৫৭৪): এগুলো আমাদের প্রভুর সিফাত যা তিনি স্বীয় কিতাবে এবং তার নবী হাদীসে বর্ণনা করেছেন। যেগুলোর মধ্যে নেই কোনো সীমানা নির্ধারণ, সাদৃশ্যকরণ ও পরিমাণ বর্ণনা। “তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শূরা: ১১] কোনো চোখই তাঁকে দেখেনি যে তিনি কেমন তা সীমিত করবে। (৫৭৫) কিন্তু অন্তরসমূহ তাঁকে ঈমানের হাকীকতে দেখেছে(৫৭৬) ।(৫৭৭)

টিকাঃ
৫৫৪. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/১০১)।
৫৫৫. এটি আল্লাহর সত্তাগত গুণ 'চেহারা' এর ওপর প্রমাণ। যদিও চেহারার সাথে সত্তাও অন্তর্ভুক্ত। কারণ যে সত্তার চেহারা নেই সে সত্তাকে চেহারার দিকে সম্পৃক্ত করা যায় না। [খালেদ আল-মুসলিহ, শারহুল হামাওয়িয়‍্যাহ] আয়াতের আরেকটি বিশুদ্ধ অর্থ হচ্ছে, সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে তবে কেবল তাই অবশিষ্ট থাকবে যা আল্লাহর চেহারা দর্শন লাভের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [খালেদ আল-মুসলিহ, শারহুল হামাওয়িয়‍্যাহ]
৫৫৬. এর দ্বারা বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলাকে 'শাই' বস্তু বা বিষয় বলা যাবে। তবে সেটা গুণ হিসেবে নয়, ইখবার বা সংবাদ হিসেবে। আয়াতে শেষে সাক্ষ্য হওয়া আল্লাহর একটি গুণ।
৫৫৭. আয়াত থেকে আল্লাহর 'শহীদ' নামটি সাব্যস্ত হচ্ছে।
৫৫৮. এখানে নফস বলে আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। তাই বিশুদ্ধ মতে এ আয়াতটি সিফাতের আয়াত নয়।
৫৫৯. এখান থেকে আল্লাহর আরেকটি কর্মগত গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে, তা হচ্ছে 'তাসওয়িয়াহ' আর তা হাত দিয়ে করেছেন, তাই সত্তাগত আরেকটি গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে তা হচ্ছে হাত।
৫৬০. এ আয়াতে আসা রূহ কী আল্লাহর সিফাত? বস্তুত 'রূহ' আল্লাহর সিফাত হিসেবে এখানে যেমন আসেনি তেমনি কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোথাও আসেনি। কুরআনে কারীমের কয়েক জায়গায় 'রূহ' হিসেবে জিবরীলকে ও 'ঈসাকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। আর উভয়েই সৃষ্ট আলাদা সত্তা। নিয়ম হচ্ছে, কোনো স্বতন্ত্র সত্তা যদি আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন সেটা আল্লাহর গুণ হয় না। সেটা হয় আল্লাহর সৃষ্টি। কারণ, আল্লাহর দিকে কোনো কিছু সম্পৃক্ত হওয়া তিন ভাবে হতে পারে: ১- সত্তার দিকে অপর সত্তার সম্পর্ক। ২- আল্লাহর সত্তার দিকে গুণের সম্পর্ক। কোনো সত্তার সাথে যদি এমন কিছুকে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয় যার আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, তাহলে সেটা হয় মাওসূফের সাথে সিফাতের সম্পর্ক, সত্তার সাথে গুণের সম্পর্ক। যেমন, 'কুদরাতুল্লাহ' (আল্লাহর কুদরত) 'রহমাতুল্লাহ' (আল্লাহর রহমত) 'ইয়াদুল্লাহ' (আল্লাহর হাত) কারণ এগুলো আলাদা সত্তা হিসেবে পাওয়া যায় না। আর যখনই সৃষ্ট আলাদা সত্তার কোনো কিছু আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন সেটা হয়, মালিকের দিকে মালিকানার সম্পৃক্ততা। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্ক দেখানো। সে সম্পৃক্ততা সাধারণত সম্মানিত করার জন্য হয়ে থাকে। যেমন, বাইতুল্লাহ, (আল্লাহর ঘর), নাকাতুল্লাহ (আল্লাহর উষ্ট্রী)। আর জানা কথা যে, ঘর ও উষ্ট্রী উভয়টিই সৃষ্ট আলাদা জিনিস। তাই আল্লাহর সাথে সেটার সম্পৃক্ততা মালিকের সাথে মালিকানার, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির। সে হিসেবে কুরআনে কারীমের যেখানে যেখানে 'রূহ' শব্দটি এসেছে, যেমন, [সূরা আন-নিসা: ১৭১; সূরা আল-হিজর: ২৯; স্বদ ৭২; সূরা মারইয়াম, ১৭; সূরা আস-সাজদাহ: ০৯] অনুরূপ হাদীসেও 'ঈসা আলাইহিস সালাম ও জিবরীলের ব্যাপারে আল্লাহর 'রূহ' ব্যবহৃত হয়েছে, এসব স্থানে রূহ অবশ্যই সৃষ্ট জিনিস। তাই সৃষ্ট জিনিসের সাথে আল্লাহর সম্পৃক্ত হওয়া হচ্ছে মালিকের সাথে মালিকানার সম্পৃক্ততা, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পৃক্ততা, তা স্রষ্টার সাথে গুণের সম্পৃক্ততা নয়। তাই উপরে বর্ণিত আয়াত ও হাদীসে আসা 'রূহ' আল্লাহর গুণ নয়, বরং সৃষ্টি। এর বাইরে রূহ শব্দটি কোথাও আল্লাহর জন্য কুরআনে কারীম ও হাদীসে গুণ হিসেবে আসেনি। [বিস্তারিত জানার জন্য দেখা যেতে পারে, মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯০); ইবনুল কাইয়্যেম, কিতাবুর রূহ, পৃ. ৫০০] ৩- আল্লাহর সাথে কোনো কর্মের সম্পর্ক। এটা দু'ভাবে বিভক্ত, এক. যদি সে কর্মটি একান্তভাবে স্রষ্টার সাথেই সম্পৃক্ত থেকে যায়, তার মাধ্যমে অন্য কোনো সত্তার অস্তিত্ব না আসে, তবে সেটাকে বলা হবে কর্মবাচক গুণ। যেমন, 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, হাশরের মাঠে আগমন, কারো ওপর সন্তুষ্ট হওয়া, কারো ক্রোধান্বিত হওয়া ইত্যাদি। দুই, আর যদি সে কর্মের মাধ্যমে ওপর একটি ভিন্ন সত্তার সূত্রপাত হয় তবে সেটাকে আল্লাহর কর্ম বলা হবে। যেমন, আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ পানি বর্ষণ করেছেন।
৫৬১. বুঝা গেল রূহ ফুঁকে দেয়া আল্লাহর একটি কাজ, যা তিনি করেছেন।
৫৬২. এখানে আল্লাহর সত্তাগত একটি গুণ সাব্যস্ত করা হচ্ছে, আর তা হচ্ছে আল্লাহর চোখ।
৫৬৩. এ আয়াত থেকেও আল্লাহর সত্তাগত গুণ 'চোখ' সাব্যস্ত হচ্ছে।
৫৬৪. এ আয়াতে আল্লাহর একটি গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা হচ্ছে: আল্লাহর হাত।
৫৬৫. গ্রন্থকার শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ অন্যত্র 'হাত প্রসারিত করা'র অর্থ করেছেন 'বেশি দান করা ও প্রশস্তভাবে খরচ করা'। তিনি আরও বলেন, দু'হাত তাওরাত ও অন্যান্য নবুওয়াতেও সাব্যস্ত করা হয়েছে; যেমনিভাবে তা কুরআনে এসেছে। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, আল-জাওয়াবুস সহীহ (৪/৪১২); মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৬৩)।
৫৬৬. এ আয়াতে আল্লাহর একটি সত্তাগত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা হচ্ছে হাতের কজা বা মুষ্ঠি।
৫৬৭. এ আয়াতে আল্লাহর তিনটি কর্মগত গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে, তা হলো, আল্লাহ কর্তৃক আরশের উপর থেকেও বান্দার সাথে থাকা, তাঁর শোনা ও দেখা। অর্থাৎ শোনা ও দেখার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা সকল বান্দার সাথে আছেন। আর তাঁর বিশেষ বান্দাদের সাথে আরও একটু অতিরিক্ত হিসাবে সাথে আছে আছেন তা হচ্ছে, সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৫৬৮. এ আয়াতে আল্লাহর একটি গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। তা হচ্ছে কথা বলা। আল্লাহর এ গুণটি সত্তাগত ও কর্মগত উভয় প্রকারের।
৫৬৯. এ আয়াত থেকে সাব্যস্ত হচ্ছে যে আল্লাহর জন্য 'নূর' নামটি সাব্যস্ত হবে। যেমনটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে (২/৪২০) এবং ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ৪৪।
৫৭০. এ আয়াতে অনেকগুলো নাম ও গুণ রয়েছে। যেমন: ইলাহিয়াহ গুণ, হায়াত গুণ, কাইয়্যুমিয়‍্যাহ গুণ। এ গুণগুলো সত্তাগত।
৫৭১. এখানে চারটি নাম ও কমপক্ষে চারটি সত্তাগত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। বস্তুত এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক বান্দাহকে সর্বদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখা প্রমাণিত হচ্ছে। স্থান হোক কিংবা কাল হোক সবদিক থেকে বান্দা সবসময় ও সবজায়গায় আল্লাহর পরিবেষ্টনীর ভেতর রয়েছে। এ যেন অপর আয়াতের তাফসীর যেখানে আল্লাহ বলেছেন, 'ওয়াল্লাহু বিকুল্লি শাইয়িন মুহীত্ব' বা "আর আল্লাহ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।" [সূরা ফুসসিলাত: ৫৪] এ পরিবেষ্টন, জ্ঞান, ক্ষমতা, তত্ত্বাবধান ও পরিচর্যার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
৫৭২. অর্থাৎ যেখানে আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন বহু আয়াত রয়েছে কুরআনে কারীমে।
৫৭৩. এখানে 'নাফস' বলে আল্লাহর সত্তাকে বুঝানো হয়েছে। এটিই অধিকাংশ আলেমের মত। যেমনটি বেশ কিছু নস তথা কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যে এসেছে। যেমন, আল্লাহর বাণী, "মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাদের নিকট থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তার ব্যাপারে তোমাদেরকে সাবধান করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন।” [সূরা আলে ইমরান: ২৮], অনুরূপ "আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান আনে, তারা যখন আপনার কাছে আসে তখন তাদেরকে আপনি বলুন, 'তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক', তোমাদের রব তাঁর নিজ সত্তার ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত যদি খারাপ কাজ করে, তারপর তাওবা করে এবং সংশোধন করে, তবে নিশ্চয় তিনি (আল্লাহ) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-আন'আম: ৫৪] আর হাদীসে কুদসীতে এসেছে, "... অতঃপর যদি আমাকে তার নিজ সত্তায় স্মরন করে আমিও তাকে নিজ সত্তায় স্মরণ করি" ইত্যাদি ভাষ্যসমূহে।
ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী বলেন, "আর আল্লাহর নফস বলে স্বয়ং আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। সত্তাতে সকল সিফাত একত্রিত হয়, যদি সত্তা অস্তিত্বহীন হয়ে যায় তখন সবকিছু অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। [আর-রাদ্দু 'আলাল বিশর আল-মিররীসী (২/৮৪৭-৮৪৮)]
ইবন তাইমিয়্যাহ অন্যত্র বলেন, 'আর তাঁর নফস বলতে তাঁর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। [মাজমু' ফাতাওয়া (১৪/১৯৬)]
অন্যত্র তিনি বলেন, "অধিকাংশ আলেমের নিকট নফস বলে স্বয়ং আল্লাহকেই বুঝানো হয়েছে যা তাঁর সেই সত্তা যা সকল গুণে গুণান্বিত। এখানে নফস বলে এমন কোনো সত্তা বুঝানো হয়নি যা গুণ থেকে মুক্ত; আবার নফস দ্বারা সত্তার কোনো গুণকেও বুঝানো হয়নি। কোনো কোনো মানুষ নফসকে সিফাত বা গুণ গণ্য করে থাকে, আবার আরেক গোষ্ঠী এটাকে গুণমুক্ত একটি সত্তা মনে করে থাকে। উভয় মতই ভুল।” [মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯২); আরও দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৭/৪২৬)]
যারা যাত বা সত্তা বলে একটি সিফাত সাব্যস্ত করে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, কাযী আবু ইয়া'লা, যেমনটি এসেছে তাঁর ইবত্বালুত তা'ওয়িলাত গ্রন্থে (২/৪৪২-৪৪৭)। সেটার ওপর তিনি 'নাফস' আসা আয়াতগুলো দিয়েই দলীল দিয়েছেন; অনুরূপ তিনি ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের একটি মত থেকেও সেটার দলীল নিয়েছেন যা ইমাম আহমাদ তার 'আর-রাদ্দু আলায যানাদিক্বাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
তারপর তিনি বলেন, 'অতঃপর যদি কেউ বলে, এখানে 'নাফস' দ্বারা সিফাত সাব্যস্ত করা হচ্ছে না, এর দ্বারা তো কেবল 'যাত' বা সত্তাকের বুঝানো হচ্ছে, যেমন আরবরা বলে থাকেন, 'হাযা নাফসুল আমর', (এটা তো সে কাজটিই) তারা এর দ্বারা সে কাজটিই বুঝায়, এটা বুঝায় না যে কাজের 'নাফস' আছে।... বলা হবে যে এটা ভুল; কারণ [১] যদি 'নাফস' বলে যাত বা সত্তা বুঝানো জায়েয হয় তাহলে হায়াত (জীবন) ও বাক্কা (স্থায়ী) বলেও সত্তা বুঝানো সম্ভব। তাই তখন বলা যাবে যে, যাতু হাইয়াহ, যাতু বাকীয়‍্যাহ। আর আমরা আর সকল সিফাত সাব্যস্তকারীরা এভাবে একমত যে, আল্লাহ তা'আলা জীবন দ্বারা জীবিত, অবশিষ্ট থাকা দ্বারা স্থায়ী। তাই সে হিসাবে বলা জায়েয হবে যে, তিনি নফসসহ সত্তা। [২] তাছাড়া আরও একটি কারণ হচ্ছে, তখন আল্লাহর ব্যাপারে বলা জায়েয হবে যে, আল্লাহ হচ্ছেন নাফস। [৩] তখন এভাবে আহ্বান করে বলাও জায়েয হতে হয়, 'হে নফস, আমাদের ক্ষমা করুন।' অথচ উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে এটা বলা যাবে না।' এ হচ্ছে 'নাফস'কে গুণ বলার ব্যাপারে কাযী আবু ইয়া'লার ব্যাখ্যা। অথচ তা শুদ্ধ নয়। আয়াতসমূহে 'নাফস' শব্দটি তাকীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর- [১] হায়াত ও বাক্কা শব্দদ্বয় তাকীদের জন্য ব্যবহৃত হয় না। [২] এটা তো তা'কীদ হিসেবে এসেছে। যাতে মুআক্কাদ অবশিষ্টই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। [৩] তা'কীদকে ডাকা হয় না, মুআক্কাদকেই ডাকা হয়।
৫৭৪. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ, পৃ. ১৬৬।
৫৭৫. সাধারণত কেউ কোনো কিছু দেখতে পেলে বলতে পারে যে, সেটা কেমন। দুনিয়ার বুকে জাগ্রত অবস্থায় কেউ আল্লাহকে দেখতে পায়নি; সুতরাং কীভাবে সে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে তাঁকে পরিবেষ্টন করবে? অনুরূপ কথা ইবন কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ তার লুম'আতুল ই'তিক্বাদেও বলেছেন, 'তাকে কোনো বিবেক চিন্তা করে উদাহরণ পেশ করতে পারে না, অনুরূপ কোনো কলব তাঁকে ছবির মত ধারণা করতে পারে না, "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা [সূরা আশ-শূরা: ১১]। সুতরাং এখানেও তিনি কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা আল্লাহর গুণাবলিকে কোনো প্রকার উদাহরণ কিংবা ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই সাব্যস্ত করেছেন।
৫৭৬. এখানে যা বলা হয়েছে তা সেটাই প্রমাণ করছে যে কথাটি শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ অন্য জায়গায় বলেছেন, তিনি বলেন, 'যে কেউ দাবি করবে যে, সে তার রব্বকে মৃত্যুর পূর্বে তার দু চোখে দেখেছে, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের নিকট তার দাবি অবশ্যই বাতিল।... তবে যারা আল্লাহর প্রকৃত ঈমানদার বান্দা তারা আল্লাহর পরিচয়, কলবের দৃঢ়তা ও সেটার দর্শন ও আলোর মাধ্যমে যা লাভ করে তার রয়েছে অনেক স্তর। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলকে বলেছেন, ইহসান হচ্ছে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তা করতে না পার, তবে এমনভাবে করবে যেন তিনি তোমাকে দেখছেন। [আল-ওয়াসিয়্যাতুল কুবরা, পৃ. ২৭; তাহক্বীক্ব: আল-হামূদ] বস্তুত সেটা তখনই হবে যখন কেউ আল্লাহর কিতাবে আসা আল্লাহর যাবতীয় নাম ও গুণাবলি, অনুরূপ আল্লাহর রাসূলের হাদীসে আসা আল্লাহর যাবতীয় নাম ও গুণাবলির প্রতি অকাট্য ঈমান রাখবে, এমন দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যাতে কোনো সংশয় ও সন্দেহ প্রবেশ করার সুযোগ থাকবে না। যখন এগুলোর ধরণ নির্ধারণ ও উদাহরণ পেশ নিয়ে অযথা কৃত্তিমতা অবলম্বন করবে না। তখনই সে তার অন্তরে রাব্বুল আলামীনের নাম ও গুণকে দেখবে এমনভাবে যা চোখের দেখার চেয়েও বড় আকারে ধরা দিবে, বিশেষ করে যখন ঈমানী চেতনার সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকবে। বর্ণিত আছে যে, উরওয়া ইবনুষ যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছে তার কন্যার বিয়ের ব্যাপারে প্রস্তাব পেশ করেন, তখন ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা তাওয়াফরত অবস্থায় ছিলেন। ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বললেন, তুমি কি এখন মহিলাদের ব্যাপারে আলোচনা করছ? অথচ আমরা এখন তাওয়াফে আল্লাহর দর্শনে ব্যস্ত আছি? এ প্রকাশ একজন মানুষের আল্লাহর ওপর ঈমান ও তার পরিচয় লাভ ও ভালোবাসা অনুযায়ী হয়ে থাকে; আর তাই তা মানুষের অবস্থা হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার হতে পারে। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ১২৩-১৩৪।
৫৭৭. এখানে এসে ইবন আবী যামানীন থেকে উদ্ধৃত অংশ শেষ হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এখানে ইমাম আবি যামানীন এর উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থ থেকে আল্লাহর 'আরশ, কুরসী, অবতরণ ও 'আরশের উপর থাকা এতসংক্রান্ত বড় একটি অংশ নিয়ে এসেছেন। তবে কোথাও কোথাও তিনি কথা সংক্ষেপ করেছেন।

এর পূর্বে তিনি আল্লাহ নাম ও সিফাতের প্রতি ঈমান সম্পর্কে বলেন: "জেনে রাখো! আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর নবী-রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছিলেন সে সম্পর্কে যারা জ্ঞানী তারা মনে করেন, আল্লাহ নিজের ব্যাপারে যা বলেননি তা না জানাই ইলম এবং যেদিকে আহ্বান করেননি, তা করতে অপরাগ হওয়াই ঈমান। আর তারা تو সেখানেই থেমে যান যেখানে তিনি স্বীয় কিতাবে তাঁর নবীর যবানীর মাধ্যমে থামিয়ে দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন বলেছেন- তিনি সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী-
﴿كُلُّ شَيْءٍ هَالِكُ إِلَّا وَجْهَهُ ﴾ [القصص: ٨٨]
“আল্লাহর চেহারাসহ সত্তা ছাড়া সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল।”(৫৫৫) [সূরা আল-কাসাস: ৮৮]
﴿قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَدَةٌ قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ﴾ [الانعام: ١٩]
"বলুন, 'কোন জিনিস(৫৫৬) সবচেয়ে বড় সাক্ষী'? বলুন, 'আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্যদাতা'(৫৫৭)।” [সূরা আল-আন'আম: ১৯]
তিনি আরও বলেন:
﴿وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ﴾ [آل عمران : ٣٠]
"আল্লাহ তাঁর নিজের সত্তা(৫৫৮) সম্বন্ধে তিনি তোমাদেরকে সাবধান করছেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩০]
অন্যত্র বলেন:
﴿فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي) [الحجر: ٢٩] [ص: ۷۲]
"অতঃপর যখন আমি তাকে সুন্দর সুসম করব(৫৫৯) আর তাতে আমার রূহ(৫৬০) ফুঁকে(৫৬১) দেব।” [সূরা আল-হিজর: ২৯; সূরা স্বদ: ৭২]
তিনি অন্যত্র বলেন:
"কারণ আপনি আমাদের চোখের সামনেই আছেন।”(৫৬২) [সূরা আন-তূর: ৪৮]
তিনি আরও বলেন:
﴿وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي) [طه: ٣٩]
"আর যাতে আপনি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হন।”(৫৬৩) [সূরা ত্বা-হা: ৩৯]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ﴾ [المائدة: ٦٤]
"আর ইয়াহুদীরা বলে, 'আল্লাহর হাত(৫৬৪) রুদ্ধ'। তাদের হাতই রুদ্ধ করা হয়েছে এবং তারা যা বলে সে জন্য তারা অভিশপ্ত, বরং আল্লাহর উভয় হাতই প্রসারিত।”(৫৬৫) [সূরা আল-মায়েদাহ: ৬৪]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ﴾ [الزمر: ৬৭]
“কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে(৫৬৬)।” [সূরা আয-যুমার: ৬৭]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى﴾ [طٰه: ٤٦]
“আমি তো আপনাদের সংগে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।(৫৬৭)” [সূরা ত্বা-হা: ৪৬]
তিনি অন্যত্র বলেন:
﴿وَكَلَّمَ اللهُ مُوسَى تَكْلِيمًا﴾ [النساء: ١٦٤]
“আর অবশ্যই আল্লাহ মূসার সাথে যথাযথভাবে কথা বলেছেন(৫৬৮)।” [সূরা আন-নিসা: ১৬৪]
তিনি আরও বলেন:
﴿اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [النور: ٣٥]
“আল্লাহ্ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর।(৫৬৯)” [সূরা আন-নূর: ৩৫]
তিনি আরও বলেন,
﴿اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ﴾ [البقرة: ٢٥٥]
“আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক(৫৭০)।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫]
তিনি আরও বলেন,
﴿هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ﴾ [الحديد: ٣]
“তিনিই আদি, অন্ত, সবকিছুর উপরে এবং নিকটে(৫৭১)।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৩]
এরূপ আরও বহু আয়াত কুরআনে রয়েছে(৫৭২)।
সুতরাং মহান বরকতময় সত্তা যিনি আসমান ও যমীনের নূর, যেমনটি তিনি তাঁর নিজের ব্যাপারে জানিয়েছেন। আর তাঁর রয়েছে চেহারা, নফস বা সত্তা(৫৭৩) ইত্যাদি। তিনি শোনেন, দেখেন, কথা বলেন। তিনি প্রথম, তাঁর পূর্বে কিছুই নেই। তিনি স্থায়ী, সর্বশেষ, তাঁর পরে কিছুই নেই। তিনি উপরে, সবকিছুর উপরে, তিনি নিকটে, সৃষ্টির ব্যাপারে তার ইলম খুবই সুক্ষ্ম। “তিনি সবকিছু সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞানী।” [সূরা আল- বাকারাহ: ২৯], তিনি কাইয়্যুম বা চিরস্থায়ী, হাইয়্যুন বা চিরঞ্জীব, তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না।
অতঃপর তিনি সিফাত সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস উল্লেখ করে বলেন(৫৭৪): এগুলো আমাদের প্রভুর সিফাত যা তিনি স্বীয় কিতাবে এবং তার নবী হাদীসে বর্ণনা করেছেন। যেগুলোর মধ্যে নেই কোনো সীমানা নির্ধারণ, সাদৃশ্যকরণ ও পরিমাণ বর্ণনা। “তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শূরা: ১১] কোনো চোখই তাঁকে দেখেনি যে তিনি কেমন তা সীমিত করবে। (৫৭৫) কিন্তু অন্তরসমূহ তাঁকে ঈমানের হাকীকতে দেখেছে(৫৭৬) ।(৫৭৭)

টিকাঃ
৫৫৪. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/১০১)।
৫৫৫. এটি আল্লাহর সত্তাগত গুণ 'চেহারা' এর ওপর প্রমাণ। যদিও চেহারার সাথে সত্তাও অন্তর্ভুক্ত। কারণ যে সত্তার চেহারা নেই সে সত্তাকে চেহারার দিকে সম্পৃক্ত করা যায় না। [খালেদ আল-মুসলিহ, শারহুল হামাওয়িয়‍্যাহ] আয়াতের আরেকটি বিশুদ্ধ অর্থ হচ্ছে, সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে তবে কেবল তাই অবশিষ্ট থাকবে যা আল্লাহর চেহারা দর্শন লাভের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [খালেদ আল-মুসলিহ, শারহুল হামাওয়িয়‍্যাহ]
৫৫৬. এর দ্বারা বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলাকে 'শাই' বস্তু বা বিষয় বলা যাবে। তবে সেটা গুণ হিসেবে নয়, ইখবার বা সংবাদ হিসেবে। আয়াতে শেষে সাক্ষ্য হওয়া আল্লাহর একটি গুণ।
৫৫৭. আয়াত থেকে আল্লাহর 'শহীদ' নামটি সাব্যস্ত হচ্ছে।
৫৫৮. এখানে নফস বলে আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। তাই বিশুদ্ধ মতে এ আয়াতটি সিফাতের আয়াত নয়।
৫৫৯. এখান থেকে আল্লাহর আরেকটি কর্মগত গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে, তা হচ্ছে 'তাসওয়িয়াহ' আর তা হাত দিয়ে করেছেন, তাই সত্তাগত আরেকটি গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে তা হচ্ছে হাত।
৫৬০. এ আয়াতে আসা রূহ কী আল্লাহর সিফাত? বস্তুত 'রূহ' আল্লাহর সিফাত হিসেবে এখানে যেমন আসেনি তেমনি কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোথাও আসেনি। কুরআনে কারীমের কয়েক জায়গায় 'রূহ' হিসেবে জিবরীলকে ও 'ঈসাকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। আর উভয়েই সৃষ্ট আলাদা সত্তা। নিয়ম হচ্ছে, কোনো স্বতন্ত্র সত্তা যদি আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন সেটা আল্লাহর গুণ হয় না। সেটা হয় আল্লাহর সৃষ্টি। কারণ, আল্লাহর দিকে কোনো কিছু সম্পৃক্ত হওয়া তিন ভাবে হতে পারে: ১- সত্তার দিকে অপর সত্তার সম্পর্ক। ২- আল্লাহর সত্তার দিকে গুণের সম্পর্ক। কোনো সত্তার সাথে যদি এমন কিছুকে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয় যার আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, তাহলে সেটা হয় মাওসূফের সাথে সিফাতের সম্পর্ক, সত্তার সাথে গুণের সম্পর্ক। যেমন, 'কুদরাতুল্লাহ' (আল্লাহর কুদরত) 'রহমাতুল্লাহ' (আল্লাহর রহমত) 'ইয়াদুল্লাহ' (আল্লাহর হাত) কারণ এগুলো আলাদা সত্তা হিসেবে পাওয়া যায় না। আর যখনই সৃষ্ট আলাদা সত্তার কোনো কিছু আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন সেটা হয়, মালিকের দিকে মালিকানার সম্পৃক্ততা। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্ক দেখানো। সে সম্পৃক্ততা সাধারণত সম্মানিত করার জন্য হয়ে থাকে। যেমন, বাইতুল্লাহ, (আল্লাহর ঘর), নাকাতুল্লাহ (আল্লাহর উষ্ট্রী)। আর জানা কথা যে, ঘর ও উষ্ট্রী উভয়টিই সৃষ্ট আলাদা জিনিস। তাই আল্লাহর সাথে সেটার সম্পৃক্ততা মালিকের সাথে মালিকানার, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির। সে হিসেবে কুরআনে কারীমের যেখানে যেখানে 'রূহ' শব্দটি এসেছে, যেমন, [সূরা আন-নিসা: ১৭১; সূরা আল-হিজর: ২৯; স্বদ ৭২; সূরা মারইয়াম, ১৭; সূরা আস-সাজদাহ: ০৯] অনুরূপ হাদীসেও 'ঈসা আলাইহিস সালাম ও জিবরীলের ব্যাপারে আল্লাহর 'রূহ' ব্যবহৃত হয়েছে, এসব স্থানে রূহ অবশ্যই সৃষ্ট জিনিস। তাই সৃষ্ট জিনিসের সাথে আল্লাহর সম্পৃক্ত হওয়া হচ্ছে মালিকের সাথে মালিকানার সম্পৃক্ততা, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পৃক্ততা, তা স্রষ্টার সাথে গুণের সম্পৃক্ততা নয়। তাই উপরে বর্ণিত আয়াত ও হাদীসে আসা 'রূহ' আল্লাহর গুণ নয়, বরং সৃষ্টি। এর বাইরে রূহ শব্দটি কোথাও আল্লাহর জন্য কুরআনে কারীম ও হাদীসে গুণ হিসেবে আসেনি। [বিস্তারিত জানার জন্য দেখা যেতে পারে, মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯০); ইবনুল কাইয়্যেম, কিতাবুর রূহ, পৃ. ৫০০] ৩- আল্লাহর সাথে কোনো কর্মের সম্পর্ক। এটা দু'ভাবে বিভক্ত, এক. যদি সে কর্মটি একান্তভাবে স্রষ্টার সাথেই সম্পৃক্ত থেকে যায়, তার মাধ্যমে অন্য কোনো সত্তার অস্তিত্ব না আসে, তবে সেটাকে বলা হবে কর্মবাচক গুণ। যেমন, 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, হাশরের মাঠে আগমন, কারো ওপর সন্তুষ্ট হওয়া, কারো ক্রোধান্বিত হওয়া ইত্যাদি। দুই, আর যদি সে কর্মের মাধ্যমে ওপর একটি ভিন্ন সত্তার সূত্রপাত হয় তবে সেটাকে আল্লাহর কর্ম বলা হবে। যেমন, আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ পানি বর্ষণ করেছেন।
৫৬১. বুঝা গেল রূহ ফুঁকে দেয়া আল্লাহর একটি কাজ, যা তিনি করেছেন।
৫৬২. এখানে আল্লাহর সত্তাগত একটি গুণ সাব্যস্ত করা হচ্ছে, আর তা হচ্ছে আল্লাহর চোখ।
৫৬৩. এ আয়াত থেকেও আল্লাহর সত্তাগত গুণ 'চোখ' সাব্যস্ত হচ্ছে।
৫৬৪. এ আয়াতে আল্লাহর একটি গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা হচ্ছে: আল্লাহর হাত।
৫৬৫. গ্রন্থকার শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ অন্যত্র 'হাত প্রসারিত করা'র অর্থ করেছেন 'বেশি দান করা ও প্রশস্তভাবে খরচ করা'। তিনি আরও বলেন, দু'হাত তাওরাত ও অন্যান্য নবুওয়াতেও সাব্যস্ত করা হয়েছে; যেমনিভাবে তা কুরআনে এসেছে। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, আল-জাওয়াবুস সহীহ (৪/৪১২); মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৬৩)।
৫৬৬. এ আয়াতে আল্লাহর একটি সত্তাগত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা হচ্ছে হাতের কজা বা মুষ্ঠি।
৫৬৭. এ আয়াতে আল্লাহর তিনটি কর্মগত গুণ সাব্যস্ত হচ্ছে, তা হলো, আল্লাহ কর্তৃক আরশের উপর থেকেও বান্দার সাথে থাকা, তাঁর শোনা ও দেখা। অর্থাৎ শোনা ও দেখার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা সকল বান্দার সাথে আছেন। আর তাঁর বিশেষ বান্দাদের সাথে আরও একটু অতিরিক্ত হিসাবে সাথে আছে আছেন তা হচ্ছে, সাহায্য-সহযোগিতা করা।
৫৬৮. এ আয়াতে আল্লাহর একটি গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। তা হচ্ছে কথা বলা। আল্লাহর এ গুণটি সত্তাগত ও কর্মগত উভয় প্রকারের।
৫৬৯. এ আয়াত থেকে সাব্যস্ত হচ্ছে যে আল্লাহর জন্য 'নূর' নামটি সাব্যস্ত হবে। যেমনটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে (২/৪২০) এবং ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ৪৪।
৫৭০. এ আয়াতে অনেকগুলো নাম ও গুণ রয়েছে। যেমন: ইলাহিয়াহ গুণ, হায়াত গুণ, কাইয়্যুমিয়‍্যাহ গুণ। এ গুণগুলো সত্তাগত।
৫৭১. এখানে চারটি নাম ও কমপক্ষে চারটি সত্তাগত গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। বস্তুত এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ কর্তৃক বান্দাহকে সর্বদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখা প্রমাণিত হচ্ছে। স্থান হোক কিংবা কাল হোক সবদিক থেকে বান্দা সবসময় ও সবজায়গায় আল্লাহর পরিবেষ্টনীর ভেতর রয়েছে। এ যেন অপর আয়াতের তাফসীর যেখানে আল্লাহ বলেছেন, 'ওয়াল্লাহু বিকুল্লি শাইয়িন মুহীত্ব' বা "আর আল্লাহ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।" [সূরা ফুসসিলাত: ৫৪] এ পরিবেষ্টন, জ্ঞান, ক্ষমতা, তত্ত্বাবধান ও পরিচর্যার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
৫৭২. অর্থাৎ যেখানে আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন বহু আয়াত রয়েছে কুরআনে কারীমে।
৫৭৩. এখানে 'নাফস' বলে আল্লাহর সত্তাকে বুঝানো হয়েছে। এটিই অধিকাংশ আলেমের মত। যেমনটি বেশ কিছু নস তথা কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যে এসেছে। যেমন, আল্লাহর বাণী, "মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাদের নিকট থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তার ব্যাপারে তোমাদেরকে সাবধান করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন।” [সূরা আলে ইমরান: ২৮], অনুরূপ "আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান আনে, তারা যখন আপনার কাছে আসে তখন তাদেরকে আপনি বলুন, 'তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক', তোমাদের রব তাঁর নিজ সত্তার ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত যদি খারাপ কাজ করে, তারপর তাওবা করে এবং সংশোধন করে, তবে নিশ্চয় তিনি (আল্লাহ) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-আন'আম: ৫৪] আর হাদীসে কুদসীতে এসেছে, "... অতঃপর যদি আমাকে তার নিজ সত্তায় স্মরন করে আমিও তাকে নিজ সত্তায় স্মরণ করি" ইত্যাদি ভাষ্যসমূহে।
ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী বলেন, "আর আল্লাহর নফস বলে স্বয়ং আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। সত্তাতে সকল সিফাত একত্রিত হয়, যদি সত্তা অস্তিত্বহীন হয়ে যায় তখন সবকিছু অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। [আর-রাদ্দু 'আলাল বিশর আল-মিররীসী (২/৮৪৭-৮৪৮)]
ইবন তাইমিয়্যাহ অন্যত্র বলেন, 'আর তাঁর নফস বলতে তাঁর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। [মাজমু' ফাতাওয়া (১৪/১৯৬)]
অন্যত্র তিনি বলেন, "অধিকাংশ আলেমের নিকট নফস বলে স্বয়ং আল্লাহকেই বুঝানো হয়েছে যা তাঁর সেই সত্তা যা সকল গুণে গুণান্বিত। এখানে নফস বলে এমন কোনো সত্তা বুঝানো হয়নি যা গুণ থেকে মুক্ত; আবার নফস দ্বারা সত্তার কোনো গুণকেও বুঝানো হয়নি। কোনো কোনো মানুষ নফসকে সিফাত বা গুণ গণ্য করে থাকে, আবার আরেক গোষ্ঠী এটাকে গুণমুক্ত একটি সত্তা মনে করে থাকে। উভয় মতই ভুল।” [মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯২); আরও দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৭/৪২৬)]
যারা যাত বা সত্তা বলে একটি সিফাত সাব্যস্ত করে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, কাযী আবু ইয়া'লা, যেমনটি এসেছে তাঁর ইবত্বালুত তা'ওয়িলাত গ্রন্থে (২/৪৪২-৪৪৭)। সেটার ওপর তিনি 'নাফস' আসা আয়াতগুলো দিয়েই দলীল দিয়েছেন; অনুরূপ তিনি ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের একটি মত থেকেও সেটার দলীল নিয়েছেন যা ইমাম আহমাদ তার 'আর-রাদ্দু আলায যানাদিক্বাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
তারপর তিনি বলেন, 'অতঃপর যদি কেউ বলে, এখানে 'নাফস' দ্বারা সিফাত সাব্যস্ত করা হচ্ছে না, এর দ্বারা তো কেবল 'যাত' বা সত্তাকের বুঝানো হচ্ছে, যেমন আরবরা বলে থাকেন, 'হাযা নাফসুল আমর', (এটা তো সে কাজটিই) তারা এর দ্বারা সে কাজটিই বুঝায়, এটা বুঝায় না যে কাজের 'নাফস' আছে।... বলা হবে যে এটা ভুল; কারণ [১] যদি 'নাফস' বলে যাত বা সত্তা বুঝানো জায়েয হয় তাহলে হায়াত (জীবন) ও বাক্কা (স্থায়ী) বলেও সত্তা বুঝানো সম্ভব। তাই তখন বলা যাবে যে, যাতু হাইয়াহ, যাতু বাকীয়‍্যাহ। আর আমরা আর সকল সিফাত সাব্যস্তকারীরা এভাবে একমত যে, আল্লাহ তা'আলা জীবন দ্বারা জীবিত, অবশিষ্ট থাকা দ্বারা স্থায়ী। তাই সে হিসাবে বলা জায়েয হবে যে, তিনি নফসসহ সত্তা। [২] তাছাড়া আরও একটি কারণ হচ্ছে, তখন আল্লাহর ব্যাপারে বলা জায়েয হবে যে, আল্লাহ হচ্ছেন নাফস। [৩] তখন এভাবে আহ্বান করে বলাও জায়েয হতে হয়, 'হে নফস, আমাদের ক্ষমা করুন।' অথচ উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে এটা বলা যাবে না।' এ হচ্ছে 'নাফস'কে গুণ বলার ব্যাপারে কাযী আবু ইয়া'লার ব্যাখ্যা। অথচ তা শুদ্ধ নয়। আয়াতসমূহে 'নাফস' শব্দটি তাকীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর- [১] হায়াত ও বাক্কা শব্দদ্বয় তাকীদের জন্য ব্যবহৃত হয় না। [২] এটা তো তা'কীদ হিসেবে এসেছে। যাতে মুআক্কাদ অবশিষ্টই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। [৩] তা'কীদকে ডাকা হয় না, মুআক্কাদকেই ডাকা হয়।
৫৭৪. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ, পৃ. ১৬৬।
৫৭৫. সাধারণত কেউ কোনো কিছু দেখতে পেলে বলতে পারে যে, সেটা কেমন। দুনিয়ার বুকে জাগ্রত অবস্থায় কেউ আল্লাহকে দেখতে পায়নি; সুতরাং কীভাবে সে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে তাঁকে পরিবেষ্টন করবে? অনুরূপ কথা ইবন কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ তার লুম'আতুল ই'তিক্বাদেও বলেছেন, 'তাকে কোনো বিবেক চিন্তা করে উদাহরণ পেশ করতে পারে না, অনুরূপ কোনো কলব তাঁকে ছবির মত ধারণা করতে পারে না, "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা [সূরা আশ-শূরা: ১১]। সুতরাং এখানেও তিনি কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা আল্লাহর গুণাবলিকে কোনো প্রকার উদাহরণ কিংবা ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই সাব্যস্ত করেছেন।
৫৭৬. এখানে যা বলা হয়েছে তা সেটাই প্রমাণ করছে যে কথাটি শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ অন্য জায়গায় বলেছেন, তিনি বলেন, 'যে কেউ দাবি করবে যে, সে তার রব্বকে মৃত্যুর পূর্বে তার দু চোখে দেখেছে, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের নিকট তার দাবি অবশ্যই বাতিল।... তবে যারা আল্লাহর প্রকৃত ঈমানদার বান্দা তারা আল্লাহর পরিচয়, কলবের দৃঢ়তা ও সেটার দর্শন ও আলোর মাধ্যমে যা লাভ করে তার রয়েছে অনেক স্তর। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলকে বলেছেন, ইহসান হচ্ছে, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তা করতে না পার, তবে এমনভাবে করবে যেন তিনি তোমাকে দেখছেন। [আল-ওয়াসিয়্যাতুল কুবরা, পৃ. ২৭; তাহক্বীক্ব: আল-হামূদ] বস্তুত সেটা তখনই হবে যখন কেউ আল্লাহর কিতাবে আসা আল্লাহর যাবতীয় নাম ও গুণাবলি, অনুরূপ আল্লাহর রাসূলের হাদীসে আসা আল্লাহর যাবতীয় নাম ও গুণাবলির প্রতি অকাট্য ঈমান রাখবে, এমন দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যাতে কোনো সংশয় ও সন্দেহ প্রবেশ করার সুযোগ থাকবে না। যখন এগুলোর ধরণ নির্ধারণ ও উদাহরণ পেশ নিয়ে অযথা কৃত্তিমতা অবলম্বন করবে না। তখনই সে তার অন্তরে রাব্বুল আলামীনের নাম ও গুণকে দেখবে এমনভাবে যা চোখের দেখার চেয়েও বড় আকারে ধরা দিবে, বিশেষ করে যখন ঈমানী চেতনার সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকবে। বর্ণিত আছে যে, উরওয়া ইবনুষ যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছে তার কন্যার বিয়ের ব্যাপারে প্রস্তাব পেশ করেন, তখন ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা তাওয়াফরত অবস্থায় ছিলেন। ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা বললেন, তুমি কি এখন মহিলাদের ব্যাপারে আলোচনা করছ? অথচ আমরা এখন তাওয়াফে আল্লাহর দর্শনে ব্যস্ত আছি? এ প্রকাশ একজন মানুষের আল্লাহর ওপর ঈমান ও তার পরিচয় লাভ ও ভালোবাসা অনুযায়ী হয়ে থাকে; আর তাই তা মানুষের অবস্থা হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার হতে পারে। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ১২৩-১৩৪।
৫৭৭. এখানে এসে ইবন আবী যামানীন থেকে উদ্ধৃত অংশ শেষ হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এখানে ইমাম আবি যামানীন এর উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থ থেকে আল্লাহর 'আরশ, কুরসী, অবতরণ ও 'আরশের উপর থাকা এতসংক্রান্ত বড় একটি অংশ নিয়ে এসেছেন। তবে কোথাও কোথাও তিনি কথা সংক্ষেপ করেছেন।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইবন খফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য ‘নাফস’ সাব্যস্তকরণ

📄 ইবন খফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য ‘নাফস’ সাব্যস্তকরণ


[ইবন খাফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্তকরণ] তারপর বলেন, তিনি (আল্লাহ) নিজের জন্য 'নাফস'(৭১১) সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার পর বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি মুসা 'আলাইহিস সালামকে বলেছেন: وَأَصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي) [طه: ٤١ "আর আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।” [সূরা ত্বা-হা: ৪১] এবং وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ) [آل عمران: ٣٠] “আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩০] আর এটা বিশুদ্ধ হওয়ার কারণে ও সেটা সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণেই মাসীহ 'ঈসা 'আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ) [المائدة: ١١٦] : ناجاه করে বলেছিলেন "আমার মনের কথা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার নিজের কাছে যা আছে তা আমি জানি না।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمة﴾ [الأنعام: ٥٤ “তোমাদের রব তাঁর নিজের ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন।” [সূরা আল- আন'আম: ৫৪]
আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে এটিকে আরও জোরালো করেছেন। তিনি বলেন, يقول الله عز وجل: من ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي« "আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমাকে যে তার মনে স্মরণ করবে, আমিও তাকে আমার নিজের সত্তায় স্মরণ করব।"(৭১২)
অন্যত্র তিনি বলেন, كتب كتابًا بیده على نفسه: إن رحمتي سبقت غضبي "তিনি স্বীয় হাতে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যাতে নিজের ওপর অবধারিত করেছেন যে, নিশ্চয় আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।” (৭১৩)
তিনি আরও বলেন, سبحان الله رضی نفسه « “আল্লাহর পবিত্রতা তার নিজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী।" (৭১৪)
আদম-মূসার বিতর্কে তিনি বলেন, أنت الذي اصطفاك الله واصطنعك لنفسه؟ "তুমি সেই মূসা যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য প্রস্তুত করেছেন।” (৭১৫)
এভাবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রকাশ্য বাণীর মাধ্যমে তাঁর নিজের জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করেছেন, তেমনি তাঁর জন্য তাঁর নবীও তা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে, তাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে সেটা বিশ্বাস করা যা আল্লাহ তাঁর নিজের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন। আর সেটা সাব্যস্ত করার ভিত্তি হবে মহান আল্লাহর বাণী لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই” [সূরা আশ-শূরা: ১১] এর প্রকাশ্য বক্তব্য।

টিকাঃ
৭১১. এ মাসআলার আলোচনা আগেই গত হয়েছে যে, 'নাফস' বলে আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। আর এটাই দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ আলেম এ মতই পোষণ করেছেন।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ এ আয়াত ও হাদীসগুলো দ্বারা আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন এমনভাবে যে এ 'নাফস' সৃষ্টিকুলের নাফস থেকে ভিন্ন; কারণ তাঁর মতো কোনো কিছু নেই।
বস্তুত সালাফে সালেহীন এসব আয়াত ও হাদীসে আসা 'নাফস' নিয়ে মতভেদ করেছেন, এগুলো কি আল্লাহর সত্তার গুণ নাকি এর দ্বারা সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। ইবন খাফীফ অনুরূপ ইবন খুযাইমার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা এগুলোকে সত্তার গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চাচ্ছেন। ইবন খুযাইমা বলেন, 'আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে সাব্যস্ত করছেন যে, তাঁর 'নাফস' রয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর নবীর যবানীতেও সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর নাফস রয়েছে, যেমনটি তাঁর কিতাবে সাব্যস্ত করেছেন। আর জাহমিয়‍্যাহ সম্প্রদায় এসব আয়াত ও হাদীস অস্বীকার করে থাকে।... [আত-তাওহীদ (১/১৯)]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়‍্যাহ'র মত হচ্ছে 'নাফস' বলে সত্তাই বুঝানো হয়েছে। সত্তার চেয়ে বাড়তি কোনো গুণ তা নয়। তিনি বলেন, 'আর 'নাফস' বলে উদ্দেশ্য নেয়া হয়, সত্তা ও একই বস্তু, যেমন বলা হয়, رأيت زيداً نفسه অর্থাৎ আমি যায়েদকেই দেখেছি। আর আল্লাহ বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন, "আপনি জানেন যা আমার মনে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নিজের কাছে আছে।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] ... তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বেশ কিছু ভাষ্য নিয়ে এসেছেন যাতে 'নাফস' শব্দটি এসেছে। এরপর বলেন, এসব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের মতে, আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে যা তার গুণে গুণান্বিত। এর দ্বারা তাঁর সত্তার বাইরে কোনো আলাদা সত্তাকে বুঝানো হয়নি, অনুরূপ আলাদা কোনো গুণকেও বুঝানো হয়নি। একদল লোক এ আয়াতগুলোকে গুণের অধ্যায় হিসেবে নিয়ে থাকে, আবার অপর দল এগুলোকে আলাদা একটি সত্তা মনে করে থাকে যাতে কোনো গুণ নেই। উভয় মতই ভুল।' মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯২-২৯৩)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ যা বুঝেছেন সেটা ইমাম দারেমীরও মত। দেখুন, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ১৯৬। আরও দেখুন, ইবন হাযম, আল-ফাসলু (২/১৭২)।
৭১২, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ (১৩/৩৮৪), নং ৭৪০৫; মুসলিম, আস-সহীহ (৪/২০৬১), হাদীস নং ২৬৭৫।
৭১৩. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭৫১; অনুরূপ বুখারী, আল-জামে 'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭০৪।
৭১৪. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭২৬।
৭১৫. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭৩৬; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৬৫২।

[ইবন খাফীফ কর্তৃক আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্তকরণ] তারপর বলেন, তিনি (আল্লাহ) নিজের জন্য 'নাফস'(৭১১) সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার পর বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি মুসা 'আলাইহিস সালামকে বলেছেন: وَأَصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي) [طه: ٤١ "আর আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।” [সূরা ত্বা-হা: ৪১] এবং وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ) [آل عمران: ٣٠] “আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন।” [সূরা আলে ইমরান: ৩০] আর এটা বিশুদ্ধ হওয়ার কারণে ও সেটা সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণেই মাসীহ 'ঈসা 'আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ) [المائدة: ١١٦] : ناجاه করে বলেছিলেন "আমার মনের কথা আপনি জানেন, কিন্তু আপনার নিজের কাছে যা আছে তা আমি জানি না।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمة﴾ [الأنعام: ٥٤ “তোমাদের রব তাঁর নিজের ওপর দয়া লিখে নিয়েছেন।” [সূরা আল- আন'আম: ৫৪]
আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে এটিকে আরও জোরালো করেছেন। তিনি বলেন, يقول الله عز وجل: من ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي« "আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমাকে যে তার মনে স্মরণ করবে, আমিও তাকে আমার নিজের সত্তায় স্মরণ করব।"(৭১২)
অন্যত্র তিনি বলেন, كتب كتابًا بیده على نفسه: إن رحمتي سبقت غضبي "তিনি স্বীয় হাতে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যাতে নিজের ওপর অবধারিত করেছেন যে, নিশ্চয় আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।” (৭১৩)
তিনি আরও বলেন, سبحان الله رضی نفسه « “আল্লাহর পবিত্রতা তার নিজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী।" (৭১৪)
আদম-মূসার বিতর্কে তিনি বলেন, أنت الذي اصطفاك الله واصطنعك لنفسه؟ "তুমি সেই মূসা যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং নিজের জন্য প্রস্তুত করেছেন।” (৭১৫)
এভাবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রকাশ্য বাণীর মাধ্যমে তাঁর নিজের জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করেছেন, তেমনি তাঁর জন্য তাঁর নবীও তা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে, তাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে সেটা বিশ্বাস করা যা আল্লাহ তাঁর নিজের ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন। আর সেটা সাব্যস্ত করার ভিত্তি হবে মহান আল্লাহর বাণী لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই” [সূরা আশ-শূরা: ১১] এর প্রকাশ্য বক্তব্য।

টিকাঃ
৭১১. এ মাসআলার আলোচনা আগেই গত হয়েছে যে, 'নাফস' বলে আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। আর এটাই দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা বিশুদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ আলেম এ মতই পোষণ করেছেন।
কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ এ আয়াত ও হাদীসগুলো দ্বারা আল্লাহর জন্য 'নাফস' সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন এমনভাবে যে এ 'নাফস' সৃষ্টিকুলের নাফস থেকে ভিন্ন; কারণ তাঁর মতো কোনো কিছু নেই।
বস্তুত সালাফে সালেহীন এসব আয়াত ও হাদীসে আসা 'নাফস' নিয়ে মতভেদ করেছেন, এগুলো কি আল্লাহর সত্তার গুণ নাকি এর দ্বারা সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে। ইবন খাফীফ অনুরূপ ইবন খুযাইমার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা এগুলোকে সত্তার গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চাচ্ছেন। ইবন খুযাইমা বলেন, 'আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে সাব্যস্ত করছেন যে, তাঁর 'নাফস' রয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর নবীর যবানীতেও সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর নাফস রয়েছে, যেমনটি তাঁর কিতাবে সাব্যস্ত করেছেন। আর জাহমিয়‍্যাহ সম্প্রদায় এসব আয়াত ও হাদীস অস্বীকার করে থাকে।... [আত-তাওহীদ (১/১৯)]
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়‍্যাহ'র মত হচ্ছে 'নাফস' বলে সত্তাই বুঝানো হয়েছে। সত্তার চেয়ে বাড়তি কোনো গুণ তা নয়। তিনি বলেন, 'আর 'নাফস' বলে উদ্দেশ্য নেয়া হয়, সত্তা ও একই বস্তু, যেমন বলা হয়, رأيت زيداً نفسه অর্থাৎ আমি যায়েদকেই দেখেছি। আর আল্লাহ বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন, "আপনি জানেন যা আমার মনে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার নিজের কাছে আছে।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ১১৬] ... তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বেশ কিছু ভাষ্য নিয়ে এসেছেন যাতে 'নাফস' শব্দটি এসেছে। এরপর বলেন, এসব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের মতে, আল্লাহর সত্তাকেই বুঝানো হয়েছে যা তার গুণে গুণান্বিত। এর দ্বারা তাঁর সত্তার বাইরে কোনো আলাদা সত্তাকে বুঝানো হয়নি, অনুরূপ আলাদা কোনো গুণকেও বুঝানো হয়নি। একদল লোক এ আয়াতগুলোকে গুণের অধ্যায় হিসেবে নিয়ে থাকে, আবার অপর দল এগুলোকে আলাদা একটি সত্তা মনে করে থাকে যাতে কোনো গুণ নেই। উভয় মতই ভুল।' মাজমূ' ফাতাওয়া (৯/২৯২-২৯৩)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ যা বুঝেছেন সেটা ইমাম দারেমীরও মত। দেখুন, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ১৯৬। আরও দেখুন, ইবন হাযম, আল-ফাসলু (২/১৭২)।
৭১২, হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ (১৩/৩৮৪), নং ৭৪০৫; মুসলিম, আস-সহীহ (৪/২০৬১), হাদীস নং ২৬৭৫।
৭১৩. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭৫১; অনুরূপ বুখারী, আল-জামে 'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭০৪।
৭১৪. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৭২৬।
৭১৫. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৪৭৩৬; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ২৬৫২।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইবন খফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর ‘নূর’ সাব্যস্ত করা

📄 ইবন খফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর ‘নূর’ সাব্যস্ত করা


[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর 'নূর' সাব্যস্ত করা]
অনুরূপ আল্লাহ তাঁর কুরআনে আমাদের জন্য যে জানিয়েছেন, আর যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, অনুরূপ সুন্নাতুর রাসূলেও যা বিশুদ্ধ আকারে এসেছে, তন্মধ্যে রয়েছে, তিনি বলেছেন اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [النور: ٣٥ "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর।"(৭১৬) [সূরা আন-নূর: ৩৫] তারপর তিনি এর পরপরই বলেছেন, نُورٌ عَلَى نُورٍ) [النور: ٣٥]
তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দো'আয় বলতেন: أنت نور السماوات والأرض "আপনি আসমান এবং যমীনের নূর।”(৭১৭)
তারপর আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ উল্লেখ করেছেন আবু মূসার হাদীস: حجابه النور - أو النار- لو كشفه لأحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصره من خلقه "তাঁর পর্দা হচ্ছে নূর বা আগুন, যদি তিনি সেটা খুলে দিতেন তাহলে তাঁর দৃষ্টির শেষ পর্যন্ত সকল মাখলুক তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতায় পুড়ে যেত।”(৭১৮) তিনি বলেন, سبحات وجهه হচ্ছে তার ঔজ্জ্বল্য, মহত্ব ও নূর। তিনি সেটা খলীল ও আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন। (৭১৯)
আরও বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: نور السماوات من نور وجهه অর্থ আসমানের যত আলো তা হচ্ছে তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে। (৭২০)

টিকাঃ
৭১৬, ইবন খাফীফ এটা সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর নামসমূহের অন্যতম হচ্ছে নূর। আর তা এমন নূর যা আল্লাহর মর্যাদা ও মহত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেটা অপর কোনো নূরের মতো নয়। কুরআনে কারীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ নূর, তাঁর রয়েছে নূর, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। সালাফদের মধ্যে যদি কারো থেকে এ বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তারা এ আয়াতের তাফসীরে এটা বলেছেন যে, 'আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের অধিবাসীদের হিদায়াতকারী' তাহলে এটা বুঝে নিতে হবে যে, এটি আয়াতের একটি তাফসীর, যেটাকে উপজীব্য করে আল্লাহ তা'আলার স্বয়ং 'নূর' হওয়াকে অস্বীকার করা যাবে না। কারণ আরবরা যখন কোনো কিছুর তাফসীর বা ব্যাখ্যা করে তখন তারা যেটার ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সেটার বিবিধ নাম বা কিছু প্রকার বর্ণনা করে থাকেন, যা দ্বারা উক্ত জিনিসের অপরাপর গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়াকে না করে না। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯০)।
কিন্তু পরবর্তীদের মধ্যে যারা আল্লাহর নূর সাব্যস্ত না করে সেটার তা'ওয়ীল করে বলে যে, এর অর্থ হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সৌন্দর্যমণ্ডিতকারী, তাদের এ ব্যাখ্যা কখনও বিশুদ্ধ হবে না; কারণ তারা আসল অর্থ 'নূর' সাব্যস্ত না করার জন্য দূরবর্তী অর্থ গ্রহণ করে।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, 'নূর' নামটি স্রষ্টার জন্যও সত্য আর সৃষ্টির জন্যও সত্য। স্বয়ং সে সত্তার জন্যও তা বলা যাবে যার সাথে তার অস্তিত্ব এসেছে, অনুরূপভাবে কোনো কিছুর গুণ হিসেবেও বলা যাবে, যার সাথে তার অস্তিত্ব রয়েছে, তদ্রূপ তারও গুণ হতে পারে যেটা সে অন্যের কাছ থেকে পেয়েছে, যেমন আলোকরশ্মির প্রতিবিম্ব। আর আল্লাহর বাণী, "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর, তাঁর নূরের উদাহরণ এমন যেন একটি (বদ্ধ দেয়ালের খোপে থাকা) তাক, যাতে চেরাগ রাখা আছে।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] এখানে তিন প্রকার নূরের কথাই আছে। প্রথমেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে তিনি নূর, আরও বলা হয়েছে যে তাঁর রয়েছে নূর, আরও বলা হয়েছে যে তিনি যেন তাকের উপরে থাকা চেরাগ। আর জানা কথা যে, তাকের উপরে থাকা চেরাগে এমন নূর রয়েছে যা তার নিজের উপর নির্ভর করে আছে, আর সেটার এমন নূরও রয়েছে যা তার থেকে উৎসারিত হয়ে যমীন ও দেয়ালে পড়েছে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (৮/৭৫-৭৬)।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট করে এটা সাব্যস্ত করছেন যে, বেশিরভাগ সৃষ্টির অভিমত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং নূর, এমনকি যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে সেসব জাহমিয়্যারাও তাকে নূর বলে স্বীকৃতি দিত। তবে এটা বলা যে, আল্লাহ তা'আলা তিনিই স্বয়ং সূর্যের, চাঁদের, আগুনের আলো, এমন কথা কোনো মুসলিম বলে না। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (৮/৬৬-৬৭)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অন্য কোনো সত্তার দিকে যখন 'নূর' সম্পৃক্ত করা হবে তখন সেটা আর আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হবে না। সুতরাং দুনিয়ার চেরাগের আলোকে কখনো আল্লাহর আলো বলা যাবে না। মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'নূর' আল্লাহর দিকে দু'ভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে: এক. সিফাতকে মাওসূফের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ গুণকে তার গুণান্বিত সত্তার দিকে সম্পৃক্ত করা, যেমন আল্লাহর বাণী, "আর যমীন আলোকিত হয়ে গেছে তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, "আর আমি আপনার চেহারার নূরের আশ্রয় নিচ্ছি, যে নূরের আলোতে সকল অন্ধকার উদ্ভাসিত হয়েছে।” [দ্বিয়া আল-মাকদেসী, আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (৯/১৮১); তাবারানী, আদ-দু'আ, হাদীস নং ১০৩৬; আল-মু'জামুল কাবীর (১৩/৭৩)] দুই. ফা'য়েলকে মাফ'উলের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ কর্মকে তার কর্তার দিকে সম্পৃক্ত করা। যেমন আল্লাহর বাণী, "তাঁর নূর যেন তাকের উপর থাকা একটি চেরাগ।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, 'মুমিনের অন্তরে আল্লাহর নূরের উদাহরণ' সেটা এ অর্থে যে, তিনিই সেটা প্রদান করেন, তিনিই সেটার বান্দার অন্তরে সঞ্চার করে দেন। দেখুন, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়‍্যাহ, পৃ. ৪৫ ও তার পরবর্তী পৃষ্ঠা।
সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, ১- আল্লাহ তা'আলার একটি নাম 'আন-নূর'। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭); শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৬০-২৬১] সুতরাং তিনি আল্লাহ নূর যে নূরের মাধ্যমে তিনি সবকিছুকে হিদায়াত দিয়েছেন।
২- আল্লাহ তাআলার একটি সত্তাগত গুণ হচ্ছে 'নূর'। [শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৫৯-২৬১] তাঁর গুণ হিসেবে তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে...।" [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর যমীন উদ্ভাসিত হলো তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ৩- আল্লাহ তা'আলার চেহারাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯; ইবন মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস নং ১৯৫] হাদীসে আরও এসেছে, "আপনার চেহারার নূরের উসীলার আশ্রয় নিচ্ছি”। আরও এসেছে, "আসমান ও যমীনের আলো তাঁর চেহারার আলো হতে।” [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৪- আল্লাহ তা'আলার পর্দাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৪- আল্লাহ তা'আলার নূর যে সৃষ্টির উপর পড়েছে সেই ঈমানদার হবে, আর যার উপর পড়েনি, সে ঈমানদার হয়নি। [তিরমিযী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ২৬৪২]
৫- আসমান ও যমীনের যত নূর সবই তাঁর থেকে প্রাপ্ত। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নূরে বলেছেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে চেরাগদানী, যাতে রয়েছে চেরাগ।" [সূরা আন-নূর: ৩৫; আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৮৬)] এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি তাঁর গুণ? শাইখ আব্দুল্লাহ গুনাইমান বলেন, এটা তাঁর সিফাত বা গুণ নয়। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)] আর যদি 'আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর' বলে সেটাকে সিফাতী নূর ধরা হয় তবে সে নূরের ধরণ আমরা জানি না। এটাই শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যার বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আরও দেখুন, https://www.alukah.net/ web/refai/0/123379/ কিন্তু সর্বাবস্থায় কোনোক্রমেই এ নূর বলতে সূর্য কিংবা চন্দ্র অথবা কোনো বিদ্যুত বা তারকা বা চেরাগের আলো বুঝানো হয়নি। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৬- হাশরের মাঠের যমীন যে নূরে আলোকিত হবে তাও আল্লাহ তা'আলার নূর। [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে সৃষ্ট নূর অর্থ করা যাবে না। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)]
৭- জান্নাতও আলোকিত হবে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের নুরের দ্বারা, আর 'আরশের নূর তো আল্লাহর চেহারার নূর থেকে প্রাপ্ত। [ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তা বর্ণনা করেছেন। দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ৪৪৯; ইবন মান্দাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়‍্যাহ, পৃ. ৯৯; ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, হাদীসটি ত্বাবারানী তার মু'জামে বর্ণনা করেছেন ও তার আস-সুন্নাহতে বর্ণনা করেছনে। ইজতিমা'উল জুযূশ, পৃ. ৬। আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৪/৩১২); শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেত্বিয়্যাহ (৭/৫)। আর যারা 'আল্লাহু নূরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এ আয়াতটিকে 'আল্লাহু নাওয়ারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এমন করে পড়ে আয়াতের অর্থ করেছে যে, الله نور السموات والأرض "আল্লাহ আসমান ও যমীনকে আলোকিত করেছেন।" এটা অগ্রহণযোগ্য। ইমাম ইবন বুযাইমাহ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এট গ্রহণযোগ্য কোনো কিরাআত নয় বলে ঘোষণা করেছেন। দেখুন, ইবন খুযাইমাহ, কিতাবুত তাওহীদ (১/৭৮-৭৯)।
আর যারা আল্লাহ তা'আলার সিফাত বা গুণ হিসেবে 'নূর' সাব্যস্ত করেননি, [যেমন, ফখরুদ্দীন রাযী, শারহু আসমায়িল্লাহিল হুসনা, পৃ. ৩৪৭-৩৪৮ ও অন্যান্য গ্রন্থ; অনুরূপ গাযালী, তার আল-মাকসাদুল আসনা, পৃ. ১৪৬ ও মিশকাতুল আনওয়ার] তারা সেটার অপব্যাখ্যা করে বলেছেন এর অর্থ, আল্লাহ আসমান ও যমীনের হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সংশোধনকারী। এ জাতীয় অপব্যাখ্যাকারীদের যাবতীয় সন্দেহের জবাব শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ কিতাবে প্রদান করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আর ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ চৌদ্দটি উপায়ে এসব অপব্যাখ্যা খণ্ডন করে সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহর রয়েছে নূর গুণ।
দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৮৮-২০৫); মার'ঈ ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলী, আক্বাওয়ীলুস সিকাত ফী তা'ওয়ীলিল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ১৯৪-১৯৬; আরও দেখুন, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী, পৃ. ১৬৯-১৭৭।
৭১৭. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৭৩৮৫; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৬৯।
৭১৮. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৭১৯. দেখা যেতে পারে, খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী, আল-আইন (৩/১৫২); আবু উবাইদ, গারীবুল হাদীস (৩/১৭৩)।
৭২০. এটি আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়‍্যাহ, পৃ. ৯৯; তার শব্দ হচ্ছে,
إن ربكم ليس عنده ليل ولا نهار، ونور السماوات نور من نور وجهه "তোমাদের রব্ব, তাঁর কাছে তো কোনো রাত বা দিন নেই। আর আসমানসমূহ ও যমীনের যত আলো সবই তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে একটি আলো"। আছারটি ইমাম বাইহাক্বীও বর্ণনা করেছেন, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭); তারপর বলেছেন, এটি মাওকূফ, আর এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ নন। অনুরূপভাবে আসারটি ইমাম ইবন কাসীরও নিয়ে এসেছেন, তাফসীর ইবন কাসীর (৬/৬১); সেখানে এসেছে, نور العرش من نور وجهه "আরশের নূর তাঁর চেহারার নূরের উজ্জ্বল্য থেকে"। অনুরূপ আরো বর্ণনা করেন ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৯৩)।

[ইবন খাফীফ কর্তৃক মহান আল্লাহর 'নূর' সাব্যস্ত করা]
অনুরূপ আল্লাহ তাঁর কুরআনে আমাদের জন্য যে জানিয়েছেন, আর যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, অনুরূপ সুন্নাতুর রাসূলেও যা বিশুদ্ধ আকারে এসেছে, তন্মধ্যে রয়েছে, তিনি বলেছেন اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ [النور: ٣٥ "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর।"(৭১৬) [সূরা আন-নূর: ৩৫] তারপর তিনি এর পরপরই বলেছেন, نُورٌ عَلَى نُورٍ) [النور: ٣٥]
তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দো'আয় বলতেন: أنت نور السماوات والأرض "আপনি আসমান এবং যমীনের নূর।”(৭১৭)
তারপর আবু আব্দুল্লাহ ইবন খাফীফ উল্লেখ করেছেন আবু মূসার হাদীস: حجابه النور - أو النار- لو كشفه لأحرقت سبحات وجهه ما انتهى إليه بصره من خلقه "তাঁর পর্দা হচ্ছে নূর বা আগুন, যদি তিনি সেটা খুলে দিতেন তাহলে তাঁর দৃষ্টির শেষ পর্যন্ত সকল মাখলুক তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতায় পুড়ে যেত।”(৭১৮) তিনি বলেন, سبحات وجهه হচ্ছে তার ঔজ্জ্বল্য, মহত্ব ও নূর। তিনি সেটা খলীল ও আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেন। (৭১৯)
আরও বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: نور السماوات من نور وجهه অর্থ আসমানের যত আলো তা হচ্ছে তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে। (৭২০)

টিকাঃ
৭১৬, ইবন খাফীফ এটা সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর নামসমূহের অন্যতম হচ্ছে নূর। আর তা এমন নূর যা আল্লাহর মর্যাদা ও মহত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেটা অপর কোনো নূরের মতো নয়। কুরআনে কারীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ নূর, তাঁর রয়েছে নূর, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। সালাফদের মধ্যে যদি কারো থেকে এ বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তারা এ আয়াতের তাফসীরে এটা বলেছেন যে, 'আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের অধিবাসীদের হিদায়াতকারী' তাহলে এটা বুঝে নিতে হবে যে, এটি আয়াতের একটি তাফসীর, যেটাকে উপজীব্য করে আল্লাহ তা'আলার স্বয়ং 'নূর' হওয়াকে অস্বীকার করা যাবে না। কারণ আরবরা যখন কোনো কিছুর তাফসীর বা ব্যাখ্যা করে তখন তারা যেটার ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সেটার বিবিধ নাম বা কিছু প্রকার বর্ণনা করে থাকেন, যা দ্বারা উক্ত জিনিসের অপরাপর গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়াকে না করে না। দেখুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯০)।
কিন্তু পরবর্তীদের মধ্যে যারা আল্লাহর নূর সাব্যস্ত না করে সেটার তা'ওয়ীল করে বলে যে, এর অর্থ হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সৌন্দর্যমণ্ডিতকারী, তাদের এ ব্যাখ্যা কখনও বিশুদ্ধ হবে না; কারণ তারা আসল অর্থ 'নূর' সাব্যস্ত না করার জন্য দূরবর্তী অর্থ গ্রহণ করে।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, 'নূর' নামটি স্রষ্টার জন্যও সত্য আর সৃষ্টির জন্যও সত্য। স্বয়ং সে সত্তার জন্যও তা বলা যাবে যার সাথে তার অস্তিত্ব এসেছে, অনুরূপভাবে কোনো কিছুর গুণ হিসেবেও বলা যাবে, যার সাথে তার অস্তিত্ব রয়েছে, তদ্রূপ তারও গুণ হতে পারে যেটা সে অন্যের কাছ থেকে পেয়েছে, যেমন আলোকরশ্মির প্রতিবিম্ব। আর আল্লাহর বাণী, "আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর, তাঁর নূরের উদাহরণ এমন যেন একটি (বদ্ধ দেয়ালের খোপে থাকা) তাক, যাতে চেরাগ রাখা আছে।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] এখানে তিন প্রকার নূরের কথাই আছে। প্রথমেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে তিনি নূর, আরও বলা হয়েছে যে তাঁর রয়েছে নূর, আরও বলা হয়েছে যে তিনি যেন তাকের উপরে থাকা চেরাগ। আর জানা কথা যে, তাকের উপরে থাকা চেরাগে এমন নূর রয়েছে যা তার নিজের উপর নির্ভর করে আছে, আর সেটার এমন নূরও রয়েছে যা তার থেকে উৎসারিত হয়ে যমীন ও দেয়ালে পড়েছে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (৮/৭৫-৭৬)।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট করে এটা সাব্যস্ত করছেন যে, বেশিরভাগ সৃষ্টির অভিমত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং নূর, এমনকি যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে সেসব জাহমিয়্যারাও তাকে নূর বলে স্বীকৃতি দিত। তবে এটা বলা যে, আল্লাহ তা'আলা তিনিই স্বয়ং সূর্যের, চাঁদের, আগুনের আলো, এমন কথা কোনো মুসলিম বলে না। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (৮/৬৬-৬৭)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অন্য কোনো সত্তার দিকে যখন 'নূর' সম্পৃক্ত করা হবে তখন সেটা আর আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হবে না। সুতরাং দুনিয়ার চেরাগের আলোকে কখনো আল্লাহর আলো বলা যাবে না। মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'নূর' আল্লাহর দিকে দু'ভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে: এক. সিফাতকে মাওসূফের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ গুণকে তার গুণান্বিত সত্তার দিকে সম্পৃক্ত করা, যেমন আল্লাহর বাণী, "আর যমীন আলোকিত হয়ে গেছে তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, "আর আমি আপনার চেহারার নূরের আশ্রয় নিচ্ছি, যে নূরের আলোতে সকল অন্ধকার উদ্ভাসিত হয়েছে।” [দ্বিয়া আল-মাকদেসী, আল-আহাদীসুল মুখতারাহ (৯/১৮১); তাবারানী, আদ-দু'আ, হাদীস নং ১০৩৬; আল-মু'জামুল কাবীর (১৩/৭৩)] দুই. ফা'য়েলকে মাফ'উলের দিকে সম্পৃক্ত করা, অর্থাৎ কর্মকে তার কর্তার দিকে সম্পৃক্ত করা। যেমন আল্লাহর বাণী, "তাঁর নূর যেন তাকের উপর থাকা একটি চেরাগ।” [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ হাদীস বা আছারে এসেছে, 'মুমিনের অন্তরে আল্লাহর নূরের উদাহরণ' সেটা এ অর্থে যে, তিনিই সেটা প্রদান করেন, তিনিই সেটার বান্দার অন্তরে সঞ্চার করে দেন। দেখুন, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়‍্যাহ, পৃ. ৪৫ ও তার পরবর্তী পৃষ্ঠা।
সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, ১- আল্লাহ তা'আলার একটি নাম 'আন-নূর'। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭); শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৬০-২৬১] সুতরাং তিনি আল্লাহ নূর যে নূরের মাধ্যমে তিনি সবকিছুকে হিদায়াত দিয়েছেন।
২- আল্লাহ তাআলার একটি সত্তাগত গুণ হচ্ছে 'নূর'। [শাইখ আলাওয়ী আস-সাক্কাফ, সিফাতুল্লাহিল ওয়ারিদা ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৫৯-২৬১] তাঁর গুণ হিসেবে তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে...।" [সূরা আন-নূর: ৩৫] অনুরূপ আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর যমীন উদ্ভাসিত হলো তার রবের নূরে।" [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ৩- আল্লাহ তা'আলার চেহারাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯; ইবন মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস নং ১৯৫] হাদীসে আরও এসেছে, "আপনার চেহারার নূরের উসীলার আশ্রয় নিচ্ছি”। আরও এসেছে, "আসমান ও যমীনের আলো তাঁর চেহারার আলো হতে।” [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৪- আল্লাহ তা'আলার পর্দাও নূরের। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৪- আল্লাহ তা'আলার নূর যে সৃষ্টির উপর পড়েছে সেই ঈমানদার হবে, আর যার উপর পড়েনি, সে ঈমানদার হয়নি। [তিরমিযী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ২৬৪২]
৫- আসমান ও যমীনের যত নূর সবই তাঁর থেকে প্রাপ্ত। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নূরে বলেছেন, "তাঁর নূরের উদাহরণ হচ্ছে চেরাগদানী, যাতে রয়েছে চেরাগ।" [সূরা আন-নূর: ৩৫; আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৮৬)] এখন প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি তাঁর গুণ? শাইখ আব্দুল্লাহ গুনাইমান বলেন, এটা তাঁর সিফাত বা গুণ নয়। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)] আর যদি 'আল্লাহ আসমান ও যমীনের নূর' বলে সেটাকে সিফাতী নূর ধরা হয় তবে সে নূরের ধরণ আমরা জানি না। এটাই শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যার বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আরও দেখুন, https://www.alukah.net/ web/refai/0/123379/ কিন্তু সর্বাবস্থায় কোনোক্রমেই এ নূর বলতে সূর্য কিংবা চন্দ্র অথবা কোনো বিদ্যুত বা তারকা বা চেরাগের আলো বুঝানো হয়নি। [শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী (১/১৭০-১৭৭)]
৬- হাশরের মাঠের যমীন যে নূরে আলোকিত হবে তাও আল্লাহ তা'আলার নূর। [সূরা আয-যুমার: ৬৯] ইবন তাইমিয়্যাহ এখানে সৃষ্ট নূর অর্থ করা যাবে না। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৩৯২)]
৭- জান্নাতও আলোকিত হবে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের নুরের দ্বারা, আর 'আরশের নূর তো আল্লাহর চেহারার নূর থেকে প্রাপ্ত। [ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তা বর্ণনা করেছেন। দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ৪৪৯; ইবন মান্দাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়‍্যাহ, পৃ. ৯৯; ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, হাদীসটি ত্বাবারানী তার মু'জামে বর্ণনা করেছেন ও তার আস-সুন্নাহতে বর্ণনা করেছনে। ইজতিমা'উল জুযূশ, পৃ. ৬। আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৪/৩১২); শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেত্বিয়্যাহ (৭/৫)। আর যারা 'আল্লাহু নূরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এ আয়াতটিকে 'আল্লাহু নাওয়ারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি' এমন করে পড়ে আয়াতের অর্থ করেছে যে, الله نور السموات والأرض "আল্লাহ আসমান ও যমীনকে আলোকিত করেছেন।" এটা অগ্রহণযোগ্য। ইমাম ইবন বুযাইমাহ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এট গ্রহণযোগ্য কোনো কিরাআত নয় বলে ঘোষণা করেছেন। দেখুন, ইবন খুযাইমাহ, কিতাবুত তাওহীদ (১/৭৮-৭৯)।
আর যারা আল্লাহ তা'আলার সিফাত বা গুণ হিসেবে 'নূর' সাব্যস্ত করেননি, [যেমন, ফখরুদ্দীন রাযী, শারহু আসমায়িল্লাহিল হুসনা, পৃ. ৩৪৭-৩৪৮ ও অন্যান্য গ্রন্থ; অনুরূপ গাযালী, তার আল-মাকসাদুল আসনা, পৃ. ১৪৬ ও মিশকাতুল আনওয়ার] তারা সেটার অপব্যাখ্যা করে বলেছেন এর অর্থ, আল্লাহ আসমান ও যমীনের হিদায়াতকারী অথবা আলোকিতকারী অথবা সংশোধনকারী। এ জাতীয় অপব্যাখ্যাকারীদের যাবতীয় সন্দেহের জবাব শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ কিতাবে প্রদান করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৫/৪৮৬-৪৯৩)। আর ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ চৌদ্দটি উপায়ে এসব অপব্যাখ্যা খণ্ডন করে সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহর রয়েছে নূর গুণ।
দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৮৮-২০৫); মার'ঈ ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলী, আক্বাওয়ীলুস সিকাত ফী তা'ওয়ীলিল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃ. ১৯৪-১৯৬; আরও দেখুন, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান, শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী, পৃ. ১৬৯-১৭৭।
৭১৭. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৭৩৮৫; মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৭৬৯।
৭১৮. হাদীসটির তাখরীজ ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৭১৯. দেখা যেতে পারে, খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী, আল-আইন (৩/১৫২); আবু উবাইদ, গারীবুল হাদীস (৩/১৭৩)।
৭২০. এটি আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়‍্যাহ, পৃ. ৯৯; তার শব্দ হচ্ছে,
إن ربكم ليس عنده ليل ولا نهار، ونور السماوات نور من نور وجهه "তোমাদের রব্ব, তাঁর কাছে তো কোনো রাত বা দিন নেই। আর আসমানসমূহ ও যমীনের যত আলো সবই তাঁর চেহারার উজ্জ্বল আলো থেকে একটি আলো"। আছারটি ইমাম বাইহাক্বীও বর্ণনা করেছেন, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭); তারপর বলেছেন, এটি মাওকূফ, আর এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ নন। অনুরূপভাবে আসারটি ইমাম ইবন কাসীরও নিয়ে এসেছেন, তাফসীর ইবন কাসীর (৬/৬১); সেখানে এসেছে, نور العرش من نور وجهه "আরশের নূর তাঁর চেহারার নূরের উজ্জ্বল্য থেকে"। অনুরূপ আরো বর্ণনা করেন ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/১৯৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00