📄 কুরসীর ব্যাপারে ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য
মুহাম্মাদ (ইবন আবী যামানীন) বলেন: 'আমা হচ্ছে, ঘন পুঞ্জীভূত মেঘমালা(৫১৬); যেমনটি উল্লেখ করেছেন খলীল।(৫১৭)
অতঃপর তিনি অন্যান্য আছার উল্লেখ করেন। তারপর বলেন: অধ্যায়: কুরসীর প্রতি ঈমান(৫১৮)
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (ইবন আবী যামানীন) বলেন, আর আহলুস সুন্নাতের কথা হচ্ছে: কুরসী হচ্ছে 'আরশের সম্মুখে এবং সেটি দু' পায়ের স্থান। অতঃপর তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, যাতে আখেরাতে জুমু'আর দিন (আল্লাহর) প্রকাশ পাওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যেখানে আছে: "যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি ইল্লিয়িয়ন থেকে কুরসীতে নেমে আসবেন। অতঃপর কুরসীকে ঘিরে থাকবে সোনার মিম্বর, যা মুক্তার মাল্যে ভূষিত। অতঃপর নবীগণ এসে তাতে বসবেন।”(৫১৯)
আর তিনি তা উল্লেখ করলেন যা উল্লেখ করেছেন প্রসিদ্ধ তাফসীর(৫২০) গ্রন্থকার ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম।(৫২১) তিনি বলেন:
"আমার কাছে মু'আল্লা ইবন হিলাল(৫২২) বর্ণনা করেছেন, আম্মার আদ-দুহনী(৫২৩) থেকে, তিনি সা'ঈদ ইবনে জুবাইর(৫২৪) থেকে, তিনি ইবনে 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় আসমান-যমীন ব্যাপী কুরসী হচ্ছে দু' পায়ের স্থান। আর 'আরশের পরিমাণ তিনিই জানেন যিনি তা সৃষ্টি করেছেন।”(৫২৫) তিনি(৫২৬) আরও উল্লেখ করেন আসাদ ইবন মূসা(৫২৭) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, তিনি আসেম(৫২৮) থেকে, তিনি যির(৫২৯) থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, তিনি বলেন: "দুনিয়ার আসমান ও তার পরবর্তী আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার প্রত্যেক আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার সপ্তম আসমান ও কুরসীর ব্যবধান পাঁচশত বছর, কুরসী ও পানির মাঝে ব্যবধান পাঁচশত বছর, 'আরশ পানির উপরে। আর আল্লাহ 'আরশের উপরে। আর তোমরা যার উপর আছ তিনি তা জানেন।”(৫৩০)
টিকাঃ
৫১৬. 'আমা' শব্দটি দু'ভাবে পড়া যায়, এক. মাদ্দ সহকারে, ('মা' বর্ণকে টেনে লম্বা করে পড়া) আমা', তখন তার অর্থ হবে মেঘমালা, অথবা উঁচু মেঘ, অথবা ঘন মেঘ তা থেকে বৃষ্টি হয়। অথবা সূক্ষ্ম মেঘ। অথবা কালো মেঘ। এটিই খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী বর্ণনা করেছেন। আর তা আবু উবাইদ থেকেও বর্ণিত আছে।
দুই. মদ্দ ব্যতীত, ('মা' বর্ণকে না টেনে পড়া) 'আমা', তখন অর্থ হবে তার সাথে কিছু নেই। এটিই ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেন, আহমদ ইবন মানী' থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবন হারুন থেকে। দেখুন, [তিরমিযী, আস-সুনান (৫/২৮৮), ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীলু মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৮-৯); ইবনুল আসীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস (৩/৩০৪); খাত্তাবী, গারীবিল হাদীস (৩/৩৪২); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/৯৯-১০০)]।
প্রথম অর্থ অনুসারে মেঘমালা সাব্যস্ত করতে হবে। মহান আল্লাহ কর্তৃক উক্ত মেঘের উপর থাকার ধরণ নির্ধারণ না করে সাব্যস্ত করতে হবে। তবে এ মেঘ সাব্যস্ত করা আল্লাহ তা'আলার প্রথম সত্তা হওয়া ও তাঁর পূর্বে কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকার বিরোধী নয়। আবু উবাইদ বলেন, আমরা হাদীসটিকে আরবী ভাষায় বুঝা যায় সে অর্থে ব্যাখ্যা করেছি, তবে আমরা জানি না সে 'আমা' এর ধরণ সম্পর্কে বা তার পরিমাণ কেমন সেসব সম্পর্কে। আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন, আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৯)। আযহারী তার তাহযীবুল লুগাহ গ্রন্থে ইমাম আবু উবায়েদ এর মতটি প্রাধান্য দেয়ার পর বলেন, 'আর এ কথাটি যা শক্তিশালী করে তা হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও।” [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২১] তিনি বলেন, 'গামাম' শব্দটি আরবী ভাষায় সুবিদিত। তবে আমরা জানি না সে মেঘমালার ধরণ যে মেঘমালায় ছায়ায় কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আগমন করবেন। সুতরাং সেটার ওপর ঈমান আনবো কিন্তু আমরা তাঁর গুণের ধরণ বর্ণনা করবো না। অনুরূপভাবে আল্লাহর অন্য গুণের বেলাতেও আমরা একই নীতি অবলম্বন করি। দেখুন, আল-আযহারী, তাহযীবুল লুগাহ (৩/২৪৬); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/১০০)। পরবর্তী দ্বিতীয় অর্থটি অনুসারে তা বুখারীর হাদীসের অনুরূপ হয়, যেখানে এসেছে, "কেবল আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন, তাঁর সাথে আর কিছু ছিল না।" [বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩১৯১] অনুরূপ মুসনাদে আহমাদে এসেছে, 'সবকিছুর পূর্বে আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন।' [(৩৩/১০৯), হাদীস নং ১৯৮৭৭] এ অর্থ অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারীকে আল্লাহই কেবল ছিলেন সেটাই উত্তর দিয়েছেন, কোথায় ছিলেন সেটার উত্তর দেননি।
৫১৭. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুর রহমান খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী। আরবী ভাষার ইমাম, প্রথম যিনি ইলমুল 'আরূয রচনা করেন। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, আরবী ভাষার কর্ণধার ছিলেন, দীনদার ছিলেন, পরহেযগার ছিলেন, ইবাদতগুযার ছিলেন, বিনয়ী ছিলেন। তাঁর ছিল বিশাল মর্যাদা। তার মৃত্যু হিজরী ১৭০ সালে। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (২/২৪৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪২৯); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৭৫)। আর খলীল এর কিতাব 'আল-আইন গ্রন্থে তা এসেছে (২/২৬৬)।
৫১৮. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৫১)।
৫১৯. যারা হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন তারা হচ্ছেন, ১- ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (২/১৫০-১৫১), নং ৫৫৬০। ২- আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ, নং ৪২২৮। ৩- আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, নং ৪৬০। ৪- ত্বাবারানী, আল-আওসাত্ব, হাদীস নং ৬৭১৭। ৫- খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৩/৪২৫)। ৬- ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৯৯-৩০০), তার সনদ হচ্ছে, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইসহাক, তিনি আহমাদ ইবন খালেদ থেকে, তিনি ইবন ওয়াদ্দাহ থেকে, তিনি আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী শাইবাহ থেকে। তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ আল-মুহারেবী, তিনি লাইস থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার কাছে জিবরীল জুমু'আর দিনকে নিয়ে আসল, তা যেন সাদা আয়না।" আর তিনি হাদীস উল্লেখ করলেন। তাতে এসেছে, নিশ্চয় রব্ব তা'আলা জান্নাতে একটি উপত্যকা গ্রহণ করেছেন, যা সাদা মিসকের; অতঃপর যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর কুরসীর উপর অবতরণ করবেন, তারপর সে কুরসীকে ঘিরে স্বর্ণের মিম্বারসমূহ থাকবে, যাতে মুতির মালাসমূহ পরানো হবে। তারপর নবীগণ আসবেন, তারা তার উপর বসবেন।”
এ হাদীসটি আরও যারা বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন,, ৭- আশ-শাফে'য়ী, আল-উম্ম (১/১৮৫)। ৮- আশ-শাফে'য়ী, আল-মুসনাদ, পৃ. ৭০-৭১। ৯- ইবন আবী শাইবাহ, কিতাবুল 'আরশ, পৃ. ৯৫। ১০- উসমান সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১৭৬-১৭৭; দুই সূত্রে। ১১- ইমাম ত্বাবারী, আত-তাফসীর (২৬/১৮৫); তিন সূত্রে। ১২- ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ১০১। ১৩- আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ২৬৫-২৬৬। ১৪- দারাকুত্বনী, আর-রুইয়াহ, পৃ. ৭৬-৮৫; বিভিন্ন সূত্রে ১৫- ইবনুন নাহহাস, আর রুইয়াহ, পৃ. ১৯-২০। ১৬- ইবন আদী, আল-কামেল (৪/১৩৭৩)। ১৭- উল্কাইলী, আদ-দু'আফা আল-কাবীর (১/২৯২-২৯৩)। ১৮- আবু নু'আইম, সিফাতুল জান্নাহ (৩/২৩৪-২৩৫); তাহকীক, আলী রেদ্বা আব্দুল্লাহ। ১৯- আনু নু'আইম, যিকরু আখবারু আসফাহান (১/২৭৮)। ২০- বাযযার, আল-মুসনাদ (কাশফুল আসতার) (৪/১৯৪-১৯৬)। ২১- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতুল উলু, পৃ. ১০৯-১১০। ২২- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ২৮-৩১; বিভিন্ন সূত্রে। ২৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৭৮। ২৪- ইবন হাজার, আল-মাতালিবুল আলিয়াহ (১/১৫৭-১৫৯)। ২৫- হাইসামী, মাজমা'উল বাহরাইন, মাজমাউয যাওয়ায়িদ (১০/৪২১-৪২২)। ২৬- ইবন আবী হাতেম, আল-ইলাল (১/১৯৯, ২০৬), নং ৫৭১, ৫৯৩। ২৭- মুনযেরী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (১/৪৮৯)। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (৩/২৭২)।
ইতোপূর্বেও হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, ইবন কাসীর, হাফেয দ্বিয়াউদ্দীন আল-মাকদেসী প্রমুখ। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৪১১-৪১৬); মুখাতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/২৩৭-২৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, হাদীউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ, পৃ. ৩৫৪-৩৫৭; যাদুল মা'আদ (১/৪০৯-৪১০); ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (২/২৮৭-২৮৮)। সুতরাং হাদীসটি গ্রহণযোগ্য।
৫২০. ইয়াহইয়া ইবন সাল্লামের এ তাফসীরটি ছাপা হয়নি। তার সংক্ষেপ করেছেন ইবন আবী যামানীন, তার কিছু অংশ তাহকীক হয়েছে, সৌদী আরবস্থ জামে'আতুল ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সা'উদ আল-ইসলামিয়্যাহ'র আল-কুরআন বিভাগে।
৫২১. তিনি হচ্ছেন আবু যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম ইবন আবী সা'লাবাহ আল-বসরী। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বা, সাওরী ও মালেক প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার সন্তান মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম প্রমুখ।
আবু 'আমর আদ-দানী তার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তার কিরাআতের জ্ঞান ছিল। আর তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, প্রমাণ্য, কুরআন ও সুন্নাহ'র আলেম, আরবী ভাষাতে তার যথেষ্ট দখল ছিল। আর তিনি তার তাফসীরের কথা বর্ণনা করে বলেন, পূর্ববর্তী কেউ তার মত তাফসীর লিখতে পারেনি। তিনি হিজরী ২০০ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/১৫৫); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৯৬); ইবনু হাজার, লিসানুল মীযান (৬/২৫৯); 'উমার রেদ্বা কাহহালাহ, মু'জামুল মুওয়াল্লেফীন (১৩/২০০-২০১)।
৫২২. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মু'আল্লা ইবন হিলাল ইবন সুওয়াইদ আল-হাদ্বরামী, আত-ত্বাহহান, আল-কৃষ্ণী। আলেমগণ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। বুখারী বলেন, তারা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ইবন মা'ঈন বলেন, সে তো মিথ্যা ও হাদীস বানানোতে বিখ্যাত। ইবন হাজার এর স্তর বিন্যাস অনুযায়ী অষ্টম স্তরের লোক। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৮/৩৩১); মিযযী, তাহযীবুল কামাল (৩/১৩৫৫); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১০/২৪০); তাকরীব, পৃ. ৫৪১; ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/১৫২)।
৫২৩. তিনি হচ্ছেন আবু মু'আওয়িয়াহ আম্মার ইবন মুআওয়িয়াহ ইবন আসলাম আল-বাজালী, আদ-দুহনী, আল-কৃষ্ণী। সাদৃক, তবে তার মধ্যে শিয়াবাদ ছিল। তাকে ইমাম আহমাদসহ অনেকেই সিক্কাহ বলেছেন। মৃত্যু হিজরী ১৩৩ সাল।
৫২৪. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন জুবাইর ইবন হিশাম, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কৃষ্ণী। ইসলামের বড় আমলদার আলেম। যুহদ ও ইবাদতে প্রসিদ্ধ। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করতেন না। আলেমগণ তার অনেক প্রশংসা করেছেন। ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং প্রচুর করেছেন, ইবন আব্বাসের কাছ থেকেই কুরআনের জ্ঞান নিয়েছেন। আরও বর্ণনা করেছেন ইবন 'উমার প্রমুখ সাহাবীগণ থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী, আবু বিশর জা'ফর ইবন আবী ওয়াহশিয়্যাহ প্রমুখ। ইবন আব্বাসের কাছে কূফার কেউ প্রশ্ন করতে আসলে বলতেন, তোমাদের মাঝে কি 'ইবন উম্মদ দাহমা' নেই? (অর্থাৎ সা'ঈদ ইবন জুবাইর)। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, 'আল-ইমাম, আল-হাফেয, আল-মুক্বরী, আল-মুফাসসির, আশ- শহীদ'। আমর ইবন মাইমূন তার পিতা মাইমূন ইবন মিহরান থেকে বর্ণনা করে, তিনি বলেন, 'সাঈদ ইবন জুবাইর মারা গেলেন, অথচ পৃথিবীর সকলেই তাঁর ইলমের মুখাপেক্ষী ছিল।' তার মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ৯৫ সালে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের হাতে। তার হত্যার কাহিনী খুবই বিখ্যাত। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৬/২৫৬; আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/২৭২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৭১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৩২১)।
৫২৫. ইতোপূর্বে হাদীসটির তাখরীজ চলে গেছে।
৫২৬. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫২৭. তিনি হচ্ছেন আবু সা'ঈদ আসাদ ইবন মূসা ইবন ইবরাহীম ইবনুল খালীফা আল-ওয়ালীদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান, আল-কুরাশী, আদ-দিমাশকী। তাকে 'আসাদ আস-সুন্নাহ' বলা হয়। সাদৃক বর্ণনাকারী, মাঝে মাঝে বিরল কিছু বর্ণনা প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু নাসেবীপনা ছিল। তাঁর সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, ইমাম, হাফেয, সিক্কাহ, যুত তাসানীফ। হিজরী ২১২ সালে তার মৃত্যু হয়। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মাঝে বিখ্যাত হচ্ছে, কিতাবুয যুহদ। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৪০২); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/১৬২); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২৮৭); ইবন হাজার, তাকরীব, পৃ. ১০৪।
৫২৮. তিনি হচ্ছেন আবু বকর 'আসেম ইবন বাহদালাহ ইবন আবিন নুজুদ, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কুফী। বড় কারীদের একজন। কুফায় বিরাট সময় তিনি সবার সেরা ছিলেন। আহমাদ আল-'ইজলী বলেন, 'আসেম সুন্নাহ ও কিরাআতে পারদর্শী ব্যক্তি। তিনি কুরআনের ব্যাপারে প্রধান'। হিজরী ১২৭ সালে তার মৃত্যু হয়। তার বর্ণিত হাদীস হাসান পর্যায়ের। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/৯), যাহাবী, মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার (১/৮৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/২৫৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৫/৩৮); তাক্বরীব, পৃ. ২৮৫।
৫২৯. তিনি হচ্ছেন আবু মারইয়াম যির ইবন হুবাইশ ইবন হুবাশাহ ইবন আওস আল-কৃষ্ণী, আল-আসাদী। তিনি জাহেলী যুগ পেয়েছেন। বড় বড় সাহাবীগণ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বারীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি ইবন মাসঊদ ও আলী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছ থেকে ইলমুল কিরাআত গ্রহণ করেছেন। তার থেকে আসেম ইবন আবিন নাজুদ গ্রহণ করেছেন। তার সম্পর্কে আসেম বলেন, আমি যির থেকে বড় কোনো কারী দেখিনি। তিনি হিজরী ৮১ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/১০৪); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/১৮১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/১৬৬)।
৫৩০. হাদীসটি যারা যারা তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেছেন তারা হচ্ছেন: ১- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪৩), (২/৮৮৫), নং ১৫০, ৫৯৪। ২- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৬। ৩- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৪৫)। ৪- আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ (২/৫৬৫-৫৬৬, ৬৮৮-৬৮৯)। ৫- আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর (৯/২০২), নং ৮৯৮৭। ৬- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৬)। ৭- ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৯)। ৮- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৩৯-৪০। ৯- ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৩)। ১০- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল-মিররীসী (১/৪৭১)। ১১- ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (৩/১৭১-১৭২), নং ১২৮। ১২- আদ-দীনাওয়ারী, আল-মুজালাসাহ ২৮৩০।
মুহাম্মাদ (ইবন আবী যামানীন) বলেন: 'আমা হচ্ছে, ঘন পুঞ্জীভূত মেঘমালা(৫১৬); যেমনটি উল্লেখ করেছেন খলীল।(৫১৭)
অতঃপর তিনি অন্যান্য আছার উল্লেখ করেন। তারপর বলেন: অধ্যায়: কুরসীর প্রতি ঈমান(৫১৮)
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (ইবন আবী যামানীন) বলেন, আর আহলুস সুন্নাতের কথা হচ্ছে: কুরসী হচ্ছে 'আরশের সম্মুখে এবং সেটি দু' পায়ের স্থান। অতঃপর তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, যাতে আখেরাতে জুমু'আর দিন (আল্লাহর) প্রকাশ পাওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যেখানে আছে: "যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি ইল্লিয়িয়ন থেকে কুরসীতে নেমে আসবেন। অতঃপর কুরসীকে ঘিরে থাকবে সোনার মিম্বর, যা মুক্তার মাল্যে ভূষিত। অতঃপর নবীগণ এসে তাতে বসবেন।”(৫১৯)
আর তিনি তা উল্লেখ করলেন যা উল্লেখ করেছেন প্রসিদ্ধ তাফসীর(৫২০) গ্রন্থকার ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম।(৫২১) তিনি বলেন:
"আমার কাছে মু'আল্লা ইবন হিলাল(৫২২) বর্ণনা করেছেন, আম্মার আদ-দুহনী(৫২৩) থেকে, তিনি সা'ঈদ ইবনে জুবাইর(৫২৪) থেকে, তিনি ইবনে 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় আসমান-যমীন ব্যাপী কুরসী হচ্ছে দু' পায়ের স্থান। আর 'আরশের পরিমাণ তিনিই জানেন যিনি তা সৃষ্টি করেছেন।”(৫২৫) তিনি(৫২৬) আরও উল্লেখ করেন আসাদ ইবন মূসা(৫২৭) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, তিনি আসেম(৫২৮) থেকে, তিনি যির(৫২৯) থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, তিনি বলেন: "দুনিয়ার আসমান ও তার পরবর্তী আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার প্রত্যেক আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার সপ্তম আসমান ও কুরসীর ব্যবধান পাঁচশত বছর, কুরসী ও পানির মাঝে ব্যবধান পাঁচশত বছর, 'আরশ পানির উপরে। আর আল্লাহ 'আরশের উপরে। আর তোমরা যার উপর আছ তিনি তা জানেন।”(৫৩০)
টিকাঃ
৫১৬. 'আমা' শব্দটি দু'ভাবে পড়া যায়, এক. মাদ্দ সহকারে, ('মা' বর্ণকে টেনে লম্বা করে পড়া) আমা', তখন তার অর্থ হবে মেঘমালা, অথবা উঁচু মেঘ, অথবা ঘন মেঘ তা থেকে বৃষ্টি হয়। অথবা সূক্ষ্ম মেঘ। অথবা কালো মেঘ। এটিই খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী বর্ণনা করেছেন। আর তা আবু উবাইদ থেকেও বর্ণিত আছে।
দুই. মদ্দ ব্যতীত, ('মা' বর্ণকে না টেনে পড়া) 'আমা', তখন অর্থ হবে তার সাথে কিছু নেই। এটিই ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেন, আহমদ ইবন মানী' থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবন হারুন থেকে। দেখুন, [তিরমিযী, আস-সুনান (৫/২৮৮), ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীলু মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৮-৯); ইবনুল আসীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস (৩/৩০৪); খাত্তাবী, গারীবিল হাদীস (৩/৩৪২); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/৯৯-১০০)]।
প্রথম অর্থ অনুসারে মেঘমালা সাব্যস্ত করতে হবে। মহান আল্লাহ কর্তৃক উক্ত মেঘের উপর থাকার ধরণ নির্ধারণ না করে সাব্যস্ত করতে হবে। তবে এ মেঘ সাব্যস্ত করা আল্লাহ তা'আলার প্রথম সত্তা হওয়া ও তাঁর পূর্বে কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকার বিরোধী নয়। আবু উবাইদ বলেন, আমরা হাদীসটিকে আরবী ভাষায় বুঝা যায় সে অর্থে ব্যাখ্যা করেছি, তবে আমরা জানি না সে 'আমা' এর ধরণ সম্পর্কে বা তার পরিমাণ কেমন সেসব সম্পর্কে। আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন, আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৯)। আযহারী তার তাহযীবুল লুগাহ গ্রন্থে ইমাম আবু উবায়েদ এর মতটি প্রাধান্য দেয়ার পর বলেন, 'আর এ কথাটি যা শক্তিশালী করে তা হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও।” [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২১] তিনি বলেন, 'গামাম' শব্দটি আরবী ভাষায় সুবিদিত। তবে আমরা জানি না সে মেঘমালার ধরণ যে মেঘমালায় ছায়ায় কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আগমন করবেন। সুতরাং সেটার ওপর ঈমান আনবো কিন্তু আমরা তাঁর গুণের ধরণ বর্ণনা করবো না। অনুরূপভাবে আল্লাহর অন্য গুণের বেলাতেও আমরা একই নীতি অবলম্বন করি। দেখুন, আল-আযহারী, তাহযীবুল লুগাহ (৩/২৪৬); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/১০০)। পরবর্তী দ্বিতীয় অর্থটি অনুসারে তা বুখারীর হাদীসের অনুরূপ হয়, যেখানে এসেছে, "কেবল আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন, তাঁর সাথে আর কিছু ছিল না।" [বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩১৯১] অনুরূপ মুসনাদে আহমাদে এসেছে, 'সবকিছুর পূর্বে আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন।' [(৩৩/১০৯), হাদীস নং ১৯৮৭৭] এ অর্থ অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারীকে আল্লাহই কেবল ছিলেন সেটাই উত্তর দিয়েছেন, কোথায় ছিলেন সেটার উত্তর দেননি।
৫১৭. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুর রহমান খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী। আরবী ভাষার ইমাম, প্রথম যিনি ইলমুল 'আরূয রচনা করেন। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, আরবী ভাষার কর্ণধার ছিলেন, দীনদার ছিলেন, পরহেযগার ছিলেন, ইবাদতগুযার ছিলেন, বিনয়ী ছিলেন। তাঁর ছিল বিশাল মর্যাদা। তার মৃত্যু হিজরী ১৭০ সালে। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (২/২৪৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪২৯); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৭৫)। আর খলীল এর কিতাব 'আল-আইন গ্রন্থে তা এসেছে (২/২৬৬)।
৫১৮. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৫১)।
৫১৯. যারা হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন তারা হচ্ছেন, ১- ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (২/১৫০-১৫১), নং ৫৫৬০। ২- আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ, নং ৪২২৮। ৩- আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, নং ৪৬০। ৪- ত্বাবারানী, আল-আওসাত্ব, হাদীস নং ৬৭১৭। ৫- খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৩/৪২৫)। ৬- ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৯৯-৩০০), তার সনদ হচ্ছে, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইসহাক, তিনি আহমাদ ইবন খালেদ থেকে, তিনি ইবন ওয়াদ্দাহ থেকে, তিনি আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী শাইবাহ থেকে। তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ আল-মুহারেবী, তিনি লাইস থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার কাছে জিবরীল জুমু'আর দিনকে নিয়ে আসল, তা যেন সাদা আয়না।" আর তিনি হাদীস উল্লেখ করলেন। তাতে এসেছে, নিশ্চয় রব্ব তা'আলা জান্নাতে একটি উপত্যকা গ্রহণ করেছেন, যা সাদা মিসকের; অতঃপর যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর কুরসীর উপর অবতরণ করবেন, তারপর সে কুরসীকে ঘিরে স্বর্ণের মিম্বারসমূহ থাকবে, যাতে মুতির মালাসমূহ পরানো হবে। তারপর নবীগণ আসবেন, তারা তার উপর বসবেন।”
এ হাদীসটি আরও যারা বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন,, ৭- আশ-শাফে'য়ী, আল-উম্ম (১/১৮৫)। ৮- আশ-শাফে'য়ী, আল-মুসনাদ, পৃ. ৭০-৭১। ৯- ইবন আবী শাইবাহ, কিতাবুল 'আরশ, পৃ. ৯৫। ১০- উসমান সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১৭৬-১৭৭; দুই সূত্রে। ১১- ইমাম ত্বাবারী, আত-তাফসীর (২৬/১৮৫); তিন সূত্রে। ১২- ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ১০১। ১৩- আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ২৬৫-২৬৬। ১৪- দারাকুত্বনী, আর-রুইয়াহ, পৃ. ৭৬-৮৫; বিভিন্ন সূত্রে ১৫- ইবনুন নাহহাস, আর রুইয়াহ, পৃ. ১৯-২০। ১৬- ইবন আদী, আল-কামেল (৪/১৩৭৩)। ১৭- উল্কাইলী, আদ-দু'আফা আল-কাবীর (১/২৯২-২৯৩)। ১৮- আবু নু'আইম, সিফাতুল জান্নাহ (৩/২৩৪-২৩৫); তাহকীক, আলী রেদ্বা আব্দুল্লাহ। ১৯- আনু নু'আইম, যিকরু আখবারু আসফাহান (১/২৭৮)। ২০- বাযযার, আল-মুসনাদ (কাশফুল আসতার) (৪/১৯৪-১৯৬)। ২১- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতুল উলু, পৃ. ১০৯-১১০। ২২- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ২৮-৩১; বিভিন্ন সূত্রে। ২৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৭৮। ২৪- ইবন হাজার, আল-মাতালিবুল আলিয়াহ (১/১৫৭-১৫৯)। ২৫- হাইসামী, মাজমা'উল বাহরাইন, মাজমাউয যাওয়ায়িদ (১০/৪২১-৪২২)। ২৬- ইবন আবী হাতেম, আল-ইলাল (১/১৯৯, ২০৬), নং ৫৭১, ৫৯৩। ২৭- মুনযেরী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (১/৪৮৯)। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (৩/২৭২)।
ইতোপূর্বেও হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, ইবন কাসীর, হাফেয দ্বিয়াউদ্দীন আল-মাকদেসী প্রমুখ। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৪১১-৪১৬); মুখাতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/২৩৭-২৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, হাদীউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ, পৃ. ৩৫৪-৩৫৭; যাদুল মা'আদ (১/৪০৯-৪১০); ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (২/২৮৭-২৮৮)। সুতরাং হাদীসটি গ্রহণযোগ্য।
৫২০. ইয়াহইয়া ইবন সাল্লামের এ তাফসীরটি ছাপা হয়নি। তার সংক্ষেপ করেছেন ইবন আবী যামানীন, তার কিছু অংশ তাহকীক হয়েছে, সৌদী আরবস্থ জামে'আতুল ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সা'উদ আল-ইসলামিয়্যাহ'র আল-কুরআন বিভাগে।
৫২১. তিনি হচ্ছেন আবু যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম ইবন আবী সা'লাবাহ আল-বসরী। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বা, সাওরী ও মালেক প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার সন্তান মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম প্রমুখ।
আবু 'আমর আদ-দানী তার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তার কিরাআতের জ্ঞান ছিল। আর তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, প্রমাণ্য, কুরআন ও সুন্নাহ'র আলেম, আরবী ভাষাতে তার যথেষ্ট দখল ছিল। আর তিনি তার তাফসীরের কথা বর্ণনা করে বলেন, পূর্ববর্তী কেউ তার মত তাফসীর লিখতে পারেনি। তিনি হিজরী ২০০ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/১৫৫); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৯৬); ইবনু হাজার, লিসানুল মীযান (৬/২৫৯); 'উমার রেদ্বা কাহহালাহ, মু'জামুল মুওয়াল্লেফীন (১৩/২০০-২০১)।
৫২২. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মু'আল্লা ইবন হিলাল ইবন সুওয়াইদ আল-হাদ্বরামী, আত-ত্বাহহান, আল-কৃষ্ণী। আলেমগণ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। বুখারী বলেন, তারা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ইবন মা'ঈন বলেন, সে তো মিথ্যা ও হাদীস বানানোতে বিখ্যাত। ইবন হাজার এর স্তর বিন্যাস অনুযায়ী অষ্টম স্তরের লোক। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৮/৩৩১); মিযযী, তাহযীবুল কামাল (৩/১৩৫৫); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১০/২৪০); তাকরীব, পৃ. ৫৪১; ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/১৫২)।
৫২৩. তিনি হচ্ছেন আবু মু'আওয়িয়াহ আম্মার ইবন মুআওয়িয়াহ ইবন আসলাম আল-বাজালী, আদ-দুহনী, আল-কৃষ্ণী। সাদৃক, তবে তার মধ্যে শিয়াবাদ ছিল। তাকে ইমাম আহমাদসহ অনেকেই সিক্কাহ বলেছেন। মৃত্যু হিজরী ১৩৩ সাল।
৫২৪. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন জুবাইর ইবন হিশাম, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কৃষ্ণী। ইসলামের বড় আমলদার আলেম। যুহদ ও ইবাদতে প্রসিদ্ধ। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করতেন না। আলেমগণ তার অনেক প্রশংসা করেছেন। ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং প্রচুর করেছেন, ইবন আব্বাসের কাছ থেকেই কুরআনের জ্ঞান নিয়েছেন। আরও বর্ণনা করেছেন ইবন 'উমার প্রমুখ সাহাবীগণ থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী, আবু বিশর জা'ফর ইবন আবী ওয়াহশিয়্যাহ প্রমুখ। ইবন আব্বাসের কাছে কূফার কেউ প্রশ্ন করতে আসলে বলতেন, তোমাদের মাঝে কি 'ইবন উম্মদ দাহমা' নেই? (অর্থাৎ সা'ঈদ ইবন জুবাইর)। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, 'আল-ইমাম, আল-হাফেয, আল-মুক্বরী, আল-মুফাসসির, আশ- শহীদ'। আমর ইবন মাইমূন তার পিতা মাইমূন ইবন মিহরান থেকে বর্ণনা করে, তিনি বলেন, 'সাঈদ ইবন জুবাইর মারা গেলেন, অথচ পৃথিবীর সকলেই তাঁর ইলমের মুখাপেক্ষী ছিল।' তার মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ৯৫ সালে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের হাতে। তার হত্যার কাহিনী খুবই বিখ্যাত। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৬/২৫৬; আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/২৭২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৭১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৩২১)।
৫২৫. ইতোপূর্বে হাদীসটির তাখরীজ চলে গেছে।
৫২৬. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫২৭. তিনি হচ্ছেন আবু সা'ঈদ আসাদ ইবন মূসা ইবন ইবরাহীম ইবনুল খালীফা আল-ওয়ালীদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান, আল-কুরাশী, আদ-দিমাশকী। তাকে 'আসাদ আস-সুন্নাহ' বলা হয়। সাদৃক বর্ণনাকারী, মাঝে মাঝে বিরল কিছু বর্ণনা প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু নাসেবীপনা ছিল। তাঁর সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, ইমাম, হাফেয, সিক্কাহ, যুত তাসানীফ। হিজরী ২১২ সালে তার মৃত্যু হয়। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মাঝে বিখ্যাত হচ্ছে, কিতাবুয যুহদ। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৪০২); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/১৬২); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২৮৭); ইবন হাজার, তাকরীব, পৃ. ১০৪।
৫২৮. তিনি হচ্ছেন আবু বকর 'আসেম ইবন বাহদালাহ ইবন আবিন নুজুদ, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কুফী। বড় কারীদের একজন। কুফায় বিরাট সময় তিনি সবার সেরা ছিলেন। আহমাদ আল-'ইজলী বলেন, 'আসেম সুন্নাহ ও কিরাআতে পারদর্শী ব্যক্তি। তিনি কুরআনের ব্যাপারে প্রধান'। হিজরী ১২৭ সালে তার মৃত্যু হয়। তার বর্ণিত হাদীস হাসান পর্যায়ের। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/৯), যাহাবী, মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার (১/৮৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/২৫৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৫/৩৮); তাক্বরীব, পৃ. ২৮৫।
৫২৯. তিনি হচ্ছেন আবু মারইয়াম যির ইবন হুবাইশ ইবন হুবাশাহ ইবন আওস আল-কৃষ্ণী, আল-আসাদী। তিনি জাহেলী যুগ পেয়েছেন। বড় বড় সাহাবীগণ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বারীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি ইবন মাসঊদ ও আলী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছ থেকে ইলমুল কিরাআত গ্রহণ করেছেন। তার থেকে আসেম ইবন আবিন নাজুদ গ্রহণ করেছেন। তার সম্পর্কে আসেম বলেন, আমি যির থেকে বড় কোনো কারী দেখিনি। তিনি হিজরী ৮১ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/১০৪); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/১৮১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/১৬৬)।
৫৩০. হাদীসটি যারা যারা তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেছেন তারা হচ্ছেন: ১- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪৩), (২/৮৮৫), নং ১৫০, ৫৯৪। ২- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৬। ৩- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৪৫)। ৪- আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ (২/৫৬৫-৫৬৬, ৬৮৮-৬৮৯)। ৫- আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর (৯/২০২), নং ৮৯৮৭। ৬- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৬)। ৭- ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৯)। ৮- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৩৯-৪০। ৯- ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৩)। ১০- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল-মিররীসী (১/৪৭১)। ১১- ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (৩/১৭১-১৭২), নং ১২৮। ১২- আদ-দীনাওয়ারী, আল-মুজালাসাহ ২৮৩০।
📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর গদীর আলোচনা
অতঃপর তিনি বলেন: অধ্যায়: পর্দার ওপর ঈমান(৫৩১)
তিনি বলেন, আহলুস সুন্নাহের কথা হচ্ছে- নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক। পর্দার দ্বারা তিনি তাদের থেকে আড়াল। সুতরাং যালিমরা যা বলে তার থেকে আল্লাহ বিশাল ঊর্ধ্বে।
كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴾ [الكهف: ٥]
"তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বাক্য কী সাংঘাতিক! তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।” [সূরা আল-কাহফ: ০৫] আর তিনি(৫৩৩) হাজাব তথা পর্দার অনেক হাদীস উল্লেখ করেন(৫০৪)।
টিকাঃ
৫৩১. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/২৬৪)।
৫৩২. আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে পর্দার আড়ালে রয়েছেন। দুনিয়ার জগতে কেউ তাঁকে দেখতে সমর্থ নয়। কারণ এসব চোখ ও এসব শরীর ধ্বংস হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ দুনিয়া থাকাকালীন যদি আল্লাহ তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করেন তবে তাঁর চেহারার নূর যতটুকু তাঁর চোখ যাবে সৃষ্টির ততটুকু পুড়িয়ে দিবে। আর সেভাবে চূর্ণ হয়ে যাবে যেভাবে মূসার পাহাড় চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এ পর্দাগুলোর প্রকৃত ধরণ ও পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই জানেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন এমন চোখগুলো জুড়ে দেয়া হবে যা হবে স্থায়ী, তখন সেটাতে এমন ক্ষমতা দেয়া হবে যা দুনিয়ার জীবনে দেয়া হয়নি। ফলে তখন সে চোখগুলো আসমান ও যমীনের স্রষ্টা ও অভাব পূরণকারীর দিকে তাকাতে সমর্থ হবে। কুরআন ও সুন্নাহ'য় আল্লাহর পর্দা সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন, ১- আল্লাহর বাণী: "আর কোনো মানুষেরই এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া, অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া, অথবা এমন দূত প্রেরণ ছাড়া, যে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহী করেন, তিনি সর্বোচ্চ, হিকমতওয়ালা।” [সূরা আশ-শূরা: ৫১]
২- সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস, আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে পাঁচটি বাণী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি বললেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়, তিনি ইনসাফের দণ্ড নিচু করে ও উপরে উঠান, তাঁর কাছে রাতের আমল দীনের আমলের আগে উঠানো হয়, আর দিনের আমল রাতের আমলের আগে উঠানো হয়। তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের, অপর বর্ণনায়, নার বা আগুনের। যদি তিনি তার পর্দা উন্মুক্ত করতেন তবে তার চেহারার উজ্জ্বল্য তাঁর সৃষ্টির যতটুকুতে তার চোখ পড়তো ততটুকু পুড়িয়ে দিত।” [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৩- ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আবুশ শাইখ ও বাইহাক্বী রাহিমাহুল্লাহ ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে চারটি পর্দার আড়াল গ্রহণ করেছেন। আগুন, অন্ধকার, আলো ও অন্ধকার।” [উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, নং ১১৮; আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ, নং ২৬৮; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬), নং ৬৯৩] শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ আছারটির সনদকে সহীহ বলেছেন। কোনো কোনো বিদ'আতী আল্লাহর জন্য পর্দা সাব্যস্ত করে না। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, জাহমিয়্যারা কোনোভাবেই আল্লাহর হিজাব আছে স্বীকার করে না; কারণ তিনি তাদের নিকট আরশের উপর নেই। [ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/১০)]
বস্তুত কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরাম ও তাবে'য়ীনে 'ইযাম থেকে পর্দার ব্যাপারে অনেক ভাষ্য এসেছে। ইমামগণ যুগ যুগ ধরে তাদের গ্রন্থে এ বিষয়ের ওপর অধ্যায় বিন্যাস করে তাতে এর উপর প্রমাণবহ নস ও আছার নিয়ে এসেছেন। যেমন, ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ তার আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে পৃ. ৬০-৬২, অধ্যায়: পর্দা গ্রহণ, তারপর তিনি এর ওপর বেশ কিছু আয়াত-হাদীস ও আছার নিয়ে এসেছেন। তারপর বলেন, 'আর এমন কে আছে যে মহা অধিপতি যে পর্দা দ্বারা আড়াল নিয়েছেন তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে যাবে? আর কে জানতে পারবে সেটা কী রকম? একমাত্র তিনিই তো তা জানেন যিনি সকল কিছুকে ইলম দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং সবকিছুকে সংখ্যায় গুনে রেখেছেন। সুতরাং এতেও প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাদের থেকে পর্দার আড়ালে। জিবরীল তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সেসব পর্দার নিকটে যাওয়ার সামর্থ রাখে না।... আরও দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/১০-১১)। কোনো কোনো বিদ'আতপন্থী লোকেরা আল্লাহর পর্দার অপব্যাখ্যা দাঁড় করে তা অস্বীকার করে। যেমন, ১- বাইহাক্বী বলেন, হিজাব বা পর্দা মূলত সৃষ্টির দিকে প্রত্যাবর্তিত স্রষ্টার নয়। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬, ২৯৩)] ২- রাযী তার তা'সীসুত তাক্বদীস গ্রন্থে পৃ. ১৩২ বলেন, আল্লাহর জন্য প্রকৃত পর্দা হওয়া অসম্ভব; কারণ পর্দা বা আড়াল বলতে বুঝায় এমন দেহ যা দু'টি দেহের মাঝখানে অবস্থান নেয়। তাই আমাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তাঁকে দেখা সম্পৃক্ত কিছু বান্দার মাঝে সৃষ্টি করবেন না। আর যারা আল্লাহকে দেখা অস্বীকার করে তাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ বান্দার কাছে পৌছাবেন না।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এর যথার্থ জবাব দেন এবং বর্ণনা করেন যে, এ তা'ওয়ীস বা অপব্যাখ্যা দু'টিই বাতিল। কারণ দেখা সৃষ্টি না করা তো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। তাহলে কীভাবে নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস নূর হতে পারে? আর কীভাবেই এটা বলা যায় যে, "অতঃপর তিনি তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করবেন তখন তারা তাঁর দিকে তাকাবে"। যে জিনিস নিছক অস্তিত্বহীন সেটাকে উন্মুক্ত কীভাবে করা যায়? তারপর এটি আমাদেরকে জানাও পৃথিবীর কোন ভাষায় কোনো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিসকে 'হাজাব' বা পর্দা বলা হয়? আর জানা কথা যে, 'হিজাব' এর বিপরীত হচ্ছে 'হিজাবহীন'। তাহলে নিছক অস্তিত্বহীনকে কি এ গুণ দেয়া যায় যে, এটা হিজাব নয়? যদি হিজাব অস্তিত্বহীনকে বলা হতো তাহলে তো সেটা না হওয়ার দাবি হচ্ছে অস্তিত্বে আসা। তখন অস্তিত্বশীল বস্তু হয়ে দাঁড়াবে অস্তিত্বহীনের গুণ। আর এটা তো অত্যাবশ্যকভাবে নিষিদ্ধ।” দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/৩৩৫- ৩৩৬)।
আবার অনেকে হিজাব এর অন্য তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যাও করে, যেমন বিশর আল-মিররীসী সেগুলো নিয়ে এসেছে। কিন্তু ইমাম আবু সা'ঈদ আদ-দারেমী সেগুলো নিয়ে এসে একটি একটি করে খণ্ডন করেছেন। দেখুন, উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল বিশর আল-মিররীসী (২/২৪৮).... অনুরূপ আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৭১-৭৩।
৫৩৩. অর্থাৎ ইমাম ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৩৪. এ হিজাব বা পর্দার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাত্রে আল্লাহকে দেখতে পাননি। সহীহ হাদীসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন? তিনি বললেন, সেখানে তো নূর ছিল, কীভাবে আমি তাকে দেখতে পাব'। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮] অপর বর্ণনায় এসেছে, 'আমি তো কেবল নূর দেখতে পেয়েছি।' [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮; ইবন হিব্বান, আস-সহীহ (১/২৫৫); ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৪৪১; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (২/৫১২)] এ ব্যাপারে বিদ'আতপন্থীদের বিকৃতি ও সেটার জবাব দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৫০৭-৫০৮), (৩/৩৮৬-৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, যাদুল মা'আদ (৩/৩৭)।
অতঃপর তিনি বলেন: অধ্যায়: পর্দার ওপর ঈমান(৫৩১)
তিনি বলেন, আহলুস সুন্নাহের কথা হচ্ছে- নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক। পর্দার দ্বারা তিনি তাদের থেকে আড়াল। সুতরাং যালিমরা যা বলে তার থেকে আল্লাহ বিশাল ঊর্ধ্বে।
كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴾ [الكهف: ٥]
"তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বাক্য কী সাংঘাতিক! তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।” [সূরা আল-কাহফ: ০৫] আর তিনি(৫৩৩) হাজাব তথা পর্দার অনেক হাদীস উল্লেখ করেন(৫০৪)।
টিকাঃ
৫৩১. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/২৬৪)।
৫৩২. আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে পর্দার আড়ালে রয়েছেন। দুনিয়ার জগতে কেউ তাঁকে দেখতে সমর্থ নয়। কারণ এসব চোখ ও এসব শরীর ধ্বংস হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ দুনিয়া থাকাকালীন যদি আল্লাহ তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করেন তবে তাঁর চেহারার নূর যতটুকু তাঁর চোখ যাবে সৃষ্টির ততটুকু পুড়িয়ে দিবে। আর সেভাবে চূর্ণ হয়ে যাবে যেভাবে মূসার পাহাড় চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এ পর্দাগুলোর প্রকৃত ধরণ ও পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই জানেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন এমন চোখগুলো জুড়ে দেয়া হবে যা হবে স্থায়ী, তখন সেটাতে এমন ক্ষমতা দেয়া হবে যা দুনিয়ার জীবনে দেয়া হয়নি। ফলে তখন সে চোখগুলো আসমান ও যমীনের স্রষ্টা ও অভাব পূরণকারীর দিকে তাকাতে সমর্থ হবে। কুরআন ও সুন্নাহ'য় আল্লাহর পর্দা সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন, ১- আল্লাহর বাণী: "আর কোনো মানুষেরই এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া, অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া, অথবা এমন দূত প্রেরণ ছাড়া, যে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহী করেন, তিনি সর্বোচ্চ, হিকমতওয়ালা।” [সূরা আশ-শূরা: ৫১]
২- সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস, আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে পাঁচটি বাণী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি বললেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়, তিনি ইনসাফের দণ্ড নিচু করে ও উপরে উঠান, তাঁর কাছে রাতের আমল দীনের আমলের আগে উঠানো হয়, আর দিনের আমল রাতের আমলের আগে উঠানো হয়। তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের, অপর বর্ণনায়, নার বা আগুনের। যদি তিনি তার পর্দা উন্মুক্ত করতেন তবে তার চেহারার উজ্জ্বল্য তাঁর সৃষ্টির যতটুকুতে তার চোখ পড়তো ততটুকু পুড়িয়ে দিত।” [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৩- ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আবুশ শাইখ ও বাইহাক্বী রাহিমাহুল্লাহ ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে চারটি পর্দার আড়াল গ্রহণ করেছেন। আগুন, অন্ধকার, আলো ও অন্ধকার।” [উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, নং ১১৮; আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ, নং ২৬৮; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬), নং ৬৯৩] শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ আছারটির সনদকে সহীহ বলেছেন। কোনো কোনো বিদ'আতী আল্লাহর জন্য পর্দা সাব্যস্ত করে না। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, জাহমিয়্যারা কোনোভাবেই আল্লাহর হিজাব আছে স্বীকার করে না; কারণ তিনি তাদের নিকট আরশের উপর নেই। [ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/১০)]
বস্তুত কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরাম ও তাবে'য়ীনে 'ইযাম থেকে পর্দার ব্যাপারে অনেক ভাষ্য এসেছে। ইমামগণ যুগ যুগ ধরে তাদের গ্রন্থে এ বিষয়ের ওপর অধ্যায় বিন্যাস করে তাতে এর উপর প্রমাণবহ নস ও আছার নিয়ে এসেছেন। যেমন, ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ তার আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে পৃ. ৬০-৬২, অধ্যায়: পর্দা গ্রহণ, তারপর তিনি এর ওপর বেশ কিছু আয়াত-হাদীস ও আছার নিয়ে এসেছেন। তারপর বলেন, 'আর এমন কে আছে যে মহা অধিপতি যে পর্দা দ্বারা আড়াল নিয়েছেন তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে যাবে? আর কে জানতে পারবে সেটা কী রকম? একমাত্র তিনিই তো তা জানেন যিনি সকল কিছুকে ইলম দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং সবকিছুকে সংখ্যায় গুনে রেখেছেন। সুতরাং এতেও প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাদের থেকে পর্দার আড়ালে। জিবরীল তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সেসব পর্দার নিকটে যাওয়ার সামর্থ রাখে না।... আরও দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/১০-১১)। কোনো কোনো বিদ'আতপন্থী লোকেরা আল্লাহর পর্দার অপব্যাখ্যা দাঁড় করে তা অস্বীকার করে। যেমন, ১- বাইহাক্বী বলেন, হিজাব বা পর্দা মূলত সৃষ্টির দিকে প্রত্যাবর্তিত স্রষ্টার নয়। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬, ২৯৩)] ২- রাযী তার তা'সীসুত তাক্বদীস গ্রন্থে পৃ. ১৩২ বলেন, আল্লাহর জন্য প্রকৃত পর্দা হওয়া অসম্ভব; কারণ পর্দা বা আড়াল বলতে বুঝায় এমন দেহ যা দু'টি দেহের মাঝখানে অবস্থান নেয়। তাই আমাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তাঁকে দেখা সম্পৃক্ত কিছু বান্দার মাঝে সৃষ্টি করবেন না। আর যারা আল্লাহকে দেখা অস্বীকার করে তাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ বান্দার কাছে পৌছাবেন না।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এর যথার্থ জবাব দেন এবং বর্ণনা করেন যে, এ তা'ওয়ীস বা অপব্যাখ্যা দু'টিই বাতিল। কারণ দেখা সৃষ্টি না করা তো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। তাহলে কীভাবে নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস নূর হতে পারে? আর কীভাবেই এটা বলা যায় যে, "অতঃপর তিনি তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করবেন তখন তারা তাঁর দিকে তাকাবে"। যে জিনিস নিছক অস্তিত্বহীন সেটাকে উন্মুক্ত কীভাবে করা যায়? তারপর এটি আমাদেরকে জানাও পৃথিবীর কোন ভাষায় কোনো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিসকে 'হাজাব' বা পর্দা বলা হয়? আর জানা কথা যে, 'হিজাব' এর বিপরীত হচ্ছে 'হিজাবহীন'। তাহলে নিছক অস্তিত্বহীনকে কি এ গুণ দেয়া যায় যে, এটা হিজাব নয়? যদি হিজাব অস্তিত্বহীনকে বলা হতো তাহলে তো সেটা না হওয়ার দাবি হচ্ছে অস্তিত্বে আসা। তখন অস্তিত্বশীল বস্তু হয়ে দাঁড়াবে অস্তিত্বহীনের গুণ। আর এটা তো অত্যাবশ্যকভাবে নিষিদ্ধ।” দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/৩৩৫- ৩৩৬)।
আবার অনেকে হিজাব এর অন্য তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যাও করে, যেমন বিশর আল-মিররীসী সেগুলো নিয়ে এসেছে। কিন্তু ইমাম আবু সা'ঈদ আদ-দারেমী সেগুলো নিয়ে এসে একটি একটি করে খণ্ডন করেছেন। দেখুন, উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল বিশর আল-মিররীসী (২/২৪৮).... অনুরূপ আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৭১-৭৩।
৫৩৩. অর্থাৎ ইমাম ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৩৪. এ হিজাব বা পর্দার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাত্রে আল্লাহকে দেখতে পাননি। সহীহ হাদীসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন? তিনি বললেন, সেখানে তো নূর ছিল, কীভাবে আমি তাকে দেখতে পাব'। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮] অপর বর্ণনায় এসেছে, 'আমি তো কেবল নূর দেখতে পেয়েছি।' [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮; ইবন হিব্বান, আস-সহীহ (১/২৫৫); ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৪৪১; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (২/৫১২)] এ ব্যাপারে বিদ'আতপন্থীদের বিকৃতি ও সেটার জবাব দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৫০৭-৫০৮), (৩/৩৮৬-৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, যাদুল মা'আদ (৩/৩৭)।
📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর অবতরণ করার সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য
অতঃপর তিনি বলেন: অধ্যায়: অবতীর্ণ হওয়ার ওপর ঈমান(৫৩৫)
তিনি বলেন, আহলুস সুন্নাহের কথা হচ্ছে- নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে অবতীর্ণ হন। কোনো সীমা নির্ধারণ ছাড়াই তারা এতে ঈমান রাখে। (৫৩৭)
আর তিনি(৫৩৮) ইমাম মালেক ও অন্যান্যদের(৫৩৯) সূত্রে হাদীস উল্লেখ করেন, অবশেষে বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহাব(৫৪০), তিনি ইবন ওদ্দাহ(৫৪১) থেকে, তিনি যুহাইর ইবন 'আব্বাদ(৫৪২) থেকে, তিনি বলেন: আমি যেসব শাইখদের পেয়েছি তাদের মধ্যে রয়েছে মালেক, সুফইয়ান, ফুযাইল ইবন ইয়াদ্ব, ঈসা(৫৪৩) ও ইবনুল মুবারক এবং ওকী(৫৪৪)। তারা বলেন: নিশ্চয় (আল্লাহর) অবতরণ করা সত্য।” (৫৪৫)
ইবন ওদ্দাহ বলেন: আমি ইউসুফ ইবন 'আদীকে(৫৪৬) আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: হ্যাঁ, আমি সেটা বিশ্বাস করি, তবে সে ব্যাপারে কোনো সীমা বর্ণনা করি না।
আবার ইবন মাঈনকে(৫৪৭) এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: হ্যাঁ, আমি তা বিশ্বাস করি, তবে কোনো সীমা নির্ধারণ করি না। (৫৪৮)
টিকাঃ
৫৩৫. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/২৭৮)।
৫৩৬. আল্লাহ কর্তৃক নিকটতম আসমানে অবতরণ এটি আল্লাহ একটি গুণ যা সিফাতে ফি'লিয়্যাহ ইখতিয়ারিয়্যাহ নামে বিখ্যাত। এ গুণটিকে অন্যান্য গুণের মতোই সাব্যস্ত করতে হবে। বলতে হবে, আল্লাহ তা'আলার মহত্ব ও বড়ত্বের জন্য উপযোগী ভাবে তিনি নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন, তবে সেটার ধরণ আমাদের জানা নেই। আমরা তাঁর অবতরণ করার গুণটিকে নিষ্ক্রীয়করণ করি না, অপব্যাখ্যাও দাঁড় করাই না। আলেমগণ এ গুণটির বর্ণনার জন্য অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন। বরং তাদের অনেকেই এর ওপর আলাদা গ্রন্থ লিখেছেন। ইমাম আজুররী তার আশ-শরী'আহ গ্রন্থে পৃ. ৩০৬ বলেন, অধ্যায়: ঈমান ও সত্যায়ন করতে হবে যে মহান আল্লাহ নিকটতম আসমানে প্রতি রাতে অবতরণ করেন। তারপর বলেন, এর ওপর ঈমান আনা ফরয, বিবেকবান মুসলিমের জন্য কখনও এটা বলা শোভনীয় নয় যে, তিনি কীভাবে অবতরণ করেন? আর এ গুণটিকে মু'তাযিলারা ব্যতীত কেউ অস্বীকার করে না। হক্বপন্থীরা সর্বদা বলে, এর ওপর ঈমান আনা ফরয, কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে হাদীস এসেছে যে, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নেমে আসেন।... তারপর তিনি এতদসংক্রান্ত আছারগুলো একে একে বর্ণনা করেন। অনুরূপ ইমাম ইবন খুযাইমাহ তাঁর কিতাবুত তাওহীদে (১/২৮৯-২৯০) বলেন, অধ্যায়: সেসব সংবাদের বর্ণনায় যা প্রতিষ্ঠিত সহীহ সুন্নাহতে সাব্যস্ত হয়েছে, মহান রব্ব কর্তৃক প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নাযিল হওয়ার ওপর, যা হিজায ও ইরাকের আলেমগণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আমরা এসব সংবাদ ও হাদীসের সত্যতার ওপর সাক্ষ্য দেই, এমন সাক্ষ্য যা মুখের স্বীকৃতির মাধ্যমে অন্তরের সত্যায়নের মাধ্যমে, এসব হাদীসে রব্ব কর্তৃক অবতরণ করার যে সংবাদ দেয়া হয়েছে যা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করার ওপর। তবে আমরা কোনো রকম ধরণ নির্ধারণ করি না। কারণ আমাদের নবী আমাদের জন্য আমাদের রব্ব আমাদের স্রষ্টা কর্তৃক নিকটতম আসমানে নাযিল হওয়ার ধরণ বর্ণনা করেননি। তবে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি অবতরণ করেন। তারপর বলেন, সুতরাং আমরা সেটা বলি ও সেটা বিশ্বাস করি যা এসব হাদীসে অবতরণের ব্যাপারে এসেছে, ধরণ বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা ভনিতার আশ্রয় গ্রহণ করি না।.... তারপর বলেন, এসব হাদীসে যা স্পষ্ট হলো, প্রকাশ পেলো ও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হলো তা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানের উপরে, যা আমাদের নবী আমাদের জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা সেখানে নেমে আসেন। কারণ আরবী ভাষায় এটা বলা অসম্ভব যে, নিচ থেকে উপরের দিকে অবতরণ করেছে। হাদীসসমূহের ভাষ্যের দাবি হচ্ছে অবতরণ হয় উপর থেকে নিচের দিকে।... তারপর তিনি এর ওপর প্রমাণবাহী আছারসমূহ বর্ণনা করেন। ইমাম দারেমী তাঁর 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়ি্যাহ' গ্রন্থে পৃ. ৬৩, ৭৯ বলেন, অধ্যায়: অবতরণ। তারপর তিনি এতসংক্রান্ত আছার ও নসসমূহ উল্লেখ করেন। তারপর বলেন, সুতরাং এসব হাদীস তার সবগুলোতে বা অধিকাংশে এসেছে যে, রব্ব সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা এসব স্থানে অবতরণ করেন। এসব হাদীস ও আছারে আসা বর্ণনার ওপর বিশ্বাস ও ঈমান আনার উপরেই আমি আমাদের ফিকহ ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উস্তাদদের পেয়েছি। তাদের কেউই তা অস্বীকার করতেন না। তাদের কেউ তা বর্ণনা করতেও পিছপা হতেন না। তারপর তিনি বলেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য যে আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে নেমে আসেন তাঁর এ কথার ওপর ঈমান আনা ফরয। মহান রব্বকে যা তিনি করেন তাতে জিজ্ঞেস করা যায় না যে, কীভাবে করবেন? বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।...." অনুরূপভাবে ইমাম দারাকুত্বনী রাহিমাহুল্লাহ আলাদা করে একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন, "কিতাবুন নুযূল"; যাতে তিনি আল্লাহ তা'আলার অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো একে একে নিয়ে এসেছেন। কিতাবটি ইমাম দারাকুতনীরই আরেক কিতাব 'আস-সিফাত' এর সাথে একত্রে ছাপা হয়েছে, যা আমাদের উস্তাদ শাইখ ড. আলী ইবন মুহাম্মাদ নাসের ফাকীহী কর্তৃক তাহকীক করা।
অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ আল্লাহর অবতরণ সংক্রান্ত বর্ণিত হাদীসটির ব্যাখ্যায় পূর্ণ একখণ্ড গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন, 'শারহু হাদীসিন নুযূল'। বস্তুত নুযুল বা অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির পর্যায়ের; সুতরাং তা অস্বীকার করা কিংবা তাতে ত্রুটি খুঁজে দোষ প্রদান করা অসম্ভব। দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/২১৭-২১৮); যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৭৯; ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ৫; ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১২৮-১২৯); আবু ইসমা'ঈল আস-সাবৃনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবিল হাদীস, পৃ. ২৬।
৫৩৭. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণের মতাদর্শ হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে অবতরণ করলেও তিনি 'আরশের উপর অবশ্যই রয়েছেন। তিনি কখনও তাঁর সৃষ্টির নিচে নন। কখনও সৃষ্টিকুলের দ্বারা তিনি পরিবেষ্টিত হন না। বরং তিনি সর্বোচ্চ পবিত্র সত্তা। নিকটে থাকলেও উপরে, উপরে থাকলেও বিশেষভাবে নিকটে। আর এ জন্যই একাধিক সালাফে সালেহীন ইজমা' বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহ কখনও আসমানের অভ্যন্তরে নন। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (৭/৭)। আর সেজন্যই সালাফে সালেহীনের কেউ কখনও তাঁর অবতরণকে 'সত্তাগত' বলেননি। সুতরাং কেউ যদি সেটা বলে থাকে তবে ভুলই বলেছে অথবা স্বয়ং অবতরণ করেন এটা বুঝানোর জন্য বলেছেন।
৫৩৮. অর্থাৎ ইমাম ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৩৯. যেমন তিনি বলেন, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন সা'ঈদ ইবন ফাহলুল, তিনি আল-'আক্কী থেকে, তিনি ইবন বুকাইর থেকে, তিনি বলেন, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন মালেক, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি আবু আব্দিল্লাহ আল-আগার ও আবু সালামাহ ইবন আব্দির রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাদের মহান ও বরকতময় রব্ব প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, যখন রাতের শেষ এক- তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তারপর বলেন, কে আমাকে ডাকবে, ফলে আমি তার ডাকে সাড়া দিব? কে আমার কাছে কিছু চাইবে, ফলে আমি তাকে প্রদান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে ফলে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।" বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ (৩/২৯), হাদীস নং ১১৪৫; মুসলিম, আস-সহীহ (১/৫২১), হাদীস নং ৭৫৮।
৫৪০. তিনি হচ্ছেন আবু হাযম ওয়াহাব ইবন מסררה ইবন মুফরিজ ইবন বাকার, আত-তাইমী, আল- আন্দালুসী, আল-হিজাযী, আল-মালেকী। তিনি ইবন ওদ্দাহ থেকে ইবন আবী শাইবাহ এর মুসনাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি ফিকহের শিরোমনি হাদীস ও তার রিজাল সম্পর্কে তীক্ষ্ম দিব্যদৃষ্টি সম্পন্ন লোক ছিলেন। সাথে সাথে পরহেযগারী, তাকওয়া ইত্যাদিতেও বিখ্যাত। তার শহরে যাবতীয় ফতোয়া তার উপরেই গড়াত। তিনি হিজরী ৩৪৬ সালে মারা যান। দেখুন, মুহাম্মাদ ইবন ফাতূহ আল-হামীদী, জাযওয়াতুল মুক্কতাবিস, পৃ. ৩৬০; ইবনুল ফারাদ্বী, তারীখে উলামায়ে আন্দালুস (২/১৬৫-১৬৬); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৮৯০); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৫/৫৫৬)।
৫৪১. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ওদ্দাহ ইবন বাযী', আল-মারওয়ানী, আল-কুরতুবী। আন্দালুসের বড় নৃপতি আব্দুর রহমান ইবন মু'আওয়িয়াহ আদ-দাখিল এর মাওলা। তিনি হাদীস শুনেছেন ইবন মা'ঈন, ইসমা'ঈল ইবন আবী উওয়াইস প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে শুনেছেন আহমাদ ইবন খালেদ আল-জাব্বাব, কাসেম ইবন আসবাগ প্রমুখ। তার সম্পর্কে ইবনুল ফারাদ্বী বলেন, 'তিনি ছিলেন হাদীসশাস্ত্রের পণ্ডিত, হাদীসের বিভিন্ন সূত্র সম্পর্কে দক্ষ, হাদীসের ইলাল সম্পর্কে মত দেয়ার অধিকারী, ইবাদতকারীদের অনেক ঘটনা বর্ণনাকারী ও দুনিয়াবিমুখ, ইলম প্রচার-প্রসারে সবরকারী, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী মানুষ। যার মাধ্যমে আল্লাহ স্পেনবাসীর উপকার করেছেন। ইবনুল জাব্বাব তার সম্মান করতেন, তার আক্কল ও ফদ্বল এর প্রশংসা করতেন, তার ওপর কাউকে অগ্রণী করতেন না। তবে তিনি অনেক সময় ধারণাবশত অনেক সহীহ হাদীসকে হাদীস মনে করতেন না। তার রচিত একটি গ্রন্থ বিখ্যাত, তা হচ্ছে বাবু মা জাআ ফিল বিদা'য়ি। হিজরী ২৮৭ সালে তার মৃত্যু; অপর মতে ২৮৬; আর ইমাম যাহাবী মীযানুল ই'তিদালে বলেছেন ২৮০ এর দিকে। প্রথম মতটিই বিশুদ্ধ। দেখুন, ইবনুল ফারাদ্বী, তারীখু উলামায়িল আন্দালুস (২/১৫-১৭); ইবন উমাইরাহ, বুগইয়াতুল মুলতামিস, পৃ. ১৩৩; ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/৪৪৫)।
৫৪২. তিনি হচ্ছেন মুহাইর ইবন আব্বাদ ইবন মালীহ ইবন যুহাইর আর-রুওয়াসী, আল-কৃষ্ণী। তিনি প্রখ্যাত ইমাম ওকী' ইবনুল জাররাহ এর চাচাতো ভাই। হাদীস বর্ণনা করেছেন মালেক, ইবন 'উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাতেম আর-রাযী, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন 'আম্মার, তারা দু'জন তাকে নির্ভরযোগ্যও বলেছেন। তার থেকে আরও হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যুর'আহ আদ-দিমাশকী প্রমুখ। সালেহ জাযারাহ বলেন, তিনি সাদূক (হাসানুল হাদীস) ছিলেন। ইবনু আব্দিল বার তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। অনুরূপ আবু যুর'আহ ও ইবন আবিল হুওয়ারী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হিজরী ২৩৮ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (২/৮৩); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১১/৩৮৩); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৩/৩৪৪)।
৫৪৩. তিনি হচ্ছেন 'আবু আমর ঈসা ইবন ইউনুস ইবন আবী ইসহাক্ব, আল-হামাদানী, আস-সাবী'ঈ, আল-কৃষ্ণী। তিনি হাদীস গ্রহণ করেছেন সুলাইমান আত-তাইমী, হিশাম ইবন উরওয়া প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, আবু বকর ইবন আবী শাইবাহ, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ প্রমুখ। তিনি এক বছর হজ করতেন আরেক বছর জিহাদ করতেন। সীমান্তে অবস্থান করা পছন্দ করতেন। ইমাম, আদর্শ ও হাফেয। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, প্রশস্ত ইলমের অধিকারী, অধিক সফরকারী, সম্মান ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ'। বলা হয়ে থাকে, তিনি ইবন 'উয়াইনাহ এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান, তখন ইবন 'উয়াইনাহ তাকে বলেন, স্বাগতম ফকীহ ইবনুল ফকীহ ইবনুল ফকীহকে। হিজরী ১৮৭ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১১/১৫২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/২৭৯); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৮৯)।
৫৪৪. তিনি হচ্ছেন আবু সুফইয়ান ওকী' ইবনুল জাররাহ ইবন মালীহ আর-রুওয়াসী, আল-কৃষ্ণী। ইসলামের বড় হাফেয ও আলেমগণের অন্যতম। তার সময়ের লোকদের ইমাম। পরহেযগারী ও ইবাদতে প্রসিদ্ধ। তিনি হাদীস শুনেছেন হিশাম ইবন উরওয়া ও আল-আ'মাশ প্রমুখ থেকে। তার থেকে হাদীস শুনেছেন সাওরী (তার উস্তাদ), ইবনুল মুবারক, আব্দুর রহমান ইবন মাহদী, আলী ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইবন মা'ঈন প্রমুখ। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, আমি ওকী' এর মতো কাউকে ইলম জমাকারী ও হিফয সম্পাদনকারী দেখিনি। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি ছিলেন, ইলমের সমুদ্র, হিফযের ইমাম; আহমাদ তাকে খুব সম্মান করতেন ও তার মর্যাদা তুলে ধরতেন। ইবন মা'ঈন বলেন, ওকী' যেন তার সময়ের আওযা'ঈ। হিজরী ১৯৬ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/৩৯৪); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৮/৩৬৮); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৩/৪৪৬); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/১৪০)।
৫৪৫. এ আছারটি ইবন আবী যামানীন ছাড়া আরও যারা তাদের কিতাবে এনেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ১- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ১৮৮। ২- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৫৬)।
৫৪৬. তিনি হচ্ছেন, আবু ইয়া'কুব ইউসুফ ইবন 'আদী ইবন যুরাইক্ব আত-তাইমী আল-কুফী। তার সময়ের বড় আলেমগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শারীক, আবিল আহওয়াস, 'আমর ইবন আবিল মিকদাম ও মালেক ইবন আনাস প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন বুখারী, আবু যুর'আহ, আবু হাতেম প্রমুখ। আবু যুর'আহ বলেন, সিক্কাহ বা নির্ভরযোগ্য। ব্যবসায়ের জন্য মিসরে যান এবং হিজরী ২৩২ সালে সেখানে মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৪৮৪); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১৮৯); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/৭৫)।
৫৪৭. তিনি হচ্ছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন ইবন 'আওন ইবন যিয়াদ ইবন সাত্ত্বাম আল- মুররী, তাদের মাওলা, আল-বাগদাদী। হাদীস শুনেছেন ইসমা'ঈল ইবন 'উলাইয়্যাহ, ইসমা'ঈল ইবন মুজালিদ ইবন সা'ঈদ, হাম্মাদ ইবন উসামাহ, সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ, 'আব্দুল্লাহ ইবন রাজা আল-মাক্কী, আব্দুর রহমান ইবন মাহদী প্রমুখ। তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবরাহীম ইবন ইয়া'কুব আল-জাওযাজানী, আহমাদ ইবন হাম্বল, আবু ঘুর'আহ আর-রাযী ও আবু যুর'আহ আদ-দিমাশকী প্রমুখ। তিনি ছিলেন আলেম ও ইমাম। রিজালশাস্ত্রের মহাপণ্ডিত। রিজালশাস্ত্রের কিতাবসমূহ তার বক্তব্য ও মন্তব্যে ভরপুর। বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদীস লিখেছি। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন যা লিখেছেন তা কোনো ব্যক্তি লিখেছেন বলে আমি জানি না। তার জন্ম হয়েছিল হিজরী ১৫৮ সালে, আর মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ২৩৩ সালে। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (১/৩১৪); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৪/১৭৭); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৬/১৩৯); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১১/৭১)।
৫৪৮. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আলেমগণ এ বিষয়টির স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ কর্তৃক নিকটতম আসমানে নেমে আসা সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির সূত্র দ্বারা সাব্যস্ত, এ গুণটি জাহমিয়্যাদের ওপর অনেক কঠিন আঘাত।
অতঃপর তিনি বলেন: অধ্যায়: অবতীর্ণ হওয়ার ওপর ঈমান(৫৩৫)
তিনি বলেন, আহলুস সুন্নাহের কথা হচ্ছে- নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে অবতীর্ণ হন। কোনো সীমা নির্ধারণ ছাড়াই তারা এতে ঈমান রাখে। (৫৩৭)
আর তিনি(৫৩৮) ইমাম মালেক ও অন্যান্যদের(৫৩৯) সূত্রে হাদীস উল্লেখ করেন, অবশেষে বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহাব(৫৪০), তিনি ইবন ওদ্দাহ(৫৪১) থেকে, তিনি যুহাইর ইবন 'আব্বাদ(৫৪২) থেকে, তিনি বলেন: আমি যেসব শাইখদের পেয়েছি তাদের মধ্যে রয়েছে মালেক, সুফইয়ান, ফুযাইল ইবন ইয়াদ্ব, ঈসা(৫৪৩) ও ইবনুল মুবারক এবং ওকী(৫৪৪)। তারা বলেন: নিশ্চয় (আল্লাহর) অবতরণ করা সত্য।” (৫৪৫)
ইবন ওদ্দাহ বলেন: আমি ইউসুফ ইবন 'আদীকে(৫৪৬) আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: হ্যাঁ, আমি সেটা বিশ্বাস করি, তবে সে ব্যাপারে কোনো সীমা বর্ণনা করি না।
আবার ইবন মাঈনকে(৫৪৭) এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: হ্যাঁ, আমি তা বিশ্বাস করি, তবে কোনো সীমা নির্ধারণ করি না। (৫৪৮)
টিকাঃ
৫৩৫. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/২৭৮)।
৫৩৬. আল্লাহ কর্তৃক নিকটতম আসমানে অবতরণ এটি আল্লাহ একটি গুণ যা সিফাতে ফি'লিয়্যাহ ইখতিয়ারিয়্যাহ নামে বিখ্যাত। এ গুণটিকে অন্যান্য গুণের মতোই সাব্যস্ত করতে হবে। বলতে হবে, আল্লাহ তা'আলার মহত্ব ও বড়ত্বের জন্য উপযোগী ভাবে তিনি নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন, তবে সেটার ধরণ আমাদের জানা নেই। আমরা তাঁর অবতরণ করার গুণটিকে নিষ্ক্রীয়করণ করি না, অপব্যাখ্যাও দাঁড় করাই না। আলেমগণ এ গুণটির বর্ণনার জন্য অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন। বরং তাদের অনেকেই এর ওপর আলাদা গ্রন্থ লিখেছেন। ইমাম আজুররী তার আশ-শরী'আহ গ্রন্থে পৃ. ৩০৬ বলেন, অধ্যায়: ঈমান ও সত্যায়ন করতে হবে যে মহান আল্লাহ নিকটতম আসমানে প্রতি রাতে অবতরণ করেন। তারপর বলেন, এর ওপর ঈমান আনা ফরয, বিবেকবান মুসলিমের জন্য কখনও এটা বলা শোভনীয় নয় যে, তিনি কীভাবে অবতরণ করেন? আর এ গুণটিকে মু'তাযিলারা ব্যতীত কেউ অস্বীকার করে না। হক্বপন্থীরা সর্বদা বলে, এর ওপর ঈমান আনা ফরয, কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে হাদীস এসেছে যে, 'নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নেমে আসেন।... তারপর তিনি এতদসংক্রান্ত আছারগুলো একে একে বর্ণনা করেন। অনুরূপ ইমাম ইবন খুযাইমাহ তাঁর কিতাবুত তাওহীদে (১/২৮৯-২৯০) বলেন, অধ্যায়: সেসব সংবাদের বর্ণনায় যা প্রতিষ্ঠিত সহীহ সুন্নাহতে সাব্যস্ত হয়েছে, মহান রব্ব কর্তৃক প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নাযিল হওয়ার ওপর, যা হিজায ও ইরাকের আলেমগণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আমরা এসব সংবাদ ও হাদীসের সত্যতার ওপর সাক্ষ্য দেই, এমন সাক্ষ্য যা মুখের স্বীকৃতির মাধ্যমে অন্তরের সত্যায়নের মাধ্যমে, এসব হাদীসে রব্ব কর্তৃক অবতরণ করার যে সংবাদ দেয়া হয়েছে যা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করার ওপর। তবে আমরা কোনো রকম ধরণ নির্ধারণ করি না। কারণ আমাদের নবী আমাদের জন্য আমাদের রব্ব আমাদের স্রষ্টা কর্তৃক নিকটতম আসমানে নাযিল হওয়ার ধরণ বর্ণনা করেননি। তবে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি অবতরণ করেন। তারপর বলেন, সুতরাং আমরা সেটা বলি ও সেটা বিশ্বাস করি যা এসব হাদীসে অবতরণের ব্যাপারে এসেছে, ধরণ বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা ভনিতার আশ্রয় গ্রহণ করি না।.... তারপর বলেন, এসব হাদীসে যা স্পষ্ট হলো, প্রকাশ পেলো ও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হলো তা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানের উপরে, যা আমাদের নবী আমাদের জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা সেখানে নেমে আসেন। কারণ আরবী ভাষায় এটা বলা অসম্ভব যে, নিচ থেকে উপরের দিকে অবতরণ করেছে। হাদীসসমূহের ভাষ্যের দাবি হচ্ছে অবতরণ হয় উপর থেকে নিচের দিকে।... তারপর তিনি এর ওপর প্রমাণবাহী আছারসমূহ বর্ণনা করেন। ইমাম দারেমী তাঁর 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়ি্যাহ' গ্রন্থে পৃ. ৬৩, ৭৯ বলেন, অধ্যায়: অবতরণ। তারপর তিনি এতসংক্রান্ত আছার ও নসসমূহ উল্লেখ করেন। তারপর বলেন, সুতরাং এসব হাদীস তার সবগুলোতে বা অধিকাংশে এসেছে যে, রব্ব সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা এসব স্থানে অবতরণ করেন। এসব হাদীস ও আছারে আসা বর্ণনার ওপর বিশ্বাস ও ঈমান আনার উপরেই আমি আমাদের ফিকহ ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উস্তাদদের পেয়েছি। তাদের কেউই তা অস্বীকার করতেন না। তাদের কেউ তা বর্ণনা করতেও পিছপা হতেন না। তারপর তিনি বলেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য যে আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে নেমে আসেন তাঁর এ কথার ওপর ঈমান আনা ফরয। মহান রব্বকে যা তিনি করেন তাতে জিজ্ঞেস করা যায় না যে, কীভাবে করবেন? বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।...." অনুরূপভাবে ইমাম দারাকুত্বনী রাহিমাহুল্লাহ আলাদা করে একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন, "কিতাবুন নুযূল"; যাতে তিনি আল্লাহ তা'আলার অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো একে একে নিয়ে এসেছেন। কিতাবটি ইমাম দারাকুতনীরই আরেক কিতাব 'আস-সিফাত' এর সাথে একত্রে ছাপা হয়েছে, যা আমাদের উস্তাদ শাইখ ড. আলী ইবন মুহাম্মাদ নাসের ফাকীহী কর্তৃক তাহকীক করা।
অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ আল্লাহর অবতরণ সংক্রান্ত বর্ণিত হাদীসটির ব্যাখ্যায় পূর্ণ একখণ্ড গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন, 'শারহু হাদীসিন নুযূল'। বস্তুত নুযুল বা অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির পর্যায়ের; সুতরাং তা অস্বীকার করা কিংবা তাতে ত্রুটি খুঁজে দোষ প্রদান করা অসম্ভব। দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/২১৭-২১৮); যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৭৯; ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ৫; ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১২৮-১২৯); আবু ইসমা'ঈল আস-সাবৃনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবিল হাদীস, পৃ. ২৬।
৫৩৭. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণের মতাদর্শ হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে অবতরণ করলেও তিনি 'আরশের উপর অবশ্যই রয়েছেন। তিনি কখনও তাঁর সৃষ্টির নিচে নন। কখনও সৃষ্টিকুলের দ্বারা তিনি পরিবেষ্টিত হন না। বরং তিনি সর্বোচ্চ পবিত্র সত্তা। নিকটে থাকলেও উপরে, উপরে থাকলেও বিশেষভাবে নিকটে। আর এ জন্যই একাধিক সালাফে সালেহীন ইজমা' বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহ কখনও আসমানের অভ্যন্তরে নন। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (৭/৭)। আর সেজন্যই সালাফে সালেহীনের কেউ কখনও তাঁর অবতরণকে 'সত্তাগত' বলেননি। সুতরাং কেউ যদি সেটা বলে থাকে তবে ভুলই বলেছে অথবা স্বয়ং অবতরণ করেন এটা বুঝানোর জন্য বলেছেন।
৫৩৮. অর্থাৎ ইমাম ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৩৯. যেমন তিনি বলেন, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন সা'ঈদ ইবন ফাহলুল, তিনি আল-'আক্কী থেকে, তিনি ইবন বুকাইর থেকে, তিনি বলেন, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন মালেক, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি আবু আব্দিল্লাহ আল-আগার ও আবু সালামাহ ইবন আব্দির রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাদের মহান ও বরকতময় রব্ব প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, যখন রাতের শেষ এক- তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তারপর বলেন, কে আমাকে ডাকবে, ফলে আমি তার ডাকে সাড়া দিব? কে আমার কাছে কিছু চাইবে, ফলে আমি তাকে প্রদান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে ফলে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।" বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ (৩/২৯), হাদীস নং ১১৪৫; মুসলিম, আস-সহীহ (১/৫২১), হাদীস নং ৭৫৮।
৫৪০. তিনি হচ্ছেন আবু হাযম ওয়াহাব ইবন מסררה ইবন মুফরিজ ইবন বাকার, আত-তাইমী, আল- আন্দালুসী, আল-হিজাযী, আল-মালেকী। তিনি ইবন ওদ্দাহ থেকে ইবন আবী শাইবাহ এর মুসনাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি ফিকহের শিরোমনি হাদীস ও তার রিজাল সম্পর্কে তীক্ষ্ম দিব্যদৃষ্টি সম্পন্ন লোক ছিলেন। সাথে সাথে পরহেযগারী, তাকওয়া ইত্যাদিতেও বিখ্যাত। তার শহরে যাবতীয় ফতোয়া তার উপরেই গড়াত। তিনি হিজরী ৩৪৬ সালে মারা যান। দেখুন, মুহাম্মাদ ইবন ফাতূহ আল-হামীদী, জাযওয়াতুল মুক্কতাবিস, পৃ. ৩৬০; ইবনুল ফারাদ্বী, তারীখে উলামায়ে আন্দালুস (২/১৬৫-১৬৬); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৮৯০); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৫/৫৫৬)।
৫৪১. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ওদ্দাহ ইবন বাযী', আল-মারওয়ানী, আল-কুরতুবী। আন্দালুসের বড় নৃপতি আব্দুর রহমান ইবন মু'আওয়িয়াহ আদ-দাখিল এর মাওলা। তিনি হাদীস শুনেছেন ইবন মা'ঈন, ইসমা'ঈল ইবন আবী উওয়াইস প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে শুনেছেন আহমাদ ইবন খালেদ আল-জাব্বাব, কাসেম ইবন আসবাগ প্রমুখ। তার সম্পর্কে ইবনুল ফারাদ্বী বলেন, 'তিনি ছিলেন হাদীসশাস্ত্রের পণ্ডিত, হাদীসের বিভিন্ন সূত্র সম্পর্কে দক্ষ, হাদীসের ইলাল সম্পর্কে মত দেয়ার অধিকারী, ইবাদতকারীদের অনেক ঘটনা বর্ণনাকারী ও দুনিয়াবিমুখ, ইলম প্রচার-প্রসারে সবরকারী, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী মানুষ। যার মাধ্যমে আল্লাহ স্পেনবাসীর উপকার করেছেন। ইবনুল জাব্বাব তার সম্মান করতেন, তার আক্কল ও ফদ্বল এর প্রশংসা করতেন, তার ওপর কাউকে অগ্রণী করতেন না। তবে তিনি অনেক সময় ধারণাবশত অনেক সহীহ হাদীসকে হাদীস মনে করতেন না। তার রচিত একটি গ্রন্থ বিখ্যাত, তা হচ্ছে বাবু মা জাআ ফিল বিদা'য়ি। হিজরী ২৮৭ সালে তার মৃত্যু; অপর মতে ২৮৬; আর ইমাম যাহাবী মীযানুল ই'তিদালে বলেছেন ২৮০ এর দিকে। প্রথম মতটিই বিশুদ্ধ। দেখুন, ইবনুল ফারাদ্বী, তারীখু উলামায়িল আন্দালুস (২/১৫-১৭); ইবন উমাইরাহ, বুগইয়াতুল মুলতামিস, পৃ. ১৩৩; ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/৪৪৫)।
৫৪২. তিনি হচ্ছেন মুহাইর ইবন আব্বাদ ইবন মালীহ ইবন যুহাইর আর-রুওয়াসী, আল-কৃষ্ণী। তিনি প্রখ্যাত ইমাম ওকী' ইবনুল জাররাহ এর চাচাতো ভাই। হাদীস বর্ণনা করেছেন মালেক, ইবন 'উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাতেম আর-রাযী, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন 'আম্মার, তারা দু'জন তাকে নির্ভরযোগ্যও বলেছেন। তার থেকে আরও হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যুর'আহ আদ-দিমাশকী প্রমুখ। সালেহ জাযারাহ বলেন, তিনি সাদূক (হাসানুল হাদীস) ছিলেন। ইবনু আব্দিল বার তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। অনুরূপ আবু যুর'আহ ও ইবন আবিল হুওয়ারী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হিজরী ২৩৮ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (২/৮৩); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১১/৩৮৩); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৩/৩৪৪)।
৫৪৩. তিনি হচ্ছেন 'আবু আমর ঈসা ইবন ইউনুস ইবন আবী ইসহাক্ব, আল-হামাদানী, আস-সাবী'ঈ, আল-কৃষ্ণী। তিনি হাদীস গ্রহণ করেছেন সুলাইমান আত-তাইমী, হিশাম ইবন উরওয়া প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, আবু বকর ইবন আবী শাইবাহ, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ প্রমুখ। তিনি এক বছর হজ করতেন আরেক বছর জিহাদ করতেন। সীমান্তে অবস্থান করা পছন্দ করতেন। ইমাম, আদর্শ ও হাফেয। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, প্রশস্ত ইলমের অধিকারী, অধিক সফরকারী, সম্মান ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ'। বলা হয়ে থাকে, তিনি ইবন 'উয়াইনাহ এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান, তখন ইবন 'উয়াইনাহ তাকে বলেন, স্বাগতম ফকীহ ইবনুল ফকীহ ইবনুল ফকীহকে। হিজরী ১৮৭ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১১/১৫২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/২৭৯); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৮৯)।
৫৪৪. তিনি হচ্ছেন আবু সুফইয়ান ওকী' ইবনুল জাররাহ ইবন মালীহ আর-রুওয়াসী, আল-কৃষ্ণী। ইসলামের বড় হাফেয ও আলেমগণের অন্যতম। তার সময়ের লোকদের ইমাম। পরহেযগারী ও ইবাদতে প্রসিদ্ধ। তিনি হাদীস শুনেছেন হিশাম ইবন উরওয়া ও আল-আ'মাশ প্রমুখ থেকে। তার থেকে হাদীস শুনেছেন সাওরী (তার উস্তাদ), ইবনুল মুবারক, আব্দুর রহমান ইবন মাহদী, আলী ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইবন মা'ঈন প্রমুখ। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, আমি ওকী' এর মতো কাউকে ইলম জমাকারী ও হিফয সম্পাদনকারী দেখিনি। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি ছিলেন, ইলমের সমুদ্র, হিফযের ইমাম; আহমাদ তাকে খুব সম্মান করতেন ও তার মর্যাদা তুলে ধরতেন। ইবন মা'ঈন বলেন, ওকী' যেন তার সময়ের আওযা'ঈ। হিজরী ১৯৬ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/৩৯৪); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৮/৩৬৮); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৩/৪৪৬); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/১৪০)।
৫৪৫. এ আছারটি ইবন আবী যামানীন ছাড়া আরও যারা তাদের কিতাবে এনেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ১- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, শারহু হাদীসিন নুযূল, পৃ. ১৮৮। ২- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৫৬)।
৫৪৬. তিনি হচ্ছেন, আবু ইয়া'কুব ইউসুফ ইবন 'আদী ইবন যুরাইক্ব আত-তাইমী আল-কুফী। তার সময়ের বড় আলেমগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শারীক, আবিল আহওয়াস, 'আমর ইবন আবিল মিকদাম ও মালেক ইবন আনাস প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন বুখারী, আবু যুর'আহ, আবু হাতেম প্রমুখ। আবু যুর'আহ বলেন, সিক্কাহ বা নির্ভরযোগ্য। ব্যবসায়ের জন্য মিসরে যান এবং হিজরী ২৩২ সালে সেখানে মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৪৮৪); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১৮৯); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/৭৫)।
৫৪৭. তিনি হচ্ছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন ইবন 'আওন ইবন যিয়াদ ইবন সাত্ত্বাম আল- মুররী, তাদের মাওলা, আল-বাগদাদী। হাদীস শুনেছেন ইসমা'ঈল ইবন 'উলাইয়্যাহ, ইসমা'ঈল ইবন মুজালিদ ইবন সা'ঈদ, হাম্মাদ ইবন উসামাহ, সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ, 'আব্দুল্লাহ ইবন রাজা আল-মাক্কী, আব্দুর রহমান ইবন মাহদী প্রমুখ। তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবরাহীম ইবন ইয়া'কুব আল-জাওযাজানী, আহমাদ ইবন হাম্বল, আবু ঘুর'আহ আর-রাযী ও আবু যুর'আহ আদ-দিমাশকী প্রমুখ। তিনি ছিলেন আলেম ও ইমাম। রিজালশাস্ত্রের মহাপণ্ডিত। রিজালশাস্ত্রের কিতাবসমূহ তার বক্তব্য ও মন্তব্যে ভরপুর। বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদীস লিখেছি। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন যা লিখেছেন তা কোনো ব্যক্তি লিখেছেন বলে আমি জানি না। তার জন্ম হয়েছিল হিজরী ১৫৮ সালে, আর মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ২৩৩ সালে। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (১/৩১৪); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৪/১৭৭); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৬/১৩৯); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১১/৭১)।
৫৪৮. আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আলেমগণ এ বিষয়টির স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ কর্তৃক নিকটতম আসমানে নেমে আসা সংক্রান্ত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির সূত্র দ্বারা সাব্যস্ত, এ গুণটি জাহমিয়্যাদের ওপর অনেক কঠিন আঘাত।
📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার ওপর কিছু দলীল উপস্থাপন
মুহাম্মাদ [ইবন আবি যামানীন] বলেন: এ হাদীস বর্ণনা করে যে, আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে, যমীনে নয়। এটা আল্লাহর কিতাব এবং অসংখ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ৫]
"তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর সমীপে উঠে যায়।” [সূরা আস-সাজদাহ: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ ﴾ [الملك: ১৬, ১৭]
"তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর(৫৫০) যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। [সূরা আল-মুলক: ১৬, ১৭]
তিনি আরও বলেন:
إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ১০]
"তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ উঠে যায় আর সৎ আমল তিনিই তা উঠিয়ে নেন।” [সূরা ফাতির: ১০]
তিনি আরও বলেন:
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ﴾ [الانعام: ১৮]
"আর তিনিই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী তাঁর বান্দাদের উপর।” [সূরা আল-আন'আম: ১৮]
তিনি আরও বলেন:
يَعِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَى [ال عمران: ৫৫]
"হে 'ঈসা! নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।" [সূরা আলে ইমরান: ৫৫]
তিনি আরও বলেন;
بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ﴾ [النساء: ১৫৮]
"বরং আল্লাহ্ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন।” [সূরা আন-নিসা: ১৫৮]
আর তিনি(৫৫১) ইমাম মালিক এর সূত্রে ঐ দাসীর কথা উল্লেখ করেন যাতে নবীজি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:
«أَيْنَ اللَّهُ ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ».
"আল্লাহ কোথায়? সে বলল আসমানের উপর। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও; কেননা সে মুমিন দাসী।”(৫৫২)
তিনি(৫৫৩) বলেন, এ ধরনের আরও অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সুতরাং তিনি কতইনা পবিত্র, যার জ্ঞান যমীনস্থ সবকিছু সম্পর্কে যেমন আসমানস্থ সবকিছু সম্পর্কেও তেমন। তিনি ভিন্ন সত্য কোনো মা'বুদ নেই, তিনি সুউচ্চ, মহান।
টিকাঃ
৫৪৫৯. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/৩০২)।
৫৫০. আয়াতে বর্ণিত 'সামা' অর্থ যদি ঊর্ধ্বালোক অর্থ করা হয়, তাহলে 'ফী' অর্থ 'মধ্যে' করা যায়। আর যদি 'সামা' অর্থ আসমান নামীয় একটি দেহ বিশিষ্ট স্তর ধরা হয় তখন 'ফী' অর্থ করা হবে 'উপরে'। আরবী ভাষায় এর বহু নযীর আছে। আর কুরআনে কারীমেও সে রকম ব্যবহার এসেছে।
৫৫১. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৫২. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৫৩৭। ইতোপূর্বে এর তাখরীজ চলে গেছে।
৫৫৩. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ তার উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থে।
মুহাম্মাদ [ইবন আবি যামানীন] বলেন: এ হাদীস বর্ণনা করে যে, আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে, যমীনে নয়। এটা আল্লাহর কিতাব এবং অসংখ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ ﴾ [السجدة: ৫]
"তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তাঁর সমীপে উঠে যায়।” [সূরা আস-সাজদাহ: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ ﴾ [الملك: ১৬, ১৭]
"তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর(৫৫০) যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশের উপর যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। [সূরা আল-মুলক: ১৬, ১৭]
তিনি আরও বলেন:
إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ১০]
"তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ উঠে যায় আর সৎ আমল তিনিই তা উঠিয়ে নেন।” [সূরা ফাতির: ১০]
তিনি আরও বলেন:
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ﴾ [الانعام: ১৮]
"আর তিনিই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী তাঁর বান্দাদের উপর।” [সূরা আল-আন'আম: ১৮]
তিনি আরও বলেন:
يَعِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَى [ال عمران: ৫৫]
"হে 'ঈসা! নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।" [সূরা আলে ইমরান: ৫৫]
তিনি আরও বলেন;
بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ﴾ [النساء: ১৫৮]
"বরং আল্লাহ্ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন।” [সূরা আন-নিসা: ১৫৮]
আর তিনি(৫৫১) ইমাম মালিক এর সূত্রে ঐ দাসীর কথা উল্লেখ করেন যাতে নবীজি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:
«أَيْنَ اللَّهُ ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ».
"আল্লাহ কোথায়? সে বলল আসমানের উপর। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও; কেননা সে মুমিন দাসী।”(৫৫২)
তিনি(৫৫৩) বলেন, এ ধরনের আরও অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সুতরাং তিনি কতইনা পবিত্র, যার জ্ঞান যমীনস্থ সবকিছু সম্পর্কে যেমন আসমানস্থ সবকিছু সম্পর্কেও তেমন। তিনি ভিন্ন সত্য কোনো মা'বুদ নেই, তিনি সুউচ্চ, মহান।
টিকাঃ
৫৪৫৯. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/৩০২)।
৫৫০. আয়াতে বর্ণিত 'সামা' অর্থ যদি ঊর্ধ্বালোক অর্থ করা হয়, তাহলে 'ফী' অর্থ 'মধ্যে' করা যায়। আর যদি 'সামা' অর্থ আসমান নামীয় একটি দেহ বিশিষ্ট স্তর ধরা হয় তখন 'ফী' অর্থ করা হবে 'উপরে'। আরবী ভাষায় এর বহু নযীর আছে। আর কুরআনে কারীমেও সে রকম ব্যবহার এসেছে।
৫৫১. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৫২. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ৫৩৭। ইতোপূর্বে এর তাখরীজ চলে গেছে।
৫৫৩. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ তার উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থে।