📄 ইমাম আবু ইউসুফ কর্তৃক বিশরকে তাওবা করানো
আর ইমাম আবু হানীফার ছাত্র আবু ইউসুফ কর্তৃক বিশর আল-মিররীসীকে তাওবা করানোর ঘটনা প্রসিদ্ধ। অবশেষে সে পালিয়ে গেল, যেহেতু সে সিফাতকে অস্বীকার করে জাহামের কথা প্রচার করেছিল(৫০৬)। ইবন আবি হাতিম এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। (৫০৭)
টিকাঃ
৫০৬. বস্তুত জাহাম ইবন সাফওয়ানের সাথে বিশর এর সাক্ষাত ঘটেনি। সে এসব তথ্য বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করেছিল। কারণ জাহম ১২৮ হিজরীতে মারা যায়। অপর দিকে বিশর এর জন্ম হয় ১৩৮ হিজরীতে।
৫০৭. এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন: ১- যাহাবী, আল-উলু লিল আলিয়ি্যল আযীম (২/৯৯৯), নং ৩৬৯। তিনি ইমাম ইবন আবী হাতেম এর বর্ণনায় তা সনদসহ নিয়ে আসেন। আরও দেখা যেতে পারে, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৫৪-১৫৫। সেখানে এসেছে যে, বিশর ইবনুল ওয়ালীদ আল-কিন্দী ইমাম আবু ইউসুফ আল-কাযীর কাছে এসে বললেন, আপনি আমাকে কালামশাস্ত্র থেকে নিষেধ করেন অথচ বিশর আল-মিররীসী, আলী আল-আহওয়াল ও অমুক কালামশাস্ত্রের সাথে আছে। তিনি বললেন, তারা কী বলে? তখন সে বললো, তারা বলে, আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান। তখন আবু ইউসুফ বলেন, তাদেরকে আমার সামনে হাজির করো। লোকেরা তাদের খোঁজে গেল। ইত্যবসরে বিশর উঠে চলে গেল, লোকেরা গিয়ে আলী আল-আহওয়াল ও অন্য একজন বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে আসলো। তখন আবু ইউসুফ রামিাহুল্লাহ উক্ত বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার মধ্যে যদি মারার জায়গা থাকতো তবে মেরে তক্তা বানাতাম। অতঃপর তাকে জেলে পুরানোর নির্দেশ দিলেন। আর আহওয়ালকে পিটানো হলো, তাকে দেশে দেশে ঘুরানো হলো। ২- ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (২/৫২৫, ৫২৬)। ৩- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ২২২।
📄 ইমাম ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য
মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি যামানীন(৫০৮) স্বীয় কিতাব 'উসূল আস-সুন্নাহ'তে বলেন: অধ্যায়: 'আরশের প্রতি ঈমান(৫০৯)
টিকাঃ
৫০৮. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন 'ঈসা ইবন মুহাম্মাদ আল-মুররী, আল- আন্দালুসী। কর্ডোবার শাইখ। যিনি ইবন আবী যামানীন নামে খ্যাত হয়েছেন। বহু বিদ্যার ধারক, ইলমের সমুদ্র। যুহদ ও রিক্কাকে গ্রন্থ রচনা করেছেন। উত্তম কবিতা রচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, তিনি ইবাদত, তাকওয়া ইখলাসের অধিকারী ছিলেন। রাষ্ট্র ও সরকারের লোকদের থেকে দূরে থাকতেন। সালাফে সালেহীনের আছার ও নিদর্শন অনুসরণ করে চলতেন। ইলমে অত্যন্ত প্রখর ছিলেন। জন্ম হিজরী ৩২৪ সালে, আর মৃত্যু হিজরী ৩৯৯ সালে। তার লিখিত গ্রন্থাবলির মাঝে অন্যতম হচ্ছে, 'মুখতাসারুল মুদাওয়ানাহ', মুনতাখাবুল আহকাম, হায়াতুল কুলুব, উসূলুস সুন্নাহ ইত্যাদি। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৭/১৮৮); ইবার, (২/১৯৬); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (৩/১৫৬)।
৫০৯. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০)।