📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্য

📄 ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্য


ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল বলেন, আমাদেরকে সুরাইজ ইবনুন নু'মান(৪৯৮) জানিয়েছেন, তিনি বলেন, "আমি আব্দুল্লাহ ইবন নাফে' আস-সায়েগকে(৪৯৯) বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি মালেক ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ আসমানের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান সর্বত্র। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।”(৫০০)

টিকাঃ
৪৯৮. তিনি হচ্ছেন আবুল হাসান সুরাইজ ইবন মারওয়ান আল-জাওহারী, আল-লু'লু'য়ী, আল-বাগদাদী, তার আসল হচ্ছে খোরাসান থেকে। তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে সামান্য ধারণার অনুবর্তী হতেন। যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত। তার মৃত্যু হিজরী ২১৭ সালে। দেখুন, খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৯/২১৭); ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৪/৩০৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/২১৯); খাযরাজী, খুলাসাতু তাযহীবি তাহযীবিল কামাল (১/৩৬৫); ইবন হাজার, তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ২২৯।
৪৯৯. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন নাফে' আস-সায়েগ আল-মাখযুমী, মাওলাহুম, আল- মাদানী। মদীনার বড় ফকীহগণের একজন। অনুরূপ ইমাম মালেকের ছাত্রদের একজন। তিনি ইমাম মালেকের সাথে সর্বদা থাকতেন। এমনকি তার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি চল্লিশ বছর ইমাম মালেকের সাথী হয়েছিলাম, তবে তার থেকে কিছু লিখিনি, শুধু হিফয করতাম। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, তিনি মালেক এর মতামতের হিফযকারী। আর তিনিই মদীনা বাসীদেরকে ইমাম মালেকের ফিকহ শিখিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তার কিতাব বিশুদ্ধ। তার ধীশক্তিতে সামান্য কমতি আছে। তিনি হিজরী ২০৬ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৫/৪৩৮); কাযী ইয়াদ্ব, তারতীবুল মাদারিক (১/৩৫৬); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৩৭১); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/১৫); ইবন হাজার, তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ৩২৬।
৫০০. এ আছারটি যারা নিয়ে এসেছেন তারা হচ্ছেন, ১- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/১০৬-১০৭); তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন সুরাইজ ইবনুন নু'মান, তিনি বলেন, আমাকে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন নাফে'... তিনি বলেন, মালেক বলেন,... তারপর তিনি তা বর্ণনা করেন, সেখানে বাড়তি আছে, তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, "আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।" [সূরা আল-মুজাদালাহ: ০৭] ২- আবু দাউদ, মাসায়িলি ইমাম আহমাদ, পৃ. ৬৩। ৩- ইবন মানদাহ, কিতাবুত তাওহীদ (৩/৩০৭)। ৪- আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ২৮৯। তিনি দু' পদ্ধতিতে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ৫- ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৮)। ৬- ইবন আব্দুল যার, আল-ইস্তেকা, পৃ. ৩৫। ৭- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৪০১)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম শাফে‘ঈ রাহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্য

📄 ইমাম শাফে‘ঈ রাহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্য


ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর খেলাফত সত্য। তার ফায়সালা তিনি আসমানে করেছেন। তাঁর বান্দাদের অন্তর এর ওপর একত্রিত করেছেন। (৫০১)
অনুরূপ সহীহ গ্রন্থে(৫০২) আনাস ইবনে মালেক বলেন, যয়নাব রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের ওপরে গর্ব করতেন এই বলে যে, তোমাদের বিয়ে দিয়েছে তোমাদের পরিবার, আর আমার বিবাহ দিয়েছেন আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে(৫০৩)। আল্লাহ তা'আলা। (৫০৪) এটা শাফেয়ী এর কথার মতো। (৫০৫)

টিকাঃ
৫০১. আছারটি যারা বর্ণনা করেছেন: ১- ইবন কুদামা, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৮১। হাক্কারীর বর্ণনায়। ২- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৬৫। তিনি এটাকে সহীহ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
৫০২. হাদীসটি নিয়ে এসেছেন, বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৭৪২০; মুসলিম, আস-সহীh, হাদীস নং ১৪২৮।
৫০৩. হাদীসটির অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তিনি নিজেই যয়নাবকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিয়ে দিয়েছেন। কারণ কুরআনে কারীমে এসেছে, "আর স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আপনি তাকে বলছিলেন, 'তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর।' আর আপনি আপনার অন্তরে গোপন করছিলেন এমন কিছু যা আল্লাহ প্রকাশ করে দিচ্ছেন এবং আপনি লোকদেরকে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার পক্ষে অধিকতর সংগত। তারপর যখন যায়দ তার (স্ত্রীর) সাথে প্রয়োজন শেষ করল, তখন আমরা তাকে আপনার নিকট বিয়ে দিলাম, যাতে মুমিনদের পোষ্য পুত্রদের স্ত্রীদেরকে (স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে) কোনো সমস্যা না হয় যখন তারা (পোষ্য পুত্ররা) নিজ স্ত্রীর সাথে প্রয়োজন শেষ করবে (এবং তালাক দিবে)। আর আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে।" [সূরা আল-আহযাব: ৩৭] এ ঘটনাটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বিস্তারিত এসেছে। আনাস ইবন মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, যখন যয়নাব এর ইদ্দত সমাপ্ত হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ ইবন হারেসাকে বললেন, যাও, তাকে আমার কথা স্মরণ করাও। তখন যায়েদ গেলেন, অবশেষে তাঁর কাছে আসলেন, তিনি তখন রুটির খামীর করছিলেন... বাকী হাদীস বর্ণনা করলেন, অবশেষে যায়েদ বললেন, আমি বললাম, হে যয়নাব, সুসংবাদ গ্রহণ করো, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন তোমাকে স্মরণ করছেন। তখন যয়নাব বললেন, আমি কোনো কিছুই করবো না, যতক্ষণ না আমার রবের সাথে পরামর্শ করছি। অতঃপর যয়নাব তার সালাতের স্থানে গেলেন, আর তখনই কুরআন নাযিল হলো, ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি ব্যতীতই তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন।'
৫০৪. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এখানে হাদীসটি এনে ইমাম শাফেয়ীর দাবি করা ইজমা'র সপক্ষে দলীল পেশ করেছেন। কারণ শাফেয়ী বললেন যে, আল্লাহ আসমানের উপর সেটা অনুমোদন করেছেন আর মানুষের অন্তরকে সেটার ওপর এক করে দিলেন। তাই আসমানে যে সেটা অনুমোদিত হলো তার অনুরূপ ঘটনা উল্লেখ করলেন।
৫০৫. ইবন তাইমিয়্যাহ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যদি এ অধ্যায়ে ইমাম শাফে'য়ীর কথাই কেবল একত্রিত করা হয় তবে তা যথেষ্ট হয়ে যেতো। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৩৯)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম আবু ইউসুফ কর্তৃক বিশরকে তাওবা করানো

📄 ইমাম আবু ইউসুফ কর্তৃক বিশরকে তাওবা করানো


আর ইমাম আবু হানীফার ছাত্র আবু ইউসুফ কর্তৃক বিশর আল-মিররীসীকে তাওবা করানোর ঘটনা প্রসিদ্ধ। অবশেষে সে পালিয়ে গেল, যেহেতু সে সিফাতকে অস্বীকার করে জাহামের কথা প্রচার করেছিল(৫০৬)। ইবন আবি হাতিম এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। (৫০৭)

টিকাঃ
৫০৬. বস্তুত জাহাম ইবন সাফওয়ানের সাথে বিশর এর সাক্ষাত ঘটেনি। সে এসব তথ্য বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করেছিল। কারণ জাহম ১২৮ হিজরীতে মারা যায়। অপর দিকে বিশর এর জন্ম হয় ১৩৮ হিজরীতে।
৫০৭. এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন: ১- যাহাবী, আল-উলু লিল আলিয়ি‍্যল আযীম (২/৯৯৯), নং ৩৬৯। তিনি ইমাম ইবন আবী হাতেম এর বর্ণনায় তা সনদসহ নিয়ে আসেন। আরও দেখা যেতে পারে, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৫৪-১৫৫। সেখানে এসেছে যে, বিশর ইবনুল ওয়ালীদ আল-কিন্দী ইমাম আবু ইউসুফ আল-কাযীর কাছে এসে বললেন, আপনি আমাকে কালামশাস্ত্র থেকে নিষেধ করেন অথচ বিশর আল-মিররীসী, আলী আল-আহওয়াল ও অমুক কালামশাস্ত্রের সাথে আছে। তিনি বললেন, তারা কী বলে? তখন সে বললো, তারা বলে, আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমান। তখন আবু ইউসুফ বলেন, তাদেরকে আমার সামনে হাজির করো। লোকেরা তাদের খোঁজে গেল। ইত্যবসরে বিশর উঠে চলে গেল, লোকেরা গিয়ে আলী আল-আহওয়াল ও অন্য একজন বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে আসলো। তখন আবু ইউসুফ রামিাহুল্লাহ উক্ত বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমার মধ্যে যদি মারার জায়গা থাকতো তবে মেরে তক্তা বানাতাম। অতঃপর তাকে জেলে পুরানোর নির্দেশ দিলেন। আর আহওয়ালকে পিটানো হলো, তাকে দেশে দেশে ঘুরানো হলো। ২- ইবন তাইমিয়‍্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (২/৫২৫, ৫২৬)। ৩- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ২২২।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য

📄 ইমাম ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য


মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবি যামানীন(৫০৮) স্বীয় কিতাব 'উসূল আস-সুন্নাহ'তে বলেন: অধ্যায়: 'আরশের প্রতি ঈমান(৫০৯)

টিকাঃ
৫০৮. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন 'ঈসা ইবন মুহাম্মাদ আল-মুররী, আল- আন্দালুসী। কর্ডোবার শাইখ। যিনি ইবন আবী যামানীন নামে খ্যাত হয়েছেন। বহু বিদ্যার ধারক, ইলমের সমুদ্র। যুহদ ও রিক্কাকে গ্রন্থ রচনা করেছেন। উত্তম কবিতা রচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, তিনি ইবাদত, তাকওয়া ইখলাসের অধিকারী ছিলেন। রাষ্ট্র ও সরকারের লোকদের থেকে দূরে থাকতেন। সালাফে সালেহীনের আছার ও নিদর্শন অনুসরণ করে চলতেন। ইলমে অত্যন্ত প্রখর ছিলেন। জন্ম হিজরী ৩২৪ সালে, আর মৃত্যু হিজরী ৩৯৯ সালে। তার লিখিত গ্রন্থাবলির মাঝে অন্যতম হচ্ছে, 'মুখতাসারুল মুদাওয়ানাহ', মুনতাখাবুল আহকাম, হায়াতুল কুলুব, উসূলুস সুন্নাহ ইত্যাদি। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৭/১৮৮); ইবার, (২/১৯৬); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (৩/১৫৬)।
৫০৯. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00