📄 সাঈদ ইবন আমের আদ-দুবা’ঈ এর বক্তব্য
ইবন আবী হাতীম স্বীয় 'আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ'(৪৭৭) গ্রন্থে সা'ঈদ ইবন আমের আদ-দুবা'ঈ(৪৭৮) থেকে যিনি জ্ঞানে ও দীনদারিতে বসরার ইমাম, ইমাম আহমদের শাইখ, তার কাছে জাহমিয়্যাদের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: এরা কথায় ইয়াহুদী-নাসারা থেকেও নিকৃষ্ট; কারণ ইয়াহুদী-নাসারা সহ সব ধর্মালম্বী মুসলিমদের সাথে একমত যে, আল্লাহর 'আরশের উপরে। আর তাদের বক্তব্য: 'আরশের উপরে কিছু নেই।(৪৭৯)
টিকাঃ
৪৭৭. এ গ্রন্থটি ইমাম ইবন আবী হাতেম রচিত গ্রন্থের তালিকায় অনেকেই উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ১- ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৫৯)। সেখান থেকে তিনি এ স্থানে কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। অন্যত্র বলেন (১৩/২৬৪), ইবন আবী হাতেম এর কিতাব আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ একটি বড় কিতাব, আমি সে কিতাব থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছি। ২- ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৮৩০), সেখানে তিনি বলেন, জাহমিয়্যাদের মতামত খণ্ডন করে রচিত তাঁর (ইবন আবি হাতেম এর) একটি বড় গ্রন্থ রয়েছে, যা তার ইমাম ও নেতা হওয়া প্রমাণ করে। ৩- সুবুকী, ত্বাবাক্বাতুশ শাফে'ঈয়্যাহ আল-কুবরা (৩/৩২৫)। ৪- সাফাদী, আল-ওয়াফী বিল ওফায়াত (১৮/১৩৬)। ৫- ইবন হাজার, তা'জীলুল মানফা'আহ (১/৮২৮)। ৬- বুরহানুদ্দীন ইবন মুফলিহ, আল-মাকসাদুল আরশাদ (১/২৮২), (২/১০৬)। ৭- সুয়ূত্বী, দ্বাৰাক্কাতুল মুফাসসিরীন পৃ. ৫২। ৮- কাত্তানী, আর-রিসালাতুল মুস্তাত্বরাফাহ, পৃ. ৩৯। ৯- যিরিকলী, আল-আ'লাম (৩/৩২৪) ইত্যাদি। ১০- ফুয়াদ সিযকীন, তারীখুত তুরাস (১/৩৫৫)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এ কিতাবের কথা তার একাধিক গ্রন্থে বলেছেন, সেখান থেকে অনেক উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৪৪০), (২/৪২, ৫২৫); মাজমূ' ফাতাওয়া (১২/৫০৬, ৫৭২), (১৭/৭৪); দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১); মিনহাজুস সুন্নাহ (২/২৫২, ৩৬৫)।
৪৭৮. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ-দুবা'য়ী আল-বসরী। বড় হাফেযদের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন হাবীব আশ-শহীদ, ইউনুস ইবন 'উবাইদ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবন হাম্বল প্রমুখ। কাত্তান বলেন, সা'ঈদ ইবন 'আমের গত চল্লিশ বছর ধরে এ শহরের শিক্ষক। যিয়াদ ইবন আইয়্যুব বলেন, আমি বসরায় সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ-দুবা'ঈ মতো কাউকে দেখিনি। ইমাম আহমাদ বলেন, আমি তার থেকে ও হুসাইন আল-জু'ফী থেকে উৎকৃষ্ট কাউকে দেখিনি। হিজরী ২০৮ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৩৫১); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৮৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২০)।
৪৭৯. এ আছারটি যারা বর্ণনা করেন, তাদের অন্যতম হচ্ছেন, ১- বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ পৃ. ৩১। ২- যাহাবী, আল-উলু লিল আলিয়ি্যল আযীম (২/১০৩৩), নং ৩৯১; সেখানকার সনদ হচ্ছে, ইবন আবী হাতেম থেকে, তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে সা'ঈদ ইবন আমের আদ-দুবা'ঈ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে... তারপর তিনি তা বর্ণনা করেন। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৬৮। ৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৮২। ৪- ইবনুল কাইয়্যম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৫। আরও দেখুন, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১); মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৪)।
📄 ইমাম ইবন খুযাইমাহ এর বক্তব্য
ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ বলেন: “যে ব্যক্তি বলবে না যে, আল্লাহ আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে, সৃষ্টির থেকে ভিন্ন ও পৃথক, তার তাওবা করা আবশ্যক। তা না হলে তাকে হত্যা করা হবে।(৪৮০) তারপর আস্তাকুড়ে ফেলা হবে, যাতে তার দূর্গন্ধে কিবলা অনুসারী (মুসলিম) ও যিম্মীগণ কষ্ট না পায়।”(৪৮১) এটা তার থেকে আল-হাকিম(৪৮২) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন (৪৮৩)।(৪৮৪)
টিকাঃ
৪৮০. এর আছারটির বাকী অংশ হচ্ছে, 'আর তার সম্পদ ফাই হিসেবে গণ্য হবে, কোনো মুসলিম তার ওয়ারিশ হবে না; কারণ মুসলিম কাফেরের ওয়ারিশ হয় না। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুসলিম কাফের এর ওয়ারিশ হয় না, আর কাফের মুসলিমের ওয়ারিশ হয় না।"
৪৮১. আছারটি যারা বর্ণনা করেছেন তারা হচ্ছেন: ১- হাকেম, মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস, পৃ. ৭৪। ২- আবু ইসমা'ঈল আস-সাবৃনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ২০-২১। ৩- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৮৫। ৪- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১৫২; মুখতাসার, পৃ. ২২৫-২২৬। ৫- যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (২/৭২৮)। ৬- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬৪)। ৭- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৯৪।
৪৮২. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন হামদুওইয়াহ, যিনি ইবনুল বাইয়ে' নামে প্রসিদ্ধ, আদ-দ্বিব্বী, আত-ত্বাহমানী আন-নাইসাপুরী। ইসলামের বড় হাফেযদের একজন। আল- মুস্তাদরাক কিতাবের গ্রন্থাকার। ছোট বয়স থেকেই তার পিতা ও মামার তত্ত্বাবধানে হাদীস সংগ্রহে মনোযোগ দেন। তিনি হাদীস শুনেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইয়া'কুব আল-আসাম্ম, ইবনুল আখরাম প্রমুখ থেকে। বলা হয়, তার উস্তাদের সংখ্যা দু' হাজারের উপরে। আর তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেন আবু যর আল-হারাওয়ী, আবু ইয়া'লা আল-খালীলী, আল-বাইহাকী প্রমুখ। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, 'তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, হাদীস তাখরীজ করেছেন, জারহ ও তা'দীল করেছেন, তাসহীহ ও তা'লীল করেছেন। তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্র; তবে তার মাঝে কিছুটা শিয়া প্রভাব ছিল।' তার জন্ম সাল ছিল ৩২১ হিজরী, আর মৃত্যু সাল ছিল ৪০৩ হিজরী। তার রচিত গ্রন্থ সংখ্যা অনেক। তন্মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছে, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস, তারীখে নাইসাপুর, আল-ইকলীল প্রভৃতি। দেখুন, খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৫/৪৭৩); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৮০); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৭/১৬২); তাযকিরাতুল হুফফায (২/৭২০); ইবন হাজার, লিসানুল মীযান (৫/২৩২); কাত্তানী, আর-রিসালাতুল মুস্তাত্বরাফাহ, পৃ. ২১।
৪৮৩. দেখুন, মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস, পৃ. ২৮৫; নং ১৮৭।
৪৮৪. সিফাত অস্বীকারকারী কাফের হওয়ার কারণ হচ্ছে, ১- এর নামই হচ্ছে তা'ত্বীল। আর শির্কের আসল হচ্ছে তা'ত্বীল করা বা সৃষ্টিকে স্রষ্টাশূন্য করা বা স্রষ্টাকে তার গুণ থেকে শূন্য করা বা স্রষ্টাকে সৃষ্টি থেকে আলাদা করে সাব্যস্ত না করা। যেমনটি ইবনুল কাইয়্যেম তার আল-জাওয়াবুল কাফী গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে আমার গ্রন্থ 'আশ-শিকু ফিল কাদীম ওয়াল হাদীস' দেখা যেতে পারে। ২- অপর যে কারণে কাফের হবে তা হচ্ছে, জানানোর পরে যা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যিকভাবে প্রমাণিত তা অস্বীকার করা। ৩- অথবা গ্রহণযোগ্য ওযরের অনুবর্তী না হয়ে সন্দেহ ব্যতীতই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আল্লাহর সত্তা ও সিফাতে বিকৃতি সাধণের মাধ্যমে ইলহাদ করা। দেখুন, ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দায়েমাহ বিস সাউদিয়্যাহ (৩/১২৮)।
📄 ‘আকদ ইবনুল ‘আজলান আল-ওয়াদ্বাহ এর বক্তব্য
ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ স্বীয় সনদে ওয়াসিতবাসীদের ইমাম শাফেয়ী ও আহমাদের শাইখদের স্তরের 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়াম আল-ওয়াসেত্বী(৪৮৫) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি বিশর আল-মিররীসী এবং তার ছাত্রদের সাথে কথা বলেছি, দেখেছি যে তাদের শেষ কথা যেখানে শেষ হয় তা হচ্ছে এটা বলার মাধ্যমে যে, উপরে কিছুই নেই।”(৪৮৬)
টিকাঃ
৪৮৫. তিনি হচ্ছেন, আবু সাহল 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়াম ইবন 'উমার ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুনযির আল-কিলাবী, আল-ওয়াসেত্বী। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন আবু মালেক আল-আশজা'ঈ, ইবন আবী নাজীহ আল-মাক্কী প্রমুখ থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন আহমাদ ইবন হাম্বল, 'আমর আন-নাকিদ প্রমুখ। তার সম্পর্কে ইবন সা'দ বলেছেন, তিনি ছিলেন তার সকল কাজে অত্যন্ত ভদ্র ও শরীফ মানুষ। হাসান ইবন 'আরাফাহ বলেন, আমাকে ওকী' রাহিমাহুল্লাহ 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ তার মতো নেই।' হিজরী ১৮৫ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, খলীফা, তারীখে খলীফা ইবন খাইয়াত্ব, পৃ. ৪৫৭; খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১১/১০৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৪৯)।
৪৮৬. এ আছারটি বর্ণনা করেছেন, ১- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/১২৬-১২৭), আছার নং ৬৫, ১৯৫, ৫১৬। তিনি তা যিয়াদ ইবন আইয়্যুব থেকে, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবন ইসমা'ঈল আল-ওয়াসেত্বীকে বলতে শুনেছি, আমি 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়ামকে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি তা বর্ণনা করেন। ২- যাহাবী তা আল-উলুতে বর্ণনা করেন, পৃ. ২/৯৯৭, নং ৩৬৭; তার শেষে আছে, আমার মত হচ্ছে, তাদের সাথে বিয়ে-শাদী চলবে না, তাদের কেউ পরস্পর ওয়ারিশ হবে না। দেখুন মুখতাসার, পৃ. ১৫৪। ৩- দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১)। ৪- মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৫) (ফাতাওয়া আল-মারাকেশিয়্যাহ)। ৫- ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৫-২১৬।
📄 ইমাম আব্দুর রহমান ইবন মাহদীর বক্তব্য
অনুরূপভাবে তিন (আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ) প্রসিদ্ধ ইমাম আব্দুর রহমান ইবন মাহদী(৪৮৭) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "প্রবৃত্তির অনুসারীদের মধ্য হতে জাহমীদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কেউ নেই। তারা ঘুরেফিরে এটাই বলে যে, উপরে কিছুই নেই। আল্লাহর কসম, আমি মনে করি যে, তাদের পরস্পর বিবাহ ও উত্তরাধিকারিত্ব নেই।(৪৮৮)”
অনুরূপভাবে আবদুর রহমান ইবন আবি হাতীম স্বীয় 'আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে আব্দুর রহমান ইবন মাহদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "জাহম ও তার অনুসারীরা বলতে চায় যে, আল্লাহ তা'আলা মূসার সাথে কথা বলেননি। তারা বলতে চায় যে, আসমানের উপর কিছুই নেই।(৪৮৯) আর আল্লাহ 'আরশের উপর নন। আমি মনে করি, তাদের তাওবা করানো। তা না করলে তাদেরকে হত্যা করা হবে।"(৪৯০)
টিকাঃ
৪৮৭. তিনি হচ্ছেন আবু সা'ঈদ আব্দুর রহমান ইবন মাহদী ইবন হাসসান ইবন আব্দুর রহমান আল-আম্বরী, আল-বসরী। দীনের বড় ইমাম, হাদীসের সনদ ও মতনের সমালোচনাকারী বড় আলেম। তিনি হাদীস শুনেছেন সুফইয়ান, শু'বা প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন ইবনুল মাদীনী, ইবন মা'ঈন, আহমাদ, ইসহাক প্রমুখ। ছোটকাল থেকেই ইলম অন্বেষণ করেন, আলেমগণ তাঁর উপর প্রশংসার বাণী দিয়েছেন প্রচুর পরিমাণে। তার সম্পর্কে শাফে'য়ী বলেন, 'এ বিষয়ে তার সমপর্যায়ের কাউকে আমি জানি না'। আলী ইবনুল মাদীনী তার সম্পর্কে বলেন, যদি আমি কাবার রুকনে ইবরাহীমী ও মাকামে ইবরাহীমীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলতে চাই যে, আমি আব্দুর রহমান ইবন মাহদীর চেয়ে হাদীসে অভিজ্ঞ কাউকে জানি না তাহলে অবশ্যই বলতে পারি। আইয়্যুব ইবনুল মুতাওয়াক্কিল বলেন, আমরা যখন দীন ও দুনিয়া একত্রে দেখতে চাইতাম তখন আমরা আব্দুর রহমান ইবন মাহদীর ঘরে যেতাম। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি ইমাম, হুজ্জত, ইলম ও আমলে আদর্শ। তার জন্ম হিজরী ১৩৫ সালে, আর মৃত্যু হিজরী ১৯৮ সালে। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/২৯৭); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৯/৩); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১০/২৪০); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/১৯২); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/৩৫৫)।
৪৮৮. এ আছারটি দেখুন, ১- খাল্লাল, আস-সুন্নাহ। ২- আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/১২০-১২১), নং ১৪৭। ৩- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ ১/৩২০। ৪- বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩৪-৩৫। ৫- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুষ (৬/২৬১)।
৪৮৯. অর্থাৎ তাদের শেষ দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, তারা কিছুর ইবাদত করবে না। জাহমিয়্যাদের মুনাযির ও তাদের কালামশাস্ত্রবিদরা বলে, নিশ্চয় আল্লাহ, তিনি জগতের ভেতরেও নন, জগতের বাইরেও নন। বস্তুত এটি হচ্ছে অস্তিত্বহীনের গুণ, যাকে জিনিস বা বস্তু বা ব্যক্তি কিছুই বলা যায় না।
৪৯০. আছারটি যারা নিয়ে এসেছেন তাদের অন্যতম হচ্ছেন, ১- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (১/৩৮৬), সেখানে এসেছে, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফেয ও আবু সা'ঈদ ইবন আবী 'আমর থেকে বর্ণিত, তারা দু'জনে বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন ইয়া'কূব, তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন আলী আল-ওয়াররাক্ব, তিনি বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন 'আমর ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবন মাহদীকে বলতে শুনেছি... তারপর তা বর্ণনা করেন। ২- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/১১৯-১২০), নং ৪৪, ৪৮। ৩- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (১/৩১৬-৩১৭)। ৪- বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৮৩। ৫- ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমু' ফাতাওয়া (৫/১৮৪)। ৬- ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১)। শাইখুল ইসলাম বলেন, প্রামাণ্য সনদ দিয়ে বর্ণিত। ৭- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৪। ৮- আবু দাউদ, মাসায়িলুল ইমাম আহমাদ, পৃ. ২৬২। ৯- আর তা ইমাম যাহাবী বর্ণনা করেছেন, আল-উলু, পৃ. ১১৮ এবং বলেছেন, একাধিক ব্যক্তি তা আব্দুর রহমান ইবন মাহদী থেকে সহীহ সনদে নিয়ে এসেছেন। ১০- তাছাড়া যাহাবী আরও বর্ণনা করেছেন তাঁর আরবা'ঈন গ্রন্থে, পৃ. ৮১। ১১- অনুরূপ আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা গ্রন্থে (৯/১৯৯-২০০)।