📄 ইমাম ইবন যায়েদ এর বক্তব্য
অনুরূপভাবে ইমাম লালেকাঈ, ইমাম সুলায়মান ইবন হারব(৪৭২) থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন যে, আমি হাম্মাদ ইবন যায়েদকে(৪৭৩) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জাহমিয়ারা প্রচেষ্টা চালায় এটা বলতে যে, আসমানের উপরে(৪৭৪) কিছুই নেই।(৪৭৫) (৪৭৬)
টিকাঃ
৪৭২. তিনি হচ্ছেন সুলাইমান ইবন হারব ইবন বুজাইল, আবু আইয়্যুব আল-আযদী। মক্কার বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন, সুলাইমান ইবন হারব ইমামগণের একজন। তার জন্ম হিজরী ১৪০ সালে, আর মৃত্যু হিজরী ২২৪ সালে বসরায়। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/৩০০); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৯/৩৩); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৩৩০); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১৭৮)।
৪৭৩. যাহাবী বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ ইলম ও সম্মানে ইরাকীদের মাঝে তেমনি মর্যাদাপূর্ণ যেমনি মালেক ইবন আনাস হিজাযীদের মাঝে মর্যাদাপূর্ণ। দেখুন, আল-উলু লিল আলিয়্যিল আযীম (২/৯৭০)।
৪৭৪, আসমানের উপরে বলে সবকিছুর উপরে উদ্দেশ্য। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আত বলেন, 'সামা' শব্দের অর্থ উপরে। তাই যেখানেই 'সামা' এসেছে সেখানেই অর্থ হবে সর্বোচ্চে, সবকিছুর উপরে। কোথাও এর অর্থ আকাশের অভ্যন্তরে নয়। আর 'ফী' শব্দটি আরবী ভাষায় প্রচুর পরিমাণে 'আলা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং 'ফিস সামায়ে' এর অর্থ আসমানের মধ্যে না হয়ে 'আলাস সামায়ি' হবে, যার অর্থ, আসমানের উপরে। আর যা আসমানের উপরে তা সর্বোপরে, সেটা 'আরশের উপরে হওয়ার বিরোধী নয়। এটা স্বাভাবিকভাবেই বুঝা যায়। আর 'ফী' এর অর্থ উপরে হওয়ার বহু প্রমাণ কুরআনে কারীমে রয়েছে। যেমন, আল্লাহ বলেন, 'ফামশূ ফী মানাকিবিহা' অর্থাৎ 'সুতরাং তোমরা যমীনের ঘাঁড়ে চলাফেরা কর।' এখানে 'ফী' বলে 'আলা' বুঝানো হয়েছে। কারণ মানুষ যমীনের ভিতরে চলাফেরা করে না, যমীনের ঘাঁড়ের উপর চলাফেরা করে থাকে।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সর্বোচ্চ পবিত্র সত্তা, এ বিষয়টি ফিত্বরাত বা মানুষের স্বভাবজাত জ্ঞানেই মানুষ বুঝতে পারে। এর অস্বীকারকারী বিদ'আতীরা তাদের ফিত্বরাত বা স্বভাবজাত জ্ঞানেই বুঝতে পারে যে, 'জগতের ভিতরে নয়, বাইরেও নয়, এমন কথা বলার অর্থ হচ্ছে তাঁকে অস্তিত্বহীন বলা। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/৩০০)।
ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, 'আল্লাহ তা'আলাকে দেখা যাবে এটার জ্ঞানের তুলনায়, তিনি যেসকল সৃষ্টির উপরে, সেটার জ্ঞান ফিত্বরাত বা স্বভাবজাত বিদ্যায় মানুষের কাছে বেশি পরিচিত, শরী'আতে তা খুবই প্রসিদ্ধ আর উম্মতের সালাফে সালেহীন ও ইমামগণের নিকট বিশালভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর তাই জাহমিয়্যারা আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার কথা গোপন করে শুধু আল্লাহকে হাশরের দিন দেখা না যাওয়া ইত্যাদি বিষয় বেশি প্রকাশ করে। যাতে করে তারা যেসব জিনিস প্রকাশ করে যেমন তাঁকে হাশরের দিন দেখা না যাওয়া, কুরআন সৃষ্ট, এসব তথ্যের আড়ালে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর 'আরশের উপরে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করতে পারে। সালাফে সালেহীন ইমামগণ তাদের এসব চক্রান্ত ও চালাকি ঠিকই বুঝতেন, তারা জাহমিয়াদের কথার স্বরে সেটা জেনে ফেলতেন। তারা বুঝতেন যে, জাহমিয়ারা কোন জিনিস প্রকাশ করছে আর কোন জিনিস অস্বীকার করছে; কারণ সালাফগণ জাহমিয়াদের মূলনীতি জানতেন। জাহমিয়ারা তো কেবল এজন্যই তাঁকে দেখা যাওয়ার বিষয়, অনুরূপ তাঁর যথাযথভাবে কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করতো, কারণ তারা জানতো যে, তাঁকে দেখা ও তাঁর কথা বলা দাবি করে যে, তিনি সকল সৃষ্টির উপরে রয়েছেন। জাহমিয়ারা যদি আল্লাহর কথা বলা ও দেখার বিষয়টি মেনে নিত তবে আবশ্যিকভাবে তারা মহান আল্লাহকে 'আরশের উপর মানতে বাধ্য হতো।” [বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/৩১২-৩১৩)]
আর যখন ইবনুল হাইসাম ও ইবন ফুওরাক সুলতান মাহমূদ সবুক্তগীনের দরবারে মুনাযারা করলো, তখন ইবন ফুওরাক দাবি করলো যে, আল্লাহ তা'আলা জগতের ভিতরেও নয়, বাইরেও নয়, পৃথকও নয়, সাথেও নয়। তখন সুলতান মাহমূদ সবুক্তগীন তাকে বললেন, তুমি যদি অস্তিত্বহীন কোনো কিছুর গুণ বর্ণনা করতে তাহলে কি সেটা সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক কিছু বলতে পারতে? অথবা তিনি বলেছেন, তুমি এ রবের যে গুণ বর্ণনা করেছ তার মাঝে ও অস্তিত্বহীন কিছুর মাঝে পার্থক্য করে দেখাও। দেখুন, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৫৩); মিনহাজুস সুন্নাহ (৩/৪২৯); বায়ানু ভালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/২৬৮); আর-রিসালাতুত তাদমীরিয়্যাহ, পৃ. ৬০।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, যে জিনিস জগতের ভিতরেও নয়, বাইরেও নয়, সে জিনিসের ব্যাপারে মানুষের মন বলে যে, সেটা কেবল অস্তিত্বহীন জিনিসই হতে পারে। মানুষের অন্তরে এ স্বীকৃতি, সেটার স্বীকৃতির চেয়ে বড় যে, যাকে দেখা যাবে না তা কেবল অস্তিত্বহীন জিনিসই হতে পারে। তন্মধ্যে প্রথমটির অস্তিত্বহীন হওয়ার বিষয় অন্তরে প্রাথমিকভাবে ও আবশ্যিকভাবে যত বড় আকারে ধরা পড়ে তা দ্বিতীয়টির বিষয়ে তত প্রাথমিকভাবে ও আবশ্যিকভাবে নয়।' [বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/৩১৩)]
ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, প্রাথমিক জাহমিয়্যারা যা বলতে চেষ্টা করতো, কিন্তু তারা স্পষ্টভাবে বলতো না, বরং অন্যান্য জিনিসের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করতো, পরবর্তী জাহমিয়্যারা সেটা স্পষ্ট করে বলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তখনকার যুগে সুন্নাহ'র প্রচার-প্রসার, ইমামদের আধিক্য তাদেরকে তা স্পষ্ট করে বলা থেকে বাঁধা দিত; কিন্তু পরবর্তীতে যখন উত্তম যুগ থেকে মানুষ দূরে চলে গেল, সুন্নাহ গোপন হতে লাগলো, ইমামগণ চলে গেলেন তখনই আল্লাহর গুণ অস্বীকারকারী জাহমিয়্যারা তাদের আসল চেহারা দেখাতে আরম্ভ করলো, অর্থাৎ আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার বিষয়টি যা তাদের পূর্ববর্তীরা গোপন করে রাখতো, প্রকাশ করতে সমর্থ হতো না। দেখুন, ইজতিমা'উল জুযূশ, পৃ. ১৩৬।
৪৭৫. বর্ণনাটি বিভিন্ন গ্রন্থে এসেছে। যেমন, ১- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ তাঁর আস-সুন্নাহ (১/১১৭-১১৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন ইবরাহীম আদ-দাওরাক্বী, আলী ইবন মুসলিম আত-তুসী, তারা দুজনে বলেন আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন হারব, তিনি বলেন, আমি হাম্মাদ ইবন যায়েদকে বলতে শুনেছি... তারপর তা বর্ণনা করেন। ২- অনুরূপ ইমাম খাল্লালও তা আস-সুন্নায় বর্ণনা করেন। ৩- আরও বর্ণনা করেন, বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩১; ৪- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭১-১৭২ আর তিনি সেটাকে আসরম এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ৫- অনুরূপ তা বর্ণনা করেন যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৬-১০৭ আর তিনি সেটাকে ইবন আবী হাতেম এর 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেন, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন হারব, তিনি বলেন আমি হাম্মাদ ইবন যায়েদকে বলতে শুনেছি... তারপর তিনি তা বর্ণনা করেন। আরও দেখুন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ১৪৬। ৬- ইবনুল কাইয়্যেম ইজতিমা'উল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৬-২১৪। এ বর্ণনাটিকে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বিশুদ্ধ বলেছেন যেমনটি উপরের ভাষ্যে এসেছে। আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৩-১৮৪); তাছাড়া শাইখ আলবানী বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৪৭।
৪৭৬. ইমাম যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ হাম্মাদ ইবন যায়েদ রাহিমাহুল্লাহ'র এ বক্তব্যের ওপর টীকা দিয়ে বলেন, সালাফে সালেহীনের বক্তব্য, সুন্নাহ'র ইমামগণের বক্তব্য, বরং সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্য, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণের সকলের বক্তব্য হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর উপরে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে। আর তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, এর ওপর তাদের প্রমাণ হচ্ছে, কুরআন, হাদীসের ভাষ্য ও সাহাবায়ে কিরাম ও পরবর্তীদের আছার। এর বিপরীতে পরবর্তী কালামশাস্ত্রবিদদের মত হচ্ছে, আল্লাহ আসমানের উপরেও নয়, 'আরশের উপরেও নয়, আসমানসমূহের উপরেও নয়, যমীনেও নয়। জগতের ভেতরেও নয়, বাইরেও নয়, সৃষ্টি থেকে তিনি আলাদাও নন, তাদের সাথেও নন। আরও বলে, যত কিছু আছে সবই জিসিম বা দেহ এর গুণ। আর আল্লাহ তো জিসিম বা দেহ থেকে মুক্ত।... দেখুন, আল-উলু লিল আলিয়ি্যল 'আযীম (২/৯৭০)।
📄 সাঈদ ইবন আমের আদ-দুবা’ঈ এর বক্তব্য
ইবন আবী হাতীম স্বীয় 'আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ'(৪৭৭) গ্রন্থে সা'ঈদ ইবন আমের আদ-দুবা'ঈ(৪৭৮) থেকে যিনি জ্ঞানে ও দীনদারিতে বসরার ইমাম, ইমাম আহমদের শাইখ, তার কাছে জাহমিয়্যাদের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: এরা কথায় ইয়াহুদী-নাসারা থেকেও নিকৃষ্ট; কারণ ইয়াহুদী-নাসারা সহ সব ধর্মালম্বী মুসলিমদের সাথে একমত যে, আল্লাহর 'আরশের উপরে। আর তাদের বক্তব্য: 'আরশের উপরে কিছু নেই।(৪৭৯)
টিকাঃ
৪৭৭. এ গ্রন্থটি ইমাম ইবন আবী হাতেম রচিত গ্রন্থের তালিকায় অনেকেই উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ১- ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৫৯)। সেখান থেকে তিনি এ স্থানে কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। অন্যত্র বলেন (১৩/২৬৪), ইবন আবী হাতেম এর কিতাব আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ একটি বড় কিতাব, আমি সে কিতাব থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছি। ২- ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৮৩০), সেখানে তিনি বলেন, জাহমিয়্যাদের মতামত খণ্ডন করে রচিত তাঁর (ইবন আবি হাতেম এর) একটি বড় গ্রন্থ রয়েছে, যা তার ইমাম ও নেতা হওয়া প্রমাণ করে। ৩- সুবুকী, ত্বাবাক্বাতুশ শাফে'ঈয়্যাহ আল-কুবরা (৩/৩২৫)। ৪- সাফাদী, আল-ওয়াফী বিল ওফায়াত (১৮/১৩৬)। ৫- ইবন হাজার, তা'জীলুল মানফা'আহ (১/৮২৮)। ৬- বুরহানুদ্দীন ইবন মুফলিহ, আল-মাকসাদুল আরশাদ (১/২৮২), (২/১০৬)। ৭- সুয়ূত্বী, দ্বাৰাক্কাতুল মুফাসসিরীন পৃ. ৫২। ৮- কাত্তানী, আর-রিসালাতুল মুস্তাত্বরাফাহ, পৃ. ৩৯। ৯- যিরিকলী, আল-আ'লাম (৩/৩২৪) ইত্যাদি। ১০- ফুয়াদ সিযকীন, তারীখুত তুরাস (১/৩৫৫)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এ কিতাবের কথা তার একাধিক গ্রন্থে বলেছেন, সেখান থেকে অনেক উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৪৪০), (২/৪২, ৫২৫); মাজমূ' ফাতাওয়া (১২/৫০৬, ৫৭২), (১৭/৭৪); দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১); মিনহাজুস সুন্নাহ (২/২৫২, ৩৬৫)।
৪৭৮. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ-দুবা'য়ী আল-বসরী। বড় হাফেযদের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন হাবীব আশ-শহীদ, ইউনুস ইবন 'উবাইদ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবন হাম্বল প্রমুখ। কাত্তান বলেন, সা'ঈদ ইবন 'আমের গত চল্লিশ বছর ধরে এ শহরের শিক্ষক। যিয়াদ ইবন আইয়্যুব বলেন, আমি বসরায় সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ-দুবা'ঈ মতো কাউকে দেখিনি। ইমাম আহমাদ বলেন, আমি তার থেকে ও হুসাইন আল-জু'ফী থেকে উৎকৃষ্ট কাউকে দেখিনি। হিজরী ২০৮ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৩৫১); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৮৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২০)।
৪৭৯. এ আছারটি যারা বর্ণনা করেন, তাদের অন্যতম হচ্ছেন, ১- বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ পৃ. ৩১। ২- যাহাবী, আল-উলু লিল আলিয়ি্যল আযীম (২/১০৩৩), নং ৩৯১; সেখানকার সনদ হচ্ছে, ইবন আবী হাতেম থেকে, তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে সা'ঈদ ইবন আমের আদ-দুবা'ঈ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে... তারপর তিনি তা বর্ণনা করেন। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৬৮। ৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৮২। ৪- ইবনুল কাইয়্যম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৫। আরও দেখুন, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১); মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৪)।
📄 ইমাম ইবন খুযাইমাহ এর বক্তব্য
ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ বলেন: “যে ব্যক্তি বলবে না যে, আল্লাহ আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে, সৃষ্টির থেকে ভিন্ন ও পৃথক, তার তাওবা করা আবশ্যক। তা না হলে তাকে হত্যা করা হবে।(৪৮০) তারপর আস্তাকুড়ে ফেলা হবে, যাতে তার দূর্গন্ধে কিবলা অনুসারী (মুসলিম) ও যিম্মীগণ কষ্ট না পায়।”(৪৮১) এটা তার থেকে আল-হাকিম(৪৮২) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন (৪৮৩)।(৪৮৪)
টিকাঃ
৪৮০. এর আছারটির বাকী অংশ হচ্ছে, 'আর তার সম্পদ ফাই হিসেবে গণ্য হবে, কোনো মুসলিম তার ওয়ারিশ হবে না; কারণ মুসলিম কাফেরের ওয়ারিশ হয় না। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুসলিম কাফের এর ওয়ারিশ হয় না, আর কাফের মুসলিমের ওয়ারিশ হয় না।"
৪৮১. আছারটি যারা বর্ণনা করেছেন তারা হচ্ছেন: ১- হাকেম, মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস, পৃ. ৭৪। ২- আবু ইসমা'ঈল আস-সাবৃনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ২০-২১। ৩- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৮৫। ৪- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১৫২; মুখতাসার, পৃ. ২২৫-২২৬। ৫- যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (২/৭২৮)। ৬- শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬৪)। ৭- ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৯৪।
৪৮২. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন হামদুওইয়াহ, যিনি ইবনুল বাইয়ে' নামে প্রসিদ্ধ, আদ-দ্বিব্বী, আত-ত্বাহমানী আন-নাইসাপুরী। ইসলামের বড় হাফেযদের একজন। আল- মুস্তাদরাক কিতাবের গ্রন্থাকার। ছোট বয়স থেকেই তার পিতা ও মামার তত্ত্বাবধানে হাদীস সংগ্রহে মনোযোগ দেন। তিনি হাদীস শুনেছেন মুহাম্মাদ ইবন ইয়া'কুব আল-আসাম্ম, ইবনুল আখরাম প্রমুখ থেকে। বলা হয়, তার উস্তাদের সংখ্যা দু' হাজারের উপরে। আর তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেন আবু যর আল-হারাওয়ী, আবু ইয়া'লা আল-খালীলী, আল-বাইহাকী প্রমুখ। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, 'তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, হাদীস তাখরীজ করেছেন, জারহ ও তা'দীল করেছেন, তাসহীহ ও তা'লীল করেছেন। তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্র; তবে তার মাঝে কিছুটা শিয়া প্রভাব ছিল।' তার জন্ম সাল ছিল ৩২১ হিজরী, আর মৃত্যু সাল ছিল ৪০৩ হিজরী। তার রচিত গ্রন্থ সংখ্যা অনেক। তন্মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছে, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস, তারীখে নাইসাপুর, আল-ইকলীল প্রভৃতি। দেখুন, খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৫/৪৭৩); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৮০); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৭/১৬২); তাযকিরাতুল হুফফায (২/৭২০); ইবন হাজার, লিসানুল মীযান (৫/২৩২); কাত্তানী, আর-রিসালাতুল মুস্তাত্বরাফাহ, পৃ. ২১।
৪৮৩. দেখুন, মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস, পৃ. ২৮৫; নং ১৮৭।
৪৮৪. সিফাত অস্বীকারকারী কাফের হওয়ার কারণ হচ্ছে, ১- এর নামই হচ্ছে তা'ত্বীল। আর শির্কের আসল হচ্ছে তা'ত্বীল করা বা সৃষ্টিকে স্রষ্টাশূন্য করা বা স্রষ্টাকে তার গুণ থেকে শূন্য করা বা স্রষ্টাকে সৃষ্টি থেকে আলাদা করে সাব্যস্ত না করা। যেমনটি ইবনুল কাইয়্যেম তার আল-জাওয়াবুল কাফী গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে আমার গ্রন্থ 'আশ-শিকু ফিল কাদীম ওয়াল হাদীস' দেখা যেতে পারে। ২- অপর যে কারণে কাফের হবে তা হচ্ছে, জানানোর পরে যা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যিকভাবে প্রমাণিত তা অস্বীকার করা। ৩- অথবা গ্রহণযোগ্য ওযরের অনুবর্তী না হয়ে সন্দেহ ব্যতীতই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আল্লাহর সত্তা ও সিফাতে বিকৃতি সাধণের মাধ্যমে ইলহাদ করা। দেখুন, ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দায়েমাহ বিস সাউদিয়্যাহ (৩/১২৮)।
📄 ‘আকদ ইবনুল ‘আজলান আল-ওয়াদ্বাহ এর বক্তব্য
ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ স্বীয় সনদে ওয়াসিতবাসীদের ইমাম শাফেয়ী ও আহমাদের শাইখদের স্তরের 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়াম আল-ওয়াসেত্বী(৪৮৫) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি বিশর আল-মিররীসী এবং তার ছাত্রদের সাথে কথা বলেছি, দেখেছি যে তাদের শেষ কথা যেখানে শেষ হয় তা হচ্ছে এটা বলার মাধ্যমে যে, উপরে কিছুই নেই।”(৪৮৬)
টিকাঃ
৪৮৫. তিনি হচ্ছেন, আবু সাহল 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়াম ইবন 'উমার ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুনযির আল-কিলাবী, আল-ওয়াসেত্বী। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন আবু মালেক আল-আশজা'ঈ, ইবন আবী নাজীহ আল-মাক্কী প্রমুখ থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন আহমাদ ইবন হাম্বল, 'আমর আন-নাকিদ প্রমুখ। তার সম্পর্কে ইবন সা'দ বলেছেন, তিনি ছিলেন তার সকল কাজে অত্যন্ত ভদ্র ও শরীফ মানুষ। হাসান ইবন 'আরাফাহ বলেন, আমাকে ওকী' রাহিমাহুল্লাহ 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ তার মতো নেই।' হিজরী ১৮৫ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, খলীফা, তারীখে খলীফা ইবন খাইয়াত্ব, পৃ. ৪৫৭; খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১১/১০৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৪৯)।
৪৮৬. এ আছারটি বর্ণনা করেছেন, ১- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/১২৬-১২৭), আছার নং ৬৫, ১৯৫, ৫১৬। তিনি তা যিয়াদ ইবন আইয়্যুব থেকে, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবন ইসমা'ঈল আল-ওয়াসেত্বীকে বলতে শুনেছি, আমি 'আব্বাদ ইবনুল 'আওয়ামকে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি তা বর্ণনা করেন। ২- যাহাবী তা আল-উলুতে বর্ণনা করেন, পৃ. ২/৯৯৭, নং ৩৬৭; তার শেষে আছে, আমার মত হচ্ছে, তাদের সাথে বিয়ে-শাদী চলবে না, তাদের কেউ পরস্পর ওয়ারিশ হবে না। দেখুন মুখতাসার, পৃ. ১৫৪। ৩- দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১)। ৪- মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৫) (ফাতাওয়া আল-মারাকেশিয়্যাহ)। ৫- ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৫-২১৬।