📄 আবু উবাইদ আল-কাসেম ইবন সাল্লাম এর বক্তব্য
ইমাম বাইহাক্বী ও অন্যান্যরা আবু উবাইদ আল-কাসেম ইবন সাল্লাম(৪৬১) থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: ঐসব হাদীস যাতে বর্ণিত আছে: "আমাদের রব হাসলেন তাঁর বান্দাদের নৈরাশ্য ও পরিবর্তন অত্যাসন্ন দেখে", "জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তোমার রব স্বীয় পা তাতে রাখবেন", "কুরসী হচ্ছে তার দু' পায়ের স্থান”(৪৬২), আল্লাহকে দেখা সংক্রান্ত এসব হাদীস, আমাদের নিকট এগুলো সবাই সত্য, যা নির্ভরযোগ্য আলেমগণ একজন থেকে আরেকজন পেয়েছেন। তবে আমরা এগুলোর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হলে ব্যাখ্যা করি না।(৪৬৩) আমরা কাউকে পাইনি যে তার ব্যাখ্যা করেছেন। (৪৬৪)
আবু উবাইদ হচ্ছেন প্রসিদ্ধ সমসাময়িক চার ইমামের একজন। অন্য তিনজন: শাফেয়ী, আহমদ, ইসহাক। ইলমুল ফিকহ, ইলমুল লুগাহ ও তা'ওয়ীল বিষয়ে তার জ্ঞান বর্ণনা করার চেয়েও বেশি বিখ্যাত। তিনি সেই যুগের লোক ছিলেন যে যুগে ফিতনা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ প্রকাশ পেয়েছিল। (৪৬৫) তা সত্ত্বেও তিনি সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি এমন কোনো আলেমকে পাননি যে এগুলোকে জাহমিয়্যাদের ন্যায় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে।
টিকাঃ
৪৬১. তিনি হচ্ছেন আবু 'উবাইদ আল-কাসেম ইবন সাল্লাম ইবন আব্দুল্লাহ। খোরাসানের অধিবাসী। তিনি ছিলেন শিক্ষক, পড়াতেন নাহু ও আরবী ভাষা। তার থেকে হাকেম হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "সুন্নাহ'র অনুসারী হওয়া জ্বলন্ত কয়লা হাত দিয়ে মুষ্ঠিবদ্ধ করে রাখার মতো, সেটা আজকে আমার নিকট আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তরবারীর আঘাত করার চেয়েও উত্তম।” আবু বকর আল-আম্বারী বলেন, 'আবু উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ রাতকে তিনভাগ করতেন। প্রথম এক- তৃতীয়াংশ সালাত আদায় করতেন, পরবর্তী তৃতীয়াংশ ঘুমাতেন আর শেষ এক-তৃতীয়াংশ গ্রন্থ লিখতেন। হিজরী ১৫৭ সালে তার জন্ম হয়, মৃত্যু হয় হিজরী ২২৪ সালে। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছে গরীবুল হাদীস, আল-আমওয়াল, আন-নাসেখ ওয়াল মানসূখ ইত্যাদি। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/৩৫৫); আবু ইয়া'লা, ত্বাবাক্বাতুল হানাবিলাহ (১/২৫৯); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/৬০); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৪৯০); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/৫৪)।
৪৬২. এ 'আছার'টি ইবন আব্বাস ও আবু মূসা আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার আসারটি বর্ণনা করেছেন, ১- ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, পৃ. ৭৯। ২- ইবন আবী হাতেম, আত-তাফসীর (৩/১৪০৬)। ৩- ইবন জারীর আত-তাবারী, আত-তাফসীর (৫/৩৯৮)। ৪- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/৩০১), নং ৫৮৬। ৫- ইবন মান্দাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৫। ৬- আব্দুর রাযযাক, আত-তাফসীর (২/২৫১)। ৭- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪৯)। ৮- আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর (১২/৩৯)। ৯- আদ-দারাকুত্বনী, আস-সিফাত, পৃ. ৪৯-৫০। ১০- আল-হারাওয়ী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৫৬-৫৭। ১১- দ্বিয়া, আল-মুখতারাহ (১০/৩১০)। ১২- দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ৬৭-৭১। এর তাহকীকে হামেদ আল-ফিকী বলেন, এটি আমরা ইবন আব্বাস থেকে জানি, তা সহীহ ও বিখ্যাত। ১৩- আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ (২/৫৮২)। ১৪- হাকেম, আল-মুস্তাদরাক (২/২৮২)। তারপর বলেন, এ হাদীসটি সহীহ, শাইখাইন তথা বুখারী ও মুসলিমের শর্তে, তবে তারা সেটা আনেননি। ইমাম যাহাবী তার সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। ১৫- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৪৮)। ১৬- খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১২/২৫২)। ১৭- যাহাবী, আল-উলু, ৬১; মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১০২, তাহকীকারী শাইখ আলবানী বলেন, এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। ১৮- ইবন কাসীর, আত-তাফসীর (১/৪৫৭)। তারপর তিনি বলেন, এটাকে ওকী' তার তাফসীরে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন.... তারপর সনদ দিয়ে তা নিয়ে এসেছেন। ১৯- ইবনুল জাওযী, আল-ইলালুল মুতানাহিয়া (১/৬-৭)। ২০- সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (২/১৭)। তারপর তিনি এটাকে আরও যারা বর্ণনা করেছেন সেসবের নাম বর্ণনা করেছেন। তারা হচ্ছেন ফিরইয়াবী, আব্দ ইবন হুমাইদ, ইবনুল মুনযির, ইবন আবী হাতিম, ত্বাবারানী, আবুশ শাইখ, হাকেম, খত্নীব, বাইহাক্বী। ইমাম আবু ফুর'আকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তা সহীহ, তবে আমরা এর কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাবো না। যেভাবে আমাদের কাছে এসেছে সেভাবে আমরা বলবো, সেটা যেভাবে হাদীসে এসেছে তেমনই।
২১- ইবন মান্দাহ, আত-তাওহীদ (৩/৩০৯)। ২২- হাইসামী, মাজমা'উয যাওয়ায়িদ (৬/৩২৩)। আর তিনি বলেন, এর রিজালগুলো সহীহ হাদীসের রিজাল। ইবন মানযূর তার লিসানুল আরব (৬/১৯৪) গ্রন্থে তাহযীবুল্লুগাহ এর গ্রন্থকার আবু মানসূর আল- আযহারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, 'এ বর্ণনাটির ব্যাপারে আলেমগণ বিশুদ্ধ বলার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন। শাইখ আবু আব্দির রহমান নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী এটার সনদকে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন এর সনদের সকল লোক নির্ভরযোগ্য। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১০২; সিলসিলা দ্বায়ীফাহ (২/৩০২-৩০৩), নং ৫৮৮। আর আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর আছার, তা বর্ণনা করেছেন, ১- ইবন জারীর আত-ত্বাবারী, আত-তাফসীর ৩, ১০। ২- আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/৩০২), নং ৫৮৮। ৩- ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, পৃ. ৭৮। ৪- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৪৮)। ৫- আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ (২/৬২৭-৬২৮)। ৬- ইবন মান্দাহ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৬। ৭- সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (২/১৭)। তারপর তিনি সেটাকে ইবনুল মুনযিরের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ৮- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৮৪; মুখতাসার আল-উলু, পৃ. ১২৩-১৩৪। আলবানী এর সনদকে সহীহ বলেছেন এবং বলেছেন, এর সকল রিজাল নির্ভরযোগ্য প্রসিদ্ধ। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১২৪।
৪৬৩. অর্থাৎ সে ব্যাখ্যা করি না, যা জাহমিয়্যারা করে, যার ফলে সেগুলোকে অর্থশূন্য করা হয়। অনুরূপ তেমন ব্যাখ্যাও করি না, যার ফলে সেটার ধরণ নির্ধারণ কিংবা উদাহরণ-উপমা পেশ করা হয়। তদ্রূপ তেমন ব্যাখ্যাও করি না, যার ফলে সেটার শব্দের অর্থে বিকৃতি ও ইলহাদ আসে। এখানেও কোনোভাবেই 'তাফসীর বা ব্যাখ্যা' বলে অর্থ না করা বুঝানো হয়নি।
৪৬৪. বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৯০)। তিনি বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনুল হারেস আল-ফকীহ, তিনি বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইবন হাইয়ান আল-আসফাহানী, যাতে তাকে তার দাদা ইজাযত দিয়েছিল, তিনি আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি বলেন, আমি আবু উবাইদকে বলতে শুনেছি.... আর তিনি তা উল্লেখ করেন। তাছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনী, আস-সিফাত পৃ. ৬৮-৬৯ এর কাছাকাছি শব্দে। অনুরূপ আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ২৫৫। লালেকাঈ, শারহু উসৃলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৫২৬)। ইবন মান্দাহ, আত-তাওহীদ (১/২৩২)। ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৪৯)। যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১২৭; সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৫০৫)। আর আলবানী এর সনদ মুখতাসারুল উলুতে বিশুদ্ধ বলেছেন।
৪৬৫. তিনি ১৫৭ হিজরী থেকে ২০৪ হিজরী সাল সময় পর্যন্ত দুনিয়াতে অবস্থান করেছেন।
📄 ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক এর বক্তব্য
ইমাম লালেকাঈ এবং বাইহাক্বী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি(৪৬৬) তাকে বলল: হে আবু আব্দির রহমান! আমি সিফাত অপছন্দ করি। অর্থাৎ রবের সিফাত। তখন ইবনুল মুবারক তাকে বললেন: আমি তা সকলের চেয়ে বেশি অপছন্দ করি, তবে কুরআন যখন কোনো কথা বলে আমরাও সেটা বলি। কোনো ব্যাপারে হাদীস-আছার আসলে আমরা সেটা বলতে সাহস করি। (৪৬৭) অনুরূপ কথা। ইবনুল মুবারকের উদ্দেশ্য হলো, আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আল্লাহকে কোনো সিফাত দ্বারা গুণান্বিত করতে শুরু করা অপছন্দ করি; যদি না তা কুরআন-হাদীসে আসে।
তেমনি আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ও অন্যান্যরা বিশুদ্ধ সূত্রে ইবনুল মুবারক(৪৬৮) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে বলা হলো: আমরা কীভাবে আমাদের রবকে জানবো? তিনি বললেন: এভাবে যে, তিনি সাত আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে। সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক। আমরা জাহমিয়্যাদের ন্যায়(৪৬৯) বলি না যে, তিনি এখানে যমীনে। (৪৭০) ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরাও অনুরূপ বলেছেন।(৪৭১)
টিকাঃ
৪৬৬. অপরাপর বর্ণনায় এ লোকের নাম এসেছে। তিনি হচ্ছেন আফলাহ ইবন মুহাম্মাদ। যেমনটি এসেছে নামসহ লালেকাঈ, বাইহাক্বী, যাহাবীর আল-উলু গ্রন্থে।
৪৬৭. লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৪৩১); নং ৭৩৭; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫৮-১৫৯), নং ৭২৬; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১১০-১১১; দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৫২।
৪৬৮. ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন খুরাসানের ইমাম। ইবন তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, জাহমিয়্যাদের নীতি ও সিফাত অস্বীকার করার প্রবণতা যখন খুরাসানেই সূত্রপাত হয়েছিল তখন খুরাসানের আলেমগণের পক্ষ থেকে সে সময়ে জাহমিয়্যাদের ওপর এমন নিন্দার ঝড় উঠেছিল তা অন্য কোনো শহর ও গঞ্জে দেখা যায়নি, যেখানে এ বিদ'আতের উৎপত্তি ঘটেনি বা তারা শুনতে পাননি। যেমনিভাবে কৃফাতে যখন 'ইরজা' (আমল ঈমানের অঙ্গ নয়) এ নীতি প্রচার-প্রসার লাভ করলো তখন কুফার আলেমগণের পক্ষ থেকে সেটার নিন্দা ও বিরোধিতা খুব ব্যাপক আকারে ছিল। সুতরাং তারা অন্য এলাকার আলেমগণের তুলনায় এ বিদ'আতের বিরুদ্ধে বেশি সোচ্চার হয়েছিল। [দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৭/৩১১)]
৪৬৯. এটি জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের সূফীবাদ দ্বারা প্রভাবিত অংশের মত; যেমনটি ইতোপূর্বে চলে গেছে।
৪৭০. দেখুন, আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/১১১, ১৭৪, ৩০৭); দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল মিররীসী, পৃ. ২৩-২৪; আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৩৯-৪০, তাহকীক বদর আলে-বদর; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৬৯); বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩১, তাহক্বীক, আব্দুর রহমান উমাইরাহ; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১১০; মুখতাসার, পৃ. ১৫১-১৫২; আল-আরবাঈন, পৃ. ৮১; ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩৪, তিনি বলেন, এ আছারটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদে আলী ইবনুল হাসান ইবন শাকীকের কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তারপর তিনি তা বলেন। ইবনুল কাইয়্যেম উক্ত কিতাবের অন্যত্র ২১৩- ২১৪ পৃষ্ঠায় বলেন, বরং এটি ইবনুল মুবারক থেকে প্রায় মুতাওয়াতির পদ্ধতিতে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তাকে বলা হলো.... তারপর বাকী কথা বর্ণনা করলেন। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এ বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলে মন্তব্য করে বলেন, 'বিআসানিদা সীহাহ'। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৪)।
৪৭১. ইউসুফ ইবন মূসা আল-ক্বাত্তান বলেন, আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদকে) বলা হলো, আল্লাহ তা'আলা সপ্তম আসমানের উপরে তাঁর 'আরশের উপরে, সকল সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাঁর ক্ষমতা ও জ্ঞান সর্বত্র? তিনি বললেন, "হ্যাঁ। তিনি তাঁর 'আরশের উপর, কোনো কিছু তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।” দেখুন, ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (৩/১৫৯), নং ১১৫; লালেকাঈ, শারহু উসৃলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, নং ৬৭৪; ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১১৬; যাহাবী, আল-উলু লিল আলিয়্যিল আযীম (২/১১১৩), নং ৪৩৮।
📄 ইমাম ইবন যায়েদ এর বক্তব্য
অনুরূপভাবে ইমাম লালেকাঈ, ইমাম সুলায়মান ইবন হারব(৪৭২) থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন যে, আমি হাম্মাদ ইবন যায়েদকে(৪৭৩) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জাহমিয়ারা প্রচেষ্টা চালায় এটা বলতে যে, আসমানের উপরে(৪৭৪) কিছুই নেই।(৪৭৫) (৪৭৬)
টিকাঃ
৪৭২. তিনি হচ্ছেন সুলাইমান ইবন হারব ইবন বুজাইল, আবু আইয়্যুব আল-আযদী। মক্কার বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন, সুলাইমান ইবন হারব ইমামগণের একজন। তার জন্ম হিজরী ১৪০ সালে, আর মৃত্যু হিজরী ২২৪ সালে বসরায়। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/৩০০); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৯/৩৩); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৩৩০); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১৭৮)।
৪৭৩. যাহাবী বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ ইলম ও সম্মানে ইরাকীদের মাঝে তেমনি মর্যাদাপূর্ণ যেমনি মালেক ইবন আনাস হিজাযীদের মাঝে মর্যাদাপূর্ণ। দেখুন, আল-উলু লিল আলিয়্যিল আযীম (২/৯৭০)।
৪৭৪, আসমানের উপরে বলে সবকিছুর উপরে উদ্দেশ্য। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আত বলেন, 'সামা' শব্দের অর্থ উপরে। তাই যেখানেই 'সামা' এসেছে সেখানেই অর্থ হবে সর্বোচ্চে, সবকিছুর উপরে। কোথাও এর অর্থ আকাশের অভ্যন্তরে নয়। আর 'ফী' শব্দটি আরবী ভাষায় প্রচুর পরিমাণে 'আলা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং 'ফিস সামায়ে' এর অর্থ আসমানের মধ্যে না হয়ে 'আলাস সামায়ি' হবে, যার অর্থ, আসমানের উপরে। আর যা আসমানের উপরে তা সর্বোপরে, সেটা 'আরশের উপরে হওয়ার বিরোধী নয়। এটা স্বাভাবিকভাবেই বুঝা যায়। আর 'ফী' এর অর্থ উপরে হওয়ার বহু প্রমাণ কুরআনে কারীমে রয়েছে। যেমন, আল্লাহ বলেন, 'ফামশূ ফী মানাকিবিহা' অর্থাৎ 'সুতরাং তোমরা যমীনের ঘাঁড়ে চলাফেরা কর।' এখানে 'ফী' বলে 'আলা' বুঝানো হয়েছে। কারণ মানুষ যমীনের ভিতরে চলাফেরা করে না, যমীনের ঘাঁড়ের উপর চলাফেরা করে থাকে।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সর্বোচ্চ পবিত্র সত্তা, এ বিষয়টি ফিত্বরাত বা মানুষের স্বভাবজাত জ্ঞানেই মানুষ বুঝতে পারে। এর অস্বীকারকারী বিদ'আতীরা তাদের ফিত্বরাত বা স্বভাবজাত জ্ঞানেই বুঝতে পারে যে, 'জগতের ভিতরে নয়, বাইরেও নয়, এমন কথা বলার অর্থ হচ্ছে তাঁকে অস্তিত্বহীন বলা। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/৩০০)।
ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, 'আল্লাহ তা'আলাকে দেখা যাবে এটার জ্ঞানের তুলনায়, তিনি যেসকল সৃষ্টির উপরে, সেটার জ্ঞান ফিত্বরাত বা স্বভাবজাত বিদ্যায় মানুষের কাছে বেশি পরিচিত, শরী'আতে তা খুবই প্রসিদ্ধ আর উম্মতের সালাফে সালেহীন ও ইমামগণের নিকট বিশালভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর তাই জাহমিয়্যারা আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার কথা গোপন করে শুধু আল্লাহকে হাশরের দিন দেখা না যাওয়া ইত্যাদি বিষয় বেশি প্রকাশ করে। যাতে করে তারা যেসব জিনিস প্রকাশ করে যেমন তাঁকে হাশরের দিন দেখা না যাওয়া, কুরআন সৃষ্ট, এসব তথ্যের আড়ালে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর 'আরশের উপরে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করতে পারে। সালাফে সালেহীন ইমামগণ তাদের এসব চক্রান্ত ও চালাকি ঠিকই বুঝতেন, তারা জাহমিয়াদের কথার স্বরে সেটা জেনে ফেলতেন। তারা বুঝতেন যে, জাহমিয়ারা কোন জিনিস প্রকাশ করছে আর কোন জিনিস অস্বীকার করছে; কারণ সালাফগণ জাহমিয়াদের মূলনীতি জানতেন। জাহমিয়ারা তো কেবল এজন্যই তাঁকে দেখা যাওয়ার বিষয়, অনুরূপ তাঁর যথাযথভাবে কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করতো, কারণ তারা জানতো যে, তাঁকে দেখা ও তাঁর কথা বলা দাবি করে যে, তিনি সকল সৃষ্টির উপরে রয়েছেন। জাহমিয়ারা যদি আল্লাহর কথা বলা ও দেখার বিষয়টি মেনে নিত তবে আবশ্যিকভাবে তারা মহান আল্লাহকে 'আরশের উপর মানতে বাধ্য হতো।” [বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/৩১২-৩১৩)]
আর যখন ইবনুল হাইসাম ও ইবন ফুওরাক সুলতান মাহমূদ সবুক্তগীনের দরবারে মুনাযারা করলো, তখন ইবন ফুওরাক দাবি করলো যে, আল্লাহ তা'আলা জগতের ভিতরেও নয়, বাইরেও নয়, পৃথকও নয়, সাথেও নয়। তখন সুলতান মাহমূদ সবুক্তগীন তাকে বললেন, তুমি যদি অস্তিত্বহীন কোনো কিছুর গুণ বর্ণনা করতে তাহলে কি সেটা সম্পর্কে তার চেয়ে অধিক কিছু বলতে পারতে? অথবা তিনি বলেছেন, তুমি এ রবের যে গুণ বর্ণনা করেছ তার মাঝে ও অস্তিত্বহীন কিছুর মাঝে পার্থক্য করে দেখাও। দেখুন, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৫৩); মিনহাজুস সুন্নাহ (৩/৪২৯); বায়ানু ভালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/২৬৮); আর-রিসালাতুত তাদমীরিয়্যাহ, পৃ. ৬০।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, যে জিনিস জগতের ভিতরেও নয়, বাইরেও নয়, সে জিনিসের ব্যাপারে মানুষের মন বলে যে, সেটা কেবল অস্তিত্বহীন জিনিসই হতে পারে। মানুষের অন্তরে এ স্বীকৃতি, সেটার স্বীকৃতির চেয়ে বড় যে, যাকে দেখা যাবে না তা কেবল অস্তিত্বহীন জিনিসই হতে পারে। তন্মধ্যে প্রথমটির অস্তিত্বহীন হওয়ার বিষয় অন্তরে প্রাথমিকভাবে ও আবশ্যিকভাবে যত বড় আকারে ধরা পড়ে তা দ্বিতীয়টির বিষয়ে তত প্রাথমিকভাবে ও আবশ্যিকভাবে নয়।' [বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৪/৩১৩)]
ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, প্রাথমিক জাহমিয়্যারা যা বলতে চেষ্টা করতো, কিন্তু তারা স্পষ্টভাবে বলতো না, বরং অন্যান্য জিনিসের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করতো, পরবর্তী জাহমিয়্যারা সেটা স্পষ্ট করে বলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তখনকার যুগে সুন্নাহ'র প্রচার-প্রসার, ইমামদের আধিক্য তাদেরকে তা স্পষ্ট করে বলা থেকে বাঁধা দিত; কিন্তু পরবর্তীতে যখন উত্তম যুগ থেকে মানুষ দূরে চলে গেল, সুন্নাহ গোপন হতে লাগলো, ইমামগণ চলে গেলেন তখনই আল্লাহর গুণ অস্বীকারকারী জাহমিয়্যারা তাদের আসল চেহারা দেখাতে আরম্ভ করলো, অর্থাৎ আল্লাহর সর্বোচ্চ সত্তা হওয়ার বিষয়টি যা তাদের পূর্ববর্তীরা গোপন করে রাখতো, প্রকাশ করতে সমর্থ হতো না। দেখুন, ইজতিমা'উল জুযূশ, পৃ. ১৩৬।
৪৭৫. বর্ণনাটি বিভিন্ন গ্রন্থে এসেছে। যেমন, ১- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ তাঁর আস-সুন্নাহ (১/১১৭-১১৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন ইবরাহীম আদ-দাওরাক্বী, আলী ইবন মুসলিম আত-তুসী, তারা দুজনে বলেন আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন হারব, তিনি বলেন, আমি হাম্মাদ ইবন যায়েদকে বলতে শুনেছি... তারপর তা বর্ণনা করেন। ২- অনুরূপ ইমাম খাল্লালও তা আস-সুন্নায় বর্ণনা করেন। ৩- আরও বর্ণনা করেন, বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ, পৃ. ৩১; ৪- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭১-১৭২ আর তিনি সেটাকে আসরম এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ৫- অনুরূপ তা বর্ণনা করেন যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১০৬-১০৭ আর তিনি সেটাকে ইবন আবী হাতেম এর 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থের দিকে সম্পৃক্ত করে বলেন, তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন হারব, তিনি বলেন আমি হাম্মাদ ইবন যায়েদকে বলতে শুনেছি... তারপর তিনি তা বর্ণনা করেন। আরও দেখুন, মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ১৪৬। ৬- ইবনুল কাইয়্যেম ইজতিমা'উল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৬-২১৪। এ বর্ণনাটিকে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বিশুদ্ধ বলেছেন যেমনটি উপরের ভাষ্যে এসেছে। আরও দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৩-১৮৪); তাছাড়া শাইখ আলবানী বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৪৭।
৪৭৬. ইমাম যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ হাম্মাদ ইবন যায়েদ রাহিমাহুল্লাহ'র এ বক্তব্যের ওপর টীকা দিয়ে বলেন, সালাফে সালেহীনের বক্তব্য, সুন্নাহ'র ইমামগণের বক্তব্য, বরং সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্য, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণের সকলের বক্তব্য হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর উপরে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে। আর তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, এর ওপর তাদের প্রমাণ হচ্ছে, কুরআন, হাদীসের ভাষ্য ও সাহাবায়ে কিরাম ও পরবর্তীদের আছার। এর বিপরীতে পরবর্তী কালামশাস্ত্রবিদদের মত হচ্ছে, আল্লাহ আসমানের উপরেও নয়, 'আরশের উপরেও নয়, আসমানসমূহের উপরেও নয়, যমীনেও নয়। জগতের ভেতরেও নয়, বাইরেও নয়, সৃষ্টি থেকে তিনি আলাদাও নন, তাদের সাথেও নন। আরও বলে, যত কিছু আছে সবই জিসিম বা দেহ এর গুণ। আর আল্লাহ তো জিসিম বা দেহ থেকে মুক্ত।... দেখুন, আল-উলু লিল আলিয়ি্যল 'আযীম (২/৯৭০)।
📄 সাঈদ ইবন আমের আদ-দুবা’ঈ এর বক্তব্য
ইবন আবী হাতীম স্বীয় 'আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ'(৪৭৭) গ্রন্থে সা'ঈদ ইবন আমের আদ-দুবা'ঈ(৪৭৮) থেকে যিনি জ্ঞানে ও দীনদারিতে বসরার ইমাম, ইমাম আহমদের শাইখ, তার কাছে জাহমিয়্যাদের বিষয় উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: এরা কথায় ইয়াহুদী-নাসারা থেকেও নিকৃষ্ট; কারণ ইয়াহুদী-নাসারা সহ সব ধর্মালম্বী মুসলিমদের সাথে একমত যে, আল্লাহর 'আরশের উপরে। আর তাদের বক্তব্য: 'আরশের উপরে কিছু নেই।(৪৭৯)
টিকাঃ
৪৭৭. এ গ্রন্থটি ইমাম ইবন আবী হাতেম রচিত গ্রন্থের তালিকায় অনেকেই উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ১- ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৫৯)। সেখান থেকে তিনি এ স্থানে কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। অন্যত্র বলেন (১৩/২৬৪), ইবন আবী হাতেম এর কিতাব আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ একটি বড় কিতাব, আমি সে কিতাব থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছি। ২- ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৮৩০), সেখানে তিনি বলেন, জাহমিয়্যাদের মতামত খণ্ডন করে রচিত তাঁর (ইবন আবি হাতেম এর) একটি বড় গ্রন্থ রয়েছে, যা তার ইমাম ও নেতা হওয়া প্রমাণ করে। ৩- সুবুকী, ত্বাবাক্বাতুশ শাফে'ঈয়্যাহ আল-কুবরা (৩/৩২৫)। ৪- সাফাদী, আল-ওয়াফী বিল ওফায়াত (১৮/১৩৬)। ৫- ইবন হাজার, তা'জীলুল মানফা'আহ (১/৮২৮)। ৬- বুরহানুদ্দীন ইবন মুফলিহ, আল-মাকসাদুল আরশাদ (১/২৮২), (২/১০৬)। ৭- সুয়ূত্বী, দ্বাৰাক্কাতুল মুফাসসিরীন পৃ. ৫২। ৮- কাত্তানী, আর-রিসালাতুল মুস্তাত্বরাফাহ, পৃ. ৩৯। ৯- যিরিকলী, আল-আ'লাম (৩/৩২৪) ইত্যাদি। ১০- ফুয়াদ সিযকীন, তারীখুত তুরাস (১/৩৫৫)।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এ কিতাবের কথা তার একাধিক গ্রন্থে বলেছেন, সেখান থেকে অনেক উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৪৪০), (২/৪২, ৫২৫); মাজমূ' ফাতাওয়া (১২/৫০৬, ৫৭২), (১৭/৭৪); দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১); মিনহাজুস সুন্নাহ (২/২৫২, ৩৬৫)।
৪৭৮. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ-দুবা'য়ী আল-বসরী। বড় হাফেযদের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন হাবীব আশ-শহীদ, ইউনুস ইবন 'উবাইদ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মাদীনী, আহমাদ ইবন হাম্বল প্রমুখ। কাত্তান বলেন, সা'ঈদ ইবন 'আমের গত চল্লিশ বছর ধরে এ শহরের শিক্ষক। যিয়াদ ইবন আইয়্যুব বলেন, আমি বসরায় সা'ঈদ ইবন 'আমের আদ-দুবা'ঈ মতো কাউকে দেখিনি। ইমাম আহমাদ বলেন, আমি তার থেকে ও হুসাইন আল-জু'ফী থেকে উৎকৃষ্ট কাউকে দেখিনি। হিজরী ২০৮ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৩৫১); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৮৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২০)।
৪৭৯. এ আছারটি যারা বর্ণনা করেন, তাদের অন্যতম হচ্ছেন, ১- বুখারী, খালকু আফ'আলিল ইবাদ পৃ. ৩১। ২- যাহাবী, আল-উলু লিল আলিয়ি্যল আযীম (২/১০৩৩), নং ৩৯১; সেখানকার সনদ হচ্ছে, ইবন আবী হাতেম থেকে, তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে সা'ঈদ ইবন আমের আদ-দুবা'ঈ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে... তারপর তিনি তা বর্ণনা করেন। দেখুন, মুখতাসারুল উলু, পৃ. ১৬৮। ৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৮২। ৪- ইবনুল কাইয়্যম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ২১৫। আরও দেখুন, দারউত তা'আরুদ্ব (৬/২৬১); মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৮৪)।