📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 রবী‘আহ ও মালেক এর বক্তব্য, ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এ কথার উদ্দেশ্য

📄 রবী‘আহ ও মালেক এর বক্তব্য, ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এ কথার উদ্দেশ্য


কাজেই রবী'আহ ও মালিকের বক্তব্য: "ইসতিওয়া অজ্ঞাত নয়, এর ধরণ জানা বিবেকের আওতাভুক্ত বিষয় নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব।" এটি অন্য ইমামদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল যে, "এগুলোকে তোমরা কোনো ধরণ নির্ধারণ ব্যতিরেকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।" তারা তো কেবল নাকচ করেছেন সিফাতের কাইফিয়্যত তথা ধরণ ও পদ্ধতির জ্ঞানকে, মূল সিফাতের বাস্তব অর্থকে নাকচ করেননি। যদি সালাফগণ আল্লাহর শানের সাথে উপযুক্ত যে অর্থ সেটা না বুঝে শুধু কেবল শব্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করতো তাহলে তারা বলতেন না "ইসতিওয়া অজানা নয়, এর ধরণ বিবেক দিয়ে প্রাপ্ত হওয়ার বিষয় নয়" এবং বলতেন না "যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও ধরণ (কাইফিয়্যাত) নির্ধারণ ছাড়া।" কেননা "ইসতিওয়া” শব্দটি তখন তো জ্ঞাতই হতো না, বরং আরবী বর্ণমালার অর্থের মতো অজ্ঞাতই হতো।

টিকাঃ
৩৬৭. অর্থাৎ সালাফগণ ‘ধরণ’ এর জ্ঞান অস্বীকার করেছেন, তারা এর অর্থকে অস্বীকার করেননি। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, সালাফে সালেহীন থেকে এ কথা বিখ্যাত যে, মহান আল্লাহর সিফাত এর ব্যাপারে ‘কী ধরনের’ বা ধরণ কী? তা প্রশ্ন করা যাবে না। অনুরূপ মহান আল্লাহর কর্মের ব্যাপারেও ‘কেন’? এ প্রশ্ন করা যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ যেমন মালিক রাহিমাহুল্লাহ, তারা বর্তমান সময়ে আমাদের নিকট মহান আল্লাহর সিফাত এর ‘ধরণ’ জানা না থাকার কথা বলেছেন। তবে ‘ধরণ’ এর একটি বাস্তব অবস্থা রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করেনি। অথচ অনেক জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলা এসব সিফাতের ব্যাপারে তারা যা জেনেছে বা বলেছে তার বাইরে সেগুলোর বাস্তব ও হাকীকতই অস্বীকার করে থাকে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (১/১৯৭)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ সিফাতের হাকীকত ও বাস্তব ‘ধরণ’ থাকাকে অস্বীকার করেননি। বরং বাস্তব ধরণ জানা থাকাকে অস্বীকার করেছেন। সুতরাং এসব সিফাতকে তার হাকীকী তথা বাস্তব অর্থেই নিতে হবে, কোনোরূপ রূপক অর্থের পিছনে ছুটা যাবে না। ধরণকে রূপক বানানো যাবে না। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাই ইমাম ইবন আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন, জামে'উর রাসায়িল (৮/১৮৬)।
৩৬৮. কারণ দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো কুটতর্কের লোক, আরবী ভাষা জ্ঞানে স্বল্পতার অধিকারী ব্যক্তিকে দেখা যায় তারা ইমাম মালিক এ বক্তব্য ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এর অর্থ করছে, ইস্তেওয়া শব্দটি আরবী ভাষার শব্দ, এ শব্দটি অজানা নয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝাতে চাচ্ছে এখানে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ‘ইস্তেওয়া’ এর অর্থ অজানা নয়’ এটা বুঝাননি। নাউযুবিল্লাহ, শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক করে তারা ইমামদের বক্তব্যের স্পষ্ট ভাষ্যকেও অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছে। এখানে বিরুদ্ধবাদীদের একটি সন্দেহ তুলে ধরা হয়েছে, যায় চারটি জবাব শাইখুল ইসলাম প্রদান করবেন।
৩৬৯. বিদ'আতীদের মধ্যে আহলুত তাজহীল (যারা মনে করে সিফাতের আয়াত ও হাদীসগুলোর অর্থ জানা যায় না’) তারা যেহেতু ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ’র বাণীটি থেকে ‘অর্থ না জানার’ দলীল হিসেবে পেশ করে তাই ইমাম ইবন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম মালেকের সে বাণীর আলোচনা করেই তাদের কুপোকাত করছেন। এটাকে বলা হয় কালবুদ দলীল।
৩৭০. ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ‘মালেক রাহিমাহুল্লাহ এটা বর্ণনা করলেন যে, ‘ইস্তিওয়া’ এর অর্থ জানা আছে। (তা হচ্ছে উপরে উঠা), তার ধরণ অজানা। সুতরাং অজানা ধরণ হচ্ছে সে "তা'ওয়ীল" বা "পূর্ণ বিবরণ" বা "মূলরূপ” যা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর ‘ইস্তেওয়া’ ও অন্যান্য শব্দ থেকে যা বুঝা যায় তা তো সে ‘তাফসীর’ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বর্ণনা করেছেন। [দারউত তা'আরুদ্ব (১/২৮৭)]
অন্য জায়গায় বলেন, ‘তিনি বর্ণনা করে দিলেন যে, তাঁর ইস্তেওয়া (তথা উপরে উঠা) এর ধরণ বান্দাদের অজানা। তবে ধরণ নেই এমন কথা বলা হয়নি। বরং বান্দাদের কাছে সেটার জ্ঞান নেই এটাই ঘোষণা করেছেন।’ [দারউত তা'আরুদ্ব (২/৩৫)]
৩৭১. এ হচ্ছে প্রথম জাওয়াব। যার মূলকথা হচ্ছে, আরবী বর্ণমালার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ হয় না। এগুলোর ব্যপারে কারো পক্ষ থেকে বলা হয় না যে, এগুলো অজানা নয়। বরং তারা কেউ এগুলোর অর্থ জানে না। কিন্তু ‘ইস্তেওয়া’ শব্দটির অর্থ হয় এটা আরবী ভাষা যারা জানে তারা সবাই বলতে বাধ্য। সুতরাং যখন ‘ইস্তেওয়া’ সম্পর্কে বলা হলো যে, এটি অজানা নয়, তখন সহজেই এটা বুঝা যায় যে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য অজানা নয়। বরং এ শব্দগুলোর অর্থই উদ্দেশ্য।

কাজেই রবী'আহ ও মালিকের বক্তব্য: "ইসতিওয়া অজ্ঞাত নয়, এর ধরণ জানা বিবেকের আওতাভুক্ত বিষয় নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব।" এটি অন্য ইমামদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল যে, "এগুলোকে তোমরা কোনো ধরণ নির্ধারণ ব্যতিরেকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।" তারা তো কেবল নাকচ করেছেন সিফাতের কাইফিয়্যত তথা ধরণ ও পদ্ধতির জ্ঞানকে, মূল সিফাতের বাস্তব অর্থকে নাকচ করেননি। যদি সালাফগণ আল্লাহর শানের সাথে উপযুক্ত যে অর্থ সেটা না বুঝে শুধু কেবল শব্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করতো তাহলে তারা বলতেন না "ইসতিওয়া অজানা নয়, এর ধরণ বিবেক দিয়ে প্রাপ্ত হওয়ার বিষয় নয়" এবং বলতেন না "যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও ধরণ (কাইফিয়্যাত) নির্ধারণ ছাড়া।" কেননা "ইসতিওয়া” শব্দটি তখন তো জ্ঞাতই হতো না, বরং আরবী বর্ণমালার অর্থের মতো অজ্ঞাতই হতো।

টিকাঃ
৩৬৭. অর্থাৎ সালাফগণ ‘ধরণ’ এর জ্ঞান অস্বীকার করেছেন, তারা এর অর্থকে অস্বীকার করেননি। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, সালাফে সালেহীন থেকে এ কথা বিখ্যাত যে, মহান আল্লাহর সিফাত এর ব্যাপারে ‘কী ধরনের’ বা ধরণ কী? তা প্রশ্ন করা যাবে না। অনুরূপ মহান আল্লাহর কর্মের ব্যাপারেও ‘কেন’? এ প্রশ্ন করা যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ যেমন মালিক রাহিমাহুল্লাহ, তারা বর্তমান সময়ে আমাদের নিকট মহান আল্লাহর সিফাত এর ‘ধরণ’ জানা না থাকার কথা বলেছেন। তবে ‘ধরণ’ এর একটি বাস্তব অবস্থা রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করেনি। অথচ অনেক জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলা এসব সিফাতের ব্যাপারে তারা যা জেনেছে বা বলেছে তার বাইরে সেগুলোর বাস্তব ও হাকীকতই অস্বীকার করে থাকে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়‍্যাহ (১/১৯৭)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ সিফাতের হাকীকত ও বাস্তব ‘ধরণ’ থাকাকে অস্বীকার করেননি। বরং বাস্তব ধরণ জানা থাকাকে অস্বীকার করেছেন। সুতরাং এসব সিফাতকে তার হাকীকী তথা বাস্তব অর্থেই নিতে হবে, কোনোরূপ রূপক অর্থের পিছনে ছুটা যাবে না। ধরণকে রূপক বানানো যাবে না। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাই ইমাম ইবন আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন, জামে'উর রাসায়িল (৮/১৮৬)।
৩৬৮. কারণ দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো কুটতর্কের লোক, আরবী ভাষা জ্ঞানে স্বল্পতার অধিকারী ব্যক্তিকে দেখা যায় তারা ইমাম মালিক এ বক্তব্য ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এর অর্থ করছে, ইস্তেওয়া শব্দটি আরবী ভাষার শব্দ, এ শব্দটি অজানা নয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝাতে চাচ্ছে এখানে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ‘ইস্তেওয়া’ এর অর্থ অজানা নয়’ এটা বুঝাননি। নাউযুবিল্লাহ, শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক করে তারা ইমামদের বক্তব্যের স্পষ্ট ভাষ্যকেও অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছে। এখানে বিরুদ্ধবাদীদের একটি সন্দেহ তুলে ধরা হয়েছে, যায় চারটি জবাব শাইখুল ইসলাম প্রদান করবেন।
৩৬৯. বিদ'আতীদের মধ্যে আহলুত তাজহীল (যারা মনে করে সিফাতের আয়াত ও হাদীসগুলোর অর্থ জানা যায় না’) তারা যেহেতু ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ’র বাণীটি থেকে ‘অর্থ না জানার’ দলীল হিসেবে পেশ করে তাই ইমাম ইবন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম মালেকের সে বাণীর আলোচনা করেই তাদের কুপোকাত করছেন। এটাকে বলা হয় কালবুদ দলীল।
৩৭০. ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ‘মালেক রাহিমাহুল্লাহ এটা বর্ণনা করলেন যে, ‘ইস্তিওয়া’ এর অর্থ জানা আছে। (তা হচ্ছে উপরে উঠা), তার ধরণ অজানা। সুতরাং অজানা ধরণ হচ্ছে সে "তা'ওয়ীল" বা "পূর্ণ বিবরণ" বা "মূলরূপ” যা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর ‘ইস্তেওয়া’ ও অন্যান্য শব্দ থেকে যা বুঝা যায় তা তো সে ‘তাফসীর’ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বর্ণনা করেছেন। [দারউত তা'আরুদ্ব (১/২৮৭)]
অন্য জায়গায় বলেন, ‘তিনি বর্ণনা করে দিলেন যে, তাঁর ইস্তেওয়া (তথা উপরে উঠা) এর ধরণ বান্দাদের অজানা। তবে ধরণ নেই এমন কথা বলা হয়নি। বরং বান্দাদের কাছে সেটার জ্ঞান নেই এটাই ঘোষণা করেছেন।’ [দারউত তা'আরুদ্ব (২/৩৫)]
৩৭১. এ হচ্ছে প্রথম জাওয়াব। যার মূলকথা হচ্ছে, আরবী বর্ণমালার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ হয় না। এগুলোর ব্যপারে কারো পক্ষ থেকে বলা হয় না যে, এগুলো অজানা নয়। বরং তারা কেউ এগুলোর অর্থ জানে না। কিন্তু ‘ইস্তেওয়া’ শব্দটির অর্থ হয় এটা আরবী ভাষা যারা জানে তারা সবাই বলতে বাধ্য। সুতরাং যখন ‘ইস্তেওয়া’ সম্পর্কে বলা হলো যে, এটি অজানা নয়, তখন সহজেই এটা বুঝা যায় যে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য অজানা নয়। বরং এ শব্দগুলোর অর্থই উদ্দেশ্য।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ‘আরশ ও উপরে থাকা সম্পর্কে ইমাম ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য

📄 ‘আরশ ও উপরে থাকা সম্পর্কে ইমাম ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য


তিনি বলেন: আহলে সুন্নাতের কথা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ 'আরশ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে খাস করেছেন সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে ও উঁচুতে হওয়া দ্বারা। অতঃপর তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে তার উপর উঠেছেন। যেমন তিনি নিজের ব্যাপারে জানিয়েছেন:
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥]
"রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ ﴾ [الحديد: ٤]
"তারপর তিনি 'আরশে উঠেছেন। তিনি জানেন যমীনে যা কিছু প্রবেশ করে।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪]
সুতরাং অতি পবিত্র তিনি, যিনি দূরবর্তী [হয়েছেন (৫১০) ফলে তাকে দেখা যায় না](৫১১) ও নিকটবর্তী হন জ্ঞানের [ও ক্ষমতার](৫১২) মাধ্যমে(৫১৩) ফলে তিনি গোপন শলা-পরামর্শ শুনতে পান।
অতঃপর তিনি আবু রাযীন আল-উকাইলী বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, [যাতে এসেছে,] আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আসমান-যমীন সৃষ্টির পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, 'আমা'তে, যার(৫১৪) উপরেও বায়ু, নিচেও বায়ু। অতঃপর তিনি পানির উপরে 'আরশ সৃষ্টি করলেন।” (৫১৫)

টিকাঃ
৫১০. আল্লাহ তা'আলাকে কি দূরবর্তী বলা যাবে? ইবন তাইমিয়্যাহ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলাকে 'দূরবর্তী' গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৭)] অন্যত্র বলেছেন, আর 'বা'য়ীদ' আল্লাহর নামও নয়। তাকে উম্মতের সালাফদের কেউ ও তাদের ইমামগণ কখনও 'বা'য়ীদ' বা দূরবর্তী গুণে গুণান্বিত করেননি। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৯)] এর কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসে তা না আসা। তবে 'ইখবার' বা এটা বলা যাবে কিনা যে, আল্লাহ কাফেরদের থেকে দূরে বা বদকারদের থেকে দূরে? যদি উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেয়া ও তাদের প্রতিদান দেয়া থেকে দূরে তাহলে সেটাতে আশা করি সমস্যা হবে না।
৫১১. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১২. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১৩. আল্লাহ তা'আলার নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ কী? শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন যে নৈকট্য কেবল বিশেষভাবেই হয়। নৈকট্য কখনও সর্বসাধারণের জন্য হয় না। দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)। অর্থাৎ 'কুরব' বা 'নৈকট্য' বিষয়টি মা'য়িয়‍্যাহ বা 'সাথে থাকা' এর মত নয়। বরং বিষয়টি 'মা'য়িয়‍্যাহ আল-খাসসা'র মতো। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অনেকগুলো কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্য এনে প্রমাণ করেছেন যে, রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন। তারপর তিনি বলেন, তবে এসব নৈকট্য সবই হচ্ছে বিশেষ নৈকট্য যা কোনো কোনো অবস্থায় হয়ে থাকে, অপর অবস্থায় থাকে না। কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও সকল সৃষ্টির জন্য সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ তাআলার সত্তাগত নৈকট্য সাব্যস্ত করা হয়নি। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৩০, ২৪০)] অন্যত্র তিনি বলেন, 'আল্লাহ সুবহানাহু যত জায়গায় নিজেকে নিকটে থাকার কথা বলেছেন সেগুলোতে কোথাও সকল সৃষ্টির নিকটে রয়েছে এমনটি বলেননি, যেমনটি বলেছেন 'সাথে' থাকার ব্যাপারে। কারণ 'মা'য়িয়্যাত' বা সাথে থাকার বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা নিজেকে সাধারণ ও বিশেষ দু'ভাবে বলেছেন, কিন্তু নৈকট্য, তিনি কার নিকটে আসবেন এটা একান্তই তার জন্য নির্দিষ্ট যার তিনি নিকটে থাকবে বলেছেন। যেমন আহ্বানকারী, [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৬] ইবাদতকারী [বান্দা আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হয় যখন সে সাজদা করে...] অনুরূপ হাজীদের জন্য 'আরাফার মাঠে নিকটে হওয়া ও প্রথম আসমানের নিকটে থাকা...' [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৪৭৮), (১৫/১৭)] ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও বলা হয়নি যে, আল্লাহ সবার নিকটে। এটাও বলা হয়নি যে, তিনি কাফের ও ফাজেরদের নিকটে। বরং সর্বদা বিশেষভাবেই নির্দিষ্ট লোকদের জন্যই তা এসেছে...' [মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)] ইবনুল কাইয়্যেম সেখানে আরও বলেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকটে থাকা দু' প্রকার: ১- তাঁকে আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়ার মাধ্যমে তার নিকটে থাকা। ২- তাঁর আনুগত্যকারীর সাওয়াব দানের জন্য তাঁর নিকটে থাকা। উল্লেখ্য, পরবর্তী আলেমগণের কারও কারও গ্রন্থে আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্যকে দু'ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে, সাধারণ নৈকট্য, বিশেষ নৈকট্য। [তাফসীর সা'দী] সম্ভবত তারা সেটাকে মা'য়িয়্যাত বা 'সাথে থাকা' এর ওপর কিয়াস করেছেন। কিন্তু সেটা যথাযথ মনে হয় না। বস্তুত 'সাধারণ নৈকট্য' বলার কোনো ভাষ্য সালাফে সালেহীনের থেকে বর্ণিত হয়নি। তাই আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্য কেবল বিশেষই হয়ে থাকে এটাই বলতে হবে।
৫১৪. ইমাম ইবন আব্দুল বার কোনো কোনো আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এখানে "যার উপর” ও "যার নিচ" বলে 'আমা'কে বুঝানো হয়েছে। দেখুন, তামহীদ (৭/১৩৮)।
৫১৫. হাদীসটি যারা উদ্ধৃত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ১- তিরমিযী (৫/২৮৮), হাদীস নং ৩১০৯। ২- ইবন মাজাহ, হাদীস নং (১/৬৪), ১৮২। ৩- আবু দাউদ আত-ত্বায়ালাসী, আল-মুসনাদ, পৃ. ১৪৭, নং ১১৮৯। ৪- ইবন হিব্বان, আস-সহীহ, হাদীস নং ৬১৪১। ৫- আহমাদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ১৬১৮৮। ৬- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/২৫-২৬), নং ৪৫০। ৭- ত্বাবারানী, আল-কাবীর (১৯/২০৭), নং ৪৬৮। ৮- হাকীম আত-তিরমিযী, আর-রাদ্দু 'আলাল মু'আত্তিলাহ, পৃ. ১৮৮। ৯- তাফসীর আত-তাবারী (১২/৪)। ১০- ত্বাবারী, আত-তারীখ (১/৩৭-৩৮)। ১১- ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৭১-২৭২)। ১২- ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৭)। ১৩- ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, পৃ. ৫৪। ১৪- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫০)। হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কারও কারও নিকট হাদীসটি সহীহ, অপর কারও নিকট তা দুর্বল। মূল সমস্যা হচ্ছে, ওকী' ইবন হুদুস বা 'উদুস নামীয় একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন তার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গীগত পার্থক্য থাকা। অথচ ইবন হিব্বান তাকে 'সিকাত' বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। ইবন হাজার তাকে মাকবুল বলেছেন। তাকে জানার জন্য বিস্তারিত দেখা যেতে পারে, ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীল মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/২৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১১/১৩১); তাক্বরীব, পৃ. ৫৮১; যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/৩৩৫)।

তিনি বলেন: আহলে সুন্নাতের কথা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ 'আরশ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে খাস করেছেন সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে ও উঁচুতে হওয়া দ্বারা। অতঃপর তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে তার উপর উঠেছেন। যেমন তিনি নিজের ব্যাপারে জানিয়েছেন:
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥]
"রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ ﴾ [الحديد: ٤]
"তারপর তিনি 'আরশে উঠেছেন। তিনি জানেন যমীনে যা কিছু প্রবেশ করে।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪]
সুতরাং অতি পবিত্র তিনি, যিনি দূরবর্তী [হয়েছেন (৫১০) ফলে তাকে দেখা যায় না](৫১১) ও নিকটবর্তী হন জ্ঞানের [ও ক্ষমতার](৫১২) মাধ্যমে(৫১৩) ফলে তিনি গোপন শলা-পরামর্শ শুনতে পান।
অতঃপর তিনি আবু রাযীন আল-উকাইলী বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, [যাতে এসেছে,] আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আসমান-যমীন সৃষ্টির পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, 'আমা'তে, যার(৫১৪) উপরেও বায়ু, নিচেও বায়ু। অতঃপর তিনি পানির উপরে 'আরশ সৃষ্টি করলেন।” (৫১৫)

টিকাঃ
৫১০. আল্লাহ তা'আলাকে কি দূরবর্তী বলা যাবে? ইবন তাইমিয়্যাহ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলাকে 'দূরবর্তী' গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৭)] অন্যত্র বলেছেন, আর 'বা'য়ীদ' আল্লাহর নামও নয়। তাকে উম্মতের সালাফদের কেউ ও তাদের ইমামগণ কখনও 'বা'য়ীদ' বা দূরবর্তী গুণে গুণান্বিত করেননি। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৯)] এর কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসে তা না আসা। তবে 'ইখবার' বা এটা বলা যাবে কিনা যে, আল্লাহ কাফেরদের থেকে দূরে বা বদকারদের থেকে দূরে? যদি উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেয়া ও তাদের প্রতিদান দেয়া থেকে দূরে তাহলে সেটাতে আশা করি সমস্যা হবে না।
৫১১. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১২. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১৩. আল্লাহ তা'আলার নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ কী? শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন যে নৈকট্য কেবল বিশেষভাবেই হয়। নৈকট্য কখনও সর্বসাধারণের জন্য হয় না। দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)। অর্থাৎ 'কুরব' বা 'নৈকট্য' বিষয়টি মা'য়িয়‍্যাহ বা 'সাথে থাকা' এর মত নয়। বরং বিষয়টি 'মা'য়িয়‍্যাহ আল-খাসসা'র মতো। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অনেকগুলো কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্য এনে প্রমাণ করেছেন যে, রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন। তারপর তিনি বলেন, তবে এসব নৈকট্য সবই হচ্ছে বিশেষ নৈকট্য যা কোনো কোনো অবস্থায় হয়ে থাকে, অপর অবস্থায় থাকে না। কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও সকল সৃষ্টির জন্য সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ তাআলার সত্তাগত নৈকট্য সাব্যস্ত করা হয়নি। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৩০, ২৪০)] অন্যত্র তিনি বলেন, 'আল্লাহ সুবহানাহু যত জায়গায় নিজেকে নিকটে থাকার কথা বলেছেন সেগুলোতে কোথাও সকল সৃষ্টির নিকটে রয়েছে এমনটি বলেননি, যেমনটি বলেছেন 'সাথে' থাকার ব্যাপারে। কারণ 'মা'য়িয়্যাত' বা সাথে থাকার বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা নিজেকে সাধারণ ও বিশেষ দু'ভাবে বলেছেন, কিন্তু নৈকট্য, তিনি কার নিকটে আসবেন এটা একান্তই তার জন্য নির্দিষ্ট যার তিনি নিকটে থাকবে বলেছেন। যেমন আহ্বানকারী, [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৬] ইবাদতকারী [বান্দা আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হয় যখন সে সাজদা করে...] অনুরূপ হাজীদের জন্য 'আরাফার মাঠে নিকটে হওয়া ও প্রথম আসমানের নিকটে থাকা...' [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৪৭৮), (১৫/১৭)] ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও বলা হয়নি যে, আল্লাহ সবার নিকটে। এটাও বলা হয়নি যে, তিনি কাফের ও ফাজেরদের নিকটে। বরং সর্বদা বিশেষভাবেই নির্দিষ্ট লোকদের জন্যই তা এসেছে...' [মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)] ইবনুল কাইয়্যেম সেখানে আরও বলেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকটে থাকা দু' প্রকার: ১- তাঁকে আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়ার মাধ্যমে তার নিকটে থাকা। ২- তাঁর আনুগত্যকারীর সাওয়াব দানের জন্য তাঁর নিকটে থাকা। উল্লেখ্য, পরবর্তী আলেমগণের কারও কারও গ্রন্থে আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্যকে দু'ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে, সাধারণ নৈকট্য, বিশেষ নৈকট্য। [তাফসীর সা'দী] সম্ভবত তারা সেটাকে মা'য়িয়্যাত বা 'সাথে থাকা' এর ওপর কিয়াস করেছেন। কিন্তু সেটা যথাযথ মনে হয় না। বস্তুত 'সাধারণ নৈকট্য' বলার কোনো ভাষ্য সালাফে সালেহীনের থেকে বর্ণিত হয়নি। তাই আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্য কেবল বিশেষই হয়ে থাকে এটাই বলতে হবে।
৫১৪. ইমাম ইবন আব্দুল বার কোনো কোনো আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এখানে "যার উপর” ও "যার নিচ" বলে 'আমা'কে বুঝানো হয়েছে। দেখুন, তামহীদ (৭/১৩৮)।
৫১৫. হাদীসটি যারা উদ্ধৃত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ১- তিরমিযী (৫/২৮৮), হাদীস নং ৩১০৯। ২- ইবন মাজাহ, হাদীস নং (১/৬৪), ১৮২। ৩- আবু দাউদ আত-ত্বায়ালাসী, আল-মুসনাদ, পৃ. ১৪৭, নং ১১৮৯। ৪- ইবন হিব্বان, আস-সহীহ, হাদীস নং ৬১৪১। ৫- আহমাদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ১৬১৮৮। ৬- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/২৫-২৬), নং ৪৫০। ৭- ত্বাবারানী, আল-কাবীর (১৯/২০৭), নং ৪৬৮। ৮- হাকীম আত-তিরমিযী, আর-রাদ্দু 'আলাল মু'আত্তিলাহ, পৃ. ১৮৮। ৯- তাফসীর আত-তাবারী (১২/৪)। ১০- ত্বাবারী, আত-তারীখ (১/৩৭-৩৮)। ১১- ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৭১-২৭২)। ১২- ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৭)। ১৩- ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, পৃ. ৫৪। ১৪- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫০)। হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কারও কারও নিকট হাদীসটি সহীহ, অপর কারও নিকট তা দুর্বল। মূল সমস্যা হচ্ছে, ওকী' ইবন হুদুস বা 'উদুস নামীয় একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন তার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গীগত পার্থক্য থাকা। অথচ ইবন হিব্বান তাকে 'সিকাত' বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। ইবন হাজার তাকে মাকবুল বলেছেন। তাকে জানার জন্য বিস্তারিত দেখা যেতে পারে, ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীল মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/২৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১১/১৩১); তাক্বরীব, পৃ. ৫৮১; যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/৩৩৫)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 কুরসীর ব্যাপারে ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য

📄 কুরসীর ব্যাপারে ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য


মুহাম্মাদ (ইবন আবী যামানীন) বলেন: 'আমা হচ্ছে, ঘন পুঞ্জীভূত মেঘমালা(৫১৬); যেমনটি উল্লেখ করেছেন খলীল।(৫১৭)
অতঃপর তিনি অন্যান্য আছার উল্লেখ করেন। তারপর বলেন: অধ্যায়: কুরসীর প্রতি ঈমান(৫১৮)
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (ইবন আবী যামানীন) বলেন, আর আহলুস সুন্নাতের কথা হচ্ছে: কুরসী হচ্ছে 'আরশের সম্মুখে এবং সেটি দু' পায়ের স্থান। অতঃপর তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, যাতে আখেরাতে জুমু'আর দিন (আল্লাহর) প্রকাশ পাওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যেখানে আছে: "যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি ইল্লিয়িয়ন থেকে কুরসীতে নেমে আসবেন। অতঃপর কুরসীকে ঘিরে থাকবে সোনার মিম্বর, যা মুক্তার মাল্যে ভূষিত। অতঃপর নবীগণ এসে তাতে বসবেন।”(৫১৯)
আর তিনি তা উল্লেখ করলেন যা উল্লেখ করেছেন প্রসিদ্ধ তাফসীর(৫২০) গ্রন্থকার ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম।(৫২১) তিনি বলেন:
"আমার কাছে মু'আল্লা ইবন হিলাল(৫২২) বর্ণনা করেছেন, আম্মার আদ-দুহনী(৫২৩) থেকে, তিনি সা'ঈদ ইবনে জুবাইর(৫২৪) থেকে, তিনি ইবনে 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় আসমান-যমীন ব্যাপী কুরসী হচ্ছে দু' পায়ের স্থান। আর 'আরশের পরিমাণ তিনিই জানেন যিনি তা সৃষ্টি করেছেন।”(৫২৫) তিনি(৫২৬) আরও উল্লেখ করেন আসাদ ইবন মূসা(৫২৭) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, তিনি আসেম(৫২৮) থেকে, তিনি যির(৫২৯) থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, তিনি বলেন: "দুনিয়ার আসমান ও তার পরবর্তী আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার প্রত্যেক আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার সপ্তম আসমান ও কুরসীর ব্যবধান পাঁচশত বছর, কুরসী ও পানির মাঝে ব্যবধান পাঁচশত বছর, 'আরশ পানির উপরে। আর আল্লাহ 'আরশের উপরে। আর তোমরা যার উপর আছ তিনি তা জানেন।”(৫৩০)

টিকাঃ
৫১৬. 'আমা' শব্দটি দু'ভাবে পড়া যায়, এক. মাদ্দ সহকারে, ('মা' বর্ণকে টেনে লম্বা করে পড়া) আমা', তখন তার অর্থ হবে মেঘমালা, অথবা উঁচু মেঘ, অথবা ঘন মেঘ তা থেকে বৃষ্টি হয়। অথবা সূক্ষ্ম মেঘ। অথবা কালো মেঘ। এটিই খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী বর্ণনা করেছেন। আর তা আবু উবাইদ থেকেও বর্ণিত আছে।
দুই. মদ্দ ব্যতীত, ('মা' বর্ণকে না টেনে পড়া) 'আমা', তখন অর্থ হবে তার সাথে কিছু নেই। এটিই ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেন, আহমদ ইবন মানী' থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবন হারুন থেকে। দেখুন, [তিরমিযী, আস-সুনান (৫/২৮৮), ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীলু মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৮-৯); ইবনুল আসীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস (৩/৩০৪); খাত্তাবী, গারীবিল হাদীস (৩/৩৪২); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/৯৯-১০০)]।
প্রথম অর্থ অনুসারে মেঘমালা সাব্যস্ত করতে হবে। মহান আল্লাহ কর্তৃক উক্ত মেঘের উপর থাকার ধরণ নির্ধারণ না করে সাব্যস্ত করতে হবে। তবে এ মেঘ সাব্যস্ত করা আল্লাহ তা'আলার প্রথম সত্তা হওয়া ও তাঁর পূর্বে কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকার বিরোধী নয়। আবু উবাইদ বলেন, আমরা হাদীসটিকে আরবী ভাষায় বুঝা যায় সে অর্থে ব্যাখ্যা করেছি, তবে আমরা জানি না সে 'আমা' এর ধরণ সম্পর্কে বা তার পরিমাণ কেমন সেসব সম্পর্কে। আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন, আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৯)। আযহারী তার তাহযীবুল লুগাহ গ্রন্থে ইমাম আবু উবায়েদ এর মতটি প্রাধান্য দেয়ার পর বলেন, 'আর এ কথাটি যা শক্তিশালী করে তা হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও।” [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২১] তিনি বলেন, 'গামাম' শব্দটি আরবী ভাষায় সুবিদিত। তবে আমরা জানি না সে মেঘমালার ধরণ যে মেঘমালায় ছায়ায় কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আগমন করবেন। সুতরাং সেটার ওপর ঈমান আনবো কিন্তু আমরা তাঁর গুণের ধরণ বর্ণনা করবো না। অনুরূপভাবে আল্লাহর অন্য গুণের বেলাতেও আমরা একই নীতি অবলম্বন করি। দেখুন, আল-আযহারী, তাহযীবুল লুগাহ (৩/২৪৬); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/১০০)। পরবর্তী দ্বিতীয় অর্থটি অনুসারে তা বুখারীর হাদীসের অনুরূপ হয়, যেখানে এসেছে, "কেবল আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন, তাঁর সাথে আর কিছু ছিল না।" [বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩১৯১] অনুরূপ মুসনাদে আহমাদে এসেছে, 'সবকিছুর পূর্বে আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন।' [(৩৩/১০৯), হাদীস নং ১৯৮৭৭] এ অর্থ অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারীকে আল্লাহই কেবল ছিলেন সেটাই উত্তর দিয়েছেন, কোথায় ছিলেন সেটার উত্তর দেননি।
৫১৭. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুর রহমান খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী। আরবী ভাষার ইমাম, প্রথম যিনি ইলমুল 'আরূয রচনা করেন। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, আরবী ভাষার কর্ণধার ছিলেন, দীনদার ছিলেন, পরহেযগার ছিলেন, ইবাদতগুযার ছিলেন, বিনয়ী ছিলেন। তাঁর ছিল বিশাল মর্যাদা। তার মৃত্যু হিজরী ১৭০ সালে। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (২/২৪৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪২৯); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৭৫)। আর খলীল এর কিতাব 'আল-আইন গ্রন্থে তা এসেছে (২/২৬৬)।
৫১৮. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৫১)।
৫১৯. যারা হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন তারা হচ্ছেন, ১- ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (২/১৫০-১৫১), নং ৫৫৬০। ২- আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ, নং ৪২২৮। ৩- আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, নং ৪৬০। ৪- ত্বাবারানী, আল-আওসাত্ব, হাদীস নং ৬৭১৭। ৫- খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৩/৪২৫)। ৬- ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৯৯-৩০০), তার সনদ হচ্ছে, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইসহাক, তিনি আহমাদ ইবন খালেদ থেকে, তিনি ইবন ওয়াদ্দাহ থেকে, তিনি আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী শাইবাহ থেকে। তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ আল-মুহারেবী, তিনি লাইস থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার কাছে জিবরীল জুমু'আর দিনকে নিয়ে আসল, তা যেন সাদা আয়না।" আর তিনি হাদীস উল্লেখ করলেন। তাতে এসেছে, নিশ্চয় রব্ব তা'আলা জান্নাতে একটি উপত্যকা গ্রহণ করেছেন, যা সাদা মিসকের; অতঃপর যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর কুরসীর উপর অবতরণ করবেন, তারপর সে কুরসীকে ঘিরে স্বর্ণের মিম্বারসমূহ থাকবে, যাতে মুতির মালাসমূহ পরানো হবে। তারপর নবীগণ আসবেন, তারা তার উপর বসবেন।”
এ হাদীসটি আরও যারা বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন,, ৭- আশ-শাফে'য়ী, আল-উম্ম (১/১৮৫)। ৮- আশ-শাফে'য়ী, আল-মুসনাদ, পৃ. ৭০-৭১। ৯- ইবন আবী শাইবাহ, কিতাবুল 'আরশ, পৃ. ৯৫। ১০- উসমান সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১৭৬-১৭৭; দুই সূত্রে। ১১- ইমাম ত্বাবারী, আত-তাফসীর (২৬/১৮৫); তিন সূত্রে। ১২- ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ১০১। ১৩- আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ২৬৫-২৬৬। ১৪- দারাকুত্বনী, আর-রুইয়াহ, পৃ. ৭৬-৮৫; বিভিন্ন সূত্রে ১৫- ইবনুন নাহহাস, আর রুইয়াহ, পৃ. ১৯-২০। ১৬- ইবন আদী, আল-কামেল (৪/১৩৭৩)। ১৭- উল্কাইলী, আদ-দু'আফা আল-কাবীর (১/২৯২-২৯৩)। ১৮- আবু নু'আইম, সিফাতুল জান্নাহ (৩/২৩৪-২৩৫); তাহকীক, আলী রেদ্বা আব্দুল্লাহ। ১৯- আনু নু'আইম, যিকরু আখবারু আসফাহান (১/২৭৮)। ২০- বাযযার, আল-মুসনাদ (কাশফুল আসতার) (৪/১৯৪-১৯৬)। ২১- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতুল উলু, পৃ. ১০৯-১১০। ২২- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ২৮-৩১; বিভিন্ন সূত্রে। ২৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৭৮। ২৪- ইবন হাজার, আল-মাতালিবুল আলিয়াহ (১/১৫৭-১৫৯)। ২৫- হাইসামী, মাজমা'উল বাহরাইন, মাজমাউয যাওয়ায়িদ (১০/৪২১-৪২২)। ২৬- ইবন আবী হাতেম, আল-ইলাল (১/১৯৯, ২০৬), নং ৫৭১, ৫৯৩। ২৭- মুনযেরী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (১/৪৮৯)। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (৩/২৭২)।
ইতোপূর্বেও হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, ইবন কাসীর, হাফেয দ্বিয়াউদ্দীন আল-মাকদেসী প্রমুখ। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৪১১-৪১৬); মুখাতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/২৩৭-২৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, হাদীউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ, পৃ. ৩৫৪-৩৫৭; যাদুল মা'আদ (১/৪০৯-৪১০); ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (২/২৮৭-২৮৮)। সুতরাং হাদীসটি গ্রহণযোগ্য।
৫২০. ইয়াহইয়া ইবন সাল্লামের এ তাফসীরটি ছাপা হয়নি। তার সংক্ষেপ করেছেন ইবন আবী যামানীন, তার কিছু অংশ তাহকীক হয়েছে, সৌদী আরবস্থ জামে'আতুল ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সা'উদ আল-ইসলামিয়্যাহ'র আল-কুরআন বিভাগে।
৫২১. তিনি হচ্ছেন আবু যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম ইবন আবী সা'লাবাহ আল-বসরী। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বা, সাওরী ও মালেক প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার সন্তান মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম প্রমুখ।
আবু 'আমর আদ-দানী তার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তার কিরাআতের জ্ঞান ছিল। আর তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, প্রমাণ্য, কুরআন ও সুন্নাহ'র আলেম, আরবী ভাষাতে তার যথেষ্ট দখল ছিল। আর তিনি তার তাফসীরের কথা বর্ণনা করে বলেন, পূর্ববর্তী কেউ তার মত তাফসীর লিখতে পারেনি। তিনি হিজরী ২০০ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/১৫৫); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৯৬); ইবনু হাজার, লিসানুল মীযান (৬/২৫৯); 'উমার রেদ্বা কাহহালাহ, মু'জামুল মুওয়াল্লেফীন (১৩/২০০-২০১)।
৫২২. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মু'আল্লা ইবন হিলাল ইবন সুওয়াইদ আল-হাদ্বরামী, আত-ত্বাহহান, আল-কৃষ্ণী। আলেমগণ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। বুখারী বলেন, তারা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ইবন মা'ঈন বলেন, সে তো মিথ্যা ও হাদীস বানানোতে বিখ্যাত। ইবন হাজার এর স্তর বিন্যাস অনুযায়ী অষ্টম স্তরের লোক। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৮/৩৩১); মিযযী, তাহযীবুল কামাল (৩/১৩৫৫); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১০/২৪০); তাকরীব, পৃ. ৫৪১; ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/১৫২)।
৫২৩. তিনি হচ্ছেন আবু মু'আওয়িয়াহ আম্মার ইবন মুআওয়িয়াহ ইবন আসলাম আল-বাজালী, আদ-দুহনী, আল-কৃষ্ণী। সাদৃক, তবে তার মধ্যে শিয়াবাদ ছিল। তাকে ইমাম আহমাদসহ অনেকেই সিক্কাহ বলেছেন। মৃত্যু হিজরী ১৩৩ সাল।
৫২৪. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন জুবাইর ইবন হিশাম, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কৃষ্ণী। ইসলামের বড় আমলদার আলেম। যুহদ ও ইবাদতে প্রসিদ্ধ। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করতেন না। আলেমগণ তার অনেক প্রশংসা করেছেন। ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং প্রচুর করেছেন, ইবন আব্বাসের কাছ থেকেই কুরআনের জ্ঞান নিয়েছেন। আরও বর্ণনা করেছেন ইবন 'উমার প্রমুখ সাহাবীগণ থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী, আবু বিশর জা'ফর ইবন আবী ওয়াহশিয়্যাহ প্রমুখ। ইবন আব্বাসের কাছে কূফার কেউ প্রশ্ন করতে আসলে বলতেন, তোমাদের মাঝে কি 'ইবন উম্মদ দাহমা' নেই? (অর্থাৎ সা'ঈদ ইবন জুবাইর)। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, 'আল-ইমাম, আল-হাফেয, আল-মুক্বরী, আল-মুফাসসির, আশ- শহীদ'। আমর ইবন মাইমূন তার পিতা মাইমূন ইবন মিহরান থেকে বর্ণনা করে, তিনি বলেন, 'সাঈদ ইবন জুবাইর মারা গেলেন, অথচ পৃথিবীর সকলেই তাঁর ইলমের মুখাপেক্ষী ছিল।' তার মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ৯৫ সালে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের হাতে। তার হত্যার কাহিনী খুবই বিখ্যাত। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৬/২৫৬; আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/২৭২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৭১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৩২১)।
৫২৫. ইতোপূর্বে হাদীসটির তাখরীজ চলে গেছে।
৫২৬. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫২৭. তিনি হচ্ছেন আবু সা'ঈদ আসাদ ইবন মূসা ইবন ইবরাহীম ইবনুল খালীফা আল-ওয়ালীদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান, আল-কুরাশী, আদ-দিমাশকী। তাকে 'আসাদ আস-সুন্নাহ' বলা হয়। সাদৃক বর্ণনাকারী, মাঝে মাঝে বিরল কিছু বর্ণনা প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু নাসেবীপনা ছিল। তাঁর সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, ইমাম, হাফেয, সিক্কাহ, যুত তাসানীফ। হিজরী ২১২ সালে তার মৃত্যু হয়। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মাঝে বিখ্যাত হচ্ছে, কিতাবুয যুহদ। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৪০২); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/১৬২); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২৮৭); ইবন হাজার, তাকরীব, পৃ. ১০৪।
৫২৮. তিনি হচ্ছেন আবু বকর 'আসেম ইবন বাহদালাহ ইবন আবিন নুজুদ, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কুফী। বড় কারীদের একজন। কুফায় বিরাট সময় তিনি সবার সেরা ছিলেন। আহমাদ আল-'ইজলী বলেন, 'আসেম সুন্নাহ ও কিরাআতে পারদর্শী ব্যক্তি। তিনি কুরআনের ব্যাপারে প্রধান'। হিজরী ১২৭ সালে তার মৃত্যু হয়। তার বর্ণিত হাদীস হাসান পর্যায়ের। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/৯), যাহাবী, মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার (১/৮৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/২৫৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৫/৩৮); তাক্বরীব, পৃ. ২৮৫।
৫২৯. তিনি হচ্ছেন আবু মারইয়াম যির ইবন হুবাইশ ইবন হুবাশাহ ইবন আওস আল-কৃষ্ণী, আল-আসাদী। তিনি জাহেলী যুগ পেয়েছেন। বড় বড় সাহাবীগণ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বারীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি ইবন মাসঊদ ও আলী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছ থেকে ইলমুল কিরাআত গ্রহণ করেছেন। তার থেকে আসেম ইবন আবিন নাজুদ গ্রহণ করেছেন। তার সম্পর্কে আসেম বলেন, আমি যির থেকে বড় কোনো কারী দেখিনি। তিনি হিজরী ৮১ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/১০৪); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/১৮১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/১৬৬)।
৫৩০. হাদীসটি যারা যারা তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেছেন তারা হচ্ছেন: ১- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪৩), (২/৮৮৫), নং ১৫০, ৫৯৪। ২- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৬। ৩- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৪৫)। ৪- আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ (২/৫৬৫-৫৬৬, ৬৮৮-৬৮৯)। ৫- আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর (৯/২০২), নং ৮৯৮৭। ৬- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৬)। ৭- ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৯)। ৮- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৩৯-৪০। ৯- ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৩)। ১০- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল-মিররীসী (১/৪৭১)। ১১- ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (৩/১৭১-১৭২), নং ১২৮। ১২- আদ-দীনাওয়ারী, আল-মুজালাসাহ ২৮৩০।

মুহাম্মাদ (ইবন আবী যামানীন) বলেন: 'আমা হচ্ছে, ঘন পুঞ্জীভূত মেঘমালা(৫১৬); যেমনটি উল্লেখ করেছেন খলীল।(৫১৭)
অতঃপর তিনি অন্যান্য আছার উল্লেখ করেন। তারপর বলেন: অধ্যায়: কুরসীর প্রতি ঈমান(৫১৮)
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (ইবন আবী যামানীন) বলেন, আর আহলুস সুন্নাতের কথা হচ্ছে: কুরসী হচ্ছে 'আরশের সম্মুখে এবং সেটি দু' পায়ের স্থান। অতঃপর তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, যাতে আখেরাতে জুমু'আর দিন (আল্লাহর) প্রকাশ পাওয়ার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যেখানে আছে: "যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি ইল্লিয়িয়ন থেকে কুরসীতে নেমে আসবেন। অতঃপর কুরসীকে ঘিরে থাকবে সোনার মিম্বর, যা মুক্তার মাল্যে ভূষিত। অতঃপর নবীগণ এসে তাতে বসবেন।”(৫১৯)
আর তিনি তা উল্লেখ করলেন যা উল্লেখ করেছেন প্রসিদ্ধ তাফসীর(৫২০) গ্রন্থকার ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম।(৫২১) তিনি বলেন:
"আমার কাছে মু'আল্লা ইবন হিলাল(৫২২) বর্ণনা করেছেন, আম্মার আদ-দুহনী(৫২৩) থেকে, তিনি সা'ঈদ ইবনে জুবাইর(৫২৪) থেকে, তিনি ইবনে 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় আসমান-যমীন ব্যাপী কুরসী হচ্ছে দু' পায়ের স্থান। আর 'আরশের পরিমাণ তিনিই জানেন যিনি তা সৃষ্টি করেছেন।”(৫২৫) তিনি(৫২৬) আরও উল্লেখ করেন আসাদ ইবন মূসা(৫২৭) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, তিনি আসেম(৫২৮) থেকে, তিনি যির(৫২৯) থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে, তিনি বলেন: "দুনিয়ার আসমান ও তার পরবর্তী আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার প্রত্যেক আসমানের ব্যবধান পাঁচশত বছর, আবার সপ্তম আসমান ও কুরসীর ব্যবধান পাঁচশত বছর, কুরসী ও পানির মাঝে ব্যবধান পাঁচশত বছর, 'আরশ পানির উপরে। আর আল্লাহ 'আরশের উপরে। আর তোমরা যার উপর আছ তিনি তা জানেন।”(৫৩০)

টিকাঃ
৫১৬. 'আমা' শব্দটি দু'ভাবে পড়া যায়, এক. মাদ্দ সহকারে, ('মা' বর্ণকে টেনে লম্বা করে পড়া) আমা', তখন তার অর্থ হবে মেঘমালা, অথবা উঁচু মেঘ, অথবা ঘন মেঘ তা থেকে বৃষ্টি হয়। অথবা সূক্ষ্ম মেঘ। অথবা কালো মেঘ। এটিই খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী বর্ণনা করেছেন। আর তা আবু উবাইদ থেকেও বর্ণিত আছে।
দুই. মদ্দ ব্যতীত, ('মা' বর্ণকে না টেনে পড়া) 'আমা', তখন অর্থ হবে তার সাথে কিছু নেই। এটিই ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করে বলেন, আহমদ ইবন মানী' থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবন হারুন থেকে। দেখুন, [তিরমিযী, আস-সুনান (৫/২৮৮), ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীলু মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৮-৯); ইবনুল আসীর, আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস (৩/৩০৪); খাত্তাবী, গারীবিল হাদীস (৩/৩৪২); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/৯৯-১০০)]।
প্রথম অর্থ অনুসারে মেঘমালা সাব্যস্ত করতে হবে। মহান আল্লাহ কর্তৃক উক্ত মেঘের উপর থাকার ধরণ নির্ধারণ না করে সাব্যস্ত করতে হবে। তবে এ মেঘ সাব্যস্ত করা আল্লাহ তা'আলার প্রথম সত্তা হওয়া ও তাঁর পূর্বে কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকার বিরোধী নয়। আবু উবাইদ বলেন, আমরা হাদীসটিকে আরবী ভাষায় বুঝা যায় সে অর্থে ব্যাখ্যা করেছি, তবে আমরা জানি না সে 'আমা' এর ধরণ সম্পর্কে বা তার পরিমাণ কেমন সেসব সম্পর্কে। আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন, আবু উবাইদ, গরীবুল হাদীস (২/৯)। আযহারী তার তাহযীবুল লুগাহ গ্রন্থে ইমাম আবু উবায়েদ এর মতটি প্রাধান্য দেয়ার পর বলেন, 'আর এ কথাটি যা শক্তিশালী করে তা হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও।” [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২১] তিনি বলেন, 'গামাম' শব্দটি আরবী ভাষায় সুবিদিত। তবে আমরা জানি না সে মেঘমালার ধরণ যে মেঘমালায় ছায়ায় কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আগমন করবেন। সুতরাং সেটার ওপর ঈমান আনবো কিন্তু আমরা তাঁর গুণের ধরণ বর্ণনা করবো না। অনুরূপভাবে আল্লাহর অন্য গুণের বেলাতেও আমরা একই নীতি অবলম্বন করি। দেখুন, আল-আযহারী, তাহযীবুল লুগাহ (৩/২৪৬); ইবন মানযূর, লিসানুল আরব (১৫/১০০)। পরবর্তী দ্বিতীয় অর্থটি অনুসারে তা বুখারীর হাদীসের অনুরূপ হয়, যেখানে এসেছে, "কেবল আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন, তাঁর সাথে আর কিছু ছিল না।" [বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩১৯১] অনুরূপ মুসনাদে আহমাদে এসেছে, 'সবকিছুর পূর্বে আল্লাহ তা'আলাই ছিলেন।' [(৩৩/১০৯), হাদীস নং ১৯৮৭৭] এ অর্থ অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারীকে আল্লাহই কেবল ছিলেন সেটাই উত্তর দিয়েছেন, কোথায় ছিলেন সেটার উত্তর দেননি।
৫১৭. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুর রহমান খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহীদী। আরবী ভাষার ইমাম, প্রথম যিনি ইলমুল 'আরূয রচনা করেন। তার সম্পর্কে যাহাবী বলেন, আরবী ভাষার কর্ণধার ছিলেন, দীনদার ছিলেন, পরহেযগার ছিলেন, ইবাদতগুযার ছিলেন, বিনয়ী ছিলেন। তাঁর ছিল বিশাল মর্যাদা। তার মৃত্যু হিজরী ১৭০ সালে। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (২/২৪৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪২৯); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৭৫)। আর খলীল এর কিতাব 'আল-আইন গ্রন্থে তা এসেছে (২/২৬৬)।
৫১৮. ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৫১)।
৫১৯. যারা হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন তারা হচ্ছেন, ১- ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ (২/১৫০-১৫১), নং ৫৫৬০। ২- আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ, নং ৪২২৮। ৩- আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, নং ৪৬০। ৪- ত্বাবারানী, আল-আওসাত্ব, হাদীস নং ৬৭১৭। ৫- খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৩/৪২৫)। ৬- ইবন আবী যামানীন, উসুলুস সুন্নাহ (১/২৯৯-৩০০), তার সনদ হচ্ছে, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইসহাক, তিনি আহমাদ ইবন খালেদ থেকে, তিনি ইবন ওয়াদ্দাহ থেকে, তিনি আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী শাইবাহ থেকে। তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ আল-মুহারেবী, তিনি লাইস থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমার কাছে জিবরীল জুমু'আর দিনকে নিয়ে আসল, তা যেন সাদা আয়না।" আর তিনি হাদীস উল্লেখ করলেন। তাতে এসেছে, নিশ্চয় রব্ব তা'আলা জান্নাতে একটি উপত্যকা গ্রহণ করেছেন, যা সাদা মিসকের; অতঃপর যখন জুমু'আর দিন হবে তখন তিনি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাঁর কুরসীর উপর অবতরণ করবেন, তারপর সে কুরসীকে ঘিরে স্বর্ণের মিম্বারসমূহ থাকবে, যাতে মুতির মালাসমূহ পরানো হবে। তারপর নবীগণ আসবেন, তারা তার উপর বসবেন।”
এ হাদীসটি আরও যারা বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন,, ৭- আশ-শাফে'য়ী, আল-উম্ম (১/১৮৫)। ৮- আশ-শাফে'য়ী, আল-মুসনাদ, পৃ. ৭০-৭১। ৯- ইবন আবী শাইবাহ, কিতাবুল 'আরশ, পৃ. ৯৫। ১০- উসমান সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১৭৬-১৭৭; দুই সূত্রে। ১১- ইমাম ত্বাবারী, আত-তাফসীর (২৬/১৮৫); তিন সূত্রে। ১২- ইবন মানদাহ, আর-রাদ্দু 'আলাল জাহমিয়্যাহ পৃ. ১০১। ১৩- আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ২৬৫-২৬৬। ১৪- দারাকুত্বনী, আর-রুইয়াহ, পৃ. ৭৬-৮৫; বিভিন্ন সূত্রে ১৫- ইবনুন নাহহাস, আর রুইয়াহ, পৃ. ১৯-২০। ১৬- ইবন আদী, আল-কামেল (৪/১৩৭৩)। ১৭- উল্কাইলী, আদ-দু'আফা আল-কাবীর (১/২৯২-২৯৩)। ১৮- আবু নু'আইম, সিফাতুল জান্নাহ (৩/২৩৪-২৩৫); তাহকীক, আলী রেদ্বা আব্দুল্লাহ। ১৯- আনু নু'আইম, যিকরু আখবারু আসফাহান (১/২৭৮)। ২০- বাযযার, আল-মুসনাদ (কাশফুল আসতার) (৪/১৯৪-১৯৬)। ২১- ইবন কুদামাহ, ইসবাতু সিফাতুল উলু, পৃ. ১০৯-১১০। ২২- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ২৮-৩১; বিভিন্ন সূত্রে। ২৩- যাহাবী, আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৭৮। ২৪- ইবন হাজার, আল-মাতালিবুল আলিয়াহ (১/১৫৭-১৫৯)। ২৫- হাইসামী, মাজমা'উল বাহরাইন, মাজমাউয যাওয়ায়িদ (১০/৪২১-৪২২)। ২৬- ইবন আবী হাতেম, আল-ইলাল (১/১৯৯, ২০৬), নং ৫৭১, ৫৯৩। ২৭- মুনযেরী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (১/৪৮৯)। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব (৩/২৭২)।
ইতোপূর্বেও হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম, ইবন কাসীর, হাফেয দ্বিয়াউদ্দীন আল-মাকদেসী প্রমুখ। দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/৪১১-৪১৬); মুখাতাসারুস সাওয়া'য়িক (২/২৩৭-২৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, হাদীউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ, পৃ. ৩৫৪-৩৫৭; যাদুল মা'আদ (১/৪০৯-৪১০); ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (২/২৮৭-২৮৮)। সুতরাং হাদীসটি গ্রহণযোগ্য।
৫২০. ইয়াহইয়া ইবন সাল্লামের এ তাফসীরটি ছাপা হয়নি। তার সংক্ষেপ করেছেন ইবন আবী যামানীন, তার কিছু অংশ তাহকীক হয়েছে, সৌদী আরবস্থ জামে'আতুল ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সা'উদ আল-ইসলামিয়্যাহ'র আল-কুরআন বিভাগে।
৫২১. তিনি হচ্ছেন আবু যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া ইবন সাল্লাম ইবন আবী সা'লাবাহ আল-বসরী। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বা, সাওরী ও মালেক প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার সন্তান মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম প্রমুখ।
আবু 'আমর আদ-দানী তার ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তার কিরাআতের জ্ঞান ছিল। আর তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, প্রমাণ্য, কুরআন ও সুন্নাহ'র আলেম, আরবী ভাষাতে তার যথেষ্ট দখল ছিল। আর তিনি তার তাফসীরের কথা বর্ণনা করে বলেন, পূর্ববর্তী কেউ তার মত তাফসীর লিখতে পারেনি। তিনি হিজরী ২০০ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/১৫৫); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/৩৯৬); ইবনু হাজার, লিসানুল মীযান (৬/২৫৯); 'উমার রেদ্বা কাহহালাহ, মু'জামুল মুওয়াল্লেফীন (১৩/২০০-২০১)।
৫২২. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মু'আল্লা ইবন হিলাল ইবন সুওয়াইদ আল-হাদ্বরামী, আত-ত্বাহহান, আল-কৃষ্ণী। আলেমগণ তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। বুখারী বলেন, তারা তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ইবন মা'ঈন বলেন, সে তো মিথ্যা ও হাদীস বানানোতে বিখ্যাত। ইবন হাজার এর স্তর বিন্যাস অনুযায়ী অষ্টম স্তরের লোক। দেখুন, ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৮/৩৩১); মিযযী, তাহযীবুল কামাল (৩/১৩৫৫); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১০/২৪০); তাকরীব, পৃ. ৫৪১; ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/১৫২)।
৫২৩. তিনি হচ্ছেন আবু মু'আওয়িয়াহ আম্মার ইবন মুআওয়িয়াহ ইবন আসলাম আল-বাজালী, আদ-দুহনী, আল-কৃষ্ণী। সাদৃক, তবে তার মধ্যে শিয়াবাদ ছিল। তাকে ইমাম আহমাদসহ অনেকেই সিক্কাহ বলেছেন। মৃত্যু হিজরী ১৩৩ সাল।
৫২৪. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ সা'ঈদ ইবন জুবাইর ইবন হিশাম, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কৃষ্ণী। ইসলামের বড় আমলদার আলেম। যুহদ ও ইবাদতে প্রসিদ্ধ। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করতেন না। আলেমগণ তার অনেক প্রশংসা করেছেন। ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং প্রচুর করেছেন, ইবন আব্বাসের কাছ থেকেই কুরআনের জ্ঞান নিয়েছেন। আরও বর্ণনা করেছেন ইবন 'উমার প্রমুখ সাহাবীগণ থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী, আবু বিশর জা'ফর ইবন আবী ওয়াহশিয়্যাহ প্রমুখ। ইবন আব্বাসের কাছে কূফার কেউ প্রশ্ন করতে আসলে বলতেন, তোমাদের মাঝে কি 'ইবন উম্মদ দাহমা' নেই? (অর্থাৎ সা'ঈদ ইবন জুবাইর)। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, 'আল-ইমাম, আল-হাফেয, আল-মুক্বরী, আল-মুফাসসির, আশ- শহীদ'। আমর ইবন মাইমূন তার পিতা মাইমূন ইবন মিহরান থেকে বর্ণনা করে, তিনি বলেন, 'সাঈদ ইবন জুবাইর মারা গেলেন, অথচ পৃথিবীর সকলেই তাঁর ইলমের মুখাপেক্ষী ছিল।' তার মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ৯৫ সালে হাজ্জাজ ইবন ইউসুফের হাতে। তার হত্যার কাহিনী খুবই বিখ্যাত। আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৬/২৫৬; আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/২৭২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৭১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৩২১)।
৫২৫. ইতোপূর্বে হাদীসটির তাখরীজ চলে গেছে।
৫২৬. অর্থাৎ ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫২৭. তিনি হচ্ছেন আবু সা'ঈদ আসাদ ইবন মূসা ইবন ইবরাহীম ইবনুল খালীফা আল-ওয়ালীদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান, আল-কুরাশী, আদ-দিমাশকী। তাকে 'আসাদ আস-সুন্নাহ' বলা হয়। সাদৃক বর্ণনাকারী, মাঝে মাঝে বিরল কিছু বর্ণনা প্রদান করেন। তার মধ্যে কিছু নাসেবীপনা ছিল। তাঁর সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, ইমাম, হাফেয, সিক্কাহ, যুত তাসানীফ। হিজরী ২১২ সালে তার মৃত্যু হয়। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মাঝে বিখ্যাত হচ্ছে, কিতাবুয যুহদ। দেখুন, ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৪০২); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/১৬২); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (২/২৮৭); ইবন হাজার, তাকরীব, পৃ. ১০৪।
৫২৮. তিনি হচ্ছেন আবু বকর 'আসেম ইবন বাহদালাহ ইবন আবিন নুজুদ, আল-আসাদী, তাদের মাওলা, কুফী। বড় কারীদের একজন। কুফায় বিরাট সময় তিনি সবার সেরা ছিলেন। আহমাদ আল-'ইজলী বলেন, 'আসেম সুন্নাহ ও কিরাআতে পারদর্শী ব্যক্তি। তিনি কুরআনের ব্যাপারে প্রধান'। হিজরী ১২৭ সালে তার মৃত্যু হয়। তার বর্ণিত হাদীস হাসান পর্যায়ের। দেখুন, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/৯), যাহাবী, মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার (১/৮৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/২৫৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৫/৩৮); তাক্বরীব, পৃ. ২৮৫।
৫২৯. তিনি হচ্ছেন আবু মারইয়াম যির ইবন হুবাইশ ইবন হুবাশাহ ইবন আওস আল-কৃষ্ণী, আল-আসাদী। তিনি জাহেলী যুগ পেয়েছেন। বড় বড় সাহাবীগণ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ক্বারীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি ইবন মাসঊদ ও আলী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার কাছ থেকে ইলমুল কিরাআত গ্রহণ করেছেন। তার থেকে আসেম ইবন আবিন নাজুদ গ্রহণ করেছেন। তার সম্পর্কে আসেম বলেন, আমি যির থেকে বড় কোনো কারী দেখিনি। তিনি হিজরী ৮১ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/১০৪); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/১৮১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/১৬৬)।
৫৩০. হাদীসটি যারা যারা তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেছেন তারা হচ্ছেন: ১- ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (১/২৪৩), (২/৮৮৫), নং ১৫০, ৫৯৪। ২- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৪৬। ৩- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৪৫)। ৪- আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ (২/৫৬৫-৫৬৬, ৬৮৮-৬৮৯)। ৫- আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর (৯/২০২), নং ৮৯৮৭। ৬- লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৬)। ৭- ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৯)। ৮- যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৩৯-৪০। ৯- ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪১৩)। ১০- উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলা বিশর আল-মিররীসী (১/৪৭১)। ১১- ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (৩/১৭১-১৭২), নং ১২৮। ১২- আদ-দীনাওয়ারী, আল-মুজালাসাহ ২৮৩০।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর গদীর আলোচনা

📄 ইবন আবী যামানীন কর্তৃক আল্লাহর গদীর আলোচনা


অতঃপর তিনি বলেন: অধ্যায়: পর্দার ওপর ঈমান(৫৩১)
তিনি বলেন, আহলুস সুন্নাহের কথা হচ্ছে- নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক। পর্দার দ্বারা তিনি তাদের থেকে আড়াল। সুতরাং যালিমরা যা বলে তার থেকে আল্লাহ বিশাল ঊর্ধ্বে।
كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴾ [الكهف: ٥]
"তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বাক্য কী সাংঘাতিক! তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।” [সূরা আল-কাহফ: ০৫] আর তিনি(৫৩৩) হাজাব তথা পর্দার অনেক হাদীস উল্লেখ করেন(৫০৪)।

টিকাঃ
৫৩১. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/২৬৪)।
৫৩২. আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে পর্দার আড়ালে রয়েছেন। দুনিয়ার জগতে কেউ তাঁকে দেখতে সমর্থ নয়। কারণ এসব চোখ ও এসব শরীর ধ্বংস হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ দুনিয়া থাকাকালীন যদি আল্লাহ তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করেন তবে তাঁর চেহারার নূর যতটুকু তাঁর চোখ যাবে সৃষ্টির ততটুকু পুড়িয়ে দিবে। আর সেভাবে চূর্ণ হয়ে যাবে যেভাবে মূসার পাহাড় চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এ পর্দাগুলোর প্রকৃত ধরণ ও পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই জানেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন এমন চোখগুলো জুড়ে দেয়া হবে যা হবে স্থায়ী, তখন সেটাতে এমন ক্ষমতা দেয়া হবে যা দুনিয়ার জীবনে দেয়া হয়নি। ফলে তখন সে চোখগুলো আসমান ও যমীনের স্রষ্টা ও অভাব পূরণকারীর দিকে তাকাতে সমর্থ হবে। কুরআন ও সুন্নাহ'য় আল্লাহর পর্দা সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন, ১- আল্লাহর বাণী: "আর কোনো মানুষেরই এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া, অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া, অথবা এমন দূত প্রেরণ ছাড়া, যে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহী করেন, তিনি সর্বোচ্চ, হিকমতওয়ালা।” [সূরা আশ-শূরা: ৫১]
২- সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস, আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে পাঁচটি বাণী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি বললেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়, তিনি ইনসাফের দণ্ড নিচু করে ও উপরে উঠান, তাঁর কাছে রাতের আমল দীনের আমলের আগে উঠানো হয়, আর দিনের আমল রাতের আমলের আগে উঠানো হয়। তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের, অপর বর্ণনায়, নার বা আগুনের। যদি তিনি তার পর্দা উন্মুক্ত করতেন তবে তার চেহারার উজ্জ্বল্য তাঁর সৃষ্টির যতটুকুতে তার চোখ পড়তো ততটুকু পুড়িয়ে দিত।” [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৩- ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আবুশ শাইখ ও বাইহাক্বী রাহিমাহুল্লাহ ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে চারটি পর্দার আড়াল গ্রহণ করেছেন। আগুন, অন্ধকার, আলো ও অন্ধকার।” [উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, নং ১১৮; আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ, নং ২৬৮; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬), নং ৬৯৩] শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ আছারটির সনদকে সহীহ বলেছেন। কোনো কোনো বিদ'আতী আল্লাহর জন্য পর্দা সাব্যস্ত করে না। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, জাহমিয়‍্যারা কোনোভাবেই আল্লাহর হিজাব আছে স্বীকার করে না; কারণ তিনি তাদের নিকট আরশের উপর নেই। [ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/১০)]
বস্তুত কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরাম ও তাবে'য়ীনে 'ইযাম থেকে পর্দার ব্যাপারে অনেক ভাষ্য এসেছে। ইমামগণ যুগ যুগ ধরে তাদের গ্রন্থে এ বিষয়ের ওপর অধ্যায় বিন্যাস করে তাতে এর উপর প্রমাণবহ নস ও আছার নিয়ে এসেছেন। যেমন, ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ তার আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে পৃ. ৬০-৬২, অধ্যায়: পর্দা গ্রহণ, তারপর তিনি এর ওপর বেশ কিছু আয়াত-হাদীস ও আছার নিয়ে এসেছেন। তারপর বলেন, 'আর এমন কে আছে যে মহা অধিপতি যে পর্দা দ্বারা আড়াল নিয়েছেন তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে যাবে? আর কে জানতে পারবে সেটা কী রকম? একমাত্র তিনিই তো তা জানেন যিনি সকল কিছুকে ইলম দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং সবকিছুকে সংখ্যায় গুনে রেখেছেন। সুতরাং এতেও প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাদের থেকে পর্দার আড়ালে। জিবরীল তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সেসব পর্দার নিকটে যাওয়ার সামর্থ রাখে না।... আরও দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/১০-১১)। কোনো কোনো বিদ'আতপন্থী লোকেরা আল্লাহর পর্দার অপব্যাখ্যা দাঁড় করে তা অস্বীকার করে। যেমন, ১- বাইহাক্বী বলেন, হিজাব বা পর্দা মূলত সৃষ্টির দিকে প্রত্যাবর্তিত স্রষ্টার নয়। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬, ২৯৩)] ২- রাযী তার তা'সীসুত তাক্বদীস গ্রন্থে পৃ. ১৩২ বলেন, আল্লাহর জন্য প্রকৃত পর্দা হওয়া অসম্ভব; কারণ পর্দা বা আড়াল বলতে বুঝায় এমন দেহ যা দু'টি দেহের মাঝখানে অবস্থান নেয়। তাই আমাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তাঁকে দেখা সম্পৃক্ত কিছু বান্দার মাঝে সৃষ্টি করবেন না। আর যারা আল্লাহকে দেখা অস্বীকার করে তাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ বান্দার কাছে পৌছাবেন না।
ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এর যথার্থ জবাব দেন এবং বর্ণনা করেন যে, এ তা'ওয়ীস বা অপব্যাখ্যা দু'টিই বাতিল। কারণ দেখা সৃষ্টি না করা তো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। তাহলে কীভাবে নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস নূর হতে পারে? আর কীভাবেই এটা বলা যায় যে, "অতঃপর তিনি তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করবেন তখন তারা তাঁর দিকে তাকাবে"। যে জিনিস নিছক অস্তিত্বহীন সেটাকে উন্মুক্ত কীভাবে করা যায়? তারপর এটি আমাদেরকে জানাও পৃথিবীর কোন ভাষায় কোনো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিসকে 'হাজাব' বা পর্দা বলা হয়? আর জানা কথা যে, 'হিজাব' এর বিপরীত হচ্ছে 'হিজাবহীন'। তাহলে নিছক অস্তিত্বহীনকে কি এ গুণ দেয়া যায় যে, এটা হিজাব নয়? যদি হিজাব অস্তিত্বহীনকে বলা হতো তাহলে তো সেটা না হওয়ার দাবি হচ্ছে অস্তিত্বে আসা। তখন অস্তিত্বশীল বস্তু হয়ে দাঁড়াবে অস্তিত্বহীনের গুণ। আর এটা তো অত্যাবশ্যকভাবে নিষিদ্ধ।” দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/৩৩৫- ৩৩৬)।
আবার অনেকে হিজাব এর অন্য তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যাও করে, যেমন বিশর আল-মিররীসী সেগুলো নিয়ে এসেছে। কিন্তু ইমাম আবু সা'ঈদ আদ-দারেমী সেগুলো নিয়ে এসে একটি একটি করে খণ্ডন করেছেন। দেখুন, উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল বিশর আল-মিররীসী (২/২৪৮).... অনুরূপ আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৭১-৭৩।
৫৩৩. অর্থাৎ ইমাম ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৩৪. এ হিজাব বা পর্দার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাত্রে আল্লাহকে দেখতে পাননি। সহীহ হাদীসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন? তিনি বললেন, সেখানে তো নূর ছিল, কীভাবে আমি তাকে দেখতে পাব'। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮] অপর বর্ণনায় এসেছে, 'আমি তো কেবল নূর দেখতে পেয়েছি।' [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮; ইবন হিব্বান, আস-সহীহ (১/২৫৫); ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৪৪১; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (২/৫১২)] এ ব্যাপারে বিদ'আতপন্থীদের বিকৃতি ও সেটার জবাব দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৫০৭-৫০৮), (৩/৩৮৬-৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, যাদুল মা'আদ (৩/৩৭)।

অতঃপর তিনি বলেন: অধ্যায়: পর্দার ওপর ঈমান(৫৩১)
তিনি বলেন, আহলুস সুন্নাহের কথা হচ্ছে- নিশ্চয় আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক। পর্দার দ্বারা তিনি তাদের থেকে আড়াল। সুতরাং যালিমরা যা বলে তার থেকে আল্লাহ বিশাল ঊর্ধ্বে।
كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴾ [الكهف: ٥]
"তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বাক্য কী সাংঘাতিক! তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।” [সূরা আল-কাহফ: ০৫] আর তিনি(৫৩৩) হাজাব তথা পর্দার অনেক হাদীস উল্লেখ করেন(৫০৪)।

টিকাঃ
৫৩১. ইবন আবী যামানীন, উসূলুস সুন্নাহ (১/২৬৪)।
৫৩২. আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে পর্দার আড়ালে রয়েছেন। দুনিয়ার জগতে কেউ তাঁকে দেখতে সমর্থ নয়। কারণ এসব চোখ ও এসব শরীর ধ্বংস হওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ দুনিয়া থাকাকালীন যদি আল্লাহ তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করেন তবে তাঁর চেহারার নূর যতটুকু তাঁর চোখ যাবে সৃষ্টির ততটুকু পুড়িয়ে দিবে। আর সেভাবে চূর্ণ হয়ে যাবে যেভাবে মূসার পাহাড় চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এ পর্দাগুলোর প্রকৃত ধরণ ও পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই জানেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন এমন চোখগুলো জুড়ে দেয়া হবে যা হবে স্থায়ী, তখন সেটাতে এমন ক্ষমতা দেয়া হবে যা দুনিয়ার জীবনে দেয়া হয়নি। ফলে তখন সে চোখগুলো আসমান ও যমীনের স্রষ্টা ও অভাব পূরণকারীর দিকে তাকাতে সমর্থ হবে। কুরআন ও সুন্নাহ'য় আল্লাহর পর্দা সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন, ১- আল্লাহর বাণী: "আর কোনো মানুষেরই এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া, অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া, অথবা এমন দূত প্রেরণ ছাড়া, যে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহী করেন, তিনি সর্বোচ্চ, হিকমতওয়ালা।” [সূরা আশ-শূরা: ৫১]
২- সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস, আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে পাঁচটি বাণী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি বললেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর ঘুমানো তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়, তিনি ইনসাফের দণ্ড নিচু করে ও উপরে উঠান, তাঁর কাছে রাতের আমল দীনের আমলের আগে উঠানো হয়, আর দিনের আমল রাতের আমলের আগে উঠানো হয়। তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের, অপর বর্ণনায়, নার বা আগুনের। যদি তিনি তার পর্দা উন্মুক্ত করতেন তবে তার চেহারার উজ্জ্বল্য তাঁর সৃষ্টির যতটুকুতে তার চোখ পড়তো ততটুকু পুড়িয়ে দিত।” [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৯]
৩- ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আবুশ শাইখ ও বাইহাক্বী রাহিমাহুল্লাহ ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে চারটি পর্দার আড়াল গ্রহণ করেছেন। আগুন, অন্ধকার, আলো ও অন্ধকার।” [উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, নং ১১৮; আবুশ শাইখ, আল-আযামাহ, নং ২৬৮; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬), নং ৬৯৩] শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ আছারটির সনদকে সহীহ বলেছেন। কোনো কোনো বিদ'আতী আল্লাহর জন্য পর্দা সাব্যস্ত করে না। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, জাহমিয়‍্যারা কোনোভাবেই আল্লাহর হিজাব আছে স্বীকার করে না; কারণ তিনি তাদের নিকট আরশের উপর নেই। [ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৬/১০)]
বস্তুত কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরাম ও তাবে'য়ীনে 'ইযাম থেকে পর্দার ব্যাপারে অনেক ভাষ্য এসেছে। ইমামগণ যুগ যুগ ধরে তাদের গ্রন্থে এ বিষয়ের ওপর অধ্যায় বিন্যাস করে তাতে এর উপর প্রমাণবহ নস ও আছার নিয়ে এসেছেন। যেমন, ইমাম দারেমী রাহিমাহুল্লাহ তার আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে পৃ. ৬০-৬২, অধ্যায়: পর্দা গ্রহণ, তারপর তিনি এর ওপর বেশ কিছু আয়াত-হাদীস ও আছার নিয়ে এসেছেন। তারপর বলেন, 'আর এমন কে আছে যে মহা অধিপতি যে পর্দা দ্বারা আড়াল নিয়েছেন তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে যাবে? আর কে জানতে পারবে সেটা কী রকম? একমাত্র তিনিই তো তা জানেন যিনি সকল কিছুকে ইলম দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং সবকিছুকে সংখ্যায় গুনে রেখেছেন। সুতরাং এতেও প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি সৃষ্টি থেকে আলাদা, তাদের থেকে পর্দার আড়ালে। জিবরীল তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও সেসব পর্দার নিকটে যাওয়ার সামর্থ রাখে না।... আরও দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/১০-১১)। কোনো কোনো বিদ'আতপন্থী লোকেরা আল্লাহর পর্দার অপব্যাখ্যা দাঁড় করে তা অস্বীকার করে। যেমন, ১- বাইহাক্বী বলেন, হিজাব বা পর্দা মূলত সৃষ্টির দিকে প্রত্যাবর্তিত স্রষ্টার নয়। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১২৬, ২৯৩)] ২- রাযী তার তা'সীসুত তাক্বদীস গ্রন্থে পৃ. ১৩২ বলেন, আল্লাহর জন্য প্রকৃত পর্দা হওয়া অসম্ভব; কারণ পর্দা বা আড়াল বলতে বুঝায় এমন দেহ যা দু'টি দেহের মাঝখানে অবস্থান নেয়। তাই আমাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তাঁকে দেখা সম্পৃক্ত কিছু বান্দার মাঝে সৃষ্টি করবেন না। আর যারা আল্লাহকে দেখা অস্বীকার করে তাদের নিকট পর্দার অর্থ, আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ বান্দার কাছে পৌছাবেন না।
ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এর যথার্থ জবাব দেন এবং বর্ণনা করেন যে, এ তা'ওয়ীস বা অপব্যাখ্যা দু'টিই বাতিল। কারণ দেখা সৃষ্টি না করা তো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাঁর পর্দা হচ্ছে নূরের। তাহলে কীভাবে নিছক অস্তিত্বহীন জিনিস নূর হতে পারে? আর কীভাবেই এটা বলা যায় যে, "অতঃপর তিনি তাঁর পর্দা উন্মুক্ত করবেন তখন তারা তাঁর দিকে তাকাবে"। যে জিনিস নিছক অস্তিত্বহীন সেটাকে উন্মুক্ত কীভাবে করা যায়? তারপর এটি আমাদেরকে জানাও পৃথিবীর কোন ভাষায় কোনো নিছক অস্তিত্বহীন জিনিসকে 'হাজাব' বা পর্দা বলা হয়? আর জানা কথা যে, 'হিজাব' এর বিপরীত হচ্ছে 'হিজাবহীন'। তাহলে নিছক অস্তিত্বহীনকে কি এ গুণ দেয়া যায় যে, এটা হিজাব নয়? যদি হিজাব অস্তিত্বহীনকে বলা হতো তাহলে তো সেটা না হওয়ার দাবি হচ্ছে অস্তিত্বে আসা। তখন অস্তিত্বশীল বস্তু হয়ে দাঁড়াবে অস্তিত্বহীনের গুণ। আর এটা তো অত্যাবশ্যকভাবে নিষিদ্ধ।” দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৬/৩৩৫- ৩৩৬)।
আবার অনেকে হিজাব এর অন্য তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যাও করে, যেমন বিশর আল-মিররীসী সেগুলো নিয়ে এসেছে। কিন্তু ইমাম আবু সা'ঈদ আদ-দারেমী সেগুলো নিয়ে এসে একটি একটি করে খণ্ডন করেছেন। দেখুন, উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল বিশর আল-মিররীসী (২/২৪৮).... অনুরূপ আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৭১-৭৩।
৫৩৩. অর্থাৎ ইমাম ইবন আবী যামানীন রাহিমাহুল্লাহ।
৫৩৪. এ হিজাব বা পর্দার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাত্রে আল্লাহকে দেখতে পাননি। সহীহ হাদীসে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন? তিনি বললেন, সেখানে তো নূর ছিল, কীভাবে আমি তাকে দেখতে পাব'। [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮] অপর বর্ণনায় এসেছে, 'আমি তো কেবল নূর দেখতে পেয়েছি।' [মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস নং ১৭৮; ইবন হিব্বান, আস-সহীহ (১/২৫৫); ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৪৪১; ইবন খুযাইমাহ, আত-তাওহীদ (২/৫১২)] এ ব্যাপারে বিদ'আতপন্থীদের বিকৃতি ও সেটার জবাব দেখুন, মাজমু' ফাতাওয়া (৬/৫০৭-৫০৮), (৩/৩৮৬-৩৯); ইবনুল কাইয়্যেম, যাদুল মা'আদ (৩/৩৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00