📄 আল্লাহর আরশের উপর উঠার ব্যাপারে রবী‘আহ ইবন আবী আবদির রহমানের বক্তব্য
ইমাম খাল্লাল বিশ্বস্ত সনদে সুফিয়ান ইবন 'উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' সম্পর্কে। কীভাবে তিনি উঠেছেন? তিনি বললেন, ইস্তিওয়া শব্দটির অর্থ অজানা নয় (অর্থাৎ উপরে উঠা), কিন্তু 'কাইফ' বা ধরণ বিবেকের আওতা বহির্ভূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে, রাসূলের ওপর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া, আর আমাদের দায়িত্ব একে সত্য বলে মেনে নেয়া।” আর এই একই বক্তব্য রবী'আহ এর ছাত্র মালিক ইবন আনাস থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়ে এসেছে।
টিকাঃ
৩৬১. তিনি হচ্ছেন আবু উসমান রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান ফাররূখ, মদীনার মুফতী, তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম। বলা হয়, আবু আব্দির রহমান আল-কুরাশী আত-তাইমী, তাদের মাওলা। যিনি রবী'আ আর-রাই নামে প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আলে মুনকাদির পরিবারের দাস। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, 'আত্বা ইবন ইয়াসার প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, সুলাইমান আত-তাইমী, মালেক ইবন আনাস প্রমুখ। ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন, রবী'আহ ইবন আবি আব্দির রহমান থেকে সাবধানী কাউকে আমি দেখিনি। উবাইদুল্লাহ ইবন 'উমার বলেন, তিনি আমাদের কঠিন জায়গার লোক, আমাদের আলেম ও আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ মানুষ। হিজরী ১৩৬ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৬/৮৯)।
৩৬২. লালেকাঈ, শারহু উসৃলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৮); বাইহাক্বী, আল- আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫১); ঈজলী, তারিখুস সিক্কাত, পৃ. ১৫৮, নং ৪৩১; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৯৮, তবে সুফইয়ান সাওরী থেকে। ইবন কুদামা আল-মাক্বদেসী, আল-উলু, পৃ. ১৬৪।
৩৬৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে... এ কথাটি ইমাম রবী'আহ ছাড়াও একাধিক মনিষী থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম যুহরী ও আওযা'ঈ। দেখুন, আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (৩/৩৬৯); সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ২৪৯; বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, তা'লীক হিসেবে যুহরী থেকে, কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায় নং ৪৬।
ইমাম খাল্লাল বিশ্বস্ত সনদে সুফিয়ান ইবন 'উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' সম্পর্কে। কীভাবে তিনি উঠেছেন? তিনি বললেন, ইস্তিওয়া শব্দটির অর্থ অজানা নয় (অর্থাৎ উপরে উঠা), কিন্তু 'কাইফ' বা ধরণ বিবেকের আওতা বহির্ভূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে, রাসূলের ওপর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া, আর আমাদের দায়িত্ব একে সত্য বলে মেনে নেয়া।” আর এই একই বক্তব্য রবী'আহ এর ছাত্র মালিক ইবন আনাস থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়ে এসেছে।
টিকাঃ
৩৬১. তিনি হচ্ছেন আবু উসমান রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান ফাররূখ, মদীনার মুফতী, তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম। বলা হয়, আবু আব্দির রহমান আল-কুরাশী আত-তাইমী, তাদের মাওলা। যিনি রবী'আ আর-রাই নামে প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আলে মুনকাদির পরিবারের দাস। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, 'আত্বা ইবন ইয়াসার প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, সুলাইমান আত-তাইমী, মালেক ইবন আনাস প্রমুখ। ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন, রবী'আহ ইবন আবি আব্দির রহমান থেকে সাবধানী কাউকে আমি দেখিনি। উবাইদুল্লাহ ইবন 'উমার বলেন, তিনি আমাদের কঠিন জায়গার লোক, আমাদের আলেম ও আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ মানুষ। হিজরী ১৩৬ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৬/৮৯)।
৩৬২. লালেকাঈ, শারহু উসৃলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৮); বাইহাক্বী, আল- আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫১); ঈজলী, তারিখুস সিক্কাত, পৃ. ১৫৮, নং ৪৩১; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৯৮, তবে সুফইয়ান সাওরী থেকে। ইবন কুদামা আল-মাক্বদেসী, আল-উলু, পৃ. ১৬৪।
৩৬৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে... এ কথাটি ইমাম রবী'আহ ছাড়াও একাধিক মনিষী থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম যুহরী ও আওযা'ঈ। দেখুন, আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (৩/৩৬৯); সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ২৪৯; বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, তা'লীক হিসেবে যুহরী থেকে, কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায় নং ৪৬।
📄 ইস্তেওয়া বা ‘আরশের উপর উঠার বিষয়ে ইমাম মালেক এর বক্তব্য
তন্মধ্যে, যা বর্ণনা করেছেন আবুশ শাইখ আল-আসফাহানী ও আবু বকর আল-বাইহাক্বী রাহিমাহুমাল্লাহ ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া থেকে। তিনি বলেন, আমরা ইমাম মালিক ইবন আনাসের নিকট ছিলাম। তখন এক লোক এসে বলল: يا أبا عبد الله الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى كيف استوى؟، فأطرق مالك برأسه حتى علاه الرحضَاء ثم قال: «الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وما أراك إلا مبتدعا، ثم أمر به أن يخرج
"হে আবু আব্দুল্লাহ! "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" কীভাবে তিনি উঠেছেন? ইমাম মালেক তখন মাথা নিচু করে রাখলেন, এমনকি তাঁর উপর ঘামের ফোটা দেখা গেল। তারপর তিনি বললেন: 'ইস্তেওয়া' অজ্ঞাত নয়, এর 'ধরণ' জানা বিবেক-বুদ্ধির আওতার মধ্যে নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, এর ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।"
আমি তোমাকে বিদ'আতী দেখতে পাচ্ছি। তখন তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
টিকাঃ
৩৬৪. কোনো অর্বাচিন মনে করতে পারে যে, মালেক রাহিমাহুল্লাহ সিফাতের আয়াত সম্পর্কে সর্বসাধারণ উম্মতের সাথে কথা বলাকেই অপছন্দ করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে মালেক রাহিমাহুল্লাহ'র ওপর অপবাদ। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা সিফাতের আয়াত অনেক বেশি পরিমাণ বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসে ব্যাপকভাবে আল্লাহর সিফাতের বিস্তৃত বর্ণনা কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই করেছেন। সাহাবায়ে কিরামও সিফাতের আয়াত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। এগুলো দিয়ে ওয়ায করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছেন ও পরিচয় প্রদান করেছেন। সাহাবায়ে কিরামের সুন্দর অনুসারী তাবেয়ীগণও এসব আয়াত ও হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের কারও কাছ থেকেই এসব আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে পলায়ণপর মানসিকতার কিছু বর্ণিত হয়নি। তাবে তাবে'য়ীগণ ব্যাপকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর সিফাতের আলোচনা করতেন। তাদের কারও কাছ থেকেই এভাবে আসেনি যে, এগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাবে না, তাহলে মালেক রাহিমাহুল্লাহ কেন সিফাতের আয়াত ও হাদীসের আলোচনা অপছন্দ করবেন?
কিছু মানুষ রয়েছে যারা সর্বদা ভুল বুঝ দাঁড় করাতে অভ্যস্ত। তারা একটি স্বাভাবিক স্পষ্ট কথাকেও অস্পষ্ট বানাতে বদ্ধপরিকর। তাদের অন্তরে বক্রতা থাকায় তারা সবকিছুতে বক্রতা পছন্দ করে। তারা আল্লাহর পরিচয় লাভের একমাত্র মাধ্যমকে বিতর্কিত করে মানুষদের কাছে আল্লাহর পরিচয়ের ক্ষেত্রে চোরাগলি নীতি অবলম্বন করতে চায়। ইসলাম কখনও এমন নয় যে তাতে আল্লাহর পরিচয়ের বিষয়টিকে সর্বসাধারণের কাছ থেকে গোপন করতে হবে। এটা তো খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদের পরিচয়ের বিষয় নয় যে, সর্বসাধারণের কাছ থেকে গোপন করতে হবে। ইসলামের সবার জন্য সকল আকীদাহ ও শরী'আহ উন্মুক্ত। আর আল্লাহর নাম ও গুণের বিষয়গুলোও এমন নয় যে, তা সাধারণ মানুষের বুঝে আসবে না বা তাদের জন্য ঈমানী ক্ষতির কারণ হবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা বান্দার হিদায়াত চান, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর উম্মতের জন্য কল্যাণকামী ও স্পষ্টভাষী। যদি আল্লাহর গুণাবলিতে আল্লাহর দীনের জন্য হিদায়াতের বিষয় না হতো তাহলে এগুলো এত ব্যাপক আকারে কুরআন ও সুন্নাহ'য় আসতো না।
বস্তুত আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা জনসম্মুখে করা যাবে না এমন কথা আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর ঈমানদার সাধারণ কেউ কোনো দিন বলেনি। ইমামরা তো তা মোটেও বলেননি। এটি মূলত তাদের মত হতে পারে যারা ইসলামী শরী'আতের মৌলিক নীতি ও আকীদাহ থেকে বের হয়ে গেছে যেমন, রাফেযী সম্প্রদায়, জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়, খারেজী হারূরী সম্প্রদায় ও তাদের মত যারা পরবর্তীতে এসেছে সেসব সম্প্রদায়।
কোনো কোনো সালাফ থেকে যদি এসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা সীমিত করার কথা বলা হয়ে থাকে তবে তা ছিল বিশেষ বিশেষ সময়ে, যেমনিভাবে তাদের কেউ কেউ ফিকহ ও বিধি-বিধান সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসও কখনও কখনও বর্ণনা করা বিরত থাকত। অনুরূপ বিশেষ কোনো সময় তাকদীর এর মাসআলা, ঈমান, বিধি-বিধান ও ধমকিসংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা না করতে দেখা যেত। তাহলে বুঝা গেল, বিশেষ কারণে কেউ কথা না বলার বিষয়টি কেবল আল্লাহর নাম ও গুণের সাথে সম্পর্কিত নয়, সেটি অন্যান্য অধ্যায়েও বিশেষ কারণে কেউ কেউ কথা বলেনি। তাই আল্লাহর নাম ও গুণের আয়াত ও হাদীসের আলোচনাকে আলাদাভাবে নিষেধ করার কোনো অর্থ হয় না।
তাছাড়া কোনো সঙ্গত কারণে যখন কেউ কেউ কোনো কোনো বিষয়ে আলোচনা করত না, উক্ত সময়েও সেসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা অন্যরা ঠিকই করেছে। সকলেই যে তা বর্ণনা করা থেকে বিরত ছিল তা নয়। কারণ কারও কারও কাছে হয়ত মনে হতে পারে যে, এসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা করলে ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু অপর আলেমগণের মতে সেগুলোর আলোচনা ক্ষতির কারণ নয় বরং উপকারী বিষয়। সুতরাং কখনও কখনও হয়ত উভয় শ্রেণির লোক এ বিষয়ে বিতর্কও করতে পারে। [দেখুন, আত-তাস'ঈনিয়্যাহ (১/১৪৯-১৫১)]
এ তো গেল সাধারণ কথা। বিশেষ করে ইমাম মালেকের এ বাণীর মাঝে কোনোক্রমেই আল্লাহর গুণাবলি আলোচনা না করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়নি বা আলোচনা করা তিনি অপছন্দ করেননি। বরং ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ তো তা বর্ণনাই করেছেন। তিনি তো বলেই দিলেন যে, এগুলোর অর্থ জানা আছে, ধরণ জানা নেই। যারা ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করবে কেবল তাদেরকেই বিদ'আতী ও মজলিসে উপস্থিত থাকার অনুপযুক্ত ঘোষণা করেছেন।
হ্যাঁ, এ ব্যাপারে মালেক রাহিমাহুল্লাহ'র জন্য এ ওযর পেশ করা যেতে পারে যে, মালেক রাহিমাহুল্লাহ মনে করেছিলেন, ধরনের কথা উপস্থিত কারও কারও অন্তরে সন্দেহে উদ্রেক করতে পারে, তার বিবেক সমস্যাগ্রস্ত হতে পারে। কারণ সাধারণত মানুষকে যে জিনিস থেকে নিষেধ করা হয় সেটার প্রতি আগ্রহ একটু বেশি হয়ে যায়, কিন্তু সবার তা হয় না। কিন্তু তাই বলে ইমাম মালেক এর কথাকে অপব্যাখ্যা করে এটা সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা যে, তিনি আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা করাই পছন্দ করেননি, এমন কথা বলা ইমাম মালেকের ওপর মিথ্যাচার ও তাকে তার পূর্ববর্তী আলেমদের মত ও আদর্শ থেকে ভিন্ন হিসেবে প্রচার করা, যা কখনও ভালো কাজ নয়। কারণ এসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা ইমাম মালেকের চেয়ে যারা মুসলিমগণের নিকট অনেক বেশি সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন তারা করেছেন, যেমন আব্দুল্লাহ ইবন 'উমার, আবু হুরায়রা, ইবন আব্বাস, 'আত্বা ইবন আবী রাবাহ। অনুরূপ ইমাম মালেকের সমকক্ষরাও সেসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা করেছে যেমন সুফইয়ান আস-সাওরী, লাইস ইবন সা'দ, সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ। আর নিঃসন্দেহে ইমাম সাওরী হাদীস সম্পর্কে ইমাম মালেক থেকে বেশি জানেন ও বেশি সংরক্ষণকারী। তিনি এতে মালেকের চেয়েও কম ভুল করেন। যদিও মালেক রাহিমাহুল্লাহ কার থেকে হাদীস নিবেন তা চয়ন করে নিতে সিদ্ধহস্ত। আর লাইস, তিনি তো যেমনটি ইমাম শাফে'য়ী বলেছেন, তিনি মালেকের চেয়েও বড় ফকীহ, তবে তার ছাত্ররা তাকে বিনষ্ট করে ফেলেছে। মোটকথা: ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ'র কথাকে অপব্যাখা করে সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা না করার ব্যাপক নীতি বের করা সর্বৈব মিথ্যা ও নিকৃষ্ট অপবাদ ছাড়া কিছুই নয়। [দেখুন, আত-তিস'ঈনিয়্যাহ (৩/৯৩৬); আরও দেখা যেতে পারে, ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৫১)...; ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/১০৪)]
৩৬৫. ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বিদ'আতীদের ব্যাপারে কঠোর ছিলেন। তিনি তার মজলিসে বিদ'আতীদের বসার অনুমতি দিতেন না। বিদ'আতীদেরকে তার সাথে বিতর্ক করার সুযোগ দিতেন না। তাদেরকে মজলিস থেকে অপমান করে বের করে দিতেন। বস্তুত মদীনা সমাজের লোকেরা কখনও বিদ'আতকে প্রশ্রয় দেয়নি। আর তিনি তাদের মাঝেই বড় হয়েছেন।
৩৬৬. লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৮); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫০-১৫১); ই'তিক্কাদ পৃ. ৫৬; দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৩৩; আবু ইসমা'ঈল আস-সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ১৭-১৯; ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৫১); আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (৬/৩২৫-৩২৬); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৮৯-৯০, ৯৫); আল-উলু, পৃ. ১০৩-১০৪। ইবন কুদামা, লুম'আতুল ই'তিক্বাদ, পৃ. ৪; ইসবাতি সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭২-১৭৩; সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (৩/৪৭৩); বাগাওয়ী, শারহুস সুন্নাহ (১/১৭১০)। ইমাম ইবন হাজার আল-আসকালানী এর সনদকে উত্তম বলেছেন, ফাতহুল বারী (১৩/৪০৭)।
তন্মধ্যে, যা বর্ণনা করেছেন আবুশ শাইখ আল-আসফাহানী ও আবু বকর আল-বাইহাক্বী রাহিমাহুমাল্লাহ ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া থেকে। তিনি বলেন, আমরা ইমাম মালিক ইবন আনাসের নিকট ছিলাম। তখন এক লোক এসে বলল: يا أبا عبد الله الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى كيف استوى؟، فأطرق مالك برأسه حتى علاه الرحضَاء ثم قال: «الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وما أراك إلا مبتدعا، ثم أمر به أن يخرج
"হে আবু আব্দুল্লাহ! "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" কীভাবে তিনি উঠেছেন? ইমাম মালেক তখন মাথা নিচু করে রাখলেন, এমনকি তাঁর উপর ঘামের ফোটা দেখা গেল। তারপর তিনি বললেন: 'ইস্তেওয়া' অজ্ঞাত নয়, এর 'ধরণ' জানা বিবেক-বুদ্ধির আওতার মধ্যে নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, এর ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।"
আমি তোমাকে বিদ'আতী দেখতে পাচ্ছি। তখন তাকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
টিকাঃ
৩৬৪. কোনো অর্বাচিন মনে করতে পারে যে, মালেক রাহিমাহুল্লাহ সিফাতের আয়াত সম্পর্কে সর্বসাধারণ উম্মতের সাথে কথা বলাকেই অপছন্দ করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে মালেক রাহিমাহুল্লাহ'র ওপর অপবাদ। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা সিফাতের আয়াত অনেক বেশি পরিমাণ বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসে ব্যাপকভাবে আল্লাহর সিফাতের বিস্তৃত বর্ণনা কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই করেছেন। সাহাবায়ে কিরামও সিফাতের আয়াত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। এগুলো দিয়ে ওয়ায করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছেন ও পরিচয় প্রদান করেছেন। সাহাবায়ে কিরামের সুন্দর অনুসারী তাবেয়ীগণও এসব আয়াত ও হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের কারও কাছ থেকেই এসব আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে পলায়ণপর মানসিকতার কিছু বর্ণিত হয়নি। তাবে তাবে'য়ীগণ ব্যাপকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর সিফাতের আলোচনা করতেন। তাদের কারও কাছ থেকেই এভাবে আসেনি যে, এগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাবে না, তাহলে মালেক রাহিমাহুল্লাহ কেন সিফাতের আয়াত ও হাদীসের আলোচনা অপছন্দ করবেন?
কিছু মানুষ রয়েছে যারা সর্বদা ভুল বুঝ দাঁড় করাতে অভ্যস্ত। তারা একটি স্বাভাবিক স্পষ্ট কথাকেও অস্পষ্ট বানাতে বদ্ধপরিকর। তাদের অন্তরে বক্রতা থাকায় তারা সবকিছুতে বক্রতা পছন্দ করে। তারা আল্লাহর পরিচয় লাভের একমাত্র মাধ্যমকে বিতর্কিত করে মানুষদের কাছে আল্লাহর পরিচয়ের ক্ষেত্রে চোরাগলি নীতি অবলম্বন করতে চায়। ইসলাম কখনও এমন নয় যে তাতে আল্লাহর পরিচয়ের বিষয়টিকে সর্বসাধারণের কাছ থেকে গোপন করতে হবে। এটা তো খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদের পরিচয়ের বিষয় নয় যে, সর্বসাধারণের কাছ থেকে গোপন করতে হবে। ইসলামের সবার জন্য সকল আকীদাহ ও শরী'আহ উন্মুক্ত। আর আল্লাহর নাম ও গুণের বিষয়গুলোও এমন নয় যে, তা সাধারণ মানুষের বুঝে আসবে না বা তাদের জন্য ঈমানী ক্ষতির কারণ হবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা বান্দার হিদায়াত চান, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর উম্মতের জন্য কল্যাণকামী ও স্পষ্টভাষী। যদি আল্লাহর গুণাবলিতে আল্লাহর দীনের জন্য হিদায়াতের বিষয় না হতো তাহলে এগুলো এত ব্যাপক আকারে কুরআন ও সুন্নাহ'য় আসতো না।
বস্তুত আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা জনসম্মুখে করা যাবে না এমন কথা আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর ঈমানদার সাধারণ কেউ কোনো দিন বলেনি। ইমামরা তো তা মোটেও বলেননি। এটি মূলত তাদের মত হতে পারে যারা ইসলামী শরী'আতের মৌলিক নীতি ও আকীদাহ থেকে বের হয়ে গেছে যেমন, রাফেযী সম্প্রদায়, জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়, খারেজী হারূরী সম্প্রদায় ও তাদের মত যারা পরবর্তীতে এসেছে সেসব সম্প্রদায়।
কোনো কোনো সালাফ থেকে যদি এসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা সীমিত করার কথা বলা হয়ে থাকে তবে তা ছিল বিশেষ বিশেষ সময়ে, যেমনিভাবে তাদের কেউ কেউ ফিকহ ও বিধি-বিধান সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসও কখনও কখনও বর্ণনা করা বিরত থাকত। অনুরূপ বিশেষ কোনো সময় তাকদীর এর মাসআলা, ঈমান, বিধি-বিধান ও ধমকিসংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা না করতে দেখা যেত। তাহলে বুঝা গেল, বিশেষ কারণে কেউ কথা না বলার বিষয়টি কেবল আল্লাহর নাম ও গুণের সাথে সম্পর্কিত নয়, সেটি অন্যান্য অধ্যায়েও বিশেষ কারণে কেউ কেউ কথা বলেনি। তাই আল্লাহর নাম ও গুণের আয়াত ও হাদীসের আলোচনাকে আলাদাভাবে নিষেধ করার কোনো অর্থ হয় না।
তাছাড়া কোনো সঙ্গত কারণে যখন কেউ কেউ কোনো কোনো বিষয়ে আলোচনা করত না, উক্ত সময়েও সেসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা অন্যরা ঠিকই করেছে। সকলেই যে তা বর্ণনা করা থেকে বিরত ছিল তা নয়। কারণ কারও কারও কাছে হয়ত মনে হতে পারে যে, এসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা করলে ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু অপর আলেমগণের মতে সেগুলোর আলোচনা ক্ষতির কারণ নয় বরং উপকারী বিষয়। সুতরাং কখনও কখনও হয়ত উভয় শ্রেণির লোক এ বিষয়ে বিতর্কও করতে পারে। [দেখুন, আত-তাস'ঈনিয়্যাহ (১/১৪৯-১৫১)]
এ তো গেল সাধারণ কথা। বিশেষ করে ইমাম মালেকের এ বাণীর মাঝে কোনোক্রমেই আল্লাহর গুণাবলি আলোচনা না করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়নি বা আলোচনা করা তিনি অপছন্দ করেননি। বরং ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ তো তা বর্ণনাই করেছেন। তিনি তো বলেই দিলেন যে, এগুলোর অর্থ জানা আছে, ধরণ জানা নেই। যারা ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করবে কেবল তাদেরকেই বিদ'আতী ও মজলিসে উপস্থিত থাকার অনুপযুক্ত ঘোষণা করেছেন।
হ্যাঁ, এ ব্যাপারে মালেক রাহিমাহুল্লাহ'র জন্য এ ওযর পেশ করা যেতে পারে যে, মালেক রাহিমাহুল্লাহ মনে করেছিলেন, ধরনের কথা উপস্থিত কারও কারও অন্তরে সন্দেহে উদ্রেক করতে পারে, তার বিবেক সমস্যাগ্রস্ত হতে পারে। কারণ সাধারণত মানুষকে যে জিনিস থেকে নিষেধ করা হয় সেটার প্রতি আগ্রহ একটু বেশি হয়ে যায়, কিন্তু সবার তা হয় না। কিন্তু তাই বলে ইমাম মালেক এর কথাকে অপব্যাখ্যা করে এটা সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা যে, তিনি আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা করাই পছন্দ করেননি, এমন কথা বলা ইমাম মালেকের ওপর মিথ্যাচার ও তাকে তার পূর্ববর্তী আলেমদের মত ও আদর্শ থেকে ভিন্ন হিসেবে প্রচার করা, যা কখনও ভালো কাজ নয়। কারণ এসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা ইমাম মালেকের চেয়ে যারা মুসলিমগণের নিকট অনেক বেশি সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন তারা করেছেন, যেমন আব্দুল্লাহ ইবন 'উমার, আবু হুরায়রা, ইবন আব্বাস, 'আত্বা ইবন আবী রাবাহ। অনুরূপ ইমাম মালেকের সমকক্ষরাও সেসব আয়াত ও হাদীসের আলোচনা করেছে যেমন সুফইয়ান আস-সাওরী, লাইস ইবন সা'দ, সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ। আর নিঃসন্দেহে ইমাম সাওরী হাদীস সম্পর্কে ইমাম মালেক থেকে বেশি জানেন ও বেশি সংরক্ষণকারী। তিনি এতে মালেকের চেয়েও কম ভুল করেন। যদিও মালেক রাহিমাহুল্লাহ কার থেকে হাদীস নিবেন তা চয়ন করে নিতে সিদ্ধহস্ত। আর লাইস, তিনি তো যেমনটি ইমাম শাফে'য়ী বলেছেন, তিনি মালেকের চেয়েও বড় ফকীহ, তবে তার ছাত্ররা তাকে বিনষ্ট করে ফেলেছে। মোটকথা: ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ'র কথাকে অপব্যাখা করে সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের আলোচনা না করার ব্যাপক নীতি বের করা সর্বৈব মিথ্যা ও নিকৃষ্ট অপবাদ ছাড়া কিছুই নয়। [দেখুন, আত-তিস'ঈনিয়্যাহ (৩/৯৩৬); আরও দেখা যেতে পারে, ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৫১)...; ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/১০৪)]
৩৬৫. ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বিদ'আতীদের ব্যাপারে কঠোর ছিলেন। তিনি তার মজলিসে বিদ'আতীদের বসার অনুমতি দিতেন না। বিদ'আতীদেরকে তার সাথে বিতর্ক করার সুযোগ দিতেন না। তাদেরকে মজলিস থেকে অপমান করে বের করে দিতেন। বস্তুত মদীনা সমাজের লোকেরা কখনও বিদ'আতকে প্রশ্রয় দেয়নি। আর তিনি তাদের মাঝেই বড় হয়েছেন।
৩৬৬. লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৮); বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫০-১৫১); ই'তিক্কাদ পৃ. ৫৬; দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ৩৩; আবু ইসমা'ঈল আস-সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ১৭-১৯; ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৫১); আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (৬/৩২৫-৩২৬); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৮৯-৯০, ৯৫); আল-উলু, পৃ. ১০৩-১০৪। ইবন কুদামা, লুম'আতুল ই'তিক্বাদ, পৃ. ৪; ইসবাতি সিফাতিল উলু, পৃ. ১৭২-১৭৩; সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানসূর (৩/৪৭৩); বাগাওয়ী, শারহুস সুন্নাহ (১/১৭১০)। ইমাম ইবন হাজার আল-আসকালানী এর সনদকে উত্তম বলেছেন, ফাতহুল বারী (১৩/৪০৭)।
📄 রবী‘আহ ও মালেক এর বক্তব্য, ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এ কথার উদ্দেশ্য
কাজেই রবী'আহ ও মালিকের বক্তব্য: "ইসতিওয়া অজ্ঞাত নয়, এর ধরণ জানা বিবেকের আওতাভুক্ত বিষয় নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব।" এটি অন্য ইমামদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল যে, "এগুলোকে তোমরা কোনো ধরণ নির্ধারণ ব্যতিরেকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।" তারা তো কেবল নাকচ করেছেন সিফাতের কাইফিয়্যত তথা ধরণ ও পদ্ধতির জ্ঞানকে, মূল সিফাতের বাস্তব অর্থকে নাকচ করেননি। যদি সালাফগণ আল্লাহর শানের সাথে উপযুক্ত যে অর্থ সেটা না বুঝে শুধু কেবল শব্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করতো তাহলে তারা বলতেন না "ইসতিওয়া অজানা নয়, এর ধরণ বিবেক দিয়ে প্রাপ্ত হওয়ার বিষয় নয়" এবং বলতেন না "যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও ধরণ (কাইফিয়্যাত) নির্ধারণ ছাড়া।" কেননা "ইসতিওয়া” শব্দটি তখন তো জ্ঞাতই হতো না, বরং আরবী বর্ণমালার অর্থের মতো অজ্ঞাতই হতো।
টিকাঃ
৩৬৭. অর্থাৎ সালাফগণ ‘ধরণ’ এর জ্ঞান অস্বীকার করেছেন, তারা এর অর্থকে অস্বীকার করেননি। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, সালাফে সালেহীন থেকে এ কথা বিখ্যাত যে, মহান আল্লাহর সিফাত এর ব্যাপারে ‘কী ধরনের’ বা ধরণ কী? তা প্রশ্ন করা যাবে না। অনুরূপ মহান আল্লাহর কর্মের ব্যাপারেও ‘কেন’? এ প্রশ্ন করা যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ যেমন মালিক রাহিমাহুল্লাহ, তারা বর্তমান সময়ে আমাদের নিকট মহান আল্লাহর সিফাত এর ‘ধরণ’ জানা না থাকার কথা বলেছেন। তবে ‘ধরণ’ এর একটি বাস্তব অবস্থা রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করেনি। অথচ অনেক জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলা এসব সিফাতের ব্যাপারে তারা যা জেনেছে বা বলেছে তার বাইরে সেগুলোর বাস্তব ও হাকীকতই অস্বীকার করে থাকে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/১৯৭)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ সিফাতের হাকীকত ও বাস্তব ‘ধরণ’ থাকাকে অস্বীকার করেননি। বরং বাস্তব ধরণ জানা থাকাকে অস্বীকার করেছেন। সুতরাং এসব সিফাতকে তার হাকীকী তথা বাস্তব অর্থেই নিতে হবে, কোনোরূপ রূপক অর্থের পিছনে ছুটা যাবে না। ধরণকে রূপক বানানো যাবে না। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাই ইমাম ইবন আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন, জামে'উর রাসায়িল (৮/১৮৬)।
৩৬৮. কারণ দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো কুটতর্কের লোক, আরবী ভাষা জ্ঞানে স্বল্পতার অধিকারী ব্যক্তিকে দেখা যায় তারা ইমাম মালিক এ বক্তব্য ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এর অর্থ করছে, ইস্তেওয়া শব্দটি আরবী ভাষার শব্দ, এ শব্দটি অজানা নয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝাতে চাচ্ছে এখানে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ‘ইস্তেওয়া’ এর অর্থ অজানা নয়’ এটা বুঝাননি। নাউযুবিল্লাহ, শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক করে তারা ইমামদের বক্তব্যের স্পষ্ট ভাষ্যকেও অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছে। এখানে বিরুদ্ধবাদীদের একটি সন্দেহ তুলে ধরা হয়েছে, যায় চারটি জবাব শাইখুল ইসলাম প্রদান করবেন।
৩৬৯. বিদ'আতীদের মধ্যে আহলুত তাজহীল (যারা মনে করে সিফাতের আয়াত ও হাদীসগুলোর অর্থ জানা যায় না’) তারা যেহেতু ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ’র বাণীটি থেকে ‘অর্থ না জানার’ দলীল হিসেবে পেশ করে তাই ইমাম ইবন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম মালেকের সে বাণীর আলোচনা করেই তাদের কুপোকাত করছেন। এটাকে বলা হয় কালবুদ দলীল।
৩৭০. ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ‘মালেক রাহিমাহুল্লাহ এটা বর্ণনা করলেন যে, ‘ইস্তিওয়া’ এর অর্থ জানা আছে। (তা হচ্ছে উপরে উঠা), তার ধরণ অজানা। সুতরাং অজানা ধরণ হচ্ছে সে "তা'ওয়ীল" বা "পূর্ণ বিবরণ" বা "মূলরূপ” যা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর ‘ইস্তেওয়া’ ও অন্যান্য শব্দ থেকে যা বুঝা যায় তা তো সে ‘তাফসীর’ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বর্ণনা করেছেন। [দারউত তা'আরুদ্ব (১/২৮৭)]
অন্য জায়গায় বলেন, ‘তিনি বর্ণনা করে দিলেন যে, তাঁর ইস্তেওয়া (তথা উপরে উঠা) এর ধরণ বান্দাদের অজানা। তবে ধরণ নেই এমন কথা বলা হয়নি। বরং বান্দাদের কাছে সেটার জ্ঞান নেই এটাই ঘোষণা করেছেন।’ [দারউত তা'আরুদ্ব (২/৩৫)]
৩৭১. এ হচ্ছে প্রথম জাওয়াব। যার মূলকথা হচ্ছে, আরবী বর্ণমালার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ হয় না। এগুলোর ব্যপারে কারো পক্ষ থেকে বলা হয় না যে, এগুলো অজানা নয়। বরং তারা কেউ এগুলোর অর্থ জানে না। কিন্তু ‘ইস্তেওয়া’ শব্দটির অর্থ হয় এটা আরবী ভাষা যারা জানে তারা সবাই বলতে বাধ্য। সুতরাং যখন ‘ইস্তেওয়া’ সম্পর্কে বলা হলো যে, এটি অজানা নয়, তখন সহজেই এটা বুঝা যায় যে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য অজানা নয়। বরং এ শব্দগুলোর অর্থই উদ্দেশ্য।
কাজেই রবী'আহ ও মালিকের বক্তব্য: "ইসতিওয়া অজ্ঞাত নয়, এর ধরণ জানা বিবেকের আওতাভুক্ত বিষয় নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব।" এটি অন্য ইমামদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল যে, "এগুলোকে তোমরা কোনো ধরণ নির্ধারণ ব্যতিরেকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।" তারা তো কেবল নাকচ করেছেন সিফাতের কাইফিয়্যত তথা ধরণ ও পদ্ধতির জ্ঞানকে, মূল সিফাতের বাস্তব অর্থকে নাকচ করেননি। যদি সালাফগণ আল্লাহর শানের সাথে উপযুক্ত যে অর্থ সেটা না বুঝে শুধু কেবল শব্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করতো তাহলে তারা বলতেন না "ইসতিওয়া অজানা নয়, এর ধরণ বিবেক দিয়ে প্রাপ্ত হওয়ার বিষয় নয়" এবং বলতেন না "যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও ধরণ (কাইফিয়্যাত) নির্ধারণ ছাড়া।" কেননা "ইসতিওয়া” শব্দটি তখন তো জ্ঞাতই হতো না, বরং আরবী বর্ণমালার অর্থের মতো অজ্ঞাতই হতো।
টিকাঃ
৩৬৭. অর্থাৎ সালাফগণ ‘ধরণ’ এর জ্ঞান অস্বীকার করেছেন, তারা এর অর্থকে অস্বীকার করেননি। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, সালাফে সালেহীন থেকে এ কথা বিখ্যাত যে, মহান আল্লাহর সিফাত এর ব্যাপারে ‘কী ধরনের’ বা ধরণ কী? তা প্রশ্ন করা যাবে না। অনুরূপ মহান আল্লাহর কর্মের ব্যাপারেও ‘কেন’? এ প্রশ্ন করা যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ যেমন মালিক রাহিমাহুল্লাহ, তারা বর্তমান সময়ে আমাদের নিকট মহান আল্লাহর সিফাত এর ‘ধরণ’ জানা না থাকার কথা বলেছেন। তবে ‘ধরণ’ এর একটি বাস্তব অবস্থা রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করেনি। অথচ অনেক জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলা এসব সিফাতের ব্যাপারে তারা যা জেনেছে বা বলেছে তার বাইরে সেগুলোর বাস্তব ও হাকীকতই অস্বীকার করে থাকে। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/১৯৭)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ সিফাতের হাকীকত ও বাস্তব ‘ধরণ’ থাকাকে অস্বীকার করেননি। বরং বাস্তব ধরণ জানা থাকাকে অস্বীকার করেছেন। সুতরাং এসব সিফাতকে তার হাকীকী তথা বাস্তব অর্থেই নিতে হবে, কোনোরূপ রূপক অর্থের পিছনে ছুটা যাবে না। ধরণকে রূপক বানানো যাবে না। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এটাই ইমাম ইবন আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন, জামে'উর রাসায়িল (৮/১৮৬)।
৩৬৮. কারণ দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো কুটতর্কের লোক, আরবী ভাষা জ্ঞানে স্বল্পতার অধিকারী ব্যক্তিকে দেখা যায় তারা ইমাম মালিক এ বক্তব্য ‘ইস্তেওয়া অজানা নয়’ এর অর্থ করছে, ইস্তেওয়া শব্দটি আরবী ভাষার শব্দ, এ শব্দটি অজানা নয়। এর মাধ্যমে তারা বুঝাতে চাচ্ছে এখানে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ ‘ইস্তেওয়া’ এর অর্থ অজানা নয়’ এটা বুঝাননি। নাউযুবিল্লাহ, শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক করে তারা ইমামদের বক্তব্যের স্পষ্ট ভাষ্যকেও অপব্যাখ্যা করে যাচ্ছে। এখানে বিরুদ্ধবাদীদের একটি সন্দেহ তুলে ধরা হয়েছে, যায় চারটি জবাব শাইখুল ইসলাম প্রদান করবেন।
৩৬৯. বিদ'আতীদের মধ্যে আহলুত তাজহীল (যারা মনে করে সিফাতের আয়াত ও হাদীসগুলোর অর্থ জানা যায় না’) তারা যেহেতু ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ’র বাণীটি থেকে ‘অর্থ না জানার’ দলীল হিসেবে পেশ করে তাই ইমাম ইবন তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম মালেকের সে বাণীর আলোচনা করেই তাদের কুপোকাত করছেন। এটাকে বলা হয় কালবুদ দলীল।
৩৭০. ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ‘মালেক রাহিমাহুল্লাহ এটা বর্ণনা করলেন যে, ‘ইস্তিওয়া’ এর অর্থ জানা আছে। (তা হচ্ছে উপরে উঠা), তার ধরণ অজানা। সুতরাং অজানা ধরণ হচ্ছে সে "তা'ওয়ীল" বা "পূর্ণ বিবরণ" বা "মূলরূপ” যা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর ‘ইস্তেওয়া’ ও অন্যান্য শব্দ থেকে যা বুঝা যায় তা তো সে ‘তাফসীর’ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বর্ণনা করেছেন। [দারউত তা'আরুদ্ব (১/২৮৭)]
অন্য জায়গায় বলেন, ‘তিনি বর্ণনা করে দিলেন যে, তাঁর ইস্তেওয়া (তথা উপরে উঠা) এর ধরণ বান্দাদের অজানা। তবে ধরণ নেই এমন কথা বলা হয়নি। বরং বান্দাদের কাছে সেটার জ্ঞান নেই এটাই ঘোষণা করেছেন।’ [দারউত তা'আরুদ্ব (২/৩৫)]
৩৭১. এ হচ্ছে প্রথম জাওয়াব। যার মূলকথা হচ্ছে, আরবী বর্ণমালার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ হয় না। এগুলোর ব্যপারে কারো পক্ষ থেকে বলা হয় না যে, এগুলো অজানা নয়। বরং তারা কেউ এগুলোর অর্থ জানে না। কিন্তু ‘ইস্তেওয়া’ শব্দটির অর্থ হয় এটা আরবী ভাষা যারা জানে তারা সবাই বলতে বাধ্য। সুতরাং যখন ‘ইস্তেওয়া’ সম্পর্কে বলা হলো যে, এটি অজানা নয়, তখন সহজেই এটা বুঝা যায় যে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য অজানা নয়। বরং এ শব্দগুলোর অর্থই উদ্দেশ্য।
📄 ‘আরশ ও উপরে থাকা সম্পর্কে ইমাম ইবন আবী যামানীন এর বক্তব্য
তিনি বলেন: আহলে সুন্নাতের কথা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ 'আরশ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে খাস করেছেন সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে ও উঁচুতে হওয়া দ্বারা। অতঃপর তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে তার উপর উঠেছেন। যেমন তিনি নিজের ব্যাপারে জানিয়েছেন:
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥]
"রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ ﴾ [الحديد: ٤]
"তারপর তিনি 'আরশে উঠেছেন। তিনি জানেন যমীনে যা কিছু প্রবেশ করে।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪]
সুতরাং অতি পবিত্র তিনি, যিনি দূরবর্তী [হয়েছেন (৫১০) ফলে তাকে দেখা যায় না](৫১১) ও নিকটবর্তী হন জ্ঞানের [ও ক্ষমতার](৫১২) মাধ্যমে(৫১৩) ফলে তিনি গোপন শলা-পরামর্শ শুনতে পান।
অতঃপর তিনি আবু রাযীন আল-উকাইলী বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, [যাতে এসেছে,] আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আসমান-যমীন সৃষ্টির পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, 'আমা'তে, যার(৫১৪) উপরেও বায়ু, নিচেও বায়ু। অতঃপর তিনি পানির উপরে 'আরশ সৃষ্টি করলেন।” (৫১৫)
টিকাঃ
৫১০. আল্লাহ তা'আলাকে কি দূরবর্তী বলা যাবে? ইবন তাইমিয়্যাহ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলাকে 'দূরবর্তী' গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৭)] অন্যত্র বলেছেন, আর 'বা'য়ীদ' আল্লাহর নামও নয়। তাকে উম্মতের সালাফদের কেউ ও তাদের ইমামগণ কখনও 'বা'য়ীদ' বা দূরবর্তী গুণে গুণান্বিত করেননি। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৯)] এর কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসে তা না আসা। তবে 'ইখবার' বা এটা বলা যাবে কিনা যে, আল্লাহ কাফেরদের থেকে দূরে বা বদকারদের থেকে দূরে? যদি উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেয়া ও তাদের প্রতিদান দেয়া থেকে দূরে তাহলে সেটাতে আশা করি সমস্যা হবে না।
৫১১. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১২. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১৩. আল্লাহ তা'আলার নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ কী? শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন যে নৈকট্য কেবল বিশেষভাবেই হয়। নৈকট্য কখনও সর্বসাধারণের জন্য হয় না। দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)। অর্থাৎ 'কুরব' বা 'নৈকট্য' বিষয়টি মা'য়িয়্যাহ বা 'সাথে থাকা' এর মত নয়। বরং বিষয়টি 'মা'য়িয়্যাহ আল-খাসসা'র মতো। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অনেকগুলো কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্য এনে প্রমাণ করেছেন যে, রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন। তারপর তিনি বলেন, তবে এসব নৈকট্য সবই হচ্ছে বিশেষ নৈকট্য যা কোনো কোনো অবস্থায় হয়ে থাকে, অপর অবস্থায় থাকে না। কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও সকল সৃষ্টির জন্য সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ তাআলার সত্তাগত নৈকট্য সাব্যস্ত করা হয়নি। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৩০, ২৪০)] অন্যত্র তিনি বলেন, 'আল্লাহ সুবহানাহু যত জায়গায় নিজেকে নিকটে থাকার কথা বলেছেন সেগুলোতে কোথাও সকল সৃষ্টির নিকটে রয়েছে এমনটি বলেননি, যেমনটি বলেছেন 'সাথে' থাকার ব্যাপারে। কারণ 'মা'য়িয়্যাত' বা সাথে থাকার বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা নিজেকে সাধারণ ও বিশেষ দু'ভাবে বলেছেন, কিন্তু নৈকট্য, তিনি কার নিকটে আসবেন এটা একান্তই তার জন্য নির্দিষ্ট যার তিনি নিকটে থাকবে বলেছেন। যেমন আহ্বানকারী, [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৬] ইবাদতকারী [বান্দা আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হয় যখন সে সাজদা করে...] অনুরূপ হাজীদের জন্য 'আরাফার মাঠে নিকটে হওয়া ও প্রথম আসমানের নিকটে থাকা...' [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৪৭৮), (১৫/১৭)] ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও বলা হয়নি যে, আল্লাহ সবার নিকটে। এটাও বলা হয়নি যে, তিনি কাফের ও ফাজেরদের নিকটে। বরং সর্বদা বিশেষভাবেই নির্দিষ্ট লোকদের জন্যই তা এসেছে...' [মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)] ইবনুল কাইয়্যেম সেখানে আরও বলেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকটে থাকা দু' প্রকার: ১- তাঁকে আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়ার মাধ্যমে তার নিকটে থাকা। ২- তাঁর আনুগত্যকারীর সাওয়াব দানের জন্য তাঁর নিকটে থাকা। উল্লেখ্য, পরবর্তী আলেমগণের কারও কারও গ্রন্থে আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্যকে দু'ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে, সাধারণ নৈকট্য, বিশেষ নৈকট্য। [তাফসীর সা'দী] সম্ভবত তারা সেটাকে মা'য়িয়্যাত বা 'সাথে থাকা' এর ওপর কিয়াস করেছেন। কিন্তু সেটা যথাযথ মনে হয় না। বস্তুত 'সাধারণ নৈকট্য' বলার কোনো ভাষ্য সালাফে সালেহীনের থেকে বর্ণিত হয়নি। তাই আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্য কেবল বিশেষই হয়ে থাকে এটাই বলতে হবে।
৫১৪. ইমাম ইবন আব্দুল বার কোনো কোনো আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এখানে "যার উপর” ও "যার নিচ" বলে 'আমা'কে বুঝানো হয়েছে। দেখুন, তামহীদ (৭/১৩৮)।
৫১৫. হাদীসটি যারা উদ্ধৃত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ১- তিরমিযী (৫/২৮৮), হাদীস নং ৩১০৯। ২- ইবন মাজাহ, হাদীস নং (১/৬৪), ১৮২। ৩- আবু দাউদ আত-ত্বায়ালাসী, আল-মুসনাদ, পৃ. ১৪৭, নং ১১৮৯। ৪- ইবন হিব্বان, আস-সহীহ, হাদীস নং ৬১৪১। ৫- আহমাদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ১৬১৮৮। ৬- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/২৫-২৬), নং ৪৫০। ৭- ত্বাবারানী, আল-কাবীর (১৯/২০৭), নং ৪৬৮। ৮- হাকীম আত-তিরমিযী, আর-রাদ্দু 'আলাল মু'আত্তিলাহ, পৃ. ১৮৮। ৯- তাফসীর আত-তাবারী (১২/৪)। ১০- ত্বাবারী, আত-তারীখ (১/৩৭-৩৮)। ১১- ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৭১-২৭২)। ১২- ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৭)। ১৩- ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, পৃ. ৫৪। ১৪- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫০)। হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কারও কারও নিকট হাদীসটি সহীহ, অপর কারও নিকট তা দুর্বল। মূল সমস্যা হচ্ছে, ওকী' ইবন হুদুস বা 'উদুস নামীয় একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন তার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গীগত পার্থক্য থাকা। অথচ ইবন হিব্বান তাকে 'সিকাত' বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। ইবন হাজার তাকে মাকবুল বলেছেন। তাকে জানার জন্য বিস্তারিত দেখা যেতে পারে, ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীল মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/২৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১১/১৩১); তাক্বরীব, পৃ. ৫৮১; যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/৩৩৫)।
তিনি বলেন: আহলে সুন্নাতের কথা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ 'আরশ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে খাস করেছেন সমস্ত সৃষ্টির উর্ধ্বে ও উঁচুতে হওয়া দ্বারা। অতঃপর তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে তার উপর উঠেছেন। যেমন তিনি নিজের ব্যাপারে জানিয়েছেন:
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥]
"রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা: ০৫]
তিনি আরও বলেন:
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ ﴾ [الحديد: ٤]
"তারপর তিনি 'আরশে উঠেছেন। তিনি জানেন যমীনে যা কিছু প্রবেশ করে।” [সূরা আল-হাদীদ: ০৪]
সুতরাং অতি পবিত্র তিনি, যিনি দূরবর্তী [হয়েছেন (৫১০) ফলে তাকে দেখা যায় না](৫১১) ও নিকটবর্তী হন জ্ঞানের [ও ক্ষমতার](৫১২) মাধ্যমে(৫১৩) ফলে তিনি গোপন শলা-পরামর্শ শুনতে পান।
অতঃপর তিনি আবু রাযীন আল-উকাইলী বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেন, [যাতে এসেছে,] আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আসমান-যমীন সৃষ্টির পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, 'আমা'তে, যার(৫১৪) উপরেও বায়ু, নিচেও বায়ু। অতঃপর তিনি পানির উপরে 'আরশ সৃষ্টি করলেন।” (৫১৫)
টিকাঃ
৫১০. আল্লাহ তা'আলাকে কি দূরবর্তী বলা যাবে? ইবন তাইমিয়্যাহ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলাকে 'দূরবর্তী' গুণে গুণান্বিত করা যাবে না। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৭)] অন্যত্র বলেছেন, আর 'বা'য়ীদ' আল্লাহর নামও নয়। তাকে উম্মতের সালাফদের কেউ ও তাদের ইমামগণ কখনও 'বা'য়ীদ' বা দূরবর্তী গুণে গুণান্বিত করেননি। [দেখুন, আল-ইস্তেকামাহ (১/১৩৯)] এর কারণ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসে তা না আসা। তবে 'ইখবার' বা এটা বলা যাবে কিনা যে, আল্লাহ কাফেরদের থেকে দূরে বা বদকারদের থেকে দূরে? যদি উদ্দেশ্য হয় যে, তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেয়া ও তাদের প্রতিদান দেয়া থেকে দূরে তাহলে সেটাতে আশা করি সমস্যা হবে না।
৫১১. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১২. বন্ধনীর বাড়তি অংশ মূল কিতাব উসুলুস সুন্নাহ (১/২২০) থেকে।
৫১৩. আল্লাহ তা'আলার নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ কী? শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন যে নৈকট্য কেবল বিশেষভাবেই হয়। নৈকট্য কখনও সর্বসাধারণের জন্য হয় না। দেখুন, মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)। অর্থাৎ 'কুরব' বা 'নৈকট্য' বিষয়টি মা'য়িয়্যাহ বা 'সাথে থাকা' এর মত নয়। বরং বিষয়টি 'মা'য়িয়্যাহ আল-খাসসা'র মতো। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অনেকগুলো কুরআন ও সুন্নাহ'র ভাষ্য এনে প্রমাণ করেছেন যে, রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন। তারপর তিনি বলেন, তবে এসব নৈকট্য সবই হচ্ছে বিশেষ নৈকট্য যা কোনো কোনো অবস্থায় হয়ে থাকে, অপর অবস্থায় থাকে না। কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও সকল সৃষ্টির জন্য সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ তাআলার সত্তাগত নৈকট্য সাব্যস্ত করা হয়নি। [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/১৩০, ২৪০)] অন্যত্র তিনি বলেন, 'আল্লাহ সুবহানাহু যত জায়গায় নিজেকে নিকটে থাকার কথা বলেছেন সেগুলোতে কোথাও সকল সৃষ্টির নিকটে রয়েছে এমনটি বলেননি, যেমনটি বলেছেন 'সাথে' থাকার ব্যাপারে। কারণ 'মা'য়িয়্যাত' বা সাথে থাকার বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা নিজেকে সাধারণ ও বিশেষ দু'ভাবে বলেছেন, কিন্তু নৈকট্য, তিনি কার নিকটে আসবেন এটা একান্তই তার জন্য নির্দিষ্ট যার তিনি নিকটে থাকবে বলেছেন। যেমন আহ্বানকারী, [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৬] ইবাদতকারী [বান্দা আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হয় যখন সে সাজদা করে...] অনুরূপ হাজীদের জন্য 'আরাফার মাঠে নিকটে হওয়া ও প্রথম আসমানের নিকটে থাকা...' [মাজমূ' ফাতাওয়া (৫/৪৭৮), (১৫/১৭)] ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, 'কুরআন ও সুন্নাহ'র কোথাও বলা হয়নি যে, আল্লাহ সবার নিকটে। এটাও বলা হয়নি যে, তিনি কাফের ও ফাজেরদের নিকটে। বরং সর্বদা বিশেষভাবেই নির্দিষ্ট লোকদের জন্যই তা এসেছে...' [মুখতাসারুস সাওয়া'য়িক (৩/১২৫১)] ইবনুল কাইয়্যেম সেখানে আরও বলেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকটে থাকা দু' প্রকার: ১- তাঁকে আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়ার মাধ্যমে তার নিকটে থাকা। ২- তাঁর আনুগত্যকারীর সাওয়াব দানের জন্য তাঁর নিকটে থাকা। উল্লেখ্য, পরবর্তী আলেমগণের কারও কারও গ্রন্থে আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্যকে দু'ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে, সাধারণ নৈকট্য, বিশেষ নৈকট্য। [তাফসীর সা'দী] সম্ভবত তারা সেটাকে মা'য়িয়্যাত বা 'সাথে থাকা' এর ওপর কিয়াস করেছেন। কিন্তু সেটা যথাযথ মনে হয় না। বস্তুত 'সাধারণ নৈকট্য' বলার কোনো ভাষ্য সালাফে সালেহীনের থেকে বর্ণিত হয়নি। তাই আল্লাহর 'কুরব' বা নৈকট্য কেবল বিশেষই হয়ে থাকে এটাই বলতে হবে।
৫১৪. ইমাম ইবন আব্দুল বার কোনো কোনো আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এখানে "যার উপর” ও "যার নিচ" বলে 'আমা'কে বুঝানো হয়েছে। দেখুন, তামহীদ (৭/১৩৮)।
৫১৫. হাদীসটি যারা উদ্ধৃত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ১- তিরমিযী (৫/২৮৮), হাদীস নং ৩১০৯। ২- ইবন মাজাহ, হাদীস নং (১/৬৪), ১৮২। ৩- আবু দাউদ আত-ত্বায়ালাসী, আল-মুসনাদ, পৃ. ১৪৭, নং ১১৮৯। ৪- ইবন হিব্বان, আস-সহীহ, হাদীস নং ৬১৪১। ৫- আহমাদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ১৬১৮৮। ৬- আব্দুল্লাহ ইবন ইমাম আহমাদ, আস-সুন্নাহ (১/২৫-২৬), নং ৪৫০। ৭- ত্বাবারানী, আল-কাবীর (১৯/২০৭), নং ৪৬৮। ৮- হাকীম আত-তিরমিযী, আর-রাদ্দু 'আলাল মু'আত্তিলাহ, পৃ. ১৮৮। ৯- তাফসীর আত-তাবারী (১২/৪)। ১০- ত্বাবারী, আত-তারীখ (১/৩৭-৩৮)। ১১- ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ (১/২৭১-২৭২)। ১২- ইবন আব্দিল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৭)। ১৩- ইবন আবী শাইবাহ, আল-'আরশ, পৃ. ৫৪। ১৪- বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫০)। হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কারও কারও নিকট হাদীসটি সহীহ, অপর কারও নিকট তা দুর্বল। মূল সমস্যা হচ্ছে, ওকী' ইবন হুদুস বা 'উদুস নামীয় একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন তার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গীগত পার্থক্য থাকা। অথচ ইবন হিব্বান তাকে 'সিকাত' বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। ইবন হাজার তাকে মাকবুল বলেছেন। তাকে জানার জন্য বিস্তারিত দেখা যেতে পারে, ইবন কুতাইবাহ, তা'ওয়ীল মুখতালাফুল হাদীস, পৃ. ১৫০; ইবন আবি হাতেম, আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/২৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১১/১৩১); তাক্বরীব, পৃ. ৫৮১; যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৪/৩৩৫)।