📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম আওযাইর রাহিমাহুল্লাহর মত

📄 ইমাম আওযাইর রাহিমাহুল্লাহর মত


ইমাম বাইহাকী স্বীয় «আল আসমা ওয়াস সিফাত» গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, "আমরা আর তাবেয়ীগণ তখনও অনেক ছিলেন, আমরা সকলেই বলতাম: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে এবং হাদীসে আল্লাহর যেসব সিফাত বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার প্রতি ঈমান রাখি।”
ইমাম আওযা'ঈ যিনি তাঁর যুগের তাবে'য়ীদের চার ইমামের একজন (অর্থাৎ হিজাযের ইমাম মালেক, সিরিয়াবাসীদের ইমাম আওযা'ঈ, মিশরবাসীদের ইমাম লাইস এবং ইরাকবাসীদের ইমাম সুফিয়ান সাওরী তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাবে'য়ীদের যুগে আল্লাহ 'আরশের উপর এবং তাঁর সিফাতসমূহের যা কুরআন ও সুন্নাহ'য় এসেছে তার ওপর ঈমান রাখার ব্যাপারে বক্তব্য সকলের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল।
আর একথা আওযা'ঈ তখন বলেছিলেন যখন আল্লাহর আরশের উপর হওয়া ও আল্লাহর অন্যান্য সিফাত অস্বীকারকারী জাহম এর মতাদর্শ প্রকাশ লাভ করে। যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, সালাফদের মতাদর্শ জাহমের মতবাদের বিপরীত।

টিকাঃ
৩৪১. তিনি হচ্ছেন আবু ‘আমর আব্দুর রহমান ইবন ‘আমর ইবন ইয়াহমুদ আল-আওযা’ঈ। ইসলামের বড় ইমামগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন আত্বা ইবন আবী রাবাহ, যুহরী, ইয়াহইয়া ইবন আবী ক্বাসীর ও অনেক তাবে’য়ী থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন শা’বী, সাওরী, ইবনুল মুবারক প্রমুখ। বারবার তাকে বিচারক পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল আর তিনি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। শাম দেশে তিনিই প্রথম ইলম লিপিবদ্ধ করেন। তার কাছে প্রচুর হাদীস, ফিকহ ও ইলম ছিল। বরং তিনি তার যমানার সকলের জন্য প্রামাণ্য ব্যক্তি ছিলেন। ইমাম মালেক বলেন, আওযা’ঈ এমন ইমাম যার অনুসরণ করা যায়। তিনি শাসকদের নসীহত করতেন। কারও পরোয়া করতেন না। হিজরী ১৫৭ সালে তার মৃত্যু হয়। ইসমা’ঈল ইবন ‘আইয়াশ বলেন, আমি মানুষদেরকে হিজরী ১৪০ সালে বলতে শুনেছি, বর্তমান সময়ে আওযা’ঈ হচ্ছেন উম্মতের আলেম। মুহাম্মাদ ইবন শু’আইব বলেন, আমি উমাইয়্যাহ ইবন ইয়াযীদকে বললাম, আওযা’ঈ কি মাকহুলের মতো হতে পারে? তখন তিনি বললেন, আওযা’ঈ তো আমাদের নিকট মাকহুল থেকেও উপরে। ইমাম যাহাবী বলেন, নিঃসন্দেহে তিনি ইলমের প্রশস্ততার দিক থেকে মাকহুলের উপরে। তার একটি মাযহাব প্রসিদ্ধ ছিল, শাম দেশের ও স্পেনের ফকীহগণ এক সময় তার মতের ওপর আমল করতেন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/৪৮৮); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৬/১৩৫); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/১২৭); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/১০৭); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৪১)।
৩৪২. এ আসার এর সনদকে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বিশুদ্ধ বললেন। আরও দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (৬/২৬২); অনুরূপ এটাকে ইমাম ইবন হাজারও সহীহ বলেছেন। ফাতহুল বারী (১৩/৪০৬)। ইমাম যাহাবী বলেন, তার বর্ণনাকারীগণ সকলেই সিক্কাহ বা নির্ভরযোগ্য, আল- আরশ, পৃ. ৩৮। আর তিনি তাযকিরাতুল হুফফাযে এর সনদকে বিশুদ্ধ বললেন (১/১৮২); ইবনুল কাইয়্যেমও এর সনদকে বিশুদ্ধ বললেন, আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (৪/১২৯৭); ইজতিমা’উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩১।
৩৪৩. বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩০৪), নং ৮৬৫; আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/১২০-১২১); আল-উলু, পৃ. ১০২; আল-আরবা’ঈন, পৃ. ৮১; আল-আরশ, পৃ. ৩৮; তাযকিরাতুল হুফফায (১/১৮২); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩১; আস- সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (৪/১২৯৭); ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪০৬)।
৩৪৪. তিনি হচ্ছেন লাইস ইবন সা’দ ইবন আব্দুর রহমান, আবুল হারেস আল-ফাহমী, আল-ইমাম, মিসর দেশের আলেম, ফকীহ ও মুহাদ্দিস। তিনি হাদীস শুনেছেন আত্বা ইবন আবী রাবাহ, সা’ঈদ আল-মাকবুরী, যুহরী প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন হুশাইম, ইবন ওয়াহাব, ইবনুল মুবারক প্রমুখ। সাঈদ ইবন আবী মারইয়াম বলেন, আমি আশি বছরে উপনীত হয়েছি এখনো আমি কোনো বিদ’আতী প্রবৃত্তির অনুসারীর সাথে বিবাদে লিপ্ত হইনি। ইমাম যাহাবী বলেন, বিদ’আতী ও প্রবৃত্তি পূজারীরা ইমাম লাইস, মালেক, আওযা’ঈর সময় নিবৃত্তে চলে গিয়েছিল। আর তখন সুন্নাতের মর্যাদা সমুন্নত ছিল (যার ফলে তাদেরকে বিতর্ক করতে হয়নি। বর্তমানে বিতর্কের মাধ্যমে তাদেরকে হারানো দীনী ইলম শেখার একটি মূল কারণ; কারণ সংখ্যায় এখন তারাই বেশি)। খলীফা মানসূর তাকে সেখানকার তার প্রতিনিধি করতে চাইলেন, কিন্তু তা থেকে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও হাত দরাজ ব্যক্তি ছিলেন। তাকে নিয়ে এ ব্যাপারে উদাহরণ পেশ করা হতো।
ইমাম আহমাদ বলেন, মিসরীদের মাঝে লাইসের চেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস আর কারও কাছে নেই। আমর ইবনুল হারেস তার কাছাকাছি পৌঁছে থাকবে।
ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর বলেন, লাইস মালেক থেকে বড় ফকীহ ছিলেন, কিন্তু মালেক এর কিসমত ভালো (অর্থাৎ ছাত্র থাকা)। হারমালাহ বলেন, শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি, মালেক রাহিমাহুল্লাহ থেকে লাইস রাহিমাহুল্লাহ আছার (কুরআন-হাদীস ও সাহাবীগণের বক্তব্য) এর অনুসরণ বেশি করতেন। তিনি হিজরী ১৭৫ সালে মারা যান। দেখুন, খতীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৩/৩); ইবনুল জাওযী, সিফাতুস সাফওয়া (৪/২৮১); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/২২৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/১৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৮/৪৫৯)।
৩৪৫. তিনি হচ্ছেন সুফইয়ান ইবন সা’ঈদ ইবন মাসরূক আস-সাওরী। আবু আব্দুল্লাহ আল-কৃষ্ণী। তার সময়কার পৃথিবীর মানুষের ইমাম। যিনি ইলম, আমল ও পরহেযগারীকে একত্রিত করেছিলেন। ছোটকাল থেকেই ইলম অর্জনে ব্রতী হন। বলা হয়ে থাকে, তার শিক্ষক সংখ্যা ছয়শতেরও উপরে। আর তার থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যা হাজারের উপরে। তার প্রশংসা করেছেন বড় বড় সকল আলেম। যেমন ইমাম আহমাদ, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবন মা’ঈন, ইয়াহইয়া ইবন সা’ঈদ আল-কাত্তান, ইবন মাহদী প্রমুখ। এমনকি তারা তাকে আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে, আল-জামে’উ। তার জন্ম ৯৭ হিজরীতে, আর মৃত্যু ১৬১ হিজরীতে। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/৩৭১); আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৬/৩৫৬); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৯/১৫১); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ’ইয়ান (২/৩৬৮); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (৭/২২৯); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১১১)।
৩৪৬. যেমন ‘আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, ইত্যাদি।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 মাকহুল ও যুহরীর বক্তব্য

📄 মাকহুল ও যুহরীর বক্তব্য


ইমাম আবু বকর আল-খাল্লাল 'কিতাবুস সুন্নাহ'তে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মাকহুল ও যুহরিকে সিফাতের হাদীসগুলোর তাফসীর বা ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন: যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।”

টিকাঃ
৩৪৭. তিনি হচ্ছেন আবু 'আব্দুল্লাহ অথবা আবু আইয়্যুব অথবা আবু মুসলিম, মাকহুল আশ-শামী আদ- দামেশকী, আল-ফক্বীহ। জন্ম কাবুল নগরীতে। তিনি আনাস ইবন মালেক, সাওবান, জুবাইর ইবন নুফাইর, সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, সুলাইমান ইবন ইয়াসার, শুরাহবিল ইবনুস সামত্ব, মাহমুদ ইবনুর রবী', ভাউস প্রমুখ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যুহরী, রাবী'আহ আর-রাই, ইসমা'ঈল ইবন উমাইয়‍্যাহ, ইসমা'ঈল ইবন আবী বকর, আইয়্যুব ইবন মূসা, হাজ্জাজ ইবন আরতাআ প্রমুখ। ছোট তাবে'য়ীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতেম বলেন, শাম দেশে মাকতূল এর থেকে বড় ফকীহ কেউ নেই। যুহরী বলেন, আলেম হচ্ছেন চার জন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব মদীনায়, শা'বী কুফাতে, হাসান বসরায় আর মাকতূল শাম দেশে। মৃত্যু হিজরী ১১০ এর পরে। বুখারী তার জুয আল-কিরাআতে, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবন মাজাহ তার হাদীস তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেন। ইবন হাজার বলেন, নির্ভরযোগ্য, ফক্বীহ, অধিক পরিমাণে ইরসাল করতেন। যাহাবী বলেন, শামবাসীদের ফকীহ তিনি। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৫৫)।
৩৪৮. তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন শিহাব আয-যুহরী, আবু বকর আল-কুরাশী আল-মাদানী। বড় বড় সাহাবীদের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। বিখ্যাত সাত ফকীহগণের একজন। তার থেকে প্রায় দু' হাজার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী সম্পর্ক শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ইমাম যুহরী সত্তর বছর হাদীসের পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। হিজরী ১২৪ সালে মারা যান। তার জন্ম ছিল ৫০ হিজরী সালে। দেখুন, আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/৩৬০); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/১০৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/৩২৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৯/৪৪৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/১৬২)।
৩৪৯. ইমাম লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, ৭৩৫; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭৭), নং ৯৫৪; তবে তাদের শব্দ হচ্ছে امضوا الأحاديث على ما جاءت "হাদীসকে যেভাবে এসেছে যেভাবে পরিচালিত করো" উভয় বাক্যের অর্থ একই। আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৬২, ৩৩৭, ৩৪৬); আল-উলু, পৃ. ১০২।

ইমাম আবু বকর আল-খাল্লাল 'কিতাবুস সুন্নাহ'তে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মাকহুল ও যুহরিকে সিফাতের হাদীসগুলোর তাফসীর বা ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন: যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।”

টিকাঃ
৩৪৭. তিনি হচ্ছেন আবু 'আব্দুল্লাহ অথবা আবু আইয়্যুব অথবা আবু মুসলিম, মাকহুল আশ-শামী আদ- দামেশকী, আল-ফক্বীহ। জন্ম কাবুল নগরীতে। তিনি আনাস ইবন মালেক, সাওবান, জুবাইর ইবন নুফাইর, সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, সুলাইমান ইবন ইয়াসার, শুরাহবিল ইবনুস সামত্ব, মাহমুদ ইবনুর রবী', ভাউস প্রমুখ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যুহরী, রাবী'আহ আর-রাই, ইসমা'ঈল ইবন উমাইয়‍্যাহ, ইসমা'ঈল ইবন আবী বকর, আইয়্যুব ইবন মূসা, হাজ্জাজ ইবন আরতাআ প্রমুখ। ছোট তাবে'য়ীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতেম বলেন, শাম দেশে মাকতূল এর থেকে বড় ফকীহ কেউ নেই। যুহরী বলেন, আলেম হচ্ছেন চার জন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব মদীনায়, শা'বী কুফাতে, হাসান বসরায় আর মাকতূল শাম দেশে। মৃত্যু হিজরী ১১০ এর পরে। বুখারী তার জুয আল-কিরাআতে, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবন মাজাহ তার হাদীস তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেন। ইবন হাজার বলেন, নির্ভরযোগ্য, ফক্বীহ, অধিক পরিমাণে ইরসাল করতেন। যাহাবী বলেন, শামবাসীদের ফকীহ তিনি। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৫৫)।
৩৪৮. তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন শিহাব আয-যুহরী, আবু বকর আল-কুরাশী আল-মাদানী। বড় বড় সাহাবীদের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। বিখ্যাত সাত ফকীহগণের একজন। তার থেকে প্রায় দু' হাজার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী সম্পর্ক শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ইমাম যুহরী সত্তর বছর হাদীসের পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। হিজরী ১২৪ সালে মারা যান। তার জন্ম ছিল ৫০ হিজরী সালে। দেখুন, আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/৩৬০); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/১০৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/৩২৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৯/৪৪৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/১৬২)।
৩৪৯. ইমাম লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, ৭৩৫; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭৭), নং ৯৫৪; তবে তাদের শব্দ হচ্ছে امضوا الأحاديث على ما جاءت "হাদীসকে যেভাবে এসেছে যেভাবে পরিচালিত করো" উভয় বাক্যের অর্থ একই। আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৬২, ৩৩৭, ৩৪৬); আল-উলু, পৃ. ১০২।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম মালেক, সুফইয়ান আস-সাওরী, আওযাই ও লাইস ইবন সাদ এর বক্তব্য

📄 ইমাম মালেক, সুফইয়ান আস-সাওরী, আওযাই ও লাইস ইবন সাদ এর বক্তব্য


ওয়ালীদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি ইমাম মালেক ইবন আনাস, সুফইয়ান আস-সাওরী, লাইস ইবন সা'দ ও আওযা'ঈকে সিফাতের হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন: যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।” অন্য বর্ণনায় আছে, তারা বলেন: “এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়া চালিয়ে দাও।”
তাদের কথা “যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও” মুআত্তিলাদের (অর্থ নিষ্ক্রিয়কারীদের) মত খণ্ডন করে, আর “কোনো ধরণ বর্ণনা ছাড়া” একথা মুমাসসিলাদের (তুলনাকারীদের) মত খণ্ডন করে। যুহরী ও মাকহুল তাবে'য়ীযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, বাকী চারজন তাবে-তাবে'য়ীযুগের দুনিয়ার ইমাম। তাদের স্তরের মধ্যে আছেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ, হাম্মাদ ইবন সালামাহ প্রমুখ।

টিকাঃ
৩৫০. তিনি হচ্ছেন আবুল আব্বাস ওয়ালিদ ইবন মুসলিম আদ-দামেশকী। শাম দেশের তৎকালীন সময়ের বড় আলেমগণের একজন। তিনি হাদীস শুনেছেন মুহাম্মাদ ইবন 'আজলান, ইবন জুরাইজ, আওযা'ঈ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন লাইস ইবন সা'দ, বাকিয়‍্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ (তারা উভয়েই তার উস্তাদ), আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব, আবু মিসহার, আহমাদ ইবন হাম্বল প্রমুখ। আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমি শাম দেশীয় কাউকে ওয়ালিদ ইবন মুসলিমের চেয়ে বড় বিবেকবান দেখিনি। হিজরী ১৯৪ বা ১৯৫ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/২১১)।
৩৫১. আল-খাল্লাল, আস-সুন্নাহ পৃ. ১৫৯; ইবন মানদাহ, আত-তাওহীদ (৩/১১৫), নং ৫২০; (৩/৩০৭) নং ৮৯৫; সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ, পৃ. ৫৬; দারাকুতনী, আস-সিফাত, পৃ. ৭৫; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (৩/৫২৭), নং ৯৩; আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ৩১৫; ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৯৮); ই'তিক্বাদ, পৃ. ৫৭; ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৫৮); আল-ইস্তিকা, পৃ. ৩৬; ইবন কুদামা, যাম্মুত তা'ওয়ীল, পৃ. ২০; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১০৫; আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৮২, আল-আসকাহানী, আল-হুজ্জাহ (১/৪৩৮); আবু ইয়া'লা, ইবতালুত তা'ওয়ীলাত (১/৪৭)।
৩৫২. তিনি হচ্ছেন আবু ইসমা'ইল হাম্মাদ ইবন যায়েদ ইবন দিরহাম আল-আযদী। হাদীসের ইমামগণের একজন বড় ইমাম। তিনি হাদীস শুনেছেন আমর ইবন দীনার, সাবেত আল-বুনানী, আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন সুফইয়ান, শু'বাহ (উভয়ে তার শিক্ষক), ইবন মাহদী প্রমুখ। ইবন মা'ঈন বলেন, হাম্মাদ ইবন যাইদের মতো প্রামাণ্য আর কেউ নেই। আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ দীনের মধ্যে মুসলিমদের ইমামগণের একজন। তিনি আমার নিকট হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে অধিক প্রিয়। আব্দুর রহমান ইবন মাহদী বলেন, আমি সুন্নাত (আদর্শ, আকীদাহ ও মানহাজে) ও হাদীসে অধিক জ্ঞানী যাকেই দেখেছি তাকে পেয়েছি যে সে সুন্নাতে হাম্মাদের ইবন যায়েদ এর মাধ্যমে প্রবেশ করেছে।
হিজরী ১৭৯ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪৫৬)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি দীনের বড় ইমামদের একজন। [বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৩/৫২৩)]
অন্যত্র তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ বিখ্যাত সুন্নাহ'র ইমামগণের একজন। যার স্তর হচ্ছে, মালেক, সাওরী, আওযা'ঈ, হাম্মাদ ইবন সালামাহ, লাইস ইবন সা'দের সময়কার ও তাদের মত ইমাম হওয়ার দিক থেকে। বরং তিনি সুন্নাহ'র আলেমগণের নিকট সাওরী থেকে সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ। যদিও সাওরী তার থেকে ইলম ও যুহদে বেশি এগিয়ে। আর তিনি হাদীস বিশারদগণের নিকট হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকেও অধিক পরিমাণে হাদীসের হাফেয। যদিও হাম্মাদ (ইবন সালামাহ) তার থেকে পরহেযগারীতে বেশি বিখ্যাত ও সুন্নাহ'র দিকে আহ্বানে বেশি অগ্রণী। তিনি সে সময়কার বসরার ইমাম যখন বসরা ছিল ইসলামের আলেমদের মিলনমেলা। [মাজমূ' ফাতাওয়া]
৩৫৩. তিনি হচ্ছেন আবু সালামাহ হাম্মাদ ইবন সালামাহ ইবন দীনার আল-বসরী আন-নাহওয়ী, আল- বায্যায, আল-খিরাক্বী, আল-বাত্বায়িনী, রবীআহ ইবন মালেক এর পরিবারের মাওলা। ইসলামের বড় ইমামগণের অন্যতম। তিনি হাদীস শুনেছেন ইবন আবী মুলাইকাহ (তিনি তার বড় শাইখ), সাবেত আল বুনানী, কাতাদাহ ইবন দি'আমাহ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন ইবন জুরাইজ, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইবন মাহদী প্রমুখ। ওহাইব ইবন খালেদ বলেন, হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের নেতা ও আমাদের মধ্যকার বেশি জ্ঞানী। আব্দুর রহমান ইবন মাহদী বলেন, যদি হাম্মাদ ইবন সালামাহকে বলা হয়, তুমি তো আগামী দিন মারা যাবে তাতে তার আমলে আর বাড়ানোর কোনো ক্ষমতা তার নেই (এত বেশি আমল করতেন যে, আর বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই)। যাহাবী বলেন, তিনি ইলমের সমুদ্রের মধ্য হতে একটি সমুদ্র ছিলেন। তবে তার কিছু ওয়াহম বা ধারণা বশবর্তী হওয়া বর্ণনা রয়েছে, যদিও প্রশস্ত বর্ণনার তুলনায় সেটা কিছুই না। তিনি ইনশা- আল্লাহ সাদৃক বর্ণনাকারী। তিনি হাম্মাদ ইবন যায়েদের মত এত দৃঢ় ছিলেন না। হিজরী ১৬৭ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪৪৭)। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমি বিদ'আতী ও মতভেদকারীদের বিপক্ষে হাম্মাদ ইবন সালামাহর মত এত কঠোর কাউকে দেখিনি। অনুরূপ আল্লাহকে আখেরাতে দেখতে পাওয়া ও কাদরিয়া-মু'তাযিলাদের বক্তব্য খণ্ডন করার ব্যাপারে তার চেয়ে বেশি বর্ণনাকারী কাউকে পাইনি। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৩/৭১৪)। ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, মু'তাযিলা ফির্কার জাহেয ইমাম হাম্মাদ ইবন সালামাহ ও বসরার কাযী মু'আয ইবন মু'আয এর বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করতো। অথচ এতে তাদের কোনো দোষ ছিল না। মূল কারণ হচ্ছে, হাম্মাদ ইবন সালামাহ সিফাত সংক্রান্ত হাদীসগুলো জমা করতেন এবং সেগুলোর প্রচার-প্রসার করতেন, আর মু'আয যখন বিচারক হলেন তখন তিনি জাহমিয়‍্যাহ ও কাদরিয়াদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। অতঃপর বিষয়টি খলীফা হারুন-অর- রশীদের দরবারে উঠল। যখন তিনি হাম্মাদ ইবন সালামার সাথে একত্রিত হলেন আর বিস্তারিত জানলেন তখন খলীফা হারুন তাকে সম্মান করলেন এবং সুন্নাহ'র প্রচার-প্রসারের জন্য তার প্রশংসা করলেন। দেখুন, আত-তিস'ঈনিয়‍্যাহ (২/৩৭৫)। ইবন আবী ইয়া'লা ও ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুমাল্লাহ দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাম্মাদ ইবন সালামাহ রাহিমাহুল্লাহ সিফাত সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। দেখুন, ইবত্বালুত তা'ওয়ীলাত (১/৫০); আত-তিস'ঈনিয়‍্যাহ (১/১৫৯)।
৩৫৪. তিনি হচ্ছেন আবুল কাসেম আব্দুল আযীয ইবন আলী ইবন আহমাদ ইবনুল ফাদ্বাল ইবন শাকার আল-বাগদাদী আল-আযজী। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন খত্বীব আল-বাগদাদী, কাযী আবু ইয়া'লা প্রমুখ। সিফাত এর তার একটি অগোছালো গ্রন্থ রয়েছে। খতীব বলেন, আমরা তার থেকে হাদীস লিখেছি। তিনি সাদুক ছিলেন, অনেক কিতাবের অধিকার ছিলেন। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৮/১৮)।
৩৫৫. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুত্বাররিফ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর আল-হারশী আল-আমেরী আল-বসরী। বড় আলেমগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন তার পিতা, আলী, আম্মার, আবু যর, উসমান প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাসান বসরী, সাবেত আল-বুনানী, ক্বাতাদাহ প্রমুখ। 'ইজলী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। বসরাতে ইবনুল আস'আসের ফিতনা থেকে তিনি এবং ইবন সীরীন ব্যতীত কেউ নাজাত পায়নি। আর কৃফাতে খাইসামাহ ইবন আব্দুর রহমান ও ইবরাহীম আন-নাখ'য়ী ব্যতীত কেউ নাজাত পায়নি। (বাকী সবাই আব্দুর রহমান ইবন আস'আস এর ফিতনায় পড়ে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে জীবন বিসর্জন দেয়। আলেমগণ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতা না থাকলে বের হওয়াকে ফেতনা বলে অভিহিত করেন। যাহাবী বলেন, তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, তার ছিল পরহেজগারী, বিবেক ও আদব। হিজরী ১৫ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১১৪)।
৩৫৬. ইমাম আজুররীর আশ-শরী'আহতে এসেছে, ‘দীনের মধ্যে পথভ্রষ্টতা অবলম্বনকারীদের কথা আলোচনা করা হলো’। [আশ-শরী'আহ, বর্ণনা নং ৯২, ১৩৯]
৩৫৭. তিনি হচ্ছেন আবু হাফস ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয ইবন মারওয়ান ইবনুল হাকাম ইবন আবিল আস ইবন উমাইয়্যাহ ইবন আব্দশামস ইবন আব্দ মান্নাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব আল-কুরাশী আল-উমাওয়ী আল-মাদানী ও আল-মিসরী। দীনদার, সঠিক পথের পথিক, পরহেযগার খলীফা। তিনি একবার আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর ইমামতি করলেন তখন আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, আমি এ যুবকের মতো কাউকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো সালাত আদায়কারী দেখিনি। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার। তার ছিল পরহেযগারী, ফিকহ। অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইনসাফকারী ইমাম ছিলেন, আল্লাহ তার ওপর রহমত করুন ও তার ওপর সন্তুষ্ট হোন।
যাহাবী বলেন, এ লোকটি উত্তম চরিত্রে নমুনা ছিলেন, পূর্ণ বিবেকের অধিকারী ছিলেন, উত্তম চলন, বলন, ভালো প্রশাসক ছিলেন। তার ঐকান্তিক ইচ্ছা ছিল যতটুকু সম্ভব ইনসাফ কায়েম করবেন। ইলমে ছিলেন পরিপূর্ণ, ফিকহের জ্ঞানে ভরপুর সত্তা, বুদ্ধিমত্তা ও বুঝের দিক সর্বদা ছিল প্রকাশিত। সর্বাদা আল্লাহর কাছে কান্নাকারী ও তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী। আল্লাহর জন্য সর্বদা দণ্ডায়মান, একনিষ্ঠ ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি, যদিও তিনি খিলাফতের দায়িত্ব নিযুক্ত। সর্বদা হকের সাথে কথা বলতেন অথচ তার সাহায্যকারী খুবই কম ছিল।
তার মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ১০১ সালে। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১১৪)। ইমাম শাত্বেবী বলেন, ‘উমার ইবন আব্দুল আযীযের উপরোক্ত বক্তব্য যুগ যুগ ধরে আলেমগণের যত্নধন্য ছিল। তারা তা মুখস্থ করে রাখতেন, মালেক এ বাণীটি খুবই পছন্দ করতেন। দেখুন, আল- ই'তিসাম (১/১৪৫); আল-মুওয়াফাক্বাত (৪/৪৬১)।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র বলেন, মালেক বহুবার এ বাণীটি ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয থেকে উদ্ধৃত করেছন। দেখুন, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৯/১৭৮)।
কাযী ইয়াছ বলেন, মালেক যখন ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয থেকে এ বাণীটি উদ্ধৃত করতেন তখন খুশিতে বাগবাগ হয়ে যেতেন। দেখুন, তারতীবুল মাদারিক (১/১৭২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, মালেক ইবন আনাস সহ ইমামগণ সর্বদা এ বাণীটি অত্যন্ত পছন্দ করে এসেছেন। তারা সেটাকে সর্বদা বর্ণনা করতেন। দেখুন, ই’লামুল মুওয়াকে’ঈন (৬/২৮)। তাছাড়া ইমাম শাত্বেবী আরও বলেন, এ বাণী সুন্নাত এর অনেকগুলো মূলনীতিকে ধারণ করে আছে। যেমন: বিদ’আতের মুলোৎপাটন, সুন্নাহ’র অনুসারীর প্রশংসা, সুন্নাহ’র বিরোধিতাকারীর নিন্দা ইত্যাদি। দেখুন, আল-ই'তিসাম (১/১৪৫-১৪৬)।
৩৫৮. অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলীফায়ে রাশেদগণ। কারণ অন্যদের সেটার অধিকার নেই। কিন্তু খলীফায়ে রাশেদগণকে অনুসরণ করার জন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে আমার আদর্শ আঁকড়ে ধরা, আমার পরে যেসব খলীফায়ে রাশেদ আসবে, যারা হিদায়াতের ওপর থাকবে ও হিদায়াত করবে, তাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা, সেগুলোকে গোড়ালীর দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে।” [আবু দাউদ, আস-সুনান, হাদীস নং ৪৬০৭; ইবন মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস নং ৪২; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ১৭১৪৪; দারেমী, আস-সুনান, হাদীস নং ৯৬; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, আস-সুনান, ৫৪] ইমাম শাত্বেবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে তার উত্তম উত্তরসূরী উম্মতের অভিভাবকগণ (খলীফায়ে রাশেদগণ) যা করবে তা সবই উম্মতের জন্য সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তা কখনও বিদ'আত বলা হবে না, যদিও আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের হাদীসে সেসব ব্যাপারে বিশেষ কোনো ভাষ্য জানা না যায়। দেখুন, আল-ই'তিসাম (১/১৪৬)। যুবাইর ইবনুল 'আওয়াম রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তার ছেলে আব্দুল্লাহকে বলেন, যখন তার কাছে অভিযোগ আসলো যে, ইরাকবাসীদের কিছু লোক তার কাছে কুরআনের বিভিন্ন অংশের ব্যাখ্যায় বিবাদ করেছে, তখন তিনি বললেন, "কুরআন অনেক জাতি গোষ্ঠীই পড়েছে, প্রত্যেকেই তাদের প্রবৃত্তি অনুসারে সেটার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভুল করে চলেছে। সুতরাং তারা যখন তোমার কাছে আসবে তখন তুমি তাদেরকে আবু বকর ও 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার রীতি- নীতি দিয়ে বিতর্ক করবে; কারণ তারা এটা অস্বীকার করতে পারবে না যে আবু বকর ও 'উমার তাদের চেয়ে বেশি কুরআন জানতেন। আব্দুল্লাহ বলেন, এরপর যখন এরা আবার আমার সাথে আবার তর্ক করতে আসলো তখন আমি আবু বকর ও 'উমারের কর্মকাণ্ড দিয়ে দলীল দিতে লাগলাম, তখন আল্লাহর শপথ করে বলছি, তারা আমার সাথে দাঁড়াতেই পারলো না, বসতেই সক্ষম হলো না।" [ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (২/৬২০)] ইমাম শাত্বেবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরের খলীফাদের কর্মকাণ্ডের দিকে দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলো, যাতে করে এটা বুঝা তাদের জন্য সহজ হয়ে যায় যে, এটিই ছিল সর্বশেষ আমল যায় ওপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গিয়েছিলেন, তার ওপর কোনো রহিতকারী বিধান আপতিত হয়নি; কারণ সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন থেকে নতুনতর কর্মকাণ্ডই সর্বদা গ্রহণ করতেন। দেখুন, আল-ই'তিসাম (১/১৪৭)।
৩৫৯. মুমিন বলতে এখানে সাহাবায়ে কিরাম যা গ্রহণ করেছেন সে ইজমা'র কথা বুঝানো হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি সাহাবায়ে কিরামের ইজমা' গ্রহণ না করে তবে সে নিজেকে ধ্বংসের মুখোমুখি করলো। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা তাই বলেছেন, "আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী তলব করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় বা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করেন।" [সূরা আন-নিসা: ১৫]
৩৬০. আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৭৬৬; ফাসাওয়ী, আল-মা'রিফাতু ওয়াত তারীখ, (৩/৪৮৮); ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (১/৩৫২-৩৫৩), নং ২৩০, ২৩১; লালেকাঈ, শারহে উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ নং ১৩৪; খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (১/৪৩৫-৪৩৬), নং ৪৫৫; ইবন আব্দুল বার, জামে'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহী (২/৩৫৭), নং ১২১৮।

ওয়ালীদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি ইমাম মালেক ইবন আনাস, সুফইয়ান আস-সাওরী, লাইস ইবন সা'দ ও আওযা'ঈকে সিফাতের হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন: যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।” অন্য বর্ণনায় আছে, তারা বলেন: “এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়া চালিয়ে দাও।”
তাদের কথা “যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও” মুআত্তিলাদের (অর্থ নিষ্ক্রিয়কারীদের) মত খণ্ডন করে, আর “কোনো ধরণ বর্ণনা ছাড়া” একথা মুমাসসিলাদের (তুলনাকারীদের) মত খণ্ডন করে। যুহরী ও মাকহুল তাবে'য়ীযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, বাকী চারজন তাবে-তাবে'য়ীযুগের দুনিয়ার ইমাম। তাদের স্তরের মধ্যে আছেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ, হাম্মাদ ইবন সালামাহ প্রমুখ।

টিকাঃ
৩৫০. তিনি হচ্ছেন আবুল আব্বাস ওয়ালিদ ইবন মুসলিম আদ-দামেশকী। শাম দেশের তৎকালীন সময়ের বড় আলেমগণের একজন। তিনি হাদীস শুনেছেন মুহাম্মাদ ইবন 'আজলান, ইবন জুরাইজ, আওযা'ঈ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন লাইস ইবন সা'দ, বাকিয়‍্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ (তারা উভয়েই তার উস্তাদ), আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব, আবু মিসহার, আহমাদ ইবন হাম্বল প্রমুখ। আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমি শাম দেশীয় কাউকে ওয়ালিদ ইবন মুসলিমের চেয়ে বড় বিবেকবান দেখিনি। হিজরী ১৯৪ বা ১৯৫ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/২১১)।
৩৫১. আল-খাল্লাল, আস-সুন্নাহ পৃ. ১৫৯; ইবন মানদাহ, আত-তাওহীদ (৩/১১৫), নং ৫২০; (৩/৩০৭) নং ৮৯৫; সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ, পৃ. ৫৬; দারাকুতনী, আস-সিফাত, পৃ. ৭৫; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (৩/৫২৭), নং ৯৩; আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ৩১৫; ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৯৮); ই'তিক্বাদ, পৃ. ৫৭; ইবন আব্দুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৫৮); আল-ইস্তিকা, পৃ. ৩৬; ইবন কুদামা, যাম্মুত তা'ওয়ীল, পৃ. ২০; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১০৫; আল-আরবা'ঈন, পৃ. ৮২, আল-আসকাহানী, আল-হুজ্জাহ (১/৪৩৮); আবু ইয়া'লা, ইবতালুত তা'ওয়ীলাত (১/৪৭)।
৩৫২. তিনি হচ্ছেন আবু ইসমা'ইল হাম্মাদ ইবন যায়েদ ইবন দিরহাম আল-আযদী। হাদীসের ইমামগণের একজন বড় ইমাম। তিনি হাদীস শুনেছেন আমর ইবন দীনার, সাবেত আল-বুনানী, আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন সুফইয়ান, শু'বাহ (উভয়ে তার শিক্ষক), ইবন মাহদী প্রমুখ। ইবন মা'ঈন বলেন, হাম্মাদ ইবন যাইদের মতো প্রামাণ্য আর কেউ নেই। আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ দীনের মধ্যে মুসলিমদের ইমামগণের একজন। তিনি আমার নিকট হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে অধিক প্রিয়। আব্দুর রহমান ইবন মাহদী বলেন, আমি সুন্নাত (আদর্শ, আকীদাহ ও মানহাজে) ও হাদীসে অধিক জ্ঞানী যাকেই দেখেছি তাকে পেয়েছি যে সে সুন্নাতে হাম্মাদের ইবন যায়েদ এর মাধ্যমে প্রবেশ করেছে।
হিজরী ১৭৯ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪৫৬)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি দীনের বড় ইমামদের একজন। [বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৩/৫২৩)]
অন্যত্র তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়েদ বিখ্যাত সুন্নাহ'র ইমামগণের একজন। যার স্তর হচ্ছে, মালেক, সাওরী, আওযা'ঈ, হাম্মাদ ইবন সালামাহ, লাইস ইবন সা'দের সময়কার ও তাদের মত ইমাম হওয়ার দিক থেকে। বরং তিনি সুন্নাহ'র আলেমগণের নিকট সাওরী থেকে সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ। যদিও সাওরী তার থেকে ইলম ও যুহদে বেশি এগিয়ে। আর তিনি হাদীস বিশারদগণের নিকট হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকেও অধিক পরিমাণে হাদীসের হাফেয। যদিও হাম্মাদ (ইবন সালামাহ) তার থেকে পরহেযগারীতে বেশি বিখ্যাত ও সুন্নাহ'র দিকে আহ্বানে বেশি অগ্রণী। তিনি সে সময়কার বসরার ইমাম যখন বসরা ছিল ইসলামের আলেমদের মিলনমেলা। [মাজমূ' ফাতাওয়া]
৩৫৩. তিনি হচ্ছেন আবু সালামাহ হাম্মাদ ইবন সালামাহ ইবন দীনার আল-বসরী আন-নাহওয়ী, আল- বায্যায, আল-খিরাক্বী, আল-বাত্বায়িনী, রবীআহ ইবন মালেক এর পরিবারের মাওলা। ইসলামের বড় ইমামগণের অন্যতম। তিনি হাদীস শুনেছেন ইবন আবী মুলাইকাহ (তিনি তার বড় শাইখ), সাবেত আল বুনানী, কাতাদাহ ইবন দি'আমাহ প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন ইবন জুরাইজ, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইবন মাহদী প্রমুখ। ওহাইব ইবন খালেদ বলেন, হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের নেতা ও আমাদের মধ্যকার বেশি জ্ঞানী। আব্দুর রহমান ইবন মাহদী বলেন, যদি হাম্মাদ ইবন সালামাহকে বলা হয়, তুমি তো আগামী দিন মারা যাবে তাতে তার আমলে আর বাড়ানোর কোনো ক্ষমতা তার নেই (এত বেশি আমল করতেন যে, আর বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই)। যাহাবী বলেন, তিনি ইলমের সমুদ্রের মধ্য হতে একটি সমুদ্র ছিলেন। তবে তার কিছু ওয়াহম বা ধারণা বশবর্তী হওয়া বর্ণনা রয়েছে, যদিও প্রশস্ত বর্ণনার তুলনায় সেটা কিছুই না। তিনি ইনশা- আল্লাহ সাদৃক বর্ণনাকারী। তিনি হাম্মাদ ইবন যায়েদের মত এত দৃঢ় ছিলেন না। হিজরী ১৬৭ সালে তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৪৪৭)। ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল বলেন, আমি বিদ'আতী ও মতভেদকারীদের বিপক্ষে হাম্মাদ ইবন সালামাহর মত এত কঠোর কাউকে দেখিনি। অনুরূপ আল্লাহকে আখেরাতে দেখতে পাওয়া ও কাদরিয়া-মু'তাযিলাদের বক্তব্য খণ্ডন করার ব্যাপারে তার চেয়ে বেশি বর্ণনাকারী কাউকে পাইনি। দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (৩/৭১৪)। ইবন তাইমিয়্যাহ আরও বলেন, মু'তাযিলা ফির্কার জাহেয ইমাম হাম্মাদ ইবন সালামাহ ও বসরার কাযী মু'আয ইবন মু'আয এর বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করতো। অথচ এতে তাদের কোনো দোষ ছিল না। মূল কারণ হচ্ছে, হাম্মাদ ইবন সালামাহ সিফাত সংক্রান্ত হাদীসগুলো জমা করতেন এবং সেগুলোর প্রচার-প্রসার করতেন, আর মু'আয যখন বিচারক হলেন তখন তিনি জাহমিয়‍্যাহ ও কাদরিয়াদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। অতঃপর বিষয়টি খলীফা হারুন-অর- রশীদের দরবারে উঠল। যখন তিনি হাম্মাদ ইবন সালামার সাথে একত্রিত হলেন আর বিস্তারিত জানলেন তখন খলীফা হারুন তাকে সম্মান করলেন এবং সুন্নাহ'র প্রচার-প্রসারের জন্য তার প্রশংসা করলেন। দেখুন, আত-তিস'ঈনিয়‍্যাহ (২/৩৭৫)। ইবন আবী ইয়া'লা ও ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুমাল্লাহ দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাম্মাদ ইবন সালামাহ রাহিমাহুল্লাহ সিফাত সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। দেখুন, ইবত্বালুত তা'ওয়ীলাত (১/৫০); আত-তিস'ঈনিয়‍্যাহ (১/১৫৯)।
৩৫৪. তিনি হচ্ছেন আবুল কাসেম আব্দুল আযীয ইবন আলী ইবন আহমাদ ইবনুল ফাদ্বাল ইবন শাকার আল-বাগদাদী আল-আযজী। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন খত্বীব আল-বাগদাদী, কাযী আবু ইয়া'লা প্রমুখ। সিফাত এর তার একটি অগোছালো গ্রন্থ রয়েছে। খতীব বলেন, আমরা তার থেকে হাদীস লিখেছি। তিনি সাদুক ছিলেন, অনেক কিতাবের অধিকার ছিলেন। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৮/১৮)।
৩৫৫. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুল্লাহ মুত্বাররিফ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর আল-হারশী আল-আমেরী আল-বসরী। বড় আলেমগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন তার পিতা, আলী, আম্মার, আবু যর, উসমান প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাসান বসরী, সাবেত আল-বুনানী, ক্বাতাদাহ প্রমুখ। 'ইজলী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। বসরাতে ইবনুল আস'আসের ফিতনা থেকে তিনি এবং ইবন সীরীন ব্যতীত কেউ নাজাত পায়নি। আর কৃফাতে খাইসামাহ ইবন আব্দুর রহমান ও ইবরাহীম আন-নাখ'য়ী ব্যতীত কেউ নাজাত পায়নি। (বাকী সবাই আব্দুর রহমান ইবন আস'আস এর ফিতনায় পড়ে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে জীবন বিসর্জন দেয়। আলেমগণ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতা না থাকলে বের হওয়াকে ফেতনা বলে অভিহিত করেন। যাহাবী বলেন, তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, তার ছিল পরহেজগারী, বিবেক ও আদব। হিজরী ১৫ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১১৪)।
৩৫৬. ইমাম আজুররীর আশ-শরী'আহতে এসেছে, ‘দীনের মধ্যে পথভ্রষ্টতা অবলম্বনকারীদের কথা আলোচনা করা হলো’। [আশ-শরী'আহ, বর্ণনা নং ৯২, ১৩৯]
৩৫৭. তিনি হচ্ছেন আবু হাফস ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয ইবন মারওয়ান ইবনুল হাকাম ইবন আবিল আস ইবন উমাইয়্যাহ ইবন আব্দশামস ইবন আব্দ মান্নাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব আল-কুরাশী আল-উমাওয়ী আল-মাদানী ও আল-মিসরী। দীনদার, সঠিক পথের পথিক, পরহেযগার খলীফা। তিনি একবার আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর ইমামতি করলেন তখন আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, আমি এ যুবকের মতো কাউকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো সালাত আদায়কারী দেখিনি। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার। তার ছিল পরহেযগারী, ফিকহ। অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইনসাফকারী ইমাম ছিলেন, আল্লাহ তার ওপর রহমত করুন ও তার ওপর সন্তুষ্ট হোন।
যাহাবী বলেন, এ লোকটি উত্তম চরিত্রে নমুনা ছিলেন, পূর্ণ বিবেকের অধিকারী ছিলেন, উত্তম চলন, বলন, ভালো প্রশাসক ছিলেন। তার ঐকান্তিক ইচ্ছা ছিল যতটুকু সম্ভব ইনসাফ কায়েম করবেন। ইলমে ছিলেন পরিপূর্ণ, ফিকহের জ্ঞানে ভরপুর সত্তা, বুদ্ধিমত্তা ও বুঝের দিক সর্বদা ছিল প্রকাশিত। সর্বাদা আল্লাহর কাছে কান্নাকারী ও তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী। আল্লাহর জন্য সর্বদা দণ্ডায়মান, একনিষ্ঠ ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি, যদিও তিনি খিলাফতের দায়িত্ব নিযুক্ত। সর্বদা হকের সাথে কথা বলতেন অথচ তার সাহায্যকারী খুবই কম ছিল।
তার মৃত্যু হয়েছিল হিজরী ১০১ সালে। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১১৪)। ইমাম শাত্বেবী বলেন, ‘উমার ইবন আব্দুল আযীযের উপরোক্ত বক্তব্য যুগ যুগ ধরে আলেমগণের যত্নধন্য ছিল। তারা তা মুখস্থ করে রাখতেন, মালেক এ বাণীটি খুবই পছন্দ করতেন। দেখুন, আল- ই'তিসাম (১/১৪৫); আল-মুওয়াফাক্বাত (৪/৪৬১)।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র বলেন, মালেক বহুবার এ বাণীটি ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয থেকে উদ্ধৃত করেছন। দেখুন, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৯/১৭৮)।
কাযী ইয়াছ বলেন, মালেক যখন ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয থেকে এ বাণীটি উদ্ধৃত করতেন তখন খুশিতে বাগবাগ হয়ে যেতেন। দেখুন, তারতীবুল মাদারিক (১/১৭২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, মালেক ইবন আনাস সহ ইমামগণ সর্বদা এ বাণীটি অত্যন্ত পছন্দ করে এসেছেন। তারা সেটাকে সর্বদা বর্ণনা করতেন। দেখুন, ই’লামুল মুওয়াকে’ঈন (৬/২৮)। তাছাড়া ইমাম শাত্বেবী আরও বলেন, এ বাণী সুন্নাত এর অনেকগুলো মূলনীতিকে ধারণ করে আছে। যেমন: বিদ’আতের মুলোৎপাটন, সুন্নাহ’র অনুসারীর প্রশংসা, সুন্নাহ’র বিরোধিতাকারীর নিন্দা ইত্যাদি। দেখুন, আল-ই'তিসাম (১/১৪৫-১৪৬)।
৩৫৮. অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলীফায়ে রাশেদগণ। কারণ অন্যদের সেটার অধিকার নেই। কিন্তু খলীফায়ে রাশেদগণকে অনুসরণ করার জন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে আমার আদর্শ আঁকড়ে ধরা, আমার পরে যেসব খলীফায়ে রাশেদ আসবে, যারা হিদায়াতের ওপর থাকবে ও হিদায়াত করবে, তাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরা, সেগুলোকে গোড়ালীর দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে।” [আবু দাউদ, আস-সুনান, হাদীস নং ৪৬০৭; ইবন মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস নং ৪২; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হাদীস নং ১৭১৪৪; দারেমী, আস-সুনান, হাদীস নং ৯৬; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, আস-সুনান, ৫৪] ইমাম শাত্বেবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে তার উত্তম উত্তরসূরী উম্মতের অভিভাবকগণ (খলীফায়ে রাশেদগণ) যা করবে তা সবই উম্মতের জন্য সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তা কখনও বিদ'আত বলা হবে না, যদিও আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের হাদীসে সেসব ব্যাপারে বিশেষ কোনো ভাষ্য জানা না যায়। দেখুন, আল-ই'তিসাম (১/১৪৬)। যুবাইর ইবনুল 'আওয়াম রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু তার ছেলে আব্দুল্লাহকে বলেন, যখন তার কাছে অভিযোগ আসলো যে, ইরাকবাসীদের কিছু লোক তার কাছে কুরআনের বিভিন্ন অংশের ব্যাখ্যায় বিবাদ করেছে, তখন তিনি বললেন, "কুরআন অনেক জাতি গোষ্ঠীই পড়েছে, প্রত্যেকেই তাদের প্রবৃত্তি অনুসারে সেটার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভুল করে চলেছে। সুতরাং তারা যখন তোমার কাছে আসবে তখন তুমি তাদেরকে আবু বকর ও 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার রীতি- নীতি দিয়ে বিতর্ক করবে; কারণ তারা এটা অস্বীকার করতে পারবে না যে আবু বকর ও 'উমার তাদের চেয়ে বেশি কুরআন জানতেন। আব্দুল্লাহ বলেন, এরপর যখন এরা আবার আমার সাথে আবার তর্ক করতে আসলো তখন আমি আবু বকর ও 'উমারের কর্মকাণ্ড দিয়ে দলীল দিতে লাগলাম, তখন আল্লাহর শপথ করে বলছি, তারা আমার সাথে দাঁড়াতেই পারলো না, বসতেই সক্ষম হলো না।" [ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (২/৬২০)] ইমাম শাত্বেবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরের খলীফাদের কর্মকাণ্ডের দিকে দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলো, যাতে করে এটা বুঝা তাদের জন্য সহজ হয়ে যায় যে, এটিই ছিল সর্বশেষ আমল যায় ওপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গিয়েছিলেন, তার ওপর কোনো রহিতকারী বিধান আপতিত হয়নি; কারণ সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন থেকে নতুনতর কর্মকাণ্ডই সর্বদা গ্রহণ করতেন। দেখুন, আল-ই'তিসাম (১/১৪৭)।
৩৫৯. মুমিন বলতে এখানে সাহাবায়ে কিরাম যা গ্রহণ করেছেন সে ইজমা'র কথা বুঝানো হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি সাহাবায়ে কিরামের ইজমা' গ্রহণ না করে তবে সে নিজেকে ধ্বংসের মুখোমুখি করলো। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা তাই বলেছেন, "আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী তলব করবে। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় বা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করেন।" [সূরা আন-নিসা: ১৫]
৩৬০. আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৭৬৬; ফাসাওয়ী, আল-মা'রিফাতু ওয়াত তারীখ, (৩/৪৮৮); ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (১/৩৫২-৩৫৩), নং ২৩০, ২৩১; লালেকাঈ, শারহে উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ নং ১৩৪; খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (১/৪৩৫-৪৩৬), নং ৪৫৫; ইবন আব্দুল বার, জামে'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহী (২/৩৫৭), নং ১২১৮।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আল্লাহর আরশের উপর উঠার ব্যাপারে রবী‘আহ ইবন আবী আবদির রহমানের বক্তব্য

📄 আল্লাহর আরশের উপর উঠার ব্যাপারে রবী‘আহ ইবন আবী আবদির রহমানের বক্তব্য


ইমাম খাল্লাল বিশ্বস্ত সনদে সুফিয়ান ইবন 'উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' সম্পর্কে। কীভাবে তিনি উঠেছেন? তিনি বললেন, ইস্তিওয়া শব্দটির অর্থ অজানা নয় (অর্থাৎ উপরে উঠা), কিন্তু 'কাইফ' বা ধরণ বিবেকের আওতা বহির্ভূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে, রাসূলের ওপর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া, আর আমাদের দায়িত্ব একে সত্য বলে মেনে নেয়া।” আর এই একই বক্তব্য রবী'আহ এর ছাত্র মালিক ইবন আনাস থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়ে এসেছে।

টিকাঃ
৩৬১. তিনি হচ্ছেন আবু উসমান রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান ফাররূখ, মদীনার মুফতী, তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম। বলা হয়, আবু আব্দির রহমান আল-কুরাশী আত-তাইমী, তাদের মাওলা। যিনি রবী'আ আর-রাই নামে প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আলে মুনকাদির পরিবারের দাস। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, 'আত্বা ইবন ইয়াসার প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, সুলাইমান আত-তাইমী, মালেক ইবন আনাস প্রমুখ। ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন, রবী'আহ ইবন আবি আব্দির রহমান থেকে সাবধানী কাউকে আমি দেখিনি। উবাইদুল্লাহ ইবন 'উমার বলেন, তিনি আমাদের কঠিন জায়গার লোক, আমাদের আলেম ও আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ মানুষ। হিজরী ১৩৬ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৬/৮৯)।
৩৬২. লালেকাঈ, শারহু উসৃলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৮); বাইহাক্বী, আল- আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫১); ঈজলী, তারিখুস সিক্কাত, পৃ. ১৫৮, নং ৪৩১; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৯৮, তবে সুফইয়ান সাওরী থেকে। ইবন কুদামা আল-মাক্বদেসী, আল-উলু, পৃ. ১৬৪।
৩৬৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে... এ কথাটি ইমাম রবী'আহ ছাড়াও একাধিক মনিষী থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম যুহরী ও আওযা'ঈ। দেখুন, আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (৩/৩৬৯); সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ২৪৯; বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, তা'লীক হিসেবে যুহরী থেকে, কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায় নং ৪৬।

ইমাম খাল্লাল বিশ্বস্ত সনদে সুফিয়ান ইবন 'উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আল্লাহর বাণী 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' সম্পর্কে। কীভাবে তিনি উঠেছেন? তিনি বললেন, ইস্তিওয়া শব্দটির অর্থ অজানা নয় (অর্থাৎ উপরে উঠা), কিন্তু 'কাইফ' বা ধরণ বিবেকের আওতা বহির্ভূত। আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে, রাসূলের ওপর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া, আর আমাদের দায়িত্ব একে সত্য বলে মেনে নেয়া।” আর এই একই বক্তব্য রবী'আহ এর ছাত্র মালিক ইবন আনাস থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়ে এসেছে।

টিকাঃ
৩৬১. তিনি হচ্ছেন আবু উসমান রবী'আহ ইবন আবী আব্দির রহমান ফাররূখ, মদীনার মুফতী, তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম। বলা হয়, আবু আব্দির রহমান আল-কুরাশী আত-তাইমী, তাদের মাওলা। যিনি রবী'আ আর-রাই নামে প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আলে মুনকাদির পরিবারের দাস। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, 'আত্বা ইবন ইয়াসার প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ আল-আনসারী, সুলাইমান আত-তাইমী, মালেক ইবন আনাস প্রমুখ। ইয়াহইয়া ইবন সা'ঈদ বলেন, রবী'আহ ইবন আবি আব্দির রহমান থেকে সাবধানী কাউকে আমি দেখিনি। উবাইদুল্লাহ ইবন 'উমার বলেন, তিনি আমাদের কঠিন জায়গার লোক, আমাদের আলেম ও আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ মানুষ। হিজরী ১৩৬ সালে তিনি মারা যান। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৬/৮৯)।
৩৬২. লালেকাঈ, শারহু উসৃলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (২/৩৯৮); বাইহাক্বী, আল- আসমা ওয়াস সিফাত (২/১৫১); ঈজলী, তারিখুস সিক্কাত, পৃ. ১৫৮, নং ৪৩১; যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ৯৮, তবে সুফইয়ান সাওরী থেকে। ইবন কুদামা আল-মাক্বদেসী, আল-উলু, পৃ. ১৬৪।
৩৬৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাতের বার্তা এসেছে... এ কথাটি ইমাম রবী'আহ ছাড়াও একাধিক মনিষী থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইমাম যুহরী ও আওযা'ঈ। দেখুন, আবু নু'আইম, আল-হিলইয়া (৩/৩৬৯); সাবুনী, আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস, পৃ. ২৪৯; বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, তা'লীক হিসেবে যুহরী থেকে, কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায় নং ৪৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00