📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আহসুস তাহবীল বা ভাষ্যরূপান্তরকারীদের মধ্যকার অনেকগুলো বিনষ্ট বিষয় মেনে নিতে বাধ্য করে

📄 আহসুস তাহবীল বা ভাষ্যরূপান্তরকারীদের মধ্যকার অনেকগুলো বিনষ্ট বিষয় মেনে নিতে বাধ্য করে


অতঃপর এরা এসব বিষয়ে আক্কলী (বুদ্ধি-বিবেকসম্মত) যুক্তিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। তারা রাসূল এবং তাঁর উম্মতের নিকট আল্লাহর মা'রেফত তথা তাঁর সম্পর্কে অবগত হওয়ার বিষয়ে কোনো আক্কলী (বিবেকগ্রাহ্য যুক্তি) বা সাম'ঈ (কুরআন-হাদীসের) জ্ঞান আছে বলে স্বীকৃতি দেয় না। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন দিক দিয়ে ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের সাথে তাদের অপরাধের অংশীদার। তারা রাসূল এবং সালাফে সালেহীনদের দিকে অজ্ঞতার নিসবত করে ভুল করেছে, যেমন ভুল করেছে তাতে বিকৃতিকারী ও অপব্যাখ্যায়ীকারীরা এবং যাবতীয় নাস্তিক সম্প্রদায়।

টিকাঃ
৩৩৮. তাফওয়ীদ্ব তথা ‘অর্থ জানা যায় না’ আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এ নীতির প্রবক্তারা।
৩৩৯. কারণ তারা মনে এগুলোর অর্থ করা যাবে না, আর যারা বলে এগুলোর অর্থ করা যাবে না, তারা তো আকল বা বিবেকের যুক্তি ও তার দ্বারা অর্জিত জ্ঞানকে পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে।
৩৪০. অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে যারা বলে থাকে যে এগুলোর অর্থ জানা যায় না, সেসব ‘আহলুত তাজহীল’ অনেকটাই তখন প্রথম গোষ্ঠী আহলুত তাখয়ীল (নবী-রাসূলদের আনীত বক্তব্যকে কল্পনার ফসল অপবাদ প্রদানকারী) লোকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে। কারণ তারা ওদের মতই মনে করেছে যে, রাসূলের কাছে আল্লাহর যেসব গুণাবলির কথা এসেছে তা কল্পনা ও উদাহরণ পর্যায়ের, ফলে নবী যা বিবেকে কল্পনা করা যায় সেটাকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করে উপস্থিত করেছে। (নাউযুবিল্লাহ! নবীদের ওপর এতবড় অপবাদ)। তাদের মতই ইতোপূর্বে যাদের আলোচনা গত হয়েছে সেসব দার্শনিকও মনে করে থাকে যে, রাসূলগণ আখেরাতের পুনরুত্থানের ব্যাপারে যা যা বলেছেন সবই পুনরুত্থানকে বুঝানোর জন্য বিবেকের কাছে উদাহরণ পেশ করার মতো। অনুরূপ সেখানে যা যা হবে বা পাবে বলা হয়েছে সবই বিবেকের স্বাদ ও বিবেকের কষ্টকে বুঝানো উদ্দেশ্য। (নাউযুবিল্লাহ) দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৩২৮)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে প্রতিভাতব্য’ ইমামদের বক্তব্য

📄 আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে প্রতিভাতব্য’ ইমামদের বক্তব্য


আমরা এখানে পূর্বসূরী ইমামদের হুবহু বক্তব্য তুলে ধরব, তাদের বক্তব্যও যারা তাদের মত বর্ণনা করেছে; যতটুকু সম্ভব এ স্বল্প পরিসরে, যাতে এ অধ্যায়ে তাদের মাযহাব স্পষ্টভাবে জানা যায়।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম আওযাইর রাহিমাহুল্লাহর মত

📄 ইমাম আওযাইর রাহিমাহুল্লাহর মত


ইমাম বাইহাকী স্বীয় «আল আসমা ওয়াস সিফাত» গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, "আমরা আর তাবেয়ীগণ তখনও অনেক ছিলেন, আমরা সকলেই বলতাম: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে এবং হাদীসে আল্লাহর যেসব সিফাত বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার প্রতি ঈমান রাখি।”
ইমাম আওযা'ঈ যিনি তাঁর যুগের তাবে'য়ীদের চার ইমামের একজন (অর্থাৎ হিজাযের ইমাম মালেক, সিরিয়াবাসীদের ইমাম আওযা'ঈ, মিশরবাসীদের ইমাম লাইস এবং ইরাকবাসীদের ইমাম সুফিয়ান সাওরী তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাবে'য়ীদের যুগে আল্লাহ 'আরশের উপর এবং তাঁর সিফাতসমূহের যা কুরআন ও সুন্নাহ'য় এসেছে তার ওপর ঈমান রাখার ব্যাপারে বক্তব্য সকলের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল।
আর একথা আওযা'ঈ তখন বলেছিলেন যখন আল্লাহর আরশের উপর হওয়া ও আল্লাহর অন্যান্য সিফাত অস্বীকারকারী জাহম এর মতাদর্শ প্রকাশ লাভ করে। যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, সালাফদের মতাদর্শ জাহমের মতবাদের বিপরীত।

টিকাঃ
৩৪১. তিনি হচ্ছেন আবু ‘আমর আব্দুর রহমান ইবন ‘আমর ইবন ইয়াহমুদ আল-আওযা’ঈ। ইসলামের বড় ইমামগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন আত্বা ইবন আবী রাবাহ, যুহরী, ইয়াহইয়া ইবন আবী ক্বাসীর ও অনেক তাবে’য়ী থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন শা’বী, সাওরী, ইবনুল মুবারক প্রমুখ। বারবার তাকে বিচারক পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল আর তিনি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। শাম দেশে তিনিই প্রথম ইলম লিপিবদ্ধ করেন। তার কাছে প্রচুর হাদীস, ফিকহ ও ইলম ছিল। বরং তিনি তার যমানার সকলের জন্য প্রামাণ্য ব্যক্তি ছিলেন। ইমাম মালেক বলেন, আওযা’ঈ এমন ইমাম যার অনুসরণ করা যায়। তিনি শাসকদের নসীহত করতেন। কারও পরোয়া করতেন না। হিজরী ১৫৭ সালে তার মৃত্যু হয়। ইসমা’ঈল ইবন ‘আইয়াশ বলেন, আমি মানুষদেরকে হিজরী ১৪০ সালে বলতে শুনেছি, বর্তমান সময়ে আওযা’ঈ হচ্ছেন উম্মতের আলেম। মুহাম্মাদ ইবন শু’আইব বলেন, আমি উমাইয়্যাহ ইবন ইয়াযীদকে বললাম, আওযা’ঈ কি মাকহুলের মতো হতে পারে? তখন তিনি বললেন, আওযা’ঈ তো আমাদের নিকট মাকহুল থেকেও উপরে। ইমাম যাহাবী বলেন, নিঃসন্দেহে তিনি ইলমের প্রশস্ততার দিক থেকে মাকহুলের উপরে। তার একটি মাযহাব প্রসিদ্ধ ছিল, শাম দেশের ও স্পেনের ফকীহগণ এক সময় তার মতের ওপর আমল করতেন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/৪৮৮); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৬/১৩৫); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/১২৭); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/১০৭); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৪১)।
৩৪২. এ আসার এর সনদকে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বিশুদ্ধ বললেন। আরও দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (৬/২৬২); অনুরূপ এটাকে ইমাম ইবন হাজারও সহীহ বলেছেন। ফাতহুল বারী (১৩/৪০৬)। ইমাম যাহাবী বলেন, তার বর্ণনাকারীগণ সকলেই সিক্কাহ বা নির্ভরযোগ্য, আল- আরশ, পৃ. ৩৮। আর তিনি তাযকিরাতুল হুফফাযে এর সনদকে বিশুদ্ধ বললেন (১/১৮২); ইবনুল কাইয়্যেমও এর সনদকে বিশুদ্ধ বললেন, আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (৪/১২৯৭); ইজতিমা’উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩১।
৩৪৩. বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩০৪), নং ৮৬৫; আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/১২০-১২১); আল-উলু, পৃ. ১০২; আল-আরবা’ঈন, পৃ. ৮১; আল-আরশ, পৃ. ৩৮; তাযকিরাতুল হুফফায (১/১৮২); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩১; আস- সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (৪/১২৯৭); ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪০৬)।
৩৪৪. তিনি হচ্ছেন লাইস ইবন সা’দ ইবন আব্দুর রহমান, আবুল হারেস আল-ফাহমী, আল-ইমাম, মিসর দেশের আলেম, ফকীহ ও মুহাদ্দিস। তিনি হাদীস শুনেছেন আত্বা ইবন আবী রাবাহ, সা’ঈদ আল-মাকবুরী, যুহরী প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন হুশাইম, ইবন ওয়াহাব, ইবনুল মুবারক প্রমুখ। সাঈদ ইবন আবী মারইয়াম বলেন, আমি আশি বছরে উপনীত হয়েছি এখনো আমি কোনো বিদ’আতী প্রবৃত্তির অনুসারীর সাথে বিবাদে লিপ্ত হইনি। ইমাম যাহাবী বলেন, বিদ’আতী ও প্রবৃত্তি পূজারীরা ইমাম লাইস, মালেক, আওযা’ঈর সময় নিবৃত্তে চলে গিয়েছিল। আর তখন সুন্নাতের মর্যাদা সমুন্নত ছিল (যার ফলে তাদেরকে বিতর্ক করতে হয়নি। বর্তমানে বিতর্কের মাধ্যমে তাদেরকে হারানো দীনী ইলম শেখার একটি মূল কারণ; কারণ সংখ্যায় এখন তারাই বেশি)। খলীফা মানসূর তাকে সেখানকার তার প্রতিনিধি করতে চাইলেন, কিন্তু তা থেকে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও হাত দরাজ ব্যক্তি ছিলেন। তাকে নিয়ে এ ব্যাপারে উদাহরণ পেশ করা হতো।
ইমাম আহমাদ বলেন, মিসরীদের মাঝে লাইসের চেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস আর কারও কাছে নেই। আমর ইবনুল হারেস তার কাছাকাছি পৌঁছে থাকবে।
ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর বলেন, লাইস মালেক থেকে বড় ফকীহ ছিলেন, কিন্তু মালেক এর কিসমত ভালো (অর্থাৎ ছাত্র থাকা)। হারমালাহ বলেন, শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি, মালেক রাহিমাহুল্লাহ থেকে লাইস রাহিমাহুল্লাহ আছার (কুরআন-হাদীস ও সাহাবীগণের বক্তব্য) এর অনুসরণ বেশি করতেন। তিনি হিজরী ১৭৫ সালে মারা যান। দেখুন, খতীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৩/৩); ইবনুল জাওযী, সিফাতুস সাফওয়া (৪/২৮১); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/২২৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/১৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৮/৪৫৯)।
৩৪৫. তিনি হচ্ছেন সুফইয়ান ইবন সা’ঈদ ইবন মাসরূক আস-সাওরী। আবু আব্দুল্লাহ আল-কৃষ্ণী। তার সময়কার পৃথিবীর মানুষের ইমাম। যিনি ইলম, আমল ও পরহেযগারীকে একত্রিত করেছিলেন। ছোটকাল থেকেই ইলম অর্জনে ব্রতী হন। বলা হয়ে থাকে, তার শিক্ষক সংখ্যা ছয়শতেরও উপরে। আর তার থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যা হাজারের উপরে। তার প্রশংসা করেছেন বড় বড় সকল আলেম। যেমন ইমাম আহমাদ, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবন মা’ঈন, ইয়াহইয়া ইবন সা’ঈদ আল-কাত্তান, ইবন মাহদী প্রমুখ। এমনকি তারা তাকে আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে, আল-জামে’উ। তার জন্ম ৯৭ হিজরীতে, আর মৃত্যু ১৬১ হিজরীতে। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/৩৭১); আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৬/৩৫৬); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৯/১৫১); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ’ইয়ান (২/৩৬৮); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (৭/২২৯); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১১১)।
৩৪৬. যেমন ‘আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, ইত্যাদি।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 মাকহুল ও যুহরীর বক্তব্য

📄 মাকহুল ও যুহরীর বক্তব্য


ইমাম আবু বকর আল-খাল্লাল 'কিতাবুস সুন্নাহ'তে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মাকহুল ও যুহরিকে সিফাতের হাদীসগুলোর তাফসীর বা ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন: যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।”

টিকাঃ
৩৪৭. তিনি হচ্ছেন আবু 'আব্দুল্লাহ অথবা আবু আইয়্যুব অথবা আবু মুসলিম, মাকহুল আশ-শামী আদ- দামেশকী, আল-ফক্বীহ। জন্ম কাবুল নগরীতে। তিনি আনাস ইবন মালেক, সাওবান, জুবাইর ইবন নুফাইর, সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, সুলাইমান ইবন ইয়াসার, শুরাহবিল ইবনুস সামত্ব, মাহমুদ ইবনুর রবী', ভাউস প্রমুখ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যুহরী, রাবী'আহ আর-রাই, ইসমা'ঈল ইবন উমাইয়‍্যাহ, ইসমা'ঈল ইবন আবী বকর, আইয়্যুব ইবন মূসা, হাজ্জাজ ইবন আরতাআ প্রমুখ। ছোট তাবে'য়ীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতেম বলেন, শাম দেশে মাকতূল এর থেকে বড় ফকীহ কেউ নেই। যুহরী বলেন, আলেম হচ্ছেন চার জন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব মদীনায়, শা'বী কুফাতে, হাসান বসরায় আর মাকতূল শাম দেশে। মৃত্যু হিজরী ১১০ এর পরে। বুখারী তার জুয আল-কিরাআতে, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবন মাজাহ তার হাদীস তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেন। ইবন হাজার বলেন, নির্ভরযোগ্য, ফক্বীহ, অধিক পরিমাণে ইরসাল করতেন। যাহাবী বলেন, শামবাসীদের ফকীহ তিনি। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৫৫)।
৩৪৮. তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন শিহাব আয-যুহরী, আবু বকর আল-কুরাশী আল-মাদানী। বড় বড় সাহাবীদের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। বিখ্যাত সাত ফকীহগণের একজন। তার থেকে প্রায় দু' হাজার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী সম্পর্ক শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ইমাম যুহরী সত্তর বছর হাদীসের পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। হিজরী ১২৪ সালে মারা যান। তার জন্ম ছিল ৫০ হিজরী সালে। দেখুন, আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/৩৬০); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/১০৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/৩২৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৯/৪৪৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/১৬২)।
৩৪৯. ইমাম লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, ৭৩৫; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭৭), নং ৯৫৪; তবে তাদের শব্দ হচ্ছে امضوا الأحاديث على ما جاءت "হাদীসকে যেভাবে এসেছে যেভাবে পরিচালিত করো" উভয় বাক্যের অর্থ একই। আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৬২, ৩৩৭, ৩৪৬); আল-উলু, পৃ. ১০২।

ইমাম আবু বকর আল-খাল্লাল 'কিতাবুস সুন্নাহ'তে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মাকহুল ও যুহরিকে সিফাতের হাদীসগুলোর তাফসীর বা ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন: যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও।”

টিকাঃ
৩৪৭. তিনি হচ্ছেন আবু 'আব্দুল্লাহ অথবা আবু আইয়্যুব অথবা আবু মুসলিম, মাকহুল আশ-শামী আদ- দামেশকী, আল-ফক্বীহ। জন্ম কাবুল নগরীতে। তিনি আনাস ইবন মালেক, সাওবান, জুবাইর ইবন নুফাইর, সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, সুলাইমান ইবন ইয়াসার, শুরাহবিল ইবনুস সামত্ব, মাহমুদ ইবনুর রবী', ভাউস প্রমুখ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যুহরী, রাবী'আহ আর-রাই, ইসমা'ঈল ইবন উমাইয়‍্যাহ, ইসমা'ঈল ইবন আবী বকর, আইয়্যুব ইবন মূসা, হাজ্জাজ ইবন আরতাআ প্রমুখ। ছোট তাবে'য়ীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতেম বলেন, শাম দেশে মাকতূল এর থেকে বড় ফকীহ কেউ নেই। যুহরী বলেন, আলেম হচ্ছেন চার জন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব মদীনায়, শা'বী কুফাতে, হাসান বসরায় আর মাকতূল শাম দেশে। মৃত্যু হিজরী ১১০ এর পরে। বুখারী তার জুয আল-কিরাআতে, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবন মাজাহ তার হাদীস তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেন। ইবন হাজার বলেন, নির্ভরযোগ্য, ফক্বীহ, অধিক পরিমাণে ইরসাল করতেন। যাহাবী বলেন, শামবাসীদের ফকীহ তিনি। দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৫৫)।
৩৪৮. তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন মুসলিম ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন শিহাব আয-যুহরী, আবু বকর আল-কুরাশী আল-মাদানী। বড় বড় সাহাবীদের সাথে সাক্ষাত হয়েছে। বিখ্যাত সাত ফকীহগণের একজন। তার থেকে প্রায় দু' হাজার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী সম্পর্ক শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, ইমাম যুহরী সত্তর বছর হাদীসের পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। হিজরী ১২৪ সালে মারা যান। তার জন্ম ছিল ৫০ হিজরী সালে। দেখুন, আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/৩৬০); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/১০৮); সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/৩২৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৯/৪৪৫); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/১৬২)।
৩৪৯. ইমাম লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, ৭৩৫; বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩৭৭), নং ৯৫৪; তবে তাদের শব্দ হচ্ছে امضوا الأحاديث على ما جاءت "হাদীসকে যেভাবে এসেছে যেভাবে পরিচালিত করো" উভয় বাক্যের অর্থ একই। আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/১৬২, ৩৩৭, ৩৪৬); আল-উলু, পৃ. ১০২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00