📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 নিফাকের তা’বীল করা দ্বারা উদ্দেশ্য

📄 নিফাকের তা’বীল করা দ্বারা উদ্দেশ্য


আর সিফাতের তা’ওয়ীল হলো, ঐ প্রকৃত অবস্থা যা একমাত্র আল্লাহই জানেন তা হচ্ছে সিফাতের ধরণ, যা অজ্ঞাত। ইমাম মালেক ও অন্যান্য সালাফে সালেহীন এটাই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যখন তারা বলেছেন, الاستواء معلوم، والكيف مجهول "ইস্তেওয়া এর অর্থ জানা রয়েছে (অর্থাৎ উপরে উঠা) কিন্তু ধরণ অজানা।" সুতরাং ‘ইস্তেওয়া’ এর অর্থ জানা ও জ্ঞাত। এটাকে অন্য ভাষায় অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করা যাবে। এটা এমন তা’ওয়ীল যা ইলমে সুদৃঢ়পদগণ জানেন। কিন্তু সে ‘ইস্তেওয়া’ বা উপরে উঠার ধরণ সেটাই ঐ তা’ওয়ীল যা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না।
ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে, যা আব্দুর রায্যাক ও অন্যান্যগণ তাদের তাফসীরে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, "কুরআনের তাফসীর চার ধরনের: (১) ঐ তাফসীর যা আরবগণ তাদের কথায় জানে ও বুঝে। (২) ঐ তাফসীর যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার ওযর গ্রহণযোগ্য নয়। (৩) ঐ তাফসীর যা আলেমগণ জানেন। (৪) ঐ তাফসীর যা কেবল আল্লাহ জানেন, যে ওটা জানার দাবি করবে সে মিথ্যাবাদী।” এটা ঐরকম যেমন আল্লাহ বলেছেন:
﴿فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴾ [السجدة: ١٧] ‘অতএব কেউই জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ!” [সূরা আস-সাজদাহ: ১৭]
অনুরূপ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তর কল্পনা করেনি।” তেমনি কিয়ামতের জ্ঞান ইত্যাদি।
এটা ঐ তা’ওয়ীল যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, যদিও আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে যা কিছু বলা হয়েছে তার অর্থ আমরা বুঝি, অনুরূপ আমাদেরকে বুঝানোর উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে তাও আমরা বুঝি। কেননা আল্লাহ বলেছেন:
﴿أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا ﴾ [محمد: ٢٤] "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?" [সূরা মুহাম্মদ: ২৪]
তিনি আরও বলেন, ﴿أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ ﴾ [المؤمنون: ٦٨]﴿ তবে কি তারা এ বাণীতে চিন্তা- গবেষণা করেনি?” [সূরা আল-মুমিনুন: ৬৮] এখানে তিনি পূর্ণ কুরআন গবেষণা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, আংশিক নয়।
আবু আব্দুর রহমান সুলামী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, «حدثنا الذين كانوا يقرؤوننا القرآن عثمان بن عفان، وعبد الله بن مسعود، وغيرهما: أنهم كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات لم يتجاوزوها حتى يتعلموا ما فيها من العلم والعمل. قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعا».
“আমাদেরকে যারা কুরআন পড়াতেন; যেমন উসমান, ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা তারা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি আয়াত শিখলে তার মধ্যকার ইলম শেখা ও আমল শেখা ব্যতিরেকে সেগুলো অতিক্রম করত না। তাদের উক্তি আমরা কুরআন, ইলম, আমল সবটাই শিখেছি।”
মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, عرضت المصحف على ابن عباس - رضي الله عنهما - من فاتحته إلى خاتمته، أقف عند كل آية أسأله عنها . আমি ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার নিকট মুসহাফ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পেশ করেছি। প্রত্যেক আয়াতের শেষে থেমে সে সম্পর্কে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি।” শা’বী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ما ابتدع أحد بدعة إلا وفي كتاب الله بيانها . "যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করলেই আল্লাহর কিতাবে তার বর্ণনা রয়েছে।” মাসরুক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ما قال أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم عن شيء إلا وعلمه في القرآن، ولكن عِلْمُنا قصر عنه».
“মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীগণ যা কিছুই বলেছেন, তার জ্ঞান কুরআনে বিদ্যমান। তবে আমাদের জ্ঞান সে ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতায় রয়েছে।”
এর বিস্তারিত বিবরণ স্বীয় স্থানে বর্ণিত হয়েছে।
এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐসব ভ্রান্ত মতবাদসমূহের 'মুলনীতি'র ব্যাপারে সতর্ক করা' যেগুলো রাসূলের আনীত ইলম ও ঈমান অধ্যায়ে বিভ্রান্তিকর ও ভ্রষ্টতা আবশ্যক করেছে। আর (এ বিষয়েও সাবধান করা যে) রাসূলকে কেউ যদি এমন বানায় যে, তার প্রতি যে কুরআন নাযিল হয়েছে তার অর্থ সম্পর্কে তিনি জ্ঞান রাখেন না, তদ্রূপ জিবরীলকেও এমন বানায় যে, তিনি শ্রুত তথা আকীদা বিষয়ে জ্ঞান রাখেন না, তাহলে তো সে কুরআনকে হিদায়াতকারী হিসেবে নেয়নি, মানুষের জন্য সেটাকে বর্ণনা হিসাবেও গ্রহণ করেনি।

টিকাঃ
৩২৮. বুখারী, আল-জামে'উস সহীহ, হাদীস নং ৩২৪৪, ৪৭৭৬, ৪৭৭৯, ৪৭৮০, ৭৪৯৮; মুসলিম, আস- সহীহ, হাদীস নং ২৮২৪।
৩২৯. অর্থাৎ কুরআনে কারীমে এমন কোনো কোনো ভাষ্য এসেছে যার আসল তাফসীর একমাত্র আল্লাহ জানেন, কিন্তু সেগুলোর শব্দার্থ ও সেগুলোর দ্বারা আল্লাহ কী বুঝাতে চাচ্ছেন তা মোটামোটি বুঝি। অথচ এগুলো নিয় চিন্তা-গবেষণা করারও উদ্দেশ্য।
৩৩০. তিনি হচ্ছেন আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবন হাবীব ইবন রাবী'আহ আল-কুফী, আল-ইমাম, কুফার ক্বারী আস-সুলামী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তার জন্ম হয়েছিল। তিনি উসমান, আলী, ইবন মাসউদ এর কাছে কুরআন পড়েছেন, তাজওয়ীদ শিখেছেন, তাফসীর নিয়েছেন। তার থেকে আসেম ইবন আবিন নাজুদ কুরআন নিয়েছেন। আর তার থেকে হাফস নিয়েছেন, যা আমাদের পূর্বদেশীয়দের কিরাআত। তিনি চল্লিশ বছর ধরে মানুষদের কুরআনের জ্ঞান বিতরণ করেন। আবু আউন আস-সাক্বাফী বলেন, আমি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামীর কাছে কুরআন পড়তাম। হাসান ইবন আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমাও তাঁর কাছে কুরআন পড়তেন। [আল্লাহু আকবার; ইলম মানুষকে কত উপরে উঠায়, নবী পরিবারের লোক সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও একজন তাবে'য়ীর কাছে কুরআন পাঠ করতে হাসান ইবন আলীর কোনো সমস্যা হয়নি। অথচ তিনি জান্নাতের যুবকদের দুজন সর্দারের একজন] বলা হয়ে থাকে, তিনি হিজরী ৭৪ সালে অথবা ৭৩ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/১৭২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৫৫); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/২৬৭); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৫/১৮৩)।
৩৩১. মুসনাদে আহমাদ (৫/৪১০), হাদীস নং ২৩৪৮২; ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ, হাদীস নং ৩০৫৪৯; তাবারী, আত-তাফসীর (১/৩৫-৩৬); হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (১/৫৫৭); ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাত (৬/১৭২); মুহাম্মাদ ইবন ওয়াদ্দ্বাহ আল-কুরতুবী, আল-বিদা'উ ওয়ান নাহইয়ু 'আনহা, পৃ. ৮৬; বাইহাক্বী, আস-সুনান আল-কুবরা (৩/১১৯-১২০); ত্বাহাউই, মুশকিলুল আসার (১৪৫১); তাহাউই, মুশকিলুল আসার, হাদীস নং ১৪৫০।
৩৩২. ইবন আবী শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ, হাদীস নং ৩০৯১৮; দারেমী, আস-সুনান, হাদীস নং ১১২০; তাবারী, আত-তাফসীর (১/৯০), নং ১০৮; আত-ত্বাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর (১১/৭৭), হাদীস নং ১১০৯৭; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (২/৩০৭); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/২৭৯- ২৮০); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৪৬৫-৪৫৭); ইবন কাসীর, আত-তাফসীর (১/১৫)।
৩৩৩. তিনি হচ্ছেন আবু আমর আমের ইবন শুরাহীল আল-হামাদানী আশ-শা'বী। ইসলামের বড় ইমামদের একজন। তিনি অনেক প্রবীন সাহাবী থেকে হাদীস শুনেছেন, যেমন সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, সা'ঈদ ইবন যায়েদ প্রমুখ। আর তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন হিকাম, হাম্মাদ, দাউদ ইবন আবী হিন্দ প্রমুখ। তিনি হাফেযে কুরআন ও হাদীস ছিলেন। কিছুই লিখেননি। তিনি সাহাবীদের জীবদ্দশায় ফতোয়া দিতেন। তবে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাজ্জাজের বিরুদ্ধে ইবনুল আস'আস এর সাথে বের হয়েছিলেন। মাকহুল বলেন, আমি শা'বী থেকে বড় জ্ঞানী কাউকে দেখিনি। আবু মিজলায বলেন, আমি শা'বী থেকে বড় ফকীহ কাউকে দেখিনি। সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেবও নয়, ত্বাউসও নয়, আত্বাও নয়, হাসান বসরীও নয়, ইবন সীরীনও নয়। আমি তাদের সকলকেই দেখেছি। ইবন উয়াইনাহ বলেন, মানুষের মাঝে আলেম তিনজন। ইবন আব্বাস তার সময়ের আলেম। শা'বী তার সময়ের আলেম। আর সাওরী তার সময়ের আলেম। শা'বী রাহিমাহুল্লাহ হিজরী ১০০ সালে মারা যান। দেখুন, আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/৩১০); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/১২); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৭৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/২৯৪); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/১২৬)।
৩৩৪. আল-খাল্লাল, আস-সুন্নাহ (১/৫৪৭); অনুরূপ ইবনুল কাইয়্যেম, আস-সাওয়া'য়িকুল মুরসালাহ (৩/৯২৫)।
৩৩৫. তিনি হচ্ছেন আবু আয়েশা মাসরূক ইবনুল আজদা' ইবন মালেক ইবন উমাইয়্যাহ আল-ওয়াদে'ঈ আল-হামাদানী। তাবেয়ীদের মধ্যকার বড় মাপের আলেম। তিনি 'মুখাদ্বরাম' ছিলেন। অর্থাৎ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। তিনি বেশ কয়েকজন সাহাবী থেকে হাদীস শুনেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আয়েশা, ইবন মাসউদ প্রমুখ। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, শা'বী, ইবরাহীম আন-নাখা'য়ী প্রমুখ। শা'বী বলতেন, আমি পৃথিবীর প্রান্তদেশের কোথাও মাসরূকের মত ইলম অন্বেষণকারী কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, যখন উবাইদুল্লাহ ইবন যিয়াদ কুফায় আগমন করলেন তখন জিজ্ঞাসা করলেন, উৎকৃষ্ট আলেম কে? তারা বললো, মাসরূক। মাসরূক বলতেন, একজন মানুষের ইলমের জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে আল্লাহর ভয় করার বিষয়টি জানবে। আর একজন মানুষের মূর্খতার জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে নিজের আমল নিয়ে আত্মভরিতা করবে। বর্ণিত আছে, তিনি (মৃত্যুর সময়) বলেছিলেন, আমি কোনো জিনিসের জন্য আফসোস করি না, কেবল আল্লাহর জন্য সাজদাহ না করতে পারার বিষয়টিই আমার আফসোসের বিষয় থেকে যাবে। ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন বলেন, মাসরূক গ্রহণযোগ্য। তার মতো ব্যক্তির ব্যাপারে প্রশ্ন করা সাজে না। তিনি হিজরী ৬২ অথবা ৬৩ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/৭৬); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৪/১৮১); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৬৩)।
৩৩৬. আবু খাইসামাহ যুহাইর ইবন হারব, আল-ইলম, পৃ. ৫০; খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (১/১৯৭), নং ১৯৫। ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (১/২০৮), (৫/৫৭); ইবনুল কাইয়্যেম, আস-সাওয়া'য়িক (৩/৯২৫)। অপর বর্ণনায় এসেছে, মাসরূক বলেন, প্রবৃত্তির অনুসারীরা (বিদ'আতীরা) যেই হোক না কেন, আল্লাহর কুরআনে সেটার খণ্ডন রয়েছে। তবে হয়ত কখনও কখনও আমরা সেটার হদিস পাই না। [হারওয়ী, যাম্মুল কালাম, নং ২০৪] অনুরূপ ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "মানুষ যদি পুরো কুরআন নিয়ে গবেষণা করতো, তাহলে তাতে প্রতিটি বিদ'আতী ও তার বিদ'আতের জবাব খুঁজে পেত।" [হারওয়ী, যামুল কালাম, পৃ. ৬৯]
৩৩৭. যেমন, দারউত তা'আরুদ্ব (৫/৫৬-৫৭); তাছাড়া কুরআন ধারণ করার জন্য আরও কিছু আছার দেখা যেতে পারে, যেমন ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "তোমরা যদি ইলম বা জ্ঞান চাও তাহলে কুরআনে খুঁজে বেড়াও; কারণ তাতে পূর্বের ও পরের ইলম রয়েছে।” [আত-ত্বাবারানী, আল-কাবীর (৯/১৩৫); বাইহাক্বী, আশ-শু'আব (৩/৩৪৭)] এ বিষয়ে আরও দেখা যেতে পারে, ইবনুল মুবারক, আয- যুহদ, নং ৮১৪; মারওয়াযী, মুখতাসারু কিয়ামিল্লাইল, নং ২১৩; যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/১৬)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আহসুস তাহবীল বা ভাষ্যরূপান্তরকারীদের মধ্যকার অনেকগুলো বিনষ্ট বিষয় মেনে নিতে বাধ্য করে

📄 আহসুস তাহবীল বা ভাষ্যরূপান্তরকারীদের মধ্যকার অনেকগুলো বিনষ্ট বিষয় মেনে নিতে বাধ্য করে


অতঃপর এরা এসব বিষয়ে আক্কলী (বুদ্ধি-বিবেকসম্মত) যুক্তিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। তারা রাসূল এবং তাঁর উম্মতের নিকট আল্লাহর মা'রেফত তথা তাঁর সম্পর্কে অবগত হওয়ার বিষয়ে কোনো আক্কলী (বিবেকগ্রাহ্য যুক্তি) বা সাম'ঈ (কুরআন-হাদীসের) জ্ঞান আছে বলে স্বীকৃতি দেয় না। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন দিক দিয়ে ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের সাথে তাদের অপরাধের অংশীদার। তারা রাসূল এবং সালাফে সালেহীনদের দিকে অজ্ঞতার নিসবত করে ভুল করেছে, যেমন ভুল করেছে তাতে বিকৃতিকারী ও অপব্যাখ্যায়ীকারীরা এবং যাবতীয় নাস্তিক সম্প্রদায়।

টিকাঃ
৩৩৮. তাফওয়ীদ্ব তথা ‘অর্থ জানা যায় না’ আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এ নীতির প্রবক্তারা।
৩৩৯. কারণ তারা মনে এগুলোর অর্থ করা যাবে না, আর যারা বলে এগুলোর অর্থ করা যাবে না, তারা তো আকল বা বিবেকের যুক্তি ও তার দ্বারা অর্জিত জ্ঞানকে পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে।
৩৪০. অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে যারা বলে থাকে যে এগুলোর অর্থ জানা যায় না, সেসব ‘আহলুত তাজহীল’ অনেকটাই তখন প্রথম গোষ্ঠী আহলুত তাখয়ীল (নবী-রাসূলদের আনীত বক্তব্যকে কল্পনার ফসল অপবাদ প্রদানকারী) লোকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে। কারণ তারা ওদের মতই মনে করেছে যে, রাসূলের কাছে আল্লাহর যেসব গুণাবলির কথা এসেছে তা কল্পনা ও উদাহরণ পর্যায়ের, ফলে নবী যা বিবেকে কল্পনা করা যায় সেটাকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করে উপস্থিত করেছে। (নাউযুবিল্লাহ! নবীদের ওপর এতবড় অপবাদ)। তাদের মতই ইতোপূর্বে যাদের আলোচনা গত হয়েছে সেসব দার্শনিকও মনে করে থাকে যে, রাসূলগণ আখেরাতের পুনরুত্থানের ব্যাপারে যা যা বলেছেন সবই পুনরুত্থানকে বুঝানোর জন্য বিবেকের কাছে উদাহরণ পেশ করার মতো। অনুরূপ সেখানে যা যা হবে বা পাবে বলা হয়েছে সবই বিবেকের স্বাদ ও বিবেকের কষ্টকে বুঝানো উদ্দেশ্য। (নাউযুবিল্লাহ) দেখুন, বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৩২৮)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে প্রতিভাতব্য’ ইমামদের বক্তব্য

📄 আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে প্রতিভাতব্য’ ইমামদের বক্তব্য


আমরা এখানে পূর্বসূরী ইমামদের হুবহু বক্তব্য তুলে ধরব, তাদের বক্তব্যও যারা তাদের মত বর্ণনা করেছে; যতটুকু সম্ভব এ স্বল্প পরিসরে, যাতে এ অধ্যায়ে তাদের মাযহাব স্পষ্টভাবে জানা যায়।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম আওযাইর রাহিমাহুল্লাহর মত

📄 ইমাম আওযাইর রাহিমাহুল্লাহর মত


ইমাম বাইহাকী স্বীয় «আল আসমা ওয়াস সিফাত» গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে ইমাম আওযা'ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, "আমরা আর তাবেয়ীগণ তখনও অনেক ছিলেন, আমরা সকলেই বলতাম: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে এবং হাদীসে আল্লাহর যেসব সিফাত বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার প্রতি ঈমান রাখি।”
ইমাম আওযা'ঈ যিনি তাঁর যুগের তাবে'য়ীদের চার ইমামের একজন (অর্থাৎ হিজাযের ইমাম মালেক, সিরিয়াবাসীদের ইমাম আওযা'ঈ, মিশরবাসীদের ইমাম লাইস এবং ইরাকবাসীদের ইমাম সুফিয়ান সাওরী তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাবে'য়ীদের যুগে আল্লাহ 'আরশের উপর এবং তাঁর সিফাতসমূহের যা কুরআন ও সুন্নাহ'য় এসেছে তার ওপর ঈমান রাখার ব্যাপারে বক্তব্য সকলের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল।
আর একথা আওযা'ঈ তখন বলেছিলেন যখন আল্লাহর আরশের উপর হওয়া ও আল্লাহর অন্যান্য সিফাত অস্বীকারকারী জাহম এর মতাদর্শ প্রকাশ লাভ করে। যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, সালাফদের মতাদর্শ জাহমের মতবাদের বিপরীত।

টিকাঃ
৩৪১. তিনি হচ্ছেন আবু ‘আমর আব্দুর রহমান ইবন ‘আমর ইবন ইয়াহমুদ আল-আওযা’ঈ। ইসলামের বড় ইমামগণের একজন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন আত্বা ইবন আবী রাবাহ, যুহরী, ইয়াহইয়া ইবন আবী ক্বাসীর ও অনেক তাবে’য়ী থেকে। তার থেকে হাদীস বর্ণনা করেন শা’বী, সাওরী, ইবনুল মুবারক প্রমুখ। বারবার তাকে বিচারক পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল আর তিনি বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। শাম দেশে তিনিই প্রথম ইলম লিপিবদ্ধ করেন। তার কাছে প্রচুর হাদীস, ফিকহ ও ইলম ছিল। বরং তিনি তার যমানার সকলের জন্য প্রামাণ্য ব্যক্তি ছিলেন। ইমাম মালেক বলেন, আওযা’ঈ এমন ইমাম যার অনুসরণ করা যায়। তিনি শাসকদের নসীহত করতেন। কারও পরোয়া করতেন না। হিজরী ১৫৭ সালে তার মৃত্যু হয়। ইসমা’ঈল ইবন ‘আইয়াশ বলেন, আমি মানুষদেরকে হিজরী ১৪০ সালে বলতে শুনেছি, বর্তমান সময়ে আওযা’ঈ হচ্ছেন উম্মতের আলেম। মুহাম্মাদ ইবন শু’আইব বলেন, আমি উমাইয়্যাহ ইবন ইয়াযীদকে বললাম, আওযা’ঈ কি মাকহুলের মতো হতে পারে? তখন তিনি বললেন, আওযা’ঈ তো আমাদের নিকট মাকহুল থেকেও উপরে। ইমাম যাহাবী বলেন, নিঃসন্দেহে তিনি ইলমের প্রশস্ততার দিক থেকে মাকহুলের উপরে। তার একটি মাযহাব প্রসিদ্ধ ছিল, শাম দেশের ও স্পেনের ফকীহগণ এক সময় তার মতের ওপর আমল করতেন। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৭/৪৮৮); আবু নু'আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৬/১৩৫); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/১২৭); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/১০৭); ইবনুল 'ইমাদ, শাযরাতুয যাহাব (১/২৪১)।
৩৪২. এ আসার এর সনদকে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বিশুদ্ধ বললেন। আরও দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (৬/২৬২); অনুরূপ এটাকে ইমাম ইবন হাজারও সহীহ বলেছেন। ফাতহুল বারী (১৩/৪০৬)। ইমাম যাহাবী বলেন, তার বর্ণনাকারীগণ সকলেই সিক্কাহ বা নির্ভরযোগ্য, আল- আরশ, পৃ. ৩৮। আর তিনি তাযকিরাতুল হুফফাযে এর সনদকে বিশুদ্ধ বললেন (১/১৮২); ইবনুল কাইয়্যেমও এর সনদকে বিশুদ্ধ বললেন, আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (৪/১২৯৭); ইজতিমা’উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩১।
৩৪৩. বাইহাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (২/৩০৪), নং ৮৬৫; আরও দেখুন, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/১২০-১২১); আল-উলু, পৃ. ১০২; আল-আরবা’ঈন, পৃ. ৮১; আল-আরশ, পৃ. ৩৮; তাযকিরাতুল হুফফায (১/১৮২); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৩১; আস- সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (৪/১২৯৭); ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (১৩/৪০৬)।
৩৪৪. তিনি হচ্ছেন লাইস ইবন সা’দ ইবন আব্দুর রহমান, আবুল হারেস আল-ফাহমী, আল-ইমাম, মিসর দেশের আলেম, ফকীহ ও মুহাদ্দিস। তিনি হাদীস শুনেছেন আত্বা ইবন আবী রাবাহ, সা’ঈদ আল-মাকবুরী, যুহরী প্রমুখ থেকে। আর তার থেকে হাদীস শুনেছেন হুশাইম, ইবন ওয়াহাব, ইবনুল মুবারক প্রমুখ। সাঈদ ইবন আবী মারইয়াম বলেন, আমি আশি বছরে উপনীত হয়েছি এখনো আমি কোনো বিদ’আতী প্রবৃত্তির অনুসারীর সাথে বিবাদে লিপ্ত হইনি। ইমাম যাহাবী বলেন, বিদ’আতী ও প্রবৃত্তি পূজারীরা ইমাম লাইস, মালেক, আওযা’ঈর সময় নিবৃত্তে চলে গিয়েছিল। আর তখন সুন্নাতের মর্যাদা সমুন্নত ছিল (যার ফলে তাদেরকে বিতর্ক করতে হয়নি। বর্তমানে বিতর্কের মাধ্যমে তাদেরকে হারানো দীনী ইলম শেখার একটি মূল কারণ; কারণ সংখ্যায় এখন তারাই বেশি)। খলীফা মানসূর তাকে সেখানকার তার প্রতিনিধি করতে চাইলেন, কিন্তু তা থেকে ক্ষমা চেয়ে নিলেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও হাত দরাজ ব্যক্তি ছিলেন। তাকে নিয়ে এ ব্যাপারে উদাহরণ পেশ করা হতো।
ইমাম আহমাদ বলেন, মিসরীদের মাঝে লাইসের চেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস আর কারও কাছে নেই। আমর ইবনুল হারেস তার কাছাকাছি পৌঁছে থাকবে।
ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর বলেন, লাইস মালেক থেকে বড় ফকীহ ছিলেন, কিন্তু মালেক এর কিসমত ভালো (অর্থাৎ ছাত্র থাকা)। হারমালাহ বলেন, শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি, মালেক রাহিমাহুল্লাহ থেকে লাইস রাহিমাহুল্লাহ আছার (কুরআন-হাদীস ও সাহাবীগণের বক্তব্য) এর অনুসরণ বেশি করতেন। তিনি হিজরী ১৭৫ সালে মারা যান। দেখুন, খতীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১৩/৩); ইবনুল জাওযী, সিফাতুস সাফওয়া (৪/২৮১); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/২২৪); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/১৩৬); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৮/৪৫৯)।
৩৪৫. তিনি হচ্ছেন সুফইয়ান ইবন সা’ঈদ ইবন মাসরূক আস-সাওরী। আবু আব্দুল্লাহ আল-কৃষ্ণী। তার সময়কার পৃথিবীর মানুষের ইমাম। যিনি ইলম, আমল ও পরহেযগারীকে একত্রিত করেছিলেন। ছোটকাল থেকেই ইলম অর্জনে ব্রতী হন। বলা হয়ে থাকে, তার শিক্ষক সংখ্যা ছয়শতেরও উপরে। আর তার থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সংখ্যা হাজারের উপরে। তার প্রশংসা করেছেন বড় বড় সকল আলেম। যেমন ইমাম আহমাদ, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবন মা’ঈন, ইয়াহইয়া ইবন সা’ঈদ আল-কাত্তান, ইবন মাহদী প্রমুখ। এমনকি তারা তাকে আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে, আল-জামে’উ। তার জন্ম ৯৭ হিজরীতে, আর মৃত্যু ১৬১ হিজরীতে। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৬/৩৭১); আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া (৬/৩৫৬); খত্নীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (৯/১৫১); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ’ইয়ান (২/৩৬৮); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (৭/২২৯); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৪/১১১)।
৩৪৬. যেমন ‘আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে নেমে আসা, ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00