📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 তৃতীয় গোত্র: আপেক্ষত তাজহীল তথা নবী-রাসূলদের আনীত সিফাত বিষয়ক জ্ঞানসমূহের ব্যাপারে অজ্ঞতার নীতির অনুসারী

📄 তৃতীয় গোত্র: আপেক্ষত তাজহীল তথা নবী-রাসূলদের আনীত সিফাত বিষয়ক জ্ঞানসমূহের ব্যাপারে অজ্ঞতার নীতির অনুসারী


আর তৃতীয় গোষ্ঠী তারা হচ্ছে, আহলুত তাজহীল তথা [নবী-রাসূলদের আনীত সিফাত বিষয়গুলোতে] অজ্ঞতার নীতির অনুসরণকারী। সুন্নাহ’র সাথে সম্পৃক্ত ও সালাফদের অনুসরণের দাবীদার অনেকেই এ নীতি অবলম্বন করে থাকে। তারা বলে: সিফাতের আয়াত যেগুলো আল্লাহ নাযিল করেছিলেন সেগুলোর অর্থ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন না, জিবরীলও এসব আয়াতের অর্থ সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ছিলেন না, উম্মতের প্রথম সারীর অগ্রবর্তীগণও এগুলোর অর্থ সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করেননি।
অনুরূপভাবে হাদীসে উল্লিখিত আল্লাহর সিফাতের ব্যাপারেও তাদের এই বক্তব্য যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ সেগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য জানেন না। অথচ রাসূলই প্রথম তা দিয়ে কথা বলেছেন। সুতরাং তাদের কথা অনুযায়ী রাসূল এমন বাক্য নিয়ে কথা বলেছেন যার অর্থ তিনি নিজেই জানতেন না।
এদের ধারণা, তারা আল্লাহর বাণী: ﴿وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ﴾ [آل عمران: ٧] “অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।” [সূরা আলে ইমরান: ০৭] এর অনুসারী। কেননা সালাফদের অনেকেই আল্লাহ () শব্দের উপর ওয়াক্ফ করেছেন।
বস্তুত এটি বিশুদ্ধ ওয়াক্ফ্ফ। কিন্তু তারা (আহলুত তাজহীল) কালামের অর্থ ও ব্যাখ্যার মাঝে পার্থক্য করেনি, অনুরূপভাবে যে তা'ওয়ীল একমাত্র আল্লাহ জানেন সেটা বুঝতে পারেননি। তাই তারা ধারণা করেছে যে, কিতাবুল্লাহ থেকে উল্লিখিত তা’ওয়ীলই পরবর্তীদের কথায় ব্যবহৃত তা’ওয়ীল। ফলে তারা ভুলে পতিত হয়েছে;

টিকাঃ
২৯৯. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র এদেরকে ‘আহলুত তাম্বলীল ওয়াততাজহীল’ এ নামে নামকরণ করেন। দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (১/১৫)। আবার কখনও কখনও তাদেরকে যাহেরিয়‍্যাহও বলতেন। দেখুন, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৬/৪১৪); তাদেরকে কেউ কেউ আহলে তাফওয়ীদ্ব ও উম্মিয়‍্যাহ নামেও অভিহিত করে। দেখুন, জাওয়াবুল ই’তিরাদ্বাতিল মিসরিয়‍্যাহ, পৃ. ২৩।
৩০০. ইবন তাইমিয়‍্যাহ বলেন, তাদের কথার প্রকৃত অর্থ এটা দাঁড়ায় যে, নবী-রাসূলগণ জাহেল, পথভ্রষ্ট। তারা জানতো না সেসব আয়াতের অর্থ যাতে আল্লাহ তার নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং নবীদের কথাও তার অনুসারীরা বুঝতো না।
তারপর তিনি বলেন, এদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, এসব ভাষ্য দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা তার প্রকাশ্য দাবি ও বুঝের বিপরীত। কোনো নবী, ফিরিশতা, সাহাবী কিংবা আলেম এগুলোর উদ্দেশ্য জানে না, যেমনিভাবে তারা জানে না কিয়ামত কবে হবে। আবার তাদের মধ্যে আরেক দল বলে, বরং প্রকাশ্য অর্থের ওপর চালিয়ে নেয়া হবে, প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহন করা হবে, তা সত্ত্বেও এগুলোর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। এভাবে তারা স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে, একদিকে বলছে তার একটি ব্যাখ্যা আছে প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে, আবার বলছে প্রকাশ্য অর্থের ওপর চালিয়ে নেয়া হবে। এ বিষয়টি ইবন আক্বীল যাম্মুত তা’ওয়ীল গ্রন্থে তার উস্তাদ আবু ইয়া’লার দোষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (১/১৫-১৬), (৫/৩৮১), (৭/৩৪-৩৫); মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৩/২৮৫), (১৭/৩৬১)। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, আহলুত তাজহীল বা এগুলোর অর্থ জানা যায় না দাবি করা গোষ্ঠী তাদের এ নীতিকে দু’টি কায়েদার ওপর সাজিয়েছে, ১. এ ভাষ্যগুলো মুতাশাবিহ। ২. মুতাশাবিহ এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। এ দুটি কায়েদার ওপর ভর করে তারা সাহাবী-মুহাজির ও আনসারসহ সকল তাবে’য়ী ও ইমামদেরকে এসব বিষয়ে অজ্ঞ হিসেবে তুলে ধরেছে। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, তারা তিনটি ভুল করেছে, প্রথমত: তারা মুতাশাবিহ নির্ধারণে ভুল করেছে। দ্বিতীয়ত: তারা আয়াতগুলোকে মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তৃতীয়ত: তারা মুতাশাবিহাতের অর্থ কেবল আল্লাহই জানে বলছে। এভাবে তিনটি ভূমিকাতেই ভুল করেছে। এ নীতিতে আসার কারণে তারা কুরআন থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি, কুরআন নিয়ে গবেষণা থেকে মাহরুম হয়েছে, অথচ এর মাধ্যমেই ঈমান প্রতিষ্ঠিত হবে, অন্তরসমূহ আল্লাহর পরিচয়ে সিক্ত হবে। ফলে তারা আল্লাহর নাযিল করা কিছু শব্দের উচ্চারণ করে থাকে যার অর্থ তারা বুঝে না, তারা মনে করে থাকে যে, এগুলো নাযিল হয়েছে কেবল তিলাওয়াত ও ইবাদত করার জন্য, এগুলোর অর্থ বুঝা, শিক্ষা নেয়া, চিন্তা ও গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। [আস-সাওয়া’য়িকুর মুরসালাহ (২/৪২৩-৪২৪)]
৩০১. ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, তারা (আহলুত তাজহীল) বলে, সিফাত বিষয়ক আয়াতসমূহ এমন কিছু ভাষ্য যা কিছু শব্দের সমষ্টি, যার অর্থ জানা যায় না। আমরা জানি না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন। তবে আমরা এগুলোকে শব্দ আকারে পড়বো, যার কোনো অর্থ নেই। আমরা এটা জানবো যে, এর একটা ব্যাখ্যা আছে যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। যদি আমাদের কাছে এমন কোনো কিছু আসে আমরা সেটাকে কোনো প্রকার সাদৃশ্য কিংবা তুলনা হিসেবে বিশ্বাস করবো না। আমরা সেগুলোর অর্থ জানি না, কেউ যদি সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা করে তবে সেটার বিরোধিতা করবো, সেগুলোর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করবো। [আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (২/৪২২)]
৩০২. যারা এখানে ওয়াক্বফ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইবন ‘উমার, এক বর্ণনায় ইবন আব্বাস, আয়েশা, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর, ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয, আবুশ শা’ছা, আবু নাহীক। আর এ মতই গ্রহণ করেছেন কিসাঈ, ফাররা, আখফাশ, আবু উবাইদ, আবু হাতেম, আসমা’ঈ ও সা’লাব। আর তা পছন্দ করেছেন ইবন জারীর, ইবন কুদামাহ, বাগাওয়ী, আব্দুল কাহের আল- বাগদাদী, শাওকানী ও শানকীত্বী।
৩০৩. অর্থাৎ তারা দু’টি ভুল করেছে: এক. বাক্যের অর্থ ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি। বাক্যের অর্থ জানা গেলেও বিস্তারিত ধরণ অনেক সময় জানা যায় না। এখানেও তারা ভুল করেছে। এসব সিফাতের আয়াতসমূহের অর্থ আরবী ভাষাতে একেবারেই সরল। এগুলোর অর্থ বুঝতে কোনো কষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। আরবরা অহরহ এগুলো তাদের ভাষায় ব্যবহার করেছে। তাহলে অর্থ না জানার কিছু নেই। হ্যাঁ, অবশ্যই তাফসীর বা ধরণ বুঝা কঠিন। কারণ যার গুণ বর্ণনা করা হচ্ছে তাকে তো কেউ দেখেনি, তাই তার গুণের ধরণ বুঝা সহজ নয়। সেটাই হলো তাফসীর। এ তাফসীর, যা তা’ওয়ীল এর একটি অর্থ, সেটা আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে অর্থ করতে পারতো, কিন্তু তারা সেটা না করে ভুল করেছে। দুই. কুরআনের আয়াতে এখানে যে তা’ওয়ীল একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দ্বারা বুঝানো হয়েছে প্রকৃত অবস্থা বা আসল স্বরূপ। নিঃসন্দেহে সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এ তা’ওয়ীল এর অর্থ সেটা নয় যা পরবর্তী কালের লোকেরা তা’ওয়ীল শব্দের জন্য নির্ধারণ করেছে। তারা তা’ওয়ীল বলতে দূরবর্তী কোনো অর্থ বুঝে গিয়েছে যা কোনো কারণে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এ অর্থটির অস্তিত্ব কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের বক্তব্যে নেই। তাই তাদের এ ভুলটি হয়েছিল আয়াতে আসা তা’ওয়ীল শব্দটির অর্থ নির্ধারণে।
৩০৪. বস্তুত আল্লাহর কুরআন, রাসূলের হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্যে তা’ওয়ীল বলে দু’টি জিনিসকে বুঝানো হয়: এক. সাধারণভাবে কোনো কিছুর অর্থ বুঝা। দুই. প্রকৃত গুঢ় রহস্য বা তত্ত্ব লাভ করা। অপরাপর অর্থটি পরবর্তীদের পরিভাষা।

আর তৃতীয় গোষ্ঠী তারা হচ্ছে, আহলুত তাজহীল তথা [নবী-রাসূলদের আনীত সিফাত বিষয়গুলোতে] অজ্ঞতার নীতির অনুসরণকারী। সুন্নাহ’র সাথে সম্পৃক্ত ও সালাফদের অনুসরণের দাবীদার অনেকেই এ নীতি অবলম্বন করে থাকে। তারা বলে: সিফাতের আয়াত যেগুলো আল্লাহ নাযিল করেছিলেন সেগুলোর অর্থ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন না, জিবরীলও এসব আয়াতের অর্থ সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ছিলেন না, উম্মতের প্রথম সারীর অগ্রবর্তীগণও এগুলোর অর্থ সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করেননি।
অনুরূপভাবে হাদীসে উল্লিখিত আল্লাহর সিফাতের ব্যাপারেও তাদের এই বক্তব্য যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ সেগুলোর অর্থ ও উদ্দেশ্য জানেন না। অথচ রাসূলই প্রথম তা দিয়ে কথা বলেছেন। সুতরাং তাদের কথা অনুযায়ী রাসূল এমন বাক্য নিয়ে কথা বলেছেন যার অর্থ তিনি নিজেই জানতেন না।
এদের ধারণা, তারা আল্লাহর বাণী: ﴿وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ﴾ [آل عمران: ٧] “অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।” [সূরা আলে ইমরান: ০৭] এর অনুসারী। কেননা সালাফদের অনেকেই আল্লাহ () শব্দের উপর ওয়াক্ফ করেছেন।
বস্তুত এটি বিশুদ্ধ ওয়াক্ফ্ফ। কিন্তু তারা (আহলুত তাজহীল) কালামের অর্থ ও ব্যাখ্যার মাঝে পার্থক্য করেনি, অনুরূপভাবে যে তা'ওয়ীল একমাত্র আল্লাহ জানেন সেটা বুঝতে পারেননি। তাই তারা ধারণা করেছে যে, কিতাবুল্লাহ থেকে উল্লিখিত তা’ওয়ীলই পরবর্তীদের কথায় ব্যবহৃত তা’ওয়ীল। ফলে তারা ভুলে পতিত হয়েছে;

টিকাঃ
২৯৯. শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র এদেরকে ‘আহলুত তাম্বলীল ওয়াততাজহীল’ এ নামে নামকরণ করেন। দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (১/১৫)। আবার কখনও কখনও তাদেরকে যাহেরিয়‍্যাহও বলতেন। দেখুন, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৬/৪১৪); তাদেরকে কেউ কেউ আহলে তাফওয়ীদ্ব ও উম্মিয়‍্যাহ নামেও অভিহিত করে। দেখুন, জাওয়াবুল ই’তিরাদ্বাতিল মিসরিয়‍্যাহ, পৃ. ২৩।
৩০০. ইবন তাইমিয়‍্যাহ বলেন, তাদের কথার প্রকৃত অর্থ এটা দাঁড়ায় যে, নবী-রাসূলগণ জাহেল, পথভ্রষ্ট। তারা জানতো না সেসব আয়াতের অর্থ যাতে আল্লাহ তার নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং নবীদের কথাও তার অনুসারীরা বুঝতো না।
তারপর তিনি বলেন, এদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, এসব ভাষ্য দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা তার প্রকাশ্য দাবি ও বুঝের বিপরীত। কোনো নবী, ফিরিশতা, সাহাবী কিংবা আলেম এগুলোর উদ্দেশ্য জানে না, যেমনিভাবে তারা জানে না কিয়ামত কবে হবে। আবার তাদের মধ্যে আরেক দল বলে, বরং প্রকাশ্য অর্থের ওপর চালিয়ে নেয়া হবে, প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহন করা হবে, তা সত্ত্বেও এগুলোর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। এভাবে তারা স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে, একদিকে বলছে তার একটি ব্যাখ্যা আছে প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে, আবার বলছে প্রকাশ্য অর্থের ওপর চালিয়ে নেয়া হবে। এ বিষয়টি ইবন আক্বীল যাম্মুত তা’ওয়ীল গ্রন্থে তার উস্তাদ আবু ইয়া’লার দোষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব (১/১৫-১৬), (৫/৩৮১), (৭/৩৪-৩৫); মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৩/২৮৫), (১৭/৩৬১)। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, আহলুত তাজহীল বা এগুলোর অর্থ জানা যায় না দাবি করা গোষ্ঠী তাদের এ নীতিকে দু’টি কায়েদার ওপর সাজিয়েছে, ১. এ ভাষ্যগুলো মুতাশাবিহ। ২. মুতাশাবিহ এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। এ দুটি কায়েদার ওপর ভর করে তারা সাহাবী-মুহাজির ও আনসারসহ সকল তাবে’য়ী ও ইমামদেরকে এসব বিষয়ে অজ্ঞ হিসেবে তুলে ধরেছে। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, তারা তিনটি ভুল করেছে, প্রথমত: তারা মুতাশাবিহ নির্ধারণে ভুল করেছে। দ্বিতীয়ত: তারা আয়াতগুলোকে মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তৃতীয়ত: তারা মুতাশাবিহাতের অর্থ কেবল আল্লাহই জানে বলছে। এভাবে তিনটি ভূমিকাতেই ভুল করেছে। এ নীতিতে আসার কারণে তারা কুরআন থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি, কুরআন নিয়ে গবেষণা থেকে মাহরুম হয়েছে, অথচ এর মাধ্যমেই ঈমান প্রতিষ্ঠিত হবে, অন্তরসমূহ আল্লাহর পরিচয়ে সিক্ত হবে। ফলে তারা আল্লাহর নাযিল করা কিছু শব্দের উচ্চারণ করে থাকে যার অর্থ তারা বুঝে না, তারা মনে করে থাকে যে, এগুলো নাযিল হয়েছে কেবল তিলাওয়াত ও ইবাদত করার জন্য, এগুলোর অর্থ বুঝা, শিক্ষা নেয়া, চিন্তা ও গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। [আস-সাওয়া’য়িকুর মুরসালাহ (২/৪২৩-৪২৪)]
৩০১. ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, তারা (আহলুত তাজহীল) বলে, সিফাত বিষয়ক আয়াতসমূহ এমন কিছু ভাষ্য যা কিছু শব্দের সমষ্টি, যার অর্থ জানা যায় না। আমরা জানি না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন। তবে আমরা এগুলোকে শব্দ আকারে পড়বো, যার কোনো অর্থ নেই। আমরা এটা জানবো যে, এর একটা ব্যাখ্যা আছে যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। যদি আমাদের কাছে এমন কোনো কিছু আসে আমরা সেটাকে কোনো প্রকার সাদৃশ্য কিংবা তুলনা হিসেবে বিশ্বাস করবো না। আমরা সেগুলোর অর্থ জানি না, কেউ যদি সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা করে তবে সেটার বিরোধিতা করবো, সেগুলোর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করবো। [আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (২/৪২২)]
৩০২. যারা এখানে ওয়াক্বফ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ইবন ‘উমার, এক বর্ণনায় ইবন আব্বাস, আয়েশা, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর, ‘উমার ইবন আব্দুল আযীয, আবুশ শা’ছা, আবু নাহীক। আর এ মতই গ্রহণ করেছেন কিসাঈ, ফাররা, আখফাশ, আবু উবাইদ, আবু হাতেম, আসমা’ঈ ও সা’লাব। আর তা পছন্দ করেছেন ইবন জারীর, ইবন কুদামাহ, বাগাওয়ী, আব্দুল কাহের আল- বাগদাদী, শাওকানী ও শানকীত্বী।
৩০৩. অর্থাৎ তারা দু’টি ভুল করেছে: এক. বাক্যের অর্থ ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি। বাক্যের অর্থ জানা গেলেও বিস্তারিত ধরণ অনেক সময় জানা যায় না। এখানেও তারা ভুল করেছে। এসব সিফাতের আয়াতসমূহের অর্থ আরবী ভাষাতে একেবারেই সরল। এগুলোর অর্থ বুঝতে কোনো কষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। আরবরা অহরহ এগুলো তাদের ভাষায় ব্যবহার করেছে। তাহলে অর্থ না জানার কিছু নেই। হ্যাঁ, অবশ্যই তাফসীর বা ধরণ বুঝা কঠিন। কারণ যার গুণ বর্ণনা করা হচ্ছে তাকে তো কেউ দেখেনি, তাই তার গুণের ধরণ বুঝা সহজ নয়। সেটাই হলো তাফসীর। এ তাফসীর, যা তা’ওয়ীল এর একটি অর্থ, সেটা আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে অর্থ করতে পারতো, কিন্তু তারা সেটা না করে ভুল করেছে। দুই. কুরআনের আয়াতে এখানে যে তা’ওয়ীল একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দ্বারা বুঝানো হয়েছে প্রকৃত অবস্থা বা আসল স্বরূপ। নিঃসন্দেহে সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এ তা’ওয়ীল এর অর্থ সেটা নয় যা পরবর্তী কালের লোকেরা তা’ওয়ীল শব্দের জন্য নির্ধারণ করেছে। তারা তা’ওয়ীল বলতে দূরবর্তী কোনো অর্থ বুঝে গিয়েছে যা কোনো কারণে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এ অর্থটির অস্তিত্ব কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের বক্তব্যে নেই। তাই তাদের এ ভুলটি হয়েছিল আয়াতে আসা তা’ওয়ীল শব্দটির অর্থ নির্ধারণে।
৩০৪. বস্তুত আল্লাহর কুরআন, রাসূলের হাদীস ও সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্যে তা’ওয়ীল বলে দু’টি জিনিসকে বুঝানো হয়: এক. সাধারণভাবে কোনো কিছুর অর্থ বুঝা। দুই. প্রকৃত গুঢ় রহস্য বা তত্ত্ব লাভ করা। অপরাপর অর্থটি পরবর্তীদের পরিভাষা।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 তা’বীল এর বিবিধ অর্থ

📄 তা’বীল এর বিবিধ অর্থ


কেননা তা’ওয়ীল শব্দটি তিনটি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়:

টিকাঃ
৩০৫. তা’ওয়ীল শব্দটির আভিধানিক অর্থ, ১) পরিণাম ও সর্বশেষ অবস্থা, ২) পরিবর্তন ও পরিবর্তিত রূপ। ৩) ব্যাখ্যা। ৪) স্পষ্ট বর্ণনা। [দেখুন, তাহযীবুল লুগাহ, মু’জামু মাক্কায়ীসুল লুগাহ (১/১৫৯-১৬০), তাজুল ‘আরূস (৭/২১৬), ইবন মানযূর (লিসানুল আরব ১১/৩৩)। আর পরিভাষায় তা’ওয়ীল শব্দটি সম্পর্কে ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এটি বর্তমানে মুশতারাক শব্দে পরিণত হয়েছে। মুশতারাক শব্দ হচ্ছে এমন সব শব্দ যেগুলো একাধিক অর্থে সমভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অর্থ নির্ধারিত হয়। এখানে তা’ওয়ীল শব্দটির কুরআনিক একটি অর্থ রয়েছে, সালাফে সালেহীন একটি অর্থে ব্যবহার করেছেন, আবার পরবর্তীরা আরেকটি অর্থে সেটাকে নিয়ে গেছে। যে কারণে এসব আয়াত যার কাছে যেভাবে পৌঁছেছে আর তার মাথায় তা’ওয়ীল শব্দের যে অর্থ ঘুরপাক খাচ্ছে সে সেটাকে উক্ত অর্থে ব্যবহার করে কুরআনে আসা তা’ওয়ীল শব্দের ব্যাখ্যা করেছে। [ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৩/২৮৪-২৮৬)] সংক্ষেপিত। আরও দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব [(৯/২৪); সাফাদিয়‍্যাহ (১/২৮৮)]।
৩০৬. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র বলেন, তা’ওয়ীল শব্দটি সম্পর্কে মানুষ দু’ প্রান্তিক সীমানায় রয়েছে। এক, কেউ কেউ তার নিন্দায় গ্রন্থ রচনা করেছে। (যেমন কাযী আবু ইয়া’লা, ইবত্বালুত তা’ওয়ীলাত ফী আখবারিস সিফাত, অনুরূপ ইবন কুদামাহ, যামুত তা’ওয়ীল) দুই, অপর পক্ষ তা’ওয়ীল করার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে, (যেমন, আবু বকর ইবনু ফুওরাক তার মুশকিলুল হাদীস ওয়া বায়ানিহী গ্রন্থে)। বরং তাদের মধ্যকার কেউ কেউ তা’ওয়ীল করা ওয়াজিবও বলেছে। তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এসে সেটার আসল অর্থ ও কখন তা গ্রহণযোগ্য হবে আর কখন হবে না, তা স্পষ্ট করে দেন। [দেখুন, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১২/২৮৮), (৫/৩৪৯-৩৫০); দারউত তা’আরুদ্ব (৫/২৩৭); আত-তাদমুরিয়‍্যাহ, পৃ. ৮৯-]

কেননা তা’ওয়ীল শব্দটি তিনটি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়:

টিকাঃ
৩০৫. তা’ওয়ীল শব্দটির আভিধানিক অর্থ, ১) পরিণাম ও সর্বশেষ অবস্থা, ২) পরিবর্তন ও পরিবর্তিত রূপ। ৩) ব্যাখ্যা। ৪) স্পষ্ট বর্ণনা। [দেখুন, তাহযীবুল লুগাহ, মু’জামু মাক্কায়ীসুল লুগাহ (১/১৫৯-১৬০), তাজুল ‘আরূস (৭/২১৬), ইবন মানযূর (লিসানুল আরব ১১/৩৩)। আর পরিভাষায় তা’ওয়ীল শব্দটি সম্পর্কে ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এটি বর্তমানে মুশতারাক শব্দে পরিণত হয়েছে। মুশতারাক শব্দ হচ্ছে এমন সব শব্দ যেগুলো একাধিক অর্থে সমভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অর্থ নির্ধারিত হয়। এখানে তা’ওয়ীল শব্দটির কুরআনিক একটি অর্থ রয়েছে, সালাফে সালেহীন একটি অর্থে ব্যবহার করেছেন, আবার পরবর্তীরা আরেকটি অর্থে সেটাকে নিয়ে গেছে। যে কারণে এসব আয়াত যার কাছে যেভাবে পৌঁছেছে আর তার মাথায় তা’ওয়ীল শব্দের যে অর্থ ঘুরপাক খাচ্ছে সে সেটাকে উক্ত অর্থে ব্যবহার করে কুরআনে আসা তা’ওয়ীল শব্দের ব্যাখ্যা করেছে। [ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১৩/২৮৪-২৮৬)] সংক্ষেপিত। আরও দেখুন, দারউত তা’আরুদ্ব [(৯/২৪); সাফাদিয়‍্যাহ (১/২৮৮)]।
৩০৬. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অন্যত্র বলেন, তা’ওয়ীল শব্দটি সম্পর্কে মানুষ দু’ প্রান্তিক সীমানায় রয়েছে। এক, কেউ কেউ তার নিন্দায় গ্রন্থ রচনা করেছে। (যেমন কাযী আবু ইয়া’লা, ইবত্বালুত তা’ওয়ীলাত ফী আখবারিস সিফাত, অনুরূপ ইবন কুদামাহ, যামুত তা’ওয়ীল) দুই, অপর পক্ষ তা’ওয়ীল করার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে, (যেমন, আবু বকর ইবনু ফুওরাক তার মুশকিলুল হাদীস ওয়া বায়ানিহী গ্রন্থে)। বরং তাদের মধ্যকার কেউ কেউ তা’ওয়ীল করা ওয়াজিবও বলেছে। তারপর ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ এসে সেটার আসল অর্থ ও কখন তা গ্রহণযোগ্য হবে আর কখন হবে না, তা স্পষ্ট করে দেন। [দেখুন, মাজমূ’ ফাতাওয়া (১২/২৮৮), (৫/৩৪৯-৩৫০); দারউত তা’আরুদ্ব (৫/২৩৭); আত-তাদমুরিয়‍্যাহ, পৃ. ৮৯-]

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 তা’বীল শব্দটি পরবর্তী লোকেদের পরিভাষায়

📄 তা’বীল শব্দটি পরবর্তী লোকেদের পরিভাষায়


পরবর্তীদের অধিকাংশের পরিভাষায় তা’ওয়ীল হচ্ছে- কোনো শব্দের অর্থকে তার অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনার দিকে সরিয়ে নেয়া, এমন দলীলের কারণে যা তার সাথে যুক্ত থাকে।
সুতরাং তাদের নিকট, যাহির শব্দের চাহিদা অনুযায়ী অর্থে ব্যবহৃত শব্দ তা’ওয়ীল নয়। তাদের ধারণা- তা’ওয়ীল শব্দ দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্য এটাই। আর নস এর এমন তা’ওয়ীল রয়েছে যা তার মাদলুল (শব্দ দ্বারা বুঝা যায়) এর বিপরীত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তা’ওয়ীলকারীরাও জানে না অথবা তা’ওয়ীলকারীরা জানে।
আবার এদের অনেকের বক্তব্য, শব্দ তার যাহির বা প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রযোজ্য হবে। কাজেই তার যাহির উদ্দেশ্য হবে। অথচ তারা বলে: নিশ্চয় এর একটি তা’ওয়ীল আছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। নিঃসন্দেহে এটি পরস্পর বিরোধী কথা, যাতে সুন্নাহ’র সাথে সম্পৃক্ত চার ইমামের অনুসারী ও অন্যান্য অনেকেই পতিত হয়েছেন।

টিকাঃ
৩০৭. (এমন দলীলের কারণে বা তার সাথে যুক্ত থাকে), এ অংশটুকু থাকলে সেটা তা’ওয়ীলের গ্রহণযোগ্য পারিভাষিক অর্থ হতে পারে, যা উসূলবিদগণ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যারা আল্লাহর সিফাতের তা’ওয়ীল করে তারা এ অংশটুকু বা এ শর্তটুকু বেমালুম ভুলে যায়। তারা কেবল আক্বলী তথা বিবেকের যুক্তির শরণাপন্ন হয়ে সিফাতের আয়াতসমূহকে তার আসল প্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থ থেকে অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থের দিকে নিয়ে যায়, যা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, পরবর্তী এ পরিভাষা কুরআন ও হাদীসে আসেনি। সুতরাং কুরআন ও হাদীসের শব্দে আসা তা’ওয়ীল হিসেবে এ অর্থ সর্বোতভাবে অগ্রহণযোগ্য।
৩০৮. এমন দলীল যাতে দু’টি অর্থ করার সুযোগ থাকে, একটি প্রকাশ্য অর্থ, আরেকটি দূরবর্তী অর্থ। প্রকাশ্য অর্থকে যাহের বলা হয়। আর অপ্রকাশ্য বা দূরবর্তী অর্থকে মুআওয়াল বলা হয়। এটি পরবর্তী লোকদের পরিভাষা।
৩০৯. যেমন ইস্তেওয়া শব্দের অর্থ ‘আলা ও ইরতাফা’আ বা স্বা’আদা, (উপরে উঠা, ঊর্ধ্বে উঠা, আরোহন করা) এদের নিকট তা’ওয়ীল নয়। অথচ এটা অ’ওয়ীল। এটার সারকথা হচ্ছে, শব্দ থেকে যা বুঝা যায় তা, সালাফে সালেহীনের নিকট তা’ওয়ীল বা সরল অর্থ (যা তাফসীর হিসেবে খ্যাত)। কিন্তু যারা পরবর্তীদের বুঝ অনুযায়ী তা’ওয়ীল করে আর যারা তাফওয়ীর করে তারা এটাকে তা’ওয়ীল মনে করে না।
৩১০. অর্থাৎ পূর্বে বর্ণিত তাদের বক্তব্য, যাতে বলা হয়েছে, তা’ওয়ীল হচ্ছে কোনো শব্দের অর্থকে তার অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনার দিকে সরিয়ে নেয়া, এমন দলীলের কারণে যা তার সাথে যুক্ত থাকে। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তা’ওয়ীল বলতে ‘কোনো শব্দের অর্থকে তার অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনার দিকে সরিয়ে নেয়া, এমন দলীলের কারণে যা তার সাথে যুক্ত থাকে অথবা পরবর্তী দলীলের ওপর ভিত্তি করে অথবা শুধু কোনো এক প্রকার দলীলের ওপর নির্ভর করে’ এ অর্থে ব্যবহার করা পরবর্তী লোকদের পরিভাষা। সালাফে সালেহীনের কারও শব্দে তা’ওয়ীল দ্বারা এ পারিভাষিক অর্থটি উদ্দেশ্য ছিল না। পরবর্তীতে এ অর্থটি এত বেশি প্রচার ও প্রসার পায় যে, তারা মনে করতে থাকে যে, কুরআনে কারীমে আসা তা’ওয়ীলকে এ অর্থেই গ্রহণ করতে হবে। তারা বলতে থাকে, "আর তার তা’ওয়ীল কেবল আল্লাহই জানেন" (সূরা আলে ইমরান: ০৭] এর অর্থ সেটাই যা তারা পরবর্তীতে পরিভাষা হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তারপর তাদের একদল বলে উক্ত অর্থটি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আরেক দল বলে উক্ত অর্থটি ইলমে দৃঢ় লোকেরা জানে। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, নিঃসন্দেহে উভয় দলই ভুলের ওপর আছে। কারণ এটার কোনো বাস্তবতা নেই। বরং তা বাতিল। আল্লাহ ভালো করেই জানেন যে, এটা তাঁর উদ্দেশ্য না, আর তিনি তা উদ্দেশ্য নেননি। [মাজমূ’ ফাতাওয়া (৫/৩৪৯-৩৫০), শারহু হাদীসিন নুযূল]
৩১১. কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা সিফাত সংক্রান্ত নস বা ভাষ্যসমূহের এমন তা’ওয়ীল করতে হবে যাতে প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করার সুযোগ না থাকে। এটাকে তারা তা’ওয়ীল নাম দিয়েছে। এ কারণে তারা প্রতিটি সিফাত বিষয়ক আয়াত ও হাদীসের জন্য দূরবর্তী একটি অর্থ নির্ধারণ করে সেটা জানাকেই ইলম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান সাব্যস্ত করে। আর যারা প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করে তাদের প্রতি কুফর এর সম্পৃক্ততা প্রদান করে।
৩১২. এতটুকুতে আহলুত তা’ওয়ীল ও আহলুত তাজহীল একমত। শেষ পর্যন্ত তারা এমন সব তা’ওয়ীল নামীয় অপব্যাখ্যার শরণাপন্ন হয় যা তাদেরকে কারামিত্বা, বাতেনী, জাহমীদের অপব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যায়। [মাজমূ’ ফাতাওয়া]
৩১৩. এতটুকু কেবল আহলুত তাজহীলের মত। যদিও প্রকৃত অর্থে এটা আহলুত তা’ওয়ীলদেরও মত। কারণ তারাও প্রকাশ্য অর্থকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে থাকে। তারা আরও মনে করে থাকে যে এগুলো মুতাশাবিহ। এগুলোর অর্থ কেবল আল্লাহ জানেন। আমরা যা করছি তা কেবল সাওয়াবের আশায় করছি।
৩১৪. আহলুত তাজহীল তথা তাফওয়ীদ্ব নীতির অনুসরণকারীদের দু’টি মত রয়েছে। তাদের একদল বলে তা’ওয়ীলকারীরা সে অর্থটি জানতে পারবে, অপর দলটি বলে তা’ওয়ীলকারীরাও তা জানতে পারে না।
৩১৫. তাদের এ স্ববিরোধিতার বিষয়টি ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ তার অনেক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেন, ‘তারপর তাদের কেউ কেউ বলে, এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা তার প্রকাশ্য অর্থ ও বুঝের বিপরীত। এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা কোনো নবী, ফিরিশতা কিংবা সাহাবী কিংবা কোনো আলেম জানতে পারেন না। যেমন তারা জানে না, কিয়ামত কবে হবে। তাদের আরেক দল বলে, বরং এগুলোকে তার প্রকাশ্য অবস্থার ওপর নেয়া হবে, প্রকাশ্য রূপে বহন করা হবে, তবে আল্লাহ ব্যতীত কেউ তার তা’ওয়ীল জানে না। এভাবে তারা স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়, কারণ তারা এগুলোর এমন একটি তা’ওয়ীল সাব্যস্ত করছে যা তার প্রকাশ্য অর্থের বিরোধী, তারপরও বলছে যে, এগুলোকে প্রকাশ্য অর্থে নেয়া হবে। [দারউত তাআরুদ্ব (১/১৬), (৫/৩৮১)]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, "... অতঃপর এরা মারাত্মক নিকৃষ্ট ধরনের স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হলো, যখন তারা বললো, এগুলোকে তার প্রকাশ্য অর্থে নেয়া হবে, তারপর বললো, এর তা’ওয়ীল যা প্রকাশ্য রূপের বিপরীত হবে তা বাতিল, তা সত্ত্বেও এর তা’ওয়ীল আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কীভাবে তারা এর তা’ওয়ীল সাব্যস্ত করছে আর বলছে সেটাকে প্রকাশ্য অর্থেই নিতে হবে, আরও বলছে, সেটার প্রকাশ্য অর্থ উদ্দেশ্য নয়, কেবল রব্ব সুবহানাহু ওয়া তা’আলাই সেটার তা’ওয়ীল জানেন। স্ববিরোধিতার নযীর হিসেবে এটা কি নিকৃষ্ট নয়? বস্তুত তারা তিন জায়গায় ভুল করেছে, মুতাশাবিহ নির্ধারণে, এ সিফাতের আয়াতগুলোকে মুতাশাবিহ এর অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে আর মুতাশাবিহ এর অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন বলার মধ্যে।" (দেখুন, আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (২/৪২৩-৪২৪)]

পরবর্তীদের অধিকাংশের পরিভাষায় তা’ওয়ীল হচ্ছে- কোনো শব্দের অর্থকে তার অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনার দিকে সরিয়ে নেয়া, এমন দলীলের কারণে যা তার সাথে যুক্ত থাকে।
সুতরাং তাদের নিকট, যাহির শব্দের চাহিদা অনুযায়ী অর্থে ব্যবহৃত শব্দ তা’ওয়ীল নয়। তাদের ধারণা- তা’ওয়ীল শব্দ দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্য এটাই। আর নস এর এমন তা’ওয়ীল রয়েছে যা তার মাদলুল (শব্দ দ্বারা বুঝা যায়) এর বিপরীত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তা’ওয়ীলকারীরাও জানে না অথবা তা’ওয়ীলকারীরা জানে।
আবার এদের অনেকের বক্তব্য, শব্দ তার যাহির বা প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রযোজ্য হবে। কাজেই তার যাহির উদ্দেশ্য হবে। অথচ তারা বলে: নিশ্চয় এর একটি তা’ওয়ীল আছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। নিঃসন্দেহে এটি পরস্পর বিরোধী কথা, যাতে সুন্নাহ’র সাথে সম্পৃক্ত চার ইমামের অনুসারী ও অন্যান্য অনেকেই পতিত হয়েছেন।

টিকাঃ
৩০৭. (এমন দলীলের কারণে বা তার সাথে যুক্ত থাকে), এ অংশটুকু থাকলে সেটা তা’ওয়ীলের গ্রহণযোগ্য পারিভাষিক অর্থ হতে পারে, যা উসূলবিদগণ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যারা আল্লাহর সিফাতের তা’ওয়ীল করে তারা এ অংশটুকু বা এ শর্তটুকু বেমালুম ভুলে যায়। তারা কেবল আক্বলী তথা বিবেকের যুক্তির শরণাপন্ন হয়ে সিফাতের আয়াতসমূহকে তার আসল প্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থ থেকে অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থের দিকে নিয়ে যায়, যা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, পরবর্তী এ পরিভাষা কুরআন ও হাদীসে আসেনি। সুতরাং কুরআন ও হাদীসের শব্দে আসা তা’ওয়ীল হিসেবে এ অর্থ সর্বোতভাবে অগ্রহণযোগ্য।
৩০৮. এমন দলীল যাতে দু’টি অর্থ করার সুযোগ থাকে, একটি প্রকাশ্য অর্থ, আরেকটি দূরবর্তী অর্থ। প্রকাশ্য অর্থকে যাহের বলা হয়। আর অপ্রকাশ্য বা দূরবর্তী অর্থকে মুআওয়াল বলা হয়। এটি পরবর্তী লোকদের পরিভাষা।
৩০৯. যেমন ইস্তেওয়া শব্দের অর্থ ‘আলা ও ইরতাফা’আ বা স্বা’আদা, (উপরে উঠা, ঊর্ধ্বে উঠা, আরোহন করা) এদের নিকট তা’ওয়ীল নয়। অথচ এটা অ’ওয়ীল। এটার সারকথা হচ্ছে, শব্দ থেকে যা বুঝা যায় তা, সালাফে সালেহীনের নিকট তা’ওয়ীল বা সরল অর্থ (যা তাফসীর হিসেবে খ্যাত)। কিন্তু যারা পরবর্তীদের বুঝ অনুযায়ী তা’ওয়ীল করে আর যারা তাফওয়ীর করে তারা এটাকে তা’ওয়ীল মনে করে না।
৩১০. অর্থাৎ পূর্বে বর্ণিত তাদের বক্তব্য, যাতে বলা হয়েছে, তা’ওয়ীল হচ্ছে কোনো শব্দের অর্থকে তার অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনার দিকে সরিয়ে নেয়া, এমন দলীলের কারণে যা তার সাথে যুক্ত থাকে। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তা’ওয়ীল বলতে ‘কোনো শব্দের অর্থকে তার অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত সম্ভাবনার দিকে সরিয়ে নেয়া, এমন দলীলের কারণে যা তার সাথে যুক্ত থাকে অথবা পরবর্তী দলীলের ওপর ভিত্তি করে অথবা শুধু কোনো এক প্রকার দলীলের ওপর নির্ভর করে’ এ অর্থে ব্যবহার করা পরবর্তী লোকদের পরিভাষা। সালাফে সালেহীনের কারও শব্দে তা’ওয়ীল দ্বারা এ পারিভাষিক অর্থটি উদ্দেশ্য ছিল না। পরবর্তীতে এ অর্থটি এত বেশি প্রচার ও প্রসার পায় যে, তারা মনে করতে থাকে যে, কুরআনে কারীমে আসা তা’ওয়ীলকে এ অর্থেই গ্রহণ করতে হবে। তারা বলতে থাকে, "আর তার তা’ওয়ীল কেবল আল্লাহই জানেন" (সূরা আলে ইমরান: ০৭] এর অর্থ সেটাই যা তারা পরবর্তীতে পরিভাষা হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তারপর তাদের একদল বলে উক্ত অর্থটি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আরেক দল বলে উক্ত অর্থটি ইলমে দৃঢ় লোকেরা জানে। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, নিঃসন্দেহে উভয় দলই ভুলের ওপর আছে। কারণ এটার কোনো বাস্তবতা নেই। বরং তা বাতিল। আল্লাহ ভালো করেই জানেন যে, এটা তাঁর উদ্দেশ্য না, আর তিনি তা উদ্দেশ্য নেননি। [মাজমূ’ ফাতাওয়া (৫/৩৪৯-৩৫০), শারহু হাদীসিন নুযূল]
৩১১. কুরআন ও সুন্নাহ’য় আসা সিফাত সংক্রান্ত নস বা ভাষ্যসমূহের এমন তা’ওয়ীল করতে হবে যাতে প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করার সুযোগ না থাকে। এটাকে তারা তা’ওয়ীল নাম দিয়েছে। এ কারণে তারা প্রতিটি সিফাত বিষয়ক আয়াত ও হাদীসের জন্য দূরবর্তী একটি অর্থ নির্ধারণ করে সেটা জানাকেই ইলম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান সাব্যস্ত করে। আর যারা প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করে তাদের প্রতি কুফর এর সম্পৃক্ততা প্রদান করে।
৩১২. এতটুকুতে আহলুত তা’ওয়ীল ও আহলুত তাজহীল একমত। শেষ পর্যন্ত তারা এমন সব তা’ওয়ীল নামীয় অপব্যাখ্যার শরণাপন্ন হয় যা তাদেরকে কারামিত্বা, বাতেনী, জাহমীদের অপব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যায়। [মাজমূ’ ফাতাওয়া]
৩১৩. এতটুকু কেবল আহলুত তাজহীলের মত। যদিও প্রকৃত অর্থে এটা আহলুত তা’ওয়ীলদেরও মত। কারণ তারাও প্রকাশ্য অর্থকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে থাকে। তারা আরও মনে করে থাকে যে এগুলো মুতাশাবিহ। এগুলোর অর্থ কেবল আল্লাহ জানেন। আমরা যা করছি তা কেবল সাওয়াবের আশায় করছি।
৩১৪. আহলুত তাজহীল তথা তাফওয়ীদ্ব নীতির অনুসরণকারীদের দু’টি মত রয়েছে। তাদের একদল বলে তা’ওয়ীলকারীরা সে অর্থটি জানতে পারবে, অপর দলটি বলে তা’ওয়ীলকারীরাও তা জানতে পারে না।
৩১৫. তাদের এ স্ববিরোধিতার বিষয়টি ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ তার অনেক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেন, ‘তারপর তাদের কেউ কেউ বলে, এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা তার প্রকাশ্য অর্থ ও বুঝের বিপরীত। এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা কোনো নবী, ফিরিশতা কিংবা সাহাবী কিংবা কোনো আলেম জানতে পারেন না। যেমন তারা জানে না, কিয়ামত কবে হবে। তাদের আরেক দল বলে, বরং এগুলোকে তার প্রকাশ্য অবস্থার ওপর নেয়া হবে, প্রকাশ্য রূপে বহন করা হবে, তবে আল্লাহ ব্যতীত কেউ তার তা’ওয়ীল জানে না। এভাবে তারা স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়, কারণ তারা এগুলোর এমন একটি তা’ওয়ীল সাব্যস্ত করছে যা তার প্রকাশ্য অর্থের বিরোধী, তারপরও বলছে যে, এগুলোকে প্রকাশ্য অর্থে নেয়া হবে। [দারউত তাআরুদ্ব (১/১৬), (৫/৩৮১)]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, "... অতঃপর এরা মারাত্মক নিকৃষ্ট ধরনের স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হলো, যখন তারা বললো, এগুলোকে তার প্রকাশ্য অর্থে নেয়া হবে, তারপর বললো, এর তা’ওয়ীল যা প্রকাশ্য রূপের বিপরীত হবে তা বাতিল, তা সত্ত্বেও এর তা’ওয়ীল আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কীভাবে তারা এর তা’ওয়ীল সাব্যস্ত করছে আর বলছে সেটাকে প্রকাশ্য অর্থেই নিতে হবে, আরও বলছে, সেটার প্রকাশ্য অর্থ উদ্দেশ্য নয়, কেবল রব্ব সুবহানাহু ওয়া তা’আলাই সেটার তা’ওয়ীল জানেন। স্ববিরোধিতার নযীর হিসেবে এটা কি নিকৃষ্ট নয়? বস্তুত তারা তিন জায়গায় ভুল করেছে, মুতাশাবিহ নির্ধারণে, এ সিফাতের আয়াতগুলোকে মুতাশাবিহ এর অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে আর মুতাশাবিহ এর অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন বলার মধ্যে।" (দেখুন, আস-সাওয়া’য়িকুল মুরসালাহ (২/৪২৩-৪২৪)]

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 তা’বীল শব্দটি অধিকাংশ মুফাসসিরগণের নিকট

📄 তা’বীল শব্দটি অধিকাংশ মুফাসসিরগণের নিকট


তা’ওয়ীল এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, কালামের তাফসীর, কোনো বাক্যের ব্যাখ্যা, চাই সেটা যাহিরের সাথে সামঞ্জস্যশীল হোক বা না হোক। অধিকাংশ মুফাসসির ও অন্যান্যদের পরিভাষায় এটাই তা’ওয়ীল এর অর্থ।
এই তা’ওয়ীল মজবুত ইলমধারীরা জানেন। আর এটা ঐ ওয়াকফ অনুযায়ী, সালাফদের মাঝে যারা ﴿وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ﴾ এর ওপর ওয়াক্ফ করেছেন। যেমনটি ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে, মুজাহিদ, মুহাম্মাদ ইবন জা'ফর ইবনুয যুবাইর, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক্ব, ইবনু কুতাইবাহ প্রমুখ থেকে। বস্তুত উভয় বক্তব্যই এক বিবেচনায় সঠিক। যেমনটি আমরা সেটাকে অন্যত্র বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর এজন্যই ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে এটাও এসেছে, ওটাও এসেছে। আর উভয়টিই হক্ক ও যথাযথ।

টিকাঃ
৩১৬. তিনি হচ্ছেন মুজাহিদ ইবন জাবার, আবুল হাজ্জাজ আল-মাক্কী, সায়েব ইবন আবিস সায়েব এর ক্রীতদাস। মাখযুমী বংশের সাথে সম্পৃক্ত। একদিকে তিনি কিরাআতের শাইখ, তাফসীরের শাইখ, ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার বড় ছাত্রদের একজন। তিনি তার থেকেই তাফসীর ও কুরআন গ্রহণ করেছেন। তার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি পুরো কুরআনকে ইবন আব্বাসের কাছে ত্রিশবার পেশ করেছি। অপর বর্ণনায় এসেছে, আমি ইবন আব্বাসের কাছে কুরআনকে এমনভাবে পেশ করেছি যে, প্রতিটি আয়াতের পরেই থেমে থেমে জেনেছি এ আয়াত কিসের ব্যাপারে এবং কী হয়েছিল। তিনি হিজরী ১০৩ বা ১০৪ সালে মারা যান। দেখুন, ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (৫/৪৬৬); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/৮৬); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৪/৪৪৯); ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (১০/৪২)।
৩১৭. তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন জা'ফর ইবনুয যুবাইর ইবনুল 'আওয়াম আল-আসাদী আল-মাদানী। মদীনার ফকীহগণের একজন ও তাদের কারীদের অন্যতম। ইবন সা'দ বলেন, তিনি আলেম ছিলেন আর তার কাছে কিছু হাদীস ছিল। দারাকুত্বনী তাকে সিকাহ তথা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হিজরী ১১০ সালের তার মৃত্যু হয়। দেখুন, ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৯/৯৩); ইবন সা'দ, আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা (পরবর্তী আলাদা অংশ, পৃ. ১১২।
৩১৮. তিনি হচ্ছেন, মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার, আল-হাফেয, ইতিহাস সংবাদ ও সীরাতের বর্ণনাকারী। মদীনার অধিবাসী। হাদীসের হাফেযদের অন্যতম। তার দাদা ইয়াসার ছিল 'আইনুত তামার' এর যুদ্ধের কয়েদি। হিজরী ১৫০ সালে তার জন্ম। কারও কারও মতে ১৫১ সালে, অপর কারও মতে ১৫২ সালে। ইমাম শাফেয়ী তার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, কেউ যদি মাগাযী বা রাসূলের যুদ্ধ বিদ্যা সম্পর্কে সমুদ্রের মতো জ্ঞানী হতে চায় তবে সে যেন মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক এর পরিবারভুক্ত হয়। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাগাযীর জ্ঞানে আল্লামা। তার হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে অনেক বক্তব্য এসছে। একদল তাকে গ্রহণযোগ্য অপরদল তাকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। ইমাম যাহাবী বলেন, একাধিক কারণে ইবন ইসহাকের হাদীসভিত্তিক বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে আলেমগণকে হাত গুটিয়ে নিতে দেখেছি। সেসব কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তার শিয়াপ্রীতি, কাদরপ্রীতি, হাদীসে তাদলীস। তবে সাদৃক ছিলেন সেটা অস্বীকার করার জো নেই। হাফেয ইবন হাজার বলেন, তিনি সাদৃক বা হাসান হাদীসের বর্ণনাকারী, তাদলীস বা দোষ-ত্রুটি গোপন করে বর্ণনা করতেন। শিয়াপ্রীতির দোষ প্রদান করা আছে এবং কাদর বা তাকদীর অস্বীকারকারীদের মতের প্রতি অনুরক্ত পাওয়া গেছে।
দেখুন, খত্বীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১/২১৪); ইমাম যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফফায (১/১৭২); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৭/৩৩); ইবনু হাজার, তাহযীবুত তাহযীব (৯/৩৮); তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ৪৬৭; যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (৩/৪৬৮)।
৩১৯. তিনি হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনু মুসলিম ইবনু কুতাইবাহ, আদ-দীনাওয়ারী। অনেক গ্রন্থ প্রণেতা। অনেক বিষয়ের পণ্ডিত। আরবী সাহিত্য ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, গরীবুল কুরআন, আল-ক্বিরাআত, ই'রাবুল কুরআন, 'উয়ূনুল আখবার, মুশকিলুল কুরআন। হিজরী ২৭৬ সালে হঠাৎ করে মারা যান। তার সম্পর্কে খত্বীব আল-বাগদাদী বলেন, তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও দীনদার উৎকৃষ্ট মানুষ। দেখুন, খত্বীবে বাগদাদী, তারীখে বাগদাদ (১০/১৭০); ইমাম যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (২/৫০৩); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৯৬); ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৩/৪২)।
৩২০. আরও যারা এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তারা হচ্ছেন, আবু নাজীহ, রবী', কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ, দাহহাক। আর তা পছন্দ করেছে, আবু জা'ফর আন-নাহহাস, আবু সুলাইমান আদ-দিমাশকী, আবুল হাসান আল-আশ'আরী, আন-নাওয়াওয়ী, ইবনুল হাজেব, খত্নীব আল-বাগদাদী। দেখুন, তাফসীর তাবারী (৩/১৮৩); তাফসীর ইবনু কাসীর (২/৭-৮); সুয়ুত্বী, আদ-দুররুল মানছুর (২/১৫১-১৫২); ইবনুন নাহহাস, ই'রাবুল কুরআন (১/৩৫৬); মা'আনিল কুরআন (১/৩৫৩); ইবনু ক্বতাইবাহ, তা'ওয়ীলু মুশকিলুল কুরআন, পৃ. ৭২; আহকামুল কুরআন (২/২৮৩); খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-ফক্বীহ ওয়ার মুতাফাকিহ (১/৬৩); নাওয়াওয়ী, শারহু মুসলিম (১৬/২১৮); সুয়ূত্বী, আল-ইতক্কান (২/৪); আব্দুল কাহের আল-বাগদাদী, উসুলুদ্দীন, পৃ. ২২৩।
৩২১. যেমন, মাজমূ' ফাতাওয়া (১৩/২৭৫, ২৮৪-২৮৫), (৫/২৩৪-৩৪৭-৩৪৯), (১৬/৪০৭-৪২২); মাজমূ'আতর রাসায়িলুল কুবরা (২/১৭-২১); আত-তাদমুরিয়‍্যাহ, ৯০-৯১।
৩২২. বস্তুত আয়াতের এখানে ওয়াকফের ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের দু'টি মত রয়েছে: এক. শুধু 'ইল্লাল্লাহ' এর উপর ওয়াকফ করতে হবে। তখন আয়াতের অর্থ হবে, এর তা'ওয়ীল একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। তখন 'যারা ইলমে মজবুত' তা থেকে মুবতাদা বা নতুন বাক্য শুরু হবে, আর 'তারা বলে আমরা এসবের উপরই ঈমান আনলাম' [সূরা আলে ইমরান: ০৭] দুই. একসাথে মিলিয়ে পড়া, "এর তা'ওয়ীল জানে না কেউ আল্লাহ ছাড়া আর যারা ইলমে মজবুত তারা ব্যতীত। তারা বলে, আমরা এর ওপর ঈমান আনলাম"। [সূরা আলে ইমরান: ০৭] সেটার খবর হবে। তখন আয়াতের অর্থ হবে, এর তা'ওয়ীল কেউ জানে না, আল্লাহ ব্যতীত ও যারা ইলমে মজবুত তারা ব্যতীত, তারা জানা সত্ত্বেও বলে, আমরা এসবের ওপর ঈমান আনলাম, এসবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে.... [দেখুন, তাফসীর তাবারী (৬/২০১); তাফসীরে বাগাওয়ী (২/১০); তাফসীর আল-কুরতুবী (৪/১৬); তাফসীর ইবনু কাসীর (২/১০); সুয়ূত্বী, আদ-দুররুল মানছুর (২/১৫১); আশ-শানকীত্বী, আদ্বওয়াউল বায়ান (১/১৯১); ইবনু তাইমিয়‍্যাহ, আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়‍্যাহ, পৃ. ৯০]
ইবনু তাইমিয়্যা বেশ কিছু জায়গায় বলেছেন, উভয় অর্থটি সঠিক। তাই, যখন আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ এর তা'ওয়ীল জানে না এখানে (ওয়াক্ফ করা বা) থামা হবে, তখন অর্থ হবে মুতাশাবিহ এর প্রকৃত অর্থ, যার দিকে এর সর্বশেষ প্রত্যাবর্তন, সর্বশেষ পরিণতি তা কেবল আল্লাহই জানেন। আর যখন 'রাসেখুনা ফিল ইলম' বা 'ইলমে মজবুত লোকেরাও সেটার তাওয়ীল জানে' সেটা সহ মিলিয়ে পড়া হবে তখন অর্থ হবে, এর সাধারণ অর্থ আলেমরাও জানে। দেখুন, [ইবনু তাইমিয়‍্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (১/২০৭-২০৮); ফাতাওয়া (৫/২৩৪); আস-সাফাদিয়্যাহ (১/২৯১)] আরও দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেমের বক্তব্য। [আস-সাওয়া'য়িকুল মুরসালাহ (৩/৯২১)]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00