📄 সিফাত অস্বীকারকারীদের বক্তব্যের মারাত্মক পরিণতি
আর তাদের এ বক্তব্যের আবশ্যক দাবি এই যে, কুরআন মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক নয়, বর্ণনাকারী নয়, অন্তরের আরোগ্য ও নিরাময়কারী নয়, আলোও নয়, বিবাদ বা দ্বন্ধের সময় ফিরার স্থানও নয়। কেননা আমরা জানতে বাধ্য হয়েছি, এসব কৃত্রিমতা অবলম্বনকারী ব্যক্তিবর্গ যা যা বলে থাকে, সেটিই হচ্ছে এমন হক বা সত্যবাণী যা বিশ্বাস করা অপরিহার্য, যার সপক্ষে কুরআনে কারীম ও সুন্নাতে রাসূল প্রমাণবহ নয়, প্রকাশ্যেও নয়, গোপনেও সেটার দিকে কুরআন-সুন্নাহ'য় পথ দেখায় না। না নস বা চূড়ান্তভাবে, আর না যাহির বা দ্ব্যর্থবোধক হিসেবে।
এসব পণ্ডিতের বক্তব্যের পক্ষে সর্বোচ্চ যে দলীল-প্রমাণ তারা পেশ করার চেষ্টা করতে পারবে, তা হচ্ছে, তারা কোনো কোনো আয়াতের ফলাফল বের করে এ জাতীয় কথা বলে থাকে। যেমন, আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী থেকে নতীজা বা ফলাফল বের করা-
﴿ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴾ [الاخلاص: ٤]
"তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।” [সূরা আল-ইখলাস: ০৪]
﴿هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا﴾ [مريم: ٦٥]
"তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জান?” [সূরা মারইয়াম: ৬৫]
আর প্রত্যেক বুদ্ধিমানই এটা আবশ্যিকভাবে জানে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণী- "তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জান?” এ বাক্য থেকে এটা বুঝেছে যে, এর মাধ্যমে সৃষ্টির প্রতি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যে, আল্লাহ 'আরশের উপরে না, আসমানের উপরেও না, তাহলে সে ব্যক্তি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হলো। সে হয়তো বিভ্রান্তকারী অথবা ধোকা প্রদানকারী। তাদেরকে সে স্পষ্ট আরবী ভাষা দ্বারা সম্বোধন করেনি।
টিকাঃ
১১৪. অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর সিফাত বিষয়ক ভাষ্যসমূহের (তাহরীফ বা) বিকৃতি, (ফাসেদ তা'ওয়ীল বা) বিনষ্ট অপব্যাখ্য, (তাজহীল বা) মূর্খতার অপবাদ দানকারী বক্তব্য ও (তাফওয়ীদ্ব বা) অর্থ না জেনে আল্লাহর কাছে সেটা সোপর্দ করা, এগুলোর কারণে মারাত্মক যে অপবাদসমূহ আপতিত হয় তা উপরে বর্ণনা করা হয়েছে।
১১৫. কুরআন ও সুন্নাহ'র শব্দসমূহ তিন প্রকার: ১- এমনকিছু ভাষ্য, যা কেবল একটি অর্থই প্রদান করে, যা ইলমুল ইয়াক্বীন বা দৃঢ় জ্ঞানের ফায়েদা প্রদান করে, সেগুলোর মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হবে তাও অকাট্যভাবে সাব্যস্ত হলো বলা হবে। যেমন "অতঃপর নূহ তাদের মাঝে হাজার বছর তবে পঞ্চাশ বছর কম অতিবাহিত করেছেন।” এখানে আসা, 'হাজার, পঞ্চাশ, নূহ, জাতি' এসব কিছুই 'নস' বা একটি সুর্নিদিষ্ট অর্থ প্রদান করেছে। ২- এমনকিছু ভাষ্য যা প্রকাশ্যে একটি প্রাধান্যপ্রাপ্ত অর্থ প্রদান করলেও তাতে দূরবর্তী একটি অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত বা সম্ভাবনাময় অর্থ করার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে। এটিও অকাট্য ও দৃঢ় জ্ঞানের ফায়েদা প্রদান করে। ৩- এমন কিছু ভাষ্য যার জন্য বর্ণনা আসা অপরিহার্য। কারণ তাতে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা থাকে; এটিই মুজমাল, এগুলোর সাথে যদি কেউ উত্তম আচরণ করে তবে সেটিকে পূর্ববর্তী দু' প্রকারের আলোকে ব্যাখ্যা করে। আর তা তখন সম্ভব, যখন সেখানে বক্তার উদ্দেশ্য জানা যাবে। দেখুন, আস-সাওয়া'য়িকুল মুরসালাহ (২/৬৭০-৬৭২)।
১১৬. অর্থাৎ যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে তারা এ দু'টি আয়াত থেকে দলীল গ্রহণ করে থাকে যে, এ দু'টি আয়াতে আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করাকে নাকচ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। অথচ এ আয়াত দু'টি থেকেই তো আমরা আহলুস সুন্নাত সিফাত সাব্যস্ত করার কয়েকটি মূলনীতি গ্রহণ করে থাকি: ১- আল্লাহর কিছু নেতিবাচক গুণ রয়েছে। ২- সৃষ্টির কারও গুণাবলি আল্লাহর গুণাবলির সমপর্যায়ের হবে না। ৩- আল্লাহর নাম অন্য কারও জন্য প্রদান করা যাবে না, যেমনিভাবে আল্লাহকে অন্য কারও নাম দেয়া যাবে না। ৪- আল্লাহর নাম ও গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সৃষ্টিকুলের কারও সাদৃশ্য দিয়ে সাব্যস্ত করা যাবে না। ৫- আল্লাহর নাম ও গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সৃষ্টিকুলের কারও ধরণ অনুযায়ী সাব্যস্ত করা যাবে না। তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, সিফাত অস্বীকারকারী কিংবা অপব্যাখ্যাকারীদের কারও জন্য এ দু'টি আয়াতে কোনো দলীল নেই।
১১৭. কারণ এ বুঝ কোনোভাবেই এ আয়াতদ্বয় থেকে নেয়ার সুযোগ নেই। এখানে যা বলা হয়েছে তা কুরআনের অন্যান্য সরীহ বা স্পষ্ট আয়াতে 'আল্লাহর আরশের উপরে উঠা', 'আসমানের উপরে উঠা'র বিপরীতে নয় বরং পক্ষে। এ দু'টি আয়াত তো বরং বলছে যে, 'আল্লাহর আরশে উপরে উঠা'র গুণটিকে কোনোভাবেই সৃষ্টিকুলের মতো করে সাব্যস্ত করা যাবে না। কারণ স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে কোনো কুফু নেই। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে কোনো সমতা নেই।
১১৮. কারণ যাদেরকে আরবী ভাষায় সম্বোধন করা হয়েছে তারা আল্লাহর আয়াতসমূহে কোনো বিরোধ দেখতে পায় না। তারা সবগুলোর মধ্যে সমন্বয় দেখতে পায়। আর যারা আরবী বুঝে না, তারা শুধু বিরোধ দেখে, আর সিফাত অস্বীকার করার মাধ্যমে সেটার বৃথা সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে।
📄 সিফাত অস্বীকারকারীদের দ্বারা আল্লাহর সিফাত নাকচ করার আরও কিছু অনিবার্য বাতিল পরিণতি
অনুরূপভাবে সিফাত অস্বীকার/বিকৃতি/অপব্যাখ্যা করার অনিবার্য দাবি হচ্ছে, মানুষদেরকে তাদের মূল দীনের ব্যাপারে কল্যাণকর কোনো রিসালাত ব্যতীত ছেড়ে রাখা উত্তম হবে। কেননা রিসালাতের পূর্বে ও পরে তাদের পরিণাম একই দাঁড়াচ্ছে। আর রিসালাত যেন তাদের অন্ধত্ব ও ভ্রষ্টতা আরও বাড়িয়ে দিল। [নাউযুবিল্লাহ]
হায়, সুবহানাল্লাহ! কীভাবে রাসূল জীবনের কোনো দিন বলেননি, অনুরূপ সালাফে সালেহীনের কেউ বলেননি যে, এসব আয়াত ও হাদীস যা বুঝায় তা তোমরা বিশ্বাস করো না বরং তোমরা তাই বিশ্বাস করো যা তোমাদেরকে ক্বিয়াস (যুক্তি) কামনা করে। অথবা তোমরা এটা এটা বিশ্বাস করো; কেননা এটাই সত্য। আর এ ক্ষেত্রে তোমাদের যুক্তি তার (কুরআন-সুন্নাহ'র) যাহির বা প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত হলে ঐ যাহিরকে বিশ্বাস করো না। সে ব্যাপারে চিন্তা-গবেষণা করে যেটি কিয়াস বা যুক্তি অনুযায়ী হয় সেটি বিশ্বাস কর। আর যেটি যুক্তি অনুযায়ী না হয় সে ব্যাপারে চুপ থাকো বা সেটি নাকচ করে দাও।
টিকাঃ
১১৯. যেহেতু এটা বাতিল বলে সকল যুক্তিবাদী ব্যক্তিরাই বিশ্বাস করে থাকে, তাই আল্লাহর সিফাত বিষয়ক আয়াতসমূহ কখনও পথভ্রষ্টতার কারণ হতে পারে না।
১২০. প্রকাশ্য অর্থ সেটিই যা সাধারণত মনে উদিত হয়, যার ওপর শব্দটি প্রমাণবহ আর যা শর'য়ী ভাষ্যসমূহের চাহিদা। দেখুন, আত-তিস'য়িনিয়্যাহ (২/৫৪৬)। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম অন্যত্র বলেন, যাহেরুল কালাম বা প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে, যারা ভাষা বুঝে তাদের সামনে সেটি পেশ করার পর সুস্থ বিবেকের যুক্তিতে যা সবার আগে বুঝে আসে। কিন্তু এটা অবশ্যই সত্য যে, সিফাত বিষয়ক ভাষ্যসমূহের যাহের অর্থ বা প্রকাশ্য অর্থ কখনও সাদৃশ্য স্থাপন নয়, যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদ ও অন্যান্যরা মনে করে নিয়েছে। দেখুন, 'আর-রিসালাতুল মাদানিয়্যাহ, পৃ. ৩১; আর-রিসালাতুদ তাদমুরিয়্যাহ, পৃ. ৬৯।
১২১. নাউযুবিল্যাহ। এটা কী কখনও হতে পারে? কুরআন ও হাদীসই তো বিশুদ্ধতার মানদণ্ড, কিয়াস ও যুক্তি কখনও তা হতে পারে না।
📄 উম্মতের বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্তি ও নাজাতপ্রাপ্ত দলের বর্ণনা
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, তাঁর উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই কী হবে তা জেনে বলেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন:
"আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি যা তোমরা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনো পথচ্যুত হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব।" তেমনি নাজাতপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে:
"তারা ঐসব লোক যারা ঐ পথে চলে যে পথে আজ আমি আছি ও আমার সাহাবীগণ আছেন।”
তিনি কেন বললেন না, যে কেউ কুরআনকে বা কুরআনের দালালাত (নির্দেশনাকে) কুরআনের মাফতূমকে বা প্রকাশ্য কুরআনকে ই'তিকাদের ব্যাপারে আঁকড়ে ধরবে, সে পথভ্রষ্ট। বরং হিদায়াত হচ্ছে- তোমরা ফিরে যাবে তোমাদের আক্কলী ক্বিয়াসের দিকে এবং (উত্তম) তিন প্রজন্মের পর কাلامপন্থীরা যা নতুন উদ্ভাবন করেছে তার দিকে; যদিও এ কালামশাস্ত্র মূল শিকড় গজিয়েছিল তাবে'য়ীযুগের শেষ দিকে।
টিকাঃ
১২২. এটিই হচ্ছে বিখ্যাত হাদীসুল ইফতিরাক্ক। বা উম্মতের মাঝে মতভেদ হবে মর্মে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানানো সংক্রান্ত হাদীস। হাদীসটি বিভিন্ন বর্ণনায় কাছাকাছি শব্দে অনেক সাহাবীদের থেকেই বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা, 'আউফ ইবন মালেক, আনাস, মু'আওয়িয়াহ, ইবন 'উমার, জাবের, আবু উমামাহ, ইবন মাসউদ, সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস প্রমুখ সাহাবীগণ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম তা বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ইয়াহুদীরা এক বা দুই ও সত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, নাসারারা এক বা দুই ও সত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যথাক্রমে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৫৯৬; তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৪০; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৯১; আহমাদ (২/৩৩২); আবু ইয়া'লা, আল-মুসনাদ ৫৯১০; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৬৬; ইবন নসর, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৫৮; ইবন ব্যত্তাহ, আল-ইবানাহ, হাদীস নং ২৭৩; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৬২৪৭; আজুররী, আশ-শরী'আহ, হাদীস নং ১৫; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, হাদীস নং ১০, ৪৪১, ৪৪২; বাইহাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা (১০/২০৮), হাদীস নং ২০৯০১; আল-মারওয়াযী, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ৫৮। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, হাদীসটি সহীহ ও বিখ্যাত যা সুনান ও মাসানীদে এসেছে। মাজমূ' ফাতাওয়া (৩/৩৪৫); অনুরূপ ইমাম শাত্বেবীও সেটাকে সহীহ বলেছেন, আল-ই'তিসাম (২/১৮৯-১৯০); তাছাড়া শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী রাহিমাহুল্লাহও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যারা এতে দোষ দেখেছে তাদের সন্দেহসমূহ তিনি খণ্ডন করেছেন। দেখুন, আস- সিলসিলাতুস সহীহাহ, নং ২০৩; তাখরীজ আহাদীস কিতাবিস সুন্নাহ (১/৩৩), নং ৬৬। অনুরূপ ইমাম ইবন আবী আসেম এ হাদীসের বহু সূত্র নিয়ে এসেছেন। দেখুন, আস-সুন্নাহ (১/৩২-৩৩)।
১২৩. অর্থাৎ উম্মতের বিভক্তির বিষয়টি আল্লাহ তাকে জানিয়েছেন। জানার পরই তিনি তা বলেছেন। সবকিছু জেনে নিয়ে বলেছেন এটা শাইখের দাবি নয়; কারণ সবকিছুর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কারও নেই; তা রুবুবিয়াতের অংশ।
১২৪. হাদীসটি জাবের ইবন আব্দুল্লাহ বর্ণিত বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ, যা বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৮৬; আহমাদ, ফাযায়েলুস সাহাবাহ, হাদীস নং ১৭০; আব্দ ইবন হুমাইদ, হাদীস নং ২৪০; ইবন আবী আসেম, আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ১৫৫৬, ১৫৫৮; ত্বাবারানী, আল-মু'জামুল আল-আওসাত্ব, হাদীস নং ৪৭৫৭। উল্লেখ্য যে, এ হাদীসের কোনো কোনো শব্দে 'আর আমার পরিবার' কথাটি এসেছে। কিন্তু গবেষণা করে দেখা গেছে 'আর আমার পরিবার' এ কথাটুকু আলাদা। পরিবারকে ধারণ করতে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, তাদের খোঁজ-খবর রাখতে এবং তাদের প্রতি দয়াদ্র থাকতে।
১২৫. নাজাতপ্রাপ্ত দল বলতে সে দলটিকে বুঝানো হয়েছে, উম্মতের মধ্যে যারা জাহান্নামে যাওয়া থেকে নাজাতপ্রাপ্ত হয়েছে, সেই দলটি। বাকী ৭২ ফিরকা জাহান্নামে যাবে। ৭৩ ফিরকার মধ্য হতে একমাত্র যে ফিরকাটির ব্যাপারে সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। দুনিয়ার তাবৎ মানুষ দাবি করবে যে সে উক্ত দলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু দাবি করলেই তো হবে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে নাজাতপ্রাপ্ত দলটির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।
১২৬. এটি পূর্ববর্তী 'হাদীসূল ইফতিরাক' এর অংশ বিশেষ। এখানে নাজাতপ্রাপ্ত দলের একটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ হাদীসের শব্দ দিয়ে নাজাতপ্রাপ্ত দল কারা তা নির্ধারণ করছেন। আর তা হচ্ছে যারা 'সেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আকীদাহ, মানহাজ ও শরী'আর ওপর ছিল তার ওপর অবশিষ্ট থাকবে, অনুরূপ তার সাহাবীগণ যা ধারণ করে চলে গেছেন, সে নীতির যথার্থ অনুসার ও অনুগামী। হাদীসটির তাখরীজ হচ্ছে, এ অংশটুকু ইবন 'উমার রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণিত, যা নিম্নোক্ত মুহাদ্দিসগণ তাদের গ্রন্থে আনয়ন করেছেন। তিরমিযী, হাদীস নং ২৬৪১। হাকেম ফিল মুস্তাদরাক (১/১২৮, ১২৯), হাদীস নং ৪৪৪। লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (১/১০০)। আজুররী, আশ-শরী'আহ, পৃ. ১৫-১৬। আল-মারওয়াযী, আস-সুন্নাহ পৃ. ২৩। ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ (১/৩৬৮-৩৭০), হাদীস নং ২৬৪, ২৬৫। উক্কাইলী, আদ-দু'আফাহ (২/২৬২)। মুহাম্মাদ ইবন ওয়াদ্দাহ, আল-বিদা' ওয়ান নাহই আনহা, পৃ. ৮৪। বাগাওয়ী, শারহুস সুন্নাহ (১/২১৩) এবং সহীহ বলেছেন।
১২৭. যেমনটি জাহমিয়্যা, মু'তাযিলী, বাতেনী সূফীরা বলে থাকে।
১২৮. যেমনটি তথাকথিত দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদ, মু'তাযিলা, আশ'আরিয়া ও মাতুরিদিয়া ফিরকার লোকেরা বলে থাকে।
📄 সিফাত নিষ্ক্রিয়কারী বা নাকচকারীদের বক্তব্যের উৎসস্থল
বস্তুত সিফাতকে নিষ্ক্রিয়করণ করার এ মতবাদটি গ্রহণ করা হয়েছে মুশরিক ও ইয়াহুদীদের শিষ্যদের থেকে এবং পথভ্রষ্ট দীন বিরোধীদের থেকে; কেননা প্রথম যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে একথা বলেছে বলে প্রমাণিত আছে অর্থাৎ 'আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর হাকীকীভাবে (বাস্তবে) নেই বরং তিনি 'আরশের উপর কর্তৃত্ব অর্জন করেছেন ইত্যাদি, প্রথমে একথা প্রকাশ পায় যার থেকে সে হচ্ছে জা'দ ইবন দিরহাম।
তার থেকে জাহম ইবন সাফওয়ান এটি গ্রহণ করে প্রচার-প্রসার করে। ফলে জাহমিয়্যাহ মতবাদ তার দিকে সম্পর্কিত করা হয়। আর বলা হয়, জা'দ তার বক্তব্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের ওয়ারিস।
টিকাঃ
১২৯. অর্থাৎ যারা আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করা বা না করার ক্ষেত্রে যুক্তি কিয়াসের দিকে ঝুঁকেছে এবং কুরআন-হাদীসের প্রকাশ্য অর্থ নেয়া যাবে না এ নীতিটি সর্বপ্রথম কারা মুসলিমদের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে তার বর্ণনা।
১৩০. জা'দ ইবন দিরহাম, সে মূলত একজন দাস ছিল। তার মূল ছিল খুরাসান থেকে। সে মারওয়ান আল-হিমার বা সর্বশেষ উমাইয়্যা খলীফা মারওয়ানের শিক্ষক ছিল। পথভ্রষ্ট, বিদ'আতী। সর্বপ্রথম সে বলেছিল, আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেননি, মূসা 'আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেননি। আর কথা বলা নাকি তাঁর জন্য জায়েযও নয়। নাউযুবিল্লাহ। ১২৪ হিজরীতে খালেদ আব্দুল্লাহ আল-কাসরী তাকে কুফাতে কুরবানীর ঈদের দিন হত্যা করেন। যখন তিনি মানুষদের ভাষণ দিচ্ছিলেন, তরপর বললেন, হে মানুষেরা, তোমরা কুরবানী কর, আল্লাহ তোমাদের কুরবানী কবুল করুন, তবে আমি জা'দ ইবন দিরহামকে দিয়ে কুরবানী করব, সে মনে করেছে আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেননি, মূসার সাথে কথা বলেননি। জা'দ যা বলেছে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র। তারপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে এসে জা'দকে যবাই করেন। এ ঘটনা ইমাম বুখারী তার 'খালকু আফ'আলিল ইবাদ' নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, পৃ. ২৯, ৩০; অনুরূপ বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা (১০/২০৫-২০৬); আজুররী, আশ-שরী'আহ, পৃ. ৯৭-৩২৮; দারেমী উসমান ইবন সা'ঈদ, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১৭, ৮২; লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (১/৩১৯); আন-নাজ্জাদ, আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আল-কুরআনু মাখলুকুন, পৃ. ৫৪, নং ৭২; ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাহ; আল-খাল্লাল, আস-সুন্নাহ, আয-যাহাবী, আল-উলু, পৃ. ১০০। ইবন কাসীর বলেন, এ ঘটনাটি বড় বড় হাফেযরা বর্ণনা করেছেন, যেমন: বুখারী, ইবন আবী হাতেম, বাইহাক্কী, আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ও ইবন আসাকির। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, "আর সে জন্যই জা'দ ইবন দিরহামকে কুরবানী দিল খালেদ আল-কাসরী, আর সেটা ছিল মানুষের কুরবানীর দিন। যখন সে বলল ইবরাহীম আল্লাহর বন্ধু নয়, অনুরূপ মূসাও আল্লাহর সাথে কথা বলেননি।” [নুনিয়াতু ইবনিল কাইয়্যেম পৃ. ৭; কাসীদার শুরুর অধ্যায়] এ জা'দ ইবন দিরহামের ছাত্র ছিল জাহম ইবন সাফওয়ান। জাহম এ ভ্রান্ত মতবাদটি জা'দ থেকেই নিয়েছিল। দেখুন, যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (১/১৮৫); ইবন হাজার, লিসানুল মীযান (২/১০৫); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/৪৩৩); ইবন কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৯/৩৫০), (১০/১৯); ইবন তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া (১২/৩৫০-৩৫১), (১০/৬৬); দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃ. ১৭।
১৩১. জাহম ইবন সাফওয়ান, আবু মুহরিয আর-রাসেবী, তাদের দাস, মূলত সামারকান্দ থেকে। জাহমিয়্যাদের মূল। তার দিকেই জাহমিয়্যাহ ফির্কার লোকদের সম্পৃক্ত করা হয়। পথভ্রষ্ট, বিদ'আতী। উম্মতের মধ্যে বড় অকল্যাণ সৃষ্টিকারী। তা'ত্বীল তথা আল্লাহর গুণ অস্বীকারকারী, আল্লাহর নাম ও গুণ সবই অস্বীকার করত। সে মনে করত কুরআন সৃষ্ট। সে অপরদিক থেকে মানুষের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জাবর বা মানুষ তা করতে বাধ্য বলত। সে বলত যে জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাবে। সে প্রতিটি বিদ'আতের কিছু অংশ গ্রহণ করেছে। ১২৮ হিজরীতে সিলম ইবন আহওয়ায আল-কিরমানী তাকে হত্যা করেন। তখন তিনি মার্ড প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। দেখুন, যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল (২/১৯৭); ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৬/২৬-২৭); ইবন হাজার, লিসানুল মীযান (২/১৪২); ইবন কাসীর, বিদায়াহ ওয়ান নিহায়া (৯/৩৫০); যিরিকলী, আল-আ'লাম (২/১৪১)।
১৩২. জাহমিয়্যাহ, পথভ্রষ্ট একটি ফিরকা। তারা পূর্বোক্ত জাহম ইবন সাফওয়ানের অনুসারী। সে বলত, মানুষের কোনো ক্ষমতা নেই, মানুষ বাধ্য। অনুরূপ কোনো প্রাণীরই কোনো ক্ষমতা নেই ও পছন্দ করে কাজ করার সুযোগ নেই। সে বিশ্বাস করতো যে, জান্নাত ও জাহান্নাম লয়প্রাপ্ত হবে। আরও মনে করতো যে, ঈমান শুধু জানার নাম। আর সে কুরআনকে বানানো বলে বিশ্বাস করত। আর সে আল্লাহর সকল নাম ও গুণ অস্বীকার করত। পরবর্তীতে জাহমিয়্যাহ নামটি কম-বেশ আল্লাহর নাম ও গুণ অস্বীকারকারীদের সবার জন্যই প্রযোজ্য হয়ে বলা হয়, অমুক জাহমিয়্যাদের আকীদাহ গ্রহণ করেছে। কারণ এরা সবাই নাম ও গুণ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের ওয়ারিস। দেখুন, আল-বাগদাদী, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃ. ১৯৯; আশ'আরী, মাক্বালাতুল ইসলামিয়্যীন, পৃ. ২৭৯-২৮০; আল-ইসফারায়ীনী, আত-তাবসীর ফিদ দীন, পৃ. ৬৩-৬৪; আস-সাকসাকী, আল-বুরহান ফী মা'রিফাতি আকায়িদি আহলিল আদইয়ান, পৃ. ৩৪-৩৫।
১৩৩. ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "এ মতবাদ যে, 'আরশের উপর আল্লাহ নেই, এটা ইসলামে সর্বপ্রথম জা'দ ইবন দিরহাম ও জাহম ইবন সাফওয়ান এবং তার অনুসারীরা আমদানী করে বিদ'আত হিসেবে চালু করে। উম্মতের লোকদের নিকট তারা সৃষ্টির সর্বনিকৃষ্ট প্রবৃত্তির অনুসারী। সালাফে সালেহীন তাদেরকে কাফের বলতেন, যদিও নির্দিষ্ট করে একজনকে কাফের বলতেন না। সালাফগণ বলতেন, আমরা ইয়াহূদী ও নাসারাদের বক্তব্য বর্ণনা করতে পারি, কিন্তু জাহমিয়্যাদের বক্তব্য বর্ণনা করতে পারি না। সালাফগণ আরও বলতেন, মুসলিম, ইয়াহূদী ও নাসারা সবাই একমত যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে, অথচ জাহমিয়্যারা বলে, তিনি 'আরশের উপর নন।” বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/৪১৭)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ আরও সাব্যস্ত করলেন যে, ইসলামে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি এটা বলেছে যে, আল্লাহ কারও সাথে কথা বলেননি, আল্লাহ তার বান্দাদের ভালোবাসেন না, সে হচ্ছে জা'দ ইবন দিরহাম। আর তাই সে অস্বীকার করত যে, আল্লাহ ইবরাহীমকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর মুসার সাথে কথা বলেছেন। দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফাতাওয়া (৮/৩৫৭), (১০/৬৬, ৬৯৭) (১২/২৬)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ আরও উল্লেখ করেছেন যে, "প্রথম যার থেকে কুরআনকে সৃষ্ট বলা হয়েছে সে হচ্ছে জা'দ ইবন দিরহাম ও তার শিষ্য জাহম ইবন সাফওয়ান।” দেখুন, মাজমু' ফাতওয়া (১২/৩০১)। তিনি আরও বলেন, "বলা হয়ে থাকে, ইসলামে প্রথম যে ব্যক্তি তা'ত্বীল বা আল্লাহকে গুণশুণ্যকরণের কথা বলেছে, যা মূলত ফির'আউনের কথা ছিল, সে হচ্ছে জা'দ ইবন দিরহাম।” দেখুন, মাজমূ' ফাতাওয়া (১৩/১৭৭)। অন্য জায়গায় বিদ'আতের সূচনা (যেমন মু'তাযিলাদের বিদ'আত) বর্ণনা করার সময় বলেন, "তখন পর্যন্ত আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার মত বিদ'আত চালু হয়েছিল না, অবশেষে প্রকাশ হল জা'দ ইবন দিরহাম, সে সর্বপ্রথম তার প্রকাশ ঘটাল...।” দেখুন, ফাতাওয়া (১৪/৩৫০)। অন্যত্র বলেন, "যে শির্কের বিরোধিতা করেছেন খলীল ইবরাহীম, যার ওপর সেখানকার লোকেরা তার শত্রুতা করেছিল, সেখানকার লোকেরাই আল্লাহর গুণ ও কর্ম অস্বীকারকারীদের ইমাম বিবেচিত হলো। ইসলামে প্রথম যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণ অস্বীকার করেছিল সে হচ্ছে জা'দ ইবন দিরহাম, সে ছিল (সর্বশেষ উমাইয়া খলীফা) মারওয়ান ইবন মুহাম্মাদের শিক্ষক। ইমাম আহমাদ বলেন, বলা হয় এ জা'দ ইবন দিরহাম ছিল হাররান এলাকার। তার থেকেই জাহম ইবন সাফওয়ান আল্লাহর গুণ অস্বীকার করার মতবাদটি গ্রহণ করে। আর হাররানে ছিল বেশ কিছু সাবেয়ী বুদ্ধিজীবি ও দার্শনিক নেতৃবৃন্দ, সেসব বিকৃত দীনের অবশিষ্ট লোক, যারা শির্ক করতো, আল্লাহর গুণ ও কর্ম অস্বীকার করতো। [দারউত তা'আরুদ্ব (১/৩১৩)] বরং ইমাম লালেকাঈ রাহিমাহুল্লাহ থেকেও তিনি বর্ণনা করেন যে, উম্মতের মাঝে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, জা'দ সর্বপ্রথম আল্লাহর গুণ অস্বীকার করার মতবাদ দাঁড় করায়, তারপর জাহম তার অনুসরণ করে। [ফাতাওয়া (১২/৪২০)] ইমাম লালেকাঈ তিনি নিজেও ইমাম ইবন আবী হাতেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, প্রথম যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণ অস্বীকার করেছে সে হচ্ছে জা'দ ইবন দিরহাম। [শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ (৩/৩৮২)] তাছাড়া ইতোপূর্বেকার যারা যারা জা'দ ইবন দিরহামকেই আল্লাহর গুণ অস্বীকার করার জনক বলেছে তারা হচ্ছেন, ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যা, পৃ. ৭; আবু ইসমাঈল আল-হারওয়ী আল-আনসারী, যাম্মুল কালাম, পৃ. ৩০৪। পরবর্তীদের মাঝে যারা তা উল্লেখ করেছেন, তারা হচ্ছেন ইমাম ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (৯/৩৫০); যাহাবী, তারীখুল ইসলাম (৩/২১৮)। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ আরও বলেন, উমাইয়াদের ওপর জা'দ এর বিদ'আতের করুণ পরিণতি আপতিত হয়েছে। কারণ এটি ছিল সেসব কারণের একটি যার দরুন তাদের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল। [মাজমূ' ফাতাওয়া (১৩/১৮২)] ইবনুল কাইয়্যেম বলেন, আর তার মাথার উপরই আল্লাহ তা'আলা বনী উমাইয়্যাদের রাজত্ব ও খিলাফত ছিনিয়ে নিয়েছেন, তাদেরকে সারা পৃথিবীতে বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন, সম্পূর্ণরূপে টুকরা টুকরা করেছেন, তাদের শিক্ষক (জা'দ ইবন দিরহাম) এর কারণে, যে ছিল আল্লাহর গুণ অস্বীকারকারী ও আল্লাহর গুণকে নিষ্ক্রীয়কারী। [আস-সাওয়া'য়িকুল মুরসালাহ (৩/১০৭১)]